বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৬০১৭০০ / ১,৩২৩

৬০১.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল কোনটি?
  1. নৈতিক গুণাবলির বিকাশ
  2. প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি
  3. দুর্নীতির প্রসার
  4. অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সুফল:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল হলো নৈতিক গুণাবলির বিকাশ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত আচরণের প্রেরণা জাগিয়ে তোলে,
- এটা সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
- সুশাসন নিশ্চিত হলে মানুষ সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে সঠিক কাজ করতে উৎসাহী হয়, ফলে সমাজে নৈতিকতার মান উন্নত হয় এবং অপরাধ ও দুর্নীতির হার কমে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি ন্যায়সংগত, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০২.
সুশাসনের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের প্রধান উপাদান।
- এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের উপর নির্ভর করে।
- জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক।
- দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অন্যদিকে, আইন ও নীতি মান্য করে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সহজেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
- স্বচছতা প্রতিষ্ঠা পেলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যায়।

অন্যদিকে,
• অংশগ্রহণ: পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান। সুশাসনের মূল ভিত্তি
নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ। বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব। অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

• আইনের শাসন: সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন। এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ। মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন। প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের
শাসন থাকা দরকার। আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ। রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

• নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা: পক্ষপাতহীন অবস্থা বা নিরপেক্ষতাই পারে সুশাসন নিশ্চিত করতে। সুশাসন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা পাবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। নিরপেক্ষতা আসতে হলে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরি দিহে হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৩.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নিকোম্যাসিয়ান নীতিশাস্ত্র
  2. দি পলিটিক্স
  3. রিপাবলিক
  4. দি প্রিন্স
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য:
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৪.
কোন মতবাদ অনুযায়ী, 'মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল'?
  1. ভাববাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।

⇒ মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৬০৫.
’’শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন নিরর্থক’’  উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. জ্যা জ্যাক রুশো
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।
- তাই প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

অন্যদিকে,
- অ্যারিস্টটলের উক্তি, ’যে ব্যক্তি সমাজে বসবাস করেনা সে হয় দেবতা,নয় পশু’।
- সক্রেটিস উক্তি ’নিজেকে জান’।
- জ্যা জ্যাক রুশো উক্তি  ’মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্রই তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়’। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৬.
ই-গভর্নেন্স এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা
  2. জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ
  3. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  4. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার সাধন করা
ব্যাখ্যা
 • ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:
→ ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
→ প্রশাসনকে গতিশীল করা।
→ তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা 
→ দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়া।
→ দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌঁছানো ।
→ সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।

→ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
→ দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
→ নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
→ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬০৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস
  2. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  3. ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা
  4. সার্বজনীন ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে - সার্বজনীন ভোটাধিকার।

• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

৬০৮.
UNDP-এর মতে, সুশাসন কী?
  1. সামরিক শাসনের পদ্ধতি
  2. ধর্মীয় নেতৃত্বের চর্চা
  3. রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ
  4. অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৬০৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) সুশীল সমাজের উপস্থিতি
  2. খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  3. গ) আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণ
  4. ঘ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান - 
 ক. সরকারি ও অর্থনৈতিক কাজে দক্ষতা;
 খ. স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা;
 গ. প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা;
 ঘ. জবাবদিহিমূলক প্রশাসন;
 ঙ. স্বাধীন সরকারি নিরীক্ষক;
 চ. প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভার কাছে দায়বদ্ধতা;
 ছ. আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণ;
 জ. বহুমুখী সাংগঠনিক কাঠামো;
 ঝ. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা;

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১০.
সুশাসন কখন বাধাগ্রস্থ হয়?
  1. জনসংখ্যা কম থাকলে
  2. অর্থ সম্পদ না থাকলে
  3. আইনের শাসন না থাকলে
  4. শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকলে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও আইনের শাসন:
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের শাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- যদি আইনের শাসন না থাকে, তবে প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি সবক্ষেত্রেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয়ে যায়।
- আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে:
ক) জনসংখ্যা কম থাকলে: জনসংখ্যা সুশাসনের সরাসরি বাধা নয়; বরং দক্ষ প্রশাসন ও সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খ) অর্থ সম্পদ না থাকলে: অর্থনৈতিক সংকট চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অর্থের চেয়েও বেশি দরকার স্বচ্ছ প্রশাসন ও আইনের শাসন।
ঘ) শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকলে: সামরিক শক্তি সুশাসনের মূল উপাদান নয়, বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা সুশাসনের ভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬১১.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো- 
  1.  স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা 
  2. আইনের শাসন
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

৬১২.
সুশাসনের পথে অন্তরায় কোনটি?
  1. ন্যায়পরায়ণতা
  2. অদক্ষতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হলো সুশাসনের উপাদান। এসবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক।
৬১৩.
ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়নের ফলে শাসন ব্যবস্থায় কী ঘটবে?
  1. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি হ্রাস পায়
  3. জবাবদিহিতা আসে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬১৪.
জবাবদিহিতা মূলত কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল?
  1. গণমাধ্যম
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন
  4. প্রশাসনিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: 
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের প্রধান উপাদান।
- এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের উপর নির্ভর করে।
- জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক।
- দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- আইন ও নীতি মান্য করে যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সহজেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
- স্বচছতা প্রতিষ্ঠা পেলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৫.
সুশাসনের স্তম্ভ হিসেবে ‘দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ’—এই নীতি কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তন করেছিল? 
  1. জাতিসংঘ
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  4. বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

 বিশ্বব্যাংক:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
- সুশাসন এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
-  বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।

এছাড়াও,
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- চারটি স্তম্ভ হল:-দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।

উৎস: বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৬১৬.
বিকেন্দ্রীকরণ হলো -
  1. ক্ষমতার আন্তর্জাতিকীকরণ
  2. ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা
  3. ক্ষমতা একজনের হাতে দেওয়া
  4. ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া
ব্যাখ্যা

বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬১৭.
'আইনের চোখে সব নাগরিক সমান'- সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ-০৭
  2. খ) অনুচ্ছেদ-২৭
  3. গ) অনুচ্ছেদ-২৯
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ-১৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-২৭ এ আইনের চোখে সব নাগরিক সমান'- এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ-০৭ঃ সংবিধানের প্রাধান্য,।
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ সুযোগের সমতা এবং।
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৬১৮.
নিম্নের কোন সূচক 'ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট' প্রকাশ করে?
  1. আইনের শাসন সূচক
  2. আইনের সমতা সূচক
  3. দুর্নীতি সূচক
  4. সুশাসন সূচক
ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করে থাকে। 
- সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনের শাসনের এই সূচক প্রকাশ করে আসছে।

- আইনের শাসন সূচক-২০২২
• ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ‘Rule of Law Index 2022’ বা আইনের শাসন সূচক-২০২২ প্রকাশ করেছে।
• সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনের শাসন কীভাবে কাজ করে এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা কী, তা বুঝতে ১৪০টি দেশের এক লাখ ৫০ হাজার খানা (household) এবং তিন হাজার ৬০০ আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আইনের সূচক ২০২২ তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
• প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান:- United Nations Economic and Social affairs (UNDESA)। উল্লেখ্য, সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনের শাসনের এ সূচক প্রকাশ করে আসছে।  

প্রতিবেদনে বিশ্ব 
• আইনের শাসন সূচক – ২০২২ অনুসারে,
• শীর্ষ দেশ – ডেনমার্ক।
• সর্বনিম্ন দেশ – ভেনিজুয়েলা।  

প্রতিবেদনে সার্কভূক্ত দেশ   
• সার্কভূক্ত দেশসমূহে শীর্ষে – নেপাল (৬৯তম)
• বাংলাদেশ – ১২৭তম। 
• শ্রীলংকা – ৭৪তম।
• ভারত – ৭৭তম।

উৎস: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট ওয়েবসাইট।
৬১৯.
জাতিসংঘের কোন সংস্থা সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. UNEP
  2. UNESCO
  3. UNDP
  4. UNICEF
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
- সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬২০.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রদত্ত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) ভবিষ্যৎবাণী
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) সিভিল সোসাইটি
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
এডিবি’র মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি। এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৬২১.
নিচের কোন গুণাবলির কারণে কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে?
  1. বুদ্ধি
  2. আত্মসংযম ও বুদ্ধি
  3. বিবেক
  4. ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক-এই গুণাবলির কারণে কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে।

সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২২.
সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. আইএমএফ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. বারট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উল্লেখ্য,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
'The Elements of Ethics' বইটির লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. সি. ডি. ব্রড
  3. প্লেটো
  4. আর. বি. পেরি
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

উল্লেখ্য,
- বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে সচেতনভাবে বা অচেতনভাবেই হোক মানুষের মনে এমন কিছু প্রশ্ন জাগে যাদের কোন যুক্তি সঙ্গত উত্তর ধর্মতত্ত্বে যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি আবার বিজ্ঞান এদের নিয়ে আদৌ মাথা ঘামায় না।
- ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এই যে অনধিকৃত একটি রাজ্য তাতেই দর্শন বিচরণ করে চলেছে।
- আর এ কারণেই রাসেল দর্শনকে বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বের মধ্যবর্তী অনধিকৃত রাজ্য (No Man's Land) বলে অভিহিত করেছেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র - শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পর –
  1. নির্ভরশীল
  2. বিপরীত
  3. অপরিহার্য
  4. পরিপূরক
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধের যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬২৫.
E-Governance-কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. ই.এম হোয়াইট
  2. এফ. আই গ্লাউড
  3. এ পি জে কালাম
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬২৬.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

- 'স্বেচ্ছাচারিতা' সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

সুশাসন:
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম Good Governance শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক ও বহুমাত্রিক। 

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
→ অংশগ্রহণ,
→ স্বচ্ছতা,
→ জবাবদিহিতা,
→ সংবেদনশীলতা,
→ আইনের শাসন,
→ ঐকমত্য।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৭.
প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থ কী সম্পর্কিত?
  1. সুশাসন
  2. ন্যায়বিচার
  3. মূল্যবোধ
  4. বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
The Republic:
- The Republic হল প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর একটি ডায়ালগ।
- এতে সক্রেটিসের চরিত্র দেখানো হয়েছে।
- The Republic গ্রন্থ হচ্ছে ন্যায়বিচার সম্পর্কে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬২৮.
'স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা' কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. রাজনৈতিক
  2. নৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

⇒ এগুলো হলো-
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
- রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
- সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
- স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
- প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬২৯.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে-
  1. সরকার
  2. গণমাধ্যম
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য,
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬৩০.
‘সুশাসন’ শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. UN
  2. World bank
  3. IMF
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৩১.
মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- 
  1. গণমাধ্যম
  2. প্রশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন: 
- সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

অপরদিকে,
• অংশগ্রহণ: 
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
-সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ। 
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব। 
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
নিচের কোনটি UNHCR নির্ধারিত সুশাসনের উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. সংবেদনশীলতা
  4. কেন্দ্রীয়করণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) কেন্দ্রীয়করণ।

সুশাসনের উপাদান:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়, সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।

- UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি। এগুলো হলো:
১. স্বচ্ছতা (Transparency).
২. দায়বদ্ধতা (Responsibility).
৩. জবাবদিহিতা (Accountability).
৪. অংশগ্রহণ এবং (Participation).
৫. সংবেদনশীলতা (Responsiveness).

⇒ কেন্দ্রীয়করণ সুশাসনের উপাদান নয়; বরং সুশাসনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৬৩৩.
'নির্বাচনে অংশগ্রহণ' কোন ধরণের সাম্য?
  1. আইনগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৪.
জাতিসংঘ মতে সুশাসনের উপাদান নয়- 
  1. অংশগ্রহণ
  2. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ -প্রকাশ করে। ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
-  জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।

• জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
• উপাদানগুলো হলো:  অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৬৩৫.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
​- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
​- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

​• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
​- স্বচ্ছতা,
​- আইনের শাসন,
​- সকলের অংশগ্রহণ,
​- সংবেদনশীলতা,
​- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
​- সমতা,
​- ন্যায্যতা,
​- জবাবদিহিতা
​- কৌশলগত লক্ষ্য।

​উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৬৩৬.
'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'- উক্তিটি করেছেন -
  1. ম্যাককরনি
  2. মারটিন মিনোগ
  3. মিশেল ক্যামডেসাস
  4. ল্যান্ডেল মিল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
-  উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

• মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে,
- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'। 

⇒ ম্যাককরনি:
- "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
- “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

⇒ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৩৭.
নিচের কোনটি জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. রাজনীতি
  3. সুশাসন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হল এমন একটি শাসন ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করা হয়।
- এতে জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়, যাতে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন টেকসইভাবে অর্জিত হয়।
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন৷ 
- সুশাসন হল যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।
- সুশাসন ছাড়া দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অসমতা বাড়ে, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৮.
মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে-
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) এডিবি
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) আইডিবি
ব্যাখ্যা
ইউএনডিপি মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে। মানব উন্নয়ন সূচকের প্রথম ধারণা দেন ড. অমর্ত্য সেন।
মানব উন্নয়ন সূচক-২০২০ এ শীর্ষ দেশ নরওয়ে। বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম।
উৎসঃ ইউএনডিপির ওয়েবসাইট।
৬৩৯.
জোহানেসবার্গ প্ল্যান অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (JPOI)-তে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কোনটি স্বীকৃত?
  1. অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ 
  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
ব্যাখ্যা

• জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (JPOI) ও সুশাসন:
- জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Johannesburg Plan of Implementation – JPOI) ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন’ থেকে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- এই পরিকল্পনায় সুশাসন (Good Governance) টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
- JPOI-এর মূল লক্ষ্য হলো- পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- মূলত, JPOI উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একযোগে পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের পথে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করে।
- পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন অসম্ভব।

- পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- 
- দারিদ্র্য বিমোচন,
- ক্ষুধা হ্রাস,
- নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন,
- উপযুক্ত আবাসন,
- নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার,
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা (যেমন HIV/AIDS, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা প্রতিরোধ)। 

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]। 

৬৪০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রভাব নয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. বেকারত্বের হার হ্রাস
  4. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪১.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে-
  1. ক) সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় না
  2. খ) নাগরিক জীবন বিকশিত হয় না
  3. গ) পুঁজি বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে
  4. ঘ) বেকারত্ব হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
এর মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় না। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৬৪২.
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে-
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে
  2. সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
  3. রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নতি হয়
  4. সার্বিক জীবনাচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "সামাজিক বৈষম্য দূর করা", কারণ এটি সুশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতা শেখায়, যা সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন নিশ্চিত করলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা হয়।
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যার ফলে সামাজিক বৈষম্য কমে যায়।

অন্যদিকে,
→ সুশাসনের মূল নীতি হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, যাতে একক কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি পুরো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
→ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নতি সুশাসনের একটি লক্ষ্য হতে পারে, তবে মূল্যবোধ শিক্ষার সরাসরি প্রভাব এটি নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা জীবন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়, কিন্তু এটি সুশাসনের সরাসরি প্রভাব নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৩.
কোন দেশের প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণী কমিটিতে চাপ প্রয়োগকারী সদস্যদের স্থান দেওয়া হয়?
  1. বাংলাদেশ
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন। অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন। অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

- উচ্চপর্যায়ের আমলারা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তাদের প্রভাবিত করে থাকে।
- উল্লেখ্য যে যুক্তরাজ্যের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নীতি নির্ধারণী কমিটিতে প্রায়ই চাপ প্রয়োগকারী সদস্যদের স্থান দেওয়া হয়।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৪.
বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এর ফলে কোনটি বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. রাষ্ট্রের বিকাশ
ব্যাখ্যা
বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: 
- অধিকাংশ রাষ্ট্রেই, বিশেষ করে অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোতে তত্ত্বগতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও দেখা যায় যে, জনগণের বাক স্বাধীনতায় ক্ষমতাসীন সরকার হস্তক্ষেপ করে থাকে।
- জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে না।
- সংবাদপত্র তথা মিডিয়ার ওপর সরকার সেন্সরশীপ আরোপ করে।
- এর ফলে জনগণ রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা বুঝতে পারে না।
- সরকার সব সময় মুক্ত আলোচনাকে ভয় পায় এবং বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।
- এর ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
৬৪৫.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. ন্যাযতা
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাক করণী বলেছেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

সুশাসনের স্তম্ভ:
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা, 
ii) স্বচ্ছতা, 
iii) আইনী কাঠামো, 
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
সুশাসন শাসন ব্যবস্থার কোন দিকটিকে নির্দেশ করে?
  1. পরিমাণগত
  2. সামষ্টিক
  3. গুণগত
  4. বাহ্যিক
ব্যাখ্যা
শাসন শব্দের সাথে সু প্রত্যয় যুক্ত করে সুশাসন শব্দটি তৈরি হয়েছে। সুশাসন শাসনের গুণগত দিককে নির্দেশ করে।
নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে শাসন পরিচালনা করাই হলো সুশাসন।

বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার জন্যে সুশাসনের অনুপস্থিতিকে দায়ী মনে করে।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬৪৭.
বিশ্বব্যাংকের Worldwide Governance Indicators (WGI) রিপোর্ট অনুসারে, সুশাসনের কয়টি সূচক রয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
 বিশ্বব্যাংকের The Worldwide Governance Indicators (WGI) রিপোর্ট অনুসারে, সুশাসনের ছয়টি সূচক রয়েছে:
- Voice and Accountability
- Political Stability and Absence of Violence
- Government Effectiveness
- Regulatory Quality
- Rule of Law
- Control of Corruption

Source: http://info.worldbank.org/governance/wgi/
৬৪৮.
গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয় কোনটিকে?
  1. আইনসভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. নির্বাচকমন্ডলী
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্রে আইনসভার ভূমিকা:
→ আইনসভা সরকারের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ।
→ বস্তুত: সংবিধান প্রণয়ন কিংবা আইন প্রণয়নের মত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বলতে গেলে আইন সভা থেকেই একটি রাষ্ট্রের কার্যক্রম সূচনা হয়।
→ জনগনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনসভার সদস্য হন। যার জন্য আইনসভাকে গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয়।
→ গণতন্ত্রের সাফল্য এবং বিকাশে আইনসভার ভূমিকা অসামান্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৯.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়-
  1. ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
  2. খ) শক্তিশালি আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র
  4. ঘ) গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় - আইনের যথার্থ প্রয়োগ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৬৫০.
সুশাসনের ক্ষেত্রে ওয়াচডগ বা অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে -
  1. সরকার
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. স্বাধীন গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ক্ষেত্রে 'ওয়াচডগ বা অতন্দ্র প্রহরী':
- সুশাসনের ক্ষেত্রে ওয়াচডগ বা অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্বাধীন গণমাধ্যম।

⇒ সংবাদক্ষেত্রকে বলা হয় দ্য ফোর্থ এস্টেট।
- ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আর আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে তাদের সমুচিত জবাব দেয়ার অধিকার রাখে।
- কোনো কোনো গণমাধ্যমকর্মী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহণযোগ্যতা ও অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
- কিছু কিছু সংবাদপত্র ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, একপেশে খবর, অদূরদর্শী এবং পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য নৈতিকতাবিবর্জিত সংবাদ প্রচার করে বিচার বিভাগ তথা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
- অনেক সময় মিডিয়া ট্রায়ালের ফলে বিচারক এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ বিব্রত হয়, যা অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।
- তবুও বলতে হয়, এদেশে সুশাসন যতটুকু প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে এজন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অন্যতম।
- মানুষের তথ্য জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের তথ্য জানানোর গভীর দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সামাজিক অঙ্গীকার নিয়ে সংবাদপত্র প্রতিনিয়ত অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৬৫১.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) লালফিতার দৌরাত্ম্য
  2. খ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  3. গ) সাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) অবনমিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ক্ষমতা কাঠামোর স্বতন্ত্রীকরণ, বিকেন্দ্রীকরণ, ই-গভর্ন্যান্স প্রভৃতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসনে গতি সঞ্চার হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৬৫২.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া
  3. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

→ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়৷
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

→ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

→ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৩.
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে কত সালে?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন ৷
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন ।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৪.
বিশ্বব্যাংক কোন রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. World Development Report
  2. Governance and Development
  3. Policy Paper on Governance
  4. Sound Development Management
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৫৫.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
  1. আইনের শাসন
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. স্বাধীন প্রচারমাধ্যম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হলো:
• আইনের শাসন,
• স্বচ্ছতা,
• জবাবদিহিতা,
• গ্রহণযোগ্যতা,
• দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্ৰশাসন,
• অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা,
• স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
• দায়বদ্ধতা,
• ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
• রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা,
• অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,
• বাকস্বাধীনতা,
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
• বৈধতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

৬৫৬.
ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
  3. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  4. জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

⇒ ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয় দুর্নীতি বৃদ্ধি।

ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।

⇒ ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
• সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
• জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় ৷
• স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় ৷
• দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৫৭.
সুশাসনের প্রথম আভাস পাওয়া যায় -
  1. ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে
  2. ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
  3. বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে
  4. বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

⇒ সুশাসনের প্রথম আভাস পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
 - ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৬৫৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা
  2. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
  3. নিজের অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের কর্তব্য হলো:
- নিয়মিত কর প্রদান করা,
- আইন মান্য করা,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা,
- সংবিধান মেনে চলা,
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা,
- সন্তানদের শিক্ষা দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫৯.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক কত সালে সুশাসন সম্পর্কিত নীতিমালা গ্রহণ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে বিশ্বের প্রথম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) সুশাসন সম্পর্কিত নীতিমালা বা পলিসি গ্রহণ করে।
- সংস্থাটির মতে একটি দেশের উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়াই হলো গভর্ন্যান্স।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ক ADB এর তিনটি কৌশলের একটি হলো সুশাসন।
- ADB এর মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ওয়েবসাইট)
৬৬০.
ই-গভর্নেন্স এর মূল কাজ কী?
  1. শিক্ষার উন্নয়ন
  2. স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  4. নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- ই-গভর্নেন্স  এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- ই-গভর্নেন্স মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৬৬১.
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে-
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
  4. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ব্যাখ্যা

  ◉ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে বিস্তাড়িত ভাবে  বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।

অন্যদিকে,
→ ইউএনডিপি সুশাসনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে, বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক থেকে, যখন তারা তাদের  প্রতিবেদনে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের একটি মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে।

→  ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) মূলত ইসলামি অর্থনীতির নীতির ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে।
- যদিও এই সংস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে, তবে সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। 

→ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বব্যাংকের ১৯৮৯ সালের প্রতিবেদনের পরবর্তী।
 - তাছাড়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সুশাসনের ধারণাটি প্রথম তুলে ধরার পরিবর্তে দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশি মনোযোগী।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

৬৬২.
’শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস’ কোন ধরনের অবক্ষয়?
  1. সামাজিক 
  2. নৈতিক 
  3. অর্থনৈতিক
  4. পারিবারিক 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ ও সুশাসনের অভাবজনিত সামাজিক অবক্ষয়:
- সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও সুশাসনের অভাব সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
- সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে না।
- এতে মানুষের মধ্যে অসততা, অনাচার ও অন্যায়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

​সামাজিক অবক্ষয়সমূহ হলো:
- অপসংস্কৃতি, যুব সমাজের অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দরিদ্রতা, খাদ্যে ভেজাল, সহিংসতা ও যুদ্ধমূলক সমস্যা, যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, মৌলবাদ, বর্ণবাদ, রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্র আক্রমণ ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৬৩.
কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে কী বলা হয়ে?
  1. সংবাদপত্র
  2. আইনপত্র
  3. শ্বেতপত্র
  4. সরকারি চিঠি
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৬৪.
সুশাসন নিশ্চিত করতে ই-গভর্নেন্স কোন উপাদান বাস্তবায়ন করে?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন 
  4. সমতা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়। 
- ই-গভর্নেন্সের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

⇒ ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
- প্রশাসনকে গতিশীল করা।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
- নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
- জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
- ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা। 
- ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৬৫.
জাতীয় উন্নয়ন বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) ব্যাক্তিগত
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
জাতীয় উন্নয়ন বলতে সামাজিক, রাজনৈতি, অর্থনৈতিক, ও সাংস্কৃতিক অবস্থার সার্বিক উন্নতিকে বুঝায়। মূল্যবোধের শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে৷
৬৬৬.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য-এর মতানুসারে, কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়? 
  1. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  2. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  3. আইনের শাসন 
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় -মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

• সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

⇒ প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং,
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৬৬৭.
সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. স্বৈরাচার
  2. গোপনীয়তা
  3. দমন-পীড়ন
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

◉ সুশাসনের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা অন্যতম। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি ।   

সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৬৮.
কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থাকে সুশাসনের উপযোগী হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ক) গণতান্ত্রিক সরকার
  2. খ) একনায়ক্তান্ত্রিক সরকার
  3. গ) সমাজতান্ত্রিক সরকার
  4. ঘ) রাজতান্ত্রিক সরকার
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
- সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
- আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
- তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

সূত্র- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬৬৯.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি রিভিউ
  2. ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট
  3. ডেমোক্রেসি অ্যান্ড গভর্নেন্স রিপোর্ট
  4. গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে। (Governance and development)
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. আইনের শাসন
  2. জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
  3. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  4. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
ব্যাখ্যা
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের 'জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা' উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি।

সুশাসনের উপাদান:

- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং, 
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৬৭১.
উৎপত্তিগত অর্থে "Governance" শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. হিব্রু
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernan ‘to steer’.
মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষার শব্দ kubernao থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
------------------
Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৭২.
সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজ কী অর্জন করতে পারে?
  1. রাজনৈতিক বৈষম্য
  2. ব্যক্তিগত উন্নতি
  3. কাঙ্খিত লক্ষ্য
  4. অকল্যাণকর পরিবেশ
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসনকে একক কোনো ধারণা দিয়ে সংজ্ঞায়িত বা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- সুশাসন হলো সরকারের এমন এক ব্যবস্থা যার লক্ষ্য রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক ও উন্মুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
- সেই সাথে কার্যকরি ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং প্রতিনিধিত্বকারী দায়িত্বশীল সরকারি কাঠামোকে ক্রিয়াশীল করা।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
- অর্থাৎ, যেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত, বাক স্বাধীনতা থাকে, সেই শাসনকে সুশাসন বলা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের যৌথ ফলাফল কোনটি?
  1. দুর্নীতিযুক্ত সমাজ
  2. ন্যায়বিচারহীন সমাজ
  3. নিপীড়নমূলক প্রশাসন
  4. জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৪.
জাতিসংঘের উদ্যোগে 'আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ' অনুমোদিত হয় -
  1. ৩১ অক্টোবর, ২০০২ সালে
  2. ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে
  3. ৩১ অক্টোবর, ২০০৪ সালে
  4. ৩১ অক্টোবর, ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ:
- দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা; পৃথিবীর কোনো দেশই পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়।
- আর তাই জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর 'আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ' United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) অনুমোদিত হয়।
- একই বছর ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডায় উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সনদটি উন্মুক্ত করা হয়।
- স্বাক্ষর প্রদানের গুরুত্বকে স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে এবং ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালন ও স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলো।
- যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক, রাষ্ট্রীয়, সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দেশের সকল নাগরিকসহ সকল অংশীজনের- এই মর্মে প্রচারণা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পালন করা এই দিবসটি উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য।

উৎস: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৬৭৫.
কার মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"?
  1. ম্যাকেনজি
  2. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. উইলিয়াম ফ্রাংকেনার
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার কিছু সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম লিলি এর মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক
  2. শুধুমাত্র রাজনৈতিক
  3. শুধুমাত্র সামাজিক
  4. জাতীয়
ব্যাখ্যা

জাতীয় উন্নয়ন:
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ নয়?
  1. আন্তর্জাতিক বানিজ্য চুক্তি
  2. পরিবেশ দূষণ
  3. দুর্নীতি
  4. অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে। যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৮.
কোন দশক থেকে সুশাসন ধারণাটি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে?
  1. ১৯৬০
  2. ১৯৮০
  3. ১৯৯০
  4. ১৯৭০
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- ১৯৯০-এর দশক থেকেই শাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাপী নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
- বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের পথে বাঁধা হিসেবে সুশাসনের অভাবকে চিহ্নিত করে।
- শাসনের গুনগত মান যে সব সময় একরকম হবে, তা নয়। সে কারণে প্রাচীন গ্রীসে আজ থেকে ২৬০০ বছর আগে দার্শনিক প্লেটো আদর্শ শাসকের কথা বলেছেন।
- তিনি বলেছেন, আদর্শ শাসক হবেন একজন দার্শনিক রাজা, যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- প্লেটোর পর থেকে আধুনিক যুগের দার্শনিকগণও উত্তম শাসনের বিষয়ে ভেবেছেন।

এছাড়াও, 
- জন লকের ভাষায়, উত্তম রাষ্ট্র হবে সেই রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেয়।
- কার্ল মার্কস মনে করেন শ্রমজীবী মানুষের সরকারই উত্তম সরকার। বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শাসন পরিচালনার নামই সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৯.
ম্যাককরনির মতে, সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে কার সম্পর্ককে নির্দেশ করে?
  1. শাসিত জনগণের
  2. সুশীল সমাজের
  3. বিরোধী দলের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে,
- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

⇒ ম্যাককরনি:
- "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
- "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

⇒ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৮০.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) অধিকাংশের মতামত
  2. খ) মতমোড়লদের মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) গণমাধ্যমের বক্তব্য
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
- জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৬৮১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার 'তথ্য অধিকার আইন' প্রবর্তন করে -
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে।
- প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ও দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬৮২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া
  2. সন্তানদের শিক্ষাদান
  3. আইন তৈরি করা
  4. উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকেরা বিভিন্ন অধিকার উপভোগ করে, কিন্তু একই সাথে তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। অধিকার ভোগের সাথে সাথে নাগরিকেরা এসব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য। একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভে নাগরিকদের কর্তব্যপরায়ণতা অপরিহার্য। কর্তব্যবিমুখ একটি জাতি কখনোই উন্নতি অর্জন করতে বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন;
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন;
→ আইন মান্য করা;
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন;
→ নিয়মিত কর প্রদান;
→ রাষ্ট্রের সেবা করা;
সন্তানদের শিক্ষাদান;
→ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৮৩.
নিচের কোনটি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে?
  1. শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ
  2. অবাধ তথ্য প্রবাহ
  3. ক্ষমতার অপব্যবহার
  4. দক্ষ আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন।
- শাসন প্রক্রিয়ার জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ, অবাধ তথ্য প্রবাহ, দক্ষ আমলাতন্ত্র, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ইত্যাদি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
পক্ষান্তরে,
- ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৬৮৪.
'সুশাসনের ইস্যু' বলতে নিম্নের কোনটিকে বুঝায়?
  1. অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. পরিবেশ দূষণ
  3. দুর্নীতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ইস্যু:
- সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৫.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) সমতা ও ন্যায্যতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অন্যতম প্রধান উপাদানসমূহ-
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- স্বচ্ছতা,
- সমতা ও ন্যায্যতা,
- সংবেদনশীলতা,
- জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

অপরদিকে,
গণতন্ত্র সুশাসনের উপাদান নয়।     

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৮৬.
আইডিএ সুশাসনের কতটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন? 
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

 - আইডিএ (IDA) বা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সুশাসনের ৪টি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- এই উপাদানগুলো হলো: 
১. দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা (Accountability)
২. স্বচ্ছতা (Transparency)
৩. আইনি কাঠামো বা আইনের শাসন (Legal Framework/Rule of Law)
৪. অংশগ্রহণ (Participation)

সুশাসন:
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৬৮৭.
“সর্বজনীন কল্যাণের জন্য ব্যক্তির লব্ধ বিচারবুদ্ধির প্রয়োগই নাগরিকতা”- উক্তিটি কার?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) লাস্কি
  3. গ) লর্ড ব্রাইস
  4. ঘ) ফাইনার
ব্যাখ্যা
- আধুনিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার প্রতি রাষ্ট্র অধিক প্রাধান্য দেওয়ায় নাগরিকতা বিষয়টি আজ খুব গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয় ।

- অধ্যাপক হ্যারল্ড জে লাস্কির মতে, “কোন ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলে।”

- অন্যদিকে লাস্কির বলেন, “সর্বজনীন কল্যাণের জন্য ব্যক্তির লব্ধ বিচারবুদ্ধির প্রয়োগই নাগরিকতা”।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যান্স কেলসন বলেন, “নাগরিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে কোন ব্যক্তির স্ট্যাটাস বা মর্যাদা।”

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৮.
নিচের কোনটি আমলাতন্ত্রের কাজ নয়?
  1. আইন কার্যকর করা
  2. আইনসভায় আইন প্রণয়ন
  3. তথ্য পরিবেশন
  4. বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি:
আধুনিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা ও কার্যাবলি অনস্বীকার্য। যেকোন ধরণের সরকারের নীতিমালা ও উদ্যোগের সাফল্য আমলাদের কাজের উপর বহুলাংশে নির্ভর করে।
-নিম্নে আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি আলোচনা করা হল:
- আইন কার্যকর করা: আমলারা শাসন বিভাগের সদস্য হওয়ায় আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনকে কার্যকর করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
- আইন প্রণয়নে সহায়তা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইন প্রণয়নে সহায়তা করে। আমলারা দক্ষ, অভিজ্ঞ, উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় আইন প্রণয়নের খুঁটিনাটিতে পারদর্শী। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা 'Delegated legislation' তথা অর্পিত ক্ষমতাপ্রসূত আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু সংসদে বা আইনসভায় আইন প্রণয়ন করেন না
- সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন: সরকার যে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে আমলাতন্ত্র। আমলারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে। 
- বিচার সংক্রান্ত: বাংলাদেশসহ অনেক রাষ্ট্রেই এখন বিচার সংক্রান্ত অনেক কাজ আমলারা করে থাকে। উদাহরনস্বরূপ, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের রেজিস্ট্রেশন, ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইত্যাদি বিচার কাজ আমলারাই করে থাকে। এছাড়া তারা বিচার বিভাগের যেকোন আদেশ-নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন: আমলারা প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ রুটিন মাফিক সম্পাদন করে। দৈনন্দিন কাজকর্ম করার মাধ্যমে আমলারা দেশ ও জনগণের সেবা প্রদান করে। তারা বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 
- তথ্য পরিবেশন: আমলারা আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান সরবরাহ করে থাকে। রাষ্ট্র ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য সংগ্রহ, রক্ষণ এবং সমন্বয় করে আমলারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিকট প্রকাশ করে। 
- আইনসভাকে প্রভাবিত করা: আইনসভার কার্যপ্রণালীর সাথে আমলাতন্ত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থেকে আইনসভাকে প্রভাবিত করেন। আইনসভার বিভিন্ন কমিটিগুলোকে আমলারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে থাকে। আইনসভার কমিটিগুলোর বিভিন্ন বৈঠকে আমলারা উপস্থিত থাকেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে আইনসভার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকেন আমলাগণ।
- শাসক-শাসিতের মধ্যে সেতুবন্ধন: আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে শাসক-শাসিতের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। আমলাগণ সরকারের কার্যাবলির গুণাগুণ জনগণের সামনে তুলে ধরেন এবং তার মাধ্যমে সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করেন।
- পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা: আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়। এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

উল্লিখিত প্রশ্নে আইনসভায় আইন প্রণয়ন আমলাতন্ত্রের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৯.
এসডিজির কত নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে?
  1. ক) ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা
  2. খ) ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা
  3. গ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
  4. ঘ) ১৭ নং লক্ষ্যমাত্রা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সমাপ্তিতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (১৭টি) (২০১৬-২০৩০) গ্রহণ করে।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্যমাত্রায় টেকসই উন্নয়নের জন্যে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্যে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে।

অন্যদিকে,

- ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা : বৈষম্য হ্রাস করা
- ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা : ক্লাইমেট অ্যাকশন
- ১৭ নং লক্ষ্যমাত্রা : অভীষ্ট অর্জনের জন্যে অংশীদারিত্ব।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৬৯০.
কে সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে?
  1. পরমত সহিষ্ণু ব্যক্তি
  2. অসচেতন ব্যক্তি
  3. সচেতন ব্যক্তি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য।
- মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে।
- ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 
- কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে। 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সবসময় নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।
- ফলে এ ধরনের নাগরিকদের মাঝে সহজেই দেশ প্রেমের সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯১.
UNDP সুশাসনের নিম্নের কোন উপাদানটি উল্লেখ করে নি?
  1. ক) সমতা
  2. খ) কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) ন্যায্যতা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা UNDP ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন
- সকলের অংশগ্রহণ
- সংবেদনশীলতা
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
- সমতা
- ন্যায্যতা
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।
 
জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে যে ৮টি উপাদান উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন। 

(তথ্যসূত্রঃ UNDP ওয়েবসাইট)
৬৯২.
বিশ্বব্যাংক কোন রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসনপ্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  2. সুশাসন ও মানব উন্নয়ন
  3. সুশাসন ও উন্নয়ন
  4. শাসনপ্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
শাসনপ্রক্রিয়া ও উন্নয়ন (Governance and development):
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
- বিশ্বব্যাংক এই রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- যে পদ্ধতিতে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদের উন্নয়নের ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে শাসন বলে অভিহিত করা হয়েছে।
- সুশাসন হলো সুষ্ঠু উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার সমার্থক।

উৎস: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
৬৯৩.
বিশ্ব ব্যাংক এর ধারণা অনুযায়ী সুশাসনের ৩য় স্তম্ভ -
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) দায়িত্বশীলতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) আইনি কাঠামো
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো:
১। দায়িত্বশীলতা,
২। স্বচ্ছতা,
৩। আইনি কাঠামো
৪। অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৯৪.
সুশাসন বিষয়ক White Paper কে প্রকাশ করে?
  1. European Economic Community
  2. United Nations
  3. Asian Development Bank
  4. World Bank
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও European Economic Community (EEC):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি। 
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

৬৯৫.
'বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী' কারা?
  1. ক) উপজাতি
  2. খ) ভিক্ষুক
  3. গ) ভূমিহীন
  4. ঘ) প্রতিবন্ধী
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৬৯৬.
সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে?
  1. দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  2. দারিদ্র্য দূরীকরণ করা
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়।
- একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:

১. মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা
২. জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ প্রশাসন গঠন
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা
- দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা
৩. আইন ও বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
৪. গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ
- ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠন
৫. সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
- দারিদ্র্য দূরীকরণ
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি
৬. সুশাসনের ভারসাম্য ও মানবাধিকার রক্ষা
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা
- কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা
৭. সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৭.
জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয় কিসের মাধ্যমে?
  1. পার্লামেন্ট
  2. বিচারকের রায়
  3. জনমত
  4. সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে বুঝায়। তবে প্রকৃত অর্থে জনমত হচ্ছে কল্যাণধর্মী বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুষ্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- জনমতের মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়।
- সভা-সমিতি, সংবাদপত্র, আইন পরিষদ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি জনমত গঠনের বাহন হিসেবে কাজ করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৬৯৮.
রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. সুশাসন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

• সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

• পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন:
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৯.
ইউরোপিয়ান কমিশন সুশাসন নিশ্চিত করতে কোনটি প্রকাশ করে?
  1. শ্বেতপত্র
  2. সবুজপত্র
  3. কমনপত্র
  4. নীলপত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।
৭০০.
সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ। মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ মূল্যবোধ। মূল্যবোধ মানব আচরণের অলিখিত দলিল। মূল্যবোধের ধারনা সহজাত নয় বরং অর্জিত। মূল্যবোধ মানবসত্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।