বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৮০১৯০০ / ১,৩২৩

৮০১.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।' সংজ্ঞাটি কার?
  1. কউফম্যান
  2. মার্টিন মিনোগ
  3. সক্রেটিস
  4. ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

- সুশাসন সম্পর্কে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী।
- তাঁর মতে, ''সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়''।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮০২.
'Golden Mean' ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৮০৩.
কেউ অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললে তার বিরুদ্ধে মামালা করে-
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) সরকারি কর্মকমিশন
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) পুলিশ প্রশাসন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৮০৪.
নিচের কোনটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত হটলাইন?
  1. ক) ১০৬
  2. খ) ১০৯
  3. গ) ৩৩৩
  4. ঘ) ৯৯৯
ব্যাখ্যা
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হটলাইন : ১০৯
- জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন : ৯৯৯
- দুদক হটলাইন : ১০৬
- সরকারি তথ্য ও সেবা হটলাইন : ৩৩৩।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৮০৫.
সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব কার?
  1. বিদেশীদের
  2. সামরিক বাহিনীর
  3. আমলাদের
  4. নাগরিকের
ব্যাখ্যা

→ সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব নাগরিকের।

সুশাসন:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের প্রধান করণীয় হচ্ছে ব্যক্তিগত অথবা সংগঠিতভাবে সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা।
- এক্ষেত্রে তারা আলোকিত মতামত দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারে বা সরকারের অন্যায় বা ভুল নীতির সমালোচনা বা প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৬.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের চতুর্থ স্তম্ভ কোনটি?
  1. আইনি কাঠামো
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮০৭.
সুশাসনের আবশ্যক-
  1. সংসদীয় ব্যবস্থা
  2. সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
  3. কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা
  4. দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো দক্ষ ও কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের জন্যে সরকারি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রভৃতি আবশ্যক।
অন্যদিকে,
- সুশাসনের ক্ষেত্রে সংসদীয় ব্যবস্থা কিংবা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা অত্যাবশ্যক নয়।
- ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা অপেক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ সুশাসনের গতিকে তরান্বিত করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৮০৮.
আধুনিক গণতন্ত্রের জনক কে?
  1. ক্লিসথেনিস
  2. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
  3. থমাস হবস
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে।
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক।
- জন লক ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও আলোকিত যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৬৩২ সালে ২৯ আগস্ট ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন লক জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনায় পদ্ধতিগত দিক থেকে নতুনভাবে অভিজ্ঞতাবাদের প্রয়োগ করেছেন এবং দার্শনিক চিন্তাধারাতে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
- তার রাজনীতি নিয়ে লিখিত বইগুলো আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
- অসংখ্য দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদের উপর তার প্রভাব রয়েছে।

উল্লেখ্য:
- গণতন্ত্রের জনক হচ্ছেন অ্যারিস্টটল।
- ক্লিসথেনিসকে 'এথেনীয় গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com
৮০৯.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
→ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮১০.
'Liberalism' শব্দটি ল্যাটিন কোন শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. ক) Liber
  2. খ) Liberty
  3. গ) Liberous
  4. ঘ) Liberation
ব্যাখ্যা
• উদারতাবাদ বা Liberalism শব্দটি ল্যাটিন Liber শব্দ হতে উদ্ধুত।
• Liber শব্দের অর্থ স্বাধীন। 
• শব্দগত অর্থে তাই উদারতাবাদ হচ্ছে স্বাধীনতার মতবাদ।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত্ব; এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮১১.
একটি রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রধান অবদান রাখে কোনটি?
  1. সুশীল সমাজ
  2. গণমাধ্যম
  3. বিচার বিভাগ
  4. সরকার
ব্যাখ্যা

সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৮১২.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে কে?
  1. হ্যারি ট্রুম্যান
  2. আর্থার বেণ্টলে
  3. অ্যালেন পটার
  4. এইচ জিগলার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অনেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure group), স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী (Interest group), লবি (Lobby), মনোভাব কেন্দ্রিক গোষ্ঠী (Attitude group) এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে (Political group) সমার্থক শব্দ। 

→ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
→ অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।”
→ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
→ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"
→ সংক্ষেপে বলতে গেলে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।
 
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮১৩.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অভিলক্ষ্য কী?
  1. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. সুশাসন মুখর বাংলাদেশ
  3. সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
  4. শিক্ষার মান উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৮১৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা কোনটি?
  1. ক) বিকেন্দ্রীকরণ
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) সামরিক হস্তক্ষেপ
  4. ঘ) জন গ্রহণযোগ্যতা
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসনামলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে এবং অকার্যকর করে রাখা হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুদূরপরাহত হয়ে পড়ে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮১৫.
মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া কী প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. সুশাসন
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক বিভেদ
  4. মানসিক উন্নতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮১৬.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. নৈতিক ধ্যান ধারণা
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৭.
গনতন্ত্রের সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. জন সচেতনা
  2. দলীয়করণ
  3. ক্ষমতার ভারসাম্য
  4. কার্যকর সংসদ
ব্যাখ্যা
• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গনতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮১৮.
আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয় কাকে?
  1. মন্টেস্কু
  2. জন লক
  3. ম্যাক্স ওয়েভার
  4. জন ফিফনার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।
- অর্থাৎ জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

উল্লেখ্য, 
- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৯.
নিচের কোনটি জাতিসংঘ উল্লিখিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  2. কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা
  3. মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
- মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা;
- আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৮২০.
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে কোনটি বেশি প্রতিষ্ঠা পায়?
  1. সরকারের স্বচ্ছতা
  2. সরকারের জবাবদিহিতা
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮২১.
সুশাসন বলতে বোঝায়-
  1. ক) সৃজনশীল শাসন
  2. খ) কর্তৃত্ববাদী শাসন
  3. গ) ধর্মীয় শাসন
  4. ঘ) নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানে হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরী শাসন বা উত্তমরূপে শাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা। স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতমূলকভাবে শাসন না করা। সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা ঐচ্ছিক বিষয়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৮২২.
সুশাসন বলতে বোঝায়-
  1. ক) কঠোর হাতে শাসন
  2. খ) সৃজনশীল শাসন
  3. গ) নৈতিকভাবে শাসন
  4. ঘ) নিরপেক্ষভাবে শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানে হলো উত্তমরূপে শাসন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা। স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতমূলকভাবে শাসন না করা। সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা ঐচ্ছিক বিষয়। (সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
৮২৩.
সুবর্ণ মধ্যকের 'Golden Mean' প্রথম ধারণা দেন কে?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. কার্ল মার্কস
  4. মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
Golden Mean:
- ‘দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী পন্থাকে অনুসরণ করাই সুবর্ণ মধ্যক বলে’।
- দর্শন জগতের অন্যতম এবং শ্রেষ্ঠতম ধারণাগুলোর একটি সুবর্ণ মধ্যক।
- সুবর্ণ মধ্যকের (Golden Mean) প্রথম ধারণা দেন, গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
- এরিস্টটলীয় দর্শনে- সাহসিকতা একটা মহৎ গুণ, তবে অতিরিক্ত সাহস মানুষকে বেপরোয়া করে তোলে আর একেবারেই সাহস না থাকলে সেটা ভীরুতা হিসেবে বিবেচ্য হয়।
- এইযে ভীরুতা আর দুঃসাহস, এই দুয়ের মাঝামাঝি সাহসটাই এরিস্টটলের দর্শনে golden mean’. সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটির (golden mean) ব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবনেও দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৮২৪.
'দারিদ্র দূরীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সম্ভবত সুশাসনই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান’- কে বলেছেন?
  1. ক) জাতিসংঘ সাবেক মহাসচিব
  2. খ) বিশ্বব্যাংক প্রধান
  3. গ) ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. ঘ) সার্ক 
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সুশাসনের বিকাশ নেই।
- এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের বক্তব্য স্বরণযোগ্য।
- তিনি বলেন- ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য ‘সম্ভবত সুশাসনই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপায়'।
- তবে এই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পূর্বশর্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৫.
বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাঁধা কোনটি?
  1. একাধিক রাজনৈতিক দল
  2. এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের ইস্যু:
- সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সুশাসনের ইস্যু হলো দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

⇒ দুর্নীতি:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৬.
একজন জনপ্রশাসকের জন্য কোনটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়?
  1. কর্মদক্ষতা
  2. ক্ষমতা
  3. জনকল্যাণ
  4. ব্যক্তি স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

একজন জনপ্রশাসকের জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়- 'জনকল্যাণ'।

জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ:
- জনপ্রশাসকের মূল লক্ষ্য হলো জনসেবার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ করা।
- একজন জনপ্রশাসক যেসব মৌলিক মূল্যবোধ ধারণ করেন, তা হলো-

⇒ জনকল্যাণ:
- জনপ্রশাসকের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং তাদের জীবনমান উন্নত করা।
- এজন্য জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।

⇒ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
- জনকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- জনপ্রশাসককে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হয় এবং জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা প্রদর্শন করতে হয়।

⇒ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার:
- জনপ্রশাসককে সব সময় নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ থাকতে হয়।
- জনগণের প্রতি ন্যায্য আচরণ করা এবং পক্ষপাতিত্ব না করা তার মূল দায়িত্ব।

⇒ কর্মদক্ষতা:
- জনপ্রশাসককে তার কাজ দক্ষতার সাথে করতে হয়, যাতে জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- দক্ষতা জনকল্যাণের একটি অংশ হিসাবে বিবেচিত হয়।

⇔ অন্য মূল্যবোধগুলো (স্বাধীনতা, ক্ষমতা, কর্মদক্ষতা) গুরুত্বপূর্ণ হলেও, জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হিসাবে জনকল্যাণ সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮২৭.
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম সূচক
  1. ক) সুশীলসমাজ
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম সূচক সুশাসন।
- সুশাসন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করে।
- বহির্বিশ্বে একটি দেশের ভাব মূর্তির মানদণ্ড নির্ধারিত সে দেশের শাসন ব্যবস্থা দ্বারা।
- সুশাসনের প্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি বিনিয়োগ।

৮২৮.
জাতিসংঘ অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি? 
  1. কার্যকারীতা ও দক্ষতা
  2. সাম্য
  3. স্বচ্ছতা
  4. কৌশলগত লক্ষ্য
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘ অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান নয় কৌশলগত লক্ষ্য।

- জাতিসংঘ  সুশাসনের  ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- অংশীদারত্ব (Participation);
- আইনের শাসন (Rule of Law);
 - স্বচ্ছতা (Transparency);
- সংবেদনশীলতা (Responsiveness);
- জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা (Consensus orientation);
- সাম্য (Equity);
- কার্যকরীতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency);
.-জবাবদিহিতা (Accountability)।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৮২৯.
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিম্নের কোনটি নির্দেশ করে?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৩০.
‘E-Governance‘ বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম কোনটি?
  1. ক) জনগণ
  2. খ) সরকার
  3. গ) তথ্য প্রযুক্তি
  4. ঘ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- E-Governance এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- E-Governance এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- E-Governance এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- E-Governance বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- E-Governance-এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- E-Governance-মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৮৩১.
ল্যাটিন শব্দ 'Governance'-এর অর্থ কী?
  1. আইন প্রণয়ন
  2. নীতি নির্ধারণ
  3. প্রশাসন
  4. পরিচালনা করা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩২.
সকল ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি হচ্ছে -
  1. জাতীয় স্বাধীনতা
  2. পারিবারিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
⇒ জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

জাতীয় স্বাধীনতা:
• 'বৈদেশিক শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
• জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
• জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- সমাজে সভ্য-সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি। মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৩৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
  1. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
  2. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
  3. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
- রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা।
- সরকারের অদক্ষতা এবং অব্যবস্থাপনা
- আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা।
- আইনের শাসনের অভাব।
- সরকারের জবাবদিহিতার অভাব।
- বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।
- স্বজনপ্রীতি।
- দারিদ্র্য।
- জনসচেতনতার অভাব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৩৪.
"সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌছানের ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স” - সংজ্ঞাটি দিয়েছে -
  1. বিশ্ব ব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউনেস্কো
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স: 
- বিশ্ব ব্যাংক (world Bank) প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, “ই-গভর্নেন্স বলতে সরকারি তথ্য প্রযুক্তি (নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, মোবাইল প্রভৃতি) ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সরকারের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের সক্ষমতাকে বোঝায়।" 

- জাতিসংঘ (UN) ২০০৬ সালে প্রদত্ত এক সংজ্ঞায় বলেছে যে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌছানের ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।”

- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের ই-গভর্নেন্স আইন-২০০২'-এ বলা হয়েছে যে, "ই-গভর্নেন্স বলতে বোঝায় ওয়েব নির্ভর ইন্টারনেট এবং অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি। " 

- ইউনেস্কো প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, "সরকার বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব যার অন্তর্ভুক্ত হলো নাগরিকের আইনগত অধিকার ও দায়িত্বের প্রশ্ন। অপরদিকে ই-গভর্নেন্স হলো এসব কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা, দ্রুততা ও স্বচ্ছতার সাথে জনগণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনরত অন্যান্য সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৩৫.
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য:
১. ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
৩. প্রশাসনকে গতিশীল করা।
৪. দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌছে দেওয়া।
৫. দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
৬. সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. প্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো।
৮. জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি।
৯. ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
১০. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
১১. নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
১২ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
১৩. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
১৪. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
১৫. গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা।
১৬. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।
১৭. সুশাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৩৬.
জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের -
  1. প্রাণ
  2. নব্য সংস্কৃতি
  3. চালিকাশক্তি
  4. চাবিকাঠি
ব্যাখ্যা

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও
ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৭.
রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণতার জন্যে প্রয়োজন?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  3. আইনগত স্বাধীনতা
  4. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৮৩৮.
ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে কার প্রাধান্য পাবে?
  1. সরকার
  2. প্রশাসন
  3. ব্যবসায়ী শ্রেণি
  4. সাধারণ নাগরিক
ব্যাখ্যা

E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
- সাধারনত তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে এই ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়-(১) সরকার ও সেবা গ্রহীতা (ব্যক্তি) (২) সরকার ও ব্যবসা-বাণিজ্য (৩) সরকার থেকে সরকার।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যই হল সরকারি সেবা ও শাসনব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা।
- ই- গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে সাধারণ নাগরিক।
- এটি চার ধরনের কাজ করে যার কেন্দ্রে থাকে নাগরিক সেবা।
- একাজগুলো হচ্ছে ব্যক্তিকে অবগতকরণ, ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বকরণ, ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৩৯.
বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

 জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

৮৪০.
'Governance and Development' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ করে -
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এডিবি
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।

⇒ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৪১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
  4. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে
ব্যাখ্যা

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৪২.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels) |
- UNDP-এর মতে সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে৷
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো -
• স্বচ্ছতা, 
• আইনের শাসন,
• সকলের অংশগ্রহণ,
• সংবেদনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
• সমতা,
• ন্যায্যতা,
• জবাবদিহিতা,
 • কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - UNDP ওয়েবসাইট।

৮৪৩.
শাসনবিভাগ জবাবদিহি করে-
  1. ক) আইন বিভাগের নিকট
  2. খ) প্রশাসনের নিকট
  3. গ) আদালতের নিকট
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতির নিকট
ব্যাখ্যা
একটি রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ থাকে। যথা- আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বা শাসন বিভাগ। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ জবাবদিহি করে আইন বিভাগের নিকট।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৪৪.
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে -
  1. জনগণের অংশগ্রহণ কমে যায়
  2. প্রশাসনিক কাজের গতি কমে যায়
  3. জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে, তাহলে নাগরিকরা প্রশাসনের ওপর আস্থাশীল হয়৷

♦ সুশাসন:

- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন ।
- সুশাসন এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয় এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- যখন জনগণ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তখনই সুশাসনের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায় ।
- জনগণের মতামত, চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক মজবুত হয় এবং সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৫.
UNCAC কনভেনশনে নিম্নের কোনটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. দুর্নীতি
  2. যৌতুকপ্রথা
  3. বাল্যবিবাহ
  4. স্বজনপ্রিয়তা
ব্যাখ্যা
UNCAC কনভেনশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সুশাসন:

- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই কনভেনশনে।

- এছাড়া সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।

- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮৪৬.
আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. বৈধতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের বৈধতার কথা উল্লেখ করেননি।  

সুশাসন:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরনের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন

এগুলো হল:
জবাবদিহিতা,
স্বচ্ছতা,
→ আইনের শাসন ও
অংশগ্রহণ

- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।

সূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৭.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক 
  3. আইএমএফ
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮৪৮.
“সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।” কে এই উক্তি করেন?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ম্যাক করণী
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- ‘রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক ‘ উক্তি করেন - মিশেল ক্যামডেসাস।
- রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শ্বাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
________ সরকার ও জনগণের মধ্যে স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
  1. গণতন্ত্র
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. অর্থনৈতিক উন্নতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা  জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- এই শাসনব্যবস্থায় সরকার কীভাবে কাজ করছে, তার জবাবদিহিতা থাকে জনগণের প্রতি।
- সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ প্রদান করে।
- সুশাসনই সেই মূল ভিত্তি যা সরকার ও জনগণের মাঝে বিশ্বাস, সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৫০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে?
  1. ২০১০
  2. ২০১২
  3. ২০১৩
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রণীত কৌশলে শুদ্ধাচারকে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ এবং কোন সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, প্রথা ও নীতির প্রতি আনুগত্য হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। 

উৎস: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল [Link]।

৮৫১.
Asian Development Bank (ADB) কত সালে 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
→ ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘ, UNDP সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সুশাসন' সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা শুরু করে।
→ ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
→ ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
→ ১৯৯৭ সালে UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৮৫২.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ২০টি
  3. ২৭টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকল রয়েছে।
- প্রথম আর্টিকেলে বলা হয়েছে সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সম মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন।
- ১০ ডিসেম্বর প্রতি বছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৮৫৩.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রধানত কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সংবিধান
  3. জনমত
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের উপর নির্ভরশীল।

জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
-  সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা মূলত জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখেই করা হয়।
- জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে।
- সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
- জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোন সরকারের অনুকূলে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮৫৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. স্বচ্ছতা
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়৷
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

→ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
• পরমত সহিষ্ণুতা,
• স্বচ্ছতা,
• আইনের শাসন,
• ন্যায়পরায়ণতা,
• সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
• দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৫.
“সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়” কে বলেছেন?
  1. ম্যাককরণী 
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাককরণী এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

→ মারটিন মিনোগ সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

→ ল্যান্ডেল মিল মনে করেন, “সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়”।

পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৬.
বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ কোনগুলো?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ
  2. খ) দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও জননিরাপত্তা
  3. গ) দায়িত্বশীলতা, মানবাধিকার, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ
  4. ঘ) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের স্তম্ভ
• ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল− 
(১) দায়িত্বশীলতা 
(২) স্বচ্ছতা 
(৩) আইনী কাঠামো ও 
(৪) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৭.
'বল নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' কে বলেছেন?
  1. Aristotle
  2. Rousseau
  3. T.H. Green
  4. John Locke
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের ভিত্তি:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- ইংরেজ দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৮.
২০০০ সালে 'বিশ্বব্যাংক' সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. আইনি কাঠামো
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

- ২০০০ সালে 'বিশ্বব্যাংক' সুশাসনের ন্যায়পরায়ণতা স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি। 

সুশাসন (Good Governance):

- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' (Good Governance) শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৫. অংশগ্রহণ।

উল্লেখ্য: 
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে 'সুশাসন' ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৮৫৯.
সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা দেয় কোন শাস্ত্র?
  1. ক) অর্থনীতি
  2. খ) লোক প্রশাসন
  3. গ) সমাজবিজ্ঞান
  4. ঘ) পৌরনীতি ও সুশাসন
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা:
- রাষ্ট্রের একজন সাধারণ নাগরিক থেকে কিভাবে সুনাগরিক হওয়া যায় সে সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা যায় পৌরনীতি ও সুশাসন থেকে।
- একজন সুনাগরিক বুদ্ধিমত্তা, বিবেক ও আত্মসংযমের অধিকারী হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রতি তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে। সুনাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার জন্যও পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬০.
'সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে'-এটি কার মত?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উল্লেখ্য,
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৮৬১.
নিচের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার?
  1. ক) বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  2. খ) দায়মুক্তি
  3. গ) সরকারি চাকুরি
  4. ঘ) বিনা বিচারে আটক না হওয়া
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
যেমন -
 → জীবন রক্ষা,
 → মত প্রকাশ,
 → চলাফেরা,
 → বিনা বিচারে আটক না হওয়া,
 → সংঘবদ্ধ হওয়া,
 → সভা-সমিতি,
 → চুক্তি স্থাপন,
 → সম্পত্তি ভোগ,
 → আইনের চোখে সমতা লাভ,
 → শিক্ষা লাভ,
 → সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
 → পরিবার গঠন,
 → নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬২.
কৌটিল্যের মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং, 
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন। 

এছাড়াও,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৮৬৩.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা বলেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য (চাণক্য) তাঁর 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থে সুশাসনের জন্য ৪টি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- এটি মূলত জনকল্যাণ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগঠনের ওপর জোর দেয়।

• কৌটিল্যের মতে সুশাসনের ৪টি উপাদান হলো:
১. আইনের শাসন (Law and Order),
২. জনকল্যাণমুখী প্রশাসন (People-caring Administration),
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচার ও যৌক্তিকতা (Justice and Rationality as the basis of Decision),
৪. দুর্নীতিমুক্ত শাসন (Corruption-free Governance)।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৮৬৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোন চর্চা জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. পরমত সহিষ্ণুতা
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৫.
কোনটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) স্থানীয় শাসন
  2. খ) শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ
  3. গ) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  4. ঘ) ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই নীতির ফলে সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক বিভাগ অন্য বিভাগের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সমর্থ হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৮৬৬.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে 
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
- সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮৬৭.
UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান -
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৮৬৮.
'A System of Logic' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. টমাস হবস্
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
- A System of Logic গ্রন্থটি ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল রচিত।

⇒ তার রচিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- On Liberty
- Utilitarianism
- Three Essays on Religion: Nature, the Utility of religion, and Theism
- The Subjection of Women
- The Spirit of the Age প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৮৬৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে-
  1. ক) ৭৫ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ৭৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ৭৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৭৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত কমিশনার বা কর্মকর্তাকে ন্যায়পাল বলে।
- তিনি সরকার, মন্ত্রণালয়, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৭৭ (১) অনুযায়ী সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
- ৭৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- ৭৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের স্থায়ী কমিটি সমূহ।
- ৭৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

৮৭০.
শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে ____ ও ______ দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
  1. নৈতিকতা
  2. সততা
  3. জবাবদিহিতা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮৭১.
সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে-
  1. নৈতিকতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. বেশি আইন প্রণয়ন
  4. আমলাতন্ত্রের দক্ষতা
ব্যাখ্যা
জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭২.
মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে কোনটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. রাজনীতিক দুর্বৃত্তায়ন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
- মুল্যবোধ ও সুশাসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের সহায়ক।
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এই উপাদান অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সামাজিক ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মূল্যবোধের শিক্ষা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গতি সঞ্চার করে।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৭৩.
শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিত থাকলে নিচের কোনটি বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. মূল্যবোধ অবক্ষয়
  2. সুশাসন
  3. সামাজিক অবক্ষয়
  4. শিক্ষার গুণগতমান
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

⇒ সুশাসন:
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৭৪.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অধীনে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. এনজিও
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
  3. জাতীয় সংসদ
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৮৭৫.
কোনটি ছাড়া স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়?
  1. ক) গনতন্ত্র
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ছাড়া স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি রাষ্ট্রে সুশাসন না থাকলে, সে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থিতিশীল হয় না।
- অর্থনৈতিক উন্নয়নের সকল উপাদান যেমন, উৎপাদন, বণ্টন, বিনিয়োগ এমনকি ভোগের ক্ষেত্রেও নানারকম বাঁধার সৃষ্টি হয়।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে বাজার ব্যবস্থাও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়।
- যেমন ধরা যাক বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হয় তখন এর উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত হয়।রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতালের কারণে যানবাহন চলাচল না করলে পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণ সম্ভব হয় না। ফলে ভোক্তারা বাজার থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে না। অথবা কিনলেও বেশি অর্থ ব্যয়ে বাধ্য হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বন্টন সম্ভবপর হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৭৬.
Johannesburg Plan of implementation সুশাসনের সাথে কোন বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
  3. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন।
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত থয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
- মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৮৭৭.
টেকসই উন্নয়নের জন্যে নিম্নের কোন বিষয়টি অপরিহার্য?
  1. শিক্ষা
  2. সুশাসন
  3. আইন
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন
  2. দারিদ্র্য দূরীকরণ
  3. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন
  4. স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৭৯.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - 
  1. গণতন্ত্র
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

৮৮০.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে -
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) উপজাতি
  3. গ) রাজনৈতিক নেতা
  4. ঘ) গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- সুশীল সমাজ হচ্ছে রাজনীতি সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
- সুশীল সমাজ হল একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
 -সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
 -সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৮১.
“সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।” - সুশাসন সম্পর্কিত প্রদত্ত সংজ্ঞাটি কার?
  1. ক) আইএমএফ (IMF)
  2. খ) বিশ্বব্যাংক (WB)
  3. গ) আইএমএফ (IMF)
  4. ঘ) ইউএনডিপি (UNDP)
ব্যাখ্যা
সুশাসন' শব্দটি সর্বপ্রথম বিশ্বব্যাংক সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- ১৯৮৯ সালে সুশাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত আধুনিক শাসন ব্যবস্থার সংযোজিত রূপ।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ''সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।''
উৎসঃ বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট।
৮৮২.
বর্তমান সময়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোনটির ভূমিকাকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়?
  1. ক) স্বাধীন গণমাধ্যমের
  2. খ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের
  3. গ) সততার
  4. ঘ) সুশীল সমাজের
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ নিরপেক্ষ ও নিরাসক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। তাই সুশীল সমাজের ভূমিকাকে বর্তমান সময়ে খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৮৮৩.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির প্রভাব কী?
  1. বেকারত্বের হার বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত
  3. বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস
  4. উপরোক্ত সব
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়।
- রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
- ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৮৪.
সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করতে মূল্যবোধ শিক্ষা কী সংরক্ষণ করে?
  1. নৈতিকতা
  2. ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করতে মূল্যবোধ শিক্ষা প্রধানত নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে। এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্তব্যবোধ এবং সহনশীলতার মতো গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে নাগরিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুস্থ ও কল্যাণমুখী পরিবেশ নিশ্চিত করে। 

• মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়। তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে্। মূল্যবোধের পরিবর্তনের ফলে বয়সের সাথে আদর্শিক ধর্মীয় বা পবিত্র বিষয়গুলো জাগ্রত হয়। তাই এটি ব্যক্তিজীবনের গাইডলাইন হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে যে বিষয়গুলো কাজ করে সেগুলো হল-পরিবার, বিদ্যালয়, সম্প্রদায়, খেলার সাথি, সমাজ ও প্রথা।
- অন্যদিকে, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বো‌ধ, পারিবারিক ও সামাজিক ভূমিকার শৈথিল্য, ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য্, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর অধিক নির্ভরশীলতা প্রভৃতি মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নিয়ামক।
- স্থান, কাল ও জাতিভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- আবার একই সমাজে বিভিন্ন প্রকার মূল্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। যেমন: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, বাহ্যিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক মূল্যবোধ, .সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শারীরিক ও বিনোদনমূলক মূল্যবোধ, বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ, পেশাগত মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ndicia24.com

৮৮৫.
কোন সংস্থা 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্ট প্রকাশ করে?
  1. UNDP
  2. World Bank
  3. IMF
  4. ADB
ব্যাখ্যা

রিপাের্ট প্রকাশ:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
- ১৯৯৭ সালে UNDP 'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

উৎস - সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৮৮৬.
সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড কী?
  1. আইনের শাসন
  2. সংবিধান
  3. সংস্কৃতি
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে 'আইনের শাসন' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৭.
সুশাসন সম্পর্কে 'ম্যাককরনী' নিচের কোন উক্তিটি করেছেন?
  1. সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভার্নেন্স
  2. সুশাসন মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে
  3. রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক
  4. রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক
ব্যাখ্যা
সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

অন্যদিকে,
- সুশাসন মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে -কফি আনান।
- সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভার্নেন্স’ – বিশ্বব্যাংক।
- রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'-মিশেল ক্যামডেসাস।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৮৮.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় হয়
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি দূর হয়
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক বিনিয়োগ:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৮৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন -
  1. ক) দুর্নীতি প্রতিরোধ
  2. খ) বৈষম্য
  3. গ) নারীর ক্ষমতায়ন
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
▪ বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
▪ এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নিম্নে সুশাসন নিশ্চিত করার উপায় আলোচনা করা হল - দূর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯০.
“প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. ল্যান্ডেল মিল
  3. রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। উক্তিটি করেন - ল্যান্ডেল মিল।
→ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ - উক্তিটি করেছেন - রিচার্ড ক্রসম্যান।
→ “প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি করে - অধ্যাপক ম্যাকাইভার।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৯১.
আইনের শাসনের মূলকথা কোনটি?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান
  2. সকলেরই আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ রয়েছে
  3. শুনানী ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন (Rule of Law):
- সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন আইনের শাসন বিদ্যমান থাকে।
- আইনের শাসনের মূলকথাই হলো-
(ক) আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান,
(খ) সকলেরই আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ,
(গ) শুনানী ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
- আইন হতে হবে সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট ও সহজবোধ্য।
- এছাড়াও আইনের শাসনের জন্য প্রয়োজন সরকারের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, রাষ্ট্রের নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ এবং নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৯২.
সুশাসনের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে, সরকারের কর্মকান্ডের -
  1. স্বচছতা বৃদ্ধি
  2. আইনের শাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যেক নাগরিকেরই কামনা।
- এর মাধ্যমের নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অনেকগুলো শর্তের উপর নির্ভরশীল।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে ত্বরান্বিত করে -
• স্বচছতা বৃদ্ধি
• সরকারের কাজ-কর্মে জবাবদিহিতা,
• আইনের শাসন,
• সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন,
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৩.
‘আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান’ বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে?
  1. ধারা ২৯
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ২৮
  4. ধারা ১৯
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ২৭নং ধারায় আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ১৯নং ধারা :সুযোগের সমতা।
- ২৮নং ধারা : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- ২৯নং ধারা: সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৮৯৪.
নিচের কোনটি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) দায়িত্ববোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতা প্রবর্তন করে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৯৫.
কোনটি চর্চা ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. ধর্ম
  2. সামাজিক প্রথা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. প্রযুক্তিগত দক্ষতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা, জবাবদিহিতা, মানবিকতা ও নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব গুণাবলী মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হয়।
- এছাড়া, মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
- এটি ন্যায়পরায়ণ ও জবাবদিহিতামূলক শাসনের ভিত্তি তৈরি।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
→ ধর্ম মানুষের নৈতিকতা গঠনে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি সুশাসনের একমাত্র পূর্বশর্ত নয়।
→ কিছু সামাজিক প্রথা সুশাসনের জন্য সহায়ক হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বৈষম্যের সৃষ্টি করতে পারে।
→ প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রশাসনিক বা কাজের দক্ষতা বাড়ায়, কিন্তু নৈতিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৮৯৬.
'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জন লক
  2. এরিস্টটল
  3. বার্কলে
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

• তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic.

- তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium
- Apologia Socrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৯৭.
ই-গভর্নেন্সকে Smart সরকার ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. চন্দ্রবাবু নাইডু
  3. এপিজে আব্দুল কালাম 
  4. ই.এম হোয়াইট
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৯৮.
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) ২৭
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৩০
  4. ঘ) ৩৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে।যেখানে বলা হযেছে, “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।” ২৭, ৩০ ও ৩৪ নং ধারায় যথাক্রমে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, বিদেশী খেতাবগ্রহণ নিষিদ্ধগ্রহণ এবং জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান)
৮৯৯.
নিচের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার?
  1. স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  2. কর্মের অধিকার
  3. শিক্ষার অধিকার
  4. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. চলাফেরার অধিকার।
৫. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৬. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৭. পরিবার গঠনের অধিকার।
৮. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
৯. শিক্ষার অধিকার। 

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯০০.
'মত প্রকাশের অধিকার'- নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার? 
  1. নৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

• অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।
• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
- তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

২.আইনগত অধিকার 
- আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- সামাজিক অধিকার সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার: 

- রাজনৈতিক অধিকার নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি বোর্ড বই।