বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৫২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০১২০০ / ১,০৫২

১০১.
কোন দেশের মধ্যে "Yom Kippur War" যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. জাপান - রাশিয়া
  2. ইসরায়েল - কয়েকটি আরব দেশ
  3. চীন - জাপান
  4. যুক্তরাষ্ট্র - উত্তর ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ (Yom Kippur War)
⤇ যুদ্ধ সংঘটন কাল - ৬ অক্টোবর - ২৫ অক্টোবর, ১৯৭৩ সাল।
⤇ প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষসমূহ - ইসরায়েল এবং মিশর ও সিরিয়ার নেতৃত্বে আরও কয়েকটি আরব দেশ।
⤇ ফলাফল - ইসরায়েল জয়ী।

⤇ মিশর ও সিরিয়া ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে তাদের হারানো অঞ্চল ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে ৬ অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে দুই দিক থেকে ইসরায়েল আক্রমণ করে।
প্রথম দিকে ইসরায়েল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পরে ইসরায়েল ঘুরে দাঁড়ায়। পাল্টা আক্রমণ করে ইসরায়েলি বাহিনী এরিয়েল শেরনের নেতৃত্ব কায়রো ও দামেস্কের কাছাকাছি চলে আসে।
সৌদি আরব, জর্ডান, ইরাক প্রভৃতি রাষ্ট্র সিরিয়া ও মিশরের সাহায্যে সৈন্য প্রেরণ করে।
⤇ আরব রাষ্ট্রগুলো এই যুদ্ধের সময় ‘তেল অস্ত্র’ প্রয়োগ করে। তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রগুলো একই সাথে ৫% তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

⤇ ২৫ অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ইসরায়েল গোলান মালভূমির আরও অঞ্চল নিজেদের দখলে নেয়।
⤇ ১৯৭৮ সালে ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সাথে মিশরের ৩০ বছর ধরে চলা যুদ্ধাবস্থার অবসান হয়।
এর ফলে প্রথম আরব দেশ হিসাবে মিশর ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং বিনিময়ে সিনাই উপদ্বীপের পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।

উৎসঃ হিস্টরি.কম
১০২.
ব্লিৎসক্রিগ কোন যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি পরিচিত?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. ইরাক যুদ্ধ
  4. আইন জালুতের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ব্লিৎসক্রিগ: 
- ব্লিৎসক্রিগ একটি সামরিক কৌশল যা শত্রুপক্ষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং তাদের বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।
- এই কৌশল দ্রুততা, আকস্মিক আক্রমণ এবং শক্তিশালী অগ্নিশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির সাথে ব্লিৎসক্রিগ সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- তবে এই কৌশল তখনকার অনেক যোদ্ধাই ব্যবহার করেছিল।
- ব্লিৎসক্রিগের মূল ধারণা উনবিংশ শতকে প্রুশিয়ার সামরিক কৌশল থেকে এসেছে।
- প্রুশিয়ার সামরিক কৌশলগুলোর ভিত্তি ছিল সীমিত সম্পদ এবং ছোট বাহিনীর কারণে দ্রুত ও শক্তিশালী পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজয় অর্জন।
- এর ধারণা সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত হয়ে ব্লিৎসক্রিগে পরিণত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্লিৎসক্রিগ ব্যবহৃত হয়ে শত্রুপক্ষের মধ্যে দ্রুত ভীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত।
- ব্লিৎসক্রিগের অনন্যতা ছিল দ্রুত গতি এবং অপ্রত্যাশিত আক্রমণের মাধ্যমে শত্রুকে দুর্বল করে দেওয়া, যা যুদ্ধের ময়দানে বিপ্লব ঘটিয়েছিল।
- ব্লিৎসক্রিগ-এর মূল লক্ষ্য ছিল শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে অপ্রস্তুত রেখে দ্রুত এবং শক্তিশালী আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধের ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা।
- এটি যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শত্রুকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল।

উৎস: Britannica.
১০৩.
কোন যুদ্ধের ফলে ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়?
  1. ট্রাফালগার যুদ্ধ
  2. জিমিন যুদ্ধ
  3. ট্রোজান যুদ্ধ
  4. ওয়াটারলু যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হেসারলিক নামক স্থানে অবস্থিত।
- প্রায় সোয়া তিন হাজার বছর আগে যে জনপদ ধ্বংস হয়েছিল।
- ট্রয় এর ধ্বংসের কারণ হেলেনকেন্দ্রিক ঐতিহাসিক ট্রোজান যুদ্ধ।
- গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফি।
১০৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বিরোধ হওয়া কোন দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপান ও রাশিয়া এখন পর্যন্ত শান্তি চুক্তিতে পৌছাতে পারেনি?
  1. ক) সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ
  2. খ) পেরেজিল দ্বীপপুঞ্জ
  3. গ) কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  4. ঘ) স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত  মহাসাগরে অবস্থিত ।
- কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের যে চারটি দ্বীপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এটি তার মধ্যে একটি  হলো এই কুরিল দ্বীপপুঞ্জ।
- বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির । 
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দার্ন টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে ।
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা করে হওয়া শান্তিচুক্তিতেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে নি ।
 
অপরদিকে,
- পেরেজিল বা লাইলা দ্বীপ নিয়ে বিরোধ রয়েছে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে।
- স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।
- জাপান-চীন-তাইওয়ান মধ্যে বিরোধ রয়েছে সেনকাকু দ্বীপ নিয়ে যা পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত ।

উৎস: ব্রিটানিকা, ওয়াল্ড এটলাস। 
১০৫.
কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  2. জন এফ কেনেডি
  3. রিচার্ড এম নিক্সন
  4. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
ব্যাখ্যা
কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ. কেনেডি।

কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট দেখা দেয়।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক শক্তি, সামরিক ও বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
- ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর মাধ্যমে বাতিস্তা সরকারের পতন পর, দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে।
- মার্কিন সম্পর্কের অবনতির ফলে কাস্ত্রো সরকারের পতন ঘটানোসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও কিউবা আক্রমণের পরিকল্পনাও করে মার্কিন প্রশাসন।
- আর কিউবার আহ্বানে সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভ পাঠাতে থাকেন সহায়তা।
- এই পরিস্থিতি 'কিউবা (ক্ষেপণাস্ত্র) সংকট' নামে পরিচিত।

⇒ ইতালি ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর জবাবে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় রাশিয়া।
- ফ্লোরিডা উপকূল থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে রুশ এই হুমকি মেনে নিতে না পেরে, ১৯৬২ সালের ২২ অক্টোবর কিউবায় নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি।
- ক্রুশ্চেভ ও কেনেডির পাল্টা সতর্কতা, সোভিয়েত সীমানায় মার্কিন গুপ্তচর বিমান ভূপাতিত করা আর সোভিয়েত জাহাজের মার্কিন সংকেত অমান্য করার ঘটনায় উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
- যুদ্ধ প্রস্তুতির মধ্যেই জারি করা হয় মার্কিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা।
- আলোচনা আর কূটনীতির চালে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষেপণাস্ত্র কিউবা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সােভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্বরাষ্ট্রের মধ্যে এক স্বল্পকালীন অথচ প্রবল দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে কিউবার রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রো সােভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গােপনে আমদানি করে কিউবাতে প্রতিস্থাপন করেছিলেন।
- অক্টোবর মাসে আমেরিকা তার গুপ্তচর বিমানের তােলা ছবি থেকে জানতে পারে যে, কিউবায় সােভিয়েত ইউনিয়ন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরি করেছে। আমেরিকা কিউবার বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ গড়ে তোলে।
- ফলে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকায় যুদ্ধের পরিমন্ডল তৈরি হয়।
- এই পরিস্থিতি 'কিউবা (ক্ষেপণাস্ত্র) সংকট' নামে পরিচিত।
- এই ঘটনা স্নায়ু যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

উৎস: History.com
১০৬.
দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ নামে পরিচিত কোন যুদ্ধ?
  1. কোরিয়া যুদ্ধ
  2. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  3. চীন-জাপান যুদ্ধ
  4. উপসাগরীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

ভিয়েতনাম যুদ্ধ:
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ নামে পরিচিত। 
- ১ নভেম্বর ১৯৫৫ সালে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ভিয়েতনাম যুদ্ধের শুরু হয়।
- যা প্রায় ২০ বছর ধরে চলে।
- ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল সমাজতান্ত্রিক উত্তর ভিয়েতনাম কর্তৃক মার্কিন সমর্থনপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামকে দখলের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে উত্তর ভিয়েতনাম ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়।
-  এ যুদ্ধে ৫৮,০০০ মার্কিন সৈন্যসহ ২০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
- ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ হয় এবং ১৯৭৬ সালে দুই ভিয়েতনাম একত্রিত হয়।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম।

১০৭.
When was Bastille destroyed?
  1. 10 July 1789
  2. 12 July 1798
  3. 12 July 1789
  4. 14 July 1798
  5. 14 July 1789
ব্যাখ্যা
বাস্তিল দুর্গ:
- ফরাসি স্বৈরতন্ত্র এবং অত্যাচারের একমাত্র প্রতীক ছিল এই বাস্তিল দুর্গ।
- এই বাস্তিল দুর্গে রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাখা হতো ও অত্যাচার করা হতো।
- তাই জনগণের কাছে বাস্তিল দুর্গ ছিল ফরাসি রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক।
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের বিদ্রোহী জনগণ বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করেছিল।
- সমস্ত বন্দিরাও মুক্তি পায়।
- বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসী বিপ্লব শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে রাজা ষোড়শ লুই-এর স্বৈরশাসনের অবসান হয়।
- রাজা জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দেন এবং এই সময় থেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা আইনসভার হাতে চলে যায়।
- ফ্রান্সের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সূচনা হয় এবং অভিজাততন্ত্রের পতন আসন্ন হয়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.
১০৮.
‘Every man is guilty of all the good he didn't do’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) ভলতেয়ার
  2. খ) রুশো
  3. গ) ফ্রেংকলিন
  4. ঘ) গুস্তাভো
ব্যাখ্যা
- ‘Every man is guilty of all the good he didn't do’ - উক্তিটি ভলতেয়ারের।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল স্বাধীনতা,সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব
- ফরাসি বিপ্লব পূর্বতন সমাজকে আমূল পরিবর্তিত করে দিয়েছিল।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও দৈনিক কালের যুগান্তর, ৫ আগস্ট ২০২১।
১০৯.
ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution) কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. জর্জিয়া
  2. কিরগিজস্তান
  3. চেকোস্লোভাকিয়া
  4. ইউক্রেন
ব্যাখ্যা

ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution):
- সময়কাল: ১৭ নভেম্বর – ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৯।
- স্থান: চেকোস্লোভাকিয়া (বর্তমানে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া)।
- মূল অংশগ্রহণকারীরা: ছাত্র-জনতা।
- বিশেষ নাম: Gentle Revolution (শান্তিপূর্ণ বিপ্লব)।
- কারণ: কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃস্থাপন।

উল্লেখ্য,
- কমলা বিপ্লব (Orange Revolution): ক্ষমতাবদলকে কেন্দ্র করে ২০০৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনে সংঘটিত কিছু সরকার বিরোধী আন্দোলনকে “কমলা বিপ্লব” বা অরেঞ্জ রেভুলুশ্যন বলে।
- গোলাপ বিপ্লব (Rose Revolution): ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সমষ্টিকে গোলাপ বিপ্লব বলে।
- টিউলিপ বিপ্লব (Tulip Revolution): ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।

 উৎস: ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার। 

১১০.
রুশ বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল কোন দল?
  1. ইনশেভিক পার্টি
  2. বলশেভিক পার্টি
  3. কমিউনিস্ট পার্টি
  4. নাৎসি বাহিনী
ব্যাখ্যা
- ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বাধীন বলশেভিক পার্টি ও শ্রমিক সোভিয়েতরা পেট্রোগ্রাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করে রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেশন সোশালিস্ট রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইতিহাসে এটি বলশেভিক বিপ্লব নামেও পরিচিত।
- সাড়া জাগানো এ বিপ্লবের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১০দিন।
- এই বিপ্লবের ফলে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রাশিয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটে যা ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন নামধারণ করে।
- যার পতন ঘটে ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১১১.
রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায় কোনটি?
  1. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  2. এপ্রিল বিপ্লব
  3. জুলাই বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয় ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণে।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com
১১২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল -
  1. ইতালি
  2. জাপান
  3. জার্মানি
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।

⇒ মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।

তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
১১৩.
ভেলভেট বিপ্লব কোন দেশে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ইউক্রেন
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. চেকোস্লোভাকিয়া
ব্যাখ্যা
ভেলভেট বিপ্লব:
- '১৯৮৯ সালে ভেলভেট বিপ্লব' চেকোস্লোভাকিয়ায় সংঘটিত হয়েছিল।
- এটি ছিল একটি অহিংস আন্দোলন যার মাধ্যমে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে

⇒ ঐতিহাসিক বিপ্লবসমূহ:
- জেসমিন বিপ্লব: সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।
- আমেরিকান বিপ্লব: সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৭৬ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- রুশ বিপ্লব: সংঘটিত হয় রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে।
- সাংস্কৃতিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় চীনে ১৯৬৬- ১৯৭৬ সালে।
- ইসলামিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইরানে ১৯৭৯ সালে।
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।
- টিউলিপ বিপ্লব: সংঘটিত হয় কিরগিজস্থানে ২০০৫ সালে।
- নীল বিপ্লব: সংঘটিত হয় মিসরে ২০১১ সালে।

উৎস: Britannica.
১১৪.
কোরীয় সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে 'Uniting for peace resolution' পাশ করা হয় -
  1. ১ নভেম্বর, ১৯৫০
  2. ৩ নভেম্বর, ১৯৫০
  3. ১ নভেম্বর, ১৯৫৩
  4. ৩ নভেম্বর, ১৯৫৩
ব্যাখ্যা
কোরীয় যুদ্ধ:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ভাগ করে।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।
- শুরু থেকেই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্ক বিরাজ করে। এই যুদ্ধকে 'the Forgotten War' বলে অভিহিত করেছেন।

⇒ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ১৯৫০-১৯৫৩ সাল।
▪ বিবাদমান পক্ষসমূহ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সমর্থিত - উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থিত - দক্ষিণ কোরিয়া।
▪ যুদ্ধের ফলাফল: কোরিয়া সংকটকালীন সময়ে ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তির জন্য ঐক্য” (Uniting for Peace) প্রস্তাব পাশ করে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালায়।
- এ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ৩ নভেম্বর, ১৯৫০ সালে 'Uniting for peace resolution' পাশ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে ৩৮° সমান্তরাল রেখা বরাবর দুটি দেশের সীমান্ত নির্ধারিত হয়।
- অবশেষে ২৭ জুলাই, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
১১৫.
কিউবান বিপ্লব সংঘটিত হয় বিংশ শতাব্দির- 
  1. পঞ্চাশের দশকে 
  2. ষাটের দশকে
  3. সত্তরের দশকে
  4. আশির দশকে
ব্যাখ্যা

• কিউবা বিপ্লবের সময়কাল - ১৯৫৬ -১৯৫৯ সাল। 

• কিউবা বিপ্লব:
- কিউবার বিপ্লবী মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রো।
- কিউবার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিপ্লবের ময়দানে সক্রিয় হন কাস্ত্রো।
-তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো থেকে কিউবায় আক্রমণ চালানো।
- ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি ও তার বিপ্লবী সহযোগীরা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
- পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাতিস্তার সেনাবাহিনীর আক্রমণে নাস্তানাবুদ হন।
- শুরুর দিকেই তাকে কারাবন্দী করে বাতিস্তা সরকার।
- কিউবার মানুষের মুক্তির জন্য গেরিলা যুদ্ধে নামেন কাস্ত্রো।
- এরই মধ্যে চে গুয়েভারার সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর গেরিলা যুদ্ধে পরিকল্পনা আরও বিস্তৃতি পায়।
- ফিদেল কাস্ত্রো তাকে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি বানানোর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল তৈরির দায়িত্ব দেন।
- বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তিন বছর পর চে গুয়েভারাকে ‘কাস্ত্রোর মস্তিষ্ক’ বলে আখ্যায়িত করেছিল।
- সংগঠিত হয়ে কাস্ত্রোর বিপ্লবী বাহিনী গেরিলা যুদ্ধে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
- আচমকা হামলায় বাতিস্তা সরকার পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।
- সিয়েরা পর্বতমালা, শহর পেরিয়ে তারা হাভানায় ঢুকে পড়লে বাতিস্তা সরকার পালিয়ে যায়।
- জয়ী হন কাস্ত্রো, জয় হয় বিপ্লবের।
- বিপ্লবের নেতা, ফিদেল কাস্ত্রো, ১৯৫৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কিউবা শাসন করেছিলেন।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১১৬.
কোন দেশ থেকে 'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' আন্দোলনের সূত্রপাত হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. পোল্যান্ড
  3. সুইডেন
  4. সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ফ্রাইডেস ফর ফিউচার:

- 'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' আন্দোলন হলো জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সূত্রপাত হওয়া একটি আন্দোলন।
- ২০১৮ সালের আগস্টে সুইডেনে স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থুনবার্গের উদ্যোগে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবীতে সারা বিশ্বে স্কুল শিক্ষার্থীরা শুক্রবারে স্কুলে না গিয়ে রাজপথে নেমে আসে।

তথ্যসূত্র - ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্ট ওয়েবসাইট।
১১৭.
'রুশ বিপ্লব' কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯১৩ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
ব্যাখ্যা

• রুশ বিপ্লবের :
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব এর মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী সরকারকে উৎখাত করে বলশেভিকদের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে।
- রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্লাদিমির ইলিচ-উলিয়ানোভা লেনিন বা ভি আই লেনিন।
- বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
- পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর চরম আঘাত করে এই বলশেভিক বিপ্লব বা রুশ বিপ্লব। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ।

১১৮.
ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন কত সালে রাজা ষোড়শ লুইয়ের মৃত্যদন্ড কার্যকর হয়?
  1. ক) ১৭৮৯
  2. খ) ১৯৯২
  3. গ) ১৭৯৩
  4. ঘ) ১৭৯৯
ব্যাখ্যা
১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ আক্রমনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের শুরু হয়। ১৭ জুলাই কৃষক শ্রেণী বিদ্রোহ শুরু করে। ১৭৯২ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজা ষোড়শ লুইয়ের বিচার শুরু হয় এবং ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১১৯.
কোন দেশ 'Operation True Promise 3' চালু করেছে?
  1. ইরান
  2. ইসরাইল
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. চীন
ব্যাখ্যা
অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি’:
- অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি' অভিযান পরিচালনা করছে ইরান।
- ১৩ জুন, ২০২৫ তারিখে ইরানে ইসরাইলের পরিচালিত অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর বিপরীতে অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি অভিযান পরিচালনা করছে ইরান।

⇒  ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামের বৃহৎ সামরিক প্রতিশোধ শুরু করেছে।
- এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য হলো- ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি, রাডার ব্যবস্থা, এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা। 
- এই অপারেশন তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে-
১. প্রথম ধাপে বিমানঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থার ধ্বংস,
২. দ্বিতীয় ধাপে হিজবুল্লাহ ও হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,
৩. তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি থেকে হাইপারসনিক মিসাইল হামলা।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ-১' এবং 'ট্রু প্রমিজ-২' নামে দুটি প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।
- ওই অভিযানে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়।

উৎস: Tasnim পত্রিকা।
১২০.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে জয় লাভ করে কে?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) ইব্রাহীম লোদী
  4. ঘ) আহমদ শাহ আবদালী
ব্যাখ্যা
১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি মারাঠা বাহিনী এবং আহমদ শাহ আবদালী নেতৃত্বোধীন আফগান যৌথ বাহিনীর মধ্যে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়৷ এতে আমহদ শাহ আবদালীর বাহিনী জয় লাভ করেন। পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত যা দিল্লি থেকে ৬০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। (সূত্রঃ হরিয়ানা রাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট)
১২১.
কোন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে?  
  1. ফরাসি বিপ্লব
  2. শিল্প বিপ্লব 
  3. রুশ বিপ্লব
  4. বলশেভিক বিপ্লব 
ব্যাখ্যা

• বাস্তিল দুর্গ:
- ফরাসি স্বৈরতন্ত্র এবং অত্যাচারের একমাত্র প্রতীক ছিল এই বাস্তিল দুর্গ।
- এই বাস্তিল দুর্গে রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের বন্দি করে রাখা হতো ও অত্যাচার করা হতো।
- তাই জনগণের কাছে বাস্তিল দুর্গ ছিল ফরাসি রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক।
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের বিদ্রোহী জনগণ বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করেছিল।
- সমস্ত বন্দিরাও মুক্তি পায়।
- বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে রাজা ষোড়শ লুই-এর স্বৈরশাসনের অবসান হয়।
- রাজা জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দেন এবং এই সময় থেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা আইনসভার হাতে চলে যায়।
- ফ্রান্সের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সূচনা হয় এবং অভিজাততন্ত্রের পতন আসন্ন হয়ে ওঠে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১২২.
Which country was part of the Allied Powers in World War I?
  1. ক) German
  2. খ) Russia
  3. গ) Austria
  4. ঘ) Hungary
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্তর্ভূক্ত ছিলো - রাশিয়া।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ( ১৯১৪-১৯১৮):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে - আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- যুদ্ধ শুরু হয়- ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়- ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট ছিল- জার্মান, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল- মিত্র শক্তির বিজয়।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
১২৩.
‘বলিভারিয়ান বিপ্লব’ কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. বলিভিয়া
  2. জর্জিয়া
  3. ইউক্রেন
  4. ভেনেজুয়েলা
ব্যাখ্যা

বলিভারিয়ান বিপ্লব:
- বলিভারিয়ান বিপ্লব ১৯৯৮ সালে ভেনিজুয়েলায় সংঘটিত হয়।
- ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শ্যাভেজ-এর নেতৃত্বে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এর লক্ষ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস ও জনকল্যাণমূলক সংস্কার।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৮ সালে হুগো শ্যাভেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর দেশের এই ক্ষমতা ভারসাম্যের আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা নেন, সাইমন বলিভারের বিপ্লবী ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন দেশে জনক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে, নাম দেন বলিভারিয়ান বিপ্লব।

উৎস: History.com

১২৪.
আরব বসন্তের সূচনা হয় কোন দেশে?
  1. লিবিয়া
  2. তিউনিসিয়া
  3. সিরিয়া
  4. লেবানন
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন
- এতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনগুলোর প্রসার এবং আঞ্চলিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশ।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- প্রথমে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়।
- পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়।
- এক হিসাবে বলা হয় আরব বসন্তের ফলে মাত্র পৌনে দুই বছরে লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের মোট ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ডলার।


উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.
১২৫.
কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ প্রধানত কোন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে?
  1. ইরাক যুদ্ধ
  2. সিরিয়া গৃহযুদ্ধ
  3. সুদান গৃহযুদ্ধ
  4. রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং (Coalition of the willing):
- ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ হলো রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে গঠিত একটি জোট।
- এটি ইউক্রেনকে শক্তিশালী সমর্থন, শান্তি চুক্তি রক্ষা এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদানের জন্য কাজ করে।
-  ২ মার্চ, ২০২৫ তারিখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘Coalition of the Willing’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
- এর লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনে শান্তি বজায় রাখা এবং রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধ করা।
- সদস্য: ৩৫টি দেশ (ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড়াও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, তুরস্ক ইত্যাদি)।

• ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  
- NATO মহাসচিব মার্ক রুটে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) শীর্ষ কর্মকর্তারা, এবং জোটভুক্ত ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
- উদ্দেশ্য: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা।

উৎস: i) The Guardian.
ii) NATO ওয়েবসাইট।

১২৬.
শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় কোন শতকে?
  1. সতের শতকে
  2. আঠার শতকে
  3. উনিশ শতকে
  4. বিশ শতকে
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০-১৮৪০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
- ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।
- এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে।
- ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

উৎস: Britannica.
১২৭.
কোন বিপ্লব নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ক্ষমতাগ্রহণের মাধ্যমে শেষ হয়?
  1. ফরাসি বিপ্লব
  2. রুশ বিপ্লব
  3. জেসমিন বিপ্লব
  4. ভেলভেট বিপ্লব
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব: 
- ফরাসি বিপ্লব ছিল বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- এটি ১৭৮৯ সালে শুরু হয়ে ১৭৯০-এর দশকের শেষের দিকে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ক্ষমতাগ্রহণের মাধ্যমে শেষ হয়।
- এই সময় ফরাসি জনগণ তাদের রাজনৈতিক কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয় এবং শতাব্দীপ্রাচীন রাজতন্ত্র ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে।
- বিপ্লবের মূল কারণ ছিল ফরাসি অভিজাতদের প্রতি জনগণের ক্ষোভ এবং রাজা ষোড়শ লুইয়ের ব্যর্থ অর্থনৈতিক নীতি।
- শেষ পর্যন্ত রাজা ষোড়শ লুই ও তার স্ত্রী মেরি আঁতোয়ানেতকে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
- এটি আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং জনগণের শক্তি কীভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে, তা প্রমাণ করে।

উৎস: History.com
১২৮.
'অরেঞ্জ বিপ্লব' কোন দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা?
  1. ফ্রান্স
  2. ইতালি
  3. ইউক্রেন
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
→ 'অরেঞ্জ বিপ্লব' ইউক্রেনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 

অরেঞ্জ বিপ্লব:
- 'অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয়েছিল ইউক্রেনে।
- এটি একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল, যা ২০০৪ সালে শুরু হয়।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল এই নাগরিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যার প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলন শুরু হয়।
- বিরোধী প্রার্থী ভিক্টর ইউশচেঙ্কো দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান।
- প্রতিবাদকারীরা ইউশচেঙ্কোর প্রচারণার রঙ (কমলা) ব্যবহার করে রাজপথে নামেন।
- ৩ ডিসেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন বাতিল করে নতুন ভোটের আদেশ দেয়।
- নতুন নির্বাচনে ইউশচেঙ্কো ৫২% ভোট পেয়ে জয়ী হন।

উল্লেখযোগ্য যে,
- ২০০৪ সালের অরেঞ্জ বিপ্লব থেকে ২০১৪ সালের মাইদান আন্দোলন পর্যন্ত ইউক্রেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়ার প্রভাব এবং ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
১২৯.
‘রোজ বিপ্লব’ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ইউক্রেন
  2. জর্জিয়া
  3. লিবিয়া
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক বিপ্লবসমূহ:
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- আমেরিকান বিপ্লব: সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৭৬ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- রুশ বিপ্লব: সংঘটিত হয় রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে।
- সাংস্কৃতিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় চীনে ১৯৬৬- ১৯৭৬ সালে।
- ইসলামিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইরানে ১৯৭৯ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।
- টিউলিপ বিপ্লব: সংঘটিত হয় কিরগিজস্থানে ২০০৫ সালে।
- নীল বিপ্লব: সংঘটিত হয় মিসরে ২০১১ সালে।
- জেসমিন বিপ্লব: সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।

উৎস: Britannica.

১৩০.
রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায় কী নামে পরিচিত?
  1. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  2. জুলাই বিপ্লব
  3. নভেম্বর বিপ্লব
  4. বলশেভিক বিপ্লব
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয় ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণে।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com
১৩১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৭
  2. ১৯১৮
  3. ১৯১৯
  4. ১৯২০
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯১৪ সালে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিমাপ্তি হয় ১৯১৮ সালে।
- ইউরোপের কয়েকটি ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্র ব্যতীত প্রায় সকল রাষ্ট্রই এ যুদ্ধে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল।
- এমনকি ইউরোপের বাইরেও এর বিস্তার ঘটেছিল।
- এই ব্যাপকতার জন্য এবং এই যুদ্ধের নাশকতার জন্য একে মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ বলা হয়।
- ১৯১৪ সালে বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভা শহরে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ডের হত্যাকান্ডকে বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলে মনে করা হয়। 
- জার্মানি-ফ্রান্সের পারস্পরিক সন্দেহ ও ঈর্ষা, অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার তীব্র সংঘর্ষ, বলকান অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধিতে অস্ট্রিয়ার ক্ষোভ, ইউরোপের প্রধান প্রধান - শক্তিবর্গের দুটি বিবাদমান শিবিরে বিভক্ত হয়ে যাওয়া, ইঙ্গ-জার্মান নৌ প্রতিযোগিতার জন্য উত্তেজনা বৃদ্ধি, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ ইত্যাদি বহু কারণের সম্মিলিত ফল হল বিশ্বযুদ্ধ।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস -২, এসএসইএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) চেম্বারলেন
  2. খ) রুজভেল্ট
  3. গ) চার্চিল
  4. ঘ) স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্টালিন। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হ্যারি এস ট্রুম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

উৎসঃ ব্রিটানিকা

১৩৩.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জার্মানি কর্তৃক সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অপারেশনের নাম -
  1. অপারেশন বারবারোসা
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম
  4. অপারেশন রেইনবো
ব্যাখ্যা
অপারেশন বারবারোসা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ।

⇒ ১৯৪১ সালে ২২ জুন জার্মানীর হিটলার 'অপারেশন বারবারোসা' নামে পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন অভিযান শুরু করেছিলেন।
- এই অভিযানে ১৯টি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০ কামান অংশ গ্রহণ করে।
- সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈনিক সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভিযানে।
- তিনটি দলে ভাগ হয়ে আক্রমণ শুরু করে জার্মান বাহিনী।
- এই তিনটি ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ফিল্ড মার্শাল ভব লিন, ভন বক এবং ভন রান্সডেট।
- আক্রমণের তীব্রতায় রাশিয়ান রেড আর্মিকে পিছু হটতে বাধ্য করে জার্মান বাহিনী।
- মাত্র ১৭ দিনের মধ্যেই তারা ৩ লাখ রাশিয়ান সৈনিককে বন্দি করা ছাড়াও আড়াই হাজার ট্যাঙ্ক, ১ হাজার ৪০০ আর্টিলারি গান এবং ২৫০টি রুশ ফাইটার প্লেন বিধ্বস্ত করে জার্মানরা।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্ব নাৎসিদের জয়রথ থামিয়ে অপারেশন বারবারোসাকে ব্যর্থ করে দেয়।
- স্ট্যালিনের নেতৃত্বে মাতৃভূমি রক্ষায় সোভিয়েত জনগণ জার্মানির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- জার্মানরা যেসব সোভিয়েত ভূখন্ড দখল করে, সেখানেও সোভিয়েত জনগণ গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যায়।
- স্ট্যালিন সোভিয়েত জনগণ ও সৈন্যদের দেশরক্ষায় ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেন।
- মূলত সোভিয়েতদের প্রবল প্রতিরোধের ফলেই অপারেশন বারবারোসা ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ইরাক এবং ৩৪টি দেশের জাতিসংঘ অনুমোদিত যৌথ বাহিনীর মধ্যে।

উৎস: Britannica.
১৩৪.
নিচের কোন দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. ইতালি
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. জাপান
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
- 'যুক্তরাষ্ট্র' দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।

মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

এছাড়াও, 
- ১৯৪১ সালের ৮ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে। এর ফলে যুদ্ধের কৌশল এবং পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয়।
- ৭ মে ১৯৪৫ সালে জার্মানি মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে, যা ইউরোপীয় মঞ্চে যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা করে। এরপর, ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলে।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।

সূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
১৩৫.
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পতন ঘটে কোন যুদ্ধে?
  1. অস্টারলিৎজের যুদ্ধ
  2. ট্রাফালগারের যুদ্ধ
  3. লিপজিগের যুদ্ধ
  4. ওয়াটারলুর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- ১৮১৫ সালের ওয়াটারলুর যুদ্ধে ডিউক অফ ওয়েলিংটনের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ এবং ভন ব্লুচারের নেতৃত্বাধীন প্রুশিয়ান বাহিনীর কাছে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। এই পরাজয়ের পর তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট:
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন একাধারে ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট ও তুখোড় সেনাপ্রধান।
- তিনি ফরাসি বিপ্লবের ক্রান্তিলগ্নে ফ্রান্সের হাল ধরেছিলেন।
- ফ্রান্সকে ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নেপোলিয়ন সক্ষম হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- যেখানে ১৮২১ সালে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: Britannica.

১৩৬.
১৮০৫ সালের ট্রাফালগার যুদ্ধে কোন দেশ বিজয়ী হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ব্রিটেন
  3. স্পেন
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

- ট্রাফালগার যুদ্ধে ব্রিটেন জয় লাভ করে।

ট্রাফালগার যুদ্ধ: 

- ট্রাফালগার যুদ্ধ ১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর স্পেন উপকূলে সংঘটিত হয়।
- এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী নৌযুদ্ধ।
- ব্রিটেনের এডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে, ব্রিটেন ফ্রান্স ও স্পেনের মিলিত নৌশক্তির বিরুদ্ধে জয় লাভ করে।
- এই বিজয়ের পর, লন্ডনে ট্রাফালগার স্কয়ার নির্মিত হয় নেলসনের প্রতি সম্মান জানাতে।
- ট্রাফালগার স্কয়ার বর্তমানে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডট কম। 

১৩৭.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্গত দেশ ছিল - 
  1. ফ্রান্স
  2. ইতালি
  3. হাঙ্গেরি
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

⇒ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার মাধ্যমে অনেক সাম্রাজ্য ভেঙে যায়, যেমন অস্ট্রো-হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য, রাশিয়ার সাম্রাজ্য, এবং জার্মান সাম্রাজ্য। নতুন দেশ গঠন হয়, যেমন চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, এবং যুগোস্লাভিয়া।
- জার্মানিকে বিশাল ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।
 
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১৩৮.
'অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ' অভিযান পরিচালনা করেছে কোন দেশ?
  1. ইসরায়েল
  2. পাকিস্তান 
  3. রাশিয়া 
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা

অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ:
- ইয়েমেনে 'অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ' অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েল। 

⇒ ৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ইয়েমেনের হুদায়দাহ, রাস ইসা ও সাইফ বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
- দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
- এরই অংশ হিসেবে চালানো হয় ওই হামলা।
- প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় হুথিরা। এরপর লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জলপথে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে তারা।

উল্লেখ্য,
- ৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এবার পাল্টা আঘাত হেনেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবের প্রধান বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

উৎস: i) CNN. 
ii) BBC.

১৩৯.
কোন দুটি দেশের মধ্যে ‘শতবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ’ ঘটেছিল? 
  1. রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে 
  2. ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মধ্যে 
  3. ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে 
  4. ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে
ব্যাখ্যা

- 'শতবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ' সংঘটিত হয় ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের মধ্যে।
• শতবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ:
- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৩৩৭ সাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত।
- 'জোয়ান অব আর্ক' ছিল ফ্রান্সের সেনাপতি।
- ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড এই যুদ্ধ শুরু করেন ফ্রান্সের সিংহাসনের দাবিতে।
- এই যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স।

অন্যদিকে,
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উৎস ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছদ্মবেশী রাশিয়ান সৈন্যদের দ্বারা ইউক্রেনীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র ক্রিমিয়ার গোপন আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হয়। 
- ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। 
- পাকিস্তান ১৯৬৫ সালের আগস্টে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালালে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

১৪০.
কোন বিপ্লবের ফলে তিউনিসিয়ার স্বৈরাচারী একনায়ক জয়নাল আবেদিন বেন আলী ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. ক) অক্টোবর বিপ্লব
  2. খ) স্যাফরন বিপ্লব
  3. গ) আগস্ট বিপ্লব
  4. ঘ) জেসমিন বিপ্লব
ব্যাখ্যা
তিউনিসিয়ার স্বৈরাচারী একনায়ক বেন আলি ১৯৮৭ সাল থেকে তিউনিশিয়া শাসন করে আসছিলেন। ওই অঞ্চলের অন্য অনেক দেশের মধ্যে বেশ সমৃদ্ধিশালী হিসেবেই পরিচিত ছিল তিউনিসিয়া। তবে সেই সমৃদ্ধি আপামর জনতার কল্যাণে কাজে লাগেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সমর্থনপুষ্ট ওই সরকার জনগণের যে কোনও ক্ষোভ ও প্রতিরোধকে কঠোর হাতে দমন করতো। কিন্তু ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষিত সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বিন বোয়াজিজির আত্মাহুতিতে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি পদত্যাগে বাধ্য হন তিউনিসিয়ার স্বৈরাচারী একনায়ক জায়নুল আবেদিন বেন আলী। তিউনিসিয়ায় ওই বিপ্লবকে বলা হয় ‘জেসমিন বিপ্লব’। সূত্র- আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই।
১৪১.
অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি’ কোন দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. ইসরায়েল
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা
অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি’:
- অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি' অভিযান পরিচালনা করছে ইরান।
- ১৩ জুন, ২০২৫ তারিখে ইরানে ইসরাইলের পরিচালিত অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর বিপরীতে অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি অভিযান পরিচালনা করছে ইরান।

⇒ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামের বৃহৎ সামরিক প্রতিশোধ শুরু করেছে।
- এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য হলো- ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি, রাডার ব্যবস্থা, এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা।
- এই অপারেশন তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে-
১. প্রথম ধাপে বিমানঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থার ধ্বংস,
২. দ্বিতীয় ধাপে হিজবুল্লাহ ও হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,
৩. তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি থেকে হাইপারসনিক মিসাইল হামলা।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ-১' এবং 'ট্রু প্রমিজ-২' নামে দুটি প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।
- ওই অভিযানে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়।

উৎস: Tasnim পত্রিকা।
১৪২.
মিগ-২১ কী?
  1. এক ধরনের যাত্রীবাহী বিমান
  2. এক বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টার
  3. এক ধরনের যুদ্ধ বিমান
  4. জো বাইডেনের বিশেষ বিমান
ব্যাখ্যা
₻ যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো হলো:
- বি-৫২
- এফ-১৬,
- স্টেলথ,
- সি-১৩০ 
₻  রাশিয়ার যুদ্ধবিমান গুলো হলো:
- মিগ-২১,
- মিগ-২৯,‌
- ইয়াক-১৩০ ইত্যাদি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৪৩.
ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সাম্য 
  2. গণতন্ত্র
  3. ভ্রাতৃত্ব
  4. স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র এর অন্তর্ভুক্ত নয় গণতন্ত্র।

ফরাসি বিপ্লব:

- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দূর্গ পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব দশ বছর স্থায়ি হয়েছিল।
- এই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এ সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।
- লেখনীর মাধ্যমে বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এই বিপ্লবের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- এবং বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে তিনি ফ্রান্সের একজন প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। 

উৎস: i) ইতিহাস-৪, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ব্রিটানিকা।

১৪৪.
নিচের কোন যুদ্ধটি "The Great War” নামে পরিচিত?
  1. ক) আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  2. খ) উপসাগরীয় যুদ্ধ
  3. গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
⇨ গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো প্রধানত ইউরোপে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত এই যুদ্ধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নামে পরিচিত।
⇨ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ “মহাযুদ্ধ ” বা "The Great War” নামে ইতিহাসে বিখ্যাত। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব প্রথম সামরিক শক্তির সর্বগ্রাসী চেহারা প্রত্যক্ষ করে। এর আগে কোন যুদ্ধে এতো প্রাণহানি ঘটে নি।
⇨ চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩৭ লাখ প্রাণহানি ঘটে রাশিয়ার। 

একনজরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
▪ যুদ্ধ সংঘটনকাল:- ২৮ জুলাই, ১৯১৪ — ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ।
▪ অক্ষশক্তি:- জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
▪ মিত্রশক্তি:- রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।  
▪ ফলাফল:- মিত্রশক্তি বিজয়ী।    

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১৪৫.
বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে কোন বিপ্লবের সূচনা ঘটে?
  1. রুশ বিপ্লব
  2. ফরাসি বিপ্লব
  3. হাইতি বিপ্লব
  4. শিল্প বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৪৬.
ইহুদিদের কোন উৎসবের সময় ৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. রশ হ্যাশানাহ
  2. হানাকাহ
  3. ইয়ম কিপুর
  4. পাসওভার
ব্যাখ্যা
৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ 'Yom Kippur War' নামে পরিচিত।
- সংঘটিত হয়: ১৯৭৩ সাল।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়ম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- এই যুদ্ধে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,
• ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ: ১৯৪৮ সাল।
• ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ: ১৯৫৬ সাল।
• ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ: ১৯৬৭ সালে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
১৪৭.
ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বিরতি বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর নাম-
  1. ক) UNDOF
  2. খ) UNSMIS
  3. গ) UNTAG
  4. ঘ) UNIIMOG
ব্যাখ্যা
৩১মে ১৯৭৪ সালে নিরাপত্তা পরিষদের ৩৫০(১৯৭৪) রেজুলেশনের মাধ্যমে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখতে The United Nations Disengagement Observer Force (UNDOF) প্রতিষ্ঠিত হয়। সূত্র- UNDOF ওয়েবসাইট।
১৪৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলা হয়েছিল?
  1. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  2. জিমি কার্টার
  3. রোনাল্ড রিগ্যান
  4. রিচার্ড নিক্সন
ব্যাখ্যা
জাপানের পারমাণবিক বোমা হামলা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যেখানে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র।
- মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে।
- নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
- নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: History.com.
১৪৯.
শাত-ইল-আরব' ও 'কোহেস্তান'কে কেন্দ্র করে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক্যাম্প ডেভিড
  2. ডেটন চুক্তি
  3. কায়রো চুক্তি
  4. আলজিয়ার্স চুক্তি
ব্যাখ্যা
আলজিয়ার্স চুক্তি:
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ১৩ জুন, ১৯৭৫ সাল।
- চুক্তির পক্ষ:- ইরান ও ইরাক।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী:- ইরানের পক্ষে  - শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী এবং ইরাকের পক্ষে - ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন।

এছাড়াও,
- শাত-ইল-আরব ও ইরানের কোহেস্তানকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অবস্থার অবসানের লক্ষ্যে আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় “আলিজিয়ার্স চুক্তি” স্বাক্ষরিত হয়।  
- চুক্তি অকার্যকর:- ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ সাল। (ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমনের মধ্য দিয়ে।)
- চুক্তির লক্ষ্য:- ইরান ও ইরাকের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত পরিস্তিতিতে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, ইরান ও ইরাক কর্তৃক কুর্দিশ বিদ্রোহ দমন ইত্যাদি।

উৎস: হিস্টরি.কম এবং ব্রিটানিকা।
১৫০.
ভেলভেট বিপ্লব সংগটিত হয়েছিল কোন দেশে?
  1. ক) চেকোস্লোভাকিয়া
  2. খ) কিরগিজস্তান
  3. গ) ইউক্রেন
  4. ঘ) জর্জিয়া
ব্যাখ্যা
ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution)
▪ সংঘটন কাল: ১৭ নভেম্বর - ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ সাল।
▪ সংঘটন স্থান – চেকোস্লোভাকিয়া (বর্তমানে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া)
▪ বিপ্লবের কারন - কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি ও সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার জন্য ছাত্র-জনতার শান্তিপুর্ণ আন্দোলন। এই বিপ্লবকে Gentle Revolution-ও বলা হয়ে থাকে।    

অন্যদিকে, 
▪ ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
▪ ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সমষ্টিকে গোলাপ বিপ্লব বলে। 
▪ ক্ষমতাবদলকে কেন্দ্র করে ২০০৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনে সংঘটিত কিছু সরকার বিরোধী আন্দোলনকে “কমলা বিপ্লব” বা অরেঞ্জ রেভুলুশ্যন বলে। 

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।
১৫১.
অরেঞ্জ রেভ্যুলেশন (Orange Revolution) সংঘটিত হয় কোন দেশে?
  1. আয়ারল্যান্ড
  2. তিউনিশিয়া
  3. জর্জিয়া
  4. ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
অরেঞ্জ রেভ্যুলেশন:
- ইউক্রেনে ২০০৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে যে বিপ্লব সম্পন্ন হয়েছিল, তা ইতিহাসে স্থান পেয়েছে অরেঞ্জ রেভ্যুলেশন হিসেবে।
- ২১ নভেম্বর (২০০৪) সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ওই নির্বাচন নিয়ে একটা সংকট তৈরি হয়েছিল।
- অরেঞ্জ রেভ্যুলেশন সেখানে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় বসিয়েছিল ভিক্টর ইয়েশ্চেনকোকে।
- নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে ইয়েশ্চেনকো তার সমর্থকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফা ভোটাভুটিতে ইয়েশ্চেনকো বিজয়ী হন।
- ওই সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইয়েনোকোভিচ, যিনি ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- ২০১০ সালের নির্বাচনে ইয়েশ্চেনকো পেয়েছিলেন শতকরা মাত্র ৫ ভাগ ভোট।
- অথচ তিনি ইউক্রেনে অরেঞ্জ রেভ্যুলেশন-এর জন্ম দিয়েছিলেন।
- এর অর্থ হচ্ছে বিপ্লব সেখানে যে আবেদন সৃষ্টি করতে পেরেছিল, তা ইয়েশ্চেনকো ধরে রাখতে পারেননি।
- ২০১৪ সালে তিনি গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত হন।
- ২০১৪ সালে সেখানে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে বিজয়ী হয়েছিলেন ব্যবসায়ী পেট্রো প্রোসেনকো।
- ২০১৯ সালে সেখানে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

উল্লেখ্য,
- ভিক্টর ইয়েশ্চেনকোর সমর্থকরা গলায় কমলা রঙের মাফলার পেঁচিয়ে আন্দোলনে অংশ নিতেন। আর এ কারণেই ওই আন্দোলন পরিচিতি পেয়েছিল অরেঞ্জ রেভ্যুলেশন হিসেবে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোষ - তারেক শামসুর রেহমান।
১৫২.
১৯৭৩ সালে সংঘটিত আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. ক) জুনের যুদ্ধ
  2. খ) দশ দিনের যুদ্ধ
  3. গ) ছয় দিনের যুদ্ধ
  4. ঘ) ইয়োম কিপুর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালে সংঘটিত আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ ‘অক্টোবর যুদ্ধ’, ‘রমজান যুদ্ধ’ ও ‘ইয়োম কিপুর যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। মিসর ও সিরিয়া নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৭৩ সালের ৬ থেকে ২৫ অক্টোবর এ লড়াই সংঘটিত হয়। ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’, যাকে ‘জুনের যুদ্ধ’ বা তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধও বলা হয়। এটি ছিল সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ যেটি ১৯৬৭ সালের ৫-১০ জুন সংঘটিত হয়েছিল। ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে সিনাই উপদ্বীপ, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর, পুরাতন শহর জেরুজালেম এবং গোলান মালভূমি দখল করে নিয়েছিল। এই অঞ্চলগুলি পরবর্তীকালে আরব-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
সূত্র - History.com ওয়য়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
১৫৩.
নিচের কোন দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ব্রিটেন
  2. ইতালি
  3. ফ্রান্স
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।

- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।

তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।

১৫৪.
পলাশীর যুদ্ধ কোন সালে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৫৭
  2. খ) ১৭৯৯
  3. গ) ১৮৩৮
  4. ঘ) ১৮৫৭
ব্যাখ্যা

- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ইংরেজদের সাথে সংঘটিত পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনানায়ক সিন ফ্রে নবাব সিরাজদ্দৌলার পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- অন্যদিকে, নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর সহ আরো কয়েকজন নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করাই নবাব যুদ্ধে পরাজিত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : এসএসসি - উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

১৫৫.
'টুপাক আমারু’ কোন দেশের গেরিলা সংস্থা?
  1. ক) প্যারাগুয়ে
  2. খ) উরুগুয়ে
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) পেরু
ব্যাখ্যা
• টুপাক আমারু:
- টুপাক আমারু রেভ্যুলেশনারী মুভমেন্ট (MRTA) হলাে পেরুর কমিউনিস্ট সশস্ত্র সংগঠন।
- এটি পেরুতে শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৮৪ সাল থেকে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে।
- ২০০০ সালের দিকে এর কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
- শাইনিং পাথ পেরুর অপর একটি কমিউনিস্ট গেরিলা সংগঠন।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন এর ওয়েবসাইট।
১৫৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি ছিল না কোন দেশ?
  1. জার্মানি
  2. জাপান
  3. তুরস্ক
  4. অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা
-প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি ছিল- জার্মানি, অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি ও তুরস্ক।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি গঠিত হয়েছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য, এবং তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য) নিয়ে।
- তবে জাপান তখন মিত্রশক্তির পক্ষ থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
-প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল- ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রাশিয়া, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: Britannica.
১৫৭.
নিচের কোন যুদ্ধটি 'রমজান যুদ্ধ' নামে পরিচিত?
  1. ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  2. ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  3. ৩য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  4. ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- আরব দেশসমূহ পাশ্চাত্যের উপর তেল অবরোধ করে ইয়োম কিপুর যুদ্ধে।
- এসময় মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস ছিল।
- এই যুদ্ধ অক্টোবর যুদ্ধ ও রমজান যুদ্ধ নামেও পরিচিত।
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়োম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ: ১৯৪৮ সালে।
- ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ: ১৯৫৬ সালে।
- ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ: ১৯৬৭ সালে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল। এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

উৎস: World Atlas ও ব্রিটানিকা। 
১৫৮.
চীনে ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর সমাপ্তি ঘটে কত সালে?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

• চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব:
- কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- বিপ্লব শুরু হয়: ১৯৬৬ সালে
- বিপ্লব সমাপ্ত হয়: ১৯৭৬ সালে।
- স্থায়িত্বকাল: ১০ বছর।
- সমগ্র চীনকে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই
বিপ্লব শুরু হয়।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৫৯.
'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনের সূচনা হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
- ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার হলো একটি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন। ২০১৩ সালে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ ট্রভয়ের মার্টিনের হত্যাকারী জর্জ জিমারম্যানকে বেকসুর খালাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে পুনরায় সমগ্র বিশ্বে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যে হলো বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদ বা কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্যের অবসান।
(তথ্যসূত্রঃ ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ওয়েবসাইট)
১৬০.
দোহ্য চুক্তি ২০২০ হলো-
  1. কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি
  2. সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের মধ্যে শান্তি চুক্তি
  3. ইসরাইল এবং বাহরাইন এর মধ্যে শান্তি চুক্তি
  4. আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবান-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি
ব্যাখ্যা
দোহ্য চুক্তি:
- আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি।
- এটি দোহা চুক্তি নামে ও পরিচিত।
- এই চুক্তি ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে কাতারের দোহাতে স্বাক্ষরিত হয়।
- দোহা চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করবে এবং ভবিষ্যত সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে, নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং সহযোগিতা করবে।

উৎস: state.gov & voanews.[link]
১৬১.
হুতি মুভমেন্ট কখন শুরু হয়?
  1. ১৯৯০ সালে উত্তর ইয়েমেন থেকে
  2. ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ ইয়ামেন থেকে
  3. ১৯৯০ সালে ইরাক থেকে
  4. ১৯৮৮ সালে উত্তর ইয়েমেন থেকে
ব্যাখ্যা
হুতি আন্দোলন:
- হুতি আন্দোলন, উত্তর ইয়েমেনের ইসলামী মৌলবাদী আন্দোলন এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান অভিনেতা।
- হুতি যার আনুষ্ঠানিক নাম আনসারুল্লাহ একটি শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন।
- এটি ১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনে উদ্ভূত হয়েছিল।
- এটি প্রধানত যায়দি শিয়াদের নিয়ে গঠিত।
- হুতি আন্দোলনের জন্ম উত্তর ইয়েমেনের সাদা শহরে।
- ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে তাদের নেতা হুসেইন আল-হুতি শিয়া ইসলামের জাইদি ধারার অনুসরণে ধর্মীয় পুনর্জাগরণমূলক আন্দোলন শুরু করেন।

উল্লেখ্য,
- জাইদিরা কয়েক শতাব্দী ধরে ইয়েমেন শাসন করলেও ১৯৬২ সালে গৃহযুদ্ধের পর সুন্নিরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- এরপর তারা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
- সুন্নি মৌলবাদ মোকাবিলা বিশেষ করে সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ওয়াহাবি মতবাদ মোকাবিলায় আল-হুতি আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- সেই আন্দোলনই ক্রমে সশস্ত্র রূপ নেয়। 

উৎস: Britannica.
১৬২.
মার্কিন গৃহযুদ্ধে ‘কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকার’ রাষ্ট্রপতি ছিলেন-
  1. ক) জেফারসন ডেভিস
  2. খ) আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. গ) রবার্ট এডওয়ার্ড লি
  4. ঘ) আলেকজান্ডার এইচ স্টিফেনস
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বা আমেরিকার গৃহযুদ্ধ মূলত মার্কিন ফেডারেল সরকারের সাথে বিপ্লবী ১১ টি দাস-নির্ভর প্রদেশের মাঝে সংগঠিত হয়। এই ১১ টি প্রদেশ পূর্বেই নিজেদেরকে মূল যুক্তরাষ্ট্র হতে আলাদা ঘোষণা করেছিল এবং নামকরণ করেছিল কনফেডারেট স্টেটস অব আমেরিকা এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন রাষ্ট্রপতি জেফারসন ডেভিস।
এদের বিরুদ্ধে ছিলো রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন-এর ইউনিয়ন বা ফেডারেল সরকার আর মার্কিন রিপাবলিকান দল, যারা দাস-প্রথার বিস্তারের ঘোর বিরোধী ছিল। সূত্র- ব্রিটানিকা এবং Worldatlas ওয়েবসাইট।
১৬৩.
শিল্প বিপ্লব কথাটিকে জনপ্রিয় করেছিলেন কোন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক?
  1. রুডইয়ার্ড কিপলিং
  2. আর্নল্ড টয়েনবি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ডরিস লেসিং
ব্যাখ্যা
⇒ শিল্প বিপ্লব কথাটিকে জনপ্রিয় করেছিলেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তাঁর লেখা 'Lectures on the Industrial Revolution in England' গ্রন্থে ব্যবহারের মাধ্যমে।

শিল্প বিপ্লব:
- শিল্প বিপ্লব সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে সংঘটিত হয়।
- ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার নানা রকম কারণের মধ্যে একটি বড় কারণ ছিল পুঁজির জোগান।
- ১৭৬০ সালে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে শিল্পায়নের সূত্রপাত।
- ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন তৈরির মাধ্যমে যা ব্যাপক কলেবরে বৃদ্ধি পায়।
- ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে আলোকিত বিশ্ব।
- ১৮৪৫ সালে আবার শিল্প বিপ্লব কথাটি ব্যবহার করেন জার্মান সমাজতন্ত্রী দার্শনিক ফ্রেডরিখ অ্যাঙ্গেলস।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১৬৪.
ফকল্যান্ড যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে।
- শেষ হয়- ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- পকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ  দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার  তৎকালাীন সামরিক সরকার দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপে আক্রমণ করে দখল করে নেয়।
- ব্রিটিশ তৎকালাীন প্রধানমন্ত্রী আজেন্টিনার উপর সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- সকল নৌযুদ্ধে হেরে আর্জেন্টিনা ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে আত্মসর্মপনে সম্মত হয় । এর ফলে ঐসকল দ্বীপে আবার ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ১৯৮৩ সালে আজের্ন্টিনায় সামরিক সরকার ক্ষমতা হারায়।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com

১৬৫.
কোন বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা হয়?
  1. বলশেভিক বিপ্লব
  2. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  3. অক্টোবর বিপ্লব
  4. নভেম্বর বিপ্লব
ব্যাখ্যা

রাশিয়া ১৯১৭ সালে সংঘটিত বিপ্লবের দুটি পর্যায় রয়েছে।
যথা -
• ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় দুটি বিপ্লব সংগঠিত হয়। এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব বলে।
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লব নেতৃত্ব দেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি।

• বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে - রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন - ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎস: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা।

১৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল -
  1. তুরস্ক
  2. বুলগেরিয়া
  3. অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি কর্তৃক সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় বা অক্ষ শক্তির মধ্যে ছিলো জার্মানি (প্রুশিয়া সাম্রাজ্য), তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য), অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্য ও ‍বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো প্রভৃতি।
- ২৮ জুন ১৯১৯ ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানি এবং মিত্রপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- এ চুক্তি অনুযায়ী জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে সম্মত করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডটকম)
১৬৭.
'ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি' কোন ঐতিহাসিক যুদ্ধের শেষে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ত্রিশ বছরের যুদ্ধ
  2. সলফারিনো যুদ্ধ
  3. শতবর্ষী যুদ্ধ
  4. পেলোপনেসীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি এর মাধ্যমে ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে প্রটেস্ট্যান্ট রাষ্ট্রগুলি ধর্মীয় স্বাধীনতা পায়, ফ্রান্সকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং ইউরোপে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়, অস্ট্রিয়ার হাবসবার্গ সম্রাটদের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

» ত্রিশ বছরের যুদ্ধ (Thirty years war):
- ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধ ছিল ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দ - ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত একটি দীর্ঘমেয়াদি অনুক্রমিক যুদ্ধ।
- সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে ইউরোপে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
- ধর্মই এই যুদ্ধের একমাত্র কারণ ছিলো তা নয়, বরং ধর্ম এবং রাজনীতি উভয় কারণে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে এটি একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হয়।
- এই যুদ্ধে প্রোটেস্টান্ট এবং ক্যাথলিক উভয়েই তাদের নিজস্ব শক্তি বজায় রেখে এগিয়ে যেতে থাকে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৮.
চীনা বিপ্লবের কারণে কোন সাম্রাজ্যের পতন হয়?
  1. হ্যান
  2. সাং
  3. মিং
  4. কিং
ব্যাখ্যা
সিনহাই বিপ্লব:
- সিনহাই বিপ্লব যা চীনে 'Xinhai Revolution' হিসেবে পরিচিত।
- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল যা কিং রাজবংশের (Qing Dynasty) এর পতন ঘটিয়ে চীনে প্রথম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- এই বিপ্লবের ফলে চীনে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯১১ সালের ১০ অক্টোবর এই বিপ্লব শুরু হয় যা ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংঘটিত হয়।

⇒ ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- সান ইয়েৎ সেন ছিলেন চীন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।

⇒ কিং রাজবংশ ছিল চীনের শেষ সামন্ততান্ত্রিক রাজবংশ যা ১৬৪৪ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিল।
- জনগণের মধ্যে রাজবংশের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল।
- কিং রাজবংশের শেষ সম্রাট পু ই স্বীকার করেন যে রাজবংশের শাসন অব্যাহত রাখার কোনও সম্ভাবনা নেই।
- এর ফলে, চীনের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সান ইয়েৎ-সেন নির্বাচিত হন।
- কিং রাজবংশের পতনের সাথে সাথে চীনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আধিপত্য কমে আসে।

উৎস: Britannica.
১৬৯.
VE Day-Victory in Europe Day পালন করা হয় কেন?
  1. ইউরোপ দখলমুক্ত করার জন্য মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডিতে অবতরণ
  2. ইতালির আত্মসমর্পন
  3. জার্মানীর আত্মসমর্পন
  4. জাপানের আত্মসমর্পন
ব্যাখ্যা
ঘটনাক্রম:
১৯৩৯ - জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণ । ব্লিৎসক্রিগ বা বিদুৎগতির নীতি অনুসরণ।
১৯৪০ - অক্ষ শক্তির উত্তর আফ্রিকা (মিশর) আক্রমণ।
১৯৪১ -  ৭ ডিসেম্বর জাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ।
১৯৪৪ - ৬ জুন (D- Day) ইউরোপ দখল মুক্ত করার জন্য মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডিতে অবতরণ।
১৯৪৫ - ৮ মে (VE Day-Victory in Europe Day) জার্মানীর আত্মসমর্পন ।
৬ আগষ্ট -হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ (লিটল বয়) ।
৯ আগষ্ট নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ (ফ্যাটম্যান)।
১৫ আগষ্ট জাপানের আত্মসমর্পণের ঘোষণা।
২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ।
৮ মে, ১৯৪৫-এ, মিত্রশক্তির কাছে সমস্ত নাৎসি জার্মান বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইউরোপীয় পর্ব শেষ হয়েছিল।
ইভেন্টটি ইউরোপে বিজয় (Victory in Europe বা VE Day) দিবস হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। 

উৎস: Britannica.
১৭০.
‘বিপ্লবী মার্কসবাদী পার্টি’ গড়ে তোলার জন্য জার নিকোলাসের সরকার ভ্লাদিমির লেনিন কে নির্বাসনে পাঠায়-
  1. ক) জার্মানিতে
  2. খ) অস্ট্রিয়ায়
  3. গ) সুইজারল্যান্ডে
  4. ঘ) সাইবেরিয়ায়
ব্যাখ্যা
লেনিন নারোদবাদী ও বৈধ মার্কসবাদীদের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী মার্কসবাদী পার্টি’ গড়ে তোলার জন্য জার নিকোলাসের সরকার ১৮৯৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি লেনিনকে তিন বছরের জন্য সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করে। সেখানে থাকা ভ্লাদিমির লেনিনের পক্ষে সহজ ছিল না। বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ট্রিয়া সরকার জার সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে লেনিনকে গ্রেফতার করে। তবে লেনিনের সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণে দুই সপ্তাহ পর তিনি ছাড়া পেয়ে সুইজারল্যান্ড চলে যান। বিভিন্ন স্থানে গোপনে রাজনৈতিক কাজ করে প্রায় ১০ বছর পর ১৯১৭ সালের ৩ এপ্রিল রাতে লেনিন রাশিয়ায় পৌঁছতে সক্ষম হন এবং বলশেভিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন।
১৭১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল না কোনটি?
  1. রাশিয়া
  2. ফ্রান্স
  3. বেলজিয়াম
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন।
- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট ছিল: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল: রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র। 
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৮ জুন, ১৯১৯ সালে।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

উৎস: i) Britannica.
         ii) History.com.
১৭২.
Yom Kippur War নামে পরিচিত -
  1. ১ম আরব ইসরাইল যুদ্ধ
  2. ২য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ
  3. ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ
  4. ৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর গুলোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনী মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাতজমাউত (স্বাধীনতা যুদ্ধ) বলে পরিচিত।

২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।

৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয়  ১৯৭৩ সালে।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়োম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

উৎস: World Atlas.
১৭৩.
২০০৪ সালে ইউক্রেনে সংঘটিত বিপ্লব কী নামে পরিচিত?
  1. গোলাপ বিপ্লব
  2. টিউলিপ বিপ্লব
  3. কমলা বিপ্লব
  4. জেসমিন বিপ্লব
ব্যাখ্যা

কমলা বিপ্লব (Orange Revolution):
- ক্ষমতাবদলকে কেন্দ্র করে ২০০৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনে সংঘটিত কিছু সরকার বিরোধী আন্দোলনকে “কমলা বিপ্লব” বা অরেঞ্জ রেভুলুশ্যন বলে।

অন্যদিকে,
• টিউলিপ বিপ্লব (Tulip Revolution):
- ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কিরগিজস্তানে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই বিপ্লব শুরু হয়েছিল।
- টিউলিপ বিপ্লব কিরগিজস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসে।
- এটি রাষ্ট্রপতি আসকার আকায়েভকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে, তার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ সরকারের অবসান ঘটায়।

• গোলাপ বিপ্লব (Rose Revolution) :
- ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সমষ্টিকে গোলাপ বিপ্লব বলে।

• টিউলিপ বিপ্লব (Tulip Revolution):
- ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।

 উৎস: ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭৪.
প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয় কোন দেশে?
  1. ইংল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. জার্মানি
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

 শিল্প বিপ্লব (Industrial Revolution):
- আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে যে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ন সংঘটিত হয়, তাকে শিল্প বিপ্লব বলা হয়।

• প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০-১৮৪০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
- ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।
- এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে।
- ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৭৫.
শ্লিফেন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
  1. রাশিয়াকে প্রথমে আক্রমণ
  2. ফ্রান্সকে দ্রুত পরাজিত করা
  3. ইউক্রেন দখল
  4. ইতালিকে জয় করা
ব্যাখ্যা
শ্লিফেন পরিকল্পনা (The Schlieffen Plan):
- শ্লিফেন পরিকল্পনা ছিল জার্মান সামরিক কৌশল, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহারের জন্য জার্মান জেনারেল আলফ্রেড ভন শ্লিফেন দ্বারা ১৯০৫ সালে প্রণীত হয়েছিল।
- এর মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পশ্চিমে ফ্রান্সকে পরাজিত করা এবং পরে পূর্বে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো।

পরিকল্পনার বৈশিষ্ট্য:
- দুই-মুখী যুদ্ধের এড়ানো: জার্মানি একই সাথে ফ্রান্স এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে না পারায় প্রথমে ফ্রান্সকে দ্রুত পরাজিত করার উপর জোর দেওয়া হয়।
- বেলজিয়ামের মাধ্যমে আক্রমণ: জার্মানি নিরপেক্ষ বেলজিয়ামের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল, কারণ এটি দ্রুততম পথ ছিল।
- প্যারিসে অভিযান: প্যারিস দখল এবং ফ্রেঞ্চ বাহিনীর প্রধান অংশ ধ্বংস করার মাধ্যমে ফ্রান্সকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার পরিকল্পনা করা হয়।
- পরবর্তী ধাপে রাশিয়া: ফ্রান্স পরাজিত হওয়ার পর পুরো জার্মান বাহিনী পূর্ব দিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মোতায়েন করা হবে।

ব্যর্থতা: শ্লিফেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, কারণ:
- বেলজিয়ামের প্রতিরোধ জার্মানির অগ্রযাত্রা ধীর করে দেয়।
- ব্রিটিশ বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়।
- রাশিয়া পূর্ব ফ্রন্টে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়।
- ফ্রান্স মার্ন যুদ্ধের সময় সফলভাবে জার্মানদের থামিয়ে দেয়।
- এই পরিকল্পনার ব্যর্থতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী trench warfare-এ রূপান্তরে ভূমিকা রাখে।

উৎস: Britannica.
১৭৬.
কোন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে Uniting for peace resolution গৃহীত হয়েছিল? 
  1. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  2. কোরীয় যুদ্ধ
  3. পাক-ভারত যুদ্ধ
  4. ইজরাইল- ফিলিস্তিন 
ব্যাখ্যা

• কোরীয় যুদ্ধ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ১৯৫০-১৯৫৩ সাল।
- বিবাদমান পক্ষসমূহ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সমর্থিত - উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থিত - দক্ষিণ কোরিয়া।
- যুদ্ধের ফলাফল: কোরিয়া সংকটকালীন সময়ে ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তির জন্য ঐক্য” (Uniting for Peace) প্রস্তাব পাশ করে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালায়।
- এ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ৩ নভেম্বর, ১৯৫০ সালে 'Uniting for peace resolution' পাশ করে।
- অবশেষে ২৭ জুলাই, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৭৭.
কোন বিপ্লবের মাধ্যমে বলশেভিক পার্টি ক্ষমতা দখল করে?
  1. ফ্রেঞ্চ বিপ্লব
  2. অক্টোবর বিপ্লব
  3. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  4. ভেলভেট বিপ্লব
ব্যাখ্যা
অক্টোবর বিপ্লব (১৯১৭):
- তারিখ: ২৪-২৫ অক্টোবর (পুরাতন বর্ষপঞ্জি) / ৬-৭ নভেম্বর (নতুন বর্ষপঞ্জি), ১৯১৭
- বলশেভিক পার্টি রাশিয়ার ক্ষমতা দখল করে এবং সোভিয়েত শাসনের সূচনা করে।
- প্রেক্ষাপট: এটি ছিল রুশ বিপ্লব ১৯১৭-এর দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়।

ফলাফল:
- জারশাসনের পতন ঘটে।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের (USSR) প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়।
- কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.
১৭৮.
’রুশ বিপ্লব' কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯১৭ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৫ সালে
ব্যাখ্যা

রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব। এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে '১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে। বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১৭৯.
জেনেভা কনভেনশনের কোন চুক্তিটির বিষয়বস্তু ‘যুদ্ধ-বন্দিদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত বিধানাবলি  নির্দেশ করে?
  1. দ্বিতীয় চুক্তি
  2. তৃতীয় চুক্তি
  3. চতুর্থ চুক্তি
  4. প্রথম চুক্তি
ব্যাখ্যা

• জেনেভা কনভেনশন - ১৯৪৯ (Geneva Convention): 
- ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় 'জেনেভা কনভেনশন' স্বাক্ষর হয়।
- এর আওতায় স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা - ৪টি চুক্তি। 

• স্বাক্ষরিত চারটি চুক্তি হচ্ছে -
→ প্রথম জেনেভা কনভেনশন চুক্তি:
- জেনেভা কনভেনশনের প্রথম চুক্তিটি যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।

→ দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি:
- দ্বিতীয় চুক্তিটি সমুদ্রে বা জলের যুদ্ধে আহত, অসুস্থ ও জাহাজডুবির স্বীকার সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।
- ১৯০৭ সালের "হেগ চুক্তি" সংশােধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।

→ তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি:
– জেনেভা কনভেনশনের তৃতীয় চুক্তিটি হচ্ছে যুদ্ধ-বন্দিদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত

→ চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন চুক্তি:
- চতুর্থ চুক্তিটি যুদ্ধক্ষেত্র বা অবরুদ্ধ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও রেডক্রস।

১৮০.
'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' আন্দোলনটি কী বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে?
  1. মানবাধিকার
  2. যুদ্ধ বিরোধিতা
  3. জলবায়ু পরিবর্তন
  4. বর্ণবাদ বিরোধীতা
ব্যাখ্যা
ফ্রাইডেস ফর ফিউচার:
- 'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' আন্দোলন হলো জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সূত্রপাত হওয়া একটি আন্দোলন।
- ২০১৮ সালে সুইডেনে স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থুনবার্গের উদ্যোগে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের সুইডিশ নির্বাচনের আগে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিনি দেশের পার্লামেন্টের সামনে "স্কোলস্ট্রেইক ফো কিলিমাট" (স্কুল ধর্মঘট জলবায়ুর জন্য) সাইন নিয়ে বসেছিলেন।
- প্রথম দিন তিনি একা ছিলেন, তবে পরবর্তী দিনগুলোতে আরো অনেক মানুষ তার সঙ্গে যোগ দেয় এবং তার এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে।
- নির্বাচনের পরেও গ্রেটা Fridays for Future আন্দোলন চালিয়ে যান এবং সারা বিশ্বে স্কুল শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যোগ দেয়।

তথ্যসূত্র: ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্ট ওয়েবসাইট ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৮১.
ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি কোন যুদ্ধের অবসান ঘটায়?
  1. ত্রিশ বছরের যুদ্ধ
  2. নেপোলিয়নের যুদ্ধ
  3. শতবর্ষী যুদ্ধ
  4. পেলোপনেসীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি এর মাধ্যমে ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে প্রটেস্ট্যান্ট রাষ্ট্রগুলি ধর্মীয় স্বাধীনতা পায়, ফ্রান্সকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং ইউরোপে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়, অস্ট্রিয়ার হাবসবার্গ সম্রাটদের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

⇒ ত্রিশ বছরের যুদ্ধ (Thirty years war):
- ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধ ছিল ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দ - ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত একটি দীর্ঘমেয়াদি অনুক্রমিক যুদ্ধ।
- সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে ইউরোপে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
- ধর্মই এই যুদ্ধের একমাত্র কারণ ছিলো তা নয়, বরং ধর্ম এবং রাজনীতি উভয় কারণে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে এটি একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হয়।
- এই যুদ্ধে প্রোটেস্টান্ট এবং ক্যাথলিক উভয়েই তাদের নিজস্ব শক্তি বজায় রেখে এগিয়ে যেতে থাকে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
Orange Revolution কোন দেশের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. তিউনিসিয়া
  2. ইউক্রেন
  3. আলজেরিয়া
  4. মিশর
ব্যাখ্যা

• অরেঞ্জ বিপ্লব (Orange Revolution):
- 'অরেঞ্জ রেভুলেশন' ইউক্রেনের সাথে সম্পৃক্ত।

⇒ অরেঞ্জ বিপ্লব ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন।
- এটি সংঘটিত হয়েছিল ২০০৪ সালের শেষের দিকে এবং ২০০৫ সালের শুরুতে।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ২০০৪ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযােগ তুলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত।
- মূল দাবি: ভোট পুনঃগণনা, নতুন নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
- এই আন্দোলনের ফলে ভিক্টর ইউশ্চেঙ্কো (Yushchenko) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: Britannica.

১৮৩.
৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর গুলোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনী মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাতজমাউত (স্বাধীনতা যুদ্ধ) বলে পরিচিত।

২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।

৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়ম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

১৮৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এটলি
  2. খ) চার্চিল
  3. গ) গ্লাডস্টন
  4. ঘ) চেম্বারলেন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪০ সালের মে পর্যন্ত চেম্বারলেন, মাঝের চার্চিল এবং যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এটলি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া।
১৮৫.
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা ঘটেছিল কত সালে?
  1. ১৯৯৪ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা
- স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে, বলকান গৃহযুদ্ধের সময়।
- বসনিয়ার সার্ব সৈন্যরা যখন জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্তৃক নিরাপদ এলাকা বলে ঘোষণা করা স্রেব্রেনিৎসা শহর এবং তার আশপাশের এলাকা দখল করে নিল, তখনই ঘটেছিল ভয়াবহ সেই গণহত্যা।
- ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে বলকান যুদ্ধ যখন শুরু হলো, তখন একটানা তিন বছর আট মাস ধরে বসনিয়ার সারায়েভো ছিল এক অবরুদ্ধ শহর।
- শহরটি ছিল প্রধানত বসনিয়াক মুসলিম অধ্যূষিত।
- চারপাশের পাহাড়ের আড়াল থেকে যখন সার্বিয়ান বন্দুকধারীরা গোলাগুলি শুরু করলো, শহরের মুসলিম বাসিন্দারা তখন নিজেদের শহরেই জিম্মি হয়ে পড়লেন।
- সারায়েভো ধেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের শহর স্রেব্রেনিৎসায় ভিম ডাইকেনার এসেছিলেন ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে ।
- তিনি ছিলেন জাতিসংঘের ৬ হাজার হালকা অস্ত্রসজ্জিত শান্তিরক্ষী সেনাদের একজন।
- ওই স্রেব্রেনিৎসা এলাকার হাজার হাজার বেসামরিক লোকের সাথে মুসলিম যোদ্ধারাও ছিল।
- আর ওই এলাকাটি ঘিরে ছিল বসনিয়ান সার্ব বাহিনী - যাদের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ।
- সার্ব বাহিনীর সাথে অস্ত্রের শক্তিতে ডাচ শান্তিরক্ষীদের কোনভাবেই পেরে ওঠা সম্ভব ছিল না।
- বসনিয়ান সার্বরা মুসলিম পুরুষ ও বালকদের ধরে নিয়ে যেতে শুরু করলো। মোট ৮ হাজার লোককে তারা হত্যা করেছিল।

সূত্র- বিবিসি।
১৮৬.
ভারতের প্রজাতান্ত্রিক দিবস কোনটি?
  1. ক) ২৬ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৫ আগস্ট
  3. গ) ২৬ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৫ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশদের নিকট হতে স্বাধীনতা লাভ করে। তাই ১৫ আগস্ট কে ভারতের স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।
১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে ভারতের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি এই সংবিধান কার্যকরের মধ্য দিয়ে ভারত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। তাই ভারতীয়রা প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি তারিখটি প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করে।
উৎসঃ ভারতের সরকারি ওয়েবসাইট।
১৮৭.
সম্প্রতি, ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে পরিচালিত অভিযানের নাম কী? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. অপারেশন ফায়ার ওয়াল
  2. অপারেশন আয়রন ওয়াল
  3. অপারেশন ডেভিল ওয়াল
  4. অপারেশন আয়রন ডেজার্ট
ব্যাখ্যা
অপারেশন আয়রন ওয়াল:
- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন পরই ইসরাইলি বাহিনী দখলকৃত পশ্চিম তীরে ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ নামে নতুন অভিযান শুরু করে।
- এই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা বিমান হামলার পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়।
- সাঁজোয়া যান ও বুলডোজারের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি সেনা জেনিন শরণার্থীশিবিরে প্রবেশ করে।
- এর আগে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে শিবিরে প্রবেশ ও বাহিরে যাওয়ার সব পথ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
- এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে আইওএফের কর্মের স্বাধীনতা রক্ষা করা, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরিকাঠামো নিষ্ক্রিয় করা এবং আসন্ন হুমকি নির্মূল করা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা। [Link]
১৮৮.
'টিউলিপ বিপ্লব' এর সাথে কোন দেশটির নাম জড়িত?
  1. ক) জর্জিয়া
  2. খ) তিউনেশিয়া
  3. গ) ইউক্রেন
  4. ঘ) কিরগিজস্তান
ব্যাখ্যা
টিউলিপ বিপ্লব
• ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
• কিরগিজস্তান ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫- এর নির্বাচনে আসকার আকায়েভ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়। এর পর সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং দেশে অস্থিরতা দেখা দেয়। ৩ মার্চ ২০০৫ সালে বিরোধী নেতা রোজা ওতুনবায়েভার অ্যাপার্টমেন্টে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে যার দায় আকায়েভ এবং তার সরকার অস্বীকার করে। এর ফলে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং শীঘ্রই রাজধানীতে তা ছড়িয়ে পড়ে।
• টিউলিপ বিপ্লব কিরগিজস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসে। এটি রাষ্ট্রপতি আসকার আকায়েভকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে, তার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ সরকারের অবসান ঘটায়।
• ১০ জুন ২০০৫ - এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাকিয়েভ এবং কুলভ প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) দ্বারা নির্বাচনগুলি অবাধ, সুষ্ঠু এবং সুসংগঠিত হয়েছে বলে প্রশংসা করেছে।   

অন্যদিকে, 
• জেসমিন বিপ্লব : তিউনেশিয়া (২০১১)    
• রোজ বিপ্লব : জর্জিয়া (২০০৩)
• অরেঞ্জ বিপ্লব : ইউক্রেন (২০০৪-০৫)।   

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডট কম।
১৮৯.
কোন ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে ?
  1. লন্ডন চুক্তি স্বাক্ষর
  2. আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ড হত্যাকাণ্ড
  3. ব্রুসিলভ আক্রমণ
  4. মার্নের দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮) 
- এটি ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ আন্তর্জাতিক সংঘাত, যেখানে ইউরোপের প্রায় সব দেশ ছাড়াও এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ অংশ নেয়। - একদিকে ছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও তুরস্কের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় শক্তি,
- আরেকদিকে ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি, জাপান ও পরে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রশক্তি।

- যুদ্ধের সূচনা হয় ১৯১৪ সালের ২৮ জুন, যখন সারায়েভোতে বসনিয়ান সার্ব গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ডকে হত্যা করে।
- অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে পরপর জোট বাঁধা দেশগুলো এতে জড়িয়ে পড়ে। ইংল্যান্ড বেলজিয়াম আক্রমণের পর যুদ্ধে যোগ দেয়, এবং বছরের শেষ নাগাদ পশ্চিম ফ্রন্টে পরিখা যুদ্ধ শুরু হয়।

- ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- এই যুদ্ধে মোট ৪ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি সৈন্য ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারায়, যা একে ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

উৎস: worldatlas.com.
১৯০.
‘বোস্টন টি পার্টি’ কোন বিপ্লবের অংশ?
  1. শিল্প বিপ্লব
  2. ফরাসি বিপ্লব
  3. মার্কিন বিপ্লব
  4. চীনা বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• বোস্টন টি পার্টি:
- Boston Tea party সংঘটিত হয়েছিল ১৭৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- এই পার্টিটি ছিল বোস্টনে সন অব লিবার্টিদের একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে টি পার্টিটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ১৭৭০ সালের ৫ মার্চ বোস্টন রাজস্ব বিভাগের সামনে আমেরিকানদের সাথে ব্রিটিশ সৈনিকরা কর আদায়ের ইস্যুকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
- তখন ব্রিটিশরা উত্তেজিত ব্যবসায়ীদের দিকে গুলি ছুড়লে সেখানে ৫ জন নিহত হয়।
- অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ আদিবাসী মার্কিনীদের ছদ্মবেশে চা আইনের বিরোধিতায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক প্রেরিত চায়ের একটি গোটা চালান ধ্বংস করে দেন।
- তারা এরপর জাহাজে উঠে পড়েন এবং চায়ের সিন্দুকগুলো বোস্টন পোতাশ্রয়ে ছুড়ে ফেলেন। 
- ব্রিটিশ সরকার এর কঠোরভাবে জবাব দেয় এবং এই ঘটনাটি মার্কিন বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যায়। 
- এই ঘটনাটি ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।

তথ্যসূত্র: History.com.

১৯১.
ফরাসি বিপ্লবের পর কোন রাজাকে গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করা হয়?
  1. চতুর্দশ লুই
  2. পঞ্চদশ লুই
  3. ষোড়শ লুই
  4. নেপোলিয়ন
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- বাস্তিল দুর্গেল পতনের মাধ্যমে সমস্ত বন্দিরাও মুক্তি পায় এবং ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ১৭৯৯ সালে এই বিপ্লব শেষ হয়।

⇒ ফরাসি বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য:
- ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল 'স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব'। এর লক্ষ্য ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

⇒ ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল:
- ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায়।
- ধর্মীয় ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ধারণা প্রাধান্য পায়।
-  ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

⇒ রাজার মৃত্যুদণ্ড:
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই ও রানী ষোড়শ লুই-এর স্ত্রী মারি অ্যান্তনে।
- বিদ্রোহীদের কাছে শেষ পর্যন্ত বন্দী অবস্থায় উপনীত হন রাজা ষোড়শ লুই। 
- আন্দোলনকারীদের কাছে কার্যত বন্দী রাজা ষোড়শ লুইয়ের বিচার শুরু হয়।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি শতসহস্র জনতার সম্মুখে রাজা ষোড়শ লুইসকে গিলোটিনে শিরোশ্ছেদ করা হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় আয়োজিত ভোটে ৩৬১ জন মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে এবং ২৮৮ জন বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
- অন্যদিকে তার স্ত্রীকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। বিচারের পর ১৬ অক্টোবর রানীর ক্ষেত্রেও একই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।

উৎস: Britannica.

১৯২.
ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে কোন শাসকের পতন ঘটে?  
  1. আয়াতুল্লাহ খোমেনি  
  2. মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী
  3. সাদ্দাম হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক 
ব্যাখ্যা

• ইরানের ইসলামিক বিপ্লব:
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- এই বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৭৯ সালে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
- বিপ্লবের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আবির্ভূত হয় ইরান।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ইরানের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন আয়াতোল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
- তিনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন।  

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১৯৩.
নিচের কোন দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. জাপান
  2. ইতালি
  3. জার্মানি
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
জার্মানি, জাপান ও ইতালির মিলিত অক্ষশক্তি এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া), চীন প্রভৃতি দেশের সমন্বয়ে মিত্রশক্তির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৯৪৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অক্ষশক্তির প্রথম দেশ হিসেবে ইতালি মিত্রশক্তির নিকট আত্মসমর্পণ করে।
১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলার আত্মহত্যা করার পর ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। এতে করে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
১৯৪.
কোন যুদ্ধে আরব দেশসমূহ পাশ্চাত্যের উপর তেল অবরোধ করে?
  1. জুনের যুদ্ধে
  2. সামরিক যুদ্ধে
  3. জাতিগত যুদ্ধে
  4. ইয়োম কিপুর যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
ইয়োম কিপুর যুদ্ধ:
- ইয়োম কিপুর যুদ্ধ যা ১৯৭৩ সালে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে মিসর ও সিরিয়া নেতৃত্বাধীন একটি জোট গঠন করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়।
- আরব দেশসমূহ পাশ্চাত্যের উপর তেল অবরোধ করে ইয়োম কিপুর যুদ্ধে
- ১৯৭৩ সালে সংঘটিত চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে 'অক্টোবর যুদ্ধ' বা 'রমজান যুদ্ধ' হিসেবেও পরিচিত।

উৎস: Britannica.com & Worldatlas.com.
১৯৫.
Green Belt Movement তাদের কার্যক্রম শুরু করে -
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
• গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট (Green Belt Movement):
 -গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট - কেনিয়ার নাইরোবি ভিত্তিক একটি পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলন।
- এর মাধ্যমে গ্রাম্য অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
- শুরুর সময় - ১৯৭৭ সাল।
- শুরুর স্থান - নাইরোবি, কেনিয়া।
- গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট শুরু করেছিলেন কেনিয়ার নাগরিক প্রফেসর ওয়াঙ্গেরি মাথাই।  তিনি ২০০৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ২০০৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যসূত্র:- গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট ওয়েবসাইট।
১৯৬.
কোন দুটি দেশের মধ্যে ‘শতবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ’ হয়েছিল?
  1. ইংল্যান্ড এবং জার্মানি
  2. ফ্রান্স এবং স্পেন
  3. ইংল্যান্ড এবং ইতালি
  4. ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ:
- শতবর্ষ যুদ্ধ (Hundred Years' War) একটি দীর্ঘকালীন যা ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৩৩৭ সাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত।
- এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে জমির মালিকানা এবং রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ।
- ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড (Edward III) ফ্রান্সের সিংহাসনের জন্য তার অধিকার দাবি করেন।
- ফ্রান্সের রাজা পঞ্চম ফিলিপ (Philip VI) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর ফলে যুদ্ধের সূচনা হয়।
- এই যুদ্ধে ফ্রান্স বিজয় লাভ করে এবং ইংল্যান্ডের অধিকাংশ ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করে।

উৎস: হিস্টোরি. কম

১৯৭.
কোন দুটি দেশের মধ্যে নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে?
  1. রাশিয়া ও ইউক্রেন
  2. ইরান ও ইরাক
  3. আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া
  4. তুরস্ক ও সিরিয়া
ব্যাখ্যা
নাগার্নো কারাবাখ:
- 'নাগার্নো কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এর যুদ্ধ হয়েছে।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।
- ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলেছে।
- এলাকাটি নিয়ে কোন ধরনের নিষ্পত্তি দুই দেশের মধ্যে হয়নি।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত।
- কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনিয়রা।
- বন্দী বিনিময় এবং মরদেহ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি করার জন্য এই যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য,
• আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান:
- স্বাক্ষর: ৯ নভেম্বর, ২০২০।
- স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- মধ্যস্থতাকারী: রাশিয়া।
- যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ১০ নভেম্বর, ২০২০।

উৎস:  Britannica.
১৯৮.
জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়- 
  1. ইউক্রেন 
  2. রাশিয়া 
  3. তিউনিসিয়ায়
  4. লিবিয়া 
ব্যাখ্যা

• তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়।

জেসমিন বিপ্লব:
- তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয় ২০১১ সালে।
- আরব বসন্ত শুরুর পর এই বিপ্লব হয়।
- তিউনেশিয়ার জাতীয় ফুল হচ্ছে জেসমিন ফুল।
- এ কারণেই এই বিপ্লব জেসমিন বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পায়।

উৎস: Britannica

১৯৯.
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল-
  1. ৫ দিন
  2. ৬ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ৮ দিন
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৪ বার।
- প্রথম আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৪৭-৪৮ সালে।
- দ্বিতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- তৃতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল। এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।
- চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭৩ সালেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম তেল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

২০০.
ওয়াটার লু যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. নেপোলিয়ান বোনাপার্ট
  2. ভ্লাদিমির লেনিন
  3. আর্থার ওয়েলেসলি
  4. ষোড়শ লুই
ব্যাখ্যা
ওয়াটার লু যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।

ওয়াটার লু যুদ্ধ:
- বিখ্যাত ওয়াটার লু যুদ্ধক্ষেত্র বেলজিয়ামে অবস্থিত।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছে।
- তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ওয়াটার লুর যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অব ওয়েলিংটন)।

⇒ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট:
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন একাধারে ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট ও তুখোড় সেনাপ্রধান।
- তিনি ফরাসি বিপ্লবের ক্রান্তিলগ্নে ফ্রান্সের হাল ধরেছিলেন।
- ফ্রান্সকে ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নেপোলিয়ন সক্ষম হয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে তাঁকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- যেখানে ১৮২১ সালে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: Britannica.