ব্যাখ্যা
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১২ / ২৩ · ১,১০১–১,২০০ / ২,২২৭
• তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System of Cockroach):
- তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র - উন্মুক্ত (Open type)।
- এদের দেহে রক্ত সম্পূর্ণভাবে রক্তনালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
- রক্ত (হিমোলিম্ফ) দেহগহ্বরের মধ্যে অবস্থিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সরাসরি স্নান করায়।
- তেলাপোকার হৃদপিণ্ড একটি দীর্ঘ নলাকার গঠনবিশিষ্ট এবং দেহের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
- রক্ত পরিবহনের সময় অক্সিজেন বহন করে না, কারণ তেলাপোকা ট্র্যাকিয়াল শ্বাসপ্রণালীর মাধ্যমে শ্বাস গ্রহণ করে।
- তাই তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্রকে বন্ধ (Closed) বলা যায় না।
সুতরাং, তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্রের ধরণ হলো - উন্মুক্ত।
সঠিক উত্তর: ক) উন্মুক্ত।
সূত্র - sciencedirect journal.
- লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায়চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লীহা-তে সঞ্চিত থাকে।
- তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ভেনাস হার্ট (Venous Heart):
- ভেনাস হার্ট বলতে এমন হৃদপিণ্ডকে বোঝায় যেখানে কেবলমাত্র অক্সিজেনবিহীন (deoxygenated) রক্ত প্রবাহিত হয়।
- এই ধরনের হৃদপিণ্ডে শরীর থেকে আসা রক্ত সরাসরি ফুলকায় (gills) পাঠানো হয় অক্সিজেন গ্রহণের জন্য।
- এখানে হৃদপিণ্ড অক্সিজেনযুক্ত রক্ত গ্রহণ বা পাম্প করে না।
- ফলে হৃদপিণ্ডটিকে সম্পূর্ণভাবে “ভেনাস” বা শিরাযুক্ত রক্তবাহী হৃদপিণ্ড বলা হয়।
• মাছের হৃদপিণ্ড:
- মাছের হৃদপিণ্ডে সাধারণত দুইটি প্রকোষ্ঠ থাকে-একটি অলিন্দ (atrium) ও একটি নিলয় (ventricle)।
- মাছের হৃদপিণ্ডে কেবলমাত্র অক্সিজেনবিহীন রক্ত প্রবাহিত হয়।
- এই রক্ত ফুলকায় গিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- তাই মাছের হৃদপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলা হয়।
• উভচর, সরীসৃপ ও পাখির ক্ষেত্রে:
- উভচরের হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন উভয় ধরনের রক্ত প্রবাহিত হয়।
- সরীসৃপ ও পাখির হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন আরও উন্নত ও পৃথকভাবে সংগঠিত।
- তাই এদের হৃদপিণ্ড ভেনাস হার্ট নয়।
সুতরাং, ভেনাস হার্ট পাওয়া যায় মাছে।
- সঠিক উত্তর: ক) মাছে।
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• লাইসোজোম কোষের বর্জ্য পদার্থ এবং বাইরের জীবাণু ধ্বংস করার কাজ করে।
• লাইসোজোম:
- লাইসোজোম কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু, যা কোষকে জীবাণু এবং বর্জ্য পদার্থের হাত থেকে রক্ষা করে।
- এটিতে বিভিন্ন হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে যা ক্ষতিকর পদার্থকে ভেঙে ফেলে।
- এ কারণেই লাইসোজোমকে প্রায়শই কোষের "আত্মহননকারী থলি" বা "suicidal bag" বলা হয়।
• লাইসোজোমের কাজসমূহ-
১. এরা ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২. বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩. লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৪. কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৫. এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
৬. টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে।
৭. ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- উদাহরণ: তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।
- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
- ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে পোলিও।
ভাইরাসজনিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো-
• জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো-
• যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে,
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes):
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে।
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়।
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে।
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে।
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে।
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত।
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
• দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ।
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী।
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে।
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
• পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত।
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে।
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সিস্টোল (Systole) হল হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়।
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়।
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
• আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে।
• শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।
• স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে থাকে।
- এছাড়া আরোও তিন ধরনের উপাদান দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন-
• ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
• খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
• পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরেও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো ধরনের পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
• রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে এসে জমা হয়। এরপর এই রক্ত ডান নিলয়ের মাধ্যমে ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এসে রক্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দে প্রবেশ করে৷ বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে এবং মহাধমনির মাধ্যমে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে৷
করোনারি সাইনাস হৃদপিণ্ডের গাত্র থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে এনে ডান অলিন্দে পৌছে দেয়৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।
অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।
অক্সিপিটাল লোব - অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।
উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।
রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine - OCV) গ্রহণ।
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ।
উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO)
খাদ্য শক্তি পরিমাপের একক:
- শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে।
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি হচ্ছে তাপ শক্তি।
- তাপ শক্তির একক হচ্ছে ক্যালরি।
- পদার্থবিজ্ঞানের হিসেবে এক কিলোগ্রাম (1000 গ্রাম) পানির উষ্ণতা 1 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে 1000 ক্যালরি বা 1 কিলোক্যালরি তাপের প্রয়োজন হয়।
- পুষ্টিবিদেরা খাদ্যের শক্তি বোঝানোর জন্যেও "ক্যালরি” শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খাদ্যের ক্যালরি আসলে কিলোক্যালরি।
উল্লেখ্য, বিভ্রান্তি এড়াতে এখানে খাদ্য শক্তি বোঝানোর জন্য খাদ্য ক্যালরি অথবা কিলোক্যালরি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, খাদ্যের শক্তিমূল্য প্রকাশের ক্ষেত্রে খাদ্য ক্যালরি কিংবা কিলোক্যালরির পরিবর্তে কিলোজুল একক ব্যবহার করা উচিত।
এক্ষেত্রে, 1 খাদ্য ক্যালরি = 1 কিলোক্যালরি = 4.2 কিলোজুল (প্রায়)।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
প্রশ্ন: মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় কোনটি?
সমাধান:
মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস (Stapes)
স্টেপিস মানবদেহের মধ্যকর্ণে (middle ear) অবস্থিত তিনটি শ্রবণাস্থির (ossicles) মধ্যে একটি।
এটি স্টিরাপ (stirrup) আকৃতির এবং সবচেয়ে ছোট ও হালকা হাড়।
গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫–৩.৫ মিলিমিটার (একটি ছোট চালের দানার চেয়েও ছোট)।
ওজন মাত্র ২-৪ মিলিগ্রাম।
কাজ: শব্দের কম্পনকে অভ্যন্তরীণ কানে (inner ear) স্থানান্তর করে।
উৎস:
- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- National Geographic – Human Body Facts.
প্রশ্ন: ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
সমাধান:
ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।
- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ:
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড),
- গ্লুকোজ,
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড,
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট।
উৎস:
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট।
• অস্থির বৈশিষ্ট্য - দৃঢ়।
অস্থির বৈশিষ্ট্য:
- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
- স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
- কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।
তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ইলিয়াক ধমনি পেলভিস অঞ্চল, উরু এবং পা সহ নিম্নাঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। অন্যদিকে, ফ্রেনিক ধমনি মধ্যচ্ছদা (ডায়াফ্রাম), সিলিয়াক ধমনি পাকস্থলী ও যকৃত এবং মেসেন্টেরিক ধমনি অন্ত্রে রক্ত সরবরাহ করে।
সাবক্লেভিয়াল ধমনি:
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে।
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা।
সাবক্লেভিয়াল ধমনি প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ:
- আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে।
- থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে।
- সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে।
- ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে।
- সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।
- ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে।
- বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে।
- মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
- জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে।
- ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শ্বাসনালি-সংক্রান্ত রোগ
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অনেক সময় এ অঙ্গটি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - - বায়ুদূষণ, বিভিন্ন প্রকার ভাসমান কণা এবং রাসায়নিকের প্রভাবেও ফুসফুস অসুস্থ হতে পারে।
- অনেক সময় অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে ফুসফুসে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় এবং সংক্রমণ ঘটে।
- ফুসফুসের সাধারণ রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সাবধানতাগুলো জানা থাকলে অনেক জটিল সমস্যা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো যায়।
- অ্যাজমা বা হাঁপানি, যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার হচ্ছে শ্বাসনালির রোগ।
• নিউমোনিয়া:
- নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।
কারণ:
নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।
লক্ষণ:
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়।
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।
প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
- বেশি করে পানি পান করানো।
প্রতিরোধ:
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
- ধূমপান পরিহার করা।
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।
- অপরদিকে পারকিনসন, এপিলেপসি ও স্ট্রোক হলো স্নায়ুবিক রোগ।
উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।
উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কোন প্রাণী দেহকে জ্যামিতিক নকশায় কেটে সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ একাধিক খণ্ডে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে প্রতিসাম্যতা বলে।
প্রকারভেদ:
১। দ্বিপার্শ্বিয় প্রতিসাম্য
২। অরীয় প্রতিসাম্য
৩। অপ্রতিসাম্য
সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান পাঠ্যবই।
• IgG (Immunoglobulin G) হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে।
• অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপেig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দুধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।
• অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-( gamma), α-(alpha), µ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA .
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে।gD.
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ Ig পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE.
- এটি দুর্লভ।g.
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।
৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG.
- রক্ত, লসিকা, অস্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট Ig-এর ৫-১০% IgM.
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।
• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।
উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।
করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়। পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।
সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি