বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

মোট প্রশ্ন৪৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৪৬০

৩০১.
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাড়ি
  2. কমা 
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• কমা (,)
⇒ কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ,তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৩০২.
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে থামার পরিমাণ -
  1. এক সেকেন্ড থামতে হয়
  2. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
  3. 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে
  4. থামার প্রয়োজন হয় না।
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।

সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে থামার পরিমাণ:
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩০৩.
উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. বিন্দু
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
- আমি বললাম, “আমি ভালো আছি।”

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৪.
কোনটি পদসংযোজক চিহ্ন?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩০৫.
একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. ড্যাস চিহ্ন
  3. কোলন ড্যাস
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা

হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
- হাইফেন সবসময় দুই ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। বাংলা লেখার সময় এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 

এর ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
• সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন হাট-বাজার, সাত-পাঁচ।
একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন চলতে-চলতে কোথায় চলে যায়। যেতে-যেতে হয়রান হয়ে পড়েছি।
• দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাইফেন বসে। যেমন: উত্তর-পশ্চিম কোণে মেঘ জমেছে।
• কোনো কোনো উপসর্গের পরে হাইফেন বসে। যেমন: অ-তৎসম, কু-অভ্যাস, বে-আঙ্কেল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৬.
'অর্ধচ্ছেদ' কোন যতিচিহ্নের বাংলা নাম?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন এর বাংলা নাম - অর্ধচ্ছেদ।

অন্যদিকে, 
• 'কমা'র বাংলা নাম - পাদচ্ছেদ।
• 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম- দৃষ্টান্তচ্ছেদ।
• 'দাঁড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।

--------------------
• 'সেমিকোলন’:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন (;) ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০৭.
কোন যতিচিহ্নটি বাক্যের মধ্যকার বিরতি-কাল নির্দেশ করে?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. লোপ চিহ্ন
  4. ব্র্যাকেট
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন - বাক্যের মধ্যকার বিরতিকাল নির্দেশ করে।

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

⇒ সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে।
যেমন:

সেমিকোলনের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন: গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।
- আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- ধরা যাক, সংবিধানের ৩৬ নং ধারা নিম্নোক্ত উপধারা (১) বয়স ১৮ বছর হতে হবে; (২) প্রকৃতিস্থ হতে হবে।

অন্যদিকে: 
• থামার প্রয়োজন নেই যেসব যতিচিহ্নে- 
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৮.
কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি চিহ্ন
  2. কমা চিহ্ন
  3. উদ্ধৃতি চিহ্ন
  4. কোলন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• "কোলন" যতিচিহ্ন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
-'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৯.
সংযোগ চিহ্ন বলা হয় কোনটিকে?
  1. কোলন
  2. ত্রিবিন্দু
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
হাইফেন সবসময় দুই ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। বাংলা লেখার সময় এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এর ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
- সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন হাট-বাজার, সাত-পাঁচ।
- একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন চলতে-চলতে কোথায় চলে যায়। যেতে-যেতে হয়রান হয়ে পড়েছি।
- দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাইফেন বসে। যেমন: উত্তর-পশ্চিম কোণে মেঘ জমেছে।
- কোনো কোনো উপসর্গের পরে হাইফেন বসে। যেমন: অ-তৎসম, কু-অভ্যাস, বে-আঙ্কেল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১০.
কোনো কোনো উপসর্গের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন 
  2. হাইফেন
  3. বিন্দু 
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা

• হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
হাইফেন সবসময় দুই ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। বাংলা লেখার সময় এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এর ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
- সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন হাট-বাজার, সাত-পাঁচ।
- একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন চলতে-চলতে কোথায় চলে যায়। যেতে-যেতে হয়রান হয়ে পড়েছি।
- দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাইফেন বসে। যেমন: উত্তর-পশ্চিম কোণে মেঘ জমেছে।
- কোনো কোনো উপসর্গের পরে হাইফেন বসে। যেমন: অ-তৎসম, কু-অভ্যাস, বে-আঙ্কেল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১১.
বিরতির প্রয়োজন হয়না কোন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে?
  1. ইলেক চিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. কোলন ড্যাস
  4. ড্যাস চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩১২.
নিচের কোন বাক্যটিতে যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. মা বললেন, "অঙ্ক করতে বসো।"
  2. মা বললেন "অঙ্ক করতে বসো"।
  3. মা বললেন "অঙ্ক করতে বসো"
  4. মা বললেন, অঙ্ক করতে বসো।
ব্যাখ্যা
৫. বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
মা বললেন, "অঙ্ক করতে বসো।"
আমি বললাম, "গল্পের বই পড়তেই ভালো লাগছে।"

কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন,
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩১৩.
জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. হাইফেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
• ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
• ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
৩১৪.
সমাসবদ্ধ পদ তৈরির ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. ড্যাশ
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
"হাইফেন" যতিচিহ্ন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
-মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৫.
"কোলন" চিহ্নের বিরতিকাল কতটুকু?
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  3. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

• "কোলন" চিহ্নের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড।

বিরাম চিহ্ন:

- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।
যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:

১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১৬.
যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে কোন চিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাশ
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।

যেমন:
• দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।
- ছেলেটি মেধাবী; কিন্তু ভারি অলস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩১৭.
বাক্যে 'ব্র্যাকেট' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ১ বলতে যে সময় লাগে
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'ব্র্যাকেট' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - থামার প্রয়োজন নেই।

• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৮.
বাক্যে ব্যবহৃত ‘দাঁড়ি, কোলন ও ড্যাস’ যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে থামার সময়কাল কত?
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৯.
ঘণ্টা ও মিনিট বোঝাতে কোন রীতিটি অপ্রচলিত?
  1. ৪:৩০
  2. ৪-৩০
  3. ৪.৩০
  4. ৪ঃ৩০ 
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ঘণ্টা ও মিনিট বোঝাতে সময় লেখার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট রীতি প্রচলিত। বাংলা একাডেমি এবং সাধারণ ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী, সময় লেখার জন্য সাধারণত কোলন (:) বা বিন্দু (.) ব্যবহৃত হয়।

অপশন বিশ্লেষণ:

ক) ৪:৩০: এটি বাংলা ও আন্তর্জাতিকভাবে সময় লেখার সবচেয়ে প্রচলিত রীতি। কোলন (:) ব্যবহার করে ঘণ্টা ও মিনিট আলাদা করা হয়। উদাহরণ: ৪:৩০ মানে ৪টা বেজে ৩০ মিনিট। এটি শুদ্ধ এবং প্রচলিত।

খ) ৪-৩০: এই রীতিতে হাইফেন (-) ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলায় সময় লেখার ক্ষেত্রে অপ্রচলিত। বাংলা বা ইংরেজিতে সময় লেখার জন্য হাইফেন ব্যবহারের কোনো প্রমিত নিয়ম নেই। এটি অপ্রচলিত এবং অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

গ) ৪.৩০: বাংলায় বিন্দু (.) ব্যবহার করে সময় লেখা প্রচলিত, বিশেষ করে আনুষ্ঠানিক লেখায়। উদাহরণ: ৪.৩০ মানে ৪টা বেজে ৩০ মিনিট। 

ঘ) ৪ঃ৩০: এই রীতিতে বাংলা কোলন (ঃ) ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলায় এটি সময় লেখার জন্য প্রচলিত এবং গ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে সাহিত্যিক বা আনুষ্ঠানিক লেখায়। উদাহরণ: ৪ঃ৩০ মানে ৪টা বেজে ৩০ মিনিট।

কেন ‘৪-৩০’ অপ্রচলিত?
হাইফেন (-) সাধারণত শব্দ যোগ করতে বা সমাসবদ্ধ শব্দে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সময় লেখার ক্ষেত্রে এটি বাংলা বা ইংরেজি কোনো ভাষাতেই প্রমিত নয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম বা সাধারণ ব্যবহারে কোলন (:) বা বিন্দু (.) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২০.
ইলেক চিহ্ন কেন দেওয়া হয়?
  1. উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে
  2. প্রত্যক্ষ উক্তির জন্য
  3. সমাসবদ্ধ পদের জন্য
  4. বিলুপ্ত বর্ণের জন্য
ব্যাখ্যা
• বিলুপ্ত বর্ণের জন্য- ইলেক বা লোপ চিহ্ন দিতে হয়।

• ইলেক বা লোপ চিহ্ন:
- বাক্যে এক বা একাধিক বর্ণকে বর্জন করা হলে, তা প্রকাশের জন্য বর্জিত স্থানে ইংরেজি ভাষায় অ্যাপস্ট্রফি বলে পরিচিত ( ' ) লোপচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বাংলায় একে 'উর্ধ্বকমা' বলা হয়।
- আধুনিক- প্রমিত বানানে 'উর্ধ্বকমা' বর্জনীয়।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন থাকলে - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২১.
'এক সেকেন্ড' বিরতিকাল নয় কোন যতিচিহ্নের?
  1. কোলন ড্যাস চিহ্ন
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. সেমিকোলন চিহ্ন
  4. বিস্ময় চিহ্ন
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• 'সেমিকোলন' এর বিরতিকাল- ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়। 

• নিম্নে উল্লেখিত যতিচিহ্নগুলোর বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• নিম্নে উল্লেখিত যতিচিহ্নগুলোর ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২২.
কোন বিরামচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৩.
'দাঁড়ি' চিহ্নের বিরতিকাল কতটুকু?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়। এর বিরতিকাল এক সেকেন্ড।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৪.
কোন বিরামের থামার সময়ের অনুপাত 'কমা'র দ্বিগুণ?
  1. ক) দড়ি
  2. খ) কোলন
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন:
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। 
- মনের ভাব প্রকাশের সময় একটি বাক্য শেষ করে সন্নিহিত নতুন বাক্যটি শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়।
- সেমিকোলন বিরামের থামার সময়ের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৫.
লেখার সময়ে কোনো কথা অব্যক্ত রাখতে চাইলে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. বিন্দু
  3. কোলন
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• ত্রিবিন্দু (...):
লেখার সময়ে কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে বা অব্যক্ত রাখতে চাইলে - ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন -
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।” 
আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

অন্যদিকে,
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩২৬.
বাক্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকলে বিরতির সময় কত?
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন হয় না
  3. এক সেকেন্ড
  4. এক বলার দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে-
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে-
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে-
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে-
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৭.
সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. বিন্দু
  3. হাইফেন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বিন্দু (.):
- শব্দসংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে এই বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বিন্দু চিহ্নটি ইংরেজি ফুলস্টপ বা পিরিয়ড (.) চিহ্নের সমান।
- সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর বিন্দু বসে।
যেমন:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. অর্থ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২৮.
কোন বিরামচিহ্নের ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ এক সেকেন্ড?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

• 'কমা' এর বিরতিকাল ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩২৯.
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. এক সেকেন্ড
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক বলতে যে সময় লাগে
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৩০.
অন্যথাসূচক শব্দ যদি বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে ওই শব্দের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. ড্যাস
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• ‘কমা’ যতিচিহ্ন:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

• নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, এমএ. পিএইচডি।

• অন্যথাসূচক শব্দ যদি বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে ওই শব্দের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কমা বসবে।
যেমন: 
- কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩১.
‘কমা’ এর বিরতিকাল কত সময়?
  1. ক) ১ সেকেন্ড
  2. খ) ১ বলতে যে সময়
  3. গ) ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. ঘ) থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
‘কমা’ এর বিরতিকাল - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন। 
‘কমা’ এর বাংলা অর্থ - 'পাদচ্ছেদ'

বাংলায় কোন কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করে থাকি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কমা ( , )।
বাক্যের ভিতর বিরাম চিহ্ন হলো কমা।

 বিভিন্ন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের সময় কাল ভিন্ন। যেমন:
- বিস্ময়চিহ্ন (!) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কমা (,) বিরামের সময় - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন (;) বিরামের সময় - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি (।) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন (:) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- হাইফেন (-) বিরামের সময় - থামার প্রয়োজন নেই।
- কোলন ড্যাশ (:-) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩৩২.
শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ’ - চিহ্ন
  2. খ) () - চিহ্ন
  3. গ) ... - চিহ্ন
  4. ঘ) “ ” - চিহ্ন
ব্যাখ্যা

’ - লোপ চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে। যেমনঃ দু’বেলা ভাতই জোটে না।

() - বন্ধনি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় কোনো কিছু ব্যাখ্যা করে বুঝাতে। যেমনঃ বৃত্তি পরীক্ষা (জুনিয়র) আগামী মাসে। 

... - বর্জন চিহ্ন ব্যবহার করা হয় কোনো রচনার অংশবিশেষ বর্জন করা হলে সূচনাতে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- …তব ঘৃণা তারে যেন/ তৃণসম দহে।

 “ ”- উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় বক্তার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। যেমনঃ ভাগিনা বলিল,  “মহারাজ পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে”

৩৩৩.
বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন হয় সেখানে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. পাদচ্ছেদ
  3. হাইফেন
  4. অর্ধচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন(,):
- অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে:

- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
- পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
- সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৩৩৪.
কোনটি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন নয়?
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. বিস্ময়বোধক
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়। যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
দাঁড়ি,
প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।

বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
কমা,
সেমিকোলন,
ড্যাস,
হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৫.
বাংলা ব্যাকরণে বিরামচিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১৩
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৭
ব্যাখ্যা
• মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয় ।

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৬.
নিচের কোন বাক্যে তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) মার্চ, ১৮, ২০২৩
  2. খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
  3. গ) ১৮, মার্চ, ২০২৩
  4. ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা
মার্চ ১৮, ২০২৩- তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে। 

তারিখের পরেই সাল থাকলে, তারিখের পরে কমা বসাতেই হবে। 
যেমন:  মার্চ ১৮, ২০২৩ 

কমার ব্যবহার: 
অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
- নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি।
- এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে।
- একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে।
- সম্বোধনের পর কমা বসে।
- তারিখ লিখতে কমা বসে
- - খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে।ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা লেখার নিয়ম কানুন- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩৩৭.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন কোনটি?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. বিস্ময়বোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- 
-  প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক চিহ্ন প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৩৩৮.
তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে কোন চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কোলন (:)
  2. কমা (,)
  3. সেমিকোলন (;) 
  4. ড্যাশ (—) 
ব্যাখ্যা

কমা বা পাদচ্ছেদ ( , )  ব্যবহার করা হয়: তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে।
----------------------
কমা (পাদচ্ছেদ):
-  কমা হলো বাক্যে স্বল্প বিরতি বা বিচ্ছেদ দেখানোর চিহ্ন। 
- কমা বাক্যের বিভিন্ন অংশকে আলাদা করে অর্থ স্পষ্ট রাখতে সাহায্য করে।
- এটিকে অর্ধচ্ছেদও বলা হয়।

- কমার বিরতি হলো ছোট—দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদের চেয়ে অনেক কম—যা কথার স্বাভাবিক গতির উপর নির্ভর করে এবং পাঠককে সামান্য থামার সুযোগ দেয়।
- ১ বলতে যে সময় লাগে তাই কমা'র বিরতিকাল।
- উদাহরণ: “আমি বাজারে গেলাম, কিন্তু কিছু কিনতে পারিনি।” এখানে ‘গেলাম’-এর পরে ছোট বিরতি বোঝানো হয়েছে।

- কমার প্রধান ব্যবহার:
তালিকা বা সিরিজ:
- একাধিক পদ বা শব্দের মধ্যে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: আমি বই, খাতা, কলম নিয়ে স্কুলে গেলাম।

• প্রধান ও অপ্রধান বাক্যাংশ আলাদা করা:
- মূল বাক্য থেকে অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক অংশ আলাদা করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: সে, যে গতকাল এসেছিল, আজ আবার গেল।

• সম্বোধন:
- কাউকে সম্বোধনের পর কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: রহিম, এদিকে এসো।

• সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা):
- দুটি স্বাধীন বাক্য সংযুক্ত করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: সে পড়ছিল, কিন্তু আমি খেলছিলাম।

• বাক্যের সুস্পষ্টতা:
- অর্থ বিভ্রান্তি এড়াতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: “খাও, মা” বনাম “খাওমা”—দুটি ভিন্ন অর্থ।

• তারিখ ও ঠিকানা:
- উদাহরণ: ৫, মে, ২০১৯; কলকাতা, ভারত।

• বড় সংখ্যা:
- হাজার, লক্ষ, কোটির স্থান নির্দেশ করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: ১৫,৩২,২১,৬৩৮

- নিয়ম: কমার আগে স্পেস থাকে না, কিন্তু পরে একটি স্পেস দিতে হয়।
---------------------------- 
অন্যদিকে,
• কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ (:) - দৃষ্টান্ত বা ব্যাখ্যা শুরুতে ব্যবহৃত হয়।

• সেমিকোলন (;) মূলত দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত স্বতন্ত্র বাক্যকে যুক্ত করতে বা কমা যুক্ত জটিল তালিকা পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি কমার চেয়ে দীর্ঘ কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে সংক্ষিপ্ত বিরতি নির্দেশ করে।
- উদাহরণ: “তিনি অনেক চেষ্টা করলেন; কিন্তু কাজটি শেষ করতে পারলেন না।”

• ড্যাশ (—) বাক্যে দীর্ঘ বিরতি, জোর দেওয়া, ব্যাখ্যা বা পরিসর দেখাতে ব্যবহার হয়। 
- এটি হাইফেন (-) থেকে দীর্ঘ।
- উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক।
- এটি তালিকা, ডায়ালগ বা বাক্যের অংশ আলাদা করতে সাহায্য করে।
- হাইফেন মূলত দুটি শব্দকে যুক্ত করে, ড্যাশ বাক্যের অংশ আলাদা করে।

৩৩৯.
সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কী চিহ্ন বসে?
  1. ক) কোলন
  2. খ) সেমিকোলন
  3. গ) হাইফেন
  4. ঘ) কমা
ব্যাখ্যা

পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরেই কমা বসবে।
যেমনঃ
- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪০.
সেমিকোলন (;) অনুযায়ী কত সময় থামতে হবে?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. ‘এক’ বলতে যা সময় লাগে
  3. ‘এক’ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. ১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ‘এক’ বলার দ্বিগুণ সময়

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুযায়ী থামার সময়:
- কমা বা পাদচ্ছেদ - ‘এক’ বলতে যে সময় লাগে, ততটুকু সময় থামতে হবে।
- সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ - ‘এক’ বলার সময়ের দ্বিগুণ সময় থামতে হবে।
- হাইফেন, ইলেক, লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট - থামার প্রয়োজন নেই।
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়সূচক চিহ্ন, কোলন, কোলন-ড্যাশ, ড্যাশ - ‘এক’ সেকেন্ড থামতে হবে।

উৎস: ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪১.
"সেমিকোলন" - এর ক্ষেত্রে কতটুকু সময় থামতে হয়?
  1. 'এক' বলতে যে সময় প্রয়োজন
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

 • ‘সেমিকোলন’:
 ‘সেমিকোলন’ এর বাংলা অর্থ- অর্ধচ্ছেদ।
- এর থামার বা বিরামের সময় - এক বলার দ্বিগুণ সময়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে-- 
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে --
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪২.
কমা'র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ি চিহ্নের আগে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. ত্রিবিন্দু
  4. বিস্ময়
ব্যাখ্যা
• 'সেমিকোলন' যতিচিহ্ন:
স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন (; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা'র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।

- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন: গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

- ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্য সেমিকোলন বসে। যেমন: মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৩.
কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. হাইফেন
  4. কোলন
  5. ড্যাশ
ব্যাখ্যা

• বিরাম চিহ্ন:
লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

সেমিকোলন ব্যবহৃত হয় যেসব ক্ষেত্রে-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-সস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিতেচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন : আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪৪.
বাক্যে যতিচিহ্ন 'অর্ধচ্ছেদ' থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়? 
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক বলার দ্বিগুন সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে - থামার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৫.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. বিষ্ময় চিহ্ন
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. ড্যাস
  4. দাঁড়ি চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• ‘ড্যাস’ প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো: দাঁড়ি চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং বিস্ময় চিহ্ন।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

দাঁড়ি (।):
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
 যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

প্রশ্নচিহ্ন (?):
- সাধারণত কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে প্রশ্নচিহ্ন বসে।
 যেমন:
- তারা কখন এসেছে?
- বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কী?

বিস্ময়চিহ্ন (!):
- সাধারণত বিস্ময়, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- মানে কী! সে আর চাকরি করবে না!
- তার গানের কণ্ঠ দারুণ!

অন্যদিকে, 
ড্যাস:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪৬.
কোনটি অভ্যন্তর যতি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে।
ক, অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

খ. অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

গ. অন্যান্য যতি: 
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৩৪৭.
‘কমা’ থাকলে বিরতিকালের পরিমাণ কত?
  1. ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন
  2. ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়
  3. ১ (এক) সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'কমা' এর বিরতিকাল = ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন। 

• বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য বাক্য উচ্চারণের সময় বাক্যের মাঝে ও শেষে বিরতি দিতে হয়।
এই বিরতির পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি হয়ে থাকে। আবার বাক্য উচ্চারণের সময় বিভিন্ন আবেগের জন্য উচ্চারণ বিভিন্ন হয়ে থাকে।

যেমন:
- হাইফেন - হাইফেন এর জন্য থামার প্রয়োজন নেই।
- ইলেক বা লোপ চিহ্নের জন্য ও থামার প্রয়োজন নেই।
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি - এক সেকেন্ড
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড। ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৮.
বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. কমা
  4. হাইফেন 
ব্যাখ্যা

• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে।
যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।

- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪৯.
একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন চিহ্ন
  2. দাঁড়ি চিহ্ন
  3. ত্রিবিন্দু চিহ্ন
  4. ইলেক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।

৪. কমা'র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।

৫. কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫০.
বাক্যে অর্ধচ্ছেদ থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময়
  2. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. 'এক' সেকেন্ড সময়
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে - থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫১.
নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষনের জন্য কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কমা
  2. খ) বিন্দু চিহ্ন
  3. গ) উদ্ধৃতি চিহ্ন
  4. ঘ) কোলন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতি চিহ্ন দুই প্রকার। যথা: একক উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং জোড় উদ্ধৃতি চিহ্ন।

উদ্ধৃতি বিরাম চিহ্নের ব্যবহার:
১. কথোপকথন ও সংলাপে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
২. নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষনের জন্য  উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
৩. নির্দিষ্ট ভবনের নাম বা গ্রন্থের নাম জানানোর জন্য।
৪. বাক্যে কোনো শব্দ বা বিষয়কে গুরুত্ব দিতে কিংবা গুরুত্ব প্রকাশ করতে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫২.
পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. কোলন চিহ্ন
  2. ড্যাশ চিহ্ন
  3. দাঁড়ি চিহ্ন
  4. বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে-
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
• নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
• পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাঁড়ি ব্যবহার হয়। যেমন-সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৩.
'বন্ধনী' চিহ্ন কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

বন্ধনী:
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।

- বন্ধনী তিন প্রকার:
১) প্রথম বন্ধনী ( ),
২) দ্বিতীয় বন্ধনী { },
৩) তৃতীয় বন্ধনী  [ ]।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫৪.
কোনটি পদসংযোজক চিহ্ন?
  1. উদ্ধৃতি
  2. ত্রিবিন্দু
  3. হাইফেন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৫.
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে বিরতির পরিমাণ কতটুকু হবে?
  1. এক সেকেন্ড
  2. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. 'এক' বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে:
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৬.
কোন যতিচিহ্নটি বাক্যের মধ্যে ভাব বা তথ্য আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. উদ্ধৃতিচিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কমা
ব্যাখ্যা

কমা হচ্ছে অভ্যন্তরযতি।
- কমা বাক্যের মধ্যে তথ্য বা ভাব আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়।

• যতিচিহ্ন:
- যতিচিহ্ন হলো লেখায় বিভিন্ন অর্থ বা ছন্দ, ভাব ও প্রয়োগ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ চিহ্ন।
- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্নগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত:
১. অন্ত্যযতি:
- এগুলো বাক্যের শেষ বা শেষের কাছাকাছি ব্যবহৃত হয়।
- এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে: দাঁড়ি (।), দুই দাঁড়ি (।।), প্রশ্নচিহ্ন (?), এবং বিস্ময়চিহ্ন (!)।

২. অভ্যন্তরযতি:
- এগুলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয় ভাব, ছন্দ বা তথ্য আলাদা করার জন্য।
- এতে কমা (,), সেমিকোলন (;), হাইফেন (-), ড্যাশ (_), কোলন (:), কোলন-ড্যাশ (:-), এবং বিন্দু (.) অন্তর্ভুক্ত।

৩. অন্যান্য যতি:
- এগুলো বিশেষ অর্থ বা লেখার বৈচিত্র্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এতে ঊর্ধ্বকমা ('), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."), বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), এবং বিকল্পচিহ্ন (/) অন্তর্ভুক্ত।
- এই ভাগবিন্যাসের মাধ্যমে লেখায় যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার ও তাদের কার্যকারিতা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।

৩৫৭.
'সেমিকোলন’ এর বাংলা অর্থ -
  1. পাদচ্ছেদ
  2. দৃষ্টান্তচ্ছেদ
  3. অর্ধচ্ছেদ
  4. পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• 'সেমিকোলন’- এর বাংলা অর্থ - অর্ধচ্ছেদ।

• 'সেমিকোলন’:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৮.
বাক্যের মধ্যে প্রথম বন্ধনী চিহ্ন ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) বাক্য অসমাপ্ত থাকলে
  2. খ) অতিরিক্ত বক্তব্য থাকলে
  3. গ) সমাসবদ্ধ শব্দ হলে
  4. ঘ) সমার্থক দুটি শব্দের মধ্যে
ব্যাখ্যা

প্রথম বন্ধনীটি বিশেষ ব্যাখ্যামূলক অর্থে বা অতিরিক্ত বক্তব্য থাকলে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
- ত্রিপুরায় (বর্তমানে কুমিল্লা) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫৯.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় - কমা।

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

• যতিচিহ্নকে দু'ভাগে ফেলা যায়।
যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়।
যেমন: 
দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন।

২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না।
যেমন:
কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬০.
নিচের কোনটিতে বিরামচিহ্ন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি?
  1. ১৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. কক্সবাজার ৫ জানুয়ারি, ২০২২
  3. মে ১৬, ২০২৫
  4. পয়লা অগ্রহায়ণ, চৌদ্দশত বত্রিশ
ব্যাখ্যা

বাক্যের বিভিন্ন ভাব সার্থকভাবে প্রকাশের জন্য কন্ঠস্বরের ভঙ্গির তারতম্য বোঝাতে বর্ণের অতিরিক্ত যে-সব চিহ্ন ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে বলে বিরামচিহ্ন৷

-অপশন (খ)-তে বিরামচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি৷

• তারিখ লেখার ক্ষেত্রে সাধারণত তারিখ ও বছরের মাঝে কমা বসে।
অর্থাৎ,
শুদ্ধরূপ হবে - কক্সবাজার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬১.
"অসম্পূর্ণ শিক্ষায় আমাদের দৃষ্টি নষ্ট করিয়া দেয় পরের দেশের ভালোটা তো শিখিতে পারিই না নিজের দেশের ভালোটা দেখিবার শক্তি চলিয়া যায়"
উপরের উদ্ধৃতিতে বিরাম চিহ্ন বসবে যথাক্রমে -
  1. ড্যাশ, সেমিকোলন, দাঁড়ি
  2. সেমিকোলন, কমা, দাঁড়ি
  3. ড্যাশ, কমা, পূর্ণচ্ছেদ
  4. কমা, সেমিকোলন, পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- অসম্পূর্ণ শিক্ষায় আমাদের দৃষ্টি নষ্ট করিয়া দেয় —পরের দেশের ভালোটা তো শিখিতে পারিই না, নিজের দেশের ভালোটা দেখিবার শক্তি চলিয়া যায়।
- উপরের উদ্ধৃতি করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
উৎস : প্রথম আলো।
৩৬২.
নিচের কোন চিহ্নের ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই?
  1. ক) (।)
  2. খ) (;)
  3. গ) (‘ ‘)
  4. ঘ) (-)
ব্যাখ্যা
(-)হাইফেন হচ্ছে শব্দসংযোগ চিহ্ন। হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
(-)হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই
যেমন- সোনা-রুপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রুপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিরাম চিহ্নের বিরতি কাল:
দাড়ি (।) - এক সেকেন্ড
সেমিকোলন (;) - ১ বলার দ্বিগুণ সময়
এক- উদ্ধৃুত চিহ্ন (‘ ‘) - ১ সেকেন্ড
কমা (,) - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৩.
নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,):
অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে-

১) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

৩) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
৫) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”

৬)মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
৭) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।

৮) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন-ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৩৬৪.
কোন ছেদ চিহ্নে থামার প্রয়োজন নেই?
  1. ক) ইলেক
  2. খ) কমা চিহ্ন
  3. গ) বিস্ময় চিহ্ন
  4. ঘ) উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
 মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
• কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• কোলন - এক সেকেন্ড।
• ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
• একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
• ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৫.
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কোলন ড্যাস
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. ড্যাস
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
কোলন ড্যাস (:-)
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
 উদ্ধৃতি চিহ্ন (‘ ’):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক দ্বৈত।
যেমন:
- ‘সিরাজউদৌল্লা’ একটি ঐতিহাসিক নাটক।

ড্যাস:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।

হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৬.
নিম্নের কোন চিহ্নটি ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশ আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. উদ্ধৃতি চিহ্ন
  3. ড্যাস
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
ড্যাস:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়

যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।

অন্যদিকে,
কোলন ড্যাস (:-) - উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
উদ্ধৃতি চিহ্ন (‘ ’) - কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
হাইফেন - বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৭.
সম্বোদন পদে কোন যতিচিহ্ন বসে? 
  1. কমা 
  2. ড্যাশ
  3. হাইফেন 
  4. সেমিকলন 
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদচিহ্নের ব্যবহার:

• কমা (পাদচ্ছেদ (,)):

ক) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
খ) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
গ) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
ঘ) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
ঙ) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খন্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
চ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
ছ) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
জ) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন-ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৬৮.
নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কী বসে?
  1. ক) কমা
  2. খ) কোলন
  3. গ) হাইফেন
  4. ঘ) উদ্ধরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় কতগুলো যতি বা চিহ্ন আছে। এরমধ্যে 'কমা বা পদচ্ছেদ' একটি।
- কমা ব্যবহারের ফলে সাধারণত ১(এক) বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় বিরতির প্রয়োজন হয়।
- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন: ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

• এছাড়াও যেসব ক্ষেত্রে 'কমা' চিহ্ন ব্যবহার করা যায়:

- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থবিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন: সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
- পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পথটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরেই কমা বসবে। যেমন সুখ, আশা, নৈরাশ্য।
- সম্বন্ধনের পরে কমা বসাতে হবে । যেমন: রশিদ, এদিকে এসো।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন: কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন: সাহেব বললেন, “ছুটি পাবেন না।
- মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর ‘কমা’ বসবে। যেমন: ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন: ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন: ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৯.
‘দৃষ্টান্তচ্ছেদ’ কোন বিরামচিহ্নের বাংলা নাম?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
• ‘কোলন’ এর বাংলা নাম দৃষ্টান্তছেদ।

• কোলন:
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন 'কোলন' (:) থাকলে এক সেকেন্ড থামতে হয়।
যেমন:
- ভাষায় দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।
- কবি সুকান্ত বলেছেন: বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।

অন্যদিকে,
- ‘সেমিকোলন’ বিরামচিহ্নের বাংলা অর্থ অর্ধচ্ছেদ।
- ‘কমা’ বিরামচিহ্নের বাংলা অর্থ পাদচ্ছেদ।
- ‘দাঁড়ি’ বিরামচিহ্নের বাংলা অর্থ পূর্ণচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭০.
কোনটি সেমিকোলন চিহ্ন?
  1. (;)
  2. (:-)
  3. (:)
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন চিহ্ন (;) চিহ্ন।

‘সেমিকোলন’(;)
- ‘সেমিকোলন’ এর বাংলা অর্থ- অর্ধচ্ছেদ।
- এর থামার বা বিরামের সময় হচ্ছে এক বলার দ্বিগুণ সময়।
- কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে, সেমিকোলন বসে।
যথা:
- সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ আমরা; এ মায়ার বাঁধন কি সত্যিই দুশ্ছেদ্য?

অন্যদিকে,
- (:-) কোলন ড্যাস চিহ্ন।
- (:) হচ্ছে কোলন চিহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৭১.
পদসংযোজক চিহ্নবলা হয় কোনটিকে?
  1. কোলনচিহ্ন
  2. উদ্ধৃতিচিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. কোলন ড্যাশ 
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭২.
সমাসে বিভক্তির বদলে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• হাইফেন (-):
হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন। অর্থাৎ বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদ হাইফেন দিয়ে যুক্ত করা হয়। বাক্য পাঠ করার সময়ে এই যতি উচ্চারণের উপরে কোনো প্রভাব ফেলে না।

- নিম্নে হাইফেনের সাধারণ কিছু প্রয়োগ তুলে ধরা হলো:

• পদের সমাসবদ্ধতা প্রকাশে হাইফেন:
বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার পানি সরবরাহ করার জন্য স্কুলের বারান্দায় ফিল্টার বসানো হয়েছে।
- লাল-সবুজের পতাকা শোভিত বাংলাদেশের গ্যালারিতে আনন্দের বন্যা!
- রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু-খাগড়ার প্রাণ যায়।

• একাধিক পদ মিলে পদবন্ধ-সমাস তৈরি হওয়ার সময়েও হাইফেন ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও এইসব পদবন্ধ বিশেষণ হিসাবে কাজ করে।
যেমন:
- সিগনালে-দাঁড়িয়ে-থাকা গাড়িটার উপরে ট্রাকটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

• সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন-স্কুল-পালানো ছেলে।
• অনুকার শব্দ বা প্রায় সমার্থক একাধিক শব্দ দিয়ে শব্দদ্বৈত গঠনের কাজে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গোল-গোল চোখ করে তাকিয়ে সে চলে যায়।
- ঝড়ের বাতাসে কড়-মড় করে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে।

• পরপদ অভিন্ন হলে প্রথমটিতে হাইফেন:
একাধিক সমাসবদ্ধ পদে পরপদ অভিন্ন হলে কোনো একটার পরপদ অক্ষুণ্ণ রেখে অন্যটার পরপদের পরিবর্তে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা- ও মুক্তি-সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• লাইনের শেষে শব্দ ভাঙতে হাইফেন:
লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁক দৃষ্টিকটুভাবে যাতে কম বা বেশি হয়ে না যায়, সেজন্য অনেক সময়ে লাইনের শেষ শব্দকে যৌক্তিকভাবে ভাঙা হয়। শব্দকে এভাবে ভাঙার সময়ে প্রথম অংশের শেষে হাইফেন ব্যবহার করতে হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৩৭৩.
কোনটি কোলন ড্যাস চিহ্ন?
  1. (—)
  2. (;)
  3. (:-)
  4. (:)
ব্যাখ্যা
• কোলন ড্যাস :-চিহ্ন।

কোলন ড্যাস (:-)

- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- (—) হচ্ছে ড্যাস চিহ্ন।
- (;) হচ্ছে সেমিকোলন চিহ্ন।
- (:) হচ্ছে কোলন চিহ্ন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৭৪.
হাইফেন (-) এর ব্যবহার মূলত কোন উদ্দেশ্যে করা হয়?
  1. বাক্যের অর্থ শেষ করার জন্য
  2. ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
  3. বাক্যের ভেতরে পদ সংযোগের জন্য
  4. উদাহরণ উপস্থাপনের জন্য 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) বাক্যের ভেতরে পদ সংযোগের জন্য। 

হাইফেন (-)
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড়ো গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৩৭৫.
'কমা'র ক্ষেত্রে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক সেকেন্ড
  3. 'এক' বলতে যে সময় লাগে
  4. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে-
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৬.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ এক সেকেন্ড?
  1. ব্র্যাকেট
  2. লোপ চিহ্ন
  3. বিস্ময় চিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৭.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন দিয়ে উক্তিকে আবদ্ধ করা হয়?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) কোলন
  3. গ) ড্যাশ
  4. ঘ) উদ্ধারচিহ্ন
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
• উক্তি দুই প্রকার:
১/ প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২/ পরোক্ষ উক্তি।
যেমন –
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৭৮.
কোন যতি চিহ্নের জন্যে সবচেয়ে বেশি সময় থামতে হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. দাঁড়ি
  4. উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি চিহ্নের বিরামের কাল - ১ সেকেন্ড

অন্যদিকে,
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে - এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- হাইফেন (-) বিরামের সময় - থাকার প্রয়োজন নেই।

বিভিন্ন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের সময় কাল ভিন্ন।
যেমন:
- বিস্ময়চিহ্ন (!) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- দাঁড়ি (।) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন (:) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাশ (:-) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৯.
কোন চিহ্নটি হঠাৎ সরে যাওয়া ও বিস্তার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. দাড়ি
  3. সেমিকোলন
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা
‘ড্যাশ’ কথাটিতে আছে হঠাৎ সরে যাওয়ার ইঙ্গিত। কোনো কথায় দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। এবং বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে বাক্যের শেষে ড্যাশ চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
• কমা, কোলন, হাইফেন  এগুলো ছেদ বা অঙ্গচ্ছেদবাচক চিহ্ন।
• বাক্যের শেষ বা ইতি বোঝাতে দাড়ি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• সেমিকোলন হচ্ছে বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরণের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। সেমিকোলনের বিরামের সময় ১ সেকেন্ডের দ্বিগুণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮০.
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. কোলন
  4. ড্যাস
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খন্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
8) ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮১.
কোন চিহ্নকে পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৩৮২.
যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বোঝাতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাস চিহ্ন
  2. কোলন ড্যাস
  3. কমা
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

ড্যাস চিহ্ন(__):
- যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- তোমরা দরিদ্রের উপকার কর– এতে তোমাদের সম্মান যাবে না – বাড়বে।

অন্যদিকে,
সেমিকোলন (;): - স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে
কোলন(:): - একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়।
কোলন ড্যাস (:-): - উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮৩.
হাইফেন এর ক্ষেত্রে কোনটি শুদ্ধ?
  1. সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়।
  2. শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
  3. যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
  4. ক্রম নির্দেশের কাজে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
ব্যাখ্যা
• হাইফেন এর ক্ষেত্রে শুদ্ধ - সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়।
যেমন -
→ এ আমাদের শ্রদ্ধা-অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি-উপহার।

অন্যদিকে,
• কমা ব্যবহৃত হয় - শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে।
• ড্যাস ব্যবহৃত হয় - যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে।
• বিন্দু ব্যবহৃত হয় - ক্রম নির্দেশের কাজে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৩৮৪.
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে, কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. ড্যাস
  4. ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

কোলন (:)
বাক্যে নানা কারণে কোলনচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
১. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে: বাংলা সন্ধি দু প্রকার: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।

২. উদ্ধৃতির আগে: রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।"

৩. নাটকের সংলাপের আগে:

দুকড়ি: কী চাই?
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।
দুকড়ি : তা তো সকলেই জানে কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী?
কাঙালি: আপনি সাধারণের হিতের জন্য প্রাণপণ-

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৮৫.
নিচের ক্ষেত্রে "কমা (,)" ব্যবহার করতে হয়?
  1. বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে
  2. শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে
  3. বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করতে
  4. দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করতে
ব্যাখ্যা

কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
 যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

অন্যদিকে,
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে
যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

ড্যাশ (–):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। 
যেমন: 
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত। 
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।

৩৮৬.
সমাসে বিভক্তির বদলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাশ 
  2. কমা 
  3. সেমিকোলন 
  4. হাইফেন 
ব্যাখ্যা

• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৭.
“কি বললে, আমি পাগল ------' শূন্যস্থানে বসবে:
  1. ক) প্রশ্নবােধক চিহ্ন
  2. খ) বিস্ময় চিহ্ন
  3. গ) দাড়ি
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা

- সবিস্ময় প্রশ্নের বেলায় প্রশ্নবোধক চিহ্নের পরিবর্তে বিস্ময়চিহ্ন বসে।
যেমনঃ
- তার হৃদয় কী দিয়ে গড়া!
- তার মন কী পাষাণ!
- তেমনি: কি বললে, আমি পাগল!

অর্থাৎ, শূন্যস্থানে বিস্ময় চিহ্ন বসবে৷

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৩৮৮.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. দুই দাঁড়ি
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো-

• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (-),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৩৮৯.
অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন -
→ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
→ নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
→ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯০.
আমি জিজ্ঞেস করলুম ফালুদা বানাতে বরফ লাগে এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে
- বাক্যটির যতিচিহ্ন সম্বলিত সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ক) আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে?’ ‘এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
  2. খ) আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
  3. গ) আমি জিজ্ঞেস করলুম - ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে, এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
  4. ঘ) আমি জিজ্ঞেস করলুম “ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে।”
ব্যাখ্যা
আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
- (প্রবাস বন্ধু - সৈয়দ মুজতবা আলী) থেকে নেওয়া।
৩৯১.
বাক্যে 'কোলন ড্যাস' থাকলে বিরতির সময়কাল কত?
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  3. এক মিনিট
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯২.
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কোন বিরাম চিহ্ন বসে?
  1. ক) কোলন
  2. খ) উদ্ধরণ চিহ্ন
  3. গ) হাইফেন
  4. ঘ) সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

উক্তি দুই প্রকার- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিঃ যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।

পরোক্ষ উক্তিঃ যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯৩.
বাংলা ভাষায় বিরাম চিহ্ন কেন ব্যবহৃত হয়?
  1. বাক্য সংকোচন করার জন্যে
  2. বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট করার জন্যে
  3. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্যে
  4. বাক্যের অলংকৃত করার জন্যে
ব্যাখ্যা
• বিরামচিহ্ন:
- লিখিত বাক্যে অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি ব্যক্ত করার জন্য যে চিহ্নসমূহ ব্যবহার করা হয় তাকে বিরামচিহ্ন বলে।
- একে যতি বা ছেদ-চিহ্নও বলা হয়ে থাকে।
- বিরামচিহ্ন ব্যবহারের ফলে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট হয়।
---------------
• বাক্যের শেষে ব্যবহৃত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- দাঁড়ি (।),
- জিজ্ঞাসাচিহ্ন (?)
-  বিস্ময়চিহ্ন (!)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।
৩৯৪.
অভ্যন্তর যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. সেমিকোলন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তর যতিচিহ্ন- সেমিকোলন (;)।

• যতিচিহ্ন:

মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৩৯৫.
লেখার সময়ে কোনো কথা অব্যক্ত রাখতে চাইলে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা হয়? 
  1. কমা 
  2. দাঁড়ি
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন
  5. ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

• ত্রিবিন্দু (...):
লেখার সময়ে কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে বা অব্যক্ত রাখতে চাইলে - ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন -
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।” 
আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

অন্যদিকে,
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

• সেমিকোলন ( ; ) হলো অর্ধচ্ছেদ, যা দুটি স্বাধীন বাক্য সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

• কমা বা পাদচ্ছেদ ( , )  ব্যবহার করা হয়:
- বাক্যের অংশ ভাঙতে;
- তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে;
- উদ্বোধক বা সম্বোধন চিহ্নিত করতে।

• দাঁড়ি( । ) বা পূর্ণচ্ছেদ - বাক্য শেষ করতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৯৬.
নিচের কোন বাক্যে কমার ব্যবহার সঠিক নয়?
  1. নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
  2. মা, আমি এখনই আসছি।
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।”
  4. সুজন দেখ তো, কে এসেছে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: সুজন দেখ তো, কে এসেছে।
এখানে “সুজন” একটি সম্বোধন পদ, তাই তার পরে কমা বসানো উচিত।
শুদ্ধ রূপ: সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷”

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৭.
কে প্রথম বাংলা গদ্যে বিরাম-চিহ্নের সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটান?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম বিরাম-চিহ্নের সুষ্ঠু ব্যবহার করেন। এটিই মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত মত।
- ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ গ্রন্থে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম যতিচিহ্নের/বিরামচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান।
- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৯৮.
প্রত্যক্ষ উক্তির জন্য ব্যবহৃত হয় - 
  1. ক) কোলন 
  2. খ) রেখা চিহ্ন 
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) উদ্ধৃতি চিহ্ন 
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে জোড় উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমনঃ শিক্ষক বললেন, "গতকাল তুরষ্কে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে।
তাছাড়া--
• একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্য শুরু করতে হলে সাধারণত কোলন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন- সভায় সিদ্ধান্ত হলাে : একমাস পরে নতুন সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 
• সময় নির্দেশ করতে ঘন্টা, মিনিট, ও সেকেন্ডের মধ্যে কোলন চিহ্ন বসে।
- যেমন ৯:১০:২০.
• কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়ােজন হলে, সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৯৯.
কোন যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির প্রয়োজন নেই?
  1. ব্র্যাকেট
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. ড্যাস
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• 'সেমিকোলন' এর বিরতিকাল- ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়। 

• নিম্নে উল্লেখিত যতিচিহ্নগুলোর বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• নিম্নে উল্লেখিত যতিচিহ্নগুলোর ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০০.
সম্বোধন পদের পরে কী বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• কমা: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷

উৎস:
- প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।