বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ

মোট প্রশ্ন১,৬৮১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ

PrepBank · পাতা / ১৭ · ৮০১৯০০ / ১,৬৮১

৮০১.
বাংলাদেশের মোট চা বাগানের সংখ্যা কয়টি? (মে, ২০২৫)
  1. ১৬৭টি
  2. ১৬৮টি
  3. ১৬৯টি
  4. ১৭০টি
ব্যাখ্যা
চা ও চা বাগান:
- বাংলাদেশে চায়ের চাষাবাদ প্রথম শুরু হয় চট্টগ্রামে।
- বাংলাদেশে চায়ের চাষাবাদ প্রথম শুরু হয় ১৮৪০ সালে।
- বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে প্রথম চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৪ সালে।
- সিলেটের মালনিছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায়।
- বাংলাদেশের মোট চা বাগানের সংখ্যা ১৭০টি। (মে, ২০২৫)
- দেশের সর্বশেষ চা বাগান পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র- বিবিসি বাংলা, ২১ মে ২০১২, দৈনিক সমকাল, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ও বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট। (লিংক)
৮০২.
পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাটি কোনটি?
  1. এঁটেল মাটি
  2. দো-আঁশ মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. পলি মাটি
ব্যাখ্যা

পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।

তথ্যসূত্র - কৃষি শিক্ষা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৩.
'কাজলা' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. গম
  2. বেগুন
  3. ধান
  4. কলা
ব্যাখ্যা
• বেগুনের জাত:
- বাংলাদেশে বেগুনের বহু জাত রয়েছে। এক জাত থেকে অন্যজাতে গাছের প্রকৃতি, ফলের রং, আকার, আকৃতি প্রভৃতি বিষয়ে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলাদেশে প্রধানতঃ লম্বা ফল, গোলাকর ফল ও গোলাকার এই তিন ধরণের বেগুনের চাষ বেশী হয়ে থাকে।

• কিছু বেগুনের উন্নত জাত হলো:
- খটখটিয়া, ইসলামপুরী, নয়ন কাজল, কেজি বেগুন, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, শুকতারা, তারাপুরী (বারি বেগুন ২)
- কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১, লাফাফা।  

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস। 
৮০৪.
ধান উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১ম 
  2. ২য়
  3. ৩য় 
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা

ধান উৎপাদন:
- ধান উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দেশ ভারত।
- বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের ২৮% ধান উৎপাদন করে থাকে ভারত, যা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- ধান উৎপাদনে ৩য় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পরিমাণ প্রায় ৩৬.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

⇒ ধান উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দেশ:
১ম. ভারত (২৮%),
২য়. চীন (২৭%),
৩য়. বাংলাদেশ (৭%),
৪র্থ. ইন্দোনেশিয়া (৬%),
৫ম. ভিয়েতনাম (৫%)।

উৎস: USDA Foreign Agricultural Service (.govt.). [link]

৮০৫.
নিম্নের কোন স্থানে পদ্মা ও মেঘনা নদী মিলিত হয়েছে?
  1. গোয়ালন্দে
  2. চাঁদপুরে
  3. হুগলীতে
  4. দুর্লভপুরে
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী: 
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী।
- এটি হিমালয়ে উৎপন্ন গঙ্গানদীর প্রধান শাখা।
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী এই পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।
- হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় (মানাকোসা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন) বাংলাদেশে প্রবেশ করে,এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করেছে।
- গঙ্গার অন্য শাখাটি ভাগীরথী নামে ভারতে হুগলীর দিকে প্রবাহিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল হতে ২২০০ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্ব দিকে চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- সবশেষে পদ্মা-মেঘনার মিলিত প্রবাহ মেঘনা নাম ধারণ করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮০৬.
'গ্রানোলা ও বিনেলা' কোন ফসলের জাত?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) ভুট্টা
  3. গ) বাঁধাকপি
  4. ঘ) আলু
ব্যাখ্যা
গ্রানোলা ও বিনেলা হলো আলুর দুটি জাত।
আলুর অন্যান্য জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- ডায়মন্ড
- কার্ডিনাল
- আইলসা
- চমক
- ধীরা
- আরিন্দা
- রাজা
- বারাকা ইত্যাদি।

(তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং কৃষি শিক্ষা বোর্ডবই)
৮০৭.
'শুভ্রা' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. তামাক
  2. ভুট্টা
  3. টমেটো
  4. মরিচ
ব্যাখ্যা
 বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
• ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১ চান্দিনা, মালা , বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা: উন্নত জাতের ধান।
• সোনালিকা ও আকবর: উন্নত জাতের গম।
• সুমাত্রা ও ম্যানিলা: উন্নত জাতের তামাক।
• বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ: উন্নত জাতের ভুট্টা।
• মহানন্দা, ল্যাংড়া ও মােহনভােগ: উন্নত জাতের আম।
• বাহার: উন্নত জাতের টমেটো।
• যমুনা: উন্নত জাতের মরিচ।
• শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো: উন্নত জাতের বেগুন।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮০৮.
বাংলাদেশের জাতীয় ফলের নাম কী?
  1. ক) আম
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) লিচু
  4. ঘ) পেয়াঁরা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় ফল : কাঁঠাল
- জাতীয় পাখি : দোয়েল
- জাতীয় গাছ : আম গাছ
- জাতীয় মাছ : ইলিশ
- জাতীয় ফুল : শাপলা
- জাতীয় পশু : রয়েল বেঙ্গল টাইগার
- জাতীয় দিবস : ২৬শে মার্চ।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া)
৮০৯.
বাংলাদেশে আমন ধান আবাদ শুরু হওয়ার সময় কবে?
  1. জুনের শেষ থেকে  সেপ্টেম্বরের শুরু
  2. অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর
  3. মার্চের শুরু থেকে এপ্রিল
  4. নভেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
⇒ আউশ ধান = মধ্য মার্চ - মধ্য এপ্রিল।
⇒ আমন ধান =  জুনের শেষ  -সেপ্টেম্বরের শুরু।
⇒ বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর - মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
⇒ আউশ ধান = মধ্য জুলাই - আগস্টের শুরু।
⇒ আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
⇒ বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪ (বিবিএস)।

৮১০.
চলতি বছর কত হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে?
  1. ক) ৫.৯০ লক্ষ
  2. খ) ৬.৭৭ লক্ষ
  3. গ) ৮.৪৩ লক্ষ
  4. ঘ) ৬.৮২ লক্ষ
ব্যাখ্যা

চলতি বছর ৬.৮২ লক্ষ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।
- যা থেকে প্রায় ৭৭.২৫ লক্ষ বেল পাটের আঁশ উৎপাদিত হয়েছে।
- ১ বেল = ৩.৫ মণ প্রায়।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১

৮১১.
কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম? [জুলাই, ২০২৫]
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৫ম
ব্যাখ্যা
কাঁঠাল উৎপাদন:
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে ভারত।
- দেশটিতে প্রতিবছর কাঁঠালের উৎপাদন হয় ২০ লাখ মেট্রিক টন।
- কাঁঠাল উৎপাদনে ভারতের পরেই ২য় তে বাংলাদেশের অবস্থান।
- গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ১৩১ মেট্রিক টন কাঁঠাল।
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জায়গায় কাঁঠালের চাষ হয়েছে।
- বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল উৎপাদনে শীর্ষে আছে পাঁচ জেলা। সেগুলো হলো- গাজীপুর, বান্দরবান, রাঙামাটি, টাঙ্গাইল ও খাগড়াছড়ি।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]
৮১২.
'ব্রি ধান-১০০' হচ্ছে একটি -
  1. খরা সহিষ্ণু ধান
  2. জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধান
  3. লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান
  4. জিংক সমৃদ্ধ ধান
ব্যাখ্যা
জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাতসমূহ: 
- ব্রি ধান-৬২, 
- ব্রি ধান-৬৪, 
- ব্রি ধান-৭২, 
- ব্রি ধান-৭৪, 
- ব্রি ধান-৮৪, 
- ব্রি ধান-১০০ প্রভৃতি। 

খরা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ: 
- ব্রি ধান-৪৩, 
- ব্রি ধান-৫৫, 
- ব্রি ধান-৫৬, 
- ব্রি ধান-৫৭, 
- ব্রি ধান-৬৬, 
- ব্রি ধান-৭১, 
- ব্রি ধান-৮৩ প্রভৃতি। 

লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ: 
- ব্রি ধান-৬৭, 
- ব্রি ধান-৬৯, 
- বিনা ধান-১০ ইত্যাদি। 

জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ: 
- ব্রি ধান-৫১, 
- ব্রি ধান-৫২, 
- ব্রি ধান-৭৯ প্রভৃতি। 

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৮১৩.
Which is the top district in rice production according to Agricultural Statistics Year Book 2022?
  1. Thakurgaon
  2. Bogra
  3. Mymensingh
  4. Jhenaidah
ব্যাখ্যা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী:

- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- চিংড়ি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা সাতক্ষীরা। 
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা বগুড়া।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২।
৮১৪.
‘সোনালিকা’ ও ‘আকবর’ বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে কীসের নাম?
  1. ক) উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির নাম
  2. খ) উন্নত জাতের ধানের নাম
  3. গ) বেসরকারি কৃষি সংস্থার নাম
  4. ঘ) উন্নত জাতের গমের নাম
ব্যাখ্যা
- সোনালিকা ও আকবর হলো গমের দুটি জাত।
গমের অন্যান্য জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দোয়েল
- বলাকা
- কাঞ্চন
- সৌরভ
- গৌরব
- অঘ্রাণী প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র:- কৃষিশিক্ষা বোর্ড বই এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস)
৮১৫.
'সোনালিকা' কোন উন্নত জাতের ফসলের নাম?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. তামাক
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:

- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসল:
• ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১ চান্দিনা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা।
• গম: সোনালিকা ও আকবর
• তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
• আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া ও মােহনভােগ।
• টমেটো: বাহার।
• মরিচ: যমুনা।
• বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮১৬.
'বিআর ৫' জাতের ধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য -
  1. নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন
  2. খরা সহিষ্ণু
  3. জিংক সমৃদ্ধ
  4. এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জাত:

⇒ এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধানের জাত:
- বিআর ৫।

⇒ জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত হলো:
- ব্রি ধান ৬২ , ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৮৪।

⇒ খরা সহিষ্ণু ধানের জাত সমূহ হলো:
- ব্রি ধান ৪৩, ব্রি ধান ৫৫, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১ ও ব্রি ধান ৮৩।

⇒ লো জিআই বা নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন ধানের জাত:
- বিআর ১৬, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৬৯।

⇒ জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাত:
- ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৭৯।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৮১৭.
বাংলাদেশে মোট আবাদী জমি (Net Cropped Area) -
  1. ক) ৩ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৮ হাজার একর
  2. খ) ২ কোটি ৮১ হাজার একর
  3. গ) ৮২ লক্ষ ৮৪ হাজার একর
  4. ঘ) ৬৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩০৯ একর
ব্যাখ্যা
• মোট আবাদযোগ্য জমি (Gross Cropped Area) - ৩ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৮ হাজার একর।
• মোট আবাদী জমি (Net Cropped Area) - ২ কোটি ৮১ হাজার একর
• আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ (Not available for cultivation) - ৮২ লক্ষ ৮৪ হাজার একর।
• বনাঞ্চল (Forest Area) - ৬৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩০৯ একর।

সূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ – ২০২১।
৮১৮.
নিচের কোনটি আলুর উন্নত জাত?
  1. মুক্তকেশী
  2. কার্ডিনাল
  3. বাহার
  4. কাঞ্চন
ব্যাখ্যা
উন্নত জাত
- আলুর উন্নত জাত: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ড, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।

এছাড়াও - ঝুমকো
- বেগুনের উন্নত জাত: শুকতারা, তারাপুরী, ইওরা ,ইসলামপুর্‌, খটখটিয়া, শিংনাথ, , মুক্তকেশী, কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১।
- টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা। 
- গমের উন্নত জাত: বলাকা, দোয়েল, , আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮১৯.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী, ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ঝিনাইদহ
  2. দিনাজপুর
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী:
শীর্ষ জেলা:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

শীর্ষ বিভাগ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রাজশাহী।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ ঢাকা।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ সিলেট।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
৮২০.
প্রদীপ কোন ফসলের জাত?
  1. গম
  2. মরিচ
  3. আলু
  4. বেগুন
ব্যাখ্যা
বারি গম ২৪ (প্রদীপ):
আঞ্চলিক নামঃ প্রদীপ
অবমূক্তকারী প্রতিষ্ঠানঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
জীবনকালঃ ১০২-১১০ দিন দিন।
জাত এর বৈশিষ্টঃ
১। গাছের উচ্চতা ৯৫-১০০ সেমি.।
২। কুশির সংখ্যা ৫-৬ টি।
৩। দানা আকারে বড়।
৪। প্রতি শীষে ৪৫-৫৫ টি দানা থাকে।
৫। হাজার দানার ওজন ৩৮-৪২ গ্রাম।
৬। পাতা ও কান্ডের মরিচা রোগ প্রতিরোধী।
৭। শীষ বের হতে ৬৪-৬৬ দিন সময় লাগে।

তথ্যসূত্র: কৃষি বাতায়ন।
৮২১.
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. কুষ্টিয়া
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত।
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫১ সালে প্রথম ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে এ কেন্দ্রটিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন তৎকালীন বাংলাদেশ চিনিকল সংস্থার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
- এ সংস্থাটি ১৯৭৪ সালে ‘‘ ইক্ষু গবেষণা ইন্সটিটিউট’’ নামে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করে।
- মূলত এ ইন্সটিটিউট হতে দু’ধরনের কাজ সম্পাদিত হয়,
(ক) ইক্ষুর উন্নত জাত ও উন্নত উৎপাদন কলা কৌশল উদ্ভাবন।
(খ) উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও উন্নত উৎপাদন কলা-কৌশলসমূহ ইু চাষীদের মধ্যে বিস্তার ঘটানো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৮২২.
BADC এর কাজ কী?
  1. সেবা উন্নয়ন
  2. কৃষি উন্নয়ন
  3. শিল্পোন্নয়ন
  4. চিকিৎসা উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
BADC:

- বাংলাদেশের প্রধান সরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)।
- এটি কৃষি উপকরণ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান৷
- এর অংশ হিসেবে BADC বিভিন্ন ফসলের উফশী বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার সরবরাহ করে থাকে।
- ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশ স্বাধীনের পর BADC নামধারণ করে।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - BADC ওয়েবসাইট।
৮২৩.
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ধানের কোন জাতটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু?
  1. ব্রি ধান - ৭৪
  2. ব্রি ধান - ৬২
  3. ব্রি ধান - ৪৭
  4. ব্রি ধান - ৭১
ব্যাখ্যা
- ২০০৬ সালে জাতটি চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে।
- ব্রি ধান ৪৭ বাংলাদেশের লবণাক্ত এলাকায় বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে।

জাতের বৈশিষ্ট্য: 
- এটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত। 
- গাছের উচ্চতা ১০৫ সেমি।
- ডিগ পাতা চওড়া, লম্বা ও খাড়া।
- চাল মাঝারি মোটা এবং পেটে সাদা দাগ আছে।
- এ জাতটি চারা অবস্থায় উচ্চ মাত্রা (১২-১৪ ডিএস/মিটার) লবণাক্ততা সহনশীল।
- বয়স্ক অবস্থায় নিম্ন হতে মধ্যম মাত্রা (৬ ডিএস/মিটার) লবণাক্ততা সহনশীল।
- এ জাতের জীবনকাল ১৫২ দিন।  

- ৪টি খরা সহনশীল আমন ধানের জাত যথা ব্রি ধান - ৫৬, ব্রি ধান - ৫৭, ব্রি ধান -৬৬, ব্রি ধান -৭১।
- দুটি জিংক সমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান- ৬২ এবং ব্রি ধান- ৭২।

সূত্র: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
৮২৪.
বর্তমানে দেশের কত শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের কোনো জমি নেই? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ৪৪ শতাংশ
  2. ৪৮ শতাংশ
  3. ৫২ শতাংশ
  4. ৫৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা
কৃষি নির্ভর পরিবার:
- গ্রামীণ কৃষি খাতে নিয়োজিত বেশিরভাগ পরিবার এখন ভূমিহীন।
- ৫৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের কোনো জমি নেই।
- সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভূমিহীন পরিবার রয়েছে, আর খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ভূমিহীন পরিবার রয়েছে।
- ভূমিবণ্টন ব্যবস্থার এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে।

উৎস: i) আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই)।
ii) কালের কন্ঠ। [link]
৮২৫.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান কত?
  1. ৮.১৯%
  2. ৯.৩২%
  3. ১০.৫৫%
  4. ১১.৭৩%
ব্যাখ্যা

মৎস্য উৎপাদন:
- মোট মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৫০,১৮,৪৮৩ মে.টন।
- মিঠা পানিতে উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।
- লোনা পানিতে উৎপাদনের পরিমাণ: ৬,২৮,৬২৩ মে.টন।

• ইলিশ - ১০.৫৫%।
• চিংড়ি - ৫.১৯%।
• মেজরকার্প (রুই, কাতলা, মৃগেল) - ২২.৬৪%।
• এক্সটিককার্প (সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, ইত্যাদি) - ১১.৩০%।
• অন্যান্যকার্প (কালিবাউস, বাটা, ঘনিয়া) - ৩.১৩%।
• তেলাপিয়া - ৮.৭৬%।

মিঠা পানির মাছ উৎপাদন:
- মিঠা পানিতে উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।

শীর্ষ জেলা:
১. ময়মনসিংহ - ৩,৪৫,০০১ মেট্রিক টন।
২. কুমিল্লা - ৩,১৫,৪৫৭ মেট্রিক টন।
৩. যশোর - ২,৪৮,০৮৯ মেট্রিক টন।

শীর্ষ বিভাগ:
১. চট্টগ্রাম - ৮,৮০,৭৯৭ মেট্রিক টন।
২. খুলনা - ৮,২২,৩৬১ মেট্রিক টন।
৩. রাজশাহী - ৫,৭৬,৮৩০ মেট্রিক টন।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৮২৬.
আলুর একটি জাতের নাম -
  1. রূপালী
  2. ডায়মন্ড
  3. ড্রামহেড
  4. ব্রিসাইল
ব্যাখ্যা
• আলুর উন্নত জাত:- হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী, সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• তুলার উন্নত জাত:- রুপালী ও ডেলফোজ।
• ড্রামহেড, গ্রীন এক্সপ্রেস ও গোল্ডেন ক্রস হচ্ছে উন্নত জাতের বাঁধাকপি।
• উন্নত জাতের ধান:- ময়না,হীরা,মালা,ইরাটম,চান্দিনা,ব্রিশাইল,সুফলা,হরিধান।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮২৭.
নিচের কোনটি বিশ্ব বাজারে কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত?
  1. তামাক
  2. ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল
  3. চা
  4. পাট
ব্যাখ্যা
কুষ্টিয়া গ্রেড:
- বাংলাদেশে পালিত ছাগলের প্রায় নব্বই ভাগই হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।
- এই জাতের ছাগলের চামড়া অত্যন্ত উন্নত মানের এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ব্যতীত ছাগলের অন্যান্য জাতের মধ্যে যমুনাপারি বা রামছাগল, কাশ্মিরী, বারবারি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- দেশের সর্বত্রই এই জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে কৃষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে এই ছাগলের পালন সর্বাধিক হয়।
- যার কারণে বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮২৮.
জুটিন (Jutin) এর আবিষ্কারক-
  1. ক) ড. আব্দুল খালেক
  2. খ) ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
  3. গ) ড. মোবারক আহমেদ খান
  4. ঘ) ড. মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান। পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin)।
তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস। তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।
জুটন এর আবিষ্কারক- ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ। পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কার করেন – ড. মাকসুদুল আলম। স্বর্ণা সার আবিষ্কার করেন ড. আব্দুল খালেক।
[সূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ডিসেম্বর- ২০১৯]
৮২৯.
বাংলাদেশের কৃষি কোন প্রকারের?
  1. স্বয়ংভোগী শস্য চাষ ও পশুপালন
  2. ধান-প্রধান বাণিজ্যিক
  3. স্বয়ংভোগী মিশ্র
  4. ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষি ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী প্রকারের।

স্বয়ং ভোগী কৃষি ব্যবস্থা:

- শুধুমাত্র মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে যে ব্যববস্থা করে থাকে তাকেই স্বয়ং ভোগী চাষ ব্যবস্থা বলে। 

⇒ ধান প্রধান নিবিড় কৃষি ব্যবস্থা:
- আর্দ্র মৌসুমী ভাবাপন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, ময়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান, উত্তর ও দক্ষিন কোরিয়া প্রভৃতি দেশে নিবিড় কৃষি ব্যবস্থা চালু আছে।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩০.
চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত কোন মৌসুম?
  1. রবি মৌসুম
  2. খরিপ-১ মৌসুম
  3. খরিপ-২ মৌসুম
  4. বর্ষা মৌসুম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ফসল উৎপাদন:

- বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য জলবায়ুর ভিত্তিতে সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
যথা:- রবি বা শীতকালীন মৌসুম এবং খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম।
- রবি মৌসুম সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ শস্য মূলত গ্রীষ্মকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
- খরিপ-১: চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়।
- খরিপ-২: আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ মৌসুম বা বর্ষাকাল বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

৮৩১.
কোন্ ফসলটি রপ্তানী বহুমুখীকরনে সম্ভাবনাময়?
  1. আউশ ধান
  2. তেলবীজ
  3. পাট
  4. আলু
ব্যাখ্যা

→ আলু রপ্তানী বহুমুখীকরনে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফসল।

♦ ফসল রপ্তানী বহুমুখীকরণ:
- একটি দেশের রপ্তানি খাতে শুধুমাত্র এক বা কয়েকটি প্রধান ফসল এর ওপর অত্যধিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও উচ্চমূল্যের ফসল রপ্তানি বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে ফসল রপ্তানী বহুমুখীকরণ বলে।
- কৃষি পণ্যের মধ্যে বর্তমানে আলু সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়।
- বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে।
- যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ টন বেশি।
- কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) আলুকে রপ্তানিমুখী ফসল হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে বিশেষ রোডম্যাপ, প্রশিক্ষণ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ (GAP, Phytosanitary certificate) এবং আলু উৎসবের মতো কর্মসূচি চালাচ্ছে।
- বাংলাদেশ বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী দেশ এবং এশিয়া মহাদেশে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য়।
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে আলু রপ্তানি শুরু হয় ১৯৯৯ সালে।
- বাংলাদেশ থেকে ১৪টি দেশে আলু রপ্তানি করা হয়।
- সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপালে আলু রপ্তানি করা হচ্ছে।
- মোট রপ্তানিকৃত আলুর ৮০ শতাংশ রপ্তানি করা হয় মালয়েশিয়াতে।
- ২০২৪ অর্থ বছরে সবোর্চ্চ ৬২ হাজার ১৩৫ টন আলু রপ্তানি হয়েছে।


Img Source: The Financial Express

পাট কেন নয়?
→ কারণ পাট রপ্তানিযোগ্য হলেও, এই প্রশ্নে মূলকথা হচ্ছে “রপ্তানি বহুমুখীকরণে (নতুন/উদীয়মান) সম্ভাবনাময় ফসল”—সেই দৃষ্টিতে আলু বেশি প্রাসঙ্গিক।
→ পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত/প্রচলিত রপ্তানি খাত। এটা বহুমুখীকরনের নতুন পণ্য নয়; বরং পুরনো প্রতিষ্ঠিত পণ্য।
→ পাট রপ্তানি আয় ক্রমহ্রাসমান। 

Img Source: The Daily Star 

♦ উল্লেখ্য:

- আউশ ধান: খাদ্য নিরাপত্তার ফসল। রপ্তানি প্রায় নেই।
- তেলবীজ: এখনো আমদানি নির্ভরতা বেশি। রপ্তানির জন্য প্রস্তুত নয়।
- পাট: ইতোমধ্যে রপ্তানি হয় (পাট ও পাটজাত পণ্য), নতুন বহুমুখীকরণের জন্য 'সম্ভাবনাময়' নয়।

তথ্যসূত্র - কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রিপোর্ট।

৮৩২.
'বলাকা' ও 'কাঞ্চন' বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে কোন ফসলের নাম? 
  1. গম
  2. ভুট্টা
  3. ধান
  4. মরিচ 
ব্যাখ্যা

উন্নত জাতের ফসল: 
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে।
- ফসলের উন্নত জাত উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। 
- বলাকা ও কাঞ্চন হচ্ছে- গমের উন্নত জাত। 
- গমের আরও কিছু উন্নত জাত হচ্ছে- দোয়েল, শতাব্দী, অগ্রণী, সোনালিকা, আনন্দ, আকবর ইত্যাদি। 
------------------------------------------------------------
অন্যদিকে,  
• উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি, ব্রিশাইল,সোনার বাংলা, টিয়া, ময়না, ঝলক, বিজলি, মধুমতি ইত্যাদি।
• উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
------------------------------------
উল্লেখ্য, 
- কিছু ফসলের উন্নত জাত:
• উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৩৩.
খরা সহিষ্ণু ধানের জাত কোনটি?
  1. ব্রি ধান ৪৩
  2. ব্রি ধান ৫৫
  3. ব্রি ধান ৬৬
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জাত:
- জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত হলো: ব্রি ধান ৬২ , ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৮৪।
- খরা সহিষ্ণু ধানের জাত সমূহ হলো: ব্রি ধান ৪৩, ব্রি ধান ৫৫, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১ ও ব্রি ধান ৮৩।
- এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধানের জাত: বিআর ৫।
- লো জিআই বা নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন ধানের জাত: বিআর ১৬, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৬৯।
- জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাত: ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৭৯।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৮৩৪.
কোন ধানের জাতটি ডায়াবেটিক ধান নামে পরিচিতি?
  1. ক) ব্রি ধান-১০৩
  2. খ) ব্রি ধান-১০৭
  3. গ) ব্রি ধান-১০৫
  4. ঘ) বিআর-২৪
ব্যাখ্যা
• ডায়াবেটিক ধান:
- জিআই ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কেলে খাবারের র‍্যাঙ্ক তৈরি করে।
- স্কোরগুলো রক্তের চিনির মাত্রায় খাবারের প্রভাব নির্দেশ করে।
- গ্লাইসেমিক সূচক কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারকে ৩টি সাধারণ ভাগে বিভক্ত করে।
- এগুলো হচ্ছে-উচ্চ (৭০ ও তার বেশি), মাঝারি (৫৬ থেকে ৬৯) এবং নিম্ন (৫৫ ও এর নিচে)।
- ব্রি ধান ১০৫ এর জিআই স্কোর ৫৫।
- বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী ব্রি ধান ১০৫ থেকে পাওয়া চালে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং সে কারণেই একে ‘ডায়াবেটিক ধান’ বলা হচ্ছে।
- ব্রি ১০৫ ধানটির গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৭ দশমিক ৬ টন হলেও উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে সাড়ে আট টন পর্যন্ত ফলন বাড়তে পারে।

উৎস: Daily star বাংলা এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৮৩৫.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী, চার ফসলি জমির পরিমাণ কত?
  1. ৫০,০০০ একর
  2. ৫১,০৩৪ একর
  3. ৫২,৬৪০ একর
  4. ৫৩,৮০১ একর
ব্যাখ্যা
আবাদী ও অনাবাদী জমি:
- আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ ৮২, ৯০,০০০ একর।
- মোট আবাদযোগ্য জমি ৩,৯৩,৫৮,০০০ একর।
- এক ফসলি জমি ৫০,৮৪,০০০ একর।
- দুই ফসলি জমি ১,০১,৪৯,০০০ একর।
- তিন ফসলি জমি ৪৫,৯২,০০০ একর।
- চার ফসলি জমি ৫০,০০০ একর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
৮৩৬.
বাংলাদেশে মোট আবিষ্কৃত কয়লাক্ষেত্র-
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
কয়লাক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে ৫টি; বড়পুকুরিয়া, দীঘিপাড়া, ফুলবাড়ি, খালাসপীর ও জামালগঞ্জ।
- আবিষ্কৃত ৫টি কয়লাক্ষেত্রে কয়লার মোট মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ৭,৮২৩ মিলিয়ন টন (যা প্রায় ১৮৫ টিসিএফ প্রাকৃতিক গ্যাস সমতুল্য)।
- মজুদকৃত কয়লা থেকে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত উত্তোলিত মোট কয়লার পরিমাণ আনুমানিক ১৩.৪৭ মিলিয়ন টন।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ইট তৈরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার রয়েছে।
- বর্তমানে প্রতিবছর ০.৮ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র থেকে 'ভূ-গর্ভস্থ খনি পদ্ধতি'তে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে খনি এলাকায় ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
- উক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
৮৩৭.
'গোল্ডেন ক্রস' কোন ফসলের জাত?
  1. আলু
  2. বাঁধাকপি
  3. পেঁয়াজ
  4. তামাক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষিতে কয়েকটি জাতঃ
- উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত - হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।
- উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত - গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।
- উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত - বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৮৩৮.
গম রোপণের উপযুক্ত সময়কাল কোনটি?
  1. মধ্য নভেম্বর - মধ্য জানুয়ারি
  2. নভেম্বর - ডিসেম্বর
  3. মধ্য অক্টোবর – ডিসেম্বরের শেষ
  4. মধ্য আগস্ট – মধ্য অক্টোবর
ব্যাখ্যা

উৎসঃ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ – ২০২০।
৮৩৯.
বাংলাদেশে বীজের মান নিয়ন্ত্রণ করে কোন সংস্থা?
  1. SCA
  2. AIS
  3. BRRI
  4. BADC
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশে বীজের মান নিয়ন্ত্রণ করে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (Seed Certification Agency)। এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি সংস্থা, এটি নিয়ন্ত্রিত ফসলের বীজ পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন করে।

SCA:
- এর পূর্ণরূপ Seed Certification Agency বা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বীজের মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যয়নের উদ্দেশ্যে।
- এটি সরকার ও বেসরকারি খাতে উৎপাদিত নোটিফাইড ফসলের (যেমন ধান, গম, পাট, আলু) বীজ মাঠ পরিদর্শন, পরীক্ষা ও ট্যাগ ইস্যুর মাধ্যমে মান নিশ্চিত করে।
- জাতীয় বীজ নীতি-১৯৯৩, বীজ আইন-২০১৮ এবং বীজ বিধিমালা-২০২০ অনুসারে এজেন্সীর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও চাষীদের উৎপাদিত বীজেও সেবা প্রদান করে, আমদানিকৃত বীজও পরীক্ষার আওতায় আনে।
- এছাড়া বীজের মান পরীক্ষা করে ভ্যারাইটি অবমুক্তকরণ ও নিবন্ধন, বীজের মান পরীক্ষা, ট্যাগ প্রদান প্রভৃতি কাজও করে।

সূত্র: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী ওয়েবসাইট। 

৮৪০.
কৃষি জমিতে কোন সার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) ডিএপি
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) জিংক সালফেট
ব্যাখ্যা
কৃষি জমিতে ব্যবহৃত সারগুলোর মধ্যে - 
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় - ইউরিয়া।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ- ডিএপি।
- বাংলাদেশের কৃষিতে ২০২১-২২ অর্থ বছরে মোট রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়-৫৬৯১.৫০ হাজার মেট্রিক টন।

তথ্যসূত্র: অথনৈতিক সমীক্ষা-২০২২
৮৪১.
মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. ক) শশাঙ্ক
  2. খ) গণেশ
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) গোপাল
ব্যাখ্যা
- ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
- পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়।
- ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
- ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৪২.
সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের রিপোর্ট অনুসারে, মোট মাছ উৎপাদনে ইলিশের পরিমাণ কত শতাংশ? (জানুয়ারি, ২০২৬)
  1. ৯.৮২%
  2. ১০.৫৫%
  3. ১১.৯৬%
  4. ১২.৪৭%
ব্যাখ্যা

⇒ মৎস্য উৎপাদন:
- মোট মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৫০,১৮,৪৮৩ মে.টন।
- মিঠা পানিতে উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।
- লোনা পানিতে উৎপাদনের পরিমাণ: ৬,২৮,৬২৩ মে.টন।

⇒ ইলিশ: ১০.৫৫%।
⇒ চিংড়ি: ৫.১৯%।
⇒ মেজরকার্প (রুই, কাতলা, মৃগেল): ২২.৬৪%।
⇒ এক্সটিককার্প (সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, ইত্যাদি): ১১.৩০%।
⇒ অন্যান্যকার্প (কালিবাউস, বাটা, ঘনিয়া): ৩.১৩%।
⇒ তেলাপিয়া: ৮.৭৬%।

⇒ মিঠা পানির মাছ উৎপাদন:
- মিঠা পানিতে উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।

♠ শীর্ষ জেলা:
১. ময়মনসিংহ: ৩,৪৫,০০১ মেট্রিক টন।
২. কুমিল্লা: ৩,১৫,৪৫৭ মেট্রিক টন।
৩. যশোর: ২,৪৮,০৮৯ মেট্রিক টন।

♠ শীর্ষ বিভাগ:
১. চট্টগ্রাম: ৮,৮০,৭৯৭ মেট্রিক টন।
২. খুলনা: ৮,২২,৩৬১ মেট্রিক টন।
৩. রাজশাহী: ৫,৭৬,৮৩০ মেট্রিক টন।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৮৪৩.
মোট আবাদকৃত জমির কত শতাংশে খাদ্যশস্য চাষ করা হয়?
  1. ক) ৭০.৫২%
  2. খ) ৭৫.৮৮%
  3. গ) ৭৭.৩১%
  4. ঘ) ৮৩.৯৮%
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের চাষ:

- খাদ্যশস্য (Cereals) - ৭৭.৩১%
- আঁশজাতীয় ফসল (Fibre) - ৪.৩৫% 
- তৈলবীজ (Oilseeds) - ৩.০৯% 
- মসলা (Spices) - ২.৫৩%
- ফল (Fruits) - ২.৪৮%
- ডাল (Pulses) - ২.৩০%
- ভেষজ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য (Drug and Narcotics) - ১.০২% 
- চিনি জাতীয় ফসল (Sugar Crops)- ০.৯৭% 

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২।
৮৪৪.
"AWD" এর পূর্ণরূপ কি?
  1. Alternative Weather Design
  2. Alternate Wetting and Drying
  3. Awareness on Wetting and Drying
  4. Alternative Wetting and Drying
ব্যাখ্যা
AWD:
- ধান উৎপাদনে সেচের পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি (AWD).
- 'AWD' এর পূর্ণরূপ Alternate Wetting and Drying.
- ধান উৎপাদনে পানি বা সেচ প্রদান আবশ্যক।
- সেচের পানির আধিক্যে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রোগ পোকার আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
- জলাবদ্ধ জমিতে বাদামি গাছ ফড়িং, চুঙ্গি পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
- জমিতে পানি আটকে থাকলে ধান গাছে কুশি উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এডব্লিউডি খুবই লাগসই পানিসাশ্রয়ী একটি প্রযুক্তি।
- 'AWD' প্রযুক্তি হলো জমিকে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানোর মাধ্যমে ধানক্ষেতে প্রয়োজনমত নিয়ন্ত্রিত সেচ দেয়া।
- এ পদ্ধতিতে সেচ দিলে ধানক্ষেতে ২৮% পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
- সেচের পানি সাশ্রয়ী পাইপ পদ্ধতি ধানক্ষেতে একটি ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক  বা বাঁশের পাইপ বসিয়ে মাটির ভেতরের পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনমতো সেচ দেয়াই হলো এ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
৮৪৫.
পাখি ছাড়া বলাকা কি ?
  1. ক) উন্নত জাতের ধান
  2. খ) উন্নত জাতের আলু
  3. গ) উন্নত জাতের গম
  4. ঘ) উন্নত জাতের ভুট্টা
ব্যাখ্যা

 বলাকা একটি উন্নত জাতের গম। 

 -কয়েকটি উন্নত জাতের গমের নাম:বলাকা, দোয়েল , সোনালিকা, আকবর , আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ।

উৎস:bari.gov.bd

৮৪৬.
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. পাবনা
  4. নাটোর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- যা দেশের প্রধান খাদ্য ধান উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে কাজ করছে।
- গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে এর যাত্রা শুরু।
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এ প্রতিষ্ঠানের নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, যা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত।
- এ প্রতিষ্ঠানের ১৯টি গবেষণা বিভাগ, ১৭টি আঞ্চলিক কার্যালয়, ০৬টি স্যাটেলাইট চ্যানেল, তিনটি সাধারণ সেবা এবং আটটি প্রশাসনিক শাখা রয়েছে।
- নতুন ধান জাত উদ্ভাবনের গবেষক এবং উৎপাদন অন্যান্য প্রকৌশলীরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্রি সদর দপ্তরে কাজ করছে। এ
- দেশের কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, সুনামগ কক্সবাজার এবং খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৮৪৭.
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের 'সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)
⇨ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
⇨ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇨ ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তর ময়মনসিংহে অবস্থিত।
⇨ ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র ও ৫টি উপকেন্দ্র হতে পরিচালিত হয়ে থাকে। গবেষণা কেন্দ্রগুলাে হচ্ছে -
• স্বাদুপানি কেন্দ্র, ময়মনসিংহ;
• নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর;
• লােনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছা, খুলনা;
সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার এবং
• চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র, বাগেরহাট।   

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ওয়েবসাইট।
৮৪৮.
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) আওতায় কতটি দানা শস্য বীজ উৎপাদন খামার রয়েছে?
  1. ক) ২০
  2. খ) ২২
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ২৮
ব্যাখ্যা

BADC এর আওতায় ২৪ টি দানা শস্য বীজ উৎপাদন খামার, ২ টি পাট বীজ উৎপাদন খামার, ২ টি আলু বীজ উৎপাদন খামার, ৪টি ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন খামার ও ১১১ টি চুক্তিবদ্ধ চাষীজোন রয়েছে, যার সাহায্যে বীজ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।

৮৪৯.
শীতকালীন ফসল উৎপাদনের মৌসুম কোনটি?
  1. শ্রাবণ-ভাদ্র
  2. বৈশাখ-আষাঢ়
  3. অগ্রহায়ণ-চৈত্র
  4. আশ্বিন-ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রধানত দুটো মৌসুমে ফসল উৎপাদিত হয়। একটি হলো খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন এবং অপরটি হলো রবি বা শীতকালীন।
- আশ্বিন থেকে ফাল্গুন বা অক্টোবর থেকে মার্চ সময়েকে রবি মৌসুম ধরা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি রবি মৌসুমের প্রধান ফসল।
- এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ, টমেটো, গাজর, আলু প্রভৃতির চাষাবাদও রবি মৌসুমে হয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ কৃষি শিক্ষা বোর্ডবই)
৮৫০.
বীজ সংরক্ষনের জন্য সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি কোনটি?
  1. বায়ুরোধী প্লাষ্টিক কনটেইনার
  2. মাটির মটকা
  3. চটের বস্তা
  4. বাশের তৈরি বেড়
ব্যাখ্যা
বীজ সংরক্ষণ:
- মানসম্পন্ন বীজ প্রাপ্তির জন্য ফসল বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
- বীজ উৎপাদনের জন্য বীজের প্রাথমিক উৎস এলাকার জলবায়ু, মাটি, সার প্রয়োগ, বপন সময়, বীজ হার, নিরাপদ দুরত্ব, রোগিং, কর্তন সময় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
- মাঠ পর্যায়ে যথাযথ পরিচর্যা সম্পন্ন করে ভাল বীজ উৎপাদন করা হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের যে কোন ধাপে মান হ্রাস পেতে পারে।
- তাই উপযুক্ত সময় ও পদ্ধতিতে মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো ও উপযুক্ত পাত্রে সংরক্ষন নিশ্চিত করতে হবে। বায়ুরোধী প্লাষ্টিক কনটেইনার, ব্যাগ, ড্রাম, কাচের বৈয়ম প্রভৃতিতে উপযুক্ত আর্দ্রতার বীজ পাত্র ভর্তি করে সংরক্ষণ করলে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভালো রাখা সম্ভব।

তথ্যসূত্র - কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
বাংলাদেশে প্রথম কোথায় বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ হয়?
  1. ক) রাঙামাটিতে
  2. খ) হবিগঞ্জে
  3. গ) মালনীছড়া
  4. ঘ) মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা
চা শিল্প:
- ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়।
- তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়।
- কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেখানে চা চাষ বিলম্বিত হয়।
- ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত।
- এই বাগানটিও প্রতিষ্ঠার পরপরই বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- অতঃপর ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মতান্তররে ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মূলতঃ মালনীছড়াই বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান।
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চা বাগানসমূহ প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
- দেশ স্বাধীনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র দুইটি জেলায় চা আবাদ করা হতো।
- একটি সিলেট জেলায় যা ‘সুরমা ভ্যালি' নামে পরিচিত ছিল, আর অপরটি চট্টগ্রাম জেলায় যা ‘হালদা ভ্যালি' নামে পরিচিত ছিল।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ টি রিসার্চ স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে উন্নীত করেন।
- বর্তমানে তা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) নামে পরিচিত।
-  ২০২১ সাল থেকে ৪ জুন জাতীয় চা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। 

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।
৮৫২.
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘White Gold’ নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) পাট
  2. খ) ইলিশ
  3. গ) কাঁকড়া
  4. ঘ) চিংড়ি
  5. ঙ) আলু
ব্যাখ্যা
Commercial shrimp in Bangladesh is locally known as ''white gold'' because of its high transnational value. ... Because the rural economy is increasingly linked to the global shrimp commodity chain, it has generated significant changes in the environmental and agrarian landscapes of rural Bangladesh.
৮৫৩.
চলতি অর্থবছরে কত লক্ষ হেক্টর জমি পানি সেচের আওতায় এসেছে?
  1. ক) ৬০.৪৩
  2. খ) ৫৬.৩০
  3. গ) ৪৯.৯৮
  4. ঘ) ৬৫.২৩
ব্যাখ্যা

চলতি বছর ৫৬.৩০ লক্ষ হেক্টর জমি পানি সেচের আওতায় এসেছে যা গত বছরের(৫৬.২৭ লক্ষ হেক্টর) তুলনায় ০.০৩ লক্ষ হেক্টর বেশি ।
- বর্তমানে পানি সেচ দেওয়ার মাধ্যমগুলোতে হল: গভীর নলকূপ, উন্মুক্ত জলাশয়, অগভীর নলকূপ/ সারফেস ওয়াটার ইত্যাদি।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১

৮৫৪.
খরা সহিষ্ণু ধানের জাত নয় কোনটি?
  1. ব্রি ধান ৪৩
  2. ব্রি ধান ৫২
  3. ব্রি ধান ৫৭
  4. ব্রি ধান ৬৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জাত:
- খরা সহিষ্ণু ধানের জাত সমূহ হলো: ব্রি ধান ৪৩, ব্রি ধান ৫৫, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১ ও ব্রি ধান ৮৩।
- জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত হলো: ব্রি ধান ৬২ , ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান  ৭৪, ব্রি ধান ৮৪।
- এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধানের জাত: বিআর ৫।
- লো জিআই বা নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন ধানের জাত: বিআর ১৬, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৬৯।
- জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাত: ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৭৯।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৮৫৫.
সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়াশ্রম কোনটি?
  1. সাঙ্গু নদী
  2. পদ্মা নদী
  3. তিস্তা নদী
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে হালদা নদী। 
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৮৫৬.
স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে কৃষি শুমারি হয় কয়বার?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ৪ বার
  3. গ) ৫ বার
  4. ঘ) ৬ বার
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারি হয় ১৯৭৭ সালে।
• তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
• কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩ টি। যথা- শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ।

• বাংলাদেশে মোট কৃষিশুমারি হয় ৫টি। এগুলো হল - 
- প্রথম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৮৩-৮৪ সালে।
- তৃতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৯৬ সালে।
- চতুর্থ কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০০৮ সালে।
- পঞ্চম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০১৯ সালে।

• সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
• এই শুমারির স্লোগান ছিল 'কৃষি শুমারি সফল করি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি'।
• বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

তথ্যসূত্র: কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং বিবিএস।
৮৫৭.
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
  1. কৃষি মন্ত্রণালয়
  2. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
  3. তথ্য মন্ত্রণালয়
  4. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• স্পারসো:
​- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
​- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।
​- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
​- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
​- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা স্পারসোকে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়।
​- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
​- মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, বন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ ও বায়ুমন্ডল, পানিসম্পদ বিষয়ে গবেষণার দ্বারা নিজস্ব সক্ষমতা উন্নীতকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবীক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

উৎস: স্পারসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৮৫৮.
চা কোন অঞ্চলের উদ্ভিদ?
  1. নাতিশীতোষ্ণ
  2. মৌসুমী
  3. ক্রান্তীয়
  4. ভূমধ্যসাগরীয়
ব্যাখ্যা

চা প্রধানত ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলের ফসল।
- চা বলতে সচরাচর সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরনের উষ্ণ পানীয়কে বোঝায় যা চা পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরী করা হয়। 
- চা গাছ থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। চা গাছেরবৈজ্ঞানিক নাম: ক্যামেলিয়া সিনেনসিস।
- 'চা পাতা' কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়।
- ইংরজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি (tea)। গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। - চীনে ‘টি’-এর উচ্চারণ ছিল ‘চি’, পরে হয়ে যায় ‘চা’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৫৯.
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. ঢাকা
  3. পঞ্চগড়
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নামে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে।
- গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো ধান নিয়ে গবেষণা করা।
- নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবন, রোগ নির্ণয়, মৃত্তিকার ধরণ অনুযায়ী ধানের জাত উদ্ভাবন, পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ধান রক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সার ব্যবহারের পরিমাণ নির্ধারণ, শস্য সংগ্রহের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তর করা, প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬০.
‘তাহেরপুরী’ কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. কলা
  2. আম
  3. বাঁধাকপি
  4. পেঁয়াজ
ব্যাখ্যা
‘তাহেরপুরী’ পেঁয়াজের উন্নত জাত।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

অন্যদিকে, 
উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৮৬১.
নিচের কোনটি কৃষির উপখাত নয়?
  1. খনিজ সম্পদ
  2. মৎস সম্পদ
  3. বনজ সম্পদ
  4. শস্য ও শাকসবজি
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ কৃষির উপখাত নয়।

কৃষির উপখাত:

- বাংলাদেশের কৃষির ৪টি উপখাত রয়েছে। যথা:
• শস্য ও শাকসবজি,
• প্রাণি সম্পদ,
• বনজ সম্পদ,
• মৎস সম্পদ।

⇒ শস্য ও শাক-সবজি (Crops and vegetables):
- এটি বাংলাদেশের কৃষির সর্ববৃহৎ উপখাত।
- এ খাতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য শস্য যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ, বাদাম, পিয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি যেমন লাল শাক, পালং শাক, পটল, ঢেরস, করলা, লাউ, বেগুন, শসা, টমেটো, কপি ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।
- তাছাড়া এ উপখাতে বিভিন্ন ধরনেরর অর্থকারী ফসল যেমন পাট, চা, আখ, তামাক, রেশম, তুলা, রবার ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।

⇒ প্রাণিসম্পদ (Livestock):
- গৃহে পালিত নানাজাতীয় পশু-পাখি নিয়েই বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ উপখাত গঠিত।
- গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর প্রভৃতি এদেশের প্রাণিসম্পদের অন্তর্ভূক্ত।
- প্রাণি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত মাংস, দুধ, ডিম, ইত্যাদি মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে।
- তাছাড়া চাষাবাদ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চামড়া ও চমড়া জাতীয় দ্রব্যদি উৎপাদন ও রপ্তানিতে এ উপখাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ বনজ সম্পদ (Forest Resources):
- এটি আমাদের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত।
- বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডের শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ জুড়ে বন রয়েছে।
- বনে সুন্দরি, গড়ান, গেওয়া, কেওড়া, শাল, গর্জন, গামাড়ি, গোলপাতা প্রভৃতি গাছ জন্মে।
- এগুলো থেকে দেশের কাঠের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় এবং কয়েকটি শিল্পের কাঁচামালের যোগান আসে।
- জ্বালানি কাঠ, বাঁশ, বেত, মোম, মধু, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, ইত্যাদি এ উপখাত থেকে পাওয়া যায়।

⇒ মৎস্য সম্পদ (Fisheries):
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশ সরকার একে একটি পৃথক খাত হিসেবে গণ্য করেছে।
- তবে সার্বিক বিবেচনায় এ খাতও কৃষিখাতের অন্তর্ভূক্ত।
- বাংলাদেশের অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।
- এছাড়াও দেশের সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ আহরিত হয়।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬২.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কোন জেলায় অর্গানিক চা উৎপাদন করা হয়?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- অর্গানিক চা হলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত চা।
- অর্থাৎ অর্গানিক চা চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলাদেশে ২০০০ সালের দিকে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেটের মাধ্যমে তেতুঁলিয়ায় প্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে অর্গানিক চায়ের চাষ হচ্ছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৮৬৩.
জাতীয় পাট দিবস পালিত হয় -
  1. ৪ মার্চ
  2. ৬ মার্চ
  3. ৪ জুন
  4. ৬ জুন
ব্যাখ্যা
জাতীয় পাট দিবস:
- জাতীয় পাট দিবস পালিত হয় ৬ মার্চ।

⇒ পাট:
- পাট এক ধরনের কৃষিপণ্য।
- পাট একটি বর্ষাকালীন ফসল।
- এর জীবনকাল ১০০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত।
- বাংলাদেশে পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে।
- পাট বাংলার শত বর্ষের ঐতিহ্য।
- দুই ধরনের পাট বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া যায়: সাদা পাট ও তোষা পাট।

উল্লেখ্য,
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে পাট এবং পাট শিল্পের সাথে জড়িত।
- পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেল, বিছানার চাদর, পর্দা সোফার কভার,কার্পেট এবং আরো নানা ধরনের পণ্য।
- দেশের ভেতরে পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধ করে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা হলে পাটের বিপুল চাহিদা তৈরি হবে।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
ii) পাট অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮৬৪.
উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত কোনটি?
  1. সৌরভ
  2. ড্রামহেড
  3. চমক
  4. মোহর
ব্যাখ্যা

উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত:
- বর্ণালি, শুভ্রা, খই, মোহর।

তথসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৮৬৫.
'ছায়া প্রেমী' অর্থনৈতিক ফসল কোনটি?
  1. পাট
  2. আলু
  3. গম
  4. চা
ব্যাখ্যা

- 'ছায়া প্রেমী' অর্থনৈতিক ফসল বলতে চা গাছকে বোঝানো হয়।
- চা গাছের জন্য অতিরিক্ত তাপ ও সরাসরি সূর্যালোক থেকে রক্ষা পেতে ছায়াযুক্ত পরিবেশে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়।
- এ কারণে চা গাছকে ছায়া প্রেমী ফসল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

• চা চাষ:
- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিশেষ উপযোগী।
- সাধারণত যেসব স্থানে ২৬০-২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে সেসব স্থান চা চাষের উপযুক্ত।
- গাছের বৃদ্ধিকালীন সময়ে ২০° সেলসিয়াস এর অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- চা চাষের জন্য ১৭৫ - ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৭০-৯০% আবশ্যক।
- বাংলাদেশে চা চাষের একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো ছায়া গাছ।
- চা বাস্তুতন্ত্রের পরিবেশ পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা সমৃদ্ধকরণ, তাপমাত্রা এবং বাষ্পীভবন ক্ষমতা হ্রাস, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং কিছু পোকামাকড় ও রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য ছায়া গাছ অপরিহার্য, যা ইতিবাচকভাবে তাপীয়ভাবে প্রভাবিত করে।
- ছায়া গাছ চা গাছগুলিকে আংশিক ছায়া প্রদান করে, যা চা পাতার মান উন্নত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- সঠিক ধরণের ছায়া গাছ এবং তাদের সঠিক ব্যবস্থাপনা সফল চা ফসল চাষের পূর্বশর্ত।
- অতিবৃষ্টি এবং অনাবৃষ্টি বা খরা কোনোটিই চা গাছের জন্য উপযুক্ত নয়।
- চা গাছের জন্য যেমন প্রচুর পানি প্রয়োজন তেমনি উপযুক্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকতে হয়।

উৎস: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৬.
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মোট আয়তন কত? (আগস্ট, ২০২৪)
  1. ২০.৭৫ লক্ষ হেক্টর
  2. ২২.৭৫ লক্ষ হেক্টর
  3. ২৫.৭৫ লক্ষ হেক্টর
  4. ২৭.৭৫ লক্ষ হেক্টর
ব্যাখ্যা
বনাঞ্চল:
- বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ এলাকায় বনভূমি রয়েছে।
- এর মধ্যে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
- বাংলাদেশে সংরক্ষিত বনের পরিমাণ ১৫.৫ লক্ষ হেক্টর।
- বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মোট আয়তন ২৫৭৫১৯৬.০১ হেক্টর বা ২৫.৭৫ লক্ষ হেক্টর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৬ লক্ষ হেক্টর।
- ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন- পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যনগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শাল বন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।
- বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট ১৩.২৮% এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত।
- বনভূমি ছাড়াও দেশের গ্রাম এলাকায় প্রচুর গাছপালা রয়েছে।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮৬৭.
'সৌরভ' কোন ফসলের জাত?
  1. ধান
  2. গম
  3. কলা
  4. আলু
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৮৬৮.
নিচের কোনটি সবজি?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) ক্যাপসিকাম
  3. গ) কাউন
  4. ঘ) মরিচ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন সবজি -
- ঝিঙ্গা, মুলা, ঢেড়স
- বরবটি, লাউ, বাঁধাকপি
- শিম, করলা, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া
- পটল, শসা, ক্যাপসিকাম
- গাজর, চিচিঙ্গা, ফুলকপি
অন্যদিকে, পেঁয়াজ ও মরিচ মসলাজাতীয় ফসল; 'কাউন' একটি দানাদার খাদ্যশস্য।
উৎসঃ বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)

৮৬৯.
পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন কে?
  1. ড. মোবারক আহমেদ খান
  2. ড. মাকসুদুল আলম
  3. ড .জাহিদ ফারুক
  4. ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
ব্যাখ্যা
জুটিন:
- পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান।
- পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin).
- তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস।
- তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

⇒ জুটন:
- জুটন হচ্ছে পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র।
- এর আবিষ্কারক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
- এখানে পাট ও সুতার অনুপাত ৭০ : ৩০।
- এ প্রক্রিয়ায় তুলার আঁশের তৈরি বস্ত্রের বিকল্প হিসেবে এক ধরনের নতুন বস্ত্র উদ্ভাবনের জন্য পাট ও তুলার আঁশ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশানো হয়।

উৎস: i) বাংলা পিডিয়া।
ii) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮৭০.
বীট জবা ও ঝুমকা যথাক্রমে উন্নত জাতের -
  1. বেগুন ও কলা
  2. তুলা ও ভুট্টা
  3. তামাক ও তুলা
  4. কলা ও টমেটো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উন্নতমানের ফসলের জাত:
→ ভুট্টা - উত্তরণ, বর্ণালী, শুভ্র।
→ তুলা - রূপালী ও ডেলফোজ।
→ ধান - ইরাটম, ব্রিশাইল, সোনার বাংলা-১, ময়না, হরিধান, চান্দিনাম, নারিকা-১,মালাইরি।
→ গম - অগ্রণী, সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, বরকত।
→ টমেটো - মিন্টু, বাহার, মানিক, রতন, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
→ কলা - অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশী, মোহনবাঁশী, বীট জবা, অমৃতসাগর, সিংগাপুরী।
→ তামাক - সুমাত্রা ও ম্যানিলা;
→ বেগুন - ইওরা, শুকতারা, তারাপুরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৮৭১.
'আকবর' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. বেগুন
  2. টমেটো
  3. গম
  4. আলু
ব্যাখ্যা
• গম:
- গমের উন্নত জাত: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী। 
এছাড়াও - 
- বেগুনের উন্নত জাত: শুকতারা, তারাপুরী, ইওরা ,ইসলামপুর্‌, খটখটিয়া, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১।
- টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা। 
- আলুর উন্নত জাত: ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, সিন্দুরী। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
৮৭২.
নিম্নের কোনটি উপকারী পোকা?
  1. জেসিড
  2. জাব পোকা
  3. লেডি বার্ড বিটল
  4. ক্যারাবিট বিটল
ব্যাখ্যা
⇒ 'লেডি বার্ড বিটল' উপকারী পোকা।

লেডি বার্ড বিটল:
- লেডি বার্ড বিটল পোকাটি কৃষকের বন্ধু।
- প্রকৃতির অলংকার যা লেডিবাগ বা লেডিবিটল নামেও পরিচিত।
- ছোট আকারের, উজ্জ্বল রঙের পতঙ্গ।
- এদের লাল বা কমলা রঙের ডানার উপর কালো রঙের ফোঁটা থাকে।
- এই সুন্দর পতঙ্গটি শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, বরং কৃষিকাজেও অত্যন্ত উপকারী।
- পোকাটি কৃষকদের জন্য খুবই উপকারী।
- এরা ফসলের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে।
- এদের একটি পূর্ণাঙ্গ বিটল প্রতিদিন প্রায় ৫০টি এফিড পোকা খেতে পারে।
- প্রাকৃতিক কীটনাশক: এই পোকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানো যায়।
- সৌন্দর্য: পোকাটি তাদের সুন্দর রঙের জন্য পরিচিত। এরা বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৮৭৩.
নিম্নোক্ত কোন সালে কৃষিশুমারী অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ক) ১৯৭৭
  2. খ) ২০০৮
  3. গ) ২০১৫
  4. ঘ) ২০১৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ৮ জুন থেকে ২০ জুন ২০১৯ সালে।
- এই শুমারির স্লোগান ছিল 'কৃষি শুমারি সফল করি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি'।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)- এর World Programme for the Census of Agriculture 2020 (WCA 2020) গাইডলাইন মোতাবেক কৃষিশুমারি পরিচালিত হয় স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারির ২০১৯ পরিচালিত হয়।

- তার আগে ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কোনো কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয় নি।

উৎস: কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৮৭৪.
’নয়নতারা’ কোন ফসলের উন্নত জাত? 
  1.  মরিচ
  2. তুলা
  3. বেগুন
  4. আলু
ব্যাখ্যা

- ’নয়নতারা’ বেগুন ফসলের উন্নত জাত। 
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।

অন্যদিকে,
- উন্নত জাতের মরিচ: বাইন, যমুনা, বালিজুরি, সূর্যমুখী, চৌরা, বারিমরিচ, বাগুরা।
- উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
- উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।
- উন্নত জাতের আনারস: জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।
- উন্নত জাতের হলুদ: ডিমলা, পাটনাই, খোচামুদি, দেবিপাট।
- উন্নত জাতের কলা: চিনি চম্পা, সবরি, কবরী, অগ্নীশ্বর, কানাই খালি, মোহনবাশি, গানা সুন্দরী, মেহের সাগর, জাহাজি, অমৃতসাগর, সিঙ্গাপুরী, জাপকাঠালী, বীটজবা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৮৭৫.
২০১৮ - ১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশে উৎপাদিত গম -
  1. ক) ১৩.৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন
  2. খ) ১৩.১২ লক্ষ মেট্রিক টন
  3. গ) ১১.৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন
  4. ঘ) ১২.৮৭ লক্ষ মেট্রিক টন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বিভিন্ন অর্থ বছরে উৎপাদিত গমের পরিমাণ -
২০১৫ - ১৬ অর্থবছর - ১৩.৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন
২০১৬ - ১৭ অর্থবছর - ১৩.১২ লক্ষ মেট্রিক টন
২০১৭ - ১৮ অর্থবছর - ১১.৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন
২০১৮ - ১৯ অর্থবছর - ১২.৮৭ লক্ষ মেট্রিক টন
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।

৮৭৬.
উচ্চ ফলনশীল গমের জাত কোনটি?
  1. চমক
  2. কাঞ্চন
  3. ময়না
  4. কার্ডিনাল
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৮৭৭.
বাংলাদেশের কৃষিতে 'সোনালিকা' কোন জাতের ফসল?
  1. ক) ধান
  2. খ) গম
  3. গ) ভুট্টা
  4. ঘ) যব
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কৃষিতে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গমের জাত:
- আকরব
- কাঞ্চন
- দোয়েল
- বলাকা
- সোনালিকা
- সৌরভ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৮৭৮.
রবি শস্য কোনটি?
  1. ভুট্টা
  2. মিষ্টি কুমড়া
  3. গম
  4. পাট
ব্যাখ্যা

কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য। আশ্বিন থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত, মতান্তরে মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে। গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে। খরিপ মৌসুমে বিশেষ করে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। খরিপ মৌসুমে তাপমাত্রা ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ- ২ বা বর্ষাকাল।

⇒ খরিপ-১ মৌসুম:
- চৈত্র মাস থেকে আষাঢ় মাস (মধ্য মার্চ হতে মধ্য জুলাই) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ বলা হয়। এইসময়কে গ্রীষ্মকালও বলা হয়।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-১ শস্য বলে। যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি।

⇒ খরিপ-২ মৌসুম:
- শ্রাবণ মাস থেকে আশ্বিন মাস (মধ্য জুলাই হতে মধ্য অক্টোবর) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ বলে। এই সময় বর্ষাকাল।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-২ শস্য বলে। যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়াও,
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।

উৎস: i) কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৭৯.
নিচের কোনটি রবিশস্য?
  1. ক) কাঁঠাল
  2. খ) আমন ধান
  3. গ) পাট
  4. ঘ) বোরো ধান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম বা শীতকালীন শস্য ধরা হয়।
রবি মৌসুমে উৎপন্ন ফসলের মধ্যে রয়েছে:
- বোরো ধান
- গম
- মসুর ডাল
- যব
- সরিষা
- পেঁয়াজ
- মটরশুঁটি প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- পাট ও কাঁঠাল : খরিপ-১ মৌসুম ফসল
- আমন ধান : খরিপ-২ মৌসুম ফসল।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৮৮০.
নিচের কোনটি অর্থকরী ফসল নয়?
  1. ক) ইক্ষু
  2. খ) পাট
  3. গ) আলু
  4. ঘ) তামাক
ব্যাখ্যা
যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলে।
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- পাট
- চা
- ইক্ষু
- তামাক
- তুলা
- রাবার
- ফুল প্রভৃতি।
অন্যদিকে আলু, ধান, গম, ভুট্টা, তেলবীজ প্রভৃতি হলো খাদ্যশস্য।
(সূত্রঃ ‍ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৮১.
‘রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
এটির আয়তন প্রায় ১,৭৯৬ হেক্টর। ১৯৯৬ সালে এটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এ বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি এবং ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্ম রয়েছে।
রেমা-কালেঙ্গাসহ বন বিভাগের অধীনে দেশে বর্তমানে ২৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে।
(সূত্র: বনবিভাগ ও হবিগঞ্জ জেলা ওয়েবসাইট)
৮৮২.
BWMRI কোন ফসল নিয়ে গবেষণা করে?
  1. ধান ও পাট
  2. তুলা ও আখ
  3. চা ও তামাক
  4. গম ও ভুট্টা
ব্যাখ্যা

BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটিই বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য:
- এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণা করত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৮৮৩.
বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট মোট কয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের উদ্ভাবন করেছে? 
  1. ১৩৩ টি
  2. ১২৬ টি
  3. ১২১ টি 
  4. ১০১ টি
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট মোট ১২১ টি উচ্চ ফলনশীল ধানের উদ্ভাবন করেছে।
- নতুন উদ্ভাবিত তিনটি জাত হল; লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-১১২, উচ্চফলনশীল বোরো ব্রি-১১৩ ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ব্রি-১১৪।
- গতকাল বুধবার জাতীয় বীজ বোর্ডের (এনএসবি) ১১৪তম সভায় নতুন এ তিনটি জাত অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- যা দেশের প্রধান খাদ্য ধান উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে কাজ করছে।
- গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে এর যাত্রা শুরু।
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এ প্রতিষ্ঠানের নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, যা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত।
- এ প্রতিষ্ঠানের ১৯টি গবেষণা বিভাগ, ১৭টি আঞ্চলিক কার্যালয়, ০৬টি স্যাটেলাইট চ্যানেল, তিনটি সাধারণ সেবা এবং আটটি প্রশাসনিক শাখা রয়েছে।
- নতুন ধান জাত উদ্ভাবনের গবেষক এবং উৎপাদন  অন্যান্য প্রকৌশলীরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্রি সদর দপ্তরে কাজ করছে। এ
- দেশের কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, সুনামগ কক্সবাজার এবং খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৮৮৪.
বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান কোথায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. পাবনা
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটিই বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য:
- এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণা করত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৮৮৫.
কোন ছোট দানা বিশিষ্ট শস্যটি বাংলাদেশে গরীবের খাদ্য হিসাবে পরিচিত?
  1. ক) কাউন
  2. খ) ভুট্টা
  3. গ) তিল
  4. ঘ) ধান
ব্যাখ্যা

কাউনঃ
ব্যবহারঃ
ছোট দানা বিশিষ্ট শস্যটি এ দেশে গরীবদের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ
প্রায় সব ধরনের মাটিতে কাউনের চাষ করা যায়। তবে পানি দাঁড়ায় না এমন বেলে দোঁআশ মাটিতে এর ফলন ভাল হয়।
জাতঃ তিতাস
বপনের সময়ঃ
দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস (মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারী) পর্যন্ত বীজ বোনা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বীজ বোনা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)

৮৮৬.
'ব্রুনাই কিং' কোন জাতের ফলের নাম?
  1. ক) কলা
  2. খ) তরমুজ
  3. গ) লিচু
  4. ঘ) আম
ব্যাখ্যা
- ব্রুনাই কিং ( Brunei King ) হলো চার থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের আম।
- যা শ্রাবণ মাসের শেষ দিকে পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
• কয়েকটি বিখ্যাত উন্নত জাতের আমের নামঃ
- গোপালভোগ,
- মহানন্দা,
- মোহনভোগ,
- হাড়িয়াভাঙ্গা,
- ল্যাংড়া,
- গৌড়মতি,
- ক্ষীরষাপাতি ইত্যাদি।

• উন্নত জাতের কলার নামঃ
- অগ্নিশ্বর,
- কানাইবাশি,
- মোহনবাঁশি,
- বীটজবা ইত্যাদি‌।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
৮৮৭.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো ধান উৎপাদন হয়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রংপুর
  3. পাবনা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
ধান উৎপাদন:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৩ অনুসারে ময়মনসিংহ জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- বিভাগ অনুসারে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষে কুমিল্লা জেলা।
- আমন ধান উৎপাদনে শীর্ষে দিনাজপুর জেলা।
- বোরো ধান উৎপাদনে শীর্ষে ময়মনসিংহ জেলা।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
৮৮৮.
বাংলাদেশে প্রথম রাবার চাষ শুরু হয় কবে থেকে?
  1. ১৮৫৪ সাল
  2. ১৯০১ সাল
  3. ১৯৬০ সাল
  4. ১৯৬৬ সাল
ব্যাখ্যা
- ১৯৬০ সালে বনবিভাগের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার রামুতে ৩০ একর এবং চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে ১০ একর জমিতে প্রথম রাবার বাগান গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে রাবার চাষ শুরু হয়।
- বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট ও টাঙ্গাইল-শেরপুর অঞ্চলে মোট ১৮টি রাবার বাগান রয়েছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট)
৮৮৯.
বাংলাদেশের মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কত সেন্টিমিটার-এর ছোট ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ?
  1. ২০
  2. ২২
  3. ২৪
  4. ২৫
ব্যাখ্যা
জাটকা ইলিশ:
- বাংলাদেশের মৎস্য আইন অনুযায়ী, ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটার আকৃতির ইলিশ জাটকা হিসেবে গণ্য হবে।
- ১লা নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরের যেকোন নদ-নদীসহ সাগরে ১০ ইঞ্চির (২৫ সেন্টিমিটার) কম সাইজের ইলিশ মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ, পরিবহন সম্পুর্ণরুপে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। 
- এই আইন অমান্য করা হলে ন্যূনতম এক বছর থেকে দুই বছরের জেল অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

⇒ মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০:
- দি প্রটেকশন এন্ড কনজারভেশন অব ফিস এ্যাক্ট-১৯৫০; সাধারণভাবে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ নামে পরিচিত।
- নির্বিচারে পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছ নিধন সমস্যা দূরীকরণে সরকার মাছের আকার, প্রজনন ও বৃদ্ধির সময়, বিচরণক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয়ে কতিপয় বিধি নিষেধ আরোপ করে ১৯৫০ সলে এ আইন প্রণয়ন করে।
- পরবর্তীতে বাস্তব প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে আইনটি উলেস্নখযোগ্য সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হয়।

⇒ এই আইন অনুসারে,
- প্রতি বছর জুলাই হতে ডিসেম্বর মাস পর্যমত্ম ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের কাতলা, রুই, মৃগেল, কালিবাউস ,ঘনিয়া;
- প্রতি বছর নভেম্বর হতে মে মাস পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের (১০ ইঞ্চি) ছোট আকারের ইলিশ (যা জাটকা নামে পরিচিত);
- প্রতি বছর নভেম্বর হতে এপ্রিল মাস পর্যমত্ম ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের পাংগাস;
- প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী হতে জুন মাস পর্যন্ত ৩০ সেন্টিমিটারের ( ১২ ইঞ্চি) ছোট আকারের আকারের সিলন, বোল ও আইড় মাছ ধরা, নিজের দখলে রাখা, পরিবহন বা বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।
- বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে মাছ মারা যাবে না । অভ্যন্তরীণ জলাভূমিতে বিষ প্রয়োগ , পরিবেশ দূষণ , বাণিজ্যিক বর্জ্য বা অন্যবিধ উপায়ে মাছ ধংসের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
- মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তদপেক্ষা কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের ফাঁস বিশিষ্ট ফাঁসজাল এর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর।
৮৯০.
জমির উর্বরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক নয়?
  1. ক) ভূমিক্ষয় রোধ করা
  2. খ) জৈব পদার্থ প্রয়োগ
  3. গ) মাটির অম্লমান নিয়ন্ত্রণ
  4. ঘ) একই ফসল বাববার চাষ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন কারণে জমির উর্বরতা হ্রাস পায়। সেক্ষেত্রে জমির উর্বরতা রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্যে করণীয় হলো: ভূমিক্ষয় রোধ করা, মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা, মাটির অম্লমান নিয়ন্ত্রণ করা, শিম জাতীয় উদ্ভিদের চাষ করা, একই জমিতে একই ফসল বারবার চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করা, পানি ও আগাছা ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি।
(সূত্র: মাধ্যমিক কৃষিশিক্ষা : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৮৯১.
নিচের কোনটি কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত?
  1. খেজুরের গুড়
  2. ব্ল‍্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া
  3. তুলা
  4. তিলের খাজা
ব্যাখ্যা
কুষ্টিয়া গ্রেড:
- বাংলাদেশে পালিত ছাগলের প্রায় নব্বই ভাগই হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।
- এই জাতের ছাগলের চামড়া অত্যন্ত উন্নত মানের এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ব্যতীত ছাগলের অন্যান্য জাতের মধ্যে যমুনাপারি বা রামছাগল, কাশ্মিরী, বারবারি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- দেশের সর্বত্রই এই জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে কৃষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে এই ছাগলের পালন সর্বাধিক হয়।
- যার কারণে বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৮৯২.
উন্নত জাতের টমেটোর জাত কোনটি?
  1. কাঞ্চন
  2. সফল
  3. রূপালী
  4. সিঁদুর
ব্যাখ্যা
- উন্নত জাতের টমেটো হল সিঁদুর।

• টমেটো:
- এ দেশে এখন মৌসুমে ও অমৌসুমে প্রচুর পরিমাণে টমেটো চাষ হচ্ছে।
- শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই সবজি ফসলের মধ্যে আলু ও মিষ্টি আলুর পরেই সবচে বেশি উৎপাদিত হয় টমেটো।
- টমেটো একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ সবজি। কাঁচা ও পাকা উভয় টমেটোই দেহের জন্য উপকারী।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বেশ কিছু টমেটোর জাত উদ্ভাবন করেছে যেগুলো অমৌসুমেও ফলে।
- এছাড়া কিছু হাইব্রিড জাত এ দেশে আসাতে সারা বছরই এখন টমেটো হচ্ছে। তবে দেশেও বেশ কিছু আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতের টমেটো উদ্ভাবন করা হয়েছে যেগুলো ভাল ফলন দিচ্ছে।
- টমেটোর উন্নত জাতসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমা ভিএফ, রোমারিও, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ ১, উন্নয়ন এফ ১, পুষারুবী, নিউ রূপালী এফ ১, সিঁদুর, মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৮৯৩.
পুঁইশাক কীসের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে থাকে?
  1. বীজ
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
পুঁইশাক:
- পুঁইশাকের ইংরেজি নাম হল Indian Spinach।
- পুঁইশাক গ্রীষ্মকালীন পাতা জাতীয় সবজির মধ্যে অন্যতম।
- পুঁইশাক যদিও গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত পরিমাণে জন্মে তবে সারা বছর ধরেই পাওয়া যায়।

⇒ জলমায়ু ও মাটি:
- পুঁইশাক উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালো জন্মে।
- এটি যে কোন জায়গায় জন্মাতে পারে।
- জাত স্থানীয় সবুজ ও লাল সাধারণত দুটি জাত দেখা যায়।
- লাল জাতের তুলনায় সবুজ জাত দ্রুত বাড়ে এবং ফলন বেশি।
- তবে লাল জাতের স্বাদ ও পুষ্টিমান বেশি।

⇒ বংশ বিস্তার:
- বীজ বা কান্ডের সাহায্যে বংশবিস্তার করে থাকে।
- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করার জন্য বীজের মাধ্যমে চাষাবাদ করে থাকে।
- বীজের পরিমাণ সারিতে বীজ বপনের জন্য প্রতি হেক্টরে ১.৫-৩ কেজি বীজ প্রয়োজন।
- বীজ লাগানোর সময় পুঁইশাক সাধারণত এপ্রিল মে পর্যন্ত চাষাবাদ করা হয়।
- সেচের ব্যবস্থা করা গেলে রবি মৌসুমেও করা যায়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৪.
নিচের কোনটি অ্যানাড্রোমাস মাছ?
  1. গলদা চিংড়ি
  2. ইলিশ
  3. রুই
  4. ঈল
ব্যাখ্যা
- যেসব মাছ স্বাদু পানিতে জন্ম গ্রহণ করে, কিন্তু জীবনের অধিকাংশ সময় লোনা পানিতে বাস করে এবং প্রজননের জন্য আবার স্বাদু পানিতে আসে এবং প্রজনন শেষে আবার লোনা পানিতে ফিরে যায় তাদের অ্যানাড্রোমাস মাছ বলা হয়।
- ইলিশ, স্যামন, স্ট্রুজেন প্রভৃতি অ্যানাডোমাস মাছ।
অন্যদিকে,
- যেসব স্বাদু পানির মাছ ডিম পাড়ার জন্যে লোনা পানিতে যায় তাদের ক্যাটাড্রোমাস মাছ বলে।
- গলদা চিংড়ি, ঈল মাছ প্রভৃতি ক্যাটাড্রোমাস জাতীয় মাছ।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা)
৮৯৫.
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত-
  1. ক) ময়মনসিংহে
  2. খ) ফার্মগেটে
  3. গ) জয়দেবপুরে
  4. ঘ) দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজিপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।
- এর প্রধান অঙ্গ হল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।

উৎসঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট।

৮৯৬.
তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ক) যশোর
  2. খ) ঝিনাইদহ
  3. গ) সাতক্ষীরা
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট তুলা উৎপাদিত হয় ৭১,৮৮৩ মে. টন।
তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলাসমূহ:

- প্রথম : ঝিনাইদহ (২৮,৩৯৭ টন)
- দ্বিতীয় : যশোর (৮,৩৯৬ টন)
- তৃতীয় : মেহেরপুর (৯,৪৫৫ টন)।

(তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২১)
৮৯৭.
উচ্চ ফলনশীল গমের জাত কোনটি?
  1. চমক
  2. প্রতিভা
  3. তাহেরপুরী
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৮৯৮.
নিচের কোনটি অর্থকরী ফসল?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) আখ
  3. গ) তৈলবীজ
  4. ঘ) আলু
ব্যাখ্যা
যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলা হয়।
বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলসমূহ:
- পাট
- চা
- আখ বা ইক্ষু
- তামাক
- তুলা
- রাবার
- ফুল প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
তৈলবীজ, আলু ও পেঁয়াজ হলো খাদ্যশস্য।

(তথ্যসূত্র: ‍ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৯৯.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট কয়টি কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬] 
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• কৃষি শুমারি/ Agriculture Census:
বাংলাদেশে কৃষি শুমারি হলো দেশের কৃষি খাতের (শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বন ও পরিবেশ সহ) বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংগ্রহের জাতীয় প্রক্রিয়া।
- স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কৃষিশুমারি হয় ৫টি।  
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ট্যাবলেট ব্যবহার করে) তথ্য সংগ্রহ, যা সময় কমিয়েছে এবং নির্ভুলতা বাড়িয়েছে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
-  ২০০৮ সালে সমগ্র দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় সকল সাধারণ খানায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৪র্থ কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়। 
- এটিই দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি।

তথ্যসূত্র:
i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৯০০.
'নয়ন কাজল' ও 'ইসলামপুরী' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ক) আলু
  2. খ) বেগুন
  3. গ) বাধাঁকপি
  4. ঘ) মরিচ
ব্যাখ্যা
• বেগুন:
- নয়নতারা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট কর্তৃক একটি উন্নত জাত।
- শ্রাবণ-ভাদ্র মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।
- ফল গাঢ় বেগুনী, প্রায় ১৬ সেমি. লম্বা ও বেড় ৬ সেমি.।
- উচ্চফলনশীল, প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৯০ গ্রাম, হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৮০ টন।
- এ জাতটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

• বেগুনের কিছু উন্নত জাত হলো:
- ইসলামপুরী, উত্তরা, নয়ন কাজল, কেজি বেগুন, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, শুকতারা, তারাপুরী (বারি বেগুন ২), কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।