ব্যাখ্যা
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে।
⇒ সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- প্রথমেই ধরা যাক সামাজিক ক্ষেত্রের কথা। সুশাসন ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ; সন্তানসন্ততিকে শিক্ষিত, রুচিবান ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কেননা এগুলো সবই সম্ভব সুশাসিত সমাজ ও রাষ্ট্রে।
⇒ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন না মানলে শাস্তি পেতে হবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। সব থেকে বড় কথা আইন মানুষের অধিকার উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আইনের উপস্থিতি ছাড়া উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে আইন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় না এবং নাগরিক অধিকার উপভোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সততা ও সতর্কতার সাথে একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে না, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে না৷
⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।