বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা ২৪ / ২৫ · ২,৩০১২,৪০০ / ২,৪৪৭

২,৩০১.
দণ্ডবিধির ৭৩ ধারা অনুযায়ী নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সর্বোচ্চ কত দিন?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
শুধুমাত্র সশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়। নির্জন কারাবাস সর্বমোট ৩ মাসের বেশি হবে না।
-৭৪ ধারা মতে নির্জন কারাবাস একটানা ১৪ দিনের বেশি হবেনা, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাসের অধিক হলে কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
২,৩০২.
The Penal Code, 1860 এর ________ ধারায় মানহানির ১০টি ব্যতিক্রমের বিষয় উল্লেখ আছে।
  1. ৪৯৮
  2. ৪৯৯
  3. ৫০০
  4. ৫০১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে। অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবে না।

⇒ ১০টি ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।

৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না।
২,৩০৩.
The punishment under Section 392 of the Penal Code is applicable to a person who is found guilty of:
  1. Assault
  2. Robbery
  3. Extortion
  4. Dacoity
ব্যাখ্যা
The Penal Code, 1860: Section 392. Punishment for robbery:
Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান- দস্যুতার সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।
২,৩০৪.
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে সহায়তার পর অপরাধটি সংঘটিত না হলে শাস্তি কি ?
  1. ৫ বছর পর্যন্ত (সশ্রম বা বিনাশ্রম ) কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত (সশ্রম বা বিনাশ্রম ) কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত (সশ্রম বা বিনাশ্রম ) কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণঃ
♦অপরাধ অনুষ্ঠিত না হইলেঃ কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার দণ্ডদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডে ও দণ্ডিত করা যাবে।

♦সহায়তার ফলে অপরাধ অনুষ্ঠিত হলে (If act causing harm be done in consequence):- এবং যদি এমন কোন কাজ সম্পাদিত হয় যাতে সহায়তার জন্য সহায়তাকারী দায়ী হয় এবং যাতে কোন ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে যোগসাজশকারী সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে, এবং সহায়তাকারীকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
২,৩০৫.
চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ-এর অপরাধ কখন দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে না?
  1. চুরি করার সময় মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা না করলে
  2. চুরি করার সময় মৃত্যুর হুমকি দিলে
  3. চুরি করার সময় অবৈধ আটকের ভয় প্রদর্শন করলে
  4. চুরি করার সময় তাতক্ষণিক আঘাতের ভয় দেখালে
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
♦ পেনাল কোডের ধারা ৩৯০ এর বিধান যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলিয়া গণ্য হয়ঃ প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
♦যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ ৷ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।
♦বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দসুযতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
♦ ব্যাখ্যা (Explanation):-
অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।
২,৩০৬.
ডাকাতি চলাকালে যদি খুন সংঘটিত হয়, তাহলে অপরাধীদের সর্বোচ্চ কী দণ্ড হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

Section 396- Dacoity with murder:
If any one of five or more persons, who are conjointly committing dacoity, commits murder in so committing dacoity, every one of those persons shall be punished with death, or imprisonment for life, or rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,৩০৭.
ক, গ-কে ধরে ফেলে এবং গ-এর সম্মতি ছাড়া অসাধুভাবে গ-এর পোশাক হতে গ -এর অর্থ ও গহনাসমূহ নিয়ে নেয়। উক্ত গহনা গ্রহণের সময় ক, গ কে স্বেচ্ছাকৃতভাবে বেআইনীভাবে বাধা দেয়। এই ক্ষেত্রে ক এর অপরাধ?
  1. বলপূর্বক গ্রহণ
  2. দস্যুতা
  3. ডাকাতি
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩৯০ ধারা মতে যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলিয়া গণ্যহয়ঃ প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
♦যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ  কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা ;
♦বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
♦যেহেতু ক, গ এর সম্মতি ছাড়া অসাধুভাবে গ এর পোশাক হতে গ এর অর্থ ও গহনাসমূহ নিয়ে নেয়, তাই চুরি করেছে বলে গণ্য হবে এবং যেহেতু চুরি করার সময় ক, গ কে স্বেচ্ছাকৃতভাবে এবং বেআইনিভাবে বাধা দেয়, তাই উক্ত চুরি দস্যুতায় পরিণত হয়েছে এবং ক দস্যুতা করেছে বলে গণ্য হবে।
২,৩০৮.
করিম নিজেকে সরকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে কয়েকটি দোকানে গিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষা করেন এবং জরিমানা নেওয়ার চেষ্টা করেন। তার এই কাজের জন্য সর্বোচ্চ কত মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৭ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ২ বছর।

দণ্ডবিধির ১৭০ ধারা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে কাজ করলে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয়বিধ দণ্ড হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারার বিধান- সরকারী কর্মচারী বলে ছদ্মবেশ ধারণ:
কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২,৩০৯.
‘E’ জেনেশুনে একটি জাল ব্যাংক-নোট দখলে রাখে এবং তা সত্য বলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখে। দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে 'E' এর অপরাধটি শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৪৮৯ক
  2. ধারা ৪৮৯খ
  3. ধারা ৪৮৯গ
  4. ধারা ৪৮৯ঘ
ব্যাখ্যা

⇒ ‘E’ জেনেশুনে একটি জাল ব্যাংক-নোট দখলে রাখে এবং তা সত্য বলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখে। দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুসারে, এই অপরাধটি ধারা ৪৮৯গ (Section 489C) এর অধীনে শাস্তিযোগ্য।
⇒ ধারা ৪৮৯গ এ বলা আছে: যে কেউ জেনেশুনে বা বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকা সত্ত্বেও কোনো জাল বা নকল মুদ্রা-নোট বা ব্যাংক-নোট দখলে রাখে এবং তা সত্য বলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখে, সে উভয় প্রকারের কারাদণ্ডে, যা সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
- সঠিক উত্তর: গ) ধারা ৪৮৯গ।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-489C. Possession of forged or counterfeit currency-notes or bank-notes:
Whoever has in his possession any forged or counterfeit currency-note or bank-note, knowing or having reason to believe the same to be forged or counterfeit and intending to use the same as genuine or that it may be used as genuine, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, or with fine, or with both.

২,৩১০.
স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করানোর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বৎসর কারাদণ্ড
  3. ৭ বৎসর কারাদণ্ড
  4. ৫ বৎসর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ :- কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
---------------------------
Causing miscarriage without women's consent:
Section 313. Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,৩১১.
‘A’ মিথ্যাভাবে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘Z’-কে প্রতারিত করে এবং তাকে ঋণে পণ্য সরবরাহ করতে প্ররোচিত করে সফল হয়, যা পরিশোধের ইচ্ছা তার ছিল না। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫ অনুসারে, প্রতারণা (Cheating) হলো কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণামূলকভাবে প্ররোচিত করা যাতে সে সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা এমন কাজ করে যা সে আইনত করতে বাধ্য নয়, এবং এতে তার ক্ষতি হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখানে, ‘A’ মিথ্যাভাবে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘Z’-কে প্রতারিত করেছে এবং তাকে ঋণে পণ্য সরবরাহ করতে প্ররোচিত করেছে, যা পরিশোধের ইচ্ছা তার ছিল না। এটি স্পষ্টতই প্রতারণার অপরাধ। ধারা ৪১৭ অনুসারে, সাধারণ প্রতারণার শাস্তি হলো ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। তবে, যদি প্রতারণার ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তবে ধারা ৪২০ (প্রতারণা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচনা) প্রযোজ্য, যার শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘A’-এর কাজ ধারা ৪২০-এর অধীনে পড়ে, কারণ সে অসৎ উদ্দেশ্যে ‘Z’-কে সম্পত্তি (পণ্য) হস্তান্তরে প্ররোচিত করে সফল হয়েছে।

অর্থাৎ ‘A’-এর কাজ ধারা ৪২০-এর অধীনে প্রতারণা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচনা হিসেবে গণ্য, এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) ৭ বছরের কারাদণ্ড।
---- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 420. Cheating and dishonestly inducing deliver of property:
Whoever cheats and thereby dishonestly induces the person deceived to deliver any property to any person, or to make, alter or destroy the whole or any part of a valuable security, or anything which is signed or sealed, and which is capable to being converted into a valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

২,৩১২.
X ইচ্ছাকৃতভাবে Y (নারী)’র নেকাব খুলে দেয় এবং X জানতো যে Y’র মুখাবরণ খুলে দিলে সে বিরক্ত হবে। এই ক্ষেত্রে X এর অপরাধ-
  1. অপরাধ করার চেষ্টা করা
  2. বলপ্রয়োগ করা
  3. অপরাধমূলক ক্ষতি করা
  4. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করা
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩৫০ মতে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগকোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
♦অর্থাৎ X উক্ত মহিলার নেকাব যেটা তার মুখের সাথে সংযুক্ত ছিল তা খুলে দেয় এবং যেহেতু X জানতো উক্ত নেকাব খুলে দিলে উক্ত নারী বিরক্ত হবে, তাই X এর কাজটি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছে বলে গণ্য হবে।
২,৩১৩.
"দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটা" – এটি কোন ধরনের অপরাধ?
  1. খুন
  2. নরহত্যা নয়
  3. দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু
  4. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা অনুসারে, শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable Homicide) সংঘটিত হয় যদি কেউ:
→ মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করে এবং তার দ্বারা মৃত্যু ঘটে, অথবা
→ এরূপ দৈহিক জখম ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে এবং তার দ্বারা মৃত্যু ঘটে, অথবা
→ এমন কোনো কাজ করে যা দ্বারা মৃত্যু ঘটতে পারে বলে সে জানে এবং তার দ্বারা মৃত্যু ঘটে।
প্রশ্নে উল্লিখিত "দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটা" সরাসরি ধারা ২৯৯ এর দ্বিতীয় শর্তের অন্তর্ভুক্ত। তাই এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable Homicide) এর অপরাধ গঠন করে।
→ সুতরাং, সঠিক উত্তর হল ঘ) শাস্তিযোগ্য নরহত্যা।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।
- ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
- ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
- ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 299. Culpable homicide:
Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide. 
- Explanation 1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death. 
- Explanation 2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
- Explanation 3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.

২,৩১৪.
চোরদের দলে থাকার সাজার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড দেয়া হয়
  2. প্রদত্ত কারাদণ্ড অবশ্যই বিনাশ্রম হবে
  3. প্রদত্ত কারাদণ্ড অবশ্যই সশ্রম হবে
  4. সশ্রম বা বিনাশ্রম যেকোনো কারাদণ্ড দেয়া যায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪০১ ধারার বিধান: চোরদের দলে থাকার সাজা:
কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোন সময়ে এমন কোন ভ্রাম্যমান বা অপর কোনরূপ দলে থাকে, যে দলের ব্যক্তিরা বরাবর চুরি বা দস্যুতা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে পরস্পর সংঘবদ্ধ এবং যদি উহা ঠগদের বা ডাকাতদের দল না হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 401. Punishment for belonging to gang of thieves:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall belong to any wandering or other gang of person, associated for the purpose of habitually committing theft or robbery, and not being a gang of thugs or dacoits, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
২,৩১৫.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগের ক্ষেত্রে সাজার প্রকৃতি কিরূপ হবে?
  1. সশ্রম
  2. বিনাশ্রম
  3. সাধারণ শ্রম
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫৩ ধারার ব্যাখ্যাতে উল্লেখ আছে যে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে তা অবশ্যই সশ্রম হবে।

• দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:

(i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty);

(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life);

(iii) কারাদণ্ড (Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple);

(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property);

(v) অর্থদণ্ড (fine)।

⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
২,৩১৬.
'Limit of solitary confinement' এর বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় আছে?
  1. Section 73
  2. Section 74
  3. Section 75
  4. Section 71
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারা মতে নির্জন কারাবাস একটানা ১৪ দিনের বেশি হবেনা, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাসের অধিক হলে কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

♦ শুধুমাত্র সশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়। নির্জন কারাবাস সর্বমোট ৩ মাসের বেশি হবে না।

♦ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

♦ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
-------------
♦ Limit of solitary confinement:
- Section 74. In executing a sentence of solitary confinement, such confinement shall in no case exceed fourteen days at a time, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods, and when the imprisonment awarded shall exceed three months, the solitary confinement shall not exceed seven days in any one month of the whole imprisonment awarded, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods.
২,৩১৭.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী 'খুন'-এর সংজ্ঞা ও শর্তাবলি দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২৯৯
  2. ধারা ৩০০
  3. ধারা ৩০২
  4. ধারা ৩০৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ধারা ৩০০ (Section 300) তে "Murder" বা 'খুন'-এর সংজ্ঞা ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, "Culpable Homicide" কখন Murder হিসেবে পরিগণিত হবে এবং কখন ব্যতিক্রম হিসাবে Murder হবে না।
- ধারা ৩০০-তে মোট চারটি মূল অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো থাকলে খুনের অপরাধ সংঘটিত হয়, যেমন:
১) মৃত্যুর ইচ্ছা থাকলে,
২) এমন আঘাত দিলে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে অপরাধী জানে,
৩) এমন আঘাত যা সাধারণভাবে মৃত্যু ঘটানোর পক্ষে যথেষ্ট,
৪) এমন আশু বিপজ্জনক কাজ করা যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা ছিল।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 300: Murder:
-Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.

Illustration:
(a) A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder.

২,৩১৮.
'ক' রাজপথের উপর একটি টাকার থলে দেখতে পায়। সে জানে না যে ঐ টাকার মালিক কে। 'ক' টাকার থলেটি গ্রহণ করে এবং মালিকের খোঁজ না নিয়ে নিজে টাকা খরচ করে ফেলে। এই ক্ষেত্রে 'ক' এর অপরাধ-
  1. চুরি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. কোন অপরাধ করেনি
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
⇒ অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের সংজ্ঞা (Dishonestly misappropriation of property)- স্বাভাবিকভাবে বা দৈবচক্রে কোন সম্পত্তি দখলে আসার পর, প্রকৃত মালিকের খোঁজ খবর না নিয়েই অথবা প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে উক্ত সম্পত্তি ফেরত না দিয়ে নিজে ভোগ করলে তা অসাধুভাবে আত্মসাৎ হবে।
⇒ প্রাথমিকভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করলেই তা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ হবে না বরং পরবর্তীতে যখনই সম্পত্তিটি অসাধুভাবে নিজ ব্যবহারে পরিণত করা হয়, তখনই তা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ বলে গণ্য হবে।
⇒ যেমন- 'A' নিজের মনে করে 'X'-এর সম্পত্তি সরল মনে 'X'-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে 'A' চুরির জন্য দায়ী হবে হবে না: কিন্তু যদি 'A' নিজের ভুল বোঝার পরেও অসাধুভাবে সম্পত্তিটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে, সেক্ষেত্রে 'A' অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে দায়ী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাৎও এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে।

অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।
২,৩১৯.
দণ্ডবিধির বিধান অনুসারে নির্জন কারাবাস (solitary confinement) একাদিক্রমে সর্বোচ্চ কত দিনের বেশি হবে না?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ ৭৪ ধারা মতে নির্জন কারাবাস একটানা ১৪ দিনের বেশি হবেনা, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাসের অধিক হলে কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না। অর্থাৎ দণ্ডবিধির বিধান অনুসারে নির্জন কারাবাস (solitary confinement) একাদিক্রমে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের বেশি হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
-----------
⇒ Section 73: Solitary confinement:
 Whenever any person is convicted of an offence for which under this Code the Court has power to sentence him to rigorous imprisonment, the Court may, by its sentence, order that the offender shall be kept in solitary confinement for any portion or portions of the imprisonment to which he is sentenced, not exceeding three months in the whole, according to the following scale, that is to say
a time not exceeding one month if the term of imprison-ment shall not exceed six months:  
a time not exceeding two months if the term of imprisonment shall exceed six months and shall not exceed one year: 
a time not exceeding three months if the term of imprisonment shall exceed one year.

⇒ Section 74: Limit of solitary confinement:
 In executing a sentence of solitary confinement, such confinement shall in no case exceed fourteen days at a time, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods, and when the imprisonment awarded shall exceed three months, the solitary confinement shall not exceed seven days in any one month of the whole imprisonment awarded, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods.
২,৩২০.
কমপক্ষে ৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হয় কোনটিতে?
  1. ডাকাতি
  2. বেআইনী সমাবেশে
  3. দস্যুতা
  4. ক ও খ উভই
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।
ডাকাতির অভিযোগ প্রমান করতে হলে দস্যুতার অভিযোগকেও প্রমান করতে হবে।

♦ ডাকাতির উপাদান:
(i) পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;

(ii) উক্ত দলের এক বা একাধিক ব্যক্তি দস্যুতা করেছিল বা করার চেষ্টা করেছিল;

(iii) ডাকাত দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিল এবং এ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিল।

♦ ডাকাতির চেষ্টা করা কোন আলাদা অপরাধ নয়, ডাকাতির চেষ্টা করাও ডাকাতির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।যেক্ষেত্রে আদালত ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতির চার্জ গঠন করেছে কিন্তু পরবর্তীতে ৫ এর কম সংখ্যক ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে আদালত ডাকাতির শাস্তি দিতে পারেনা কিন্তু তাদেরকে দস্যুতার জন্য দণ্ডিত করতে পারে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-

১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

♦ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
♦ বেআইনী সমাবেশ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন ব্যক্তি এবং ১৪১ ধারায় উল্লেখিত ৫ ধরনে সাধারণ উদ্দেশ্যের (common object) রযে কোন একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকতে হবে।

♦অর্থাৎ কমপক্ষে ৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হয় ডাকাতির এবং বেআইনী সমাবেশে।
২,৩২১.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শক্তি বা বল প্রয়োগ করলে তাকে-
  1. হরতাল বলে
  2. বিক্ষোভ বলে
  3. দাঙ্গা বলে
  4. নাশকতা বলে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারা মতে দাঙ্গার সংজ্ঞা: বেআইনি সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শক্তি বা বল প্রয়োগ করলে তাকে দাঙ্গা বলে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারার বিধান দাঙ্গা:- কোন বেআইনী সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উক্ত বেআইনী সমাবেশ দ্বারা বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী কোন ব্যক্তি কর্তৃক বল বা উগ্রতা প্রয়োগ করা হলে, উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৭ ধারার বিধান দাঙ্গা করার সাজা :- কোন ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে, তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।
-------------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-146. Rioting:- Whenever force or violence is used by an unlawful assembly, or by any member thereof, in prosecution of the common object of such assembly, every member of such assembly is guilty of the offence of rioting.
⇒ The Penal Code, 1860- Section-147:- Punishment for rioting:
Whoever is guilty of rioting, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,৩২২.
যদি একজন বিদেশী 'ক' জাপানের একটি বন্দরে অবস্থানকালে বাংলাদেশের নিবন্ধিত একটি জাহাজে আরেকজন বিদেশী 'গ' কে হত্যা করে, তাহলে 'ক' এর কী হবে?
  1. বিদেশীকে হত্যায় কোন অপরাধ করেনি
  2. বাংলাদেশে বিচার করা যাবেনা এবং খুনের জন্য দণ্ডিত করা যাবেনা
  3. বাংলাদেশে বিচার করা যাবে এবং খুনের জন্য দণ্ডিত করা যাবে
  4. বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশী জাহাজে হত্যা করায় কোন অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
⇒ পেনাল কোড অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক দেশে-বিদেশে যেখানেই পেনাল কোডের অপরাধ করুক তাঁকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে বিচার করা যাবে।
- বিদেশী নাগরিক যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে বা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অবস্থান করে কোনো অপরাধ করলে এবং তা পেনাল কোডে দণ্ডনীয় হলে তার বিচার বাংলাদেশে করা যাবে। কিন্তু বিদেশী কোনো নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে সেটি বাংলাদেশে বিচার্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i)  বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।

অর্থাৎ 'ক' এর হত্যার অপরাধের বিচার বাংলাদেশে করা যাবে এবং খুনের জন্য দণ্ডিত করা যাবে।
২,৩২৩.
দণ্ডবিধির কত ধারায় বেপরোয়াভাবে নৌযান চালানোর শাস্তি কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. ২৭৯
  2. ২৮১
  3. ২৭৬
  4. ২৮০
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারায় বেপরোয়া নৌযান চালানোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
⇒ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা বেপরোয়াভাবে নৌযান চালনা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবেহলার সাথে কোন নৌযান চালনা করে, যার কারণে কোন মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত লাগার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 280: Rash navigation of vessel:- Whoever navigates any vessel in a manner so rash or negligent as to endanger human life, or to be likely to cause hurt or injury to any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
২,৩২৪.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কারো জামা টেনে ধরে, তাহলে তা দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে?
  1. ধারা ৩৪৭
  2. ধারা ৩৪৮
  3. ধারা ৩৪৯
  4. ধারা ৩৫২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৯ অনুযায়ী, যদি কেউ অন্য কোনো ব্যক্তির জামা টেনে ধরে, তাহলে সে ব্যক্তি বলপ্রয়োগ করেছে বলে গণ্য হবে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ অন্য কারো গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা কোনো বস্তুতে এমন গতি সৃষ্টি করে যা অপর ব্যক্তির দেহের অংশের সাথে সংস্পর্শে আসে, তখন এটি বলপ্রয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 -Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described:
Firstly. By his own bodily power.
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person.
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
২,৩২৫.
To be held liable under Section 209, what must the individual intend when making the false claim?
  1. To get fame and recognition
  2. To escape punishment
  3. To delay court proceedings
  4. To injure or annoy any person
ব্যাখ্যা
Section 209- Dishonestly making false claim in Court:
Whoever fraudulently or dishonestly, or with intent to injure or annoy any person, makes in a Court of Justice any claim which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, and shall also be liable to fine.

দণ্ডবিধির ২০৯ ধারা: আদালতে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা দাবি করা:

যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণামূলকভাবে বা অসৎ উদ্দেশ্যে, অথবা কারো ক্ষতি করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে, আদালতে এমন কোনো দাবি করে যা সে মিথ্যা বলে জানে, তাহলে সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং সেই সাথে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
২,৩২৬.
কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলে-
  1. Extortion
  2. Theft
  3. Dishonest Misappropriation of property
  4. Dacoity
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৩৮৩ ধারাতে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion) রয়েছে। কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বা extortion বলে।

♦ অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।
২,৩২৭.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় প্রতারণার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪২০ ধারায়
  2. ৪১৫ ধারায়
  3. ৪০৬ ধারায়
  4. ৪০৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
- The Penal Code, 1860 এর ৪১৫ ধারায় প্রতারণার বিধান রয়েছে। প্রতারণা বলতে ফাঁকি দিয়ে বা মিথ্যা বর্ণনার দ্বারা কাউকে এমনভাবে প্রভাবিত করা যে, প্রতারিত ব্যক্তি যেন প্রতারণাকারীর ইচ্ছামাফিক কোন কাজ করে যা প্রতারিত ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করে (damage or harm to that person in body,mind,reputation or property) অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা না করতে বা সম্পত্তি অর্পনে বাধ্য করে।

- যে ব্যক্তি প্রতারণা করেন তাকে প্রতারণাকারী বলে, অন্যদিকে যে ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হন তাকে প্রতারিত বলে।

- The Penal Code, 1860 এর ৪১৫ ধারা অনুযায়ী অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা (A dishonest concealment of facts) ছলনা (deception) বলে গণ্য হবে।
২,৩২৮.
দণ্ডবিধির ৩৮ ধারা অনুসারে, যদি একাধিক ব্যক্তি একটি অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকে, তবে—
  1. সবাই একই অপরাধে দোষী হবে
  2. প্রত্যেকে বিভিন্ন অপরাধে দোষী হতে পারে
  3. কেবল মূল অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হবে
  4. কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮ ধারার বিধান- অপরাধমূলক কার্যে জড়িত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন:
কোন অপরাধমূলক কাজ সংঘটনে কতিপয় ব্যক্তি ব্যাপৃত থাকলে অথবা উহা সংঘটনের সাথে তারা জড়িত থাকলে, উক্ত কাজের জন্য তারা বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে।

উদাহরণ-
ক এমন উগ্র প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে চ-কে আক্রমণ করে যে, তার এই আক্রমণে চ নিহত হলে তা কেবল অপরাধমূলক প্রাণনাশ হবে, যা খুন বলে পরিগণিত হবে না। চ-এর প্রতি খ-এর বিদ্বেষ থাকায় এবং চ-কে হত্যা করার জন্য খ-এর অভিপ্রায় থাকায়, খ বিনা প্ররোচনায় চ-কে হত্যার কার্যে ক কে সহায়তা করে। এই দৃষ্টান্তে ক ও খ উভয়েই চ-কে হত্যার কার্যে ব্যাপৃত থাকলেও, খ খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে এবং ক শুধু অপরাধমূলক প্রাণনাশের অপরাধে অপরাধী হবে।
২,৩২৯.
দণ্ডবিধি অনুসারে, অর্থদণ্ড আদায় করার জন্য সর্বাধিক সময়সীমা কত বছর নির্ধারিত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা সম্পর্কে ৩টি বিধানের উল্লেখ আছে।
(i) দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়।
(ii) ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে।
(iii) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে। অর্থাৎ আসামির মৃত্যু হলেও অর্থদণ্ড/জরিমানা মওকুফ হবে না।

- দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদণ্ড ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:-
- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশ বলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।

⇒ The Penal Code, 1860 -Section- 70. Fine leviable within six years, or during imprisonment Death not to discharge property from liability:
The fine, or any part thereof which remains unpaid, may be levied at any time within six years after the passing of the sentence, and if, under the sentence, the offender be liable to imprisonment for a longer period than six years, then at any time previous to the expiration of that period; and the death of the offender does not discharge from the liability of any property which would, after his death, be legally liable for his debts.

২,৩৩০.
দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় কোন অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. খুনের প্ররোচনা
  2. আত্মহত্যার চেষ্টা
  3. নরহত্যার চেষ্টা
  4. আত্মহত্যায় প্ররোচনা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা- আত্মহত্যা করার চেষ্টা:
কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 309- Attempt to commit suicide:
Whoever attempts to commit suicide and does any act towards the commission of such offence, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
২,৩৩১.
সরকারি স্ট্যাম্প জালকরণের অপরাধ সম্পর্কে দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা আছে?
  1. ১৫১ ধারা
  2. ১৬১ ধারা
  3. ২৩৫ ধারা
  4. ২৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৫৫ ধারা- সরকারি স্ট্যাম্প জাল করণ:
কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বা জ্ঞাতসারে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এক মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পকে কোন ব্যক্তি যদি দেখতে অপর মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পের মত করে লয়, তবে সে ব্যক্তি এই অপরাধ অনুষ্ঠান করে বলে পরিগণিত হবে।

Section 255- Counterfeiting Government stamp:
Whoever counterfeits, or knowingly performs any part of the process of counterfeiting, any stamp issued by Government for the purpose of revenue, shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

Explanation:- A person commits this offence who counterfeits by causing a genuine stamp of one denomination to appear like a genuine stamp of a different denomination.
২,৩৩২.
'Forged document'- এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৪৬৩ ধারায়
  2. ৪৬৪ ধারায়
  3. ৪৬৮ ধারায়
  4.  ৪৭০ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৭০: জাল দলিল (forged document)-
একটি দলিল, যা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়, তাকে “জাল দলিল”  বলা হয়।

[A false document made wholly or in part by forgery is designated “a forged document"]
২,৩৩৩.
'দণ্ড হ্রাসের শর্ত অমান্য করার ফলাফল'- দণ্ডবিধির কত ধারায় বলা আছে?
  1. ধারা ২২১
  2. ধারা ২২৩
  3. ধারা ২২৫
  4. ধারা ২২৭
ব্যাখ্যা
ধারা ২২৭- দণ্ড হ্রাসের শর্ত অমান্য করা:
যে লােক, কোন শর্তাধীনে দণ্ড হ্রাসের সুবিধা গ্রহণ করার পর, যে শর্তের উপর ভিত্তি করে এরূপ দণ্ড হ্রাসের সুবিধা মঞ্জুর করা হয়েছিল, জ্ঞাতসারে সেই শর্ত অমান্য করে, সেই লােক, সে ইতিমধ্যেই ঐ দণ্ডের কোন অংশ ভােগ না করে থাকলে, তাকে মূলত যে দণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছিল সেই দণ্ডে দণ্ডিত হবে ও সে ঐ দণ্ডের কোন অংশ ভােগ করে থাকলে সে ইতিমধ্যেই দণ্ডের যেই অংশ ভােগ করে নি, সেই পরিমাণ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

Section 227- Violation of condition of remission of punishment:
Whoever, having accepted any conditional remission of punishment, knowingly violates any condition on which such remission was granted, shall be punished with the punishment to which he was originally sentenced, if he has already suffered no part of that punishment, and if he has suffered any part of that punishment, then with so much of that punishment as he has not already suffered.
২,৩৩৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দেওয়ার শাস্তি বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ৩০৪
  2. ধারা ৩০৫
  3. ধারা ৩০৬
  4. ধারা ৩০৭
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৫-এ শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দেওয়ার শাস্তি বর্ণিত আছে। এই ধারা অনুসারে, যদি ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি, উন্মাদ, প্রলাপগ্রস্ত, নির্বোধ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দেয়, তাকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যায় এবং অর্থদণ্ডও দেওয়া যায়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 305: Abetment of suicide of child or insane person:
-If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.

২,৩৩৫.
সরকারি কর্মচারীকে দাঙ্গা দমনের সময় বাধাদান করলে The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. ১৪৯ ধারায়
  2. ১৫০ ধারায়
  3. ১৫২ ধারায়
  4. ১৫৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:-
-কোন সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,৩৩৬.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ অনুযায়ী, কয়টি ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে নিন্দনীয় নরহত্যা খুন বলে বিবেচিত হবে না?
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩০০ এ বলা হয়েছে- সব নিন্দনীয় নরহত্যা খুন হিসেবে গণ্য হবে, তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া। এই ধারায় মোট ৫টি ব্যতিক্রম উল্লেখ আছে, যেগুলোর আওতায় কোনো নরহত্যা সংঘটিত হলে তা খুন (Murder) হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তা অপহত্যা (Culpable Homicide not amounting to murder) হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ৫টি ব্যতিক্রম হলো:
- আকস্মিক ও মারাত্মক প্ররোচনার ফলে আত্মসংযম হারিয়ে হত্যা।
- আত্মরক্ষা বা সম্পত্তি রক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে সীমা অতিক্রম করে মৃত্যু ঘটানো।
- সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আইনানুগ দায়িত্ব পালনের সময় সীমা অতিক্রম করে মৃত্যু ঘটানো।
- আকস্মিক ঝগড়া বা উত্তেজনায় পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া মৃত্যু ঘটানো।
- ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করানো।
সুতরাং, সঠিক উত্তর – খ) ৫টি

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:
⇒ ব্যতিক্রম ১:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
⇒ ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
২,৩৩৭.
বেআইনি শ্রমে বাধ্য করা বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের শাস্তির বিধান আছে কত ধারায়?
  1. ৩৭০ধারায়
  2. ৩৭১ ধারায়
  3. ৩৭৩ ধারায়
  4. ৩৭৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
 ♦ দণ্ডবিধি ৩৭৪ ধারার বিধান বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা :- (১) কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এম দান করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যাঃ এই “যুদ্ধবন্দী” এবং “আশ্রিত ব্যক্তি” অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই :- আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

দণ্ডবিধি ৩৭৪ ধারা মতে বেআইনি শ্রমে বাধ্য করা বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের ২ ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।
(i) কোন ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রমদান করতে বাধ্য করার শাস্তি- অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভদণ্ড।
(ii) কোন যুদ্ধবন্ধী বা অন্য কোন আশ্রিত লোককে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে বাধ্য করার শাস্তি- অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড।
২,৩৩৮.
অর্থদণ্ড কত বছরের মধ্যে যে কোন সময় আদায়যোগ্য?
  1. ৬ বছরের মধ্যে
  2. ১২ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ৫ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৭০ মতে অনাদায়ী অর্থদন্ড দন্ডাদেশ প্রদানের ৬ বছরের মধ্যে আদায় করা যায়। দন্ডাদেশের মধ্যে ৬ বছরের অধিক সময়ের জন্য কারাদণ্ড থাকলে উক্ত সময় শেষ হওয়ার আগে যেকোন সময়ে আদায় করা যাবে। এ সময়ে মৃত্যু হলে তার সম্পত্তি দায়বদ্ধ থাকবে।
২,৩৩৯.
What is the maximum fine that can be imposed for rash navigation of a vessel according to Section 280?
  1. 300 taka
  2. 500 taka
  3. 1,000 taka
  4. 3,000 taka
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারায় বেপরোয়া নৌযান চালানোর শাস্তির বিধান রয়েছে। উক্তধারা অনুসারে ছয় মাস পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা বেপরোয়াভাবে নৌযান চালনা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবেহলার সাথে কোন নৌযান চালনা করে, যার কারণে কোন মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত লাগার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 280. Rash navigation of vessel:- Whoever navigates any vessel in a manner so rash or negligent as to endanger human life, or to be likely to cause hurt or injury to any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
২,৩৪০.
দণ্ডবিধির ৩৩ ধারায় নিচের কোনটির সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. Act
  2. Omission
  3. Offence
  4. 'A' & 'B' Both
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩ ধারায় কার্য বিচ্যুতি বা “Act” “Omission” এর সংজ্ঞা রয়েছে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩ ধারার বিধান:- কার্য বিচ্যুতি:

-কার্য বলতে একক কাজ হিসেবে কার্যসমূহের শ্রেণীকেও বুঝাবে। বিচূতি বলতে একক বিচূতি হিসেবে বিচূতি সমূহের শ্ৰেণীকেও বুঝাবে।
⇒ The Penal Code, 1860- Section-33: “Act” “Omission”:
 The word "act" denotes as well a series of acts as a single act: the word "omission” denotes as well a series of omissions as a single omission.
২,৩৪১.
দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা কোন অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ধর্ষণের অপরাধ
  2. শ্লীলতাহানির অপরাধ
  3. অপহরণের অপরাধ
  4. বলপ্রয়োগের অপরাধ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৬ ধর্ষণের (Rape) অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে। এই ধারায় ধর্ষণের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে, যদি না ধর্ষিত ব্যক্তি অপরাধীর স্ত্রী হয় এবং ১২ বছরের কম বয়স্ক না হয় (যাতে শাস্তি হালকা হয়)।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 376. Punishment for rape:- Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

২,৩৪২.
দণ্ডবিধি ১৬১ ধারা অনুসারে সরকারি কর্মচারী যদি কোনও অবৈধ পুরস্কার (ঘুষ) গ্রহণ করেন, তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
→ দণ্ডবিধি ১৬১ ধারায়, সরকারি কর্মচারী যদি কোনও অবৈধ পুরস্কার (ঘুষ) গ্রহণ করেন, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়ই হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা অনুসারে- কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কোনি সরকারি কাজ বৈধ পারিশ্রমিক ছাড়া অন্যকোনো রকম বখশিস নিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বখশিস গ্রহণ বা গ্রহণে সম্মত বা গ্রহণের চেষ্টা করলে সেই কর্মকর্তা-কর্মচারী যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানা বা উভয় প্রকার দণ্ড হতে পারে।
নিজে না করে অন্য কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করে দেওয়ার জন্য বখশিস গ্রহণও এই ধারা অনুসারে ঘুষের মধ্যে পড়ে। ঘুষ চাওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি ঘুষ না দিলে বিপদ হবে এ ধরনের ধমক দেওয়াও ঘুষ নেওয়ার শামিল। আবার কাউকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবও অপরাধ।

দণ্ডবিধির ১৬১ ধারার বিধান সরকারি কর্মচারী অবৈধ পুরস্কার গ্রহণ:
যে ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বা তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রত্যাশা করছেন, সে যদি কোনো ব্যক্তি থেকে, নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য, কোনো ধরনের অবৈধ পুরস্কার গ্রহণ করে, বা গ্রহণ করতে সম্মত হয়, বা গ্রহণ করার চেষ্টা করে, এবং এটি যদি কোনো সরকারি কাজ করার বা না করার জন্য, অথবা তার সরকারি কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তির প্রতি পক্ষে বা বিপক্ষে অনুকম্পা বা বিরোধিতা প্রদর্শন করার জন্য, বা সরকার বা আইনসভা বা অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর প্রতি কোনো সেবা বা অসেবা প্রদানের জন্য হয়, তবে তাকে ৩ বছরের পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে।

ব্যাখ্যা:
"সরকারি কর্মচারী হওয়ার প্রত্যাশা": যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার প্রত্যাশা না করেও অন্যদেরকে এভাবে প্রতারণা করে যে সে শীঘ্রই সরকারি কর্মচারী হবে এবং তারপর তাদের সেবা করবে, তবে সে প্রতারণার জন্য দোষী হতে পারে, কিন্তু এই ধারা অনুযায়ী অপরাধী নয়।
"গ্র্যাটিফিকেশন": "গ্র্যাটিফিকেশন" শব্দটি শুধুমাত্র আর্থিক উপকারিতা বা এমন কোনো পুরস্কারকেই বোঝায় যা টাকায় মাপা যেতে পারে, তা নয়; এটি এমন পুরস্কারকেও বোঝায় যেগুলো টাকা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না।
"আইনগত পারিশ্রমিক": "আইনগত পারিশ্রমিক" শব্দটি শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীর দাবি করা পারিশ্রমিককেই বোঝায় না; এটি এমন সমস্ত পারিশ্রমিককেও অন্তর্ভুক্ত করে যা সে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গ্রহণ করতে পারে।
"কোনো কাজ করার জন্য প্রণোদনা বা পুরস্কার": যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কাজ না করার জন্য পুরস্কার গ্রহণ করে, অথবা কোনো কাজ না করার জন্য পুরস্কার গ্রহণ করে যা সে আসলে করেনি, তবে তা এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ:

(ক) এ, একজন মুনসিফ, জেড, একজন ব্যাংকারের কাছ থেকে তার ভাইয়ের জন্য একটি চাকরি পায়, জেডের পক্ষে কোনো মামলার সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য পুরস্কার হিসেবে। এ এই অপরাধটি করেছেন।
(খ) এ, একজন কনসুল, একটি বিদেশী শক্তির আদালতে, ওই শক্তির মন্ত্রীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এখানে এটা মনে হয় না যে এ টাকা গ্রহণ করেছেন কোনো নির্দিষ্ট সরকারি কাজ করার জন্য, তবে তিনি এটি গ্রহণ করেছেন সাধারণভাবে ওই শক্তির প্রতি তার অনুকম্পা প্রদর্শন করার জন্য, যা দণ্ডবিধি ১৬১ ধারায় অপরাধ।
(গ) এ, একজন সরকারি কর্মচারী, জেডকে ভুলভাবে বিশ্বাস করান যে তার সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে জেডের জন্য একটি শিরোনাম অর্জিত হয়েছে এবং এর জন্য জেড তাকে টাকা দেন। এ এই অপরাধটি করেছেন।
------------ 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 161. Public servant taking gratification other than legal remuneration in respect of an official act:
Whoever, being or expecting to be a public servant, accepts or obtains, or agrees to accept, or attempts to obtain from any person, for himself or for any other person any gratification whatever, other than legal remuneration, as a motive or reward for doing or forbearing to do any official act or for showing or for bearing to show, in the exercise of his official functions, favour or disfavour to any person, or for rendering or attempting to render any service or disservice to any person, with the Government or Legislature, or with any public servant, as such, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both. 
 
Explanations-“Expecting to be a public servant.” If a person not expecting to be in office obtains a gratification by deceiving others into a belief that he is about to be in office, and that he will then serve them, he may be guilty of cheating but he is not guilty of the offence defined in this section. 
“Gratification.” The word “gratification” is not restricted to pecuniary gratifications, or to gratifications estimable in money. 
“Legal remuneration.” The words “legal remuneration” are not restricted to remuneration which a public servant can lawfully demand, but include all remuneration which is permitted by the authority by which he is employed, to accept. 
“A motive or reward for doing.” A person who receives a gratification as a motive for doing what he does not intend to do, or as a reward for doing what he has not done, comes within these words. 
 
Illustrations:
(a) A, a munsif, obtains from Z, a banker, a situation in Z's bank for A's brother, as a reward to A for deciding a cause in favour of Z. A has committed the offence defined in this section. 
(b) A, holding the office of Consul at the Court of a foreign Power, accepts a lakh of taka from the Minister of that Power. It does not appear that A accepted this sum as a motive or reward for doing or forbearing to do any particular official act, or for rendering or attempting to render any particular service to that Power with the Government of Bangladesh. But it does appear that A accepted the sum as a motive or reward for generally showing favour in the exercise of his official functions to that Power. A has committed the offence defined in this section. 
(c) A, a public servant, induces Z erroneously to believe that A's influence with Government has obtained a title for Z and thus induces Z to give A money as a reward for this service. A has committed the offence defined in this section.
২,৩৪৩.
একজন ব্যক্তি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে জেলখানায় থাকাকালীন অন্য একজন আসামিকে হত্যা করে। তার শাস্তি নির্ধারণের জন্য দণ্ডবিধির কোন ধারাটি সরাসরি প্রযোজ্য?
  1. ৩০২ ধারা
  2. ৩০৩ ধারা
  3. ৩০৪ক ধারা
  4. ৩০৪খ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৩-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: যে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকাকালীন খুন (Murder) সংঘটন করে, তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
- এক্ষেত্রে সাধারণ খুনের ধারা ৩০২ প্রযোজ্য হবে না, কারণ ৩০৩ ধারা একটি বিশেষ ও কঠোরতর বিধান যা বিশেষভাবে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য এবং এর শাস্তি অবশ্যমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধি ৩০৩ ধারার বিধান- যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক খুনের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 303- Punishment for murder by life-convict:
Whoever, being under sentence of imprisonment for life, commits murder, shall be punished with death.

২,৩৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্য করার মধ্য দিয়ে কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে দণ্ডবিধি অনুসারে সর্বোচ্চ সাজা কত?
  1. ১ মাসের কারাদণ্ড
  2. ২ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ৬ মাসের কারাদণ্ড।

দণ্ডবিধি ১৮৮ ধারা: সরকারি কর্মচারীর বিধিসম্মত ঘোষিত আদেশ অমান্য করা-

যে কেউ, যদি জানে যে কোনো সরকারি কর্মচারী, যিনি আইনানুযায়ী কোনো আদেশ ঘোষণার ক্ষমতা রাখেন, তাকে (অর্থাৎ ওই ব্যক্তিকে) কোনো বিশেষ কাজ থেকে বিরত থাকতে বা তার দখলে বা তত্ত্বাবধানে থাকা কোনো সম্পত্তির বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং সে ব্যক্তি সেই আদেশ লঙ্ঘন করে—

তাহলে: যদি তার এই অবাধ্যতা কোনো বৈধভাবে নিযুক্ত ব্যক্তির জন্য বাধা, বিরক্তি, ক্ষতি বা তার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, তাহলে:
- সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা
- ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

আর যদি এই অবাধ্যতা মানবজীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপদ সৃষ্টি করে বা এর সম্ভাবনা থাকে, অথবা দাঙ্গা বা সংঘর্ষের কারণ হয় বা তার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে:
- সর্বোচ্চ ছয় মাসের যে কোনো ধরণের (সাধারণ বা সশ্রম) কারাদণ্ড, বা
- ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলার জন্য বিশেষ আদেশ জারি করা হয়। যদি কেউ জেনে-শুনে ১৪৪ ধারা অমান্য করেন, এবং তার ফলে দাঙ্গা, বিপদ, বা মানবজীবনের ক্ষতি ঘটে, তাহলে সেটা ১৮৮ ধারার গুরুতর অংশে পড়ে। তাই দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম বা সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
২,৩৪৫.
সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকার কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. দশ বছর কারাদণ্ড
  3. তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৯ - সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকার, বণিক বা প্রতিভূ কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:
কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার পদমর্যাদাবলে অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ফ্যাক্টর, দালাল, এটর্নি বা প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায় সূত্রে কোনোভাবে কোনো সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে বা উক্ত সম্পত্তির পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।
২,৩৪৬.
যদি একজন ব্যক্তি ক্ষতি করবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে, তবে তার শাস্তি কি হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২১১ ধারা: ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ:

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

দণ্ডবিধির ২১১ ধারা মতে,
অহেতুক কোন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে দুই ধরনের শাস্তি হতে পারে-
(i)  ক্ষতি সাধনের জন্য অহেতুক কোন ফৌজাদারি মামলা দায়ের করলে অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড 
(ii) যদি উক্তরূপ ফৌজদারি মামলা মৃত্যদণ্ড বা যাবজ্জীবন করাদণ্ড বা ৭ বছর বা তদুর্ধ্ব কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য হয় তাহলে দোষী ব্যাক্তি অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,৩৪৭.
‘A’ একটি দোকানের তালা ভেঙে চুরি করার উদ্যোগ করে, কিন্তু ভিতরে কোনো মালামাল না পেয়ে চুরি সংঘটিত হয় না। দণ্ডবিধির কোন ধারায় ‘A’-এর কাজটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
  1. ৩০৭ ধারা
  2. ৩০৪ ধারা
  3. ৫১১ ধারা
  4. ৫০৩ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫১১ অনুসারে, যখন কেউ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগ (Attempt) করে এবং সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অপরাধ সংঘটনের দিকে কোনো সক্রিয় কাজ করে, কিন্তু কোনো কারণে অপরাধটি সম্পূর্ণ হয় না, তখন সে ধারা ৫১১ এর অধীনে শাস্তি পাবে।
- এখানে, 'A' দোকানের তালা ভেঙ্গে চুরি করার উদ্দেশ্যে সক্রিয় কাজ (তালা ভাঙা) করেছে। যদিও চুরি সম্পন্ন হয়নি কারণ ভিতরে মালামাল ছিল না, তবুও এটি চুরির উদ্যোগ হিসেবে গণ্য হবে।
- চুরি (Theft) দণ্ডবিধির অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাই এর উদ্যোগ ধারা ৫১১ এর আওতায় পড়ে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) ৫১১ ধারা।

⇒ দণ্ডবিধির ৫১১ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের সাজা:-
কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) 'ক' একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
(খ) 'ক', 'চ'- এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। 'চ'- এর পকেটে কিছু ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 'ক' এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
----------- 
⇒ The Penal Code, 1860,Section 511- Punishment for attempting to commit offences punishable with imprisonment for life or imprisonment:
Whoever attempts to commit an offence punishable by this Code with imprisonment for life or imprisonment, or to cause such an offence to be committed, and in such attempt does any act towards the commission of the offence, shall, where no express provision is made by this Code for the punishment of such attempt, be punished with imprisonment of any description provided for the offence, for a term which may extend to one-half of the longest term of imprisonment provided for that offence, or with such fine as is provided for the offence, or with both.

Illustration:
(a) A makes an attempt to steal some jewels by breaking open a box, and finds after so opening the box, that there is no jewel in it. He has done an act towards the commission of theft, and therefore is guilty under this section. 
(b) A makes an attempt to pick the pocket of Z by thrusting his hand into Z's pocket. A fails in the attempt in consequence of Z's having nothing in his pocket. A is guilty under this section.

২,৩৪৮.
দণ্ডবিধির নিচের কোন ধারার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড-
  1. ৩০২ ধারা
  2. ৩০৩ ধারা
  3. ৩০৪ ধারা
  4. ৩৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৩০৩ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাবাসে দন্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক অনুষ্ঠিত খুনের শাস্তিঃকোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
♦ দন্ডবিধির ৩০৩ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি খুন করলে তার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড।
২,৩৪৯.
'A' shakes his fist at 'Z', intending or knowing it to be likely that he may thereby cause 'Z' to believe that 'A' is about to strike 'Z'. What offense has 'A' committed?
  1. Affray
  2. Battery
  3. Assault
  4. Criminal intimidation
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারার বিধান আক্রমণ:
- কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

উদাহরণ:
'ক', 'চ'-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে 'চ' যাতে বিশ্বাস করে যে 'ক' তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই 'ক' তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ: হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে । 'ক' আক্রমণ করেছে।

(খ) ক একটি হিংস্র কুকুরের মুখ বন্ধনী খুলতে শুরু করে। চ যাতে বিশ্বাস করে যে, ক কুকুরটিকে দিয়ে তাকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই কুকুরটির মুখ বন্ধনী খুলে দিচ্ছে, এই উদ্দেশ্যেই, অথবা চ এইরূপ বিশ্বাস করতে পারে জানা সত্ত্বেও ক এই কাজ করে। ক-চ এর উপর আক্রমণ করেছে।

(গ) ক একটি ছুড়ি ঘুরাতে ঘুরাতে চ-কে বলিল, “তোমাকে পিটুনি দেব।” এখানে যদিও কেবল ক-এর ব্যবহৃত কথাগুলি কোনক্রমেই আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে না, এবং যদিও অপর কোন অনুষঙ্গ ব্যতীত কেবল ক-এর অঙ্গভঙ্গি আক্রমণতৃল্য নয়, তবুও অঙ্গভঙ্গি ও তার আনুষঙ্গিক ব্যাখ্যামূলক কথাগুলি মিলিয়ে আক্রমণ বলে পরিগণিত হবে।
-----------------------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-351:Assault:
-Whoever makes any gesture, or any preparation intending or knowing it to be likely that such gesture or preparation will cause any person present to apprehend that he who makes that gesture or preparation is about to use criminal force to that person, is said to commit an assault. 

- Explanation.- Mere words do not amount to an assault. But the words which a person uses may give to his gestures or preparation such a meaning as may make those gestures or preparations amount to an assault. 
 
Illustrations:
(a) A shakes his fist at Z, intending or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that A is about to strike Z. A has committed an assault. 
 
(b) A begins to unloose the muzzle of a ferocious dog, intending, or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that he is about to cause the dog to attack Z. A has committed an assault upon Z. 
 
(c) A takes up a stick, saying to Z, "I will give you a beating". Here, though the words used by A could in no case amount to an assault, and though the mere gesture, unaccompanied by any other circumstances, might not amount to an assault, the gesture explained by the words may amount to an assault.
২,৩৫০.
বেআইনী সমাবেশের সদস্যদের কী থাকতে হবে?
  1. সকলের সম্মতি
  2. সাধারণ উদ্দেশ্য
  3. অপরাধের পরিকল্পনা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-

১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

♦ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
♦ বেআইনী সমাবেশ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন ব্যক্তি এবং ১৪১ ধারায় উল্লেখিত ৫ ধরনে সাধারণ উদ্দেশ্যের (common object) রযে কোন একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকতে হবে।
২,৩৫১.
ক একজন সরকারি কর্মচারী। ক এর স্ত্রী খ একজন মক্কেলকে অবৈধ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে তার স্বামীকে পরামর্শ দিবে এই উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেলের নিকট হতে একটি উপহার গ্রহণ করে। সরকারি কর্মচারী ক কাজটি সম্পন্ন করে তার স্ত্রীকে সহায়তা করে। পেনাল কোডের অধীনে ক এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  4. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
- ১৬৪ ধারা মতে সরকারি কর্মচারী দ্বারা ১৬২ বা ১৬৩ ধারার অপরাধ সমূহ সংঘটনে সহায়তা করার শাস্তি অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড। সুতরাং ক এর সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের কারাদণ্ড হবে।
- ১৬২ ধারায় বলা হয়েছে- অবৈধ উপায়ে সরকারি কর্মচারীকে প্রভাবিত করার জন্য পারিতোষিক গ্রহণ করার শাস্তি অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
- ১৬৩ ধারায় বলা হয়েছে- সরকারি কর্মচারীর উপর ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগের জন্য পারিতোষিক গ্রহণ করার শাস্তি অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
২,৩৫২.
সরকারি কর্মকর্তাকে জলদি কাজ করতে বাধ্য করার জন্য 'ক' উক্ত কর্মকর্তাকে ক্ষতিসাধনের হুমকি দেয়। এক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৮৯ ধারার বিধান- সরকারী কর্মচারীকে ক্ষতিসাধনের হুমকি:
কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কাজ করতে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন কাজ করা হতে বিরত হওয়ার বা করতে বিলম্ব করার জন্য বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, কোন ব্যক্তি যদি উক্ত সরকারী কর্মচারীকে অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত সরকারী কর্মচারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সে অন্য ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 189- Threat of injury to public servant:
Whoever holds out any threat of injury to any public servant, or to any person in whom he believes that public servant to be interested, for the purpose of inducing that public servant to do any act, or to forbear or delay to do any act, connected with the exercise of the public functions of such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

২,৩৫৩.
ধর্ষন অপরাধ সংঘটনের উপাদান হলো-
  1. ৮টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার বিধান নারী ধর্ষণ:

কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ৫টি যেকোন অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

প্রথমত:- স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।

তৃতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।

চতুর্থত- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মতভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে।

পঞ্চমত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-
ধর্ষণের অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-
কোন পুরুষের কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে না, যদি স্ত্রী তের বৎসরে নিম্ন বয়স্কা না হয়।

♦ অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ধর্ষনের অপরাধ সংঘটনের উপাদান হলো-৫টি।
২,৩৫৪.
The Penal Code is a/an _______________ law.
  1. Adjective Law
  2. Substantive Law
  3. Preventive Law
  4. None of above
ব্যাখ্যা
তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law]:
যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন। কিন্তু এই অপরাধের বিচার পদ্ধতি দণ্ডবিধিতে উল্লেখ করা হয়নি। দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত অপরাধের বিচার করার পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে ফৌজদারী কার্যবিধিতে। এই কারণে ফৌজদারী কার্যবিধি হলো পদ্ধতিগত আইন।

অন্যদিকে,
যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে। যেমন- ফৌজদারী কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি। Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
২,৩৫৫.
What is the maximum punishment for committing theft under Section 379 of the Penal Code?
  1. Imprisonment for a term of up to three years
  2. Imprisonment for a term of up to five years
  3. Imprisonment for a term of up to seven years
  4. Imprisonment for life
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860-Section-379:Punishment for theft:
-Whoever commits theft shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
---------------------
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার বিধান চুরি করার সাজা:
-কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
২,৩৫৬.
X একজন আহত সৈনিক। ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে, X তার নেতা Y কে অনুরোধ করে তাকে গুলি করতে। Y উক্ত অনুরোধে অনুযায়ী গুলি করে। Y এর অপরাধ কি?
  1. খুন
  2. খুন বলে গণ্য নয় এমন নিন্দনীয় নরহত্যা
  3. কোন অপরাধ করেনি
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারা, ব্যতিক্রম-৫ (Exception-5): সম্মতি নিয়ে হত্যার ক্ষেত্রে (killing with consent)- ১৮ বছরের অধিক বয়স্ক ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তাকে হত্যা করা হলে তা খুন না হয়ে তা নিন্দনীয় নরহত্যা হবে।
তবে ১৮ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তাকে হত্যা করা হলে তা খুন বলে গণ্য হবে।

⇒ অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পক্ষে defence হিসেবে ৩০০ ধারার ব্যতিক্রমসমূহ আদালতে উত্থাপন করলে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপরই ৩০০ ধারার ব্যতিক্রমসমূহ প্রমানের দায়িত্ব বর্তাবে।
⇒ X একজন আহত সৈনিক। ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে, X তার নেতা Y কে অনুরোধ করে তাকে গুলি করতে। Y উক্ত অনুরোধে অনুযায়ী গুলি করে। Y এর অপরাধ সে খুন বলে গণ্য নয় এমন নিন্দনীয় নরহত্যা করেছেন।

------------
⇒ The penal code Section 300, Exception 5.- Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.
২,৩৫৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় সাধারণ অভিপ্রায়ের বিধান রয়েছে?
  1. ৩৮
  2. ৪৪
  3. ৩৪
  4. ৩৭
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারামতে যখন কতিপয় ব্যক্তি (২ বা ততোধিক) দ্বারা সকলের একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে (in furtherance of Common Intention) কোন অপরাধমূলক কার্য সম্পাদিত হয় তখন প্রত্যেকে যৌথভাবে দায়ী হবে যেন নিজে কাজটি করেছে।
- উক্ত ধারা অনুযায়ী যখন একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে একাধিক ব্যক্তি কোন অপরাধমূলক কাজ সম্পাদন করে তখন তাদের প্রত্যেকে উক্ত কাজের জন্য এমনভাবে দায়ী হবেন যেন প্রত্যেকে আলাদাভাবে কাজটি সম্পাদন করেছে।
 অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায়ের বিধান রয়েছে।

-দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার অধীনে সাধারণ অভিপ্রায় প্রমাণ করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয় সমূহ গুরুত্বপূর্ণ:
ⅰ) কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে;
ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা ছিল উক্ত অপরাধ সংঘটন করা; এবং
iii) অভিপ্রায়কে সফল করার জন্য অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ।
২,৩৫৮.
'ক' এমন একটি রোগে ভুগছে যে, এক আঘাতেই তার মৃত্যু হবার সম্ভাবনা আছে । 'খ' এই কথা না জেনে 'ক'-কে দৈহিক জখম করার অভিপ্রায়ে এমন আঘাত করে যা একজন সুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে না উক্ত আঘাতের ফলে ‘ক’ মার যায়। ‘খ’ এর অপরাধ কী?
  1. হত্যা
  2. খুন
  3. নিন্দনীয় নরহত্যা
  4. নরহত্যা
ব্যাখ্যা
 'খ' জানতো না যে, ক এমন একটি রোগে ভুগছে যে, এক আঘাতেই তার মৃত্যু হবার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু খ ক-কে এমন আঘাত করেছে যা একজন সুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে না। খ এর এই কাজটি হত্যা হবে না কারন খ হত্যার উদ্দশ্য নিয়ে ক কে আঘাত করে নি। তাই খ এর কাজটি নিন্দনীয় নরহত্যা বলে গণ্য হবে।
 
♦ 'খ' নিন্দনীয় নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হবে।
২,৩৫৯.
দণ্ডবিধির ৭৩ ধারা অনুযায়ী নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সর্বোচ্চ কত দিন?
  1. ১৪ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
♦ শুধুমাত্র সশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়। নির্জন কারাবাস সর্বমোট ৩ মাসের বেশি হবে না।

♦ ৭৪ ধারা মতে নির্জন কারাবাস একটানা ১৪ দিনের বেশি হবেনা, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাসের অধিক হলে কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

♦ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

♦ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
২,৩৬০.
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র গঠনের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির সম্মতি প্রয়োজন?
  1. একজন
  2. দুইজন
  3. তিনজন
  4. চারজন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকে [criminal conspiracy] কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অবৈধ কাজ করতে [To do an illegal act] বা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে [to do a legal act by illegal means] সম্মত হয়, তখন উক্ত ব্যক্তিরা 'অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র' করেছে বলে গণ্য হবে।

- এই ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র গঠিত হয় যখন দুইজন বা ততোধিক ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোনো একটি কাজ করতে বা করানোর জন্য সম্মত হয়:
- একটি অবৈধ কাজ করা: এটি এমন কোনো কাজ যা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
- বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করা: এটি এমন কাজ যা নিজে অবৈধ নয়, কিন্তু অবৈধ উপায় বা পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:
যখন দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন কাজ করতে বা করানোর জন্য একমত হন:
- একটি অবৈধ কাজ করা, অথবা
- এমন কোনো কাজ করা যা আইনত অবৈধ নয় কিন্তু অবৈধ উপায়ে করা হয়, তবে এই ধরনের একমত হওয়াকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা হয়।

শর্ত: যে কোনো একমত হওয়া শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে হলে তা অপরাধী ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর জন্য এই চুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক বা একাধিক পক্ষের দ্বারা এমন কিছু কার্যক্রম সম্পাদিত হতে হবে, যা এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই অবৈধ কাজটি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, অথবা তা চুক্তির উদ্দেশ্য থেকে এক প্রকার অনুষঙ্গী ছিল।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 120A. Definition of criminal conspiracy. 
 When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

২,৩৬১.
দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা কী সংজ্ঞা দেয়?
  1. অর্থের সংজ্ঞা
  2. মুদ্রার সংজ্ঞা
  3. নোটের সংজ্ঞা
  4. ব্যাংকের সংজ্ঞা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
বাংলাদেশি মুদ্রা (Bangladesh Coin):-
বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরুপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে, এবং অর্থরুপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইসুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়িগুলো মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তাম্রখণ্ড অর্থরুপে ব্যবহৃত হয়ে থাকলেও মুদ্রা নয়।
(গ) পদকগুলো মুদ্রা নয়, যেহেতু উহা অর্থরুপে ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয় নাই।
(ঘ) কোম্পানির টাকা বলে অঙ্কিত মুদ্রা রানীর মুদ্রা বলে পরিগণিত হবে।
(ঙ) "ফারুখাবাদ” টাকা যা পূর্বে ভারত সরকারের ক্ষমতাধীনে অর্থরুপে ব্যবহৃত হত-তবুও বাংলাদেশি মুদ্রা, যদিও এটা আজও অনুরূপভাবে ব্যবহৃত হয় না।
---------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 230: “Coin” defined Bangladesh coin:  Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used. 
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustration:
(a) Cowries are not coin. 
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin. 
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money. 
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin. 
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.

২,৩৬২.
A অজ্ঞাত মালিকের একটি সোনার আংটি পায়। মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করেই A তা বিক্রি করে। A যে অপরাধে দোষী হবে তা
  1. চুরি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. দস্যুতা
  4. অসাধুভাবে আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ :- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাত্ত এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।

♦ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে।

♦অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে ।

♦এখানে ‘A’আংটি ঘটনাক্রমে পেয়েছে। ‘A’সেটার মালিককে আবিস্কার না করে আংটি বিক্রয় করেছে অর্থাৎ সে অসাধুভাবে আংটিটি নিজ ব্যবহারে পরিণত করেছে। তাই ‘A’ অসাধুভাবে আংটিটি আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে।
২,৩৬৩.
'কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণা, ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।'- কত ধারায় এই সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ৩১৭
  2. ৩১৮
  3. ৩১৯
  4. ৩২০
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩১৯ ধারা- আঘাত:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণা, ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।

Section 319- Hurt:
Whoever causes bodily pain, disease or infirmity to any person is said to cause hurt.
২,৩৬৪.
দণ্ডবিধির কত ধারায় আঘাতের সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
  1. ২২০
  2. ৩২০
  3. ৩১৯
  4. ১১৯
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১৯ ধারার বিধান: আঘাত:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণা, ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।
⇒ Section 319. Hurt:- Whoever causes bodily pain, disease or infirmity to any person is said to cause hurt.
২,৩৬৫.
দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় কয় শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে?
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 320: Grievous hurt:
 The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
২,৩৬৬.
বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদানের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং
কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

⇒ উদাহরণ: 
জমির সীমানা অকুস্থলে নির্ণয়কল্পে কোন আদালত দ্বারা প্রেরিত কর্মচারীর বা অফিসারের সম্মুখে সম্পাদিত তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু উক্ত তদন্তটি একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে অভিহিত হবে।
------------
⇒ Section 193. Punishment for false evidence:
Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine; 
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine. 
 
⇒ Explanation 1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding. 

⇒ Explanation 2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice. 
 
Illustration 
A, in an enquiry before a Magistrate for the purpose of ascertaining whether Z ought to be committed for trial, makes on oath a statement which he knows to be false. As this enquiry is a stage of a judicial proceeding. A has given false evidence. 
 
⇒ Explanation 3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice. 
 
Illustration 
A, in an enquiry before an officer deputed by a Court of Justice to ascertain on the spot the boundaries of land, makes on oath a statement which he knows to be false. As this enquiry is a stage of a judicial proceeding, A has given false evidence.
২,৩৬৭.
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধী ব্যক্তিকে কেউ আশ্রয় দেয় তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. দুই বছর কারাদণ্ড
  2. তিন বছর কারাদণ্ড
  3. পাঁচ বছর কারাদণ্ড
  4. সাত বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইলে:
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-

দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অত্র ধারার অপরাধ বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম:-
দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

উদাহরণ:
খ ডাকাতি করেছে জেনে ক জ্ঞাতসারে ক-কে লুকিয়ে রাখে। আইনের সাজা হতে খকে বাঁচাবার মানসেই ক এই কাজ করে। এক্ষেত্রে, যেহেতু খ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় সেহেতু ক অনধিক তিন বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
২,৩৬৮.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি খুন করিলে তাহার শাস্তির বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায়?
  1. ৩০২ ধারায়
  2. ৩০৩ ধারায়
  3. ৩০৪ ধারায়
  4. ৩০৪-এ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৩০৩ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাবাসে দন্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক অনুষ্ঠিত খুনের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ দন্ডবিধির ৩০৩ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি খুন করলে তার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড। 
-------------
Section 303 Punishment for murder by life-convict: Whoever, being under sentence of 95[imprisonment] for life, commits murder, shall be punished with death.
২,৩৬৯.
যদি কোনো ব্যক্তি জানে যে অপরাধী মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছে এবং তাকে লুকিয়ে রাখে, তবে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২১২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি জানে বা বিশ্বাস করার যথাযথ কারণ থাকা সত্ত্বেও — যে একজন অপরাধী মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছে — এবং সেই ব্যক্তিকে আইনের সাজা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয় দেয়, তাহলে: সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।
তবে, ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম আছে: যদি অপরাধীর স্বামী বা স্ত্রী তাকে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয় দেয়, তাহলে তারা এই ধারায় দণ্ডিত হবেন না।

⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার জন্য শাস্তির বিধান আছে। যদি দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে আশ্রয়দাতা পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যাবজ্জীবন বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, দণ্ডিতের জন্য শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত। দশ বছরের নিচে এক বছর পর্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত হলে, দণ্ডের সর্বাধিক মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এই ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় যে কোনো কাজ বোঝানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলেও দণ্ডনীয় হবে। তবে, দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যদি তাকে আশ্রয় দেন, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

- দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান দোষী ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করা:- কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
 
- অত্র ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

২,৩৭০.
দন্ডবিধির কোন ধারার অভিন্ন ইচ্ছা (Common intention) জনিত দায় সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ১০৯
  2. ১৪১
  3. ১৪৯
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় বা অভিন্ন অভিপ্রায় (Common Intention) এর বিধান রয়েছে;
(i)  সাবধান অভিপ্রায় প্রমাণের ক্ষেত্রে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে
(ii)  তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা থাকবে উক্ত অপরাধ সংঘটিত করতে।
(iii) অপরাধটি সফল করার জন্য তারা অপরাধে অংশগ্রহণ করবে।
২,৩৭১.
দণ্ডবিধির কত ধারায় দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ এর শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৩৪৩
  2. ৩৪৪
  3. ৩৪৫
  4. ৩৪২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:- Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
২,৩৭২.
According to Section 93, no communication made in _______ is an offence if it is made for the _______ of the person to whom it is made.
  1. bad faith, harm
  2. good faith, benefit
  3. negligence, detriment
  4. ill will, advantage
ব্যাখ্যা
Section 93.-Communication made in good faith:
No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person.

Illustration:
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.

দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার বিধান- সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুন অপরাধ হবে না।

উদাহরণ:
ক একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। কএর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রোগীটির মৃত্যু ঘটতে পারে।
২,৩৭৩.
দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে যদি কোনো নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তবে সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. শুধু অর্থদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা উদ্ভাবন করে এবং তার ফলে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হবে।
- মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে, সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। 

দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার মূল বিধান:
যদি কেউ মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা তৈরি করে এবং তা দ্বারা অন্য কেউ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে জেনেও তা করে, তবে তার শাস্তি হবে—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
কিন্তু যদি মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তাহলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে— মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদণ্ড না হলে বা আসামি খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-----------
⇒The Penal Code, 1860-Section 194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:
- Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine;
and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
২,৩৭৪.
Where 'A' loosens the muzzle of a ferocious dog to cause 'Z' to believe that the dog will attack, what is 'A' committing under the penal code?
  1. Assault
  2. Criminal force
  3. Criminal intimidation
  4. Wrongful restraint
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860, Section- 351. Assault:
-Whoever makes any gesture, or any preparation intending or knowing it to be likely that such gesture or preparation will cause any person present to apprehend that he who makes that gesture or preparation is about to use criminal force to that person, is said to commit an assault. 
 
Explanation.- Mere words do not amount to an assault. But the words which a person uses may give to his gestures or preparation such a meaning as may make those gestures or preparations amount to an assault.

Illustrations:
(a) A shakes his fist at Z, intending or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that A is about to strike Z. A has committed an assault. 
(b) A begins to unloose the muzzle of a ferocious dog, intending, or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that he is about to cause the dog to attack Z. A has committed an assault upon Z. 
(c) A takes up a stick, saying to Z, "I will give you a beating". Here, though the words used by A could in no case amount to an assault, and though the mere gesture, unaccompanied by any other circumstances, might not amount to an assault, the gesture explained by the words may amount to an assault.
------------------------
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারার বিধান- আক্রমণ:
-কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:-
কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ
(ক) ক, চ-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে চ যাতে বিশ্বাস করে যে ক তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই ক তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ : হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে । ক আক্রমণ করেছে।

(খ) ক একটি হিংস্র কুকুরের মুখ বন্ধনী খুলতে শুরু করে। চ যাতে বিশ্বাস করে যে, ক কুকুরটিকে দিয়ে তাকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই কুকুরটির মুখ বন্ধনী খুলে দিচ্ছে, এই উদ্দেশ্যেই, অথবা চ এইরূপ বিশ্বাস করতে পারে জানা সত্ত্বেও ক এই কাজ করে। ক-চ এর উপর আক্রমণ করেছে।

(গ) ক একটি ছুড়ি ঘুরাতে ঘুরাতে চ-কে বলিল, “তোমাকে পিটুনি দেব।” এখানে যদিও কেবল ক-এর ব্যবহৃত কথাগুলি কোনক্রমেই আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে না, এবং যদিও অপর কোন অনুষঙ্গ ব্যতীত কেবল ক-এর অঙ্গভঙ্গি আক্রমণতৃল্য নয়, তবুও অঙ্গভঙ্গি ও তার আনুষঙ্গিক ব্যাখ্যামূলক কথাগুলি মিলিয়ে আক্রমণ বলে পরিগণিত হবে।
২,৩৭৫.
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা অতিক্রমের ফলে মৃত্যু হলে তা খুন নয় তা উল্লেখ আছে-
  1. ৩০০ এর ব্যতিক্রম-১
  2. ৩০০ এর ব্যতিক্রম-২
  3. ৩০০ এর ব্যতিক্রম-৩
  4. ৩০০ এর ব্যতিক্রম-৪
ব্যাখ্যা
• অপরাধী সরকারি কর্মচারী হিসাবে বা জনগণের ন্যায়বিচারের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এমন সরকারি কর্মচারীকে সাহায্য করতে গিয়ে সরল বিশ্বাসে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা অতিক্রম করে মৃত্যু ঘটালে নিন্দনীয় নরহত্যা হবে।
• অর্থাৎ সরকারি কর্মচারী আইনসম্মত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরল বিশ্বাসে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা অতিক্রম করে কারো মৃত্যু ঘটালে, তা খুন না হয়ে তা নিন্দনীয় নরহত্যা হবে।
২,৩৭৬.
What constitutes a "criminal breach of trust" according to Section 405 of the Penal Code?
  1. Using property in violation of legal contract terms
  2. Dishonestly misappropriating property entrusted to one
  3. Allowing another person to misuse property entrusted to one
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860- Section-405. Criminal breach of trust:
-Whoever, being in any manner entrusted with property, or with any dominion over property, dishonestly misappropriates or converts to his own use that property, or dishonestly uses or disposes of that property in violation of any direction of law prescribing the mode in which such trust is to be discharged, or of any legal contract, express or implied, which he has made touching the discharge of such trust, or wilfully suffers any other person so to do, commits "criminal breach of trust".
--------------------
⇒ দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারার বিধান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:
- কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।
২,৩৭৭.
সাকিব ও রাসেল একটি বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় এবং মারামারি শুরু করে। সাকিব ও রাসেল এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধিতে সর্বোচ্চ কোন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
  2. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
  3. ৪ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
  4. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারা- মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

দণ্ডবিধির ১৬০ ধারা- মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section-159: Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".

Section-160: Punishment for committing affray:
Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.
২,৩৭৮.
কোনো ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের গ্রেফতার কাজে সহয়তা করতে অস্বীকার করলে তিনি The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় শাস্তি যোগ্য অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে?
  1. ১৮৯
  2. ১৮৮
  3. ১৮৭
  4. ১৮৬
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারার বিধান সরকারী কর্মচারীকে সহায়তা করতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের অনুরূপ সহায়তা না করা:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীকে তাঁর সরকারী কর্তব্য সম্পাদনে সহায়তা করতে বা সহায়তা সংগ্রহ করে দিতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সহায়তা দিতে ইচ্ছাপূর্বক অন্যথা করে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
এবং অনুরূপ সহায়তা যদি কোন আদালত হতে আইনসম্মতভাবে দেওয়া সমনাদি বলবৎ করার জন্য অথবা কোন অপরাধের সংঘটন নিবারণের জন্য, অথবা কোন দাঙ্গা বা কলহ দমনের জন্য অথবা কোন অপরাধে বা আইনসম্মত আটক হতে পলায়নের দায়ে অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য সহায়তা দাবি করতে আইনসম্মত-ভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী দাবি করে থাকেন, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
Section 187. Omission to assist public servant when bound by law to give assistance:
Whoever, being bound by law to render or furnish assistance to any public servant in the execution of his public duty, intentionally omits to give such assistance, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to two hundred taka, or with both; 
and if such assistance be demanded of him by a public servant legally competent to make such demand for the purposes of executing any process lawfully issued by a Court of Justice, or of preventing the commission of an offence, or of suppressing a riot, or affray, or of apprehending a person charged with or guilty of an offence, or of having escaped from lawful custody, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.
২,৩৭৯.
'জ', 'চ'- এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। 'চ'- এর পকেটে কিছু ছিল না বলে জ-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এক্ষেত্রে 'জ' -
  1. অপরাধী বলে গণ্য হবে না
  2. কোনো রকম শাস্তি পাবে না
  3. অপরাধী বলে গণ্য হবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫১১ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের সাজা:-
 
কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
 
উদাহরণ:
(ক) 'ক' একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
 
(খ) 'ক', 'চ'- এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। 'চ'- এর পকেটে কিছু ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 'ক' এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
 
Section 511- Punishment for attempting to commit offences punishable with imprisonment for life or imprisonment:
Whoever attempts to commit an offence punishable by this Code with imprisonment for life or imprisonment, or to cause such an offence to be committed, and in such attempt does any act towards the commission of the offence, shall, where no express provision is made by this Code for the punishment of such attempt, be punished with imprisonment of any description provided for the offence, for a term which may extend to one-half of the longest term of imprisonment provided for that offence, or with such fine as is provided for the offence, or with both. 
 
Illustration
(a) A makes an attempt to steal some jewels by breaking open a box, and finds after so opening the box, that there is no jewel in it. He has done an act towards the commission of theft, and therefore is guilty under this section. 
 
(b) A makes an attempt to pick the pocket of Z by thrusting his hand into Z's pocket. A fails in the attempt in consequence of Z's having nothing in his pocket. A is guilty under this section.
২,৩৮০.
দেওয়ানী মামলায় মিথ্যাভাবে অন্য কারও নাম ব্যবহারে কোনো স্বীকারোক্তি দিলে তার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ________ বছর।
  1. 2
  2. 1
  3. 3
  4. 5
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণাঃ কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-
যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

♦ উদাহরণসমূহঃ
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে, খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

♦ অর্থাৎ প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে উপস্থিত করলে তাকে ছদ্মবেশী প্রতারণা বা Cheating by personation বলে।

♦ ৪১৯ ধারায় cheating by personation এর শাস্তি বর্ণিত আছে যা অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড।
২,৩৮১.
দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনটি অনধিকার গৃহে প্রবেশ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট?
  1. সম্পূর্ণ দেহ প্রবেশ
  2. মাথা প্রবেশ
  3. কেবল পা প্রবেশ
  4. দেহের যে কোনো অংশের প্রবেশ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান- অনধিকার গৃহে প্রবেশ:
কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা: অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।

২,৩৮২.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেহের আত্মরক্ষার অধিকার কখন শুরু হয় এবং কতক্ষণ বজায় থাকে, তা বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ৯৬
  2. ধারা ৯৯
  3. ধারা ১০০
  4. ধারা ১০২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০২-এ সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে যে, দেহ বা শরীরের আত্মরক্ষার অধিকার (right of private defence of the body) কখন শুরু হয় এবং কতক্ষণ পর্যন্ত বজায় থাকে। এই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে:
- আত্মরক্ষার অধিকার শুরু হয় যেই মুহূর্তে দেহে আঘাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা সৃষ্টি হয় (যদিও অপরাধটি সম্পূর্ণ না হয়)।
- এই অধিকার যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা অব্যাহত থাকে ততক্ষণ স্থায়ী হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা-১০২: দেহ বা শরীর সম্পর্কিত আত্মরক্ষার অধিকারের স্থায়িত্ব-
শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার তখনই শুরু হয়, যখন শরীরে আঘাতের আশঙ্কা যুক্তিসঙ্গতভাবে সৃষ্টি হয় এবং কোনো অপরাধের চেষ্টা বা হুমকি থেকে আসে, যদিও সেই অপরাধটি সম্পূর্ণভাবে সংঘটিত না-ও হতে পারে; এবং এই অধিকার তখন পর্যন্ত বজায় থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকে।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860, Section 102- Commencement and continuance of the right of private defence of the body:
The right of private defence of the body commences as soon as a reasonable apprehension of danger to the body arises from an attempt or threat to commit the offence though the offence may not have been committed; and it continues as long as such, apprehension of danger to the body continues.

২,৩৮৩.
দণ্ডবিধির ৭৫ ধারা অনুসারে, পূর্বে দণ্ডিত হওয়ার পর আবার একই ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কেমন হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৭৫ ধারার মতে, যদি কোনো ব্যক্তি পূর্বে ৩ বছর বা তার বেশি সময়ের শাস্তি পেয়ে থাকে এবং পুনরায় একই ধরনের অপরাধ করে, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section -75. Enhanced punishment for certain offences under Chapter XII or Chapter XVII after previous conviction:
Whoever, having been convicted,
(a) by a Court in Bangladesh of an offence punishable under Chapter XII or Chapter XVII of this Code with imprisonment of either description for a term of three years or upwards;
shall be guilty of any offence punishable under either of those Chapters with like imprisonment for the like term, shall be 
subject for every such subsequent offence to imprisonment for life, or to imprisonment of either description for a term which may extend to ten years.
২,৩৮৪.
পেনাল কোড এর কোন ধারায় ইভটিজিং এর শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৫০৬ ধারা
  2. ৫০৭ ধারা
  3. ৫০৮ ধারা
  4. ৫০৯ ধারা
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড এর ৫০৯ ধারার বিধান কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোন কার্যঃ কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
অর্থাৎ পেনাল কোড এর ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং এর শাস্তির বিধান আছে।

♦ Eve Teasing এর শাব্দিক অর্থ : Eve অর্থ প্রাক্কাল, প্রাথমিক অবস্থা আর Teas অর্থ উক্ত্যক্ত করা, ক্ষেপানো।
♦ সুতরাং Eve Teasing অর্থ পরিচিত, অপিরিত, কোন মেয়ে কোন ছেলেকে/কোন ছেলে কোন মেয়েকে প্রাথমিকভাবে উক্ত্যক্ত করাকেই Eve Teasing বলে।
♦ ইভটিজিং এর সংজ্ঞাঃ- কোন ছেলে রাস্তায়, স্কুলে, কলেজে বা যে কোন অলিতে গলিতে কোন মেয়েকে দেখার পর মুখ দিয়ে শিষ দেয়া, এমন কোন বাজে মন্তব্য করা যা শুনলে মেয়েটির খুব খারাপ লাগবে, হাসি ঠাট্টা করা অর্থ্যাৎ তাকে উক্ত্যক্ত করার নামই হল ইভটিজিং।
২,৩৮৫.
দণ্ডবিধি অনুসারে মুদ্রা জাল করণের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছর কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৩১ ধারার বিধান: মুদ্রা জাল করণ- কোন ব্যক্তি মুদ্রা জাল করলে অথবা জ্ঞাতসারে মুদ্রা জালকরণ প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করলে, সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
ব্যাখ্যা:- কোন ব্যক্তি প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে, অথবা তার কাজের ফলে প্রতারণা সংঘটিত হবে জানা সত্ত্বেও, কোন খাঁটি মুদ্রাকে দেখতে অপর কোন মুদ্রার মতো করলে, সে অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
------------------------
- Counterfeiting coin:
Section 231. Whoever counterfeits or knowingly performs any part of the process of counterfeiting coin, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine. 
Explanation.- A person commits this offence who intending to practice deception, or knowing it to be likely that deception will thereby be practiced, causes a genuine coin to appear like a different coin.
২,৩৮৬.
দণ্ডবিধির অনুযায়ী কখন একজন শিশুর কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে?
  1. ৯ বছরের বেশি বয়স্ক হলে
  2. ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক হলে শিশু কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারলে
  3. নয় বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধসম্পন্ন হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা মতে ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধশক্তি সম্পন্ন শিশুর কাজ অপরাধ নয় তবে পরিপক্কতা অর্জন করলে অর্থাৎ কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারলে উক্ত ৯ বছরের বেশি এবং ১২ বছরের কম বয়সে শিশুর কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।
২,৩৮৭.
কোন নারীর শালীনতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তাকে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
• ৩৫৪ ধারা মতে কোন নারীর শালীনতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তাকে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের শাস্তি- অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড অর্থদণ্ড বা উভদণ্ড।
২,৩৮৮.
ক একজন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিকিৎসালয়ে নিয়ে যায় এবং জোর করে গর্ভপাত করায়। নারীটি ভ্রূণের গতি অনুভব করছিল না। দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারা অনুসারে ক-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত (যা ৩১২ ধারায় বর্ণিত অপরাধ) সংঘটন করে – স্ত্রীলোক আসন্ন প্রসবা (quick with child, অর্থাৎ ভ্রূণের গতি অনুভব করা) হোক বা না হোক – তাহলে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। এখানে 'ক'-এর কাজ (ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে গর্ভপাত) সরাসরি ৩১৩ ধারার অধীনে পড়ে, এবং "ভ্রূণের গতি অনুভব করছিল না" হওয়া শাস্তির মাত্রাকে প্রভাবিত করে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ :- কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 313. Causing miscarriage without women's consent:
Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

২,৩৮৯.
সরকারী কর্মচারী নয় জেনেও সরকারী কর্মচারীর ছদ্মবেশে কোন কাজ করলে বা করার চেষ্টা করলে তা দণ্ডবিধির কত ধারামতে দণ্ডনীয়?
  1. দণ্ডবিধির ১৬৮ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ১৬৯ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ১৭১ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারার বিধান সরকারী কর্মচারী বলে ছদ্মবেশ ধারণ:- কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

-----------------------
♦ Section 170. Personating a public servant:- Whoever pretends to hold any particular office as a public servant, knowing that he does not hold such office or falsely personates any other person holding such office, and in such assumed character does or attempts to do any act under colour of such office, shall be punished with imprisonment of either description, for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,৩৯০.
দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারা অনুযায়ী, সরকারি সড়কে অসাবধানতাজনিত গাড়ি চালনায় মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. পাঁচ বছর
  2. দশ বছর
  3. তিন বছর
  4. সাত বছর 
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪খ অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় অবহেলা বা বেপরোয়া চালনার কারণে কারো মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, বা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।
- তাহলে সঠিক উত্তর হবে: গ) ৩ বছর।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারার বিধান- বেপরোয়াভাবে যান চালনা বা অশ্বরোহণের কর্তৃক মৃত্যু ঘটানো:
কোন ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে জনপথে যান চালিয়ে বা অশ্বারোহণের কর্তৃক নিন্দনীয় নরহত্যা নয় এমন মৃত্যু ঘটাইলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒The Penal Code, 1860-Section- 304B. Causing death by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes the death of any person by rash or negligent driving of any vehicle or riding on any public way not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

২,৩৯১.
মানহানি হতে পারে-
  1. কথিত বা পাঠের জন্য অভিপ্রেত শব্দাবলীর মাধ্যমে
  2. চিহ্নাদির দ্বারা
  3. দৃশ্যমান কল্পমূর্তির মাধ্যমে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার বিধান মানহানি:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য অভিপ্রেত কথা বা চিহ্ন কর্তৃক বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়াই অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ১:- যে মৃত ব্যক্তির জীবনকালে তার সম্পর্কে কোন নিন্দা করা হলে তার মানহানি ঘটত, সে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কোন নিন্দাবাদ এবং সে মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের বা অন্যান্য কাছে আত্মীয়ের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নিন্দাবাদ করা, মানহানি বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা ২:- কোন কোম্পানি বা সংঘ বা ব্যক্তিসমাবেশ সম্পর্কে সমষ্টিগতভাবে কোন নিন্দাবাদ করা মানহানি বলে পরিগণিত হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৩:- বিকল্পরূপে বা বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যক্ত কোন নিন্দাবাদ মানহানির সামিল হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্যক্তির দৃষ্টিতে সে ব্যক্তির নৈতিক বা বুদ্ধিগত চরিত্র হেয় না করলে, অথবা তার বর্ণ বা সম্প্রদায় কিংবা তার পেশার দিক হতে সে ব্যক্তির চরিত্রকে হেয় না করলে, অথবা সে ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ক্ষুন্ন না করলে, অথবা তার দেহ বীভৎস বা ঘৃণা অবস্থায় বা যে অবস্থা সাধারণভাবে অরুচির বলে গণ্য, সে অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি না করলে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নিন্দাবাদ তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করে নাই বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-

১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবেনা।

⇒ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
২,৩৯২.
দণ্ডবিধিতে কত ধরণের শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৩ ধরণের
  2. ২ ধরণের
  3. ৫ ধরণের
  4. ৭ ধরণের
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:

           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং
           খ) বিনাশ্রম (Simple)

      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)

♦দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও  বিনাশ্রম। 
♦ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।

---------------------------------------------------
♦ Punishments
Section 53. The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,- 
 
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted by the Criminal Law (Extinction of Discriminatory Privileges) Act 1949 (Act No. II of 1950]. 
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:- 

(1) Rigorous, that is, with hard labour; 
(2) Simple; 
 
Fifthly,- Forfeiture of property; 
Sixthly,- Fine. 
 
♦ Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.
২,৩৯৩.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ের সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় আদায় করা যাবে।
  2. ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে আদায় করা যাবে।
  3. আসামি নাবালক বা উম্মাদ হলে তার আইনগত প্রতিনিধি থেকে আদায় করা যাবে।
  4. অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা যাবে।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা সম্পর্কে ৩টি বিধানের উল্লেখ আছে।

(i) দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়।
(ii) ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে।
(iii) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে। অর্থাৎ আসামির মৃত্যু হলেও অর্থদণ্ড/জরিমানা মওকুফ হবে না।

 ⇒ আসামি নাবালক বা উম্মাদ হলে তার আইনগত প্রতিনিধি থেকে অর্থদণ্ড আদায়ের সম্পর্কে দণ্ডবিধিতে কোন বিধান নেই।

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদও ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশবলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনতঃ দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
------------------
⇒ Section 70. Fine leviable within six years, or during imprisonment Death not to discharge property from liability:
 The fine, or any part thereof which remains unpaid, may be levied at any time within six years after the passing of the sentence, and if, under the sentence, the offender be liable to imprisonment for a longer period than six years, then at any time previous to the expiration of that period; and the death of the offender does not discharge from the liability of any property which would, after his death, be legally liable for his debts.
২,৩৯৪.
মূল দণ্ডবিধিতে কয়টি ধারা ছিল?
  1. ৫১১ টি
  2. ৪৮৮ টি
  3. ৪৮২ টি
  4. ৫৬৫ টি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)। 

♦ ইংরেজ শাসন আমলে লর্ড মেকলের নেতৃত্বে একটি আইন কমিশন গঠন করেন। লর্ড মেকলে ১৮৩৮ সালে দণ্ডবিধির খসড়া প্রণয়ন করেন।  ১৮৬০ সালের ৬ অক্টোবর দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা হয় এবং ১৮৬২ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে আইন হিসেবে কার্যকর হয়।

♦ ১৯৪৭ সালে বৃটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত একটি প্রস্তাবে উপমহাদেশটির স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ভারত ও বর্তমান বাংলাদেশসহ পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রই ইংরেজগণ কর্তৃক প্রবর্তিত ভারতীয় দণ্ডবিধি চালু রাখে।

♦ ১৯৭২ সালের ২২শে মে জারীকৃত প্রেসিডেন্টের ৪৮নং জরুরী আদেশ বলে পাকিস্তান আমলে চালু অপরাপর আইনসহ দণ্ডবিধি বহাল রাখা হয়েছে। আদেশটি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৬শে মার্চ হতে কার্যকরী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে যে, দণ্ডবিধির যে সকল ধারায় পাকিস্তান, কেন্দ্রীয় সরকার, প্রাদেশিক সরকার অথবা পর্ব পাকিস্তান সরকার উল্লেখ আছে, তথায় ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করতে হবে।

 ♦ বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৯৬০ মোট ২৩টি অধ্যায় ও ৫১১টি ধারা আছে। সর্বশেষ ২০০৪ সালে সংসদে এই আইনটি গৌণ পরিবর্তন (মাশুল বাড়ানো ও অন্যান্য) আনা হয়।
২,৩৯৫.
কোন ধরনের সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে না?
  1. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি
  2. অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত সম্পত্তি
  3. দস্যুতা কর্তৃক অর্জিত সম্পত্তি
  4. প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা মতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-

(i) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
(ii) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
(iii) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং 
(iv) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

ধারা ৪১০: চোরাই সম্পত্তি
চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ‘চোরাই সম্পত্তি' বলে । কিন্তু উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

Section 410: Stolen property
Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
২,৩৯৬.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একজন ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে কিন্তু ভুলক্রমে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, তাহলে দণ্ডবিধির ৩০১ ধারা অনুযায়ী এটি কী অপরাধ হবে?
  1. অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড
  2. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  3. দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু
  4. কোন অপরাধ হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান- যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:
কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।

Section 301. Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
২,৩৯৭.
ক জানে যে খ, ম -কে হত্যা করেছে। ক, খ,-কে শাস্তি হতে বাঁচাতে মৃত লাশটি গুম করতে খ কে সহায়তা করেছে। ক এর শাস্তি হতে পারে-
  1. ৭ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ১২ বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদন্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ২০১ অনুযায়ী- যেহেতু সংঘটিত অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং খ, কে শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য ক মৃত দেহটি গোপন করতে খ কে সহায়তা করেছে, তাই ক, ২০১ ধারায় সাক্ষ্য অদৃশ্য করে ফেলার জন্য ৭ বছর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,৩৯৮.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০৬ অনুযায়ী আত্মহত্যায় প্ররোচনার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে এবং কেউ সেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা সহায়তা করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও হতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 306 Abetment of suicide:- If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,৩৯৯.
অপরাধী গুরুতর ও আকস্মিক উত্তেজনার (Grave and Sudden Provocation) ফলে হত্যা ঘটালে তা নিন্দনীয় নরহত্যা হবে যদি-
  1. যে উত্তেজনা দিয়েছে শুধুমাত্র তাকে হত্যা করা হয় 
  2. উত্তেজনা প্রদানকারী ব্যতীত ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাবসত অন্যকোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
  3. উত্তেজনা প্রদানকারী ব্যতীত অন্যকোন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
  4. ক এবং খ উভয়।
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860 এর ৩০০ ধারা

ব্যতিক্রম ১:-
যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে নাঃ- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।

ব্যাখ্যা:-
প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

⇒ অপরাধী গুরুতর ও আকস্মিক উত্তেজনার (Grave and Sudden Provocation) ফলে হত্যা ঘটালে তা নিন্দনীয় নরহত্যা হবে যদি- যে উত্তেজনা দিয়েছে শুধুমাত্র তাকে হত্যা করা হয়। অথবা উত্তেজনা প্রদানকারী ব্যতীত ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাবসত অন্যকোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়। তবে যদি উত্তেজনা প্রদানকারী ব্যতীত অন্যকোন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় তাহলে তা খুন হিসেবে গণ্য হবে।
---------------
Exception 1.-Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death of the person who gave the provocation or cause the death of any other person by mistake or accident. 

The above exception is subject to the following provisos:
Firstly.-That the provocation is not sought or voluntarily provoked by the offender as an excuse for killing or doing harm to any person. 
Secondly.-That the provocation is not given by anything done in obedience to the law, or by a public servant in the lawful exercise of the powers of such public servant. 
Thirdly.-That the provocation is not given by anything done in the lawful exercise of the right of private defence. 
 
Explanation.- Whether the provocation was grave and sudden enough to prevent the offence from amounting to murder is a question of fact.
২,৪০০.
কারাদণ্ড ছয় মাসের কম হলে, সর্বোচ্চ কত সময়ের জন্য নির্জন কারাবাসে রাখা যেতে পারে?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. চার মাস
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান: নির্জন কারাবাস:
যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না- নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে:
- কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত;
- কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত;
- কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

Section-73: Solitary confinement:
Whenever any person is convicted of an offence for which under this Code the Court has power to sentence him to rigorous imprisonment, the Court may, by its sentence, order that the offender shall be kept in solitary confinement for any portion or portions of the imprisonment to which he is sentenced, not exceeding three months in the whole, according to the following scale, that is to say-
a time not exceeding one month if the term of imprison-ment shall not exceed six months:
a time not exceeding two months if the term of imprisonment shall exceed six months and shall not exceed one year:
a time not exceeding three months if the term of imprisonment shall exceed one year.