বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা ১১ / ১৪ · ১,০০১১,১০০ / ১,৩২৩

১,০০১.
রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য কোনটি দরকার?
  1. শিক্ষিত জনশক্তি
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. সুশাসন
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

সুশাসনের ধারণা:

- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, 
- 'গভর্নেন্স' বা 'শাসন ব্যবস্থা'-এর সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' (Good Governance) শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। তবে সুশাসনকে একক কোনো ধারণার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বা ব্যাখ্যা করা যায় না। কেননা 'সুশাসন' ধারণাটি হলো বহুমাত্রিক। বিভিন্ন তাত্ত্বিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থা 'সুশাসন' ধারণাটির (Concept) সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন'।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০০২.
বাংলাদেশে যৌতুক নিষিদ্ধ করার আইন পাস হয়-
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯৬ সালে
  3. গ) ১৯৮৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে যৌতুক নিষিদ্ধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে (অনধিক ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে)।
- যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ২০১৮ সালে।
- এই আইনের ধারা ১১টি।
- যৌতুকের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ১ বছরের কারাদণ্ড।

১,০০৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. আইন তৈরি করা
  2. নিজের অধিকার ভোগ করা
  3. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকেরা বিভিন্ন অধিকার উপভোগ করে, কিন্তু একই সাথে তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- অধিকার ভোগের সাথে সাথে নাগরিকেরা এসব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য।
- একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভে নাগরিকদের কর্তব্যপরায়ণতা অপরিহার্য।
- কর্তব্যবিমুখ একটি জাতি কখনোই উন্নতি অর্জন করতে বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন;
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন;
→ আইন মান্য করা;
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন;
→ নিয়মিত কর প্রদান;
→ রাষ্ট্রের সেবা করা;
→ সন্তানদের শিক্ষাদান;
→ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০০৪.
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সুশাসনের মূলসূত্র হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. সহনশীলতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. শৃঙ্খলা
  4. সাম্য
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জবাবদিহিতা:
- 'জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ' সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
- জবাবদিহিতা সুশাসনের মূলসূত্র, কারণ এটি সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হয় এবং জনগণের কাছে তাদের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়।
- জনগণ জানতে পারে যে সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের উদ্দেশ্য এবং ফলাফল কী।
- জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি এবং অপব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে।
- এটি সুশাসনের অন্যান্য উপাদানগুলোর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০০৫.
নিচের কোনটি 'SMART Bangladesh' এর উপাদান?
  1. Smart Democracy
  2. Smart Politics
  3. Smart Society
  4. Smart Parliament
ব্যাখ্যা
◉ উল্লিখিত অপশনে 'Smart Society' হচ্ছে 'SMART Bangladesh' এর উপাদান।

• স্মার্ট বাংলাদেশ:
- ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বলতে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সরকার গড়ে তোলাকে বুঝানো হয়েছে। যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তর, সরকারি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নে দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করা হবে।
- স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভিত্তি - ৪ টি।
- স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে ২০৪১ সালের মধ্যে।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার চারটি ভিত্তি হলো –
১. স্মার্ট সিটিজেন, 
২. স্মার্ট ইকোনোমি, 
৩. স্মার্টগভর্নমেন্ট, 
৪. স্মার্ট সোসাইটি।

সূত্র: এটুআই প্রোগ্রাম, মন্ত্রিপরিষদ ও আইসিটি বিভাগ।
১,০০৬.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচেনা করা হয় কোনটি? 
  1. বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজনৈতিক দল
  3. গণমাধ্যম
  4. আইন
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
-গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা  গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০০৭.
কোন দশক থেকে সুশাসন ধারণাটি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে?
  1. ১৯৬০
  2. ১৯৭০
  3. ১৯৮০
  4. ১৯৯০
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- ১৯৯০-এর দশক থেকেই শাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাপী নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
- বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের পথে বাঁধা হিসেবে সুশাসনের অভাবকে চিহ্নিত করে।
- শাসনের গুনগত মান যে সব সময় একরকম হবে, তা নয়। সে কারণে প্রাচীন গ্রীসে আজ থেকে ২৬০০ বছর আগে দার্শনিক প্লেটো আদর্শ শাসকের কথা বলেছেন।
- তিনি বলেছেন, আদর্শ শাসক হবেন একজন দার্শনিক রাজা, যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না। কারণ, এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগণকে যে ধরনের ওয়াদা করেন, সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না। তিনি ব্যক্তিগত লোভে আসক্ত হয়ে পড়বেন।
- প্লেটোর পর থেকে আধুনিক যুগের দার্শনিকগণও উত্তম শাসনের বিষয়ে ভেবেছেন।
- জন লকের ভাষায়, উত্তম রাষ্ট্র হবে সেই রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেয়।
- কার্ল মার্কস মনে করেন শ্রমজীবী মানুষের সরকারই উত্তম সরকার। বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শাসন পরিচালনার নামই সুশাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সুশাসনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. রাজনৈতিক উন্নয়ন
  3. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
  4. সামাজিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- রাজনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।
- একটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি আন্তরিক না হন, তাহলে সে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হয় না।
- সুশাসনের সাফল্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিকতা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি মেনে চলার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে।
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তথা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নে তাদের নিজেদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৯.
আত্মসংসম ব্যক্তির কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে?
  1. ক) নৈতিক ভাবাবেগে
  2. খ) বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলনে
  3. গ) নৈতিক অবদমনে
  4. ঘ) নৈতিক প্রগতিতে
ব্যাখ্যা
- আত্মসংযম ব্যক্তির নৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কোন ব্যক্তি যদি আত্মসংযমের মাধ্যমে ষড়রিপুকে দমন করতে না পারে, তাহলে তার নৈতিক প্রগতি ব্যাহত হয়। 
- তাই নৈতিক প্রগতির জন্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সংযমী হতে হবে।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন -১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০১০.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কীরুপ সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) নিবিড়
  2. খ) বিপরীত
  3. গ) ধারাবাহিক
  4. ঘ) প্রান্তিক
ব্যাখ্যা
▪ মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
▪ সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।  
▪ সুশাসন পেতে হলে মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
▪ এজন্যই বলা হয় যে, ব্যক্তিগত, সমাজজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক খুবই নিবিড়।    

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০১১.
সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল-
  1. ক) সরকারি আইন
  2. খ) প্রশাসনিক আইন
  3. গ) বেসরকারি আইন
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক আইন
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইন মানব সমাজের দর্পণস্বরূপ।
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়ঃ (১) সরকারি আইন (২) বেসরকারি আইন (৩) আন্তর্জাতিক আইন

• সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে। 

• বেসরকারি আইন:
- এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।

• আন্তর্জাতিক আইন:

- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১২.
সততা ও ন্যায়পরায়ণতা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) আধ্যাত্নিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ (Social Value) বলতে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংস্থা ইত্যাদির সমষ্টিকে বোঝায়, যা পরোক্ষভাবে মানুষের আচার-আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য

 বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন,ছোটদের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদিই সামাজিক মূল্যবোধগুলোর বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৩.
সুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োগ কেমন হওয়া উচিত?
  1. সবার জন্য সমান
  2. ধনী-গরিব ভেদে আলাদা
  3. কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য
  4. কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
-
সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের সেবা করে, আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং দুর্নীতির কোনো স্থান থাকে না।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও সুশাসন:

- "সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে" -এই উক্তিটি মূলত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP)।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী  মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১,০১৪.
‘দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক’-কার অভিমত?
  1. ক) আইএমএফের
  2. খ) জাতিসংঘের
  3. গ) ম্যাককরনির
  4. ঘ) মিশেল ক্যামডেসাসের
ব্যাখ্যা
আইএমএফের মতে, ‘দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক’। জাতিসংঘের ভাষায়, ‘সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন’। ম্যাককরনির মতে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীলসমাজের, সরকারের সাথে জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়’। UNDP এর মতে,'সুশাসন সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।' অন্যদিকে,জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের মতে,''Good governence is perhaps the single most important factor in eradicating proverty and promoting development।'' আইনের শাসন, মানবাধিকার সংরক্ষণ, শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, সব ক্ষেত্রে সমতা, সবার প্রতি ন্যায়পরায়ণতা, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয় শুদ্ধাচার সুশাসনের চালিকাশক্তি। সূত্র- নয়াদিগন্ত ও দৈনিক জনতা পত্রিকা।
১,০১৫.
সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রগুলোর কী নিশ্চিত করতে হবে?
  1. বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরতা
  2. সংবিধান পরিবর্তন
  3. শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন
  4. শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র ও সুশাসন:
- আধুনিক বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ কল্যাণমুখী হতে চায়, যেখানে জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে তৎপর থাকতে হয়।
- তবে, অনেক রাষ্ট্রে এটি কেবল কাগজে-কলমেই প্রতীয়মান, বাস্তবে তা সঠিকভাবে কার্যকর হয় না।

⇒ সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য, রাষ্ট্রগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে:
• শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক।
• স্বাধীন বিচার বিভাগ।
• আইনের শাসন।
• নীতির গণতন্ত্রায়ণ।
• মানবাধিকারের নিশ্চয়তা।
• পছন্দ ও মতামত প্রদানের স্বাধীনতা।
• স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,০১৬.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড হিসেবে কোনটি বিবেচিত?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. আইনের শাসন
  3. সামরিক শক্তি
  4. রাজনৈতিক কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

১,০১৭.
জাতিসংঘের কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. UNICEF
  2. UNESCO
  3. UNHCR
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
• UNDP:
- UNDP এর মতে” একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (UNDP) ১৯৯৭ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেন।

এছাড়াও,
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো হলো- সমতা ও ন্যায্যতা, সমঅংশীদারিত্ব, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য, কার্যকারিতা ও দক্ষতা এবং কৌশলগত লক্ষ।

উৎস: ইউএনডিপির ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০১৮.
"Sociology is the science of society or of social phenomena.”— উক্তিটি করেছেন কে?
  1. এল এফ ওয়ার্ড
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নাগরিকের আচার-আচরণ, রীতি- নীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্রের শাসন প্রণালীসহ নাগরিকের সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
- তাই পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজবিজ্ঞানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান ।
- সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে এল এফ ওয়ার্ড (L.F. Ward) বলেন, "Sociology is the science of society or of social phenomena.”

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।
-  এরিস্টটলের বিখ্যাত উক্তিগুলো হচ্ছে-
- “মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব”।
 “ইতিহাস হচ্ছে অভিজাত শ্রেণীর সমাধিক্ষেত্র”।
- “আইন হলো পক্ষপাতহীন যুক্তি”।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা  এসএসসি প্রোগ্রাম, ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৯.
সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় কোনটি?
  1. সংসদী সরকার ব্যবস্থা
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. দুর্বল সেনাবাহিনী
  4. এককেন্দ্রিক সরকার
ব্যাখ্যা
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০২০.
“‘Comparative Politics and Government” - গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) হ্যারেল্ড লাসওয়েল
  3. গ) আর্নেস্ট বার্কার
  4. ঘ) অ্যালন বল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর ''Comparative Politics and Government'' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process.” রাজনৈতিক দলের কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংহতি ও স্থায়িত্ব সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১,০২১.
সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী? 
  1. Governance
  2. Good  Administration
  3. Good Ethics
  4. Good Governance
ব্যাখ্যা

সৃুশাসন: 
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Good Governance.
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে Kubernao নামক গ্রিক শব্দ থেকে,
- যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়,
- যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২২.
প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. উন্নয়ন
  2. সুশাসন
  3. আইন প্রণয়ন
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৩.
২০২৫ সালে জাতিসংঘ মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কত? 
  1. ১৩০ তম
  2. ১৩৫ তম
  3. ১২৫ তম
  4. ১২৭ তম
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- সর্বশেষ মে, ২০২৫-এ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) 'Human Development Report 2025' প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে মানব উন্নয়ন সূচকে শীর্ষ দেশ: আইসল্যান্ড, সর্বনিম্নে রয়েছে সিয়েরা লিওন।
- বাংলাদেশের অবস্থান: ১৩০তম।

• মানব উন্নয়ন সূচকে শীর্ষ দেশগুলো:
১. আইসল্যান্ড,
২. নরওয়ে,
৩. সুইজারল্যান্ড,
৪. ডেনমার্ক,
৫. জার্মানি।

উৎস: Human Development Report 2025.

১,০২৪.
UNDP-এর সুশাসন ফ্রেমওয়ার্কে কোন নীতি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সমতা
  3. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

UNDP-এর সুশাসন ফ্রেমওয়ার্কে যে নীতি অন্তর্ভুক্ত নয়- দায়িত্বশীল প্রশাসন।

UNDP ও সুশাসন:

- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

⇒ UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১,০২৫.
সুশাসনের অভাবে কোন বিষয়টি বৃদ্ধি পায়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. সামাজিক অসন্তোষ
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৬.
সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  2. কর্মের অধিকার
  3. স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  4. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
================
অন্যদিকে - 
- কর্মের অধিকার হচ্ছে - অর্থনৈতিক অধিকার।
- স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার এবং সরকারি চাকরি লাভের অধিকার হচ্ছে - রাজনৈতিক অধিকার। 

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০২৭.
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনটি প্রতিহত করা যায়?
  1. আইনের শাসনের অপব্যবহার
  2. স্বেচ্ছাচারিতা
  3. দুর্নীতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য,
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০২৮.
নিম্নের কোন ঘোষণা সুশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. London Plan of Implementation
  2. Paris Plan of Implementation
  3. Cape town Plan of Implementation
  4. Johannesburg Plan of Implementation
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন।
- মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।

তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
১,০২৯.
সভ্য সমাজকে বিচার করার প্রধান মানদণ্ড কোনটি?
  1. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  2. আইনের শাসন
  3. প্রযুক্তিগত উন্নতি
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইন:
- সুশাসনের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন যা সভ্য সমাজকে বিচার করার প্রধান মানদন্ড। 
- আইনের শাসনের অর্থ আইনের চোখে সকলে সমান, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৩০.
জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-
  1. ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ম্যল্যবোধের শিক্ষা এবং সুশাসিন প্রতিষ্ঠিত হলে তা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ এর ফলে সবাই পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার শিক্ষা লাভ করে।
১,০৩১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. জনঅংশগ্রহণের অভাব
  3. দারিদ্র্য
  4. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
→ বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
→ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা, 
→ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা, 
→ আইনের শাসনের অভাব,
→ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
→ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
→ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
→ স্বজনপ্রীতি,
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
→ জনঅংশগ্রহণের অভাব,
→ দারিদ্র্য,
→ জনসচেতনতার অভাব,
→ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব।
- অপরদিকে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৩২.
বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয় -
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. সহনশীলতা
  3. আইনি কাঠামো
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৩৩.
বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন কেন?
  1. নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. সুশাসনের জন্য
  3. আইন প্রণয়ন সহজ করা
  4. প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: 
- সুশাসনের জন্য বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ পুরো কার্যকর হয়নি। 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ: 
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের এই ধারণা প্রাচীনকালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকটও পরিচিত ছিল।
- এরিস্টটল, পলিবিয়াস, সিসেরো প্রমুখ চিন্তাবিদগণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
- মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগেও এই মতবাদের সমর্থন মিলে। মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এবং আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিকগণও এই মতবাদ সমর্থন করেন।
- রাষ্ট্র বিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্ট নীতি হিসেবে স্বতন্ত্রীকরণকে সমর্থন করেন।
- কিন্তু পরিপূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বাস্তবে দেখা যায় না। এটি কাম্যও নয়।
- তাই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের সাথে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ ও ভারসাম্যের নীতির কাম্যতা অনেকেই স্বীকার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৪.
কে E-Governance-কে ‘স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা’ বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  2. ইএম হোয়াইট
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. এফআই গ্লাউড
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৩৫.
বর্তমানে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সকারকে 'দলীয় সরকার' বলা হয় কেন?
  1. নির্বাচন হয় দলীয় ভিত্তিতে
  2. নির্বাচন হয় জনমতের ভিত্তিতে
  3. নির্বাচন হয় মতের ভিত্তিতে
  4. নির্বাচন হয় জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
• আধুনিক গণতন্ত্র:
→ আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
→ বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে। বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই ‘দলীয় সরকার' বলা হয়।
→ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
→ রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৩৬.
'আমলাতন্ত্র' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Oligarchy
  2. Bureaucracy
  3. Monarchy
  4. Autocracy
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy, যা ফরাসি শব্দ Bureau (Desk বা টেবিল) এবং গ্রিকশব্দ Kratein (শাসন) থেকে উদ্ভূত।
- আমলাতন্ত্র হল একটি সংস্থা, যা সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আমলাতন্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- টাস্ক স্পেশালাইজেশন,
- নিয়ম এবং প্রয়োজনীয়তা,
- অনুক্রমিক কর্তৃপক্ষ,
- কর্মজীবন অভিযোজন।

উল্লেখ্য:
- Autocracy অর্থ: একনায়কত্ব, যেখানে এক ব্যক্তি সমস্ত শাসনক্ষমতা ধারণ করে এবং অন্যান্যদের কোনো প্রভাব থাকে না।
- Monarchy অর্থ: রাজতন্ত্র, যেখানে শাসনক্ষমতা এক ব্যক্তি, সাধারণত রাজা বা রানী, বা রাজবংশের মাধ্যমে চলে।
- Oligarchy: যেখানে কিছু বিশেষ বা অভিজাত শ্রেণীর লোকদের হাতে শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, লাইভএমসিকিউ লেকচার।
১,০৩৭.
'Power Elite' নামক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সি, ডব্লিউ মিলস
  2. খ) টমাস হবস
  3. গ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ঘ) মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• সি, ডব্লিউ মিলস তাঁর 'Power Elite' গ্রন্থে বলেন, যারা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণ করে তারাই এলিট।
• এটা অবধারিত যে, কিছুসংখ্যক লোকের দ্বারা অধিকাংশ লোক শাসিত হয়। উল্লেখ্য যে, উন্নত সমাজে রাজনৈতিক এলিটরা ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
• উন্নয়ণশীল দেশে সামরিক ও বেসামরিক আমলারা ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ক্ষমতা এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীর হাতে হস্তান্তরিত হয়। এটিই ইতিহাসের নিয়ম।

অন্যদিকে, 
• সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত ‘The Leviathan’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
• বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
• 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১,০৩৮.
সুশাসনের ধারণা প্রথম উপস্থাপন করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৩৯.
সুশাসনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো-
  1. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  4. প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আবশ্যক। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন, সুশীল সমাজ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতা কিংবা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা আবশ্যক নয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০৪০.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কী?
  1. গণতন্ত্র
  2. জবাবদিহিতা
  3. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  4. নাগরিক ক্ষমতায়ণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের চাবিকাঠি:
- সুশাসন বলতে বোঝায় একটি কার্যকর, স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা "মূল চাবিকাঠি"।
- এটি নিশ্চিত করে -
⇒ শাসক ও সরকারি কর্মচারীরা তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ,
⇒ কেউ আইন ও দায়িত্বের ঊর্ধ্বে নয়,
⇒ স্বচ্ছতা বজায় থাকে,
⇒ দুর্নীতি কমে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতন্ত্র, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ - এসবই সুশাসনের অংশ, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া সুশাসন টেকসই হয় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৪১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর হয়:
- দায়িত্বশীলতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ।
- গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৪২.
পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের কয়টি দিকের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি 
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা, যা আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন: 
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ব্যক্তিগত কল্যাণ সাধন
  2. সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
  3. সামাজিক কল্যাণ সাধান
  4. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ ও তা বাস্তবায়ন ।
- মিডিয়া ও প্রচার মাধ্যমের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের অবসান।
- জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতার নীতি প্রতিষ্ঠা ।
- স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা।
- সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি।
- দুর্নীতি প্রতিরোদ।
- সুযোগ নেতৃত্ব।
- সার্বভৌম ও কার্যকর আইনসভা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৪৪.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে কী দেখা দেয়?
  1. নৈতিকতার বিকাশ
  2. ন্যায়বিচার বৃদ্ধি
  3. স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন
  4. বৈষম্য ও অবিচার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যেখানে সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা বিদ্যমান, সেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। 
- কিন্তু এগুলোর অভাব থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয়।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- যখন নৈতিক শিক্ষা ও সুশাসন কার্যকর থাকে না, তখন সমাজে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচার বৃদ্ধি পায়।

যেমন-
: মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে মানুষ সৎ ও ন্যায়পরায়ণ থাকার পরিবর্তে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।
: সুশাসনের অভাবে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দেখা দেয়, যা সমাজের একটি বড় অংশকে অবহেলিত করে রাখে।
: নৈতিক মূল্যবোধ না থাকলে আইন ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়, ফলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,০৪৫.
নাগরিকদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে কী বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. রাষ্ট্রের উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ:
- বেশিরভাগ রাষ্ট্রে, বিশেষ করে অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও সদ্য স্বাধীন দেশগুলোতে তত্ত্বগতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনগণের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়ে থাকে।
- জনগণ তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে না।
- সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করে।
- ফলে জনগণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হতে পারে না।
- মুক্ত চিন্তা ও বিতর্ককে সরকার প্রায়শই হুমকি হিসেবে দেখে এবং তাই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।
- এই পরিস্থিতির ফলে সুশাসন ব্যাহত হয় এবং গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

অর্থাৎ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৪৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ কোনটি? 
  1. মূল্যবোধ
  2. গণতন্ত্র
  3. সচ্ছতা 
  4. মানসিক জাগরণ
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
 
• সুশাসনের ধারণা:
- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

গণতন্ত্র:
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৪৭.
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করে-
  1. সুশীলসমাজ
  2. মূল্যবোধ
  3. স্বাধীন গণমাধ্যম
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করে।
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম সূচক সুশাসন।
বহির্বিশ্বে একটি দেশের ভাব মূর্তির মানদণ্ড নির্ধারিত সে দেশের শাসন ব্যবস্থা দ্বারা।
সুশাসনের প্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি বিনিয়োগ।
১,০৪৮.
সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে কী প্রতিষ্ঠা করা যায়?
  1. ক্ষমতা
  2. শৃঙ্খলা
  3. বৈষম্য
  4. কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:

- জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসনের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়।
- উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সুশাসন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- সুশাসনের প্রভাবেই নাগরিক সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটদান ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় উন্নতির বুনিয়াদ হিসেবে কাজ করে।
- জাতীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারে যা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সৃষ্টি করে।
- ফলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৪৯.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত কী?
  1. প্রাকৃতিক সম্পদ
  2. বহিরাগত বিনিয়োগ
  3. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫০.
সুশাসনের উপাদনের সাথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন কোন সংস্থা?
  1. ক) ইউএনডিপি
  2. খ) ইউনেস্কো
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) আইডিএ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।

• সুশাসনের উপাদান:
• বিশ্বব্যাংক: ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
• ইউনেস্কো: সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫১.
'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে -
  1. ক) আইনগত সাম্যের মূল কথা
  2. খ) রাজনৈতিক সাম্যের মূল কথা
  3. গ) সামাজিক সাম্যের মূল কথা
  4. ঘ) নাগরিক সাম্যের মূল কথা
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা
- সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৫২.
‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল’- এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বব্যাংক এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫৩.
১৯৯৪ সালের বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের কোন উপাদানের উল্লেখ নেই?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) জবাদিহিতা
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে। ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা। ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য। আইডিএ (IDA) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত)]
১,০৫৪.
সুশাসন নিয়ে  “Governance and Development”  রিপোর্টটি প্রকাশ করে সংস্থা?
  1. UNDP
  2. ADB
  3. World Bank
  4. UNO
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন সংস্থার সুশাসনের ধারনা: 
• সংস্থা: World Bank: 
- ধারণা: ১৯৮৯ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা রিপোর্টে প্রথম উল্লেখ করে।
- ১৯৯২ সালে "Governance and Development" রিপোর্টে বিস্তারিত সংজ্ঞা ও উপাদান প্রদান করে।

• সংস্থা: UNDP: 
- ধারণা: ১৯৯০ সালে  মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রণয়ন করে।
-  সুশাসনের মূলনীতি প্রকাশ করে ("Governance for Sustainable Human Development" পলিসি ডকুমেন্ট ১৯৯৭-এ সুশাসনকে টেকসই মানব উন্নয়নের সাথে যুক্ত করে)।

• সংস্থা: ADB (Asian Development Bank)
- ১৯৯৫সালে এডিবি সুশাসনের ধারণা প্রদান ("Governance: Sound Development Management" পলিসি পেপারে সুশাসনকে সাউন্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, উপাদান: অ্যাকাউন্টেবিলিটি, পার্টিসিপেশন, প্রেডিক্টেবিলিটি, ট্রান্সপারেন্সি)।

• সংস্থা: IMF: 
- ১৯৯৬সুশাসনকে এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করে ("Good Governance: The IMF's Role" গাইডেন্সে সুশাসনকে ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতা ও দক্ষতার সাথে যুক্ত করে)।

• সংস্থা: UNO (United Nations Organization): 
-  ১৯৯৭জাতিসংঘ শাসক ও ক্রমবর্ধমান মানবিক উন্নয়ন শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে (UNDP-এর "Governance for Sustainable Human Development" পলিসি ডকুমেন্ট ও সম্পর্কিত রিপোর্টে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে)।

• সংস্থা: IDA (World Bank Group-এর অংশ): 
- ১৯৮৯ সালে আইডিএ সুশাসনের ধারণা প্রদান (World Bank-এর ১৯৮৯ রিপোর্টের সাথে যুক্ত, দরিদ্র দেশগুলোতে সুশাসনকে উন্নয়ন সহায়তার শর্ত হিসেবে গুরুত্ব দেয়)।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,০৫৫.
সুশাসনের জন্য কোনটি প্রয়োজন নয়?
  1. প্রশাসনের জবাবদিহিতা
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'

মোটকথা,
- প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৫৬.
Governance হল একটি -
  1. একমাত্রিক ধারণা
  2. দ্বিমাত্রিক ধারণা
  3. ত্রিমাত্রিক ধারণা
  4. বহুমাত্রিক ধারণা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৭.
মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? 
  1. ক) ১০ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১১ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১২ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ২৫ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।”

অন্যদিকে,
- ১০ নং অনুচ্ছেদ : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- ১২ নং অনুচ্ছেদ : ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ : আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান
১,০৫৮.
সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে কে?
  1. সচেতন ব্যক্তিরা
  2. অসচেতন ব্যক্তিরা
  3. পরমত সহিষ্ণু ব্যক্তি
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সচেতনাবোধ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য।
- মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে।
- ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
- কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সবসময় নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।
- ফলে এ ধরনের নাগরিকদের মাঝে সহজেই দেশ প্রেমের সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৯.
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি প্রথম কোন খ্রিষ্টাব্দে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে-
  1. ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

◉ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।

→  ১৯৯৭ সালে UNDP 'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

→ ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন সম্পর্কে আলোচনা করে।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

১,০৬০.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
– বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
– সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
– সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
– ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাক করণী বলেছেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

সুশাসনের স্তম্ভ:
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬১.
নিচের কোনটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলাফল?
  1. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়া
  2. বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়া
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়া
  4. কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিঘ্নিত হয়। এর ফলে বিনিয়োগ হ্রাস পায়। এতে করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। যার কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০৬২.
নিচের কোনটি সুশাসনকে শক্তিশালী করে?
  1. ক) সততা
  2. খ) সহমর্মিতা
  3. গ) পরমতসহিষ্ণুতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী এবং শাসকগোষ্ঠীর কর্মকর্তা কর্মচারীদের সততার শক্তিতে গড়ে উঠে। সততার অভাব ঘটলে সুশাসন পরাহত হয়। সততাই সুশাসনকে শক্তিশালী করে। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
১,০৬৩.
সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয় কোনটিকে?
  1. সততাকে
  2. মূল্যবোধকে
  3. সুশাসনকে
  4. নৈতিকতাকে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও  সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

১,০৬৪.
নিচের কোনটি ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য নয়?
  1. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. নাগরিক অধিকার সীমিত করা
  3. প্রশাসনকে গতিশীল করা
  4. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

- ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য নয়- নাগরিক অধিকার সীমিত করা। 

ই-গভর্নেন্স:

- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়।
- ই-গভর্নেন্সের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

• ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
- প্রশাসনকে গতিশীল করা।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
- নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
- জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
- ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
- ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৬৫.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোনটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সুশাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- ইংরেজিতে সুশাসনকে 'Good Governance' বলা হয়।
- সুশাসন বুঝতে হলে প্রথমে শাসনের মূল ধারণা জানা জরুরি।
- Governance একটি বহুমাত্রিক ধারণা, যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়।
- Government শব্দটি 'kubernao' ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিচালনা বা শাসন করা।
- সুশাসন বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে পরিচিত।
- সুশাসন হলো সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির অন্যতম পূর্বশর্ত।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসন ধারণাটি প্রবর্তন করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি মূল স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এই চারটি স্তম্ভ হলো: (i) দায়িত্বশীলতা, (ii) স্বচ্ছতা, (iii) আইনী কাঠামো, এবং (iv) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৬.
'সুশাসন' শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. আই.এম.এফ
  3. এডিবি
  4. বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৬৭.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে -
  1. বিচার বিভাগ
  2. সরকার
  3. গণমাধ্যম
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

সরকার ও সুশাসন:
- সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য:
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

১,০৬৮.
নিচের কোন বিষয়টিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দরিদ্র‍তা দূরীকরণের তিনটি স্তম্ভের অন্যতম বলা হয়েছে?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) নৈতিক শিক্ষা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) এন্টি-করাপশন
ব্যাখ্যা

Good governance has since also been established as one of the three pillars of ADB’s Poverty Reduction Strategy.
The strategy is made up of three pillars:
1. Pro-poor sustainable economic growth.
2. Inclusive social development.
3. Good governance, which also includes the cross-cutting priorities of environmental sustainability, gender equity, private sector development, and regional cooperation.
Source:adb.org

১,০৬৯.
কার মতে, "বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে"?
  1. মারটিন মিনোগ
  2. ম্যাককরনী
  3. জি. বিলনে
  4. কার্ল মার্ক্স
ব্যাখ্যা
সুশাসন এর সংজ্ঞা: 
- মারটিন মিনোগের মতে, "বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে"। 

- The Social Encyclopaedia তে সুশাসন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “এটি সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সামাজিক নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।” 

- সুশাসন সম্পর্কে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী (MacCorney)। তার মতে সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।" 

- প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), ool (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাক স্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলে সে শাসনকে সুশাসন বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০৭০.
কোন সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন?
  1. ব্যক্তিগত
  2. অর্থনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. আইনগত
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।
- লাস্কির মতে, “ধন বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক সাম্য অসঙ্গতিপূর্ণ হবে না, যদি এই বৈষম্য দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত সামাজিক বা রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৭১.
সুশাসনের মানদণ্ড কোনটি?
  1. জনস্বার্থ
  2. সম্মতি
  3. তুষ্টি
  4. জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৭২.
'খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. সাংস্কৃতিক অধিকার
  3. আইনগত অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকার
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
i. জীবনের অধিকার,
ii. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
iii. চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
iv. সভা-সমিতির অধিকার, 
v. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৭৩.
“সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”-উক্তিটি কার?
  1. এফ ই মেরিল
  2. এইচ এম জনসন
  3. জন লক
  4. পল সাঁত্রে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
 - বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কোন কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

১,০৭৫.
'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে কোন সংস্থা? 
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইডিবি
  4. আফ্রিকান ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামের নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন"।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১,০৭৬.
সুশাসনের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা দরকার?
  1. রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. ধনিতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  3. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  4. ধর্মীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

• সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,- গণতন্ত্র সুশাসনের প্রাণ। সুশাসনের জন্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নাই।
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০৭৭.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. ক) জেরেমি বেন্থাম
  2. খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
  3. গ) জ্যা জ্যাক রুশো
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,০৭৮.
জাতিসংঘ (United Nations) সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. ক) Participatory (অংশগ্রহণ)
  2. খ) Sensitivity (সংবেদনশীলতা)
  3. গ) Accountability (জবাবদিহিতা)
  4. ঘ) Responsive (দায়বদ্ধতা)
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:- 
১।  Participatory - অংশগ্রহণ
২। Consensus oriented - মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
৩। Accountability - জবাবদিহিতা
৪। Transparency - স্বচ্ছতা
৫। Responsive - দায়বদ্ধতা
৬। Effective and Efficient - কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা
৭। Equitable and Inclusive  - ন্যায্যতা এবং
৮। Follows the rule of law - আইনের শাসন।
 
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের  ওয়েবসাইট।
১,০৭৯.
'Political Ideals' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

→ তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness, - Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১,০৮০.
নিম্নের কোনটি প্লেটোর বিবৃত চারটি সদগুণের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জ্ঞান
  2. পরোপকারিতা
  3. সাহসিকতা
  4. আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
• 'পরোপকারিতা' প্লেটোর বিবৃত চারটি সদগুণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'Excellence' বা 'উৎকর্ষতা'।
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলা হয়, সেটাকে বাংলায় বলে 'সদগুণ।'
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।

• প্লেটো:
→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
→ প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি। এগুলো হচ্ছে :
১- জ্ঞান,
২- সাহসিকতা,
৩- আত্মসংযম ও
৪- ন্যায়পরায়ণতা।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণী: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে কী দেখা দেয়?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. বেকারত্ব হ্রাস পায়
  4. সমাজে শৃঙ্খলা বাড়ে
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্রে যে সব দেখা যায়: 
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। 
- বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় না।
- বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
- সমাজে শৃঙখলা আসেনা। 

উল্লেখ্য, 
- সুশাসন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাথে জড়িত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১,০৮২.
‘সুশাসন হলো একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’ - সুশাসন সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) ভি.কে. চোপড়া
  2. খ) ল্যান্ডেল মিল
  3. গ) কফি আনান
  4. ঘ) অধ্যাপক ড. মহব্বত খান
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. মহব্বত খান এর মতে-‘সুশাসন হলো,একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, ‘সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে।'

ভি.কে. চোপড়া (V.k. Chopra) বলেন, “সুশাসন হলো শাসনের একটি পদ্ধতি যা সমাজের মৌলিক মূল্যবোধগুলো দ্ব্যর্থহীনভাবে চিহ্নিত করতে সমর্থ, সেখানে মূল্যবোধগুলো হচ্ছে মানবাধিকারসহ অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ক এবং একটি দায়বদ্ধ ও সৎ প্রশাসনের মাধ্যমে এই মূল্যবোধগুলো অন্বেষণ করা”।

ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।  
১,০৮৩.
সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্র নয় কোনটি?
  1. খোলাবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ
  2. বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার
  3. গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
  4. উপরেরে কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খোলাবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্র নয়।

সুশাসন:

- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- আর্থ-রাজনৈতিক অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেয়।
- বাংলাদেশে পুঁজিবাদের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটেনি।
- দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হরতাল-অবরোধ রাজনীতির নিত্য সঙ্গী।
- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির হার অত্যন্ত উচ্চ।
- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশে সুশাসনের মাত্রা সন্তোষজনক নয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং,
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮৪.
সুশাসনের ফলে কোন ধরণের অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়?
  1. অস্থিতিশীল
  2. বিনিয়োগবান্ধব
  3. প্রতিযোগিতাহীন
  4. কর্মসংস্থানহীন
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- সুশাসন বলতে বোঝায়- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কার্যকর প্রশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের সমন্বিত রূপ।
- একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো যখন জনকল্যাণে দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তখন তাকে সুশাসনের উদাহরণ বলা হয়।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- সুশাসনের মাধ্যমে সরকার নীতি পরিবর্তনে স্থিরতা বজায় রাখে।
- সুশাসন অর্থবছরের বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ব্যয় নিশ্চিত করে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১,০৮৫.
বাংলাদেশে কোন ইস্যুগুলো সুশাসনের প্রতিষ্ঠায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে?
  1. খাদ্যে ভেজাল
  2. নারী নির্যাতন
  3. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮৬.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন মূল্যায়নের নির্দেশক নয়?
  1. ক) সরকারি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
  2. খ) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য
  3. গ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. ঘ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা, উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
১,০৮৭.
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র অনুসারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন উপাদান অপরিহার্য?
  1. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  2. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  3. আইনের শাসন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:
১। আইনের শাসন (Law and Order),
২। দায়িত্বশীল প্রশাসন (People Learning Administration), 
৩। সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা (Justice and Rationally as the basis of decision) এবং,
৪। দুর্নীতিমুক্ত শাসন (Corruption Free Government)। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,০৮৮.
কোনটি সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. অসংবেদনশীলতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'অসংবেদনশীলতা' সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- সুশাসনের মৌলিক ও প্রাথমিক চরিত্র হচ্ছে - সুশাসনের আওতায় সকল কাজ হবে অপব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণ ভিত্তিক ও আইনের শাসনের প্রতি শর্তহীনভাবে অনুগত।
- সুশাসনের এই চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলে তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

- নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
→ অংশগ্রহণ,
→ আইনের শাসন,
→ স্বচ্ছতা,
→ জবাবদিহিতা,
→ সংবেদনশীলতা,
→ ঐকমত্য।

এসব ছাড়াও সুশাসনের জন্য ন্যায়পরায়নতা, কার্যকারিতা ও দক্ষতার শর্তপূরণ একান্ত আবশ্যক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে অনুন্নত দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে দায়ী কোনটি?
  1. ক) প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব
  3. গ) সুশাসনের অভাব
  4. ঘ) মূল্যবোধ শিক্ষার অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে দায়ী হলো সুশাসনের অভাব।
অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ অনুন্ধানের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক সুশাসন ধারণাটি উদ্ভাবন করে। সংস্থাটি ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০৯০.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের উপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়?
  1. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন: ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি খ)  সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি  গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত।

ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
খ) সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

সূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯১.
'আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি' উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. জন অস্টিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা

⇒ 'Law is the passionless reason' উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,০৯২.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে -
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. গ) সামাজিক উন্নয়ন
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া সুশাসন অর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই এদেরকে সুশাসনের পূর্বশর্ত বিবেচনা করা হয়।

খ অপশনে ক ও গ দুটোই আছে।
তাই, খ ধরলেই সঠিক উত্তর হয়ে যায়। (অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন)

কিন্তু, ঘ) ধরলে উত্তর হয় এরকম - অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন। (বাহুল্য)

১,০৯৩.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
-, স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
১,০৯৪.
সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে কোন সংস্থা?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল-
• দায়িত্বশীলতা,
• স্বচ্ছতা,
• আইনী কাঠামো ও
• অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৫.
সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে -
  1. ক) শক্তিশালী আমলাতন্ত্র
  2. খ) শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত বিচার বিভাগ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে - শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।

• বাংলাদেশ ও সুশাসন:
- বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।
- শাসনকার্যে জনসম্পৃক্ততা যত বৃদ্ধি পাবে, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও একইভাবে বৃদ্ধি পাবে। কারণ জনগনের মতামতের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাস্তবায়ন হলে তা সুশাসনেরই নামান্তর।
- বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য দরকার লিঙ্গভিত্তিক সমতা প্রতিষ্ঠা।
- বাংলাদেশে বর্তমানে এক্ষেত্রে নানা ধরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৬.
দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত পুস্তকের নাম -
  1. The Prince
  2. Animal Liberation
  3. The Republic
  4. Political Ideals
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - The Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- The Prince-এর লেখক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি।
- Animal Liberation-এর লেখক পিটার সিঙ্গার।
- Political Ideals-এর লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
১,০৯৭.
রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে কী বলে?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. আইনগত অধিকার
  3. ব্যক্তিগত অধিকার 
  4. সাধারণ অধিকার
ব্যাখ্যা
• আইনগত অধিকার:
→ যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
→ আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
ক. সামাজিক
খ. রাজনৈতিক ও
গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯৮.
নিম্নের কোন সংস্থা সুশাসনের আটটি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

অন্যদিকে,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১,০৯৯.
জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে কতটি মূলনীতি উল্লেখ করেছে?
  1. ৭টি
  2. ৪টি
  3. ৯টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি মূলনীতি উল্লেখ করেছে।
এগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ
- স্বচ্ছতা
- জবাবদিহিতা
- দায়িত্বশীলতা
- ন্যায্যতা
- কার্যকারিতা
- আইনের শাসন এবং
- ঐক্যমত্যের শাসন।

উৎস: UN chronicle.
১,১০০.
জাতিসংঘ (UN) সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. মতামতের উপর নির্ভরশীলতা
  2. ন্যাযতা
  3. কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা
  4. কৌশলগত লক্ষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ (UN) সুশাসনের কৌশলগত লক্ষ্য উপাদানটি উল্লেখ করেনি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।