বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা / ২৫ · ৫০১৬০০ / ২,৪৪৭

৫০১.
'ক' দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার অধীনে একজনকে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় ও উক্ত ব্যক্তি সেই ধারানুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়। পরবর্তীতে 'ক' এর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রমাণিত হয়। এক্ষেত্রে 'ক' সর্বোচ্চ শাস্তি কী পেতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারা মতে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা:
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ii)  মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ এক্ষেত্রে 'ক' এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

৫০২.
A 'Property Mark' is mainly used for identifying-
  1. Government property only
  2. Immovable property
  3. Movable property
  4. Both Movable and Immovable property
ব্যাখ্যা

⇒ The Penal Code, 1860, Section-479- Property mark:
A mark used for denoting that moveable property belongs to a particular person is called a property mark.

⇒ দণ্ডবিধির ধারা-৪৭৯: প্রোপার্টি মার্ক:
যে চিহ্নটি অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রোপার্টি মার্ক বলা হয়।

৫০৩.
ক একটি বিনিময় বিলে এই উদ্দেশ্যে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করে যে, এটি একই নামের অন্য কোনো ব্যক্তি ড্র করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। ক এর অপরাধ -
  1. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  2. প্রতারণা
  3. জালিয়াতি
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।
♦কোন ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে। নিজের নামে স্বাক্ষর করলেই জালিয়াতি হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং নিজের নাম স্বাক্ষর জালিয়াতি হতে পারে যদি স্বাক্ষরটা দ্বারা কোন মিথ্যা দলিল। তৈরী করা হয় কোন অধিকার দাবী করতে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করতে বা প্রতারণা করতে ইত্যাদি। যেহেতু A একটি বিনিময় বিলে এই উদ্দেশ্যে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করে যে, এটি একই নামের অন্য কোনো ব্যক্তি ড্র (Draw) করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়, সেহেতু জালিয়াতি করেছে বলে গণ্য হবে। [দণ্ডবিধি, ধারা ৪৬৪ এর ব্যাখ্যা ১ এর মাঝে তা উল্লেখ আছে।]
৫০৪.
সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা সংঘটিত হলে এর সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ১০ বছর কারাদণ্ড
  2. ১২ বছর কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. ১৪ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
- ধারা-৩৯২ অনুযায়ী দস্যুতার শাস্তি হলো  অনধিক ১০ বছর 'সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড ।
- তবে দস্যুতার অপরাধ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় সংঘটিত হলে দস্যুতার শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্ত 'সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
৫০৫.
'ক' একজন সাধারণ নাগরিক, কিন্তু সে নিজেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। এই ক্ষেত্রে, 'ক' কোন ধারার অপরাধ করেছে?
  1. ১৬০ ধারা
  2. ১৬৩ ধারা
  3. ১৭০ ধারা
  4. ১৭৪ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারার বিধান- সরকারী কর্মচারী বলে ছদ্মবেশ ধারণ:
কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 170- Personating a public servant:
Whoever pretends to hold any particular office as a public servant, knowing that he does not hold such office or falsely personates any other person holding such office, and in such assumed character does or attempts to do any act under colour of such office, shall be punished with imprisonment of either description, for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৫০৬.
'ক', 'চ'-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে 'ক' খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। এক্ষেত্রে 'ক' দণ্ডবিধির কত ধারা বলে দণ্ডিত হবে?
  1. ৩০৪ ধারা
  2. ৩০৫ ধারা
  3. ৩০৬ ধারা
  4. ৩০৭ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩০৭ ধারা:
“কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উল্লেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।''

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ :
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

উদাহরণসমূহ :
'ক', 'চ'-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে ক খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। 'ক' এই ধারা বলে দণ্ডিত হবে।

⇒ 'ক' একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উহাকে মরুভূমিতে রেখে আসে। ইহার ফলে শিশুটির মৃত্যু না হলেও ‘ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

⇒ 'ক', 'চ' কে খুন করার উদ্দেশ্যে একটি বন্দুক ক্রয় করে উহা গুলি ভর্তি করে। এতদূর পর্যন্ত 'ক' অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। 'ক', 'চ'-এর প্রতি গুলি বর্ষণ করে। এইক্ষেত্রে সে এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে, এবং এই গুলি বর্ষণের দরুণ যদি সে 'চ'-কে আহত করে থাকে, তবে সে এই ধারার প্রথম অনুচ্ছেদের শেষাংশে নিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ 'ক', 'চ'-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে; বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রব্যটি 'ক'-এর নিকটই রয়েছে। এতদূর পর্যন্ত 'ক' এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। 'ক' বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি 'চ' এর খাবার টেবিলে রাখে অথবা উহা 'চ'-এর খাবার টেবিলে রাখার জন্য 'চ'-এর চাকরকে প্রদান করে । 'ক' এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
৫০৭.
A, B এর ক্ষতি করার জন্য B এর মালের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে মাল পুড়িয়ে দিল। A দণ্ডবিধির অধীন কোন অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে?
  1. আক্রমণ
  2. অনিষ্টসাধন
  3. দস্যুতা
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
অনিষ্টসাধন [Mischief]:
অনিষ্টসাধন বা ক্ষতিসাধন সম্পত্তি সম্পর্কিত একটি অপরাধ। সাধারণ অর্থে অনিষ্ট সাধন বা ক্ষতিসাধন অর্থ হলো অবৈধ ক্ষতি করার জন্য কোন ব্যক্তির সম্পত্তি বিনষ্ট করা। কোন ব্যক্তি অনিষ্ট সাধন করেছে বলে গণ্য হবে যদি সে অন্য কোন ব্যক্তির বা জনসাধারণের অবৈধ ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতি হতে পারে জেনে নিম্নলিখিত কোন কাজ করে-
১. কোন সম্পত্তি নষ্ট করে,
২. কোন সম্পত্তি এমনভাবে পরিবর্তন করে যে উক্ত সম্পত্তির উপযোগিতা নষ্ট হয় বা তার মূল্য হ্রাস পায়, বা
৩. উক্ত সম্পত্তি ক্ষতিকারকভাবে আক্রান্ত হয়।

উদাহরণ: A, B এর ক্ষতি করার জন্য B এর মালের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে মাল পুড়িয়ে দিল। A অনিষ্টসাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

অনিষ্ঠসাধনের শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারা অনুযায়ী- অনিষ্টের শাস্তি যে কোন বর্ণনার কারাবাস যা ৩ মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডসহ বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৪২৭ ধারা অনুযায়ী- ৫০ টাকা বা ততোধিক টাকার ক্ষতি করে অনিষ্ঠ সাধনের শাস্তি যেকোনো বর্ণনার কারাবাস যা ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডসহ বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৫০৮.
What will be the maximum punishment for a person who gives false evidence with the intent of getting an accused sentenced to death, even if the accused is later acquitted?
  1. Only a fine
  2. Rigorous imprisonment for up to 7 years
  3. Rigorous imprisonment for up to 10 years
  4. Life imprisonment
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির  ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-----------------------------------
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।
____________________________
The Penal Code, 1860- Section-194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:
-Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; 
-and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
৫০৯.
দণ্ডবিধির কত ধারায় পণ্য প্রতীক (Trade mark) এর সংজ্ঞা আছে?
  1. ১৪৫
  2. ৩৮৯
  3. ৪৭৮
  4. ৪৭৯
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৪৭৮ ধারার বিধান: পণ্য-প্রতীক (Trade mark): কোন পণ্যদ্রব্য, কোন বিশেষ ব্যক্তির প্রস্তুত পণ্যদ্রব্য বা ব্যবসায়ের পণ্য বলে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত চিহ্ন বা মার্কাকে পণ্য-প্রতীক বলে।
- অর্থাৎ কোন পণ্যদ্রব্যের মালিকানা নির্দেশক চিহ্ন বা মার্কাকে পণ্য- প্রতীক বা Trade mark বলে।
------------------------ 
⇒ The Penal Code, 1860, Section-478. Trade mark: A mark used for denoting that goods are the manufacture or merchandise of a particular person is called a trade mark, and for the purposes of this Code the expression "trade mark" includes any trade mark which is registered in the register of trade marks kept under the Patents, Designs and Trade Marks Act, 1883, and any trade mark which, either with or without registration, is protected by law in any British possession or Foreign State to which the provisions of the one hundred and third section of the Patents, Designs and Trade Marks Act, 1883, are, under Order-in-Council, for the time being applicable.

⇒ The Penal Code, 1860, Section-479: Property mark:- A mark used for denoting that moveable property belongs to a particular person is called a property mark.
৫১০.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ কোন ধরনের আইনের উপর প্রভাব ফেলে না?
  1. বিশেষ আইন
  2. স্থানীয় আইন
  3. সামরিক বিদ্রোহ ও পরিত্যাগ সংক্রান্ত আইন
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫ স্পষ্টভাবে বলছে,  এ আইন দ্বারা সামরিক বিদ্রোহ ও পরিত্যাগ (mutiny & desertion) সংক্রান্ত আইন, এবং যে কোনো বিশেষ আইন বা স্থানীয় আইন, কোনোভাবেই বাতিল, পরিবর্তিত বা স্থগিত হবে না।
- অর্থাৎ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫ অনুসারে, এই আইন কোনো বিশেষ আইন, স্থানীয় আইন বা সামরিক বিদ্রোহ ও পরিত্যাগ সংক্রান্ত আইনের বিধানকে বাতিল, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য রাখে না। তাই সঠিক উত্তর হলো "উল্লিখিত সবগুলো"।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 5. Certain laws not to be affected by this Act:
- Nothing in this Act is intended to repeal, vary, suspend, or affect any of the provisions of any Act for punishing mutiny and desertion of officers, soldiers, sailors or airmen in the service of the Republic, or of any special or local law.

৫১১.
শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করলে কী শাস্তি হতে পারে?
  1. এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ১৫৩খ: শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করা:
যে কেউ, কথা দিয়ে, তা লিখিত বা মৌখিক হোক, বা চিহ্ন দিয়ে, দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে, বা অন্য কোনোভাবে, কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের কোনো শ্রেণি, বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত বা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগ্রহী কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমন কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে প্ররোচিত করে বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করে যা জনশৃঙ্খলা ব্যাহত বা ধ্বংস করে, বা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
৫১২.
দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধটি "ডাকাতি" হিসেবে গণ্য হয়?
  1. তিনজন ব্যক্তি মিলে চুরি করে
  2. একজন ব্যক্তি একা দস্যুতা সংঘটন করে
  3. পাঁচজন ব্যক্তি মিলে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে
  4. দুইজন ব্যক্তি মিলে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী, "ডাকাতি (Dacoity)" তখনই বলা হয়, যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একসাথে দস্যুতা (robbery) সংঘটন করে, অথবা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা দস্যুতা সংঘটনের প্রচেষ্টায় সহায়তা করে। এখানে মূল শর্ত হচ্ছে “পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি” এবং “দস্যুতা বা তার প্রচেষ্টা”।
- তাই গ) পাঁচজন ব্যক্তি মিলে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করলে সেটি "ডাকাতি" হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান ডাকাতি:- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section: 391: Dacoity: When five or more persons conjointly commit or attempt to commit a robbery, or where the whole number of persons conjointly committing or attempting to commit a robbery, and persons present and aiding such commission or attempt, amount to five or more, every person so committing, attempting or aiding, is said to commit "dacoity".
৫১৩.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী জালিয়াতির শাস্তি কী?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।

- কোন ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে। নিজের নামে স্বাক্ষর করলেই জালিয়াতি হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং নিজের নাম স্বাক্ষর জালিয়াতি হতে পারে যদি স্বাক্ষরটা দ্বারা কোন মিথ্যা দলিল তৈরী করা হয়, কোন অধিকার দাবী করতে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করতে বা প্রতারণা করতে ইত্যাদি।

-পেনাল কোড-এর  ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির শাস্তি বর্ণিত আছে যা সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৫১৪.
একজন সরকারি কর্মকর্তা বৈধভাবে আদেশ জারি করেন যে, একটি ধর্মীয় মিছিল নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে যাবে না।ব্যক্তি ‘A’ জেনেশুনে এই আদেশ অমান্য করে এবং তার কারণে দাঙ্গার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। ‘A’ দণ্ডবিধির কত ধারা অনুযায়ী অপরাধী?
  1. ধারা ১৮১
  2. ধারা ১৮৫
  3. ধারা ১৮৭
  4. ধারা ১৮৮
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ধারা ১৮৮: "সরকারি কর্মকর্তার বৈধভাবে জারি করা আদেশ অমান্য করা"
যে কোনো ব্যক্তি যদি জানে যে, একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি বৈধভাবে এমন আদেশ জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন, তাকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বা কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশ পালন করতে বলেছে, এবং সে সেই নির্দেশ অমান্য করে, যদি এই অমান্য অবাঞ্ছিত বাঁধা, বিরক্তি, ক্ষতি বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, সাধারণ কারাদণ্ড হতে পারে ১ মাস পর্যন্ত, বা জরিমানা ২০০ টাকা পর্যন্ত, বা উভয়ই।
যদি এই অমান্য মানব জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপদ সৃষ্টি করে, বা দাঙ্গা বা হাঙ্গামার ঝুঁকি সৃষ্টি করে, কারাদণ্ড হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত, বা জরিমানা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত, বা উভয়ই।

ব্যাখ্যা:
অপরাধীর উদ্দেশ্য ক্ষতি করা নয়, বা সে ক্ষতি ঘটাবে এমন আশা রাখলেও হবে না। কেবল যথেষ্ট যে, সে আদেশটি জানে এবং তা অমান্য করে, এবং তার অমান্য ক্ষতি ঘটায় বা ঘটার সম্ভাবনা আছে।

উদাহরণ (Illustration):
একজন সরকারি কর্মকর্তা বৈধভাবে আদেশ জারি করেন যে, একটি ধর্মীয় মিছিল নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে যাবে না। ব্যক্তি ‘A’ জানবুঝে এই আদেশ অমান্য করে, এবং তার কারণে দাঙ্গার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তখন ‘A’ এই ধারা অনুযায়ী অপরাধী।

৫১৫.
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে কয়টি উপায়ের কথা বলা আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে। 
------------------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described: 
Firstly. By his own bodily power. 
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person. 
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
৫১৬.
‘ক’, ‘খ’ কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানে প্ররোচিত করে। ‘খ’ উক্ত প্ররোচনার ফলে উক্ত অপরাধ সংঘটন করলে ক কোন অপরাধের শাস্তিতে দণ্ডিত হবে?
  1. মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের দণ্ডে
  2. মিথ্যা সাক্ষ্যদানের সমান দণ্ডে
  3. মিথ্যা সাক্ষ্যদানের অর্ধেক দণ্ডে
  4. মিথ্যা সাক্ষ্যদানের এক চতুর্থাংশ দণ্ডে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুসারে,
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) দেয় এবং সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয়, তবে প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধারাটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা বা স্পষ্ট শাস্তির বিধান নেই।

উদাহরণ:
যদি A, B কে কোনো অপরাধ করতে প্ররোচনা দেয় এবং B সেই অপরাধটি করে, তবে A কেও B এর মতো একই শাস্তি দেওয়া হবে, যদি দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান না থাকে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো- খ)  মিথ্যা সাক্ষ্যদানের সমান দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৫১৭.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. সর্বদা সশ্রম হবে
  2. সর্বদা বিনাশ্রম হবে
  3. সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারে
  4. দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইচ্ছা অনুযায়ী বেছে নিতে পারে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty);
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life);
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple);
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property);
(v) অর্থদণ্ড (fine).

ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
৫১৮.
অবৈধ সমাবেশে নিযুক্ত ব্যক্তিকে আশ্রয়দানের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ মাস কারাদণ্ড
  2. ২ মাস কারাদণ্ড
  3. ৩ মাস কারাদণ্ড
  4. ৬ মাস কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ – ধারা ১৫৭: অবৈধ সমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আশ্রয়দান:
যে কোনো ব্যক্তি যদি তার দখলে থাকা বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো বাড়ি বা স্থানে এমন কোনো ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়, গ্রহণ করে বা একত্রিত করে—এবং সে জানে যে, ঐ ব্যক্তিরা অবৈধ সমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত, নিযুক্ত বা নিয়োজিত হতে যাচ্ছে—তাহলে উক্ত ব্যক্তি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।

এই অপরাধের জন্য তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
৫১৯.
শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যার সহায়তা করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. দশ বছর কারাদণ্ড
  4. সাত বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒Penal code- Section 305. Abetment of suicide of child or insane person:
- If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.
৫২০.
Whoever, having a husband or wife living, marries in any case in which such marriage is void shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to _________ years.
  1. six
  2. ten
  3. seven
  4. five
ব্যাখ্যা
• Section 494- Marrying again during life-time of husband or wife:
Whoever, having a husband or wife living, marries in any case in which such marriage is void by reason of its taking place during the life of such husband or wife, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

Exception:
This section does not extend to any person whose marriage with such husband or wife has been declared void by a Court of competent jurisdiction, nor to any person who contracts a marriage during the life of a former husband or wife, if such husband or wife, at the time of the subsequent marriage, shall have been continually absent from such person for the space of seven years, and shall not have been heard of by such person as being alive within that time provided the person contracting such subsequent marriage shall, before such marriage takes place, inform the person with whom such marriage is contracted of the real state of facts so far as the same are within his or her knowledge.

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা- স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা:
কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম:
অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিংবা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বৎসর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বৎসর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
৫২১.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে, মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়?
  1. ধারা ২৯৮
  2. ধারা ২৯৯
  3. ধারা ৩০০
  4. ধারা ৩০১
ব্যাখ্যা

⇒  দণ্ডবিধির ধারা ২৯৯ অনুসারে, মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যু নরহত্যা হিসেবে গণ্য হয় না। তবে, যদি শিশুর কোনো অংশ পৃথিবীতে বের হয়ে আসে এবং পরবর্তীতে মারা যায়, তা নরহত্যা হিসেবে শাস্তিযোগ্য হবে। 

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা:- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগছে, তার দৈহিক, জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভূমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 299: Culpable homicide:
- Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide.

Explanation-1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death.
Explanation-2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
Explanation-3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.

৫২২.
কত বয়সের নিচে কোনো ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা করলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩০৫ প্রযোজ্য হবে?
  1. ১৪ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. বয়স নির্ধারিত নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান- শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:
যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন  ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

The Penal Code, 1860: Section 305: Abetment of suicide of child or insane person:
If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.

৫২৩.
বেআইনি সমাবেশের জন্য ন্যূনতম কত জনের উপস্থিতি প্রয়োজন?
  1. ৬ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।
 
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-
১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।
৫২৪.
সিমু জানতো যে, তার চাচা একটি গাড়ি চুরি করে এনেছে। তবুও সে চুরিকৃত গাড়িটি নিজের বাসায় লুকিয়ে রাখলো। এক্ষেত্রে সিমু দণ্ডবিধির কত ধারা অধীনে শাস্তি পেতে পারে?
  1. ৪১২ ধারা
  2. ৪১৩ ধারা
  3. ৪১৪ ধারা
  4. ৪১৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪১৪ ধারা- চোরাইমাল গোপন করিবার ব্যাপারে সহায়তাকরণ:
কোনো ব্যক্তি যদি সে যে সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে সে সম্পত্তি লুকিয়ে রাখতে বা বিলিব্যবস্থা করতে বা নিয়ে সরে পড়তে স্বেচ্ছায় সহায়তা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 414: Assisting in concealment of stolen property:
Whoever voluntarily assists in concealing or disposing of or making away with property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৫২৫.
খুন নহে এমন অপরাধমূলক নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা
  2. ১৮ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা
ব্যাখ্যা
• ৩০৪ ধারায় অপরাধমূলক নরহত্যার ২ ধরনের শাস্তির কথা বলা আছে।
(i) মৃত্যুর অভিপ্রায় ব্যতীত নিন্দনীয় নরহত্যা হলে শাস্তি অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
(ii) মৃত্যুর অভিপ্রায় নিয়ে নিন্দনীয় নরহত্যা হলে শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
৫২৬.
ধারা ৩৩৬ অনুযায়ী, কোন শর্তে অন্যদের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্নকারী কাজের জন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে?
  1. যদি কাজটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হয়
  2. যদি কাজটি বেপরোয়াভাবে করা হয়
  3. যদি কাজটি অবহেলামূলকভাবে করা হয়
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৩৬ ধারা - অন্যদের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্নকারী কার্য:
যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যা অতিরিক্ত বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে করা হয় এবং এতে মানবজীবন বা অন্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তাকে তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দুইশত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 336- Act endangering life or personal safety to others:
Whoever does any act so rashly or negligently as to endanger human life or the personal safety of others, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine which may extend to two hundred and fifty taka, or with both.
৫২৭.
ইতালি বসবাসকারী ‘A’ একজন বাংলাদেশি নাগরিক সে ভারতের এক নাগরিককে ইতালিতে হত্যা করে। দণ্ডবিধির বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন আদালত ‘A’ এর বিচার করতে পারে, যদি তাকে পাওয়া যায়-
  1. ইতালি
  2. ভারত
  3. যেকোনো দেশে
  4. বাংলাদেশে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
⇒ দণ্ডবিধি অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক দেশে-বিদেশে যেখানেই দণ্ডবিধির অপরাধ করুক তাঁকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে বিচার করা যাবে। বিদেশি নাগরিক যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে কোনো অপরাধ করলে এবং তা দণ্ডবিধিতে দণ্ডনীয় হলে তার বিচার বাংলাদেশে করা যাবে। কিন্তু বিদেশি কোনো নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে সেটি বাংলাদেশে বিচার্য হবে না।
অর্থাৎ বাংলাদেশের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন আদালত দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘ক’ এর বিচার করতে পারে, যদি তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

-যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i) বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-2: Punishment of offences committed within Bangladesh:
-Every person shall be liable to punishment under this Code and not otherwise for every act or omission contrary to the provisions thereof, of which he shall be guilty within Bangladesh.

⇒ The Penal Code, 1860, Section- 3: Punishment of offences committed beyond, but which by law may be tried within Bangladesh:
- Any person liable, by any Bangladesh Law, to be tried for an offence committed beyond Bangladesh shall be dealt with according to the provisions of this Code for any act committed beyond Bangladesh in the same manner as if such act had been committed within Bangladesh.

⇒ The Penal Code, 1860, Section-4: Extension of Code to extra-territorial offences:
-The provisions of this Code apply also to any offence committed by- 
(1) any citizen of Bangladesh in any place without and beyond Bangladesh; 
(4) any person on any ship or aircraft registered in Bangladesh wherever it may be. 
Explanation.-In this section the word "offence" includes every act committed outside Bangladesh which, if committed in Bangladesh, would be punishable under this Code. 
 
Illustrations:
(a) A, a Bangladesh subject, commits a murder in Uganda. He can be tried and convicted of murder in any place in Bangladesh in which he may be found. 
৫২৮.
দণ্ডবিধির ২১৫ ধারা অনুসারে, যদি কেউ চোরাই সম্পত্তি উদ্ধারের নামে পারিতোষিক গ্রহণ করে তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ চোরাই সম্পত্তি উদ্ধারের নামে পারিতোষিক গ্রহণ করে এবং অপরাধীকে গ্রেফতার ও দণ্ডিত করানোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে তাকে ২ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২১৫ ধারার বিধান: চোরাই সম্পত্তি ইত্যাদি উদ্ধারে সহায়তা করার জন্য উপহার গ্রহণ করা:
-কোন ব্যক্তি এই বিধি বলে দণ্ডনীয় কোন অপরাধহেতু যে সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে তাকে সে সম্পত্তি উদ্ধারে সহায়তার ভান করে বা সহায়তা করার জন্য যদি কেউ কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে কিংবা গ্রহণ করতে স্বীকৃত বা সম্মত হয়, তবে সে যদি না অপরাধীকে গ্রেফতার ও অপরাধের জন্য দণ্ডিত করানোর জন্য তার সাধ্যায়ও সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-----------------------------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 215. Taking gift to help to recover stolen property, etc:
- Whoever takes or agrees or consents to take any gratification under pretence or on account of helping any person to recover any moveable property of which he shall have been deprived by any offence punishable under this Code, shall, unless he uses all means in his power to cause the offender to be apprehended and convicted of the offence, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৫২৯.
'বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়' অপরাধের মূল উপাদান কী?
  1. চুরি করা
  2. ভয় দেখানো
  3. মিথ্যা বলা
  4. সম্পত্তি নষ্ট করা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

Section 383 - Extortion: 
Whoever intentionally puts any person in fear of any injury to that person, or to any other, and thereby dishonestly induces the person so put in fear to give donation or subscription of any kind or to deliver to any person any property or valuable security or anything signed or sealed which may be converted into a valuable security, commits "extortion". 
৫৩০.
নিচের কোন শর্ত পূরণ হলে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ
  2. জীবিত ব্যক্তির সম্পত্তি আত্মসাৎ
  3. মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৪ – মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ:
যে ব্যক্তি অসাধুভাবে (dishonestly) মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার দখলে থাকা সম্পত্তি নিজের ব্যবহারের জন্য নেয় বা পরিণত করে,
যা তখন কোনো আইনসিদ্ধ অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির দখলে যায়নি, তাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি:
- কারাদণ্ড (Imprisonment) – সর্বোচ্চ ৩ বছর, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

বিশেষ নিয়ম:
যদি অপরাধী ওই মৃত ব্যক্তির ক্লার্ক বা চাকর হিসেবে কাজ করত, তবে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

৫৩১.
A mark used for denoting that moveable property belongs to a particular person is called a _________.
  1. Trade mark
  2. Property mark
  3. Service Mark
  4. Certification Mark
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860: Section 479. Property mark:- A mark used for denoting that moveable property belongs to a particular person is called a property mark.

⇒ দণ্ডবিধির ৪৭৯ ধারার বিধান সম্পত্তি চিহ্ন:- কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীন বলে বুঝাবার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বলে।
৫৩২.
‘D’ পাবলিক রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালায়, যার ফলে ‘Y’-এর পা ভেঙে যায় এবং সে ২০ দিনের বেশি সময় কাজে অক্ষম থাকে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কোন ধারা অনুসারে ‘D’ অপরাধী হবে?
  1. ধারা ৩৩৬
  2. ধারা ৩৩৭
  3. ধারা ৩৩৫
  4. ধারা ৩৩৮ক
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৩৮ক অনুসারে, পাবলিক রাস্তায় দ্রুতগতি বা অবহেলায় গাড়ি চালিয়ে বা চড়ে গুরুতর আঘাত (যেমন পায়ের অস্থিভঙ্গ) করলে শাস্তি ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৮ক ধারা: জনপথে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে গুরুতর আঘাত প্রদান করা:
যে ব্যক্তি বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গণপথে গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে কোন ব্যক্তিকে এমন গুরুতর আঘাত করে যাতে মনুষ্যজীবন ও অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 338A- Causing grievous hurt by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes grievous hurt to any person by driving any vehicle, or riding on any public way so rashly or negligently as to endanger human life, or the personal safety of others, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৫৩৩.
A, B-এর পকেটে এই উদ্দেশ্যে কিছু অলংকার রাখে যে, উক্ত অলংকার উক্ত পকেটে পাওয়া যেতে পারে, এবং এই ঘটনার জন্য B চুরির অপরাধে দণ্ডিত হতে পারে। A দণ্ড বিধির কোন ধারায় অপরাধ করেছে?
  1. ১৯১ধারার অধীন
  2. ১৯২ধারার অধীন
  3. ১৯৩ধারার অধীন
  4. ১৯৪ধারার অধীন
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার সংজ্ঞা অনুযায়ী A এই ক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন বা তৈরি করার অপরাধ করেছে। মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা ১৯৩ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। তাই A ১৯৩ ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে বলে গণ্য।
৫৩৪.
'ক' ইচ্ছাকৃতভাবে 'খ' কে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনায় 'ক' এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
এই ঘটনাটি ধারা ৩২৪ (স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান, বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা) এর অধীনে পড়ে।
এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ গুলি চালানোর, ছুরি মারার, আগুন, বিষ বা অনুরূপ বিপজ্জনক উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে: ৩ বছরের জেল, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড।

The Penal Code, 1860 এর ধারা ৩২৪ – বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায় দ্বারা স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:
যে কেউ, ধারা ৩৩৪-এ উল্লিখিত ক্ষেত্রে ব্যতীত, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে- কোনো গুলি চালানোর, ছুরিকাঘাত করার বা কাটার উপযোগী যন্ত্র ব্যবহার করে, অথবা এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে যা আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি করে, অথবা আগুন বা উত্তপ্ত বস্তু, বিষ বা দাহ্য পদার্থ, বিস্ফোরক দ্রব্য, এমন কোনো পদার্থ যা শ্বাস নেওয়া, গেলা বা রক্তে প্রবেশ করানো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, বা কোনো প্রাণী ব্যবহার করে, তবে তাকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
৫৩৫.
‘A’ যদি ‘B’-কে ‘Z’-কে খুন করতে প্ররোচনা দেয়, কিন্তু ‘B’ খুন না করে, তবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘A’-এর সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1.  ১৪ বছর কারাদণ্ড
  2.  ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী, যদি কেউ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করার জন্য উস্কানি দেয়, কিন্তু সেই অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে উস্কানিদাতা সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘A’ যদি ‘B’-কে ‘Z’-কে খুন করতে প্ররোচনা দেয় কিন্তু ‘B’ খুন না করে, তবে অপরাধ সংঘটিত হয়নি। তাই এই ক্ষেত্রে ‘A’-এর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
 সঠিক উত্তর হলো: গ) ৭ বছর কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেওয়া - যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়; যদি ক্ষতি সৃষ্টিকারী কার্য সম্পাদিত হয়:
যে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করার জন্য উস্কানি দেয়, কিন্তু উস্কানির ফলে ওই অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং এই দণ্ডবিধিতে উস্কানির শাস্তির জন্য কোনো বিশেষ বিধান না থাকে, তাকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে;
এবং যদি কোনো এমন কার্য, যার জন্য উস্কানিদাতা দণ্ডনীয়, এবং যার কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংঘটিত হয়, তাহলে উস্কানিদাতা ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 115.  Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life- if offence be not committed; if act causing harm be done in consequence:
Whoever abets the commission of an offence punishable with death or 31[imprisonment] for life, shall, if that offence be not committed in consequence of the abetment, and no express provision is made by this Code for the punishment of such abetment, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
-and if any act for which the abettor is liable in consequence of the abetment, and which causes hurt to any person, is done, the abettor shall be liable to imprisonment of either description for a term which may extend to fourteen years, and shall also be liable to fine. 

Illustration
A instigates B to murder Z. The offence is not committed. If B had murdered Z, he would have been subject to the punishment of death or 32[imprisonment] for life. Therefore A is liable to imprisonment for a term which may extend to seven years and also to a fine; and, if any hurt be done to Z in consequence of the abetment, he will be liable to imprisonment for a term which may extend to fourteen years, and to fine.

৫৩৬.
অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ শুধুমাত্র বিনাশ্রম হতে পারে, যেক্ষেত্রে অপরাধটি-
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়
  2. অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়
  3. অনধিক ৫০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়
  4. অর্থদণ্ড এবং কারাদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হয়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৬৭ ধারায় বলা হয়েছে,

যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুমাত্র অর্থদণ্ড এবং উক্ত অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে আসামীকে যে কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বিনাশ্রম হবে এবং নিম্নলিখিত হারে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে:

এক্ষেত্রে,
⇒ অর্থদণ্ড ৫০ টাকার অধিক না হলে, ২ মাসের কারাদণ্ড;
⇒ অর্থদণ্ড ১০০ টাকার অধিক না হলে, ৪ মাসের কারাদণ্ড;
⇒ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বা অর্থদণ্ডের পরিমাণ ১০০ টাকার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

সুতরাং যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুমাত্র অর্থদণ্ড এবং উক্ত অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারে।
৫৩৭.
দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রমকে কী বলা হয়েছে?
  1. সাধারণ অনুসন্ধান
  2. প্রশাসনিক কার্যক্রম
  3. অসাংবিধানিক বিচার
  4. বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার ব্যাখ্যা-১-এ বলা হয়েছে যে, সামরিক আদালতে (Court-martial) বিচার কার্যক্রম একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে।
- ব্যাখ্যা-১: "সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।"
- অর্থাৎ, সামরিক আদালতের বিচার কার্যক্রমও একইভাবে বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সেখানে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য একই শাস্তির বিধান প্রযোজ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং
-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
-ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-193. Punishment for false evidence: Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
Explanation 1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding.
Explanation 2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Explanation 3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
৫৩৮.
The Penal Code,1860 এর ৪২৫ ধারার বিধান কী?
  1. Mischief
  2. Cheating
  3. Cheating by personation
  4. Criminal trespass
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
--------------------------
⇒ Section 425: Mischief:
-Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation 1.-It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation 2.-Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.
৫৩৯.
দণ্ডবিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত ১৮৩৭ সালের প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সদস্য ছিলেন না কে?
  1. J.M. Macleod,
  2. G.W. Anderson,
  3. J.F. Stephen
  4. F. Millet
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮০৭ সাল হতে দণ্ডবিধি বলবৎ (১৮৬১) হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ এ তিনটি প্রেসিডেন্সী শহরে ইংল্যান্ডের দণ্ডবিধি অনুসৃত হতো। অবশিষ্ট মফস্বল এলাকায় ইসলামী ফৌজদারী আইন মোতাবেক নিজামত/সার্কিট জজ/ম্যাজিষ্ট্রেট বিচার ও দণ্ডবিধান করতেন।

⇒ ১৮৩৩ সালে ভারতের শাসনভার ইংরেজ কোম্পানী হাত হতে ব্রিটিশ রাজ গ্রহণ করার পর ভারতবর্ষের জন্য একটি আইন কমিশন গঠন করেন। যা নিম্নরুপ :-

i) সভাপতি-লর্ড ম্যাকুলে। (Lord Macaulay)
ii) সদস্য- মিঃ ম্যাকলিউড। (J.M. Macleod)
iii) সদস্য-মিঃ এন্ডারসন। (G.W. Anderson)
iv) সদস্য-মিঃ মিলার। (F. Millet)

⇒ এ কমিশন দণ্ডবিধির খসড়া প্রণয়ন করে ১৮৩৭ সালের ১৪ই অক্টোবর ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আ্যাকল্যান্ডের নিকট পেশ করেন। যা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার বার্নেস পিকক এবং অন্যান্য বিচারপতগণ (যারা ফোর্ট উইলিয়ম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন)। সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে ১৮৫৬ সালে দণ্ডবিধির খসড়া লজেসলেটিভ কাউন্সিলে উপস্থাপিত হয়। ১৮৬০ সালে লেজিসলেটিভ কাউন্সিল আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরী করেন। অতঃপর ভারতে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু সংশোধনী করে ১৮৬২ সালের ৬ই অক্টোবর দণ্ডবিধি পাশ হয়। যার নামকরণ করা হয় ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন, দণ্ডবিধি।

⇒ ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ভারতে দণ্ডবিধি নামের পরিবর্তন করে রাখা হয় ইন্ডিয়ান পেনাল কোর্ড (আইপিসি) পাকিস্তান নামের পরিবর্তন করে রাখা হয় পেনাল কোড (পিপিসি) ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ অভূদ্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট আদেশ নং-৮ তারিখ ৩০/০৬/১৯৭৩ মূলে পাকিস্তান দণ্ডবিধি নামের পাকিস্তান শব্দটি তুলে নিয়ে এই আইনের পুনঃ নামকরণ হঃয় দণ্ডবিধি। এতে আছে মোট ২৩টি অধ্যায় ৫১১টি ধারা আছে।

⇒  ১৮৫০ সালে সর্ব প্রথম স্যার হেনরি সামার মেইন সাক্ষ্য আইনের খসড়া বিল তৈরি করলেও তা ভারতে ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৭১ সালে স্যার জেমস স্টিফেনকে (Fitz-James Stephen) সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতের দায়িত্ব দেয় এবং স্যার জেমস স্টিফেন ১৮৭১ সালে সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করেন। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতকারী হলো স্যার জেমস স্টিফেন।
⇒ স্যার জেমস স্টিফেনকে (James Fitzjames Stephen) সাক্ষ্য আইনের জনক বলা হয়। অর্থাৎ স্যার জেমস স্টিফেন ছাড়া বাকি সবায় দণ্ডবিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত ১৮৩৭ সালের প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সদস্য ছিলেন।
৫৪০.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় 'Doctrine of Transfer of Malice' নীতির প্রতিফল হয়েছে?
  1. ২৯৯ ধারা
  2. ৩০০ ধারা
  3. ৩০১ ধারা
  4. ৩০৭ ধারা
ব্যাখ্যা

'Doctrine of Transfer of Malice' নীতি দণ্ডবিধির ৩০১ ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করে যা মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে বা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জেনে করা হয়, কিন্তু তার ফলে অন্য কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে (যার মৃত্যু উদ্দেশ্য বা জ্ঞাত ছিল না), তবে অপরাধী শাস্তিযোগ্য নরহত্যার জন্য দায়ী হবে। এই নীতি মূলত উদ্দেশ্য বা মনোভাবের স্থানান্তর (Transfer of Malice) বোঝায়, যেখানে অপরাধীর দুরভিসন্ধি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:-
-কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুন মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যে-রূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 301: Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
-If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.

৫৪১.
নিম্নের কোনটি দণ্ডনীয় নরহত্যা নয়?
  1. দৈহিক জখমের ফলে মৃত্যু
  2. মৃত্যু ঘটানোর অভিপ্রায়ে কৃত কাজ
  3. মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে জেনেও কৃত কাজ
  4. মাতৃগর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার ব্যাখ্যা ৩ অনুযায়ী-
মাতৃগর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু (death of a child in the mother's womb)- মাতৃগর্ভস্থ কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো খুন বা নিন্দনীয় নরহত্যা কোনটাই হবে না।

তবে মাতৃগর্ভস্থ শিশুটি সম্পূর্ণরূপে জন্মগ্রহণ না করেও শিশুটির দেহের কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর (if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born) জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হলে তা নিন্দনীয় নরহত্যা বলে বিবেচিত হবে।
৫৪২.
সেলিনা বিদেশ থেকে জেনেশুনে বাংলাদেশের জাল মুদ্রা দেশে নিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে সেলিনাকে সর্বোচ্চ কী ধরনের শাস্তি দেয়া যেতে পারে?
  1. ১ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ২ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ৭ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. ১০ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৩৮ ধারা- জাল বাংলাদেশের মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানি করা:
কোন জাল মুদ্রা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহা রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 238- Import or export of counterfeits of Bangladesh coin:
Whoever imports into Bangladesh, or exports therefrom, any counterfeit coin which he knows or has reason to believe to be a counterfeit of Bangladesh coin, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৫৪৩.
যদি কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত বা অপরাধ সংঘটন নিরোধ সংক্রান্ত বা কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করা সংক্রান্ত কোন সংবাদ দিতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা সংবাদ দেয়, তবে সেই ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি কি হইবে?
  1. ১ মাসের কারাদণ্ড
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড
  4. ২ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৭৭ ধারার বিধান মিথ্যা তথ্য পরিবেশন:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর নিকট, তিনি সরকারী কর্মচারী বলেই, কোন বিষয়ে তথ্য দিতে আইনত: বাধ্য হয়ে, সে বিষয়টির উপর সত্য বলে এমন কোন তথ্য পরিবেশন করে যা মিথ্যা বলে সে জানে বা যা মিথ্যা বলে বিশ্বাস করার তার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

-অথবা উক্ত ব্যক্তি যে তথ্য দিতে আইনত বাধ্য, তা যদি কোন অপরাধের সংঘটন বিষয়ক হয়, বা কোন অপরাধের সংঘটন নিরোধের জন্য আবশ্যকীয় হয়, বা কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য আবশ্যকীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

------------------
♦ Furnishing false information
Section 177. Whoever, being legally bound to furnish information on any subject to any public servant, as such, furnishes, as true, information on the subject which he knows or has reason to believe to be false, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both; 
 
or, if the information which he is legally bound to give respects the commission of an offence, or is required for the purpose of preventing the commission of an offence, or in order to the apprehension of an offender, with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৫৪৪.
বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালনা বা অশ্ব চালনার ফলে কারো মৃত্যু ঘটিলে দণ্ডবিধির কত ধারা অনুসারে তার শাস্তি হবে?
  1. ৩০০
  2. ৩০৪
  3. ৩০৪ক
  4. ৩০৪খ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারার বিধান বেপরোয়াভাবে যান চালনা বা অশ্বরোহণের কর্তৃক মৃত্যু ঘটানো:- কোন ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে জনপথে যান চালিয়ে বা অশ্বারোহণের কর্তৃক নিন্দনীয় নরহত্যা নয় এমন মৃত্যু ঘটাইলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থ দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
---------------
⇒ Section 304B: Causing death by rash driving or riding on a public way:
-Whoever causes the death of any person by rash or negligent driving of any vehicle or riding on any public way not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৫৪৫.
দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারা অনুযায়ী 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ' বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. জোরপূর্বক কারো সম্পত্তি বিক্রি করা
  2. সম্পত্তি আত্মসাৎ করা বা অসাধুভাবে ব্যবহার করা
  3. কোনো সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য আইনত অনুমতি প্রাপ্ত হওয়া
  4. কোনো ব্যক্তির প্রতি বিশ্বাস রেখে তার কাছ থেকে ভুল পরামর্শ গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারার বিধান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:-
-কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।
--------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 405: Criminal breach of trust:
-Whoever, being in any manner entrusted with property, or with any dominion over property, dishonestly misappropriates or converts to his own use that property, or dishonestly uses or disposes of that property in violation of any direction of law prescribing the mode in which such trust is to be discharged, or of any legal contract, express or implied, which he has made touching the discharge of such trust, or wilfully suffers any other person so to do, commits "criminal breach of trust".
৫৪৬.
Which of the following is true as per Section 96 of the Penal Code?
  1. Exercising the right of private defence is a crime
  2. Exercising the right of private defence is against the law
  3. The right of private defence applies only in specific situations
  4. An act done in the exercise of the right of private defence is not an offence
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় বলা আছে,

ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার জন্য কোনো অধিকার প্রয়োগ করে থাকলে তা আইনে অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না।
"Nothing is an offence which is done in the exercise of the right of private defence."
৫৪৭.
দণ্ডবিধির ৪১৪ ধারা অনুসারে চুরি হওয়া সম্পত্তি লুকানোতে সহায়তা করার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:গ) ৩ বছরের কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো সম্পত্তি গোপন করা, অপসারণ বা ধ্বংস করার কাজে সহায়তা করে, যার ব্যাপারে সে জানে বা বিশ্বাস করার কারণ আছে যে তা চুরি করা হয়েছে—সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।"

- দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (voluntarily), চুরিকৃত সম্পত্তি লুকানো, অপসারণ বা বিক্রয়ে সহায়তা করে, এ সময় জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে সম্পত্তিটি চুরিকৃত, তাহলে তার শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড (সাধারণ বা কঠোর) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি।

⇒The Penal Code, 1860 – Section 414. Assisting in concealment of stolen property:
- Whoever voluntarily assists in concealing or disposing of or making away with property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

৫৪৮.
স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করলে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ২০০০ টাকা
  4. ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ধারা: ৩২৩ - স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানের শাস্তি:
যদি কেউ ৩৩৪ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়াই অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Punishment for voluntarily causing hurt-
Whoever, except in the case provided for by section 334, voluntarily causes hurt, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৫৪৯.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বনিম্ন কতজনের অংশগ্রহণে বেআইনি সমাবেশ সংঘটিত হয়?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোনো সমাবেশ করলে তাকে বেআইনি সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।
- দণ্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনি সমাবেশ বলে গণ্য হবে। যথা-
i) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান।
ii) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
iii) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
iv) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত।
v) কোনো ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।
 
- বেআইনি সমাবেশ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন ব্যক্তি এবং ১৪১ ধারায় উল্লিখিত ৫ ধরনের সাধারণ উদ্দেশ্যের (common object) যে কোন একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকতে হবে।
-------------------
The Penal Code- Section141: Unlawful assembly:
-An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is:
 
First.-To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or
Second.-To resist the execution of any law, or of any legal process; or
Third.To commit any mischief or criminal trespass, or other offence; or
Fourth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or
Fifth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do.
 
Explanation.-An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.
৫৫০.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ অনুসারে, মৃত্যু ঘটাবার কাজ খুন হবে যদি—
  1. কাজটি দুর্ঘটনাবশত হয়
  2. ব্যক্তি আত্মরক্ষার্থে কাজ করে
  3. আঘাতের অভিসন্ধি মৃত্যু ঘটাতে যথেষ্ট হয়
  4. সরকারী কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ (তৃতীয়ত) অনুসারে, খুন হবে যদি কোন ব্যক্তি: দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, এবং সেই আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটানোর পক্ষে যথেষ্ট হয়।
অর্থাৎ, অপরাধীর আভিসন্ধি (intention) এমন একটি আঘাত দেওয়ার ছিল, যা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু ঘটানোর জন্য পর্যাপ্ত। এটি খুনের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হল গ) আঘাতের অভিসন্ধি মৃত্যু ঘটাতে যথেষ্ট হয়, যা ধারা ৩০০ এর "তৃতীয়ত" এর সরাসরি প্রতিফলন।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা

চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

⇒ ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে নাঃ- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

৫৫১.
দণ্ডবিধিতে বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৬ মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারার বিধান- বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি:
কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনী সমাবেশের সদস্য হয়, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

⇒ Section 143- Punishment:
Whoever is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.
৫৫২.
মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা- মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করা:
কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনি সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 144- Joining unlawful assembly armed with deadly weapon:
Whoever, being armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৫৫৩.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা এর Explanation-1 অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে কাউকে অপরাধ করতে উৎসাহিত করলে তাকে কী বলে?
  1. সহায়তা (Aid)
  2. ষড়যন্ত্র (Conspiracy)
  3. প্ররোচনা (Instigation)
  4. উদ্বুদ্ধকরণ (Incitement)
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার Explanation-1 এ স্পষ্ট বলা হয়েছে:
"ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান (wilful misrepresentation) অথবা গোপন করা বাধ্যতামূলক কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (wilful concealment) দ্বারা কাউকে অপরাধ করতে প্ররোচিত করলে তা Instigation বা প্ররোচনা হিসেবে গণ্য হবে।"
এখানে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হয়েছে, যা প্ররোচনার (Instigation) সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়।

Explanation-1 অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, যা ফলে অপরাধ সংঘটিত হয়, সেটিকে প্ররোচনা (Instigation) বলা হবে। এখানে, কোনো ব্যক্তি অন্যকে অপরাধ করতে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য প্রদান বা গোপন তথ্য প্রকাশ না করা—এটি প্ররোচনার অংশ হিসেবে ধরা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার বিধান: কোন ব্যাপারে সহায়তা প্রদান:
কোন ব্যক্তি কোন ব্যাপারে সহায়তা দান করেছে বলে পরিগণিত হয়, যদি সে ব্যক্তি-
প্রথমত :- কোন ব্যক্তিকে উক্ত ব্যাপারে প্ররোচনা দেয়;
দ্বিতীয়ত :- উক্ত কাজটি করার জন্য কোন ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের সাথে কোন চক্রান্তে লিপ্ত হয়, যার ফলে চক্রান্ত অনুযায়ী কোন কাজ করা হয় অথবা কোন কাজ করা হতে বেআইনিভাবে বিরত থাকা হয় এবং উক্ত কাজ করার জন্য তা করা হয়;
তৃতীয়ত :- কোন কাজ করে অথবা বেআইনিভাবে কোন কাজ করা হতে বিরত থেকে উপযুক্ত কার্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করে।

ব্যাখ্যা ১:- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাপূর্বক কোন বাস্তব গুরুত্বসম্পন্ন ঘটনার, যা প্রকাশ করতে সে বাধ্য-ভ্রান্ত বিবরণ প্রকাশ করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক উহা গোপন করে কোন কাজ করে বা করায় অথবা কোন কাজ করার বা করানোর চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সংঘটনে প্ররোচনা দেয় বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদনের সময় বা তার পূর্বে উক্ত কাজ সম্পাদন সুগমকল্পে কোন কিছু করে, এবং তদ্বারা উহার সম্পাদন সুগম করে, সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সম্পাদনের সহায়তা করে বলে অভিহিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.

Explanation 2.-Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

৫৫৪.
দণ্ডবিধিতে বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ৩ মাস কারাদণ্ড
  3. ১ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৪২ ধারার বিধান বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়া: কোন ব্যক্তি যদি কি কি অবস্থায় কোন সমাবেশ বেআইনী সমাবেশে পরিণত হয়, তৎসম্পর্কে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক সে সমাবেশে যোগদান করে বা সে সমাবেশে মিলিত থাকে, তবে সে ব্যক্তি একটি বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারার বিধান বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।
------------
⇒ Section 142. Being member of unlawful assembly:

 Whoever, being aware of facts which render any assembly an unlawful assembly, intentionally joins that assembly, or continues in it, is said to be a member of an unlawful assembly.
⇒ Section 143. Punishment:
Whoever is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.

৫৫৫.
‘ক’, ‘খ’-কে একটি দেওয়ানি মামলা পরিচালনা হতে বিরত করার উদ্দেশ্যে ‘খ'-এর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় ভয় দেখায়। ‘ক’এর অপরাধ কি
  1. ঘরে আগুন দেয়া
  2. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
  3. অনিষ্ট সাধন
  4. ভয় দেখানো
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধির ৫০৩ ধারা অনুযায়ী দেহের, সম্পত্তির বা সুনামের ক্ষতি কিংবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোন ব্যক্তিরদেহের বা সুনামের ক্ষতির ভয় দেখালে তা অরাধজনক ভীতি প্রদর্শন হিসাবে পরিগণিত হবে। 

♦এখানে 'A' দন্ডবিধির ৫০৩ ধারার অধীনে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করেছে

♦ দন্ডবিধির ৫০৬
ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি রয়েছে যা অনধিক ২ বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড
৫৫৬.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী আত্মহত্যার সহায়তাকরণের অপরাধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------------------------
⇒The Penal Code, 1860: Section 306 Abetment of suicide:- If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৫৫৭.
রহিম একটি পুরনো সেতুর কিছু লোহার অংশ খুলে নিয়ে গেল। এর ফলে সেতুটি দুর্বল হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে রহিম :
  1. ৪৩১ ধারায় অপরাধী
  2. শুধু চুরির অপরাধে দোষী
  3. কোনো অপরাধ হয়নি
  4. শুধু জরিমানা দিতে বাধ্য
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৩১:
কোনো ব্যক্তি কোনো সরকারি সড়ক, সেতু, নদী এবং খালের এমনভাবে কোনো অনিষ্ট করে, যার ফলে যোগযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, ভ্রমণ কিংবা পারাপারের জন্য কম নিরাপদ হয় বা হতে পারে, তাহলে সেটি অপরাধ। এ অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম জেলসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

[Whoever commits mischief by doing any act which renders or which he knows to be likely to render any public road, bridge, navigable river or navigable channel, natural or artificial, impassable or less safe for traveling or conveying property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.]
৫৫৮.
অপরাধের সংজ্ঞা দেয়া আছে কত ধারায়?
  1. ৩১ ধারায়
  2. ৪০ ধারায়
  3. ৪৪ ধারায়
  4. ৪৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪০ ধারায় অপরাধের সংজ্ঞা রয়েছে,
'যে সমস্ত কাজ করা বা করা হতে বিরত থাকা দেশে বলবৎ কোন আইনের শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে তাকে অপরাধ বলে  অর্থাৎ যে সকল কার্য করা বা না করা প্রচলিত আইনের শাস্তিযোগ্য তাকে অপরাধ বলে। অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ বা চেষ্টা বা সহায়তা করাও অপরাধ।'
৫৫৯.
যেদিন তামাদির মেয়াদ শেষ হয় সেদিন আদালত বন্ধ থাকলে এর ফলাফল কী?
  1. আদালত যে কয়দিন বন্ধ থাকবে আদালত খোলার ততোদিনের মধ্যে মামলা করা যাবে
  2. আদালত যেদিন খুলবে ঠিক সেদিনই মামলা করতে হবে।
  3. আদালত বন্ধ হওয়ার আগেই মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে
  4. আদালত খোলার পর ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ৪ ধারার বিধান মোতাবেক কোনো মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার দিন আদালত বন্ধ থাকলে (সরকারি ছুটির বন্ধ) উক্ত মোকদ্দমা যেদিন আদালত খুলবে সেদিন দায়ের করতে হবে।
৫৬০.
দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হয় কখন?
  1. যখন সরকারী কর্মচারী দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করে
  2. যখন কেউ সরকারী আদেশ অমান্য করে
  3. যখন আইনত বাধ্য থাকা সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারীকে সহায়তা করা হয় না
  4. যখন সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা প্রদান করা হয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারার বিধান- সরকারী কর্মচারীকে সহায়তা করতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের অনুরূপ সহায়তা না করা:
কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীকে তাঁর সরকারী কর্তব্য সম্পাদনে সহায়তা করতে বা সহায়তা সংগ্রহ করে দিতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সহায়তা দিতে ইচ্ছাপূর্বক অন্যথা করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
এবং অনুরূপ সহায়তা যদি কোন আদালত হতে আইনসম্মতভাবে দেওয়া সমনাদি বলবৎ করার জন্য অথবা কোন অপরাধের সংঘটন নিবারণের জন্য, অথবা কোন দাঙ্গা বা কলহ দমনের জন্য অথবা কোন অপরাধে বা আইনসম্মত আটক হতে পলায়নের দায়ে অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য সহায়তা দাবি করতে আইনসম্মত-ভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী দাবি করে থাকেন, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫৬১.
কোন বিবাহিতা নারীর সাথে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌন সঙ্গম করলে তা কি বলে গণ্য হবে?
  1. ধর্ষণ
  2. প্রতারণা
  3. ব্যভিচার
  4. সম্মানহানি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৯৭ ধারা মতে কোন বিবাহিতা নারীর সাথে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌন সঙ্গম করলে তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে।
৫৬২.
Section 55A of The Penal Code deals with-
  1. Saving for President prerogative.
  2. Commutation of sentence of death.
  3. Commutation of sentence of imprisonment for life.
  4. Fractions of terms of punishment.
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির  ৫৫ক ধারার বিধান রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার সংরক্ষণ:- ৫৪ ধারা বা ৫৫ ধারার কোন বিধান দ্বারাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করা বা দণ্ডাজ্ঞা হ্রাসের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না।

♦ দণ্ডবিধির  ৫৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ:- মৃত্যুদণ্ড দান করা যেতে পারে এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধকারীর সম্মতি ব্যতিরেকে উক্ত দত্তকে এই বিধি ও আইন বলে ব্যবস্থিত অন্য যেকোন স্বল্প দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন।

♦ দণ্ডবিধির  ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাজ্ঞা হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাজ্ঞা প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ডাজ্ঞা হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।

--------------------------
♦ Section 55A. Saving for President prerogative:- Nothing in section fifty- four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.

♦ Section 54. Commutation of sentence of death:- In every case in which sentence of death shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for any other punishment provided by this Code.

♦ Section 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

♦ Section 57. Fractions of terms of punishment: In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years.
৫৬৩.
‘D’ একজন ব্যক্তিকে ১১ দিন ধরে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে এবং পালানোর চেষ্টা করলে হুমকি দেয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৪৪ অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৪ অনুসারে, কেউ যদি কাউকে অবৈধভাবে ১০ দিন বা তার বেশি আটকে রাখে, সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:- Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

৫৬৪.
'A', 'Z'-এর মুখ স্থায়ীভাবে বিকৃত করার উদ্দেশ্যে বা জানার পরেও তাকে একটি ঘুষি মারল। যদিও 'Z'-এর মুখ স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়নি, তবে সে বিশ দিন ধরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগেছে। এক্ষেত্রে, 'A' ________ প্রদান করেছে বলে গণ্য হবে।
  1. স্বেচ্ছায় আঘাত
  2. স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত
  3. দুর্ঘটনাজনিত আঘাত
  4. স্বল্প আঘাত
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা-৩২২: স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান:
যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে এমন আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ করে বা জানে যে তার আঘাতের ফলে গুরুতর আঘাত (grievous hurt) হতে পারে এবং বাস্তবে সেই আঘাত গুরুতর আঘাতের কারণ হয়, তবে তাকে "স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদানকারী" বলা হয়।

ব্যাখ্যা:
কোনো ব্যক্তি তখনই "স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদানকারী" হিসেবে গণ্য হবে, যদি সে একদিকে গুরুতর আঘাত প্রদান করে এবং অন্যদিকে তার সেই আঘাত প্রদান করার অভিপ্রায় থাকে বা সে জানে যে তার আঘাত গুরুতর হতে পারে। তবে, যদি কেউ এক ধরনের গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে আঘাত করে, কিন্তু বাস্তবে অন্য ধরনের গুরুতর আঘাত ঘটে, তাহলেও তাকে "স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদানকারী" বলা হবে।

উদাহরণ:
'A', 'Z'-এর মুখ স্থায়ীভাবে বিকৃত করার উদ্দেশ্যে বা জানার পরেও তাকে একটি ঘুষি মারল। যদিও 'Z'-এর মুখ স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়নি, তবে সে বিশ দিন ধরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগেছে। সুতরাং, 'A' স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদান করেছে বলে গণ্য হবে।
৫৬৫.
দণ্ডবিধির ৫০৭ ধারার অধীনে অপরাধ কোনটি?
  1. পরিচয় প্রকাশ করে হুমকি দেয়া
  2. মজা করে হুমকি দেয়া
  3. নিজের নাম গোপন রেখে হুমকি দেয়া
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।

Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
৫৬৬.
আইনানুগ অভিভাবকত্ব হইতে মনুষ্য হরণের ক্ষেত্রে হরণকৃত ব্যক্তির বয়সসীমা কত?
  1. পুরুষের ক্ষেত্রে ১৪ বৎসরের কম বয়স্ক
  2. নারীর ক্ষেত্রে ১৬ বছরের কম বয়স্ক
  3. যে কোন বয়সের অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি
  4. 'ক', 'খ' ও 'গ' এ বর্ণিত সবগুলি।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান  বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম:- যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------------
⇒ Section 360. Kidnapping from Bangladesh:-Whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of some person legally authorized to consent on behalf of that person, is said to kidnap that person from Bangladesh.

⇒ Section 361. Kidnapping from lawful guardianship: Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship. 
Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person. 
Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.
৫৬৭.
অবৈধ আটক বা অবরোধের শাস্তি কী?
  1. অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  2. অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. শুধু অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৪২ ধারায় অবৈধ আটক বা অবরোধের শাস্তি হিসেবে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
• কোন ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ এলাকার বাহিরে গমনে বাধা প্রদান করাকে অবৈধ আটক বা অবরোধ বলে।
৫৬৮.
কোন ধারায় বলা হয়েছে যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী কৃত কাজ অপরাধ নয়?
  1. দণ্ডবিধির ৭৫ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ৭৭ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ৭৮ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ৭৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭৮ ধারা মতে আদালতের আদেশে কৃত কাজ অপরাধ নয় অর্থাৎ আদালতের রায় বা আদেশ মোতাবেক সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ নয় আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত করার জন্য সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীগণ যে সমস্ত কার্য করবেন তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৮ ধারার বিধান আদালতের রায় বা আদেশের অনুসরণে সম্পাদিত কাজ:- কোন আদালতের নির্দেশক্রমে অথবা কোন আদালতের রায় বা আদেশ অনুযায়ী উক্ত রায় বা আদেশ বলবৎ থাকাকালে সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না যদি উক্ত কাজটি সম্পন্নকারী ব্যক্তি সরল মনে বিশ্বাস করে থাকে যে, আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার রয়েছে।
-------------------
⇒ Section 78. Act done pursuant to the judgment or order of Court:
 Nothing which is done in pursuance of, or which is warranted by the judgment or order of, a Court of Justice, if done whilst such judgment or order remains in force, is an offence, notwithstanding the Court may have had no jurisdiction to pass such judgment or order, provided the person doing the act in good faith believes that the Court had such jurisdiction.
৫৬৯.
আঠারো বছরের কম বয়সী শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তিকে আত্মহত্যার সহায়তা বা প্ররোচনা দিলে, দণ্ডবিধির কোন ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ৩০৪
  2. ৩০৫
  3. ৩০৬
  4. ৩০৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৫-এ শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা সহায়তা-কে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু, উন্মাদ, প্রলাপগ্রস্ত, নির্বোধ বা মদ্যপ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত বা সহায়তা করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
 
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 305. Abetment of suicide of child or insane person:
If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.
৫৭০.
পাওনাদারকে ঠকানোর উদ্দেশ্যে সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে হস্তান্তর বা গোপনের শাস্তি রয়েছে কত ধারায়?
  1. ৪২০ ধারায়
  2. ৪২১ ধারায়
  3. ৪২২ ধারায়
  4. ৪২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪২১ ধারা অনুযায়ী  পাওনাদারকে ঠকানোর উদ্দেশ্যে সম্পত্তি প্রতারনামূলকভাবে হস্তান্তর বা গোপনের শাস্তি হলো অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৫৭১.
বেঞ্চ সহকারী কর্তৃক আদালতের রায় পরিবর্তন করে নথিতে সামিল করলে তার জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা ২১৯ মতে বিচার বিষয়ক কার্যক্রম আইন বিরোধী বলিয়া জানা সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারী কর্তৃক দুর্নীতিমূলক উপায়ে আদেশ, রির্পোট, রায় বা সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বা ঘোষণা করাঃ
♦ কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী হিসেবে কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে কোন রিপোর্টক, আদেশ, রায় বা দুর্নীতিমূলকভাবে বা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে প্রণয়ন করে বা ঘোষণা করে, যা আইন বিরুদ্ধ বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৫৭২.
কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে কোনো কাজ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুষ গ্রহণ করলে তিনি The Penal Code, 1860 এর কত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেন?
  1. 161
  2. 165A
  3. 162
  4. 163
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে কোনো কাজ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুষ গ্রহণ করলে তিনি The Penal Code, 1860 এর ১৬২ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেন।

ধারা ১৬২ অনুযায়ী,
সরকারি কর্মচারীকে যে ঘুষ প্রদান করবে সে (দালাল/ঘুষ প্রদানকারী) অভিযুক্ত হবে এবং শাস্তি পাবে: ৩ বছর কারাদণ্ড/অর্থদণ্ড/উভয়দণ্ড।

এছাড়া,
সরকারি কর্মচারি (নিজে/অন্যজনের মাধ্যমে) ঘুষ/পারিতোষিক পারিশ্রমিক গ্রহণ করলে ১৬১ ধারা অনুযায়ী, ৩ বছর কারাদণ্ড/অর্থদণ্ড/উভয়দণ্ড এ দণ্ডিত হতে পারে।
৫৭৩.
দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুসারে, অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী _____ এর মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে।
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদও ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:
অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশবলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনতঃ দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
৫৭৪.
দণ্ডবিধির ধারা ২৯৯ অনুসারে, কয়টি উপায়ে কোনো ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হতে পারে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ২৯৯ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তিনটি উপায়ে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হতে পারে-
১) মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কাজ করা → যদি কারও উদ্দেশ্যই হয় মৃত্যু ঘটানো এবং সেই কাজের ফলে মৃত্যু ঘটে।
২) মৃত্যু ঘটাতে পারে এমন দৈহিক জখম ঘটানোর উদ্দেশ্যে কাজ করা → যদি কারও উদ্দেশ্য হয় এমন আঘাত দেওয়া যা মৃত্যু ঘটাতে পারে এবং সেই আঘাতের ফলে মৃত্যু ঘটে।
৩) মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জেনে কাজ করা → যদি কেউ জানে যে তার কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে, তবুও তা করে এবং মৃত্যু ঘটে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) ৩টি উপায়ে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।
- ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
- ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
- ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 299. Culpable homicide:
Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide. 
- Explanation 1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death. 
- Explanation 2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
- Explanation 3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.

৫৭৫.
পাঁচজন ব্যক্তি একটি ব্যাংকে ডাকাতি করার জন্য একত্রিত হয়। ডাকাতির সময় তাদের একজন নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যা করে। এই পরিস্থিতিতে দণ্ডবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

Section 396- Dacoity with murder:
If any one of five or more persons, who are conjointly committing dacoity, commits murder in so committing dacoity, every one of those persons shall be punished with death, or imprisonment for life, or rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৫৭৬.
রাষ্ট্রদ্রোহিতা সংঘটিত করতে হলে, কোন ধরনের উক্তি বা প্রকাশ ব্যবহার করা যেতে পারে?
  1. মৌখিক উক্তি
  2. লিখিত উক্তি
  3. দৃশ্যমান প্রতীক
  4. উপরের সবই
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বিধান- রাষ্ট্রদ্রোহিতা:
কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা ১: ‘বৈরিতা' বলতে রাজানুগত্যহীনতা এবং সর্বপ্রকার শত্রুতার ভাব বুঝায়।

ব্যাখ্যা ২: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

ব্যাখ্যা ৩: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করার বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই সরকারের কোন শাসন পরিচালন বিষয়ক বা অন্যরূপ কার্য সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না। 
৫৭৭.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামী জখমের মাধ্যমে খুনের উদ্যোগ নিলে ৩০৭ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বৎসর কারাদণ্ড
  4. ১২ বৎসর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার বিধান খুনের উদ্যোগ:- কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
--------
⇒ Attempt to murder Attempts by life-convicts
Section 307.
Whoever does any act with such intention or knowledge, and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if hurt is caused to any person by such act, the offender shall be liable either to imprisonment for life, or to such punishment as is hereinbefore mentioned. 
 
⇒ When any person offending under this section is under sentence of imprisonment for life, he may, if hurt is caused, be punished with death.
৫৭৮.
দণ্ডবিধির অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির প্রয়োজন?
  1. একজন
  2. দুইজন
  3. তিনজন
  4. পাঁচজন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) সংজ্ঞায়িত হয়েছে যে, যখন দুই বা তার বেশি ব্যক্তি (two or more persons) কোনো অবৈধ কাজ করার বা অবৈধ উপায়ে আইনসম্মত কাজ করার জন্য চুক্তি করে, তখন তা ষড়যন্ত্র হয়। একজন ব্যক্তির একক চুক্তি ষড়যন্ত্র হতে পারে না, কারণ এতে চুক্তির উপাদান (agreement) থাকে না। তাই ন্যূনতম দুইজন ব্যক্তির প্রয়োজন। অন্য অপশনগুলো (একজন, তিনজন বা পাঁচজন) এই সংজ্ঞার সাথে মিলে না।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:
যখন দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন কাজ করতে বা করানোর জন্য একমত হন:
- একটি অবৈধ কাজ করা, অথবা
- এমন কোনো কাজ করা যা আইনত অবৈধ নয় কিন্তু অবৈধ উপায়ে করা হয়, তবে এই ধরনের একমত হওয়াকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা হয়।

শর্ত: যে কোনো একমত হওয়া শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে হলে তা অপরাধী ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর জন্য এই চুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক বা একাধিক পক্ষের দ্বারা এমন কিছু কার্যক্রম সম্পাদিত হতে হবে, যা এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই অবৈধ কাজটি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, অথবা তা চুক্তির উদ্দেশ্য থেকে এক প্রকার অনুষঙ্গী ছিল।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 120A. Definition of criminal conspiracy. 
 When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

৫৭৯.
Volante non-fit injuria মতবাদটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ৮৭ ধারায়
  2. ৮৮ ধারায়
  3. ৮৯ ধারায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ধারা ৮৭, ৮৮ এবং ৮৯ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত  ব্যক্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে গঠিত কোনো ক্ষতি অপরাধ বলে গণ্য হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
• সম্মতি বা ভলেনটি নন্ ফিট ইনজুরিয়া (Consent or Volante non-fit injuria): কারো সম্মতিক্রমে কোন কার্য সম্পাদিত হলে এবং এর ফলে কোন ক্ষতি হলে সম্মতিদানকারী কোন অভিযোগ করতে পারে না।
• এটা যে নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তাকে বলে ভলেন্টি নন্ ফিট্ ইনজুরিয়া।
• বাদী যে অধিকার স্বেচ্ছা প্রণোদিত ভাবে পরিত্যাগ করেছে সে অধিকার আর সে বলবৎ করতে পারে না।
• তাই মুষ্ঠিযুদ্ধে আহত হলে বা ডাক্তার অস্ত্রোপচার করলে টর্ট আইনে কাউকে দায়ী করা যায় না।
• এ মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বাদীর অবগতি ও সম্মতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
৫৮০.
প্রাণীর প্রতি অবহেলার কারণে মানবজীবন বিপন্ন হলে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা

ধারা ২৮৯ – প্রাণীর প্রতি অবহেলার কারণে মানবজীবন বিপন্ন করা:
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে তার দখলে থাকা কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, যা মানবজীবনের সম্ভাব্য বিপদ বা গুরুতর আঘাতের সম্ভাব্য বিপদ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয়, তাহলে তিনি দোষী বলে গণ্য হবেন।

শাস্তি:
- সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), অথবা
- সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা, অথবা
- উভয় দণ্ড।

৫৮১.
'ম' জানে যে, 'ক' মোবাইল ফোন চুরি করেছে। তবুও সে সেই ফোনটি বিক্রি করে দিতে 'ক' কে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে 'ম' সর্বোচ্চ কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী,
যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (voluntarily), চুরিকৃত সম্পত্তি লুকানো, অপসারণ বা বিক্রয়ে সহায়তা করে, এ সময় জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে সম্পত্তিটি চুরিকৃত, তাহলে তার শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় শাস্তি।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 414: Assisting in concealment of stolen property:
Whoever voluntarily assists in concealing or disposing of or making away with property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৫৮২.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ এর কোন ব্যতিক্রমে বলা হয়েছে “সরকারি কর্মচারী বা তার সহায়তাকারী সরল মনে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে খুন হবে না”?
  1. ব্যতিক্রম-১
  2. ব্যতিক্রম-২
  3. ব্যতিক্রম-৩
  4. ব্যতিক্রম-৫
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ এর ব্যতিক্রম-৩ এ উল্লেখ্য করা হয়েছে যে, যদি একজন সরকারি কর্মচারী বা তার সহায়তাকারী তার আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে, কিন্তু সরল মনে (in good faith) বিশ্বাস করে যে তার কাজটি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত, এবং সেই কাজের ফলে কারও মৃত্যু ঘটে, তবে তা খুন (Murder) হবে না। তবে এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable Homicide not amounting to murder) হতে পারে।
- এই ব্যতিক্রমের উদ্দেশ্য হল সরকারি কর্মচারীদের তাদের দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে (good faith) করা কাজকে কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করা, যাতে তারা ভয় ছাড়াই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতে পারে।
- সুতরাং, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষমতা অতিক্রমের বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যতিক্রম-৩ এ উল্লেখিত হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা

চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

⇒ ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে নাঃ- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

৫৮৩.
দণ্ডবিধির কোন ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে না?
  1. ৩০২ ধারা
  2. ৩০৩ ধারা
  3. ৩০৪ ধারা
  4. ৩৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের জন্য, ৩০৩ ধারায় যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত খুনের জন্য এবং ৩৯৬ ধারায় ডাকাতির সময় খুনের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।
♦ কিন্তু ৩০৪ ধারায় খুন বলে গণ্য নয় এমন নিন্দনীয় নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ।
 ♦ অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না।
৫৮৪.
দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা কত?
  1. অপরাধ সংঘটনের ১০ বছরের মধ্যে।
  2. অপরাধীর মৃত্যুর ৫ বছরের মধ্যে।
  3. দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে।
  4. কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ বছরের মধ্যে।
ব্যাখ্যা
→ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে।
⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা সম্পর্কে ৩টি বিধানের উল্লেখ আছে।
(i) দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়।
(ii) ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে।
(iii) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে। অর্থাৎ আসামির মৃত্যু হলেও অর্থদণ্ড/জরিমানা মওকুফ হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদও ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশবলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনতঃ দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
------------------
⇒ Section 70. Fine leviable within six years, or during imprisonment Death not to discharge property from liability:
 The fine, or any part thereof which remains unpaid, may be levied at any time within six years after the passing of the sentence, and if, under the sentence, the offender be liable to imprisonment for a longer period than six years, then at any time previous to the expiration of that period; and the death of the offender does not discharge from the liability of any property which would, after his death, be legally liable for his debts.
৫৮৫.
রবি এক ব্যক্তিকে আত্মহত্যা করতে বলে এবং তাকে বিষ কিনে দেয়। উক্ত ব্যক্তি বিষ পান করে মারা যায়। ধারা ৩০৬ এর অধীন রবির সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান- আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:
কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 306- Abetment of suicide:
If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৫৮৬.
যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যু না ঘটিয়ে, অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর মাধ্যমে অপরাধজনক নরহত্যা ঘটালে- এর বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৩০১ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:- কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-----------
Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
Section 301. If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
৫৮৭.
কোন পরিস্থিতিতে ধারা ১৭৭ অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়?
  1. সংবাদমাধ‍্যমে ভুল তথ্য প্রকাশ করলে
  2. ব্যক্তিগত বিবাদে মিথ্যা অভিযোগ করলে
  3. আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হলে
  4. সরকারী কর্মচারীকে মিথ্যা তথ্য দিলে
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ১৭৭ ধারা- মিথ্যা তথ্য পরিবেশন:
কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর নিকট, তিনি সরকারী কর্মচারী বলেই, কোন বিষয়ে তথ্য দিতে আইনত: বাধ্য হয়ে, সে বিষয়টির উপর সত্য বলে এমন কোন তথ্য পরিবেশন করে যা মিথ্যা বলে সে জানে বা যা মিথ্যা বলে বিশ্বাস করার তার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অথবা, উক্ত ব্যক্তি যে তথ্য দিতে আইনত বাধ্য, তা যদি কোন অপরাধের সংঘটন বিষয়ক হয়, বা কোন অপরাধের সংঘটন নিরোধের জন্য আবশ্যকীয় হয়, বা কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য আবশ্যকীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫৮৮.
দণ্ডবিধি অনুসারে কোনটি "গুরুতর আঘাত" (Grievous Hurt)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পুরুষত্বহরণ
  2. অস্থিভঙ্গ বা স্থানচ্যুতি
  3. মুখমণ্ডলের স্থায়ী বিকৃতি 
  4. চোখের দৃষ্টিশক্তি অস্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩২০ অনুসারে, "গুরুতর আঘাত" (Grievous Hurt) হিসেবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচিত হয়:
- পুরুষত্বহরণ (Emasculation)
- যেকোনো চোখের স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস
- যেকোনো কানের স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস
- কোনো অঙ্গ বা জয়েন্টের হ্রাস
- কোনো অঙ্গ বা জয়েন্টের ক্ষমতার স্থায়ী ক্ষতি
- মাথা বা মুখমণ্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
- অস্থিভঙ্গ বা স্থানচ্যুতি
- এমন আঘাত যা জীবনের জন্য বিপজ্জনক বা ২০ দিনের জন্য তীব্র শারীরিক ব্যথা সৃষ্টি করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অক্ষম করে।

ঘ) অপশনে উল্লিখিত "চোখের দৃষ্টিশক্তি অস্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়া" এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ ধারা ৩২০-এ কেবল চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়াকেই গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্য তিনটি বিকল্প (ক, খ, গ) এই ধারার অধীনে গুরুতর আঘাত হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------------
⇒The Penal Code, 1860- Section 320- Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.

৫৮৯.
দণ্ডবিধির ৪০২ ধারা অনুযায়ী, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে তাদের সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  2. সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  3. পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪০২ ধারা অনুযায়ী, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে তাদের প্রত্যেকেই অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি: সাত (৭) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয়।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৪০২: ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়া:
যে কোনো ব্যক্তি, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে একজন হন যারা ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে, তবে তিনি সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, যা সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদে হতে পারে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 402. Assembling for purpose of committing dacoity:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall be one of five or more persons assembled for the purpose of committing dacoity, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
৫৯০.
দণ্ডবিধি অনুসারে ডাকাতি সংঘটনের জন্য সর্বনিম্ন কতজন ব্যক্তি প্রয়োজন?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৯১ অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তি একসঙ্গে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করলে তাদেরকে "ডাকাতি" বলা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান- ডাকাতি:
- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code Section 391- Dacoity:
- When five or more persons conjointly commit or attempt to commit a robbery, or where the whole number of persons conjointly committing or attempting to commit a robbery, and persons present and aiding such commission or attempt, amount to five or more, every person so committing, attempting or aiding, is said to commit "dacoity".

৫৯১.
দণ্ডবিধির কত ধারায় ব্যক্তির সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১১ ধারায়
  3. ১২ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২য় অধ্যায়ের ৬ থেকে ৫২ক ধারার সাধারণ ব্যাখ্যা (General Explanation) অংশে দণ্ডবিধিতে ব্যবহৃত কতিপয় শব্দের সংজ্ঞা রয়েছে।
→ দণ্ডবিধির ১১ ধারায় ব্যক্তির সংজ্ঞা রয়েছে। ১১ ধারার বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি বা Person বলতে যে কোন কোম্পানি বা সমিতি (Association) অথবা ব্যক্তি সমষ্টিকে (সমিতিভুক্ত হোক বা না হোক) বুঝাবে।
---------------
→ “Person” Section 11. The word “person” includes any Company or Association, or body of persons, whether incorporated or not.
৫৯২.
দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি সরকারী কর্মচারীকে আইনসম্মতভাবে সহায়তা না দেয়, তাকে সর্বোচ্চ _____ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
  1. ২০০
  2. ৩০০
  3. ১০০০
  4. ২০০০
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারা- সরকারী কর্মচারীকে সহায়তা করতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের অনুরূপ সহায়তা না করা:

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীকে তাঁর সরকারী কর্তব্য সম্পাদনে সহায়তা করতে বা সহায়তা সংগ্রহ করে দিতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সহায়তা দিতে ইচ্ছাপূর্বক অন্যথা করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
এবং অনুরূপ সহায়তা যদি কোন আদালত হতে আইনসম্মতভাবে দেওয়া সমনাদি বলবৎ করার জন্য অথবা কোন অপরাধের সংঘটন নিবারণের জন্য, অথবা কোন দাঙ্গা বা কলহ দমনের জন্য অথবা কোন অপরাধে বা আইনসম্মত আটক হতে পলায়নের দায়ে অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য সহায়তা দাবি করতে আইনসম্মত-ভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী দাবি করে থাকেন, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 187- Omission to assist public servant when bound by law to give assistance:
Whoever, being bound by law to render or furnish assistance to any public servant in the execution of his public duty, intentionally omits to give such assistance, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to two hundred taka, or with both;
and if such assistance be demanded of him by a public servant legally competent to make such demand for the purposes of executing any process lawfully issued by a Court of Justice, or of preventing the commission of an offence, or of suppressing a riot, or affray, or of apprehending a person charged with or guilty of an offence, or of having escaped from lawful custody, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.
৫৯৩.
খাদ্য বা পানীয়ের ভেজাল মেশানোর অপরাধে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী হয়, তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ২ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ২ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ২৭২: খাদ্য বা পানীয়ের ভেজাল-
যে ব্যক্তি কোনো খাদ্য বা পানীয়ের দ্রব্যে ভেজাল মিশায়, যাতে ওই দ্রব্যটি খাদ্য বা পানীয় হিসেবে ক্ষতিকর হয় এবং সে ওই দ্রব্যটি খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বা জানার পরেও যে এটি খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রি হতে পারে, তাকে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি প্রদান করা হবে যা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে, অথবা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় শাস্তি

[Whoever adulterates any article of food or drink, so as to make such article noxious as food or drink, intending to sell such article as food or drink, or knowing it to be likely that the same will be sold as food or drink, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.]
৫৯৪.
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে-
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং

-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

- ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
-------------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-193: Punishment for false evidence:
Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine. 

Explanation 1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding. 
Explanation 2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice. 
Explanation 3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
৫৯৫.
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার সম্পত্তি তার চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৪: মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর অধিকারে থাকা সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ-
যে ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের কাজে ব্যবহার করে, এই জেনে যে উক্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার অধিকারে ছিল এবং এখনো সেই সম্পত্তি কোনো আইনগতভাবে অধিকারে থাকা ব্যক্তির হেফাজতে যায়নি—তাহলে সে ব্যক্তি অনধিক তিন বছর মেয়াদের যেকোনো প্রকার কারাদণ্ডে (সশ্রম বা বিনাশ্রম) দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে। যদি অপরাধী ঐ মৃত ব্যক্তির চাকর বা কর্মচারী হয়ে থাকে, তাহলে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণ:
Z মারা যায় এবং তার মৃত্যুর সময় তার হেফাজতে আসবাবপত্র ও অর্থ ছিল। তার চাকর A, সেই অর্থ এমন অবস্থায় অসৎভাবে আত্মসাৎ করে যখন তা এখনো কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীর হেফাজতে যায়নি। এই অবস্থায়, A দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় অপরাধ করেছে।
৫৯৬.
দণ্ডবিধির অধীন আদালত নিম্নের কোন অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে?
  1. বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলে
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক জখম করে খুনের চেষ্টা করলে
  3. এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা মুখ, মাথা বা উভয় চোখে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর জখম করলে
  4. উল্লিখিত সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• যে সকল ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ: দণ্ডবিধির অধীন আদালত নিম্নলিখিত ১০টি ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে-

১. বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া বা লিপ্ত হওয়ার উদ্যোগ করা বা সহায়তা করার (ধারা ১২১);
২. বিদ্রোহে (বিশেষত সৈনিক এবং নাবিক সম্বন্ধে) সহায়তা এবং সেটার ফলে বিদ্রোহ সংঘটিত হলে (ধারা ১৩২);
৩. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা উদ্ভাবন করা যার উপর ভিত্তি করে নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে, যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া যাবে (ধারা ১৯৪);
৪. খুন (ধারা ৩০২);
৫. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক খুন করলে (ধারা ৩০৩);
৬. নাবালক, উন্মাদ বা মদপ্য ব্যক্তিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করলে এবং তার ফলে আত্মহত্যা করলে (ধারা ৩০৫)
৭. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক জখম করে খুনের চেষ্টা করলে (ধারা ৩০৭);
৮. এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা মুখ, মাথা বা উভয় চোখে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর জখম করলে (ধারা ৩২৬ক);
৯. দশ বৎসরের নিচের কোন ব্যক্তিকে খুন, গুরুতর আঘাত ইত্যাদি উদ্দেশ্যে অপহরণ বা বলপূর্বক অপহরণ করলে (ধারা ৩৬৪ক);
১০. খুনসহ ডাকাতি করলে (ধারা ৩৯৬)।
৫৯৭.
নিম্নলিখিত কোন ধরনের সম্পত্তি বলপূর্বক গ্রহণের বিষয়বস্তু হতে পারে?
  1. স্থাবর সম্পত্তি 
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. জমি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারার বিধান বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ উদাহরণ
(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে। ক 'বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।

⇒ বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion)- কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বা extortion বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।

⇒ বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের উপাদান-
 স্থাবর ও অস্থাবর উভয় সম্পত্তির ক্ষেত্রে বলপূর্বক গ্রহণ হয়; এবং অপরাধী স্বয়ং উপস্থিত না থেকেও বলপূর্বক আদায় বা গ্রহণের অপরাধ করতে পারে।
যে ব্যক্তিকে ভয় দেখানো হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সম্পত্তি অর্পণ করার সঙ্গেই বলপূর্বক গ্রহণের অপরাধ সংঘটিত হয়। বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের ক্ষেত্রে দূরবর্তী ক্ষতির ভয় থাকলেও তাৎক্ষণিক কোন ক্ষতি হয়না।

Section 383 - Extortion: Whoever intentionally puts any person in fear of any injury to that person, or to any other, and thereby dishonestly induces the person so put in fear to give donation or subscription of any kind or to deliver to any person any property or valuable security or anything signed or sealed which may be converted into a valuable security, commits "extortion". 
 
Illustrations 
 
(a) A threatens to publish a defamatory libel concerning Z unless Z gives him money. He thus induces Z to give him money. A has committed extortion. 
 
(b) A threatens Z that he will keep Z's child in wrongful confinement unless Z will sign and deliver to A a promissory note binding Z to pay certain money to A. Z signs and delivers the note. A has committed extortion. 
 
(c) A threatens to send club-men to plough up Z's field unless Z will sign and deliver to B and bond binding Z under a penalty to deliver certain produce to B, and thereby induces Z to sign and deliver the bond. A has committed extortion. 
 
(d) A, by putting Z in fear of grievous hurt, dishonestly induces Z to sign or affix his seal to a blank paper and deliver it to A. Z signs and delivers the paper to A. Here, as the paper so signed may be converted into a valuable security, A has committed extortion.
৫৯৮.
গুরুতর এবং আকস্মিক উসকানির কারণে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদান করার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ধারা ৩২৩
  2. ধারা ৩২৬
  3. ধারা ৩৩৫
  4. ধারা ৩৩৬
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৩৫: উসকানির কারণে স্বেচ্ছায় দেওয়া গুরুতর আঘাত-
যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক উসকানির কারণে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদান করবে, যদি সে এই আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য না থাকে বা তার জানা না থাকে যে, সে অন্য কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করতে পারে, যিনি উসকানি দিয়েছেন, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ চার বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়ই দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

⇒ মাহিন সহকর্মীর কাছ থেকে গভীর এবং আকস্মিক উসকানি পেয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে সে সহকর্মীকে আঘাত করে গুরুতর ক্ষতি করেছে (চোয়াল ভাঙা = grievous hurt)। তবে মাহিনের উদ্দেশ্য ছিল না গুরুতর ক্ষতি করা, এবং সে কেবল উসকানিতে তা করেছে — এ পরিস্থিতিতে দণ্ডবিধির ৩৩৫ ধারা প্রযোজ্য।
৫৯৯.
'A' অজ্ঞাত মালিকের একটি সোনার আংটি পায়। মালিককে খুজে বের করার চেষ্টা না করেই 'A' তা বিক্রি করে। 'A' যে অপরাধে দোষী হবে,তা-
  1. চুরি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. দস্যুতা
  4. অসাধুভাবে আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
⇒ অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের সংজ্ঞা (Dishonestly misappropriation of property)- স্বাভাবিকভাবে বা দৈবচক্রে কোন সম্পত্তি দখলে আসার পর, প্রকৃত মালিকের খোঁজ খবর না নিয়েই অথবা প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে উক্ত সম্পত্তি ফেরত না দিয়ে নিজে ভোগ করলে তা অসাধুভাবে আত্মসাৎ হবে।
⇒ প্রাথমিকভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করলেই তা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ হবে না বরং পরবর্তীতে যখনই সম্পত্তিটি অসাধুভাবে নিজ ব্যবহারে পরিণত করা হয়, তখনই তা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ বলে গণ্য হবে।
⇒ যেমন- 'A' নিজের মনে করে 'X'-এর সম্পত্তি সরল মনে 'X'-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে 'A' চুরির জন্য দায়ী হবে হবে না: কিন্তু যদি 'A' নিজের ভুল বোঝার পরেও অসাধুভাবে সম্পত্তিটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে, সেক্ষেত্রে 'A' অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে দায়ী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাৎও এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে।

অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।
৬০০.
অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪৪৮
  2. ৪৪৯
  3. ৪৪৭
  4. ৪৪৬
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৭ ধারা মতে- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি হলো অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৭ ধারার বিধান অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 447- Punishment for criminal trespass:
Whoever commits criminal trespass shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.