বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৪০১৫০০ / ১,৩২৩

৪০১.
ই-গভার্নেন্সের মাধ্যমে কোনটি বেশি প্রতিষ্ঠা পায় -
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) জীবনমানের উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযােগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বর্তমান সময়ে যেকোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্নেন্স অনিবার্য একটি বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উৎসঃ একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৪০২.
নিচের কোনটি সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. শিক্ষা
  2. অর্থনীতি
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে 'আইনের শাসন' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০৩.
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছানোকে কী বলা হয়?
  1. সুশাসন
  2. আমলাতন্ত্র
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. ই-পর্চা
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স: 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া (interaction) সাধিত হলে ই-গভর্নেন্স-এর উদ্ভব ঘটে।
- এই মিথস্ক্রিয়া ঘটে সরকার ও জনগণের মধ্যে, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে, সরকার ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এবং এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের মধ্যে।
- ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছানকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা পৌছে দেওয়ার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অন্য ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যবহারকে ই-গভার্নমেন্ট বা ই-গভর্নেন্স বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪০৪.
সুশাসনের জন্যে আবশ্যক-
  1. একক জাতিসত্ত্বা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. কাম্য জনসংখ্যা
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সুশীল সমাজ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি আবশ্যক।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে একক জাতিসত্ত্বা, কাম্য জনসংখ্যা কিংবা ধর্মীয় মূল্যবোধ আবশ্যক নয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৪০৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা কীসের ভিত্তিতে পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. রাজনৈতিক কর্মসূচি
  3. সমজাতীয় স্বার্থ
  4. জাতীয় স্বার্থ
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো নির্দলীয়, অরাজনৈতিক ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।

৪০৬.
‘Governance’ শব্দটির মূল উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ল্যাটিন
  2. ফরাসি
  3. গ্রিক
  4. জার্মান
ব্যাখ্যা

Governance:
- Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর অর্থ শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।
- মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
- উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।  ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে।

⇒ Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। 
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪০৭.
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে কোন সংস্থা? 
  1. African Union
  2. European Economic Community 
  3. UNO
  4. World Bank
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উল্লেখ্য,
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ
চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

৪০৮.
 ইউএনডিপি ও এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৯টি ও ৮টি
  2. ৯টি ও ৪টি
  3. ৭টি ও ৬টি
  4. ৮টি ও ৭টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- ইউএনডিপির মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি,
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান ৮টি,
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি,
- আইডিএ এর মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি,
- এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি,
- ইউএনএইচসিআর এর মতে সুশাসনের উপাদান ৫টি।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৪০৯.
সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। - সুশাসন সম্পর্কে এই অভিমত প্রকাশ করেন - 
  1. মারটিন মিনোগ
  2. মিশেল ক্যামডেসাস
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. উপরের কেউ নন 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৪১০.
ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  3. দুর্নীতি রোধ করা
  4. মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।
- ই-গভর্নেন্স সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষ আন্ত:সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
- ই-গর্ভনেন্স অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং ব্যয় সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের জনকল্যাণের প্রতিফলন ঘটায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১১.
কোন ভাষা থেকে 'Bureaucracy’ শব্দটি উদ্ভব হয়েছে?
  1. গ্রিক
  2. ল্যাটিন
  3. ফরাসি
  4. রোমান
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। ইংরেজি 'Bureaucrary' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে।
- ফরাসিতে শব্দটি এসেছে ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা।
-সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'। আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
-বাস্তবে আমলারা পরস্পর  সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।
- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্ট প্রকাশ করে -
  1. ক) ১৯৯৪ সালে
  2. খ) ১৯৯৫ সালে
  3. গ) ১৯৯৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।  
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৪১৩.
ই-গভর্নেন্স (E- Governance) এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Efficient Governance
  2. Electrical Governance
  3. Electronic Governance
  4. Effective Governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স (E-Governance):
- ই-গভর্নেন্সের পূর্ণরূপ: Electronic Governance (ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স)।
- ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতিই ই-গভর্নেন্স।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা।
- বর্তমান বিশ্বে সুশাসন বাস্তবায়নের জন্য ই-গভর্নেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য:
- স্বচ্ছতা (Transparency) – সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া।
- দ্রুততা (Efficiency) – প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা।
- সহজীকরণ (Simplification) – জনগণের জন্য সরকারি সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করা।
- জবাবদিহিতা (Accountability) – সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ করা।

ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন:
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে জনগণ সহজেই সরকারি তথ্য ও সেবা পেতে পারে।
- এটি দুর্নীতি হ্রাস করে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করে।
- সরকারি সেবাগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১৪.
নিচের কোনটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য?
  1. স্বচ্ছতা
  2. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান ও বৈশিষ্ট্য: 
- জি. বিলনে (G. Bilney), OCED এবংUNDP সুশাসনের বেশ কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লে করেছে, এগুলো নিম্নরূপ: 

১. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
২. নৈতিক মূল্যবোধ 
৩. স্বচ্ছতা
৪. বৈধতা
৫. দায়িত্বশীলতা
৬. আইনের শাসন
৭. দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা 
৮. দক্ষতা
৯. জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব
১০. স্বাধীন বিচার বিভাগ
১১: সততা
১২. লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি
১৩. বিকেন্দ্রীকরণ 
১৪. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
১৫. সুশীল সমাজ
১৬. জন গ্রহণযোগ্যতা 
১৭. পেশাদারিত্ব
১৮. মর্যাদা ও বিশ্বাস অর্জন
১৯. প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা 
২০. মুক্ত এবং বহুত্বভিত্তিক সমাজ
২১. গণতন্ত্র
২২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১৫.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. সুশীলসমাজ
  2. এনজিও
  3. বিচার বিভাগ
  4. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮.
ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৪১৬.
কোনটি প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার-এর নীতি কখনো বাস্তবায়িত হতে পারে না?
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সুশাসন:
- জাতিসংঘ কর্তৃক মৌলিক মানবাধিকারের ঘোষণা মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
- মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার-এর নীতির প্রতি রাষ্ট্র বা সরকার কতটা আন্তরিক এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত করছে সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার-এর নীতি কখনো বাস্তবায়িত হতে পারে না।
- আবার মানবাধিকার-এর নীতিসমূহ কোনো রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত বা প্রয়োগ করা না হলে সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়।
- কেননা সুশাসন ও মানবাধিকারের বিষয়টি একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১৭.
ই-গভরনেন্স এর মাধ্যমে কোন ধরনের সরকারকে বুঝানো হয়েছে?
  1. ক) গণতান্ত্রিক
  2. খ) এককেন্দ্রিক
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্রীয়
  4. ঘ) ডিজিটাল
ব্যাখ্যা
তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে, দ্রুততম সময়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে উন্নত সেবা পৌছে দেয়া কে ই-গভরনেন্স বলে।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
৪১৮.
সুনাগরিকের গুণাবলি নয় কোনটি?
  1. ক) বুদ্ধি
  2. খ) সহিষ্ণুতা
  3. গ) বিবেক
  4. ঘ) আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩ টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। তার মতে যার মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম থাকবে এবং এসবের প্রয়োগ থাকবে সেই সুনাগরিক। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪১৯.
Asian Development Bank (ADB) নিম্নের কোন রিপাের্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. Governance and Development
  2. Policy Paper
  3. Governance: Sound Development Management
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ADB ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪২০.
সুশাসনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় কোনটি?
  1. ক) জনসাধারণের কার্যকর অংশগ্রহণ
  2. খ) দক্ষ আমলাতন্ত্র
  3. গ) ধর্মীয় জ্ঞান
  4. ঘ) ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা
- সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে জনসাধারণের কার্যকর অংশগ্রহণ,  এবং ই-গভর্ন্যান্স অন্যতম সহায়ক।
অন্যদিকে,
ধর্মীয় জ্ঞান সুশানের ক্ষেত্রে আব্যশক নয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২১.
আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা

আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• সরকারি আইন,
• বেসরকারি আইন,
• আন্তর্জাতিক আইন ৷

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
• সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে ।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।
- সরকারি আইনের মধ্যে রয়েছে-
• ফৌজদারি আইন,
• প্রশাসনিক আইন,
• সাংবিধানিক আইন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২২.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক ফাইনার
  2. খ) অধ্যাপক মাইরন উহনার
  3. গ) অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  4. ঘ) এলান পটার
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- (তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪২৩.
সর্বপ্রথম 'সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করে -
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো: দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা' পূরণের শর্তে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ঋণ সাহায্য ও প্রকল্প সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪২৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও গুরুত্ব দেয়া
  2. অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন
  3. আইনসভাকে গতিশীল ও কার্যকর করা
  4. সততার সাথে কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
→ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
→ দক্ষ জনশক্তি।
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
আইনসভাকে গতিশীল ও কার্যকর করা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮. নৈতিকতা, 
৪২৫.
মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ নিয়ে কোন শাস্ত্র আলোচনা করে?
  1. পৌরনীতি ও সুশাসন
  2. অর্থনীতি
  3. নীতিশাস্ত্র
  4. ইতিহাস
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র: 
- নাগরিকতা ও জাতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দিক নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি ও সুশাসন বলে।
- অপরদিকে মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে নীতিশাস্ত্র বলে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি: 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতির লক্ষ্য অনেকটা এক ও অভিন্ন।
- উভয়ের লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা। পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
- কীভাবে নাগরিকতা অর্জন করা যায়, কীভাবে সুনাগরিক হওয়া যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ কী কী ইত্যাদি বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে।
- অপরদিকে অসীম অভাবের মাঝে সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করা যায় অর্থনীতি তারই শিক্ষা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
৪২৬.
কোন উপাদানটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করে?
  1. স্বচ্ছতা
  2. গণতন্ত্র
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

অন্যদিকে,
• গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪২৭.
'সুশাসন' প্রত্যয়টি জন্ম নেয় ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ____ সরকারগুলোর ব্যর্থতার ভিত্তিতে।
  1. ইউরোপের
  2. এশিয়ার
  3. আফ্রিকার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
৪২৮.
দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কোনটি?
  1. অধিক শিল্পায়ন
  2. সুশাসন
  3. সামরিক শক্তি 
  4. বৈদেশিক সাহায্য
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪২৯.
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কোনটি বিদ্যমান থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়?
  1. নেতৃত্বের বৈধতা
  2. দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব
  3. নেতৃত্বের সংযমতা
  4. দুর্বল নেতৃত্ব
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব: 
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা।
- সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে।
- এ জন্য বলা হয়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব হলো বৈধ নেতৃত্ব।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৩০.
সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় যে গ্রন্থে -
  1. The Prince
  2. Leviathan
  3. The Spirit of Laws
  4. The Republic
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো। 

অন্যদিকে -
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- পিয়েরে ল্যান্ডেল মিলস্ এবং ইসমাইল সেরাজেলডিন তাদের লিখিত ‘Governance and the Eternal Factor' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে বলেছেন যে, 'গভর্ন্যান্স বলতে বোঝায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার যা একটি রাষ্ট্রকে পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে জনগণের সুষ্ঠু চাহিদা ও তাদের বৈধ অধিকার উপভোগের বাধ্যবাধকতা'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

৪৩১.
বিশ্বব্যাংক কত সালে সুশাসন প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসনকে একক কোনো ধারণার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বা বিশ্লেষণ করা যায় না।
- কেননা সুশাসনের ধারণাটি হলো বিহুমাত্রিক।
- বিভিন্ন তাত্ত্বিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থা সুশাসন ধারণাটির সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
- সুশাসন ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে সুশাসন ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- শুধু তাই নয়, সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা পূরণের শর্তে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ঋণ সাহায্য ও প্রকল্প সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তথ্যসূত্র:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

৪৩২.
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ?
  1. খাদ্যে ভেজাল
  2. নারী নির্যাতন
  3. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৩.
কোনটি সুশাসনের অনুপস্থিতিতে সমাজ যে ‘hidden cost’ বহন করে তার উৎকৃষ্ট উদাহরন?
  1. কর আদায়ের হার বৃদ্ধি
  2. মেধা পাচার
  3. অবকাঠামো সম্প্রসারন
  4. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

● সুশাসনের অনুপস্থিতিতে সমাজ যে ‘hidden cost’ বহন করে, তার অন্যতম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো মেধা পাচার। 

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক। 

⇒ সুশাসনের অভাব বলতে  দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মেধাবীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না দেওয়া ইত্যাদি বোঝায়।
- সুশাসনের অনুপস্থিতিতে দক্ষ ও মেধাবী মানুষেরা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান।
- এর ফলে সমাজ বা দেশকে বহন করতে হয়: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের অপচয় (দেশের টাকায় শিক্ষিত করে পরে অন্য দেশ লাভবান হয়), দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি (উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা, নেতৃত্বের অভাব), সমাজের উন্নয়নের গতি কমে যাওয়া।
- উল্লেখ্য, এটি একটি hidden cost কারণ এর ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি।
- বিশ্বব্যাংক, UNDP এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর গবেষণায় এটিকে সুশাসনের অভাবের অন্যতম প্রধান পরোক্ষ খরচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য,
• মেধা পাচার:
- দেশের মেধাবী মস্তিষ্কগুলো যখন উন্নতর জীবনযাপন কিংবা উচ্চতর গবেষণার জন্য উন্নত দেশে পাড়ি জমায় এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে রয়ে যায়, সেটিই ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচার।
- একজন মেধাবী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারে। তবে যখন এসব মেধাবী নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যান, তখনই তাঁর দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ে।
- বাংলাদেশকে একটি সফল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার আগে প্রয়োজন মেধা পাচার বন্ধ করা। 

উৎস: i) প্রথম আলো পত্রিকা।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৪.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে -
  1. আশির দশকের প্রথমার্ধে
  2. আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে
  3. নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে
  4. নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে "সুশাসন" ধারণাটি চালু করে এবং এটিকে তাদের প্রেসক্রিপশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।

⇒ আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
৪৩৫.
ই-গভর্নেন্সের ফলে-
  1. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়
  3. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩৬.
বার্ট্রান্ড রাসেল কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮৭২-১৯৭০) যুক্তরাজ্যের একজন বিখ্যাত দার্শনিক, যুক্তিবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- তিনি ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তার রচনার মধ্যে Principia Mathematica, Power : A New Social Analysis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৪৩৭.
বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কোন সংস্থা?
  1. ক) এডিবি
  2. খ) ইউএনডিপি
  3. গ) আইডিএ
  4. ঘ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
• দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে। ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
• বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
• শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন  ্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার - এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধমীর্য় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।   

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৮.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা কে?
  1. মন্টেস্কু
  2. জন লক
  3. টমাস হবস
  4. অ্যালান বল
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিন ভাগে বিভক্ত করা এবং তিনটি স্বতন্ত্র বিভাগের সহায়তায় তা পরিচালনা করা।
- বিভাগগুলো হচ্ছে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- এ নীতি অনুযায়ী আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে। শাসন বিভাগ আইনগুলোকে বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগ বিচারিক কার্য সম্পাদন করবে ও আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৯.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয় কোনটি?
  1. সাম্য
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. স্বাধীনতা
  4. আইন
ব্যাখ্যা

⇒ আইন গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয়।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪০.
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’ - এটি কার উক্তি?
  1. ক) জন লক
  2. খ) টি এইচ গ্রিন
  3. গ) জোনাথন সুইফট
  4. ঘ) জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- জোনাথান হেইট এর মতে, ‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।"   

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৪১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে -
  1. দায়বদ্ধতা
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
→ সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
→ সুশাসন হল আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় পরিসরে একটি সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
→ এটি প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অপরিহার্য। কেননা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরমত সহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, ন্যায়পরায়ণতা ও সচেতনতা জাগিয়ে তোলে। এভাবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় ও স্থায়ী হয়। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪২.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. বেকারত্ব হ্রাস
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি
  3. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৪৪৩.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. জনসচেতনতা
  3. বৈধতা
  4. গনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• সুশাসনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো-
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আইনের শাসন,
- বৈধতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়িত্বশীলতা, 
- নৈতিক মূল্যবোধ। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৪৪.
রাষ্ট্রের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) সরকার
  2. খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়। যথাঃ
(ক) জনসমষ্টি
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
(গ) সরকার
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।
- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৫.
সুশাসনের ইস্যু বলতে বুঝায় -
  1. সুবিধা
  2. অপ্রযোজ্যতা
  3. প্রতিকূলতা
  4. অপরিহার্যতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
কেন সুশাসনকে ‘Win Win Game’ বলা হয়?
  1. কেবল সরকার উপকৃত হয়
  2. কেবল জনগণ উপকৃত হয়
  3. এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়
  4. সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান হয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হলো এমন একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে সরকার ও জনগন উভয়েই লাভবান হয়।
- এতে নাগরিকরা নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখার সুযোগ পায় এবং সরকার জনমুখী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।
- এই পারস্পরিক বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের ফলে উন্নয়ন টেকসই হয়।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৪৪৭.
ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য নিচের কোনটি?
  1. সমাজে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে- Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল উপাদান কম্পিউটার।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।
- ই-গভর্নেন্স সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষ আন্ত:সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
- ই-গর্ভনেন্স অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং ব্যয় সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের জনকল্যাণের প্রতিফলন ঘটায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ -
  1. ক) দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. খ) ই-গর্ভনেন্স
  3. গ) মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
• ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌছে দেয়া।
• ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৯.
মিশেল ক্যামডেসাসের মতে, "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য _____ অত্যাবশ্যক।"
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বিভিন্ন সংজ্ঞা:
⇒ ম্যাককরনি:
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ কফি আনান:
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস:
"রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৫০.
সুশাসন সম্পর্কিত European Economic Community নিম্নের কোনটি প্রকাশ করেছে?
  1. শ্বেতপত্র
  2. নীল পত্র
  3. সবুজ পত্র
  4. লাল পত্র
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও European Economic Community (EEC):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য। আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

• শ্বেতপত্র: 
- শ্বেতপত্র (White Paper) হলো সরকার বা কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রামাণ্য দলিল, যা কোনো জটিল সমস্যা, নীতি বা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে। এটি সাধারণত কোনো নতুন আইন, নীতি বা সংস্কারের পূর্বে জনমত তৈরি বা সঠিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- শ্বেতপত্র রাষ্ট্রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সুশাসনের মূল উপাদান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৫১.
ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. নির্বাচন
  3. তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা
  4. জবাবহীনতা
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স এর মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা: 
- ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা।
- সরকারের সব কার্যক্রম বা সকল পদক্ষেপ জনগণ জানতে ও বুঝতে পারে।
- এরূপ স্বচ্ছতাই জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করে।

স্বচ্ছতা আনয়ন:
- ই-গভর্নেলে স্বচ্ছতার বিষয়টিকে বড় করে দেখা হয়।
- সরকারের প্রশাসনিক সংগঠনগুলোতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা প্রয়োজন।
- সরকার কী কী কাজ করছে, কেন করছে, কী কী মূলনীতির ওপর সরকার সিদ্ধান্ত বা নীতি প্রণয়ন করছে তা জনগণের জানা প্রয়োজন।
- ই-গভনেন্স তা জানতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৫২.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?
  1. দারিদ্র্য
  2. দুর্নীতি
  3. বেকারত্ব
  4. নিরক্ষরতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

• বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সিপিডি।

৪৫৩.
রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি হলো-
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) নিরাপত্তা রক্ষা
  3. গ) রাজস্ব আদায়
  4. ঘ) জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে থাকে তা হলো রাষ্ট্রের আবশ্যক কাজ। যেমনঃ আইন প্রণয়ন, নিরাপত্তা বিধান, অর্থসংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যাবলি সমূহ হলো ঐচ্ছিক কাজ। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৫৪.
সুশাসন প্রক্রিয়া নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. মানবাধিকার
  2. সরকারের দক্ষতা
  3. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্কের ফলে সমাজে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে?
  1. দমনমূলক
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. প্রতিহিংসামূলক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও চিন্তার নৈতিক দিকনির্দেশনা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- যখন সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।
- মূল্যবোধই একটি জাতিকে তার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- তাই দমনমূলক, একনায়কতান্ত্রিক বা প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি নয়- বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৫৬.
ওপেনহাইমের মতে, আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি 
  2. ৬টি 
  3. ৪টি 
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• আইন ও আইনের উৎস:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্রথা
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৫৭.
ই-গভর্নেন্সের ফলে কী অর্জিত হয়? 
  1. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  2. সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
  3. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• ই-গভর্নেন্স:
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৫৮.
সুশাসন সম্পর্কিত "আইনের শাসন সূচক" প্রকাশকারী সংস্থার নাম কী?
  1. Transparency International
  2. World Justice Project
  3. UK Financial Intelligence Unit
  4. International Criminal Court
ব্যাখ্যা
World Justice Project (WJP):
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে।
- WJP আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে ‘WJP Rule of Law Index’ শিরোনামে বাষির্ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

আইনের শাসনের সূচক তৈরির ৮টি বিবেচ্য বিষয়:
১. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা
২. নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ
৩. জননিরাপত্তা
৪. মৌলিক অধিকার
৫. দুর্নীতি
৬. সরকারি তথ্য প্রকাশ
৭. দেওয়ানি বিচার
৮. ফৌজদারি বিচার

সুশাসন সম্পর্কিত সূচক ও প্রকাশকারী সংস্থা:

→ গণতন্ত্র সূচক: যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (UK Financial Intelligence Unit)।
→ আইনের শাসন সূচক: The World Justice Project (USA).
→ মানব উন্নয়ন সূচক: UNDP (1990).
→ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক: Reporters without Borders.
→ সুখ সূচক: Sustainable Development Solution Network.
→ বৈশ্বিক শান্তি সূচক: Institute of Economic and Peace (Australia).
→ দুর্নীতি সূচক: Transparency International.
→  ই-কমার্স সূচক: UNCTAD.

উল্লেখ্য, 
- International Criminal Court (আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত)
- এটি একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ যেমন মানবতা বিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করে থাকে।

তথ্যসূত্র: The World Justice Project ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট।
৪৫৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
  1. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  2. আই, এল, ও
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

⇒ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৬১.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. অংশগ্রহণ
  3. দুর্নীতি
  4. আইনের শাসন 
ব্যাখ্যা

- সুশাসনের উপাদান নয় দুর্নীতি।

সুশাসন:

- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।
-  স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনকে ব্যাহত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৪৬২.
কোনটির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়?
  1. দক্ষতা
  2. স্বচ্ছ নীতি
  3. গণতন্ত্র
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল।
- দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা।
- শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
- নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৬৩.
কোন সংস্থাটি সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. ইউএনডিপি
  3. জাতিসংঘ
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন
- সকলের অংশগ্রহণ
- সংবেদনশীলতা
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
- সমতা
- ন্যায্যতা
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।
(তথ্যসূত্রঃ UNDP ওয়েবসাইট)
৪৬৪.
সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার নাম _______________।
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. গণতন্ত্র
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের চাহিদা, অধিকার ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর নীতি ও প্রশাসন পরিচালনা করে।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।

সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য:
- জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা;
- আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা;
- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা;
- টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে,
- মূল্যবোধ সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি করে, তবে এটি সরকার ও জনগণের স্বার্থকে সরাসরি একত্রিত করে না।
- গণতন্ত্র জনগণের শাসনের ব্যবস্থা, তবে এটি সুশাসনের একটি উপাদান মাত্র। গণতান্ত্রিক দেশেও সুশাসন নাও থাকতে পারে।
- নৈতিকতা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, তবে এটি এককভাবে সরকার ও জনগণের স্বার্থ একত্রিত করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৬৫.
দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNCTAD
  2. Transparency International
  3. UNDP
  4. The World Justice Project
ব্যাখ্যা
Transparency International:
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল Corruption Perceptions Index প্রকাশ করে। 
- দুর্নীতির অবসান ঘটানো এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা প্রতিষ্ঠা করা।
- দুর্নীতিকে সংজ্ঞায়িত করা হয় অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যক্তিগত লাভের জন্য।
- ১৪০টি দেশ জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (UNCAC) স্বাক্ষর করেছে।
- ১৫০+ বিশ্ব নেতা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ১৬-এ দুর্নীতি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
- ভিশন: এমন একটি বিশ্ব যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা, নাগরিক সমাজ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্নীতিমুক্ত।
- মিশন: সমাজের সকল স্তরে এবং খাতে দুর্নীতি রোধ, স্বচ্ছতা প্রচার, এবং জবাবদিহিতা ও সততার উন্নয়ন।
- বার্লিনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর আন্তর্জাতিক সচিবালয় অবস্থিত।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল একটি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ, যা মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য দুর্নীতির অবসানে কাজ করে যাচ্ছে।

মূল কার্যক্রম:
- দুর্নীতি রোধে গবেষণা, প্রচারণা ও অ্যাডভোকেসি।
- দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক উন্মোচন।
- প্রকাশ্য জীবনে স্বচ্ছতা ও সততার দাবি।

উৎস: Transparency International ওয়েবসাইট।
৪৬৬.
কোনটি সুশাসনের উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
  2. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  3. জবাবদিহিতা
  4. সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো সুশাসনের উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

• সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৬৭.
"শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক" উক্তিটি কার?
  1. ক) অ্যারিস্টটল
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) ভলতেয়ার
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
"শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক" এটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর উক্তি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬৮.
মূল্যবোধের কোন উপাদান অনুপস্থিত থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।
- সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হচ্ছে শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজ জীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনেরও বৈশিষ্ঠ্য ও প্রয়োজনীয় উপাদান।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এই দুটি উপাদান অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৬৯.
কোনটি দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে?
  1. আইন
  2. অংশগ্রহণ
  3. জবাবদিহিতা
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো এক ধরনের মূল্যবোধ যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করে।
- সুশাসন বলতে বুঝায় উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন।
- সুশাসনের ধারণাটি একটি আধুনিক ধারণা। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের এক রিপোর্টে সর্বপ্রথম সুশাসন ধারণাটি তুলে ধরে।
- দুর্নীতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করতে সুশাসন সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- কারণ সুশাসনের ফলে একটি সরকার বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন ইত্যাদি সুশাসনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭০.
সুশাসনের কোন উপাদান সরকারের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. গণতন্ত্র
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা।
- এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা।
- সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে।
- এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

অন্যদিকে,
• গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৭১.
E-Governance-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Elected government
  2. Effective government
  3. Electable governance
  4. Electronic governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭২.
বিকেন্দ্রীকরণ বলতে কী বোঝায়?
  1. সব ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখা
  2. স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন করা
  3. একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা দ্বারা সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
  4. প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

⇒ বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৭৩.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়'-উক্তিটি কার?
  1. জন স্মিথ
  2. মেকিয়াভেলি
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' (Good Governance) বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৭৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন
  2. ক্ষমতা নেতা ও দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব না দেওয়া
  4. সাম্যে বিশ্বাস না করা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৭৫.
প্রযুক্তিনির্ভর শাসন বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. গণতান্ত্রিক শাসন
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি এসেছে Electronic Government থেকে।
- বাংলায় একে বলা হয় ইলেক্ট্রনিক বা প্রযুক্তিনির্ভর শাসন'।
- এ শাসন বা সরকার পরিচালনায় ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি বা কৌশল প্রয়োগই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭৬.
সুশাসনের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) সুশাসন ধারণার প্রবর্তক বিশ্বব্যাংক
  2. খ) সুশাসন একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা
  3. গ) সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা
  4. ঘ) সুশাসন ধারণাটি একমাত্রিক
ব্যাখ্যা
আধুনিক রাষ্ট্র ও জনপ্রশাসনে সুশাসনের ধারণা একটি নব্য সংযোজিত বিষয়। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন যা একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৪৭৭.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছে?
  1. শাসন প্রক্রিয়া এবং সুশাসন
  2. শাসন প্রক্রিয়া এবং মানব উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. শাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৮.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
​- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

​এছাড়াও,
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৭৯.
সুশাসনকে দ্বিমুখী প্রত্যয় বলে অবহিত করেন-
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) ইনাম্যুয়েল কান্ট
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে প্রথম সুশাসনের ধারণা পাওয়া যায়।
- তিনি একে একটি দ্বিমুখী প্রত্যয় বলে অবহিত করেন, এক পক্ষ জনগণ ও অন্য পক্ষ সরকার।
- এ ব্যবস্থা নাগরিকের নিজ নিজ অধিকার ভোগ করার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
- সুশাসনের মাধ্যমে শাসক ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে সমৃদ্ধি গড়ে তোলা সহজতর হয়।

সূত্র: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধের গুরুত্ব, বাংলাদেশ প্রতিদিন।
৪৮০.
মূল্যবোধের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ক) জনকল্যাণ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নৈতিকতা
- নৈতিকতার শিক্ষাই একজন মানুষের মূল্যবোধকে জাগ্রত করে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৪৮১.
'জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।' বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ক) ১৯(৩)
  2. খ) ২৮(২)
  3. গ) ২৮(৪)
  4. ঘ) ২৯(১)
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- অনুচ্ছেদ ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২৮(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২৮(৪) নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ণ হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
- অনুচ্ছেদ ২৯(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।

৪৮২.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপদান কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৪৮৩.
তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ২০০৬ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সকল সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেতে পারেন। তাদের এই অধিকার লঙ্ঘিত হলে তারা তথ্য কমিশনের নিকট প্রতিকার চাইতে পারেন।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৮৪.
International Development Agency (IDA) সুশাসনের কয়টি মূল উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) ছয়টি
  4. ঘ) আটটি
ব্যাখ্যা
• যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে ।

• ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
» এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।

 • ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

• ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।

• আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৫.
OECD-এর মতে, সুশাসনের একটি নির্দেশক কী?
  1. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
  2. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  3. সরকারের বৈধতা
  4. সামাজিক সমতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- R. A. W. Rhodes তাঁর Understanding Governance: Policy Networks, Governance, Reflexivity and Accountability বই এ সুশাসনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, সুশাসনকে চিহ্নিত করা যায় স্ব-সংগঠিত এবং আন্তসংগঠনের অন্তর্ভুক্তি, সম্পদের আদান-প্রদান এবং রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে।
- সুশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে যার মাধ্যমে কোনও দেশের শাসনের অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

⇒  The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। বাংলাদেশে সুশাসনের একটি পর্যালোচনা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৬.
সুশাসনের ধারণাটির উদ্ভাবক কে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. নরডিক কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।

- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কোন নির্দেশকের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা
  2. নবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
  3. সরকারের বৈধতা
  4. ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- R. A. W. Rhodes তাঁর Understanding Governance: Policy Networks, Governance, Reflexivity and Accountability বই এ সুশাসনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, সুশাসনকে চিহ্নিত করা যায় স্ব-সংগঠিত এবং আন্তসংগঠনের অন্তর্ভুক্তি, সম্পদের আদান-প্রদান এবং রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে।
- সুশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে যার মাধ্যমে কোনও দেশের শাসনের অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

⇒ বিভিন্ন তাত্ত্বিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্নভাবে সুশাসনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে -
  1. ক) বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে
  2. খ) আইনের শাসনের অভাব দেখা দিবে
  3. গ) রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দিবে
  4. ঘ) জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হবে
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।
- প্রশ্নের বাকি অপশনগুলো সুশাসনের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায়।

- সুশাসন হচ্ছে সুন্দরভাবে বা উত্তমরূপে শাসন।
- সুশাসনের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা। 
- এর ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষিত হয়।
- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক তথা জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো.মোজাম্মেল হক।
৪৮৯.
Asian Development Bank (ADB) কোন রিপোর্টে সুশাসন নিয়ে আলোচনা করে?
  1. Good Governance and Development
  2. Public Sector Reform
  3. Anti-Corruption Strategy
  4. Governance: Sound Development Management
ব্যাখ্যা

Asian Development Bank (ADB) ও সুশাসন:
- Asian Development Bank (ADB) ১৯৯৫ সালে 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসন সম্পর্কে আলোচনা করে।
- ADB-এর মতে, সুশাসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং সরকারি সম্পদ এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করে যাতে শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়।

⇒ Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: i) ADB ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৯০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও গুরুত্ব দেয়া
  2. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  3. অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন
  4. সততার সাথে কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ,
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন,
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার,
→ জনসম্মতি,
→ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা,
→ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি,
→ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন,
→ দক্ষ জনশক্তি,
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৯১.
UNHCR -এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান নয় কোনটি?
  1. দায়বদ্ধতা
  2. অংশগ্রহণ
  3. সংবেদনশীলতা
  4. ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- এগুলো হলো:
১. স্বচ্ছতা (Transparency)- শাসনপ্রক্রিয়ায় সকল কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে উন্মুক্ত রাখা এবং তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।
২. দায়বদ্ধতা (Responsibility)- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ কাজ যথাযথভাবে ও দায়িত্বের সঙ্গে সম্পাদন করা।
৩. জবাবদিহিতা (Accountability)- জনগণের কাছে সরকারের বা প্রশাসনের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
৪. অংশগ্রহণ (Participation)- জনগণকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
৫. সংবেদনশীলতা (Responsiveness)-  নাগরিকদের প্রয়োজন ও সমস্যার প্রতি দ্রুত ও কার্যকর সাড়া প্রদান করা।

 

⇒ 'ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ'- সুশাসনের মূল উপাদান নয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- World Bank এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

তথ্যসূত্র: UNHCR ওয়েবসাইট।
৪৯২.
পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের কয়টি দিকের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন: 
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
কোনো শাসনব্যবস্থায় কোনটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে সুশাসন বলা যায় না?
  1. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  2. আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতা
  3. উন্নয়ন
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ, দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি ইত্যাদি।
- উপরোক্ত উপাদানসমূহ অনুপস্থিত থাকলে তাকে সুশাসন বলা যায় না। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৯৪.
“সকল ধরণের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”− কে বলেছেন?
  1. আর জি গেটেল
  2. ল্যারি ডায়মন্ড
  3. হেনরী মেইন
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
শর্তগুলো হল এরূপ:
- (ক) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
- (খ) ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
- (গ) নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৫.
সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে কী অর্জন করা সম্ভব?
  1. ক) উন্নয়ন
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) সুসংগঠিত গণতন্ত্র
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই৷ সুশাসন প্রতিষ্ঠা এই সমস্যার সমাধান করা অতীব জরুরি।
৪৯৬.
সুশাসনের ধারণার উত্থানের মূল কারণ হিসেবে নিচের কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা
  2. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতা
  3. বিশ্বব্যাপী মন্দা দূরীকরণে ব্যর্থতা
  4. আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশেষত আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বারবার ব্যর্থ হয়েছিল।
- কারণ ছিল শুধু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা নয়, বরং দুর্নীতি, অদক্ষতা, জবাবদিহিতার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং crisis of governance।[লিংক]

৪৯৭.
সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার কী?
  1. সরকার
  2. জনগণ
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স:
- সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার হলো ই-গভর্নেন্স (Electronic Governance বা ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা)।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- এটি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, জনগণ এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করে।
- সরকারি সেবা ও তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই মতামত প্রদান ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
- ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ ও অনিয়ম কমানো যায়।

উল্লেখ্য:
সরকার (ক) – সুশাসন বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্বপূর্ণ, তবে একমাত্র হাতিয়ার নয়।
জনগণ (খ) – জনগণ সুশাসনের অন্যতম অংশীদার, তবে প্রযুক্তির সহযোগিতা ছাড়া তাদের ক্ষমতায়ন সীমিত হতে পারে।
রাজনৈতিক দল (ঘ) – রাজনৈতিক দল সুশাসনের নীতি নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সরাসরি বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'বিকেন্দ্রীকরণ' হলো -
  1. ক্ষমতার আন্তর্জাতিকীকরণ
  2. ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্থানীয় পর্যায়ে বণ্টন করা
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত ক্ষমতা একত্রিত করা
  4. সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

• বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৯৯.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে-
  1. ক) বিনিয়োগ হ্রাস পায়
  2. খ) বেকারত্ব হ্রাস পায়
  3. গ) কর্মসংস্থান হ্রাস পায়
  4. ঘ) উৎপাদন হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়। এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫০০.
নিচের কোনটি ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে অপরিহার্য?
  1. ক) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) কর্তব্য পালন
  4. ঘ) ধর্মীয় শিক্ষা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)