বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৫৭ / ৬৩ · ৫,৬০১৫,৭০০ / ৬,৩২৭

৫,৬০১.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) উত্তরাধিকার
  2. খ) অতীন্দ্রিয়
  3. গ) মরূদ্যান
  4. ঘ) পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
সূত্র-১: অ/আ+অ/আ = আ ।যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার। 
সূত্র-২: ই/ঈ+ই/ঈ = ঈ । যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়।
সূত্র-৩: উ/ঊ+উ/ঊ = উ। যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান।

• ব্যঞ্জনসন্ধি স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।  যেমন – কথা+ছলে = কথাচ্ছলে, পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ। 
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ-এর জায়গায় চ্ছ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬০২.
কোনটি বাক প্রত্যঙ্গ নয়?
  1. ক) হাত
  2. খ) জিহ্বা
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) ঠোঁট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাদের বাক প্রত্যঙ্গ বলা হয়। বাক প্রত্যঙ্গগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় বাগযন্ত্র। বাগযন্ত্রের মধ্যে আছে ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, গলনালি, জিভ, তালু, মাড়ি, দাঁত, ঠোঁট, নাক ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৬০৩.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি ভুল?
  1. ক) সু + আগত = স্বাগত
  2. খ) উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  3. গ) স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা
  4. ঘ) ষড় + দশ = ষোড়শ
ব্যাখ্যা
'ষোড়শ' একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে- ষট্ + দশ = ষোড়শ।
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়।
যেমন- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
অপশনে বাকিগুলোর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদঃ
স্ব + অধীন = স্বাধীন,
স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।
উৎসঃ‌ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬০৪.
নিচের কোনটি ওষ্ঠ্য বর্ণ?
  1. ক) ঞ
  2. খ) ঙ
  3. গ) ম
  4. ঘ) ঘ
ব্যাখ্যা
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ এগুলো তালব্য বর্ণ। প, ফ, ব, ভ, ম এগুলো ওষ্ঠ্য বর্ণ৷ ক, খ, গ, ঘ, ঙ এগুলো কণ্ঠ্যবর্ণ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৬০৫.
ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী - নিচের কোন নিয়মে হয়েছে? 
  1. আ + ঈ = এ
  2. অ + ঈ = এ
  3. আ + ই = এ
  4. অ + ই = এ
ব্যাখ্যা
ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী একটি তৎসম স্বরসন্ধি৷ যা 'আ + ঈ = এ' নিয়মে গঠিত হয়েছে৷
এরূপ:
- মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর
- রমা + ঈশ = রমেশ
- মহা + ঈশ = মহেশ
 
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৫,৬০৬.
'বনৌষধি' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বন + ওষূধি
  2. বন + ওষধি
  3. বন + ওষুধি
  4. বন + ঔষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৬০৭.
চন্দন > চন্নন কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• চন্দন > চন্নন প্রগত সমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
----------------- 
• সমীভবন:
- সমীভবন বা সমীকরণ হলো ধ্বনি পরিবর্তনের এমন একটি প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের মধ্যে পাশাপাশি থাকা অসম ব্যঞ্জনধ্বনি একে অপরের প্রভাবে উচ্চারণে সঙ্গতি বা সাম্য অর্জন করে।
- যদিও এটি স্বরধ্বনিতেও ঘটতে পারে, তবে মূলত ব্যঞ্জনধ্বনিতে দেখা যায় এবং তাই ব্যাকরণ অনুযায়ী এটি ব্যঞ্জনধ্বনির সমীভবন নামে পরিচিত।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না।

• সমীভবনের তিনটি ধরন রয়েছে:

প্রগত সমীভবন (Progressive Assimilation):
- পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনি তার সমতা গ্রহণ করে।
- যেমন—
- চন্দন > চন্নন,
- পদ্ম > পদ্য,
- স্বর্ণ > সন্ন।

পরাগত সমীভবন (Regressive Assimilation):
- পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনি তার সমতা গ্রহণ করে।
- যেমন—
- কাঁদনা > কান্না,
- কর্ম > কম্ম,
- ধর্ম > ধম্ম।

অন্যোন্য সমীভবন (Mutual/Reciprocal Assimilation):
- পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনি উভয়েই পরস্পরের প্রভাবে রূপান্তরিত হয়ে সাম্য লাভ করে।
- যেমন—
- বৎসর > বচ্ছর,
- বিশ্রী > বিচ্ছিরি,
- কুৎসিত > কুচ্ছিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,৬০৮.
কোন শব্দে 'ন'-এর ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. দুর্নাম
  2. আপন
  3. ক্রন্দন
  4. বক্ষত্রান
ব্যাখ্যা
• 'বক্ষত্রান' - অশুদ্ধ বানান।
এখানে,
'বক্ষত্রান'- বানানে 'ন' এর স্থলে 'ণ' হবে। 

• বক্ষত্রান- এর শুদ্ধ বানান- বক্ষত্রাণ।

• 'বক্ষত্রাণ' শব্দের অর্থ:
- অস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য বক্ষে ধারণীয় ধর্মবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬০৯.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়নি?
  1. স্থাণু
  2. কঙ্কণ
  3. বাণিজ্য
  4. গ্রহণ
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধান অনুসারে গঠিত হয়েছে।

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ য় ব হ,ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে পৃ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ)।

----------------
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।

যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ,
বাণিজ্য লবণ মণ,
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি,
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী,
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী,
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্বণ নিক্বণ তূণ,
কফণি (কনুই) বণিক গুণ, 
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৬১০.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনঃ + তাপঃ = মনস্তাপ
  2. চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
  3. নিষঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
  4. ইতঃ + তত = ইতঃস্তত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়। 

--------------------
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম / সূত্র:

পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ্‌ থাকলে ষ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

• সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়। 
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা।
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র। 
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়। 
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
- ইতঃ + তত = ইতস্তত। 
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬১১.
নিচের কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি?
  1. [এ্]
  2. [ই্]
  3. [আ্]
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
যেমন:
- [ই্], [উ্], [এ্] এবং [ও্]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
- ‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং ই্। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলাে অধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে ‘লাউ’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
 
অন্যদিকে,
- [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬১২.
করতাল > কত্তাল শব্দে কোন নিয়ম অনুসারে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) দ্বিত্বব্যঞ্জন
  2. খ) সমীভবন
  3. গ) সম্প্রকর্ষ
  4. ঘ) র-কার লোপ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের মাঝে র-কার লোপ হয়ে পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হলে তাকে র-কার লোপ বলে।
যেমন :  
- তর্ক > তক্ক, 
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম,
- করতাল > কত্তাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬১৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) বর্ণালি
  2. খ) রুপালি
  3. গ) কার্য্য
  4. ঘ) পিশাচী
ব্যাখ্যা
• বিশেষণবাচক 'আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন- বর্ণালি, রুপালি, সোনালি। 

• রেফ এর পর কোথাও (তৎসম, অতৎসম সকল শব্দে) ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন- কার্য, কর্ম, পূর্ব। 

• কয়েকটি স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ- কার হবে।  
যেমন- কিংকরী, পিশাচী, হরিণী। 

• উপরের আলোচনা অনুসারে, কার্য্য এর শুদ্ধ বানান হবে- 'কার্য'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৫,৬১৪.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য
  2. মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  3. জল + ঔকা = জলৌকা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - জল + ঔকা = জলৌকা
এর শুদ্ধরূপ - জল + ওকা = জলৌকা।

অ/আ, ও/ঔ ধ্বনির সন্ধি:

যেমন:
- জল + ওকা = জলৌকা, 
- চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৬১৫.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. স্খ
  2. শ্ছ
  3. ঞ্চ
  4. ক্ট
ব্যাখ্যা
সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ঝ, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ন্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্ফ, ষ্ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত = (ক্ + ত), 
ক্ম = (ক্ + ম), 
ক্ষ = (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স = (ক্ + স), 
গু = (গ্ + উ),
গ্ধ = (গ্ + ধ), 
ঙ্গ = (ঙ্ + গ), 
ণ্ড = (ণ্ + ড),
জ্ঞ = (জ + ঞ), 
ঞ্চ = (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ = (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
হু = (হ্ + উ), 
হৃ = (হ + ঋ), 
হ্ন = (হ্ + ন), 
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬১৬.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) নবান্ন
  2. খ) মনোরম
  3. গ) জনৈক
  4. ঘ) বনৌষধি
ব্যাখ্যা
• পূর্বপদের শেষ ধ্বনি বিসর্গ হলে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জন কিংবা স্বর হলে এ দুয়ের মধ্যে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের  শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ হয়।
যেমন:
- র্-জাত বিসর্গ: নির্ >নিঃ; দুর্ >দুঃ; অন্তর্ >অন্তঃ ইত্যাদি।
- স্-জাত বিসর্গ: সরস্ >সর; মনস্ >মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

কয়েক টি র্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- নিঃ+চয় = নিশ্চয়
- মনঃ+যোগ =মনোযোগ
- পুরঃ+হিত = পুরোহিত
- মনঃ+রম = মনোরম
- ততঃ+অধিক = ততোধিক

• স্বরধ্বনির নিয়মে গঠিত সন্ধি হচ্ছে:
- নব+অন্ন = নবান্ন
- জন+এক = জনৈক
- বন+ওষধি = বনৌষধি

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬১৭.
কোনটি 'লবণ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ল+অণ
  2. লো+অণ
  3. লে+অন
  4. ল+বন
ব্যাখ্যা
[মূল প্রশ্নে বানানজনিত ভুল ছিল। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘খ’ গ্রহণ করা হলো।]

• 'লবণ'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ: লো + অন। 

• সূত্র: এ, ঐ, ও, ঔ এর পর এ, ঐ এর স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ এর স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়। 
অনুরূপভাবে,
নে + অন = নয়ন,
নৈ + অক = নায়ক,
পো + অন = পবন,
পৌ + অক = পাবক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬১৮.
'বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছাে,
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ- মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ বিকৃতি বলে।
  যেমন:
- কবাট>কপাট।

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। 
 যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি > বউদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬১৯.
'ষষ্ঠী' - এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শশ্ঠি
  2. সয্টি
  3. শোস্ঠি
  4. শোশ্‌ঠি
ব্যাখ্যা
• 'ষষ্ঠী'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- উচ্চারণ: শোশ্‌ঠি
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ষষ্ঠ + ঈ।
অর্থ: 
- সন্তানের রক্ষয়িত্রী বলে কল্পিত দেবী। 
- সম্বন্ধপদের বিতক্তি।
- তিথিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬২০.
'বনৌষধি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? 
  1. বন + ঔষধি
  2. বনঃ + ওষধি
  3. বন + ওষধি
  4. বনঃ + ঔষধি
ব্যাখ্যা
• 'বনৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বন + ওষধি'।

• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয় ; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি;
মহা + ওষধি = মহৌষধি ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬২১.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্র
  2. ঞ্ঝ
  3. ক্ষ্ম
  4. ঙ্ক
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ঝ, ঞ্ঝ, ড্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্ল, ন্স, ব্জ, ব্দ, ম্ফ, স্ক, র. ল্ট, ন্ড, ল্প, ফ্ল, শ্চ,শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্খ, স্ট, স্ফ ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্স (ক্+স), ক্র (ক্‌ +র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ+ম), ক্স (ক্+স), ও (অ+উ), গ্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ +ক), ঙ্গ (ঙ+গ), জ্ঞ (জ+ঞ), ঞ্চ (ঞ +চ), ঞ্ছ(ঞ+ছ), ঞ্জ (ঞ+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত),ত্থ (ত্+থ), ত্র (ত+র), ণ্ড (প্+ঢ), দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্‌+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্‌+র), ভ্রূ (ভ্‌+র+উ), রু (র+উ), রূ (র,+ঊ),  ষ্ণ (ষ্‌+ণ), হু (হ+উ), হৃ (হ্‌+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্‌+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৫,৬২২.
বাংলা বর্ণমালা অনুযায়ী কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. স শ ষ হ
  2. ষ শ স হ
  3. হ শ ষ স
  4. শ ষ স হ
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।
- মূল বর্ণগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।
- স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ ও ঔ = ১১টি

ব্যঞ্জনবর্ণ:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, র, ল,
শ, ষ, স, হ,
ড়, ঢ়, য়, ৎ,
ং, ঃ, ঁ,= ৩৯টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫,৬২৩.
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলে -
  1. অঘোষ ধ্বনি
  2. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  3. ঘোষ ধ্বনি
  4. মহাপ্ৰাণ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
- প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
• ঘোষ ব্যঞ্জন
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ। 

• অঘোষ ব্যঞ্জন
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্ৰাণ
ধ্বনি।
যেমন :
– ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬২৪.
'গবাক্ষ' শব্দটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি তিন প্রকার:
স্বরসন্ধি
ব্যঞ্জনসন্ধি
বিসর্গসন্ধি 

 স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

সূত্র: অ/আ+অ/আ = আ। যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত
সূত্র: ই/ঈইঈ = ঈ। যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা
সূত্র: উ/উ+উ/ঊ = উ। যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান
সূত্র: অ/আ+ই/ঈ = এ। যেমন – শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
সূত্র: অ/আ+উ/ঊ = ও। যেমন – সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়
সূত্র: অ/আ+ঋ = অর্। যেমন – মহা+ঋষি = মহর্ষি।


কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
- যেমন – কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গাে+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬২৫.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ভো + উক = ভাবুক
  2. পো + ইত্র = পবিত্র
  3. পো + অক = পাবক
  4. গো + আবাদি = গবাদি।
ব্যাখ্যা

• পো + ইত্র = পবিত্র; সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

সূত্র:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- ঔ + উ = আব্ + উ;  ভৌ + উক = ভাবুক।
- ও + ই = অব্‌ + ই;  পো + ইত্র = পবিত্র।
- ঔ + অ = আব্‌ + অ;  পৌ + অক = পাবক।
- ও + আ = অব্ + আ; গো + আদি = গবাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৬২৬.
'অঞ্চল' শব্দের যুক্তবর্ণ কিভাবে গঠিত হয়?
  1. ঞ্ + চ
  2. চ্‌ + ঞ
  3. ঞ্‌ + ছ
  4. ণ্‌ + চ
ব্যাখ্যা
ঞ্ + চ = ঞ্চ৷ উদাহরণ - অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম ইত্যাদি৷
ঞ + ছ = ঞ্ছ৷ উদাহরণ - বাঞ্ছিত, অবাঞ্ছিত৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬২৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রতিস্থান
  2. অভিসেক
  3. সুসমা
  4. অগ্নিসাৎ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও য হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৬২৮.
ফলাযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. শক্ত
  2. লিপ্সা
  3. ফর্ম
  4. বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• ফলাযুক্ত শব্দ- বিশ্বাস। 
- এখানে 'ব' ফলা যুক্ত হয়েছে। 
----------------- 
• অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে।
বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
- ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র- ফলা,
- ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬২৯.
উচ্চারণ স্থান অনুসারে কোনটি তালব্য ধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৩০.
ঘোষীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কাদনা > কান্না
  2. মাছুয়া > মেছো
  3. জন্ম > জম্ম
  4. শাক > শাগ
ব্যাখ্যা
• ঘোষীভবন:
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে।
যেমন:
- কাক > কাগ,
- শাক > শাগ,
- শালা > হালা।

উল্লেখ্য,
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই।

অন্যদিকে,
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৩১.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্ব + উর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব
  2. সরোঃ + বর= সরোবর
  3. অহম্ + কার = অহংকার
  4. তৎ + হিত = তদ্ধিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: অহম্ + কার = অহংকার।

অশুদ্ধ সন্ধিগুলোর সুদ্ধরূপ হলো-
- সর্ব + ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব।
- সরঃ + বর= সরোবর।
- তদ্‌ + হিত = তদ্ধিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৩২.
নিচের কোনটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বরধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
[ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
[অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৩৩.
কোন শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই?
  1. বিশ্বাস
  2. অশ্ব
  3. স্বাধীন
  4. পক্ব
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীন' — শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই।

• ব:
 'ব' বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে।

• শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না।
যেমন - 
- ত্বক [তক্],
- শ্বশুর [শোশুর্],
- স্বাধীন [শাধিন্]।

• শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
যেমন - 
- অশ্ব [অশ্শো‌],
- বিশ্বাস [বিশ্শা‌শ্],
- পক্ব [পক্‌কো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৩৪.
‘জ্ঞ’ যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. জ্ +ঞ
  2. ঞ + জ্
  3. ঞ্ + ছ
  4. ঞ্ + চ
ব্যাখ্যা
জ্ +ঞ=জ্ঞ
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
ঞ্ + চ = ঞ্চ
ঞ্ + জ = ঞ্জ

[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম দশম শ্রেণি , সংস্করণ ২০১৮]
৫,৬৩৫.
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. শব্দের আকার ছোট করা
  2. ধ্বনি-পরিবর্তনে ভূমিকা পালন
  3. ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
  4. নতুন শব্দ গঠন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- ধ্বনি-পরিবর্তনে ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৩৬.
'পরমেশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + এশ
  2. পরমা + ঈশ
  3. পরম + ঈশ
  4. পরমঃ + ঈশ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, 
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- মহা + ঈশ = মহেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৩৭.
'প্রত্যাশা' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. প্রত্যোশা
  2. প্রত্‌তাশা
  3. প্রোত্‌তাশা
  4. পোত্‌তাশা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'প্রত্যাশা' এর সঠিক উচ্চারণ: 'প্রোত্‌তাশা'।

• 'প্রত্যাশা' শব্দের অর্থ: 
- আশা; কামনা। 
- সম্ভাবনা; সম্ভাবিত বিষয়ের জন্য অপেক্ষা; প্রতীক্ষা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,৬৩৮.
কোনটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনি?
  1. অ, ই
  2. আ, ঐ
  3. ঐ, ঔ
  4. ই, ঔ
ব্যাখ্যা
• মৌলিকতা অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা
১. মৌলিক স্বরধ্বনি,
২. যৌগিক স্বরধ্বনি।
 
• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
- বাংলা বর্ণমালায় ‘অ্যা’ ধ্বনিজ্ঞাপক কোনাে বর্ণ নেই।
 
• যৌগিক স্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫ টি।
- বাংলা ভাষার দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির প্রতীক ২ টি,যথা: ঔ,ঐ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬৩৯.
‘নীরব’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কী হবে?
  1. নিঃ + রব
  2. নীঃ + রব
  3. নীরঃ + ব
  4. নৈ + রব
ব্যাখ্যা
• ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সাথে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববতী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন:
- নিঃ + রস = নীরস।
- নিঃ + রব = নীরব। 
- নিঃ + রোগ = নীরোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫,৬৪০.
'বাহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কী?
  1. ক) বাহ্‌ঝো
  2. খ) বাজ্‌ঝো
  3. গ) বাজ্‌জো
  4. ঘ) বাজ্‌ঝ
ব্যাখ্যা
বাহ্য  [বাজ্‌ঝো]
- [স. বহিস্‌+য]
- (বিশেষণ)
- বাইরের 
-  অসত্য;
- অপ্রকৃত;
- অপ্রধান

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৬৪১.
বাংলা ব্যাকরণে কোন ফলাটি নেই?
  1. ন-ফলা
  2. ব-ফলা
  3. ল-ফলা
  4. প-ফলা
ব্যাখ্যা

• "প-ফলা" নামে বাংলা ব্যাকরণে কোন ফলা নেই।
------------------

• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।
- বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে ফলা ৬টি।

• ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলার সংখ্যা ৬টি। যেমন-
 - ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র-ফলা,
- ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৫,৬৪২.
কোনটি দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন -  স।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬৪৩.
'সন্ধান' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? 
  1. সম্ + ধান 
  2. সন + খান
  3. সঃ + ধান 
  4. সন্+ ধান
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি:
- ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।

যেমন:
- ম্+চ্ = ঞ + চ; সম্ + চয় = সঞ্চয়।
- ম্ + ক = ঙ + ক্; শম্ কা = শঙ্কা।
- ম্+ত্ ন্‌ + ত; সম্ + তাপ = সন্তাপ।

আবার,
সম্ + ধান = সন্ধান।
সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস।
সম্ + জাত = সঞ্জাত।
গম্ + তব্য = গন্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৬৪৪.
কোন রূপটি সঠিক?
  1. ষ্‌ + ন = ষ্ণ
  2. হ্‌ + ন = হ্ণ
  3. ত্‌ + থ = ত্থ
  4. ক্‌ + ম = ক্ষ
ব্যাখ্যা

• ‘ত্থ’ যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে (ত্‌ + থ) বর্ণ যোগে।

অন্যদিকে,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৬৪৫.
নিচের কোন শব্দে ‘অ’ বর্ণটি [ও] ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয়?
  1. অনেক
  2. অদ্য
  3. কথা
  4. অনাথ
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৪৬.
নিচের কোন শব্দটিতে বিসর্গ ‘ও’ হয়ে গেছে?
  1. ক) ভৌগোলিক
  2. খ) নীরোগ
  3. গ) তিরোধান
  4. ঘ) আরোগ্য
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধি: 
- বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন - 

১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে। 
যেমন - মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি। 

২. বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়। 
যেমন - মনঃ + যোগ = মনোযোগ, তিরঃ + ধান = তিরোধান, তপঃ + বন = তপোবন। 

৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়। 
যেমন - নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 

৪. বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়। 
যেমন - নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার। 

৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়। 
যেমন - নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রোগ = নীরোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৪৭.
বাংলা স্বরবর্ণসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো-
  1. ক) ৭ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা
বাংলা স্বরবর্ণসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ১০টি৷
'অ' ছাড়া বাকি স্বরধ্বনিগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ আছে। 'অ' কোন বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায় না। এটি হলো নিলীন বর্ণ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৬৪৮.
নিচের কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. প্রেক> পেরেক
  2. স্বপ্ন > স্বপন
  3. ভাগ্য > ভাইগ্য
  4. কাঁদনা > কান্না
ব্যাখ্যা
• ভাগ্য > ভাইগ্য অপিনিহিতির উদাহরণ। 

• অপিনিহিতি (Apenthesis):

- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি> চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৬৪৯.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধস্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• অর্ধস্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না তাদেরকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি যথা: [ই্], [উ্], [এ্], এবং [ও্]।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:

মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫,৬৫০.
কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ?
  1. শুভেচ্ছা
  2. সংবাদ
  3. প্রত্যেক
  4. অতীত
ব্যাখ্যা
সম্+বাদ = সংবাদ; ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা = স্বরসন্ধির উদাহরণ।
প্রতি+এক = প্রত্যেক = স্বরসন্ধির উদাহরণ।
অতি + ইত = অতীত = স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৫১.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি
  2. দুর্‌ + লোক = দুল্যোক
  3. মন + কষ্ট = মনঃকষ্ট
  4. পুরা + অধ্যক্ষ = পুরাধ্যক্ষ
ব্যাখ্যা
• বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি; সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

• সূত্র:
- ষ্‌-এর পরে ত্ বা থ্‌ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্‌ স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
- কৃষ্ + তি = কৃষ্টি,
- ষষ্‌ + থ্‌ = ষষ্ঠ।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশনগুলোর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো-
- দিব + লোক = দুল্যোক;
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট;
- পুর + অধ্যক্ষ = পুরাধ্যক্ষ;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৫২.
মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৭
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি। যথা- অ আ ই উ এ অ্যা ও। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৫৩.
কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি নয়?
  1. অ্যা
ব্যাখ্যা
• মৌলিক স্বরধ্বনি নয় - ঈ।

• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যায়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন-
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৫,৬৫৪.
বাংলা বর্ণমালায় কয়টি ফলা বর্ণ রয়েছে?
  1. চারটি 
  2. পাঁচটি 
  3. ছয়টি
  4. সাতটি 
ব্যাখ্যা

অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ, ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা ৬টি।
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা।

রেফ: 'র'-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে। স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫,৬৫৫.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শচী + ঈন্দ্র = শচীন্দ্র
  2. মহি + ইশ্বর = মহীশ্বর
  3. প্রতী + ইতি = প্রতীতি
  4. অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

----------------------------
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী + ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৫৬.
‘কবাট > কপাট' ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে:
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন: 
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো।
 
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়।
- এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।
 
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। 
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৫৭.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. শ্চ
  2. ঞ্জ 
  3. দ্ম
  4. ষ্ঠ
ব্যাখ্যা

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:  ঞ্জ (ঞ + জ)।

• অন্যদিকে,
- অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ : 
শ্চ = শ্ + চ,
দ্ম = দ্ + ম;
ষ্ঠ = ষ্ + ঠ।

উল্লেখ্য,
• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। 
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে যখন সহজে চেনা যায় তাকে স্বচ্চ যুক্তবর্ণ বলে।
- যখন সহজে চেনা যায় না  তাকে অস্বচ্চ যুক্তবর্ণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৫,৬৫৮.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) কিম + ভূত = কিম্ভূত
  2. খ) সন + ধি = সন্ধি
  3. গ) সং + সার = সংসার
  4. ঘ) সমো + তাপ = সন্তাপ
ব্যাখ্যা
সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে’ ম ‘ হয়।
এরূপ:
সম্ + ধি = সন্ধি,
সম্ + চয় = সঞ্চয়,
সম্ + তাপ = সন্তাপ,
কিম + ভূত = কিম্ভূত,
সম্ + সার = সংসার,
সম্ + বাদ = সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৫৯.
অর্ধ-সংবৃত স্বরধ্বনি নিচের কোনটি?
ব্যাখ্যা

- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:

১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।

উল্লেখ্য,
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৬৬০.
Apenthesis এর অর্থ -
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) অন্ত্যস্বরাগম
  3. গ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. ঘ) সমীভবন
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Apenthesis। 

অন্যদিকে, 
- অন্ত্যস্বরাগম এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Apothesis।
- দ্বিত্ব ব্যঞ্জন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Long Consonant।
- সমীভবন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Assimilation।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৬১.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ক্‌ + ন = ক্ম 
  2. ঞ্‌ + জ = জ্ঞ 
  3. ঞ্‌ + ধ = ঞ্চ 
  4. হ্ + ম = হ্ম 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ- হ্ম। 

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ, জ্ব, ঞ, ও, ন্ট, ষ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্ল, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, স্থ, ল্প, ফ, চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্স (ক্ + স),
ক্ম (ক্‌ + ম),
ক্ষ (ক্‌ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্+ ষ্‌ + ম),
গু (গ+ উ),
গ্ধ (গ্‌ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্‌ + চ),
ঞ্জ (ঞ্‌ + জ),
ষ্ণ (ষ্‌ + ণ),
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্‌ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৬৬২.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ভো + উক = ভাবুক
  2. পৌ + ইত্র = পবিত্র
  3. পৌ + অক = পাবক
  4. গো + আবাদি = গবাদি।
ব্যাখ্যা
• পৌ + অক = পাবক; সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

সূত্র:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- ঔ + উ = আব্ + উ;  ভৌ + উক = ভাবুক।
- ও + ই = অব্‌ + ই;  পো + ইত্র = পবিত্র।
- ঔ + অ = আব্‌ + অ;  পৌ + অক = পাবক।
- ও + আ = অব্ + আ; গো + আদি = গবাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৬৬৩.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি কোনটি? 
  1. কিন্তু
  2. একাদশ
  3. কুলটা
  4. নিশ্চয়
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি:
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোম্পদ,
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্‌ + দশ = যোড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনসৃ্‌ + ঈষা = মনীষা,
- এক + দশ = একাদশ।

অন্যদিকে,
- কুল + অটা - কুলটা;  নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
- নিঃ + চয় - নিশ্চয়; বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 

• কিন্তু ম এর পর চ্‌ থেকে মৃ্‌ পর্যন্ত যে কোনো ধ্বনি থাকলে পূর্বপদের মৃ- স্থানে এঁ বর্গের পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- সম্‌ + কীর্ণ = সংকীর্ণ,
- গম্‌ + তব্য = গন্তব্য,
- কিম্‌ + তু = কিন্তু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৫,৬৬৪.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) অতি + অন্ত = অত্যন্ত
  2. খ) প্রতি + অহ = প্রত্যহ
  3. গ) অভি + উত্থান = অভ্যুত্থান
  4. ঘ) প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
ব্যাখ্যা
ই - কার বা ঈ - কার পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে সন্ধির বেলায় পূর্ববর্তী ব্যাঞ্জনবর্ণের সাথে য - ফলা লেখা হয়।
যেমনঃ প্রতি + অহ = প্রত্যহ; অভি + উত্থান = অভ্যুত্থান; প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ; অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী
৫,৬৬৫.
বাংলা ভাষায় মোট কতটি অর্ধস্বরধ্বনি আছে?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না, সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি।
যথা- [ই্‌], [উ্‌], [এ্‌] এবং [ও্‌]।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

যেমন:
‘চাই” শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌]।
এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

একইভাবে,
- ‘লাউ’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]।
এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৬৬.
নিম্নের কোন শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়?
  1. ক) শুদ্ধোদন
  2. খ) অন্যান্য
  3. গ) পুনর্মিলন
  4. ঘ) পরস্পর
ব্যাখ্যা
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসরণ করে না। এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।

- দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
- ষট্‌ + দশ = ষোড়শ;
- পর্‌ + পর = পরস্পর;
- গো + পদ = গোস্পদ।
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়),
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়)
- অন্য + অন্য = অন্যান্য
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন
অন্যদিকে, 
পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন = বিসর্গ সন্ধি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৬৭.
ঘোষ ধ্বনি কোনটি ?
  1. ক) ত
  2. খ) থ
  3. গ) ড
  4. ঘ) ঠ
ব্যাখ্যা
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি ,সেসব ধ্বনি কে ঘোষ ধ্বনি বলে। যেমন - ব , ভ ,ম , দ , ধ , ন , র , ল , ড , ঢ ,ড় , ঢ় , জ , ঝ , গ , ঘ ,ঙ ,হ ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৫,৬৬৮.
'ইচ্ছা > ইচ্ছে' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অসমীকরণ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. সমীভবন
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel Hermony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি।
যেমন:
- ইচ্ছা > ইচ্ছে,
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মূলা > মূলো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৬৬৯.
সত্য > সচ্চ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন
  3. অপিনিহিতি
  4. সমীভবন
ব্যাখ্যা
সমীভবন (Assimilation): শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক;  পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন » লগ্গ ইত্যাদি।

⇒ পরাগত (Regressive) সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

⇒ অন্যান্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৭০.
কোনটি আদিস্বরলোপের উদাহরণ?
  1. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. আজি > আজ
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন – বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis):  অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৬৭১.
ওষ্ঠ সৃষ্ট ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ধ
  2. খ) ঢ
  3. গ) ক
  4. ঘ) প
ব্যাখ্যা

সৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাকপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলােকে সৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলােকে ওষ্ঠ স্পষ্ট, দন্ত স্পষ্ট, মূর্ধা স্পষ্ট, তালু স্পষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট – এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
-ওষ্ঠ সৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ
-দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ
-মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ
-তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ
-কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৫,৬৭২.
স্বরলোপের বিপরীত প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. অপিনিহিতি
  2. সমীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. স্বরাগম
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis):  অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।
- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৭৩.
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঞ্চ
  2. ক্ত
  3. ক্স 
  4. স্খ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ- স্‌ + খ = স্খ। 

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্ল, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ন্ড, ল্প, ফ, শু, স্থ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্ব, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্স (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্‌ + উ),
ন্ধ (গ্‌ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্‌ + গ),
জ্ঞ (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্‌ + চ),
ঞ্জ (ঞ্‌ + জ),
ষ্ণ (ষ্‌ + ণ)
হু (হ্‌ + উ),
হৃ (হ্‌ + ঋ ),
হ্ন (হ্‌ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৬৭৪.
আদিস্বর লোপের উদাহরণ কোনটি?
  1. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  2. অগুরু > অগ্রু
  3. উদ্ধার > উধার > ধার
  4. লজ্জা > লাজ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা ধ্বনিলোপ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা ধ্বনিলোপ বা স্বরলোপ। স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

আদিস্বর লোপ:
ধ্বনিলোপের ক্ষেত্রে শব্দের প্রথমের স্বরধ্বনির লোপ হলে তাকে আদিস্বর লোগ বলে। যেমন: অলাবু > লাবু > লাউ; উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্যস্বর লোপ:
ধ্বনিলোপের ক্ষেত্রে শব্দের শেষের স্বরধ্বনি উচ্চারণ থেকে বাদ গেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন: আশা > আশ; আজি > আজ; চারি > চার; সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ; বন্যা > বান; লজ্জা > লাজ; চাকা > চাক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৭৫.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
  2. খ) নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
  3. গ) সদ্যো + জাত = সদ্যোজাত
  4. ঘ) ইতি + আদি = ইত্যাদি
ব্যাখ্যা
• অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্ত:স্থ য, অন্ত:স্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়। যেমন:
- সদ্য: + জাত = সদ্যোজাত,
- তির: + ধান = তিরোধান,
- মন:‌ + রম = মনোরম,
- মন: + হর = মনোহর,
- তপ: + বন = তপোবন ইত্যাদি।
 

ই/ঈ + অন্যস্বর = য-ফলা, এই নিয়মে গঠিত সন্ধি-
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
ইতি + আদি = ইত্যাদি।

উৎস:‌- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫,৬৭৬.
নিচের কোনটি উষ্মধ্বনি?
  1. ক) য
  2. খ) র
  3. গ) ল
  4. ঘ) স
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স, হ– এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণ গুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
য, র, ল, ব -এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৭৭.
প্রত্যেক বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণকে বলা হয়-
  1. ঘোষ বর্ণ
  2. অল্পপ্রাণ বর্ণ
  3. অঘোষ বর্ণ
  4. মহাপ্রাণ বর্ণ
ব্যাখ্যা

- প্রত্যেক বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণকে বলা হয় মহাপ্রাণ বর্ণ।
যেমনঃ খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৭৮.
কোনটি তালব্য ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬৭৯.
‘যথাযথ’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথা + ইথ
  2. যথা + অথ
  3. যথা + যথ
  4. যথা + অযথ
ব্যাখ্যা
⇒ সন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যুক্ত হয়ে আ-ধ্বনিতে পরিণত হয়। বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:

• আ + অ = আ (অ ধ্বনি লোপ পেয়েছে)-
⇒ যথা + অযথ = যথাযথ;
⇒ মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ;
⇒ আশা + অতীত = আশাততি;
⇒ ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
৫,৬৮০.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির প্রয়োগ ঘটেছে নিম্নের কোন শব্দে?
  1. ক) তৎকাল
  2. খ) সংযম
  3. গ) তস্কর
  4. ঘ) সন্তাপ
ব্যাখ্যা
• 'তস্কর' শব্দে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির প্রয়োগ ঘটেছে।
• 'তস্কর' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = তৎ+কর 

• আরও কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির - 
গোস্পদ = গো + পদ 
মনীষা = মনস্‌ + ঈষা,
পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
বনস্পতি = বন + পতি,
পরস্পর = পর + পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
আশ্চর্য = আ + চর্য,
একাদশ = এক + দশ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
তৎকাল = তদ্‌+কাল
সংযম = সম্‌+যম 
সন্তাপ = সম্‌+তাপ  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৮১.
'দিগন্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দিগ্‌ + আন্ত
  2. দিগ + অন্ত
  3. দিক্‌ + আন্ত
  4. দিক্ + অন্ত
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দৃ, বৃ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- তৎ + অবধি = তদবধি।
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
এরূপ- বাগীশ, তদন্ত, বাগাড়ম্বর, কৃদন্ত, সদানন্দ, সদুপায়, সদুপদেশ, জগদিন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৮২.
’দেশি> দিশি’ - এরূপ পরিবর্তন কে বলা হয়-
  1. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  2. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- যেমন :
-দেশি > দিশি, 
- বিলাতি> বিলিতি,

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
-আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো,

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
-  অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
- যেমন -
- বুনা > বোনা;
- দেশি> দিশি,

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: 
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- 
- বিলাতি > বিলিতি,
ভিখারি > ভিখিরি,

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
-আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
-মোজা > মুজো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)
৫,৬৮৩.
বাংলা বর্ণমালায় স্পর্শ বর্ণ কয়টি?
  1. ২২টি
  2. ৩২টি
  3. ২৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• ক-ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণকে স্পর্শ বা বৰ্গীয় বৰ্ণ বলে।
যথা:

- ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
- চ বৰ্গীয় বর্ণ : চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
- ট বর্গীয় বর্ণ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ৷
- ত বৰ্গীয় বর্ণ : ত, থ, দ, ধ, ন৷
- প বর্গীয় বর্ণ : প, ফ, ব, ভ, ম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৮৪.
'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটিতে কী কী বর্ণ আছে?
  1. হ + ম + ণ
  2. ক + ষ + ম
  3. হ + ম + ন
  4. ক + ষ + ন
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটিতে আছে: ক + ষ + ম।
যেমন : সূক্ষ্ম। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ন্ + ম = ন্ম,
- হ্ + ণ = হ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ন্ + ন = ন্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮৫.
বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. পুরস্কার
  2. নরাধম
  3. ফনীন্দ্র
  4. আশাতীত
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ  + ক = (স্ + ক) নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = (স্ + খ) পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি।

এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। স্বরসন্ধিযোগে গঠিত শব্দ-
অ + অ = আ; নর+অধম = নরাধম।
ঈ + ই = ঈ; ফনী + ইন্দ্র = ফনীন্দ্র।
আ + অ = আ; আশা+ অতীত = আশাতীত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৮৬.
নিচের কোন বর্ণটি উষ্ম বর্ণ?
  1. ক) ষ
  2. খ) স
  3. গ) হ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স, হ এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ। শিশ দেয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য আছে বলে এগুলােকে বলা হয় শিশধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,৬৮৭.
নিচের কোন শব্দে দ্বিস্বরধ্বনির উদাহরণ আছে​?
  1. লিলি
  2. ঝুপ
  3. আম
  4. তাই
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬৮৮.
কোনটি মূল ধ্বনি নয়?
  1. ক) উ
  2. খ) অ
  3. গ) এ
  4. ঘ) ঔ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ এগারটি। যথা - অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
তবে বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণবিদদের মতে, মৌলিক স্বরধ্বনি মোট - ৭টি।
যথা - অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও।
অন্যদিকে, ঐ (অ + ই) এবং ঔ (অ + উ) - এই দুটি যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন।
উৎসঃ ড. হায়াৎ মামুদ - এর ভাষা শিক্ষা ও নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৫,৬৮৯.
‘অপিনিহিতি’র মাধ্যমে প্রাপ্ত শব্দে কোন পরিবর্তনের জন্য ‘অভিশ্রুতি' ঘটে?
  1. ক) অন্তর্হতি
  2. খ) ব-শ্রুতি
  3. গ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. ঘ) সন্ধি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতির ফলে আগে উচ্চারিত ই/উ তার পাশাপাশি স্বরধ্বনির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সন্ধিতে মিলিত হয়ে স্বরধ্বনির যে পরিবর্তন ঘটায় তাকে অভিশ্রুতি বলে।

- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির ওপর নির্ভরশীল, অপিনিহিতি ছাড়া অভিশ্রুতি হয় না। 
- বাংলা চলিত ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো অভিশ্রুতি।

যেমন -
করিয়া > কইর‍্যা > করে
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে
গাছুয়া > গাউছা > গেছো
কন্যা > কইন্যা > কনে

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা
৫,৬৯০.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. গবেন্দ্র
  2. গবাক্ষ
  3. মহেন্দ্র
  4. মার্তণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'মহেন্দ্র = মহা + ইন্দ্র' নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয়।
সূত্র:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট,
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- মহেন্দ্র = মহা + ইন্দ্র ইত্যাদি

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৬৯১.
'আঁখি জিনিশপত্র নিয়ে পোষ্টঅফিসে গেল।' - বাক্যটির 'জিনিশ' ও 'পোষ্ট' শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  2. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  3. দুটোই শুদ্ধ
  4. দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'আঁখি জিনিশপত্র নিয়ে পোষ্টঅফিসে গেল।' - বাক্যটির 'জিনিশ' ও 'পোষ্ট' শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার - দুটোই অশুদ্ধ

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন, স্টুডিও ইত্যাদি।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৯২.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. কৃষাণ
  2. কৃষান
  3. কৃশান
  4. কৃশাণ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধবানান- কৃষান।
অর্থ- কৃষক, চাষি।

উল্লেখ্য,
• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যেমন -
ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি, কৃষান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৬৯৩.
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের ভেতরে কোথাও বাধা পায় না এবং যা অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজেই সম্পূর্ণভাবে উচ্চারিত হয় তাকে স্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি
যথা: অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।

উল্লেখ্য,
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের ভেতরে কোথাও না কোথাও বাধা পায় এবং যা স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হতে পারে না তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
যেমন:
ক্,খ্, গ্‌,ঘ, প্, স্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৫,৬৯৪.
'উ' উচ্চারণের সময় জীবের অবস্থান -
  1. ক) উচ্চ-সম্মুখ
  2. খ) নিম্ন-সম্মুখ
  3. গ) উচ্চ-পশ্চাৎ
  4. ঘ) নিম্ন-পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
- জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
• সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
• মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]

- সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়;
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৯৫.
কোনটি প্রগত সমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. লগ্ন > লগ্গ
  2. কিছু > কিচ্ছু
  3. বড় > বড্ড
  4. পাকা > পাক্কা
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
তেমনিভাবে,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৯৬.
’অদ্যাপি’ শব্দের উচ্চারণ-
  1. অদ্‌দাপি 
  2. ওইদপি 
  3. ওদ্‌দাপি 
  4. ওদ্‌দ্পি 
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’অদ্যাপি’ শব্দের উচ্চরণ: ওদ্‌দাপি। 
-------------------------------------
’অদ্যাপি’ শব্দের অর্থ:
-  অব্য,
- এখনও;
- আজও;
- একাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬৯৭.
'শয়ন' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শ + আয়ন
  2. শৈ + অন
  3. শ + অন
  4. শে + অন
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- গো + আদি = গবাদি,
- পো + ইত্র = পবিত্র ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৬৯৮.
'হ্ম' যুক্ত বর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) হ্ + ম
  2. খ) ক + ষ
  3. গ) ষ্ + ম
  4. ঘ) ম্ + হ
ব্যাখ্যা

হ+ম= হ্ম যেমনঃ ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম ইত্যাদি
ক+ষ= ক্ষ যেমনঃ শিক্ষা, রক্ষা ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৫,৬৯৯.
বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ- 
  1. অত্যধিক
  2. প্রত্যুষ
  3. তপোবন
  4. আদ্যন্ত
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
বিসর্গের সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। বিসর্গ সন্ধি দুই ভাগে বিভক্ত যথা-
 ১. র্-জাত বিসর্গ।
 ২. স্-জাত বিসর্গ।

সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ সন্ধি হয়।
যেমন:
• র্-জাত বিসর্গ: নির্>নিঃ; দুর্>দুঃ, অন্তর্>অন্তঃ ইত্যাদি।
• স্-জাত বিসর্গ: সরস্>সরঃ; মনস্>মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

বিসর্গ সন্ধির বৈশিষ্ট্য হলো সন্ধির ফলে র্-জাত বিসর্গের ‘র’ এবং স্-জাত বিসর্গের ‘স’ অনেক ক্ষেত্রে লোপ পেয়ে আবার ‘র’ এবং ‘স’ ফিরে আসে।
- র্-জাত বিসর্গ সন্ধি হলো: অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।
- স্-জাত বিসর্গ সন্ধি হলো: মনঃ + কাম =  মনস্কাম।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ, 
- তিরঃ + ধান = তিরোধান, 
- তপঃ + বন= তপোবন
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সূত্র: ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭০০.
‘সতীশ’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সতী + ইশ = সতীশ
  2. সত + ঈশ = সতীশ
  3. সতি + ঈশ = সতীশ
  4. সতী + ঈশ = সতীশ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী+ ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।