বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২০ / ২৩ · ১,৯০১২,০০০ / ২,২২৭

১,৯০১.
কোনটির প্রধান কাজ দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা?
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ:
- মাছ, ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত খাদ্য এগুলো প্রোটিন জাতীয় খাদ্য।
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্য ইত্যাদি প্রাণিজ প্রোটিন।
- অপরদিকে ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 

প্রোটিনের কাজ:
১। প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা। 
যেমন- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত। 
২। দেহে শক্তি উৎপন্ন করা। 
৩। দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৯০২.
ইনসুলিন হচ্ছে একটি -
  1. ক) নিউক্লিক এসিড
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) অ্যামাইনো এসিড
  4. ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন হচ্ছে এক ধরনের হরমোন যা অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত হয়।
- ইনসুলিন মূলত অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত একটি সরল প্রােটিন।
- রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নির্গমন বৃদ্ধি করে দেয়।
- ইনসুলিন অনুতে ৪৮/৫১টি এমাইনো এসিড থাকে।

"A peptide is a short chain of amino acids. The amino acids in a peptide are connected to one another in a sequence by bonds called peptide bonds. Typically, peptides are distinguished from proteins by their shorter length, although the cut-off number of amino acids for defining a peptide and protein can be arbitrary."
Source: Nature.com

তাই প্রশ্নের ধরন অনুসারে,
সঠিক উত্তর - খ) প্রোটিন।
তবে, যদি অপশনে প্রোটিন না থাকে তাহলে "অ্যামাইনো এসিড" উত্তর হবে।

১,৯০৩.
কোলেস্টেরল দেহের কোথায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. ত্বকে
  2. মগজে
  3. বৃক্কে
  4. পাকস্থলীতে
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃত এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯০৪.
কোন ধরনের রক্ত কণিকার ‍নির্দিষ্ট কোন আকার নেই?
  1. ক) লোহিত কণিকা
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শ্বেতরক্তকণিকার  ‍নির্দিষ্ট কোন আকার নেই। 

- রক্তরসে উপস্থিত বর্ণহীন, বিভিন্ন আকৃতির নিউক্লিয়াসযুক্ত বৃহদাকৃতির রক্তকোশগুলিকে শ্বেতরক্তকণিকা বলে।

শ্বেত রক্ত কণিকা-
- শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
- শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
- শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
- শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৯০৫.
৭৫ কেজি ওজন বিশিষ্ট একজন বয়স্ক মানুষের প্রতি মিনিটে কত বার শ্বাস-প্রশ্বাস সংঘটিত হয়?
  1. ৮ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১২ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
শ্বাসক্রিয়া: 
- যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায় তাকে শ্বাসক্রিয়া (Breathing) বলে। 
- নির্দিষ্ট সময়ে যে আয়তনের বায়ু ফুসফুসের মধ্যে আসা-যাওয়া করে তাকে ফুসফুসীয় বায়ুপ্রবাহ বা পালমোনারি ভেন্টিলেশন বলে। 
- ৭৫ কেজি ওজন বিশিষ্ট বয়স্ক মানুষে প্রতি মিনিটে ১২ বার প্রশ্বাস-নিশ্বাস সংঘটিত হয়। 
- এ সময়ে ফুসফুসের মধ্যে প্রায় ৬ লিটার বায়ু আসা-যাওয়া করে। 
- বক্ষ ও উদর গহ্বরের মধ্যবর্তী পেশিক্ষয় অনুপ্রস্থ পর্দা (ডায়াফ্রাম) এবং পর্কাশুর ( Ribs) মধ্যবর্তী স্থানসমূহে বিদ্যমান ইন্টারকস্টাল পেশির যুগপৎ সংকোচন-শ্লথে শ্বসনক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- মানুষের শ্বসন কৌশল দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। 
যথা- 
(ক) শ্বাস গ্রহণ ও 
(খ) শ্বাস ত্যাগ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৬.
অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে অক্সিজেন কোষে কোন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে? 
  1. অভিস্রবণ
  2. পরিবহন
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen): 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়। 
- ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে। 
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 
• Hb4 + 4O2 ⇔ 4HbO
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন ⇔ অক্সিহিমোগ্লোবিন 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকলে অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মিলে HbO2 তৈরি করবে। আবার অক্সিজেনের পরিমাণ যেখানে কম সেখানে HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিন পৃথক হবে। 
- ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর গাত্রের কৈশিক জালকে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি। ফলে অক্সিজেন এবং Hb4 যুক্ত হয়ে HbO2 উৎপন্ন করে এবং সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহকোষের কাছে আসে। 
- দেহকোষে যেহেতু অক্সিজেনের পরিমাণ কম তাই HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৭.
'বাঁধাকপি'তে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি 
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন এ - দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন বি - ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদাম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদ্পিণ্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি ।
- ভিটামিন সি - পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন ডি - ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'কে' পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৮.
জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে -
  1. ক) ভিটামিন A এর অভাবে
  2. খ) ভিটামিন C এর অভাবে
  3. গ) ভিটামিন D এর অভাবে
  4. ঘ) ভিটামিন E এর অভাবে
ব্যাখ্যা
 -জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে ভিটামিন E এর অভাবে। 
- পাম তৈল ভিটামিন E এর ভাল উৎস। 
- সস্য দানার তেল, সূর্যমুখী তেল, তুলাবীজের তেল, লেটুস পাতায় ভিটামিন E পাওয়া যায়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৯০৯.
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কতটি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ২০৪ টি
  2. ২০৬ টি
  3. ২০৫ টি
  4. ২০৮ টি
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত এবং এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে, কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton)। 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর।
- মানুষের একজোড়া অগ্রপদ বা হাত, একজোড়া পশ্চাৎপদ বা পা, বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle) ও শ্রোণিচক্র (Pelvic girdle) নিয়ে উপাঙ্গীয় কঙ্কালতন্ত্র গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯১০.
শরীরের কোন অংশের মাংশপেশীর কার্যাবলি নষ্ট হওয়াকে কী বলে?
  1. ক) পারকিনসন
  2. খ) প্যারালাইসিস
  3. গ) স্ট্রোক
  4. ঘ) থাইরয়েড
ব্যাখ্যা
শরীরের কোন অংশের মাংসপেশীর কার্যাবলি নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে। প্যারালাইসিস সাধারণত স্ট্রোকের কারণে হয়। এছাড়া মেরুদন্ডের বা ঘাড়ের সুষুম্নাকাণ্ড আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্যারালাইসিস হতে পারে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৯১১.
ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয় কোনটি?
  1. যক্ষ্মা
  2. কলেরা
  3. টাইফয়েড
  4. মাম্পস
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion (little rod) থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি।
- ব্যাকটেরিয়া (একবচনে ব্যাকটেরিয়াম) এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- অ্যান্টনি ভ্যান লীউয়েনহুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
- জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এসব ক্ষুদ্রজীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা এবং ব্যাকটেরিইয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্টিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে।

- মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কিছু রোগ হলো:
• যক্ষ্মা
• নিউমোনিয়া
• কলেরা
• টাইফয়েড
• কলেরা
• ডিপথেরিয়া
• আমাশয়
• ধনুষ্টংকার
• হুপিংকাশি ইত্যাদি।

- মাম্পস ভাইরাস গঠিত রোগ

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৯১২.
ক্যারোলাস লিনিয়াস রচিত বইয়ের নাম কী?
  1. ক) Species Plantaram
  2. খ) Sapiens
  3. গ) Philosophia Botanica
  4. ঘ) Historia Plantarum
ব্যাখ্যা
ভুলে অপশন দুইটা দেয়া। তবে, Plantarum বানানটি ভুলের কারনে গ) Philosophia Botanica কে সঠিক ধরা হল।
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 'Species Plantarum' বইটি রচনা করেন। এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে, কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। উৎসঃ জীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত বই হলো ‘Philosophia Botanica’।
১,৯১৩.
নিচের কোন শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন?
  1. ক) লিম্ফোসাইট
  2. খ) নিউট্রোফিল
  3. গ) ইওসিনোফিল
  4. ঘ) বেসোফিল
ব্যাখ্যা

- শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র দানার উপস্থিতির ভিত্তিতে শ্বেত রক্তকণিকা দুধরনের - গ্র‍্যানিউলোসাইট এবং অ্যাগ্রানুলোসাইট।
- যে শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাদার সে সব কণিকাকে গ্র‍্যানিউলোসাইট বলে। নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল এবং বেসোফিল হলো গ্র‍্যানিউলোসাইট।
- যে শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন, তাদেরকে অ্যাগ্রানুলোসাইট বলে। মনোসাইট এবং লিম্ফোসাইট হলো এ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯১৪.
The basic structural and functional unit of the nervous system is called:
  1. Axon
  2. Dendrite
  3. Synapse
  4. Neuron
  5. Glial cell
ব্যাখ্যা
• স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৫.
মানবদেহের কোন হরমোন দাঁড়ি ও গোফ গজাতে সাহায্য করে?
  1. রিলাক্সিন
  2. প্রোজেস্টেরন
  3. টেস্টোস্টেরণ
  4. অ্যাড্রানালিন
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো- 

শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯১৬.
প্রোটিন মূলত -
  1. ক) শর্করার পরিবর্তিত রূপ
  2. খ) অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার
  3. গ) নাইট্রিক এসিডের পলিমার
  4. ঘ) কার্বনের একটি রূপভেদ
ব্যাখ্যা
প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।

ভৌত,রাসায়নিক গুনাবলি এবং দ্রবনীয়তার ভিত্তিতে প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা :-
ক) সরল প্রোটিন ৷
খ) যুগ্ম প্রোটিন ৷
গ) উৎপাদিত প্রোটিন ৷

দ্রবণীয়তার ওপর ভিত্তি করে সরল প্রোটিনকে আবার ৭ ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা :-
১) অ্যালবিউমিন
২) গ্লোবিউলিন 
৩) গ্লুটোলিন 
৪) প্রোলামিন
৫) হিস্টোন
৬) প্রোটামিন
৭) স্ক্লোরোপ্রোটিন

যুগ্ম প্রোটিনকেও আবার ৬ ভাগে ভাগ করা যায় ৷
যথা :-
১) নিউক্লিওপ্রোটিন
২) গ্লাইকোপ্রোটিন বা মিউকোপ্রোটিন
৩) লিপোপ্রোটিন
৪) ক্রোমোপ্রোটিন 
৫) মেটালোপ্রোটিন
৬) ফসফোপ্রোটিন 

প্রোটিনের কাজ সমূহ- 
- দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণ হল প্রোটিনের প্রধান কাজ।
- তাপ শক্তি উৎপাদন।
- দেহস্থ উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি সৃষ্টি করা।
- অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা হল প্রোটিনের অন্যতম কাজ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯১৭.
প্রতি চাকে কয়টি কর্মী মৌমাছি থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) অসংখ্য
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা

- মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম।
- প্রতি চাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে।
- মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে।
- তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯১৮.
রক্তরস শ্বসনের ফলে কোষে উৎপন্ন CO2 -কে নিচের কোন রূপে ফুসফুসে পরিবহণ করে?
  1. পানি রূপে
  2. গ্লুকোজ রূপে
  3. অক্সিজেন রূপে
  4. বাইকার্বনেট রূপে
ব্যাখ্যা
রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন (যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O2, CO2, এবং N2, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ)। 
- জৈব পদার্থগুলো হলো- 
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি। 
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। 
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি। 
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি। 
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন। 
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ। 

রক্তরসের কাজ: 
১. রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা। 
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা। 
৩. রক্তরস শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা। 
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা। 
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা। 
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৯.
হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে কোন রোগটি দেখা দেয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. স্কার্ভি
  3. অ্যানিমিয়া 
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ:
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান।
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে।
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে।
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg।
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে।
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি।
- আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে  মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) রোগ দেখা দেয়
- রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, হাত-পা ফোলা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বুক ধরফড় করা ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯২০.
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে কত?
  1. ২০ - ৩০ বার
  2. ৪০ - ৫০ বার
  3. ৭০ - ৮০ বার
  4. ৬০ - ৭০ বার
ব্যাখ্যা
• একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার।

• হৃদচক্র:
- হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে।
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।
- এক বারের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃদস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার, গড়ে ৭৫ বার।
- হৃদপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের যে চক্রাকার প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে হৃদচক্র বা কার্ডিয়াক চক্র বলে।

• কার্ডিয়াক চক্র চলাকালীন হৃদপিন্ডের মধ্যে কিভাবে রক্ত সংবহন হয় তা পর্যায়ক্রমিক ৪টি দশায় সম্পন্ন হয়। যথা-
১. অলিন্দের সংকোচন (Atrial diastole),
২. অলিন্দের সম্প্রসারণ (Atrial systole),
৩. নিলয়ের সংকোচন (Ventricular systole) ও
৪. নিলয়ের সম্প্রসারণ (Ventricular diastole)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯২১.
কোনটি উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি
  3. পিটুইটারী গ্রন্থি
  4. থাইরয়েড গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

বর্তমান যুগে প্রতিটি মানুষই মানসিক চাপে দিন পার করছেন। মানসিক চাপের কারণে ‘অ্যাড্রেনাল’ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এমন হরমোন (এড্রেনালিন হরমোন) যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
কিছু কিছু রোগের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এই কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:
১) কিডনির রোগ।
২) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুটারি গ্রন্থির টিউমার।
৩) ধমনীর বংশগত রোগ।
৪) গর্ভধারণ অবস্থায় অ্যাকলাম্পসিয়া ও প্রিঅ্যাকলাম্পসিয়া হলে।
৫) অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যবহার। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ খেলে।
লেখক: অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, ডিন, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠ্য বই, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স অনুযায়ী উচ্চ রক্ত চাপ সৃষ্টিতে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুটারি গ্রন্থি উভয়েরই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভূমিকা আছে। তবে 'অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি' থেকে নিঃসৃত 'অ্যাড্রেনালিন হরমোন' প্রত্যক্ষ ভাবে উচ্চ রক্ত চাপ সৃষ্টির জন্য দায়ী। তাই বেস্ট অলটারনেটিভ হিসেবে 'অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি' বা, 'এড্রেনালিন হরমোন' -ই সঠিক উত্তর। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯২২.
মানুষের হৃদপিণ্ডে প্রাকৃতিক পেসমেকার বলা হয় কোনটিকে?
  1. পারকিঞ্জি তন্তু
  2. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড
  3. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড
  4. বান্ডল অব হিজ
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের কিছু রূপান্তরিত হৃদপেশি মায়োজেনিক প্রকৃতির জন্য দায়ী। এ বিশেষ ধরনের পেশিগুলোকে সম্মিলিতভাবে সংযোগী টিস্যু বা জাংশনাল টিস্যু বলে। ৪ ধরনের জাংশনাল টিস্যুর মধ্যে রয়েছেঃ
- সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড: একে পেসমেকার বলা হয়, কারণ হৃদপিণ্ডে প্রতিটি উত্তেজনার তরঙ্গ এখানেই সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী উত্তেজনার তরঙ্গ সৃষ্টির উদ্দীপক হিসাবেও কাজ করে।
- অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোডের অনুরূপ গঠন বৈশিষ্ট্যের অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার টিস্যু AV বান্ডেল নামক বিশেষ পেশিতন্তু গুচ্ছের সাথে যুক্ত থাকে। AV বান্ডেল এর মাধ্যমে হৃদউদ্দীপনার ঢেউ অ্যাট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকলে প্রবাহিত হয়।
- বান্ডল অব হিজ: এটি AV নোড থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে ভেন্ট্রিকলের প্রাচীরে সঞ্চারিত করে।
- পারকিঞ্জি তন্তু: এ তন্তুগুলো বান্ডল অব হিজ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভেণ্ট্রিকলের প্রাচীরে জালক সৃষ্টি করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯২৩.
দুটি প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাত -
  1. ক) দোঁয়াশ
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) সংকর
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
দুটি প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাতকে বলা হয় সংকর। 
যেমন :
দুটি সংকর জাতের মোরগ- ‘রূপালী’ (সাদা লেগহর্ন মুরগা  ফাওমি মুরগি) ও ‘সোনালী’ (আর আই আর মুরগা  ফাওমি মুরগি) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে সুঅভিযোজিত হয়ে আছে।

উৎস : বাংলাপিডিয়া 
১,৯২৪.
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন নয় কোনটি? 
  1. গ্লুকাগন
  2. ইনসুলিন
  3. সোমাটোস্ট্যাটিন
  4. থাইমোসিন
ব্যাখ্যা
- 'থাইমোসিন' হলো থাইমাস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন। 

আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস:  
- অগ্ন্যাশয়ের কতগুলো কোষ গুচ্ছাকারে বিক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপেরে ন্যায় একেকটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি সৃষ্টি করে। এগুলো আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস। 
- α, β, γ নামক তিন ধরনের কোষ নিয়ে এটি গঠিত। 
- আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন: 
১ । ইনসুলিন, 
২। গ্লুকাগন এবং 
৩। সোমাটোস্ট্যাটিন। 
- রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তাকে কমানো, গ্লাইকোজেন সংশ্লেষ বা গ্লাইকোজেনেসিসে সহায়তা। 
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে তাকে বাড়ানো, গ্লাইকোজেনোলাইসিসে সহায়তা। 
- α ও β কোষের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২৫.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়-
  1. ধমনী
  2. শিরা
  3. পালমোনারি শিরা
  4. পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
শিরা (Vein):

• যেসব নালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত বা সঞ্চালিত হয়, তাকে রক্তনালি বা রক্তবাহিকা বলে।
• গঠন, আকৃতি এবং কাজের ভিত্তিতে রক্তবাহিকা বা রক্তনালি তিন ধরনের - ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।

• ধমনী: অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র দেহে নিয়ে যায়।  
• কৈশিক জালিকা: ক্ষুদ্রতম ধমনি এবং ক্ষুদ্রতম শিরার মধ্যে সংযোগ সাধন করে। 
• শিরা: যেসব নালি দিয়ে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাদের শিরা বলে। 
• শিরার প্রাচীর ধমনির মতো তিন স্তরবিশিষ্ট।
• শিরার প্রাচীর কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময়।
• এদের নালিপথ একটু চওড়া এবং কপাটিকা থাকে।
• ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে আসা শিরাটি ছাড়া অন্য সব শিরা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে।
ফুসফুসীয় শিরা বা পালমোনারি শিরা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়।
• একইভাবে, পালমোনারি ধমনী কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে নিয়ে যায়। 
• লসিকা এক রকম হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ ক্ষারীয় তরল যোজক কলা।



উৎস: মাধ্যামিক জীববিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।   
১,৯২৬.
‘ডিম্বাণু থেকেই সকল জীবের সূত্রপাত হয়’- এই মতবাদের প্রবক্তা?
  1. ক) লুই পাস্তুর
  2. খ) উইলিয়াম হার্ভে
  3. গ) অগাস্ট ভাইসম্যান
  4. ঘ) চার্লস রবার্ট ডারউইন
ব্যাখ্যা
- ‘ডিম্বাণু থেকেই সকল জীবের সূত্রপাত হয়’ এই মতবাদের প্রবক্তা উইলিয়াম হার্ভে।
- ‘জীব থেকে জীবের উৎপত্তি হয়’ বা ‘বায়োজেনেসিস তত্ত্ব’ এই মতবাদের প্রবক্তা লুই পাস্তুর;
- ‘জার্মপ্লাজম মতবাদ’ এর প্রবক্তা অগাস্ট ভাইসম্যান; এবং
- ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ’এর প্রবক্তা চার্লস রবার্ট ডারউইন।
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৯২৭.
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি কোনটি?
  1. পিটুইটারি গ্রন্থি
  2. থাইরয়েড গ্রন্থি
  3. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  4. থাইমাস গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

• হরমোন:
- মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীর দেহে একধরনের বিশেষ নালিবিহীন গ্রন্থি থাকে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত এ ধরনের রসকে হরমোন বলে।
- হরমোন পরিবহণের জন্য পৃথক কোনো নালি নেই। হরমোন রক্তস্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যকোষে পৌঁছে কোষের প্রাণরাসায়নিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে, জৈবিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।
- সুস্থ দেহের চাহিদা অনুসারে গ্রন্থি থেকে অবিরত ধারায় হরমোন নিঃসৃত হয়। তবে প্রয়োজন অপেক্ষা কম অথবা বেশি পরিমাণ হরমোন নিঃসৃত হলে শরীরে নানারকম অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

•মানবদেহের কয়েকটি মুখ্য নালিবিহীন গ্রন্থির (অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি) পরিচিতি, কাজ ও নিঃসৃত হরমোন:

পিটুইটারি গ্রন্থি: 
- পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোফাইসিস মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি।
- দেহের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নালিবিহীন গ্রন্থি হলেও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট।
- এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH) ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।
- এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে।

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় ট্রাকিয়ার উপরের অংশে অবস্থিত।
- এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন (Thyroxine) সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েডের আরেকটি হরমোন ক্যালসিটোনিন (calcitonin) ক্যালসিয়াম বিপাকের সাথে জড়িত।

প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি: 
একজন মানুষের সাধারণত চারটি প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, যার সবগুলোই থাইরয়েড গ্রন্থির পিছনে অবস্থিত।ঃ
- এই গ্রন্থি হতে নিঃসৃত প্যারাথরমোন (Parathormone) মূলত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইমাস গ্রন্থি:
- থাইমাস গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। থাইমাস গ্রন্থি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে।
- শিশুকালে এই গ্রন্থি বিকশিত থাকে পরে বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে ছোট হয়ে যায়।
- এই গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন হরমোন নিঃসরণ হয়।
- পূর্ণবয়স্ক মানুষে সাধারণত এই হরমোন থাকে না, থাকলেও খুবই নিম্ন মাত্রায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১,৯২৮.
নিচের কোন রোগটি রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না? 
  1. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  2. ডায়াবেটিস 
  3. বসন্ত 
  4. জন্ডিস 
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে কোনো মাধ্যমে আশেপাশের অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাদের সংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ইনফ্লুংয়েঞ্জা, হাম, বসন্ত, জন্ডিস ইত্যাদি। 

অসংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না তাদের অসংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি। 

- সংক্রামক বা অসংক্রামক সব ধরনের রোগ প্রতিকার করার চাইতে প্রতিরোধ করাই সকলের দায়িত্ব। 
- টিকা গ্রহণ, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, ব্যক্তিগত সুঅভ্যাস গঠন, খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে সতর্কতা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, কীট-পতঙ্গ ও বিষাক্ত প্রাণি হতে সাবধানতা অবলম্বন, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অজ্ঞতা দূর, রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২৯.
জীবের নামকরণ করা হয় কোন ভাষায়?
  1. ক) গ্রীক
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় লিখতে হয়

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৯৩০.
মানবদেহে কয় জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ৪৬
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে। 

• মানবদেহে ২ ধরণের ক্রোমোজোম থাকে। যথা-
→ অটোজোম:
- এগুলো শারীরবৃত্তীয় , ভ্রূণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোন ভূমিকা নেই। 

সেক্স ক্রোমোজোম:
- এরা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুইটি । এগুলো X ও Y  নামে পরিচিত।
- পুরুষে XY সেক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং নারীতে থাকে XX সেক্স ক্রোমোজোম। 

• মানবদেহের মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি।
• এর মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম এবং ১ জোড়াকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৯৩১.
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে কোন ধরনের প্রাণীদের?
  1. ক) কর্ডাটা
  2. খ) মলাস্কা
  3. গ) এনেলিডা
  4. ঘ) নেমাটোডা
ব্যাখ্যা

নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে এনেলিডা পর্বের প্রাণীদের।
এদের দেহ নলাকার, খন্ডকায়িত।
যেমন- কেঁচো, জোঁক।
উৎসঃবিজ্ঞানঃঅষ্টম শ্রেণী

১,৯৩২.
রক্তনালীতে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য দায়ী কোনটি?
  1. হেপারিন
  2. হিস্টোমিন
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। 
- রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে। আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে। 
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। 
- হেপারিন (Heparin) রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে। 
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯৩৩.
কোন ধমনি কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুসফুসে পরিবহন করে?
  1. ইলিয়াক ধমনি
  2. পালমোনারি ধমনি
  3. মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. সিলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা
ধমনি: 
- যে সকল রক্তনালির মাধ্যমে সাধারণত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সারাদেহে বাহিত হয় তাদের ধমনি বলে। কিন্তু পালমোনারি বা ফুসফুসীয় ধমনি এর ব্যতিক্রম, এটি কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুসফুসে পরিবহন করে।
এছাড়া, 
- ইলিয়াক ধমনি পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে।
- মেসেন্টেরিক ধমনি অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
- সিলিয়াক ধমনি পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯৩৪.
অণুচক্রিকা (Platelet) মূলত কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. লোমকোষ 
  2. লিভার 
  3. অস্থিমজ্জা 
  4. হৃৎপিণ্ড 
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩৫.
মানব দেহের রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া সচল রাখে-
  1. ক) ঐচ্ছিক পেশি
  2. খ) অনৈচ্ছিক পেশি
  3. গ) কার্ডিয়াক পেশি
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্‍্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৬.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম-
  1. টেট্রা
  2. ডলি
  3. প্রমিথিয়া
  4. ইভ
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:

• কোন জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ার হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।



• ক্লোনিং এর জনক: ড. ইয়ান উইলমুট।
• ড. ইয়ান উইলমুট ক্লোন পদ্ধতিতে প্রথম কোন প্রাণী জন্ম দেন : ভেড়া।
• সর্বপ্রথম ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ভেড়ার নাম : ডলি।
• ডলির জন্ম হয় : ৫ জুলাই, ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। (যুক্তরাজ্যে)।
• বিখ্যাত গায়িকা ডলি পারটনের নামানুসারে ক্লোন মেষ শাবকের নাম রাখা হয় ডলি।
• 'ডলি' আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
• 'ডলি' মারা যায়: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩।
• বিশ্বের প্রথম ক্লোন বিড়ালের নাম: সিসি (কার্বন কপি)।
• বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম: টেট্রা।
• বিশ্বের প্রথম ক্লোন ঘোড়ার নাম: প্রমিথিয়া।
• এই ক্লোন শিশুর জন্ম হয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
• প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম দেয়া হয়: ইভ (কন্যা সন্তান)।



Image Source: Jmaes and Institute 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং The Guardian (ডিসেম্বর ২৭, ২০০২) and National Library of Medicine।   
১,৯৩৭.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় কোনটি?
  1. ক) হরমোন
  2. খ) লালা
  3. গ) পিত্তরস
  4. ঘ) পেপসিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে উদরীয় গহ্বর ডিওডেনামের দুটি বাহুর মাঝ অংশে গোলাপি বর্ণের এবং অনিয়মিত আকৃতির একটি মিশ্র গ্রন্থি।
এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ সে. মি.।
অগ্ন্যাশয়ের সম্মুখ ভাগ প্রশস্ত কিন্তু পশ্চাৎ ভাগ ক্রমশ সরু।
অগ্ন্যাশয়ে দু’ধরনের গ্রন্থি আছে।
যথা- ক. অন্তঃক্ষরা (হরমোন ক্ষরণকারী) গ্রন্থি ও
খ. বহিঃক্ষরা (এনজাইম নিঃস্রাবী) গ্রন্থি।
অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড বা ফ্যাট পরিপাককারী এনজাইম থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১,৯৩৮.
হৃৎপিণ্ড কয় প্রকোষ্ট বিশিষ্ট?
  1. ক) এক প্রকোষ্ঠ
  2. খ) দুই প্রকোষ্ঠ
  3. গ) এক জোড়া প্রকোষ্ঠ
  4. ঘ) দুই জোড়া প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। এরমধ্যে পাতলা প্রাচীর যুক্ত অলিন্দদ্বয়(ডান ও বাম অলিন্দ) উপরে এবং পুরু প্রাচীর বিশিষ্ট নিলয়দ্বয় নিচে অবস্থিত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৯৩৯.
প্রোটিনের মূল উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে, তাই প্রোটিন বা আমিষের মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন

• আমিষ বা প্রোটিন:

- প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রনও সামান্য পরিমাণে থাকে।
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪০.
কোনটি প্রোটিন জাতীয় জৈব পদার্থ? 
  1. জ্যানথিন
  2. অ্যামোনিয়া
  3. ইউরিয়া
  4. ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা
- প্রোটিন জাতীয় জৈব পদার্থ হলো- ফাইব্রিনোজেন এবং বাকিগুলো হলো প্রোটিনবিহীন জৈব পদার্থ। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪১.
এনজিনা মানুষের শরীরের কোন অঙ্গে হয়?
  1. ক) মস্তিষ্ক
  2. খ) নাক
  3. গ) হৃৎপিন্ড
  4. ঘ) চোখ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
১,৯৪২.
ডিম ও দুধে কোন ভিটামিন নেই?
  1. ক) ডি
  2. খ) সি
  3. গ) বি
  4. ঘ) এ
ব্যাখ্যা
ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।
ডিম ও দুধে কোন ভিটামিন-সি নেই।
১,৯৪৩.
কোন কণিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. রক্তরস
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শ্বেত রক্তকণিকা
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক. লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে। 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে পৌঁছায়। 
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ। 
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। 

খ. শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম। 
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে। 
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো। 
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়। 
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৯৪৪.
স্নায়ু কোষের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় থাকে না-
  1. ক) সেন্ট্রিওল
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
নিউরন বা স্নায়ুকোষ বহুভাজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৯৪৫.
রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে কী বলে? 
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. থ্রম্বোসিস
  4. থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত হচ্ছে প্রাণিদেহের এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন- 

(i) পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

(ii) অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

(iii) লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

(iv)লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

(v) থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

(vi) পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- পারপুরা অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

(vii) থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৪৬.
নিচের কোনটি ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন সি
  3. গ) ভিটামিন বি১
  4. ঘ) ভিটাবিন বি৫
ব্যাখ্যা
ভিটামিন:
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা দেহে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যাবলি সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করে।
দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভিটামিন দু’প্রকার -
যথা :
১) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water-oluble vitamins).
২) স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন (Fat-soluble vitamins).

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো - ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যেমন- থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পিরিডক্সিন, কোবালামিন ইত্যাদি এবং ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।

• স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো - ভিটমিন এ, ভিটমিন ডি, ভিটমিন ই এবং ভিটমিন কে।

- সাধারণভাবে ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
- দেহের বৃদ্ধিতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৭.
লাইসোজাইম কী ধ্বংস করে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা

- লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

- রক্তস্থিত রাসায়নিক পদার্থ: রক্তের কিছু রাসায়নিক পদার্থ জীবাণু বিনাশে অংশগ্রহণ করে।
যেমন-
- লাইসোজাইম: এটি এক রকম মিউকোলাইটিক পলিস্যাকারাইড জাতীয় পদার্থ, যা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
- বেসিক পলিপেপটাইড: এই পদার্থটি কোনো কোনো গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে ও তাদের নিষ্ক্রিয় ও বিনষ্ট করে।
- প্রোপারডিন: এটি একটি বৃহদাকার প্রোটিন যা গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াগুলো বিনষ্ট করে।
- অ্যান্টিবডি: এরা রক্তের স্বাভাবিক অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে এরা উৎপন্ন হয় এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রতিবিষকে ধ্বংস করে।
- প্রাকৃতিক কিলার সেল: এরা এক ধরনের লিম্ফোসাইট, এরা বিভিন্ন বিজাতীয় কোষ, টিউমার কোষ প্রভৃতিকে বিনষ্ট করে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৮.
পুষ্টি (Nutrition) বলতে কী বোঝায়?
  1. খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান
  2. একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
  3. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ
ব্যাখ্যা

• একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া — কারণ পুষ্টি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্য হজম ও শোষিত হয়ে দেহের চাহিদা পূরণ করে।

• পুষ্টি (Nutrition):
- পুষ্টি একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
- খাদ্য গ্রহণের পর তা হজম হয়ে রক্তের মাধ্যমে শোষিত হয়ে দেহের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে।
- পুষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি কার্য সম্পন্ন হয়।
- খাদ্য ও পুষ্টি বিষয় দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, কারণ খাদ্য গ্রহণের ফলেই দেহে পুষ্টি সাধিত হয়।
- পুষ্টির অভাবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

• খাদ্য (Food):
- যা আহার করার পর হজম ও শোষিত হয়ে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে তাকে খাদ্য বলে।
- খাদ্য হজম হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে।
- আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করি, যেমন ভাত, রুটি, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল, পানি ইত্যাদি।

• খাদ্যের সাধারণ কাজ:
- দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- দেহের জন্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করা।
- দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

• খাদ্য উপাদান (Nutrients):
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বলে।
- খাদ্য উপাদান ছয়টি — প্রোটিন, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি।
- প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে প্রধান বা ম্যাক্রো পুষ্টি উপাদান বলা হয়।
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক বা মাইক্রো পুষ্টি উপাদান বলা হয়।
- পানি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য এবং দেহের প্রায় ৬০-৭০% পানি দ্বারা গঠিত।

• অন্যান্য অপশন:
- খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান → খাদ্য উপাদান বা Nutrients বোঝায়।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা → ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বোঝায়।
- দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ → শক্তির চাহিদা বা ক্যালরি প্রয়োজন বোঝায়।
 
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৯.
Pulmonary শিরা পরিবহন করে -
  1. ক) অক্সিজেন যুক্ত রক্ত
  2. খ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) নাইট্রোজেন যুক্ত রক্ত
ব্যাখ্যা

করােনারি ধমনি: অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করােনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।

ইনমিনেট ধমনি: এটি একটি খাটো ও মােটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারােটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমােনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমােনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৫০.
রক্ত সংগ্রহ করার জন্য কোণ শিরা সবচেয়ে উপযুক্ত?
  1. ক) মিডিয়ান কিউবিটাল
  2. খ) র‍্যাসিলিক
  3. গ) সেফালিক
  4. ঘ) ফিমোরাল
ব্যাখ্যা
রক্ত সংগ্রহ করা হয় সাধারণত মিডিয়ান কিউবিটাল শিরা থেকে ।

মানুষের এনাটমিতে, মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন (বা মিডিয়ান বেসিলিক ভেইন) হলো হাতের উপরের দিকের একটি ভাসাভাসা শিরা। এটি সিফালিক শিরা এবং বেসিলিক শিরাকে সংযুক্ত করে। চাপ প্রয়োগ করা হলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি নিয়মিতভাবে ভেনিপাংচার (রক্ত নেওয়ার) জন্য এবং শিরায় ক্যানুলা ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে প্রশস্ত লুমেনের কারণে সুই ঢোকানোর সময় স্থির থাকে।
১,৯৫১.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. হাইড্রিলা
  2. কচ্ছপ
  3. বক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো কচ্ছপ। বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমে খাদ্য শৃঙ্খল থাকে যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণির খাদক হলো উদ্ভিদভক্ষী প্রাণীরা, যেমন বক। হাইড্রিলা হলো জলজ উদ্ভিদ, যা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের কাজ হলো প্রথম শ্রেণির খাদকদের খাওয়া, যা এখানে কচ্ছপ। তাই কচ্ছপ পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) কচ্ছপ।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫২.
মানুষের রক্তে প্রধানত কত ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৫ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ৪ ধরনের
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এই দুই ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- O, A, B এবং AB।
O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

• A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

• B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

• AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৫৩.
অমেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. পাখি
  3. মাছি 
  4. মাছ 
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। 
- সাধারণত একোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

২। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৯৫৪.
এইডস রোগের মূল কারণ কী?
  1. টিবি ব্যাকটেরিয়া
  2. ম্যালেরিয়া
  3. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
  4. হেপাটাইটিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রমক রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্তব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্তব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)। 
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রমক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৫.
ভিটামিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অজৈব যৌগ
  2. জৈব রাসায়নিক পদার্থ
  3. অজৈব কঠিন পদার্থ
  4. অজৈব পদার্থ
  5. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ:
- ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- যা দেহে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যাবলি সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করে।
- দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভিটামিন দু'প্রকার যথা:

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,
- যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পিরিডক্সিন, কোবালামিন ইত্যাদি।
- এবং ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। 

• স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো-ভিটমিন এ, ডি, ই এবং কে।

উল্লেখ্য,
- সাধারণভাবে ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে,
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
- দেহের বৃদ্ধিতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৬.
মানবদেহের কোন কোষটি পরিপক্ব অবস্থায় নিউক্লিয়াসবিহীন থাকে?
  1. নিউট্রোফিল
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. হেপাটোসাইট
  4. নিউরন
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell - RBC) নিউক্লিয়াসবিহীন থাকে।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি মানবদেহে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
• নিউট্রোফিল: নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট শ্বেত রক্তকণিকা।
• হেপাটোসাইট: লিভারের কোষ, নিউক্লিয়াস সম্পন্ন।
• নিউরন: স্নায়ুতন্ত্রের কোষ, নিউক্লিয়াস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৫৭.
শ্বেত কণিকার গড় আয়ুস্কাল কতদিন?
  1. ১ থেকে ১৫ দিন
  2. ১০ থেকে ২০ দিন
  3. ২০ থেকে ৩৫ দিন
  4. ২৫ থেকে ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

⇒ লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

⇒ শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

⇒ অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৮.
কোন ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়? 
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৯.
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন বি
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন ই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে।

• ভিটামিন ই:
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

• ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
- ভিটামিন বি১ এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬০.
'অস্টিয়া' থাকে কোন পর্বের প্রাণিদের?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) পরিফেরা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) অ্যানিলিডা
ব্যাখ্যা
পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত।
- এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভন্ত্যরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯৬১.
মানবদেহে রক্ত সংবহনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের
  2. খ) মানুষের ক্ষেত্রে বৃক্কীয় পোর্টাল সংবহন অনুপস্থিত
  3. গ) পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় শিরা থেকে
  4. ঘ) মানবদেহে চার প্রক্রিয়ায় রক্তসংবহন সংঘটিত হয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। অর্থাৎ রক্ত হৃদপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক নালির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে অভ্যন্তরীণ পরিবহন সম্পন্ন করে।
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্রে দ্বি-চক্রীয় সংবহন অর্থাৎ সিস্টেমিক ও পালমোনারি চক্র দেখা যায়। মানবদেহে চার প্রক্রিয়ায় রক্তসংবহন সংঘটিত হয়, যথা- সিস্টেমিক, পালমোনারি, পোর্টাল এবং করোনারি।
- যে সংবহনে রক্ত হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে পৌছায় এবং ফুসফুস থেকে বাম অলিন্দে ফিরে আসে, তাকে পালমোনারি বা ফুসফুসীয় সংবহন বলে। পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় ধমনি থেকে আর শেষ হয় পালমোনারি শিরার মাধ্যমে বাম অলিন্দে ফেরত আসার মাধ্যমে।
- মেরুদণ্ডী প্রাণীতে সাধারণত যকৃত এবং বৃক্কীয়- এ দুধরনের পোর্টাল সংবহন দেখা যায়। তবে রেনাল পোর্টাল সংবহন মানুষসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীতে অনুপস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯৬২.
চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা কোনটির অভাবে?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) স্নেহ পদার্থ
  4. ঘ) আমিষ
ব্যাখ্যা
স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা দেয়৷ ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়৷ দীর্ঘদীন স্নেহ পদার্থের অভাব হলে শরীরের সঞ্চিত প্রোটিন ক্ষয় হয় এবং দেহের ওজন কমে যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৬৩.
স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের কাজ কী? 
  1. রোগ প্রতিরোধ 
  2. দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
  3. কোষের গঠন 
  4. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও তার উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনো খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(a) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(b) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(c) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(d) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
(e) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(f) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- উপরে উল্লেখ করা খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(g) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৬৪.
মানবদেহে কোন রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. অনুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক) লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে বলে রক্ত লাল দেখায়। 
- মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো। 
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ। 
- পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা কম থাকে। 
- তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে রক্তকণিকার পরিমাণ বেশি থাকে। 
- মানুষের দেহে প্রতি ১২০ দিনে লোহিত রক্তকনিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয়। 
- ব্যায়াম করলে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যাও বেড়ে যায় এবং বেশি দিন বাঁচে। 

খ) শ্বেত রক্তকণিকা: 
- মানুষের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা অনেক কম। 
- লাল অস্থিমজ্জা ও লসিকাগ্রন্থিতে শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়। 
- এদের রং নেই কিন্তু নিউক্লিয়াস আছে। 
- প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে ৫-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বেঁচে থাকে। 
- ব্যায়াম করলে এরা বেশি দিন বাঁচে এবং সংখ্যায় বেড়ে যায়। 
- শ্বেত রক্তকণিকা রক্তে প্রবেশকারী রোগজীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে, ফলে শারীরিক সক্ষমতা মজবুত ও শক্তিশালী হয়। 

গ) অনুচক্রিকা: 
- অনুচক্রিকা আকারে ছোট, গোলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার অণুচক্রিকা থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অনুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- দেহের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৫.
ইনসুলিনের কাজ কী?
  1. গ্লুকোজ উৎপাদন হ্রাস করা
  2. গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করা
  3. প্যানক্রিয়াসকে রক্ষা করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আমরা যখন কিছু খাই এটি গ্লুকোজে পরিনত হয়ে রক্তে আসে। প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নির্গত হয় যা রক্তের গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করে। কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন করতে পারে না বা শরীরের ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারেনা। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায়। মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক পরিমান ৪ - ৬ mmole/L।

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
১,৯৬৬.
নিচের কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়?
  1. ক) ভেসেল
  2. খ) সীভ নল
  3. গ) সঙ্গী কোষ
  4. ঘ) বাস্ট তন্তু
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম টিস্যু:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ।
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। যথা- 
(A) সীভ নল, 
(B) সঙ্গী কোষ,
(C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং
(D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু।
- এই ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ হলো- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনো কখনো খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯৬৭.
বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে-
  1. ক) ক্রোমোজোমে
  2. খ) লাইসোজোমে
  3. গ) রাইবোজোমে
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমে
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের কাজ হলো বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য বহন করা যা ক্রোমোজোমের মধ্যে অবস্থিত জিনের কারণে হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৯৬৮.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) রক্তরস
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা। এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
১,৯৬৯.
যকৃতের সাথে কোন অঙ্গ সংযুক্ত থাকে? 
  1. ডিওডেনাম 
  2. পিত্তথলি 
  3. লিভারডাক 
  4. ডায়াফ্রাম 
ব্যাখ্যা

যকৃত: 
- মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার একটি অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৯৭০.
নিচের কোনটি রক্তের প্লাজমা প্রোটিন?
  1. ক্রিয়েটিনিন
  2. ইউরিয়া
  3. জ্যানথিন
  4. ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা

রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%।
প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯৭১.
Which blood cell is primarily responsible for destroying microbes through the process of phagocytosis?
  1. Red blood cells
  2. Neutrophils
  3. Lymphocytes
  4. Platelets
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 

- এই রক্ত কণিকার Neutrophils ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭২.
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তিনটি 'D' দ্বারা কী বুঝানো হয়? 
  1. Diet, Detox, Drug
  2. Disease, Diet, Discipline
  3. Discipline, Diet, Drug
  4. Doctor, Diet, Diagnosis
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয়। 
- ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের, টাইপ-1 এবং টাইপ-2 । 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug
(১) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(২) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(৩) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৭৩.
মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন কত?
  1. ০.৮০ কেজি
  2. ১.০০ কেজি
  3. ১.৩৬ কেজি
  4. ২.৫০ কেজি
ব্যাখ্যা

- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন লিঙ্গ এবং বয়স ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন সাধারণত শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% হয়। গড়ে একজন পুরুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,৩৩৬ - ১,৩৪৫ গ্রাম এবং একজন নারীর মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,১৯৮ - ১,২২২ গ্রাম। এই গড় মান বিবেচনা করলে মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন ১.৩৬ কেজি (১৩৬০ গ্রাম) ধরা হয়। 

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৭৪.
কোন ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা দেয়?
  1. ক) ভিটামিন-সি
  2. খ) ভিটামিন-ডি
  3. গ) ভিটামিন বি-১
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭৫.
নিউক্লিওটাইডের পলিমারকে বলা হয় -
  1. ক) নিউক্লিক এসিড
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) অ্যাডেনিন
  4. ঘ) থাইমিন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিক অ্যাসিড (ইংরেজি: Nucleic acid) হল জীবকোষের সবচাইতে বড়, অশাখান্বিত, অধিক আণবিক ভরবিশিষ্ট ও পলিমার জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ যা জীবের বিভিন্ন প্রকারের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটি মূলত অসংখ্য নিউক্লিওটাইডের পলিমার। প্রতিটি নিউক্লিওটাইডের তিনটি অংশ থাকে। এগুলো হলো: ৫-কার্বন বিশিষ্ট শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক।
.........................................................

Nucleic acids are polynucleotides—that is, long chainlike molecules composed of a series of nearly identical building blocks called nucleotides. Each nucleotide consists of a nitrogen-containing aromatic base attached to a pentose (five-carbon) sugar, which is in turn attached to a phosphate group.
Source: Britannica
১,৯৭৬.
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য প্রধানত কোন হরমোনটি দায়ী? 
  1. টেস্টোস্টেরন 
  2. প্রজেস্টেরন 
  3. ইস্ট্রোজেন
  4. ইনসুলিন 
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল পরিবর্তনের কারণ: 
- সাধারণত ছেলেমেয়েদের ১১-১৯ বছরের সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। 
- এ সময়ে ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়। 
- তবে আবহাওয়া, স্থান, খাদ্য গ্রহণের ধরন ও পরিমাণ ও মানের তারতম্যের কারণে একেকজনের বয়ঃসন্ধিকালের সময়টা একেক রকম হতে পারে। 
- বয়ঃসন্ধিকালে যেসব পরিবর্তন ঘটে, তার জন্য দায়ী হরমোন নামক একশ্রেণির রাসায়নিক পদার্থ, যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন শরীরের ভিতরে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 
- ছেলে ও মেয়েদের শরীরের হরমোনের মাত্রা ভিন্ন, এ কারণে তাদের শরীর ও মনে যে পরিবর্তন হয় সেটিও ভিন্ন। 
- মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য দায়ী প্রধানত দুটি হরমোন। এ হরমোন দুটোর নাম হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন। 
- এসব হরমোনের প্রভাবে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পরিবর্তন ঘটে। এ হরমোনের কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব বা মাসিক শুরু হয়। 

- বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য যে হরমোন দায়ী, তার নাম হলো টেস্টোস্টেরন। 
- এ হরমোনের প্রভাবে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। 
- ছেলেদের গলায় স্বর ভারী হয়, মুখে দাড়ি ও গোঁফ গজায়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭৭.
'মানুষ' কোন স্তরী বিশিষ্ট প্রাণী? 
  1. একস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. ত্রিস্তরী
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৮.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে-
  1. ক) জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন আনা সম্ভব
  2. খ) জীবের ডিএনএতে গাঠনিক পরিবর্তন আনা সম্ভব
  3. গ) জিন ক্লোনিং করা সম্ভব
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি : অধিকাংশ জীবের জেনেটিক উপাদান হলো DNA। বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, প্রোটিন এবং RNA অণুর সংম্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকরী তথ্য DNA অণুতেই সন্নিবেশিত থাকে।
মানব কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোন জীবের DNA এর পরিবর্তন করে নতুন প্রকৃতির DNA সমন্বয় করার কৌশল ইতিমধ্যে সফলতার সাথে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির দ্বারা জীবের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
যে টেকনোলজির মাধ্যমে কোন জীবের DNA তে প্রত্যাশিত গাঠনিক পরিবর্তন আনা যায় (রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরির মাধ্যমে) সে টেকনোলজি বা পদ্ধতিকে রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি বলে। একই জিনের (DNA অণু) অসংখ্য কপি তৈরি হওয়াকে জিন ক্লোনিং বলা হয়।
জিন ক্লোনিং রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৯.
প্রাণীদেহে প্রোটিন কোন উপাদান থেকে গঠিত?
  1. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  2. গ্লুকোজ
  3. গ্লিসারল
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

প্রোটিন মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (Amino Acid) দিয়ে গঠিত। প্রাণীদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাধ্যমে হয়, যা কোষের গঠন, এনজাইম, হরমোন এবং অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন বা আমিষের গঠন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক অ্যামাইনো অ্যাসিড।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড:
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
১। লাইসিন।
২। লিউসিন।
৩। আইসোলিউসিন।
৪। মিথিওনিন।
৫। ট্রিপটোফ্যান।
৬। ভ্যালিন।
৭। ফিনাইল অ্যালানিন।
৮। থ্রিওনিন।

উৎস - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮০.
অ্যামিবায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন সংগঠিত হয়?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মায়োসিস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিকবৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

অ্যামাইটোসিস হল জীবদেহের এক ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া, যা প্রধানত নিম্ন শ্রেনির জীবে (যেমন- এক কোষী প্রাণি - ব্যাক্টেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি) দেখা যায়। একে ক্যারিওস্টেনোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজনও বলা হয়। একে অনেক সময় দ্বিবিভাজনও বলা হয়।

মাইটোসিস হল কোষ চক্রের একটি ধাপ যেখানে প্রতিলিপিকৃত ক্রোমোজোম দুটি নতুন নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়। মাইটোসিস দ্বারা কোষ বিভাজন জিনগতভাবে সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অভিন্ন কোষের জন্ম দেয় যেখানে ক্রোমোজোমের মোট সংখ্যা বজায় থাকে।

• মিয়োসিস বা মায়োসিস ( ইংরেজি-meiosis) এক বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যাতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
১,৯৮১.
নিচের কোন এনজাইম দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য পরিপাক ঘাটায়?
  1. ম্যাল্টেজ
  2. সুক্রোজ
  3. ল্যাকটোজ
  4. লাইপেজ
ব্যাখ্যা

দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা রাখা এনজাইম (Lactase):

- দুগ্ধজাত খাদ্যের প্রধান শর্করা হলো ল্যাকটোজ (Lactose)।
- এই ল্যাকটোজকে ভাঙার জন্য বিশেষভাবে যে এনজাইমটি কাজ করে তা হলো ল্যাক্টেজ।
- ল্যাক্টেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে ভেঙে ফেলে, যাতে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
- ল্যাক্টেজের ঘাটতি থাকলে ল্যাকটোজ সঠিকভাবে পরিপাক হয় না।
- এর ফলে গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।

অন্যান্য এনজাইম কেন সঠিক নয়:

- ম্যাল্টেজ: মল্টোজ নামক শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে, দুগ্ধজাত খাদ্যে নয়।
- সুক্রোজ: এটি একটি শর্করা, এনজাইম নয়।
- লাইপেজ: চর্বি বা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে, ল্যাকটোজ নয়।

সুতরাং, দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ঘাটতি ঘটায় যে এনজাইমটির অভাব, তা হলো ল্যাকটোজ।
সঠিক উত্তর: গ) ল্যাকটোজ। 

সূত্র - ব্রিটানিকা। 

১,৯৮২.
খাদ্যের প্রকৃতিতে নিম্নলিখিত কোনটি একটি বিশুদ্ধ খাদ্য? 
  1. গ্লুকোজ
  2. খিচুড়ি
  3. দুধ
  4. পেয়ারা
ব্যাখ্যা
পুষ্টির উপাদানে তাপশক্তি নির্ণয়: 
- প্রতিদিন নানা রকম পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা হয়। 
- ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, মাংস থেকে শুরু করে ফলমূল, শাকসবজি, পানীয় ইত্যাদির কোনোটিই বাদ যায় না, তাই পুষ্টি উপাদানে শক্তি পরিমাপ করতে হলে এর প্রকৃতি জেনে নিতে হবে। 
যেমন- 
পুষ্টির প্রকৃতি, মিশ্রখাদ্য ও বিশুদ্ধ খাদ্য: 
- খাদ্যের প্রকৃতি বলতে এটা কি মিশ্রখাদ্য, নাকি বিশুদ্ধ খাদ্য তাকে বোঝায়। 
- মিশ্রখাদ্যে একের অধিক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। 
যেমন: দুধ, ডিম, খিচুড়ি, পেয়ারা ইত্যাদি। 
- অন্যদিকে বিশুদ্ধ খাদ্যে শুধু একটি উপাদান থাকে। 
যেমন: চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি যাতে শর্করা ছাড়া অন্য কিছু থাকে না। 

পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ নির্ণয়: 
- পুষ্টি উপাদানের প্রকৃতি জানার পর ঐ খাদ্যে কী কী উপাদান কী পরিমাণে আছে তা জেনে নিতে হবে। 
- তবে বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ খাদ্য মূল্যতালিকা দেখে জেনে নিতে হয়। 

ক্যালরি নির্ণয়: 
- খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ জানার পর শর্করা, প্রোটিন ও চর্বির ক্যালরি বের করতে হয়। 
- এক্ষেত্রে ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির ক্যালরি মূল্য শূন্য ধরে হিসাব করতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৮৩.
রক্তচাপ পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. থার্মোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়। 
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় অর্থাৎ সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অর্থাৎ প্রসারণের সময় অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৮৪.
রক্ত শূন্যতার অপর নাম কী?
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. সিরোসিস
  4. জন্ডিস
ব্যাখ্যা

• রক্ত শূন্যতার অপর নাম - অ্যানিমিয়া। 

• অ্যানিমিয়া:
- অ্যানিমিয়া (Anemia) হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- হিমোগ্লোবিন একটি আয়রন-সমৃদ্ধ প্রোটিন, যা লোহিত  রক্তকণিকায় থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- যখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়, তখন পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না তখন সে অবস্থা কে  বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তশুন্যতা । 
- এর ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায় । 

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ- 
- দুর্বলতা ও অবসাদ
- মাথা ঘোরা
 - শ্বাসকষ্ট
- ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। 
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা। 

• আনিমিয়ার কারণ- 
- আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron Deficiency Anemia)। 
- ভিটামিন B12 বা ফোলেটের ঘাটতি। 
- দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত (যেমন: ঋতুস্রাব, পেপটিক আলসার)। 

• এ সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য পর্যাপ্ত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

• আয়রনের উৎস - 
- প্রাণিজ উৎস: লিভার, গরুর মাংস, ডিম, মাছ। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: পালংশাক, কলাই, মসুর ডাল, কিশমিশ। 
- আয়রন শোষণে সহায়ক: ভিটামিন C (লেবু, আমলকি)। 

অপশন আলোচনা-
ক) লিউকেমিয়া – রক্তের ক্যানসার, যেখানে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
খ) অ্যানিমিয়া – রক্তে হিমোগ্লোবিন বা লাল রক্তকণিকার অভাবের কারণে রক্ত শূন্যতার অবস্থা।
গ) সিরোসিস – যকৃতের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়জনিত রোগ, যা রক্ত শূন্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ঘ) জন্ডিস – ত্বক ও চোখ হলদেটে হয়ে যাওয়া, প্রধানত লিভারের সমস্যা থেকে ঘটে।

তথ্যসূত্র: 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড)। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- ব্রিটানিকা। 

১,৯৮৫.
মানুষের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- O, A, B এবং AB.
• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে।

• O রক্তের গ্রুপ:
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

• AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

• A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

• B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৬.
শ্বেতসারকে সরল শর্করায় পরিণত করে কোনটি?
  1. ক) পেপসিন
  2. খ) ট্রিপসিন
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক:
- পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে।
- এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে।
- এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে।
- পাচকরসের এনজাইম দিয়ে শর্করা এবং আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহপদার্থের পরিপাক শুরু হয়।
- যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্ত-লবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান।
- লাইপেজ নামক এনজাইমের কাজ যথাযথ সম্পাদনের জন্য পিত্ত-লবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
- স্নেহৰিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলে পরিণত করে।
- অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে।
- আন্ত্রিক রসে আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ ও সুক্রেজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে।
- আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।
- অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে সরল শর্করার পরিণত করে

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৮৭.
মানুষের রক্তে সাধারণত কত শতাংশ LDL থাকে?
  1. ৫৫%
  2. ৬০%
  3. ৬৫%
  4. ৭০%
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
- কোলেস্টেরল তিন প্রকার। 
- একটিকে এলডিএল (Low density lipoprotein) বলা হয়। অনেকে একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
- সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়। 
- রক্তে এইচডিএল (High density lipoprotein) কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। HDL হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- তৃতীয় ধরনের লিপোপ্রোটিনকে ট্রাই গ্লিসারাইড বলা হয়। এ কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।

অপকারিতা: 
- রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়।
যেমন-
ক। অ্যাথারোস্ক্লেরোসিস (ধমনিতে রক্ত চলাচলের জায়গা কমে যাওয়া)।
খ। করোনারি হৃদরোগ বেড়ে যায়।
গ। হৃদপিন্ডের ক্রিয়াকলাপের ব্যাঘাত ঘটে।
ঘ। হৃদপিন্ডের রক্ত চলাচল কমে যাবার ফলে বুকে ব্যথা অনুভূত হয়।

উপকারিতা: 
ক। কোলেস্টেরল কোষ প্রাচীর তৈরি ও রক্ষার কাজ করে।
খ। কোষের ভেদ্যতা নির্ণয় করে বিভিন্ন দ্রব্যাদি কোষে প্রবেশ বা বাধা প্রদান করে।
গ। মানব দেহের জনন হরমোন এন্ড্রোজেন ও ইস্ট্রোজেন তৈরিতে সাহায্য করে।
ঘ। অ্যাডরেনাল গ্রন্থির হরমোন তৈরিতে কোলেস্টেরল ব্যবহৃত হয়।
ঙ। কোলেস্টেরল পিত্ত তৈরি করে। 
চ। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে চামড়ায় কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'D' তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৮.
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে কোন ধরনের প্রাণীদের?
  1. ক) এনেলিডা
  2. খ) নেমাটোডা
  3. গ) কর্ডাটা
  4. ঘ) মলাস্কা
ব্যাখ্যা
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে এনেলিডা পর্বের প্রাণীদের। এদের দেহ নলাকার, খন্ডকায়িত। যেমন কেঁচো, জোঁক।
উৎসঃবিজ্ঞানঃঅষ্টম শ্রেণী
১,৯৮৯.
সমগ্র জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে এ ভাগ করবার প্রস্তাব করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) Margulis
  2. খ) R.H. Whittaker
  3. গ) Carl Linnaeus
  4. ঘ) Louis Pasteur
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালে R.H. Whittaker সমগ্র জীবজগতকে ফাইভ কিংডম্যা ভাগ করবার প্রস্তাব করেন।
পরবর্তীকালে, Margulis ১৯৭৪ সালে R.H. Whittaker এর প্রদত্ত শ্রেণীবিন্যাসের পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ দেন।

R.H. Whittaker এ প্রস্তাবকৃত ফাইভ এনিমেল কিংডম রাজ্যগুলো হল- Monera, Fungi, Plantae, Animalia, Protista.

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৯৯০.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. সাইন্যাপস
  4. নিউরোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body): প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন: কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) EBSCO Link

১,৯৯১.
প্রাণিদেহের বৃহত্তম কোষ কোনটি?
  1. নিউরন
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. ডিম্বাণু
  4. মায়োসাইট
ব্যাখ্যা
- প্রাণিদেহের বৃহত্তম কোষ ডিম্বাণু।
- প্রাণিদেহের দীর্ঘতম কোষ নিউরন। 
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১,৯৯২.
একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় _____।
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোএনার্জি
  3. গ) আইসোম্যাস
  4. ঘ) আইসোমার
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): যেসব নিউক্লাইডের প্রোটন সংখ্যা (Z) সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা (Z) ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় আইসোটোপ৷
আইসােটোন (Isotone): যে সব নিউক্লাইডের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান তাদের বলা হয় আইসােটোন৷
আইসােবার (Isobar): যে সব নিউক্লাইডের ভর সংখ্যা (A) সমান তাদের বলা হয় আইসােবার।
আইসােমার (Isomer): একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় আইসােমার।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১,৯৯৩.
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর দেহে কী সমস্যা দেখা দেয়? 
  1. ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমে যায়
  2. দেহে প্রোটিন শোষণ কমে যায়
  3. গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়
  4. অতিরিক্ত লাল রক্তকণিকা উৎপাদন হয়
ব্যাখ্যা
বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৪.
নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?
  1. ক) আম ও কাঁঠাল
  2. খ) টমেটো ও গাজর
  3. গ) লালশাক ও কচুশাক
  4. ঘ) দুধ ও ডিম
ব্যাখ্যা
দুধ, ডিম, কলিজা, মাশরুম থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
Source:ods.od.nih.gov
১,৯৯৫.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়? 
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড(Heart): 
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে। 
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৬.
হামের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন-
  1. এমআর ভ্যাকসিন
  2. বিসিজি ভ্যাকসিন
  3. ওপিভি ভ্যাকসিন
  4. ডিপিটি ভ্যাকসিন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
• এমআর(MR) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে,
- বিসিজি(BCG) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি(DPT) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- ওপিভি(OPV) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় পোলিও রোগের বিরুদ্ধে।

উৎস: www.dghs.gov.bd
১,৯৯৭.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ কোনটি?
  1. ক) অগ্রমস্তিষ্ক
  2. খ) পশ্চাৎমস্তিষ্ক
  3. গ) মধ্যমস্তিষ্ক
  4. ঘ) সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
• মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা:
১) অগ্রমস্তিষ্ক,
২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

• অগ্রমস্তিষ্ক:
অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা: 
- সেরেব্রাম,
- থ্যালামাস ও
- হাইপোথ্যালামাস।

মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় অংশ। সেরিব্রামকে গুরুমস্তিষ্কও বলা হয়।

• মধ্যমস্তিষ্ক:
হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

• পশ্চাৎমস্তিষ্ক:
এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
- সেরেবেলাম,
- মেডুলা অবলংগাটা এবং
- পনস।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৮.
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. ক) বেলে মাছ
  2. খ) পালং শাক
  3. গ) খাশির মাংস
  4. ঘ) মুরগির মাংস
ব্যাখ্যা
In general, red meats (beef, pork and lamb) have more saturated (bad) fat than chicken, fish and vegetable proteins such as beans. Saturated and trans fats can raise your blood cholesterol and make heart disease worse. - USA Heart Association
১,৯৯৯.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন ধাপে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J অথবা I আকৃতি বিশিষ্ট হয়?
  1. ক) প্রো-মেটাফেজ
  2. খ) মেটাফেজ
  3. গ) অ্যানাফেজ
  4. ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে। এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J অথবা I আকৃতি বিশিষ্ট হয়। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
২,০০০.
মানবদেহের কোন অঙ্গে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) তৈরি হয়?
  1. অস্থি মজ্জা (Bone Marrow)
  2. লিম্ফ নোড (Lymph Node)
  3. প্লীহা (Spleen)
  4. প্যানক্রিয়াস (Pancreas)
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা প্রধানত অস্থি মজ্জার (Bone Marrow) মধ্যে তৈরি হয়।

লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায়চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- লোহিত রক্তকণিকা (RBCs) সহ দেহের সমস্ত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে হেমাটোপোয়েসিস (Hematopoiesis) বলা হয়।
- RBC তৈরির প্রক্রিয়াকে বিশেষভাবে ইরিথ্রোপোয়েসিস (Erythropoiesis) বলা হয়।
- প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত অস্থি মজ্জা (Bone Marrow)-এর মধ্যে ঘটে।

অন্যান্য অপশন:
- প্লীহা (Spleen) হলো লোহিত রক্তকণিকার সঞ্চয়স্থান এবং কবরস্থান, যেখানে পুরাতন RBCsগুলি ধ্বংস হয়।
- লিম্ফ নোড হলো লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের অংশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় হজম সহায়ক এনজাইম এবং হরমোন (যেমন ইনসুলিন) নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।