বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৫০১৬০০ / ১,৩২৩

৫০১.
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে কোন দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক 
  2. রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র
  3. গণতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক
  4. সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত 
ব্যাখ্যা
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র:
- সম্পত্তি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা না-থাকার ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়, যেমন- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

• পুঁজিবাদী রাষ্ট্র:
- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়।
- এ সরকার ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে।
- এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী।

• সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না।
- এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে।
- রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- এটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিপরীত।
- সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করা হয় না।
- এ ধরনের রাষ্ট্রে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে।
- গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- বিরোধী মত প্রচারের সুযোগ থাকে না। যেমন- চীন ও কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০২.
সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার দিকটি কোন সংস্থা উল্লেখ করেছে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. ন্যায়বিচার আদালত
  3. ইউএনডিপি
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) 'শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৩.
দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে কোনটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. নৈতিক চরিত্র
  2. আইনের প্রয়োগ
  3. একনায়কতন্ত্র
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জবাবদিহিতা (Accountability) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা যেখানে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের জন্য জনগণ তথা আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। 

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোন সংস্থা আলোচনা করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নি:স্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।
- সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৫.
মূল্যবোধ শিক্ষার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক কোনটিকে প্রভাবিত করে?
  1. ক) রাজনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) নৈতিক উন্নয়ন
  3. গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৫০৬.
সুশাসনের মানদন্ড কোনটি?
  1. সামাজিক ন্যায় বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উপস্থিতি
  2. সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
  3. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  4. জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) ক্রাইম নিউজ নেটওয়ার্ক।
৫০৭.
"Good governance is important for countries at all stages of development."- প্রদত্ত উক্তিটি প্রদান করে -
  1. ক) UNDP
  2. খ) World Bank
  3. গ) IMF
  4. ঘ) Martin Minogue
ব্যাখ্যা
- IMF প্রদত্ত উক্তি - "Good governance is important for countries at all stages of development."

• সুশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন সংজ্ঞা:


- বিশ্বব্যাংকের মতে, “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”। ("Governance is the manner in which power is exercised in the management of a country's economic and social resources for development.")

- UNDP- এর মতে , ‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”। ("Good Governance is the exercise of economic,political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels.”) 

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও আইএমএফ ওয়েবসাইট।[link]
৫০৮.
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক 'সুশাসন' সম্পর্কে কী সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা
  2. শাসকের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. রাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ব্যবহার
  4. সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫০৯.
আইনের শাসনের কয়টি মৌলিক শর্ত রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
আইনের শাসনের অভাব:
- আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে।
ক. আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান,
খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা,
গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
- এই শর্ত তিনটি মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর রয়েছে।
- কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রেই আইনের শাসন কার্যকর থাকে না।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।
- কিন্তু অনেক রাষ্ট্রই এরূপ অবস্থা বিদ্যমান নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫১০.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. স্বচ্ছতা
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়। 

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য: 

- গণতন্ত্র
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া 
- নৈতিক মূল্যবোধ 
- স্বচ্ছতা
- বৈধতা
- দায়িত্বশীলতা
- আইনের শাসন
- দায়বদ্ধতা 
- দক্ষতা
- স্বাধীন বিচার বিভাগ
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রভৃতি। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫১১.
একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে -
  1. শিক্ষা
  2. সঠিক নেতৃত্ব
  3. অবাধ প্রচার মাধ্যম
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল লক্ষ্য মানব উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিচ্ছে।
- একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গগত বৈষম্য রোধ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১২.
'Good Governance' ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন বিশ্বব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্ট?
  1. লুইস টি. প্রেস্টন
  2. বারবার কোনাবল
  3. ইউজিন মেয়ার
  4. জিম ইয়ং কিম
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance ।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫১৩.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
  1. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. দুর্নীতি
  4. জবাবদিহিতার অভাব 
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে। ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৪.
কোনটিকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়?
  1. সহনশীলতা
  2. গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য
  3. যথার্থ আইনের শাসন
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা: 
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ।
অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
- অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে। সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারেনা।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজে তত বেশি গণতান্ত্রিক। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫১৫.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) স্টুয়ার্ট মিল
  2. খ) মন্টেস্কু
  3. গ) মিশেল ক্যামডেসাস
  4. ঘ) ম‌্যাকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো সরকারের তিনটি বিভাগের (শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু কে। তিনি ১৭৪৮ সালে সর্বপ্রথম তার The Spirit of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫১৬.
সুশাসন নিশ্চিতকরণে কোনটি জরুরি?
  1. ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
  2. খ) সহাবস্থান
  3. গ) স্বৈরতন্ত্র
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৫১৭.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী কোনটি?
  1. ক) বিদেশী সংস্কৃতি
  2. খ) মাদকাসক্ততা
  3. গ) নগরায়ন
  4. ঘ) ছাত্র রাজনীতি
ব্যাখ্যা
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অপসংস্কৃতি, অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি প্রভৃতিও যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে দায়ী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৫১৮.
“জনগনের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।” - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. খ) থমাস হবস্‌
  3. গ) অধ্যাপক গেটেল
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৫১৯.
সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই হচ্ছে -
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. সংবেদনশীলতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
• সংবেদনশীলতা:
→ সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই
সংবেদনশীলতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
'আমলাতন্ত্র' তত্ত্ব প্রথম কে উপস্থাপন করেন?
  1. উইলিয়াম লিলি
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ডুখেইম
  4. কার্ল মার্ক্স
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হল একটি সংস্থা (সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন) যা বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে জটিলতা, শ্রম বিভাজন, স্থায়িত্ব, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, শ্রেণিবিন্যাস সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, কঠোর চেইন অফ কমান্ড এবং আইনি কর্তৃত্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত সংগঠনের নির্দিষ্ট রূপ।
- 'আমলাতন্ত্র' তত্ত্ব প্রথম উপস্থাপন করেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (১৮৬৪-১৯২০)।
- তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক উত্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫২১.
মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়-
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটলে
  2. খ) সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে
  3. গ) সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানেও এর উল্লেখ রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেলেই শুধুমাত্র মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
৫২২.
জাতিসংঘ প্রকাশিত ই-গভর্মেন্ট সূচক-২০২০ এর শীর্ষদেশ কোনটি?
  1. ক) সুইডেন
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) ফিনল্যান্ড
  4. ঘ) নরওয়ে
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (DESA) জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলো নিয়ে প্রতি দুবছর অন্তর ই-গভর্মেন্ট সূচক প্রকাশ করে থাকে।
২০২০ সালে প্রকাশিত সূচকে:
- শীর্ষদেশ : ডেনমার্ক
- সর্বনিম্ন দেশ : দক্ষিণ সুদান
- বাংলাদেশের অবস্থান : ১১৯তম।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৫২৩.
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ই-পাসপোর্ট:
- বিশ্বে প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করে মালয়েশিয়া ১৯৯৮ সালে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয় ২৪ এপ্রিল, ২০১৬ সালে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২২ জানুয়ারি, ২০২০ সালে।
- বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসাবে ই-পাসপোর্ট চালু করে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট নিয়ে কাজ করেছে জার্মান কোম্পানি Veridos GbmH.
- সাধারণ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট এর মধ্যে পার্থক্য হলো, ই-পাসপোর্টে একটি পাতলা ও ছোট আকারের ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ যুক্ত থাকবে।
- এ চিপ পাসপোর্টে একটি বিশেষ পাতার ভিতর থাকবে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ব্রিটানিকা। 
৫২৪.
সুশাসন নিম্নের কোন ধারণা নির্মাণ করে না?
  1. ক) রাজনৈতিক সুশাসন
  2. খ) নৈতিক সুশাসন
  3. গ) সামাজিক সুশাসন
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে : 
- রাজনৈতিক সুশাসন, 
- সামাজিক সুশাসন, 
- অর্থনৈতিক সুশাসন এবং 
- সাংস্কৃতিক সুশাসন।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫২৫.
নিচের কোনটি জনগণ ও সরকারের মাঝে যোগসূত্রকারী হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল সরকার এবং জনগণের মাঝে যোগসূত্রকারী বা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৫২৬.
সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে -
  1. EEC
  2. World Bank
  3. IMF
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

⇒ বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
- বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নি:স্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৭.
কোন সংস্থার মতে সুশাসনে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়?
  1. UNDP
  2. IMF
  3. United Nation
  4. World Bank
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫২৮.
দুর্নীতি দমন কমিশন কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. বেসরকারি
  2. সাংবিধানিক
  3. আধাসামরিক
  4. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন:
- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- এর কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনার নিয়ে দুদক কমিশন গঠিত হয়।
- দুদক দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।
- তবে নানা সীমাবদ্ধতা কারণে দুদক দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।

উল্লেখ্য,
- কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব জনাব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনারদ্বয় হলেন  সাবেক জেলা জজ জনাব মো. জহুরুল হক এবং সরকারের সাবেক সচিব জনাব মোছাঃ আছিয়া খাতুন।
- তারা দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার যথাক্রমে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

তথ্যসূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।
৫২৯.
কোন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ নামে পরিচিত?
  1. গণতন্ত্র
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ (Prescription) নামে পরিচিত প্রত্যয়টি হলো সুশাসন।
- ১৯৮০–এর দশক থেকে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে কেবল আর্থিক সহায়তা বা ঋণ প্রদানই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।
- এজন্য তারা উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ বা প্রেসক্রিপশন প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, কার্যকর প্রশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
- তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সুশাসনকে বিশ্বব্যাংক একটি বাধ্যতামূলক নীতিগত নির্দেশনা বা ‘প্রেসক্রিপশন’ হিসেবে উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৩০.
কত সালে বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সম্পর্কিত 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উল্লেখ্য,
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৩১.
কোন সংস্থাটির মতে ‘জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত লক্ষ্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য’ সুশাসনের অন্যতম উপাদান?
  1. UNDP
  2. IDA
  3. IMF
  4. UNO
ব্যাখ্যা
UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা UNDP ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদান উল্লেখ করে।
• এগুলো হলো-
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৫৩২.
মূল্যবোধ থেকে নিচের কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) আইন
  3. গ) সাম্য
  4. ঘ) সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ থেকে আসে আইন। আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যানের জন্য অপরিহার্য।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৫৩৩.
রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে -
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. ভোটদান
  3. আইনের শাসন
  4. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
• অংশগ্রহণ:
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ।
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব।
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
সুশাসনের মূলনীতি হচ্ছে -
  1. সামাজিক সাম্য
  2. জবাবদিহিতা
  3. কর্তৃত্ববাদী শাসন
  4. স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance.
- সুশাসন প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে - জাতিসংঘ।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- জাতিসংঘের সংস্থা UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে - সুশাসন।
- সুশাসনের মূলনীতি হচ্ছে - জবাবদিহিতা।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন - আইনের শাসন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৩৫.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের প্রথম পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?
  1. ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  3. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা
  4. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন এবং সরকার:

- রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
- তাই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে সরকার।
- সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- আইন না থাকলে যেমন অনাচার সৃষ্টি হয়, তেমনি আইন না মানলে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।
- নাগরিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সামাজিক মূল্যবোধ, সাম্য ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসন অত্যাবশ্যক।
- আইনের শাসনের মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- আইনের শাসনের ফলে সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমমর্যাদা পেয়ে থাকে।
- তাই সরকারকে সবক্ষেত্রে আইনকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং এ অনুযায়ী শাসন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৬.
নিচের কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতি?
  1. শিল্পকলা
  2. আদর্শ
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

তথ্যসূত্র - Britannica ও সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
বস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পোষাক
  2. তৈজসপত্র
  3. শিল্পকলা
  4. যন্ত্রপাতি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতির ধরন:
সমাজে সাধারণত দুই ধরনের সংস্কৃতি বিদ্যামান।যথা-
১. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
২. অবস্তুগত সংস্কৃতি।

১. বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম আর এগুলোই বস্তুগত সংস্কৃতি।


২. অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। 

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৮.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র কোনটি?
  1. সাম্য
  2. স্বাধীনতা
  3. ভ্রাতৃত্ব
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

♦ গণতন্ত্ৰ:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা ।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে ।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না, বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by
the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হল -
• সাম্য, 
• স্বাধীনতা ও 
• ভ্রাতৃত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ৷

৫৩৯.
মেরিডা কনভেনশনের বিষয়বস্তু কী?
  1. শিক্ষা বিস্তার
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  3. শাসন কাজে দক্ষতা বৃদ্ধি
  4. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
ব্যাখ্যা
দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে:
i) prevention;
ii) criminalization and law enforcement;
iii) international cooperation;
iv) asset recovery;
v) technical assistance and information exchange.

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
৫৪০.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে?
  1. ইউএনডিপি
  2. জাতিসংঘ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো ও
- অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৪১.
কত সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪২.
'Critique of Pure Reason' বইয়ের রচয়িতা কে?
  1. ফ্রিডরিখ নিটশে
  2. জর্জ হেগেল
  3. জন লক
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

♦ ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

♦ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Critique of Pure Reason.
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com

৫৪৩.
ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়
  2. সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স একটি নতুন ধারণা।
- ই-গভর্নেন্স বলতে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ও কম্পিউটারভিত্তিক যোগাযোগ।
- এটি হলো শাসনের এমন এক পদ্ধতি যেখানে সরকারি সেবা ও তথ্যসমূহ জনগণ সহজে ঘরে বসেই পেতে পারে।
- ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৪৪.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে-
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. সামাজিক উন্নয়ন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন।

সুশাসন:
- সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া।
- শাসনের ধারণা কোন নতুন বিষয় নয় বরং এটা মানব সভ্যতার মতোই পুরাতন।
- শাসন ব্যবস্থার অর্থ ও মাত্রা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।
- সুশাসন প্রত্যয়টিকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে শাসন বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন।
- শাসন বলতে বুঝায় ক্ষমতাকে কিভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিভাবে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাড়া প্রদান করা হয় কিংবা কিভাবে একটি জনসমষ্টি শাসিত ও পরিচালিত হয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৪৫.
‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।' এই উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. বিশ্ব ব্যাংক
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৪৬.
UN ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UN ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (UNESCAP) সুশাসনের ৮টি প্রধান বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১. অংশগ্রহণ (Participation),
২. আইনের শাসন (Rule of Law),
৩. স্বচ্ছতা (Transparency),
৪. দায়িত্বশীলতা/প্রতিক্রিয়াশীলতা (Responsiveness),
৫. ঐক্যমত্যের অভিমুখীকরণ (Consensus Oriented),
৬. ন্যায়পরায়ণতা ও অন্তর্ভুক্তি (Equity and Inclusiveness),
৭. কার্যকর ও দক্ষ (Effectiveness and Efficiency),
৮. জবাবদিহিতা (Accountability)।

উৎস: UN ESCAP ওয়েবসাইট।

৫৪৭.
কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় নয়?
  1. ক) বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
  2. খ) জনসচেতনতার অভাব
  3. গ) স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায্যতা
  4. ঘ) আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যাগুলো হলোঃ
১. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা,
৩. সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
৪. আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
৫. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
৬. আইনের শাসনের অভাব,
৭. সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা,
৮. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
৯. রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
১০. স্বজনপ্রীতি,
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
১২. জনঅংশগ্রহণের অভাব,
১৩. জনসচেতনতার অভাব
১৪. ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব,
১৫. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অভাব,
১৬. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি।
• সুশাসনের অন্যতম উপাদানগুলো হলো-
১. আইনের শাসন,
২. জবাবদিহিতা,
৩. ন্যায়পরায়ণতা,
৪. স্বচ্ছতা,
৫. সমতা ও ন্যায্যতা,
৬. সংবেদনশীলতা,
৭. জবাবদিহিতা ইত্যাদি সুশাসনের অন্যতম উপাদান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৪৮.
’আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. ডাইসি
  2. জন অস্টিন
  3. এরিস্টটল
  4. ওপেন হাইম
ব্যাখ্যা
•    “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করেন → এরিস্টটল।
•    আইনের অনুশাসন কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন  → অধ্যাপক ডাইসি।
•    “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন → এরিস্টটল।
•    “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করেন → জন অস্টিন।
•    “জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি করেন → ওপেন হাইম।
•    “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন → অধ্যাপক ডাইসি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৪৯.
সুশাসন কাকে শক্তিশালী করে?
  1. ক) মানবাধিকারকে
  2. খ) আইনকে
  3. গ) গণতন্ত্রকে
  4. ঘ) প্রশাসনকে
ব্যাখ্যা
সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতা প্রবর্তন করে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য অনুযায়ী সুশাসনের উপাদানগুলোর মধ্যে কোনটি নেই?
  1. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  2. অংশগ্রহণ
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য অনুযায়ী সুশাসনের উপাদানগুলোর মধ্যে নেই - অংশগ্রহণ।

সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং, 
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৫৫১.
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- হলো রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৫২.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. ন্যায়পরায়নতা 
  2. আইনি কাঠামো
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

- ন্যায়পরায়নতা বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত স্তম্ভ নয়।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভ।
- চারটি স্তম্ভ এগুলো হলো: 
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো ও
- অংশগ্রহণ।

এছাড়াও, 
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৫৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নাগরিকের করণীয়?
  1. ক) নিয়মিত কর প্রদান
  2. খ) আইন মান্য করা
  3. গ) ব্যবসায় উন্নতি করা
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি নাগরিককেও তার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
এক্ষেত্রে নাগরিকের করণীয় হলো -
- আনুগত্য প্রদর্শন,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- সামাজিক দায়িত্ব পালন প্রভৃতি।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।

৫৫৪.
'Kubernao' থেকে নিচের কোন শব্দটি এসেছে?
  1. Governance
  2. Civics
  3. Civilization
  4. Ethics
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Government এর মতই Governance শব্দটি এসেছে 'kubernao' নামক ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৫৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো কোনটি? 
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. নিয়মিত ব্যবসা করা 
  3. নিয়মিত অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনা করা
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
- নিয়মিত কর প্রদান।
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৫৬.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. আইনি কাঠামো
  4. দুর্নীতি দমন
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ -দুর্নীতি দমন। 

• বিশ্বব্যাংক:

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- চারটি স্তম্ভ হল:-
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- যথা-
- বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- নিয়ন্ত্রণ গুণ,
- আইনের শাসন,
- দুর্নীতি দমন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৫৭.
বিশ্বব্যাংকের মতে নিচের কোনটি সুশাসন মূল্যায়নের স্তম্ভ নয়?
  1. সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
  2. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
  3. স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. সিভিল সোসাইটির উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলোঃ
- সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
৫৫৮.
নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়। এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৫৯.
কোন কারণে বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন?
  1. সুশাসনের নিশ্চিত করতে
  2. আইন প্রয়োগ কঠিন করতে
  3. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়াতে
  4. প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক রাখা প্রয়োজন।
- বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
- এটি নির্বাহী বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ আইনি কাঠামোতে বিদ্যমান।
- তবে এটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার কার্যক্রম পৃথক ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানসমূহের হাতে ন্যস্ত করাকে বোঝায়।
- এর উদ্দেশ্য হলো এক বিভাগের ক্ষমতায় অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা।
- এই ধারণাটি প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকট পরিচিত ছিল।
- এরিস্টটল, পলিবিয়াস এবং সিসেরো এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
- মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এই মতবাদকে সমর্থন করেন।
- আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিক স্বতন্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের নীতি উপস্থাপন করেন।
- তবে বাস্তবে পরিপূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভব নয় এবং এটি কাম্যও নয়।
- তাই, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের নীতিও মেনে চলা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬০.
সরকারি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. ক) উপযোগিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
সরকারি নীতি নির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উপযোগিতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক বা গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা আবশ্যিক বিষয় নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৬১.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিশু অধিকার
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  4. ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
৫৬২.
নিচের কোনটি ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  3. আইনের শাসন
  4. দলীয় শাসন
ব্যাখ্যা

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো -
১. অংশগ্রহণ, 
২. স্বচ্ছতা, 
৩. আইনের শাসন, 
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা, 
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক, 
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা, 
৮. জবাবদিহিতা।

উৎস: UNESCAP ওয়েবসাইট।

৫৬৩.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) তিন ধরণ
  2. খ) চার ধরণ
  3. গ) পাঁচ ধরণ
  4. ঘ) আট ধরণ
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫৬৪.
‘সবুজ বিপ্লব’ ও ‘কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি’র ব্যর্থতার পর কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সুশাসনকে উন্নয়নের শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করে?
  1. জাতিসংঘ ও ইউনিসেফ
  2. বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ
  3. বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
  4. জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।

⇒ 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।
- মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল -
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৫.
'লালফিতা' প্রত্যয়টি প্রথম কোন দেশে প্রচলন হয়?
  1. জার্মানি
  2. ব্রিটেন
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।
- 'লালফিতা' প্রত্যয়টি সপ্তদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রচলিত হয়।
- সে সময় দেশটিতে সরকারি অফিস- আদালতের সকল ফাইলপত্র লাল রঙের ফিতা দ্বারা বেঁধে রাখা হত।
- পরবর্তীকালে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা বোঝানোর জন্য লাল ফিতা রূপকটির ব্যবহার শুরু হয়।
- এক পর্যায়ে এসে আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ম-কানুনের বাড়াবাড়ি, বিলম্ব, হয়রানি ও বাড়াবাড়ি বুঝাতেও 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' কথাটির প্রচলন শুরু হয়।
- উত্তর উপনিবেশিক দেশগুলোর আমলাতন্ত্রে 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি দেখা যায়।
- রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে।
- প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।
- অনেক সময় মানবিক দিকটি উপেক্ষিত রেখে নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে প্রশাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৬.
বিশ্বব্যাংকের মতে নিচের কোনটি সুশাসনের প্রধান স্তম্ভ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  3. আইনি কাঠামো
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও,
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৬৭.
কোন সংস্থার মতে ‘আইনি কাঠামো’ সুশাসনের একটি স্তম্ভ?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক 
  4. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

⇒ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
​- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৬৮.
ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো -
১. অংশগ্রহণ, 
২. স্বচ্ছতা, 
৩. আইনের শাসন, 
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা, 
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক, 
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা, 
৮. জবাবদিহিতা।

উৎস: UNESCAP ওয়েবসাইট।

৫৬৯.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. আইনের শাসন
  3. সংবেদনহীনতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
– সংবেদনহীনতা সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
১. অংশগ্রহণ
২. আইনের শাসন
৩. স্বচ্ছতা
৪. সংবেদনশীলতা
৫. ঐকমত্য
৬. জবাবদিহিতা

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৭০.
কোনটি মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে?
  1. ক) ন্যায়বোধ
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
▪ মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।    
▪ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
▪ মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
▪ অর্থ্যাৎ শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৫৭১.
নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে -
  1. আইন বিভাগ
  2. শাসন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
• মৌলিক অধিকার রক্ষা:
→ মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
→ কোন ব্যক্তির যদি মৌলিক অধিকার খর্ব হয় এবং তিনি যদি আইনের আশ্রয় নেন তাহলে বিচার বিভাগ তাঁর মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।
→ এভাবে বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭২.
দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো-
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
​- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
​- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
​- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
​- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৭৩.
নিচের কোনটি বাহ্যিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) সত্যকে সত্য বলা
  3. গ) রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৫৭৪.
কোনটি মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
-  এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন
- প্রশাসনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়। আইন হতে হবে অবশ্যই নিরপেক্ষ।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৫.
জাতিসংঘ 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৫৭৬.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ঘোষিত স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সমান অধিকার
  3. স্বচ্ছতা
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।'

- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল-
→ দায়িত্বশীলতা
→ স্বচ্ছতা
→ আইনী কাঠামো ও
→ অংশগ্রহণ। 

- এক কথায়, জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- সুশাসন।
- UNDP সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
৫৭৭.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) সংবেদনশীলতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবাণী
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
এডিবি’র মতে সুশাসনের উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৫৭৮.
১৯৯২ সালে 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' নামক রিপোর্টটি প্রকাশ করে -
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) জাইকা
  3. গ) জাতিসংঘ
  4. ঘ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
• বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
• সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
• পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন (Governance and Development)' নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
• বিশ্বব্যাংকের মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি প্রধানত দায়ী।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৯.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
  4. শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮০.
সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল - এই অভিমত কোন সংস্থা ঘোষণা করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি 
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এডিবি 
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা,
ii) স্বচ্ছতা,
iii) আইনী কাঠামো,
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
সুশাসন কার্যকরে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরকারের
  2. শিক্ষার্থীদের
  3. আমলাদের
  4. গণমাধ্যমের
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও সরকার:
- সুশাসন কার্যকরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সরকার পালন করে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর আইন ও নীতি সরকারকেই তৈরি করতে হয়।
- সরকার যদি আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করে, তবে সুশাসন নিশ্চিত হয়।
- সরকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
- নাগরিক স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

অন্য বিকল্পগুলো:
শিক্ষার্থীরা (খ) – তারা ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখে, তবে সরাসরি সুশাসন বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের নেই।
আমলারা (গ) – তারা নীতি বাস্তবায়ন করে, কিন্তু নীতি নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা সরকারের হাতে থাকে।
গণমাধ্যম (ঘ) – এটি তথ্য প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তবে সরাসরি শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না।

সুশাসন কার্যকরের জন্য সকলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সরকারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ এটি নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৮২.
Asian Development Bank (ADB) নিম্নের কোন রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. Governance: Sound Development Management
  2. Governance and Development
  3. Policy Paper
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ADB ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎবাণী।
- ১৯৯৯ সালে "আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮৩.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিবের মতে 'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে'?
  1. বান কি-মুন
  2. বুত্রোস বুত্রোস-ঘালি
  3. কফি আনান
  4. জাভিয়ের পেরেজ ডি কুয়েলার
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, 'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।'

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ঘানার কফি আনান।
- তিনি ঘানার নাগরিক।
- তিনি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে নিয়োগকৃত দ্বিতীয় জাতিসংঘের মহাসচিব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮৪.
UNCAC-এর লক্ষ্য কী? 
  1. শিক্ষা প্রসার 
  2. রাষ্ট্রের উন্নয়ন
  3. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  4. কৃষি উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
​- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা। 
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯১টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

​উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

৫৮৫.
বিশ্বব্যাংক 'Governance : The World Bank Experience' শীর্ষক রিপোর্টটি প্রকাশ করে কবে?
  1. ক) ১৯৯৪ সালে
  2. খ) ১৯৯২ সালে
  3. গ) ১৯৯৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।  
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৫৮৬.
মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, '__________ সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'
  1. পরিবারের
  2. সমাজের
  3. রাষ্ট্রের
  4. বিশ্বের
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে,
- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮৭.
শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম না থাকলে কোন বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়
  3. সুশাসন
  4. শিক্ষার গুণগতমান
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

⇒ সুশাসন:
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮৮.
প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে রোধ করা যায়?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  2. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  3. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  4. উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়।

• বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:
- বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে।
- দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
- এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা- নারীর ক্ষমতায়ন,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৯.
কোনটি প্রতিষ্ঠার ফলে একটি দেশের উন্নয়ন সূচকে উর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা যায়?
  1. সুশাসন
  2. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
•  রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সুশাসনের মূল দিকগুলি, এটি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
•  সুশাসন এবং উন্নয়ন একে অপরকে সম্পূরক করে এবং একে অপরকে সুন্দরভাবে পূরণ করতে সাহায্য করে।
সুশাসনের ফলে একটি দেশের উন্নয়ন সূচকে উর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা যায়

রাজনৈতিক উন্নয়ন:
- রাজনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি দেশ রাজনৈতিক দক্ষতা, ন্যায়বিচার পদ্ধতি, এবং শাসনাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে উন্নত হতে পারে।
- সুশাসন মাধ্যমে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক উন্নতি হতে সাহায্য করে। 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
- অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসন দেশে উদ্যোগ, ব্যবসায় এবং বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে সাহায্য করে।
- প্রতিষ্ঠানের নীতি ও নীতির স্থায়িতা এবং ভোটাধিকারের মাধ্যমে নাগরিকদের অংশগ্রহণ দেওয়া হয়, যা একটি দেশে বাড়তি অর্থনৈতিক উন্নতির উপযোগী করতে সাহায্য করে।

সামাজিক উন্নয়ন:
- সামাজিক উন্নয়ন মাধ্যমে সুশাসন দেশে জনগণের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজের সমর্থন তৈরি করে।
- সুশাসন মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়, সমাজের বৈশিষ্ট্য, এবং ভোটাধিকারের মাধ্যমে নাগরিকদের সামাজিক অধিকার এবং সম্প্রদায়ের বিকাশ সহায়ক হতে পারে।


উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং ব্রিটানিকা।
৫৯০.
E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. কাসু ব্রহ্মানন্দ রেড্ডি
  2. ই.এম হোয়াইট
  3. এফ. আই গ্লাউড
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা
E-Governance:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

উল্লেখ্য,
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৯১.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবে সমাজে কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়?
  1. সামাজিক নিরাপত্তা
  2. বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
  3. সামাজিক দায়বদ্ধতা
  4. জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবজনিত ফলাফল:

- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার, এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সহায়ক। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয়। 
- সমাজে আইন অমান্য করার প্রবণতা বেড়ে যায়, যা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে।
- প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অপব্যবহার বৃদ্ধি পায়, ফলে কার্যকরী ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয় এবং সমাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
- এই পরিস্থিতি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, বা জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে।
- তাই, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের অভাব সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯২.
২০১২ সালে প্রণীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অভিলক্ষ্য কী?
  1. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৫৯৩.
পৌরনীতি ও সুশাসন নিচের কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে?
  1. ক) অর্থব্যবস্থা
  2. খ) ব্যাংকিং ব্যবস্থা
  3. গ) ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
  4. ঘ) ধর্মীয় অনুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও ই-গভর্নেন্সঃ
পৌরনীতি ও সুশাসন বর্তমান সময়ে সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স নিয়ে আলোচনা করে। সরকার কিভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে পারে সে বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে।

সূত্র- এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন (উন্মুক্ত)।
৫৯৪.
কে সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন?
  1. মিল
  2. ফিফনার
  3. ম্যাক্সওয়েবার
  4. ফাইনার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে 'Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৯৫.
'Governance: The World Bank Experience'- প্রতিবেদন প্রকাশ করে-
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক 'Governance: The World Bank Experience' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। যথা-
১. সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা,
২. দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা,
৩. উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং
৪. স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
উৎসঃ বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট।
৫৯৬.
বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০১১
  3. গ) ২০১০
  4. ঘ) ২০০৮
ব্যাখ্যা
• জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো - দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৫৯৭.
এরিষ্টটলের মতে সততা কী?
  1. ধর্মীয় বিশ্বাসের ফল
  2. সামাজিক নিয়মের অনুসরণ
  3. মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
  4. জন্মগত প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা

সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৮.
নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়?
  1. সুশাসন
  2. ন্যায়বিচার
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক দায়বদ্ধতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- সুশাসনের অর্থ হলো প্রশাসন, ন্যায়বিচার, নীতি এবং আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
- এর মাধ্যমে সমাজে সমতা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

উল্লেখ্য,
২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়। খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৯.
রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন করে কেন?
  1. মানুষের মঙ্গলের জন্য
  2. বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য
  3. শত্রুর মোকাবিলা করতে 
  4. প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬০০.
কোন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ নামে পরিচিত?
  1. গণতন্ত্র
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের 'প্রেসক্রিপশন' নামে পরিচিত প্রত্যয়টি হলো সুশাসন (Good Governance)।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে "সুশাসন" ধারণাটি চালু করে এবং এটিকে তাদের প্রেসক্রিপশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।