বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ

মোট প্রশ্ন১,৬৮১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ

PrepBank · পাতা ১১ / ১৭ · ১,০০১১,১০০ / ১,৬৮১

১,০০১.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) ক্লিংকার
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) অপরিশোধিত তেল
  4. ঘ) মিথেন গ্যাস
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলি জমিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- এর প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে কাজকে গাঢ় সবুজ রং প্রদান করে থাকে।
- কুশি বরসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

 উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই।

১,০০২.
বাংলাদেশে বেশি উৎপাদিত হয়- (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. আমন ধান
  2. ইরি ধান
  3. আউশ ধান
  4. বোরো ধান
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে বিভিন্ন ধানের উৎপাদনের পরিমান।

- ধানের  মোট উৎপাদন = ৪০৬.৯৭ লক্ষ
- ধানের মোট আবাদকৃত জমির পরিমান= ২৮৮.২০ লক্ষ(একর)

• আউশ ধান (স্থানীয় + অন্যান্য) = ২৯.৭৩ লক্ষ।
• আমন ধান (স্থানীয় + অন্যান্য) = ১৬৬.৫৬ লক্ষ।
• বোরো ধান (স্থানীয় অন্যান্য) = ২১০.৬৮ লক্ষ।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

১,০০৩.
আয়তন অনুসারে কৃষি মাটিতে খনিজ উপাদানের গড় পরিমাণ কত?
  1. ৪০%
  2. ৪৫%
  3. ৫০%
  4. ৫৫%
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকা গঠনকারী উপাদান:
- মৃত্তিকা একটি নিয়ত পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক মিশ্র পদার্থ।
- ক্ষয়ীভূত শিলা ও খনিজের সাথে জৈব পদার্থ এবং পানির মিশ্রণে মৃত্তিকা সৃষ্টি হয়।

• যে কোন মৃত্তিকা প্রধানত চারটি উপাদান নিয়ে গঠিত।
১। খনিজ দ্রব্য (Mineral matter),
২। জৈব দ্রব্য (Organic matter),
৩। পানি বা জলীয় অংশ (Water),
৪। বায়ু (Air)। 

⇒ খনিজ দ্রব্য (Mineral matter):
- আয়তন ও ওজন ভিত্তিতে মৃত্তিকায় খনিজ দ্রব্যের শতকরা গড় পরিমাণ যথাক্রমে ৪৫ ও ৭৩ ভাগ।
- মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার বড় হলে এবং নুড়ি বা স্কুল বালিকণার পরিমাণ বাড়লে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
- খনিজ দ্রব্য মৃত্তিকায় উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের ভাণ্ডার।
- খনিজ দ্রব্যের বৈশিষ্ট্যের ওপর তা নির্ভরশীল।
- পাথর খন্ড, বালি কণা, পলি কণা ও কর্দম কণা সমন্বয়ে মৃত্তিকা খনিজ দ্রব্য গঠিত।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৪.
বিভিন্ন মৌসুমে একগাছ হতে পাঁচ প্রকারের ধান চাষের পদ্ধতি কোনটি?
  1. পঞ্চমুখ
  2. পঞ্চশীল
  3. পঞ্চব্রীহি
  4. পঞ্চনন
ব্যাখ্যা
পঞ্চব্রীহি:
- বিভিন্ন মৌসুমে এক গাছ হতে পাঁচ প্রকারের ধান চাষের পদ্ধতিটি হচ্ছে পঞ্চব্রীহি।
- ফলন শেষ হওয়ার পর একটি ধানগাছ পুরোপুরি না কেটে ওই একই গাছে বিভিন্ন মৌসুমে আরও চারবার একই ধান উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ডক্টর আবেদ চৌধুরী।
- পঞ্চব্রীহির এক ধান গাছে পাঁচবার ফলন হয়।
- ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা ও মানবস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ আবিষ্কারের কথা জানান তিনি।
- পঞ্চব্রীহি ধান চাষে প্রথমবার ১১০ দিন পর ফলন আসে।
- পরের ফলন আসে ৪৫ দিন অন্তর।
- একবার বোরো, দুবার আউশ ও দুবার আমন ধানের ফলন পাওয়া যাবে।
- পঞ্চব্রীহি ধান প্রথমবার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় চার টন।
- ধানের চারা প্রতি ৪ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ অক্টোবর ২০২৩।
১,০০৫.
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চা বাগান গড়ে উঠে কোথায়?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) হবিগঞ্চ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চা বাগান গড়ে উঠে সিলেটের মালিনীছড়ায় ১৮৫৪ সালে। তবে প্রথম চায়ের চাষ শুরু হয় চট্টগ্রামে ১৮৪০ সালে।
বর্তমানে দেশে চা বোর্ডের অধীনে মোট ১৬৭টি চা বাগান ও টি এস্টেট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড)
১,০০৬.
‘জুটন’ কাপড়ে কতভাগ পাট থাকে?
  1. ৩০ ভাগ
  2. ৪০ ভাগ
  3. ৭০ ভাগ
  4. ৮০ ভাগ
ব্যাখ্যা
‘জুটন’ কাপড়ে ৭০ ভাগ পাট থাকে।

জুটন:

- জুটন হচ্ছে পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র।
- এর আবিষ্কারক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
- এখানে পাট ও সুতার অনুপাত ৭০ : ৩০।
- এ প্রক্রিয়ায় তুলার আঁশের তৈরি বস্ত্রের বিকল্প হিসেবে এক ধরনের নতুন বস্ত্র উদ্ভাবনের জন্য পাট ও তুলার আঁশ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশানো হয়।

অন্যদিকে,
⇒ জুটিন:
- পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান।
- পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin).
- তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস।
- তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎস: i) বাংলা পিডিয়া।
ii) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,০০৭.
নিচের কোনটি শীতকালীন শস্য উৎপাদন মৌসুম?
  1. ক) বৈশাখ থেকে শ্রাবণ
  2. খ) ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) কার্তিক থেকে ফাল্গুন
  4. ঘ) আষাঢ় থেকে কার্তিক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রধানত দুটো মৌসুমে ফসল উৎপাদিত হয়। একটি হলো খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন এবং অপরটি হলো রবি বা শীতকালীন।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন বা অক্টোবর থেকে মার্চ সময়েকে রবি মৌসুম ধরা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি রবি মৌসুমের প্রধান ফসল।
- এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ, টমেটো, গাজর, আলু প্রভৃতির চাষাবাদও রবি মৌসুমে হয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ কৃষি শিক্ষা বোর্ডবই)
১,০০৮.
যে সমস্ত ফসল ভূনিম্নস্থ কান্ড বা মূলের জন্য চাষ করা হয় তাদের ফলনের উপযোগী মৃত্তিকা কণা কোনটি?
  1. কর্দম কণা
  2. পানি কণা
  3. বালু কণা
  4. কোলয়ডাল কণা
ব্যাখ্যা
বালু কণা (Sand particles):
- বালু কণায় সাধারণতঃ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিলক্ষিত হয়:
১। বালুকণা স্বল্প ক্ষয়ীভূত শিলাদ্রব্যের ক্ষুদ্রাকার চূর্ণ এবং ইহাতে উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশকীয় খাদ্যোপাদান থাকে না বললেই চলে।
২। কণাগুলো সহজে একটা আর একটার সাথে লেগে থাকে না।
৩। এদের দ্বারা গঠিত রন্ধগুলো বড় হওয়ায় বায়ু ও পানি সহজেই চলাচল করতে পারে।
৪। ইহাদের জৈব ও অজৈব পদার্থের ধারন ক্ষমতা কম।
৫। এরা ভূমিক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং মরুভূমি গঠনে সহায়তা করে।
৬। যে সমস্ত ফসল ভূনিম্নস্থ কান্ড বা শিকড়ের জন্য চাষ করা হয় বা গভীরমূলী, সেগুলো বেলে মাটিতে ভাল হয়। যেমন: গোলআলু, মিষ্টি আলু প্রভৃতি।
৭। এদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল খুবই কম।
৮। এদের ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা (CEC) ০-৫ m.e./১০০ গ্রাম মাটি।
৯। এদের কণার ব্যাস ২.০০-০.০২ মিলিমিটার।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৯.
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হাওর এলাকার উপযোগী ধানের কোন জাতটি ইন্দোনেশিয়া থেকে এদেশে প্রবর্তন করেছে?
  1. ক) ময়না
  2. খ) মোহিনী
  3. গ) মঙ্গল
  4. ঘ) শাহীবালাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার উপযোগী বলে এ জাতটি ইন্দোনেশিয়া থেকে এদেশে প্রবর্তন করেছে। এটি ১৯৮৫ সনে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিআর ১৯ নামে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের জনপ্রিয় নাম মঙ্গল। এটি হাওর অঞ্চলের ধান।
[সূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)]
১,০১০.
দেশের একমাত্র ‘ফসফেটিক‘ সার কারখানা হচ্ছে -
  1. ঘোড়াশাল সার কারখানা
  2. আশুগঞ্জ সার কার‌খানা
  3. টিএসপি সার কারখানা
  4. শাহজালাল সার কারখানা
ব্যাখ্যা
• টিএসপি সার কারখানা:
- অবস্থান - পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
- এটি দেশের একমাত্র ফসফেটিক সার কারখানা।
- টিএসপি কমপ্লেক্স লিঃ এর স্থাপনা তৎকাতলীন পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি’র) সময়ে আরম্ভ হলেও ১৯৭৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।
- এ ফ্যাক্টরীর বার্ষিক উত্‍পাদন ক্ষমতা ১,০০,০০০  মেট্রিক টন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
১,০১১.
স্বাধীন বাংলাদেশে কোন সালে কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ক) ১৯৭৭
  2. খ) ১৯৯৬
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ২০১৯
ব্যাখ্যা
⇨ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
• প্রথম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৭৭ সালে।
• দ্বিতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৮৩-৮৪ সালে।
• তৃতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৯৬ সালে
• চতুর্থ কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০০৮ সালে।
• পঞ্চম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০১৯ সালে

⇨ বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১,০১২.
কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় -
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারি হয় ১৯৭৭ সালে।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি। যথা:
• মৎস্য,
• শস্য,
• প্রাণিসম্পদ।

উৎস: i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,০১৩.
'রূপকথা’ কোন ফসলের জাত?
  1. ধান
  2. জাম
  3. বেগুন
  4. করলা
ব্যাখ্যা
• 'রূপকথা' ধানের উন্নত জাত। 

• আরো কয়েকটি উন্নত ফলনশীল ধান: 

- চান্দিনা, 
- মালা, 
- বিপ্লব, 
- দোলাভোগ, 
- আশা, 
- সুফলা,
- প্রগতি,
- মুক্তা, 
- ময়না, 
- গাজী, 
- হাসি,
- মঙ্গল। 

সূত্র: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বাতায়ন ও প্রথম আলো।
১,০১৪.
'রামরঙ্গন' কৃষিতে কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. আম
  2. মরিচ
  3. টমেটো
  4. কমলা
ব্যাখ্যা
কমলার জাত:
- কৃষিতে 'রামরঙ্গন' কমলার জাত।
- এ জাতের কমলা চাষের সুবিধা হচ্ছে, এটি প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু। প্রচণ্ড গরমে এ ফল ঝরে না। পরিপক্ব হওয়ার পরও গাছ থেকে ফল ঝরে পড়ে না। পাকার পরও ফলটি এক মাস গাছে রাখা যায়।
- এছাড়াও, কমলার উন্নত জাত: বারি কমলা-১, বারি কমলা-২, বারি কমলা-৩, খাসি, ম্যান্ডারিন।

এছাড়াও,
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি।
• উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
• উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
• উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।
• উন্নত জাতের আনারস: জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,০১৫.
ধান ক্ষেতে মাছ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাছ -
  1. শিং, মাগুর
  2. কমন কার্প, গ্রাস কার্প
  3. সরপুটি, কমন কার্প
  4. রুই, কাতলা
ব্যাখ্যা
ধান ক্ষেতে মাছ চাষ:
- ধান ও মাছের একত্রে চাষই হলো ধান ক্ষেতে মাছ চাষ।
- এক্ষেত্রে ধান মূখ্য ফসল আর মাছ গৌণ ফসল।
- ধান ও মাছ একত্রে চাষের ফলে ধানক্ষেত ও পুকুরের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে অধিক লাভবান হওয়া যায়।
- ধান ক্ষেতে মাছ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো সর পুঁটি, কমনকার্প মাছ।
- ধান ক্ষেতে এসব জাতের মাছের একক বা মিশ্র চাষ করা যায়।
- একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকের জমিতে উল্লিখিত জাতের মাছগুলোর মজুদ ঘনত্ব হলো সরপুটি ২০-২৫ টি এবং কমন কার্প ১০-১৫ টি।
- অপর পক্ষে মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকের জমিতে উল্লিখিত জাতের মাছগুলোর মজুদ হলো সরপুটি ১২টি+কমন কার্প ৮টি = মোট ২০টি।

তথ্যসূত্র - কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৬.
‘খটখটিয়া‘ কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ধান
  2. বেগুন
  3. সরিষা
  4. গম
ব্যাখ্যা
• বেগুনের জাত:
- বাংলাদেশে বেগুনের বহু জাত রয়েছে। এক জাত থেকে অন্যজাতে গাছের প্রকৃতি, ফলের রং, আকার, আকৃতি প্রভৃতি বিষয়ে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলাদেশে প্রধানতঃ লম্বা ফল, গোলাকর ফল ও গোলাকার এই তিন ধরণের বেগুনের চাষ বেশী হয়ে থাকে।

• কিছু বেগুনের উন্নত জাত হলো:
- খটখটিয়া, ইসলামপুরী, নয়ন কাজল, কেজি বেগুন, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, শুকতারা, তারাপুরী (বারি বেগুন ২), কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১, লাফাফা,  

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,০১৭.
রিবন রেটিং কি?
  1. পাট পচানোর পদ্ধতি
  2. রাবার চাষের পদ্ধতি
  3. গতি পরিমাপক যন্ত্র
  4. মাছ চাষ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
রিবন রেটিং:

- Ribbon শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ফিতা এবং Retting অর্থ হলো পচানো।
- কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল বা বাকল আলাদা করার পর ঐ ছাল বা বাকলকে যে পদ্ধতিতে অল্প পানিতে পচানো হয়, তাকে রিবন রেটিং (ribbon retting) বলা হয়।
- যার মাধ্যমে পাট গাছের কাঁচা ছাল ছাড়ানো হয় তাকে রিবনার (Ribboner) বলে।
- রিবনারের মাধ্যমে ছাল ছাড়ানোর কৌশলকে রিবনিং (Ribboning) বলে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় শিক্ষক বাতায়ন।
১,০১৮.
বাংলাদেশের কৃষিতে 'ক্ষীরশাপাতি' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ধান
  2. তুলা
  3. ভুট্টা
  4. আম
ব্যাখ্যা

• উন্নতজাতের ফসলের জাত:
⇒ আম এর উন্নত জাত: হিমসাগর, ল্যাংরা, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, ফজলী, বোম্বাই, আম্রপালি, বারিআম-১, বারিআম-৪, থোকাফজলী, মহানন্দা, মোহনভোগ, ল্যাংড়া, গোপালভোগ ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- 'ক্ষীরশাপাতি' বাংলাদেশের একটি  আমের উন্নত জাত।
- এটি মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হয়।
-  ২০১৯ সালে 'ক্ষীরশাপাতি' আম বাংলাদেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

অন্যদিকে,
⇒ ধান: হীরা, ব্রিশাইল,ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড, সোনার বাংলা, টিয়া, ময়না, ঝলক, বিজলি, মধুমতি ইত্যাদি। 
⇒ গম: বলাকা, দোয়েল, শতাব্দী, অগ্রণী, সোনালিকা, আনন্দ, আকবর, কাঞ্চন ইত্যাদি। 
⇒ ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা, উত্তরণ ইত্যাদি।
⇒ তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা। 
⇒ আলু: গ্রানূলা, মাল্টা, পেট্রোনিজ, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, ফেন্সিনা, ক্যারেজ, লেডিরোজ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশের জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০১৯.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ঝিনাইদহ
  2. কুষ্টিয়া
  3. খুলনা
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী:
শীর্ষ জেলা:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

শীর্ষ বিভাগ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রাজশাহী।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ ঢাকা।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ সিলেট।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১,০২০.
রোপা আমন কাটা হয়-
  1. ক) আষাঢ়-শ্রাবণে
  2. খ) ভাদ্র-আশ্বিনে
  3. গ) কার্তিক-অগ্রাহায়ণে
  4. ঘ) অগ্রাহায়ণ-পৌষ
ব্যাখ্যা
আমন ধান মূলত দুই প্রকার; রোপা আমন ও বোনা আমন।
রোপা আমন অন্য জমিতে চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা ক্ষেতে রোপণ করে ধান উৎপন্ন হয় বলে এর এরূপ নাম।
রোপা আমন আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয় এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ-পৌষ (এলাকাভেদে) মাসে ধান কাটা হয়।
Source: ais.gov.bd
অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ) কার্তিক-অগ্রাহায়ণ কে সঠিক উত্তর হিসেবে নেয়া যায়। তাছাড়া, আমরা জানি যে, কার্তিক-অগ্রাহায়ণ হচ্ছে হেমন্তকাল। এবং, এই সময়েই মুলত আমন ফসল কাটা হয়। তবে, কিছু অঞ্চলে পৌষ মাস পর্যন্তও ফসল কাটা হয়ে থাকে।
১,০২১.
নারিকা-১ কি?
  1. ক) খরাসহিষ্ণু গম
  2. খ) খরাসহিষ্ণু ধান
  3. গ) উন্নত জাতের কলা
  4. ঘ) উন্নত জাতের পেয়ারা
ব্যাখ্যা
- নারিকা-১ হলো একধরনের খরা সহিষ্ণু ধান
- বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রধান ধান হচ্ছে বোরো।
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইরি-৮ জাতের উফশি জাতের ধান আমদানি করা হয় যা এখনও এদেশে চালু আছে।
- বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মঙ্গা এলাকার জন্য উপযোগী ধান ব্রি-৩৩।
- হরিধান জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের আবিষ্কারক ঝিনাইদহের হরিপদ কাপালী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি
১,০২২.
'কাজলা' কোন ফসলের উন্নতজাতের নাম?
  1. টমেটো
  2. পেঁয়াজ 
  3. বেগুন
  4. কুমড়া
ব্যাখ্যা

• বেগুনের জাতসমূহ:
- বারি বেগুন-১ (উত্তরা)
- বারি বেগুন-২ (তারাপুরি)
- বারি বেগুন-৩ (শুকতারা)
- বারি বেগুন-৪ (কাজলা)
- বারি বেগুন-৫ (নয়নতারা)

অন্যদিকে, 
- টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা , শ্রাবণী,মহুয়া।
- পেঁয়াজের উন্নত জাত: সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি। 
- কুমড়ার উন্নত জাত: বারি মিষ্টি কুমড়া-১, বারি মিষ্টি কুমড়া-২। 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০২৩.
কৃষি উপকরণ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. BARI
  2. BRRI
  3. BADC
  4. BINA
ব্যাখ্যা
BADC:
- বাংলাদেশের প্রধান সরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)।
- এটি কৃষি উপকরণ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান৷
- এর অংশ হিসেবে BADC বিভিন্ন ফসলের উফশী বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার সরবরাহ করে থাকে।
- ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশ স্বাধীনের পর BADC নামধারণ করে।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের একমাত্র প্রধান বহু শস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলো BARI.
- উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং চাষাবাদের কলাকৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে BRRI প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ‍ইনস্টিটিউট (BINA) একটি অন্যতম ও একক প্রতিষ্ঠান যার প্রধান কাজ হলো পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখা।

তথ্যসূত্র - BADC ওয়েবসাইট, BARI, BRRI, BINA এর ওয়েবসাইট।
১,০২৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে পশুসম্পদের অবদান কত ছিল?
  1. ক) ১.২%
  2. খ) ১.৪৬%
  3. গ) ১.৬%
  4. ঘ) ১.৫৩%
ব্যাখ্যা

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২১
১,০২৫.
কৃষিক্ষেত্রে 'খরিপ মৌসুম' বুঝানো হয় -
  1. কার্তিক থেকে ফাল্গুন
  2. চৈত্র থেকে আষাঢ়
  3. শ্রাবণ থেকে আশ্বিন
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
-  যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।

ii) খরিপ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য।
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
১,০২৬.
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) মৌলিক কাজ কী?
  1. নতুন জাত উদ্ভাবন
  2. সেচ সংক্রান্ত
  3. কৃষি গবেষণা সমন্বয়
  4. বীজ, সার সরবরাহ
ব্যাখ্যা
• Bangladesh Agricultural Development Corporation(BADC)
• বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি):
 - তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন নামে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (ই.পি. অধ্যাদেশ XXXVII,১৯৬১) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-  ১৯৭৫ সালে বিএডিসি’কে বাংলাদেশ কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং সেবা কর্পোরেশন (বিএআইএসএসসি) হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হয়।
- কিন্তু ১৯৭৬ সালে বিএআইএসএসসি এর নাম পুনঃ পরিবর্তন করে বিএডিসি নাম পুনর্বহাল করা হয়।
- কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসি’র ভিত্তি ঢাকা শহর কেন্দ্রিক হলেও এর সেবার পরিধি সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত।
- মাঠপর্যায়ের অফিসসমূহ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে আরো প্রত্যন্ত এলাকায় অফিসের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।

•  বিএডিসি’র উপর অর্পিত মৌলিক কাজগুলো হচ্ছে:
- সারা বাংলাদেশে কৃষি উপকরণ উৎপাদন, সংগ্রহ (ক্রয়), পরিবহন, সংরক্ষণ এবং বিতরণ ব্যবস্থাপনা টেকসই করা ।
- অত্যাবশ্যকীয় কৃষি উপকরণ যেমন: বীজ, সার সরবরাহ এবং ভূপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের জন্য সেচের সুযোগ সৃষ্টি করা।

উৎস: BADC ওয়েবসাইট।
১,০২৭.
ইউরিয়া সার বেশি মাত্রায় প্রয়োগের ফলে কী ঘটে?
  1. ফুল বেশি ধরে
  2. বৃদ্ধি ভাল হয়
  3. গাছ দুর্বল হয়ে যায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সার:
- সার সাধারণত গাছপালার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে থাকে।
- বাংলাদেশের কৃষিতে মূলত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বরিক এসিড বা বোরন সার ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ ইউরিয়া সারের কাজ:
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%।
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে।
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে।
- কুশি উৎপাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে।

⇒ ইউরিয়া বেশি মাত্রায় প্রয়োগের ফলাফল:
- ইউরিয়া সারের প্রয়োগ মাত্রা বেশি হলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়
- গাছে ফুল ও ফল উৎপাদন কিছুটা বিলম্বিত হয়ে যায়।
- এছাড়াও পোকামাকড় ও রোগ আক্রমণের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- অনেক সময় পাতার অংশ ভারি হয়ে গাছ হেলে যায়।
- অতিরিক্ত নাইট্রোজেন প্রয়োগের কারণে অনেক ফল পানসে হয়ে যায়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন।
১,০২৮.
মেরিন ফিশারিজ একাডেমী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) পটুয়াখালী
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
মেরিন ফিশারিজ একাডেমী চট্টগ্রাম জেলায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। গভীর সমুদ্রের মাছসহ অন্যান্য সম্পদ আহরণে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে মেরিন ফিশারিজ একাডেমী স্থাপন করা হয়।
(সূত্র: মেরিন ফিশারিজ একাডেমী ওয়েবসাইট)
১,০২৯.
বিশ্বের কয়টি দেশে বাংলাদেশ মাছ রপ্তানি করে? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ৪৪টি
  2. ৫২টি
  3. ৬১টি
  4. ৬৭টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বিশ্বের মাছ রপ্তানী:

- পৃথিবীর ৫২টি দেশে বাংলাদেশ মাছ রপ্তানি করে।

⇒ ২০২২-'২৩ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৪৯.১৫ লাখ মে. টন।
- বর্তমানে মৎস্য সেক্টরে ১৪ লক্ষ নারীসহ প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে।
- ২০২২-'২৩ অর্থবছরে জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২.৫৩%, কৃষিজ জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২২.২৬% এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ২.৮১%।
- মাছ ইলিশের উৎপাদন একক প্রজাতি হিসেবে মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২%।
- এছাড়া বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।
- জিডিপিতে ইলিশের অবদান শতকরা ১% এর বেশি।
- বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য পৃথিবীর ৫২টি'র অধিক দেশে রপ্তানি করছে।
- সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার-২০২৪ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ চীনকে টপকে বিশ্বে ২য় অবস্থানে উঠে এসেছে।

উৎস: i) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। [link]
ii) প্রথম আলো।
১,০৩০.
মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কত?
  1. শতকরা ৪৫ ভাগ
  2. শতকরা ৫ ভাগ
  3. শতকরা ৮৮ ভাগ
  4. শতকরা ৮ ভাগ
ব্যাখ্যা
মাটির বুনট:
- বিভিন্ন ধরনের মাটির কণার আপেক্ষিক অনুপাতকে মাটির বুনট বলে।
- মাটির কণা বলতে বালি, পলি, কর্দম কণাকে বুঝায়।

⇒ মাটির বর্ণ লাল হলে, এই মাটিতে লোহার পরিমাণ বেশি ও আঠালো বর্ণ কালো হলে বুঝতে হবে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি।
- বালি মাটি অধিক তাপ শোষণ করতে পারে ইত্যাদি।

⇒ মাটি সবচেয়ে বেশি কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়।
- মাটির উর্বরতা, দ্রবণ, অম্লত্ব, ক্ষারত্ব, লবণাক্ত ইত্যাদি মাটির রাসায়নিক ধর্ম।
- মাটিতে যে সকল রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে তাকে মাটির রাসায়নিক উপাদান বলে।
- মাটিতে সবচেয়ে বেশি থাকে সিলিকন ও এলুমিনিয়াম অক্সাইড যার পরিমাণ ৮৮% ভাগ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের পরিমাণ ৭% ভাগ, এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ ৫% ভাগ আর এসব মিলে মাটিতে বিদ্যমান থাকে ১০০% ভাগ।

⇒ মাটিস্থ রাসায়নিক উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে মাটির দ্রবণ তৈরি হয়।
- এ দ্রবণে কোলয়েড ও হিউমাস মিশ্রিত থাকে যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
- মাটির দ্রবণের ঘনত্ব শতকরা ০.৫ ভাগের বেশি হলে শস্য তা গ্রহন করতে পারে না।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান ১২৬, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩১.
বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম কোথায় অবস্থিত?
  1. সাভার
  2. মিরপুর
  3. ডেমরা
  4. আগারগাওঁ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম :
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম (বিএনএইচ) দেশের উদ্ভিদ প্রজাতির উপর মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত জরীপের মাধ্যমে প্রাপ্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্তসহ শুষ্ক উদ্ভিদ নমুনা সংরক্ষণ এবং শ্রেণীবিদ্যা বিষয়ক গবেষণার একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- ন্যাশনাল হারবেরিয়াম পুঙ্খাণুপুঙ্খ অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে ফুল-ফল সমেত সকল উদ্ভিদ প্রজাতির নমুনা, উহাদের প্রাচুর্য, প্রাপ্তিস্থান, প্রচলিত ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সনাক্ত ও শ্রেণীবিন্যাস করে সংরক্ষণ করে থাকে।
- ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে ‘‘বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইস্ট পাকিস্তান’’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম এর প্রাথমিক কাঠামো বিনির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১ জুলাই থেকে ইহা ‘‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম’’ নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নির্বাহী আদেশে ১ জুলাই ১৯৯৪ থেকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম জনবলসহ কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে স্থানান্তরিত হয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অধীনে ন্যাস্ত হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১ জুলাই থেকে জনবলসহ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ২০০৪ সালে ১৬ অক্টোবর হারবেরিয়ামকে পরিদপ্তর হিসেবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর (Attached Department) ঘোষণা করা হয়।
- ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০০ তারিখে  যুক্তরাজ্যের আর্থিক সহায়তায় মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান প্রাঙ্গনে ১.২৪ একর জমির উপর নির্মিত আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০৩২.
মশুরের কোন জাতটি জিংক সংযুক্ত?
  1. বারি মশুর ৪
  2. বারি মশুর ৬
  3. বারি মশুর ৮
  4. বারি মশুর ৫
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে মসুর সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাল ফসল।
মসুরের আধুনিক জাত সমুহ:

• বারি মসুর-১ : গাছের আকৃতি মধ্যম এবং উপরিভাগ লতানো হয় না ও ডগা বেশ সতেজ। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ। কান্ড হালকা সবুজ। ফুলের রং সাদা। আমিষের পরিমাণ ২৬-২৮%। এ জাতের জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন।

• বারি মসুর-২: গাছের আকার মধ্যম ও গাছের উপরিভাগ সামান্য লতানো হয়। পাতায় সরু আকর্ষী থাকে। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ। কান্ড হালকা সবুজ ও ফুল সাদা। আমিষের পরিমাণ ২৭-২৯%। জাতটির জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন।

• বারি মসুর-৩: বারিমসুর-৩ জাতটি একটি সংকর জাত। কান্ডে পিগমেন্টেশন বিদ্যমান। পাতার রং সবুজ। বীজের রং ধূসর এবং বীজে ছোট ছোট কালচে দাগ আছে। বীজের আকার স্থানীয় জাত অপেক্ষা বড়। আমিষের পরিমাণ ২৪-২৬%। জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন।

• বারি মসুর-৪: গাছের রং হালকা সবুজ। পত্রফলক আকারে বড় এবং পাতার শীর্ষে আকর্ষী আছে। ফুলের রং বেগুনি। বীজের আকার স্থানীয় জাত হতে বড় ও চেপ্টা ধরনের। বীজের রং লালচে বাদামি। এ জাতটি মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ সহনশীল। আমিষের পরিমাণ ২৪-২৬%।

• বারি মসুর-৫: পাতা ও গাছের রং সবুজ, পাতার অগ্রভাগে ছোট আকারের টেন্ড্রিল থাকে। গাছের ধরন ঝোপালো, গাছের উচ্চতা ৩৮ সেমি এবং ফুলের রং হালকা বেগুনী, বীজ স্থানীয় জাত হতে বড় ও চেপ্টা ধরনের। বীজের রং লালচে বাদামী পরিপক্কতার সময় ১১০-১১৫ দিন। এ জাতটি মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ সহনশীল।

• বারি মসুর-৬: পাতার রং গাঢ় সবুজ,পাতার অগ্রভাগে টেন্ড্রিল থাকে না। গাছের ধরন ঝোপালো,উচ্চতা ৩৫-৪০ সেমি। ফুলের রং বেগুনী, বীজ আকারে স্থানীয় জাত হতে অনেক বড় ও চেপ্টা ধরনের। এ জাতটি মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ সহনশীল।

• বারি মসুর-৭: জাতটি বাংলাদেশের সকল এলাকায় চাষাবাদের উপযোগী।সব ধরনের মাটিতেই জাতটি চাষ করা যেতে পারে। জীবনকাল ১১০-১১৫দিন।

• বারি মসুর-৮: এ জাতটির পাতা ও কা- হালকা সবুজ এবং পাতায় হালকা ট্রেন্ড্রিলযুক্ত। গাছ ঝোপালো আকৃতির এবং ফুলের রং বেগুনী।গাছের গোড়ায় খয়েরী পিগমেন্ট বিদ্যমান। বীজ গোলাকার, ধূসর ও হালকা কালো ফোটা যুক্ত। ষ্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট (পাতা ঝলসানো) রোগ সহনশীল। আমিষের পরিমাণ ২৪.০ - ২৪.৯ %। জিংক এর পরিমাণ ৬০ পিপিএম। আয়রন এর পরিমাণ ৮০ পিপিএম।

• বারি মসুর-৯: এ জাতটি বিশেষভাবে স্বল্পকালীন এবং উচ্চ মাত্রায় জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ। জাতটি রবি মৌসুমে ডাল ফসল হিসেবে দেশের সর্বত্র চাষাবাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। পাতা ও কা- হালকা সবুজ রংয়ের, ফুল নীলাভ সাদা, বীজ হালকা ধুসর বর্ণের এবং জীবনকাল ৮৫-৯০ দিন। এ জাতটি পাতা ঝলসানো রোগ সহনশীল।

তথ্যসূত্র - কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
১,০৩৩.
জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান-
  1. ক) স্থিতিশীল
  2. খ) ক্রমহ্রাসমান
  3. গ) ক্রমবর্ধমান
  4. ঘ) দ্রুতবর্ধনশীল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ক্রমহ্রাসমান।
স্থিরমূল্যে জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান
- ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে : ১৪.৭৪ শতাংশ
- ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে : ১৪.২৩ শতাংশ
- ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে : ১৩.৬৫ শতাংশ
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে : ১৩.৩৫ শতাংশ।
(সূত্র: বিবিএস ওয়েবসাইট)
১,০৩৪.
কৃষি ও কৃষিভিত্তিক সেবাকে জনগণের দোড়গোয়ায় পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনলাইনভিত্তিক ই সেবা প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) কৃষকের বাড়ি
  2. খ) আমাদের ডিজিটাল ঠিকানা
  3. গ) কৃষকের তথ্য বাতায়ন
  4. ঘ) বন্ধু ফোন
ব্যাখ্যা
কোভিড-19 এর অভিঘাতসহ বিভিন্ন আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষি ‍উৎপাদন বৃদ্ধি চলমান রাখা, কৃষিবিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণে অনলাইনভিত্তিক ই সেবা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে।
যেমন:
কৃষকের জানালা 
কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা
কৃষি বাতায়ন
বন্ধু ফোন
Online Fertilizer Recomendation Software
Bangladesh Rice Knowledge Bank ইত্যাদি। 

এছাড়াও 
ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার কর্তৃক স্থাপিত কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র- Agriculture Information and Communication Center (AICC)।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২১ (বিবিএস)
১,০৩৫.
'পেঁয়াজ' উৎপাদনে শীর্ষ জেলা-
  1. ফরিদপুর
  2. পাবনা
  3. রাজবাড়ী
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• ‘পেঁয়াজ’ উৎপাদন: 
- ‘পেঁয়াজ’ উৎপাদনে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা হলো পাবনা জেলা।
- পাবনা জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ সর্বোচ্চ, প্রায় ৭ লাখ টনের বেশি।  
- এটি দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।   
- দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফরিদপুর। 
- অন্যান্য শীর্ষ জেলা: রাজবাড়ী, মেহেরপুর, নাটোর ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ – ২০২৪। 

১,০৩৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্পের নাম কি?
  1. ক) গঙ্গা - কপোতাক্ষ প্রকল্প
  2. খ) গোমতী প্রকল্প
  3. গ) কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প
  4. ঘ) তিস্তা বাঁধ প্রকল্প
  5. ঙ) ব্রহ্মপুত্র বহুমুখী প্রকল্প
ব্যাখ্যা
পানি সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে স্থাপিত ‘তিস্তা বাঁধ প্রকল্প’ রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে প্রায় ১৮ লক্ষ একর জমিতে পানি সরবরাহ করে। দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচপ্রকল্পের নাম - ব্রহ্মপুত্র বহুমুখী প্রকল্প; ১৫ লক্ষ একর জমিতে পানি সরবরাহ করে থাকে।
১,০৩৭.
খুলনার হার্ডবোর্ড মিলের কাঁচামাল হলো-
  1. ক) বাঁশ ও বেত
  2. খ) আখের ছোবড়া
  3. গ) কাঁচা সুন্দরী জ্বালানী কাঠ
  4. ঘ) নলখাগড়া
ব্যাখ্যা
খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস্ লিঃ, শহর খালিশপুর, খুলনা দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড কারখানা। খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস্ লিঃ এর স্থাপনা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি’র) সময়ে ১৯৬৫ সালে। কারখানাটি কানাডীয় সরকারি সাহায্য সংস্থার সহায়তায় স্থাপিত হয়। কারখানার প্রধান কাঁচামাল সুন্দরবনে উৎপাদিত কাঁচা সুন্দরী জ্বালানী কাঠ।
(রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন)
১,০৩৮.
দেশজ উপাদান ব্যবহার করে আর্সেনিক মুক্ত করার পদ্ধতির আবিষ্কারক কে?
  1. ক) ড এম এ বাশার
  2. খ) ড এম আজাদ
  3. গ) ড ইউনুস
  4. ঘ) ড এম এ হাসান
ব্যাখ্যা
দেশজ উপাদান ব্যবহার করে আর্সেনিক মুক্ত করার পদ্ধতির আবিষ্কারক - ড এম এ হাসান।
আর্সেনিক দূরীকরণের সনোফিল্টারের উদ্ভাবক - অধ্যাপক আবুল হুসসাম।
১,০৩৯.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুবিধ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. BARI
  2. BRRI
  3. BJRI
  4. BSRI
ব্যাখ্যা
BARI:
- BARI (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট) দেশের বৃহত্তম বহুবিধ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এই প্রতিষ্ঠান দানাশস্য, কন্দাল, ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফল, মসলা, ফুল ইত্যাদির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন বিষয়ে গবেষণা করে থাকে।
- প্রতিষ্ঠানটি মৃত্তিকা এবং শস্য ব্যবস্থাপনা, রোগ বালাই এবং পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, পানি এবং সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, খামার পদ্ধতির উন্নয়ন, শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আর্থ সামাজিক সংশ্লিষ্ট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন এবং পরিমাণ নির্ধারণ বিষয়ে গবেষণা করে থাকে।
- মহাপরিচালক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- মহাপরিচালক ৪(চার)টি উইং যথা গবেষণা উইং, সেবা ও সরবরাহ উইং, প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ উইং এবং পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং এর ৪(চার) জন পরিচালকের মাধ্যমে তাঁর কার্য সম্পাদন করেন।
- গবেষণা উইং ৬টি কেন্দ্র, ১৭টি বিভাগ, ৮টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ২৮টি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে যাবতীয় গবেষণা পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৬৫২টি উচ্চ ফলনশীল জাত এবং ৬৪০টি ফসল উৎপাদনের প্রযুক্তিসহ মোট ১২৯২ টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে (সেপ্টেম্বর ২০২৩)।
- এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফল ইত্যাদির ১০০০০ এর অধিক কৌলি সম্পদ (জার্মপ্লাজম) জিন ব্যাংকের মাধ্যমে সংরক্ষণ করছে।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
১,০৪০.
নিচের কোনটি পাট পঁচানোর একটি পদ্ধতি?
  1. ক) বায়োফ্লক
  2. খ) রিবন রেটিং
  3. গ) ক্রস বাইন্ডিং
  4. ঘ) ডাবল কাটিং
ব্যাখ্যা
রিবন রেটিং হলো বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত পাট পঁচানোর একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কাঁচা পাট থেকে ছাল ছাড়িয়ে অল্প পানিতে পঁচানো যায়। তাই এটি যথেষ্ট সাশ্রয়ী একটি পদ্ধতি।
(সূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট)
১,০৪১.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তুলা উৎপন্ন হয় -  (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. মৌলভীবাজার
  2. ঝিনাইদহ
  3. দিনাজপুর
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, 

- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

১,০৪২.
বর্ণালী ও শুভ্রা হলো উন্নত জাতের -
  1. ধান
  2. গম
  3. তামাক
  4. ভুট্টা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
• বিনা উদ্ভাবিত একটি উন্নত জাতের ধানের নাম ইরাটম।
• উন্নত জাতের ধান হলো ব্রি হাইব্রিড - ১ চান্দিনা, মালা , বিপ্লব, দুলাভোগ, সুফলা ইত্যাদি।
• সোনালিকা ও আকবর: উন্নত জাতের গম।
• সুমাত্রা ও ম্যানিলা: উন্নত জাতের তামাক।
• বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ: উন্নত জাতের ভুট্টা।
• মহানন্দা, ল্যাংড়া ও মােহনভােগ উন্নত জাতের আম।
• বাহার: উন্নত জাতের টমেটো।
• যমুনা: উন্নত জাতের মরিচ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,০৪৩.
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত 'ব্রি ধান ৭২' এর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. জলমগ্নতা সহিষ্ণু
  2. এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
  3. খরা সহিষ্ণু
  4. জিংক সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জাত:
⇒ জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত হলো -
• ব্রি ধান ৬২,
• ব্রি ধান ৬৪,
• ব্রি ধান ৭২,
• ব্রি ধান ৭৪,
• ব্রি ধান ৮৪।

⇒ খরা সহিষ্ণু ধানের জাত সমূহ হল -
• ব্রি ধান ৪৩, ব্রি ধান ৫৫, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১ ও ব্রি ধান ৮৩।

⇒ এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধানের জাত -
• বিআর ৫।

⇒ লো জিআই বা নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন ধানের জাত -
• বিআর ১৬, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৬৯।

⇒ জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাত -
• ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৭৯।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
১,০৪৪.
আদা লাগানোর কত দিন পর ফসল তোলার উপযোগী হয়?
  1. ২০- ২৫ দিন
  2. ৩০- ৪৫ দিন
  3. ২- ৩ মাস
  4. ৭-১০ মাস
ব্যাখ্যা
আদা চাষ:
- আদা একটি প্রয়োজনীয় মসলা ফসল যা খাবারকে সুস্বাদু করে।
- আদা বাড়ির পাশে পতিত জমি, পাহাড়ে চাষাবাদ করা যায়।
- বিভিন্ন ফসলের সাথে আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করা যায়।
- কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় জাত চাষ করে থাকে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- আদার কন্দসহ গাছ আদার বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া উপযোগী।
- আদার জন্য সুনিষ্কাশিত বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়।
- তবে এটেল দোআঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়।

⇒ জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ:
- আদার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে জমি গভীরভাবে ৫-৬ টি চাষ দিতে হবে।
- জমি তৈরি সময় গোবর সার, টিএসপি, অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে।
- বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ রোপন পদ্ধতি:
- আদার ১-২ কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ মার্চ থেকে মে মাসে রোপন করতে হবে।
- সাধারণত ১৫-২০ গ্রাম ওজনের কন্দ প্রতি গর্তে ১টি করে ৪০-৫০ সে.মি. সারি থেকে সারি, গাছ থেকে গাছে ২৫ সে.মি. দূরত্বে ৫ সে.মি. গভীরে রোপন করতে হবে।
- আদা রোপনের পর গাছ ও শিকড় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হলে মাতৃ আদা তুলে নিলে গাছের কোন ক্ষতি হয় না বরং আর্থিক লাভবান হওয়া যায়।
- এই পদ্ধতিকে পিলাই তোলা বলে।

⇒ ফসল সংগ্রহ:
- আদা লাগানোর ৭-১০ মাস পর পাতা ও গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে ফসল তোলার উপযোগী হয়।
- সাধারণত: ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আদা তোলা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৫.
নিচের কোনটি আমের জাত নয়?
  1. ক) লক্ষণভোগ
  2. খ) দুলাভোগ
  3. গ) মল্লিকা
  4. ঘ) দুধ সর
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের জাত:

- দুলাভোগ আমের জাত নয়।
- আম - লক্ষনভোগ,মল্লিকা,দুধ সর,হিমসাগর,চোষা,আম্রপালি।
- ধান  - দুলাভোগ,চান্দিনা,মালা,বিপ্লব,আশা,সুফলা।
- ভুট্টা - বর্ণালি,শুভ্রা ,খই ভুট্টা,মোহর।

তথ্যসূত্র -  দৈনিক প্রথম আলো,৬ মে ২০২৩।
                  বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
                  বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
১,০৪৬.
বন্যা শেষে ধান চাষের জন্য বিলম্ব জাত হিসেবে ‘কিরণ ও দিশারি’ নামে দুইটি ধানের জাত উদ্ভাবন করে-
  1. ক) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট
  3. গ) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট
  4. ঘ) বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট
ব্যাখ্যা
বন্যার শেষে ধান চাষের জন্য বিলম্ব জাত হিসেবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ‘কিরণ ও দিশারি’ নামে দুইটি ধানের জাত উদ্ভাবন করে।
ধানের অন্যান্য জাত-
১। স্থানীয় জাত : টেপি, গিরবি, দুধসর, বতিশাইল ইত্যাদি।
২। স্থানীয় উন্নত জাত : হবিগঞ্জ, কটকতারা, পাজাম, কালিজিরা, হাসিকলমি, নাইজারশাইল, লতিশাইল, বিনাশাইল ইত্যাদি।
৩। উচ্চ ফলনশীল জাত : মুক্তা, ময়না, শাহজালাল, মঙ্গল, নিজামী ইত্যাদি।
[সূত্রঃ ৮ম শ্রেণি(কৃষিশিক্ষা) এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(কৃষিশিক্ষা)]
১,০৪৭.
কৃষি খাতে প্রাণি সম্পদের অবদান কত-
  1. ক) ১০.৬৯%
  2. খ) ৯.৮৮%
  3. গ) ১২.২৩%
  4. ঘ) ২০.১২%
ব্যাখ্যা

বর্তমানে কৃষি খাতে মৎস্য সম্পদের অবদান ১০.৬৯%।

- জিডিপিতে বর্তমানে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৪৭%।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২১

১,০৪৮.
পাট চাষে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা কত?
  1. ১২°-২২° সেলসিয়াস
  2. ১৫°-৩৮° সেলসিয়াস
  3. ১৮°-৩৩° সেলসিয়াস
  4. ২৫°-৪০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- পাট চাষে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার সীমারেখা ১৮°-৩৩° সেলসিয়াস।
- উষ্ণমন্ডল ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় বিভিন্ন জলবায়ুর পরিবেশে পাট জন্মে।
- মার্চ, এপ্রিল ও মে পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ২৫০ মিমি বৃষ্টিপাতসহ যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৫০০ মিমি বা ততোধিক সেখানে পাট ভাল ফলন দেয়।
- বাংলাদেশে সাধারণত বীজবপন শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষে এবং প্রজাতিভেদে মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলে।
- পাটচাষ প্রাক-বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- সাদাপাট অধিকতর পানিসহিষ্ণু বিধায় সাধারণত নিচুজমি, এমনকি জলাবদ্ধ জমিতেও চাষ করা যায়।
- জলবদ্ধতা তোষাপাটের জন্য ক্ষতিকর, তাই মাঝারি থেকে নিম্ন-মাঝারি জমিতে চাষ করা হয়।
- কয়েক ধরনের জমিতে, কর্দম থেকে বেলে-দোঅাঁশ পর্যন্ত ভাল উর্বরতাসহ ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৯.
BRRI কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
BRRI (Bangladesh Rice Research Institute) গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত। এটি ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং চাষাবাদের কলাকৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। BRRI ধানের এ পর্যন্ত মোট ৯৪ টি আধুনিক জাত উদ্ভাবন করেছে। (সূত্রঃ BRRI ওয়েবসাইট)
১,০৫০.
শতাব্দী ও গৌরব কোন ফসলের জাত?
  1. সরিষা
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. আলু
ব্যাখ্যা
- শতাব্দী ও গৌরব হলো গমের দুটো জাত।
গমের জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দোয়েল
- সোনালিকা
- সৌরভ
- বলাকা
- অঘ্রাণী
- প্রতিভা
- কাঞ্চন
- প্রদীপ
- আকবর প্রভৃতি।
(সূত্রঃ কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস)
১,০৫১.
স্বাদু পানির মাছের উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) পঞ্চম
ব্যাখ্যা
FAO প্রকাশিত সর্বশেষ দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বে স্বাদুপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

এছাড়া:

চাষকৃত মাছ উৎপাদনে : পঞ্চম।
অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় হতে মাছ আহরণে : তৃতীয়।
ইলিশ মাছ উৎপাদনে : প্রথম।

২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৪৬.২১ লক্ষ মেট্রিক টন। যার মধ্যে চাষকৃত মাছের পরিমাণ প্রায় ২৬.৩৯ লক্ষ মেট্রিক টন।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২)
১,০৫২.
বাংলাদেশের উন্নত তরমুজের জাত কোনটি?
  1. পদ্মা 
  2. যমুনা
  3. মহানন্দা
  4. বাহার
ব্যাখ্যা

• তরমুজের উন্নত জাত: পদ্মা, বারি তরমুজ-১, বারি তরমুজ-২, মধুমালা।

- বাংলাদেশের কৃষিতে কয়েকটি জাত,
যথা:-
• উচ্চ ফলনশীল আলু: হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরি।
• আমের জাত: মহানন্দা, মোহনভোগ, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা,, ক্ষীরসাপাতি।
• মরিচের জাত: যমুনা
• টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, ও শ্রাবণী।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সহায়তা কেন্দ্র।

১,০৫৩.
ধান চাষের জমি অনুর্বর হলে জমিতে প্রতি বর্গমিটারে কত কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ০.৫ কেজি
  2. ১ কেজি
  3. ১.৫ কেজি
  4. ২ কেজি
ব্যাখ্যা
ধানের আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
- বাংলাদেশে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের চাষ করা হয়।
- এর মধ্যে ধানের জমি শতকরা ১১ ভাগ আউশ, ৪৮ ভাগ আমন ও ৪১ ভাগ বোরো ধান চাষ করা হয়।
- কিন্তু উৎপাদনের দিক থেকে বোরো শতকরা ৪৮ ভাগ, আমন ৪২ ভাগ ও আউশ ১০ ভাগ।
- বোরো মৌসুমে ধান চাষ হয় সবচেয়ে বেশি এবং আউশে সবচেয়ে কম।
- তিন মৌসুমে ধান চাষ প্রায় একই রকম।

⇒ ধানের জাত বাংলাদেশে প্রধানত দু'জাতের ধান দেখা যায়।
১. স্থানীয় জাত এবং,
২. উচ্চ ফলনশীল জাত (উফশী জাত)।

⇒ বীজতলা তৈরি:
- দোআঁশ ও এটেল মাটি যেখানে প্রচুর আলো বাতাস আছে এমন জমি বীজতলার জন্য উপযোগী।
- বীজতলার জমি উর্বর হওয়া প্রয়োজন।
- তবে অনুর্বর জমি হলে প্রতি বর্গমিটার ২ কেজি হারে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
- এর পর জমিতে ৫- ৬ সে.মি. পানি দিয়ে দু-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭-১০ দিন পানি বদ্ধ অবস্থায় রেখে দিতে হবে।
- জমিতে ব্যবহৃত জৈব সার পচে গেলে পুনরায় চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে।
- একটি আদর্শ বীজতলায় ৪টি বেড থাকবে।
- প্রতিটি জমির দৈর্ঘ্য বরাবর এক মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবে এবং দু-বেডের মাঝে ২৫-৩০ সে.মি. ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে।
- বেডের উপরের মাটি কাঠ বা বাঁশ দিয়ে সমান করে নিতে হয়।
- বেডের মধ্যবর্তী নালা সেচ ও নিস্কাশন এবং চারার পরিচর্যার জন্য ব্যবহৃত হয়।

• মৌসুম ভেদে ধানের চারা উৎপাদনের জন্য চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা যায়। যেমন:
(১) শুকনো বীজতলা,
(২) কাদাময় বীজতলা,
(৩) ভাসমান বীজতলা ও,
(৪) ডাপোগ বীজতলা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৫৪.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২২ অর্জন করে?
  1. ক) গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই
  2. খ) বিদ্যুৎ বিভাগ
  3. গ) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার।
- জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার লাভ করে।
- সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। 

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ

১. বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী
২. শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম)
৩. আবদুল জলিল
৪. সিরাজ উদ্দীন আহমেদ
৫. মরহুম মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস
৬. মরহুম সিরাজুল হক।

চিকিৎসাবিদ্যা

৭. অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া
৮. অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম

স্থাপত্য

৯. মরহুম স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।

গবেষণা ও প্রশিক্ষণ

১০. গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)

বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান ও শতভাগ বিদ্যুতায়নের স্বীকৃতি স্বরূপ:
১১. বিদ্যুৎ বিভাগ

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল - ২০২২।
১,০৫৫.
সর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন জেলা কোনটি?
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রাঙ্গামাটি
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- দেশে মোট বনাঞ্চলের পরিমাণ - ৬৩,৬৩,৩০৯.৩৩ একর বা বা ২৫,৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর।

সর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন জেলা:
১) রাঙ্গামাটি - ১৩,৭৮,৫৫৫.১৩ একর।
২) বান্দরবান - ৭,৯৭,৫১৬.৪৯ একর।
৩) বাগেরহাট - ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
৪) খাগড়াছড়ি - ৫,৫৪,১১৬.২১ একর।
৫) খুলনা - ৫,৪৬,০৮১.৬১ একর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
১,০৫৬.
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া কি নামে পরিচিত?
  1. চুয়াডাঙ্গা গ্রেড
  2. কুষ্টিয়া গ্রেড
  3. ঝিনাইদহ গ্রেড
  4. মেহেরপুর গ্রেড
ব্যাখ্যা
কুষ্টিয়া গ্রেড:
- বাংলাদেশে পালিত ছাগলের প্রায় নব্বই ভাগই হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।
- এই জাতের ছাগলের চামড়া অত্যন্ত উন্নত মানের এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ব্যতীত ছাগলের অন্যান্য জাতের মধ্যে যমুনাপারি বা রামছাগল, কাশ্মিরী, বারবারি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- দেশের সর্বত্রই এই জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে কৃষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে এই ছাগলের পালন সর্বাধিক হয়।
- যার কারণে বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,০৫৭.
'অগ্নিশ্বর', 'কানাইবাঁসি', 'মোহনবাঁশী' ও 'বীটজবা' কি জাতীয় ফলের নাম?
  1. পেয়ারা
  2. কলা
  3. পেঁপে
  4. জামরুল
ব্যাখ্যা
• কলার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিশ্বর, 
- অমৃতসাগর, 
- মোহনবাঁশী, 
- কানাইবাঁশী, 
- বীটজবা, 
- চাম্পা, 
- মেহেরসাগর, 
- কবরি ইত্যাদি।
---------------------- 
বাংলাদেশের উন্নতমানের ফসলের জাত:
ধান - ইরাটম, ব্রিশাইল, সোনার বাংলা-১, ময়না, হরিধান, চান্দিনাম, নারিকা-১,মালাইরি।
গম - অগ্রণী, সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, বরকত।
ভুট্টা - উত্তরণ, বর্ণালী, শুভ্র।
তুলা - রূপালী ও ডেলফোজ।
টমেটো - মিন্টু, বাহার, মানিক, রতন, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
তামাক - সুমাত্রা ও ম্যানিলা;
বেগুন - ইওরা, শুকতারা, তারাপুরী।
কলা - অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশী, মোহনবাঁশী, বীট জবা, অমৃতসাগর, সিংগাপুরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
১,০৫৮.
গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) এর প্রধান কার্যালয় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. পাবনা
  3. কুষ্টিয়া
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটিই বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য:
- এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণা করত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

১,০৫৯.
বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে ২০২২ সালে বিশ্বে কততম স্থান অধিকার করে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
স্বাদুপানির মাছ উৎপাদন:

- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র 'দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২২' প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্ত জলাশয় বা স্বাদুপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
- বিশ্বে মোট উৎপন্ন স্বাদুপানির মাছের মধ্যে ১১ শতাংশ উৎপান করে বাংলাদেশ। 
- প্রথম অবস্থানে চীন ও দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত।
- তারা উৎপাদন করে যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ ভাগ।

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা, ২৪ জুলাই, ২০২৩।
১,০৬০.
ভূত্বকের কোন স্থানের মৃত্তিকা প্রধানত কয়টি উপাদানের যুগপৎ ক্রিয়ার ফলে গঠিত?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকার গঠন:
- কঠিন শিলা থেকে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়।
- শিলা থেকে প্রথমে খনিজের সৃষ্টি হয়।
- শিলা ও খনিজ থেকে মাটি সৃষ্টি হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।
- দীর্ঘ সময় ব্যাপিয়া শিলা ও খনিজের উপর বিভিন্ন ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক পরিবর্তন সাধিত হয়ে মৃত্তিকায় পরিণত হয়।

⇒ বিশেষ করে তাপমাত্রা, বারিপাত, বিভিন্ন রকমের উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর চলমান ক্রিয়ায় শিলা ও খনিজ নির্দিষ্ট সময় পর মৃত্তিকায় পরিণত হয়।
- সুতরাং যেসব উপাদান নতুন মৃত্তিকা গঠনের জন্য দায়ী তাদেরকে মৃত্তিকা গঠনের উপাদান বলে।

⇒ ভূত্বকের কোন স্থানের মৃত্তিকা প্রধানত পাঁচটি উপাদানের যুগপৎ ক্রিয়ার ফলে গঠিত হয়।
- এ পাঁচটি উপাদান হলো:
১. মৃত্তিকার উৎস বস্তু (Parent material),
২. জলবায়ু (Climate),
৩. জীবসত্ত্বা (Biosphere),
8. ভূমির বন্ধুরতা (Topography),
৫. সময় (Time)। 

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬১.
বর্তমানে কতটি পণ্যের মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ১৯টি
  4. ঘ) ২০টি
ব্যাখ্যা

২০১০ সালে ''পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার আইন-২০১০'' প্রবর্তন করা হয়েছে।
উক্ত আইনবলে ''পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা-২০১৩'' প্রবর্তন করা হয় যাতে ১৭টি পণ্যে বাধ্যতামূলক পাটজাত মোড়ক ব্যবহার করতে হবে।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও পাট গবেষণা ইনিস্টিটিউট।
তবে, পত্রিকার রিপোর্ট বলা হয় -
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে,
মুরগি ও মাছের খাবার সংরণ ও পরিবহনে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।
পোলট্রি ও ফিস ফিডসহ মোট ১৯টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।

১,০৬২.
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান কাজ হলো-
  1. ক) কৃষি ফসলের জাত উদ্ভাবন
  2. খ) কৃষি উপকরণ সরবরাহ
  3. গ) কৃষি ঋণ বিতরণ
  4. ঘ) কৃষি বিষয়ক সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (BADC) প্রধান কাজ হলো - কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা।
এ লক্ষ্যে BADC উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা, সেচ প্রযুক্তি উন্নয়ন, ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মাধ্যমে সেচ দক্ষতা ও সেচকৃত এলাকা বৃদ্ধি এবং কৃষক পর্যায়ে মানসম্পন্ন সার সারবরাহ প্রভৃতি কাজ করে থাকে।
BADC ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।
(সূত্রঃ BADC ওয়েবসাইট)
১,০৬৩.
চা চাষের জন্য কেমন জলবায়ু প্রয়োজন?
  1. গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু
  2. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
  3. উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু
  4. হিমমণ্ডলীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা
• চা (Tea)
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়।
- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ হচ্ছে।
- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
- ১৬০ থেকে ১৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,০৬৪.
বাংলাদেশের প্রধানতম খনিজ সম্পদ কোনটি?
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) গন্ধক
  3. গ) চীনামাটি
  4. ঘ) সিলিকা কয়লা
ব্যাখ্যা
• প্রধান খনিজ সম্পদ:
- বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র (২৯তম)।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজতেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং পেট্রোবাংলা।
১,০৬৫.
'গ্রীন এক্সপ্রেস' কোন ফসলের জাত?
  1. ক) মিষ্টিকুমড়া
  2. খ) পেঁয়াজ
  3. গ) বাঁধাকপি
  4. ঘ) তামাক
ব্যাখ্যা

• উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাতঃ
- গ্রীন এক্সপ্রেস,
- ড্রামহেড,
- গোল্ডেন ক্রস,
- প্রভাতী,
- অগ্রদূত ইত্যাদি।

১,০৬৬.
কৃষকের পণ্য অনলাইনে বিক্রির বন্দোবস্ত করতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক তৈরি করা ওয়েবসাইটের নাম কী?
  1. বাজার
  2. সদাই
  3. কৃষকের হাসি
  4. কেনাবেচা
ব্যাখ্যা
সদাই:
- কৃষকের পণ্য অনলাইনে বিক্রির বন্দোবস্ত করতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ‘সদাই’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।
- কৃষক এবং ভোক্তাদের জন্য আলাদা দুটি মোবাইল অ্যাপও তৈরি করেছে তারা।
- কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘অনলাইনভিত্তিক কৃষি বিপণনব্যবস্থা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প ২০২০ সালের জুনে শুরু হয়।
- এই প্রকল্পের আওতায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সদাই’ ওয়েবসাইট ও দুটি অ্যাপ বানানো হয়, যা ইতিমধ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বুঝে পেয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১,০৬৭.
কোন ধরনের মাটিতে গমের উৎপাদন বেশি হয়?
  1. এটেল মাটিতে
  2. দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
  3. পলি মাটিতে
  4. বেলে ও এটেল দোআঁশ মাটিতে
ব্যাখ্যা

• গম চাষোপযোগী মাটির বৈশিষ্ট্য:
- উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি গম চাষের জন্য উপযোগী। মাঝারি নিচু জমিতেও গম চাষ করা হয়।
-দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য ভালো। এঁটেল দোআঁশ মাটিতেও গমের চাষ হয়।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গমের চাষ ভালো হয়। এছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরেও গমের আবাদ হয়।
- বাংলাদেশের সব কৃষি অঞ্চলে গমের চাষ হয় না। বিশেষ করে হাওর বাঁওড় ও বিল -অঞ্চলে গমের আবাদ করা হয় না।
- যে মাটিতে PH (অম্লাত্মক-ক্ষারত্মক)। মাত্রা ৬.০ থেকে ৭.০ সেসব মাটিতে গম ভালো হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,০৬৮.
'তাহেরপুরী, ঝিটকা' উচ্চ ফলনশীল-
  1. টমেটো
  2. পেঁয়াজ
  3. বেগুন
  4. তরমুজ
ব্যাখ্যা
'তাহেরপুরী, ঝিটকা, ভাতি, কৈলাসনগর' উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত।
বাহার, মানিক, রতন, মিন্টু, সিঁদুর, শ্রাবণী উচ্চ ফলনশীল টমেটোর জাত।
মধুবালা, পদ্মা উচ্চ ফলনশীল তরমুজের জাত।
উত্তরা, তারাপুরী, কাজল, নয়নতারা উচ্চ ফলনশীল বেগুনের জাত।
১,০৬৯.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা -
  1. ময়মনসিংহ
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. দিনাজপুর
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী:
শীর্ষ জেলা:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

শীর্ষ বিভাগ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রাজশাহী।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ ঢাকা।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ সিলেট।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১,০৭০.
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. চকোরিয়া, কক্সবাজার
  2. সাভার, ঢাকা
  3. ফকিরহাট, বাগেরহাট
  4. ভালুকা, ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র:
- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র ঢাকার সাভারে অবস্থিত।
- ১৯৫৯-৬০ খ্রি. সালে ২৬১৩ একর অনাবাদি জমির উপর খামারটি স্থাপিত হয়।
- বর্তমানে খামারে মোট জমির পরিমান ৭৯২.৮৭ একর।
- কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার বিশুদ্ধ ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, বিভিন্ন সংকরজাতের ও দেশি জাতের গরু পালনের মাধ্যমে দেশের গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সাথে সাথে দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিভিন্ন প্রজনন কেন্দ্র:
- বাংলাদেশে কুমির প্রজনন কেন্দ্র: সুন্দরবনের করমজল, ময়মনসিংহের ভালুকায়।
- বাংলাদেশে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র: চকোরিয়া, কক্সবাজার।
- বাংলাদেশে মহিষ প্রজনন কেন্দ্র: ফকিরহাট, বাগেরহাট।
- বাংলাদেশের ছাগল প্রজনন কেন্দ্র: টিলাগড়, সিলেট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৭১.
উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত কোনটি?
  1. কৈলাসনগর
  2. মরিনী
  3. তাহেরপুরী
  4. প্রভাতী
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
১,০৭২.
নিচের কোনটি জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত?
  1. ব্রি ধান ৫২
  2. ব্রি ধান ৫৫
  3. ব্রি ধান ৫৭
  4. ব্রি ধান ৬৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জাত:

- জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত হলো: ব্রি ধান ৬২ , ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান  ৭৪, ব্রি ধান ৮৪।
- খরা সহিষ্ণু ধানের জাত সমূহ হলো: ব্রি ধান ৪৩, ব্রি ধান ৫৫, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১ ও ব্রি ধান ৮৩।
- এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধানের জাত: বিআর ৫।
- লো জিআই বা নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গুণ সম্পন্ন ধানের জাত: বিআর ১৬, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৬৯।
- জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাত: ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৭৯।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
১,০৭৩.
নিম্নের কোনটি খরা সহিষ্ণু ধানের জাত?
  1. ব্রি ধান-৫১
  2. ব্রি ধান-৫২
  3. ব্রি ধান-৭১
  4. ব্রি ধান-৭৯
ব্যাখ্যা

খরা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
• ব্রি ধান-৫৫,
• ব্রি ধান-৫৬,
• ব্রি ধান-৫৭,
• ব্রি ধান-৬৫,
• ব্রি ধান-৬৬,
ব্রি ধান-৭১.

অন্যদিকে, জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের জাতসমূহ:
• ব্রি ধান-৫১
• ব্রি ধান-৫২
• ব্রি ধান-৭৯ প্রভৃতি।

উৎস: i) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ii) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

১,০৭৪.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটির উপর দিনের আলোর দৈর্ঘ্য কোন প্রভাব ফেলে না?
  1. সয়াবিন
  2. ফুলকপি
  3. গাজর
  4. টমেটো
ব্যাখ্যা
দিবাদৈর্ঘ্য:
- অনেকগুলো পারিপার্শ্বিক কারণ দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রভাবিত হয়।
- এই কারণ সমূহের কয়েকটি নিয়ন্ত্রিত হয় মানুষ দ্বারা।
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত বাহ্যিক প্রভাবক সমূহের একটি হচ্ছে দিনের দৈর্ঘ্য প্রযুক্তিগতভাবে ইহা পরিচিত ফটোপিরিয়ড নামে।
- আলোককাল বা ফটোপিরিয়ডের প্রতি উদ্ভিদের সাড়া প্রদানকে বলে ফটোপিরিয়ডিজম।
- দিনের দৈর্ঘ্য যদিও একটি উদ্ভিদের কোন একটি বা সমস্ত অঙ্গকে রূপান্তরিত করতে পারে।
- তবুও এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ার পর হতে আজ পর্যন্ত প্রথমিক ভাবে ধারনা করা হয় এর দ্বারা উদ্ভিদের পুষ্পপ্রদান এবং ফলের উন্নয়ন প্রভাবিত হয়।
- দিনের দৈর্ঘ্য কম বেশী হওয়ার কারণে সালোকসংশ্লেষনের জন্য প্রাপ্ত মোট সময়ের ভিন্নতা ঘটে।
- ফলে সালোকসংশ্লেষন কম বেশি হয়।
- দিনের দৈর্ঘ্য বা আলোর হ্রাস বৃদ্ধির উপর অনেক উদ্ভিদের পুষ্পায়ন সম্পূনরূপে নির্ভর করে।
- এসকল উদ্ভিদ ক্রান্তীয় দিবা দৈর্ঘ্যর নিচে বা উপরে ফুল ধারন করে।
- আলো ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে দিনের দৈর্ঘ্য।

⇒ দিনের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. স্বল্প দিবালোক:
- প্রাপ্ত উদ্ভিদ যে সকল উদ্ভিদ ক্রান্তীয় দিবা দৈর্ঘ্যর নিচে ফুল দেয় তাদেরকে স্বল্প দিবালোক প্রাপ্ত উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: সয়াবিন, ফুলকপি, চন্দ্রমল্লিকা।
২. দীর্ঘ দিবালোক প্রাপ্ত উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদ ক্রান্তীয় দিবা দৈর্ঘ্যর উপর ফুল দেয় তাদেরকে দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ বলে।
- যেমন:- চিনাবাদাম, লেটুস, গাজর ইত্যাদি।
৩. দিবালোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
- যে কোন দৈর্ঘ্যের দিনে এসব ফসলের ফুল-ফল উৎপাদিত হয়ে থাকে, যেমন: টমেটো, তুলা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৫.
দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা কত?
  1. ১০ লাখ টন
  2. ১৫ লাখ টন
  3. ২৬ লাখ টন
  4. ৪০ লাখ টন
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সার:

- নাইট্রোজেনের অভাব পূরণের জন্যে কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়া সারই প্রধান ও বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত।
- এই সারে ৪০-৪৭ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে।
- দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,০৭৬.
বাংলাদেশের কৃষিতে শুকতারা ও মুক্তকেশী কোন ফসলের জাত?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) বেগুন
  3. গ) সরিষা
  4. ঘ) টমেটো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রচলিত বেগুনের জাতসমূহ:
- নয়নতারা
- কাজলা
- তারাপুরী
- ইসলামপুরী
- শুকতারা
- বিজয়
- মুক্তকেশী
- শিংনাথ
- নয়ন কাজল
- উত্তরা
- ঈশ্বরদী-১
- খটখটিয়া ইত্যাদি।
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
১,০৭৭.
গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় অবস্থিত বনভূমি কী ধরনের?
  1. ক) মিশ্রিত
  2. খ) পত্রঝরা
  3. গ) চিরহরিৎ
  4. ঘ) স্রোতজ
ব্যাখ্যা
ক্রান্তিয় আদ্র পাতাঝরা বন (শাল বন)

অবস্থান:- এ বন মূলত গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় অবস্থিত। তাছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় অল্প কিছু শাল বন রয়েছে।

পরিমাণ:- প্রায় ১,২০,০০০ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ০.৮১% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৭.৫%।

উদ্ভিদ প্রজাতি:- এ বনের মূল প্রজাতি শাল যা অনেকেই গজারী বলে জানেন। শুষ্ক মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পত্রঝরা বনও বলা হয়। এ ছাড়া রয়েছে হরিতকি, বহেরা, কড়ই, শিমুল, অর্জুন ইত্যাদি প্রজাতির বৃক্ষ।

বন্যপ্রাণী:- এ বনের উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে মেছোবাঘ, বনবিড়াল, বানর, শিয়াল, বেজি, হনুমান, সজারু, ঈগল, কাঠবিড়ালী, সাপ, ধলাকোমর শামা, লাল বন মুরগী, সবুজঠোঁট মালকোয়া, তিলা-নাগঈগল।

তথ্যসূত্র:- বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,০৭৮.
আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. ঘ) লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
আম উৎপাদনে দেশের শীর্ষ জেলা - রাজশাহী।
- আম উৎপাদনে জেলা হিসেবে দ্বিতীয় - চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা।

- আম উৎপাদনে বিভাগ হিসেবে প্রথম -  রাজশাহী বিভাগ।
- আম উৎপাদনে বিভাগ হিসে দ্বিতীয় - রংপুর বিভাগ।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২১।
১,০৭৯.
বাংলাদেশে প্রথম চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. ক) সিলেটের মালনীছড়ায়
  2. খ) মৌলভীবাজার জেলায়
  3. গ) সিলেটের তামাবিলে
  4. ঘ) চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়
ব্যাখ্যা
১৮৪০ সালে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত। এই বাগানটি প্রতিষ্ঠার পরপরই বিলুপ্ত হয়ে যায়। অতঃপর ১৮৫৪ সালে মতান্তরে ১৮৪৭ সালে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলতঃ মালনীছড়াই বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান।
[সূত্রঃ চা বোর্ড ওয়েবসাইট]
১,০৮০.
নিচের কোনটি জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত?
  1. ব্রি ধান৭২
  2. ব্রি ধান৭৪
  3. ব্রি ধান৮৪
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত:
i) ব্রি ধান৬২
ii) ব্রি ধান৬৪: চালে জিংক এর পরিমাণ ২৪ মিলিগ্রাম/কেজি।
iii) ব্রি ধান৭২: অধিক ফলনশীল জিংক সমৃদ্ধ আমন ধানের জাত।
iv) ব্রি ধান৭৪
v) ব্রি ধান৮৪: প্রতি কেজি চালে ২৭.৬ মিলিগ্রাম জিঙ্ক এবং ১০.১ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে।
vi) ব্রি ধান১০০
vii) ব্রি ধান১০২
viii) বিনাধান-২০: জিংক সমৃদ্ধ ধান, আকাড়া চালে ২৬.৫ পিপিএম জিংক বিদ্যমান।

উৎস: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
১,০৮১.
বাংলাদেশের কোথায় প্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়েছে?
  1. সিলেটে
  2. মৌলভীবাজারে
  3. পঞ্চগড়ে
  4. চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা
অর্গানিক চা:
- অর্গানিক বা ভেষজ চা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোনোরকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়া।
- অর্গানিক চা চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলাদেশে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- ২০০০ সালে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে চায়ের আবাদ শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরু হয় ২০০৪ সালে।
- বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে অর্গানিক চায়ের চাষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- জৈব চাষের প্রথাগত নিয়ম মেনেই তৈরি হয় অর্গ্যানিক চা।
- এক্ষেত্রে চা পাতায় কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।
- সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই চাষ করা হয় এই চা।
- এই ধরনের চা পাতার গন্ধ ও গুণ আলাদা হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১,০৮২.
কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানটি কৃষি উপকরণ ও বীজ সরবরাহ করে থাকে?
  1. ক) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
  2. খ) বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
  3. গ) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
  4. ঘ) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) কৃষি উপকরণ ও বীজ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান।
এর অংশ হিসেবে BADC বিভিন্ন ফসলের উফশী বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার সরবরাহ করে থাকে।
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশ স্বাধীনের পর BADC নামধারণ করে।
এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।
(সূত্রঃ BADC ওয়েবসাইট)
১,০৮৩.
'সোনালিকা' ও ' আকবর' বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে কিসের নাম?
  1. উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির নাম
  2. উন্নত জাতের ধানের নাম
  3. দুটি কৃষি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থার নাম
  4. উন্নত জাতের গমের নাম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসল:
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।

অন্যদিকে,
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি।
• উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
• উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
• উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,০৮৪.
মৎস্য আইন অনুসারে, কত সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের রুই মাছ ধরা নিষেধ?
  1. ৯ সেন্টিমিটার
  2. ১৩ সেন্টিমিটার
  3. ১৮ সেন্টিমিটার
  4. ২৩ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
মৎস্য আইন:
- বিশেষ বিশেষ মৎস্যপ্রজাতির পোনা ও রেণু সংরক্ষণ এবং কতিপয় মাছ শিকার কার্যক্রম সীমিত করার জন্য ১৯৫০ সালে প্রাদেশিক আইন সভায় পূর্ব বাংলা মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন পাস করা হয়।
- ১৯৬৩, ১৯৭০, ১৯৮২ ও ১৯৮৫-১৯৮৮ সালে এ আইনের বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

⇒ এই আইন অনুসারে,
- মধ্য আষাঢ় মাস থেকে মধ্য পৌষ মাস (জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস) ২৩ সেন্টিমিটার বা ৯ ইঞ্চি বা তার চেয়ে ছোট আকারের রুই, কাতলা, কালবাউশ, ঘনিয়া প্রভৃতি মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে (নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস) ২৩ সেন্টিমিটার বা ৯ ইঞ্চি বা তার চেয়ে ছোট আকারের ইলিশ মাছ (জাটকা) ও পাঙ্গাস মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময়ে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস) ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) বা তার চেয়ে ছোট পাঙ্গাস, শিলং, বোয়াল, আইড় প্রভৃতি মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- নদ-নদীসহ বৃহদাকার জলাশয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে বা স্থায়ীভাবে জাল পেতে মাছ ধরা বা মাছের স্বাভাবিক চলাচলে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- বিস্ফোরক দ্রব্য, বন্দুক, তীর, বর্শা ইত্যাদি মারণাস্ত্র ব্যবহার করে বা জলাশয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছের আবাসস্থল বা প্রজননক্ষেত্র বিনষ্ট করা আইনগত দন্ডনীয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৫.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের সর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন জেলা কোনটি?
  1. খুলনা
  2. বাগেরহাট
  3. বান্দরবান
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- দেশে মোট বনাঞ্চলের পরিমাণ - ৬৩,৬৩,৩০৯.৩৩ একর বা বা ২৫,৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর।

সর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন জেলা:
১) রাঙ্গামাটি - ১৩,৭৮,৫৫৫.১৩ একর।
২) বান্দরবান - ৭,৯৭,৫১৬.৪৯ একর।
৩) বাগেরহাট - ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
৪) খাগড়াছড়ি - ৫,৫৪,১১৬.২১ একর।
৫) খুলনা - ৫,৪৬,০৮১.৬১ একর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
১,০৮৬.
জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয় কোথায়?
  1. ক) চরাঞ্চলে
  2. খ) সমুদ্র উপকূলে
  3. গ) হাওরাঞ্চলে
  4. ঘ) পাহাড়ী এলাকায়
ব্যাখ্যা
জুম হলো এক প্রকার স্থানান্তর চাষাবাদ পদ্ধতি যা পাহাড়ী এলাকায় প্রচলিত। এ পদ্ধতিতে পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল কেটে বা পুড়িয়ে কৃষি জমি প্রস্তুত করে চাষ করা হয়। কয়েক বছর চাষাবাদ করার পর তা ছেড়ে অন্যত্র চাষ করা হয়। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে জুমচাষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। এই পদ্ধতি সুইডেন চাষাবাদ পদ্ধতি নামেও পরিচিত।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,০৮৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র কোনটি?
  1. হালদা নদী
  2. চলন বিল
  3. পশুর নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে হালদা নদী।
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
১,০৮৮.
কর্মসংস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত কোনটি?
  1. ক) শিল্প খাত
  2. খ) শিক্ষা খাত
  3. গ) সেবা খাত
  4. ঘ) কৃষি খাত
ব্যাখ্যা
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ৪০.৬ শতাংশ,
- সেবা খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ৩৯.০ শতাংশ,
- শিল্প খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ২০.৪শতাংশ।
সুতরাং, কর্মসংস্থানের দিক থেকে সবচেয়ে বড় খাত - কৃষিখাত।


[উৎস:বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১]
১,০৮৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আলুর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর 
  3. ঠাকুরগাঁও 
  4. পাবনা 
ব্যাখ্যা

আলু:
- আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসল।
- উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আছে আলু।
- আলু একটি স্টার্চ প্রধান খাদ্য এবং ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
- আলু চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে আলু চাষের মোট জমির শতকরা ৬৫ ভাগ জমিতে উন্নত জাতের আলু এবং ৩৫ ভাগ জমিতে দেশি জাতের আলুর চাষ হয়ে থাকে।
- ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যেসব উন্নত জাতের আলুর চাষ হচ্ছে তার মধ্যে হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ড, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে।
- এগুলো সবই উচ্চফলনশীল জাত।

⇒ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুসারে, আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: রংপুর।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
ii) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১,০৯০.
পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাটি কোনটি?
  1. এঁটেল
  2. পলি
  3. দো-আঁশ
  4. বেলে
ব্যাখ্যা
⇒ উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

পাট চাষ:
- উষ্ণমন্ডল ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় বিভিন্ন জলবায়ুর পরিবেশে পাট জন্মে।
- মার্চ, এপ্রিল ও মে পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ২৫০ মিমি বৃষ্টিপাতসহ যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৫০০ মিমি বা ততোধিক সেখানে পাট ভাল ফলন দেয়।
- প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার সীমারেখা ১৮°-৩৩° সে।
- পাট বর্ষাকালীন ফসল।
- বাংলাদেশে সাধারণত বীজবপন শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষে এবং প্রজাতিভেদে মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলে।
- পাটচাষ প্রাক-বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- সাদাপাট অধিকতর পানিসহিষ্ণু বিধায় সাধারণত নিচুজমি, এমনকি জলাবদ্ধ জমিতেও চাষ করা যায়।
- জলবদ্ধতা তোষাপাটের জন্য ক্ষতিকর, তাই মাঝারি থেকে নিম্ন-মাঝারি জমিতে চাষ করা হয়।
- কয়েক ধরনের জমিতে, কর্দম থেকে বেলে-দোআঁশ পর্যন্ত ভাল উর্বরতাসহ ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৯১.
গম উত্তোলনের সময়সূচি নিচের কোনটি?
  1. ক) এপ্রিল – মে
  2. খ) মার্চ – মধ্য এপ্রিল
  3. গ) মধ্য জানুয়ারি – মার্চ
  4. ঘ) মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসল উত্তোলনের সময়সূচি:

- গম উত্তোলনের সময়সূচি: মার্চ – মধ্য এপ্রিল।
- আউশ ধান উত্তোলনের সময়সূচি: মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু।
- আমন ধান উত্তোলনের সময়সূচি: ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু।
- বোরো ধান উত্তোলনের সময়সূচি: এপ্রিল – মে।
- ভুট্টা উত্তোলনের সময়সূচি: এপ্রিলের শুরু – মে মাসের শেষ।
- আলু উত্তোলনের সময়সূচি: মধ্য জানুয়ারি – মার্চ।
- মিষ্টি আলু উত্তোলনের সময়সূচি: মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ – ২০২২।
১,০৯২.
বাংলাদেশের ‘মসলা গবেষণা কেন্দ্র’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঈশ্বরদী
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি অন্যতম গবেষণা কেন্দ্র।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন গবেষনা কেন্দ্র সমূহঃ
১. কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
২. উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
৩. তৈল বীজ গবেষণা কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
৪. উদ্ভিদ কৌলি সম্পদ কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
৫. ডাল গবেষণা কেন্দ্র - ঈশ্বরদী, পাবনা।
৬. মসলা গবেষণা কেন্দ্র - শিবগঞ্জ, বগুড়া।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট]
১,০৯৩.
'বাংলামতি' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. তামাক
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসল:
• উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, বাংলামতি, ব্রিশাইল, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, কিরণ, দুলাভোগ, দিশারী, মোহিনী, সুফলা, আশা, শ্রাবণী, প্রগতি, মুক্তা, ময়না, গাজী, শাহীবালাম, শাহজালাল। 
• উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
• উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
• উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর ও উত্তরণ।
• উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
• উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
• উন্নত জাতের মরিচ: বাইন, যমুনা, বালিজুরি, সূর্যমুখী, চৌরা, বারিমরিচ, বাগুরা।
• উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
• উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।
• উন্নত জাতের আনারস: জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।
• উন্নত জাতের হলুদ: ডিমলা, পাটনাই, খোচামুদি, দেবিপাট। 
• উন্নত জাতের কলা: চিনি চম্পা, সবরি, কবরী, অগ্নীশ্বর, কানাই খালি, মোহনবাশি, গানা সুন্দরী, মেহের সাগর, জাহাজি, অমৃতসাগর, সিঙ্গাপুরী, জাপকাঠালী, বীটজবা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

১,০৯৪.
বাংলাদেশে কোন জাতের ধানের উৎপাদন সর্বোচ্চ? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. আউশ
  2. আমন 
  3. বোরো 
  4. সমান উৎপাদন
ব্যাখ্যা

ধান উৎপাদন:
- ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য।
- বাংলাদেশে ধানের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৪.২ টন।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে দেশের ধান উৎপাদনের তিনটি মৌসুম লক্ষ্য করা যায়। যথা: আউশ, আমন ও বোরো।

⇒ বাংলাদেশে বোরো জাতের ধানের উৎপাদন সর্বোচ্চ।
- উৎপাদনের পরিমাণ বিচারে বোরো ধান শীর্ষে এবং তারপরই রয়েছে আমন ও আউশ।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুসারে, দেশের ২৮৮.২০ লক্ষ একর জমিতে মোট ৪০৬.৯৭ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে আউশ ধান উৎপন্ন হয় ২৯.৭৩ লক্ষ মেট্রিক টন, আমন ধান উৎপন্ন হয় ১৬৬.৫৬ লক্ষ মেট্রিক টন, বোরো ধান উৎপন্ন হয় ২১০.৬৮ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়।
         ii) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১,০৯৫.
জাতিসংঘের কোন সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে?
  1. খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
  2. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  3. জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা
  4. আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- ১৯৬০ সালে দেশে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
১,০৯৬.
মেইজি পুনর্গঠন (Meiji Restoration) কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. চীন
  2. দক্ষিণ কোরিয়া
  3. তাইওয়ান
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
জাপান:
- জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র, এর প্রাচীন নাম নিপ্পন।
- এর রাজধানী টোকিও এবং রাষ্ট্রভাষা জাপানি।
- জাপানের মুদ্রার নাম ইয়েন।
- জাপানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হলো —হোক্কাইডো, হনসু, শিকোকু, কিউসু এবং ওকিনাওয়া। এর মধ্যে হনসু হলো সবচেয়ে বড়।

Meiji Restoration:
- মেইজি পুনর্গঠন (Meiji Restoration) ১৮৬৮ সালে জাপানে সংঘটিত একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক পরিবর্তন,
- এর মাধ্যমে টোকুগাওয়া শোগুনতন্ত্রের পতন ঘটে এবং সম্রাট মেইজির হাতে শাসনভার ফিরে আসে।
- এই পুনর্গঠনের ফলে জাপান পশ্চিমা শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প, আইন ও সামরিক শক্তি গ্রহণ করে আধুনিক রাষ্ট্রে রূপ নেয়।
- ফিউডাল শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয় এবং কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা হয়।
- অর্থনৈতিক কাঠামো কৃষিভিত্তিক থেকে শিল্পভিত্তিক হয়ে ওঠে, নির্মিত হয় রেলপথ, কারখানা, ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা।

উল্লেখ্য,
- এই রূপান্তর জাপানকে এশিয়ার প্রথম আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করে এবং বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর কাতারে নিয়ে আসে। তাই মেইজি রেস্টোরেশন মূলত জাপানের আধুনিকায়নের সূচনা।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও japan referens ওয়েবসাইট।
১,০৯৭.
সবচেয়ে বেশি তামাক উৎপাদন হয় কোন জেলায়? ( মার্চ ২০২৫)
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবান
  3. কুষ্টিয়া
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
তামাক:
- বাংলাদেশে তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- তামাক উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ জেলা লালমনিরহাট।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- তামাক উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ বিভাগ রংপুর।

তামাকের কয়েকটি উন্নতমানের জাত:
• সুমাত্রা, 
• ম্যানিলা।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি তথ্য ওয়েবসাইট।
১,০৯৮.
নারিকা-১ কী?
  1. অপারেটিং সিস্টেম
  2. তামাকের জাত
  3. খরা সহিষ্ণু ধান
  4. পাটের জাত
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রধান ধান চাষ হচ্ছে বোরো।
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইরি-৮ জাতের উফশি জাতের ধান আমদানি করা হয় যা এখনও এদেশে চালু আছে।
- বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মঙ্গা এলাকার জন্য উপযোগী ধান ব্রি-৩৩।
- হরিধান জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের আবিষ্কারক ঝিনাইদহের হরিপদ কাপালী।
- নারিকা-১ হলো একধরনের খরা সহিষ্ণু ধান।
- নেদারল্যান্ড থেকে আলু বাংলাদেশে আমদানি করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি

১,০৯৯.
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর গড়ে কয়টি করে ডিম খায়?
  1. ক) ১১৯
  2. খ) ১২০
  3. গ) ১২১
  4. ঘ) ১২২
ব্যাখ্যা
• ডিম উৎপাদন :
দেশের আবহাওয়া উপযোগী লেয়ার হাঁস-মুরগির জাত উন্নয়ন, গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক ও প্যারেন্ট স্টক খামার স্থাপন, বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের ফলে ডিম উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে ডিমের উৎপাদন ছিল ২০৫৭.৬৪ কোটি, যা ২০১০-২০১১ অর্থবছরের উৎপাদনের (৬০৭.৮৫ কোটি) তুলনায় ৩.৪ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ডিমের জনপ্রতি প্রাপ্যতা ১২১.১৮ টি/বছর এ উন্নীত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
১,১০০.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী নিচের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি আউশ ধান উৎপাদন হয়?
  1. রংপুর
  2. কুমিল্লা
  3. ময়মনসিংহ
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
ধান উৎপাদন:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ: রংপুর।
- আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: কুমিল্লা।
- আমন ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: দিনাজপুর।
- বোরো ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।