বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৪৬ / ৬৩ · ৪,৫০১৪,৬০০ / ৬,৩২৭

৪,৫০১.
'হ্ম' এই যুক্ত বর্ণটি কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) ক্ + ষ্ + ম
  2. খ) হ্ + ম
  3. গ) ক্ + ষ
  4. ঘ) খ + ম
ব্যাখ্যা
'হ্ম' এই যুক্ত বর্ণটি 'হ্‌ + ম' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। 

হ্‌ + ম = হ্ম।
যেমন - ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪,৫০২.
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি — কোনটি?
  1. বিচ্ছেদ
  2. দিগন্ত
  3. উচ্ছেদ
  4. বিপচ্ছায়া
ব্যাখ্যা

যে দুইটি ধ্বনির মিলনে সন্ধি হবে, তাদের একটিও যদি ব্যঞ্জনধ্বনি হয়, তাহলেই সেই সন্ধিকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলা হয়।
ব্যঞ্জনসন্ধি ৩ ভাবে হতে পারে-
- স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।
- ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
- ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনিঃ
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়। যেমন-
ই+ছ = চ্ছ -
পরি+ছদ = পরিচ্ছদ।
বি+ছেদ= বিচ্ছেদ।
বি+ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৪,৫০৩.
নিচের কোনটিতে 'এ' ধ্বনির স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে?
  1. দেশ
  2. একটা
  3. বেলা
  4. খেলা
ব্যাখ্যা
'এ' ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ হয়।
- 'এ' যদি 'এ' এর মতো উচ্চারণ হয় সেটাকে স্বাভাবিক বা সংবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : দেশ, একটি, এলো ইত্যাদি।

কিন্তু 'এ' যদি 'অ্যা' এর মতো উচ্চারণ করে তবে তাকে বিবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : একটা (অ্যাকটা), বেলা (ব্যালা), খেলা (খ্যালা) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৫০৪.
ত-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. কণ্ঠ্য 
  2. ওষ্ঠ্য
  3. তালব্য 
  4. দন্ত্য
ব্যাখ্যা

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৪,৫০৫.
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) অসমীকরণ
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation) - এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তা—ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।
যেমন : এক + এক = একেক, বদ্ + জাত = বজ্জাত

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
৪,৫০৬.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. তদ্ + কাল = তৎকাল
  2. তদ + মধ্যে = তন্মধ্যে
  3. মৃন্ + ময় = মৃন্ময়
  4. ক্ষুদ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
- দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
দ্‌ > ত্; তদ্‌ + কাল = তৎকাল
ধ্‌ > ত্; ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

- ঙ, ঞ, ণ, ন, ম পরে থাকলে পূর্ববর্তী অঘোষ অল্পপ্রাণ স্পর্শধ্বনি সেই বর্গীয় ঘোষ স্পর্শধ্বনি কিংবা নাসিক্যধ্বনি হয়।
যথা -
ক্ + ন = গঙ + নণ; দিক্ + নির্ণয় = দিগ্‌নির্ণয় বা দিঙ্নি‌র্ণয়।
ত্ + ম = দ / ন + ম; তৎ + মধ্যে = তদ্‌মধ্যে বা তন্মধ্যে।

লক্ষণীয়: এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত নাসিক্য ব্যঞ্জনই বেশি প্রচলিত।
যেমন -
তৎ + ময় = তন্ময়,
মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
জগৎ + নাথ = জগন্নাথ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫০৭.
নিচের কোন শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সুজনীয়াষু 
  2. কল্যাণীয়াষু 
  3. সুজনেষু 
  4. প্রিয়তমাষু 
ব্যাখ্যা

সুজনেষু শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
----------------------------- 
মূর্ধন্য ‘ষ’ এর সঠিক ব্যবহার:
- সম্বোধনসূচক শব্দে পুরুষ ও স্ত্রীবাচকের ভেদে ‘স/ষ’-এর ব্যবহার আলাদা হয়।
- যখন কোনো পুরুষবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে এ-কার থাকে, তখন তার পরে থাকা স দন্ত্য স মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়ে যায়। 
- যেমন— কল্যাণীয়েষু, প্রিয়বরেষু, সুজনেষু, প্রীতিভাজনেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু।

- কিন্তু যখন স্ত্রীবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে আ-কার থাকে, তখন সেখানে মূর্ধন্য ষ হয় না, বরং দন্ত্য ‘স’ই থাকে।
- যেমন — কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, পূজনীয়াসু, মাননীয়াসু, প্রিয়তমাসু, সুজনীয়াসু

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪,৫০৮.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. একাদশ
  2. বনস্পতি
  3. বৃহস্পতি
  4. স্বৈর
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ - স্বৈর

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫০৯.
'অঞ্জনা' শব্দটির মধ্যে যুক্তবর্ণটির রূপ কী?
  1. ঙ্​+জ
  2. ঞ্​+জ
  3. ন্​+জ
  4. ণ্​+জ 
ব্যাখ্যা
• 'অঞ্জনা' শব্দে 'ঞ্জ' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: ঞ্জ= ঞ্ + জ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ত্ + ত্ = ত্ত, 
ভ্ + র = ভ্র, 
ত্ + থ = ত্থ, 
ষ্ + ণ = ষ্ণ, 
হ্ + ম =হ্ম.

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫১০.
জাতি + অভিমান =
  1. ক) জাত্যভিমান
  2. খ) জাতাভিমান
  3. গ) জাতিভিমান
  4. ঘ) জাতভিমান
ব্যাখ্যা
জাতি + অভিমান = জাত্যভিমান।
এর অর্থঃ বংশগরিমা; উচ্চ বংশে জন্মের অহংকার; কুলগর্ব।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৪,৫১১.
কোন শব্দের বানানে ‘মূর্ধন্য-ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ?
  1. অনুষঙ্গ
  2. জিনিষ
  3. পোষাক
  4. ধূলিষাৎ
ব্যাখ্যা
•  শুদ্ধ বানান - অনুষঙ্গ। 

• ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,৫১২.
'সম্বোধন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শম্‌বোধোন্‌
  2. শম্‌বোধন্‌
  3. শঙবোধোন্‌
  4. শম্‌মোধোন্‌
ব্যাখ্যা
সম্বোধন
(শম্‌বোধোন্‌) 
[স. সম্‌+√বোধি+অন]  
বিশেষ্য
- আহ্বান
- সম্ভাষণ
- ডাক

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৫১৩.
'সতীশ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. সতি + ঈশ
  2. সতি + ইশ
  3. সতী + ঈশ
  4. সতীশ + অ
ব্যাখ্যা
• 'সতীশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: সতী + ঈশ।

'সতীশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম: 
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৪,৫১৪.
'ষোড়শ' এর সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. ষোঃ + অশ
  2. ষট্‌ + দশ
  3. ষট্‌ + অশ
  4. ষট + অশ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো ব্যঞ্জন সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৫১৫.
ঋ-এর উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. ক) কন্ঠ
  2. খ) তালু
  3. গ) মূর্ধা
  4. ঘ) ঠোঁট
ব্যাখ্যা
ঋ-এর উচ্চারণ স্থান হলো মূর্ধা।
অ, আ–এর উচ্চারণ স্থান হলো কন্ঠ।
ই, ঈ–এর উচ্চারণ স্থান হলো তালু।
উ, ঊ–এর উচ্চারণ স্থান হলো ঠোঁট।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৪,৫১৬.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি ভুল? 
  1. অন্ত
  2. গ্রন্থ
  3. ক্রন্দন
  4. কোনটিই নয়  
ব্যাখ্যা

ণত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ণত্ব বিধান অনুযায়ী, ত-বর্গীয় বর্ণ (ত, থ, দ, ধ, ন) এর আগে কখনও মূর্ধন্য ণ বসে না।
- বরং সব সময় দন্ত্য ন ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা বানানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
- মূল কারণ হলো, ত-বর্গীয় বর্ণগুলো দন্ত্য মূল থেকে উচ্চারিত হয়, তাই তাদের সাথে যুক্ত দন্ত্য ন সহজ ও স্বাভাবিক উচ্চারণ নিশ্চিত করে। - উদাহরণস্বরূপ:
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বৃন্দ, বৃন্ত, ভ্রান্ত, মন্তব্য, ছন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৫১৭.
নিচের কোনটি অসমীকরণ উদাহরণ?
  1. ক) শরীর> শরীল
  2. খ) ধপ + ধপ > ধপাধপ 
  3. গ) ফলাহার > ফলার
  4. ঘ) তৎহিত > তদ্ধিত
ব্যাখ্যা
ধপ + ধপ > ধপাধপ- অসমীকরণ এর উদাহরণ।
 
অসমীকরণ উদাহরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তখন তাকে বলে অসমীকরণ বলে।
যেমন: টপ + টপ > টপাটপ,  ধপ + ধপ > ধপাধপ

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- লাল> নাল, শরীর> শরীল ইত্যাদি। 

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার> ফলার, আলাদিয়া> আলাদা ইত্যাদি। 

সমীভবন:
দুটো ধ্বনির একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তর সমতা লাভ করাকে বলে সমীভবন।
উদাহরণঃ- জন্ম > জম্ম, তৎহিত > তদ্ধিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫১৮.
সন্ধি শব্দের অর্থ কী?
  1. সম্পাদন
  2. সন্নিহিত
  3. মিলন
  4. সংযোজন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
সন্ধি শব্দের অর্থ 'মিলন'। সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

সন্ধি তিন প্রকার:
যথা:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫১৯.
নিচের কোনটি পদের অংশ নয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) বচন
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
পদের অংশ
- বিভক্তি,
- নির্দেশক,
- বচন,
- বলক

শব্দের অংশ
- উপসর্গ ও
- প্রত্যয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
 
৪,৫২০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মাষ্টার
  2. ঔষধ
  3. ঊষা
  4. পৌষ
ব্যাখ্যা
বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।

যেমন:
- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫২১.
নিম্নের কোনটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে
  2. তৎসম শব্দের বানানে
  3. ঋ, র, ষ - এর পরে
  4. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৫২২.
উ/ঊ এরপরে উ/ঊ ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে উ/ঊ-র জায়গায় ব (ব-ফলা, ব) হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয় - এই নিয়ম নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদে প্রয়োগ হয়নি?
  1. সু+অল্প = স্বল্প
  2. ভূ+ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
  3. অনু+অয় = অন্বয়
  4. মনু+অন্তর = মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

ভূ+ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব। প্রশ্নের নিয়ম মেনে হয়নি। (উ/ঊ এরপরে উ/ঊ থাকলে উভয়ে মিলে ঊ হয় এবং তা উ/ঊ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

উ/ঊ এরপরে উ/ঊ ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে উ/ঊ-র জায়গায় ব (ব-ফলা, ব) হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
উ+অ = ব-ফলা+অঃ
সু+অল্প = স্বল্প
অনু+অয় = অন্বয়
মনু+অন্তর = মন্বন্তর

উ+আ = ব-ফলা+আঃ
সু+আগত = স্বাগত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫২৩.
'কথামৃত' সন্ধিতে কোন নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে?
  1. আ + আ
  2. আ + অ
  3. অ + আ
  4. অ + অ
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে।

অ, আ ধ্বনির সন্ধি:
অ + অ = আ; নব + অন্ন = নবান্ন,
অ + আ = আ; জল + আশয় = জলাশয়,  
আ + অ = আ; কথা + অমৃত = কথামৃত
আ + আ = আ; বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৫২৪.
বর্ণ হচ্ছে- 
  1. শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ
  2. একসঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছ
  3. ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
  4. ধ্বনির শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ
ব্যাখ্যা

বর্ণ হচ্ছে- ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক।
• বর্ণ:
- ভাষায় ভাব প্রকাশের জন্য উচ্চারিত ধ্বনিকে লেখায় রূপ দেওয়ার যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলা হয়।
- অর্থাৎ ধ্বনি কানে শোনা যায়;
- আর সেই ধ্বনির প্রতীক বর্ণ চোখে দেখা যায় এবং তা লিখে প্রকাশ করা হয়।
- ভাষার নির্মাণে বর্ণ মূল ভিত্তি, কারণ শব্দ গঠনের সবচেয়ে ছোট একক হলো বর্ণ।
- কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব বর্ণের সমষ্টিকে বর্ণমালা বলা হয়। 
- বাংলায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে—এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- বাংলা বর্ণমালায় ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে
• স্বরবর্ণ: এ, ঐ, ও, ঔ;
• ব্যঞ্জনবর্ণ: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।

- আবার অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি:
• যার মধ্যে ১টি স্বরবর্ণ (ঋ) এবং
• ৭টি ব্যঞ্জনবর্ণ (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

- বাকি ৩২টি বর্ণ পূর্ণমাত্রার - যেখানে ৬টি স্বরবর্ণ এবং ২৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ।

উৎস: 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৪,৫২৫.
নিচের কোন দুইটি তালব্য ব্যঞ্জন?
  1. ট, ন
  2. ছ, শ
  3. জ, স
  4. ঠ, চ
ব্যাখ্যা
• ছ, শ - দুইটি তালব্য ব্যঞ্জন।

তালব্য ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৫২৬.
'শিক্ষা' শব্দের সংযুক্ত বর্ণ দুটি-
  1. ক) ক্ + ণ
  2. খ) ক্ + ষ
  3. গ) হ্ + ম
  4. ঘ) ঞ্ + জ
ব্যাখ্যা

যুক্তবর্ণ ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ জ্ঞ = জ + ঞ, জ্ঞান, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ ষ্ণ = ষ + ণ, কৃষ্ণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫২৭.
'গবাক্ষ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫২৮.
"বিপচ্চিন্তা" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপত্‌ + চিন্তা
  2. বিপদৎ + চিন্তা
  3. বিপৎ + চিন্তা
  4. বিপদ্‌ + চিন্তা
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বাছ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ্ হয়। এবং ৎ বা দ্‌-এর পরে জবা থাকলে স্থানে জ হয়।

যেমন:
সৎ + চরিত্র = সচ্চরিত্র,
চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র, 
বিপদ্‌ + চিন্তা = বিপচ্চিন্তা,
তদ্‌ + চিত্র = তচ্চিত্র, 
উৎ + ছিন্ন = উচ্ছিন্ন,
উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ, 
তদ্‌ + ছবি = তচ্ছবি,
তদ্‌ + ছিদ্র = তচ্ছিদ্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫২৯.
‘মহা + ঔষধ’ - এই সন্ধির ফলে কোন শব্দটি গঠিত হবে?
  1. মহাওষধ
  2. মহৌষধ
  3. মহৌষধি
  4. মহাঔষধ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- বন + ঔষধ = বনৌষধ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৩০.
'রত্ন> রতন' হওয়ার সন্ধি সূত্র -
  1. স্বরভক্তি
  2. স্বরসংগতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৩১.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. দিক্‌ + হস্তী
  2. দিগ + হস্তী
  3. দিক্‌ + হস্তি
  4. দিগ্‌ + হস্তি
ব্যাখ্যা
• বর্গের প্রথম বর্ণের পর স্বরবর্ণ, যে কোনও বর্গের তৃতীয় বর্ণ অথবা য্‌-ব্‌-হ্‌ থাকলে প্রথম বর্গের স্থানে সেই বর্গের তৃতীয় বর্ণ হয়।
- অর্থাৎ ক্‌ > গ্‌ , চ্‌ >জ্‌, ট >ড্‌, ত্‌ > দ্‌, প্‌ > ব্‌। 
 যেমন: 
ক) ক্‌ + গ = গ্‌গ
- দিক্‌ + গজ = দিগ্‌গজ,
- বাক্‌ + দত্ত = বাগ্‌দত্তা,
- দিক্‌ + হস্তী = দিগ্‌হস্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৪,৫৩২.
তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। - এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘর্ষণ
  2. সৃষ্টি
  3. কৃষক
  4. দ্বেষ
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন
- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

অন্যদিকে, 
• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৫৩৩.
নিচের কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম হয়?
  1.  ল
ব্যাখ্যা

অঘোষধ্বনি 'শ' উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম হয়। 

-------------------
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।
১. ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

২. অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪,৫৩৪.
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অদ্য
  2. অনেক
  3. কথা
  4. অনাথ
ব্যাখ্যা
• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪,৫৩৫.
'আ এবং ঙ' কোন প্রকার ধ্বনির উদাহরণ?
  1. কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি
  2. কণ্ঠ্যতালব্যধ্বনি
  3. মূর্ধন্যধ্বনি
  4. কণ্ঠ্যধ্বনি
ব্যাখ্যা
কণ্ঠ্যধ্বনি:
- যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠনালির উপরিভাগ বা জিহ্বামূল, তাদের কণ্ঠ্যধ্বনি বলে।
- অ,, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ কণ্ঠ্যধ্বনি।

অন্যদিকে,
কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি:
- যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ, তাদের কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি বলে।
- ও, ঔ কণ্ঠৌষ্ঠ্যধ্বনি।

কণ্ঠ্যতালব্যধ্বনি:
- যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ এবং তালু উভয়ই, তাদের কণ্ঠ্যতালব্যধ্বনি বলে।
- এ, ঐ কণ্ঠ্যতালব্য ধ্বনি।

মূর্ধন্যধ্বনি:
- যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান মূর্ধা বা তালুর অগ্রভাগ, তাদের মূর্ধন্যধ্বনি বলে।
- ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, য মূর্ধন্যধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৫৩৬.
'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জনে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ক) হ্‌ + ম্‌
  2. খ) ক্‌ + ষ্‌ + ম
  3. গ) ক্‌ + ষ্‌ + ন
  4. ঘ) ক্‌ + ক্‌ +ম
ব্যাখ্যা
'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জনে 'ক্‌ + ষ্‌ + ম' বর্ণ আছে। 

'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জন সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- লক্ষ্মী,
- লক্ষ্মণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৫৩৭.
'উল্লাস' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উধ্‌ + লাস
  2. উ + লাস
  3. উৎ + লাস
  4. উৎ + ল্লাস
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৩৮.
'সঞ্চয়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্ + চয়
  2. সম্ + ঞ্চয়
  3. সন্‌ + চয়
  4. সন্‌ + ঞ্চয়
ব্যাখ্যা
• (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি):
ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন:
ম্ + চ্ = ঞ + চ; সম্ + চয় = সঞ্চয়।
ম্ + ক = ঙ + ক্; শম্ + কা = শঙ্কা।
ম্ + ত্ = নৃ + ত্; সম্ + তাপ = সন্তাপ।

এরূপ- কিন্তুত, সন্দর্শন, কিন্নর, সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,৫৩৯.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভূমিষাৎ
  2. ধূলিষাৎ
  3. অগ্নিষাৎ
  4. ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক> অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৫৪০.
কোনটি ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ড়
ব্যাখ্যা
• ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি- ঢ।

-----------------
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করাযায়
যথা: ঘােষ ধ্বনি ও অঘোষ ধ্বনি ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি,
যথা:
প, ফ, , থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।


• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- অল্পপ্রাণ ধ্বনি ও মহাপ্রাণ ধ্বনি।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৫৪১.
কোন দুটি তালব্য ব্যঞ্জন?
  1. ঢ, ড়
  2. ত, থ
  3. ছ, জ
  4. দ, ধ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
 যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

৪,৫৪২.
য, র, ল, ব, হ- থাকলে সন্ধিতে স-জাত বিসর্গ স্থলে কোন বর্ণ যুক্ত হয়?
  1. ক) র্
  2. খ) ও
  3. গ) ষ
  4. ঘ) ঔ
ব্যাখ্যা
• অ কার পরবর্তী স-জাত বিসর্গের পর বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ অথবা য, র, ল, ব, হ থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ স্থলে ও হয় এবং ও কার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়,
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যেজাত,
- মনঃ + হর = মনোহর।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৫৪৩.
'তর্ক > তক্ক' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মধ্যস্বর লোপ 
  2. পরাগত সমীভবন 
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. র-কার লোপ
ব্যাখ্যা

• র-কার লোপ:
আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক,
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৫৪৪.
পরস্পর কাছাকাছি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে বলে ?
  1. ক) কারক
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) সন্ধি
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা

দুটি বর্ণ বা ধ্বনি অত্যন্ত কাছাকাছি এলে দ্রুত উচ্চারণের ফলে সেই ধ্বনিদুটো মিলে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধ্বনি এসে যায়, কখনোবা দুটোর একটা লোপ পায়। দুটো ধ্বনির মিলে যাওয়ার ফলে যে ধ্বনির লোপ পাওয়া কিংবা বদলে যাওয়া, ব্যাকরণে একেই সন্ধি বলে।
এর বৈশিষ্ট্যঃ
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪,৫৪৫.
কোন শব্দটিতে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে?
  1. হরিণ
  2. ক্ষীণ
  3. রাবণ
  4. স্থাণু
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
- কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
- আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
- চিক্কণ, নিক্বণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।
 
অন্যদিকে,
- 'হরিণ', 'ক্ষীণ' তে 'ণ' হয়েছে কারণ ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- 'রাবণ' এ 'ণ' হয়েছে কারণ ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৫৪৬.
নিচের কোনটি উষ্ম ব্যঞ্জন?
  1. ড়
ব্যাখ্যা
উষ্ম ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে।
- কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।
 
অন্যদিকে,
- 'ড়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- 'ম' নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৪৭.
সংযুক্ত বর্ণের কোন রূপটি সঠিক?
  1. হ্​+ণ = হ্ন
  2. ষ্​+ণ = ষ্ণ
  3. ষ্​+ঞ = ষ্ণ
  4. ক্​+ম = ক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে: (ষ্+ণ = ষ্ণ) বর্ণ যোগে।

ষ্ণ-সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।
--------------------------------------- 
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত্ = ত্ত
- ভ্ + র = ভ্র
- ত্ + থ = ত্থ
- ষ্ + ণ = ষ্ণ
- হ্ + ম =হ্ম
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্ + র = ক্র
- ঞ্ + ঝ = ঞ্ঝ
- ক্ + ষ = ক্ষ
- হ + ম = হ্ম
- জ + ঞ = জ্ঞ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৪৮.
‘পাকা > পাক্কা’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. স্বরভক্তি
  2. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৪৯.
ই - কার কিংবা ঈ-কারের পর ই বা ঈ কার থাকলে উভয় মিলে ঈ-কার হয় - এই নিয়মে সাধিত হয়ে নিচের কোন শব্দটি গঠিত?
  1. ইত্যাদি
  2. পরীক্ষা
  3. বনৌষধি
  4. মহৌষধ
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়ম:
১. ই - কার কিংবা ঈ-কারের পর ই বা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে ঈ-কার হয়।
যেমন -
অতি + ইত = অতীত
সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
সতী + ঈশ = সতীশ

২. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয় মিলে ঔ-কার হয়।
যেমন -
বন + ওষধি = বনৌষধি
মহা + ঔষধ = মহৌষধ

৩. ই-কার কিংবা ঈ-কারের পত ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়।
যেমন -
অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
ইতি + আদি = ইত্যাদি
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, NCTB ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৫০.
"ও + আ = অব + আ" সন্ধির নিয়মে সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. নাবিক
  2. শয়ন
  3. গবাদি
  4. নায়ক
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
⇒ "ও + আ = অব + আ" - গো + আদি = গবাদি।
⇒ "ঔ + ই = আব্‌ + ই" - নৌ + ইক = নাবিক।
⇒ "এ + অ = অয়্‌ + অ" - শে + অন = শয়ন।
⇒ "ঐ + অ = আয়্‌ + অ" - নৈ + অক = নায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৫১.
‘ট, ঠ, ড’- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৫২.
"কবাট > কপাট" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: 
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৫৩.
‘ঝ’ কী ধরনের বর্ণ?
  1. ক) তালব্য
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) মূর্ধা
  4. ঘ) কণ্ঠ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৪,৫৫৪.
'ঙ্গ' যুক্তবর্ণ টি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) ঙ্‌ + গ
  2. খ) ঙ্‌ + ক
  3. গ) গ + ঙ্‌
  4. ঘ) ক + ঙ্‌
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

- স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক, জ্ঞ, জ্ব, ঞ, জ্ঞ, ট, ণ্ঠ, দ, দ্ব, দ্ম, ঠ, ড, ন্স, স্ট, জ, ব্দ, ফ, ল্ক,
ল্প,ষ্ঠ, স্ফ, খ, স্ট, স্ফ ইত্যাদি।

- অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ত (ক্‌ + ত), ক্স (ক্‌ + স), ক্র (ক্‌ + র), ক্ষ (ক্‌ + ষ), ক্ষ্ম (ক্‌ + ষ্‌ + ম), ক্স (ক্‌ + স),ণ, গ্ধ (গ + ধ), ঙ্ক (ঙ্‌ + ক), ঙ্গ (ঙ + গ), জ্ঞ (জ্‌ + ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌ + চ), ঞ্ছ (ঞ + ছ), ঞ্জ (ঞ্‌ + জ) ইত্যাদি।    
   
উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)। 
৪,৫৫৫.
'সামান্য' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ -
  1. সামান্‌ন
  2. শামান্নো
  3. সামান্ন
  4. শামান্‌নো
ব্যাখ্যা
• 'সামান্য' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ - শামান্‌নো

শ, ষ, স এর উচ্চারণ: 
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৪,৫৫৬.
অতৎসম শব্দের সন্ধি কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার সন্ধি অতৎসম সন্ধি নামে পরিচিত। অনেকের মতে, সন্ধির নিয়ম শুধু সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাংলা ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কিছু কিছু সন্ধি দেখা যায়, যা সংস্কৃত সন্ধির বৈশিষ্ট্য থেকে আলাদা। বাংলা ভাষার সন্ধিকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় : ক) স্বরসন্ধি খ) ব্যঞ্জনসন্ধি।

অতৎসম শব্দে বিসর্গ সন্ধি হয় না।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
৪,৫৫৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) চানক্য
  2. খ) চাণক্য
  3. গ) চানোক্য
  4. ঘ) চাণোক্য
ব্যাখ্যা
'চাণক্য'- বানানটি শুদ্ধ। 

তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন: 
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্কণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৪,৫৫৮.
"লগ্ন > লগ্গ" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক; পক্ব > পক্ক;
- পদ্ম > পদ্দ;
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৫৯.
স্বরধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয় কোনটি?
  1. ক) [অ্যা]
  2. খ) [অ]
  3. গ) [আ]
  4. ঘ) [ও]
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
- সংবৃত: [ই] , [উ] 
- অর্ধ সংবৃত: [ এ ], [ও] 
- বিবৃত: [আ] 
- অর্ধ বিবৃত: [অ্যা], [অ]
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে ; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে ।''

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২
৪,৫৬০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. বাগদান
  2. সংসার
  3. উচ্ছেদ
  4. পরস্পর
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ হলো:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক+ দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সম + সার = সংসার; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
- 'উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
- বাক্ + দান = বাগদান; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৫৬১.
'প্রগত সমীভবন' এর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পক্ব > পক্ক
  2. চক্র > চক্ক
  3. পদ্ম > পদ্দ
  4. লাল > নাল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'লাল > নাল' হচ্ছে বিষমীভবন এর উদাহরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৬২.
অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তধ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র
  2. উৎ + লাস = উল্লাস
  3. ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি
  4. উৎ + নীত = উন্নীত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ  - তধ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র। এর শুদ্ধরূপ - তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র।

সন্ধির নিয়ম:

- আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৬৩.
'পাকা' শব্দে 'প' কোন ধরনের ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
যেমন:
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের পাটি দাতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- মত, থ, দ, ধ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৪,৫৬৪.
সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধ রূপ কোনটি?
  1. ক্‌ + ষ্‌ + ন = ক্ষ্ম
  2. ত্‌ + ন্‌ + য = ত্ম্য
  3. ণ্‌ + ধ্‌ + র = ন্ধ্র
  4. ভ্‌ + র্‌ + ঊ = ভ্রূ
ব্যাখ্যা
• সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধ রূপ - ভ্‌ + র্‌ + ঊ = ভ্রূ

অন্যদিকে, 
• ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম।
• ত্‌ + ম্‌ + য = ত্ম্য।
• ন্‌ + ধ্‌ + র = ন্ধ্র।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্‌ + ম = হ্ম।
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৬৫.
"ষ, র" উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ধরনের বর্ণ?
  1. ওষ্ঠ্য
  2. দন্ত্য
  3. তালব্য
  4. মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বর্ণের বিভাজনগুলো নিম্নরূপ-
• কণ্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
• তালব্য বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য।
• মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়।
• দন্ত্য বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
• ওষ্ঠ্য বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬৬.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
  2. গিরী + ঈশ = গিরীশ
  3. অভি + ইপ্সা = অভীপ্সা
  4. ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ
ব্যাখ্যা
⇒ সন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• ই + ই = ঈ (ঈ-তে রূপান্তর):
⇒ অতি + ইত = অতীত;
⇒ অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট;
⇒ প্রতি + ইতি = প্রতীতি;
⇒ অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• ই + ঈ = ঈ (ই-ধ্বনির লোপ):
⇒ গিরি + ঈশ = গিরীশ;
⇒ ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ;
⇒ অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর;
⇒ অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৬৭.
কোনগুলো মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. প, ব
  2. দ, স
  3. ঠ, ঢ
  4. চ, জ
ব্যাখ্যা
• 'ঠ, ঢ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৬৮.
'হর্ষ > হরষ' - এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদিস্বরাগম
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন:
- অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
- এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ, ব্যাকুল > বেয়াকুল ইত্যাদি।
- ও – শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৬৯.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, , ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে ওষ্ঠ স্পৃষ্ট, দন্ত স্পৃষ্ট, মূর্ধা স্পৃষ্ট, তালু স্পৃষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট – এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ
২. দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ
৩. মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ
৪. তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ
৫. কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৭০.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + অশয় = মহাশয়
  2. যথা + অর্থ = যথার্থ
  3. দণ্ডা + আদেশ = দণ্ডাদেশ
  4. স্বা + অধীন = স্বাধীন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: যথা + অর্থ = যথার্থ।

• স্বরসন্ধি:

স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

• নিয়ম: অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• আ + আ = আ;
- বিদ্যা + আলায় = বিদ্যালয়।
- মহা + আশয় = মহাশয়।
- কারা + আগার = কারাগার।

• অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

• অ + অ = আ;
- নর + অধম = নরাধম।
- নব + অন্ন = নবান্ন।
- স্ব + অধীন = স্বাধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭১.
'ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত' কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দ্‌, বৃ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- ক্ + অ = গ; দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- চ্ + অ = জ; ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ট্ + আ = ড়; ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- ত্ + অ = দ; তৎ + অবধি = তদবধি।
- প্ + অ = ব; সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
এরূপ- বাগীশ, তদন্ত, বাগাড়ম্বর, কৃদন্ত, সদানন্দ, সদুপায়, সদুপদেশ, জগদিন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৫৭২.
‘দুস্থ’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুর্ + স্ত
  2. দুর্ + স্থ
  3. দুঃ + অস্থ
  4. দুঃ + থ
ব্যাখ্যা

দুস্থ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- দুঃ + থ।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ ( ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ, ট বা ঠ থাকলে ষ ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন-
- দুঃ + তর = দুস্তর।
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫৭৩.
অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দেশি > দিশি
  2. খ) বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. গ) টপ+টপ > টপাটপ
  4. ঘ) মারি > মাইর
ব্যাখ্যা
- মারি>মাইর হচ্ছে অপিনিহিতির উদাহরণ।

 • অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, শিকা > শিকে, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৭৪.
'সন্তাপ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) স্বর + স্বর
  2. খ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  3. গ) ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ঘ) স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন:
ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।

যেমন:
চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)।
উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।
বাক্ + দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)।
শম্ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
সম্ + চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ)।
সম্ + তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন)।
সম্ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত রয়েছে)।
ষষ্ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৭৫.
’শরীর > শরীল’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিষমীভবন
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

’শরীর > শরীল’ বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট > নালাট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট > কপাট,

• ব্যঞ্জনচ্যুতি :
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন-
- বউদিদি > বউদি।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।

৪,৫৭৬.
কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি?
  1. ঘোষ
  2. মহাপ্রাণ
  3. অঘোষ
  4. অল্পপ্রাণ
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৭৭.
‘ল’ এর উচ্চারণ স্থল -
  1. ক) অগ্র দন্তমূল
  2. খ) পশ্চাৎ দন্তমূল
  3. গ) ওষ্ঠ
  4. ঘ) অগ্র তালু
ব্যাখ্যা
ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স উচ্চারিত হয় অগ্র দন্তমূল থেকে। এগুলোকে দন্ত্য বর্ণ বলা হয়। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৪,৫৭৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ভুলণ্ঠিত
  2. ভূলুণ্ঠিথ
  3. ভূলুণ্ঠিত
  4. ভূলুন্ঠিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- ভূলুণ্ঠিত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- মাটি বা ধুলায় পড়ে গড়াগড়ি করছে এমন।

উল্লেখ্য,
- ট- বর্গের ট, ঠ, ড, ঢ- এই চারটি বর্ণের পর যুক্তবর্ণ তৈরিতে সর্বদা মূর্ধন্য ণ হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৭৯.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লবণ
  2. হরিণ
  3. বাণিজ্য
  4. কণিকা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।

মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+), লক্ষণ (ক্+ + অ + )। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ,  পুণ্য, বেণী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৪,৫৮০.
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন নয় -
- 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, , ঢ, , মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৮১.
'গঙ্গৌঘ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. গঙ্গো + ওঘ
  2. গঙ্গা + ঔঘ
  3. গঙ্গ + ওঘ
  4. গঙ্গা + ওঘ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- বন + ঔষধ = বনৌষধ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৮২.
বিসর্গ সন্ধি নয় কোনটি?
  1. দুষ্কৃতি
  2. পরিষ্কৃত
  3. পুরস্কার
  4. বহিষ্কৃত
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি নয় - পরিষ্কৃত = পরি + কৃত।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি

এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৮৩.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. পুরস্কার
  2. তিরস্কার
  3. পরস্পর
  4. আবিষ্কার
  5. ভাস্কর
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধির উদাহরণঃ
পুরঃ + কার = পুরস্কার
তিরঃ + কার = তিরস্কার
আবিঃ + কার = আবিষ্কার
ভাঃ + কর = ভাস্কর

নিপাতনে সিদ্ধ (ব্যঞ্জন) সন্ধিঃ
পর + পর = পরস্পর
গো + পদ = গোষ্পদ
আ + চর্য = আশ্চর্য

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫৮৪.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পর্ + পর = পরস্পর
  2. বন্ + স্পতি = বনস্পতি
  3. মন্‌ + ঈষা = মনীষা
  4. আস্‌ + চর্য = আশ্চর্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি- পর্ + পর = পরস্পর। 

• কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৫৮৫.
হর্ষ > হরষ কিসের উদাহরণ?
  1. আদিস্বরলোপ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি৷ যেমন- মুক্তা > মুকুতা, ক্লিপ > কিলিপ, স্রেফ > সেরেফ, হর্ষ > হরষ, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,৫৮৬.
কোনগুলো অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ঠ, ড, হ
  2. খ, ত, ছ
  3. ন, দ, স
  4. গ, প, ম
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি- খ, ত, ছ।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ,

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪,৫৮৭.
'বউ' শব্দের মধ্যে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. অ+উ
  2. ও+উ
  3. অ+ঔ
  4. ও+ঔ
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
- যেমন – - লাউ’ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই
- [এই]: সেই, নেই
- [আ]: যাও, দাও
- [আ]: খায়, যায়
- [উই]: দুই, রুই
- [অ]: নয়, হয়
- [ওউ]: মৌ, বউ
- [ওই]: কৈ, দই
- [এ]: কেউ, ঘেউ

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।
- ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২ও২ সংস্করণ)।
৪,৫৮৮.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়?
  1. ভাষ্য
  2. অদৃষ্ট
  3. কৃষ্ণ
  4. বর্ষ
ব্যাখ্যা
• কোন নিয়ম ছাড়াই, স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয় = ”ভাষ্য” শব্দে।

অন্যদিকে,
• ট, ঠ - এই দুইটি মূর্ধন্য বর্ণের পূর্বে সর্বদা ”ষ” হবে। (যুক্তাক্ষরের রূপ হবে (ষ্ট/ষ্ঠ)।
যেমন-
- অদৃষ্ট, অনাবৃষ্টি, আকৃষ্ট, অন্তর্দৃষ্ট, ইত্যাদি।

• ঋ বা ঋ - কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন- কৃষ্ণ।

• রেফ-এর পর মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন: বর্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৮৯.
'ঔ' বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওঈ্‌
  2. ওই্‌
  3. ওউ্‌
  4. অউ্‌
ব্যাখ্যা
• 'ঔ' বর্ণের উচ্চারণ হবে: 'ওউ্‌'। 

• 'ঔ' বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কিত কিছু শব্দ: 
- ঔষধ এর উচ্চারণ: ওউ্‌শধ্‌।
- মৌমাছি এর উচ্চারণ: মোউ্‌মাছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৯০.
নিচের কোনটি 'তালব্য' বৰ্গীয় বৰ্ণ?
  1. ক) গ
  2. খ) ঠ
  3. গ) ঝ
  4. ঘ) থ
ব্যাখ্যা
বর্গীয় ধ্বনি
- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি।
- বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- 

বৰ্গ ⇒ বৰ্গীয় বৰ্ণ ⇒ বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
• ক ⇒ ক খ গ ঘ ঙ ⇒ কণ্ঠ্য
চ ছ জ ঝ ঞ তালব্য
• ট ⇒ ট ঠ ড ঢ ণ ⇒ মূর্ধন্য
• ত ⇒ ত থ দ ধ ন ⇒ দন্ত্য
• প ⇒ প ফ ব ভ ম ⇒ ওষ্ঠ্য। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯১.
‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দে মোট অক্ষরের সংখ্যা-
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা

অক্ষর: বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।
'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে ৭ টি অক্ষর রয়েছে (না + তি + শী + ত + উষ্ণ + মণ্‌ + ডল) 

অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা। 

৪,৫৯২.
"প, ফ" কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।

যেমন:
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৫৯৩.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. পদ্ধতি
  2. পরিচ্ছদ
  3. পশ্চার্ধ
  4. প্রৌঢ়
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ - পশ্চার্ধ


নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ: 
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর =তস্কর,
- মনস্‌ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র,
- পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাধারণ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জন্সন্ধি - পদ্ধতি, পরিচ্ছদ।
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি - প্রৌঢ়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৯৪.
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
  1. লেখার ধরনে
  2. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
  3. সংখ্যাগত পরিমানে
  4. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।

-------------
ব্যাখ্যা:

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৫৯৫.
নিচের কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. পরি + কার = পরিষ্কার
  2. সম্ + সার = সংসার
  3. সম্‌ + চয় = সঞ্চয়
  4. শম্ + কা =শঙ্কা
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে:

- ম্ - এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন -
- ম্ + ক্ = ঙ + ক্‌ ⇒ শম্ + কা =শঙ্কা।
- ম্ + চ্ = ঞ + চ্  ⇒ সম্ + চয় = সঞ্চয়।
- ম্ + ত্ = ন্ + ত্  ⇒ সম্ + তাপ = সন্তাপ।

- ম্ - এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন -
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + হার = সংহার,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্ + শয় = সংশয়,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + সার = সংসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৯৬.
ব্যঞ্জনসন্ধি কত নিয়মে গঠিত হতে পারে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪,৫৯৭.
নিচের কোনটি অনুবর্ণ?
  1. ফলা
  2. কার
  3. অন্তঃ বর্ণগুলো
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
অনুবর্ণ ৩ প্রকার -
- ফলা
- রেফ
- বর্ণসংক্ষেপ

উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন সংস্করণ)

৪,৫৯৮.
নিম্ন স্বরধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
ব্যাখ্যা
• নিম্ন স্বরধ্বনি- আ।

• স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
 উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
 
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা,
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
- সংবৃত: [ই], [উ]।
- অর্ধ-সংবৃত: [ এ ], [ও]। 
- বিবৃত: [আ]।
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা], [অ]।

• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৯৯.
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কী বলে?
  1. সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. বিষমীভবন
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল
লাল > নাল
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।
----------------
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম > জম্ম;
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।
স্বরলোপ তিন প্রকার। যথা :
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৬০০.
সন্ধিতে কিসের সংকোচন ঘটে?
  1. শব্দের 
  2. পদের 
  3. ধ্বনির 
  4. বাক্যের
ব্যাখ্যা

• সন্ধি:
সন্ধি হলো বাংলা ব্যাকরণে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সন্নিহিত দুটি ধ্বনি (স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি) মিলিত হয়ে নতুন ধ্বনি বা রূপ গ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়ায় ধ্বনির সংকোচন বা পরিবর্তন ঘটে, যা উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করে।
উদাহরণ:
• আশা + অতীত = আশাতীত: এখানে "আ" এবং "অ" ধ্বনির সংকোচন হয়ে "আ" হয়েছে।
• হিম + আলয় = হিমালয়: এখানে "অ" এবং "আ" ধ্বনির মিলনে "আ" ধ্বনি তৈরি হয়েছে।
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে: এখানে "ত" এবং "ম" ধ্বনির সংকোচনে "ন্ম" হয়েছে।

সুতরাং, সন্ধিতে ধ্বনির সংকোচন ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।