ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৬ / ৬৩ · ২,৫০১–২,৬০০ / ৬,৩২৭
বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্ বা ঠ্ থাকলে ষ্; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।
যেমন:
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'ণ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- ঝরণা শব্দে।
- শুদ্ধ বানান- ঝরনা। এটি বাংলা ভাষার শব্দ।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
----------------------
• ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. সাধারণভাবে তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ-এর পর 'ণ' হয়। যেমন: বর্ণ, পূর্ণ, উষ্ণ, ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, রণ, স্মরণ, বর্ণ, বর্ণনা, করণ, ভীষণ, দূষণ, ব্যাকরণ, সাধারণ, মরণ, সরণ ইত্যাদি।
২. প্র, পরি, পরা, নির- এই চার উপসর্গের পরে 'ণ' হয়। যেমন: প্রণয়, পরিণতি, পরহে, নির্ণয় ইত্যাদি।
৩. ট-বর্গের ট, ঠ, ড, ঢ- এই চার বর্ণের সঙ্গে যুক্তবর্ণ হিসেবে 'ণ' হয়। যেমন: কণ্টক, ঘণ্টা, দণ্ড, ভণ্ড, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
৪. উত্তর, পর, পার, চান্দ্র, নার, রাম এই ছয় শব্দের পরে 'আয়ন' যোগ হলে 'গ' হয়।
যেমন: উত্তর + আয়ন = উত্তরায়ণ, পর + আয়ন = পরায়ণ, রাম + আয়ন = রামায়ণ ইত্যাদি।
৫. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: লবণ, পণ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।
অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম - অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে: ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।
ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
যেমন:
ন-ফলা (্ন), ব-ফলা (্ব), ম-ফলা (্ম), য-ফলা (্য), র-ফলা (্র), ল-ফলা (্ল)
রেফ:
- র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।
বর্ণসংক্ষেপ:
- যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়।
- এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।
• কারবর্ণ
স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ: া (আ-কার), ি (ই-কার), ী (ঈ-কার), ু (উ-কার), ূ (ঊ-কার), ৃ (ঋ-কার), ে (এ-কার), ৈ (ঐ-কার), ো (ও-কার), ৌ (ঔ-কার)। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)
জ্ঞ = জ্ + ঞ, যেমন: জ্ঞান, বিজ্ঞান, বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
‘এ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম।
যথা,
সংবৃত ও বিবৃত।
- 'এ' যদি 'এ' এর মতো উচ্চারণ হয় সেটাকে স্বাভাবিক বা সংবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : দেশ, একটি, এলো, দেহ, রেণু, মেঘ ইত্যাদি।
• এ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ইংরেজি ক্যাট ও ব্যাট এর মতো।
যেমন,
তেলাপোকা, একা (এ্যাকা)।
• এ- ধ্বনির এই বিবৃত উচ্চারণ কেবল শব্দের আদিতেই পাওয়া যায়, শব্দের মধ্যে ও অন্তে পাওয়া যায় না।
• 'তেলাপোকা' শব্দে 'তে' অংশে বিবৃত 'এ' উচ্চারিত হয়।
কারণ,বিবৃত 'এ':
- মুখ বেশি খোলা হয়
উদাহরণ: তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), কেন, বেলা, মেলা।
-------------------------
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ- সংবৃত,
- অর্ধ- বিবৃত,
- বিবৃত
উল্লেখ্য,
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷
• বাংলা ভাষায় অক্ষর বা শব্দাংশ হলো এমন ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ যা একবারে উচ্চারিত হয়।
- ‘বিশ্বজোড়া’ শব্দে ১টি বদ্ধাক্ষর (‘বিশ্’) এবং ৩টি মুক্তাক্ষর (‘ওয়’, ‘জো’, ‘ড়া’) রয়েছে।
- মোট অক্ষরসংখ্যা ৪টি। অক্ষর বিশ্লেষণ: বিশ্ + ওয় + জো + ড়া =
--------------
• অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম- syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।
আবার,
সাধারণ অর্থে অক্ষর বলতে বর্ণ বা হরফ (Letter)-কে বোঝালেও প্রকৃত-প্রস্তাবে অক্ষর ও বর্ণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নয়। অক্ষর হচ্ছে বাগ্যন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ। আর বর্ণ বা হরফ হচ্ছে ধ্বনির চক্ষুগ্রাহ্য লিখিতরূপ বা ধ্বনি-নির্দেশক চিহ্ন বা প্রতীক।
ইংরেজিতে আমরা যাকে 'Syllable' বলে অভিহিত করি, তা-ই অক্ষর। উদাহরণস্বরূপ বলা চলে, ইংরেজি 'Incident' শব্দে 'In-ci-dent'-এ তিনটি সিলেবল আছে। এ তিনটি সিলেবল-ই হলো অক্ষর। কিন্তু, আলাদাভাবে 'I-n-c-i-d-e-n-t'-এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ। তদ্রুপ, বাংলা 'বন্ধন' শব্দেও বন্ ধন্-এ দুটো অক্ষর, কিন্তু ব-ন-ধ---এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ মাত্র। অক্ষরকে বিভিন্নভাবে
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা;
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)।
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ ও অক্ষর বিশ্লেষণ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
• ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়- মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• প, ফ, ব, ভ, ম- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ন, র, ল, স- দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• 'ঠ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।
• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি।
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।
এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- জিলাপি > জিলিপি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
অপিনিহিতির উদাহরণ - আজি > আইজ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ নয়- দেশি > দিশি।
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
------------------
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ এর স্থলে চ এবং শ এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমনঃ
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল,
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
- এটি সংস্কৃত স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত হয়েছে।
----------------------
• সংস্কৃত স্বরসন্ধি:
- সংস্কৃত স্বরসন্ধি হলো দুটি স্বরধ্বনির মিলন, যেখানে পূর্বপদের শেষ স্বর এবং পরপদের প্রথম স্বর মিলে একটি নতুন স্বরবর্ণ ধারণ করে।
- সংস্কৃত স্বরসন্ধি গঠনের নিয়ম:
- প্রথম পদের শেষের অ ধ্বনি বা আ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়।
- বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
- যেমন-
• অ + উ = ও
- উদাহরণ- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
• অ + ঊ = ও
- উদাহরণ- নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া।
• আ + উ = ও
উদাহরণ- কথা + উপকথন = কথোপকথন।
• আ + ঊ = ও
উদাহরণ- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারেভ স্মরণ (বিশেষ্য পদ) শব্দের প্রমিত উচ্চারণ - শঁরোন্।
• পূর্ববঙ্গীয় (ঢাকাইয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী ইত্যাদি) উচ্চারণে "স্ম" ধ্বনির শুরুতে "স" প্রায়শই "শ" ধ্বনিতে রূপ নেয়। তাই "স্মরণ" উচ্চারণ হয় "শঁরোন"। সুতরাং পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
খ) ণ-এর উচ্চারণ ন হয়ে যায়: লিখিত রূপে 'ণ' থাকলেও উচ্চারণগত দিক থেকে এ বর্ণটি দন্ত্য 'ন'-এর সঙ্গে অভিন্ন। 'ণ' ও 'ন' এর উচ্চারণগত ভিন্নতা নেই দুইটি পরিপূরক বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্মরণ শব্দে 'ণ' এর উচ্চারণগত কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, তাই এটি সঠিক নয়।
গ) ম-ফলার উচ্চারণ ম হয়ে যায়: ‘স্মরণ’ শব্দে ‘ম’ ফলাযুক্ত নয়; এটি একটি স্বাধীন ব্যঞ্জনবর্ণ। তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।
ঘ) শুরুতে নাসিক্য উচ্চারণ হয় না: ‘স্মরণ’ শব্দে শুরুতে নাসিক্য ধ্বনি (ঁ) থাকে (যেমন: শঁরোন্), এবং পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে এই নাসিক্যতা সাধারণত বজায় থাকে। তাই এটি সঠিক নয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোকে কারবর্ণ বলে।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
- এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
• ১০টি কারবর্ণ হলো:
- আ-কার (া),
- এ-কার ( ে),
- ঈ-কার ( ী),
- ই-কার ( ি ),
- উ-কার ( ু ),
- ঊ-কার ( ূ ),
- ঋ-কার ( ৃ ),
- ও-কার ( ো),
- ঔ-কার ( ৌ ),
- ঐ-কার ( ৈ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
- অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি » পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, > ভুরু ইত্যাদি।
- এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ » সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক » শশালােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
- বসতি > বস্তি,
- জানালা > জান্লা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা ভাষায় 'ও' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ-মধ্য অবস্থানে থাকে।
• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা-
১. উচ্চ স্বরধ্বনি- ই, উ।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি- এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি- অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি- আ।
• আবার, জিভের সম্মুখ পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা-
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'এ এবং ঐ' ধ্বনিরগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান 'কণ্ঠ ও তালু'।
- এবং এই দুইটি বর্ণকে কণ্ঠতালব্য বর্ণ বলা হয়।
অন্যদিকে,
→ "ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - মূর্ধা।
→ "অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - কণ্ঠ বা জিহ্বামূল।
→ ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
উ-ধ্বনি বা ঊ ধ্বনির পরে অন্য স্বরধ্বনি থাকলে উ অথবা ঊ-ধ্বনির জায়গায় ব-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
এই সূত্রের কিছু সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সু + আগত = স্বাগত
- অনু + ইত = অন্বিত
- তনু + ঈ = তন্বী
- অনু + অয় = অন্বয়
- অনু + এষণ = অন্বেষণ
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
• বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
সন্ধির ক্ষেত্রে যেধরনের পরিবর্তন সাধিত হয় তা হল-
- উভয় ধ্বনি মিলে একটি ধ্বনি হয়।
- একটি ধ্বনি বদলে যায়।
- একটি ধ্বনি লোপ পায়।
- উভয় ধ্বনির বদলে নতুন ধ্বনির সৃষ্টি হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যথা- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়।
যথা- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)
- উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।
অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
অভিশ্রুতি - বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
ব্যঞ্জন বিকৃতি - শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা বাংলা > রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
অন্যদিকে,
------------------
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
শব্দের শেষে পাশাপাশি সমউচ্চরণ সম্পন্ন দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বা ধ্বনিচ্যুতি বলে।
যেমন- বড়দিদি > বড়দি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।
• বিষমীভবন:
দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলা হয়।
যেমন: শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর: ঘ) নৌ + ইক
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ, ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ যুক্ত হয়।
উদাহরণসমূহ:
- নে + অন = নয়ন, শে + অন = শয়ন।
- নৈ + অক = নায়ক, গৈ + অক = গায়ক।
- পো + অন = পবন, লো + অন = লবণ।
- গো + আদি = গবাদি, গো + এষণা = গবেষণা, পো + ইত্র = পবিত্র।
- নৌ + ইক = নাবিক।
- ভৌ + উক = ভাবুক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন -
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।