বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা ২৩ / ২৫ · ২,২০১২,৩০০ / ২,৪৪৭

২,২০১.
'ক' তার শিশু সন্তানের কল্যাণের জন্য একজন চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে চায়। চিকিৎসক শিশুর পিতার অনুমতি নিয়ে অস্ত্রোপচার করে এবং শিশুটি মারা যায়। চিকিৎসকের অপরাধ কি?
  1. কোন অপরাধ হয়নি
  2. খুন
  3. নরহত্যা
  4. সরল বিশ্বাসে ক্ষতি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৮৯ ধারামতে অভিভাবক কর্তৃক বা তার সম্মতিক্রমে শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে (Good Faith) কৃত কাজ অপরাধ নয়।

♦ দণ্ডবিধির ৮৯ ধারার বিধান অভিভাবক কর্তৃক বা তাহার সম্মতিক্রমে শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কার্য:

- বার বৎসরের নিম্ন বয়স্ক কোন ব্যক্তির অথবা অপ্রকৃতিস্থ কোন ব্যক্তির উপকার করার জন্য আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে বা সরল বিশ্বাসে উক্ত ব্যক্তির অভিভাবক দ্বারা সম্পাদিত কার্য কিংবা উক্ত ব্যক্তির অভিভাবকের বা আইনানুগভাবে উক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে দায়িত্বসম্পন্ন অপর কারো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে কৃত কার্য করার ফলে কোন ক্ষতি হয়ে থাকলে সে ক্ষতির ফলে, কিংবা যিনি কার্যটি করেছিলেন তিনি কাজটির ফলে যে ক্ষতি হবে বলে ইচ্ছা করেছিলেন সে ক্ষতিটি হওয়ার ফলে অথবা যিনি কার্যটি করেছিলেন তিনি কার্যটি করার ফলে যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানতেন, সে ক্ষতিটি হওয়ার ফলে-অপরাধ হবে না; এই শর্তে যে-

 প্রথমত: এই ব্যতিক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটাবার অথবা মৃত্যু ঘটাবার চেষ্টার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না,

 দ্বিতীয়ত: এই ব্যতিক্রম যে ব্যক্তি কার্যটি করলেন, সে ব্যক্তি যদি জানতেন যে, কার্যটি করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, তবে সম্ভাব্য মৃত্যুরোধ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই বা সম্ভাব্য গুরুতর আঘাত এড়াবার উদ্দেশ্য ছাড়াই অথবা কোন মারাৱক রোগ নিরাময় বা অশক্তি নিবারণের উদ্দেশ্য ছাড়াই অপর কোন উদ্দেশ্যে কার্যটি করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

 তৃতীয়ত: এই ব্যতিক্রম মৃত্যু রোধ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই বা গুরুতর আঘাত এড়াবার উদেশ্য ছাড়াই অথবা কোন মারাত্মক রোগ নিরাময় বা অশক্তি নিবারণের উদেশ্য ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করলে বা করার চেষ্টা করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

 চতুর্থত: এই ব্যতিক্রম যে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না সে কাজ করতে সহায়তা করার বা যোগসাজশের ক্ষেত্রেও এই ব্যতিক্রমটি প্রয়োগযোগ্য হবে না।
২,২০২.
Good faith within the meaning of the Penal Code means-
  1. An act in fact, done honestly.
  2. An act done under Bonafede belief.
  3. An act done with due care and attention.
  4. An actual belief that the act done is not contrary to law.
ব্যাখ্যা
⇒ “Good faith” Section 52. Nothing is said to be done or believed in "good faith" which is done or believed without due care and attention.

- দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় সদবিশ্বাসের সংজ্ঞা রয়েছে- যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ব্যতিরেকে সম্পাদিত বা বিশ্বাসকৃত কোন কিছুই 'সদবিশ্বাসে' করা হয়েছে বা বিশ্বাস করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
- দণ্ডবিধি অনুযায়ী "Good faith" বা "সদ্বিচার" বলতে বোঝানো হয় এমন কোনো কাজ যা যথাযথ যত্ন ও মনোযোগের সঙ্গে সম্পাদিত হয়, অর্থাৎ আইন অনুসারে সঠিকভাবে কাজ করা।
সঠিক উত্তর হবে: খ) An act done with due care and attention.

- এছাড়া তামাদি আইনের ২(৭) ধারায় সদ্ধিশ্বাস বা Good faith এর বিধান রয়েছে।
২,২০৩.
একজন সামরিক সদস্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আদেশে একটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এবং সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে গুলি করে, পরে জানা যায় যে ব্যক্তি নিরপরাধ ছিল। The Penal Code, 1860 এর কোন ধারার অধীনে সামরিক সদস্য কর্তৃক কাজ অপরাধ গণ্য হবে না?
  1. ধারা ৭৪
  2. ধারা ৭৬
  3. ধারা ৭৭
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা
ধারা ৭৬ : আইনত বাধ্য বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য:
যে ব্যক্তি কোনো কিছু সম্পাদন করার জন্য আইনবলে বাধ্য বা তথ্যের ভুল ধারণাবশত, আইনের ভুল ধারণাবশত নয়, সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোনো কিছু সম্পাদন করার নিমিত্তে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ নয়।

উদাহরণহসমূহ [Illustrations]:
ক) সৈনিক ‘ক’ তার উর্ধ্বতন অফিসারের আদেশ অনুযায়ী আইনের নির্দেশ মোতাবেক কোনো জনতার ওপর গুলি চালায়। ‘ক’ কোনো অপরাধ করে নাই।

খ) বিচারালয়ের কোনো এক কর্মকর্তা ‘ক’ উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ‘ম’ কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয় এবং যথাযথ তদন্তের পর ‘খ’ কে ‘ম’ মনে করে ‘খ’ কে গ্রেফতার করেন। ‘ক’ কোনো অপরাধ সংঘটিত করেনি।
২,২০৪.
নিম্নের কোনটি বলপ্রয়োগের উপায় হিসাবে দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় উল্লিখিত নেই?
  1. নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করা।
  2. বস্তু ব্যবহার করে গতি সৃষ্টি করা।
  3. শব্দ ব্যবহার করে ভয় দেখানো।
  4. পশুকে চালিত করা বা গতি নিয়ন্ত্রণ করা।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা বলপ্রয়োগ (Force) সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ তখনই বলা হবে যখন কারও গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করার মাধ্যমে তার শরীরের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংযোগ স্থাপন করা হয়।
- ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের তিনটি উপায় উল্লেখ আছে:
১) নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করা → যদি কেউ নিজের হাত, পা বা শরীরের অন্য কোনো অংশ ব্যবহার করে কাউকে ধাক্কা দেয়, টেনে নিয়ে যায় বা বাধা দেয়, তাহলে এটি বলপ্রয়োগ হিসেবে গণ্য হবে।
২) কোনো বস্তু ব্যবহার করে গতি সৃষ্টি করা বা গতি স্তব্ধ করা → যদি কেউ একটি পাথর নিক্ষেপ করে বা ধাক্কা দিয়ে কাউকে আঘাত করে, তাহলে এটি বলপ্রয়োগ হবে।
৩) পশুকে চালিত করা বা গতি নিয়ন্ত্রণ করা → যদি কেউ একটি পশুকে উত্তেজিত করে বা চালিত করে, যাতে সে গিয়ে অন্য কাউকে আঘাত করে, তাহলে সেটিও বলপ্রয়োগ হিসেবে ধরা হবে।

অর্থাৎ অপশন (গ) শব্দ ব্যবহার করে ভয় দেখানো দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের উপায় হিসাবে উল্লিখিত নেই।
কারণ, শব্দ বা মৌখিক ভয় প্রদর্শন করলে কোনো গতি সঞ্চার বা পরিবর্তন ঘটে না।
এটি যদি শারীরিক ক্ষতি বা আঘাতের উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে এটি ‘আতঙ্ক সৃষ্টির হুমকি’ (Criminal Intimidation) হিসেবে দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার অধীন বিচার্য হতে পারে, তবে বলপ্রয়োগ হিসেবে গণ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described:
Firstly. By his own bodily power.
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person.
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
২,২০৫.
অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে অপরাধীকে আশ্রয়দানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান- অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইলে:
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-

- দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

- দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অত্র ধারার অপরাধ বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

২,২০৬.
দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা কোন ধরনের অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. খুন
  2. ধর্ষণ
  3. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  4. অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা সম্পর্কিত সঠিক উত্তর হলো: ঘ) অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪ক বিশেষভাবে অবহেলা বা বেপরোয়াভাবে কার্য করার ফলে মৃত্যু ঘটানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। অপরাধটি অইচ্ছাকৃত কিন্তু অবহেলাজনক বা বেপরোয়া কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable Homicide)-এর আওতায় পড়ে না।

অর্থাৎ ধারা ৩০৪ক সেইসব পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য, যেখানে কেউ ইচ্ছাকৃত নয়, বরং বেপরোয়া বা অবহেলাজনক কার্যকলাপের মাধ্যমে অন্যের মৃত্যু ঘটায়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারার বিধান অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন:- কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 304A. Causing death by negligence:
Whoever causes the death of any person by doing any rash or negligent act not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
২,২০৭.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর কোন ধারায় “গোপনে অবৈধ অবরোধ”-এর বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৪৩
  2. ধারা ৩৪৫
  3. ধারা ৩৪৬
  4. ধারা ৩৪৭
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৬-এ "গোপনে অবৈধ অবরোধ" (Wrongful Confinement in Secret)-এর বিধান রয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য কাউকে এমনভাবে আটকে রাখে যাতে বন্দী ব্যক্তির সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তি বা কোনো সরকারি কর্মচারী এটি জানতে না পারে বা বন্দী ব্যক্তির অবস্থান খুঁজে না পায়, তবে তা এই ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৬ ধারার বিধান- গোপনে অবৈধ অবরোধ:
- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অবৈধভাবে বন্দি রাখে, তাতে এইরূপ একটি উদ্দেশ্য সূচিত হয় যে, বন্দি ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ব্যাপারটি বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বা কোন সরকারী কর্মচারীর গোচরীভূত হবে না, অথবা যে স্থানে অনুরূপ বন্দি করে রাখা হয়েছে সে স্থানটি উপযুক্তরূপ কোন ব্যক্তি বা সরকারী কর্মচারী দ্বারা জ্ঞাত বা আবিষ্কৃত হবে না, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অবৈধভাবে বন্দি করে রাখার জন্য অপর যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তদতিরিক্ত আরও দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 346. Wrongful confinement in secret:
-Whoever wrongfully confines any person in such manner as to indicate an intention that the confinement of such person may not be known to any person interested in the person so confined, or to any public servant, or that the place of such confinement may not be known to or discovered by any such person or public servant as hereinbefore mentioned, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years in addition to any other punishment to which he may be liable for such wrongful confinement.

২,২০৮.
ইচ্ছাকৃতভাবে দুই চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে দুই চোখের দৃষ্টি নষ্টসহ এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে মুখ, মাথায় গুরুতর জখম করার সর্বনিম্ন শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. দশ বছরের কারাদণ্ড
  4. সাত বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারার বিধান: ইচ্ছাকৃতভাবে দুই চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে দুই চোখের দৃষ্টি নষ্টসহ এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে মুখ, মাথায় গুরুতর জখম করার শাস্তি (voluntarily causing grievous hurt in respect of both eyes, head or face by means of corrosive substance, etc)- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডএবং অর্থদণ্ড।

⇒ ইচ্ছাকৃতভাবে দুই চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে দুই চোখের দৃষ্টি নষ্টসহ এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে মুখ, মাথায় গুরুতর জখম করার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ পূর্বে চক্ষু উপড়ে ফেলা দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার অধীন গুরুতর আঘাত বলে গণ্য হতো। কিন্তু ১৯৮৪ সালে পৃথকভাবে ৩২৬-ক ধারায় চক্ষু উৎপাটন কিংবা এসিড দ্বারা চক্ষুসহ মুখমন্ডল বিকৃত করা কিংবা স্থায়ীভাবে অন্ধকরণের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন বা তৎসহ জরিমানার শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুই চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে দুই চোখের দৃষ্টি নষ্টসহ এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে মুখ, মাথায় গুরুতর জখম করার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অন্যদিকে সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

⇒ ৩২৬ এবং ৩২৬ক ধারার মধ্যে পার্থক্য- দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারার বিষয়বস্তু হলো মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা গুরুতর জখম যার সাজা যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারার বিষয়বস্তু হলো দাহ্য পদার্থ দিয়ে মুখমন্ডল ও চোখের চিরস্থায়ী ক্ষতি সাধন যার সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারার বিধান: স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুইটি চোখ উপড়ে বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুইটির দৃষ্টি নষ্টকরণ বা মুখমণ্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ:- যে ব্যক্তি ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়া স্বেচ্ছাকৃতভাবে নিম্নবর্ণিত উপায়ে-

(ক) ৩২০ ধারার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে উভয় চক্ষুর ব্যাপারে হয় উৎপাটন দ্বারা অথবা যেকোন ধরনের এসিড জাতীয় পদার্থ কর্তৃক, কিংবা

(খ) ৩২০ ধারার ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে কোন এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করে, তবে সে ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।
-------------
Section 326A. Voluntarily causing grievous hurt in respect of both eyes, head or face by means of corrosive substance, etc:- Whoever, except in the case provided for by section 335, voluntarily causes grievous hurt of the kind mentioned in-

(a) clause secondly of section 320 in respect of both the eyes either by gouging out the same or by means of any corrosive substance; or

(b) clause sixthly of section 320 by means of any corrosive substance, shall be punished with death, or imprisonment for life and shall also be liable to fine.
২,২০৯.
দণ্ডবিধির ১৭১ঘ ধারার অধীনে কোনটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. একাধিকবার ভোট প্রদান করা
  2. মৃত ব্যক্তির নামে ভোট প্রদান করা
  3. অন্য ব্যক্তির হয়ে ভোট দেওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ঘ (Section 171D) ধারার অধীনে নিম্নলিখিত কাজগুলো নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয়দান হিসেবে অপরাধ গণ্য হবে—
- একাধিকবার ভোট প্রদান করা (একই নির্বাচনে একাধিকবার নিজের নামে ভোট চাওয়া)
- মৃত ব্যক্তির নামে ভোট প্রদান করা
- অন্য ব্যক্তির হয়ে ভোট দেওয়া (জীবিত বা মৃত অন্য কারও নামে ভোট চাওয়া বা দেওয়া)
অতএব, সবগুলোই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত, তাই "ঘ) উপরের সবগুলো" সঠিক উত্তর।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ঘ ধারার বিধান নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয় দান:- কোন ব্যক্তি যদি কোন নির্বাচনে অপর কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নামে ভোটের কাগজের জন্য প্রার্থনা করে বা অপর কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নামে ভোটদান করে বা কোন কল্পিত নামে ভোটের কাগজ প্রার্থনা বা ভোটদান করে অথবা অনুরূপ নির্বাচনে একবার ভোটদানের পর পুনরায় একই নির্বাচনে নিজের নামে ভোটের কাগজ চায় এবং কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন উপায়ে কোন ব্যক্তি দ্বারা ভোটদানে সহায়তা করে বা অনুরূপ কোন উপায়ে কোন ব্যক্তির ভোট সংগ্রহ করে বা সংগ্রহ করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয়দানের অপরাধে অপরাধী হবে।
--------------------
⇒ The Penal Code, 1860-  Section 171D. Personation at elections:-Whoever at an election applies for a voting paper or votes in the name of any other person, whether living or dead, or in a fictitious name, or who having voted once at such election applies at the same election for a voting paper in his own name, and whoever abets, procures or attempts to procure the voting by any person in any such way, commits the offence of personating at an election.
২,২১০.
Under which section of the Penal Code is "House-trespass" defined?
  1. 441
  2. 442
  3. 443
  4. 444
ব্যাখ্যা
⇒ অনধিকার গৃহ-প্রবেশ (House-trespass)- কোন ব্যক্তির গৃহে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করলে তা অনধিকার গৃহপ্রবেশ বলে গণ্য হবে।
⇒ ৪৪২ ধারায় গৃহ বলতে দালান (building), তাঁবু (tent), জাহাজ (vessel) বা নৌকাকে বোঝায় যা মানুষের বসবাস, সম্পত্তি সংরক্ষণ অথবা উপাসনার (place for custody of property or for worship) জন্য ব্যবহৃত হতে হবে।
⇒ অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য যথেষ্ট।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান  অনধিকার গৃহে প্রবেশ:-
কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".

Explanation:-The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
২,২১১.
Chapter XXI of The Penal Code deals with-
  1. ABETMENT
  2. DEFAMATION
  3. OFFENCES AGAINST PROPERTY
  4. CRIMINAL CONSPIRACY
ব্যাখ্যা
⇒ Chapter XXI of The Penal Code deals with-DEFAMATION.
 ⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।

  ⇒ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ের নাম:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ,(GENERAL EXPLANATIONS)
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি,(PUNISHMENTS)
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ,(GENERAL EXCEPTIONS)
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা,(ABETMENT)
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র,(CRIMINAL CONSPIRACY)
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, (OFFENCES AGAINST THE STATE)
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ, (OFFENCES BY OR RELATING TO PUBLIC SERVANTS)
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ,(OFFENCES RELATING TO ELECTIONS)
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ,(OFFENCES AFFECTING THE HUMAN BODY)
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,  (OFFENCES AGAINST PROPERTY)
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ, (OFFENCES RELATING TO MARRIAGE)
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি, ( DEFAMATION)
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ। (ATTEMPTS TO COMMIT OFFENCES)
২,২১২.
কোন ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ দলে থাকার জন্য দণ্ডবিধির ৪০১ ধারায় শাস্তি পাবে?
  1. সম্পত্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে
  2. সংঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে
  3. ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে
  4. চুরি বা দস্যুতা করার উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা: চোরদের দলে থাকার সাজা:
কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোন সময়ে এমন কোন ভ্রাম্যমান বা অপর কোনরূপ দলে থাকে, যে দলের ব্যক্তিরা বরাবর চুরি বা দস্যুতা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে পরস্পর সংঘবদ্ধ এবং যদি উহা ঠগদের বা ডাকাতদের দল না হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 401. Punishment for belonging to gang of thieves:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall belong to any wandering or other gang of person, associated for the purpose of habitually committing theft or robbery, and not being a gang of thugs or dacoits, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
২,২১৩.
'ক', একজন সরকারি কর্মকর্তা, যাকে আইন অনুযায়ী কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে সেই নির্দেশ না মানে এবং জানে যে, এর ফলে 'খ' এর ক্ষতি হবে, তাহলে 'ক' এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৫ বছর কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ১ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ১৬৬: আইন লঙ্ঘনকারী সরকারি কর্মচারী, যার উদ্দেশ্য অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করা:
যে ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী হিসেবে, আইন অনুযায়ী যে ভাবে তার কর্তব্য পালন করতে হবে তা জানার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘন করে, এবং জানে বা ধারণা করে যে তার এই অমান্যতার ফলে কোনো ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যক্তি এক বছরের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়ই হতে পারে।

উদাহরণ:
ক, একজন কর্মকর্তা, আইন অনুযায়ী কোনো সম্পত্তি কার্যকর করতে নির্দেশপ্রাপ্ত, যাতে খ এর পক্ষে আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটাতে পারে, যদি সে সচেতনভাবে সেই নির্দেশ অমান্য করে এবং জানে যে এর ফলে খ এর ক্ষতি হতে পারে, তাহলে এ ব্যক্তি উক্ত ধারায় অপরাধ করেছেন।

২,২১৪.
যদি কোনো ব্যক্তি আইনগতভাবে চুক্তি অনুযায়ী একজন অক্ষম ব্যক্তির সাহায্য করার জন্য দায়বদ্ধ থাকে কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার শাস্তি কী হতে পারে?
  1. কোনো শাস্তি হবে না
  2. এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. দুই মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৯১:
যদি কোনো ব্যক্তি আইনগতভাবে একটি চুক্তির আওতায় থাকে, যা অনুযায়ী তাকে কোনো এমন ব্যক্তির সাহায্য করতে হবে যিনি বয়সের কারণে, মানসিক অসুস্থতার কারণে, রোগ বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিজের সুরক্ষা বা প্রয়োজন পূরণ করতে অক্ষম, এবং সেই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে

তাকে নিম্নলিখিত শাস্তি দেওয়া হবে:
কারাদণ্ড: তিন মাস পর্যন্ত যেকোনো ধরণের কারাদণ্ড।
জরিমানা: দুই শত টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়ই।
২,২১৫.
দণ্ডবিধির ধারা ১০৩ অনুযায়ী কোন অপরাধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত প্রযোজ্য?
  1. প্রতারণা
  2. দস্যুতা
  3. মানহানি
  4. জালিয়াতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০৩ অনুযায়ী, সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এমন পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োগ করা যেতে পারে যে প্রয়োজনে অপরাধীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো সম্ভব হয়। তবে এই অধিকার কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- ধারা ১০৩-এ উল্লেখিত অপরাধগুলোর মধ্যে একটি হলো দস্যুতা (Robbery)। দস্যুতা এমন একটি গুরুতর অপরাধ, যেখানে বলপ্রয়োগ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পত্তির মালিক বা রক্ষক যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজের ও নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনবশত প্রাণঘাতী প্রতিরোধ করতে পারেন।
- সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে দস্যুতা একমাত্র সেই অপরাধ, যার ক্ষেত্রে সম্পত্তির রক্ষার্থে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৩: যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা অপথে গৃহে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-103. When the right of private defence of property extends to causing death:
The right of private defence of property extends, under the restrictions mentioned in section 99, to the voluntary causing of death or of any other harm to the wrong-doer, if the offence, the committing of which, or the attempting to commit which, occasions the exercise of the right, be an offence of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-Firstly.-Robbery;
Secondly.-House-breaking by night;
Thirdly.-Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, which building, tent or vessel is used as a human dwelling or as a place for the custody of property;
Fourthly.-Theft, mischief or house-trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension that death or grievous hurt will be the consequence, if such right of private defence is not exercised;

২,২১৬.
রাষ্ট্রদ্রোহিতা অপরাধের শাস্তি কী?
  1. ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের জেল
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড বা ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১২৪ক তে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রদ্রোহীতার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড বা ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড।
২,২১৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় মারামারির শাস্তির বিধান আছে?
  1. ১৪৯
  2. ১৬৯
  3. ১৬০
  4. ১৫৯
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান  মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
___________________________________________
⇒ Section 159:- Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒ Section 160: Punishment for committing affray:
-Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.
২,২১৮.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় জনসাধারণ বা দশজনের অধিক ব্যক্তিকে অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করার শাস্তির বিধান আছে?
  1. ১১৫
  2. ১১৬
  3. ১১৭
  4. ১১৮
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ১১৭ ধারার বিধান জনসাধারণ বা দশজনের অধিকসংখ্যক ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্যকরণ:
- জনসাধারণ দ্বারা অথবা দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী দ্বারা অপরাধ সংঘটনে কেউ সাহায্য করলে তাকে তিন বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
------------------------------
→ The Penal Code,1860- Section 117: Abetting commission of offence by the public, or by more than ten persons: 
- Whoever abets the commission of an offence by the public generally or by any number or class of persons exceeding ten, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,২১৯.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপহরণ (Abduction) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৩৬০
  2. ধারা ৩৬২
  3. ধারা ৩৬৫
  4. ধারা ৩৭০
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৬২-এ অপহরণের (Abduction) সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণামূলকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য করে, তাকে অপহরণ বলা হয়।
- অর্থাৎ, অপহরণ (Abduction) হল এমন একটি অপরাধ যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা প্রতারণার মাধ্যমে বা শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়।
⇒ The Penal Code, 1860- Section, 362. Abduction:
 - Whoever by force compels, or by any deceitful means induces, any person to go from any place, is said to abduct that person.

২,২২০.
Assault or criminal force to woman with intent to outage hermodesty করার শাস্তি কী?
  1. অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  2. অনধিক ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  3. অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ মতে- যদি কোন ব্যক্তি কোন নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা সে তৎকর্তৃক তার শালীনতা নষ্ট করতে পারে জেনে তাকে আক্রশ করে বা তৎপ্রতি অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করে, তাহলে সে ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে—যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,২২১.
নিম্নের কোন কার্যটি চুরি হিসাবে গণ্য হবে না ?
  1. চলাচলের রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান আংটি কুড়িয়ে নেয়া।
  2. অপরের জমিতে দন্ডায়মান গাছ কেটে ফেলা।
  3. টোপ দিয়ে অন্যের পোষা প্রাণী নিয়ে যাওয়া।
  4. অপরের জমিতে দন্ডায়মান গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া।
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।
♦ যেহেতু রাস্তায় পড়ে থাকা আংটির মালিক কে বা প্রকৃত দখলদার কে তা যে ব্যক্তি আংটি কুড়িয়ে নিয়েছে, সে জানে না, তাই সে আংটি টি মালিকের বা প্রকৃত দখলদারের অসম্মতিতে নিয়েছে তা বলা যাবে না। সুতরাং চলাচলের রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান আংটি কুড়িয়ে নেয়া চুরি বলে গণ্য হবে না বরং এটা অপরাধমূলক সম্মত্তি আত্মসাৎকরণ বলে গণ্য হবে।
২,২২২.
'ক' একটি সম্পত্তি 'ঘ' কে দান করে। 'ক' পরে 'ঘ'- কে তার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে, সে একই সম্পত্তি 'খ' এর কাছে হস্তান্তর করে একটি দলিল প্রণয়ণ করে। তার উদ্দেশ্য- 'ঘ' কে প্রদানের ছয় মাস অগেই সম্পত্তিটি 'খ' কে প্রদান করা হয়েছে এরকম বিশ্বাস সৃষ্টি করা। এক্ষেত্রে 'ক' কী অপরাধ করেছে?
  1. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  2. জালিয়াতি
  3. বলপূর্বক গ্রহণ
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
এক্ষেত্রে 'ক' জালিয়াতির অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতি কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে গণ্য হবে যদি সে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কোন দলিল বা দলিলের অংশ প্রস্তুত করে;

১. কোন ব্যক্তি বা জনসাধারণের ক্ষতি সাধন করতে [with intent to cause damage or injury]; বা
২. কোন দাবি বা অধিকার সমর্থন করতে [to support any claim or title]; বা
৩. কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি পরিত্যাগ করতে [to cause any person to part with property]; বা
৪. কোন লোককে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে [to enter into any express or implied contract]; বা
৫. প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে বা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে [with intend to commit fraud or fraud may be committed]।

উল্লিখিত ক্ষেত্রেও 'ক', 'ঘ' কে প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে নতুন দলিল প্রস্তুত করে, তাই উক্ত অপরাধ 'জালিয়াতি' হিসেবে গণ্য হবে।
২,২২৩.
দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কোন কাজটি চুরির ক্ষেত্রে দস্যুতা অপরাধ সংঘটিত করতে পারে?
  1. চুরির সময় শুধুমাত্র সম্পত্তি স্থানান্তর করা
  2. চুরির সময় সম্পত্তি মালিকের সম্মতি নেওয়া
  3. চুরির সময় কাউকে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ভয় দেখানো
  4. চুরির সময় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়া সম্পত্তি নেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী, চুরি (Theft) তখন দস্যুতা (Robbery) হয়ে যায়, যখন চুরি করার সময়, বা চুরি করে পালানোর সময়, বা চুরি করা মাল বহনের সময় অপরাধী ইচ্ছাকৃতভাবে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়, আঘাত করে, অবৈধভাবে আটকায়, অথবা তাৎক্ষণিক মৃত্যু / গুরুতর আঘাত / অবৈধ আটকের ভয় সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে।
- অতএব, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর হলো: গ) চুরির সময় কাউকে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ভয় দেখানো — কারণ এটিই চুরিকে দস্যুতা হিসেবে পরিগণিত করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান দস্যুতা:- প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহ্বল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় 'দস্যুতা' বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা:- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 390- Robbery: In all robbery there is either theft or extortion:
When theft is robbery:
Theft is "robbery" if, in order to the committing of the theft, or in committing the theft, or in carrying away or attempting to carry away property obtained by the theft, the offender, for that end, voluntarily causes or attempts to cause to any person death or hurt or wrongful restraint, or fear of instant death or of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
When extortion is robbery:
Extortion is “robbery” if the offender, at the time of committing the extortion, is in the presence of the person put in fear, and commits the extortion by putting that person in fear of instant death, instant hurt, or of instant wrongful restraint to that person, or to some other person, and, by so putting in fear, induces the person so put in fear then and there to deliver up the thing extorted.
-Explanation:- The offender is said to be present if he is sufficiently near to put the other person in fear of instant death, of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
২,২২৪.
দণ্ডবিধির কত ধারায় চুরি হয়ে যাওয়া কোন সম্পত্তি উদ্ধারের নিমিত্তে কোন পুরস্কার গ্রহণ করার বিধান রয়েছে?
  1. ২০৭ ধারায়
  2. ২১৪ ধারায়
  3. ২১৫ ধারায়
  4. ২১৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১৫ ধারার বিধান: চোরাই সম্পত্তি ইত্যাদি উদ্ধারে সহায়তা করার জন্য উপহার গ্রহণ করা:
-কোন ব্যক্তি এই বিধি বলে দণ্ডনীয় কোন অপরাধহেতু যে সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে তাকে সে সম্পত্তি উদ্ধারে সহায়তার ভান করে বা সহায়তা করার জন্য যদি কেউ কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে কিংবা গ্রহণ করতে স্বীকৃত বা সম্মত হয়, তবে সে যদি না অপরাধীকে গ্রেফতার ও অপরাধের জন্য দণ্ডিত করানোর জন্য তার সাধ্যায়ও সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------------------------------- 
⇒The Penal Code, 1860-Section 215. Taking gift to help to recover stolen property, etc:
-Whoever takes or agrees or consents to take any gratification under pretence or on account of helping any person to recover any moveable property of which he shall have been deprived by any offence punishable under this Code, shall, unless he uses all means in his power to cause the offender to be apprehended and convicted of the offence, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,২২৫.
'A' জানে যে 'B', 'Z' কে হত্যা করেছে, তবুও 'B' কে শাস্তি হতে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে 'Z' এর মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলতে 'A', 'B' কে সাহায্য করে। The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় 'A' শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে?
  1. 304
  2. 302
  3. 202
  4. 201
ব্যাখ্যা

⇒ উল্লিখিত ঘটনাটি দণ্ডবিধির ধারা ২০১-এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা ধারাটির উদাহরণ (Illustration) হিসেবেও উল্লেখিত আছে।
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২০১ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে জেনেশুনে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অপরাধের সাক্ষ্য (যেমন: মৃতদেহ) অদৃশ্য করে বা মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে সে শাস্তিযোগ্য। এখানে 'A'-এর কাজ (মৃতদেহ লুকিয়ে সাহায্য করা) হত্যার সাক্ষ্য অদৃশ্য করার অপরাধ, যা ধারা ২০১-এর উদাহরণের মতোই।
শাস্তি: হত্যার মতো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

⇒ দণ্ডবিধির ২০১ ধারার বিধান অপরাধকারীকে গোপন করিবার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করিয়া দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা:
- কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধীকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে, কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও অথবা অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, সে অপরাধটি সংঘটনের কোন সাক্ষ্য বা প্রমাণ বিলুপ্ত করে বা করায়, অথবা সে উদ্দেশ্য নিয়ে সে অপরাধটি সম্পর্কে কোন খবর দেয়, যা সে মিথ্যা বলে জানে অথবা যা মিথ্যা বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তখন-
-যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):-
যদি, যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সে জানে বা যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস সে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;
যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imrisonment for life):-
এবং যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;
যদি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with less thatn ten year’s imprisonment):-
এবং যদি অপরাধটি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যে ধরনের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অপরাধটির জন্য দীর্ঘতম যে মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, তার কারাদণ্ডের মেয়াদ উহার এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোনো দৈর্ঘ্যের হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
'খ', 'চ'-কে খুন করেছে জানা সত্ত্বেও 'ক', 'খ'-কে সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে 'খ'-কে 'চ' এর মৃতদেহটি লুকিয়ে ফেলিতে সহায়তা করে। 'ক' সাত বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 201. Causing disappearance of evidence of offence, or giving false information to screen offender- if a capital offence; if punishable with imprisonment for life; if punishable with less than ten years’ imprisonment:
Whoever, knowing or having reason to believe that an offence has been committed, causes any evidence of the commission of that offence to disappear, with the intention of screening the offender from legal punishment, or with that intention gives any information respecting the offence which he knows or believes to be false,
shall, if the offence which he knows or believes to have been committed is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and if the offence is punishable with [imprisonment for life], or with imprisonment which may extend to ten years, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine;
and if the offence is punishable with imprisonment for any term not extending to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence, for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of the imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both.

Illustration:
A, knowing that B has murdered Z, assists B to hide the body with the intention of screening B from punishment. A is liable to imprisonment of either description for seven years, and also to fine.

২,২২৬.
'A' শপথ অনুসারে সত্য বলতে বাধ্য হয়ে এই বলে বিবৃতি দান করে যে- 'Z' কোন বিশেষ দিনে, বিশেষ জায়গায় উপস্থিত ছিল। যদিও 'A' ঐ বিষয়ে কিছু জানে না। দণ্ডবিধি অনুযায়ী 'A 'এর কৃতকাজ কী অপরাধ বলে গণ্য হবে?
  1. সত্য গোপন
  2. মিথ্যা সাক্ষ্যদান
  3. মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন
  4. ইচ্ছাকৃত সত্য গোপন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯১ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্যদান:- কোন ব্যক্তি যদি কোন শপথক্রমে বা আইনে কোন প্রকাশ্য বিধান অনুযায়ী সত্য বলতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, অথবা কোন বিষয়ে একটি ঘোষণা প্রদান করতে আইনানুসারে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, এমন কোন উক্তি করে বা বিবৃতি দান করে যা মিথ্যা, এবং যা হয় সে মিথ্যা বলে জানে, না হয় সে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করে অথবা যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করে না, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ১:- কোন উক্তি বা বিবৃতি মৌখিকভাবে অথবা অপর যেভাবেই করা হোক না কেন, এই ধারার অর্থানুসারে তা উক্তি বা বিবৃতি বলে বিবেচিত।
ব্যাখ্যা ২:- সত্যতা নিরূপণকারী ব্যক্তির বিশ্বাস বিষয়ক মিথ্যা উক্তি এই ধারার অর্থে অন্ত র্ভুক্ত। কোন ব্যক্তি যা বিশ্বাস করে না, তা সে বিশ্বাস করে বলে এবং যা সে জানে বলে উক্তি করলে সে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দানের জন্য অপরাধী হবে।
-----------------------
⇒The Penal Code, 1860-Section-191: Giving false evidence:
-Whoever being legally bound by an oath or by an express provision of law to state the truth, or being bound by law to make a declaration upon any subject, makes any statement which is false, and which he either knows or believes to be false or does not believe to be true, is said to give false evidence.
Explanation 1.-A statement is within the meaning of this section, whether it is made verbally or otherwise. 
Explanation 2.-A false statement as to the belief of the person attesting is within the meaning of this section, and a person may be guilty of giving false evidence by stating that he believes a thing which he does not believe, as well as by stating that he knows a thing which he does not know.
- Illustrations:
(d) A, being bound by an oath to state the truth, states that he knows that Z was at a particular place on a particular day, not knowing anything upon the subject. A gives false evidence whether Z was at that place on the day named or not.
২,২২৭.
নিচের কোন সম্পত্তি চোরাই মাল হিসেবে গণা হবে?
  1. চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  2. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি
  3. দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই  মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা মতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণা হবে তা হল-

(i) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি

(ii) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি

(iii) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি এবং 

(iv) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

♦ ধারা ৪১০ মতে চোরাই সম্পত্তি :- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ‘চোরাই সম্পত্তি' বলে । কিন্তু উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
২,২২৮.
'ক’, ‘গ’ কে খুন করার জন্য ‘খ’ কে প্ররোচিত করে। ‘খ’ কার্যটি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এখানে 'ক' দণ্ডবিধি অনুযায়ী কী নামে অভিহিত হবে?
  1. Conspirator
  2. Abettor
  3. Murderer
  4. Initiator of a attempt of murder
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১০৮ ধারার মতে, যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য অন্যকে প্ররোচিত বা উসকানি দেয়, সে "Abettor" বা উসকানিদাতা হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি যদি অপরাধ সংঘটিত না হয় তবুও।

এক্ষেত্রে 'ক' 'খ'-কে 'গ'-কে খুন করার জন্য প্ররোচিত করেছে, যদিও 'খ' তা করতে অস্বীকার করেছে, তবুও 'ক' উসকানিদাতা (Abettor) হিসেবে দোষী হবে।

ধারা ১০৮- উসকানিদাতা (Abettor)
যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে অন্যকে উসকানি বা প্ররোচনা দেয়, অথবা এমন কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে যা আইনত অপরাধ বলে গণ্য হবে (যদি তা এমন কোনো ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত হয়, যিনি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করার সক্ষমতা রাখেন এবং উসকানিদাতার মতোই অভিপ্রায় বা জ্ঞান রাখেন), সে ব্যক্তি উসকানিদাতা (Abettor) বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা:
- অবৈধ কোনো কাজ না করার জন্য উসকানি দেওয়া হলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদিও উসকানিদাতা নিজে সে কাজ করতে বাধ্য না থাকেন।
- উসকানির অপরাধ সংঘটিত হওয়ার জন্য অপরাধমূলক কাজটি করা আবশ্যক নয়, বরং কাজটি না হলেও উসকানি দেওয়াটাই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
২,২২৯.
'জ' মিথ্যা কুৎসা রটনার ভয় দেখিয়ে 'ঝ'-কে ১ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য করে। 'জ' নিম্নের কোন অপরাধ করেছে?
  1. দস্যুতা
  2. প্রতারণা
  3. বলপূর্বক গ্রহণ
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক', 'গ'-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, 'গ' তাকে টাকা না দিলে 'ক', 'গ'- এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে 'গ'-কে বাধ্য করে। 'ক' 'বল প্রয়োগে' সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।

বলপূর্বক গ্রহণের শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারা মোতাবেক যে ব্যক্তি জোরপূর্বক গ্রহণের অপরাধ করে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
২,২৩০.
What is the maximum fine that can be imposed for criminal trespass under Section 447 of the Penal Code?
  1. 100 taka
  2. 200 taka
  3. 500 taka
  4. 1000 taka
ব্যাখ্যা
• Section 447- Punishment for criminal trespass:
Whoever commits criminal trespass shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.

দণ্ডবিধি ৪৪৭ ধারা মতে-
অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি হলো অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
২,২৩১.
According to Section 359 of The Penal Code Kidnapping is-
  1. kidnapping from lawful guardianship.
  2. kidnapping from Bangladesh.
  3. kidnapping from home.
  4. 'A' & 'B' Both
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারার বিধান  মনুষ্যহরণ:- মনুষ্যহরণ দুই প্রকারের:- বাংলাদেশ হতে মনুষ্যহরণ এবং আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ।

⇒ Section 359. Kidnapping:-Kidnapping is of two kinds; kidnapping from Bangladesh, and kidnapping from lawful guardianship.

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান  বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম:- যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------------
⇒ Section 360. Kidnapping from Bangladesh:-Whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of some person legally authorized to consent on behalf of that person, is said to kidnap that person from Bangladesh.

⇒ Section 361. Kidnapping from lawful guardianship: Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship.

Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person. 
Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.
২,২৩২.
দণ্ডবিধির বিধান অনুযায়ী নিচের কোন অপরাধের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ অপরিহার্য উপাদান নয়?
  1. ডাকাতি
  2. দস্যুতা
  3. প্রতারণা
  4. বলপূর্বক গ্রহণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধি ৩৮৩ ধারাতে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion) রয়েছে। কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।

অর্থাৎ দণ্ডবিধির বিধান প্রতারণার ক্ষেত্রে বলপ্রয়োেগ অপরিহার্য উপাদান নয়। 
অন্যদিকে বলপূর্বক গ্রহণ, দস্যুতা, ডাকাতির ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ অপরিহার্য উপাদান। 
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 415: Cheating:
 Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".

Explanation. A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
২,২৩৩.
প্রতারণার শাস্তি রয়েছে-
  1. ৪১৫ ধারায়
  2. ৪১৬ ধারায়
  3. ৪১৭ ধারায়
  4. ৪১৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪১৭ ধারা মতে প্রতারণার শাস্তি (Punishment for cheating) হলো অনধিক ১ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
২,২৩৪.
নিচের কোনটি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান নয়?
  1. সম্পত্তি অর্পণ
  2. সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎকরণ
  3. সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণ
  4. আইনের নির্দেশনা লঙ্ঘন বা আইনানুগ চুক্তি ভঙ্গ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪০৫ ধারা অনুসারে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষেত্রে, অভিযুক্তকে বিশ্বাসভরে সম্পত্তি অর্পণ থাকতে হবে এবং অতপর তিনি আইনের নির্দেশনা লংঘন করে বা যে চুক্তি অনুসারে তাকে সম্পত্তি অর্পণ করা হয়েছিল সেই চুক্তিভঙ্গ করে সম্পত্তিটি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেছে বা নিজ ব্যবহারে পরিণত করেছে, সেই ক্ষেত্রে এটা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ হতে পারে।
♦সুতরাং সম্পত্তি প্রতারণামূলক আত্মসাৎকরণ অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান না।  বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষেত্রে অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণ Idishonest misappropriation] থাকতে হবে, প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎকরণ [misappropriation by cheating) থাকার প্রয়োজন নেই।

♦অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের শর্ত/ উপাদান:
•বিশ্বাসের ভারপ্রাপ্ত হয়ে বা আধিপত্যের মাধ্যমে
•কারো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি
•অসাধুভাবে
•আত্মসাৎ, নিজের ব্যবহারে পরিণত বা হস্তান্তর করলে বা কাউকে এরূপ করার অনুমতি দান করলে।
২,২৩৫.
A এবং B একটি ঘোড়ার যৌথ মালিক। A, ঘোড়াটি B-এর দখল থেকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় এবং বিক্রি করে বিক্রির পুরো অর্থ নিজের কাজে ব্যবহার করে। তার এই কাজ-
  1. Mischief
  2. Fraud
  3. Criminal Breach of Trust
  4. Dishonest Misappropriation
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ধাড়া ৪০৩: সম্পত্তির অসৎ উদ্দেশ্যে আত্মসাৎ (Dishonest Misappropriation):
যে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যের কোনো অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা তা নিজের কাজে ব্যবহার করে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A, Z-এর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি Z-এর দখল থেকে সরিয়ে নেয়, সৎ বিশ্বাসে বিশ্বাস করে যে সেই সম্পত্তি তার নিজের। তখন এটি চুরির অপরাধ নয়। তবে, যদি A পরে তার ভুল বুঝতে পেরে অসৎ উদ্দেশ্যে সেই সম্পত্তি নিজের কাজে ব্যবহার করে, তবে এটি এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ।

(খ) A, Z-এর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কারণে, Z-এর অনুপস্থিতিতে Z-এর লাইব্রেরি থেকে একটি বই নিয়ে যায়, যা Z-এর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়াই। যদি A মনে করে যে Z তাকে পড়ার জন্য বইটি নিতে পরোক্ষ অনুমতি দিয়েছেন, তবে এটি চুরি নয়। কিন্তু, যদি A পরে সেই বইটি বিক্রি করে এবং তার নিজের স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করে, তবে এটি এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ।

(গ) A এবং B একটি ঘোড়ার যৌথ মালিক। A, ঘোড়াটি B-এর দখল থেকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। যেহেতু A-এর ঘোড়া ব্যবহারের অধিকার আছে, এটি অসৎ আত্মসাৎ নয়। তবে, যদি A ঘোড়াটি বিক্রি করে এবং পুরো অর্থ নিজের কাজে ব্যবহার করে, তবে এটি এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ।

২,২৩৬.
সড়ক দুর্ঘটনায় অসাবধানতাবশত কারও মৃত্যু ঘটালে দণ্ডবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ৩০২
  2. ধারা ৩০৪ক
  3. ধারা ৩০৪খ
  4. ধারা ৩০৬
ব্যাখ্যা
⇒ যদি সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ অসাবধানতাবশত (negligently) কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়, এবং তা ইচ্ছাকৃত খুন নয়, তাহলে দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারা প্রযোজ্য হয়।
- দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪খ বিশেষভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় অসাবধানতাবশত (rash or negligent driving) কারও মৃত্যু ঘটালে প্রযোজ্য।
- এই ধারায় শাস্তি হিসেবে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।

→ ধারা ৩০৪খ – বেপরোয়া বা অসতর্ক ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটানো “যে ব্যক্তি জনসাধারণের পথে বেপরোয়া বা অসতর্কভাবে কোনো যানবাহন চালানোর ফলে কারো মৃত্যু ঘটায়,
অথচ তা culpable homicide নয়, সে ব্যক্তি দণ্ডিত হবেন, সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে।”

⇒ The Penal Code, 1860- Section 304B. Causing death by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes the death of any person by rash or negligent driving of any vehicle or riding on any public way not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,২৩৭.
'A', 'B' এর একটি ঘড়ি চুরি করলো। এখানে চুরির ফলে 'B' এর ______ হলো এবং 'A' ________ করলো।
  1. অবৈধ লাভ, অবৈধ ক্ষতি
  2. অসাধু লাভ, অবৈধ ক্ষতি
  3. অবৈধ ক্ষতি, অবৈধ লাভ
  4. অবৈধ ক্ষতি, বৈধ লাভ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ২৩ যারায় অবৈধ লাভ এবং অবৈধ ক্ষতি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

অবৈধ লাভ [Wrongful Gain]:
অবৈধ লাভ অর্থ হলো বেআইনীভাবে এরুপ সম্পত্তি লাভ করা, যে সম্পত্তিতে লাভকারী ব্যক্তির কোন আইনানুগ অধিকার নেই। যেমন 'ক' একটি ঘড়ি চুরি করলো। উক্ত ঘড়িতে চোর, ক-এর কোন আইনানুগ অধিকার নেই। সুতরাং ক সম্পত্তিটি অবৈধ লাভ করেছে বলে গণ্য হবে।

অবৈধ ক্ষতি [Wrongful Loss]:
অবৈধ ক্ষতি হলো বেআইনীভাবে এমন সম্পত্তির ক্ষতি, যাতে ক্ষতিগ্রস্থ লোকের আইনানুগ অধিকার আছে। A, B এর একটি ঘড়ি চুরি করলো। এখানে B হলো ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি এবং উক্ত ঘড়িতে B এর আইনানুগ অধিকার ছিল। সুতরাং চুরির ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি, B এর অবৈধ ক্ষতি হলো এবং চোর, A অবৈধ লাভ করলো।

২,২৩৮.
দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারা অনুসারে নিচের কোন অপরাধটি public place এ অনুষ্ঠিত হয়?
  1. বেআইনি সমাবেশ
  2. অবরোধ
  3. দাঙ্গা
  4. মারামারি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান  মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
___________________________________________
⇒The Penal Code, 1860-Section-159: Affray:
 When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒The Penal Code, 1860-Section-160: Punishment for committing affray:
 Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.

উল্লিখিত প্রশ্নে শুধুমাত্র মারামারি (Affray) public place এ অনুষ্ঠিত হয়।
২,২৩৯.
দণ্ডবিধির ধারা ১৩৩ অনুসারে, কোনো সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনা কর্তৃক তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর আক্রমণে প্ররোচনার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৩৩ অনুসারে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমান বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনা কর্তৃক তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর, তিনি দায়িত্ব পালনকালে, আক্রমণে প্ররোচনার শাস্তি হলো যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড, যা সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং জরিমানাও হতে পারে।
--------- 
⇒The Penal Code, 1860- Section-133. Abetment of assault by soldier, sailor or airman on his superior officer, when in execution of his office:
Whoever, abets an assault by an officer, soldier, sailor or airman, in the Army, Navy or Air Force of Bangladesh, on any superior officer being in the execution of his office, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

২,২৪০.
বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটলে যে অপরাধ হয় তা-
  1. জামিনযোগ্য
  2. অ-জামিনযোগ্য
  3. তফসিলভুক্ত
  4. তফসিল বহির্ভূত
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিল অনুযায়ী  দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারায়, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধটি জামিনযোগ্য এবং আমলযোগ্য। মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার্য  এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী  শাস্তি তিন বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই।
২,২৪১.
Under Section 143 of The Penal Code, 1860, a person can be punished if he is:
  1. leading an unlawful assembly
  2. member of an unlawful assembly
  3. indirectly supporting an unlawful assembly
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারার বিধান- বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি:
কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনী সমাবেশের সদস্য হয়, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

⇒ Section 143- Punishment:
Whoever is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.
২,২৪২.
'ক', 'গ' এর মুখে ঘুষি মারলে তার একটি দাঁত পড়ে যায়। 'ক' এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. হত্যা চেষ্টা
  2. ইচ্ছাকৃত জখম
  3. সাধারন জখম
  4. মারাত্মক জখম
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা 
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒Section 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
২,২৪৩.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় মানহানির (Defamation) সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪৯৬ ধারা
  2. ৪৯৭ ধারা
  3. ৪৯৯ ধারা
  4. ৫০০ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির (Defamation) সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা বা কুৎসাজনক বক্তব্য বলা হয় যা তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করে, তখন তাকে মানহানি বলা হয়। তবে ৪৯৯ ধারায় মোট ১০টি ব্যতিক্রম উল্লেখ আছে যেখানে সত্য বা সৎ বিশ্বাসে কিছু কথোপকথন মানহানি হিসেবে গণ্য হবে না। অন্যদিকে, ৫০০ ধারা শাস্তি সংক্রান্ত বিধান নিয়ে আলোচনা করে। তাই মানহানির সংজ্ঞা এবং ব্যতিক্রম ৪৯৯ ধারাতেই পাওয়া যায়।

⇒ দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন কুৎসা রটনা করা হয় যা উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে (harm reputation) তাকে মানহানি বা Defamation বলে। অর্থাৎ কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবেনা।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম নিচে দেওয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

⇒ শাস্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
২,২৪৪.
'ক' মৃত্যু হবে জেনেও 'খ' এর মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়েন কিন্তু ঐ গুলিতে 'গ' এর মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে 'ক'-
  1. খুনের অপরাধ করেছে
  2. ৩০১ ধারার অধীনে অপরাধ করেছে
  3. ৩০৪ ধারার অধীনে অপরাধ করেছে
  4. অপরাধ করে নি
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:
কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।

Section: 301- Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
২,২৪৫.
চুরি করতে গিয়ে কাউকে আটকের ভীতি প্রদর্শন করলে, দণ্ডবিধি অনুসারে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়?
  1. Wrongful restraint
  2. Extortion
  3. Robbery 
  4. Dacoity
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি অনুযায়ী,
যদি কোনো ব্যক্তি চুরি (theft) করার সময় বা চুরি শেষে ভয় দেখায়, আঘাত করে, বা মৃত্যু/আটকের আশঙ্কা সৃষ্টি করে — অর্থাৎ, ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে চুরি সম্পন্ন করে, তবে সেই চুরি আর সাধারণ চুরি থাকে না, সেটি Robbery (দস্যুতা) হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান
- দস্যুতা: 
প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে: চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।

বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে: বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহ্বল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় 'দস্যুতা' বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা: অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

২,২৪৬.
চোরাইমাল গোপন করিবার ব্যাপারে সহায়তাকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৪ ধারার বিধান চোরাইমাল গোপন করিবার ব্যাপারে সহায়তাকরণ:
- কোন ব্যক্তি যদি সে যে সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে সে সম্পত্তি লুকিয়ে রাখতে বা বিলিব্যবস্থা করতে বা নিয়ে সরে পড়তে স্বেচ্ছায় সহায়তা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-----------------
⇒ Section-414: Assisting in concealment of stolen property:
 Whoever voluntarily assists in concealing or disposing of or making away with property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,২৪৭.
একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে জেনেশুনে মিথ্যা বিবৃতি দেন, তবে তার শাস্তি কী?
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  2. ১ মাসের জেল
  3. ৩ মাসের জেল
  4. ৬ মাসের জেল
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭১ছ: নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত মিথ্যা বিবৃতি:
যে কেউ, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে, কোনো বিবৃতি যা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয় এবং যা সে জানে বা বিশ্বাস করে যে মিথ্যা, অথবা যা সত্য বলে বিশ্বাস করে না, এমন কোনো বিবৃতি প্রকাশ করে বা প্রকাশের উদ্যোগ নেয় যা কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণের সাথে সম্পর্কিত, তাকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 171G- False statement in connection with an election:
Whoever with intent to affect the result of an election makes or publishes any statement purporting to be a statement of fact which is false and which he either knows or believes to be or does not believe to be true, in relation to the personal character or conduct of any candidate shall be punished with fine.
২,২৪৮.
প্রতারণার সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. অর্থদন্ডসহ ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
  2. অর্থদন্ডসহ ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড
  3. অর্থদন্ডসহ ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
  4. অর্থদন্ডসহ ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ধারা ৪১৭ অনুযায়ী প্রতারণার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
♦ যেহেতু সশ্রম কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড থেকে কঠিন এজন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হিসেবে অপশন 'ক' (অর্থদন্ডসহ ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড)  নির্বাচন করা হয়েছে।
২,২৪৯.
শান্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ নিরুপণের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদন্ডকে যে মেয়াদের সশ্রম কারাদন্ড হিসেবে গণনা করা হয় তা হলো-
  1. ১৪ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড এর ৫৭ ধারার বিধান দন্ড মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহঃ সাজার মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে, যাবজ্জীবন কারদন্ড ত্রিশ বৎসর মেয়াদের কারাদন্ডের সমান বলে গণনা করা হবে।
২,২৫০.
As per Section 57 of The Penal Code, 1860, how is "imprisonment for life" calculated for fractional terms?
  1. Equivalent to 14 years of simple imprisonment
  2. Equivalent to 20 years of rigorous imprisonment
  3. Equivalent to 30 years of rigorous imprisonment
  4. Equivalent to life without parole
ব্যাখ্যা
⇒ According to Section 57 of The Penal Code, 1860, "imprisonment for life" is considered equivalent to rigorous imprisonment for thirty years when calculating fractions of terms of punishment.

This means that for the purpose of legal calculations, a life sentence is treated as though the individual is serving thirty years of rigorous imprisonment, which is a more intense form of imprisonment that involves hard labor. This section helps to define how life sentences are treated when determining parole eligibility, remission, or other legal matters related to the term of imprisonment.

The Penal Code, 1860, Section- 57. Fractions of terms of punishment:
 In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years.
২,২৫১.
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৪৯৪ অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি দণ্ডিত হবে?
  1. বৈধ বিবাহ ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহ অনুষ্ঠান করা
  2. স্ত্রী বা স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ করা
  3. ব্যভিচারের অপরাধ করলে
  4. অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে কোনো বিবাহিত নারীকে প্রলুব্ধ করে অবৈধভাবে আটক রাখা
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা- স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা:
কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম:
অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিংবা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বৎসর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বৎসর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

২,২৫২.
'ক', 'চ'-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে 'চ' যাতে বিশ্বাস করে যে, 'ক' তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে। এক্ষেত্রে, 'ক' _________ করেছে। 
  1. আঘাত
  2. আক্রমণ
  3. বলপ্রয়োগ
  4. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারা- আক্রমণ:
কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা: কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

উদাহরণ-
(ক) 'ক', 'চ'-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে 'চ' যাতে বিশ্বাস করে যে, 'ক' তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই 'ক' তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে। 'ক' আক্রমণ করেছে। 
২,২৫৩.
"Mischief" এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪১৫ ধারায়
  2. ৪২০ ধারায়
  3. ৪২৫ ধারায়
  4. ৪২৭ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারায় "ক্ষতি বা অনিষ্ট" (Mischief) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, জনসাধারণ বা কোনো ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্টের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ধ্বংস বা তার মূল্য/উপযোগিতা হ্রাস করলে তা "Mischief" বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:-
- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
---------------
⇒ The Penal Code,1860, Section 425: Mischief:
- Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation 1.-It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation 2.-Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.

২,২৫৪.
কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা জানার পরও কোনো ঘোষণাকে সত্য হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তার শাস্তি হবে:
  1. জরিমানা
  2. সতর্কীকরণ
  3. কোনো শাস্তি নেই
  4. মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের শাস্তি
ব্যাখ্যা
ধারা ২০০- মিথ্যা জানার পরও ঘোষণাকে সত্য হিসেবে ব্যবহার:
যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঘোষণা বা বিবৃতিকে মিথ্যা জানার পরও সত্য হিসেবে ব্যবহার করে বা তা সত্য হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের সমতুল্য শাস্তি দেওয়া হবে।
ব্যাখ্যা: শুধুমাত্র কোনো আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে যদি কোনো ঘোষণা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবুও তা ধারা ১৯৯ ও ২০০ এর অর্থের মধ্যে একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হবে।
২,২৫৫.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে যে, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি সংঘটিত অপরাধ শাস্তিযোগ্য হবে না?
  1. ৮২ ধারায়
  2. ৮৩ ধারায়
  3. ৮৪ ধারায়
  4. ৮৫ ধারায় 
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধি ৮৪ ধারায় মতে অপরাধ করার সময় অপরাধী ব্যাক্তি অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে সে কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না। তবে অপরাধ করার সময় উক্ত পাগল ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এমন থাকতে হবে যে সে তার কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারে না।
----------------
→ The Penal Code,1860- Section 84: Act of a person of unsound mind:
- Nothing is an offence which is done by a person who, at the time of doing it, by reason of unsoundness of mind, is incapable of knowing the nature of the act, or that he is doing what is either wrong or contrary to law.
২,২৫৬.
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৫০৬ অনুযায়ী, অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শনের জন্য সর্বোচ্চ কত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০৩: অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন-
যদি কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তার ব্যক্তি, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতির হুমকি দেয়, অথবা সেই ব্যক্তির আগ্রহসম্পন্ন অন্য কারো ব্যক্তি বা সুনামের ক্ষতির হুমকি দেয়, এবং এর মাধ্যমে তাকে ভীত করার উদ্দেশ্যে, অথবা তাকে এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে যা সে আইনত বাধ্য নয়, অথবা তাকে এমন কোনো কাজ না করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে যা সে আইনত করতে অধিকারী, তাহলে তা অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন হিসেবে গণ্য হবে।​

ব্যাখ্যা: যদি কোনো ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সুনাম ক্ষতির হুমকি দেয়, এবং সেই মৃত ব্যক্তি হুমকিপ্রাপ্ত ব্যক্তির আগ্রহসম্পন্ন হন, তবে সেটিও এই ধারার অন্তর্ভুক্ত হবে।​

ধারা ৫০৬: অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শনের শাস্তি-
যে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন করেন, তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
২,২৫৭.
‘A’ জানে যে কিছু মুদ্রা জাল, তবুও সে তা বাংলাদেশে আমদানি করে। দণ্ডবিধির ২৩৭ ধারা অনুযায়ী ‘A’-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1.  ১ বছর কারাদণ্ড
  2.  ২ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ২৩৭ অনুযায়ী, যদি কেউ জাল মুদ্রা বলে জানে বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও তা বাংলাদেশে আমদানি বা রপ্তানি করে, তবে সে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) ৩ বছর কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩৭ ধারার বিধান: জাল মুদ্রা আমদানি কিংবা রপ্তানি:
-মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহা রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 237: Import or export of counterfeit coin:
- Whoever imports into Bangladesh, or exports there from, any counterfeit coin, knowingly or having reason to believe that the same is counterfeit, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall be liable to fine.

২,২৫৮.
How many types of imprisonment under Section 53 of the Penal Code can there be?
  1. One (only simple)
  2. Two (rigorous and simple)
  3. Three (rigorous, simple, and solitary)
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) Two (rigorous and simple)

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫৩ অনুযায়ী শাস্তির মধ্যে “Imprisonment” একটি ধরন, যা আবার দুই প্রকার:
- “Imprisonment, which is of two descriptions, namely –
(1) Rigorous, that is, with hard labour;
(2) Simple.”
- Rigorous imprisonment – এখানে কাজ করতে হয়, যেমন কঠোর শ্রম (hard labour)।
- Simple imprisonment – সাধারণ কারাবাস, যেখানে কাজ করার বাধ্যবাধকতা নেই।

- গ) Three (rigorous, simple, and solitary) – এটি ভুল কারণ:
“Solitary confinement” (একাকী আবদ্ধ থাকা) দণ্ডবিধির ধারা ৭৩-এ আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু এটি Section 53-এ কারাদণ্ডের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য নয়।
২,২৫৯.
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায়, যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একটি অবৈধ কাজ করতে একমত হন, তবে এটি কী বলে গণ্য হবে?
  1. সাধারণ ষড়যন্ত্র
  2. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
  3. অবৈধ চুক্তি
  4. রাষ্ট্রদ্রোহিতা
ব্যাখ্যা
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র [Criminal Conspiracy]:
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকে [criminal conspiracy] কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অবৈধ কাজ করতে [To do an illegal act] বা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে [to do a legal act by illegal means] সম্মত হয়, তখন উক্ত ব্যক্তিরা 'অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র' করেছে বলে গণ্য হবে।

ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:
যখন দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন কাজ করতে বা করানোর জন্য একমত হন:
- একটি অবৈধ কাজ করা, অথবা
- এমন কোনো কাজ করা যা আইনত অবৈধ নয় কিন্তু অবৈধ উপায়ে করা হয়, তবে এই ধরনের একমত হওয়াকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা হয়।

শর্ত: যে কোনো একমত হওয়া শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে হলে তা অপরাধী ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর জন্য এই চুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক বা একাধিক পক্ষের দ্বারা এমন কিছু কার্যক্রম সম্পাদিত হতে হবে, যা এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই অবৈধ কাজটি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, অথবা তা চুক্তির উদ্দেশ্য থেকে এক প্রকার অনুষঙ্গী ছিল।
২,২৬০.
ডাকাতি করা কালে খুন সংঘটিত হইলে, সে খুনের জন্য কে দায়ী?
  1. যে খুন করে
  2. যে খুনের সাহায্য করে
  3. ডাকাতিতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে
  4. ডাকাতের সর্দার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান খুনসহকারে ডাকাতি:- যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

⇒ Section 396. Dacoity with murder:- If any one of five or more persons, who are conjointly committing dacoity, commits murder in so committing dacoity, every one of those persons shall be punished with death, or imprisonment for life, or rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,২৬১.
চোরদের দলভুক্ত হওয়ার শাস্তি রয়েছে কত ধারায়?
  1. ৪০৩ ধারায়
  2. ৪০৭ ধারায়
  3. ৪০১ ধারায়
  4. ৪০২ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪০১ ধারা মতে যে ব্যক্তি অভ্যাসগতভাবে চুরি বা দস্যুতা করার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ ব্যক্তিদের ঠগ বা ডাকাত দল ব্যতীত কোন ভবঘুরে অথবা চোর বা দস্যুদের দলভুক্ত হয়, সেই ব্যক্তি অনধিক সাত (৭) বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,২৬২.
'Nothing is an offence which is done in the exercise of the right of private defence'- এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার মূল কথা?
  1. ৯২ ধারার
  2. ৯৪ ধারার
  3. ৯৬ ধারার
  4. ৯৯ ধারার
ব্যাখ্যা

• দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় বলা আছে,
"Nothing is an offence which is done in the exercise of the right of private defence."
ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার জন্য কোনো অধিকার প্রয়োগ করে থাকলে তা আইনে অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না।

২,২৬৩.
চুরির অপরাধে ৩ বছরের জন্য দণ্ডিত আসামি পরবর্তীতে আবার একই অপরাধ করলে, দ্বিতীয়বারের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কোন দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. উক্ত অপরাধটির সর্বোচ্চ সাজার দ্বিগুণ সাজা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ – ধারা ৭৫: পূর্বের দণ্ডের পর অধ্যায় ১২ বা অধ্যায় ১৭ এর অধীন নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য অধিকতর শাস্তি:
যে ব্যক্তি বাংলাদেশে কোনো আদালত কর্তৃক দণ্ডবিধির অধ্যায় ১২ (মুদ্রা ও সরকারী স্ট্যাম্প সম্পর্কিত অপরাধ) বা অধ্যায় ১৭ (সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ) এর অধীন এমন কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার শাস্তি তিন বছর বা ততোধিক মেয়াদে কারাদণ্ড, এবং পুনরায় তিনি উপরোক্ত কোনো এক অধ্যায়ের অধীন অনুরূপ মেয়াদে কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার শাস্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছরের মধ্যে কোনো মেয়াদের শাস্তি দেওয়া হবে।

Section -75. Enhanced punishment for certain offences under Chapter XII or Chapter XVII after previous conviction:
Whoever, having been convicted,
(a) by a Court in Bangladesh of an offence punishable under Chapter XII or Chapter XVII of this Code with imprisonment of either description for a term of three years or upwards;
shall be guilty of any offence punishable under either of those Chapters with like imprisonment for the like term, shall be subject for every such subsequent offence to imprisonment for life, or to imprisonment of either description for a term which may extend to ten years.
২,২৬৪.
A দেখল Z এমন একটি কাজ করছে যা A-এর কাছে একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়। A সৎ বিশ্বাসে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকারীকে ধরার ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগে Z-কে ধরে ফেলে, যাতে Z-কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা যায়। যদিও পরে জানা গেল Z আত্মরক্ষার্থে কাজটি করেছিল। এক্ষেত্রে A এর কাজ দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. ধারা ৭৭
  2. ধারা ৭৮
  3. ধারা ৭৯
  4. ধারা ৮০
ব্যাখ্যা
ধারা ৭৯: আইন দ্বারা ন্যায্যতাপ্রাপ্ত, অথবা বাস্তব ঘটনার ভুলের কারণে নিজেকে আইনগতভাবে ন্যায্য মনে করে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত কার্য:
যে কোনো ব্যক্তি আইন দ্বারা ন্যায়সঙ্গতভাবে কিছু করে, অথবা বাস্তব ঘটনার ভুলের কারণে (কিন্তু আইনের ভুলের কারণে নয়) সৎ বিশ্বাসে নিজেকে আইনগতভাবে ন্যায়সঙ্গত মনে করে যে কাজ করে, তা কোনো অপরাধ নয়।

উদাহরণ:
ধরা যাক, A দেখল Z এমন একটি কাজ করছে যা A-এর কাছে একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়। A সৎ বিশ্বাসে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকারীকে ধরার ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগে Z-কে ধরে ফেলে, যাতে Z-কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা যায়। যদিও পরে জানা গেল Z আত্মরক্ষার্থে কাজটি করেছিল, তবুও A কোনো অপরাধ করেনি, কারণ A সৎ বিশ্বাসে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজটি করেছে।

Section 79- Act done by a person justified, or by mistake of fact believing himself justified, by law:
Nothing is an offence which is done by any person who is justified by law, or who by reason of a mistake of fact and not by reason of a mistake of law in good faith, believes himself to be justified by law, in doing it.

Illustration-
A sees Z commit what appears to A to be a murder. A, in the exercise, to the best of his judgment, exerted in good faith of the power which the law gives to all persons of apprehending murderers in the act, seizes Z, in order to bring Z before the proper authorities. A has committed no offence, though it may turn out that Z was acting in self-defence.
২,২৬৫.
'A' যদি 'B'-কে 'Z'-কে খুন করতে প্ররোচনা দেয়, কিন্তু 'B' তা না করে, তাহলে দণ্ডবিধি অনুসারে 'A'-এর কী শাস্তি হবে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড 
  4. সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেয়, কিন্তু সেই অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে উস্কানিদাতা সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার জন্য দায়ী হবে।
- প্রশ্নে বলা হয়েছে যে, 'A' যদি 'B'-কে 'Z'-কে খুন করতে প্ররোচনা দেয়, কিন্তু 'B' তা না করে, অর্থাৎ অপরাধটি সংঘটিত হয়নি। সুতরাং, এই ক্ষেত্রে 'A'-এর শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
- সঠিক উত্তর: গ) সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেওয়া - যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়; যদি ক্ষতি সৃষ্টিকারী কার্য সম্পাদিত হয়:
যে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করার জন্য উস্কানি দেয়, কিন্তু উস্কানির ফলে ওই অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং এই দণ্ডবিধিতে উস্কানির শাস্তির জন্য কোনো বিশেষ বিধান না থাকে, তাকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে;
এবং যদি কোনো এমন কার্য, যার জন্য উস্কানিদাতা দণ্ডনীয়, এবং যার কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংঘটিত হয়, তাহলে উস্কানিদাতা ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 115.  Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life- if offence be not committed; if act causing harm be done in consequence:
Whoever abets the commission of an offence punishable with death or 31[imprisonment] for life, shall, if that offence be not committed in consequence of the abetment, and no express provision is made by this Code for the punishment of such abetment, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
-and if any act for which the abettor is liable in consequence of the abetment, and which causes hurt to any person, is done, the abettor shall be liable to imprisonment of either description for a term which may extend to fourteen years, and shall also be liable to fine. 

Illustration
A instigates B to murder Z. The offence is not committed. If B had murdered Z, he would have been subject to the punishment of death or 32[imprisonment] for life. Therefore A is liable to imprisonment for a term which may extend to seven years and also to a fine; and, if any hurt be done to Z in consequence of the abetment, he will be liable to imprisonment for a term which may extend to fourteen years, and to fine.

২,২৬৬.
বাংলাদেশ বা উহার কোন অংশে কার্যনির্বাহী সরকার পরিচালনা করিবার জন্য আইন বলে ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বলা হয়-
  1. সরকার
  2. মন্ত্রীপরিষদ
  3. জাতীয় সংসদ
  4. প্রশাসন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৭ ধারার বিধান 'সরকার' বলতে বাংলাদেশ বা উহার কোন অংশে কার্যনিবাহী সরকার পরিচালনা করবার জন্য আইনবলে ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বুঝাইবে।

♦ The Penal Code, 1860 Section 17: “Government”:  The word “Government” denotes the person or persons authorized by law to administer executive Government in Bangladesh, or in any part thereof.
২,২৬৭.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকার প্রয়োগ করা যায় কতটি ক্ষেত্রে?
  1. দুটি ক্ষেত্রে
  2. তিনটি ক্ষেত্রে
  3. চারটি ক্ষেত্রে
  4. ছয়টি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৯৭ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার শরীর ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। ৯৭ দ্বারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায় দুটি ক্ষেত্রে-

(i) অন্যের আক্রমণ হতে নিজের বা অন্যের দেহ রক্ষা করতে।

(ii) নিজের বা অন্যের সম্পত্তি রক্ষা করতে।

--------------
♦ Right of private defence of the body and of property:
Section 97. Every person has a right, subject to the restrictions contained in section 99, to defend

Firstly.-His own body, and the body of any other person against any offence affecting the human body; 

Secondly.-The property, whether moveable or immovable, of himself or of any other person, against any act which is an offence falling under the definition of theft, robbery, mischief or criminal trespass, or which is an attempt to commit theft, robbery, mischief or criminal trespass.
২,২৬৮.
‘ক' থানায় অভিযোগ করে যে, তার ভাই ‘খ’ একটি সাদা কাগজে তাদের পিতার সই নকল করেছে। দন্ডবিধি অনুসারে এটা কোন অপরাধ?
  1. জালিয়াতি
  2. অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. প্রতারণা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির বা জনগনের ক্ষতি বা অনিষ্টসাধন কিংবা প্রতারনা করার অভিপ্রায়ে কোন মিথ্যা দলিলের অংশ বিশেষ প্রস্তুত করে সে ব্যক্তি জালিয়াত করেছে বলে গণ্য হবে।
♦দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।
♦কোন ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে। নিজের নামে স্বাক্ষর করলেই জালিয়াতি হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং নিজের নাম স্বাক্ষর জালিয়াতি হতে পারে যদি স্বাক্ষরটা দ্বারা কোন মিথ্যা দলিল তৈরী করা হয়, কোন অধিকার দাবী করতে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করতে বা প্রতারণা করতে ইত্যাদি।
♦পেনাল কোড-এর  ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির শাস্তি বর্ণিত আছে যা সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
২,২৬৯.
নিচের কে ১৮৩৭ সালের দণ্ডবিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সদস্য ছিলেন না?
  1. F. Millet
  2. J.F. Stephen
  3. J.M. Macleod
  4. G.W. Anderson
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮০৭ সাল হতে দণ্ডবিধি বলবৎ (১৮৬১) হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ এ তিনটি প্রেসিডেন্সী শহরে ইংল্যান্ডের দণ্ডবিধি অনুসৃত হতো। অবশিষ্ট মফস্বল এলাকায় ইসলামী ফৌজদারী আইন মোতাবেক নিজামত/সার্কিট জজ/ম্যাজিষ্ট্রেট বিচার ও দণ্ডবিধান করতেন।

⇒ ১৮৩৩ সালে ভারতের শাসনভার ইংরেজ কোম্পানী হাত হতে ব্রিটিশ রাজ গ্রহণ করার পর ভারতবর্ষের জন্য একটি আইন কমিশন গঠন করেন। যা নিম্নরুপ :-
i) সভাপতি-লর্ড ম্যাকুলে। (Lord Macaulay)
ii) সদস্য- মিঃ ম্যাকলিউড। (J.M. Macleod)
iii) সদস্য-মিঃ এন্ডারসন। (G.W. Anderson)
iv) সদস্য-মিঃ মিলার। (F. Millet)

⇒ এ কমিশন দণ্ডবিধির খসড়া প্রণয়ন করে ১৮৩৭ সালের ১৪ই অক্টোবর ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আ্যাকল্যান্ডের নিকট পেশ করেন। যা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার বার্নেস পিকক এবং অন্যান্য বিচারপতগণ (যারা ফোর্ট উইলিয়ম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন)। সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে ১৮৫৬ সালে দণ্ডবিধির খসড়া লজেসলেটিভ কাউন্সিলে উপস্থাপিত হয়। ১৮৬০ সালে লেজিসলেটিভ কাউন্সিল আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরী করেন। অতঃপর ভারতে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু সংশোধনী করে ১৮৬২ সালের ৬ই অক্টোবর দণ্ডবিধি পাশ হয়। যার নামকরণ করা হয় ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন, দণ্ডবিধি।
⇒ ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ভারতে দণ্ডবিধি নামের পরিবর্তন করে রাখা হয় ইন্ডিয়ান পেনাল কোর্ড (আইপিসি) পাকিস্তান নামের পরিবর্তন করে রাখা হয় পেনাল কোড (পিপিসি) ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ অভূদ্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট আদেশ নং-৮ তারিখ ৩০/০৬/১৯৭৩ মূলে পাকিস্তান দণ্ডবিধি নামের পাকিস্তান শব্দটি তুলে নিয়ে এই আইনের পুনঃ নামকরণ হঃয় দণ্ডবিধি। এতে আছে মোট ২৩টি অধ্যায় ৫১১টি ধারা আছে।

⇒  ১৮৫০ সালে সর্ব প্রথম স্যার হেনরি সামার মেইন সাক্ষ্য আইনের খসড়া বিল তৈরি করলেও তা ভারতে ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৭১ সালে স্যার জেমস স্টিফেনকে (Fitz-James Stephen) সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতের দায়িত্ব দেয় এবং স্যার জেমস স্টিফেন ১৮৭১ সালে সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করেন। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতকারী হলো স্যার জেমস স্টিফেন।
⇒ স্যার জেমস স্টিফেনকে (James Fitzjames Stephen) সাক্ষ্য আইনের জনক বলা হয়। অর্থাৎ স্যার জেমস স্টিফেন ছাড়া বাকি সবায় দণ্ডবিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত ১৮৩৭ সালের প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সদস্য ছিলেন।
২,২৭০.
দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান অনুযায়ী, আসামির মৃত্যু হলে অর্থদণ্ড:
  1. মওকুফ হবে
  2. সরকারের দায়িত্বে থাকবে
  3. পরিবার থেকে আদায় করা হবে
  4. আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা সম্পর্কে ৩টি বিধানের উল্লেখ আছে-

(i) দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়।
(ii) ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে।
(iii) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে। অর্থাৎ, আসামির মৃত্যু হলেও অর্থদণ্ড/জরিমানা মওকুফ হবে না।

দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদণ্ড ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:
অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশ বলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
২,২৭১.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "কার্য"(Act) ও "বিচ্যুতি"(Omission) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৩০
  2. ধারা ৩১
  3. ধারা ৩২
  4. ধারা ৩৩
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩ ধারায় কার্য বিচ্যুতি বা “Act” “Omission” এর সংজ্ঞা রয়েছে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩ ধারার বিধান:- কার্য বিচ্যুতি:
-কার্য বলতে একক কাজ হিসেবে কার্যসমূহের শ্রেণীকেও বুঝাবে। বিচূতি বলতে একক বিচূতি হিসেবে বিচূতি সমূহের শ্ৰেণীকেও বুঝাবে।
⇒ The Penal Code, 1860- Section-33: “Act” “Omission”:
 The word "act" denotes as well a series of acts as a single act: the word "omission” denotes as well a series of omissions as a single omission.

২,২৭২.
Under Section 55 of The Penal Code, 1860, who has the authority to commute a sentence of imprisonment for life?
  1. The High Court
  2. The President
  3. The Government
  4. The Trial Court
ব্যাখ্যা
Section 55- Commutation of sentence of imprisonment for life:
In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:
যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
২,২৭৩.
দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারায় বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ কী শাস্তি নির্ধারিত?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারা অনুযায়ী, কেউ Extortion (অর্থাৎ কাউকে ভয় দেখিয়ে বা জোর প্রয়োগ করে সম্পত্তি আদায়) করলে তাকে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। এ কারণে, সঠিক ও সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ ৩ বছর, তাই উত্তর: খ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারার বিধান বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের সাজা (Punishment for extortion):- কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 384 Punishment for extortion:
Whoever commits extortion shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,২৭৪.
স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করলে ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোডের ৪৯৪ ধারার বিধান স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহকরণ (Marrying again during lifetime of husband or wife) : কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিবাহটি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
ব্যতিক্রম:- অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। বা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বছর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বছর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
২,২৭৫.
'A' একজন সাক্ষী, 'X' একজন ম্যাজিষ্ট্রেট। 'X' এর সম্মুখে 'A' সাক্ষ্য দেওয়ার সময় 'X' বলেন যে, তিনি 'A' এর একটি কথাও বিশ্বাস করেন না। তিনি আরও বলেন যে, 'A' মিথ্যা শপথ ও সাক্ষ্য দিচ্ছে। তাতে 'A' হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং 'X' কে হত্যা করে। 'A' দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধ করেছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০০
  3. ৩০৪ক
  4. ৩০৯
ব্যাখ্যা
⇒ 'A' দণ্ডবিধির ৩০০ ধারায় খুনের অপরাধ করেছে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।চ
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১ এর ২য় শর্ত সাপেক্ষে ক খুনের অপরাধ করিয়াছে।

---------------
Exception 1.-Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death of the person who gave the provocation or cause the death of any other person by mistake or accident.
The above exception is subject to the following provisos:
Firstly.-That the provocation is not sought or voluntarily provoked by the offender as an excuse for killing or doing harm to any person.
Secondly.-That the provocation is not given by anything done in obedience to the law, or by a public servant in the lawful exercise of the powers of such public servant.
Thirdly.-That the provocation is not given by anything done in the lawful exercise of the right of private defence.
Explanation.- Whether the provocation was grave and sudden enough to prevent the offence from amounting to murder is a question of fact.
২,২৭৬.
A, intending or knowing himself to be likely permanently to disfigure Z's face, gives Z a blow which does not permanently disfigure Z's face, but which causes Z to suffer severe bodily pain for the space of twenty days. What crime has A committed voluntarily ?
  1. Simple hurt
  2. Grievous hurt
  3. Attempted murder
  4. Causing hurt by negligence
ব্যাখ্যা
Section 322: Voluntarily causing grievous hurt:
Whoever voluntarily causes hurt, if the hurt which he intends to cause or knows himself to be likely to cause is grievous hurt, and if the hurt which he causes is grievous hurt, is said “voluntarily to cause grievous hurt". 
Explanation.- A person is not said voluntarily to cause grievous hurt except when he both causes grievous hurt and intends or knows himself to be likely to cause grievous hurt. But he is said voluntarily to cause grievous hurt, if intending or knowing himself to be likely to cause grievous hurt of one kind, he actually causes grievous hurt of another kind. 
 
Illustration-
A, intending or knowing himself to be likely permanently to disfigure Z's face, gives Z a blow which does not permanently disfigure Z's face, but which causes Z to suffer severe bodily pain for the space of twenty days. A has voluntarily caused grievous hurt.

স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত দেওয়া:
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, যদি তার উদ্দেশ্য বা জানাশোনা থাকে যে যে আঘাত সে দিতে যাচ্ছে তা গুরুতর আঘাত হবে এবং সে গুরুতর আঘাতই দেয়, তাহলে তাকে "স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত দেওয়া" বলা হয়।

ব্যাখ্যা: একজন ব্যক্তিকে "স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত দেওয়া" বলা যাবে না, যদি সে শুধু গুরুতর আঘাত প্রদান করে এবং তার উদ্দেশ্য বা জানা না থাকে যে সে গুরুতর আঘাত দিতে যাচ্ছে। কিন্তু, যদি সে একজন ব্যক্তি গুরুতর আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা জানাশোনায় আঘাত দেয় এবং সে অন্য ধরনের গুরুতর আঘাত দেয়, তাহলে তাকে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত দেওয়া হবে।

উদাহরণ:
'ক', যদি জানে বা মনে করে যে 'ম' এর মুখে স্থায়ীভাবে ক্ষতি করবে এবং সে 'ম' কে এমন এক আঘাত দেয় যা 'ম' এর মুখে স্থায়ী ক্ষতি না ঘটিয়ে, তবে 'ম' এর ২০ দিনব্যাপী তীব্র শারীরিক ব্যথা সৃষ্টি করে, তাহলে এ স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত দিয়েছে।
২,২৭৭.
বেপরোয়াভাবে নৌযান চালানোর শাস্তি কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. ২৮০ ধারায়
  2. ২৭৫ ধারায়
  3. ২৭৬ ধারায়
  4. ২৭৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারায় বেপরোয়া নৌযান চালানোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

♦ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা বেপরোয়াভাবে নৌযান চালনা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবেহলার সাথে কোন নৌযান চালনা করে, যার কারণে কোন মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত লাগার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ Section 280. Rash navigation of vessel:- Whoever navigates any vessel in a manner so rash or negligent as to endanger human life, or to be likely to cause hurt or injury to any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
২,২৭৮.
যদি কোন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে কারো মৃত্যু ঘটায় তবে তা খুন না হয়ে নিন্দনীয় নরহত্যা বলে বিবেচিত হবে-
  1. ২৯৯ ধারায়
  2. ৩০০ ধারায়
  3. ৩০১ ধারায়
  4. ৩০২ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ৩০০ ধারা ব্যতিক্রম-২: অপরাধী সরল বিশ্বাসে তার শরীর বা সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা অতিক্রম করে হত্যা করলে নিন্দনীয় নরহত্যা হবে।
• শর্ত হলো অপরাধীর পূর্ব পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনের অধিক ক্ষতিসাধনের ইচ্ছা ছিল না।
২,২৭৯.
কোন ব্যক্তি কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ফৌজদারী মামলা দায়ের করলে, তার শাস্তির বিধান দণ্ডবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ২২০ ধারায়
  2. ২১১ ধারায়
  3. ৩০৫ ধারায়
  4. ৪১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২১১ ধারার বিধান- ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগঃ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে,

তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
২,২৮০.
খুন বলে গণ্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গণ্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মুখ্য পার্থক্যকারী উপাদান কোনটি?
  1. খুনের অভিপ্রায় বা পূর্ব পরিকল্পনা
  2. আঘাতের গুরুতর প্রকৃতি
  3. ব্যবহৃত অস্ত্রের গুরুতর প্রকৃতি
  4. যে কারণে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
• খুন বলে গন্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান হলো: ৩০০ ধারায় উল্লেখিত ৫টি ব্যতিক্রম অনুযায়ী খুনের অভিপ্রায় বা পূর্ব পরিকল্পনার উপস্থিতি ও মৃত্যুর সম্ভাবনা।
২,২৮১.
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুযায়ী কমপক্ষে কতজন ব্যক্তি একত্র হলে তা বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হতে পারে?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুযায়ী, যদি পাঁচ (৫) বা ততোধিক ব্যক্তি এমন উদ্দেশ্যে একত্র হয়, যার মধ্যে যেকোনো একটি নিচের উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তা "বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly)" হিসেবে বিবেচিত হবে:
১. সরকার বা সরকারি কর্মচারীকে ভীতি প্রদর্শন করতে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা তার হুমকি প্রদান।
২. কোনো আইন বা আইনগত প্রক্রিয়া কার্যকর করায় বাধা সৃষ্টি করা।
৩. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বা অন্য কোনো দুষ্কর্ম সংঘটিত করা।
৪. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে কারো সম্পত্তি দখল বা অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
৫. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা তার হুমকি দ্বারা কাউকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা, যা সে আইনত বাধ্য নয় বা অধিকার থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারার বিধান বেআইনি সমাবেশ:- পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে 'বেআইনি সমাবেশ' সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের সাধারণ লক্ষ্য হয়-
প্রথম:- বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারি কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা
দ্বিতীয়:- কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা
তৃতীয়:- কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা
চতুর্থ:- কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীরী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা; কিংবা
পঞ্চম:- অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনত বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা।

ব্যাখ্যা:- যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়াকালে বেআইনি ছিল না তা পরে বেআইনি সমাবেশ হতে পারে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-141. Unlawful assembly:
An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is
First.-To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or
Second.-To resist the execution of any law, or of any legal process; or
Third.- To commit any mischief or criminal trespass, or other offence; or
Fourth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or
Fifth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do.

Explanation.-An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.

২,২৮২.
মিথ্যা সাক্ষ্যদান (Giving false evidence) দণ্ডবিধির কত ধারার বিধান?
  1. দণ্ডবিধির ১৯০ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ১৯১ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ১৯২ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ৯২ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৯১ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্যদান:- কোন ব্যক্তি যদি কোন শপথক্রমে বা আইনে কোন প্রকাশ্য বিধান অনুযায়ী সত্য বলতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, অথবা কোন বিষয়ে একটি ঘোষণা প্রদান করতে আইনানুসারে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, এমন কোন উক্তি করে বা বিবৃতি দান করে যা মিথ্যা, এবং যা হয় সে মিথ্যা বলে জানে, না হয় সে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করে অথবা যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করে না, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ১:- কোন উক্তি বা বিবৃতি মৌখিকভাবে অথবা অপর যেভাবেই করা হোক না কেন, এই ধারার অর্থানুসারে তা উক্তি বা বিবৃতি বলে বিবেচিত।

ব্যাখ্যা ২:- সত্যতা নিরূপণকারী ব্যক্তির বিশ্বাস বিষয়ক মিথ্যা উক্তি এই ধারার অর্থে অন্ত র্ভুক্ত। কোন ব্যক্তি যা বিশ্বাস করে না, তা সে বিশ্বাস করে বলে এবং যা সে জানে বলে উক্তি করলে সে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দানের জন্য অপরাধী হবে।

-----------------------
♦ Giving false evidence:
Section 191. Whoever being legally bound by an oath or by an express provision of law to state the truth, or being bound by law to make a declaration upon any subject, makes any statement which is false, and which he either knows or believes to be false or does not believe to be true, is said to give false evidence.

Explanation 1.-A statement is within the meaning of this section, whether it is made verbally or otherwise. 
 
Explanation 2.-A false statement as to the belief of the person attesting is within the meaning of this section, and a person may be guilty of giving false evidence by stating that he believes a thing which he does not believe, as well as by stating that he knows a thing which he does not know.

♦ Illustrations
(d) A, being bound by an oath to state the truth, states that he knows that Z was at a particular place on a particular day, not knowing anything upon the subject. A gives false evidence whether Z was at that place on the day named or not.
২,২৮৩.
দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা অনুসারে, জালিয়াতি সংঘটিত হয় যদি মিথ্যা দলিল তৈরি করা হয়-
  1. প্রতারণার উদ্দেশ্যে
  2. ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে
  3. স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা- জালিয়াতি:
কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

Section 463- Forgery: 
Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intent to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.
২,২৮৪.
দণ্ডবিধির অধীন কার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ (Unnatural offences) সংঘটিত হলে তা শাস্তিযোগ্য?
  1. পুরুষ
  2. স্ত্রীলোক
  3. প্রাণী বা পশু
  4. পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশু
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা- অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ:
কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দেশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় বর্ণিত অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌন সঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট হবে।

Section 377⇒ Unnatural offences:
Whoever voluntarily has carnal intercourse against the order of nature with any man, woman or animal, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,২৮৫.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী ________ শিশুর কৃত কোন কার্য অপরাধ হবে না।
  1. ১২ বছরের কম বয়স্ক
  2. ৯ বছরের কম বয়স্ক
  3. ৮ বছরের কম বয়স্ক
  4. ৭ বছরের কম বয়স্ক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৮২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "৯ বছরের কম বয়সী শিশু দ্বারা সংঘটিত কোনো কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না।"
- অর্থাৎ, এমন কোনো শিশু যদি কোনো কার্য করে যা সাধারণভাবে অপরাধ হতো, তবুও তার বয়স যদি ৯ বছরের কম হয়, তবে সেটি আইনের চোখে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

⇒ The Penal Code Section 82. Act of a child under nine years of age - Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.
২,২৮৬.
দণ্ডবিধির ৩০১ ধারায় "culpable homicide" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. আইনত বৈধ হত্যা
  2. আত্মরক্ষার জন্য হত্যা
  3. ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা করা
  4. অবৈধভাবে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:-
-কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 301: Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
-If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
২,২৮৭.
দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার অধীনে রয়েছে?
  1. পুলিশ
  2. আদালত
  3. সরকার
  4. সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পরিবর্তন করার ক্ষমতা সরকারের অধীনে রয়েছে।

→ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:

- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
--------------------------
→ Section 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:
- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.
২,২৮৮.
অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের বিধান আছে-
  1. ৪৪১ ধারায়
  2. ৪৪২ ধারায়
  3. ৪৪৩ ধারায়
  4. ৪৪৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
- দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের বিধান রয়েছে।
- অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায়ভাবে অনুপ্রবেশের পর বিরক্তি সৃষ্টি বা ভয় দেখানো অথবা অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায় থাকলে তাকে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বা Criminal Trespass বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে নিম্নলিখিত ২টি কারণে প্রবেশ করলে তা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বলে গণ্য হবে-

(i) অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায়  
অথবা
(ii) সম্পত্তির দখলকার ব্যক্তিকে ভীতিপ্রদর্শন, অপমান বা বিরক্ত করা ।
২,২৮৯.
'ক' 'খ' কে নিহত করিবার উদ্দেশ্যে তাহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, ফলে 'খ' এর মৃত্যু হয়। 'ক' কী অপরাধে করিয়াছে?
  1. খুন
  2. নরহত্যা
  3. অপরাধজনক নরহত্যা
  4. আত্মহত্যার সহায়তাকরণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার (উদা:ক)। 'ক' 'চ'-কে নিহত করার উদ্দেশ্যে তার প্রতি গুলিবর্ষণ করে ফলে ''চ-এর মৃত্যু হয়। 'ক' খুন করেছে।
--------------------
⇒ Section 300: Murder:
 Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or- 
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or – 
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or – 
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid. 
 
Illustrations:
(a) A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder.
২,২৯০.
কোন পরিস্থিতিতে ৮৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না?
  1. যদি সে আত্মরক্ষার জন্য অপরাধ করে
  2. যদি সে অর্ধেক পাগল এবং অর্ধেক সুস্থ থাকে
  3. যদি অপরাধ সংঘটনের সময় সে সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ থাকে
  4. যদি সে অপরাধ করার পর নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে
ব্যাখ্যা
→ যদি অপরাধ সংঘটনের সময় সে সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ থাকে তাহলে ৮৪ ধারা অনুযায়ী সেই ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৮৪ ধারায় মতে অপরাধ করার সময় অপরাধী ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে সে কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না। তবে অপরাধ করার সময় উক্ত পাগল ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এমন থাকতে হবে যে সে তার কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৮৪ ধারার বিধান: অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির কার্য:
- এমন কোনো ব্যক্তির কোনো কার্যই অপরাধ নয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় তার মনে অসুস্থতা (Unsoundness) বশত কাজটি যে অন্যায় অথবা আইনবিরুদ্ধ, তা বুঝতে অসমর্থ ছিল।
---------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 84: Act of a person of unsound mind:
- Nothing is an offence which is done by a person who, at the time of doing it, by reason of unsoundness of mind, is incapable of knowing the nature of the act, or that he is doing what is either wrong or contrary to law.
২,২৯১.
দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কোন ধারায় Doctrine of Transfer of Malice বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ২৯৯
  2. ধারা ৩০০
  3. ধারা ৩০১
  4. ধারা ৩০২
ব্যাখ্যা

 ⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৩০১–এ Doctrine of Transfer of Malice বা দূষ্প্রেচ্ছেদ হস্তান্তর নীতি বর্ণিত হয়েছে। এই নীতির মূল বক্তব্য হলো - যদি কোনো ব্যক্তি কারও মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে বা জেনে কোনো কাজ করে, কিন্তু সেই কাজের ফলে অন্য কারও মৃত্যু ঘটে, তবে অপরাধীর যে অপরাধমূলক ইচ্ছা বা জ্ঞান প্রথম ব্যক্তির প্রতি ছিল, তা দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত হবে। অর্থাৎ, অপরাধী দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর জন্যও ঠিক ততটাই দায়ী হবে, যতটা দায়ী হতো যদি সে প্রথম ব্যক্তিকেই হত্যা করত।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) ধারা ৩০১।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:-
-কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুন মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যে-রূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 301: Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
-If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.

২,২৯২.
'ক' রাস্তায় 'খ' কে ছুরি দেখিয়ে 'খ' এর নিকট তার কাছে থাকা সমস্ত টাকা দাবি করে এবং 'খ' ভয়ে তার কাছে যা ছিলো সব 'ক' কে দিয়ে দেয়। এখানে 'ক' দ্বারা সংঘটিত অপরাধ-
  1. দস্যুতা
  2. ডাকাতি
  3. বলপূর্বক গ্রহণ
  4. অপরাধমূলক বল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান দস্যুতা:- প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়। - যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।
'ক' রাস্তায় 'খ' কে ছুরি দেখিয়ে 'খ' এর নিকট তার কাছে থাকা সমস্ত টাকা দাবি করে এবং 'খ' ভয়ে তার কাছে যা ছিলো সব 'ক' কে দিয়ে দেয়।- এখানে 'ক' দ্বারা সংঘটিত অপরাধ 'দস্যুতা' হবে।
২,২৯৩.
দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারায় কোন অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. পরিকল্পিত হত্যা
  2. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  3. অবহেলাজনিত মৃত্যু
  4. আত্মহত্যার চেষ্টা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা- অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন:
কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 304A: Causing death by negligence:
 Whoever causes the death of any person by doing any rash or negligent act not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
২,২৯৪.
নিচের কোনটি চোরাই মাল (Stolen Property) বলে গণ্য হবে?
  1. চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
  2. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
  3. দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি;
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-

ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
---------------------- 
⇒  Stolen property:
Section 410. Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
২,২৯৫.
দণ্ডবিধি অনুসারে নিচের কোন ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ অপরিহার্য উপাদান নয়?
  1. চুরি
  2. দস্যুতা
  3. ডাকাতি
  4. বলপূর্বক গ্রহণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা।
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

 অর্থাৎ চুরির ক্ষেত্রে বলপ্রয়োেগ অপরিহার্য উপাদান নয়। 
অন্যদিকে বলপূর্বক গ্রহণ, দস্যুতা, ডাকাতির ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ অপরিহার্য উপাদান। 
------------------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft: 
Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft. 
Explanation-1: A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth. 
Explanation-2: A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft. 
Explanation-3: A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it. 
Explanation-4: A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal. 
Explanation-5: The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
২,২৯৬.
কীভাবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংঘটিত হতে পারে?
  1. কোন অবৈধ কাজ করার সম্মতির মাধ্যমে
  2. কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার সম্মতির মাধ্যমে
  3. ক ও খ 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ তথা কোন অবৈধ কাজ করার জন্য অথবা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার জন্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সম্মতিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা Criminal Conspiracy বলে। ১২০ক ধারামতে ২ ভাবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অপরাধ হতে পারে। যথা:

⇒ (i) কোন অবৈধ কাজ করার জন্য সম্মতির মাধ্যমে
⇒(ii) কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার সম্মতির মাধ্যমে
২,২৯৭.
মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত প্রদানের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড _________।
  1. ৩ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
ধারা ৩২৬ মতে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্ৰ বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আঘাত দান করা:

কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার দিয়ে একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য এই হাতিয়ারটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, সে হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য কর্তৃক গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা গুরুতরভাবে আহত করে, অথবা যে দ্রব্য শ্বাস কর্তৃক গ্রহণ করলে, উদরস্থ করলে বা রক্তে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা গুরুতর আহত করে অথবা কোন পশু দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
২,২৯৮.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী অর্থদণ্ড কত বছরের মধ্যে যে কোন সময় আদায় করা যায়?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা সম্পর্কে ৩টি বিধানের উল্লেখ আছে।

(i) দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়।
(ii) ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে।
(iii) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে। অর্থাৎ আসামির মৃত্যু হলেও অর্থদণ্ড/জরিমানা মওকুফ হবে না।

- দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদণ্ড ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:-
- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশ বলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
২,২৯৯.
দণ্ডবিধির ধারা ২১২ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২১২ অনুসারে, যে কেউ জেনেশুনে বা যুক্তিসঙ্গত কারণে বিশ্বাস করে যে কোনো ব্যক্তি অপরাধী এবং তাকে আইনি শাস্তি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আশ্রয় দেয় বা লুকিয়ে রাখে, তিনি নিম্নলিখিত শাস্তির জন্য দায়ী হবেন:
→ যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হয়, তবে শাস্তি হবে ৫ বছর পর্যন্ত যে কোনো ধরনের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
→ যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য হয়, তবে শাস্তি হবে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
→ যদি অপরাধটি ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য হয় (১০ বছরের কম), তবে শাস্তি হবে সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই।
ব্যতিক্রম: এই বিধান স্বামী বা স্ত্রী কর্তৃক অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
--------
⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইলে:
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
-দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
-দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
অত্র ধারার অপরাধ বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 212. Harbouring offender if a capital offence; if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment
Whenever an offence has been committed, whoever harbours or conceals a person whom he knows or has reason to believe to be the offender, with the intention of screening him from legal punishment, 
shall, if the offence is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with 70[imprisonment] for life or with imprisonment which may extend to ten years, shall be, punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with imprisonment which may extend to one year, and not to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both. 
"Offence" in this section includes any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would be punishable under any of the following sections, namely, 302, 304, 382, 392, 393, 394, 395 396, 397, 398, 399, 402, 435, 436, 449, 450, 457, 458, 459 and 460; and every such act shall, for the purposes of this section, be deemed to be punishable as if the accused person had been guilty of it in Bangladesh. 
 
Exception: This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.

২,৩০০.
"Affray" এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

দণ্ডবিধির ১৬০ ধারা- মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section-159: Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".

Section-160: Punishment for committing affray:
Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.