বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৭৩৭

২০১.
'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. রাজা রামমোহন
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরি। 
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। 
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। 

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি। 
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক। 
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। 
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ। 
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।

২০২.
বাংলা সাহিত্যে বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে কোন নাটকটি রচিত হয়েছিলো?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. রত্নাবলী
  3. কীর্তিবিলাস
  4. নীল-দর্পণ
ব্যাখ্যা
• কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাহিনি সংক্ষেপ: 
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক - কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)।
- 'রামনারায়ণ তর্করত্ন' রচিত অনুবাদ নাটক - রত্নাবলী (১৮৫৮)।
- দীনবন্ধু মিত্রের রচিত ট্র্যাজেডি নাটক - নীল-দর্পণ (১৮৫৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২০৩.
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৫৯
  2. খ) ১৮৬৫
  3. গ) ১৮৬০
  4. ঘ) ১৮৬৬
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) রচনা করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৪.
আদিবাসী সমাজের কাহিনী বর্ণিত আছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) তিতাস একটি নদীর নাম
  2. খ) কর্ণফুলী
  3. গ) কুচবরণ কন্যা
  4. ঘ) ধানকন্যা
ব্যাখ্যা
'কর্ণফুলি' (১৯৬২) উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা এক বিশেষ জনপদ নিয়ে রচিত এই উপন্যাস। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, দেওয়ানপুত্র (চাকমা), জলি, রমজান, ইসমাইল প্রমুখ। 
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার পান।
----------------------------
শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯) এর জন্ম নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- এ সময়ে যাঁরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
- প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী ভাবধারায় তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন।
- প্রথম জীবনে গ্রামের মানুষ ও তাদের সংগ্রাম, প্রকৃতির ঐশ্বর্য ও সংহারমূর্তি দুইই তাঁর মনে ছাপ ফেলে গেছে।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্ত্ত করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- জীবন জমিন (১৯৮৮) প্রভৃতি।
উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) 
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬)
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২)
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

‘কুচঁবরণ কন্যা’ - বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
'তিতাস একটি নদীর নাম' - অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- 
  1. নাটক
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস: 
- 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- 'উপন্যাস'। 
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে। 
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
 
তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
২০৬.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটির রচিয়তা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শিশির ভাদুড়ী
  3. শওকত ওসমান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৭.
বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় কত সালে?
  1. ১৭৯৫ সালে
  2. ১৭৯০ সালে
  3. ১৭৯৮ সালে
  4. ১৮৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২০৮.
নিচের কোনটিকে বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. কীর্তিবিলাস
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্য:

• সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
• বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ ঘটেছে।
• পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকটির অঙ্ক সংখ্যা পাঁচটি।
• তবে সংস্কৃত নাট্যধারার প্রভাবে এতে নান্দী ও সূত্রধার আছে।
• ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে কিছুটা আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্য অপশন,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক - কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)।
- তারাচরণ শিকদার রচিত প্রথম মৌলিক নাটক - ভদ্রার্জুন (১৮৫২)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ও আধুনিক নাটক - শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০৯.
প্রহসন বলতে কী বোঝায়?
  1. কমেডি নাটক
  2. সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক
  3. উদ্দেশ্যহীন নাটক
  4. অস্বাভাবিক নাটক
ব্যাখ্যা
• প্রহসন : সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক। 

• প্রহসন: 
- প্রহসন  হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা।
- এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়।
- পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত।
- বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

• বিশেষ তথ্য: 
- রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত প্রহসনের আদর্শে বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪)।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন  মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২১০.
"বিষাদ সিন্ধু" উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ইয়াজিদ
  2. ইমাম হোসেন
  3. মাওয়ান
  4. ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা

ইব্রাহিম কার্দি বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র নয়।
- মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র ইব্রাহিম কার্দি ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।
- এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস ।

মীর মশাররফ হোসেন এর অন্যান্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- মোসলেম বীরত্ব
- গড়াই ব্রিজ বা গৌরী সেতু 

উপন্যাস:
- রত্নাবতী
- বিষাদ সিন্ধু
- গাজী মিয়ার বস্তানী

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২১১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য কোনটি?
  1. ক) ব্রজাঙ্গনা
  2. খ) বীরঙ্গনা
  3. গ) মেঘনাদবধ
  4. ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য বীরঙ্গনা। কাব্যটিতে মোট ১১টি পত্র আছে। ব্রজাঙ্গনা রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতি কাব্যের নাম। বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মেঘনাদবধ কাব্য। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি পদ্মাবতী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১২.
আদিবাসীদের জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মগ্ন চৈতন্যে শিস
  2. খ) কুহ ও কেকা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী'  (১৯৬২)  পাহাড়-সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। 
- আদিবাসী রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র(চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত। 
- শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক আলাউদ্দিন আল আজাদের জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
গল্প:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- জীবন জমিন (১৯৮৮)
উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) 
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
 নাটক
- মরক্কোর যাদুকর (১৯৫৯),
- মায়াবী প্রহর (১৯৬৩) ও
- ধন্যবাদ (১৯৬৫) 
- ধন্যবাদ (১৯৫১),
- নিঃশব্দ যাত্রা (১৯৭২),
- নরকে লাল গোলাপ (১৯৭২) প্রধান।
দুটি কাব্যনাট্য,
- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও
- রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৩.
‘সুরজিত নন্দী’ নুরুল মোমেন রচিত কোন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নয়া খান্দান
  2. নেমেসিস
  3. বহুরূপা
  4. রূপলেখা
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

--------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২১৪.
কত সালে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৫.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. ক) চাকমা সম্প্রদায়ের
  2. খ) সাঁওতাল সম্প্রদায়ের
  3. গ) কাহার সম্প্রদায়ের
  4. ঘ) ডোম সম্প্রদায়ের
ব্যাখ্যা
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- উপন্যাসে বীরভুমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। 

--------------------
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৯৮-১৯৭১) ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশো গ্রন্থ রচনা করেন।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩)
- একটি কালো মেয়ের কথা (১৯৭১) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৬.
'লিপিমালা' পত্রসাহিত্য কে রচনা করেছেন?
  1. রামরাম বসু
  2. উইলিয়াম কেরী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্সী
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।


ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো
হলো:
- উইলিয়াম কেরী: কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
- রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
- গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
- তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত: তোতা ইতিহাস।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১৭.
নিচের কোনটি বিয়োগান্তক নাটক?
  1. সপ্তমীতে বিসর্জন
  2. সভ্যতার পাণ্ডা
  3. কীর্তিবিলাস
  4. বেল্লিক বাজার
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে, 
• গিরিশ ঘোষের প্রহসনগুলোর মধ্যে- 'সপ্তমীতে বিসর্জন', 'বেল্লিক বাজার', ‘বড়দিনের বকশিস’, ‘সভ্যতার পাণ্ডা' প্রভৃতির উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৮.
বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন বিদেশীর অবদান সর্বাধিক?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. মানোয়েল দ্যা আসুম্পসাঁও
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২১৯.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিনাট্য?
  1. রক্তকবরী
  2. বসন্ত
  3. ডাকঘর
  4. তাসের দেশ
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্ত' নাটক: 
- ‘বসন্ত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য।  
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকের বিষয় যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান। 
- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন।
- কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।
- বসন্ত ঋতুনাট্যে রয়েছে গানের প্রাধান্য, গল্প বলতে আছে অতি সামান্য কিছু।
- সমৃদ্ধির সার্থকতা শুধু প্রাচুর্যে নয়, সেই সঙ্গে চাই ত্যাগের নিরাসক্তি- বসন্তের মর্মকথা এটাই।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) একটি রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- 'তাসের দেশ' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি  রূপক নাট্য।
- ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
২২০.
'খুন ও ভালোবাসা' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
'খুন ও ভালোবাসা' উপন্যাসের রচয়িতা- সেলিনা হোসেন। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড, যাপিত যৌবন, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা, খুন ও ভালোবাসা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২২১.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকটি কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সেলিম আল দীন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২২.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কালো মেঘ
  2. খ) আমার ছেলেবেলা
  3. গ) ভলগার তীরে
  4. ঘ) প্রেমাংশুর রক্ত চাই
ব্যাখ্যা
প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অমীমাংসিত রমণী, বাংলার মাটি বাংলার জল, চাষাভুষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, শিয়রে বাংলাদেশ, মুঠোফোনের কাব্য, নিশিকাব্য ইত্যাদি নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ। কালো মেঘ তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস, আমার ছেলেবেলা তাঁর আত্মজীবনী এবং ভলগার তীরে তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২২৩.
'ঋণ পরিশোধ' নাটকটির রচয়িতা-
  1. ওয়াজেদ আলী
  2. ইব্রাহিম খাঁ
  3. সেলিম আল দীন
  4. ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
• নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- কাফেলা,
- ভিস্তি বাদশা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২২৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' নামক মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়।
- 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- 'ভদ্রার্জুন' নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ ১৮৭২ সালে  প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।

•  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী', প্রথম সার্থক নাটক 'শর্মিষ্ঠা' এবং 'পদ্মাবতী'- নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক। এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২২৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. বোধোদয়
  2. শকুন্তলা
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২২৬.
'ওরা কদম আলী' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. দিনবন্ধু মিত্র
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত। তার প্রকাশিত নাটকের নাম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮),
- ওরা আছে বলেই (১৯৮০),
- মে দিবস (১৯৮১),
- ইবলিশ (১৯৮২),
- এখানে নোঙর(১৯৮৬),
- গিনিপিগ (১৯৮৫),
- সমতট (১৯৯০),
- পাথর (১৯৯৩),
- লেবেদেফ (১৯৯৭)
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২২৭.
নিচের কোনটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. ক) নরসুন্দর
  2. খ) শতকরা আশি
  3. গ) রূপজালাল
  4. ঘ) ভলগার তীরে
ব্যাখ্যা
'রূপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী রচিত গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ। শতকরা আশি ও নরসুন্দর যথাক্রমে নুরুল মোমেনের নাটক ও রম্য রচনা। ভলগার তীরে নির্মলেন্দু গুণের একটি ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২২৮.
‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তি রচনা করেছেন-
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রহমান
  3. হেলাল হাফিজ
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- ‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’-  এই পঙ্‌ক্তি তার বিখ্যাত কবিতা “নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়” থেকে নেওয়া হয়েছে।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভূথ্যানের সময় লেখা।

হেলাল হাফিজ:

- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৯.
‘সুড়ঙ্গ’ নাটকটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'সুড়ঙ্গ' নাটক:
• 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।
• এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।
• ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই ।

⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩০.
নিচের কোনটি প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে। 
  2. তথ্য ও যুক্তির প্রয়োগ আছে।
  3. বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. গঠনভঙ্গির ঐক্য রয়েছে।
ব্যাখ্যা

প্রবন্ধ: সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
সংজ্ঞা:
• কল্পনা ও বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে লেখক কোনো বিষয় সম্বন্ধে সচেতনভাবে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাকেই প্রবন্ধ বলে।
• ‘প্রবন্ধ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো প্রকৃষ্ট বন্ধন।

বৈশিষ্ট্য:
ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসহীনতা: প্রবন্ধে লেখকের ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস ও লাগামহীন চিন্তার সুযোগ নেই।
• উচ্চারণ, ভাব ও ভাষা—এই তিনটি প্রবন্ধের প্রাণ।
• প্রতিটি প্রবন্ধে একটি প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে।
তথ্য ও যুক্তি: যথার্থ তথ্য-প্রমাণ, যুক্তি, নিরাবেগ ভাষা ও সংযত চিন্তার প্রয়োগে সেই বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়।
ভাবের সমতা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রবন্ধে ভাবের সমতা বজায় রাখতে হয়।
 
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য: প্রবন্ধের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিস্তার পরিহার করা যায়।
গঠনভঙ্গির ঐক্য: প্রবন্ধের কাঠামো সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন, যেখানে ভূমিকা, মূল আলোচনা ও উপসংহারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে।
• চিন্তার স্বচ্ছতা: লেখকের চিন্তাধারা প্রবন্ধে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপিত হওয়া উচিত, যাতে পাঠক সহজেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।
• বক্তব্যের যথাযথ বিন্যাস: প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ও যুক্তিগুলি একটি সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক ধারায় বিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে রচনার ধারাবাহিকতা ও আকর্ষণ বজায় থাকে।

অর্থ্যাৎ, 
"ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে।" - প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩১.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আনিসুজ্জামান 
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আল মাহমুদ 
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা আনোয়ার পাশা।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ।
- এই উপন্যাস রচনার সময়কাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন।
- ১৯৭৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। 

আনোয়ার পাশা রচিত অন্যান্য উপ্যনাস গুলো –
- নির সন্ধানী 
- নিষুতি রাতের গাথা

- ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরনোত্তর) লাভ করেন। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩২.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. জামাই বারিক
  3. গোড়ায় গলদ
  4. চিরকুমার সভা
ব্যাখ্যা
⇒ 'জামাই বারিক':
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘জামাই বারিক’ প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।
- ১৮৭২ সালে প্রহসনটি প্রকাশিত হয়।
- জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
- ‘গোড়ায় গলদ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক - চিরকুমার সভা।

-------------------
⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
⇒ ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
⇒ 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
⇒ 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
⇒ দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
⇒ 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৩.
‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ নাটকের জন্য রামনারায়ণ তর্করত্ন কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. নাট্যসম্রাট
  2. নাটুকে নারায়ণ
  3. নাট্যরত্ন
  4. নাট্যভূষণ
ব্যাখ্যা
'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৩৪.
'স্কুল মাস্টার সুরজিত' চরিত্রটি কোন নাটকের?
  1. নটীর পূজা
  2. কোকিলারা
  3. নেমেসিস
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা
‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৫.
‘জননী’ উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলি
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান- কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৩৬.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Lost Cousin
  2. The Spoiled Child
  3. The Royal Nephew
  4. The Child Spoiled
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৩৭.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গদ্যকর্ম- 
  1. রাজাবলি
  2. তোতা ইতিহাস
  3. আয়না
  4. মহাফিলনামা
ব্যাখ্যা

চণ্ডীচরণ মুনশীর রচিত গদ্যকর্ম হচ্ছে তোতা ইতিহাস।

• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অষ্টাদশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য বাঙালি লেখক।
- বাংলা গদ্যের একেবারে শুরুর দিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক  ছিলেন।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গদ্যকর্ম ‘তোতা ইতিহাস’।
- তোতা ইতিহাস বাংলা গদ্যের অন্যতম প্রাচীন উপাখ্যানগ্রন্থ।
- যা চণ্ডীচরণ মুনশী ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে ফার্সি তুতিনামা থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- পরের বছর, অর্থাৎ ১৮০৫ সালে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশ পায়।
- পরে এই বইটি, ভাগবদ্গীতার সঙ্গে, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
- প্রকৃত অর্থে এটি কাদির বখশ রচিত ফার্সি গল্পগ্রন্থের সফল বঙ্গানুবাদ;
- এবং বাংলা গদ্য সাহিত্যের সূচনালগ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
- ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৩৮.
'সংশপ্তক' কার রচনা?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে রচিত এই উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে আবদুল্লাহ আল মামুন নাট্যরূপ প্রদান করেন এবং যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়।
সংশপ্তক নাটকটি বাংলাদেশে টিভি নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘সংশপ্তক’ শব্দটি মূলত মহাভারত থেকে নেয়া। ‘সংশপ্তক’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে, যে সৈনিকেরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে এবং পালিয়ে আসে না।
উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ রমযান, হুরমতি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৩৯.
'শপথ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. গ) আবুল হুসেন
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক। আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে। তিনি এ নাটকটি রচনা করেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার যে, মামুন ‘শপথ’ রচনার আগে ‘নিয়তির পরিহাস’, ‘বিন্দু বিন্দু রং’ শীর্ষক দুটো মৌলিক নাটক ছাড়া ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর ফস্টাস’ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি নাট্যনিরীক্ষা করতে গিয়ে ‘ঋতুরাজ’ শীর্ষক এক কাব্যনাটক রচনা করেছিলেন। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, এবার ধরা দাও, সেনাপতি, অরক্ষিত মতিঝিল, ক্রসরোড ক্রস ফায়ার, আয়নায় বন্ধুর মুখ, এখনও ক্রীতদাস, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, আমাদের সন্তানেরা, কোকিলারা, মাইক মাস্টার, মেরাজ ফকিরের মা, মেহেরজান আরেকবার।
২৪০.
বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের সূত্রপাত কোন নাট্যকারের হাত ধরে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সেলিম আল দীন
  3. গােপাল হালদার
  4. সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক: কালবেলা, মাইলপোস্ট, তৃষ্ণায়, প্রতিদিন একদিন, শেষ নবাব।

- ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
-------------------
অন্যদিকে,
- ধূর্জটিপ্রসাদ মুখােপাধ্যায় এবং গােপাল হালদারের হাতে বাংলা সাহিত্যে চেতনাপ্রবাহ রীতির সার্থক সূত্রপাত ঘটেছিল।
- বাংলাদেশি লেখকদের মধ্যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ চেতনার প্রবাহরীতির উপন্যাস কে লিখেছেন।
- সেলিম আল দীন গ্রাম থিয়েটারের প্রচলন করেছিলেন।
২৪১.
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রাজর্ষি
  2. খ) নৌকাডুবি
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
• ‘গোরা’
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
– গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
– গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
– ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
– উপন্যাসটি চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
- ‘যোগাযোগ’ (১৯২০) উপন্যাসের   বিষয়বস্তু নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ।
-  'নৌকাডুবি' উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- রাজর্ষি (১৮৮৭) ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে ''বিসর্জন'' নাটকটি রচিত হয়। 
২৪২.
'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ সমূহঃ
- অন্য ঘরে অন্য স্বর
- খোঁয়ারি
- দুধেভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল

এর মধ্যে ''দুধেভাতে উৎপাত'' গ্রন্থটিতে চারটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- মিলির হাতে স্টেনগান
- দুধভাতে উৎপাত
- পায়ের নিচে জল
- দখল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৩.
“পথের পাঁচালী” উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) প্যারীচাঁদ
  2. খ) বনফুল
  3. গ) সত্যজিত রায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৪৪.
একুশের প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) আ ন ম গাজীউল হক
  3. গ) মাহবু-উল-আলম চৌধুরী
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’।
- উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান। 
- পঞ্চাশের দশকে এটি পত্রিকায় ছাপা হয়, বই আকারে বের হয় '৬৯ সালে। 
- শহিদ দিবস পালন, একুশের মিটিং-মিছিল, সরকারি বাধা, শহিদ মিনার নির্মাণসহ একুশের স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত।

অন্যদিকে, 
- একুশের প্রথম নাটক কবর রচনা করেন মুনীর চৌধুরী।
- একুশের প্রথম কবিতা কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি রচনা করেন মাহাবুবুল আলম চৌধুরী।
-  একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।র
২৪৫.
নিচের কোনটি বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ নয়?
  1. ক) ব্রজবিলাস
  2. খ) রত্নপরীক্ষা
  3. গ) অতি অল্প হইল
  4. ঘ) বাঙ্গালার ইতিহাস
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিকগ্রন্থ গুলো হলো- প্রভাবতী সম্ভাষণ, ব্যাকরণ কৌমুদী, শব্দ মঞ্জুরী, বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব, অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, রত্নপরীক্ষা ইত্যাদি। বাঙ্গালার ইতিহাস মৌলিক গ্রন্থ নয় মার্শম্যানের 'হিস্টরি অফ বেঙ্গল' গ্রন্থের অনুবাদ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২৪৬.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র এর উপন্যাস?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) শেষ প্রশ্ন
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) মাঝির ছেলে
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্রের উপন্যাসঃ
- শেষ প্রশ্ন (১৯৩১),
- বড়দিদি (১৯০৭),
- পল্লী সমাজ (১৯১৬),
- দেবদাস (১৯১৭),
- চরিত্রহীন (১৯১৭),
- দত্তা (১৯১৮),
- গৃহদাহ (১৯২০),
- দেনা পাওনা (১৯২৩),
- পথের দাবী (১৯২৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর

২৪৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রহসন কোনটি?
  1. ক) সধবার একাদশী
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে’র পরে প্রহসন লেখা আরম্ভ করেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা শেষ করেন। প্রথমে একেই কি বলে সভ্যতা এবং এটি শেষ করেই বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ রচনা করেন। প্রহসন দুটি বেলগাছিয়া নাট্যশালায় অভিনয়ের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে পাইকপাড়া রাজাদের ব্যয়ে প্রহসন দুটি প্রকাশিত হয়।
২৪৮.
কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. দ্বিজরামদেব
  2. কাশীরাম দাস
  3. মুক্তরাম সেন
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- তিনি ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম বসু সেখানে সহকারী মুনশি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।
- তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ 'লিপিমালা' (১৮০২)।
- তিনি ১৮১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৯.
বাংলা অক্ষরের প্রথম নকশা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি 
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায় 
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
চার্লস উইলকিন্স বাংলা লিপির প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫০.
‘বত্রিশ সিংহাসন’ গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা

• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য ।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৫১.
'সংস্কৃতির ভাঙাসেতু' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) বদরুদ্দিন উমর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতির ভাঙাসেতু আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ২২টি প্রবন্ধের সংকলন। সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাম্য ও কালান্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
২৫২.
‘বোবা কাহিনী’ কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্প
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'বোবা কাহিনী' ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত কবি জসীমউদদী্‌নের একমাত্র উপন্যাস।
উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বাছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫৩.
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' গ্রন্থের কাহিনি অনুসারে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৪.
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)।
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তাই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।

• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন-

‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৫৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮০৩ সালে
  2. ১৮০২ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৫৬.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা-
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. রামরাম বসু
  4. হরপ্রসাদ রায়
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৫৭.
চন্ডীচরণ মুনশী কে?
  1. শ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
  3. কেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
  4. সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
ব্যাখ্যা

 • চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম বাঙালি লেখক ছিলেন।
- এছাড়া, তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক ও ছিলেন।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গদ্যকর্ম ‘তোতা ইতিহাস’।
- ফার্সি গ্রন্থ ‘তুতিনামা’-এর বাংলা অনুবাদ থেকেই এই গ্রন্থটি তৈরি।
- তিনি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে অনুবাদটি সম্পন্ন করেন।
- এই গ্রন্থটি বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাচীনতম উদাহরণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

 অন্যদিকে,
• ‘কেরী সাহেবের মুনশী' উপন্যাসটি লিখেছেন প্রমথনাথ বিশী।
• এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যার জন্য তিনি ১৯৬০ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
• উইলিয়াম কেরি যখন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হলেন, সে সময় রামরাম বসু খ্রিস্টান মিশনারি পাদ্রিদের বাংলা শেখাতেন।
•পরে কেরি তাঁর কাজের দক্ষতা দেখে রামরাম বসুকে বাংলা বিভাগের মুনশী  হিসেবে নিয়োগ দেন।
• রামরাম বসুকে ‘কেরী সাহেবের মুনশী' বলা হয়, কারণ তিনি উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দিয়েছিলেন।
• ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৮.
‘অরণ্যের ডাক’ - আবুল হোসেনের কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ ‘নববসন্ত’(তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে), বিরস সংলাপ (১৯৬৯), হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস (১৯৮২), দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে (১৯৮৫), এখনও সময় আছে (১৯৯৬), রাজ রাজড়া (১৯৯৭), আর কিসের অপেক্ষা, রাজাকাহিনী।
‘আমার এই ছোট ভুবন’ হলো আবুল হোসেনের স্মৃতিকথা।
‘অরণ্যের ডাক’ (১৯৫৪) তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা]
২৫৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কীর্তিবিলাস
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

২৬০.
'ওরা আছে বলেই' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মামুনুর রশীদ
  2. খ) জোবায়দা খানম
  3. গ) ওবায়েদুল হক
  4. ঘ) নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার ছিলেন।
তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস, ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগি,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৬১.
বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অগ্রগণ্য?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. হিন্দু কলেজ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ- বাংলা গদ্যের বিকাশের পথিকৃৎ:

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ১৮০০ সালে কলকাতার লালবাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা ইংরেজ সিভিলিয়ানদের ভারতীয় ভাষা ও বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়েছিল। তবে, এটি শুধুমাত্র ইংরেজদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে, বাংলা গদ্য বিকাশেও বিশেষ অবদান রাখে।

প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য:
• গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এটি গড়ে তোলেন, যেখানে নবাগত অফিসারদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয়। ওয়েলেসলীর পরিকল্পনা ছিল সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত আমলাতন্ত্র তৈরি করা, যাতে ব্রিটিশ ভারত শাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।

বাংলা গদ্যের বিকাশে অবদান:
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কার্যক্রম বাংলা গদ্যের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিকদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।

অধ্যক্ষ:
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন উইলিয়াম কেরী, যিনি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২৬২.
নেমেসিস নাটকটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শনিবারের চিঠি
  2. খ) মোসলেম ভারত
  3. গ) লাঙল
  4. ঘ) নতুন কবিতা
ব্যাখ্যা
- নেমেসিস নাটকটি 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• নেমেসিস: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

• নুরুল মোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে , 
- শতকরা আশি , 
- রূপলেখা , 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?
  1. ক) শর্মিষ্ঠা
  2. খ) রাজসিংহ
  3. গ) পলাশীর যুদ্ধ
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন(১৯৪৬)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য(১৯৬৯)

> তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)
২৬৪.
নেমেসিস নাটকের পটভূমি কী?
  1. ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন। 
- তাঁর নেমেসিস নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক-চরিত্র বিশিষ্ট।
- এই নাটক উল্লেখযোগ্য কারণ এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম।

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৫.
‘এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।’- সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
‘এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।’- সংলাপটি মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘কবর’ নাটক:

- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায় অভিহিত করেছেন?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্য ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর(১৮২০-৯১)। ভাব ও বিষয় অনুসারে বাক্যবিন্যাস এবং ইংরেজি ভাষার আদলে বিভিন্ন বিরাম-চিহ্নের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তাঁর৷

- বাংলা গদ্যের অবয়ব-নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে বিদ্যাসাগর সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতিবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন। সেজন্য বাংলা গদ্যশেলার উদ্ভবের পয়তাল্লিশ বৎসর পরে লেখ ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়ে থাকে। বস্তুতপক্ষে, বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- মাইকেল মধুসূদনের মতে, 'প্রাচীন ঋষির জ্ঞান ও প্রতিভা, ইংরেজের কর্মশক্তি এবং বাঙালি মায়ের হৃদয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠিত।' 
- রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করেছেন বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায়। তবে বিদ্যাসাগর সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি প্রধানত অনুবাদক, পাঠ্যগ্রন্থ প্রণেতা এবং শিক্ষা-সমাজ সাহিত্য বিষয়ের প্রবন্ধকার।

তাঁর অনুদিত ও রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে: 
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), 
- শকুন্তলা (১৮৫৪),
- সীতার বনবাস (১৮৬০),
- ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯),
- বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮),
- জীবনচরিত(১৮৪৯),
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য শান্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩),
- বিদ্যাসাগর চরিত (১৮৯১) ইত্যাদি ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

২৬৭.
“ক্রীতদাসের হাসি” উপন্যাসে আইয়ুব খানের প্রতীক কে?
  1. ক) মোনাদি
  2. খ) ইয়াকুব
  3. গ) তাতারি
  4. ঘ) বাদশা হারুন
ব্যাখ্যা
“ক্রীতদাসের হাসি” উপন্যাসে বাঙালী জনতার প্রতিবাদী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো তাতারি এবং আইয়ুব খানের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো বাদশা হারুন চরিত্রের মাধ্যমে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৬৮.
সেলিম আল দীনের নাটকে অনুসৃত শিল্পতত্ত্ব -
  1. অস্তিত্ববাদ
  2. অভিব্যক্তিবাদ
  3. পরাবাস্তববাদ
  4. দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীনের নাটকে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পতত্ত্ব / সাহিত্যরীতি অনুসৃত হয়েছে।

সেলিম আল দীন
- সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

- ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবি, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।

- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। মূলত ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

- জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন রচনায় লিখেছেন-শিল্পাদর্শে তিনি ছিলেন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী।
পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বৎসরের নন্দতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার পূর্বক তিনি বাংলা সাহিত্যে এক নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেছেন, যার নাম দেন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’।

- তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা পূর্বক বাঙলা নাটকের সহস্র বৎসরের ইতিহাস এবং তার একটি সুস্পষ্ট আঙ্গিক নির্মাণেও সমর্থ হন, রচনা করেন মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য (১৯৯৬)।

- বাঙলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাঙলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করে বাঙলা নাট্যের কোষগ্রন্থের অভাব পূরণ করতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি।

- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছা্ড়া, নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
• কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি,

• উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত সব সৃজনকর্ম নিয়ে ৫ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে সেলিম আল দীন রচনাসমগ্র [১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ (২০০৫-২০০৯)]।
২৬৯.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন। বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭০.
'দুয়ে দুয়ে চার' কি ধরনের সাহিত্য কর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম, (১৯২১-২০০২)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান (১৯৭১-৭৫), বাংলা একাডেমীর অবৈতনিক মহাপরিচালক (১৯৭৪-৭৫) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ (১৯৭১-৭৭)-এর দায়িত্বও পালন করেন।
- দুয়ে দুয়ে চার, যে অরণ্যে আলো  নেই , রোদজাল বিকেল, সূর্যাস্তের পর  - তাঁর লেখা কয়েকটি  নাটক । 
 [উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২৭১.
‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. শহীদুল জহির
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

শহীদুল জহিরের (১৯৫৩-২০০৮) বিখ্যাত উপন্যাস - সে রাতে পূর্ণিমা ছিল। এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত।
- বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতাবাদের আমদানিকর্তা তিনি।
- তার রচিত জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা একটি উপন্যাস। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই উপন্যাসে প্রচলিত ধারা বাহিরে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এটি টানা গদ্যে লেখা এবং এই গ্রন্থে জাদুবাস্তবতাবাদ ও অস্তিত্ববাদের উপস্থিতি আছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৭২.
বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

২৭৩.
'রাজলক্ষ্মী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লী সমাজ
  2. শ্রীকান্ত
  3. শেষের পরিচয়
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস শ্রীকান্ত 
- এর চরিত্রঃ
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- ইন্দ্রনাথ, 
- অভয়া

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
• চরিত্রহীন,
• গৃহদাহ
• পরিণীতা,
• বিরাজবৌ,
• পণ্ডিতমশাই,
• পল্লীসমাজ,
• দেবদাস,
• দত্তা,
• বড়দিদি,
• চরিত্রহীন,
• গৃহদাহ,
• বামুনের মেয়ে,
• শেষ প্রশ্ন,
• দেনাপাওনা,
• পথের দাবী,
• বিপ্রদাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৭৪.
শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. জেমস অ্যান্ড্রু ব্রাউন
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরি ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ,
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
২৭৫.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা'  উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'।

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৬.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অরণ্যবহ্নি
  2. খ) একটি কালো মেয়ের কথা
  3. গ) কালিন্দা
  4. ঘ) রসকলি
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস। 
'কালিন্দা' - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস। 
'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৭.
'ভদ্রার্জুন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ভবানীচরণ চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
ভদ্রার্জুন:
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
- ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৭৮.
'সুভা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি - 
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'। 
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। 
- সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'। 
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট; 
- রাজর্ষি; 
- চোখের বালি; 
- নৌকাডুবি; 
- ঘরে-বাইরে; 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

ছোটগল্প: 
- ভিখারিনী; 
- ছুটি; 
- কাবুলিওয়ালা; 
- পোস্টমাস্টার; 
- সুভা
- সমাপ্তি; 
- অপরিচিতা; 
- হৈমন্তী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৭৯.
‘জাতির মননের প্রতীক’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধকে
  2. খ) বাংলা একাডেমিকে
  3. গ) নজরুল ইনস্টিটিউটকে
  4. ঘ) অমর একুশে বইমেলাকে
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাঙালি সংস্কৃতি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বাংলা একাডেমিকে জাতির মননের প্রতীক বলা হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২৮০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক কোনটি? 
  1. জামাই বারিক
  2. বিবাহ-বিভ্রাট
  3. বৈকুন্ঠের খাতা
  4. হিতে বিপরীত
ব্যাখ্যা
- 'বৈকুন্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক। 
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনীর কেন্দ্র। 
- তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। 
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। 
- নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়-বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে। 

তাঁর রচিত কিছু নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- তাসের দেশ, 
- শারদোৎসব, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা, 
- নটীর পূজা। 

অন্যদিকে, 
- জামাই বারিক দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন। 
- হিতে বিপরীত-এর রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বিবাহ বিভ্রাট -এর রচয়িতা অমৃতলাল বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
২৮১.
বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায় নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. অভিযান
  2. কবি
  3. হাসুলীবাঁকের উপকথা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- সপ্তপদী,
- আরোগ্য নিকেতন,
- চাপাডাঙ্গার বউ,
- একটি কালো মেয়ের কথা (সর্বশেষ উপন্যাস)।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'হাসুলীবাঁকের উপকথা' উপন্যাসে বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ তুলে ধরা হয়েছে।
- 'কবি' উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের এক ছেলের কবি হয়ে যাওয়া চিত্রিত করা হয়েছে।
- 'অভিযান' উপন্যাসে ট্যাকসি ড্রাইভারদের জীবন আর কালিন্দী উপন্যাসে জমিদার বাড়ির কাহিনি বিধৃত হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্য সাময়িকী।
২৮২.
'রাজাবলি' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
- তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৮৩.
'সমুদ্র বাসর' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
তার রচিত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২৮৪.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' গ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পরিচয় পত্রিকায়
  2. সবুজপত্র পত্রিকায়
  3. ভারতী পত্রিকায়
  4. সাধনা পত্রিকায়
ব্যাখ্যা
• 'বীরবলের হালখাতা':
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য/প্রবন্ধ রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

----------
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলো হলো:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
 -তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮৫.
শেক্সপিয়রের ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. হরচন্দ্র ঘোষ
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ 
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• শেক্সপিয়রের ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘ভানুমতী-চিত্তবিলাস’ নাটকটির রচয়িতা - হরচন্দ্র ঘোষ।

--------------
• হরচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন নাট্যকার, অনুবাদক।
- একবার বেকনের প্রবন্ধ ‘ট্রুথ’-এর বাংলা অনুবাদ করার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের আদিপর্বের নাট্যকার এবং শেক্সপীয়রের নাটকের প্রথম অনুবাদক।
- তাঁর পুরাণ অবলম্বনে রচিত কৌরববিয়োগ (১৮৫৮) একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক নাটক।
 ১৮৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর হুগলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।

• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস (১৮৫৩)- শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখ- চিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪)- দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; গবেষণা প্রবন্ধ- University of North Bengal।

২৮৬.
নিচের কোন লেখক উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন?
  1. গোলোকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু​
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার​
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮৭.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম বাংলা নাটক হিসেবে নিচের কোনটি স্বীকৃত?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নূরজাহান
  3. বসন্তকুমারী নাটক
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা

'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।
- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২৮৮.
'ঠকচাচা' চরিত্রটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. লালসালু
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. সধবার একাদশী
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• 'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র।

• আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস : 
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
--------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- আধ্যাত্মিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৯.
‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

‘ভদ্রার্জুন’ নাটক:
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বছরে প্রকাশিত নাটক।
- এটি ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- এই নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৯০.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন 
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• গদ্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পাঠ্যপুস্তক ও তর্ক-বিতর্কের বাহন হিসেবে প্রচলিত যে গদ্য বিদ্যাসাগরের চর্চায় শিল্প মাধ্যমের স্তরে উন্নীত হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর (১৮৩৮-৯৪) সাধনায় সে গদ্য শিল্পিত উপন্যাসের ধারক হয়ে উঠল। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত গদ্যে, যুগপৎভাবে উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্যরচনায় বাংলা গদ্যের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও ঐশ্বর্য সুপ্রমাণিত হল।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিম গদ্যচর্চার নতুন যে পথসন্ধান দিলেন, তাকে অনুসরণ করেই সৃষ্টিশীল গদ্যসাহিত্য উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে (উপন্যাস):
- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫),
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬),
- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩),
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮),
- রাজসিংহ (১৮৮২),
- আনন্দমঠ ((১৮৮৪)। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯১.
বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের বাংলা গদ্য:
বাংলা গদ্যে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।

বংলা গদ্যের সূচনা ও বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

উল্লেখ্য, 
বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক। 

অন্যদিকে,
দুর্গেশনন্দিনী - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস (১৮৬৫)।
চণ্ডীমঙ্গল - মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন - মধ্যযুগের কাব্য সাহিত্যের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৯২.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি রচনা সম্পন্ন করেছিলেন -
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কাজী আনোয়ারুল কাদির
  4. কাজী আনোয়ারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের এই বিখ্যাত উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যুর পর অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির এই উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন। তিনি গ্রন্থটি সম্পন্ন করেন।
- বাঙালিই মুসলমানদের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী অবলম্বনে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক-
  1. ক) বিদ্যাসাগর
  2. খ) স্মরণে ঈশ্বরচন্দ্র
  3. গ) শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র
  4. ঘ) বিদ্যাসাগচরিত
ব্যাখ্যা
•  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - বিদ্যাসাগর।

 বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ ,
- অদৃশ্যলোকে ,
- তন্বী,
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯৪.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) নিরুপম যাত্রা
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসসমূহ- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি। কবিতার কথা তাঁর রচিত প্রবন্ধ, রূপসী বাংলা- কাব্যগ্রন্থ এবং মৃত্যুর আগে- কবিতা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৯৫.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থটির নাম কী?
  1. আশ্চর্যবৃত্তান্ত
  2. বর্ণপরিচয়
  3. মথী রচিত মঙ্গল সমাচার
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
মথী রচিত মঙ্গল সমাচার:
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ - মথী রচিত মঙ্গল সমাচার।
- এটিই বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ। মুদ্রিত হয় ১৮০০ সালের আগস্ট মাসে।

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৬.
কত শতকে নেপালে প্রথম বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়?
  1. ষোল শতকে
  2. আঠারো শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. সতের শতকে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ: 
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৯৭.
‘চতুষ্কোণ’ - উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হুমায়ুন কবির
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আসল নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি তার উপন্যাসে বিভিন্ন রকম তত্ত্ব অবলম্বন করেছেন। তাই তার উপন্যাসের কাহিনী কিছুটা জটিল। মনের গোপন কামনা বাসনা থেকে শ্রেণীসংগ্রাম রূপ পেয়েছে তার উপন্যাসে।

তার বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে -
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)
- পুতুল নাচের ইতিকথা (১৯৩৬)
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬)
- শহরতলী (১৯৪০)
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮)

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

এছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চতুরঙ্গ' নামের একটি উপন্যাস রয়েছে।

২৯৮.
গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. গোলক নাথ শর্মা
  2. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদ্রি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৯৯.
'নেমেসিস' নাটকের পটভূমি-
  1. ক) মন্বন্তর
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণ- অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
- এক চরিত্র বিশিষ্ট নাকট নেমেসিস।
- নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী।
- এ নাটকে নুরুল মোমেন দেখিয়েছেন যে, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুরজিত নন্দী সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুঃখ-দুর্দশার বয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দেবী নেমেসিস (প্রতিহিংসার দেবী) তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে
- যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩০০.
'ওরা কদম আলী' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) গ্রামীণ জীবন ব্যাবস্থা
  3. গ) বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম
  4. ঘ) জেলে সম্প্রদায়ের জীবন ব্যাবস্থা
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমশটিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই(১৯৮০)
- ইবলিশ(১৯৮২)
- এখানে নোঙর(১৯৮৬)
- গিনিপিগ(১৯৮৫)
- পাথর(১৯৯৩)
- লেবেদেফ(১৯৯৭) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।