বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৪৩ / ৬৩ · ৪,২০১৪,৩০০ / ৬,৩২৭

৪,২০১.
সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. কাঁদনা > কান্না
  3. স্কুল > ইস্কুল
  4. শরীর > শরীল
ব্যাখ্যা

• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন -
- জন্ম > জম্ম,
- পক্ব > পক্ক, 
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ - কবাট > কপাট।
• আদি স্বরাগমের উদাহরণ - স্কুল > ইস্কুল।
• বিষমীভবনের উদাহরণ - শরীর > শরীল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,২০২.
নিচের কোনটিতে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য?
  1. ক) নির্নিমেষ
  2. খ) ত্রিনয়ন
  3. গ) পরনিন্দা
  4. ঘ) ত্রিহায়ণ
ব্যাখ্যা

- নির্নিমেষ, ত্রিনয়ন, পরনিন্দা - সমাসবন্ধ শব্দ।
- পূর্বপদ ও পরপদের সংযোগ স্থলে ন এসেছে বলে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়। তাই হয়েছে।

ত্রিহায়ণ শব্দটিও সমাসবদ্ধ শব্দ। পূর্বপদ ত্রি ও পরপদ হায়ন এর সংযোগস্থলে ন আসেনি।
যেহেতু পরপদের শেষে ন আছে, তাই ণ-ত্ব বিধি অনুযায়ী ন পরিবর্তন হয়ে হয়েছে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৪,২০৩.
বাংলা বর্ণমালায় হ্রস্বস্বর কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
বাংলা স্বরধ্বনিতে — ৪টি হ্রস্বস্বর আছে।

• উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলােকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
যেমন: ক.হ্রস্বস্বর ও খ. দীর্ঘস্বর।

হ্রস্বস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

দীর্ঘস্বর: 
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ,ঈ, উ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২০৪.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে কোনটিতে?
  1. গৌণ
  2. বাণিজ্য
  3. লক্ষণ
  4. কল্যাণ
ব্যাখ্যা
- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি; ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ কারের পরে প, তার পরে ণ),
- হরিণ,
- অর্পণ,
- লক্ষণ,
- রুক্মিণী,
- ব্রাহ্মণ।

- কিন্তু বাণিজ্য, গৌণ, স্থাণু, কল্যাণ, লবণ শব্দগুলোতে স্বভাবতই ণ হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকর, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২০৫.
'ভূষণ' শব্দটিতে মূর্ধন্য 'ষ' হয়েছে কোন রীতিতে?
  1. ক) উ- কারান্ত ধাতুতে ষ হয়।
  2. খ) প- বর্গের পরে 'ষ' হয়।
  3. গ) অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
  4. ঘ) স্বাভাবিক নিয়মে 'ষ' হয়।
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২০৬.
ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে বলে-
  1. ধ্বনি 
  2. বর্ণ 
  3. অক্ষর 
  4. ফলা
ব্যাখ্যা

• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [ত], [খ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [খ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স], [শ], [হ], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

৪,২০৭.
'রুই' দ্বিস্বরধ্বনির মধ্যে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. অই্‌
  2. উই্
  3. ওই্
  4. আই্
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২০৮.
‘ইত্যাকার’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ইতি + আকার
  2. ইত্যা + কার
  3. ইতি + কার
  4. ইত + আকার
ব্যাখ্যা
• ‘ইত্যাকার’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- ইতি + আকার = ইত্যাকার।

• সূত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত;
- ইতি + আদি = ইত্যাদি;
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ;
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,২০৯.
বাংলা স্বরবর্ণে কার বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৯
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
কারবর্ণ: স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া,্ি,ী.ু,ূ,ৃ,্ে,াে,ৌ। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২১০.
'কুটুম্ব > কুটুম' শব্দে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিষমীভবন
  3. অভিশ্রুতি
  4. সমীকরণ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
আটমেসে > আটাসে, কুটুম্ব > কুটুম, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
--------------------
• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া > কইর‍্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

• সমীভবন বা সমীকরণ:
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত অসম ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার্থে একে অপরের প্রভাবে সঙ্গতি বা সাম্য লাভকরলে, তাকে বলা হয় সমীভবন বা সমীকরণ।
যেমন:
জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,২১১.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক্রন্দণ
  2. গৌণ
  3. কঙ্কণ
  4. বর্ণনা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২১২.
'ছাত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ছাত্‌রো
  2. ছাত্‌ত্রো
  3. ছাত্রো
  4. ছাতোরো
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ছাত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ - ছাত্‌ত্রো।

আরো কয়েকটি শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ:
• যুগ্ম - জুগ্‌মো,
• গুল্ম - গুল্‌মো, 
• শ্মশান [শঁশান্],
• বনভোজন - বোন্‌ভোজোন্‌, 
• স্মরণ [শঁরোন্]।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,২১৩.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. সম+কৃত=সংস্কৃত
  2. পরম+ঈশ=পরমেশ
  3. বন+ঔষধি=বনৌষধি
  4. যথা+ইস্ট=যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদঃ সম্ + কৃত = সংস্কৃত, পরম + ঈশ = পরমেশ, বন + ওষধি = বনৌষধি, যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৪,২১৪.
নিচের কোনটিকে মধ্যস্বরাগমের বিকল্প বলা যায়?
  1. ক) অপনিহিতি
  2. খ) অভিশ্রুতি
  3. গ) বিপ্রকর্ষ
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
মাঝখানে অথবা সংযুক্ত বর্ণের ঠিক মাঝখানে স্বরধ্বনি আসবে।

১. সংযুক্তি ধ্বনি ছাড়া :
চার >চাইর
মার > মাইর
আজ > আইজ

২. সংযুক্ত ধ্বনিসহ :
প্রীতি > পিরিতি
ক্লিপ > কিলিপ
ফ্লিম > ফিলিম
ত্রিশ > তিরিশ
গ্রাম > গেরাম
স্রেফ > সেরেফ
ভ্রু > ভুরু
শ্লোক > শোলোক

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৪,২১৫.
’ভূর্ধ্ব’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভূর্ব + উধ
  2. ভূ + ঊর্ধ্ব
  3. ভূ + উর্ধ্ব
  4. ভু + ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়; ঊ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়। যেমন-
- মরু + উদ্যান = মরুদ্যান।
- বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,২১৬.
'অতীত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + ইত
  2. অত + ইত
  3. অতী + ইত
  4. অ + তীত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
ই- কার কিংবা ঈ-কারের পর ই- কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- ই + ই = ঈ; অতি + ইত = অতীত। 
- ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,২১৭.
‘অ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ নিচের কোন শব্দে পাওয়া যায়?
  1. পক্ষ
  2. অদ্য
  3. অনাথ
  4. অতি
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২১৮.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. বিষম
  3. কৃষক
  4. ভাষণ
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য-ষ ব্যবহারের নিয়ম:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্‌ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি ।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
• ‘ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
• র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা- পুরস্কার
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৪,২১৯.
'পদস্খলন' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পদ + খলন
  2. পদস্‌ + খলন
  3. পদ্‌ + সলন
  4. পদঃ + খলন
ব্যাখ্যা
'পদস্খলন' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'পদঃ + খলন'।

সন্ধির নিয়ম:
অঘােষ অল্পপ্রাণ ও অঘােষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘােষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পস্থিত বিসর্গ স্থালে অঘােষ মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন
অ এর পরে বিসর্গঃ + ক = স + ক ---- নমঃ + কার = নমস্কার।
অ এর পরে বিসর্গঃ + খ = স + খ------পদঃ + খলন =পদস্খলন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৪,২২০.
কৃষ্ণ শব্দের মধ্যে যুক্তবর্ণ হিসেবে কী কী বর্ণ আছে?
  1. ষ + ঞ
  2. ষ + ঙ
  3. ষ + ম
  4. ষ + ণ
ব্যাখ্যা
ষ্ণ = ষ + ণ
এটি প্রাচীন রূপ।



উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১)
৪,২২১.
নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাসমুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- ম,
ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।


অন্যদিকে,
- স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্সত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪,২২২.
'কুজ্ঝটিকা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কুজ + ঝটিকা
  2. কুত + ঝটিকা
  3. কুদ + ঝটিকা
  4. কুৎ + ঝটিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুজ্ঝটিকা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - কুৎ + ঝটিকা

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
ত্ ও দ্-এরপর জ্‌ ও ঝ্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ - এর স্থানে জ্‌ হয়।
যেমন -
- ত্ + জ = জ্জ; সৎ + জন = সজ্জন।
- দ্‌ + জ = জ্জ; বিপদ + জাল = বিপজ্জাল।
- ত্‌ + ঝ = জ্ঝ; কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা

এরূপ - উজ্জ্বল, তজ্জন্য, যাবজ্জীবন, জগজ্জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২২৩.
সন্ধি-বিচ্ছেদ করুন: মস্যাধার।
  1. মসা + আধার
  2. মসি + আধার
  3. মসী + আধার
  4. মস্যা + ধার
ব্যাখ্যা
• বাংলা সন্ধি দুই রকমের। যথা:
১. স্বরসন্ধি ও
২. ব্যঞ্জনসন্ধি।

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
→ ই + অ = য্ + অ ⇒ অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
→ ই + আ = য্ + আ ⇒ ইতি + আদি ইত্যাদি।
→ ই + উ = য্‌ + উ ⇒ অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
→ ই + উ = য্‌ + উ ⇒ প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।
→ ঈ + আ = য্ + আ ⇒ মসী + আধার = মস্যাধার
→ ই + এ = য্‌ + এ ⇒ প্রতি + এক = প্রত্যেক।
→ ঈ + অ = য্ + অ ⇒ নদী + অম্মু = নদ্যম্মু।
এরূপ - প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২২৪.
জানালা > জান্‌লা ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. অপিনিহিতি
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
  5. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ :
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনাে স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন– বসতি > বস্‌তি, জানালা > জানলা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলােপ (Aphesis) : যেমন— অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার » উধার » ধার।
খ. মধ্যস্বর শােপ (Syncope) : অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ » স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লােপ (Apocope) : আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা) , সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। ( স্বরলােপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪,২২৫.
ব্যঞ্জন সন্ধি সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ত্রয়োদশ
  2. বয়োজ্যেষ্ঠ
  3. সদ্যোজাত
  4. পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• স্বরে-ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জন সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছ্‌ হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ্‌-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া,
মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ,
এক + ছত্র = একচ্ছত্র, 
পরি + ছন্ন = পরিচ্ছন্ন।  

অন্যদিকে, 
-------------------------
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:

পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (-অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/খ, জ/ঝ, ড/ঢ, দ/ধ/ন, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য্‌/র্‌/ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় | এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (-অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।
অঃ (স)। 
যেমন:
অধঃ + গতি = অধোগতি,
বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,
মনঃ + গত = মনোগত,
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ,
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ,
মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন,
সরঃ + বর = সরোবর,
অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়,
ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,২২৬.
নিচের কোনটি ঘর্ষণজাত ধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণজাত ধ্বনি বা শিসধ্বনি বা উষ্মধ্বনি:
এ জাতীয় বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণে বাগ্‌যন্ত্র দুটি খুব কাছাকাছি আসে, কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত না হওয়ায় একটি প্রায়-বন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ফুসফুস আগত বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে। বাতাসের ঘর্ষণের ফলে উচ্চারিত হয় বলে এগুলোকে ঘর্ষণজাত (fricatives) ধ্বনি বলে। এ জাতীয় ধ্বনিগুলোর এই ঘর্ষণকে শিস দেওয়ার আওয়াজের সঙ্গে সাদৃশ্য ভেবে এগুলোকে শিসধ্বনি বলে। এ ধ্বনিগুলোকে উষ্মধ্বনিও বলে।

• ঘর্ষণজাত ব্যঞ্জন দুইটি- শ এবং হ। দাশ, হাট শব্দের উচ্চারণ এ জাতীয়। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ঘর্ষণজাত ধ্বনিগুলোকে এভাবে দেখানো যায়: পশ্চাৎ দন্তমূলীয়- শ; কণ্ঠনালীয়- হ্।

অন্যদিকে,
• ম, ন নাসিক্য ধ্বনি। 
• 'ল' পার্শ্বিক ধ্বনি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২২৭.
'য' বর্ণ শব্দের আদিতে ব্যবহৃত হলে বাংলায় এর উচ্চারণ হয়- 
  1. জ - এর মতো 
  2. ঝ - এর মতো  
  3. য় - এর মতো   
  4. অ - এর মতো 
ব্যাখ্যা

'য' বর্ণের উচ্চারণ:
য-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি সাধারণত সম্মুখ তালু স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়। এজন্য এ ধ্বনিটিকে বলা হয় তালব্য ধ্বনি।
শব্দের আদিতে ব্যবহৃত হলে বাংলায় এর উচ্চারণ 'জ'-এর মতো। যেমন- য বর্ণের উচ্চারণ (জ্‌): যদি [জোদি), যিনি [জিনি), সূর্য (শুজো। 

শব্দের মধ্যে বা অন্তে (সংস্কৃত নিয়মানুযায়ী) ব্যবহৃত হলে 'য়' উচ্চারিত হয়। যেমন- বি + যোগ = বিয়োগ। তবে য-ফলা থাকলে স্বরের উচ্চারণে পরিবর্তন হয়। যেমন- ব্যতীত [বেতিতো], ব্যথা [ব্যাথা]।

শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা বর্ণের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন- উদ্যম [উদ্‌দম], গদ্য [গোদ্‌দো]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা '‍্য'-এর কোনো উচ্চারণ হয় না। যেমন- সন্ধ্যা [শোন্‌ধা), স্বাস্থ্য [শাস্‌থো], অর্ঘ্য [অর্‌ঘ্যে]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)। 

৪,২২৮.
নিম্নের কোন শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদে বিসর্গ, 'র' হয়ে যায়
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) নীরস
  3. গ) পুরস্কার
  4. ঘ) দুস্কর
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
বিসর্গ 'র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২২৯.
মূর্ধন্য-ণ এর শুদ্ধ ব্যবহার ঘটেছে কোন শব্দ?
  1. ঝরণা
  2. পরাণ
  3. ক্ষৌণি
  4. গভর্ণর
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে 'র, ষ, ক্ষ' এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
- ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
- ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ণ, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২৩০.
‘নিরন্ন’ শব্দটির শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিঃ + আন্ন
  2. নির্ + অন্ন
  3. নিঃ + অন্ন
  4. নিরা্ + অন্ন
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• ইঃ + অ = ই + র্‌”
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন,
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২৩১.
নিচের কোনটি বিসর্গসন্ধির উদাহরণ?
  1. সঞ্চয় 
  2. আশীর্বাদ
  3. তন্মধ্যে 
  4. সদুপায়
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির উদাহরণ = আশীর্বাদ (আশীঃ+বাদ )।

• গুরত্বপূর্ণ বিসর্গসন্ধির উদাহরণ:
- মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, 
- অধঃ+পতন = অধঃপতন, 
- বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
-  মনঃ+যোগ = মনোযোগ,
- তিরঃ+ধান = তিরোধান, 
- তপঃ+বন= তপোবন,
- নিঃ+আকার= নিরাকার, 
- পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, 
- আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ,

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
- সম্ + চয় = সঞ্চয় ।
- তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে ।
- সৎ + উপায়= সদুপায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৪,২৩২.
সন্ধির উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. শব্দের মিলন
  2. ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি
  3. শব্দগত মাধুর্য সৃষ্টি
  4. বর্ণের মিলন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।
 
• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২৩৩.
নিচের কোন গুচ্ছের সব বানান শুদ্ধ?
  1. ক) সামর্থ্য, নৈর্ব্যক্তিক, চর্বচূষ্য
  2. খ) অর্ঘ্য, হর্ম্য, সূর্য্য
  3. গ) রামায়ণ, পরায়ণ, পলায়ণ
  4. ঘ) নিপুণ, চিক্কণ, লবন
ব্যাখ্যা

- সূর্য্য-এর শুদ্ধরূপ সূর্য। কারণ, রেফের পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না।

- রামায়ণ, পরায়ণ বানানে ণ হলেও ণত্ব বিধি অনুযায়ী পলায়ন বানানে ন হবে।
- নিপুণ, চিক্কণ বানান ঠিক থাকলেও লবণ বানানে ণ হবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি।

৪,২৩৪.
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২৩টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ২৫টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে শুধু ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথাঃ (অ+ই) ঐ, (অ+উ) ঔ।
বাকি ২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির কোন নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।
আরো কয়েকটি যৌগিক স্বরধ্বনি হচ্ছেঃ
অ + ও = অও
আ + ই = আই
আ + এ = আয়
এ + ই = এই
এ + উ = এউ
ই + উ = ইউ
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই।
৪,২৩৫.
'স্বাগত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নির্ণয় করুন-
  1. স্ব + আগত
  2. সু + আগত
  3. সুঃ + গত
  4. স্বঃ + আগত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- সু + অল্প = স্বল্প
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,২৩৬.
'আটমেসে ˃ আটাসে' - এটি কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি 
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,২৩৭.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. গোষ্পদ
  2. চতুষ্টয়
  3. তস্কর
  4. মনীষা
ব্যাখ্যা

- 'চতুষ্টয়' বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। 
যেমন:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়; বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,২৩৮.
কোন যুক্তবর্ণটি অশুদ্ধ?
  1. ত্‌ + ত =ত্ত
  2. ত্‌ + থ = ত্থ
  3. ণ্‌ + ড = ণ্ড
  4. গ্‌ + ঊ = গু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - গ্‌ + ঊ = গু
- এর শুদ্ধরূপ - গ্‌ + উ = গু।

অন্যদিকে,
- ণ্‌ + ড = ণ্ড,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ত্‌ + ত =ত্ত।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণ শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৩৯.
নিচের কোন জোড়টি যুক্তবর্ণের রূপভেদকে প্রকাশ করে?
  1. ক) কার ও ফলা
  2. খ) স্বচ্ছ ও যুক্ত
  3. গ) স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ
  4. ঘ) অস্বচ্ছ ও উন্মুক্ত
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ্ঝ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ,ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্+স ), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্+ঞ), ঞ্চ (ঞ+চ), (ঞ+ছ), ঞ্জ (+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), ও (ণ্+ড), দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্+উ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৪০.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি
  2. খ) গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি
  3. গ) গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গর্মি
  4. ঘ) গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মী
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন—
- অ + উ = ও - সূর্য + উদয় = সূর্যোদয় ৷
- আ + উ = ও - যথা + উচিত = যথোচিত।
- আ + ঊ = ও - গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

এরূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২৪১.
নিচের কোনটি কণ্ঠ্যধ্বনি নয়?
  1. ক) অ
  2. খ) আ
  3. গ) ই
  4. ঘ) ক
ব্যাখ্যা

যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কন্ঠনালির উপরিভাগ বা জিহবামূল, তাদের কণ্ঠ্যধ্বনি বলে৷
যেমন- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।

যেসব ধ্বনির উচ্চারণ স্থান তালু, তাদের তালব্যধ্বনি বলে৷ যেমন- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ।

উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

৪,২৪২.
কোন ক্ষেত্রে সর্বদা দন্ত্য (‘ন’) ব্যবহার হয়? 
  1. ক্রিয়াপদের শেষে 
  2. ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে 
  3. বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 
  4. উপরের সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

স্বভাবতই দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার:
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান মূলত তৎসম শব্দে প্রযোজ্য, যেখানে ঋ, র বা ষ-এর পরে দন্ত্য ন → মূর্ধন্য ণ হয়।
- তবে ক্রিয়াপদের অন্তঃস্থিত বা শেষে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ, ক্রিয়াপদের শেষে সর্বদা দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার হয়, মূর্ধন্য ণ কখনও বসে না।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘করন’, ‘ধরেন’, ‘মারেন’, ‘যাবেন’, ‘খাবেন’, ‘হবেন’—এই সব ক্রিয়াপদের শেষের ন সাধারণ দন্ত্য ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- করন মানে কাজ সম্পাদন করা, এটি একটি ক্রিয়াপদ। 
- তাই করন শব্দটিতে স্বভাবতই দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার হয়েছে। 

- ত-বর্গীয় বর্ণের সাথে যুক্ত 'ন' সর্বদা দন্ত্য ‘ন’ (ন) হয়। 
- যেমন- সন্তান, অন্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, পন্থা ইত্যাদি। 

- বিদেশি (ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি) শব্দের বানানে 'ণ' হয় না, সর্বদা 'ন' (দন্ত্য-ন) হয়। 
- বিদেশি শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না।
- উদাহরণসমূহ:
- কর্নার, গভর্নর, সিলেবাস, বাস, মেশিন, ফার্নিচার ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪,২৪৩.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কোনটি?
  1. দুরাত্মা
  2. তন্মধ্যে
  3. ক্ষুন্নিবৃত্তি
  4. মার্তণ্ড
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ;
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

অন্যদিকে,
• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৪৪.
নিচের কোনটি বর্গীয় বর্ণ নয়?
  1. ক) ঢ়
  2. খ) ঢ
  3. গ) দ
  4. ঘ) ব
ব্যাখ্যা
ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে।
যথাঃ ক বর্গীয় বর্ণঃ ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণঃ চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণঃ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণঃ ত, থ, দ, ধ, ন।
প বর্গীয় বর্ণঃ প, ফ, ব, ভ, ম।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৪,২৪৫.
'নিস্তব্ধ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিস্‌ + স্তব্ধ
  2. নিঃ + স্তব্ধ
  3. নিৎ + স্তব্ধ
  4. নিদ্‌ + স্তব্ধ
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
- যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্ব কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়।
যেমন-
• নিঃ + স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ।
• দুঃস্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ।
• নিঃ+ স্পন্দ = নিঃস্পন্দ কিংবা নিস্পন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,২৪৬.
'ঋণ' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. ঋন্‌
  2. রিন্‌
  3. রিণ্‌
  4. ঋণ
ব্যাখ্যা
বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ।
- এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ।
- কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে।
- আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন।
- ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। 

ঋ এর উচ্চারণ:
- ঋ বর্ণের উচ্চারণ রি-এর মতাে: ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন্], কৃষক [ক্রিশক], দৃশ্য [দ্ৰিশশাে]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৪৭.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. হ্ + ষ = হ্ম
  2. ঞ্ + জ = ঞ্জ
  3. ছ + ঞ্ = ঞ্ছ
  4. ক্ + ষ্ + হ = ক্ষ্ম
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঞ্ + জ = ঞ্জ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৪,২৪৮.
উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনির উচ্চারণস্থান নয় কোনটি?
  1. তালব্য
  2. ওষ্ঠ্য
  3. কণ্ঠনালীয়
  4. দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২৪৯.
‘শুভেচ্ছা’ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ করলে হবে-
  1. শুভ + ইচ্ছা
  2. শু + ইচ্ছা
  3. শুভ + ঈচ্ছা
  4. শুভ্ + ছা
ব্যাখ্যা
সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে ।

• সন্ধি তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি ৷

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
- মহা + ঋষি = মহর্ষি।
- শীত + ঋত = শীতার্ত।
- জন + এক = জনৈক।
- বন + ওষধি = বনৌষধি।
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২৫০.
'সংরক্ষণ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্ঃ + রক্ষণ
  2. সং + রক্ষণ
  3. সঙ্‌ + রক্ষণ
  4. সম্ + রক্ষণ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২৫১.
'ক' হতে 'ম' পর্যন্ত ২৫টি ব্যঞ্জনধ্বনিকে একত্রে বলা হয়-
  1. মৌলিক ধ্বনি
  2. যৌগিক ধ্বনি
  3. স্পর্শ ধ্বনি
  4. নাসিক্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

স্পর্শ ধ্বনি: 
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বা স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়। 
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি। 
যেমন - 
- ক খ গ ঘ ঙ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয় বর্ণ। 
- চ ছ জ ঝ ঞ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্যধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয় বর্ণ। 
- ট ঠ ড ঢ ণ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয় বর্ণ। 
- ত থ দ ধ ন ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্যধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয় বর্ণ। 
- প ফ ব ভ ম ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয় বর্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,২৫২.
'মস্যাধার' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মসীয় + ধার
  2. মসী + আধার
  3. মস্যা + ধার
  4. মসি + আধার
ব্যাখ্যা
- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য’ বা য ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ইতি + আদি = ইত্যাদি।
- প্ৰতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- মসী + আধার = মস্যাধার।
- প্রতি + এক = প্রত্যেক ৷
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২৫৩.
‘বিদ্রোহ’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. বিদ্‌রোহা
  2. বিদ্‌রোহো
  3. বিদ্দ্রো‌হাে
  4. বিদ্রোহো
ব্যাখ্যা
'র' বর্ণের উচ্চারণ:
- র বর্ণের উচ্চারণ [র্‌]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে। শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়।

যেমন:
- মাত্র [মাত্ত্রো‌], বিদ্রোহ [বিদ্দ্রো‌হাে], যাত্রী [জাত্ত্রি‌]।
- কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না।
যেমন -
- কেন্দ্র [কেন্‌দ্রো], শাস্ত্র [শাস্‌ত্রো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৪,২৫৪.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ক) পুন + মিলন =পুনর্মিলন
  2. খ) পরি + স্কার = পরিস্কার
  3. গ) সমঃ + কৃত =সংস্কৃত
  4. ঘ) উৎ + স্থান = উত্থান
ব্যাখ্যা
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - উৎ + স্থান = উত্থান

সন্ধিবিচ্ছেদ গুলোর শুদ্ধরূপ-
পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন
পরি + কার = পরিস্কার
সম + কৃত = সংস্কৃত 

উৎস:- উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৫৫.
'মনঃপীড়া' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. মনোপিড়া
  2. মোনপ্‌পিড়া
  3. মোনোপিড়া
  4. মোনোপ্‌পিড়া
ব্যাখ্যা

• 'মনঃপীড়া' শব্দের সঠিক উচ্চারণ 'মোনোপ্‌পিড়া'।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,২৫৬.
নাসিক্য বর্ণ কোনটি?
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য বর্ণ:
ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকি বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।
যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।

অন্যদিকে,
উষ্ম ব্যঞ্জন - স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। 
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন- ল পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।
৪,২৫৭.
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পাওয়াকে কি বলে?
  1. ক) অপনিহিতি
  2. খ) স্বরসঙ্গতি
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
⇒ পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন:
- বউদিদি > বউদি 
- বড়দাদা > বড়দা
- ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

⇒ একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্যে মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হওয়াকে অসমীকরণ (Dissimilation) বলে। 
যেমন: 
- ধপ + ধপ = ধপাধপ।
- টপ + টপ = টপাটপ। 

⇒ পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপনিহিতি বলে।
যেমন: 
- আজি > আইজ।
- সত্য  > সইত্য। 
- সাধু  > সাউধ। 
⇒ একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে অন্য স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: 
- দেশি > দিশি।
- বিলাতি  > বিলিতি। 
- মুলা > মুলো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২৫৮.
ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনি কে কয় ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনি কে ৪ ভাগ করা হয়।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খােলে;
বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২৫৯.
এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) ধ্বনিবিপর্যয়
  3. গ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে
যেমন:
- এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট
- বাক্স > বাস্ক
- রিক্সা > রিস্কা
- পিশাচ > পিচাশ

এছাড়া,
ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি। 

ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি: বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। 
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৬০.
'শুক্রবার > শুক্কুরবার' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. মধ্য স্বরাগম
  3. পরাগত সমীভবন
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে মধ্য স্বরাগম বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- শুক্রবার > শুক্কুরবার, 
- স্বপ্ন > স্বপন,
- নয়ন > নয়ান,
- প্রীতি > পীরিতি,
- ফিল্ম > ফিলিম,
- মুক্তা > মুকুতা,
- ভ্রু > ভুরু,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক,
- মুরগ > মুরোগ > মোরগ,
- ক্লিপ > কিলিপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৬১.
কোন শব্দে দ্বিস্বরধ্বনি রয়েছে?
  1. মালি
  2. লাউ
  3. তিনি
  4. কনে
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

অন্যদিকে,
"তিনি; মালি; কনে" এর ক্ষেত্রে- দুটি পৃথক স্বরধ্বনি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

৪,২৬২.
স্বরধ্বনির অনুনাসিকতা বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. অনুস্বার ( ং )
  2. চন্দ্রবিন্দু ( ঁ )
  3. হসন্ত ( ্‌ )
  4. বিসর্গ ( ঃ )
ব্যাখ্যা

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
- এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

৪,২৬৩.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে মিলে কী হয়?
  1. দ্বিস্বরধ্বনি
  2. স্বল্প স্বরধ্বনি
  3. মৌলিক স্বরধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং (উ্‌) অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ) তৈরি হয়েছে।
দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই। 
- [এই]: সেই, নেই। 
- [আও]: যাও, দাও। 
- [আএ): খায়, যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪,২৬৪.
খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে -

• সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি
- তৎসম শব্দের সন্ধি

• খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জন সন্ধি।

• তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জন সন্ধি
- বিসর্গ সন্ধি

আবার, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
• সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জনসন্ধি
- বিসর্গসন্ধি
৪,২৬৫.
'আশ্চর্য' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আ + চর্য
  2. আশ + চর্য
  3. আশঃ + অর্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'আশ্চর্য' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = আ + চর্য।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,২৬৬.
চ, ছ, জ, ঝ কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) মূর্ধা
  2. খ) তালু
  3. গ) কণ্ঠ
  4. ঘ) ওষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৬৭.
'কথামৃত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. কথা + অমৃত
  2. কথা + মৃত
  3. কথামৃ + ইত
  4. কথাঃ + মৃত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কথা + অমৃত = কথামৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২৬৮.
স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. বাক্য>বাইক্য
  2. জালিয়া > জাইল্যা > জেলে
  3. মুলা > মুলো
  4. রাত্রি > রাইত
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতির উদাহরণ: মুলা > মুলো।
------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony) :
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন –
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘রাত্রি > রাইত’,’বাক্য>বাইক্য’ ধ্বনি পরিবর্তন অপিনিহিতির উদাহরণ।
- অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তন এর উদাহরণ: জালিয়া > জাইল্যা > জেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।
৪,২৬৯.
কোনটি অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
ব্যাখ্যা

অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে বলে এদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। 
যেমন: ক, গ, , চ, জ, ঞ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে বলে এদের মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। 
যেমন: খ, ঘ; ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৪,২৭০.
তাড়নজাত ধ্বনি কোনগুলো?
  1. ড়, ঢ়
  2. শ, হ
  3. র, ল
  4. ঙ, ণ
ব্যাখ্যা
ড়, ঢ় — তাড়নজাত ধ্বনি;
শ, ষ, স, হ, — শিশধ্বনি;
য, র, ল, ব — অন্তঃস্থ ধ্বনি;
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম — নাসিক্য ধ্বনি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণি৷
৪,২৭১.
নিচের কোনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ?
  1. ক) ং
  2. খ) ঁ
  3. গ) ঃ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ং, ঃ, ঁ এই তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। তাই এ বর্ণগুলোকে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,২৭২.
'ণ' -এর সঠিক ব্যবহার হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) ত্রিণয়ন
  2. খ) লবণ
  3. গ) দুর্ণাম
  4. ঘ) অগ্রণায়ক
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
• এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমনঃ
- ত্রিনয়ন,
- সর্বনাম,
- দুর্নীতি,
- দুর্নাম,
- দুর্নিবার,
- পরনিন্দা,
- অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২৭৩.
ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ না থাকলে কোন ধ্বনি আছে বলে ধরে নেওয়া হয়?
  1. [আ]
  2. [ই]
  3. [ও]
  4. [অ]
ব্যাখ্যা
কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া,্ি,ী.ু,ূ,ৃ,্ে,াে,ৌ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্চি‌হ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৭৪.
বাংলা বর্ণমালায় যুগ্ম স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ২৫টি
  2. ৭টি
  3. ১০টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

যৌগিক স্বরধ্বনিঃ
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
যেমনঃ
- অ + ই = অই (বই)
- অ + এ = অয় (বয়, ময়না)

- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা - পঁচিশটি
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটি বর্ণ রয়েছে - ঐ এবং ঔ।
- অন্য যৌগিক স্বরগুলোর চিহ্নস্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৭৫.
জিভের উচ্চতা অনুসারে, নিচের কোনটি নিম্ন স্বরধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• 'আ'- নিম্ন স্বরধ্বনির উদাহরণ। 

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)। 
৪,২৭৬.
কোন শব্দে দ্বিস্বরধ্বনি রয়েছে?
  1. তিনি
  2. মালি
  3. লাউ
  4. ছেলে
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি যুক্ত শব্দ - লাউ।

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। 
» ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]।
» একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

অন্যদিকে,
"তিনি; মালি; ছেলে" এর ক্ষেত্রে- দুটি পৃথক স্বরধ্বনি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৭৭.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) ঋষি
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) অনুষঙ্গ
  4. ঘ) কোষ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,২৭৮.
নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি?
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, , ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।

অঘোষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা:
প, ফ, ত, থ, স, , ঠ, , ছ, , ক, খ, হ।

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৪,২৭৯.
'ঢাকেশ্বরী’ শব্দের প্রকৃত সন্ধি-বিচ্ছেদ হলাে-
  1. ক) ঢাকে + ঈশ্বরী
  2. খ) ঢাকঁ + ঈশ্বরী
  3. গ) ঢাকা +ঈশ্বরী
  4. ঘ) ঢাকাই + নশ্বরী
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। 
যেমন
অ + ই = এ   শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
আ + ই = এ   যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
অ + ঈ = এ   পরম + ঈশ =পরমেশ।
আ + ঈ = এ   মহা + ঈশ =মহেশ,
এরূপ 
ঢাকা +ঈশ্বরী= ঢাকেশ্বরী
এছাড়া, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
৪,২৮০.
‘পরিচ্ছদ’ শব্দটিতে কোন ধরনের সন্ধির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি
  2. খ) স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. গ) ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
‘পরিচ্ছদ’ = পরি + ছদ। শব্দটি স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি যোগে গঠিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৮১.
কোনটি যুক্তবর্ণটি সঠিক?
  1. ক্ + ষ্ + হ = ক্ষ্ম
  2. ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম
  3. ক্ + হ + ম = ক্ষ্ম
  4. ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ
ব্যাখ্যা
• সঠিক যুক্তবর্ণ - ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম

- গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৪,২৮২.
নিচের কোনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ?
ব্যাখ্যা
• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা- ৎ, ং ও ঁ।

-এই বর্ণ গুলোর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বর্ণের মতো কার বা ফলা গ্রহন করতে পারে না।

অন্যদিকে,
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৪,২৮৩.
'জানালা > জান্‌লা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরলোপ
  2. ধ্বনি বিপর্যয় 
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,২৮৪.
'অতীত' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতী + ইত = অতীত
  2. অতি + ইত = অতীত
  3. অতী + ঈত = অতীত
  4. অতি + ঈত = অতীত
ব্যাখ্যা

- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
- দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমনঃ
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৮৫.
'ক্স' যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) ক্‌+স
  2. খ) স+ক
  3. গ) ক+স
  4. ঘ) ক+র
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

⇒ স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক, জ্ঞ, জ্ব, ঞ, জ্ঞ, ট, ণ্ঠ, দ, দ্ব, দ্ম, ঠ, ড, ন্স, স্ট, ব্দ, ফ, ল্ক, ল্প, ষ্ঠ, স্ফ, খ, স্ট, স্ফ ইত্যাদি।

⇒ অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ত (ক্‌+ত), ক্র (কৃ+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম), ক্স (ক্‌+স) ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৮৬.
"লাল" শব্দটি কোন প্রকার ব্যঞ্জনধ্বনি দিয়ে গঠিত?
  1. তালব্য ব্যঞ্জন
  2. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  3. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, , স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,২৮৭.
ষ-বর্ণের উচ্চারণ সব সময় কোনটি হয়?
  1. স  
  2. হ 
  3. ক্ষ 
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ: 
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ] হয়।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ] উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৪,২৮৮.
'কথিত' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) কথিতু
  2. খ) কথিত্তো
  3. গ) কথিতো
  4. ঘ) কোথিত
ব্যাখ্যা
'কথিত' শব্দের উচ্চারণ - কথিতো।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর প্রকৃতি - প্রত্যয় = √কথ্‌ +ত
- বিশেষণ অর্থ - বিবৃত, উক্ত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,২৮৯.
কাঁদনা > কান্না কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
  4. ব্যঞ্জন-বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে।
- এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম > জন্ম,
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,২৯০.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রা বর্ণ কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা

 • বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৯১.
কোনটি ভিন্নার্থ প্রকাশ করে?
  1. মধ্য স্বরাগম
  2. স্বরভক্তি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
- অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন >স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম> ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক ইত্যাদি।
- ও -  শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন: বসতি > বস্তি, জানালা > জানলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,২৯২.
নিচের কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি?
  1. ক) ঐ
  2. খ) ঔ
  3. গ) অ্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি৷ যথাঃ অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা৷
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথাঃ (অ+ই) ঐ, (অ+উ) ঔ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,২৯৩.
[এ] এবং [ও] উচ্চারণের সময় ঠোঁট কেমন থাকে?
  1. সংবৃত
  2. বিবৃত
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. অর্ধ-সংবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চারভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খেলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।

৪,২৯৪.
'ণ-ত্ব' বিধি অনুসারে কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ভূষণ
  2. রেণু
  3. খণ্ড
  4. লণ্ঠন
ব্যাখ্যা
• 'ণ-ত্ব' বিধি অনুসারে 'লণ্ঠন' বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান - 'লন্ঠন'। 
কারণ, 
'ণ-ত্ব' বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন নেই। 'লন্ঠন' - ইংরেজি শব্দ।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 

১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 
 
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,২৯৫.
পরাশ্রয়ী বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ক) ঋ
  2. খ) ং
  3. গ) ঃ
  4. ঘ) ঁ
ব্যাখ্যা

ং, ঃ, ঁ —এ তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এ বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। এ বর্ণগুলােকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৪,২৯৬.
'শীতার্ত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + অর্ত
  2. শীত + রিত
  3. শীত + আর্ত
  4. শীত + ঋত
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২৯৭.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) মান্যবরাসু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
  3. গ) মাননীয়েসু
  4. ঘ) কল্যাণীয়েষু
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধি অনুসারে, মান্যবরাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়েষু সঠিক।
- মাননীয়েসু ভুল। শুদ্ধরূপ হবে - মাননীয়েষু

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৪,২৯৮.
'আবিষ্কার' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আবিঃ + কার
  2. আবিঃ + ষ্কার
  3. আবিষ্‌ + কার
  4. আবি্‌ + ষ্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে ষ্‌ হয়। এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
- আবিঃ + কার = আবিষ্কার,
- নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি,
- নিঃ + পন্ন = নিষ্পন্ন,
- নিঃ + ফল নিষ্ফল,
- দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি,
- চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ,
- চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ,
- ভ্রাতুঃ + পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র,
- তিরঃ + কার = তিরস্কার,
- পুরঃ কার পুরস্কার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,২৯৯.
নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ্যা
ব্যাখ্যা
- [অ] নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

অন্যদিকে,
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- [এ] উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও] উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
• [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [আ] নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪,৩০০.
কোনটি অনুবর্ণের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সংখ্যা বর্ণ
  2. অর্ধস্বর 
  3. দ্বিস্বর
  4. বর্ণসংক্ষেপ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে,
যেমন- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।