বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৩২ / ৬৩ · ৩,১০১৩,২০০ / ৬,৩২৭

৩,১০১.
'নিষ্ঠা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নিস্ + ঠা
  2. খ) নিঃ + ঠা
  3. গ) নিঃ + ষ্ঠা
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নিয়ম - ঃ + ট্‌ / ঠ্‌ = ষ্ট / ষ্ঠ
‘নিষ্ঠা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘নিঃ + ঠা’। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
এরূপঃ
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১০২.
খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করলে কী দোষ হয়?
  1. বাক্যালঙ্কারগত দোষ
  2. অর্থগত দোষ
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) গুরুচণ্ডালী দোষ।

গুরুচণ্ডালী দোষ হলো -
- ভিন্ন উৎসের শব্দের অসংগত মিশ্রণজনিত ত্রুটি।
- যখন খাঁটি বাংলা (দেশি/তদ্ভব) শব্দের সাথে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের সন্ধি করা হয়, তখন ভাষাগত বিশুদ্ধতা নষ্ট হয় এবং গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।

উদাহরণ:
ভুল নিয়ম: "হাত + অর্পণ = হাতার্পণ" (হাত = খাঁটি বাংলা, অর্পণ = তৎসম)।
সঠিক নিয়ম: "হস্ত + অর্পণ = হস্তার্পণ" (উভয়ই তৎসম)।
--------------------
• 'সন্ধি' শব্দের অর্থ - মিলন।

• সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি,
- তৎসম শব্দের সন্ধি।
 
• খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি।
 
• তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি,
- বিসর্গ সন্ধি। 
------------------------------- 
• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
 
• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না। এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। 
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১০৩.
ণ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ত্রিনয়ণ
  2. লণ্ঠন
  3. অগ্রাণায়ক
  4. দুর্ণাম
ব্যাখ্যা

- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

- ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, = গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১০৪.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) বনস্পতি
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) পরস্পর
  4. ঘ) ততোধিক
ব্যাখ্যা
ততোধিক- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়। 
‘ততোধিক’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। এর যথাযথ সন্ধিবিচ্ছেদ হলো - ততঃ + অধিক = ততোধিক।

• সন্ধির নিয়ম:
অ ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ + ঃ + অ - এই তিনে মিলে ও কার হয়।
যেমন: ততঃ + অধিক = ততোধিক।

• সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- পর+পর = পরস্পর
- আ + চর্য = আশ্চর্য
- গো + পদ = গোষ্পদ 
- পর + পর = পরস্পর
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক+ দশ = একাদশ
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
- গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
- কুল+অটা = কুলটা
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১০৫.
নিচের কোনগুলো কণ্ঠধ্বনি?
  1. ক) ক, খ, গ, ঘ, ঙ
  2. খ) চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
  3. গ) ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
  4. ঘ) প, ফ, ব, ভ, ম,
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠধ্বনি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১০৬.
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
  1. ঢ়
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, , , ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১০৭.
অর্ধস্বরধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ও্‌
  2. এ্‌
  3. ঊ্‌ 
  4. ই্‌
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি নয়- ঊ্‌। 

-------------------
• অর্ধস্বরধ্বনি:

যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবে, দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
• 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌ ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
• একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,১০৮.
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি কয়টি ?
  1. ক) ৭
  2. খ) ১১
  3. গ) ৩৭
  4. ঘ) ৩০
ব্যাখ্যা
ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
-        স্বরধ্বনি 
-        ব্যঞ্জনধ্বনি
 মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্] , [ফ্] , [ব্] , [ভ্] , [ত্] , [খ্] , [দ্‌] , [ধ্‌] , [ট্‌] , [ঠ্‌] , [ড্‌] , [ঢ্‌] , [চ্] , [ছ্‌], [জ্‌], [ঝ্‌], [ক্], [খ্], [গ্] , [ঘ্ন] , [ম্] , [ন্‌] , [ঙ] , [স্], [শ্‌] ,  [হ্] ,  [ল্] ,  [র্] , [ড়্‌] , [ঢ়্‌] 
এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৩,১০৯.
কোন বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে, পড়ে বা আগে "ণ" যুক্ত হয় না?
  1. ক-বর্গীয়
  2. ত-বর্গীয়
  3. প-বর্গীয়
  4. ট-বর্গীয়
ব্যাখ্যা

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প+অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ + অ + ণ)। এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১১০.
কোনটি 'অনুদ্দেশ' শব্দের অক্ষর বিন্যাস?
  1. অ + নু + দ্‌ + দে + শ
  2. অনু + দ্‌ + দেশ্‌
  3. অনুদ্‌ + দেশ্‌
  4. অনু + দ্‌দেশ
ব্যাখ্যা
অনুদ্দেশ:
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অক্ষর বিন্যাস: অনুদ্‌ + দেশ্‌
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: ন + উদ্দেশ।
- অর্থ: খোঁজ বা উদ্দেশ নেই এমন, নিরুদ্দেশ, নিখোঁজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১১১.
'ণিজন্ত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? 
  1. ণিচ্ + অন্ত
  2. ণিচ্ + জন্ত
  3. ণিজ্‌ + অন্ত
  4. ণিক্‌ + অন্ত
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত;
- ষট্ + আনন = ষড়ানন;
- তৎ + অবধি = তদবধি;
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১১২.
নিরাময় শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করুন।
  1. নিঃ + আময়
  2. নির + আময়
  3. নির + অময়
  4. নিঃ + ময়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সাথে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি বা অন্তস্থ য, ব, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থানে র হয়।

যেমন:
→ নিরাময় = নিঃ + আময়,
→ আশীর্বাদ = আশীঃ + বাদ,
→ নিরাকার = নিঃ + আকার,
→ নিরাকরণ = নিঃ + আকরণ,
→ নির্জন = নিঃ + জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৩.
'ঘাস' শব্দের 'ঘ' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. ওষ্ঠ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১১৪.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক? 
  1. ষট + অনন = ষড়ানন
  2. সুপ্‌ + অন্ত = সুবন্ত
  3. দিক + অন্ত = দিগন্ত
  4. নিজ + অন্ত = ণিজন্ত
ব্যাখ্যা
- "সুপ্‌ + অন্ত = সুবন্ত" একটি সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ। 

সন্ধি: 
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। 
যেমন- আশা + অতীত = আশাতীত। 

অন্যদিকে, 
- অন্যান্য শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হলো: 
• দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত, 
• ণিচ্‌ + অন্ত = ণিজন্ত এবং 
• ষট্‌ + আনন = ষড়ানন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১১৫.
চন্দন > চন্নন কী ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্যস্বর লোপ
  3. গ) প্রগত সমীভবন
  4. ঘ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
সমীভবন :
পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির একটির প্রভাবে অপরটি পরিবর্তিত হয়ে সমান রূপ ধারণ করলে, তাকে সমীভবন বা সমীকরণ বলে। কেউ কেউ সমীভবনকে ব্যঞ্জনসংগতিও বলে। কেননা সমীভবনে স্বরসংগতির মতো ব্যঞ্জনসংগতি ঘটে। যেমন- বদ্ + জাত = বজ্জাত, রাঁধ + না = রান্না, কাঁদ + না = কান্না ইত্যাদি । সমীভবন আবার তিন প্রকার যথা:
- প্রগত সমীভবন।
- প্রতিগত সমীভবন।
- পারস্পরিক সমীভবন।

• প্রগত সমীভবন: পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনি সাদৃশ্যরূপ ধারণ করলে তাকে প্রগত সমীভবন বলে। যেমন-
যাঞ্চা > যাচ + না = যাচনা, চন্দন > চন্নন।

• প্রতিগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনি সাদৃশ্যরূপ ধারণ করলে তাকে প্রতিগত সমীভবন বলে। যেমন-
রাধ+না = রান্না, কাঁদ + না = কান্না, বদ + জাত = বজ্জাত, তৎ + জন্য = তজ্জন্য ইত্যাদি।

• পারস্পরিক সমীভবন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ধ্বনি পরস্পরকে প্রভাবিত করে অন্য একটি ধ্বনিতে সাদৃশ্যরূপ প্রাপ্ত হলে তাকে পারস্পরিক সমীভবন বলে। যেমন-
উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস, উৎ + হার > উদ্ধার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,১১৬.
কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়?
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১১৭.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ;
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৮.
অ/আ + অ/আ = আ সূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) উত্তরাধিকার
  2. খ) জনৈক
  3. গ) অতীন্দ্রিয়
  4. ঘ) নাবিক
ব্যাখ্যা
অ/আ + অ/আ = আ, উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার
অ/আ + এ/ঐ = ঐ, জন + এক = জনৈক
ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ , অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়
ঔ + অন্য স্বর = আব স্বর, নৌ + ইক = নাবিক
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
৩,১১৯.
ঘোষ ধ্বনির বৈশিষ্ট্য -
  1. ক) স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়
  2. খ) স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না
  3. গ) বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে
  4. ঘ) বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. অঘোষ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি ।
২. ঘোষ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে বলে ঘোষ ধ্বনি। যেমন—গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি ।

• উচ্চারণের সময় বাতাসের প্রবাহ অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
ক. অল্পপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন-ক, গ, চ, জ ইত্যাদি ।
খ. মহাপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। যেমন-খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১২০.
'শিক্ষা' শব্দের সংযুক্ত বর্ণ দুটি হলো-
  1. ক্ + ণ
  2. হ্ + ম
  3. ক্ + ষ
  4. ঞ্ + জ
ব্যাখ্যা

যুক্তবর্ণ ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ জ্ঞ = জ + ঞ, জ্ঞান, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ ষ্ণ = ষ + ণ, কৃষ্ণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১২১.
'কিঞ্চিৎ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কিন্‌ + চিৎ
  2. কিম্ + ঞ্চিৎ
  3. কিন্‌ + ঞ্চিৎ
  4. কিম্ + চিৎ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১২২.
কোন জাতীয় শব্দে 'ষ' ব্যবহৃত হয়?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. বিদেশি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা
• ণত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন-এর ব্যবহার আছে।
- তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে 'ণ'-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১২৩.
'গোষ্পদ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ক) গোস + পদ
  2. খ) গোশ + পদ
  3. গ) গো + পদ
  4. ঘ) গোস্প + দ
ব্যাখ্যা
• 'গোষ্পদ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ গো + পদ
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
- ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারে যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য।
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ।
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি।
- একাদশ = এক + দশ।
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি।
- গোষ্পদ = গো + পদ।
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি।
- পরস্পর = পর + পর।
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১২৪.
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্ত স্বরাগম
  4. স্বরসংগতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর;
- আজি > আইজ;
- সাধু > সাউধ।
-------------------
আদি স্বরাগম:
শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

অন্ত স্বরাগম:
শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি।

• স্বরসংগতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
- একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসংগতি বলে।

যেমন- 
• দেশি > দিশি, 
• বিলাতি > বিলিতি, 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১২৫.
‘সদুপায়’ কোন নিয়মে গঠিত সন্ধির উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,১২৬.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
  2. প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
  3. কুল + অটা = কুলটা
  4. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি যোগে সন্ধি সাধিত শব্দ ‘দিগন্ত’।
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:

সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র;
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ;
- প্র + এষণ = প্রেষণ;
- কুল + অটা = কুলটা;
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়;
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩,১২৭.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্ধমাত্রার বর্ণগুলোর মধ্যে কয়টি স্বরবর্ণের?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. ছয়টি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ : ১টি (ঋ)। 

অর্ধমাত্রা বর্ণ : 
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ), 
- এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।

আবার,
• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১২৮.
কোন বর্ণে (মাত্রার উপর ভিত্তি করে) ৬টি মাত্রাহীন বর্ণ হয়েছে?
  1. ক) স্বরবর্ণ
  2. খ) ব্যাঞ্জনবর্ণ
  3. গ) অর্ধমাত্রার বর্ণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ পঞ্চাশটি।
• এরমধ্যে পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২টি এবং অর্ধমাত্রার ৮টি।
• অর্থাৎ মোট মাত্রাযুক্ত বর্ণ ৪০টি।
• অপরদিকে, মাত্রাহীন ১০টি।
• মাত্রাহীন ১০ টি বর্ণের মধ্যে ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি এবং স্বরবর্ণ ৪টি।
• মাত্রাযুক্ত স্বরবর্ণ ১১ - ৪ = ৭টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৯.
“চ, ছ, জ, ঝ” কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. মূর্ধা স্পৃষ্ট
  3. দন্ত স্পৃষ্ট
  4. তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্প্রতঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
- উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৩০.
'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. সোমমান্‌
  2. শম্‌মান্‌
  3. সম্‌মান্‌
  4. সমোমান
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ — 'শম্‌মান্‌'।

• 'শম্‌মান্‌' এর অর্থ:
- মর্যাদা; গৌরব।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,১৩১.
দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. নদ
  2. চাঁদ
  3. বল
  4. দই
ব্যাখ্যা

• "দই" শব্দে [ও] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [ই্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [দই] তৈরি হয়েছে।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
• নদ: এখানে শুধু /অ/ স্বরধ্বনি রয়েছে, দ্বিস্বরধ্বনি নয়।
• চাঁদ: এখানে /আ/ (দীর্ঘ স্বর) রয়েছে, কিন্তু দ্বিস্বরধ্বনি নয়।
• বল: এখানে /অ/ স্বরধ্বনি রয়েছে, দ্বিস্বরধ্বনি নয়।

--------------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:

- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত।
-অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ। বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে ঐ এবং ঔ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
উদাহরণ: কৈ, বৌ।

আবর,
• পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
[উই্‌]: দুই, রুই।
[অএ্‌]: নয়, হয়।
[ওউ্‌]: মৌ, বউ।
[ওই্‌]: কৈ, দই।
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৩২.
‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একটি
  2. এলো
  3. দেশ
  4. বেলা
ব্যাখ্যা
• ‘এ’ বর্ণ:
এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- ‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্‌টি], দেশ [দেশ্‌], এলো [এলো]।
- ‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩,১৩৩.
নিচের কোন শব্দটিতে মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ রয়েছে?
  1. কলম
  2. ফুল
  3. বই
  4. ঢোল
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, , ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,১৩৪.
'গবেষণা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গবে+এষণা
  2. গব + এষণা
  3. গো+এষণা
  4. গবা + ইষণা
ব্যাখ্যা
⇒ সূত্র: এ,ও,ও,ঔ-কারের এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়।
যেমন:
- নে + অন = নয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গো+এষণা = গবেষণা,
- নৌ + ইক = নাবিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৩৫.
‘হাস’ শব্দে ‘হ’ কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাস শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:  ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,১৩৬.
ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসচিহ্ন না থাকলে কোন ধ্বনি আছে বলে ধরে নেওয়া হয়?
  1. ক) ই
  2. খ) অ
  3. গ) আ
  4. ঘ) উ
ব্যাখ্যা

স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।

- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি ‘’ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩,১৩৭.
বাংলা বর্ণমালায় মোট ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
  1. ৩৭টি
  2. ৩২টি
  3. ৩৯টি
  4. ৩৮টি
ব্যাখ্যা
বর্ণ প্রকরণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩৮.
'দুরাত্মা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুরহ্‌ + আত্মা
  2. দুর্‌ + আত্মা
  3. দুঃ + আত্মা
  4. দুরা্‌ + আত্মা
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
নিয়ম: ইঃ + অ = ই + র্:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন।
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

নিয়ম: ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার।
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

নিয়ম: উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

নিয়ম: উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা।
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৩৯.
'জন্ম > জম্ম' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না,
- স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
- শরীর > শরীল, 
- লাল > নাল, 
- লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৪০.
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ -
  1. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  2. ঙ্‌ + গ = ঙ্গ
  3. ভ্‌ + র = ভ্র
  4. উ্‌ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - উ্‌ + থ = ত্থ
- এর শুদ্ধরূপ - ত্‌ + থ = ত্থ।

অন্যদিকে,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৩,১৪১.
"বিষমীভবন" - এর উদাহরণ কোনটি?
  1. কাঁদনা > কান্না
  2. শরীর > শরীল
  3. দেশি > দিশি
  4. কবাট > কপাট
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৪২.
'ষত্ব-বিধান' এর নিয়ম অনুসারে কোন বাক্যটি মিথ্যা?
  1. বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না।
  2. ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়।
  3. তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়।
  4. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে কখনো ‘ষ’ যুক্ত হয় না।
ব্যাখ্যা
• 'ষ'ত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

ষ-ত্ব বিধানের নিয়মাবলী:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন: অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
• ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক।
• তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ।
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, কাষ্ঠ।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন: ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষা, মানুষ, দ্বেষ, ভূষণ।
• বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন: জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৪৩.
‘পূর্ণেন্দু’ কোন সন্ধি?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যাঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• ‘পূর্ণেন্দু’ স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• ‘পূর্ণেন্দু’ এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন- 
 অ + ই = এ; পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দু। 
অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 
অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ= পরমেশ।
আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।  

এরূপ- রমেশ. নরেন্দ্র, নরেশ, স্বেচ্ছা, শ্রবণেন্দ্রিয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র ,এস এসসি প্রোগাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩,১৪৪.
'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) সজন্য
  2. খ) শোউজোন্‌নো
  3. গ) শউজন্য
  4. ঘ) সোওজন্য
ব্যাখ্যা
'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'

• শব্দমধ্যস্থিত “অ” (ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত) আদ্য- 'অ'-এর মতোই ই, (f), ঈ (ী), উ ( ू ), ঊ ( ), ঝ (, )-কার এবং ক্ষ, জ্ঞ, J (য)-ফলার আগে থাকলে সে 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়ে থাকে।
যথা-
'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'
কাকলি এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
প্রণতি এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
অবগতি এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩,১৪৫.
কোন ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না?
  1. যুগ্মধ্বনি
  2. মৌলিকধ্বনি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উল্লেখ্য,
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাহিরে বের হওয়ার আগে বাকপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ];

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

৩,১৪৬.
‘তন্বী’ শব্দটির সঠিক সন্ধি কোনটি?
  1. ক) তনু + অবী
  2. খ) তন + ঈ
  3. গ) তনু + অবী
  4. ঘ) তনু + ঈ
ব্যাখ্যা
• উ বা ঊ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তকে উ/ঊ এর জায়গায় ব ফলা হয়।
যেমন:
- তনু + ঈ = তন্বী,
- সু + অল্প = স্বল্প,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,১৪৭.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী 'ও' এর অবস্থান কোনটি?
  1. মধ্য
  2. সম্মুখ
  3. পশ্চাৎ
  4. নিম্ন মধ্য
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী-
সম্মুখ- ই, এ, অ্যা,
মধ্য- আ;
পশ্চাৎ- উ, ও, অ।

• জিভের উচ্চতা অনুযায়ী-
উচ্চ- ই, উ।
উচ্চ-মধ্য- এ, ও।
নিম্ন-মধ্য- অ্যা, অ।
নিম্ন- আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,১৪৮.
বউদিদি > বউদি - ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. বিষমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ধ্বনিচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি
যেমন:
- বড় দাদা > বড়দা,
- ছোটদাদা > ছোটদা
- বউদিদি > বউদি

কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা - ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (পুরাতন)
৩,১৪৯.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপোরান্নো
  2. অপরান্‌হ
  3. অপোরান্‌হো
  4. অপোরানও
ব্যাখ্যা
• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩,১৫০.
"বৃক্ষচ্ছায়া" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বৃক্ষঃ + ছায়া
  2. বৃক্ষ + ছায়া
  3. বৃক্ষ + চ্ছায়া
  4. বৃক্ষঃ + চ্ছায়া
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• স্বরধ্বনির পরে ছ্‌ থাকলে ছ্‌ স্থানে চ্ছ হয়। 
 
যেমন:
→ স্ব + ছন্দ = স্বচ্ছন্দ, 
→ প্র + ছদ = প্রচ্ছদ, 
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া
→ কথা + ছলে = কথাচ্ছলে, 
→ পরীক্ষা + ছলে = পরীক্ষাচ্ছলে, 
→ প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩,১৫১.
মাত্রার উপর ভিত্তি করে 'ঞ' কোন ধরনের বর্ণ?
  1. অর্ধমাত্রার বর্ণ
  2. পূর্ণমাত্রার বর্ণ
  3. মাত্রাহীন বর্ণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• মাত্রাহীন বর্ণ:
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ,)।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ:
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ:
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবংব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্বিবদ্যালয়।
৩,১৫২.
"কুটুম্ব ˃ কুটুম" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. বিষমীভবন
  3. স্বরলোপ
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
আটমেসে > আটাসে,
কুটুম্ব > কুটুম,
জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৫৩.
'দ্যুলোক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দু: + লোক
  2. দুই + লোক
  3. দ্বি + লোক
  4. দিব্ + লোক
ব্যাখ্যা
‘দ্যুলোক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দিব্‌ + লোক
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি।

ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
আশ্চর্য = আ + চর্য
ষোড়শ = ষট্‌ + দশ
পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি
একাদশ = এক + দশ
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি 
গোষ্পদ = গো + পদ 
বনস্পতি = বন্‌ + পতি
পরস্পর = পর্‌ + পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৪.
 'বিপচ্চয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপদ + চয়
  2. বিপৎ + চয়
  3. বিপঃ + চয়
  4. বিপদ + অয়
ব্যাখ্যা

• 'বিপচ্চয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বিপদ + চয়'।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম:
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ, 
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া, 
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়, 
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৫৫.
'শোক' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শুচ্ + অ
  2. √শুচ্ + ঘঞ্‌
  3. √শুচ্ + আঁক
  4. √শু + অক
ব্যাখ্যা
• ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, ‘অ' থাকে]।
যেমন:
- √বস্ + ঘঞ = বাস,
- √ক্রুধ + য = ক্রোধ,
- √যুজ্ + ঘঞ = যোগ, 
- √খুদ্ + ঘঞ = খেদ, 
- √ভিদ্ + ঘঞ = ভেদ। 

বিশেষ নিয়ম:
- √পচ্ +ঘঞ্‌ = পাক,
- √শুচ্+ঘঞ্‌ = শোক। 
- কিন্তু, √নন্দি + অন = নন্দন। এক্ষেত্রে আ যোগে ‘নন্দনা’ হয় না। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯)।
৩,১৫৬.
'রাত' শব্দে ‘র’ কোন ধরনের ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. তালব্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন': 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে: 
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১৫৭.
'বৃষ্টি ' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

উত্তর- ব্যঞ্জনসন্ধি।
- ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে:
- স্-এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ স্থানে ট ও ঠ হয়। 
- যেমন:
- কৃষ + তি = কৃষ্টি।
- ষম্ + থ = ষষ্ঠ।
- ব্ষ + তি = বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১৫৮.
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে কী বলা হয়?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন-
- বসতি বস্তি,
- জানালা > জাল্লা ইত্যাদি।

আদিস্বরলোপ:
যেমন-
- অলাবু> লাবু> লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
- অগুরু > অগ্নু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্যস্বর লোপ:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

অন্যদিকে,
অপিনিহিতি:
- পূর্বে উচ্চারিত হওয়া ‘ ই/ উ ’ আগে উচ্চারিত হওয়া।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন-
- দেশি দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৫৯.
সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ নয় কোনটি?
  1. দেব + ঋষি = দেবর্ষি
  2. নৈ + ইক = নাবিক
  3. সম্ + বাদ = সংবাদ
  4. প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।

উল্লেখ্য, প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য অপশনগুলোর সন্ধি-বিচ্ছেদ সঠিক।

৩,১৬০.
শুদ্ধ বানান-জোড় কোনটি?
  1. কঙ্কন, পিনাক
  2. কোণ, তূন
  3. চিক্কণ, স্থাণু
  4. লবন, মাণিক্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান-জোড়: চিক্কণ, স্থাণু

ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৬১.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. গায়ক
  2. গবাদি
  3. গবেষণা
  4. গোষ্পদ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
আ + পদ = আস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
 যেমন:
গৈ + অক = গায়ক,
গো + আদি = গবাদি,
গো + এষণা = গবেষণা,
পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৬২.
কোন গুচ্ছটি ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. জ, ঝ, গ
  2. ঠ, চ, ল
  3.  দ, ধ, খ
  4. প, ফ, ত
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,১৬৩.
নিচের কোনগুলো তালব্য বর্ণ?
  1. ল, স
  2. থ, ধ
  3. চ, ঝ
  4. প, ভ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- ফ, ভ - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন। 
- ল, স - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
- ত, ধ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,১৬৪.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
  1. ঢ়, জ
  2. চ, ম
  3. ঙ, থ
  4. ছ, শ
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৬৫.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. একাদশ
  2. ষোড়শ
  3. আশ্চর্য
  4. নরাধম
ব্যাখ্যা
নরাধম = নর + অধম, এটি তৎসম স্বরসন্ধি।
- 'একাদশ', ষোড়শ, আশ্চর্য নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। 

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। 

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ, 
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক+ দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৬৬.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রক্ত+ উষ্ঠ
  2. রক্ত + ওষ্ঠ
  3. র + ওষ্ঠ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - রক্ত + ওষ্ঠ। 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬৭.
নিচের কোন শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম সাধিত উপায়ে গঠিত হয়েছে?
  1. গণিকা
  2. শাণ
  3. হরিণ
  4. বণিক
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- 'কৃপণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে হয়েছে।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৬৮.
ঠোঁটের আকৃতি অনুযায়ী 'উ' কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. সংবৃত স্বরধ্বনি
  2. অর্ধবিবৃত স্বরধ্বনি
  3. অর্ধসংবৃত স্বরধ্বনি
  4. বিবৃত স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
ঠোঁটের আকৃতি অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনির বিভাজন:

• বিবৃত স্বরধ্বনি:
এ স্বরধ্বনির উচ্চারণে ঠোঁট সবচেয়ে বেশি খোলা থাকে। বাংলা ভাষায় এ-জাতীয় স্বর মাত্র একটি- আ।

• অর্ধবিবৃত স্বরধ্বনি:
বিবৃত স্বরধ্বনির তুলনায় ঠোঁট কম খোলা রেখে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলোকে এভাবে দেখানো হয়। যেমন- অ্যা, অ।

• অর্ধসংবৃত স্বরধ্বনি:
সংবৃত স্বরধ্বনির তুলনায় ঠোঁট বেশি খোলা কিন্তু অর্ধ-বিবৃত স্বরধ্বনির তুলনায় কম খোলা থেকে অর্ধ-সংবৃত স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। যেমন: এ, ও।

• সংবৃত স্বরধ্বনি:
ঠোঁট সবচেয়ে কম খোলা থেকে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলো এ জাতীয়। যেমন- ই, উ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৬৯.
'তদ্রুপ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তদ + রুপ
  2. ত + দ্রুপ
  3. তদ + রূপ
  4. তৎ + রূপ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৭০.
নিচের কোন শব্দে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. ঘণ্টা
  2. ভীষণ
  3. ব্যাকরণ
  4. কঙ্কণ
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্কণ' শব্দে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ্যাৎ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।
কারণ, অন্যান্য অপশনের শব্দগুলো, (ঘণ্টা; ব্যাকরণ; কঙ্কণ) ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে সাধিত হয়েছে।

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), 

- কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৭১.
'রিক্‌শা > রিশ্‌কা'- এটি ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন –  রিক্‌শা > রিশ্‌কা অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল। 

অন্যদিকে, 
• অসমীকরণ: একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৭২.
'সংরক্ষণ' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সৎ + রক্ষণ
  2. সদ্‌ + রক্ষণ
  3. সট + রক্ষণ
  4. সম্‌ + রক্ষণ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়। 

যেমন:
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৭৩.
'অ + এ = ঐ' নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তথৈবচ
  2. মহৈশ্বর্য
  3. সদৈব
  4. হিতৈষী
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:

• অ + এ = ঐ:
জন + এক = জনৈক;
হিত + এষী = হিতৈষী

• আ + এ =ঐ:
সদা + এব = সদৈব।
তথা + এবচ = তথৈবচ।

• আ + ঐ = ঐ:
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য;
মহা + ঐক্য = মহৈক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭৪.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
  1. আটটি
  2. নয়টি
  3. সাতটি
  4. দশটি
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা- ১০টি।

• মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।

• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩,১৭৫.
'চলচিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. চলৎ + চিত্র
  2. চল + চিত্র
  3. চলচ + চিত্র
  4. চলিচ + চিত্র
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে দেওয়া আছে 'চলচিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ; যা টাইপিং মিসটেক। কিন্তু এটা 'চলচ্চিত্র' হবে।
------------------
• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র ( এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ ), 
- বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক ( এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ ), 
- উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল )। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৭৬.
‘বৃষ্টি’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. বৃষ + টি
  2. বৃ + টি
  3. বৃষ্‌ + তি
  4. বৃশ + টি
ব্যাখ্যা
• 'বৃষ্টি' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি'।  

সূত্র: ষ্‌ এর পরে ত্‌ বা থ্‌ থাকলে ত্‌ ও থ্‌ স্থানে যথাক্রমে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
কৃষ্টি - কৃষ্‌ + তি;
বৃষ+তি= বৃষ্টি;
ষষ্ঠ - ষষ্‌ + থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ। 
৩,১৭৭.
পরের উ-কার আগে উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে কী বলে?
  1. স্বরাগম
  2. অভিশ্রুতি
  3. অপিনিহিতি
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার, উ-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার  উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন
- আজি> আইজ,
- সাধু সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য> সইত্য,
- চারি> চাইর,
- মারি >মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।
৩,১৭৮.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. ধনুষ্টঙ্কার
  2. সংরক্ষণ
  3. দিগন্ত
  4. পরিচ্ছদ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ;
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

-------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• ইঃ + অ = ই + র্‌:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন,
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭৯.
পরাশ্রয়ী বর্ণযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. গল্প 
  2. আকাঙ্ক্ষা 
  3. চাঁদ 
  4. হট্টগোল 
ব্যাখ্যা

• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা- ং, ঃও ঁ।

এই তিনটি বর্ণের বৈশিষ্ট্য:
- এরা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না।
- অন্য ধ্বনির সাথে মিলিত হয়ে উচ্চারিত হয়।
- এদের কোনো কার বা ফলা নেই।

প্রশ্নের অপশনগুলো:
ক) গল্প - কোনো পরাশ্রয়ী বর্ণ নেই। 
খ) আকাঙ্ক্ষা - কোনো পরাশ্রয়ী বর্ণ নেই।
গ) চাঁদ - এতে ঁ (চন্দ্রবিন্দু) রয়েছে। এখানে ( ঁএকটি পরাশ্রয়ী বর্ণ।)
ঘ) হট্টগোল - কোনো পরাশ্রয়ী বর্ণ নেই।

সুতরাং সঠিক উত্তর - গ) চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

৩,১৮০.
'বনৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কি হবে?
  1. বনঃ + ঔষধি
  2. বন + ঔষধি
  3. বনঃ + ওষধি
  4. বন + ওষধি
ব্যাখ্যা
• 'বনৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বন + ওষধি'।  

• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয় ; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি ;
মহা + ওষধি = মহৌষধি ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৮১.
যে রীতিতে 'প্রাণ' শব্দটি 'পরান' হয়েছে তার নাম কী?
  1. স্বরভক্তি
  2. অভিশ্রুতি
  3. অসমীকরণ
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
- অ- রত্ন> রতন, ধর্ম> ধরম, স্বপ্ন> স্বপন, হর্ষ> হরষ ইত্যাদি।
- আ- প্রাণ>পরাণ ইত্যাদি।
- ই- প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ >কিলিপ, ফিল্ম> ফিলিম ইত্যাদি।
- উ- মুক্তা> মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ভূ> ভুরু ইত্যাদি।
- এ- গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ> সেরেফ ইত্যাদি।
- ও- শ্লোক > শোলোক, মুরগ >মুরোগ> মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন বসতি >বস্তি, জানালা> জানলা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি (Umlaut):

- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তীস্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
- এরূপ শুনিয়া> শুনে, বলিয়া> বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

• অসমীকরণ (Dissimilation):

একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন- ধপ + ধপ> ধপাধপ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৮২.
'লাফ > ফাল' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি ধ্বনি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. সমীভবন
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• 'লাফ > ফাল' - ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ।

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ >ফাল ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

সমীভবন :
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি :
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৮৩.
নিচের কোন শব্দে তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) হার
  2. খ) কল
  3. গ) পথ
  4. ঘ) মূঢ়
ব্যাখ্যা
⇒ যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- যেমন- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

⇒ যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে। বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

⇒ যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্র্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- তল, পথ, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৮৪.
‘শ্লোক > শােলােক’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. অভিশ্রুতি
  3. অসমীকরণ
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৮৫.
"বার"— শব্দের 'র' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘর্ষণজাত ধ্বনি
  2. তাড়নজাত ধ্বনি
  3. কম্পনজাত ধ্বনি
  4. পার্শ্বিক ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• "বার" শব্দের ‘র’ হলো → কম্পনজাত ধ্বনি।
-------------------
• কম্পনজাত ধ্বনি:

জিভ কম্পিত হয়ে বা দন্তমূল বারবার আঘাত করে উচ্চারিত হয় বলে এ-জাতীয় ব্যঞ্জনগুলিকে বলে কম্পনজাত। এ শ্রেণির বাংলা ব্যঞ্জন একটি /র/।
যেমন- বার, ধার।
----------------------
অন্যদিকে,
• তাড়নজাত ধ্বনি:
জিভ উলটিয়ে এ ধ্বনি তৈরি হয়। উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের শক্ত তালুতে একটিমাত্র টোকা দেয় বলে এগুলিকে টোকাজাত ধ্বনিও বলে। এ জাতীয় বাংলা প্রতিবেষ্টিত ব্যঞ্জন দুটি: ড় ও ঢ় । যেমন- ধড়ফড়, বাড়, গাঢ়, নিগূঢ়।

• ঘর্ষণজাত ধ্বনি:
এ ধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র খুব কাছাকাছি আসে; কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত হয় না। ফলে বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে বলে এগুলি ঘর্ষণজাত ধ্বনি বলা হয়। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ঘর্ষণজাত ধ্বনি হচ্ছে দন্তমূলীয়/স্/ বস্তু, কাস্তে, তালব্য /শ/ দাশ, রাশ, হ্রাস, কণ্ঠনালীয়: /হ/ হাট, হনহন।

• পার্শ্বিক ধ্বনি:
বাতাস জিভের এক পাশ বা দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে এসব ব্যঞ্জনকে বলে পার্শ্বিক। বাংলায় এ শ্রেণির ধ্বনি একটি: ল। যেমন- তাল, শাল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৮৬.
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কী হবে?
  1. ক) জুগ্নো
  2. খ) জুগ্‌মো
  3. গ) জুজ্ঞো
  4. ঘ) যুম্মো
ব্যাখ্যা
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- জুগ্‌মো। 

কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্‌ এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন-
যুগ্ম এর উচ্চারণ: জুগ্‌মো,
গুল্ম এর উচ্চারণ: গুল্‌মো, 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৮৭.
Phoneme শব্দের অর্থ -
  1. ক) শব্দমূল
  2. খ) নাম প্রকৃতি
  3. গ) রূপ
  4. ঘ) ধ্বনিমূল
ব্যাখ্যা
Phoneme শব্দের অর্থ ধ্বনিমূল।

মানুষের বাক প্রতঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিব্বা, আল-জিব্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে 'ধ্বনি' বলা হয়।

বাক প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে ধ্বনিমূল বা Phoneme বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৮৮.
'নরাধম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নর + ধম
  2. নরা + ধম
  3. নর + অধম
  4. নরা + অধম
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম
এরূপ - হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৮৯.
বিষমীভবন বলতে কী বোঝায়?
  1. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
  2. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  3. স্বরধ্বনির প্রভাবে ব্যঞ্জধ্বনির পরিবর্তন
  4. একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- 
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৯০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ভাষণ
  2. ভূমিষাৎ
  3. আষাঢ়
  4. পৌষ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - ভূমিষাৎ
- এর শুদ্ধ বানান - ভূমিসাৎ।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। 
যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৯১.
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য-
  1. ক) শব্দের অলংকার বৃদ্ধি
  2. খ) সরল লেখ্যরুপ প্রদান
  3. গ) শব্দ গঠন
  4. ঘ) উচ্চারণে সহজপ্রবণতা
ব্যাখ্যা
•সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি।

সন্ধির উদ্দেশ্য:
ক. সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং
খ. ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। 
যেমন- ‘আশা’ ও ‘অতীত’ উচ্চারণে যে প্রয়াস প্রয়োজন, ‘আশাতীত’ তার চেয়ে অল্প আয়াসে উচ্চারিত হয়। তবে যে ক্ষেত্রে আয়াসের লাঘব হয় কিন্তু ধ্বনি-মাধুর্য রক্ষিত হয় না, সে ক্ষেত্রে সন্ধি করার নিয়ম নেই। যেমন- কচু+আদা+আলু =কচ্চাদালু হয় না অথবা কচু+আলু+আদা = কচ্চাল্বাদা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯২.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. ক) আ
  2. খ) ই
  3. গ) ও
  4. ঘ) উ
ব্যাখ্যা
• সম্মুখ স্বরধ্বনি হচ্ছে: [ই]

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি
২. মধ্য স্বরধ্বনি
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি

সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) পতঞ্জলি
  3. গ) মার্তণ্ড
  4. ঘ) অন্যান্য
ব্যাখ্যা
যে সকল ব্যঞ্জনসন্ধি কোনাে নিয়ম না মেনে, বরং নিয়মের ব্যতিক্রম করে সন্ধি হয়, তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
- পতৎ +অঞ্জলি =পতঞ্জলি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
- এছাড়া আরো কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
•  আশ্চর্য, গোষ্পদ, বনস্পতি, বৃহস্পতি, তস্কর, পরস্পর, ষোড়শ, একাদশ, মনীষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে-

• মার্তণ্ড (মার্ত + অণ্ড),
• কুলটা (কুল + অটা),
• গবাক্ষ (গো + অক্ষ),
• প্রৌঢ় (প্র + ঊঢ়),
• অন্যান্য (অন্য + অন্য),
• শুদ্ধোদন (শুদ্ধ + ওদন) ইত্যাদি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৩,১৯৪.
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ কতটি?
  1. ১১টি
  2. ৩৯টি
  3. ৫০টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

• বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,১৯৫.
'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তৃষ্ণা + রিত
  2. তৃষ্ণা + ঋত
  3. তৃষ্ণা + ঋতো
  4. তৃষ্ণা + আর্ত
ব্যাখ্যা
• 'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - তৃষ্ণা + ঋত।

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়। যেমন-
- অ+ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।
- এরূপ- ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৯৬.
"শীতার্ত" শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + তার্ত
  2. শীত + ঋত
  3. শীত + আর্ত
  4. শীত + ঋর্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
• অ + ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
• আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

এরূপ-ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৯৭.
'শ্রমিক' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শ্রোমিক্‌
  2. স্রমিক্‌
  3. স্রোমিক্‌
  4. ষোমিক
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।  স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩,১৯৮.
মুক্তা > মুকুতা, প্রীতি > পিরীতি - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. অপিনিহিতি
  4. মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।
যেমন-
- স্কুল > ইস্কুল
 -স্টেশন > ইস্টিশন

মধ্য স্বরাগম:
সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম। মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
যেমন-
- রত্ন > রতন
- ধর্ম > ধরম
- স্বপ্ন > স্বপন
- প্রীতি > পিরীতি
- মুক্তা > মুকুতা
- গ্রাম > গেরাম

অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন-
- দিশ্ > দিশা
- পোখ্ত > পোক্ত
- সত্য > সত্যি

অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

 [উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ (সংস্করণ)]
৩,১৯৯.
নিচের কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
ব্যাখ্যা


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯]
৩,২০০.
সন্ধির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. সন্ধির ফলে ভাষা সাবলীল ও শ্রুতিমধুর হয়। 
  2. উচ্চারণে সহজতা আসে।
  3. বাক্যগত মাধুর্য সম্পাদন করে।
  4. ধ্বনির মিলন ঘটায়।
ব্যাখ্যা
• সন্ধির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয়- বাক্যগত মাধুর্য সম্পাদন করে। 
- শুদ্ধ তথ্য: ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।

-------------
• সন্ধি:

- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়
- ধ্বনি-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।
- সন্ধির ফলে ভাষা সাবলীল ও শ্রুতিমধুর হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।