ব্যাখ্যা
হ্ + ম = হ্ম।
যেমন - ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মাণ্ড ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪৬ / ৬৩ · ৪,৫০১–৪,৬০০ / ৬,৩২৭
যে দুইটি ধ্বনির মিলনে সন্ধি হবে, তাদের একটিও যদি ব্যঞ্জনধ্বনি হয়, তাহলেই সেই সন্ধিকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলা হয়।
ব্যঞ্জনসন্ধি ৩ ভাবে হতে পারে-
- স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।
- ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
- ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনিঃ
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়। যেমন-
ই+ছ = চ্ছ -
পরি+ছদ = পরিচ্ছদ।
বি+ছেদ= বিচ্ছেদ।
বি+ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সুজনেষু শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
-----------------------------
• মূর্ধন্য ‘ষ’ এর সঠিক ব্যবহার:
- সম্বোধনসূচক শব্দে পুরুষ ও স্ত্রীবাচকের ভেদে ‘স/ষ’-এর ব্যবহার আলাদা হয়।
- যখন কোনো পুরুষবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে এ-কার থাকে, তখন তার পরে থাকা স দন্ত্য স মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়ে যায়।
- যেমন— কল্যাণীয়েষু, প্রিয়বরেষু, সুজনেষু, প্রীতিভাজনেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু।
- কিন্তু যখন স্ত্রীবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে আ-কার থাকে, তখন সেখানে মূর্ধন্য ষ হয় না, বরং দন্ত্য ‘স’ই থাকে।
- যেমন — কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, পূজনীয়াসু, মাননীয়াসু, প্রিয়তমাসু, সুজনীয়াসু।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ণত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ণত্ব বিধান অনুযায়ী, ত-বর্গীয় বর্ণ (ত, থ, দ, ধ, ন) এর আগে কখনও মূর্ধন্য ণ বসে না।
- বরং সব সময় দন্ত্য ন ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা বানানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
- মূল কারণ হলো, ত-বর্গীয় বর্ণগুলো দন্ত্য মূল থেকে উচ্চারিত হয়, তাই তাদের সাথে যুক্ত দন্ত্য ন সহজ ও স্বাভাবিক উচ্চারণ নিশ্চিত করে। - উদাহরণস্বরূপ:
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বৃন্দ, বৃন্ত, ভ্রান্ত, মন্তব্য, ছন্দ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
ভূ+ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব। প্রশ্নের নিয়ম মেনে হয়নি। (উ/ঊ এরপরে উ/ঊ থাকলে উভয়ে মিলে ঊ হয় এবং তা উ/ঊ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
উ/ঊ এরপরে উ/ঊ ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে উ/ঊ-র জায়গায় ব (ব-ফলা, ব) হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
উ+অ = ব-ফলা+অঃ
সু+অল্প = স্বল্প
অনু+অয় = অন্বয়
মনু+অন্তর = মন্বন্তর
উ+আ = ব-ফলা+আঃ
সু+আগত = স্বাগত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• বর্ণ হচ্ছে- ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক।
• বর্ণ:
- ভাষায় ভাব প্রকাশের জন্য উচ্চারিত ধ্বনিকে লেখায় রূপ দেওয়ার যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলা হয়।
- অর্থাৎ ধ্বনি কানে শোনা যায়;
- আর সেই ধ্বনির প্রতীক বর্ণ চোখে দেখা যায় এবং তা লিখে প্রকাশ করা হয়।
- ভাষার নির্মাণে বর্ণ মূল ভিত্তি, কারণ শব্দ গঠনের সবচেয়ে ছোট একক হলো বর্ণ।
- কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব বর্ণের সমষ্টিকে বর্ণমালা বলা হয়।
- বাংলায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে—এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- বাংলা বর্ণমালায় ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে
• স্বরবর্ণ: এ, ঐ, ও, ঔ;
• ব্যঞ্জনবর্ণ: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
- আবার অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি:
• যার মধ্যে ১টি স্বরবর্ণ (ঋ) এবং
• ৭টি ব্যঞ্জনবর্ণ (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- বাকি ৩২টি বর্ণ পূর্ণমাত্রার - যেখানে ৬টি স্বরবর্ণ এবং ২৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
যুক্তবর্ণ ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ জ্ঞ = জ + ঞ, জ্ঞান, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ ষ্ণ = ষ + ণ, কৃষ্ণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন
- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
অন্যদিকে,
• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অঘোষধ্বনি 'শ' উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম হয়।
-------------------
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।
১. ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
২. অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক> অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
• র-কার লোপ:
আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক,
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
দুটি বর্ণ বা ধ্বনি অত্যন্ত কাছাকাছি এলে দ্রুত উচ্চারণের ফলে সেই ধ্বনিদুটো মিলে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধ্বনি এসে যায়, কখনোবা দুটোর একটা লোপ পায়। দুটো ধ্বনির মিলে যাওয়ার ফলে যে ধ্বনির লোপ পাওয়া কিংবা বদলে যাওয়া, ব্যাকরণে একেই সন্ধি বলে।
এর বৈশিষ্ট্যঃ
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।
সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ হলো:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক+ দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- সম + সার = সংসার; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
- 'উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
- বাক্ + দান = বাগদান; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
দুস্থ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- দুঃ + থ।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ ( ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ, ট বা ঠ থাকলে ষ ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।
যেমন-
- দুঃ + তর = দুস্তর।
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
’শরীর > শরীল’ বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট > নালাট ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট > কপাট,
• ব্যঞ্জনচ্যুতি :
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন-
- বউদিদি > বউদি।
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।
বিসর্গ সন্ধির উদাহরণঃ
পুরঃ + কার = পুরস্কার
তিরঃ + কার = তিরস্কার
আবিঃ + কার = আবিষ্কার
ভাঃ + কর = ভাস্কর
নিপাতনে সিদ্ধ (ব্যঞ্জন) সন্ধিঃ
পর + পর = পরস্পর
গো + পদ = গোষ্পদ
আ + চর্য = আশ্চর্য
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
অক্ষর: বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)
যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।
'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে ৭ টি অক্ষর রয়েছে (না + তি + শী + ত + উষ্ণ + মণ্ + ডল)
অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।
সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।
-------------
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।
বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।
উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
অনুবর্ণ ৩ প্রকার -
- ফলা
- রেফ
- বর্ণসংক্ষেপ
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন সংস্করণ)
• সন্ধি:
সন্ধি হলো বাংলা ব্যাকরণে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সন্নিহিত দুটি ধ্বনি (স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি) মিলিত হয়ে নতুন ধ্বনি বা রূপ গ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়ায় ধ্বনির সংকোচন বা পরিবর্তন ঘটে, যা উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করে।
উদাহরণ:
• আশা + অতীত = আশাতীত: এখানে "আ" এবং "অ" ধ্বনির সংকোচন হয়ে "আ" হয়েছে।
• হিম + আলয় = হিমালয়: এখানে "অ" এবং "আ" ধ্বনির মিলনে "আ" ধ্বনি তৈরি হয়েছে।
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে: এখানে "ত" এবং "ম" ধ্বনির সংকোচনে "ন্ম" হয়েছে।
সুতরাং, সন্ধিতে ধ্বনির সংকোচন ঘটে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।