বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ২০১৩০০ / ১,৩২৩

২০১.
নিচের কোনটি সরকারের সাথে নাগরিকদের মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে?
  1. ক) জিটুজি
  2. খ) জিটুবি
  3. গ) জিটুসি
  4. ঘ) জিটুই
ব্যাখ্যা
জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন) সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। এই মডেলের সাহায্যে নাগরিকগণ সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পেয়ে থাকে।

অন্যদিকে,

- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া।
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি) সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুবি হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
২০২.
'Moral and others' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ফ্রান্সিস বেকন
  2. প্লেটো
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. মেকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

⇒ Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন:
- রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।
- বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
• The Elements of Ethics,
• Human Society in Ethics and Politics,
• Moral and others,
• Power: A New Social Analysis,
• Political Ideals,
• Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র - শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com
২০৩.
'রাষ্ট্রের সকল উন্নয়েনের ক্ষেত্রে সুশাসন আবশ্যক।' এই উক্তিটি কার?
  1. এম ডব্লিউ পামপ্রে
  2. কফি আনান
  3. ম্যাককরনি
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'' এই উক্তিটি করেছেন।

- ম্যাককরনি সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২০৪.
একটি জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক কোনটি?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) শৃংখলাবোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২০৫.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC) স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1. মেরিডা, মেক্সিকো
  2. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  3. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
  4. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC)।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption।
- এটি জাতিসংঘের একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী চুক্তি।
- লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর ২০০৩।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- কার্যকর: ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫।
- বর্তমান রাষ্ট্রপক্ষ: ১৯৫টি দেশ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

২০৬.
জাতিসংঘ কত সালে ‘শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২০৭.
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে বুঝায়?
  1. ক) আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি
  2. খ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা
  3. গ) রাজনৈতিক দুবৃত্তায়ন
  4. ঘ) প্রশাসনের দলীয়করণ
ব্যাখ্যা
- লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা।
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
- আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২০৮.
বিশ্বব্যাংক তাদের কোন রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. ক) Governance and Development
  2. খ) Governance : Sound Development Management
  3. গ) Good Governance and Sound Development
  4. ঘ) Governance for Sustainable Human Development
ব্যাখ্যা
• বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
• সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
• বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
• পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।

অন্যদিকে, 
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• ১৯৯৫ সালে  Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২০৯.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো বুদ্ধি, আত্মসংযম ও -
i.নিষ্ঠা
ii.প্রজ্ঞা
iii.বিবেক 

নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ii
  2. iii
  3. i ও iii
  4. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- সুনাগরিক ছাড়া সমাজ সুন্দর ও সার্থক হতে পারে না।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

এছাড়াও,
 অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইটের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো− জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১০.
কোন সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়?
  1. জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
  2. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  3. প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা

⇒ প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়।

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
⇒ সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২১১.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা
  3. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  4. ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা
ব্যাখ্যা
• ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা:
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি হল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
→ বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক কার্য সম্পাদন সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
→ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকাই প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।' এই উক্তিটি কার?
  1. টি.এইচ. গ্রিন
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. হার্বার্ট স্পেনসার
  4. অধ্যাপক লাস্কি
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'
- সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেনসার বলেন, "স্বাধীনতা বলতে খুশিমত কাজ করাকে বোঝায় যদি উক্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কাজে বাধা সৃষ্টি করা না হয়।”
- টি.এইচ. গ্রিন বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য, তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে।"
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "স্বাধীনতা বলতে সেই সব সামাজিক বিধিনিষেধের অপসারণকে বোঝায় যা সভ্য জগতে মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অপরিহার্য।"
- সুতরাং স্বাধীনতা হল এমন পরিবেশ যা কারও ক্ষতি না করে নিজের অধিকার উপভোগ করতে পারে।

উল্লেখ্য,
স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ:
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা,
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা,
- সামাজিক স্বাধীনতা,
- আইনগত স্বাধীনতা,
- প্রাকৃতিক স্বাধীনতা,
- জাতীয় স্বাধীনতা,
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১৩.
‘শাসক যদি ন্যায়বান হন, তাহলে আইন অনাবশ্যক। আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন, তাহলে আইন নিরর্থক।’—এ উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. ইব্রাহীম গানবারি
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
২১৪.
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি-এর তথ্যমতে, সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২১৫.
UNDP কোন বিষয়গুলোর কর্তৃত্বের চর্চার প্রয়োগ পদ্ধতিকে 'সুশাসন' হিসাবে অভিহিত করেছে?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) প্রশাসনিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ‘সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়’।

- বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞাকে আরো সমৃদ্ধ করে UNDP বলেছে, ‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’।

- কফি আনান বলেন , “সুশাসন মনাবধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে,গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে”।

- অধ্যাপক ড. মহব্বত খানের মতে-‘সুশাসন হলো,একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২১৬.
নিম্নলিখিত কোনটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. দ্বৈত অর্থবোধকতা
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২১৭.
সুশাসনের পথে অন্তরায়-
  1. জবাবদিহিতা
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. নির্বাচন
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance.
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।

• সুশাসনের অন্তরায়:
- স্বজনপ্রীতি,
- দুর্নীতি,
- অস্বচ্ছতা,
- স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি।
২১৮.
সুশাসনে কোনটি থাকবে না?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) আইনের অনুশাসন
  3. গ) বাক স্বাধীনতা
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা থাকে, এতে অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাক স্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলেই সেই প্রশাসন ব্যবস্থায় সুশাসন গড়ে উঠে।
স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১৯.
সুশাসনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা
  2. সুশাসন একটি প্রাচীন ধারণা
  3. সুশাসন একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা
  4. সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ধাপে ধাপে
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ধারণার উদ্ভব আধুনিককালে। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন যা একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২২০.
'সুশাসন' ধারণাটি কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত একটি ধারণা?
  1. ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক
  2. নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
  3. বিশ্ব ব্যাংক
  4. ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
​- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
​- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
​- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
​- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
​- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
​- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২২১.
সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোনটি অনুসরণ করা উচিত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ করা
  2. রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রচার করা
  3. জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা
  4. আইনের শাসন উপেক্ষা করা
ব্যাখ্যা

সমাজ ও সুশাসন:
- সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ করা উচিত।
- কারণ সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, সততা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল, এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সাহায্য করে।
- এটি সমাজে একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে আইন এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন উপেক্ষা করা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রচার করা, বা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
- যা সুশাসনের মূল ধারণার পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২২.
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সফলতার জন্য কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
  2. খ) পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা
  3. গ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. ঘ) মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সফলতার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। অপরদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথাও চিন্তা করা যায় না।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
২২৩.
UNDP সুশাসনের মূলনীতি প্রকাশ করে কবে?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
ইউএনডিপি সুশাসনের মূলনীতি প্রকাশ করে ১৯৯৭ সালে। আইএমএফ সুশাসনকে এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করে ১৯৯৬ সালে। বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করে আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২২৪.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. এনজিও
  4. নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার হলো এমন একটি জীবনদর্শন ও আচরণের ধরন, যেখানে সততা, নৈতিকতা এবং কর্তব্যনিষ্ঠা একসঙ্গে মিলেমিশে একটি উৎকৃষ্ট চরিত্র গড়ে তোলে।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়৷
- শুদ্ধাচার যখন ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই সত্যিকারের সুশাসনের পরিবেশ তৈরি হয়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান: 
• নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন,
• জাতীয় সংসদ,
• বিচার বিভাগ,
• নির্বাচন কমিশন,
• অ্যাটর্নি জেনারেল।

⇒ অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
• রাজনৈতিক দল,
• বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান,
• এনজিও ও সুশীলসমাজ,
• পরিবার,
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২২৫.
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কার ওপর নির্ভর করে?
  1. বিচারক
  2. রাজনীতিবিদ
  3. নাগরিক
  4. বিদেশী রাষ্ট্রদূত
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২৬.
সুশাসনের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা
  4. নৈতিক অনুশাসন
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো দক্ষ ও কার্যকরি শাসন। সুশাসনের জন্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ, আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা প্রভৃতি আবশ্যক।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে নৈতিক অনুশাসন বা সৃজনশীলতা আবশ্যক নয়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২২৭.



উপরের ? চিহ্নিত স্থানে কোনটি বসবে?

  1. সুশাসন
  2. সততা
  3. স্থানীয় সরকার
  4. ন্যায় বিচার
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

• জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
যথা:
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়বিচার,
- স্বচ্ছতা,
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,
- দায়বদ্ধতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য।

এখানে, সুশাসনের মধ্যে উল্লিখিত উপাদান গুলো রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২২৮.
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের বয়স সীমা কত?
  1. ক) ৬-১২ বছর
  2. খ) ৬-১৩ বছর
  3. গ) ৭-১৬ বছর
  4. ঘ) ৮-১৮ বছর
ব্যাখ্যা
- কিশোর অপরাধ হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ।
- বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ কিশোর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে এই সীমা ৭-১৮ বছর।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী-পৃষ্ঠা)
২২৯.
E-Governance কে 'SMART Government'-এর ধারণাটি কে প্রদান করেন?
  1. মার্টিন মিনোগ
  2. ম্যাক করণী
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. ল্যান্ডেল মিল
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

উল্লেখ্য,
⇒ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৩০.
'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে -
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউএনডিপি
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২৩১.
সুশাসন সম্পর্কে ম্যাককরনি’র অভিমত হলো:
‘সুশাসন বলতে _________ সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।’
  1. রাষ্ট্রের
  2. সমাজের
  3. নাগরিকের
  4. শাসনের
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

⇒ ম্যাককরনি:
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ কফি আনান:
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস:
"রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৩২.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো-
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. গ) সামাজিক উন্নয়ন
  4. ঘ) রাজনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২৩৩.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. সমতা 
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৪.
উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্রকে বলা হয় -
  1. Bureau Government
  2. Local Government
  3. Shadow Government
  4. Desk Government
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

উল্লেখ্য,
- "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tape) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৩৫.
সুশাসন সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সুশাসন ধারণাটি বহুমাত্রিক।
  2. সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন।
  3. এটি আইএমএফের উদ্ভাবিত ধারণা।
  4. সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
ব্যাখ্যা
সুশাসন ধারণার উদ্ভব আধুনিককালে। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে। সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন যা একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক]
২৩৬.
’Johannesburg Plan of Implementation‘ সুশাসনের সঙ্গে অধিকতর যুক্তিযুক্ত- 
  1. শিক্ষার উন্নয়ন 
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
  3. টেকসই উন্নয়ন
  4. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন।
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত থয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
• মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

২৩৭.
নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) উচ্চশিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) ধর্মীয় শিক্ষা
  4. ঘ) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো- 
  1. সৎ ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. নিজের অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

 সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

২৩৯.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কত সালে ‘Governance: Sound Development Management’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৪০.
যে গুণের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তা হচ্ছে-
  1. মূল্যবােধ
  2. কর্তব্যবােধ
  3. সদাচার
  4. সততা
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
২৪১.
কোন সংস্থার দৃষ্টিতে সুশাসনের ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলোর টেকসই উন্নয়ন ঘটে থাকে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. ইউএনডিপি
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

অন্যদিকে,
- ইউএনডিপির মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৪২.
আইএমএফ সুশাসনকে এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করে-
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৯৯৭ সালে The Role of the IMF in Governance Issues নামে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে। এটি পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই IMF এর বোর্ড অব ডিরেক্টরসগণ রিভিউ করে।
- পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পলিসিটির সহায়ক হিসেবে Framework for Enhanced Engagement on Governance নামে আারেকটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
২৪৩.
সুশাসন হলো-
  1. ক) একটি নৈতিক ধারণা
  2. খ) এক ধরনের মূল্যবোধ
  3. গ) নৈর্ব্যক্তিক সামাজিকতা
  4. ঘ) রাজনৈতিক ধারণা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো এক ধরনের মূল্যবোধ যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করে। সুশাসন বলতে বুঝায় উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন।

সুশাসনের ধারণাটি একটি আধুনিক ধারণা। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের এক রিপোর্টে সর্বপ্রথম সুশাসন ধারণাটি তুলে ধরে।

(তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২৪৪.
কোন সালে ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামের নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন"।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২৪৫.
নিচের কোনটি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে?
  1. প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. আইনের শাসনের অনুপস্থিতি
  4. শক্তিশালী সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। এর অর্থ হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন না থাকলে কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যাবশ্যক। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী সুশাসনের জন্যে অত্যাবশ্যক নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, মো. মোজাম্মেল হক।
২৪৬.
সমাজে ব্যক্তির কোনটি ভালো ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য করতে সাহায্য করে?
  1. শিক্ষা
  2. আইন
  3. ঐতিহ্য
  4. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে। নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৪৭.
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) অধ্যাপক ডাইসি
  4. ঘ) অধ্যাপক হারমান ফাইনার
ব্যাখ্যা
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন অধ্যাপক ডাইসি। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
২৪৮.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ বলতে কী বুঝায়?
  1. সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  2. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রাভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও  তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২৪৯.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. লাল ফিতার দৌরাত্ম্য
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. জনবান্ধব প্রশাসন
ব্যাখ্যা

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সুশাসনের উপাদান নয়। 

সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। 

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ, দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৫০.
নিম্নোক্ত কোনটি গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হিসেবে পরিচিত?
  1. আইনের শাসন
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. সাম্য
  4. স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন: 
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- ব্যক্তি স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।
- আইনের শাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার-মাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫১.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - এই অভিমত প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. বিশ্বব্যাংক 
  2. ইউএডিপি
  3. জাতিসংঘ
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা

'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - বিশ্বব্যাংক এই অভিমত প্রকাশ করে।

◉ বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
→ বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
→ সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
→ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

◉ স্তম্ভ চারটি হলো:
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৫২.
যৌতুক প্রথার ‍জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. অশিক্ষা
  2. দারিদ্র্য
  3. আইনের অপপ্রয়োগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক কুপ্রথা। এই প্রথানুসারে বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে স্বামীপক্ষকে অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করতে হয়।
- এই প্রথার পেছনে মূল কারণ হলো দারিদ্র্য।
- এছাড়া অশিক্ষা, অর্থলিপ্সা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি যৌতুক প্রথার জন্যে দায়ী।
- যৌতুক প্রথা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
২৫৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কি নিশ্চিত হবে?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
  3. দারিদ্র বিমোচন
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৪.
কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
  1. ক) পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
  4. ঘ) অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ, আইনের শাসন, অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ - ইত্যাদি বিষয়গুলো ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ - ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির সম্পর্কিত নয়।
২৫৫.
ভারতের কোন মুখ্যমন্ত্রী ই-গভনের্ন্সকে 'SMART সরকার ব্যবস্থা' বলে অভিহিত করেন?
  1. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. নীতিশ কুমার
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
ব্যাখ্যা
SMART Government:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent.
- অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance.
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় -
  1. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
  2. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান
  3. সামাজিক দায়িত্ব পালন
  4. নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।
- আইন মান্য করা।
- আনুগত্য প্রদর্শন।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫৭.
আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজন-
  1. রাজনৈতিক প্রভাব
  2. যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব
  3. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকারী
  4. দলীয় স্বার্থের প্রতি নিবেদিত শাসক
ব্যাখ্যা
আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের আমলাদের সততা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার অধিকারী হতে হবে।
- রাজনৈতিক বাধা যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি না করে, এ বিষয়ে দেশের নেতাদের খেয়াল রাখতে হবে।
- একমাত্র যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বই পারে স্বচ্ছ আমলাতন্ত্র সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে।
- আমলাদের দায়িত্ব ও পদোন্নতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ করতে নেতাকে সজাগ থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৮.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে কোন নীতি বাস্তবায়িত হয়?
  1. একক ক্ষমতা
  2. কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ
  3. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শাসন
  4. রাজতন্ত্র শক্তিশালীকরণ
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। 
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য,
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কুকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- তিনি তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৯.
সুশাসন প্রত্যয়টি কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. ক) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র
  2. খ) সমাজতন্ত্র
  3. গ) সামরিক
  4. ঘ) গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
• সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
• আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
• তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬০.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান?
  1. সংবেদনশীলতা
  2. কৌশলগত লক্ষ্য
  3. অংশগ্রহণ
  4. দুর্নীতি দমন
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে। সংস্থাটি ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
যথা-
- বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- নিয়ন্ত্রণ গুণ,
- আইনের শাসন,
- দুর্নীতি দমন

তথ্যসূত্রঃ বিশ্বব্যাংক
২৬১.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  2. আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  4. শিশু অধিকার
ব্যাখ্যা
• CEDAW:
→ CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
→ এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
→ এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট।
২৬২.
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার প্রধান বাধা কী?
  1. শিক্ষা ঘাটতি
  2. প্রযুক্তির অভাব
  3. ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

• দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি;
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি;
- সুশাসনের অবক্ষয়;
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব;
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

• দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা;
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা;
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা;
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো;
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

উৎস :পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৬৩.
গণতন্ত্রের বাহন কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. অর্থনৈতিক সাম্য 
  3. পরমতসহিষ্ণুতা
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
→ গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন।
→ নির্বাচন যেন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।
→ অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত হতে না পারে সেজন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোককে নির্বাচিত করতে হবে। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম  শ্রেণি।
২৬৪.
'আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' কত সালে 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬৫.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংক উল্লিখিত সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম নির্দেশক?
  1. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  2. সরকারি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
  3. ন্যায্যতা ও সাম্য
  4. বেসরকারি সেক্টরের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক Governance : The World Bank Experience শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করে।
এগুলো হলো:
- সরকারি খাত বা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।

(তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট)
২৬৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শ্বেতপত্রের মূল ভূমিকা কী?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. দলীয় প্রচার করা
  3. গোপন তথ্য প্রকাশ করা
  4. বিরোধী দলের কর্মসূচি সফল করা
ব্যাখ্যা

শ্বেতপত্র: 
- শ্বেতপত্র (White Paper) হলো সরকার বা কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রামাণ্য দলিল, যা কোনো জটিল সমস্যা, নীতি বা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে। এটি সাধারণত কোনো নতুন আইন, নীতি বা সংস্কারের পূর্বে জনমত তৈরি বা সঠিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- শ্বেতপত্র রাষ্ট্রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সুশাসনের মূল উপাদান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৬৭.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
◉ 'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - বিশ্বব্যাংক এই অভিমত প্রকাশ করে।

◉ বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
→ বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
→ সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
→ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

◉ স্তম্ভ চারটি হলো:
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬৮.
কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিবছর Rule of Law Index প্রকাশ করে থাকে?
  1. World Bank
  2. World Justice Project
  3. World Economic Forum
  4. Transparency International
ব্যাখ্যা

⇒ World Justice Project প্রতিবছর Rule of Law Index প্রকাশ করে থাকে।

World Justice Project:
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ।
- World Justice Project বিশ্বব্যাপী দুইটি বিষয় নিয়ে কাজ করে।
• আইন ব্যবস্থা,
• সুশাসন।
- 'World Justice Project' আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে ।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বার্ষিক প্রতিবেদন
প্রকাশ করে আসছে।
- 'WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

⇒ ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়:
• রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা,
• নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ,
• জননিরাপত্তা,
• মৌলিক অধিকার,
• দুর্নীতি,
• সরকারি তথ্য প্রকাশ,
• দেওয়ানি বিচার,
• ফৌজদারি বিচার।

তথ্যসূত্র - World Justice Project ওয়েবসাইট।

২৬৯.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ বলতে কী বোঝায়?
  1. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
  4. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। 
​- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২৭০.
কোন বছর ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?
  1. ১৯৯৫
  2. ১৯৯৬
  3. ১৯৯৭
  4. ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
• UNDP:
- UNDP এর মতে” একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- ১৯৯৭ সালে ইউএনডিপি সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেন।
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো হলো- সমতা ও ন্যায্যতা, সমঅংশীদারিত্ব, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য, কার্যকারিতা ও দক্ষতা এবং কৌশলগত লক্ষ।

উৎস: ইউএনডিপির ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৭১.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা
  2. দুর্বল সংসদ
  3. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব:
- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল: প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল সংসদ, অনুন্নত রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না।
- আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা (দ্বিতীয় বর্ষ), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
কীসের অভাবে সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের স্বার্থ পরিপন্থী নীতিনির্ধারণের প্রবণতা রয়েছে?
  1. সুশাসন
  2. স্বচ্ছতা
  3. নৈতিকতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

• Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৩.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় হয়
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি দূর হয়
ব্যাখ্যা

• অর্থনৈতিক বিনিয়োগ:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭৪.
"শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।" - উক্তিটি কার?
  1. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  2. ডাইসি
  3. এফ. আই. গাউড
  4. রিচার্ড ক্রসম্যান
ব্যাখ্যা
নিকোলো  ম্যাকিয়াভেলির মতে , "শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।"

অন্যদিকে,
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দূর্নীতি পরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক’।
- 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ' (“An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy”) - রিচার্ড ক্রসম্যান। 
- ‘আইনের চোখে সকলে সমান’ - অধ্যাপক ডাইসি।

সূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৫.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের স্তম্ভ নয়?
  1. ক) সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা
  2. খ) দায়বদ্ধতা
  3. গ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. ঘ) বেসরকারি সেক্টরের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলোঃ
- সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
২৭৬.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - উক্তিটি কার?
  1. ক) জন লক
  2. খ) থমাস হবস
  3. গ) আর.এম ম্যাকাইভার
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আর.এম ম্যাকাইভার বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
২৭৭.
সুশাসনের ধারণাটির উদ্ভাবক কোন সংস্থা? 
  1. আইএমএফ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক 
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৭৮.
‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্য নিয়ে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২৭৯.
নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল -
  1. ক) নীতি নির্ধারণ
  2. খ) জনমত গঠন
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  4. ঘ) পরিকল্পনা প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়। সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম।

- নীতি নির্ধারক: নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা। জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন?
  1. গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন
  2. সামরিক নেতৃত্ব
  3. ধর্মীয় নেতৃত্ব
  4. স্বৈরাচারী
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮১.
রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার
  2. ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমান সম্পদ বণ্টন
  3. সার্বজনীন ভোটাধিকার
  4. জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমান সামাজিক মর্যাদা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্য:
- রাজনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সমান রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করার অধিকার।
- এটি গণতন্ত্রের একটি মৌলিক ভিত্তি।
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে সার্বজনীন ভোটাধিকার।

⇒ উল্লেখ্য:
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার’ আইনগত সাম্য।
- ‘ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমান সম্পদ বণ্টন’ অর্থনৈতিক সাম্য।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমান সামাজিক মর্যাদা সামাজিক সাম্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৮২.
সুশাসন জনপ্রশাসনের একটি -
  1. প্রাচীন সংস্কৃতি
  2. নব্য সংস্কৃতি
  3. রূপ
  4. শাখা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জনপ্রশাসনের একটি নব্য সংস্কৃতি হলো সুশাসন। 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ।
- সুশাসনের ভিত্তিকে দৃঢ় করে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৩.
জন অস্টিন আইনের কতটি উৎস চিহ্নিত করেছেন?
  1. ৫টি
  2. ১টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: - সার্বভৌমের আদেশ।

অন্যদিকে,
• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
- প্রথা,
- ধর্ম,
- বিচারকের রায়,
- ন্যায়বিচার,
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
- আইনসভা।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
- প্রথা,
- ধর্ম,
- বিচারকের রায়,
- ন্যায়বিচার,
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
- আইনসভা,
- জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৮৪.
জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে কী হ্রাস পাবে?
  1. বাল্যবিবাহ
  2. দুর্নীতি
  3. অপসংস্কৃতি
  4. অরাজকতা
ব্যাখ্যা
দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- জবাবদিহিতার দুইটি দিক থাকে, একটি, রাজনৈতিক অপরটি প্রশাসনিক।
- গণতান্ত্রিক সরকার গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত এবং সম্পাদিত কাজের জন্যে আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে।
- আইনসভার সদস্যগণ জনগণের নির্বাচিত সদস্য।
- এর ফলে সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বা কাজকর্মের জন্যে আইনসভার মাধ্যমে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন।
- জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতার অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না।
- জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি হ্রাস পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮৫.
The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কোন নির্দেশকের উল্লেখ করেছে?
  1. সরকারের বৈধতা
  2. সরকারের রাজনৈতিক জবাবদিহিতা
  3. মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়। 

⇒ The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৬.
সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় কোনটি?
  1. ক) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
  2. খ) জবাবদিহিতার অভাব
  3. গ) বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  4. ঘ) দক্ষ আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
 • সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮৭.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়-
  1. ক) গ্রহণযোগ্যতা
  2. খ) দায়বদ্ধতা
  3. গ) নেতার শাসন
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের পূর্বশর্ত সমূহ:

- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৮.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে-
  1. বিনিয়ােগ বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি দূর হয়
  3. প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
  4. যােগাযােগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

• অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

২৮৯.
জনমত গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) রাজনৈতিক শিক্ষা 
  3. গ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা 
ব্যাখ্যা
- জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
২৯০.
বিশ্বব্যাংক কবে প্রকাশ করে যে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৯১.
শাসনের কোন দিকটি নির্দেশ করতে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গুণগত
  2. খ) বাহ্যিক
  3. গ) পরিমাণগত
  4. ঘ) সংখ্যাগত
ব্যাখ্যা
• শাসন শব্দের সাথে সু প্রত্যয় যুক্ত করে সুশাসন শব্দটি তৈরি হয়েছে।
• সুশাসন শাসনের গুণগত দিককে নির্দেশ করে।
• নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে শাসন পরিচালনা করাই হলো সুশাসন।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯২.
বৈষম্যযুক্ত সমাজে কি বিরাজ করে?
  1. স্থিতিশীলতা
  2. অস্থিতিশীলতা
  3. শান্তি
  4. সমৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা
• সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
→ পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনায় সাম্য ও স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমাজে বসবাস করতে হলে সাম্য ও স্বাধীনতা দুটিই প্রয়োজন।
→ বৈষম্যযুক্ত সমাজে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। পক্ষান্তরে, স্বাধীনতাহীন ব্যক্তি বা জাতির বিকাশের সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়।
→ সাম্য ও স্বাধীনতার মাঝে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ দু’ধরনের সম্পর্ক চিহ্নিত করেন। একটি ধারা সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে সমধর্মীতার কথা বলে অন্য ধারাটি এই দুইয়ের মাঝে কিছু বৈপরীত্য দেখতে পায়। 

পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
নাগরিকের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়-
  1. ক) আনুগত্য পোষণ
  2. খ) আইন মান্য করা
  3. গ) কর প্রদান করা
  4. ঘ) দুঃস্থকে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের বা সমাজের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা, আইন মেনে চলা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি আইন দ্বারা নির্ধারিত নাগরিকের পালনীয় কর্তব্য। এসব পালন না করলে রাষ্ট্র নাগরিককে আইনের মুখোমুখি করতে পারে। অন্যদিকে দুঃস্থকে সাহায্য করা হলো নৈতিক কর্তব্য যা আইন দ্বারা নির্ধারিত নয়। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৯৪.
নিচের কোনটি লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত সুনাগরিকের গুণ নয়?
  1. বুদ্ধি
  2. বিবেক
  3. সু-শিক্ষা
  4. আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,

- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

অর্থাৎ সকল নাগরিক সুনাগরিক নয়। সুনাগরিক হলো সেই ব্যক্তি, যার তিনটি প্রধান গুণ রয়েছে: ১) বুদ্ধি, ২) বিবেক, ৩) আত্মসংযম।

১. বুদ্ধি: বুদ্ধিমান নাগরিক সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে পারে। সুনাগরিকের বুদ্ধিমত্তা রাষ্ট্রের উন্নতি এবং গণতান্ত্রিক সফলতার ভিত্তি।
২. বিবেক: বিবেকবান নাগরিক ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং রাষ্ট্রের অধিকার ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে। তারা আইন মেনে চলে ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেয়।
৩. আত্মসংযম: আত্মসংযম হলো লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করা। এ গুণের মাধ্যমে ব্যক্তি বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে সক্ষম হয় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৫.
সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার নাম-
  1. সুশাসন
  2. গণতন্ত্র
  3. মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক উন্নতি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
- সুতরাং সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার নাম সুশাসন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)

-
২৯৬.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে-
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) আইন বিভাগ
  3. গ) শাসন বিভাগ
  4. ঘ) বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇨ সুশাসন হলো যথার্থ শাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
⇨ একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে শাসন বিভাগ।    

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৯৭.
জাতিসংঘের সুশাসন সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি সর্বপ্রথম কোন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়?
  1. শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিবেদন
  2. শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

⇒ কারণ: মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

অন্যদিকে,
- বিশ্ব ব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে 'শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন' (Governance and Development) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ইউএনডিপি (UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। 

উৎস: i) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৯৮.
কোনটিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ বলা হয়?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. জনপ্রশাসন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।

সুশাসনের ধারণা:
- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

গণতন্ত্র:
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৯৯.
সুশাসন এর আবির্ভাব ঘটেছিল -
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
• সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে।

বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা:
• বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
• বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সংজ্ঞা:
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
• সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
'Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্ট কে প্রকাশ করে?
  1. আইএমএফ
  2. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।