বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা ১২ / ১৪ · ১,১০১১,২০০ / ১,৩২৩

১,১০১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. সততার সাথে কর প্রদান করা
  2. অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন
  3. ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
  4. অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও গুরুত্ব দেয়া
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
→ আইনসভাকে গতিশীল ও কার্যকর করা।
→ স্পষ্ট সহজবোধ্য ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন।
ব্যাপক জনঅংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি
→ শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
→ দারিদ্র্য দূরীকরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১০২.
নিম্নের কোনটি বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভ-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ন্যায়পরায়নতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভ মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়- ন্যায়পরায়নতা।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উল্লেখ্য, 
• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১০৩.
নবপ্রতিষ্ঠানবাদ ধারণাটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  2. সুশাসন
  3. সাম্যবাদ
  4. উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা
নবপ্রতিষ্ঠাবাদ হলো একটি তত্ত্ব যা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত। এতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নিয়মনীতি কিভাবে এর সদস্য বা ব্যক্তির আচরণ ও ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে তা ব্যাখ্যা করা হয়।
এটি ১৯৮০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্ডিতদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে৷ এই তত্ত্ব সুশাসনের তাত্ত্বিক দিককে নির্দেশ করে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,১০৪.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ কী?
  1. নৈতিকতার অভাব
  2. অর্থনৈতিক অভাব
  3. আইনের প্রয়োগের অভাব
  4. অসৎ নেতৃত্ব
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ হল 'নৈতিকতার অভাব'।

দুর্নীতি ও নৈতিকতা:
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

উল্লেখ্য:
- যদিও অন্যান্য কারণগুলোও দুর্নীতির জন্য দায়ী হতে পারে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- যদি মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সততার অভাব থাকে, তবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- অসৎ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক অভাব ও আইনের প্রয়োগের অভাব দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে, কিন্তু নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৫.
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো -
  1. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  4. দারিদ্র্য বিমোচন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

⇒ জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,১০৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক হিসেবে নৈতিক মূল্যবোধ কী ধরনের আচরণের বিকাশ ঘটায়?
  1. নেতিবাচক আচরণ
  2. নিরপেক্ষ আচরণ
  3. সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:

- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক এবং একে অপরের পরিপূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ নেতিপরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,১০৭.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ধর্ম
  2. জাতি
  3. সাম্য
  4. বর্ণ
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্ৰ:
- ৩টি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। যথা:
• সাম্য,
• মৈত্রী ও
• স্বাধীনতা।
- গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায় ৷
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান।
- গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায়।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৮.
সুশাসনের ধারণা প্রথম উপস্থাপন করে কে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউএনডিপি
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- তাদের মতে, এসব রাষ্ট্রে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে।
- তবে এর থেকেও বড় সমস্যা হল সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
- 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।

• মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৯.
'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্ট প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. ক) World Bank
  2. খ) IMF
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) ADB
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।  
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,১১০.
কোনটিকে সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ক) নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
⇨ সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ইত্যাদি সুশাসনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
পক্ষান্তরে,
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি, অস্বচ্ছতা, জবাবাদিহিতার অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি প্রভৃতি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।  

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১১১.
আইনের শাসন বলতে কী বুঝায়?
  1. নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা
  2. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা
  4. সামাজিক নিরাপত্তা বিধান
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম প্রধান করণীয় হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
-  আইনের শাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
- আইনের শাসন হলো আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।
- কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, সকলেই আইনের অধীন।
- ব্যক্তির স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।
- আইনের শাসন বলতে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করাকে বুঝায়।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১১২.
কোন ঘোষণায় সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) কেপটাউন ঘোষণা
  2. খ) ভিয়েনা ঘোষণা
  3. গ) জোহান্সবার্গ ঘোষণা
  4. ঘ) জেনেভা ঘোষণা
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation যা জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementationগৃহীত হয়। 
ইহা সুশাসনের সঙ্গে Sustainable development (টেকসই উন্নয়ন) এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎসঃ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর ওয়েবসাইট।
১,১১৩.
“Good Governance and Development” - বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) G. H. Addink
  2. খ) M. A. Muqtedar Khan
  3. গ) Robert Kuttner
  4. ঘ) Brian C. Smith
ব্যাখ্যা
উক্ত বইটি Brian C Smith ও Brian Smith যৌথভাবে লিখেন এবং ২০০৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
Brian C Smith - এর লেখা অন্যান্য বই - Understanding Third World politics, Decentralization: The Territorial Dimension of the State, Quantitative Spectroscopy ইত্যাদি।
১,১১৪.
কোনটি অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ?
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. সংবাদপত্র
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• অধিকারের রক্ষাকবচ:
- বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার অত্যাবশ্যক।
- রাষ্ট্রই নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রবর্তন ও তা সংরক্ষণ করে থাকে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের শর্তগুলোকে “অধিকারের রক্ষাকবচ" বলে।

এগুলো নিম্নরূপ:
- আইন (Law):
আইন হচ্ছে অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ।
→ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়।
→ আইন হচ্ছে অধিকার ভোগের আবশ্যকীয় শর্ত বা রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১১৫.
'Constitution is the way of life the state has chosen for itself- কার উক্তি?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

⇒ 'Constitution is the way of life the state has chosen for itself- এরিস্টটল এর উক্তি।

এরিস্টটল:
- এরিস্টটল সংবিধানকে "রাষ্ট্র যেভাবে তার নিজের জন্য জীবনযাপনের ধরণ নির্ধারণ করে" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের মূল কাঠামো এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা নির্ধারণ করে।
- সংবিধান শুধু আইনের সংকলন নয়।
- এটি একটি রাষ্ট্রের আদর্শ, মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য প্রতিফলিত করে।
- এটি বলে দেয় যে, একটি রাষ্ট্র কীভাবে তার জনগণ, শাসক এবং আইন পরিচালিত করবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১১৬.
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ
  2. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা
  3. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো
  4. সবগুলোই ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম:
- ই-সরকার বা ই-গভর্নেন্স-এর পারস্পরিক লেনদেন সরকার ও জনগণ বা সেবাগ্রহণকারী, সরকার ও ব্যবসায়ী, এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের কিংবা সরকার ও তার কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে পারে।
- এরূপ লেনদেনের ক্ষেত্রে চার ধরনের কার্যক্রম লক্ষ করা যায়:
১. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো: যেমন নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম, সাধারণ ছুটি, জনগণের জন্য বিভিন্ন ঘটনার দিন তারিখ, বিভিন্ন ইস্যুর ব্যাখ্যা, নোটিশ ইত্যাদি।
২. সরকার ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ: এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেট সংলাপে বসতে পারে এবং তাদের সমস্যা, মন্তব্য ও অনুরোধ প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারে।
৩. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা: যেমন আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া, চাকরির জন্য আবেদন চাওয়া ও তা জমা দেয়া এবং অনুদান চাওয়া ও তা প্রদান করা।
৪. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ: জনগণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করে, তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১১৭.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. গণতন্ত্র 
  4. আইনি কাঠামো
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:

১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১১৮.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল' এটি কোন সংস্থার মতামত?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক 
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. এশিয়ান উন্নয়ন 
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল' বিশ্বব্যাংক এই অভিমত প্রকাশ করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৯.
জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- 
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. কর্তব্যবোধ
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২০.
নিম্নের কোনটি টমাস হবস রচিত গ্রন্থ?
  1. Misbehaving
  2. Leviathan
  3. Political Man
  4. Political order and political decay
ব্যাখ্যা
টমাস হবস:
- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

উল্লেখ্য, তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলী হলো:
- The Media of Europides,
- Decorpore,
- Hoprinc,
- Decive,
- The elements of Laws,
- Leviathan.

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,১২১.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস হলো-
  1. ক) মন্ত্রিসভা
  2. খ) জনগণ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) আইনসভা
ব্যাখ্যা
- গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার ব্যবস্থা। গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র উৎস হলো জনগণ। জনগণের সম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয় এবং পরিচালিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,১২২.
'টেকসই উন্নয়ন' জাতিসংঘ অভীষ্টের কত নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে?
  1. ক) ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা
  2. খ) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
  3. গ) ১৪ নং লক্ষ্যমাত্রা
  4. ঘ) ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সমাপ্তিতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (২০১৬-২০৩০) গ্রহণ করে।
- টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রায় সুশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
- এই লক্ষ্যমাত্রায় টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
• ১০ নং লক্ষ্যমাত্রা- বৈষম্য হ্রাস করা
•  ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রা- ক্লাইমেট অ্যাকশন
•  ১৪ নং লক্ষ্যমাত্রা- স্থলজ বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১,১২৩.
সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন-
  1. ক) ক্যামডেসাস
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) কফি আনান
  4. ঘ) ম্যাককরনি
ব্যাখ্যা

- ম্যাককরনি সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'

বিশ্বব্যাংকের মতে, ''সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।''

- মিশেল ক্যামডেসাস বলেছেন, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

- কফি আনান বলেছেন, 'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।'

১,১২৪.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাকে কয়টি বিভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সরকার কাঠামো:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের ৩টি বিভাগ রয়েছে। যথা:
১. আইন বিভাগ,
২. বিচার বিভাগ,
৩. শাসন বিভাগ।
- একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না ।

শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।

আইন বিভাগ:
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্ৰণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে বিচার বিভাগ সরকারের সকল প্রকার বিচারিক কার্য সম্পাদন করে থাকে।
- বিচারিক কার্যের অংশ হিসেবে এই বিভাগটি মূলত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে থাকে ও জনগণের অধিকার রক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. বিচারকদের তদারকি করা
  3. জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  4. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ দক্ষ জনশক্তি।
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
→ দারিদ্র্য দূরীকরণ।
→ ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), HSC Programme, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১২৬.
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স এর সুবিধা কোনটি?
  1. ক) স্বচ্ছতা আনয়ন
  2. খ) দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থা
  3. গ) তথ্যের সহজলভ্যতা
  4. ঘ) উপরের সব কয়টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভার্নেসের অন্যান্য সুবিধা হলোঃ জনগণের ব্যপক অংশগ্রহণ, প্রকৃত গনতন্ত্রের দিকে অগ্রসর, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১২৭.
৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা-
  1. ১৯২টি
  2. ১০৯টি
  3. ১৯০টি
  4. ১৯১টি
ব্যাখ্যা

◉ ৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত  United Nations Convention Against Corruption স্বাক্ষরকারী দেশ ১৯১টি।

• জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় সকল দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে মাত্র ২টি দেশ যোগ দেয়নি।

মেরিডা কনভেনশন:

- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯১টি দেশ। 
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১,১২৮.
UNHRC সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) ন্যায্যতা
  3. গ) সংবেদনশীলতা
  4. ঘ) দায়বদ্ধতা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHRC) সুশাসনের উপাদানের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- দায়বদ্ধতা
- জবাবদিহিতা
- অংশগ্রহণ এবং
- সংবেদনশীলতা।

(তথ্যসূত্রঃ UNHRC ওয়েবসাইট)
১,১২৯.
ই-গভর্নেন্সের ফলে -
  1. সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  3. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স-এর সুবিধা: 
স্বচ্ছতা আনয়ন:
- ই-গভর্নেলে স্বচ্ছতার বিষয়টিকে বড় করে দেখা হয়।
- সরকারের প্রশাসনিক সংগঠনগুলোতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা প্রয়োজন।
- সরকার কী কী কাজ করছে, কেন করছে, কী কী মূলনীতির ওপর সরকার সিদ্ধান্ত বা নীতি প্রণয়ন করছে তা ই-গভনেন্স জনগণকে জানতে সাহায্য করে।
- এভাবে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। 

দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থা:
- ই-গভর্নেন্স-এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
- এর মাধ্যমে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। 

সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা:
- ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা।
- সরকারের সব কার্যক্রম বা সকল পদক্ষেপ জনগণ জানতে ও বুঝতে পারে।
- এরূপ স্বচ্ছতাই জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করে।
- এভাবে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৩০.
কোন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়?
  1. রাজনৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. প্রশাসনিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- কারণ সুশাসন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে, যা ব্যবসা ও শিল্পের প্রসারে সহায়তা করে।

যেভাবে সুশাসন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক:
- সুশাসন থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে, যা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- বিনিয়োগকারীরা যখন দেখেন যে প্রশাসন স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত, তখন তারা বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হন।
- দক্ষ প্রশাসন ও কার্যকর নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৩১.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়
  2. সুশাসন
  3. উন্নয়ন
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়।
- নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় ধরা হয়।
- গণমাধ্যম জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন সুসংহত করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৩২.
সুশাসন দ্বারা শাসনের -
  1. বিপরীত দিক বুঝায়
  2. পরিমান বুঝায়
  3. গুণগত দিক বুঝায়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

সুশাসন:
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।
- সুতরাং সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৩.
জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা বলতে কী বোঝায়?
  1. আইন প্রণয়নের স্বাধীনতা
  2. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  3. কেবল আমলাতান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ
  4. প্রশাসনে দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও কার্যকর কৌশল
ব্যাখ্যা

জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন আনয়নের জন্য জনপ্রশাসনের উৎকর্ষ সাধন করতে হবে।
- এই উৎকর্ষ সাধন করার জন্য জনপ্রশাসনকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও গতানুগতিক ধারা থেকে বের হতে হবে।
- জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা সাধন বলতে বোঝায় জনপ্রশাসনে দক্ষতা আনয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহারকরণ ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা।
- সুশাসনের আরেকটি উপাদান হচ্ছে বিকেন্দ্রীকরণ।
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই সকল বিভাগ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
- এটি প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমিয়ে দেয় এবং প্রশাসনকে জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়।
- তাই একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিটি বিভাগে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।

⇒ পরিশেষে বলা যায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সকলের কাম্য, কিন্তু এটি প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা একান্ত জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৪.
উৎপত্তি অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. kubernan, গ্রীক
  2. kubernan, ল্যাটিন
  3. gestione, গ্রীক
  4. gestione, ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
Governance:
- Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর অর্থ শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।
- মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।
- উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল। ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে।

⇒সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৩৫.
জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উদ্দেশ্য কী?
  1. আঞ্চলিক সম্প্রসারণ
  2. প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
  3. অর্থনৈতিক সমতা
  4. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,১৩৬.
‘স্বাধীনতা বলতে যদি আত্মবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা বুঝায় তা হলে তা নিশ্চিত ভাবেই আইনের দ্বারা সৃষ্টি হয়’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) লক
  4. ঘ) রিচি
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
১,১৩৭.
গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস-
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) আমলাগণ
  4. ঘ) জনগণ
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্র দুই প্রকার। যথাঃ একটি প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং অপরটি পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- প্রাচীন আমলে গ্রিসে এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

১,১৩৮.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  2. বৈধতা
  3. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  4. জনবান্ধব প্রশাসন
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ সুশাসনের উপাদান নয়।

সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৩৯.
অধ্যাপক ড. মহব্বত খানের মতে সুশাসন কোন কোন সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা?
  1. ক) সামাজিক এবং রাজনৈতিক
  2. খ) সামাজিক এবং অর্থনৈতিক
  3. গ) সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়
  4. ঘ) ব্যক্তি মালিকানা এবং রাষ্ট্রীয়
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. মহব্বত খানের মতে-‘সুশাসন হলো,একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৪০.
E-Governance- এর মূল কাজ কী?
  1. ক) নাগরিক সেবা বৃদ্ধি
  2. খ) শিক্ষার উন্নয়ন
  3. গ) স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- E-Governance এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- E-Governance এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- E-Governance এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- E-Governance বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- E-Governance-এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- E-Governance-মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৪১.
নিচের কোন বিষয়টি নিয়ে সুশাসন আলোচনা করে?
  1. অর্থব্যবস্থা
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. বাস্তুবাদিতা
  4. ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স:
- পৌরনীতি ও সুশাসন বর্তমান সময়ে সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স নিয়ে আলোচনা করে
- সরকার কিভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে পারে সে বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪২.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

♦ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ।
- অভিলক্ষ্য: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ৷

♦ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
• নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, 
•  জাতীয় সংসদ,
• বিচার বিভাগ, 
• নির্বাচন কমিশন, 
• অ্যাটর্নি জেনারেল, 
• সরকারি কর্ম কমিশন, 
• মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, 
• ন্যায়পাল, 
• দুর্নীতি দমন কমিশন, 
• স্থানীয় সরকার।

♦ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
• রাজনৈতিক দল,
• বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, 
• এনজিও ও সুশীলসমাজ, 
• পরিবার, 
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
• গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১,১৪৩.
আইনের সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. ন্যায়বিচার
  3. ধর্ম
  4. বিচারকের রায়
ব্যাখ্যা

আইন ও প্রথা:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে, সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রথা বা রীতিনীতি, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা হচ্ছে আইনের উৎসসমূহ।

উল্লেখ্য:
- আইনের একটি সুপ্রাচীন উৎস প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজে অধিকাংশ জনগণ কর্তৃক সমর্থিত, স্বীকৃত ও পালিত হয়ে আসছে, তাকে প্রথা বলে।
- প্রাচীনকালে কোনো আইনের অস্তিত্ব ছিল না। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে প্রথার মাধ্যমে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ হতো।
- রাষ্ট্র সৃষ্টির পর যেসব প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে সেগুলো আইনে পরিণত হয়।
- যুক্তরাজ্যের অনেক আইন প্রথার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৪৪.
চলাফেরার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. সাংস্কৃতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- চলাফেরার অধিকার, ধর্ম চর্চার অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো সামাজিক অধিকার।
- এসব অধিকার আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
১,১৪৫.
UNDP-এর মতে সুশাসন কী নির্দেশ করে?
  1. কেবল রাজনৈতিক কর্তৃত্ব
  2. সামরিক শাসন
  3. দলীয় শাসন
  4. অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চা
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- এটি একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চাকে নির্দেশ করে, যেখানে অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের মতো উপাদান গুরুত্ব পায়।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং UNDP ওয়েবসাইট।

১,১৪৬.
নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে কোন শাস্ত্র?
  1. নীতিশাস্ত্র
  2. ন্যায়শাস্ত্র
  3. পৌরনীতি ও সুশাসন
  4. অর্থশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক:
- পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্র নাগরিকের নৈতিকতা সম্বন্ধীয় বিষয়াবলি আলোচনা করে থাকে।
- উভয় শাস্ত্রের উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- সেক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৭.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. দুর্বল সংসদ
  2. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  3. দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব: 
- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল: প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল সংসদ, অনুন্নত রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না।
- আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (দ্বিতীয় বর্ষ), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৮.
সুশাসন কত ধরণের ধারণা নির্মাণ করে?
  1. ২ ধরণের
  2. ৩ ধরণের
  3. ৪ ধরণের
  4. ৬ ধরণের
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা: 
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।
- সুশাসন প্রত্যয়টিকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে শাসন বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন।
- শাসন বলতে বুঝায় ক্ষমতাকে কিভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিভাবে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাড়া প্রদান করা হয় কিংবা কিভাবে একটি জনসমষ্টি শাসিত ও পরিচালিত হয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। 
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৪৯.
সুশাসন এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে _________ সম্পর্ক বিদ্যমান।
  1. বৈরী
  2. সৌহার্দ্যের
  3. আস্থার
  4. অনুকূল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১৫০.
আইনগত সাম্যের মূল কথা হচ্ছে -
  1. যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন
  2. আইনের চোখে সকলেই সমান
  3. সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকা
  4. সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫১.
UNDP-এর মতে সুশাসনের মোট কয়টি উপাদান রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১,১৫২.
সুশাসনের প্রতিষ্ঠায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. এককেন্দ্রিক শাসন
  2. জন অংশগ্রহণ
  3. প্রশাসনের স্বচ্ছতা
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ নয় - এককেন্দ্রিক শাসন।

সুশাসনের ধারণা:

- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

সুশাসনের পূর্বশর্ত:

• সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৫৩.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
  1. যােগাযােগ বৃদ্ধি পায়
  2. প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
  3. দুর্নীতি দূর হয়
  4. বিনিয়ােগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,১৫৪.
Nihilism অর্থ কী?
  1. ক) শূন্যবাদ
  2. খ) মধ্যমপন্থা
  3. গ) উত্তম আচরণ
  4. ঘ) চরমপন্থা
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,১৫৫.
প্রত্যেক রাষ্ট্রই পরিচিত হয় তার প্রদত্ত অধিকার দ্বারা - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক গেটেল
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি এর মতে "প্রত্যেক রাষ্ট্রই পরিচিত হয় তার প্রদত্ত অধিকার দ্বারা"।

অন্যদিকে,
- টমাস হবস এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- জন অস্টিন বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।
- অধ্যাপক গেটেল  বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।"
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৫৬.
'সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়' - কোন সংস্থার অভিমত?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এডিবি
  3. জাতিসংঘ
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৫৭.
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি করে -
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. ইউএনডিপি
  3. জাতিসংঘ
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এই অভিমত প্রকাশ করে - বিশ্বব্যাংক।
→ “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি করে → UNDP.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৫৮.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের win win game বলা হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো:মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

১,১৫৯.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. অভিলক্ষ
  2. প্রতিপাদ্য
  3. রূপকল্প
  4. স্লোগান
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১,১৬০.
সাধারণত কয়টি পর্যায়ে ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সাধারনত তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে এই ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়-(১) সরকার ও সেবা গ্রহীতা (ব্যক্তি) (২) সরকার ও ব্যবসা-বাণিজ্য (৩) সরকার থেকে সরকার।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যই হল সরকারি সেবা ও শাসনব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা।
- ই- গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে সাধারণ নাগরিক।
- এটি চার ধরনের কাজ করে যার কেন্দ্রে থাকে নাগরিক সেবা।
- একাজগুলো হচ্ছে ব্যক্তিকে অবগতকরণ, ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বকরণ, ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৬১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ হলো -
  1. গণতন্ত্র
  2. আইনের শাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো: গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৬২.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৬৩.
নৈতিকতা সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
  2. নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
  3. নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  4. নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উল্লিখিত প্রশ্নে নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কথাটি সঠিক নয়। কারণ আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে নৈতিকতা নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৬৪.
সুশাসন দ্বারা শাসনের কোন দিকটি বুঝায়?
  1. বিপরীত দিক
  2. পরিমানগত দিক
  3. গুণগত দিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

- সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

সুশাসন:
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৫.
গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. দলীয়করণ করা 
  2. জন সচেতনা
  3. ক্ষমতার ভারসাম্য
  4. কার্যকর সংসদ
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৬৬.
গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ হচ্ছে -
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. সহনশীলতা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা

সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজানা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৬৭.
সুশাসনের অভাবে নিম্নের কোনটি পরিলক্ষিত হয়?
  1. দুর্নীতি হ্রাস পায়
  2. সামাজিক সন্তোষ বৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  4. সার্বিক উন্নয়ন ঘটে
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

 অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
• সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক অব্যবহার হয় না।

• সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার বা তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৮.
সুশাসনের অন্তর্নিহিত শক্তি কী? 
  1. আইন
  2. নৈতিকতা
  3. প্রশাসন
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন: 
- সুশাসনের লক্ষ্য: জনকল্যাণ, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের অন্তর্নিহিত শক্তি: নৈতিকতা,
- সুশাসনের মূলভিত্তি: আইনের শাসন,
- সুশাসনের চালিকাশক্তি: স্বচ্ছতা,
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি: জবাবদিহিতা,
- সুশাসনের মানদণ্ড: জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি,
- সুশাসনের অন্তরায়: দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৯.
IDA আইডির মতে নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) ভবিষ্যৎবাণী
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন
ব্যাখ্যা
IDA সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন। যথাঃ জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, ভবিষ্যৎবাণী, স্বচ্ছতা। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৭০.
European Economic Community প্রকাশ করে -
  1. Blue paper
  2. White paper
  3. Black paper
  4. Red paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট। 
১,১৭১.
ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২২ অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) ৭২তম
  2. খ) ৯১তম
  3. গ) ১১১তম
  4. ঘ) ১১৯তম
ব্যাখ্যা
United Nation Department of Economic & Social Affairs (UNDESA) প্রকাশিত UN E-Government Development Survey-2022 অনুসারে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১তম। এলডিসি দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে।
- রিপোর্ট অনুসারে শীর্ষদেশ ডেনমার্ক, দ্বিতীয় ফিনল্যান্ড এবং সর্বনিম্ন (১৯৩তম) দেশ দক্ষিণ সুদান।

(তথ্যসূত্র: UNDESA ওয়েবসাইট)
১,১৭২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়-
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
  3. রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করা
  4. ক্ষমতা পুঞ্জিভূত করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়:
- আইন মান্য করা।
- আনুগত্য প্রদর্শন।
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৭৩.
সুশাসনের ধারণা কী ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. দ্বিমাত্রিক
  2. একমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৭৪.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কোনটি?
  1. গণতান্ত্রিক সরকার
  2. মূল্যবোধ
  3. জবাবদিহিতা
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো জবাবদিহিতা।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১৭৫.
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো-
  1. ক) আইন মেনে চলা
  2. খ) নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. গ) আনুগত্য প্রদর্শন
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় সম্পদের সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
- কর্তব্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের পালনীয় কতগুলো দায়িত্ব।
অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এর মতে,
- “কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গণ কল্যাণের জন্যে কোন কিছু করা বা না করার অধিকারকে বুঝায়।”
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো আনুগত্য প্রদর্শন।
অন্যান্য কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মান্য করা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
- রাষ্ট্রের সেবা করা
- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় না করা
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১,১৭৬.
আইন নিষ্প্রয়োজন হয় যখন -
  1. শাসক চরিত্রহীন হন
  2. শাসক স্বৈরাচারী হন
  3. শাসক ন্যায়বান হন
  4. শাসক না থাকেন
ব্যাখ্যা

আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৭.
‘Good Governance is the manner in which power is exercised in the management of a country’s economic and social resources for development’ - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) ডি. কউফম্যান
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান
ব্যাখ্যা
“সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।” - বিশ্বব্যাংক।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
১,১৭৮.
দুর্নীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Corruption-এর উৎপত্তি ল্যাটিন কোন শব্দ থেকে?
  1. Corruptus
  2. Corrigo
  3. Curatio
  4. Conducere
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও দুর্নীতি:
- দুর্নীতি (Corruption) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ Corruptus থেকে।
- এটি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনের জন্য বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত ক্ষমতার অপব্যবহারকে বোঝায়।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission, ACC) গঠন করা হয়। 
- এই কমিশন দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (United Nations Convention Against Corruption, UNCAC) এর মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতিমালা প্রচলিত হয়েছে।

- বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন-এর একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, “ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।”
- সুশাসনের জন্য দুর্নীতি দমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ দুর্নীতি শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা হ্রাস করে।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১,১৭৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের চতুর্থ স্তম্ভ কোনটি?
  1. আইনি কাঠামো
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৮০.
সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় -
  1. জাতিসংঘ
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. কমনওয়েলথ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৮১.
বিশ্বব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্ট সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. জিম ইয়ং কিম
  3. লুইস টি. প্রেস্টন
  4. জর্জ উডস
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৮২.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) নিয়ন্ত্রণ গুণ
  2. খ) জনঅংশগ্রহণ
  3. গ) স্বচ্ছতা 
  4. ঘ) জবাবদিহিতা 
ব্যাখ্যা
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:- 
১। Accountability - জবাবদিহিতা 
২। Transparency - স্বচ্ছতা 
৩। Combating Corruption - দুর্নীতি দমন 
৪। Stakeholder Participation - জনঅংশগ্রহণ 
৫। Legal  and Judicial  Framework - আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ। 

বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি। যথা-
- বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- নিয়ন্ত্রণ গুণ,
- আইনের শাসন,
- দুর্নীতি দমন

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট। 
১,১৮৩.
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC)সুশাসনের কতটি  উপাদান চিহ্নিত করেছে? 
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল বা (UNHRC) সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো:-
- স্বচ্ছতা
- দায়বদ্ধতা
- জবাবদিহিতা
- অংশগ্রহণ এবং
- সংবেদনশীলতা।

উৎস: UNHRC ওয়েবসাইট।

১,১৮৪.
কোনটি সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ
  3. গ) কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা কাঠামো
  4. ঘ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত)]
১,১৮৫.
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৮৬.
'Organization for Economic Cooperation and Development' (OECD) মতে সুশাসনের নির্দেশক গুলো হল -
  1. নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা
  2. সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা
  3. মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- সুশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে যার মাধ্যমে কোনও দেশের শাসনের অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

⇒ বিভিন্ন তাত্ত্বিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্নভাবে সুশাসনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি অপরিহার্য?
  1. মূল্যবোধের চর্চা
  2. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
  3. রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তির সাথে মিল রাখা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন কখনোই সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না।
- মূল্যবোধগুলি এমন নীতি ও আদর্শ যা একটি সমাজের সদস্যদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং এটি শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন মৌলিক মূল্যবোধগুলি কার্যকরভাবে অনুসৃত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৮.
নিচের কোন সংস্থার মতে ‘আইনি কাঠামো’ সুশাসনের একটি স্তম্ভ?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্ব ব্যাংক
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা

⇒ World Bank- এর মতে, ‘আইনি কাঠামো’ সুশাসনের একটি স্তম্ভ।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো,ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৮৯.
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  2. নাগরিকের কল্যাণ সাধন
  3. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯০.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় কবে?
  1. ২০০৭ সালের ১ জুন
  2. ২০০৭ সালের ১ আগস্ট
  3. ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
  4. ২০০৭ সালের ১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রীকরণ: 
- প্রাচীনকালে রাজা বা রাজকর্মচারীরাই আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচারকার্য সম্পাদন করতেন।
- আগে শাসনকার্য ও বিচারকার্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হত না। এ ব্যবস্থা স্বৈরাচারের সুযোগ করে দেয়।
- হ্যারল্ড লাস্কির মতানুসারে শাসকের হাতে বিচারের ভার ন্যস্ত থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।
- এ রকম ক্ষেত্রে শাসন বিভাগ সহজেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯১.
প্লেটো বলেছেন 'শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন ______।
  1. প্রয়োজনীয়
  2. অপ্রয়োজনীয়
  3. নিরর্থক
  4. সহজ
ব্যাখ্যা

প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

১,১৯২.
কোন সংস্থা দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. ক) ইউএনডিপি
  2. খ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ১৯৯৬ সাল থেকে সুশাসনের উপর গুরুত্ব প্রদান করে আসছে। সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
১,১৯৩.
গনতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. জন সচেতনা
  2. দলীয়করণ
  3. ক্ষমতার ভারসাম্য
  4. বিরোধী দলকে দমন
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা:
- জনগনের সচেতনতাই গনতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য,
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।
- বিরোধী দলকে দমন করে গনতন্ত্র সফল হয় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৯৪.
'Governance for sustainable human development' শীর্ষক কৌশলপত্রে কোন সংস্থা সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে ?
  1. World Bank
  2. UNDP
  3. IMF
  4. ADB
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,১৯৫.
নিম্নের কোনটি সুশীল সমাজের দায়িত্ব?
  1. প্রশাসনিক নিয়োগ
  2. নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা
  3. নীতি নির্ধারণ
  4. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উল্লেখ্য,
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica. 

১,১৯৬.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে -
  1. সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়
  2. আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস পায়
  3. প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
  4. প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।
১,১৯৭.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে -
  1. অর্থনেতিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ,  সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

• সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৯৮.
সুশাসনের ধারণায় ‘Win Win Game’-এর অর্থ কী?
  1. শুধুমাত্র সরকার সর্বদা জয়ী
  2. শুধুমাত্র জনগণ সর্বদা জয়ী
  3. সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ধারণায় 'Win-Win Game' বলতে এমন একটি পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে সরকার ও জনগণ, উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এমনভাবে লাভবান হয় যে কারোরই কোনো ক্ষতি হয় না।
- অর্থাৎ, সবাই বিজয়ী হয়, যা একটি ইতিবাচক ও পারস্পরিক উপকারী ফলাফল

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

১,১৯৯.
সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করে- 
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউএনডিপি
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উল্লেখ্য, 
• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২০০.
'স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই'- উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. উইড্রো উইলসন
  3. লর্ড অ্যাকটন
  4. আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা

→ 'স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই'- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার ।

→ সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।