বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১২ / ২৩ · ১,১০১১,২০০ / ২,২২৭

১,১০১.
ক্রিস্টি পাওয়া যায়-
  1. ক) সাইটোপ্লাজমে
  2. খ) কোষগহ্বরে
  3. গ) নিউক্লিয়াসে
  4. ঘ) মাইটোকনড্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের দিকের স্তর ভেতরের দিকে ভাজ হয়ে থাকে যাকে ক্রিস্টি বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,১০২.
বিষাক্ত নিকোটিন দেহে কোন রোগ সৃষ্টি করে? 
  1. ক্যান্সার
  2. ওটিটিস
  3. জ্বর
  4. সাইনুসাইটিস
ব্যাখ্যা
ধুমপান: 
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তাদের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো— নিকোটিন, টার ও কার্বন মনোঅক্সাইড।

ধুমপানের প্রভাব: 
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়। 
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে। 
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে। ধমনি গাত্রে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ হয়। 
৫। ধুমপান এর ফলে গলবিল ও অন্ননালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ধুমপায়ীদের অধুমপায়ীর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি। 
৬। ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
৭। ধুমপান পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং অধুমপায়ীদের শ্বাস গ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৩.
তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র কোন ধরণের?
  1. উন্মুক্ত
  2. বন্ধ
  3. উভয়
  4. কোনটাই না
ব্যাখ্যা

• তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System of Cockroach):
- তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র - উন্মুক্ত (Open type)।
- এদের দেহে রক্ত সম্পূর্ণভাবে রক্তনালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
- রক্ত (হিমোলিম্ফ) দেহগহ্বরের মধ্যে অবস্থিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সরাসরি স্নান করায়।
- তেলাপোকার হৃদপিণ্ড একটি দীর্ঘ নলাকার গঠনবিশিষ্ট এবং দেহের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
- রক্ত পরিবহনের সময় অক্সিজেন বহন করে না, কারণ তেলাপোকা ট্র্যাকিয়াল শ্বাসপ্রণালীর মাধ্যমে শ্বাস গ্রহণ করে।
- তাই তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্রকে বন্ধ (Closed) বলা যায় না।

সুতরাং, তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্রের ধরণ হলো - উন্মুক্ত।
সঠিক উত্তর: ক) উন্মুক্ত। 

সূত্র - sciencedirect journal.

১,১০৪.
মানব মস্তিষ্ক কতটি প্রধান অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক - অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস।

মধ্যমস্তিষ্ক - হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

পশ্চাৎমস্তিষ্ক - এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১০৫.
ব্যাকটেরিয়া কোষে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  3. গ) গলগি বডি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
- এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।

 সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৬.
In the human body, what is the approximate percentage of plasma in the blood?
  1. 30%
  2. 70%
  3. 90%
  4. 55%
  5. 65%
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

• রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
• লোহিত রক্তকণিকা, 
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা (platelet) হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১০৭.
সুষম খাদ্যে শর্করার শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ৮০ %
  2. ৯০ %
  3. ৬০ %
  4. ১৫ %
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্য:

- মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য।
- সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি।
- সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত =  ৪ : ১ : ১। 

• সুষম খাদ্যের উপাদান:
১. শর্করা (৬০%),
২. আমিষ (১৫%),
৩. ভিটামিন,
৪. খনিজ লবণ (১০%),
৫. চর্বি (১৫%) এবং 
৬. পানি।

- যে খাদ্যে এই ছয়টি উাপাদান পরিমিত পরিমাণে রয়েছে তাকে আমরা বলি সুষম খাদ্য। এই খাদ্য ব্যক্তি বিশেষের দৈহিক চাহিদা পূরণ করে এবং তাকে সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।

ছবির উৎস: প্রথম আলো 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পরিবেশ-শিক্ষা বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা: ২৬৯, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৮.
প্রথম টেস্টটিউব বেবীত্রয় কবে ভূমিষ্ঠ হয়?
  1. ক) ২৭ মে
  2. খ) ২৪ মে
  3. গ) ৩০ মে
  4. ঘ) ৩১ মে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্লাউনের জন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডে।

বাংলাদেশে প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় ২০০১ সালের ২৯ মে ঢাকার একটি কিনিকে। দেশের প্রথম টেস্টটিউব বেবির মা ফিরোজা বেগম (৩৩) ও বাবা আবু হানিফ তাদের বিবাহিত জীবনের ১৬ বছর পর এ টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতিতে একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান লাভ করেন।
ডা. পারভীন ফাতেমার তত্ত্বাবধানে এই টেস্টটিউব বেবীদের জন্ম হয়েছিল।

উৎস: সময় নিউজ/টিভি।
১,১০৯.
ভাইরাস একটি-
  1. ক) এককোষীয় জীব
  2. খ) বহুকোষীয় জীব
  3. গ) অকোষীয় জীব
  4. ঘ) আণুবীক্ষণিক
ব্যাখ্যা
ভাইরাস অর্থ বিষ। ভাইরাস হলো এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক ও অকোষীয় জীব জীব। যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের ভিতরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১০.
নিচের কোনটি দুই অণু বিশিষ্ট শর্করার উদাহরণ?
  1. গ্লুকোজ
  2. ল্যাকটোজ
  3. শ্বেতসার
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:

- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা। 
- উদাহরণ: গ্লুকোজ। 
- উৎস: মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
- উদাহরণ: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ। 
- উৎস:  চিনি ও দুধ ইত্যাদি। 

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা। 
- উদাহরণ: শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন। 
- উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১১.
লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের কোথায় সঞ্চিত থাকে? 
  1. যকৃতে 
  2. বৃক্কে 
  3. অস্থিমজ্জায় 
  4. প্লীহাতে 
ব্যাখ্যা

- লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে। 

লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। 
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে। 
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। 
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম। 

- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। 
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায়চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লীহা-তে সঞ্চিত থাকে। 
- তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১২.
একাধিক অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত হয়-
  1. ক) টিস্যু
  2. খ) তন্ত্র
  3. গ) টিস্যু ও তন্ত্র
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তন্ত্র- একাধিক অঙ্গ মিলিত হয়ে একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করলে তাকে তন্ত্র বলা হয়।
যেমন- শ্বসন কাজ পরিচালনার জন্য শ্বাসনালী, ফুসফুস ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয় প্রাণীর শ্বসন তন্ত্র।
এ রকম আরও কিছু তন্ত্র হলো পরিপাক তন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, রেচন তন্ত্র, প্রজনন তন্ত্র ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৩.
ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. মূত্রনালি
  3. পিটুইটারী গ্রন্থি
  4. পিত্তথলি
ব্যাখ্যা
• ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 

• ইনসুলিন:

- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইনB) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৪.
ভেনাস হার্ট পাওয়া যায়-
  1. মাছে
  2. উভচরে
  3. সরীসৃপে
  4. পাখিতে
ব্যাখ্যা

• ভেনাস হার্ট (Venous Heart):
- ভেনাস হার্ট বলতে এমন হৃদপিণ্ডকে বোঝায় যেখানে কেবলমাত্র অক্সিজেনবিহীন (deoxygenated) রক্ত প্রবাহিত হয়।
- এই ধরনের হৃদপিণ্ডে শরীর থেকে আসা রক্ত সরাসরি ফুলকায় (gills) পাঠানো হয় অক্সিজেন গ্রহণের জন্য।
- এখানে হৃদপিণ্ড অক্সিজেনযুক্ত রক্ত গ্রহণ বা পাম্প করে না।
- ফলে হৃদপিণ্ডটিকে সম্পূর্ণভাবে “ভেনাস” বা শিরাযুক্ত রক্তবাহী হৃদপিণ্ড বলা হয়।

• মাছের হৃদপিণ্ড:
- মাছের হৃদপিণ্ডে সাধারণত দুইটি প্রকোষ্ঠ থাকে-একটি অলিন্দ (atrium) ও একটি নিলয় (ventricle)।
- মাছের হৃদপিণ্ডে কেবলমাত্র অক্সিজেনবিহীন রক্ত প্রবাহিত হয়।
- এই রক্ত ফুলকায় গিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- তাই মাছের হৃদপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলা হয়।

• উভচর, সরীসৃপ ও পাখির ক্ষেত্রে:
- উভচরের হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন উভয় ধরনের রক্ত প্রবাহিত হয়।
- সরীসৃপ ও পাখির হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন আরও উন্নত ও পৃথকভাবে সংগঠিত।
- তাই এদের হৃদপিণ্ড ভেনাস হার্ট নয়।

সুতরাং, ভেনাস হার্ট পাওয়া যায় মাছে।
- সঠিক উত্তর: ক) মাছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৫.
কোষের বর্জ্য পদার্থ এবং বাইরের জীবাণু ধ্বংস করার কাজটি কোন অঙ্গাণু করে?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. লাইসোজোম
ব্যাখ্যা

লাইসোজোম কোষের বর্জ্য পদার্থ এবং বাইরের জীবাণু ধ্বংস করার কাজ করে।

• লাইসোজোম:
- লাইসোজোম কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু, যা কোষকে জীবাণু এবং বর্জ্য পদার্থের হাত থেকে রক্ষা করে।
- এটিতে বিভিন্ন হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে যা ক্ষতিকর পদার্থকে ভেঙে ফেলে।
- এ কারণেই লাইসোজোমকে প্রায়শই কোষের "আত্মহননকারী থলি" বা "suicidal bag" বলা হয়।

• লাইসোজোমের কাজসমূহ-
১. এরা ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২. বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩. লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৪. কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৫. এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
৬. টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে।
৭. ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১৬.
হরমোন কীভাবে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়? 
  1. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে
  2. রক্তের মাধ্যমে
  3. শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে
  4. পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ; যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- এটি রাসায়নিক দূত হিসেবে সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্পমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরণ হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে- 
(i) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), 
(ii) থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), 
(iii) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), 
(iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis), 
(v) ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary) এবং 
(vi) অমরা (Placenta)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১৭.
নিচের কোন রোগটি এডিস মশা দ্বারা ছড়ায় না?
  1. ক) ডেঙ্গু জ্বর
  2. খ) জিকা জ্বর
  3. গ) কালা জ্বর
  4. ঘ) পীত জ্বর
ব্যাখ্যা
এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর, জিকা জ্বর, পীত জ্বর এবং চিকনগুনিয়া রোগ ছড়ায়।
সূত্রঃ ৩৮তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১,১১৮.
সরল টিস্যু কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. প্যারেনকাইমা, ২. কোলেনকাইমা ও ৩. স্ক্লেরেনকাইমা। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১৯.
কোন অঙ্গাণুকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলা হয়?
  1. মস্তিষ্ক
  2. ফুসফুস
  3. যকৃত
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত পেটের উপরিভাগে ডানদিকে অবস্থিত। 
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়। 
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে। 

যকৃত -এর কাজ: 
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে। 
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। 
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। 
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে। 
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। 
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে। 
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২০.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. ক) কুমির
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) সাপ
  4. ঘ) শুশুক
ব্যাখ্যা

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- উদাহরণ: তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।
- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

১,১২১.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধা পাওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. ডিমেনশিয়া
  2. স্ট্রোক
  3. হার্ট অ্যাটাক
  4. প্যারালাইসিস
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২২.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. তিন স্তর
  2. চার স্তর
  3. পাঁচ স্তর
  4. ছয় স্তর
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর তিন স্তর বিশিষ্ট।

• হৃৎপিণ্ডের আবরণ:

- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন -

১. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

২. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর।
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

৩. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৩.
মরুভূমির জাহাজ বলা হয়-
  1. ক) ঘোড়া
  2. খ) উট
  3. গ) গ্যাজেল হরিণ
  4. ঘ) দুম্বা
ব্যাখ্যা
• উটকে মরুভূমির জাহাজ বলে।
- উট মরুজীবনের জন্য চমৎকারভাবে অভিযোজিত। এদের প্রশস্ত পদ বালির উপর চলাচলের জন্য যেমন উপযুক্ত, তেমনি নাসারন্ধ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা এবং সংবদ্ধ করার উপযোগী। 
- দুই সারি চোখের পাপড়ি মরুভূমিতে বসবাসের জন্য খুবই সহায়ক। আর এসব উপযোগিতার কারণে উট মরুভূমিতে সহজেই মালামাল বহন করতে পারে।
১,১২৪.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০ টি
  2. ২২ টি
  3. ২৩ টি
  4. ৪৪ টি
ব্যাখ্যা
- মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রায় একই পদ্ধতিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়।
- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া।
- এর মধ্যে 22 জোড়া বা 44টিকে অটোজোম (Autosome) এবং 1 জোড়াকে  সেক্স- ক্রোমোজোম (Sex chromosome) বলা হয়।

- অটোজোমগুলো শারীরবৃত্তীয়, ভ্রূণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এক্স (X) এবং ওয়াই (Y) নামে পরিচিত। লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৫.
বিভাজন ক্ষমতা নেই কোন কোষের?
  1. ক) স্নায়ু কোষের
  2. খ) পেশি কোষের
  3. গ) আবরণী কোষের
  4. ঘ) জনন কোষের
ব্যাখ্যা
নিউরন বা স্নায়ুকোষ বহুভাজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,১২৬.
নিচের কোনটি প্রাণিজ আমিষ?
  1. ডাল
  2. বাদাম
  3. মটরশুঁটি
  4. দুধ
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা - 
প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণি দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৭.
কোনটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার নয়?
  1. ডাউন সিন্ড্রোম
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ
  4. বর্ণান্ধতা
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসঅর্ডার:
-  বংশগতির অনিয়মের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। বংশগতির এ অনিয়মকে বলা হয় জেনেটিক ডিসঅর্ডার। এটি এক প্রকার অস্বাভাবিকতা। 
- এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-X সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটনস সিন্ড্রোম, সিকিল সেল (রক্তশূন্যতা) ইত্যাদি।

- এছাড়া, হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ হলো লেপ্রসি বা কুষ্ঠ রোগ।
- হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ কোনো জেনেটিক  ডিসঅর্ডার নয়
- শত সহস্র বছর ধরে এ রোগকে কেন্দ্র করে নানাবিধ অলীক ধারণা ও কুসংস্কার চলে আসছে, কোথাও এটাকে মনে করা হয়েছে বিধাতার অভিশাপ, কোথাও বা পাপাচারের ফসল। 
- ১৮৭৩ সালে নরওয়ের বিজ্ঞানী গেরহার্ড হ্যানসেন প্রমাণ করেন, কুষ্ঠ আসলে একটি জীবাণুঘটিত রোগ, যা একটি ধীরলয়ে বংশ বিস্তার করা ব্যাকটেরিয়ার কারণে ঘটে। 
- এই ব্যাকটেরিয়াটি Mycobacterium leprae নামে পরিচিত। 
- সেই থেকে এ রোগটি হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ নামেও পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দি ডেইলি স্টার বাংলা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১। [লিঙ্ক]
১,১২৮.
Who is the proponent of the theory of Inheritance of Acquired Characters?
  1. Charles Darwin
  2. Gregor Johann Mendel
  3. Jean-Baptiste Lamarck
  4. Alfred Russel Wallace
  5. Isaac Newton
ব্যাখ্যা
• ফরাসী বিজ্ঞানী জা ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদের প্রবক্তা। 

• ল্যামার্কিজম:
- ল্যামার্কের মতবাদ (Lamarckism) অনুযায়ী, জীব তার জীবদ্দশায় যে বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করে, সেগুলো তার বংশধরদের মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে। 
- একে "অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার" বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, জিরাফের লম্বা গলা বিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে এই মতবাদ অনুসারে, কারণ তারা গাছের উপরের পাতা খাবার জন্য তাদের ঘাড়কে প্রসারিত করতে করতে লম্বা করেছে, এবং এই লম্বা ঘাড় তাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে।  
- ফরাসী বিজ্ঞানী জা ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ প্রদান করেন, যা ল্যামার্কিজম নামে পরিচিত। 

• ল্যামার্কিজমের মূল ধারণা হলো:
- জীব তার পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করার জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার বা অপব্যবহার করে।
- ব্যবহৃত অঙ্গগুলো শক্তিশালী হয় এবং অব্যবহৃত অঙ্গগুলো দুর্বল হয়ে যায়।
- এই অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।

• ডডসন ১৯০৬০ খ্রিস্টাব্দে বিবর্তন সম্বন্ধে-এর বিস্তৃত ধারণাকে ৪টি সূত্রের অধীন করে ব্যাখ্যার সুবিধা করে দেন। 
- প্রথম সূত্র- বৃদ্ধি: প্রত্যেক জীব তার জীবনকালে অন্তঃজীবনী শক্তির প্রভাবে দেহের আকার এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গের বৃদ্ধি ঘটাতে চায়।
- দ্বিতীয় সূত্র- পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের সক্রিয় প্রচেষ্টা ও আঙ্গিক পরিবর্তন: সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে অভিযোজনের জন্য সৃষ্ট অভাবরোধের উদ্দীপনা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে দেহের আঙ্গিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তৃতীয় সুত্র- ব্যবহার ও অব্যবহার: ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে দেহের একটি বিশেষ অঙ্গ সুগঠিত, কার্যক্ষম ও বড় হতে পারে, আবার অব্যবহার অঙ্গটি ক্রমশ ক্ষুদ্র হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 
- চতুর্থ সূত্র- অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার: প্রতিটি জীবরে জীবদ্দশায় অর্জিত সকল বৈশিষ্ট ভবিষ্যৎ বংশধরে সঞ্চারিত হয়।

• তবে, আধুনিক জিনতত্ত্ব এই মতবাদকে ভুল প্রমাণ করেছে। জিনতত্ত্ব অনুসারে, জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো তার জিনগত গঠনকে প্রভাবিত করে না এবং তাই বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় না। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,১২৯.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?
  1. কলেরা 
  2. পোলিও 
  3. সিফিলিস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে পোলিও। 

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- 
• জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- 
• যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩০.
নিচের কোনটি অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীর উদাহরণ?
  1. প্রজাপতি
  2. কেঁচো
  3. চিংড়ি
  4. আরশোলা
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস: 
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
১,১৩১.
In which organ system does pneumonia lead to inflammation and fluid accumulation?
  1. Nervous system
  2. Cardiovascular system
  3. Respiratory system
  4. Digestive system
  5. Urinary system
ব্যাখ্যা
• নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। 
- এ দ্বারা শ্বসণতন্ত্র বা, Respiratory system আক্রান্ত হয় এবং ফুসফুসে প্রদাহ হয় এবং পানি জমতে থাকে।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

কারণ: 
- নিউমোকক্কাস ( Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩২.
বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়?
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: 
- বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.আয়তনের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ, দীর্ঘতম লবণাক্ত জলাভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। 
- এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদ্যমান যার মধ্যে আছে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- প্রধান সরীসৃপ জাতিগুলোর মধ্যে আছে নোনা পানির কুমির, অজগর, গোখরা, গুইসাপ, সামুদ্রিক সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ এবং অন্যান্য। 
- বাংলাদেশের সুন্দরবনে চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ নামক দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়। 
- এই দুই প্রজাতির মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা একটু বেশি হলেও মায়া হরিণের সংখ্যা খুবই কম। 
উল্লেখ্য যে, 
- বাংলাদেশ এই প্রজাতি ছাড়াও সাম্বার হরিণ, বারোশিঙা (Swamp) হরিণ ও হগ হরিণ নামে তিনটি প্রজাতির হরিণ রয়েছে যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। 
- ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১,১৩৩.
পিতা ও মাতা দুই জনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে, সন্তান থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. ক) ২৫%
  2. খ) ৫০%
  3. গ) ৭৫%
  4. ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা
- থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ।
- মা ও বাবা দুজনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ার রোগী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 
- এটি যেমন কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তেমনি রক্তের ক্যানসারও নয়।
- জিনগত ত্রুটির কারণে এই রোগে অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় বলে লোহিত রক্তকণিকা সময়ের আগেই ভেঙে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 

• পিতা ও মাতা দুই জনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে -
- সুস্থ সন্তান জন্ম নেয়ার সম্ভাব্যতা - ২৫%
- সুস্থ কিন্তু বাহক শিশু জন্মের সম্ভাব্যতা - ৫০%
- থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাব্যতা - ২৫%।


সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৪.
Platyhelminthes-এর দেহে কী থাকে না? 
  1. শিখা অঙ্গ 
  2. পুরু কিউটিকল 
  3. চোষক ও আংটা 
  4. সম্পূর্ণ পৌষ্টিকতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
• দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,১৩৫.
জেনেটিক ডিজঅর্ডার- এর ফলে মানব দেহে কোন ধরনের রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) বর্ণান্ধতা
  2. খ) থ্যালাসেমিয়া
  3. গ) ডাউন সিনড্রোম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডার : বংশগতির অনিয়মের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে যা উদ্বেগের বিষয়। বংশগতির এ অনিয়মকে বলা হয় জেনেটিক ডিসওর্ডার।
ইহা এক প্রকার অস্বাভাবিকতা। এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-এক্স সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটন’স সিন্ড্রোম, সিকিল সেল (রক্তশূন্যতা) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৬.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. ধমনির প্রসারণের চাপ 
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ 
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
  4. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ উভয় চাপ 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হল হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৭.
স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য মূলত কী কাজ করে? 
  1. মল নিষ্কাশনে সহায়তা করে 
  2. দেহে শক্তি ও তাপ উৎপাদন করে 
  3. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে 
  4. কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে 
ব্যাখ্যা

খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। 
শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
• স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে থাকে। 

- এছাড়া আরোও তিন ধরনের উপাদান দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
• পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরেও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো ধরনের পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। 
• রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৮.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. Erythrocyte
  2. Thrombocytes
  3. Lymphocytes
  4. Heparin
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা (Thrombocytes) বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে।
- রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷ 

- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়।
- হেপারিন (Heparin) রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।

- লোহিত রক্তকণিকা (Erythrocyte) বা শ্বেত রক্তকণিকা (Lymphocytes) রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,১৩৯.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH কোনটি?
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7।
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠে এসে জমা হয়?
  1. বাম অলিন্দ
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. করোনারি সাইনাস
ব্যাখ্যা

সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে এসে জমা হয়। এরপর এই রক্ত ডান নিলয়ের মাধ্যমে ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এসে রক্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দে প্রবেশ করে৷ বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে এবং মহাধমনির মাধ্যমে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে৷
করোনারি সাইনাস হৃদপিণ্ডের গাত্র থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে এনে ডান অলিন্দে পৌছে দেয়৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,১৪১.
হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-
  1. ক) ভেইন
  2. খ) আর্টারি
  3. গ) ক্যাপিলারি
  4. ঘ) নার্ভ
ব্যাখ্যা

যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,১৪২.
ফুসফুস মানবদেহের কোন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ? 
  1. রেচনতন্ত্র
  2. শ্বাসতন্ত্র
  3. পরিপাকতন্ত্র
  4. সঞ্চালনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
ফুসফুস: 
- ফুসফুস মানবদেহের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভেতর হৃদপিণ্ডের দু'পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে ও বাম ফুসফুস দু'খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দু'ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- দু'ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ লাগে না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ু থলিগুলোই হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়, প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। এ বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকাগুলোর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৩.
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যখন প্লেটলেটের স্তর নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়, তখন সেটিকে কী বলা হয়?
  1. Thrombocytopenia
  2. Thrombocytosis
  3. Leukopenia
  4. Polycythemia
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 

যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।

৭।  থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া:
- ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যখন প্লেটলেটের স্তর নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়, তখন সেটিকে বলা হয় - থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া।
- এটি সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর, অটোইমিউন রোগ, বা কিছু চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে ঘটে।
- প্লাটিলেটের অভাবের কারণে রক্তপাত এবং সহজে ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৪.
করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নিচের কোনটি দেওয়া হয়?
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. নাইট্রোগ্লিসারাইড
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিওপালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।

• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

•  হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৫.
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে -
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. অণুচক্রিকা
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৬.
"অক্সিপিটাল লোব" - নিচের কোন অঙ্গাণুর অংশবিশেষ?
  1. অগ্র মস্তিষ্ক
  2. মধ্য মস্তিষ্ক
  3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা

মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।
অক্সিপিটাল লোব - অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

১,১৪৭.
বহিঃকর্ণে আছে-
  1. ক) ইউট্রিকুলাস
  2. খ) স্যাকুলাস
  3. গ) কোনোটিই না
  4. ঘ) পিনা
ব্যাখ্যা
পিনা, কর্ণকুহর আর কর্ণপটহ আছে বহিঃকর্ণে। ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস নিয়ে মধ্যকর্ণ গঠিত। ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস অন্তঃকর্ণের অংশ।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,১৪৮.
‘সান্ডা’ কোন শ্রেণির প্রাণী?
  1. পক্ষী
  2. সরীসৃপ
  3. উভচর
  4. স্তন্যপায়ী
ব্যাখ্যা
সান্ডা:
- সান্ডা হলো এক ধরনের টিকটিকি জাতীয় সরীসৃপ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Uromastyx।
- এটি Agamidae (আগামিডে) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি মূলত মরু অঞ্চলে বসবাসকারী এক ধরনের শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
- এর আদি নিবাস আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চল।
- দেখতে গুইসাপের মতো হলেও সান্ডার দেহ তুলনামূলক ছোট এবং লেজ মোটা ও খাঁজযুক্ত।
- এই লেজ সে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে থাকে।
- সাধারণত সান্ডা তৃণভোজী প্রাণী, তবে মাঝে মাঝে পোকামাকড় বা ছোট টিকটিকিও খায়।
- দিনের বেলা রোদ পোহানো এবং রাতে মাটির গর্তে আশ্রয় নেওয়া এদের স্বাভাবিক জীবনধারা।
- এটি বিষাক্ত নয় এবং সাপ জাতীয় প্রাণী নয়।

উৎস: United News of Bangladesh.
১,১৪৯.
নিচের কোনটি কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. প্রোটোজোয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine - OCV) গ্রহণ।
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO)

১,১৫০.
যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের কী বলে?
  1. এজেন্ট
  2. হোস্ট
  3. ভেক্টর
  4. হোস্টেজ
ব্যাখ্যা
• ভেক্টর (Vector):
- যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের রোগ বাহক বা ভেক্টর (Vector) বলে।
- ভেক্টর এমন প্রাণী, সাধারণত কীটপতঙ্গ বা আর্থ্রোপড, যারা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু (যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্রোটোজোয়া) বহন করে এবং এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে স্থানান্তর করে।
- এরা নিজে রোগ সৃষ্টি করে না, তবে রোগ ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
• মশা:
- এডিস মশা: ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাস বহন করে।
- কিউলেক্স মশা: ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়।
- এনোফিলিস মশা: ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি প্রাণীবিজ্ঞান।
১,১৫১.
১ খাদ্য ক্যালরি প্রায় কত কিলোজুলের সমান?
  1. ১.৫ কিলোজুল
  2. ২.৪ কিলোজুল
  3. ৩.৪ কিলোজুল
  4. ৪.২ কিলোজুল
ব্যাখ্যা

খাদ্য শক্তি পরিমাপের একক: 
- শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। 
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি হচ্ছে তাপ শক্তি। 
- তাপ শক্তির একক হচ্ছে ক্যালরি। 
- পদার্থবিজ্ঞানের হিসেবে এক কিলোগ্রাম (1000 গ্রাম) পানির উষ্ণতা 1 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে 1000 ক্যালরি বা 1 কিলোক্যালরি তাপের প্রয়োজন হয়। 
- পুষ্টিবিদেরা খাদ্যের শক্তি বোঝানোর জন্যেও "ক্যালরি” শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খাদ্যের ক্যালরি আসলে কিলোক্যালরি। 
উল্লেখ্য, বিভ্রান্তি এড়াতে এখানে খাদ্য শক্তি বোঝানোর জন্য খাদ্য ক্যালরি অথবা কিলোক্যালরি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 
- আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, খাদ্যের শক্তিমূল্য প্রকাশের ক্ষেত্রে খাদ্য ক্যালরি কিংবা কিলোক্যালরির পরিবর্তে কিলোজুল একক ব্যবহার করা উচিত। 
এক্ষেত্রে, 1 খাদ্য ক্যালরি = 1 কিলোক্যালরি = 4.2 কিলোজুল (প্রায়)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৫২.
নিচের কোন অঙ্গ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়?
  1. পেপসিন
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. পিটুইটারী গ্রান্ড
  4. লিভার
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস:
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫৩.
মানুষের মুখমন্ডলে কয়টি সাইনাস থাকে?
  1. ৪টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
আমাদের করোটি ও মুখমন্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে।
মানুষের মুখমন্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। যথা- (ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, (খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, (গ) এথময়েড সাইনাস এবং (ঘ) স্ফেনয়েড সাইনাস।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৪.
হৃৎপিন্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র-
  1. ক) কম্পাস
  2. খ) স্টেথোস্কোপ
  3. গ) গ্যালভানোমিটার
  4. ঘ) কার্ডিওগ্রাফ
ব্যাখ্যা
• হৃদপিন্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - কার্ডিওগ্রাফ

• অন্যান্য অপশন:
- গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
- মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনার জন্য সাধারণত স্টেথোস্কোপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
১,১৫৫.
মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় কোনটি? 
  1. Femur
  2. Stapes
  3. Radius
  4. Tibia
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় কোনটি?

সমাধান: 
মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস (Stapes) 

স্টেপিস মানবদেহের মধ্যকর্ণে (middle ear) অবস্থিত তিনটি শ্রবণাস্থির (ossicles) মধ্যে একটি।
এটি স্টিরাপ (stirrup) আকৃতির এবং সবচেয়ে ছোট ও হালকা হাড়।
গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫–৩.৫ মিলিমিটার (একটি ছোট চালের দানার চেয়েও ছোট)।
ওজন মাত্র ২-৪ মিলিগ্রাম।
কাজ: শব্দের কম্পনকে অভ্যন্তরীণ কানে (inner ear) স্থানান্তর করে।

উৎস: 
- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- National Geographic – Human Body Facts.

১,১৫৬.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ডায়রিয়া
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. কোষ্ঠকাঠিন্য
  4. মাথাব্যথা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?

সমাধান:
ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।

- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ: 
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড), 
- গ্লুকোজ, 
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, 
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

উৎস: 
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট। 

১,১৫৭.
মানুষের কঙ্কালতন্ত্রে অক্ষীয় অস্থির সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৪০টি
  2. খ) ৮০টি
  3. গ) ১২৬টি
  4. ঘ) ২০৬টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের কঙ্কালতন্ত্রে অক্ষীয় অস্থির সংখ্যা ৮০টি

মানুষের কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত এবং এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকস্কাল বলে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা-
১. অক্ষীয় কঙ্কাল।
২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।

অক্ষীয় কঙ্কাল: কঙ্কালতন্ত্রে অক্ষীয় অস্থির সংখ্যা ৮০টি। যথা:
- করোটিতে অস্থি সংখ্যা ২২টি
- বক্ষপিঞ্জরে অস্থি সংখ্যা ২৫টি
- মেরুদন্ডে ৩৩টি অস্থি রয়েছে।

উপাঙ্গীয় কঙ্কাল: উপাঙ্গীয় অস্থির সংখ্যা ১২৬টি। যথা:
- বাহুতে অস্থি সংখ্যা ৬০টি।
- পা এ অস্থি সংখ্যা ৬০টি।
- বক্ষ অস্থি চক্রে অস্থি সংখ্যা ৪টি।
- শ্রেণি অস্থি চক্রে ২টি অস্থি রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৮.
মানবদেহে সাধারণত লসিকার পরিমাণ কত? 
  1. ১-২ মি.লি 
  2. ১-২ লিটার 
  3. ৫-৬ লিটার 
  4. ১০-১২ মি.লি 
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র: 
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। 
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। 
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” বলে। 
- অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৯.
অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. সমুদ্র তারা
  2. অ্যামিবা
  3. ভলভক্স
  4. যকৃত কৃমি
ব্যাখ্যা
• অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী হচ্ছে "সমুদ্র তারা"।

• প্রতিসাম্য:

- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)।

২. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)।

৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)।

৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)।

৫. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬০.
আমলকি, লেবু, পেয়ারা কোন ভিটামিনের উৎস?
  1. ভিটামিন - C
  2. ভিটামিন- D
  3. ভিটামিন - E
  4. ভিটামিন- K
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন এ - দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন বি - ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদাম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদ্পিণ্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি ।
- ভিটামিন সি - পেয়ারা, আমলকি, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন ডি - ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'কে' পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬১.
A রক্তের গ্রুপে কোন অ্যান্টিজেনটি থাকে? 
  1. A
  2. B
  3. উভয় A ও B
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬২.
কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. স্থিতিস্থাপক
  2. তন্তুময়
  3. দৃঢ়
  4. নরম
ব্যাখ্যা

•  অস্থির বৈশিষ্ট্য - দৃঢ়। 

অস্থির বৈশিষ্ট্য:

- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৩.
ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. মূত্রনালি
  2. ডিম্বাশয়
  3. অগ্ন্যাশয়
  4. ফুসফুস
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:
- ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং (Frederick G. Banting) ।
- তিনি একজন কানাডিয়ান চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ইনসুলিনের আবিষ্কারক।
- তিনি বিজ্ঞানী Charles H. Best এবং রোমানিয়ান ফিজিওলজিস্ট Nicolas C. Paulescu এর সঙ্গে ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইনসুলিন: ইনসুলিন একটি হরমোন।
- এটি অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৪.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. হাঙ্গর
  3. শুশুক
  4. জেলী ফিস
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই। তাই শুশুক পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়। 

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

উৎস: uk.whales.org
১,১৬৫.
অগ্ন্যাশয়রসে কোন উৎসেচক থাকে না?
  1. পেপসিন
  2. লাইপেজ
  3. ট্রিপসিন
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। 
- তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬৬.
মানব দেহের কোন সংবেদী অঙ্গ ভারসাম্য অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত? 
  1. জিহ্বা
  2. ত্বক
  3. নাসিকা
  4. কর্ণ
ব্যাখ্যা
মানব সংবেদী অঙ্গ: 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রকৃতি ও পরিবর্তন অনুধাবনে সক্ষম ইন্দ্রিয় সমূহকে সংবেদী অঙ্গ বা রিসেপ্টর বলা হয়।
- বিশেষ ধরনের সংবেদী কোষের সমন্বয়ে সংবেদী অঙ্গ গঠিত।
- মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ হলো- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক।
- এরা সাধারণভাবে পঞ্চ ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত ।
- এদের মধ্যে চক্ষু দর্শন অনুভূতি, কর্ণ শ্রবণ অনুভূতি ও ভারসাম্য অনুভূতি, নাসিকা ঘ্রাণ অনুভূতি, জিহ্বা স্বাদ অনুভূতি এবং ত্বক স্পর্শ অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৭.
পেলভিস অঞ্চল, উরু ও পায়ে রক্ত সরবরাহ করে- 
  1. ফ্রেনিক ধমনি
  2. ইলিয়াক ধমনি
  3. সিলিয়াক ধমনি
  4. মেসেন্টেরিক ধমনি
ব্যাখ্যা

- ইলিয়াক ধমনি পেলভিস অঞ্চল, উরু এবং পা সহ নিম্নাঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। অন্যদিকে, ফ্রেনিক ধমনি মধ্যচ্ছদা (ডায়াফ্রাম), সিলিয়াক ধমনি পাকস্থলী ও যকৃত এবং মেসেন্টেরিক ধমনি অন্ত্রে রক্ত সরবরাহ করে। 

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 

সাবক্লেভিয়াল ধমনি প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ: 
- আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
- সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
- মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
- জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৮.
রক্ত রসে জৈব ও অজৈব পদার্থের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) 15 - 20%
  2. খ) ৪ - 9%
  3. গ) 10- 13%
  4. ঘ) 5 - 6%
ব্যাখ্যা
রক্ত:
রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যােজক টিস্যু।
ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
রক্তের উপাদান দুটি— রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
১,১৬৯.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত আলোক রশ্মির কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়?
  1. ০.১% মাত্র
  2. ০.০১% মাত্র
  3. ০.০০১% মাত্র
  4. ০.০০০১% মাত্র
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহ (Energy flow in ecosystem): 
- সবুজ উদ্ভিদ সৌর শক্তি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে স্থিতি শক্তিরূপে ধরে রাখে। 
- এ সবুজ উদ্ভিদ থেকে শক্তি তৃণভোজী প্রাণী, তৃণভোজী প্রাণী থেকে মাংসাশী প্রাণীতে এবং সবশেষে বিয়োজকে স্থানান্তরিত হয়, এ সময় সমস্ত শক্তিই বিনষ্ট হয়। 
- এভাবে সৌর শক্তি এক স্তর থেকে অন্য স্তরে বিভিন্ন ধাপে স্থানান্তরিত হওয়ার ধারাকে শক্তি প্রবাহ বলা হয়। 
- শক্তি প্রবাহ নিম্নলিখিত তিনটি পর্যায়ভুক্ত- 
১। শক্তি অর্জন: 
- শক্তির মূল উৎস সূর্যালোক। 
- পৃথিবীতে যে পরিমাণ সূর্যালোক বিকিরিত হয় তার মাত্র ০.০২ ভাগ সবুজ উদ্ভিদের ক্লোরোফিল কর্তৃক শোষিত হয় এবং রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে উৎপন্ন খাদ্যের স্থিতিশক্তিরুপে যুক্ত হয়। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত আলোক রশ্মির ০.০১% মাত্র সালোকসংশ্লেষণে যুক্ত হয়। 

২। শক্তির ব্যবহার: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকরা অর্থাৎ তৃণভোজী প্রাণীরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কান্ড, ফুল, ফল, বীজ খেয়ে জীবন ধারণ করে। 
- মাংসাশী প্রাণীরা প্রথম স্তরের খাদক অর্থাৎ তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে বাঁচে তাই মাংসাশী প্রাণীরা ২য় স্তরের খাদক। 
- প্রথম স্তরের খাদক থেকে এভাবে রাসায়নিক শক্তি দ্বিতীয় স্তরের খাদকের দেহে স্থানান্তরিত হয়। 
- অনুরূপভাবে দ্বিতীয় স্তরের খাদক থেকে রাসায়নিক শক্তি খাদ্য আকারে তৃতীয় স্তরের খাদকে পৌঁছায়। 
- শক্তি অর্জন কখনও ১০০ ভাগ হয় না। 
- জীব যে পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে তার বেশিরভাগ অংশ দেহের তাপ উৎপাদন এবং বহুবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যয় হয়, এভাবে ব্যয়িত শক্তিকে শ্বসনিক শক্তি বলা হয়। 

৩। শক্তির স্থানান্তর: 
- বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে শক্তি প্রাইমারী খাদক, সেকেন্ডারি খাদক, টারসিয়ারী খাদকে স্থানান্তরিত হয়। 
- এভাবে এক জীব থেকে আরেক জীবে খাদ্য শক্তি স্থানান্তরের সময় বেশ কিছু শক্তি বাস্তুতন্ত্রের সাধারণ নিয়মেই এ তন্ত্রের বাইরে চলে যায়। এ কারণে খাদ্য শিকলে খাদ্যস্তরের সংখ্যা যত কমানো যায় শক্তির অপচয় তত কম হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭০.
প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতাকে কী বলা হয়?
  1. Natural Passive Immunity
  2. Innate Immunity
  3. Artificial Passive Immunity
  4. Acquired Immunity
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা-
- মানবদেহে যে প্রতিরক্ষা অমরার মাধ্যমে প্রাপ্ত ও জন্মের সময় থেকে আজীবন উপস্থিত থাকে এবং প্রতিরক্ষায় দ্রুত কার্যকর হয় তাকে সহজাত প্রতিরক্ষা বলা হয়।
- এটি নন স্পেসিফিক ইমিউনিটি।
- সহজাত অনাক্রম্যতা বা Innate Immunity কে প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতাও বলা হয়। 

• মানবদেহে সহজাত প্রতিরক্ষায় কতগুলো উপাদান সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।
→ এগুলো হলো-
- প্রতিবন্ধক,
- প্রদাহ,
- কমপ্লিমেন্ট,
- ইন্টারেরন,
- সহজাত মারণকোষ,
- সহজীবী ব্যাকটেরিয়া। 

• সহজাত অনাক্রম্যতার প্রধান কাজ-
- সংক্রমণ স্থানে অনাক্রম্য কোষগুলোকে নিযুক্ত করে সাইটোকাইনস (cytokines)-এর মতো রাসায়নিক দূত উৎপাদন করা।
- কমপ্লিমেন্ট তন্ত্রকে সক্রিয় করে ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করা এবং মৃত কোষ পরিস্কার করা।
- অঙ্গ, কলা বা লসিকাতে উপস্থিত বহিরাগত বস্তুগুলোকে বিশেষ শ্বেতরক্তকণিকা দিয়ে শনাক্ত করা ও বর্জন করা।
- অর্জিত ইমিউন তন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
- প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭১.
নিচের কোনটি শ্বাসনালির রোগ?
  1. পারকিনসন
  2. এপিলেপসি
  3. নিউমোনিয়া
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা

• শ্বাসনালি-সংক্রান্ত রোগ
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অনেক সময় এ অঙ্গটি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - - বায়ুদূষণ, বিভিন্ন প্রকার ভাসমান কণা এবং রাসায়নিকের প্রভাবেও ফুসফুস অসুস্থ হতে পারে।
- অনেক সময় অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে ফুসফুসে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় এবং সংক্রমণ ঘটে।
- ফুসফুসের সাধারণ রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সাবধানতাগুলো জানা থাকলে অনেক জটিল সমস্যা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো যায়।
- অ্যাজমা বা হাঁপানি, যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার হচ্ছে শ্বাসনালির রোগ।

• নিউমোনিয়া:
- নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।

কারণ:
নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।

লক্ষণ:
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়।
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।

প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
- বেশি করে পানি পান করানো।

প্রতিরোধ:
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
- ধূমপান পরিহার করা।
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।

- অপরদিকে পারকিনসন, এপিলেপসি ও স্ট্রোক হলো স্নায়ুবিক রোগ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১,১৭২.
কাঙ্খিত নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-এর পরিবর্তন ঘটানোকে কী বলে?
  1. ক) প্লাজমিড কালচার
  2. খ) টিস্যু কালচার
  3. গ) জিন প্রকৌশল
  4. ঘ) ভিরুলেন্স প্রকৌশল
ব্যাখ্যা
কাঙ্খিত নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-এর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। জীন প্রকৌশলকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিও বলা হয়।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গাজী আজমল
১,১৭৩.
নিচের কোনটি প্রাণীকোষে নেই?
  1. লাইসোসোম
  2. সেন্ট্রোসোম
  3. কোষ প্রাচীর
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
কোষ প্রাচীরঃ
প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর।
এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ।
তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে।
ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর আবার প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত।
কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর।

 প্রাণী কোষে লাইসোসোম, সেন্ট্রোসোম বিদ্যমান। 


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১,১৭৪.
রক্তশূন্যতার প্রধান কারণ কী? 
  1. দেহে চর্বির পরিমাণ কমে যাওয়া
  2. রক্তে প্লাজমার পরিমাণ কমে যাওয়া
  3. রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  4. রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা (Anemia): 
- দেশে শিশু ও মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা রোগটি সাধারণত দেখা যায়। 
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়াই রক্তাশূন্যতার প্রধান কারণ। 
- খাদ্যের প্রধান উপাদান ভিটামিন বি২ এর অভাবে এ রোগ দেখা যায়। 
- বাংলাদেশ সাধারণতঃ লৌহ ঘটিত আমিষের অভাবে এ রোগ দেখা যায়। 
- শিশুদের ও গর্ভধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলাদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি সংঘটিত হয়। 

লক্ষণ: 
- দুর্বলতা অনুভব করা, 
- মাথা ব্যথা, 
- অনিদ্রা, 
- চোখে অন্ধকার দেখা, 
- খাওয়ার অরুচি, 
- বুক ধড়পড় করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধ: 
- লৌহ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কলা, ঢেঁড়স, যকৃত, ডিম, চিনা বাদাম, শাকসব্জি, বরবটি, মশুর ড়াল, খেঁজুরের গুড় খাওয়া। 
- অন্ত্রে ক্রিমি বা হুকওয়ার্ম এর সংক্রমণ নিশ্চিত হয়ে ক্রিমিনাশক ঔষধ সেবন করা। 
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী লৌহ উপাদানযুক্ত ঔষধ সেবন করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৫.
ক্রোমোসোম শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. ক) মেন্ডেল
  2. খ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  3. গ) ওয়ালডেয়ার
  4. ঘ) স্ট্রাসবার্গার
ব্যাখ্যা
ক্রোমোসোম (Chromosome):
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু ।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer (১৮৮৮) সর্বপ্রথম ক্রোমোসোম শব্দটি ব্যবহার করেন
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। তবে একই প্রজাতির বিভিন্ন নমুনায় ক্রোমোসোম সংখ্যা একই থাকে।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে এর সংখ্যা ২ থেকে ১৬০০ পর্যন্ত হয়।
- পুষ্পক উদ্ভিদে সর্বনিম্ন সংখ্যক ক্রোমোসোম পাওয়া গেছে Haplopappus gracilis-এ যার সংখ্যা ৪টি এবং সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে Poa littarosa-তে যার সংখ্যা ৫০৬- ৫৩০টি।
- প্রাণীতে সর্বনিম্ন ক্রোমোসোম সংখ্যা গোলকৃমিতে (Ascaris megalocephala) যা ২টি এবং সর্বোচ্চ Olacantha sp-এ যা ১৬০০টি।
- আদি কোষে কোন সুগঠিত নিউক্লিয়াস না থাকায় তাতে কোন সুগঠিত ক্রোমোসোম থাকে না।
- এখানে ডিএনএ (DNA) অথবা আরএনএ (RNA) সাইটোপ্লাজমের মধ্যে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। এদেরকে আদি ক্রোমোসোম বলা হয়।
- প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত অনুলিপন ক্ষমতা সম্পন্ন, রং ধারণকারী নিউক্লিয়োপ্রোটিন দ্বারা গঠিত যে সব সূত্রাকৃতির ক্ষুদ্রাঙ্গ বংশগতীয় উপাদানের পরিবহন, বিবর্তন, মিউটেশন, প্রকরণ প্রভৃতি কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে তাদেরকে বলা হয় ক্রোমোসোম।
- ক্রোমোসোম কখনও কখনও নিউক্লিয়াসের বাইরে সাইটোপ্লাজমেও থাকতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৭৬.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH কত?
  1. 4.68
  2. 6.71
  3. 7.45
  4. 8.64
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7।
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৭.
রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) অনুচক্রিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) লোহিত রক্তকণিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

লোহিত রক্তকণিকার কাজ
- দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
- হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১,১৭৮.
কোনটি ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) বৃক্কের বোম্যানস ক্যাপসুল প্রাচীর
  2. খ) বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা
  3. গ) প্রাণীদের অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীর
  4. ঘ) হৃদপিন্ডের প্রাচীর
ব্যাখ্যা
ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়।
যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৯.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৮০.
যকৃতে শর্করা কিরূপে থাকে?
  1. শ্বেতসার
  2. সেলুলোজ
  3. ফ্রুকটোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮১.
প্রতিসাম্য এর ভিত্তিতে প্রাণী প্রধানত কত প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

কোন প্রাণী দেহকে জ্যামিতিক নকশায় কেটে সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ একাধিক খণ্ডে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে প্রতিসাম্যতা বলে।

প্রকারভেদ:
১। দ্বিপার্শ্বিয় প্রতিসাম্য
২। অরীয় প্রতিসাম্য
৩। অপ্রতিসাম্য

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান পাঠ্যবই।

১,১৮২.
মানব দেহের কোনটি কোষ অর্জিত প্রতিরক্ষায় জড়িত?
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) T-লিম্ফোসাইট
  3. গ) ম্যাক্রোফেজ
  4. ঘ) নাল কোষ
ব্যাখ্যা
• মানব দেহের T-লিম্ফোসাইট কোষ অর্জিত প্রতিরক্ষায় জড়িত।
• মানবদেহে প্রধানত লিম্ফয়েড অঙ্গ ও শ্বেত রক্তকণিকাগুলো দেহের প্রতিরক্ষার কাজে অংশগ্রহন করে থাকে।
- ইমিউন তন্ত্রের লিম্ফয়েড অঙ্গগুলো প্রাথমিক বা মূখ্য ও গৌন অঙ্গ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মানব দেহের যেসব কোষ অর্জিত প্রতিরক্ষায় জড়িত সেগুলো হলো:
১. B-লিম্ফোসাইট (B-Lymphocyte): কোষ অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রস নির্ভর প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করে। 
২. T-লিম্ফোসাইট (T-Lymphocyte): অ্যান্টিবডির মাধ্যমে কোষ নির্ভর প্রতিরক্ষা দিয়ে থাকে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৩.
ধমনি এবং শিরার মধ্যে কোন পার্থক্যটি সঠিক নয়?
  1. ধমনির প্রাচীর পুরু এবং শিরার প্রাচীর পাতলা
  2. ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
  3. ধমনির গহ্বর ছোট, শিরার গহ্বর বড়
  4. ধমনি দিয়ে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়, শিরা দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়
ব্যাখ্যা
ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৪.
হৃদযন্ত্রের প্রসারণকে কী বলে?
  1. সিস্টোল
  2. ডায়াস্টোল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হৃদপিন্ড:
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দু'ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃদপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা -
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।
২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।
৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। অন্তঃস্তরটি হৃদপিন্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।

- হৃদপিন্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে।
- এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং
- সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,১৮৫.
একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষকে বলা হয়-
  1. ক) নেফ্রন
  2. খ) নিউরন
  3. গ) ম্যাক্রোফেস
  4. ঘ) মলিকুলার সেল
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষকে বলা হয় নিউরন।
• নিউরন: স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যকরী একককে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলে। 
- মস্তিষ্ক কোটি কোটি স্নায়ুকোষ (নিউরন) দিয়ে তৈরি। 
- এই একটি মাত্র মানব মগজে রয়েছে ১,০০০ কোটি স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেল। 
- আর এগুলো একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৬.
চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) ভিটামিন ই
  2. খ) ভিটামিন কে
  3. গ) ভিটামিন বি কমপ্লিক্স
  4. ঘ) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৭.
কোন অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে ভ্রূণে স্থানান্তরিত হয়?
  1. IgG
  2. IgD
  3. IgE
  4. IgM
ব্যাখ্যা

• IgG (Immunoglobulin G) হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে।

অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপেig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দুধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:

- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-( gamma), α-(alpha), µ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-

১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA .
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।

২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে।gD.
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ Ig পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE.
- এটি দুর্লভ।g.
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG.
- রক্ত, লসিকা, অস্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট Ig-এর ৫-১০% IgM.
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

১,১৮৮.
নিচে কোনটি ডিএনএ (DNA) এর কাজ?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
  3. কম্পিউটার মেমোরি সংরক্ষণ
  4. কোষের আবরণী গঠন
ব্যাখ্যা

• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।

• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১,১৮৯.
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিচের কোনটি? 
  1. হুপিংকাশি
  2. সর্দি
  3. জলবসন্ত
  4. হেপাটাইটিস
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- বিজ্ঞানী এন.ডব্লিউ.পিরি (N.W. Piri) এবং এফ.সি.বাওডেন (F.C. Bawden) ১৯৩৭ সালে ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে ভাইরাস দেহ গঠিত এই কথা বলেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯০.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. Archimedes
  2. Charles Darwin
  3. Oppenheimer
  4. John Dalton
ব্যাখ্যা
• বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক হলেন চার্লস ডারউইন। তিনি "The Origin of Species" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা "Natural Selection" এর মাধ্যমে প্রজাতির ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করেন। ডারউইনের মতে, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জীবেরা বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য উত্তরসূরিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ে জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। আর্কিমিডিস, ওপেনহেইমার বা জন ডাল্টন বিবর্তন তত্ত্বের সাথে জড়িত নন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) Charles Darwin.

বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯১.
কোন ধরনের স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশকে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয়? 
  1. সংবেদী স্নায়ু 
  2. মিশ্র স্নায়ু 
  3. মোটর স্নায়ু 
  4. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু 
ব্যাখ্যা

করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯২.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. 8 - 10 mg/dl
  2. 50 - 80 mg/dl
  3. 100 - 200 mg/dl
  4. 200 - 500 mg/dl
ব্যাখ্যা
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/dl.

• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (HDL)ও  নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL)।
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৩.
কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো জিনগত বৈচিত্র্য। মানুষের শরীরের গঠন, ত্বকের রঙ, চোখের আকৃতি, চুলের গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে জিন বা বংশগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করা মানুষের মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে জিনগত পরিবর্তন ঘটে। এই জিনগত বৈচিত্র্যই মঙ্গোলয়েডদের চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল ও সরু চোখ এবং নিগ্রয়েডদের ঘন কোঁকড়ানো চুল ও গাঢ় ত্বকের রঙের মত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) জিনগত বৈচিত্র্য।


জীব-বৈচিত্র্য:

- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়।
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়।

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।

যথা-
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity):
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
- আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি ।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে।
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৪.
কোন গ্রন্থি নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে?
  1. ক) শ্বসনতন্ত্র
  2. খ) স্নায়ুতন্ত্র
  3. গ) পরিপাকতন্ত্র
  4. ঘ) রেচনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়। পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,১৯৫.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়? 
  1. স্ফোনোডন
  2. প্লাটিপাস
  3. ভেড়া
  4. রাজকাঁকড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,১৯৬.
লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের কোথায় সঞ্চিত থাকে?  
  1. ফুসফুসে
  2. বৃক্কে
  3. হৃৎপিণ্ডে
  4. প্লীহায়
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৭.
অনেকগুলো এ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে কী গঠিত হয়?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
• অনেকগুলো এ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠিত হয়।
- প্রোটিন ছাড়া প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব না। এ জন্য প্রোটিনকে একটি মুখ্য বা প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন মিলে এ্যামাইনো এসিড গঠিত হয়।
- অনেকগুলো এ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে প্রোটিন অণু গঠিত হয়।
- প্রোটিনকে ভাঙ্গলে প্রথমে এ্যামাইনো এসিড এবং সবশেষে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন অণু পাওয়ার যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৮.
অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড কতটি?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ২০টি
ব্যাখ্যা
অ্যামাইনো এসিড: 
- ২০টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- এগুলো হল: লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন। 
- এই আটটি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীর সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,১৯৯.
প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  2. থাইমাস গ্রন্থি
  3. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 
• থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়  থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 
• থাইমোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়  থাইমাস গ্রন্থি থেকে।
• অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে।

উৎস - মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,২০০.
AIDS এর বিস্তার ঘটে না- 
  1. নারী পুরুষের যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
  2. সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে
  3. সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করলে
  4. একই জামা-কাপড় পরিধান করলে
ব্যাখ্যা
• AIDS এর বিস্তার ঘটে না- একই জামা-কাপড় পরিধান করলে।

• AIDS এর বিস্তার:

- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যেমন-
- সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার,
- সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ,
- সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু,
- সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা,
- দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী
- নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ ইত্যাদি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।