বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা৩৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ৭০১৭৩৬ / ৭৩৭

৭০১.
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. খ) ক্ষুধা ও আশা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) ধানকন্যা
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

• তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশকাল - ১৯৬২ সাল।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০২.
'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত কোন ধরণের নাটক?
  1. ধর্মীয়
  2. সামাজিক
  3. পৌরাণিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- 'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সামাজিক নাটক।  
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত 
- নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর, ১৯৮৩) লাভ করেন। 
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক: 
তরঙ্গভঙ্গ 
সুড়ঙ্গ 
উজানের মৃত 
 
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৭০৩.
হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. বেণীসংহার
  2. ভানুমতী চিত্তবিলাস
  3. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  4. মালতীমাধব
ব্যাখ্যা
• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' ও 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৭০৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. রামরাম বসু
  2. গোকলনাথ শর্মা
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে, গোকলনাথ শর্মা - ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না। এখানে, 'গোকলনাথ' - নামের বানানটি ভুল। সঠিক নামের বানান হবে - গোলকনাথ শর্মা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০৫.
নাটকে ‘গৈরিশ ছন্দের’ প্রবর্তন করেন কে?
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
• বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম। যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলঙ্কৃত করতে সক্ষম হন।

• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের কোন কোন নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা:
যবে ধনু ধরি করে,
ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে-
যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর
কে কবে হয়েছে স্থির?
যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ
সেই দর্পে সেই শরাসন করে
সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম
হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭০৬.
'কুয়াশা' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র: 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কথাসাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক ও সম্পাদক। 
- তাঁর জন্ম কাশিতে ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। 
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- অফুরন্ত, 
- ধূলিধূসর, 
- জলপায়রা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন, 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে, 
- অন্য এক নাম, 
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা, 
- সম্রাট, 
- ফেরারী ফৌজ, 
- সাগর থেকে ফেরা, 
- হরিণ চিতা চিল, 
- এখনো মেঘ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৭.
দান্তের “ডিভাইন কমেডি” -কাব্যের অনুকরণে লেখা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য নিচের কোনটি?
  1. ক) আশাকানন
  2. খ) বীরবাহু
  3. গ) বৃত্রসংহার
  4. ঘ) ছায়াময়ী
ব্যাখ্যা
মধুসূদন দত্তের পর সবচেয়ে বিখ্যাত মহাকাব্য রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রচিত কাব্যঃ চিন্তাতরঙ্গিণী, বীরবাহু, আশাকানন, ছায়াময়ী, দশমহাবিদ্যা, চিত্তবিকাশ ইত্যাদি। তার খন্ড কবিতার বই - জীবন -সঙ্গীত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭০৮.
কোনটিকে বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. কোচবিহার রাজার লেখা চিঠি
  3. চর্যাপদ
  4. কড়চা
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের ইতিহাস: প্রাচীনতম নিদর্শন
দৈনন্দিন জীবনে কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যের তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, বই, কড়চা ও বিদেশী খ্রিস্টান কর্তৃক লিখিত ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থের সংকীর্ণ সীমানায় আবোধ্য ছিল।

• ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে আসামের রাজাকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি চিঠি বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।

উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম,
- লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৭০৯.
“ক্রীতদাসের হাসি” উপন্যাসে বাঙালী জনতার প্রতিবাদী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো কোন চরিত্রের মাধ্যমে?
  1. ক) মোনাদি
  2. খ) ইয়াকুব
  3. গ) তাতারি
  4. ঘ) বাদশা হারুন
ব্যাখ্যা
“ক্রীতদাসের হাসি” উপন্যাসে বাঙালী জনতার প্রতিবাদী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো তাতারি এবং আইয়ুব খানের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো বাদশা হারুন চরিত্রের মাধ্যমে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৭১০.
কাব্যনাটক নয় -
  1. ক) বিসর্জন
  2. খ) তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  3. গ) দণ্ডকারণ্য
  4. ঘ) নূরলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা

- দণ্ডকারণ্য কাব্যনাটক নয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নাট্যকলার সংমিশলে বা সংমিশ্রণে রচিত একাঙ্ক নাটক দণ্ডকারণ্যের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।

-অন্যদিকে বিসর্জন, তপস্বী ও তরঙ্গিণী, নূরলদীনের সারাজীবন কাব্যনাটকের রচয়িতা যথাক্রমে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু ও সৈয়দ শামসুল হক।

সোর্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭১১.
কাজী নজরুল ইসলামের গীতিনাট্য কোনটি?
  1. ক) পুতুলের বিয়ে
  2. খ) ঝিলিমিলি
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ ঝিলিমিলি। তাঁর কিশোর নাটক পুতুলের বিয়ে এবং আলেয়া ও মধুমালা গীতিনাট্য। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭১২.
'সংকর সংকীর্তন' উপন্যাসটি কার?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা ও
- সংকর সংকীর্তন।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- দেয়াল,
- প্রপঞ্চ
- পরিত্যক্ত স্বামী ইত্যাদি।
উৎসঃ: বাংলাপিডিয়া।

৭১৩.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষ সমৃদ্ধি ঘটেছিল যে শাসকের আমলে-
  1. শায়েস্তা খান
  2. শের শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশেষ সমৃদ্ধি ঘটেছিল আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে।
----------------------------- 
• আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ ‘আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এর শাসনকালে শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাব বাংলার ইসলামের ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- চৈতন্যদেব হুসেন শাহের আমলে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের অবাধ সুযোগ লাভ করেন। হুসেন শাহ শ্রী চৈতন্য দেবকে যথেষ্ট সম্মান করতেন।
-  চৈতন্যদেবের গৌড়ে আগমনের সময় হুসেন শাহ তার কর্মচারীদের চৈতন্যদেবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নিঃসন্দেহে মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ নরপতি ছিলেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর শাসনকালকে মুসলমান শাসনের ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমকাল পত্রিকা রিপোর্ট।
৭১৪.
'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে কোন মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে?
  1. এশিয়া
  2. আমেরিকা
  3. ইউরোপ
  4. আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে আফ্রিকা মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে।
• এটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস।
• 'শঙ্কর' নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী এতে বর্ণিত আছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭১৫.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) যাপিত জীবন
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) পথ জানা নেই
  4. ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

- ‘যাপিত জীবন’ সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- ‘খোয়াবনামা’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস।
- ‘ওঙ্কার’ আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস।
- ‘পথ জানা নেই’ শামসুদ্দীন আবুল কালামের গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭১৬.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত "বাংলার মাটি বাংলার জল" কী ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) সমালোচনামূলক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- একদা এক রাজ্যে,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বিরতিহীন উৎসব,
- বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা,
- প্রতিধ্বনিগণ,
- ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭১৭.
“অপরাজিত” উপন্যাসের লেখক-
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খন্ড।
ইছামতী (১৯৪৯) উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৭১৮.
'রাজাবলি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. রামরাম বসু
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭১৯.
'নগেন্দ্রনাথ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. বিষবৃক্ষ
  4. ইন্দিরা
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
কুন্দনন্দিনী,
নগেন্দ্রনাথ,
হীরা,
সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২০.
'বেদান্তগ্রন্থ' ও 'বেদান্তসার' কার রচনা?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

‘বেদান্তগ্রন্থ’ এবং ‘বেদান্তসার’ রচনা করেছেন রাজা রামমোহন রায়।

রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একজন ভারতীয় সমাজ সংস্কারক।
- তিনি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, ভারতীয় শিক্ষার একজন পথিকৃৎ ছিলেন এবং
- বাংলা গদ্য ও ভারতীয় সংবাদপত্রের ধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালের ২২ মে, হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে ‘রাজা’ খেতাব প্রদান করেন।
- ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে কলকাতায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় তিনি ‘ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- রামমোহন রায় প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

- প্রধান রচনাসমূহ:
• বেদান্তগ্রন্থ,
• বেদান্তসার,
• ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
• গোস্বামীর সহিত বিচার,
• সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
• গৌড়ীয় ব্যাকরণ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৭২১.
রামমোহন রায় কর্তৃক অনুবাদকৃত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. হিতোপদেশ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. বেদান্ত গ্রন্থ
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা

• বেদান্ত গ্রন্থ: 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

----------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২২.
‘হিরণবালা’ মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. তারাবাঈ
  2. নূরজাহান
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

অন্যদিকে,
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক:
- নূরজাহান,
- তারাবাঈ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭২৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে?
  1. অস্তিত্ববাদ
  2. সমাজতান্ত্রিক বস্তুবাদ
  3. নীতিবাদী আদর্শবাদ
  4. পরাবাস্তববাদ
ব্যাখ্যা

তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটির অন্যতম প্রধান দিক হলো অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন। 
-------------------------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
-  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্যিক পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়া ১৯৮৩ সালে মরণোত্তরভাবে বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ দ্বারা সম্মানিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেল্ভুতে তাকে সমাহিত করা হয়।

- তাঁর  সাহিত্যকীর্তিকে সমৃদ্ধ করেছে যেসব নাটক:
• ‘বহিপীর’,
•‘তরঙ্গভঙ্গ’,
• ‘সুরঙ্গ’ ও
• ‘উজানে মৃত্যু’। 
---------------------------------------------
‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটি নিয়ে কিছু কথা:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- বাংলা একাডেমি কর্তৃক নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- এর আগে নাটকটি ১৯৬২ সালে এটি ত্রৈমাসিক ‘সংলাপ’ পত্রিকায় ‘একটি বিচারকের আত্মকাহিনী’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে দুটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- ‘তরঙ্গভঙ্গ’ কেবল একটি কাহিনি নয়, বরং অস্তিত্ববাদী দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয়ে গঠিত এক অর্থবহ নাট্যরূপ।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ হলো: বিচারক (জজ), মৌলবী আবদুস সাত্তার, উকিল, ভিখারিনী, মতলুব আলী, যুবক, আসামি আমিনা, বারিশ পীর, কেরানি, চাপরাসি এবং গ্রামবাসী।

- ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটকটিতে মানবজীবনের অস্তিত্ববাদী সংকট গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- এখানে জীবনকে অর্থহীনতা, বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চয়তার আবর্তে আবদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- আমেনার মতো চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্বের ভার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- একই সঙ্গে মতলুব আলী ও আরেফ আলীর মতো চরিত্রদের পাপবোধও অস্তিত্ববাদী সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

- নাটকটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
- নাটকে নায়িকা আমিনা তার স্বামী ও শিশু সন্তানকে হত্যা করেছিল।
- চরিত্রগুলোর অপরাধবোধ, মানসিক টানাপোড়েন ও আত্মসংঘাত—বিশেষত আমেনার স্বামী ও সন্তান হত্যার পরের মানসিক অবস্থা—নাটককে গভীরতা দিয়েছে। 

- এছাড়া নাটকটি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে;
- যেখানে প্রতিটি চরিত্র সমাজের একেকটি শ্রেণির প্রতিনিধি।

উৎস:
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৭২৪.
উইলিয়াম কেরীর সহায়তায় কে ‘সংস্কৃত রামায়ণ’ অনুবাদ করেন?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. হেনরি ডিরোজিও
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম কেরির সহায়তায় জোশুয়া মার্শম্যান ‘সংস্কৃত রামায়ণ’ অনুবাদ করেন।
- তাছাড়া তিনি সমাচার দর্পন, দিকদর্শন, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া পত্রিকা প্রকাশের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন।
- পত্রিকাগুলো তার পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৫.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কিসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. পালাগান
  2. কবিগান
  3. বটতলার পুথি
  4. পুথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• এন্টনি ফিরিঙ্গি কবিগান এর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। 

এন্টনি ফিরিঙ্গি: 
- ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল। 
- তাঁর  প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। 
- তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭২৬.
কোন গ্রন্থটি উইলিয়াম কেরী রচনা করেন?
  1. ইতিহাসমালা
  2. সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ
  3. কথোপকথন
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে,
- কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭২৭.
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রভাবে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অনিল বাগচীর একদিন
  2. খ) রুমালি
  3. গ) কুহক
  4. ঘ) নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাসঃ জোছনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমনি, সূর্যের দিন ও অনিল বাগচীর একদিন।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭২৮.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. মহাশ্মশান 
  2. পদ্মাবতী
  3. বসন্তকুমারী
  4. রত্নাবতী 
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'রত্মাবতী' গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৭২৯.
‘বং থেকে বাংলা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রাহাত খান
  2. মাহমুদুল হক
  3. রিজিয়া রহমান
  4. রাজিয়া খান
ব্যাখ্যা
রিজিয়া রহমান রচিত গ্রন্থ হলো:
- বং থেকে বাংলা,
- উত্তর পুরুষ,
- ঘর ভাঙা ঘর,
- ধবল জোসনা,
- প্রেম আমার প্রেম ইত্যাদি।
(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর)
৭৩০.
”রানী খালের সাঁকো” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. আহসান হাবীব
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

রানী খালের সাঁকো উপন্যাসটির রচয়িতা আহসান হাবীব।
- তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪)
- আশায় বসতি (১৯৭৪)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬)
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)

তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো :
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও
- রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)
তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭),

 সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন:
- ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১)
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১)
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪)
- নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭)
- একুশে পদক (১৯৭৮)
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৭৩১.
'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. বসন্তরঞ্জন রায় 
  5. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা

'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- বইগুলো বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট আছে।
- কারন এখানে পশুপাখির মুখদিয়েও কাহিনী বর্ণিত আছে।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৩২.
কথাসাহিত্য বলতে বুঝায়-
  1. ক) ছোট গল্প ও উপন্যাস
  2. খ) কথা নিয়ে সাহিত্য
  3. গ) নাটক ও আবৃত্তি
  4. ঘ) সাহিত্যের কথা
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্য বলতে বুঝায়- ছোট গল্প ও উপন্যাস।

কথাসাহিত্য বলতে সেসব গল্প - কাহিনীকে বোঝানো হয় যেকোন সামাজিক ভাষ্য, রাজনৈতিক সমালোচনা বা মানুষের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে রচিত সাহিত্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  

৭৩৩.
'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থটি রচনা করেন- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন
- হিতোপদেশ
- রাজাবলী
- প্রবোধচন্দ্রিকা
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৩৪.
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেবী চৌধুরানী
  2. খ) আনন্দমঠ
  3. গ) সীতারাম
  4. ঘ) বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে।  
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডলা
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- যুগলাঙ্গুরীয়
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী
- রজনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩৫.
'বত্রিশ সিংহাসন' কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. বিদ্যাসাগর
  4. রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা - বত্রিশ সিংহাসন।

• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য ।

-------------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৬.
'সপ্তপদী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- সপ্তপদী,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- চাপাডাঙ্গার বউ,
- একটি কালো মেয়ের কথা (সর্বশেষ উপন্যাস ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।
• ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
• তাঁর রচিত গল্পঃ
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- তারিণী মাঝি ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।