বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা ১০ / ১৪ · ৯০১১,০০০ / ১,৩২৩

৯০১.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. কর্মসংস্থান
  2. বেকারত্ব
  3. পুঁজি বিনিয়োগ
  4. শিল্প উৎপাদন
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মসংস্থান, পুঁজি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।

সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:

- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে।

⇒ সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- প্রথমেই ধরা যাক সামাজিক ক্ষেত্রের কথা। সুশাসন ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ; সন্তানসন্ততিকে শিক্ষিত, রুচিবান ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কেননা এগুলো সবই সম্ভব সুশাসিত সমাজ ও রাষ্ট্রে।

⇒ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন না মানলে শাস্তি পেতে হবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। সব থেকে বড় কথা আইন মানুষের অধিকার উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আইনের উপস্থিতি ছাড়া উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে আইন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় না এবং নাগরিক অধিকার উপভোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সততা ও সতর্কতার সাথে একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে না, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে না৷

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯০২.
বর্তমানে কিসের উপর উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) আইন
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে সুশাসনের উপর।
- বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সুশাসনের বিকল্প নেই।
- একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন। তাই টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ সুশাসন।
- দুস্থ, দরিদ্র, অসহায় ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনমানের নিশ্চয়তা বিধান করে সুশাসন।

৯০৩.
World Justice Project কয়টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের সূচক তৈরি করে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

World Justice Project:
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে থাকে।
- 'World Justice Project' আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে ৷
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।
- 'WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

⇒ ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়:
• রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা,
• নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ,
• জননিরাপত্তা,
• মৌলিক অধিকার,
• দুর্নীতি,
• সরকারি তথ্য প্রকাশ,
• দেওয়ানি বিচার ও
• ফৌজদারি বিচার।

তথ্যসূত্র - World Justice Project ওয়েবসাইট।

৯০৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
  3. সুশাসন থাকলে মূল্যবোধ শিক্ষা অপ্রয়োজনীয়
  4. মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের জন্য নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো গুণাবলি প্রয়োজন হয়, যা মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে বিকশিত হয়।
- যদি মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকে, তাহলে প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে, আইন থাকলেও তা কার্যকর হবে না এবং জনগণের কল্যাণ ব্যাহত হবে।
- এভাবে, মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং একটি ন্যায়সংগত, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৫.
কোন প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসনের ধারণা উপস্থাপন করে?
  1. World Development Report
  2. Governance and Development
  3. Poverty Reduction Strategy Paper
  4. Human Development Report
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- ‘সুশাসন’ ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা,
- এটা মূলত রাষ্ট্রের কার্যকর, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক শাসন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন’ (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও,
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯০৬.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের win win game বলা হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

৯০৭.
সভ্য সমাজের মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় কোনটিকে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. নৈতিকতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
আইন:
- সুশাসনের মূলভিত্তি হলো আইনের শাসন যা সভ্য সমাজের মানদন্ড। 
- আইনের শাসনের অর্থ আইনের চোখে সকলে সমান, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত সাম্য, স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন' প্রবর্তন করে -
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৯০৯.
Principia Ethica গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) এম ডব্লিউ পামফ্রে
  3. গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
  4. ঘ) নিকোলা মেকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড মুর। এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত করেন।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৯১০.
দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতি বলতে বুঝায় -
  1. জবাবদিহিতা
  2. দক্ষতা
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল।
- দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা।
- শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
- নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

অন্যদিকে,
 • দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯১১.
নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি কোনটি?
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. সমাজ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, 
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
-  সহনশীলতা, 
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

⇒ নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে। নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯১২.
কোন সংস্থার মতে, “অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়?
  1. ক) জাতিসংঘ
  2. খ) ইউএনডিপি
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) আই.এম.এফ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারনা

⇒ UNDP এর মতে, সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।
⇒ বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। 

⇒ সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে। ‘সবুজ বিপ্লব’ আর ‘কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচির ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
সুশাসনের ভিত্তি কী?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. দলীয়করণ
  3. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
  4. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।

• সুশাসনের ভিত্তি বা উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯১৪.
সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
৯১৫.
গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. নির্বাচন
  2. ক্ষমতার ভারসাম্য
  3. জন সচেতনা
  4. দলীয়করণ
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯১৬.
ম্যাক করণীর মতে, সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল
  3. রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
  4. সরকারকে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
কোন প্রতিষ্ঠানের সফলতা কীসের ওপর নির্ভর করে?
  1. ক) শাসনকার্য
  2. খ) ফলপ্রসূ শাসনকার্য
  3. গ) ব্যাক্তিস্বার্থ
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৯১৮.
'দি রিপাবলিক' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ম্যাকিয়াভেলি
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- এরিস্টটলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম 'দ্যা পলিটিক্স'।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৯১৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় হলো -
  1. ক) সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
  2. খ) আনুগত্য প্রদর্শন করা
  3. গ) ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নাগরিক উভয়কেই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
এক্ষেত্রে নাগরিকদের করণীয় হলো:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
- আনুগত্য প্রদর্শন করা
- আইন মেনে চলা
- নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়ের মধ্যে রয়েছে:
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা
- স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
- সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
৯২০.
নিচের কোন গ্রন্থটি 'ইমানুয়েল কান্ট' রচিত?
  1. Critique of Practical Reason
  2. The Elements of Ethics
  3. Power: A New Social Analysis
  4. An Introduction to the Principles of Morals and Legislation
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে,
- Power: A New Social Analysis ও The Elements of Ethics বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত। 
- জেরেমি বেন্থাম রচিত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৯২১.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. সুশীলসমাজ
  2. এনজিও
  3. গণমাধ্যম
  4. স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৯২২.
'সুশাসন হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় যা সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করে' কে এই উক্তি করেন?
  1. ম্যাক করণী
  2. ল্যান্ডেল মিল
  3. মার্টিন মিনোগ
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ব্যক্তির সুশাসন সম্পর্কে মতামত:

মার্টিন মিনোগের মতামত:
• মার্টিন মিনোগ বলেন, “সুশাসন হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় যা সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করে"।

মিশেল ক্যামডেসাসের মতামত:
 • 'রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক' উক্তি করেন মিশেল ক্যামডেসাস।
 • তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং  নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য সুশাসন জরুরি।

ম্যাক করণীর মতামত:
 • ম্যাক করণী বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
 
ল্যান্ডেল মিলের মতামত:
 • ল্যান্ডেল মিল মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং জন প্রশাসন ও আইনী কাঠামোর কার্যকারিতা তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৩.
কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা নয়?
  1. ক) আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
  2. খ) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা
  3. গ) জনঅংশগ্রহণের অভাব
  4. ঘ) বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ
ব্যাখ্যা
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যাগুলো হলো-
১. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা,
৩. সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
৪. আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
৫. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
৬. আইনের শাসনের অভাব,
৭. সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা,
৮. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
৯. রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
১০. স্বজনপ্রীতি,
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
১২. জনঅংশগ্রহণের অভাব,
১৩. জনসচেতনতার অভাব
১৪. ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব,
১৫. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অভাব,
১৬. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯২৪.
কোনটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. জনগণের সম্মতি
  2. বিরোধী দলের দমন
  3. দায়িত্বশীল সরকার
  4. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব। 
- গণতন্ত্রকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
i) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
ii) পরোক্ষ গণতন্ত্র।
- গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• জনগণের সম্মতি,
• বহু দল ব্যবস্থা,
• স্বাধীন বিচারব্যবস্থা,
• নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা,
• আইনের শাসন,
• সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
• প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার,
• দায়িত্বশীল সরকার।

উল্লিখিত প্রশ্নে বিরোধী দলের দমন গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯২৫.
ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. রাষ্ট্রীয় নীতির অকার্যকারিতা
  2. দক্ষ কর্মীর স্বল্পতা
  3. ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স-এর প্রতিবন্ধকতা: 
- ই-গভর্নেন্স-এর মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা বা অসুবিধা রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:
১. সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ ই-গভর্নেন্স-এর সুবিধাগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে সমানভাবে ইন্টরনেট ব্যবহার করতে পারে না। কেননা ইন্টারনেট ব্যবস্থা এখনো ব্যয়বহুল।
২. ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সংশয় থাকে।
৩. অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অনেক গোপন কর্মপন্থা জনমতকে প্রভাবিত ও একমুখী করে থাকে।
৪. ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিবেচেনা ও নির্দেশনা আছে, যেমন- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব, সাইবার আক্রমণের ভীতি এবং এসব ক্ষেত্রে যে ভারসাম্যতা আছে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা।
৫. রাষ্ট্রীয় নীতির অকার্যকারিতা সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
৬. সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।
৭. অনেক রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ সমস্যা ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধার সৃষ্টি করে।
৮. দক্ষ কর্মীর স্বল্পতা ই-গভর্নেন্স প্রতিক্ষার পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
৯. অবকাঠামোগত সমস্যা ও ই-গভনেন্স-এর পথে বাধা হয়ে দাড়ায়।
১০. ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী উৎপাদন ও ব্যবসা বাণিজ্যে অনগ্রসরতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
১১. সরকার ও জনগণের মধ্যে অতিরিক্ত যোগাযোগের বিভিন্ন রকম নেতিবাচক ফলও রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯২৬.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. রূপকল্প
  2. মূল উদ্দেশ্য 
  3. অভিলক্ষ্য
  4. স্লোগান
ব্যাখ্যা

 জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল-এর রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

• এটি ২০১২ সালে প্রণীত কৌশলের মূল অভিলক্ষ্য  যা পরবর্তীতে সকল সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিকল্পনায় ব্যবহৃত হয়।
- এই অভিলক্ষ্যের মাধ্যমে দুর্নীতি নিরসন, সততা প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৯২৭.
'সততার জন্য সদিচ্ছা'র ধারনাটি প্রবর্তক -
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. কফি আনান 
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) Britannica.

৯২৮.
কোনটি সুশাসনের আদর্শকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে?
  1. এটি শুধুমাত্র পরিমাপযোগ্য ফলাফলের উপর নির্ভরশীল 
  2. এটি মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ 
  3. এটি নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত
  4. এটি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়
ব্যাখ্যা

● সুশাসনের আদর্শকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে- এটি নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।

সুশাসনের আদর্শ:
- সুশাসনের মূল আদর্শ হলো এটি নৈতিক মানদণ্ড ও জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, অংশগ্রহণ এবং ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর মতামতের গুরুত্ব থাকে।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থ বা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে।
- এটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

• সুশাসন কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বা অর্থনৈতিক ফলাফলের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং এতে নৈতিকতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। 
- অর্থাৎ একটি সুশাসিত ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং জনসাধারণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। শুধুমাত্র পরিমাপযোগ্য ফলাফল, মূল্যবোধহীনতা বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুশাসনের পূর্ণ মানদণ্ড প্রকাশ করতে পারে না।
- তাই নৈতিক মানদন্ড ও জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়াই সুশাসনের আদর্শকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৯.
‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক’ এটি কোন ব্যক্তির উক্তি?
  1. মিশেল ক্যামডেসাস
  2. ইব্রাহিম গানবারি
  3. কফি আনান
  4. বারবার কোনাবল
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।

• 'সুশাসন' বিষয় সম্পর্কিত তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus) বলেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক' (Good Governance is important for countries at all stages of development)।

• জাতিসংঘের আফ্রিকা অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘যে সমস্ত রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুধুমাত্র সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৩০.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. এফ ই মেরিল
  2. এইচ এম জনসন
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. অধ্যাপক ডাইসি 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল:
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩১.
“সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।” কে এই উক্তি করেন?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ম্যাক করণী
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”
- রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শ্বাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

- ‘রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক ‘ উক্তি করেন - মিশেল ক্যামডেসাস।

- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩২.
‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন'-উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. লর্ড অ্যাকটন
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন' উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।

- মানুষ সামাজিক জীব। আইন মানব সমাজের দর্পণস্বরূপ।
- সমাজে একসাথে বসবাস করার জন্য নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অপরিহার্য।
- মানব কল্যাণের স্বার্থেই নিয়ম-কানুন প্রয়োজন। স্বীকৃত এই নিয়ম-কানুনই হল আইন।

- এরিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন' (Law is the passionless reason)।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”

পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৩.
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন-
  1. ক) রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বাধীন ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, স্বাধীন ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী সংসদ, সুষ্ঠু নির্বাচন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। দুর্বৃত্তায়ন, কাল টাকার প্রভাব, লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি দুর্নীতির কারণ যা কু-শাসনের জন্ম দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সৎ মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা(উন্মুক্ত)।
৯৩৪.
জনমতের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. জনমত সৎ ও জনকলাণধর্মী
  2. জনমত সুচিন্তিত মতের বিরোধী
  3. জনমত সুনিদির্ষ্ট ও সুস্পষ্ট নয়
  4. জনমত অযুক্তিভিত্তিক
ব্যাখ্যা
জনমতের বৈশিষ্ট্য:
- জনমত হচ্ছে জনগণের সাধারণ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অভিমত,
- জনমত সৎ ও জনকলাণকামী,
- জনমত যুক্তিভিত্তিক, 
- জনমত একজনের মতও হতে পারে আবার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতও হতে পারে,
- মূল জাতীয় সমস্যা ও তার সমাধানকে কেন্দ্র করে জনমত গড়ে ওঠে,
- জনমত সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট,
 - জনমত সুচিন্তিত মত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৩৫.
কে ই-গভর্ন্যান্সকে 'স্মার্ট গভর্নমেন্ট' বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. ইএম হোয়াইট
  2. চন্দ্রবাবু নাইডু
  3. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. বারবার কোনাবল
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উল্লেখ্য:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৩৬.
কোনটি আইনগত কর্তব্য?
  1. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
  2. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  4. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
৯৩৭.
আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক হলেন -
  1. জন ফিফনার
  2. রবার্ট প্রেসথাস
  3. অধ্যাপক এস ই ফাইনার
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৩৮.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের _______ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  1. সামরিক শক্তির
  2. সার্বিক উন্নয়নের
  3. শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার
  4. কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এগুলোর প্রভাব শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো খাতে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক- সবক্ষেত্রে পড়ে।

সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ-
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: সুশাসন রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: নৈতিকতা ও সুশাসন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে এবং দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ায়।
সামাজিক উন্নয়ন: মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের গুণ নয় কোনটি?
  1. ক) সুষ্ঠ জনমত গঠন
  2. খ) নিরপেক্ষতা
  3. গ) ন্যায়নীতিপরায়ণ
  4. ঘ) শিক্ষা
ব্যাখ্যা
নেতৃত্বের গুণাবলি হলোঃ ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, দূরদৃষ্টি, নিরপেক্ষতা, আত্মসংযম, উদারতা,ন্যায়নীতিপরায়ণ।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৪০.
সুশাসনের ধারণা কোন ধরনের ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?
  1. ক) সমাজতন্ত্র
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) রাজতন্ত্র
  4. ঘ) আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ। আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব। তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৯৪১.
বিশ্বব্যাংক ও UNDP অনুসারে, 'সুশাসনের মাধ্যমে  নাগরিকগণ তাদের কী ধরনের আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহ প্রকাশ করতে পারে'?
  1. ধর্মীয় 
  2. আর্থ-সামাজিক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
​- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
​- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
​- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
​- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।

• এছাড়াও 
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
​- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৪২.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি মৌলিক সততা নয়?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) পরোপকারিতা
  4. ঘ) আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
- মৌলিক সততা বলতে সেসব সদগুণাবলীকে বুঝায় যা বিভিন্ন শ্রেণীর সদগুণাবলির ভিত্তি।
প্লেটোর মতে মৌলিক সততা চারটি। এগুলো হলো:
- জ্ঞান
- সাহসিকতা
- আত্মসংযম ও
- ন্যায়পরায়ণতা।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৯৪৩.
জন অস্টিন আইনের কতটি উৎস চিহ্নিত করেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৪৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কী?
  1. সাম্যে বিশ্বাস না করা
  2. ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব না দেওয়া
  3. ক্ষমতা নেতা ও দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা
  4. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৪৫.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজ নয়?
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) কর আদায়
  3. গ) স্বাস্থ্যসেবা
  4. ঘ) দেশ রক্ষা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে সেগুলো হলো তার অপরিহার্য বা আবশ্যিক কার্যাবলি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আইন প্রণয়ন করা
- দেশ রক্ষা করা
- নিরাপত্তা বিধান করা
- রাজস্ব আদায় করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ হলো ঐচ্ছিক কাজ। যেমনঃ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, শিক্ষার ব্যবস্থা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৪৬.
সুশাসনের জন্য অপরিহার্য নয় কোনটি?
  1. ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. খ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম
  4. ঘ) জবাব্দিহিতামূলক সরকার
ব্যাখ্যা
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৯৪৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা নয় কোনটি?
  1. ক) ব্যক্তিপূজা
  2. খ) পেশাদারিত্ব
  3. গ) স্বজনপ্রীতি
  4. ঘ) দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা হল ব্যক্তিপূজা, স্বজনপ্রীতি, দারিদ্র্য।সুশাসনের একটি উপাদান হলো পেশাদারিত্ব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এদের প্রচুর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। পেশাদারিত্বের বৃদ্ধি পেলে প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৪৮.
রাষ্ট্রের চতুর্থ কলাম বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) সামরিক বাহিনী
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) এনজিও
ব্যাখ্যা
সংবাদমাধ্যম তথা গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অঘোষিত চতুর্থ স্তম্ভ বা কলাম বা বিভাগ বলা হয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ তথা শাসন, আইন ও বিচার বিভাগকে নজরদারির মাধ্যম এবং জনগণের সাথে সরকারের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ গণযোগাযোগ তত্ত্ব ও প্রযোগ : শায়ন্তী হায়দার ও সাইফুল সামিন)
৯৪৯.
সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  4. নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’:
- সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে স্বাধীন প্রচার মাধ্যম।
- গণমাধ্যমের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরীর ভূমিকা পালন করা। এই ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা রোধ করে এবং সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

⇒  সংবাদক্ষেত্রকে বলা হয় দ্য ফোর্থ এস্টেট।
- সংবাদপত্র পরিচালনায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটা বিষয়।
- সংবাদমাধ্যম আছে গণতন্ত্র ও সুশাসনকে সমর্থন-সহযোগিতা করতে। সরকারেরও দায়িত্ব সেই লক্ষ্যেই কাজ করা।
- সরকারের ভুলত্রুটি, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চর্চাসহ বাকি সমস্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করবে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৯৫০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের দায়িত্ব শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ - 
  1. বন্ধ করে দেওয়া
  2. প্রসারিত করা
  3. কমিয়ে দেওয়া
  4. খ ও গ 
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
→ সরকারের করণীয় হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগকে বিস্তৃত করা।
→ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এই সুযোগকে বর্ধিত করতে পারে।
→ রাষ্ট্রের ভূমিকা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তখনই সহায়ক হয় যখন রাষ্ট্র স্বচ্ছতার নীতির ভিত্তিতে নাগরিকদের প্রতি তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
নিচে উল্লিখিত কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. World Development Report
  2. Governance and Development
  3. World Bank Annual Report
  4. Global Governance Report
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।

এছাড়াও, 
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৫২.
কত সালে ADB 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
ADB ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎবাণী।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৫৩.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) সুশাসন নিশ্চিতকরণে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- Asian Development Bank (ADB)-এর মতে, সুশাসন নিশ্চিতকরণে ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো 'Sound Development Management' বা সুষম উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। উপাদানগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• পূর্বাভাসযোগ্যতা (Predictability) এবং,
• স্বচ্ছতা (Transparency)। 

এছাড়াও,
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৯৫৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
  3. একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় - একাধিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা। 

সুশাসন:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৫৫.
সুশাসনের উপাদান কোনটি?
  1. ক) অদক্ষতা
  2. খ) দুর্নীতি
  3. গ) স্বজনপ্রীতি
  4. ঘ) বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হলো সুশাসনের উপাদান। এসবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
অন্যদিকে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক।
৯৫৬.
রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য কিসের চর্চা প্রয়োজন?
  1. মূল্যবোধের
  2. ক্ষমতার
  3. রাজনীতির
  4. আমলাতন্ত্রের
ব্যাখ্যা

- যে সমাজে বা রাষ্ট্রে সততা, ন্যায়পরায়ণতার মতো মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব। 
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধের চর্চা। 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি, যা সততা, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত হলে সমাজে দুর্নীতি, অপরাধ ও অবক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। 
- এগুলো কার্যকর করতে হলে শাসক ও শাসিত উভয়ের মধ্যেই মূল্যবোধ থাকতে হবে। 
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজে মূল্যবোধের শিক্ষা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই প্রকৃত নাগরিক তৈরি হবে।
- নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম মিলেই সুশাসনকে টেকসই করতে পারে। তাই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।

সূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। 

৯৫৭.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  2. কর আদায় বৃদ্ধি
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়। তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৫৮.
সুশাসনের উপাদান হিসেবে UNDP কোনটি অন্তর্ভুক্ত করেছে?
  1. সমতা
  2. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  3. প্রশাসনিক একচ্ছত্র কর্তৃত্ব
  4. রাজনৈতিক মতামত
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে,
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”
(Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels).

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৯৫৯.
'ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সাংস্কৃতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) সামাজিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
সামাজিক অধিকারসমূহ হলো-
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৬০.
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে শাসনকার্য পরিচালনা হচ্ছে -
  1. কুশাসন
  2. সুশাসন
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. রাজনেতিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
- ম্যাক করণী বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশাসন সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সামাজিক নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।"
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৬১.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন?
  1. সুশাসন ছাড়া মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
  2. মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
  3. মূল্যবোধ ও সুশাসন একে অপরের জন্য নিরপেক্ষ।
  4. সুশাসনের জন্য আইনই যথেষ্ট, মূল্যবোধের প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন হলো একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য শাসন ব্যবস্থা, যা নীতি, ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নৈতিক আদর্শ এবং নীতি, যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং পরস্পরকে সমর্থন করে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য, কারণ এটি শাসক ও জনগণের আচরণকে নৈতিকতার দিকে পরিচালিত করে।
- সুশাসন তখনই কার্যকরী হতে পারে, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়।
- সুশাসন এবং মূল্যবোধ একে অপরকে শক্তিশালী করে, যা সমাজের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৬২.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
  2. শাস্তির ভয়
  3. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।
- লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
- যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
- অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
- নির্লিপ্ততা;
- সহানুভূতি;
- শাস্তির ভয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৩.
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি কার?
  1. United Nations
  2. Asian Development bank
  3. World bank
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এটি কার অভিমত? → বিশ্বব্যাংক।
→ “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি কার? → UNDP.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৬৪.
বিশ্বব্যাংক কত সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৫.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়?
  1. ৩১ জানুয়ারি ২০০৩
  2. ৩১ অক্টোবর ২০০৬
  3. ৩১ অক্টোবর ২০০৩
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
ব্যাখ্যা

◉ ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়।
- উপরের অন্যান্য অপশন গুলো যুক্তিযুক্ত নয়।
- সুতরাং সঠিক ‍ উত্তর: ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে।

UNCAC:

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৯৬৬.
ইউনেস্কো সুশাসনের উপাদান গুলোর কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদান গুলোর পাশাপাশি কোনটির উল্লেখ করেছেন?
  1. বৈধতা এবং মানবাধিকার
  2. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
  3. আইনের শাসন এবং সাম্য
  4. সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা

সুশাসন: 
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি, ও নাগরিকতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি গড়ে ওঠে নাগরিকের কোন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে?
  1. ক) সামাজিক দায়িত্ব
  2. খ) রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য
  3. গ) আইন মান্য করা
  4. ঘ) সৎ যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
ব্যাখ্যা
সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়া ইত্যাদির কাজের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের দায়িত্ব পালন করেন যার ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি গড়ে ওঠে। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৬৮.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. শিক্ষা
  2. সুশাসন
  3. আইন
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি আবশ্যক নয়?
  1. দায়বদ্ধতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. স্বৈরাচারী মনোভাব
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭০.
সুশাসনের প্রেক্ষিতে দার্শনিক রাজাকে আদর্শ শাসক হিসেবে অভিহিত করেছেন কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা

- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রাচীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

৯৭১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  2. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. দক্ষ ও কার্যকর সরকার প্রতিষ্ঠা
  4. একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
- একটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয়। একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে নিম্নলখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে: 
১. সংবিধানে মৈলিক অধিকারের সন্নিবেশ,  
২. মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
৩. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান, 
৪. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, 
৫. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, 
৬. দক্ষ ও কার্যকর সরকার, 
৭. জনসম্মতি, 
৮. একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি প্রভৃতি। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৭২.
বিশ্বব্যাংক কত সালে প্রকাশনার মধ্য দিয়ে গভর্নেন্সকে সংজ্ঞায়িত করেছে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে 'Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

⇒ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৭৩.
ই-গভরনেন্স কিভাবে সুশাসন নিশ্চিত করে?
  1. ক) স্বচ্ছতা আনয়ন
  2. খ) তথ্যের সহজলভ্যতা
  3. গ) আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভরনেন্স স্বচ্ছতা আনে, রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরী করে, তথ্য সহজলভ্য করে, দ্রুততম সেবা দেয়, দুর্নিতী প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করে৷
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
৯৭৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ২০ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২১ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৩১ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
অন্যদিকে,
- ২০ নং অনুচ্ছেদ : অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
- ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান)
৯৭৫.
নিচের কোনটি সুশাসনের স্তম্ভ নয়?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. আইনী কাঠামো
  4. উন্নয়ন বাজেট
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের স্তম্ভ নয়- উন্নয়ন বাজেট।

• সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল- 
(i) দায়িত্বশীলতা 
(ii) স্বচ্ছতা 
(iii) আইনী কাঠামো ও 
(iv) অংশগ্রহণ।

- এক কথায়, জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- সুশাসন।
- UNDP সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।  

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।

৯৭৬.
’দার্শনিক রাজা হলেন আদর্শ শাসক’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রাচীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন।
- তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- প্লেটোর মতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকলে একজন শাসক জনগণের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, 
• এরিস্টটলের উক্তি: 
- ’’শিক্ষার শেকড়ের স্বাদ তেঁতো হলেও এর ফল মিষ্টি ।”
-  যে ব্যক্তি সমাজের অন্তর্ভুক্ত নয় সে হয় ফেরেস্থা, নয় পশু।”

• সক্রেটিস এর বিখ্যাত উক্তি:
-  নিজেকে জানো" (Know thyself)
- জ্ঞানই পূণ্য" (Virtue is knowledge), 
- বিস্ময় হলো জ্ঞানের শুরু।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী , প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৭.
নিচের কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. ক) আইন
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) ধর্ম
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, রাষ্ট্র সেজন্য আইন প্ৰণয়ন করে।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
- আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৮.
“The Idea of Justice” বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) কার্ল মার্ক্স
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) অমর্ত্য সেন
  4. ঘ) অ্যালেন লেইন
ব্যাখ্যা
The Idea of Justice is a 2009 book by the economist Amartya Sen. In this book, Sen makes a radical break with the traditional notion of homo economicus, or 'rational economic man' as motivated mainly by self-interest. He points out that children have strong notions of 'fairness' and acute aversion to 'manifest injustice'. তার অন্যান্য বই -
Development as Freedom,
The Argumentative Indian,
Identity & Violence,
Inequality Reexamined ইত্যাদি।
৯৭৯.
কোনটিকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়?
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) আমলাতন্ত্র
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) দাতাগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম তার ওয়াচডগ ভূমিকার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের নানা ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরার মাধ্যমে রাজনৈতিক সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ রিসার্চগেট ডটনেট)
৯৮০.
লর্ড ব্রাইসের মতে, কোন গুণ থাকলে নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে গণ্য হয়?
  1. জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
  2. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা, ধৈর্য
  3. বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
  4. সাহস, প্রজ্ঞা ও দয়া
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত সুনাগরিকের উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি 'বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক' এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।
- এই গুণগুলো নাগরিককে দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ ও বিচক্ষণ করে তোলে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।

এছাড়াও,
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮১.
সভ্য সমাজের মানদন্ড নিচের কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. সংবিধান
  3. বিচার ব্যবস্থা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সভ্য সমাজের মানদন্ড হল আইনের শাসন।

আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- যার কারণে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
৯৮২.
মানুষের অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. ক) আইনের অনুশাসন
  2. খ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. গ) জনগণের সজাগ ‍দৃষ্টি
  4. ঘ) গণমাধ্যমের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যাক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
মানুষের সকল অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্র। মৌলিক অধিকারের রক্ষক হলো সংবিধান।

অধিকারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সজাগ দৃষ্টি।
অধিকারের অন্যান্য রক্ষাকবচসমূহ হলো:
- আইন
- গণতন্ত্র
- সংবিধান
- আইনের অনুশাসন
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৯৮৩.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের জন্য কতটি মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে?
  1. ক) ১৬টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ২১টি
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জন্য মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে।
- তৃতীয় ভাগে ২৬-৪৭ পর্যন্ত মোট ২২টি অনুচ্ছেদ থাকলেও অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ আছে ১৭টি এবং এদের মধ্যে মৌলিক অধিকার ১৮টি [কারণ ২৮ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার ২টি। একটি ২৮(১) এবং অপরটি ২৮(২)]

৯৮৪.
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে-
  1. উন্নত প্রশাসন
  2. শিক্ষার প্রসার
  3. সুশাসনের অভাব
  4. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
ন্যায়বিচার ও সুশাসন:
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন (Good Governance) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- যখন সুশাসনের অভাব থাকে, তখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে যায়।
- এতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমে যায়।
- এর ফলে বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
- সুতরাং, সুশাসনের অভাবই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) সৃজনশীল শাসন
  2. খ) দক্ষ ও নির্ভুল শাসন
  3. গ) কর্তৃত্ববাদী শাসন
  4. ঘ) নৈতিক শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন বলতে বোঝায় দক্ষ ও নির্ভুল শাসন বা উত্তমরূপে শাসন। সুশাসনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা কিংবা সৃজনশীলতা আবশ্যিক বিষয় নয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতিত্ব সুশাসনের অন্তরায়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৯৮৬.
জাতিসংঘ কতটি সুশাসনের উপাদান চিহ্নিত করেছে?
  1. ৯টি
  2. ৮টি
  3. ৬টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
-মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

তথ্যসূত্র:  জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। 

৯৮৭.
সুশাসন সম্পর্কে নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. রাজনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
  2. বহুমাত্রিক ধারণা
  3. বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ছয়টি স্তম্ভ ঘোষণা করে
  4. রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

সুশাসনের ধারণা:

- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৮.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের Win Win Game বলা হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
৯৮৯.
'সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়' - সুশাসন সম্পর্কে সজ্ঞাটি প্রদান করেছে -
  1. ক) বিশ্বব্যাংক
  2. খ) ম্যাককরনী
  3. গ) মারটিন মিনোগ
  4. ঘ) ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের সংজ্ঞা
▪ বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়'। সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, ''Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.''
▪ UNDP - এর মতে, ''সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।''
▪ ম্যাককরনীর মতে, ''সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।''
▪ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, ''ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।'' 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৯৯০.
সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. জনগণ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন
  2. সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য জনগণ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন।
- সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোন জিনিসের অভাবে বিকশিত হয় না?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) জনকল্যাণমুখীতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্র সফল বা অর্থবহ হয়ে উঠে না৷ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো বিকশিত হয় না।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
৯৯২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম 'E- Governance' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Elected Governance
  2. Ethical Governance
  3. Electronic Governance
  4. Elite Governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স (E- Governance):

- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স (Electronic Governance).
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৯৩.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কোনটি ঘটে?
  1. জনসচেতনতা বৃদ্ধি
  2. অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
  3. মনোবল বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।

উল্লেখ্য,
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৯৪.
সুশাসনের পথে অন্তরায় শাসন ক্ষমতার -
  1. গণতন্ত্রায়ন
  2. কেন্দ্রীকরণ
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. কোনটিই না
ব্যাখ্যা
⇒ সুশাসনের পথে অন্তরায় শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- দুর্নীতিই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতি ছাড়াও আমলাতন্ত্রের প্রকোপ ও আইনের শাসন চর্চায় নানাবিধ দুর্বলতা সুশাসনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।দুর্নীতির ব্যাধি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনকেও আক্রান্ত করেছে।
- এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশের মধ্যেও দুর্নীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করেন অনেক গবেষক ও বিশ্লেষক।
- দুর্নীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানবাধিকার সংরক্ষণ, ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা, অসাম্যের মাত্রা কমানোর চ্যালেঞ্জগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৫.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  2. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  3. আইনের শাসন
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের যে উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি - জবাবদিহিতা।

সুশাসনের উপাদান:

- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

⇒ প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং,
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৯৯৬.
সুশাসনের জন্য 'উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো' এর কথা বলেছে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) জাতিসংঘ
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) ইউ.এন.ডি.পি
  4. ঘ) আই.এম.এফ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।
৯৯৭.
জনগণ, রাষ্ট্র ও ____________ সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
  1. নৈতিকতার
  2. প্রশাসনের
  3. রাজনীতির
  4. মানবাধিকারের
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৮.
সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম কে প্রবর্তন করেন?
  1. UNESCO
  2. IMF
  3. World Bank
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
• সুশাসন (Good Governance.):
- সুশাসন  অর্থ নির্ভুল, দক্ষ, কার্যকারী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় বিশ্বব্যাংক।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ”সুশাসন” প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৯৯.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে-
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) গণমাধ্যম
  3. গ) প্রশাসক
  4. ঘ) বিরোধীদল
ব্যাখ্যা
- সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে গণমাধ্যম।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে মিডিয়া তথা স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যম।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সকল কার্যক্রম প্রচার করে থাকে মিডিয়া‌।

- সংবাদপত্র - সমাজের দর্পণ স্বরুপ।
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
- সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে।
- এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১,০০০.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা?
  1. অন্য দলকে কথা বলতে না দেওয়া
  2. নিজ ধর্ম পালনের অধিকার
  3. নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার 
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝয়।

→ ভোটদানের অধিকার,
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বতিার অধিকার,
→ নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার,
→ সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।