বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৩ · ৫০১৬০০ / ২,২২৭

৫০১.
কোন জারক রস পাকস্থলিতে দুগ্ধ জমাট বাধায়?
  1. পেপসিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
- রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে, যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়। 
- দুধ একটি আদর্শ খাবার, কারণ এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান। 
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।  
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫০২.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. নিলয় 
  2. অলিন্দ 
  3. ফুসফুসীয় ধমনি 
  4. মহাধমনি 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একরকমের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেষ্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) বলে। 
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০৩.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে প্রথম স্তরের খাদক কোনটি? 
  1. ব্যাঙ
  2. কচ্ছপ
  3. মশার শুককীট
  4. হাইড্রিলা
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 

- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৪.
যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস- কোন পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) Fungi
  2. খ) Monera
  3. গ) Plantae
  4. ঘ) Protista
ব্যাখ্যা

Plantae অন্তর্ভুক্ত প্রজাতিদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস প্রকৃতির হয়ে থাকে।
আকার-আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়, তাকে অ্যানাইসোগ্যামাস (Anisogamous) বলে।
প্লানটি রাজ্যকে ইউক্যারিওটা (সুপার কিংডম ২) কিংডমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্লানটি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে—মসবর্গীয় উদ্ভিদ, ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ, নগ্নবীজী উদ্ভিদ, আবৃতবীজী উদ্ভিদ।

এ রাজ্য এর কিছু বৈশিষ্ট্যসমূহ-
এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন হয়।
এরা আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৫০৫.
আদর্শ খাদ্য দুধে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. ক) ল্যাকটিক এসিড
  2. খ) কেসিন
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬টি উপাদানই থাকে।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
- দুধে ল্যাকটিক এসিড থাকে।

 সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫০৬.
মানুষের হৃদপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলে?
  1. ক) অলিন্দ
  2. খ) নিলয়
  3. গ) এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।
- হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৭.
ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে কী বলে?
  1. ফ্যাক্টর
  2. প্লাজমিড
  3. অ্যালিল
  4. লোকাস
ব্যাখ্যা
জিন (Gene):

• জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
• এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
• ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে, তাকে লোকাস (Locus) বলে।
• সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
• জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
• W.L Johannsen (গ্রিক genes=born) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
• ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়।

• অ্যালিল (Allel), অ্যালিলোমর্ফ (Allelomorph) : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়।
• প্লাজমিড: প্লাজমিড হল স্বজননক্ষম ও বহিঃ ক্রোমোসোমীয় বৃত্তকার দ্বৈত DNA অণু। প্লাজমিডকে জৈব প্রযুক্তির অন্যতম মৌলিক হাতিয়ার বলা হয়।


Image Source: https://microbenotes.com/genes-and-loci-a-complete-guide/ 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫০৮.
কোনটি বংশগতি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. প্রোটিন
  2. হরমোন
  3. ক্রোমোজোম
  4. লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোজোম-কে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কারণ এটি জিন বহন করে পিতা-মাতা থেকে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যায়। এই জিনগুলোই জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, চুলের ধরন, ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে। 

ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোজোম। 
- ক্রোমোজোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রোমোজোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোজোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৯.
যক্ষ্মার টিকা কোনটি?
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
ব্যাখ্যা
- যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) । 
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। 
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়। 
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine). 
- হাম রোগের টিকা এমএমআর। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫১০.
রাণীক্ষেত রোগ কোন প্রাণীর সাথে সম্পর্কিত?
  1. ছাগল
  2. গরু
  3. মুরগি
  4. হাঁস
  5. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রানীক্ষেত রোগ: 
- রানীক্ষেত রোগ (Ranikhet Disease) মুরগির একটি তীব্র সংক্রামক রোগ যা খুবই ছোঁয়াচে। 
- এই রোগ ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেলে প্রথম সনাক্ত হয় এবং নিউক্যাসল রোগ নামে পরিচিতি লাভ করে। 
- এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। 
- সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির তুলনায় ছানারা এই রোগে বেশি সংবেদনশীল। 
- মুরগির পাশাপাশি টার্কি, কোয়েল, কবুতর, গিনি ফাউল, কাক, তোতা প্রভৃতিও এ রোগে আক্রান্ত হয়। 
- পাখিরা সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তবে শীত ও বসন্ত ঋতুতে এ রোগের সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- রোগের সংক্রমণ সংক্রমিত পাখি এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। 
- সংক্রামিত পাখির বিষ্ঠা, লালা ইত্যাদির সংস্পর্শে বা খাদ্যের মাধ্যমে এই জীবাণু সুস্থ পাখির দেহে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। 

লক্ষণ: 
- রোগের তীব্র পর্যায়ে মোরগ/মুরগি হঠাৎ তীব্র শব্দ করে ও লাফাতে থাকে এবং অবশেষে মারা যায়। এই রোগের মৃত্যুর হার প্রায় ১০০%; 
- তীব্র সংক্রমণে মুরগির ডায়রিয়া, ক্ষুধা হ্রাস, কাশি এবং হাঁচি (নাক দিয়ে স্রাব) শুরু হয়। সংক্রামিত পাখির তন্দ্রাচ্ছন্নতার উপসর্গ দেখা যায় এবং মুখ খুলে দীর্ঘ শ্বাসগ্রহণ করে; 
- তন্দ্রা, ডানা ঝরে পড়া এবং মাঝে মাঝে সবুজাভ ডায়রিয়া দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে সদ্য ভূমিষ্ট ছানাগুলির মৃত্যুর হার প্রায় ৯০-৯৫%; 
- সংক্রমণ মৃদু হলে প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির শ্বাসকষ্ট হয়। ডিম উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে যায়, মুরগির বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। 

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ: 
- ছানা এবং প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির জন্য কঠোরভাবে টিকা সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত; 
- হাঁস-মুরগির ঘর অবশ্যই যথাযথভাবে পরিষ্কার করতে হবে; বাড়ির চত্বর, আবাসন সরঞ্জাম এবং আঙিনা যেখানে পাখি পালন করা হয় সেগুলিকে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ঘন ঘন জীবাণুমুক্ত করতে হবে; 
- চাষের এলাকায় জৈব-নিরাপত্তা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং বাজার থেকে কেনা নতুন পাখিকে সুস্থ পাখি থেকে আলাদাভাবে রাখতে হবে; 
- আক্রান্ত মৃত পাখি মাটির নিচে চাপা দেওয়া উচিত। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মনে রাখতে হবে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাই এই রোগ প্রতিরোধের জন্য যথাযথ টিকাদান অপরিহার্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫১১.
মানুষের মস্তিষ্কে কত জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে?
  1. ক) পাঁচ
  2. খ) সাত
  3. গ) বারো
  4. ঘ) একত্রিশ
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্কে বারো জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫১২.
পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ কোনটি?
  1. পুরুষাঙ্গ
  2. শুক্রাশয়
  3. এপিডিডাইমিস
  4. ক্ষেপণ নালি
ব্যাখ্যা
• পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ হলো শুক্রাশয়। 

• পুরুষ প্রজনন অঙ্গ:
- যেসব অঙ্গের সমন্বয়ে প্রধানত শুক্রাণু তৈরি, সঞ্চয় ও পরিবহন সম্পন্ন হয় সেগুলোকে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ বলা হয়।

• পুরুষ জনন অঙ্গ ২ ধরনের।
যথা-
- মুখ্য জনন অঙ্গ: পুরুষ প্রজননতন্ত্রের যে অঙ্গ শুক্রাণু উৎপন্ন করে তাকে মুখ্য জনন অঙ্গ বলা হয়। 
- আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ: যে সব অঙ্গ শুক্রাণু সঞ্চয় ও পরিবহনের কাজে নিয়োজিত সেগুলোকে আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ বলে। 

• শুক্রাশয় হচ্ছে মুখ্য জননাঙ্গ।
- এর কারণ হলো শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। 

অন্যদিকে,
•  আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ সমূহ হলো- 
- এপিডিডাইমিস,
- ভাস ডিফারেন্স (Vas deferens) বা শুক্রনালি,
- সেমিনাল ভেসিকল,
- ক্ষেপন নালি,
- ইউরেথ্রা,
- বহিঃযৌনাঙ্গ,
- জনন গ্রন্থি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৫১৩.
সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী কোনটি?
  1. ব্যাঙ
  2. বাবুই পাখি
  3. কুকুর
  4. মৌমাছি
ব্যাখ্যা

• সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হলো এমন প্রাণী যারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, নিজেদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা করে এবং দলগত কাজ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ, খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা বা শত্রু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাধারণ। উপরের উদাহরণগুলোতে ব্যাঙ মূলত একা থাকে এবং সামাজিকতা খুব কম দেখায়। বাবুই পাখি কিছুটা দলবদ্ধ হয়, কিন্তু সামাজিক আচরণ সীমিত। কুকুর মানুষের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সামাজিক আচরণ দেখায়, তবে মৌমাছি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। মৌমাছি ছত্রাকের মতো কাঠামো তৈরি, খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান পালন এবং রানী মৌমাছির নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামাজিক জীবন পরিচালনা করে। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) মৌমাছি।
 
• মৌমাছির সামাজিক আচরণ (Social Behavior of Honey Bee):
- মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। একেকটি বড় পরিবার গড়ে বা বসতবদ্ধ হয়ে মৌচাকে বাস করে।
- প্রত্যেকটি কলোনিতে মৌমাছির ৩টি সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলে।
- একটি মাত্র রাণীর নেতৃত্বে কয়েকশ ড্রোন (পুরুষ মৌমাছি) এবং ৬০-৮০ হাজার কর্মী মৌমাছি (বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি) সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
- এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মৌমাছি গোষ্ঠীর সকল মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিজগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
- মৌমাছিরা দৃঢ় সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বাস করে এবং একে সমাজবদ্ধ প্রাণীর আদর্শ উদাহরণ বলা হয়।

সুতরাং, সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হল মৌমাছি।  
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌমাছি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৫১৪.
১ কিলোক্যালরি সমান কত ক্যালরি?
  1. ১০ ক্যালরি
  2. ১০০০ ক্যালরি
  3. ১০০ ক্যালরি
  4. ১০০০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। 
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়, এই তাপ দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। 
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। 
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। 
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫১৫.
রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
লৌহ রক্তের একটি প্রধান উপাদান৷ লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করা৷ হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৬.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম থাকে কতটি? 
  1. ০২ টি
  2. ২২ টি
  3. ৪৪ টি
  4. ৪৬ টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে অটোজোমের কোনো ভূমিকা নেই। 
- অন্য এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৭.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের বিকল্প নাম কী?
  1. স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র
  2. ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  3. মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।

• মেন্ডেলের সূত্র:
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র:
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'।

• মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র:
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৮.
অণুচক্রিকা (Platelet) মূল উৎপাদন কেন্দ্র কোনটি?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. অস্থিমজ্জা 
  3. লিভার 
  4. লোমকোষ 
ব্যাখ্যা

• অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্ত জমাট বাঁধা ও ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। প্লেটলেট মূলত অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়। অস্থিমজ্জায় বিশেষ ধরণের বৃহৎ কোষ থাকে, যাকে মেগাকারিওসাইট বলা হয়। মেগাকারিওসাইটের সাইটোপ্লাজমের ক্ষুদ্র অংশগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে রক্তে প্রবেশ করলে এগুলোই প্লেটলেট হিসেবে পরিচিত হয়। সুতরাং, অণুচক্রিকার উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হলো অস্থিমজ্জা। অন্য অপশনগুলো—হৃৎপিণ্ড, লিভার বা লোমকোষ—প্লেটলেট উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। অস্থিমজ্জা ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ প্লেটলেট তৈরি করতে পারে না, তাই এটি রক্তের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ক্ষত নিরাময়ে অপরিহার্য।

- সঠিক উত্তর: খ) অস্থিমজ্জা।
 
অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৯.
'অরিজিন অব স্পিসিস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. খ) চার্লস ডিকেন্স
  3. গ) চার্লস ডারউইন
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২০.
মানুষের স্থায়ী দাঁত কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) দুই
ব্যাখ্যা
মানুষের স্থায়ী চার ধরনের দাঁত রয়েছে।

যথা-
১. কর্তন দাঁত- এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। 
২. ছেদন দাঁত- খাবার ছেঁড়া হয়।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত- এই ধরনের দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ, উভয়ের কাজ করা হয়। 
৪. পেষণ দাঁত- এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণের কাজ করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫২১.
ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে কোনটি থাকে?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) জিন
  4. ঘ) থাইমিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid।
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫২২.
শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
  2. এটি নিউক্লিয়াসহীন কোষ
  3. এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে
  4. এর গড় আয়ু ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে।
যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন।

তথ্যসুত্র- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৩.
নিচের কোনটি হৃদরোগ ?
  1. ক) প্যরালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) এনজাইনা
  4. ঘ) পারকিনসন
ব্যাখ্যা
- স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস, এপিলেপসি প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৫২৪.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় (Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২৫.
ভিটামিন-এ এর অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. রিকেটস 
  2. বেরিবেরি 
  3. স্কার্ভি 
  4. রাতকানা 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন এ: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে। 

ভিটামিন-এ এর কাজ: 
- দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
- দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
- হাঁড় এবং দাঁতের গঠন ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
- দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
- দেহে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি,গলাব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২৬.
পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন প্রতি মিনিটে কত বার?
  1. ৬৬ বার
  2. ৭২ বার
  3. ৭৮ বার
  4. ৮০ বার
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।

• রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে, তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরের ওপর দুই ধরনের পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে। যথা:

১. সিস্টোলিক চাপ বা সিস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকল সিস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে উচ্চ পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- এ চাপ ১১০-১৪০ মি.মি. পারদ (Hg).

২. ডায়াস্টোলিক চাপ বা ডায়াস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকলদ্বয় ডায়াস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে।
- ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০-৯০ মি.মি. পারদ (Hg) পর্যন্ত ওঠানামা করে।
- সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ (Hg).
- এ পরিমাপকে আদর্শ রক্তচাপ ধরা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে মানুষের রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়।
- একবার সিস্টোল এবং তার পরবর্তী ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
- পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।
- রক্তের সান্দ্রতা (viscosity), প্রান্তীয় রোধ (peripheral resistance) এবং দেহের রক্তের মোট পরিমাণের ওপর রক্তচাপ নির্ভর করে।
- রক্তচাপ মাপার জন্য Sphygmomanometer ও Stethoscope ব্যবহার করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫২৭.
গ্যামেটোজেনেসিস কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
গ্যামিটোজেনেসিস বা গ্যামিট সৃষ্টি (Gametogenesis):

- যৌন জননক্ষম মানুষের জননকোষ বা গ্যামিট সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্যামেটোজেনেসিস বলে।
- গ্রিক gamos জননকোষ এবং genesis-উৎপত্তি হওয়া এর সমন্বয়ে gametogenesis শব্দটি গঠিত।
- যৌন জননক্ষম পরিণত পুরুষের শুক্রাশয় এবং স্ত্রীর ডিম্বাশয়ের জার্মিনাল এপিথেলিয়াম কোষ থেকে গ্যামেটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
- গ্যামেটোজেনেসিস দু'প্রকার। যথা-
১) স্পার্মাটোজেনেসিস। 
২) উওজেনেসিস।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৮.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন C
  3. ভিটামিন K
  4. ভিটামিন D
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

• রক্ততঞ্চন: 
- দেহের কোথাও ক্ষত সৃষ্টির ফলে কোনো রক্তবাহিকার এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে যে জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়
   ফাইব্রিন জালক সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতস্থানে রক্তকে থকথকে পিণ্ডে পরিণত করে সে প্রক্রিয়াকে রক্তের জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় অণুচক্রিকা ও রক্তরসে উপস্থিত ১৩ ধরনের ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ফ্যাক্টর হলো-
(i) ফাইব্রিনোজেন,
(ii) প্রোথ্রম্বিন,
(iii) থ্রম্বোপ্লাস্টিন ও
(iv) Ca2+

• এর মধ্যে ২ নং ফ্যাক্টর টি হলো প্রোথ্রম্বিন। এটি প্লাজমা প্রোটিন।
-  এটি ভিটামিন K-র উপস্থিতিতে যকৃতে সংশ্লেষিত হয়। এটি রক্ত তঞ্চনের সময়ে প্রম্বিনে পরিণত হয়।
- ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল।
৫২৯.
"Survival of the fittest" ধারণাটি সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী ব্যবহার করেন?
  1. ল্যামার্ক
  2. গ্রেগর মেন্ডেল
  3. থমাস হাক্সলি
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

"Survival of the fittest" ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার, একজন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক।
- পরে চার্লস ডারউইন তার প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এই বাক্যাংশটি গ্রহণ করেন।
- অর্থাৎ, পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম জীবই টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে।

প্রাকৃতিক নির্বাচন বা যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (Natural Selection or Survival of the Fittest):
- ডারউইনের মতে জীবন ধারণের সংগ্রামে কেবল সেই জীব সাফল্য লাভ করে যাদের দেহে সংগ্রামের পক্ষে অনুকূলে এবং অধিকতর ও সঙ্গত সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজন বা প্রকরণ থাকে।
- যে সকল জীবের অভিযোজন বা প্রকরণ সংগ্রাম উত্তরণের উপযোগী নহে তারা পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে যায়।
- ডারউইন একে প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) বলে অভিহিত করেছেন।
- Herbert Spencer একে যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (survival of the fittest) হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
- ল্যামার্ক: তিনি 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' তত্ত্বের প্রবক্তা।
- গ্রেগর মেন্ডেল: তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক।
- থমাস হাক্সলি: তিনি ডারউইনের একজন শক্তিশালী সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন, কিন্তু এই শব্দটির প্রবক্তা নন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩০.
বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে কী বলে?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. রেচন
  4. কিডনী
ব্যাখ্যা

মানুষের বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩১.
শর্করার গঠন উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  2. কার্বন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান খাদ্য বা প্রধান পুষ্টি উপাদান। 
- দেহের শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদানের মধ্যে শর্করা অপরিহার্য। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন খাদ্যসমূহের বেশিরভাগই শর্করা জাতীয় খাদ্য। 
- দেহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি ও তাপশক্তির ৬০%-৭০% শক্তি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করা হয়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের মূল গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O)। 
- কার্বোহাইড্রেট অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ২ : ১ অনুপাতে অবস্থান করে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত জৈব যৌগের মধ্যে কার্বোহাইড্রেটের সংখ্যাই বেশি। 

শর্করার শ্রেণিবিভাগ: 
- গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শর্করাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এক-শর্করা (Monosaccharide): 
- Mono অর্থ এক এবং Saccharide অর্থ চিনি, এ থেকেই Mono Saccharide বা এক-শর্করার নামকরণ করা হয়েছে। এক অণুবিশিষ্ট সরল শর্করাকে এক-শর্করা বলা হয়। মনোস্যাকারাইডকে বিশ্লেষণ করলে কেবল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। 
যেমন- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 

২। দ্বি-শর্করা (Disaccharide): 
- ডাই অর্থ দুই। দুটি এক-শর্করার অণু যুক্ত হয়ে দ্বি-শর্করা তৈরি হয়। দ্বি-শর্করাকে বিশ্লেষণ করলে ২টি এক-শর্করা পাওয়া যায়। 
যেমন- সুক্রোজ, মল্টোজ ও ল্যাকটোজ। 
- এদের বিশ্লেষণ করলে ২টি করে এক-শর্করা পাওয়া যাবে। 
• সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ, 
• মল্টোজ → গ্লুকোজ + গ্লুকোজ, 
• ল্যাকটোজ → গ্লুকোজ + গ্যালাকটোজ। 

৩। বহু শর্করা (Poly Saccharide): 
- বহু শর্করাগুলো জটিল শর্করা। অনেকগুলো বা দুই এর অধিক। এক-শর্করা অণু যুক্ত হয়ে বহু শর্করা গঠিত হয়। 
যেমন- সেলুলোজ, স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন। 
- এদের ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করলে এক শর্করা পাওয়া যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩২.
প্রসূতি মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ-
  1. ২৬০০ ক্যালরি
  2. ২১০০ ক্যালরি
  3. ১৯৫০ ক্যালরি
  4. ৫০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

প্রসূতি মায়ের খাদ্য:
- প্রসব-পরবর্তী নবজাতকের দুধের চাহিদা পূরণ ও মায়ের স্বাস্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই সময় মায়ের বেশি পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন।
- প্রসূতি মাকে দৈনিক গড়ে ৬৫০ থেকে ৮৫০ মিলিলিটার দুধ উৎপাদন করতে হয়। এই দুধ উৎপাদনের জন্য মাকে অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়।
- দৈনিক প্রসূতি মায়ের মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হচ্ছে (২১০০ + ৫০০) = ২৬০০ ক্যালরি।
- দুধের প্রোটিন তৈরির জন্য মাকে দৈনিক ৭০ - ৭৫ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাদ্য, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল গ্রহণ করতে হবে।
 - ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। দুধ, কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম ও লৌহ পাওয়া যায়।
- শারীরিক সুস্থতার জন্য বেশি পরিমাণে শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে। প্রসবের পর এক মাস ফলিক এসিড খেতে হবে।
- বিশুদ্ধ পানি, দুধ ও পানি জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে হবে।
- মায়ের দুধ শিশুর আদর্শ খাদ্য। এই দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কয়টি পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই দুগ্ধ উৎপাদন ও মায়ের দুর্বলতা রোধের জন্য মাকে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
- প্রসূতি মাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। দৈনিক হালকা হাঁটা-চলা ও ঘরের হালকা কাজ করতে পারবে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৩.
অ্যামিবা কোন প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে?
  1. অরীয় প্রতিসাম্য
  2. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য​
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. প্লাজমা 
  3. লিউকোসাইট 
  4. বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা

• হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহঘটিত প্রোটিন রঞ্জক। এই প্রোটিনে আয়রন বা লোহা থাকায় এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে, যার ফলে রক্ত উজ্জ্বল লাল দেখায়।

• রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৫.
কোন রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৬.
রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যানিমিয়া
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. পলিসাইথিমিয়া
  4. থ্রম্বোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১. পলিসাইথিমিয়া: 
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া। 

২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: 
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 
- লিউকেমিয়ার বেশ কিছু ধরন রয়েছে যেগুলো অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। 

৪. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫. থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬. পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে ত্বকের নিচে রক্তপাত হয়ে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭. থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৭.
শুকানোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় কারণ-
  1. শুকানো প্রক্রিয়ায় তাপে জীবাণু মরে
  2. পচনের বিক্রিয়ার পানি লাগে
  3. শুষ্ক খাদ্যে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব কম
  4. পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
ব্যাখ্যা
• খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন কৌশল:

১। শুষ্ককরণ (Drying Process) : রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। এতে খাদ্যের উপর পানির পরিমাণ কমে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। পচনশীল জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না তাই খাদ্যবস্তু থেকে পানি শুকিয়ে নিয়ে তা সংরক্ষণ করা যায়। এতে খাদ্যের ছত্রাক, জীবাণু ও এনজাইম প্রতিহত হয় এবং কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই খাদ্য অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। ধান বা চাল, গম, ডাল ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।

২। শীতলীকরণ (Cooling Process): এ পদ্ধতিতে নিম্ন তাপমাত্রায় অণুজীবের পুনরুৎপাদন এবং বংশবিস্তার হ্রাস পায়। তাছাড়া যে সকল এনজাইম খাদ্য পচনে সাহায্য করে এদের কার্যকলাপ হ্রাস পায়, ফলে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে।

৩। ভ্যাকুয়াম প্যাকিং : বায়ুশূণ্য পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় �2O2​ পায় না। ফলে অণুজীব মারা যায় এবং খাদ্য সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে।

৪। লবণ যুক্তকরণ/কিউরিং (Curing): অসমোসিস পদ্ধতিতে লবণ মাছ, মাংস থেকে আর্দ্রতা সরিয়ে নেয়। তাছাড়া লবণ ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামক অণুজীব যা খাদ্য পচনজনিত বিষ ক্রিয়া সৃষ্টি করে এর বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করে।

৫। চিনিযুক্তকরণ : চিনির শিরাপ বা কেলাস আকারে ফল সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে খাদ্য কেলাসন না হওয়া পর্যন্ত চিনিতে রান্না করা হয়। প্রক্রিয়াকৃত খাদ্য শুষ্ক অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। যেমন- লাউ, কুমড়ো এদের মোরোব্বা এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।

৬। পিকলিং (Pickling): এটি হচ্ছে খাদ্যকে কোনো Anti-microbial তরলে সংরক্ষণ করা। এতে খাদ্যকে কোনো তরলে ডুবিয়ে রাখা হয় যাতে ব্যাকটেরিয়া এবং অণুজীব ধ্বংস হয়। সাধারণত অ্যালকোহল, সরিষার তেল, ব্রাইন (NaCl এর গাঢ় জলীয় দ্রবণ) এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

৭। লাইযুক্তকরণ (Liquidation): লাই দ্রবণ হিসেবে NaOH বা KOH বা 3Na2​CO3​ এর দ্রবণ ব্যবহৃত হয়। এ দ্রবণ খাদ্যকে এতে বেশি ক্ষারীয় করে যে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না। তাছাড়া লাই দ্রবণ চর্বিকে সাবানায়ন করে। এতে খাদ্যের গঠন এবং স্বাদ পরিবর্তন হয়।

৮। জেলিকরণ (Jelly): খাদ্যকে এমন একটি পদার্থের সাথে রান্না করা হয় যা শীতল করলে কঠিন জেল এ পরিণত হয়। এক্ষেত্রে পানির পরিমাণ কমে খাদ্য সংরক্ষিত হয়।

৯। Smoking বা ধুমায়িতকরণ: খাদ্যদ্রব্যকে কাঠ পুড়িয়ে ধোঁয়া তৈরি করে সে ধোঁয়াতে উন্মুক্ত করে সংরক্ষণ করা হয়। এতে খাদ্যের সেলফ লাইফ বাড়ে বা অনেকদিন টাটকা থাকে।

১০। তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays): গামা রশ্মি, UV রশ্মি, IR রশ্মি প্রয়োগ করে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। এর সাহায্যে অণু জীব বিনষ্ট করা হয়। অনুজীব বংশবিস্তার করতে পারে না।
৫৩৮.
কোনটি প্রাণী বৈচিত্র্যের প্রকারভেদ নয়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. আকৃতি বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথষ্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৯.
Platelet বা অণুচক্রিকা প্রধানত কোথায় তৈরি হয়?
  1. যকৃত
  2. প্লাজমায়
  3. হৃদপিণ্ড
  4. অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

◉ অণুচক্রিকা (Platelet) হলো রক্তের একটি ক্ষুদ্রকণিকা, যা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে (Blood clotting) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অস্থিমজ্জায় (Bone marrow) তৈরি হয়।

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪০.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৩৯০.১৫ কেলভিন
  2. ৩১০.১৫ কেলভিন
  3. ৩৭৭.০৪ কেলভিন
  4. ২৯৮.৩২ কেলভিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের তাপমাত্রা:
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
- কেলভিন স্কেলে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩১০.১৫ কেলভিন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৪১.
হিউম্যান প্যাপিলোমা একটি -
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হিউম্যান প্যাপিলোমা (Human papilloma-HPV):
- হিউম্যান প্যাপিলোমা একধরনের ভাইরাস।
- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস Papovaviridae ফ্যামেলি অন্তর্গত ভাইরাসগুলোর একটি উপগোষ্ঠী যা মানুষকে সংক্রামিত করে।
- এর ফলে আঁচিল এবং টিউমারের পাশাপাশি যৌনাঙ্গের ক্যান্সার হয়।
- বিশেষ করে মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৫৪২.
বিখ্যাত ‘আইরিশ দুর্ভিক্ষ’-এর কারণ কী?
  1. ভাইরাস আক্রমণ
  2. শৈবাল আক্রমণ
  3. ছত্রাক আক্রমণ
  4. ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ
ব্যাখ্যা

আইরিশ দুর্ভিক্ষ:
- বিখ্যাত ‘আইরিশ দুর্ভিক্ষ’-এর কারণ ছত্রাক আক্রমণ।

⇒ আয়ারল্যান্ডের ঠান্ডা কিন্তু তুষারমুক্ত পরিবেশ ছিল আলু চাষের জন্য অনুকূল।
- এর স্বাদ অল্প সময়ে এতোটাই জনপ্রিয়তা পায় যে শস্যের পর আলুই আইরিশদের বিকল্প প্রধান খাবার হয়ে ওঠে।
- আয়ারল্যান্ডে আলু প্রবেশের পরপরই ১৫৯০ থেকে ১৮৪৫ সালের মধ্যে তাদের জনসংখ্যা ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৮০ লাখে দাঁড়ায়।

⇒ ১৮৪৫ থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সংঘটিত হয় একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
- এই সময়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা যায় এবং প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
- এই দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল আলু ফসলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের সংক্রমণ, যা আলু ফসলকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দেয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.

৫৪৩.
কোনটি দেহকোষ নয়?
  1. স্নায়ুকোষ
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শুক্রাণু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দেহকোষ (Somatic cell):
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে।
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে।
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়।
উদাহরণ: স্নায়ুকোষ, রক্ত, রক্তকণিকাসমূহ, ফুসফুস, হৃদপিন্ড,অস্থিকোষ ইত্যাদি।

• জননকোষ (Gametic cell):
- যৌন প্রজনন ও জনঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়।
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়।
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে।
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে।
উদাহরণ: শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
৫৪৪.
বাংলাদেশের একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম -
  1. রাজ কাঁকড়া
  2. গন্ডার
  3. পিপীলিকাভুক ম্যানিস
  4. স্লো লোরিস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৫.
কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারোক্সিসোম
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে 'রাইবোসোম' পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না। 
 
• রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই। 
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে। 
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়। 
 
• ক্লোরোপ্লাস্ট:  
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন): 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু। 

• মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 

• পারোক্সিসোম: 
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়। 
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার। 
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে। 
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। 
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৬.
Platyhelminthes পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একস্তরী, সিলোমযুক্ত, অসীম
  2. ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
  3. দ্বিস্তরী, কুণ্ডলীযুক্ত, অপ্রতিসম 
  4. ত্রিস্তরী, গোলাকৃতি, উভয়লিঙ্গিক
ব্যাখ্যা

- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), অর্থাৎ এদের দেহে তিনটি ভ্রূণীয় কোষস্তর (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) থাকে। এদের দেহ উপর-নিচে চ্যাপ্টা, পাতা বা ফিতার মতো হয়, যে কারণে এদেরকে চ্যাপ্টা কৃমি (flatworm) বলা হয়। এরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম (Bilaterally symmetrical), যার অর্থ হলো এদের দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর শুধুমাত্র একটি তলে দুটি সমান ও অভিন্ন অংশে ভাগ করা যায়। 

Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন। এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৫৪৭.
মানবদেহে ফুসফুস থেকে ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে কোন রক্ত কণিকা?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্ত কণিকা কোষগুলো ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃদযন্ত্র, ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

মানব দেহের রক্তের কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা:
 - তিন প্রকারের রক্ত কণিকা (যেমন- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা) তথা রক্ত কোষ প্রাণী দেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে।
- ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা কোষগুলো ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃদযন্ত্র, ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা জীবাণু ধ্বংস করে আত্মরক্ষায় অংশ নেয়, রোগ প্রতিরোধ করে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ গঠনেও অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা কোষগুলো রক্ততঞ্চন অথবা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৮.
জারক রস বলতে কি বুঝায়?
  1. অম্ল
  2. প্রোটিন
  3. অনুঘটক
  4. নিউক্লীয় প্রোটিন
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়:
- এটি ২০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৫ সেন্টিমিটার চওড়া একটি মিশ্র গ্রন্থি যা পাকস্থলীর নিচে উদর গহ্বরের ডিওডেনামের ফাঁকা থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এতে এক্সোক্রেইন ও এন্ডোক্রেইন নামক দুটি অংশ আছে।
- অগ্ন্যাশয় রস বর্ণহীন, ক্ষারধর্মী ও পরিষ্কার জলীয় দ্রবণ।

কাজ-
ক) অগ্নাশয় থেকে নিঃসৃত খাদ্য পরিপাককারী জারক রস, যেমন- ট্রিপসিন প্রোটিনকে, অ্যামাইলোপসিন কার্বোহাইড্রেটকে এবং লাইপেজ চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাক করে ।
খ) অগ্নাশয় থেকে ক্ষরিত ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
গ) ট্রিপসিন, লাইপেজ ইত্যাদি জারক রস প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৯.
হৃদপিণ্ড থেকে ফুস্ফুসে রক্ত সরবরাহ করে কোন রক্তনালী?
  1. হেপাটিক শিরা
  2. কার্ডিয়াক ধমনী
  3. পালমোনারি শিরা
  4. পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
• যেসব নালীর মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে সারাদেহে বা সারাদেহ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ড তে সঞ্চালিত হয় সেগুলো কে বলা হয় রক্তনালী। 

• পালমোনারি ধমনী (Pulmonary Artery) হল সেই রক্তনালী, যা হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় (right ventricle) থেকে ফুসফুসে (lungs) রক্ত বহন করে।

- এ ধমনী শরীরের একমাত্র ধমনী, যা অক্সিজেনবিহীন (deoxygenated) রক্ত বহন করে।
-  অধিকাংশ ধমনী অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে, কিন্তু পালমোনারি ধমনী ব্যতিক্রম—এটি অক্সিজেনবিহীন রক্তকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। 

- পরবর্তীতে ফুস্ফুস থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পালমোনারি শিরার মাধ্যমে আবার হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দ বা আট্রিয়ামে ফিরে আসে। পালমোনারি শিরা আবার দেহের একমাত্র শিরা যা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বহন করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
-জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Gray's Anatomy – The Anatomical Basis of Clinical Practice.
৫৫০.
প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীরে কোন ধরনের আবরণী টিস্যু দেখা যায়?
  1. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
  2. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু
  3. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।
• কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
• কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
• কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।
• কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ। 



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৫১.
জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয় কোন পদ্ধতিতে?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) এমাইটোসিস
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।

৫৫২.
HIV ভাইরাস মূলত কোন কোষ ধ্বংস করে? 
  1. প্লেটলেট
  2. নিউরন
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. T4 লিম্ফোসাইট ও ম্যাক্রোফেজ
ব্যাখ্যা

এইডস: 
- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যেমন-
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ,
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার,
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ,
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু,
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা,
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৩.
ডোপামিন উৎপাদনকারী মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হলে কোন রোগের সৃষ্টি হয়?
  1. কোয়াশিওরকর
  2. এপিলেপ্‌সি
  3. পারকিন্‌সন
  4. পক্ষাঘাত
ব্যাখ্যা

• ডোপামিন উৎপাদনকারী মস্তিষ্কের কোষ যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এটি পারকিনসনের রোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা মস্তিষ্কের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে সংকেত পাঠায়। যখন এই কোষগুলি ধ্বংস হয়, তখন মস্তিষ্ক সঠিকভাবে নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে শারীরিক নড়াচড়ায় ধীরতা, হাত কাঁপা, শরীরের জোরালো অচলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দেয়। পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিকভাবে হাত বা পায়ে ছোট কাঁপানি বা স্থিরতার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। সময়ে সময়ে রোগটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মও কঠিন হয়ে যায়। সঠিক চিকিৎসা এবং থেরাপির মাধ্যমে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

- সঠিক উত্তর: গ) পারকিনসন।

• পারকিন্‌সন রোগ:
- এ রোগ মস্তিষ্কে এমন এক অবস্থা যাতে হাতে ও পায়ের কাঁপুনী হয় এবং আক্রান্ত রোগী নড়াচড়া, হাঁটাহাটি করতে অপারগ হয়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পক্ষাঘাত:
- শরীরের কোনো অংশের মাংস পেশির কার্য ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে পক্ষাঘাত বলে।
- সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
- আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হতে পারে, যাতে শরীরের এক পাশের কোনো অঙ্গ বা উভয় পাশের অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন- দু'হাত ও পায়ের পক্ষাঘাত।

• এপিলেপ্‌সি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ। এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়। অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোনো কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে ৫ থেকে ২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

• কোয়াশিওরকর:
- প্রোটিন বা আমিষের অভাবে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
- কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৪.
হরমোন ডোপামিন এর কাজ কি?
  1. মস্তিষ্কের ভারসাম্য ঠিক রাখা
  2. ফুস্ফুসের রক্তের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা
  3. পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫৫৫.
ডিএনএ কাটার জন্য এনজাইম কোনটি?
  1. পলিমারেজ
  2. লেকটেজ
  3. নিউক্লিয়েজ
  4. রেস্ট্রিকশন
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ: 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো - 
(ক) প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ, 
(খ) বাহক নির্বাচন, 
(গ) প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন, 
(ঘ) ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং 
(ঙ) পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন। 

প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন: 
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়। 
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। 
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়। 
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে। 
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে। 
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
নিচের কোনটি বৃক্কের বাইরের আবরণ হিসেবে থাকে?
  1. প্লুরা
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. মেনিনজিস
ব্যাখ্যা

বৃক্কের গঠন:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল।
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে।
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে

অন্যদিকে,
- প্লুরা: ফুসফুস আবৃতকারী ঝিল্লী।
- পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ড আবৃতকারী ঝিল্লী।
- মেনিনজিস: মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে আবৃত করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৭.
Adult Cell ক্লোন করে ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্ম নেয়া প্রথম ঘোড়ার নাম-
  1. ক) ডলি
  2. খ) সিসি
  3. গ) টেট্রা
  4. ঘ) প্রমিথিয়া
ব্যাখ্যা
The foal, called Prometea, was created in the lab by fusing an adult skin cell and an empty egg from a female horse, then returning the resulting embryo to the female's womb after a few days. She is perfectly healthy and genetically identical to her mother, says team leader Cesare Galli of the Laboratory of Reproductive Technologies in Cremona, Italy. সূত্রঃ nature.com
৫৫৮.
গর্ভবতী মায়ের রক্ত স্বল্পতাকালীন সময় কোন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়? 
  1. জিঙ্ক
  2. ভিটামিন
  3. আয়োডিন
  4. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতায় আমাদের দেশে বহু নারীর মৃত্যু হয়। 
- গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে মা ও শিশু উভয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 
- তাই গর্ভকালীন সমস্যা বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যাই পারে মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে। 

রক্ত স্বল্পতা: 
- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে। 
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৯.
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বকে কোন ধরনের আবরণী টিস্যু বিদ্যমান?
  1. ক) সাধারণ আবরণী টিস্যু
  2. খ) স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু
  3. গ) সিউডো-স্ট্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু
  4. ঘ) গ্রন্থি আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বকে স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু বিদ্যমান। 

স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু- ভিত্তিপর্দার উপর কোষগুলো একাধিক স্তরে সজ্জিত। এই ধরনের আবরণী টিস্যুও আছে, যার স্তরের সংখ্যা মিনিটের মধ্যে পাল্টে যায়। কখনো কখনো তিনটি-চারটি আবার কখনো সাত-আটটি, তাই একে Transitional Epithelial Tissue বলা হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫৬০.
পেপসিন কোন ধরনের খাদ্য পদার্থ ভেঙে পরিপাক করে? 
  1. আমিষ 
  2. শর্করা 
  3. স্নেহ 
  4. মিনারেল 
ব্যাখ্যা

পেপসিন (Pepsin): 
- পেপসিন এক ধরনের এনজাইম, যা আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দিয়ে তৈরি যৌগ গঠন করে, যা পলিপেপটাইড নামে পরিচিত।
• আমিষ → পলিপেপটাইড
- শর্করা এবং স্নেহজাতীয় খাদ্য সাধারণত পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না, কারণ এদের পরিপাকের জন্য গ্যাস্ট্রিক রসে নির্দিষ্ট কোনো এনজাইম থাকে না। 
- পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানো মাত্র উপরোক্ত রসগুলো নিঃসৃত হয়। 
- পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসারণ এবং এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে খাদ্য মিশ্র মণ্ডে পরিণত হয়, একে পাকমণ্ড বা কাইম (chyme) বলে। 
- এই মণ্ড অনেকটা স্যুপের মতো এবং কপাটিকা ভেদ করে ক্ষুদ্রান্দ্রে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬১.
শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে কী ঘটে?
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পারপুরা
ব্যাখ্যা
লিউকেমিয়া
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা:


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান।
৫৬২.
মানুষের চোয়ালে কয় ধরনের স্থায়ী দাঁত থাকে?
  1. ১৬
ব্যাখ্যা
• মানুষের চোয়ালে ৪ ধরনের স্থায়ী দাঁত থাকে। 

• দাঁত:
- মানবদেহে সবচেয়ে শক্ত অংশ দাঁত।

• প্রাপ্ত বয়সে মুখগহ্বরে উপরে ও নিচের চোয়ালে সাধারণত ১৬ টি করে মোট ৩২ টি দাঁত থাকে।
• মানবদেহে দাঁত দুইবার গজায়। প্রথমবার শিশুকালে দুধদাঁত, দুধদাঁত পড়ে গিয়ে ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার স্থায়ী দাঁত গজায়।

মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। সেগুলো হলো:
(i) কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়।
(ii) ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়।
(iii) অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়।
(iv) পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়।

• মানুষের দন্তসংকেত হলো:  ICPM/ ICPM = (৮ × ২) / (৮ × ২) = ১৬ + ১৬ = ৩২

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫৬৩.
একজন ব্যক্তির ওজন ৬০ কেজি এবং উচ্চতা ১.৬ মিটার। তার BMI কত?
  1. ২১.৩
  2. ২২.৭
  3. ২৩.৫
  4. ২৪.২
ব্যাখ্যা
BMI:
- BMI এর পূর্ণরূপ হলো Body Mass Index.
- BMI মূলত একটি পরিমাপ যাতে একজন মানুষের ওজন ও উচ্চতার সমন্বয়ে মানুষটির শরীরের চর্বির পরিমাণের উপরে একটা ধারণা করা।
- অধিক বিএমআই হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটা মানুষের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি আর Body Mass Index কম হলে দেখা যায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে চর্বিও ওই মানুষের মাঝে নেই। 

BMI= ওজন (কিলোগ্রাম) / উচ্চত্ব (মিটার)²
= ৬০ কেজি / (১.৬)²
=  ২৩.৪৩৭৫
৫৬৪.
কোন শ্বেত রক্তকণিকায় হেপারিন থাকে?
  1. লিম্ফোসাইট
  2. নিউট্রিফিল
  3. বেসোফিল
  4. ইউসিনোফিল
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা (Leucocytes): 
- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes. 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে। 
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে। 
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১। 
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়। 
- সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১। দানাদার শ্বেত কণিকা (Granulocyte): 
- নিউক্লিয়াসের বৈশিষ্ট্য, গঠন ও রঞ্জকধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দানাদার শ্বেত কণিকাসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) নিউট্রোফিল (Neutrophil): 
- কোষের দানাগুলো সূক্ষ্ম ও বেগুনি রঙের। কোষসমূহ আকারে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র। 
- পরিণত কোষে নিউক্লিয়াস ২-৭ টি ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। 

খ) ইওসিনোফিল (Eosinophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাধারণত নিউক্লিয়াস ২ খণ্ডে বিভক্ত, সাইটোপ্লাজমে অপেক্ষাকৃত বড় দানা থাকে। 

গ) বেসোফিল (Basophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাইটোপ্লাজমের দানাগুলো ক্ষারধর্মী রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় এবং স্থূল ধরনের। 
- বেসোফিল হেপারিন উপাদান ধারণ করে। 

২। অদানাদার শ্বেতকণিকা (Agranulocyte): 
- আকার ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে অদানাদার শ্বেত কণিকাকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) মনোসাইট: 
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন। 
- কোষগুলো মোটামুটি গোলাকার। 
- আকৃতিতে সর্ববৃহৎ। 

খ) লিম্ফোসাইট: 
- লিম্ফোসাইটের সাইটোপ্লাজমে কোনো দানা থাকে না। 
- লিম্ফোসাইট আবার দুই প্রকার। 
• বড় লিম্ফোসাইট এবং 
• ছোট লিম্ফোসাইট। 

শ্বেত কণিকার কাজ: 
- শ্বেত কণিকা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। 
যথা: 
১। ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। 
২। লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে। 
৩। বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে। 
৪। এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে। 
৫। হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৫৬৫.
নিচের কোনটি উভচর প্রাণী?
  1. সিলাকান্থ
  2. কড়িকাইট্টা
  3. কুকা
  4. আসমতিব্যাঙ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সিলাকান্থ, অস্ট্রেলিয়ান কিংবা আফ্রিকান লাংফিশ এসবই Sarcopterygii শ্রেণিভুক্ত প্রাণী।
- কড়িকাইট্টা, টিকটিকি, ঘড়িয়াল, সাপ ইত্যাদি হলো সরীসৃপ প্রাণী।
- তিতির, দোয়েল, কুকা ইত্যাদি হলো Aves শ্রেণিভুক্ত তথা পাখি।
- স্যালামান্ডার, সোনাব্যাঙ, আসমতিব্যাঙ, গেছোব্যাঙ ইত্যাদি হলো Amphibian অর্থাৎ উভচর।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৬৬.
মানবদেহে কোন ধরনের শর্করা সরাসরি শোষিত হয়?
  1. সরল শর্করা
  2. দ্বি-শর্করা
  3. বহু শর্করা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

শর্করা বা শ্বেতসার: 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 

উৎস: 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে।
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র। গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- নিম্নের সারণিতে তিন ধরনের শর্করার গঠন ও উৎস দেখানো হলো- 

- সাধারণতঃ চাল, গম, আলু থেকে শর্করা বা শ্বেতসার বেশি পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না বলে চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়, কারণ মানবদেহে শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৭.
ঐচ্ছিক পেশির অভ্যন্তরে কোন দুটি প্রোটিন মায়োফাইব্রিল গঠন করে? 
  1. গ্লুকোজ ও ইনসুলিন
  2. হিমোগ্লোবিন ও ফাইব্রিন
  3. কোলাজেন ও ক্যারাটিন
  4. অ্যাকটিন ও মায়োসিন
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা, দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৮.
মানব দেহের দীর্ঘতম কোষ কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. শুক্রাণু
  4. লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
• নিউরন:
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হলো মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, আর অসংখ্য নিউরন নিয়ে গঠিত হয়েছে মস্তিষ্ক।
- প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে তন্ত্রকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
- মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হলো নিউরন যা প্রায় 1.37 মিটার লম্বা।
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত- কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।
- প্রলম্বিত অংশ দুই ধরনের: (i) ডেনড্রন (ii)অ্যাক্সন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫৬৯.
Spinal Nerve কয়টি?
  1. ২৯ টি
  2. ২৯ জোড়া
  3. ৩১ টি
  4. ৩১ জোড়া
ব্যাখ্যা
• স্নায়ুতন্ত্র:
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মস্তিষ্কের গড় ওজন - ১.৩৬ কেজি।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭০.
নিচের কোনটি এককোষী?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) অ্যাগারিকাস
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) মস
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭১.
নিচের কোনটি পিত্তরস তৈরি করে?
  1. বৃক্ক
  2. কিডনি
  3. যকৃত
  4. মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃত অবস্থিত। 
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খন্ডটি বাম খন্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খন্ড নিয়ে যকৃত পঠিত। 
- প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। 
- প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে। এখানে পিত্তরস জমা হয়। 
- পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্তস্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। 
- এটি যকৃত-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- পিত্তরসের মধ্যে পানি, পিত্ত লবণ, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ প্রধান। এই রস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- প্রয়োজনে ডিওডেনামে এসে পরোক্ষভাবে পরিপাকে অংশ নেয়। 
- পিত্তরসে কোনো উৎসেচক বা এনজাইম থাকে না। 
- যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে। 
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। 
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড যকৃতে আসার পর বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অ্যামোনিয়ারূপে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫৭২.
ইনসুলিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অ্যান্টিবডি
  2. ভিটামিন
  3. এনজাইম
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন এক ধরনের হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় (ডায়াবেটিস) রোগ হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৩.
মায়োফাইব্রিল কোন ধরনের কোষে দেখা যায়?
  1. ক) স্নায়ু টিস্যু
  2. খ) পেশি টিস্যু
  3. গ) তন্তুজ যোজক টিস্যু
  4. ঘ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু:
- ভ্রণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় পেশি টিস্যু।
-এরা সংকোচন এবং প্রসারণশীল টিস্যু।
- এদের মাতৃকা প্রায় অনুপস্থিত।
- পেশি কোষগুলো সরু, লম্বা ও তন্তুময়। তন্তুগুলো মাকু আকৃতির।
- এ ধরনের তন্তুকে মায়োফাইব্রিলও বলা হয়।
- পেশি কোষের  সাইটোপ্লাজমে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
- এদের কোষ পর্দাকে সারকোলেমা বলা হয়।
- আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত মায়োফাইব্রিলকে বলা হয় ডোরাকাটা পেশি এবং ডোরাবিহীন মায়োফাইব্রিলকে বলা হয় মসৃণ পেশি।

কাজ:
- পেশি কোষ সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে অঙ্গ সঞ্চালন, চলন ও অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৫৭৪.
'বৃক্ক' মানবদেহের কোন তন্ত্রের একটি অঙ্গ?
  1. জননতন্ত্র
  2. পরিপাক তন্ত্র
  3. রেচনতন্ত্র
  4. স্নায়ুতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মানুষের রেচন প্রক্রিয়া: 

- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। 
- দেহের এ সকল বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোন কারণে জমতে থাকলে নানা রকমের অসুখ দেখা দেয়, পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- রেচন প্রক্রিয়ায় দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়ে দেহ থেকে বের করে দিয়ে দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জৈব পদার্থগুলো সাধারণত রেচনের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। 
- রেচন পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য মানবদেহে সুনির্দিষ্ট অঙ্গ রয়েছে। 
- যে সব অঙ্গ রেচন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাদেরকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। এটি রেচনতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়। বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 
- মানবদেহের রেচনতন্ত্রের একটি অঙ্গ হলো- বৃক্ক বা Kidney.  
- আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। 

ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ

রেচন পদার্থ:  
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়। 
- রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। 
- যেমন: নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, পিত্ত রঞ্জক, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ঘাম ও পানি বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৫.
বিএমআর এর মান নির্ভর করে-
  1. বয়সের উপর
  2. লিঙ্গের উপর
  3. শরীরের গঠনের উপর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিএমআর ও ব্যয়িত শক্তির সম্পর্ক: 
- বিএমআর (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- বিএমআর মান বয়স, লিঙ্গ, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের গঠনের উপর নির্ভরশীল। 
- দৈনিক খাদ্য চাহিদার সাথে বিএমআর এর মান নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়। 
- বিএমআর শরীরে ৬০-৭৫ ভাগ শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, শরীর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মাত্র ১০-২০ শতাংশ ও শ্রমের মাধ্যমে ২০-৩০ শতাংশ শক্তি পেয়ে থাকে। 
- মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিএমআর এর মান কমতে থাকে, আবার অনেকেই শুকনো থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। এতে বিএমআর মান আরও কমে যায়, ফলে আর শুকানো যায় না। তাই খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ না কমিয়ে যদি প্রতিদিন পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম করা হয় তাতে বিএমআর মান বেড়ে যাবে এবং স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে শরীরকে সুস্থ সবল রাখা যাবে। 
- বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়: বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)  । 

মান নির্দেশিকা: 
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান। 
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার। 
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৬.
RNA ভাইরাসঘটিত রোগ নয় কোনটি?
  1. মাম্পস
  2. পীতজ্বর
  3. রুবেলা
  4. প্যাপিলোমা
ব্যাখ্যা
RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (মানব), পোলিও (মানব), রুবেলা (মানব), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), মাম্পস (মানব), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17 কলিফাজ ইত্যাদি।  

DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- হার্পিস সিমপ্লেক্স (মানব), Tipula irridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), ভেরিওলা (মানব), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic ও Adenoassociaed ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।
৫৭৭.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থকে কী বলে?
  1. প্রাণরস
  2. এনজাইম
  3. হরমোন
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
♦ 'গ্রন্থি': যে সমস্ত অঙ্গসমূহ এক বা একাধিক রাসায়নিক যৌগ উৎপাদন এবং ক্ষরণের কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে 'গ্রন্থি' বলে । 
- মানবদেহে দুই ধরনের গ্রন্থি রয়েছে- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি - হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয় , টেস্টিস, ওভারী, প্লাসেন্টা।
২. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি – ঘর্মগ্রন্থি , ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, স্তন গ্রন্থি, সেরোমিনাস গ্রন্থি, সেবাসিয়াস গ্রন্থি , মেবোমিয়ান গ্রন্থি , যকৃত এবং মিউকাস ।

• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি : প্রাণীদেহের নালীবিহীন গ্রন্থিসমূহ হতে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়ে রক্ত দ্বারাই দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবাহিত হয়। এ সকল গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।
• এই রস নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
• উদাহরণস্বরূপ-থাইরয়েড নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন 'থাইরক্সিন' প্রাণীর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত করে।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য:

• কোন নালীপথ নেই। রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ক্রিয়াশীল অঙ্গে পৌঁছায়।
• ক্ষরিত পদার্থ হরমোন বা প্রাণরস নামে পরিচিত।
• এ সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস দূরবর্তী নির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৫৭৮.
রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে -
  1. অণুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. প্লাটিলেট
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট: 

• মানুষের রক্ত কণিকা ৩ ধরনের। যথা: ১. লোহিত রক্ত কণিকা; ২. শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩. অণুচক্রিকা। 
• অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট বা থ্রম্বোসাইট হলো নিউক্লিয়াসবিহীন।
• এটি গোলাকার বা ডিম্বাকার বা রড আকৃতির হয়ে থাকে। 
• এর ব্যাস দুই থেকে তিন মাইক্রোমিটার এবং আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ১০ দিন।
• পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়।
• এটি লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট।
• অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।
• ‘ভিটামিন কে’ রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
• রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি। 
৫৭৯.
নিচের কোন প্রাণীটি প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্বের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানুষ
  2. মশা
  3. জেলিফিশ
  4. গোলকৃমি
ব্যাখ্যা

আর্থ্রোপোডা হলো প্রাণিজগতের বৃহত্তম প্রাণী। এরা সন্ধিপদী প্রাণী। মশা, মাছি, কাঁকড়া, মাকড়সা, পিঁপড়া, চিংড়ি ইত্যাদি এ পর্বের অন্তর্গত।
মলাস্কা হলো প্রাণিজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাণী। শামউক, ঝিনুক ইত্যাদি এ পর্বভুক্ত প্রাণী।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৫৮০.
খাদ্য শৃঙ্খলের উদাহরণ হিসেবে কোনটি সঠিক? 
  1. পাখি → পশু → সাপ → ঘাস
  2. পতঙ্গ → মাটির নিচে প্রাণী → ঈগল
  3. মাছ → পাখি → উদ্ভিদ → ব্যাঙ → সাপ
  4. ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
ব্যাখ্যা
খাদ্য শৃঙ্খল: 
- এ পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস সূর্যের আলো। 
- বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক হচ্ছে সবুজ উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক স্তরের খাদক খাদ্যের জন্য উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক নির্ভরশীল প্রাথমিক স্তরের খাদকের উপর। তৃতীয় স্তরের খাদক খায় দ্বিতীয় স্তরের খাদকদেরকে। এভাবে একটি বাস্তুতন্ত্রে সকল জীব (উদ্ভিদ ও প্রাণী) পুষ্টি চাহিদার দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে সংযুক্ত থাকে আর এভাবে গড়ে উঠে খাদ্যশৃঙ্খল। 
অর্থাৎ, উদ্ভিদ উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে একে অন্যকে খাওয়ার মাধ্যমে শক্তির যে স্থানান্তর ঘটে, তাই খাদ্যশৃঙ্খল। 
যেমন: ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল। 

খাদ্যজাল: 
- বাস্তুতন্ত্রে অসংখ্য খাদ্যশৃঙ্খল থাকে। 
- এসব খাদ্যশৃঙ্খল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। খাদ্যশৃঙ্খলের এ ধরনের সংযুক্তিকে খাদ্যজাল বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
ক) অপশনের শৃঙ্খলটি সঠিক নয় কারণ এখানে পাখি, পশু, সাপ এবং ঘাসের মধ্যে খাদ্য শৃঙ্খল সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি। ঘাস একটি উৎপাদক হিসেবে শুরু হওয়া উচিত ছিল, এবং পশু ও পাখি সাধারণত শিকারি বা ভোক্তা প্রাণী হিসেবে কাজ করে। 
খ) অপশনের শৃঙ্খলেও একটি সঠিক খাদ্য শৃঙ্খল নেই, কারণ মাটির নিচে প্রাণী (যেমন শুঁটকি বা মাটির প্রাণী) পাখির খাদ্য হতে পারে, তবে এখানে উৎপাদক এবং অন্য স্তরের ভোক্তাদের সম্পর্ক সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। 
গ) অপশনের শৃঙ্খলটি সঠিক নয়, কারণ এখানে মাছ, পাখি, উদ্ভিদ, ব্যাঙ, এবং সাপের মধ্যে খাবারের চেইন ঠিকভাবে সাজানো হয়নি। উদ্ভিদ (যেমন ঘাস) সাধারণত খাদ্য শৃঙ্খলের প্রথম স্তরে থাকবে, তারপর ভোক্তা প্রাণীরা আসবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৮১.
কোনটি কে 'Biological Coin' বলা হয়?
  1. ক) GTP
  2. খ) NADP
  3. গ) ATP
  4. ঘ) FTP
ব্যাখ্যা
আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়। শক্তির প্রয়ােজন হলে তা আবার ভাঙে। তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে। এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়ােজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। এজন্য ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা’ (Biological coin or energy coin) বলা হয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮২.
কোনটির অভাবজনিত কারণে গলগন্ড রোগ হয়?
  1. ভিটামিন ডি
  2. ক্যালসিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
গলগন্ড রোগ:
- গলগন্ড রোগ আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হয়।
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং তা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, এর ফলে গলগন্ড সৃষ্টি হয়।
- সাধারণত, যে এলাকাগুলির মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম, সেসব এলাকায় এই রোগ বেশি দেখা যায়।
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলার অংশে স্ফীতি সৃষ্টি হয়, এটি সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।
- গলগন্ডের লক্ষণ হিসেবে আলসেমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য না করতে পারা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়।
- এই রোগ প্রতিরোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং খাবারে আয়োডিন মেশানোর মাধ্যমে গলগন্ডের বিস্তার রোধ করা যেতে পারে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৮৩.
জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. ক) তেলাপোকা
  2. খ) স্নো লোরিস
  3. গ) প্লাটিপাস
  4. ঘ) ম্যানিস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম।
৫৮৪.
নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়-
  1. ধমনীর ভেতর দিয়ে
  2. শিরার ভেতর দিয়ে
  3. স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
  4. ল্যাকটিয়ালের ভেতর দিয়ে
ব্যাখ্যা
- নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয় ধমনির ভেতর দিয়ে। 

ধমনি: 
- হৃদপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়েছে যে সকল রক্তবাহী নালী দেহের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে তাদের ধমনি বলে। 
- ধমনির ভিতর দিয়ে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত দ্রুতগতিতে দেহের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয় বলে এতে নাড়ীর স্পন্দন আছে। 
- যেসকল রক্তবাহী নালী দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃদপিন্ডে রক্ত পরিবহন করে তাকে শিরা বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৫.
থ্যালাসেমিয়া রোগে হিমোগ্লোবিন অস্বাভাবিক হওয়ার ফলে কী ঘটে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায়
  2. লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়
  3. রক্তে প্লেটলেট বৃদ্ধি পায়
  4.  লোহিত রক্তকণিকার আকার পরিবর্তিত হয় না
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। 
- যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। এ রোগে আয়রন বা লৌহযুক্ত খাবার খেয়ে বেশি উপকার হয় না বরং রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। 
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও অন্যান্য চিকিৎসা করালেও অনেক রোগী অল্প বয়সে মারা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৬.
পেনিসিলিয়াম হচ্ছে -
  1. ক) এক ধরনের এন্টিবায়োটিক
  2. খ) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) এক ধরনের ছত্রাক
  4. ঘ) এক ধরনের শৈবাল
ব্যাখ্যা
- পেনিসিলিন এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক যা পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয়।
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
- ১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী চেইন ও ফ্লোরি এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১৯৪০ সালের শুরুতেই বিশুদ্ধ পেনিসিলিন উৎপাদনে সক্ষম হন এবং পেনিসিলিনের বানিজ্যিক উৎপাদনেও অবদান রাখেন।
- বিজ্ঞানী ফ্লেমিং, চেইন ও ফ্লোরিকে এজন্য ১৯৪৫ সালে শারীরিবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫৮৭.
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. বেলে মাছ
  2. পালং শাক
  3. খাশির মাংস
  4. মুরগির মাংস
ব্যাখ্যা
- 'রেড মিট' বলতে গরু বা খাসির মাংসকে বুঝায়। 
- রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গরু বা খাসির মাংস খাওয়া উচিত নয়। 
- কারণ রেড মিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। 
- আর উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। 
- রেড মিটে যে কোলেস্টেরল থাকে সেটি বেশি বেড়ে গেলে হার্টের শিরায় জমে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়।

উৎস: বিবিসি। 
৫৮৮.
অ্যান্টিবডিগুলোর মধ্যে মানবদেহে কোনটি সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. IgG
  2. IgE
  3. IgA
  4. IgD
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টিবডিগুলোর মধ্যে মানবদেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে IgG।. এটি রক্তে এবং অন্যান্য শরীরের তরলে সর্বাধিক উপস্থিত অ্যান্টিবডি, যা দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। IgG প্রধানত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া এটি প্লাসেন্টা অতিক্রম করে গর্ভস্থ শিশুকে প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে, যা একে অন্যান্য অ্যান্টিবডির তুলনায় অনন্য করে তোলে। অপরদিকে, IgA বেশি থাকে মিউকাসে, IgE অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় সক্রিয় এবং IgD এর পরিমাণ খুবই কম। তাই সঠিক উত্তর: ক) IgG.

• অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৫৮৯.
মানব মস্তিষ্ক কয়টি প্রধান অংশে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯০.
লৌহের প্রধান কাজ কী? 
  1. দেহে হরমোন উৎপাদন করা
  2. স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা
  3. দেহে শক্তি উৎপাদন করা
  4. হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 

আয়রন (Fe) খনিজ উপাদান: 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg.
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯১.
মাছের মাথা হতে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. বি
  2. সি
  3. ডি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ- এর উৎস:
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ পাওয়া যায়। 

- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
৫৯২.
'গলগন্ড' মানবদেহের কোন গ্রন্থির একটি রোগ?
  1. অ্যাড্রেনাল
  2. পিট্যুইটারি
  3. থাইরয়েড
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান:

- খাদ্যের ৬টি উপাদান শর্করা, স্নেহ পদার্থ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবন এবং পানি প্রধানত আমাদের দেহে ৩টি কাজ করে:
১. বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
২. তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান।
৩. রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা প্রদান।

খনিজ লবন:
- কয়েক রকমের খনিজ পদার্থ রয়েছে। খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং সামুদ্রিক মাছ ও লবনে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ, লৌহের অভাবে রক্ত শূন্যতা, ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়।

গলগন্ড (Goitre):

- গলগন্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ।
- খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েডের গ্রন্থির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গলগন্ডের সৃষ্টি করে।
- যে সকল এলাকার মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম সে সকল এলাকার শিশুদের এমন রোগ বেশি দেখা যায়।
- লবণের পরিমাণ কম তাই এ সকল এলাকার শিশুদের বেশি পরিমাণে গলগন্ড রোগ দেখা দেয়।

- গলগন্ড প্রধানত দু'প্রকার। যথা-
(ক) সরল গলগন্ড:
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিদ্বয় অথবা যে কোনো একটি ফুলে যায়।
- ফলে গলার কিছু অংশ ফুলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে।
- এটিই সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।

• লক্ষণ: আলসেমি বা কুঁড়েমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
• প্রতিরোধ: যে অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে সে অঞ্চলের খাওয়ার পানির সাথে অতি সামান্য মাত্রায় আয়োডিন মেশানো যেতে পারে। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।

(খ) টক্সিক গলগন্ড:
- অতিমাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণের ফলে এ রোগ দেখা দেয়।

• লক্ষণ: হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়পড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া ইত্যাদি।
• প্রতিরোধ ব্যবস্থা- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ব্যবহার করার মাধ্যমে এ গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধ করা যায়। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খাওয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৩.
এইডস হতে পারে কখন?
  1. আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে
  2. রোগীর সেবা করলে
  3. একই বিছানা ব্যবহার করলে
  4. একই সাথে গোসল করলে
ব্যাখ্যা

- আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে এইডস হতে পারে।

এইচআইভি এবং এইডস-এর বিস্তার:
এইচআইভি একটি নীরব ঘাতক। এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগে এইচআইভি ও এইডস কীভাবে বিস্তার লাভ করে তা জানবার জন্য প্রথমেই জানা প্রয়োজন এই ভাইরাস কীসে থাকে। মানুষের শরীরে উৎপন্ন বিভিন্ন তরল পদার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য, যৌনিরস, লালা এগুলোতে HIV বাস করে। এ গুলোর মধ্যে মুখের লালায় HIV -র পরিমাণ কম থাকে বলে লালা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু রক্ত, যোনিরস ও বীর্য কোনোভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটে। বিভিন্ন উপায়ে এইচআইভি ছড়াতে পারে।
যেমন-
১। অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক:
এইচআইভি ছড়ানোর সবচেয়ে বড় কারণ অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বের এইচআইভি ব্যক্তিদের শতকরা আশি (৮০%) ভাগই অনিরাপদ দৈহিক মিলনে হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্য বা যোনিরসের মাধ্যমে যৌন সঙ্গীর দেহে এইডস-এর ভাইরাস প্রবেশ করে। আরও বিপদজনক হলো যৌনসঙ্গিনী যদি সন্তান ধারণ করে তবে ঐ সন্তানের দেহেও এইচআইভি প্রবেশ করে।

২। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তগ্রহণ:
অনেক সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে বা অপারেশনের সময় বা দুর্ঘটনায় পড়লে অন্যের রক্ত নিতে হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য একজনের শরীরের অঙ্গ যেমন- কর্নিয়া, হৃৎপিন্ড, কিডনী বা অন্য কোনো অঙ্গ এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। অসচেতনতা বা দায়িত্বহীনতার কারণে অনেক সময় অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা হয় না। এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত বা এইচআইভি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির অঙ্গ অন্য কোনো
ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইচআইভি বিস্তার লাভ করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই এক সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে। এতে সুস্থ ব্যক্তির দেহে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। এইচআইভি বা এইডস আক্রান্ত মায়ের নিকট থেকে তিনটি পর্যায়ে শিশুর শরীরে এর ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। যেমন-
ক) গর্ভকালীন সময়ে, 
খ) প্রসবকালীন সময়ে, 
গ) মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৪.
নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. র‍্যাবিস
  2. ভ্যারিওলা
  3. HIV
  4. TMV
ব্যাখ্যা

• ভ্যারিওলা (Variola) হলো একটি DNA ভাইরাস যা গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স (Smallpox) রোগের সৃষ্টি করে।

• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দু' প্রকার।

যথা : (i) DNA ভাইরাস এবং (ii) RNA ভাইরাস।

• DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস। Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

• RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিওভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৯৫.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ক) ১৪০/১০০ (mm Hg)
  2. খ) ১২০/৮০ (mm Hg)
  3. গ) ১২০/৬০ (mm Hg)
  4. ঘ) ১৩০/৫০ (mm Hg)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৯৬.
অ্যানিমিয়া কী কারণে হয়?
  1. লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ায়
  2. লোহিত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
  3. প্লেটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায়
  4. শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
ব্যাখ্যা
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
যেমন- 
১. অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়। 

২. পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

৩. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০-৩০,০০০ হয়। 

৪. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৭.
নিচের কোনটি যক্ষ্মা রোগের টিকা?
  1. DPT
  2. MR
  3. OPV
  4. BCG
ব্যাখ্যা
 • যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) ।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- হাম রোগের টিকা MR।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৯৮.
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নি:সৃত এনজাইম-
  1. লাইপেজ
  2. টায়ালিন
  3. পেপসিন
  4. রেনিন
ব্যাখ্যা
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নি:সৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন।
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৯৯.
অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ কোন হরমোন নিঃসরণ করে?
  1. এড্রিনালিন ও গ্লুকাগন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. অ্যাড্রিনালিন ও করটিসল 
  4. থাইরক্সিন ও ট্রাইআইডোথাইরনিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০০.
করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য কোন ওষুধ দেওয়া হয়?
  1. ডক্সিসাইক্লিন
  2. ইনসুলিন
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. অ্যাট্রোপিন
ব্যাখ্যা

• করোনারি ধমনি সরু হয়ে গেলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ কমে যায়, যাকে এনজাইনা বলা হয়।
- নাইট্রোগ্লিসারিন একটি শক্তিশালী ভ্যাসোডিলেটর (Vasodilator) যা রক্তনালীকে প্রসারিত করে হৃদপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি করে।
- অন্যদিকে, ডক্সিসাইক্লিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাট্রোপিন সাধারণত হৃদস্পন্দন বাড়াতে ব্যবহৃত হয় কিন্তু এটি সরাসরি রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির প্রাথমিক ওষুধ নয়।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিও পালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।


• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

• হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।