বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৭৩৭

৩০১.
সেলিম আল দীন রচিত উপজাতিদের নিয়ে উপকথাভিত্তিক মঞ্চনাটকটির নাম - 
  1. একটি মারমা রূপকথা 
  2. সাঁওতাল বিদ্রোহের রোজনামচা
  3. চোট্টি মুন্ডা ও তার তীর 
  4. অরণ্যের অধিকার
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন রচিত উপজাতিদের নিয়ে উপকথাভিত্তিক মঞ্চনাটকটির নাম- একটি মারমা রূপকথা।
------------------------------------------
• সেলিম আল দীন:
-  সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তাকে নাট্যাচার্য  উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিলো।
- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।

• তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
- গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  
-------------------------------
• ‘একটি মারমা রূপকথা’ বিষয়ক কিছু তথ্য: 
- সেলিম আল দীনের ‘একটি মারমা রূপকথা’ নাটকটি মারমা নৃগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে রচিত। 
- কাহিনিটি ‘মনরি-মাংৎসুমুই’ নামক লোকগল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে।
- ১৯৯০-এর দশকে ঢাকা থিয়েটার দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি নিয়ে কাজ শুরু করে।
- তখন সেলিম আল দীনের নেতৃত্বে এই নাটকটি নির্মিত হয়।
- এটি তাঁর নব্য-নৃগোষ্ঠী নাটক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
- এই নাটকের মাধ্যমে আদিবাসী জীবন ও লোককথাকে ব্যবহার করে বাংলা নাটকে শিকড় সন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
------------------------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• তারাপদ রায় রচিত ‘সাঁওতাল বিদ্রোহের রোজনামচা’ গ্রন্থটি সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• মহাশ্বেতা দেবী মূলত লোধা, শবর ও অন্যান্য উপজাতিদের অধিকার, জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে লিখেছেন। 
- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে- ‘চোট্টি মুন্ডা ও তার তীর’। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৩০২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. আলালের ঘরে দুলাল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবকুমার।
উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩০৩.
'অপু' চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) আরণ্যক
  2. খ) আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
'অপরাজিত' (১৯৩১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' এর পরিপূরক কথাশিল্প।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মাসিক 'প্রবাসি' তে।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোর সারথি'।
চরিত্র: অপু, অপর্ণা, লীলা, কাজল প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)
- অশনি সংকেত (১৯৫৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৪.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নদীবক্ষে
  2. খ) নদী ও নারী
  3. গ) নারী
  4. ঘ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০) রচিত উপন্যাস হলো 'নদীবক্ষে'৷
তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন। তার জন্ম ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
'আজাদ' (১৯৪৮) তাঁর আরেকটি উপন্যাস।
নাটকও রচনা করেন দু’টি, পথ ও বিপথ (১৯৩৯) এবং মানব-বন্ধু (১৯৪১)। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩০৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯০৭ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 

------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৬.
হরচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক কোনটি?
  1. মালতীমাধব
  2. রত্নাবলী 
  3. ভানুমতী চিত্তবিলাস
  4. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' ও 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩০৭.
কোনটি উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ?
  1. কথোপকথন
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. হিতোপদেশ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ:
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

অন্যদিকে,
- হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৮.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন কলেজে বাঙালি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন?
  1. প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩০৯.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কোন নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়?
  1. ক) রত্নাবতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) শর্মিষ্ঠা
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালে ঢাকার বাংলাপ্রেস থেকে প্রকাশিত ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। (বিতর্ক আছে)
Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস লঙ।
রেভারেন্ড জেমস লঙ সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করা হল। সময় থাকলে পড়ে নিবেন -
"ধর্মপ্রচারক হিসেবে রেভারেন্ড লং উপলব্ধি করেন যে, ব্রিটিশ নীলকরদের কার্যকলাপ গ্রামীণ বাংলায় ধর্মান্তরণের অগ্রগতির পরিপন্থী। তিনি ইন্ডিগো কমিশনে এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, জনগণ প্রায়শ তাঁর প্রতি বিরূপ মন্তব্য করে, যেমন, ‘তুমি তোমার দেশবাসী নীলকরদের অত্যাচার হ্রাস করতে বলোনা কেন, যাও তাদের কাছেই প্রথম ধর্মপ্রচার কর’।
গ্রামীণ জনগণের সাথে জেমস লং-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে তাঁর এ বিশ্বাস জন্মে যে, ব্রিটিশ বণিক গোষ্ঠী এবং এমনকি সরকারও জনসাধারণ, বিশেষ করে নীলচাষিদের প্রতি অন্যায় ও নিপীড়নমূলক আচরণ করে থাকে। ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথমে বেনামে প্রকাশিত নীলদর্পন নামক নাটকে দীনবন্ধু মিত্র নীলকরদের অত্যাচারের যে চিত্র তুলে ধরেন, তার সাথে তিনি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেন। লং স্বরচিত ভূমিকাসহ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ঐ অনুবাদকর্মে প্রকাশিত নীলকরদের অত্যাচারের ধরন প্রশাসনকে এতই ক্ষুব্ধ করে যে, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সংবাদপত্রে অনুবাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে ক্রোধোন্মত্ত প্রচারণা শুরু হয়। ইংলিশম্যান পত্রিকা ও কয়েকজন নীলকর লং ও প্রকাশকের (C.H. Manuel & Co) বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু করে। সংক্ষিপ্ত বিচারে শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে গঠিত জুরি বোর্ড লং ও তাঁর প্রকাশককে দোষী সাব্যস্ত করে রায় প্রদান করে। তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। কালীপ্রসন্ন সিংহ নামক জনৈক বুদ্ধিজীবী ও জমিদার তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে জরিমানার টাকা জমা দেন। কিন্তু লং-কে ১৮৬১ সালের জুলাই মাসে কারাদন্ড ভোগ করতে হয়। তাঁর বন্দিদশায় এবং মুক্তির সময় অসংখ্য গণজমায়েত, স্মারকলিপি, সমবেদনাজ্ঞাপক চিঠি এবং তাঁর দর্শন লাভের জন্য লোকের ভিড় থেকে প্রমাণিত হয় যে, লং বাংলার জনগণের তাৎক্ষণিক নায়কে পরিণত হয়েছেন।"
৩১০.
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. হিন্দু কলেজ
  3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিশেষ অবদান রয়েছে।
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১১.
'আব্দুল্লাহ্' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- আব্দুল্লাহ্। আঁখিজল ও লতিকা তাঁর রচিত কাব্য। প্রবন্ধমালা তাঁর রচিত প্রবন্ধ এবং নবীকাহিনী তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১২.
'ফিরোজা বেগম' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
তারাবাঈ, রায়নন্দিনী, নূরুদ্দিন, ফিরোজা বেগম, জাহানারা ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩১৩.
সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে যে উপন্যাসে-
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) ক্রাচের কর্নেল
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা: মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বােবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে। এটি মূলত '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

তার অন্যান্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- মরণ বিলাস (১৯৯০),
- গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৮৬)।

 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩১৪.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের উৎপত্তিকাল কখন?
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. অষ্টাদশ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. উনবিংশ শতাব্দী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তবে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৫.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' - গ্রন্থটি কোন দেশ থেকে মুদ্রিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. পর্তুগাল
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা

কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে 'পর্তুগালের' লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩১৬.
রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কীর্তিবিলাস
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
 ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

অন্যদিকে,
• ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়। ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক কৃষ্ণকুমারী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৭.
“বর্ণচোর” - নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
বর্ণচোর - মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
তার রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- আমাদের শহর
- রাক্ষুসী
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া
৩১৮.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে গদ্যচর্চার নতুন পথসন্ধান দিয়েছিলেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• গদ্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পাঠ্যপুস্তক ও তর্ক-বিতর্কের বাহন হিসেবে প্রচলিত যে গদ্য বিদ্যাসাগরের চর্চায় শিল্প মাধ্যমের স্তরে উন্নীত হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর (১৮৩৮-৯৪) সাধনায় সে গদ্য শিল্পিত উপন্যাসের ধারক হয়ে উঠল। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত গদ্যে, যুগপৎভাবে উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্যরচনায় বাংলা গদ্যের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও ঐশ্বর্য সুপ্রমাণিত হল।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিম গদ্যচর্চার নতুন যে পথসন্ধান দিলেন, তাকে অনুসরণ করেই সৃষ্টিশীল গদ্যসাহিত্য উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে (উপন্যাস):
- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫),
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬),
- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩),
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮),
- রাজসিংহ (১৮৮২),
- আনন্দমঠ ((১৮৮৪)। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৯.
'কীর্তিবিলাস' কোন ধরনের নাটক?
  1. মধুরান্তিক
  2. পৌরাণিক
  3. হাস্যরসাত্মক
  4. বিয়োগান্তক
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২০.
‘তিথিডোর’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) কালিদাস রায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। 
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু। 

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- তিথিডোর
- সাড়া, 
- সানন্দা, 
- লালমেঘ, 
- পরিক্রমা, 
- কালো হাওয়া, 
- নির্জন স্বাক্ষর, 
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কিছু গল্পগ্রন্থ: 
- অভিনয়, অভিনয় নয়, 
- রেখাচিত্র, 
- হাওয়া বদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩২১.
‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায় 
  2. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  3. হেরাসিম লেবেডফ
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন। তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২২.
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলী
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলাপিডিয়া।
৩২৩.
‘লেলিহান পান্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, লেলিহান পান্ডুলিপি, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ইত্যাদি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩২৪.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. গোলোকনাথ শর্মা
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু:
- তিনি ১৭৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন উইলিয়াম কেরির সহযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনাকারীদের অন্যতম অগ্রণী।
- প্রথমে তিনি ফারসি-নবিস মুনশী এবং পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সহকারী পণ্ডিত ছিলেন। 
- রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি -
→ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও
→ লিপিমালা (১৮০২)।
- ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল।
- বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।
- গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথারীতির অনুসারী ছিল।
- মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান। 
- তিনি ১৮১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৫.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নীলদর্পণ
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

----------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২৬.
মূলত নাটকের প্রাণ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) কাহিনী
  2. খ) সংলাপ
  3. গ) চরিত্র
  4. ঘ) পরিবেশ
ব্যাখ্যা
নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- মানব জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তাকে নাটক বলে। 
- নাটকের সঙ্গে অন্যান্য সাহিত্যশাখার মৌলিক পার্থক্য হলো নাটকের সঙ্গে দর্শক ও স্রোতার সম্পর্ক সরাসরি ও প্রত্যক্ষ। 
- সাহিত্যের অন্যান্য শাখা মানুষ একাকী যখন ও যেভাবে ইচ্ছা উপভোগ করতে পারে, কিন্তু নাটক উপভোগ করতে হয় নির্দিষ্ট স্থানে ও নির্দিষ্ট সময়ে এবং সম্মিলিতভাবে। 
- প্রতিটি নাটকের মধ্যে চারটি প্রধান উপাদান থাকে।
যথা- 
১। কাহিনী বা বিষয়, 
২। চরিত্র, 
৩। সংলাপ এবং 
৪। পরিবেশ। 

সংলাপ
- সংলাপ কাহিনী ও চরিত্রকে সুস্পষ্ট করে পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। 
- এক চরিত্রের সঙ্গে অন্য চরিত্রের সংলাপ বিনিময়ের মধ্য দিয়েই নাট্যকাহিনী বিকশিত হয়। 
- বস্তুত সংলাপের মাধ্যমে তিনটি বিশেষ প্রয়োজন সাধিত হয়। 
যেমন- 
ক) নাট্যকারের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রমাণ করার জন্য সংলাপ,
খ) চরিত্রসমূহের প্রকাশ ও বিকাশের জন্য সংলাপ এবং 
গ) নাটকের দ্বন্দ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সংলাপ। 
- নাটকের সংলাপ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সংলাপই মূলত নাটকের প্রাণ। 
- সংলাপের মাধ্যমেই নাট্য-পরিস্থিতি নির্মিত হয়। 
- সংলাপ ব্যর্থ হলে নাট্যরস ক্ষুন্ন হয়। 

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৭.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক?
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) কীর্তিবিলাস
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• কীর্তিবিলাস:
-  ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। 
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে কীর্তিবিলাস নাটকটি রচিত।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

• ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৮.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৮৬৫ সালে
  3. ১৮৬০ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২৯.
'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামরাম বসু
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
'কথোপকথন':
- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরি
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৩৩০.
তেভাগা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. জঙ্গনামা
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

খোয়াবনামা উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ প্রভৃতি ঐতিহাসিক উপাদান উপন্যাসের নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ।
- উপন্যাসটির রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ।
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত লেখকের প্রথম উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রচিত গল্পগ্রন্থ:
- দুধে ভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল

গল্পগ্রন্থ: রেইনকোট, মিলির হাতে স্টেনগান ইত্যাদি

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৩৩১.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) কালিদাস
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- শকুন্তলা (১৮৫৪)। এটি সংস্কৃত কবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটকের 'আভজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের উপখ্যান ভাগের অনুবাদ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৩৩২.
উইলিয়াম কেরি 'কথোপকথন' গ্রন্থটি কোন প্রেস প্রকাশ করেন?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম প্রেস
  2. আনন্দবাজার প্রেস
  3. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস
  4. বেঙ্গল গেজেট প্রেস
ব্যাখ্যা

'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।
- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৩৩.
কোনটি ঐতিহাসিক উপন্যাস?
  1. ক) রাজসিংহ
  2. খ) মৃত্যু-ক্ষুধা
  3. গ) ঘরে বাইরে
  4. ঘ) গোরা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাজসিংহ’ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
এখানে রাজপুত রাজা রাজসিংহের সঙ্গে মোঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের যুদ্ধ দেখানো হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
৩৩৪.
‘জননী’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত জননী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি প্রমুখ। অন্যদিকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) জননী নামে একটি উপন্যাস লিখেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩৩৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথামালা
  2. খ) ইতিহাসমালা
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'লিপিমালা'।

• ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তর ভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। 
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি উলিয়াম কেরীকে (১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) বাংলা ভাষা সেখান। 
- রামরাম বসু রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত মৌলিক গ্রন্থ - প্রতাপাদিত্যচরিত্র (১৮০১)।
- রামরাম বসুর দ্বিতীয় গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশিয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয় দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩৩৬.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলা ব্যাকরণ প্রণয়ন
  2. সুফিবাদের প্রচার
  3. খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
  4. বাংলা উপমহাদেশের ইতিহাস
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ হলো মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দ্বারা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো - গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন করা।

• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ: 
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি। ১৭৪৩ সালে, তিনি দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
এগুলো হলো - 
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
- বাংলাপিডিয়া।

৩৩৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে নীলাম্বর ও পীতাম্বর এই চরিত্র দুটি আছে?
  1. পন্ডিতমশাই
  2. বিরাজ বৌ
  3. চরিত্রহীন
  4. পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস বিরাজবৌ। এই উপন্যাসের চরিত্র নীলাম্বর ও পীতাম্বর দুই ভাই।
- নীলাম্বর বুদ্ধিহীন অথচ পরোপকারী। উপার্জন করেন না শুধু প্রচুর গাঁজা খান।
- পীতাম্বর সংসারী মানুষ। তিনি নিজের উপার্জন নষ্ট না করে পৈতৃক সম্পত্তি দুভাগ করে বাড়ির মাঝে পাঁচিল তুলে দিলেন।
- এই দুই ভাইয়ের কাহিনী নিয়ে উপন্যাসটি রচনা করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৩৮.
‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ মজুমদার
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

পুতুল নাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৩৩৯.
বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম দীর্ঘ মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. পুরুষ পরীক্ষা 
  3. মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)। ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল।

• বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

• দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান।

অন্যদিকে, 
- হরপ্রসাদ রায় রচিত- পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)। 
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত- মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪০.
'কীর্তিবিলাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪১.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে কোন নাটকটি প্রকাশিত হয়?
  1. নীলদর্পণ
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
 • নীলদর্পণ:
- দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা 'নীলদর্পণ'।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত  নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দণ্ডিত হন।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  নীলদর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন' এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪২.
বাংলা সাহিত্যের সর্বকনিষ্ঠ শাখা কোনটি?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. ছোটোগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম/সর্বকনিষ্ঠ শাখা হলো — ছোটোগল্প।

• 'ছোটগল্প' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- ছোটগল্প বিশেষ গদ্যরচনা, যা কথা সাহিত্যের অন্তর্গত। 
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন—

“ছােটো প্রাণ, ছােট ব্যথা ছােটো ছােটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
আবার, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প দেনা পাওনা।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য।
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

• নাটক - মধ্যযুগ থেকে (যাত্রা, পালা ইত্যাদি)।

• উপন্যাস - ১৮৫২-৫৮ সালে (হানা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত "ফুলমণি ও করুণার বিবরণ" বা প্যারীচাঁদ মিত্রের "আলালের ঘরের দুলাল")।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৪৩.
‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটকটি সমাজের কোন সমস্যার ওপর ভিত্তি করে রচিত? 
  1. অশিক্ষা
  2. জমিদারি শোষণ
  3. কুসংস্কার
  4. দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা

'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয়নি।
- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৪৪.
রামমোহন রায় রচিত ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা কোনটি?
  1. বেদান্তসার
  2. গোস্বামীর সহিত বিচার
  3. বেদান্তগ্রন্থ
  4. ভট্টাচার্যের সহিত বিচার
ব্যাখ্যা
বেদান্তগ্রন্থ:
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩৪৫.
'বেদান্তগ্রন্থ' কোন গ্রন্থের অনুবাদ ও টীকা?
  1. গীতা
  2. ব্রহ্মসূত্র
  3. উপনিষদ
  4. বেদ
ব্যাখ্যা
‘বেদান্তগ্রন্থ’:
- এটি রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৬.
সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' অবলম্বনে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  2. কংসবধ 
  3. বেণীসংহার
  4. ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' এর ভাবানুবাদ এবং 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• অভিজ্ঞান শকুন্তলা, বেণীসংহার ও কংসবধ রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক।   

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৪৭.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. গ) কবর
  4. ঘ) আমলার মামলা
ব্যাখ্যা
- 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' হচ্ছে সেলিম আল দীন রচিত নাটক।

• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন-
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- 'কবর' জসীমউদ্দীন রচিত কবিতা ও মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- 'আমলার মামলা' শওকত ওসমান রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪৮.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৪৯.
'সংশপ্তক' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) রম্যরচনা
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- সারেং বউ (১৯৬২)।

স্মৃতিকথাঃ
- রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২)।

ভ্রমণবৃত্তান্তঃ
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৫০.
উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' দ্বিভাষিক গ্রন্থটি কোন কোন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সংস্কৃত ও ফারসি
  2. বাংলা ও ইংরেজি 
  3. ইংরেজি ও সংস্কৃত 
  4. বাংলা ও সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।

- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা- শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক– এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৫১.
আধুনিক বাংলা নাটক মূলত কয়টি পর্বে বিভক্ত?
  1. ৬টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• নাটক: 
মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তাকে নাটক বলে। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্তৃক অভিনীত হবে-এ উদ্দেশ্য নিয়েই নাটকের সৃষ্টি। নাটক শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এর ইঙ্গিত। নট, নাট্য, নাটক -তিনটি শব্দেরই মূল হল নট্। আর নট্-এর অর্থ হল নড়াচড়া করা, অঙ্গচালনা করা ইত্যাদি।

• একটি নাটকের গঠনকে - ৫টি পর্বে বিভক্ত করা যায়।

পর্ব পাঁচটি নিম্নরূপ-
১. কাহিনির আরম্ভ Exposition (মুখ);
২. কাহিনির ক্রমব্যাপ্তি Rising Action (প্রতিমুখ);
৩. উৎকর্ষ বা চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব Climax (গর্ভ);
৪. গ্রন্থিমোচন Falling Action (বিমর্ষ);
৫. যবনিকাপাত Conclusion Denouement (উপসংহতি)।

ওপরের পাঁচটি পর্যায়কে অবলম্বন করে রচিত হয় পঞ্চাঙ্ক নাটক। একটি পর্যায় নিয়ে লেখা হয় একটি অঙ্ক। অ্যারিস্টটলের মতে, পঞ্চাঙ্ক নাটকই হচ্ছে আদর্শ নাটক। বর্তমান কালে নাট্যকারেরা পাঁচের চেয়ে কম অঙ্কে নাটক রচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কখনো বা এক অঙ্কের পরিসরেই পাঁচটি পর্যায়কে ধারণ করে উৎকৃষ্ট নাটক লেখা হচ্ছে।

প্রতিটি নাটকের মধ্যে প্রধান চারটি উপাদান থাকে।
যেমন- 
১. কাহিনি বা বিষয়;
২. চরিত্র;
৩. সংলাপ এবং;
৪. পরিবেশ।

বাংলা নাটকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
খ্রিস্টপূর্ব কাল থেকেই গ্রিসে নাট্যচর্চার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা জানা যায়। পেরিক্লিসের গ্রিসে এবং পরবর্তীকালে এলিজাবেথের ইংল্যান্ডে নাট্যচর্চায় ব্যাপক সমৃদ্ধি এসেছিল। বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশেই নাট্যচর্চা আছে। বাংলা নাটকের ইতিহাস সুদীর্ঘ কালের।

তবে আধুনিক অর্থে যাকে আমরা নাটক বলি, বাংলা ভাষায় তা প্রথম পাই আজ থেকে প্রায় দুশো বছর পূর্বে। ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার 'বেঙ্গলি থিয়েটারে' মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল'। রুশদেশীয় যুবক হেরাসিম লেবেডফ ইংরেজি নাটক 'দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে মঞ্চস্থ করেন। 'দ্য ডিসগাইজ'-এরই রূপান্তরিত বাংলা নাম 'কাল্পনিক সংবদল'। নাটকটি বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেডফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। এখানে একটি কথা আপনি মনে রাখবেন- ১৭৯৫ সালে প্রথম বাংলা নাটকের সাক্ষাৎ পাওয়া গেলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির নানা শাখায় বিপুল পরিমাণ নাট্য-উপাদান বহু পূর্ব থেকেই বর্তমান ছিল।

মঙ্গলকাব্য, লোকসঙ্গীত, পালাগান, গাজীর গান, কবিগান, ময়মনসিংহ গীতিকা প্রভৃতির মধ্যে নাটকের নানা উপাদান পাওয়া যায়। লোক-নাটকের অন্যতম উপাদান নৃত্য ও গীতের সাক্ষাৎ আমরা এসব রচনায় পাই। কালক্রমে এসব উপাদান থেকেই আধুনিক যুগের বাংলা নাটকের উদ্ভব ঘটে।

উৎস: মাধ্যমিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

৩৫২.
লালসালু কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) আঞ্চলিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) ঐতিহাসিক
  4. ঘ) আধ্যাত্মিক
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- এর মূলবিষয় হলো ধর্ম নিয়ে ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- অর্থাৎ, এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৫৩.
কোনটি মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস?
  1. ফিরোজা বেগম
  2. আব্দুল্লাহ
  3. জোহরা
  4. গরীবের মেয়ে
ব্যাখ্যা

'গরীবের মেয়ে' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'আনোয়ারা'।

নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস;
- প্রেমের সমাধি
- পরিণাম
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি
- দুনিয়া আর চাই না
- মেহেরউন্নিসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৩৫৪.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. (পদ্মাবতী) আলাওল 
  2. (বসন্তকুমারী) মীর মশাররফ হোসেনে
  3. (কিত্তনখোলা) সেলিম আল দীন
  4. (রক্তাক্ত প্রান্তর) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৫৫.
পদ্মা মেঘনা যমুনা’ - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাসঃ ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)-- তিনটি ত্রয়ী উপন্যাস।
এছাড়াও তিনি - দেয়াল, পরিত্যাক্ত স্বামী ইত্যাদি উপন্যাস রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৫৬.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা' গানটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাজাহান
  2. নূরজাহান
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. সিংহল বিজয়
ব্যাখ্যা
• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৭.
শওকত ওসমান রচিত 'তস্কর ও লষ্কর' একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) শিশুতোষ
ব্যাখ্যা
'তস্কর ও লষ্কর' শওকত ওসমান রচিত নাটক

• শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২রা জানুয়ারি হুগলি তে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
প্রবন্ধ: 
- সংস্কৃতির চোরাই উৎরাই
- মুসলিম মানসের রূপান্তর

উপন্যাস :
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ

নাটক :
আমলার আমলা
তস্কর ও লষ্কর
বাগদাদের কবি

শিশুতোষ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো
- তারা দুই জন
- ক্ষুদে সোশালিস্ট

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৫৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস-
  1. কবি
  2. পঞ্চগ্রাম
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. আরোগ্য নিকেতন
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- চৈতালি ঘূর্ণি
- ধাত্রী দেবতা
- কালিন্দী
- কবি
- গণদেবতা
- আরগ্য
- নিকেতন
- পঞ্চপুণ্ডলী
- রাধা ইত্যাদি

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- পঞ্চগ্রাম
- গণদেবতা 
- নাগিনী কন্যার কাহিনী 

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
৩৫৯.
বোবা কাহিনী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬০ সালে
  3. গ) ১৯৬৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক। (সৌমিত্র শেখরের বই অনুসারে)
তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।
৩৬০.
উইলিয়াম কেরি কোন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলায় আসেন?
  1. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  2. ডেনিশ মিশন সোসাইটি
  3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬১.
'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. খ) তেভাগা আন্দোলন
  3. গ) মন্বন্তর,
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
খোয়াবনামা (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- এই উপাদান সমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানব জীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোঁয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৬২.
কোনটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জীবন আমার বােন
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'

 • মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• জীবন আমার বোন উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৩.
'সাজাহান' নাটকের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
  2. তুলসী লাহিড়ি
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা- 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- এটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।

• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার।
- তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলালও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর কাব্য 'আর্য্যগাথা' এবং বিলেতে থাকাকালে কাব্য 'Lyrics of Ind' প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণজাগরণমূলক গান রচনায় তাঁর অবদান ছিল।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই।
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৪.
রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) প্রদোষে প্রাকৃতজন
  2. খ) সেনাপতি
  3. গ) কুলায় কলাস্রোত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৬৫.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নতুন সকাল
  2. জয়ের পথে
  3. পূরবী
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- নতুন সকাল ইত্যাদি‌।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজউদ্দৌলা,
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- মহাকবি আলাউল,
- মাকড়সা।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৬.
কোন উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি লোকজীবন চিত্রায়িত হয়েছে?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) কুচবরন কন্যা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) কাঞ্চনমালা
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস। 
- এ উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দু;খ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখ।

- শামসুদ্দীন আবুল কালাম 'মাহে নও' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- কাঞ্চনগ্রাম
- আলমনগরের উপকথা,
- জায়জঙ্গল,
- নবান্ন,
- সমুদ্রবাসর
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৭.
‘হাসনাহেনা’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, হাসনাহেনা, খোশরোজ, সাহারা, গুলিস্তান, বনি আদম, কাব্য কাহিনী, বুলবুলিস্তান ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ- রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৬৮.
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) পলাশীর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটির মূল উপজীব্য হলো পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। রক্তাক্ত প্রান্তর এর মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধে নর-নারীর প্রেম। কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ থেকে এর কাহিনী নেয়া হয়েছে। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৩৬৯.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কোন স্থানে মুদ্রিত হয়েছে?
  1. রোমে
  2. ভাওয়ালে
  3. লিসবনে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন শহরের রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি  বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদরি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৭০.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) সত্যজিৎ রায়
  3. গ) দুলাল দত্ত
  4. ঘ) পশ্চিমবঙ্গ সরকার
ব্যাখ্যা

'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন - সত্যজিৎ রায়।

• পথের পাঁচালী   বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। প্রথমে এটি মাসিক বিচিত্রা পত্রিকায় (আষাঢ় ১৩৩৫-আশ্বিন ১৩৩৬) ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয়; পরে ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর এবং সর্বজয়া উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। অপু চরিত্রে লেখকের ব্যক্তিচরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে। লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অপু ও দুর্গাকে প্রকৃতির স্বভাবসম্পন্ন করে চিত্রিত করা হয়েছে। অপু চরিত্রের ক্রমবিকাশের ধারায় পরবর্তীকালে বিভূতিভূষণের অপরাজিত (১৯৩১) উপন্যাস রচিত হয়। অস্কার বিজয়ী পরিচালক  সত্যজিৎ রায় উভয় গ্রন্থ অবলম্বনে পৃথক দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

• দুলাল দত্ত ছিলেন সম্পাদক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ছবির প্রযোজক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- সৌমিত্র শেখর

৩৭১.
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় কোথায়?
  1. ঢাকায়
  2. রংপুরে
  3. ময়মনসিংহে
  4. কুষ্টিয়ায়
ব্যাখ্যা
• মুদ্রণ শিল্প:
মুদ্রণ শিল্প প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ। প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়। এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন।
- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা ''বার্তাবহ যন্ত্র'' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৭২.
‘হ-য-ব-র-ল’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, ইত্যাদি।
তাছাড়া 'হ-য-ব-র-ল' নামে সুকুমার রায় রচিত একটি রম্যরচনা রয়েছে।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৭৩.
"ভানুমতি-চিত্তবিলাস" - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাচরণ শিকদার
  2. খ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. গ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস - শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখচিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
তার আরো দুটি নাটক - কৌরব বিয়োগ ও রজতগিরিনন্দিনী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৩৭৪.
বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য করে তোলেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৭৫.
‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকটি রচনা করেন-
  1. মামুনুর রশীদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা-  মমতাজউদদীন আহমদ।

• মমতাজউদদীন আহমদ:  
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক: 
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৬.
কত সালে কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল' মঞ্চস্থ হয়?
  1.  ১৭৮৫ সালে
  2.  ১৭৯৫ সালে
  3.  ১৭৯৭ সালে
  4.  ১৭৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• নাটকের উৎপত্তি:
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক “কাল্পনিক সংবদল'।
- এটি কোন মৌলিক নাটক নয়, অনুবাদ নাটক। রুশদেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ্‌ লেবেদেফ ইংরেজি নাটক "দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে লেখেন “কাল্পনিক সংবদল'।
- এ সময় লেবেদেফ “লাভ ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর' নামে আরও একটি কৌতুক নাটক অনুবাদ করেন। এ নাটকটিও কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। নাটকদ্বয় বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেদেফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। 
- ১৭৯৫ সালে রুশীয় যুবক লেবেদেফের এই সাহসী উদ্যমের পর ধীরে ধীরে বাংলা নাটক বিকশিত হতে আরম্ভ করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৭.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম গল্পসংগ্রহ? 
  1. ইতিহাসমালা
  2. হিতোপদেশ
  3. পঞ্চতন্ত্র
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা' গ্রন্থ:
- প্রায় দেড়'শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য।

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
--------------------
- হিতোপদেশ', ‘পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি- খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩৭৮.
সেলিম আল দীনের রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) এবার ধরা দাও
  2. খ) চারিদিকে যুদ্ধ
  3. গ) কেরামত মঙ্গল
  4. ঘ) এখানে নোঙর
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।

- 'সারদামঙ্গল' বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। এটি মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৭৯.
'এই খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ কুলাল না এ জীবনে।
হায়, জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভুবনে?' - সংলাপটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) পঞ্চগ্রাম
  2. খ) কবি
  3. গ) অরণ্যবহ্নি
  4. ঘ) ফেরা
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১ম প্রকাশিত উপন্যাস)
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ-
'এই খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ কুলাল না এ জীবনে।
হায়, জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভুবনে?'

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮০.
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ না কোনটি?
  1. ক) হরগজ
  2. খ) মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী
  3. গ) বাসন
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হলো মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী, হরগজ, বাসন, হাতহদাই। বহুব্রীহি লিখেন হুমায়ূন আহমেদ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - মোহসীনা নাজিলা
৩৮১.
কোন নাট্যকারের নাটকে দ্বৈতাদ্বৈতবাদ  শিল্পতত্ত্ব অনুসৃত হয়েছে? 
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন 
  2. মামুনুর রশিদ 
  3. সেলিম আল দীন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীনের নাটকে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পতত্ত্ব অনুসৃত হয়েছে।
----------------------------------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তাকে নাট্যাচার্য  উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিলো।

- জীবদ্দশায় সেলিম আল দীন তার বিভিন্ন রচনায় প্রকাশ করেছেন যে, শিল্পদর্শনে তিনি দ্বৈতাদ্বৈতবাদী ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমা শিল্পের সমস্ত বিভাজনকে বাঙালির সহস্রবছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন শিল্পরীতি প্রতিষ্ঠা করেন, যাকে তিনি ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

- সেলিম আল দিন শুধুমাত্র নাটক রচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না।
- তিনি নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করে বাঙালি নাটকের সহস্র বছরের ইতিহাস এবং তার স্পষ্ট কাঠামো উন্মোচনে সক্ষম হন।
- তিনি ১৯৯৬ সালে মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য রচনা করেছেন।
- এছাড়া, নাট্য গবেষণা পত্রিকা Theater Studies-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নাট্যশিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ। 

- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।
• তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
- গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  

 তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
- কাব্যগ্রন্থ- কবি ও তিমি।
- উপন্যাস- অমৃত উপাখ্যান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩৮২.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ কোন লিপিতে মুদ্রিত হয়েছিল?
  1. আরবি
  2. রোমান
  3. ইংরেজি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৩.
নিচের কোনটি পৌরাণিক নাটক?
  1. হরিশচন্দ্র
  2. সাজাহান
  3. রূপান্তর
  4. শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন মাপকাঠির আলোকে নাটককে নানাভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। বিষয় অনুসারে আমরা নাটককে প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। এই বিভাগগুলো নিম্নরূপ—
১. পৌরাণিক নাটক, 
২. ঐতিহাসিক নাটক, 
৩. সামাজিক নাটক, 
৪. চরিতমূলক নাটক। 

• পৌরাণিক নাটক:
পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে কেন্দ্র করে যখন কোন নাটক রচিত হয়, তখন তাকে পৌরাণিক নাটক বলে। রামায়ন, মহাভারত, ভাগবত পুরাণ বা অন্য কোন ধর্মমূলক কাহিনী অবলম্বনে পৌরাণিক নাটক লিখিত হয়। পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে সমকালীন জীবন ও চিন্তার সঙ্গে একাত্ম করার মধ্যেই এ ধরনের নাটকের সার্থকতা নিহিত। Byron এর The Four P'S গিরিশচন্দ্রের ‘জনা’, অমৃতলালের ‘হরিশচন্দ্র', দ্বিজেন্দ্রলালের ‘সীতা, মম্মথ রায়ের 'কারাগার ইত্যাদি পৌরাণিক নাটকের উদাহরণ।

• ঐতিহাসিক নাটক:
অতীতের কোন ঘটনা বা ইতিহাসের কোন চরিত্র অবলম্বনে যখন নাটক লিখিত হয়, তাকে ঐতিহাসিক নাটক বলে। এ ধরনের নাটকে নাট্যকারকে ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়, তবে নাটকের প্রয়োজনে তিনি একাধিক কল্পিত চরিত্র বা ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। ঐতিহাসিক ঘটনাকে বর্তমানের মানবভাগ্যের সঙ্গে একাত্মকরে নেওয়ার মধ্যেই এ জাতীয় নাটকের সার্থকতা নিহিত। শেক্সপীয়রের Henry IV দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’, শচীন সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা', সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজ-উ-দ্দৌলা' প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটকের উদাহরণ।

• সামাজিক নাটক: 
সমাজের কোন সমস্যা নিয়ে রচিত নাটককে সামাজিক নাটক বলা হয়। সামাজিক নাটকে সমাজের মৌল প্রবণতা এবং নানা অনুষদের প্রতি নাট্যকারকে সতর্ক থাকতে হয়। এ ধরনের নাটকে সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেয়- পরিণতিতে অশুভ পতন দেখানো হয়। বার্নার্ড শ'র Heart-break House দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ, নুরুল মোমেনের ‘রূপান্তর' প্রভৃতি সামাজিক নাটকের উদাহরণ।

• চরিতমূলক নাটক:
বিশেষ কোন ব্যক্তিত্বের চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা হয় চরিতমূলক নাটক। চরিত্রমূলক নাটকে যে ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নাটক লেখা হয়, নাট্যকার তার জীবনের বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কিছু কল্পনারও আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নাট্যকারকে খুবই সচেতন থাকতে হয়, যেন কল্পনার অংশটুকু বিশেষ ব্যক্তিত্বকে বিবর্ণ না করে। বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন' ও 'বিদ্যাসাগর’, মহেন্দ্র গুপ্তের ‘মাইকেল' প্রভৃতি চরিতমূলক নাটকের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এর বই অনুসারে নাটক বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. পৌরাণিক নাটক, ২. ঐতিহাসিক নাটক,  ৩. সামাজিক নাটক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৪.
বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রত্নবতী
  2. খ) রায়নন্দিনী
  3. গ) আনোয়ারা
  4. ঘ) উদাসীন পথিকের মনের কথা
ব্যাখ্যা
রত্নবতী মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস। একই সাথে এটি বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাসও। এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। তার বিষাদ সিন্ধু বাংলা সাহিত্যের একমাত্র গদ্য মহাকাব্য। গাজী মিয়ার বস্তানী ও উদাসীন পথিকের মনের কথা তার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। রায়নন্দিনী ও আনোয়ারা যথাক্রমে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও মোহাম্মদ নজিবুর রহমান রচিত উপন্যাস। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৩৮৫.
বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন পত্রিকা সাহায্য করেছিল?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সমাচার-দর্পণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্য বিকাশে উল্লেখযোগ্য পত্রিকা:

• শ্রীরামপুর মিশন থেকে ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা সমাচার-দর্পণ এবং পরে রামমোহন রায়ের সম্বাদকৌমুদী (১৮২১) ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাচারচন্দ্রিকা (১৮২২) বাংলা গদ্যকে ভাবপ্রকাশের উপযোগিতা দিয়েছিল এবং খানিকটা সরল ও কেজো গদ্যে পরিণত করেছিল।

আরো দুটি সাময়িকপত্রিকা— সম্বাদপ্রভাকর (১৮৩১) এবং তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (১৮৪৩) — বাংলা গদ্যের বিকাশে সাহায্য করেছিল। বিশেষত,
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় লিখে অক্ষয়কুমার দত্ত এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সেকালের দুই শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক বলে পরিচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন-
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
•  চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। ১৮০৫ খ্রী. কাদির বখশ রচিত ফারসী গ্ৰন্থ ‘তুতীনামা’র বঙ্গানুবাদ করেন। গ্রন্থটি ‘তোতা ইতিহাস’ নামে প্রথমে শ্ৰীরামপুর মিশনারী প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। পরে ১৮২৫ খ্রী. লন্ডনে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল।

---------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত, তারাচরণ শিকদার ও  রামনারায়ণ তর্করত্ন বাংলা নাটকের সূচনাপর্বের নাট্যকার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৭.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক-
  1. গোত্রান্তর
  2. পাথর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. সমতট
ব্যাখ্যা

• গণনাট্য সংঘের অন্যতম অভিনেতা এবং 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।
• পাথর ও সমতট নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশিদ।
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮৮.
‘লিপিমালা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ রায়
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গোলোকথান শর্মা
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
♦ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলোতে কোন সাহিত্যের প্রভাব রয়েছে?
  1. ফারসি সাহিত্যের 
  2. ইংরেজি সাহিত্যের
  3. হিন্দি সাহিত্যের
  4.  সংস্কৃত সাহিত্যের 
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলো মূলত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে সহায়ক ছিল। এ সময়ের লেখকরা অনুবাদ ও মৌল রচনায় ব্যাপকভাবে সংস্কৃত সাহিত্যকে অনুসরণ করেছেন। ফলে ভাষা, শব্দচয়ন ও ভাবগঠনে সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত) পর্বে (বিশেষত ১৮০১-১৮১৫) বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এই সময়ে রচিত বাংলা গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে দেশীয় পণ্ডিতরা (যেমন, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা) এই কাজ করেন। এই গ্রন্থগুলো কলেজের ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত হয়েছে, যাতে সংস্কৃতের কৃত্রিম গাম্ভীর্য এবং সাধু ভাষার প্রাধান্য লক্ষণীয়।

উদাহরণস্বরূপ:
• হিতোপদেশ (গোলকনাথ শর্মা, ১৮০২; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ।
• বত্রিশ সিংহাসন (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০২): সংস্কৃত কথাসাহিত্যের অনুবাদ।
• রাজাবলি (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত ইতিহাসের অনুবাদ।
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১): এটি বাংলা গদ্যের প্রথম মুদ্রিত জীবনচরিত্র, কিন্তু সংস্কৃত শৈলীতে রচিত এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে (মৌলিক বলে বিবেচিত হলেও, সংস্কৃত প্রভাব প্রধান)।

যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব শৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, কথোপকথন বা লিপিমালা), তবুও অধিকাংশই অনুবাদভিত্তিক। এই পর্ব বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতীকরণ করেছে, যা পরবর্তীকালে চলিত ভাষার প্রসারে সাহায্য করেছে।

------------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
বাংলাদেশে কর্মরত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের জন্য তৎকালীন ইংরেজশাসিত ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা-দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল। ওয়েলেসলি অনুভব করেছিলেন যে কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ কাজের ভার নিয়ে বিলাত থেকে যারা আসে, তারা অধিকাংশ চৌদ্দ থেকে আঠার বৎসরের নাবালক, স্বদেশে তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় নি, এ দেশেও তার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে এই সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা। এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১), লিপিমালা (১৮০২)।
গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলি (১৮০৮), প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯০.
বাংলাভাষায় প্রথম আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) মীর মোশাররফ হোসেন
  3. গ) দীনবন্ধু মিত্র
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে রচনা করেন নীল দর্পণ নাটক। এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাথমিক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক নাটক।
- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৭২-৭৩ সালে রচনা করেন জমিদার দর্পণ নাটক, এই নাটক রচনায় দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের প্রভাব রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মুনির চৌধুরী উক্ত দুজনের আরো পরে নাটক রচনা করেন।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় দীন বন্ধু মিত্রই প্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন।

৩৯১.
বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. রামরাম বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এবং এটি প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. ভাঙার গান
  2. সর্বহারা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস- কুহেলিকা। 

কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- ফণি-মনসা, 
-জিঞ্জির, 
- সন্ধ্যা, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যু-ক্ষুধা, 
- কুহেলিকা। 

গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা। 

সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ: 
- চোখের চাতক, 
- নজরুল গীতিকা, 
- সুর সাকী, 
- বনগীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩৯৩.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসটি রচনা করেন -
  1. ক) রশীদ করিম
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
- 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসটি রচনা করেন - রশীদ করিম

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস:
- রশীদ করিম উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :শাকের, সেলিনা, অণিমা, শেখর।

• রশীদ করীম রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আমার যত গ্লানি,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি।

• রশীদ করীম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহনে তোমার মুর্তিখানি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
৩৯৪.
বাংলা গদ্য লেখার প্রচলন হয় কাদের হাতে ধরে?
  1. ক) বাঙালিদের
  2. খ) পুর্তগিজদের
  3. গ) ইংরেজদের
  4. ঘ) পুরোহিতদের
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
১৫৫৫ সালে কোচবিহারের রাজা কর্তৃক আসামের রাজাকে লেখা পত্রকে বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন হয়।
- পরবর্তীতে সতের শতকে দোম আন্তোনিও নামক একজন বাঙালি পাদ্রি ‘রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে বাংলা গদ্যের নিদর্শন পাওয়া যায়।
- কিন্তু ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পরে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ খোলা হয় এবং উইলিয়াম কেরির (ইংরেজ) নেতৃত্বে বাংলা গদ্যের প্রচলন হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
৩৯৫.
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৭৯৩ সালে 
  2. ১৮০০ সালে 
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৯০০ সালে 
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৯৬.
ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা 'বেদান্তগ্রন্থ' রচনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. রামমোহন রায়
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯৭.
'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানোএল দা আসসাম্পসাঁউ
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. ঘ) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ- এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ (১৭৭৮)। গ্রন্থটির রচয়িতা ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ও সম্পূর্ণ ব্যাকরণ গ্রন্থ। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজি ভাষায় রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৮.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক হচ্ছে-
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) হাতহদাই
  3. গ) দ্যাশের মানুষ
  4. ঘ) খাট্টা তামাশা
ব্যাখ্যা
'হাতহদাই' হলো সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, বাসন, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৯৯.
'চাঁদের অমাবস্যা' কোন জাতীয় উপন্যাস?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) রোমান্টিক
  4. ঘ) মনস্তাত্বিক
ব্যাখ্যা
চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন |
- এটি একটি মনস্তাত্বিক উপন্যাস |
  
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

তাঁর লিখিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু (১৯৪৮)
- কাঁদো নদী কাঁদো
- The Ugly Asian

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০০.
'মসনদের মোহ' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আকবর উদ্দীন
  2. খ) ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) শাহাদাৎ হোসেন
ব্যাখ্যা

শাহাদাৎ হোসেন (১৮৯৩-১৯৫৩) সাংবাদিক, সাহিত্যিক। পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার পন্ডিতপোল গ্রামে তাঁর জন্ম।
তিনি কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন। তবে সাহিত্যের অন্য মাধ্যমেও তাঁর সহজ বিচরণ ছিল।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যঃ মৃদঙ্গ (১৯২৮), কল্পলেখা (১৯২৯), রূপচ্ছন্দা (১৯৫০);
উপন্যাস ও নাটকঃ সরফরাজ খাঁ (১৯১৯), হিরণলেখা (১৯২০), পারের পথ (১৯২০), স্বামীর ভুল (১৯২১), সোনার কাঁকন (১৯২৩), যুগের আলো (১৯২৪), রিক্তা (১৯২৭), পথের দেখা (১৯২৯), কাঁটাফুল (১৯৩০), আনারকলি (১৯৪৫), মসনদের মোহ (১৯৪৬);
গল্পঃ রূপায়ণ (১৯৩৩) এবং শিশুসাহিত্য ছেলেদের গল্প (১৯২৪), মোহন ভোগ (১৯২৪) ইত্যাদি।
এসব রচনায় তিনি মুসলমানদের ঐতিহ্য ও গৌরবময় কাহিনী তুলে ধরেন।
পঞ্চাশের দশকে রূপচ্ছন্দা ও মসনদের মোহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ বাংলা বিষয়ের পাঠ্যভুক্ত ছিল।
বসিরহাট বাণী সঙ্ঘ তাঁকে ‘কবিকুল শিরোমণি’ ও ‘পূর্ণেন্দু’ উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৫৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।