বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা ২১ / ২৫ · ২,০০১২,১০০ / ২,৪৪৭

২,০০১.
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার সম্পত্তি তার চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  4.  ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৪ – মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ:
যে ব্যক্তি অঅসাধুভাবে (dishonestly) মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার দখলে থাকা সম্পত্তি নিজের ব্যবহারের জন্য নেয় বা পরিণত করে,
যা তখন কোনো আইনসিদ্ধ অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির দখলে যায়নি, তাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি:
- কারাদণ্ড (Imprisonment) – সর্বোচ্চ ৩ বছর, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

বিশেষ নিয়ম:
যদি অপরাধী ওই মৃত ব্যক্তির ক্লার্ক বা চাকর হিসেবে কাজ করত, তবে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

২,০০২.
দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে-
  1. ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  2. ৬ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  3. ১ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  4. ৩ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়।
--------------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section- 426: Punishment for mischief: Whoever commits mischief shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine, or with both.
২,০০৩.
দণ্ডবিধির ৮০ ধারায় কোন ধরনের কাজকে "অপরাধ নয়" বলে গণ্য করা হয়েছে?
  1. সতর্কতা ছাড়া করা কাজ
  2. আইন ভঙ্গকারী কাজ
  3. অপরাধমূলক উদ্দেশ্য সহ কাজ
  4. সতর্কতা ও যত্নসহকারে দুর্ঘটনাজনিত কাজ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৮০ ধারার বিধান- আইনানুগ কাজ সম্পাদনকালে বিপত্তি বা দুর্ঘটনা:
কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

উদাহরণ: ‘ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাজ করছে, হঠাৎ তা কুঠারের মাথাটি খুলে গিয়ে উড়ে যায় এবং সন্নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ এর পক্ষে যথাযথ সতর্কতার অভাব না থেকে থাকে, তাহলে তার কাজ মার্জনীয় হবে এবং অপরাধ হবে না।

Section 80- Accident in doing a lawful act:
Nothing is an offence which is done by accident or misfortune, and without any criminal intention or knowledge in the doing of a lawful act in a lawful manner by lawful means and with proper care and caution.

Illustration: A is at work with a hatchet; the head flies off and kills a man who is standing by. Here if there was no want of proper caution on the part of A, his act is excusable and not an offence.
২,০০৪.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান অনুসারে চুরির অপরাধ গঠনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. অসাধু উদ্দেশ্য
  2. সম্পত্তি স্থানান্তর
  3. মালিকের সম্মতি না থাকা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৮-এর অধীন, চুরির (theft) অপরাধ গঠনের জন্য তিনটি মূল উপাদান প্রয়োজন: (১) অসাধু উদ্দেশ্য (dishonest intention) দিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করা, (২) সম্পত্তির স্থানান্তর (moving the property), এবং (৩) দখলকারী বা মালিকের সম্মতি না থাকা (without consent)। এই তিনটির সমন্বয়ে চুরির অপরাধ সম্পূর্ণ হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

২,০০৫.
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪-এর অধীনে অপরাধ সংঘটিত হতে হলে নিম্নের কোনটি অবশ্যই থাকতে হবে?
  1. মারাত্মক আঘাত
  2. কোনো অস্ত্রের ব্যবহার
  3. ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা
  4. গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪- প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:
যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে অন্য কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান না থাকে, কেবল সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে যে প্ররোচনা দিয়েছে, তবে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

তাই, দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪-এর অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপরিহার্য উপাদান হলো: গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা।
২,০০৬.
'ক' নিজেকে 'খ' বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; 'খ' জনৈক মৃত ব্যক্তি। 'ক' এর অপরাধ?
  1. Cheating
  2. Cheating by personation
  3. Dishonestly misappropriation of property
  4. Criminal breach of trust
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান: অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা:- কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

⇒ উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।দ
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
----------------
Cheating by personation
416. A person is said to "cheat by personation" if he cheats by pretending to be some other person, or by knowingly substituting one person for another, or representing that he or any other person is a person other than he or such other person really is. 
Explanation.-The offence is committed whether the individual personated is a real or imaginary person. 
Illustrations 
(a) A cheats by pretending to be a certain rich banker of the same name. A cheats by personation. 
(b) A cheats by pretending to be B, a person who is deceased. A cheats by personation.
২,০০৭.
The Penal Code, 18760 এর ধারা -৪৯৯ এ বর্ণিত মানহানির সংজ্ঞার কয়টি ব্যতিক্রমের উল্লেক্ষ আছে?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোড-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
♦ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

♦ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
২,০০৮.
‘A’ মহিলার কানের রিং টান দিয়ে ছিনিয়ে নেয়, এতে মহিলার কানে আঘাত ও রক্তপাত হয়। দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘A’-এর অপরাধটি কী বলে গণ্য হবে?
  1. ডাকাতি
  2. দস্যুতা
  3. বলপ্রয়োগ
  4. ছিন্তাই
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান: দস্যুতার সংজ্ঞা (Robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তাদস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When extortion is robbery)- বলপূর্বক গ্রহণের সময় অপরাধী স্বয়ং ভিকটিমের নিকটে বা আশেপাশে উপস্থিত থেকে তাৎক্ষনিক ভয়ের সৃষ্টি করলে বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা বলে গণ্য হবে।
⇒ চুরি কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When theft is robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা চুরি করার সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা অবৈধ আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন চুরি দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারা মতে প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

⇒ যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।

⇒ বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে  দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation):-
অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

⇒ অর্থাৎ চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

⇒ দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করে;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখায়;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করে; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

⇒ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
২,০০৯.
দণ্ডবিধির কত ধারায় গুরুতর আঘাতের সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ৩১৯ ধারা
  2. ৩২০ ধারা
  3. ৩২১ ধারা
  4. ৩২২ ধারা
ব্যাখ্যা
• ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে।
যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।
২,০১০.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার বিধান চুরি করার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
⇒ Section 379 Punishment for theft: Whoever commits theft shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,০১১.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী দস্যুতার (Robbery) সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
  2. ১৪ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড।
  3. ৭ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড
  4. ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারামতে দস্যুতার শাস্তি (Punishment for robbery)- অনধিক ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে দস্যুতার অপরাধ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় সংঘটিত হলে দস্যুতার শাস্তি ১৪ বৎসর পর্যন্ত 'সশ্রম' কারাদণ্ড হতে পারে।
 
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান দস্যুতার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।
--------------
⇒ Section 392. Punishment for robbery:- Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.
২,০১২.
‘B’ ও তার পাঁচজন বন্ধু একটি ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে একটি গোপন স্থানে মিলিত হয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০২ অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০২ অনুসারে, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য। এই অপরাধের শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘B’ ও তার পাঁচজন বন্ধু (মোট ছয়জন) ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে একত্রিত হয়েছে, যা ধারা ৪০২-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৪০২: ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়া:
যে কোনো ব্যক্তি, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে একজন হন যারা ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে, তবে তিনি সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, যা সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদে হতে পারে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 402. Assembling for purpose of committing dacoity:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall be one of five or more persons assembled for the purpose of committing dacoity, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

২,০১৩.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে প্ররোচনা (Abetment) কয়টি উপায়ে সংঘটিত হতে পারে? 
  1. চারটি উপায়ে
  2. তিনটি উপায়ে
  3. একটি উপায়ে
  4. দুটি উপায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী, প্ররোচনা (Abetment) তিনটি উপায়ে হতে পারে:
১) প্ররোচনা (Instigation)
২) ষড়যন্ত্র (Conspiracy)
৩) ইচ্ছাকৃত সহায়তা (Intentional Aid)

⇒ অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

২,০১৪.
দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারার অধীনে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪ক অনুযায়ী, অবহেলা বা বেপরোয়াভাবে কারো মৃত্যু ঘটালে (যা শাস্তিযোগ্য নরহত্যার আওতায় পড়ে না) অপরাধীর শাস্তি হলো: সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারার বিধান অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন:- কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 304A. Causing death by negligence:
Whoever causes the death of any person by doing any rash or negligent act not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
২,০১৫.
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) সংঘটনের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির একমত হওয়া প্রয়োজন?
  1. একজন
  2. দুইজন
  3. তিনজন
  4. চারজন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১২০ক ধারার অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংঘটনের জন্য ন্যূনতম দুইজন ব্যক্তি একমত হতে হবে। একজনের একমত হওয়া যথেষ্ট নয়। একমত হওয়া সেই কাজে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে হতে হবে, এবং চুক্তির কোনো কার্য সম্পাদিত হতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:
যখন দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন কাজ করতে বা করানোর জন্য একমত হন:
- একটি অবৈধ কাজ করা, অথবা
- এমন কোনো কাজ করা যা আইনত অবৈধ নয় কিন্তু অবৈধ উপায়ে করা হয়, তবে এই ধরনের একমত হওয়াকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা হয়।শর্ত: যে কোনো একমত হওয়া শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে হলে তা অপরাধী ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর জন্য এই চুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক বা একাধিক পক্ষের দ্বারা এমন কিছু কার্যক্রম সম্পাদিত হতে হবে, যা এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই অবৈধ কাজটি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, অথবা তা চুক্তির উদ্দেশ্য থেকে এক প্রকার অনুষঙ্গী ছিল।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 120A. Definition of criminal conspiracy. 
 When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

২,০১৬.
'ক' রাজপথে একটি ৫০০ টাকার নোট দেখতে পান। 'ক' নোটটির মালিক কে তা না খুঁজেই সেটি খরচ করে ফেলেন। এক্ষেত্রে 'ক' কোন ধরনের অপরাধ করেছেন?
  1. চুরি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ
  4. কোনো অপরাধ করেননি
ব্যাখ্যা
⇒ পেনাল কোডের ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ: কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা তা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ১ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাত্ত এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নেই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি তার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে তা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও তা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে তা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে। অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে তার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে তার মালিক তা জানার আবশ্যকতা নেই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় সেটা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।

- যেহেতু ক টাকা নিজ খরচ করে ফেলেন, তাই সে অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে।
২,০১৭.
দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারা অনুসারে, প্রতারণার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. ছয় মাস
  2. এক বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪১৭ অনুযায়ী "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে এক বছরের মধ্যে যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।"
- এখানে কারাদণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "এক বছর পর্যন্ত"।
- তাই, ধারা ৪১৭ অনুযায়ী প্রতারণার অপরাধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ হলো এক বছর।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১৭ অনুযায়ী প্রতারণার সাজা:- কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

⇒ The Penal Code, 1860, Section 417. Punishment for cheating:
Whoever cheats shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
২,০১৮.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকার কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের বিধান রয়েছে?
  1. ৪০৬ ধারা
  2. ৪০৭ ধারা
  3. ৪০৮ ধারা
  4. ৪০৯ ধারা
ব্যাখ্যা

ধারা ৪০৯ - সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকার, বণিক বা প্রতিভূ কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:
কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার পদমর্যাদাবলে অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ফ্যাক্টর, দালাল, এটর্নি বা প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায় সূত্রে কোনোভাবে কোনো সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে বা উক্ত সম্পত্তির পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

২,০১৯.
দণ্ডবিধির ৯৭ ধারা অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়?
  1. ১টি ক্ষেত্রে
  2. ২টি ক্ষেত্রে
  3. ৩টি ক্ষেত্রে
  4. ৪টি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৯৭ ধারা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায় দুটি ক্ষেত্রে-
(i) অন্যের আক্রমণ হতে নিজের বা অন্যের দেহ রক্ষা করতে;
(ii) নিজের বা অন্যের সম্পত্তি রক্ষা করতে।

Section 97- Right of private defence of the body and of property:
Every person has a right, subject to the restrictions contained in section 99, to defend-
Firstly.-His own body, and the body of any other person against any offence affecting the human body;
Secondly.-The property, whether moveable or immovable, of himself or of any other person, against any act which is an offence falling under the definition of theft, robbery, mischief or criminal trespass, or which is an attempt to commit theft, robbery, mischief or criminal trespass.
২,০২০.
'ক' ৬ মাস আগে একজন গৃহকর্মী নিযুক্ত করেছিল। কিন্তু সেই গৃহকর্মী ৩ মাস পর কাজ করার পর, পরবর্তীতে কাজ করতে অসম্মতি জানায়। তবুও 'ক' তাকে জোর করে কাজ করাতে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে 'ক' কোন ধরনের শাস্তি পেতে পারে?
  1. শুধু অর্থদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই
  4. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারা- বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা:

(১) কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।


(২) কোনো ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই “যুদ্ধবন্দী" এবং "আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

Section 374- Unlawful compulsory labour:

(1) Whoever unlawfully compels any person to labour against the will of that person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

(2) Whoever compels a prisoner of war or a protected person to serve in the armed forces of Bangladesh shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year.

Explanation- In this section the expressions "prisoner of war" and "protected person" shall have the same meaning as have been assigned to them respectively by Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Treatment of Prisoners of War of August 12, 1949, and Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Protection of Civilian Persons in Time of War of August 12, 1949.
২,০২১.
দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, দণ্ডাদেশ প্রদানের পর অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা কত? 
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের বিষয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে—
১)  দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে অর্থদণ্ড আদায় করা যাবে।
২️)  যদি আসামি ৬ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে অর্থদণ্ড আদায় করা যাবে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে।
৩️) যদি আসামি মারা যান, তবে তার সম্পত্তি থেকে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য থাকবে — অর্থাৎ মৃত্যু হলেও দায় মওকুফ হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান-অর্থদও ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য:
- মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশ বলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়,
- তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে;
- অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
----------
- The penal code section-70. Fine leviable within six years, or during imprisonment Death not to discharge property from liability:
The fine, or any part thereof which remains unpaid, may be levied at any time within six years after the passing of the sentence, and if, under the sentence, the offender be liable to imprisonment for a longer period than six years, then at any time previous to the expiration of that period; and the death of the offender does not discharge from the liability of any property which would, after his death, be legally liable for his debts.

২,০২২.
দণ্ডবিধির ৩১৭ ধারা অনুসারে, অভিভাবক কর্তৃক কত বছরের কম বয়স্ক শিশুকে পরিত্যাগ করা অপরাধ?
  1. ৯ বছরের
  2. ১২ বছরের
  3. ১৪ বছরের
  4. ১৬ বছরের
ব্যাখ্যা
ধারা ৩১৭ - ১২ বছরের নিচে শিশু সন্তানকে ফেলে যাওয়া বা পরিত্যাগ করা :
যে ব্যক্তি, ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর পিতা বা মাতা, অথবা ওই শিশুর দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত, সে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোপুরিভাবে শিশুটিকে পরিত্যাগ করার উদ্দেশ্যে ওই শিশুকে কোনো স্থানে রেখে দেয় বা ফেলে দেয়, তাহলে-
- সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদে কারাদণ্ড, অথবা
- অর্থদণ্ড, অথবা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ব্যাখ্যা (Explanation):
এই ধারাটি এমন কোনো বাধা সৃষ্টি করে না যাতে শিশুটি মারা গেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে খুন (murder) বা অপরাধজনিত হত্যাকাণ্ড (culpable homicide)-এর অভিযোগে বিচার হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
২,০২৩.
সরকারি স্ট্যাম্প জালকরণের সর্বোচ্চ কী শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৫৫ ধারা- সরকারি স্ট্যাম্প জাল করণ:
কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বা জ্ঞাতসারে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা:- এক মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পকে কোন ব্যক্তি যদি দেখতে অপর মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পের মত করে লয়, তবে সে ব্যক্তি এই অপরাধ অনুষ্ঠান করে বলে পরিগণিত হবে।

২,০২৪.
যদি কেউ অন্য ব্যক্তির চলার পথ অবরোধ করে, তবে এটি কোন অপরাধের অধীনে আসে?
  1. ভীতি প্রদর্শন
  2. আক্রমণ
  3. অন্যায়ভাবে আটকানো
  4. অপরাধমূলক বল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা অনুযায়ী,
অন্যায়ভাবে আটকে রাখা (Wrongful Restraint) হলো, যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো ব্যক্তির পথ অবরুদ্ধ করে, যাতে সেই ব্যক্তি সেই পথে চলাচল করতে না পারে, যেখানে তার আইনত চলার অধিকার রয়েছে।

এই ধারার ব্যতিক্রম:
যদি কেউ সৎভাবে বিশ্বাস করে যে, তার নির্দিষ্ট ভূমি বা জলের ওপর পথ অবরুদ্ধ করার অধিকার আছে, তাহলে সেই অবরোধ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

উদাহরণ:
A এমন একটি পথ বন্ধ করে দেয়, যেটি Z-এর পক্ষে চলাচল করার অধিকার রয়েছে, এবং A বিশ্বাস করে না যে তার পথ বন্ধ করার অধিকার আছে। ফলে Z ওই পথ দিয়ে যেতে পারে না। সুতরাং, A অন্যায়ভাবে Z-কে আটকে রেখেছে।
২,০২৫.
"Actus non facit reum nisi mens sit rea" এর অর্থ কী?
  1. অপরাধী মন ছাড়া অপরাধ সংঘটিত হয় না
  2. অপরাধমূলক কার্য ছাড়া দুষ্ট মন অপরাধ সৃষ্টি করে
  3. অপরাধমূলক কার্য ছাড়া অপরাধ সংঘটিত হয় না
  4. দুষ্ট মন এবং অপরাধমূলক কার্য ছাড়া অপরাধ সংঘটিত হয়
ব্যাখ্যা
সাধারণভাবে অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান হলো দুইটি। একটি Mens rea বা দুষ্ট মন বা Guilty mind, অন্যটি Actus rea বা অপরাধমূলক কাজ বা Guilty act। খুব বিখ্যাত একটি ম্যাক্সিম আছে আইনে : “Actus non facit reum nisi mens sit rea” যার মানে হলো – দুষ্ট মন বা অপরাধী মন ছাড়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। অর্থাৎ একটি অপরাধের ইচ্ছা থাকতে হবে অপরাধকারীর। তা না হলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। কিন্তু শুধুমাত্র দুষ্ট মন বা অপরাধের ইচ্ছা কিন্তু একটি অপরাধকে সংঘটিত করে না। এটার জন্য তৎপরতা বা কার্য দরকার। এটাই হলো Actus rea বা কার্য।

এককথায় এভাবে বলা যায় – 
যদি কোনো অপরাধের ইচ্ছা (দুষ্ট মন বা Mens rea) নিয়ে কেউ কোনো সমাজ-রাষ্ট্র-ব্যক্তির প্রতি ক্ষতিকর কিছু করে (Actus rea) যা কিনা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবেই একটি অপরাধ সংঘটিত হয়। প্রত্যেকটি অপরাধের ক্ষেত্রে এই সমস্ত কিছুর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এগুলো ছাড়া কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে না।

সুতরাং আমরা অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোকে বলতে পারি এভাবে –
১. Mens rea বা দুষ্ট মন বা Guilty mind;
২. Actus rea বা অপরাধমূলক কাজ বা Guilty act;
৩. বিদ্যমান আইনে তা অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হবে ও  আইনে তা শাস্তিযোগ্য হতে হবে।
২,০২৬.
জনসাধারণ বা দশের অধিক ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনে সহায়তাকরণে শাস্তি কি?
  1. ৩ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১১৭ ধারার বিধান জনসাধারণ বা দশজনের অধিকসংখ্যক ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্যকরণ :- জনসাধারণ দ্বারা অথবা দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী দ্বারা অপরাধ সংঘটনে কেউ সাহায্য করলে তাকে তিন বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

------------------------------
♦ Abetting commission of offence by the public, or by more than ten persons
Section 117. Whoever abets the commission of an offence by the public generally or by any number or class of persons exceeding ten, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,০২৭.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী "প্ররোচনা" (Abetment)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অন্যকে অপরাধ করতে উসকানি দেওয়া
  2. অপরাধের পর অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া
  3. অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া
  4. অপরাধ করার জন্য সচেতনভাবে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুসারে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment) গঠিত হয় তিনটি উপায়ে:
১. উসকানি (Instigation) – অন্য কাউকে অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করা।
২. ষড়যন্ত্র (Conspiracy) – অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হওয়া এবং সেই ষড়যন্ত্র অনুসারে কাজ ঘটলে।
৩. ইচ্ছাকৃত সাহায্য (Intentional aid) – অপরাধ সংঘটনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাজ বা বেআইনি বাদপ্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করা।
- অপরাধের পর অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া ধারা ১০৭-এর অধীনে প্ররোচনার (Abetment) অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি অপরাধ সংঘটনের পর সাহায্য করে। এটি একটি পৃথক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু মূল অপরাধের প্ররোচনা (Abetment) নয়।

⇒ অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

২,০২৮.
কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ডের সর্বোচ্চ সীমা কতটুকু?
  1. উক্ত অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ কারাদণ্ড
  2. উক্ত অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ কারাদণ্ড
  3. উক্ত অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-তৃতীয়াশ পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ কারাদণ্ড
  4. উক্ত অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-অস্টমাংশ পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ৬৫ ধারার বিধান যেক্ষেত্রে কারাবাস ও অর্থদন্ড বিধেয় সেই ক্ষেত্রে অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাবাসের সীমা:

⇒ আদালত অপরাধীকে অর্থদন্ড অনাদায়ে যে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার আদেশ করবেন, উহার মেয়াদ অপরাধটির জন্য নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মেয়াদের এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না, যদি অপরাধটি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডনীয় হয়।
২,০২৯.
A জানতো যে B ডাকাতি করেছে। শাস্তি হতে বাঁচানোর জন্য A, B কে লুকিয়ে রাখে। এই ক্ষেত্রে-
  1. A, ২১২ ধারায় অর্থদণ্ডসহ ৩ বৎসর পর্যন্ত যেকোন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে
  2. B, ২১৪ ধারায় অর্থদণ্ডসহ ৩ বৎসর পর্যন্ত যেকোন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে
  3. A, ৩৯৫ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে
  4. A, ২১২ ধারায় অর্থদণ্ডসহ ৭ বৎসর পর্যন্ত যেকোন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির  ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় দান করার বিষয়ের বিধান রয়েছে।
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে- দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment):-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে

♦ ব্যতিক্রম (Exception):- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

-------------------------------
♦ Harbouring offender if a capital offence; if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment:
Section 212. Whenever an offence has been committed, whoever harbours or conceals a person whom he knows or has reason to believe to be the offender, with the intention of screening him from legal punishment, 
shall, if the offence is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, and shall also be liable to fine; 
- and if the offence is punishable with imprisonment for life or with imprisonment which may extend to ten years, shall be, punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with imprisonment which may extend to one year, and not to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both. 
 
 "Offence" in this section includes any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would be punishable under any of the following sections, namely, 302, 304, 382, 392, 393, 394, 395 396, 397, 398, 399, 402, 435, 436, 449, 450, 457, 458, 459 and 460; and every such act shall, for the purposes of this section, be deemed to be punishable as if the accused person had been guilty of it in Bangladesh. 
 
♦ Exception. This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.
২,০৩০.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় ‘Doctrine Of Alternative Danger' এর প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. দণ্ডবিধির ৭৬ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৮১ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৯১ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৮১ মতে- Doctrine of Alternative Danger অর্থ হলো- বৃহত্তর ক্ষতি এড়ানোর জন্য ক্ষুদ্রতর ক্ষতি মেনে নেওয়া।

♦ দণ্ডবিধির  ৮১ ধারা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কোন কার্য যদি শরীর বা সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য সৎ উদ্দেশ্যে করা হয় তাহলে তা অপরাধ নয়।

♦ দণ্ডবিধির  ৮১ ধারা সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য, কিন্তু অপরাধমূলক অভিপ্রায় ছাড়া এবং অন্যবিধ ক্ষতিরোধের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত:- কোন কাজ শুধু ক্ষতিসাধন করতে পারে এইরূপ জানা সত্ত্বেও উহা করার ফলেই অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে না যদি কাজটি ক্ষতিসাধন করার জন্য কোনরূপ অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত না হয়ে থাকে এবং উহা শরীরের বা সম্পত্তির অপর কোনরূপ ক্ষতি নিবারণ বা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত হয়ে থাকে।

♦ ব্যাখ্যা:- যে ক্ষতিটি নিবারণ বা প্রতিরোধ করতে হবে, উহা এতই আসন্ন বা প্রকট ছিল কিনা এবং উহা এমন প্রকৃতির ছিল কিনা যার ফলে, সম্পাদিত কাজটি ক্ষতি করতে পারে জানা সত্ত্বেও উহা করা বা করার মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ মার্জনীয় হবে, বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্নটির মীমাংসা করতে হবে।
---------
♦ Act likely to cause harm, but done without criminal intent and to prevent other harm:
Section 81. Nothing is an offence merely by reason of its being done with the knowledge that it is likely to cause harm, if it be done without any criminal intention to cause harm, and in good faith for the purpose of preventing or avoiding other harm to person or property. 
 
Explanation.-It is a question of fact in such a case whether the harm to be prevented or avoided was of such a nature and so imminent as to justify or excuse the risk of doing the act with the knowledge that it was likely to cause harm.
২,০৩১.
দণ্ডিত ব্যক্তির দন্ড স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী 
  2. সরকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. খ+গ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি এর ৪০১ ধারা সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ মতে সরকার ও রাষ্ট্রপতি উভয়ের ক্ষমতা আছে।
২,০৩২.
ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রী লোকটিকে হইতে হইবে?
  1. নাবালিকা
  2. সাবালিকা
  3. অবিবাহিত
  4. বিবাহিতা/ অন্য লোকের স্ত্রী
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার বিধান ব্যভিচার:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

⇒ Section 497. Adultery:- Whoever has sexual intercourse with a person who is and whom he knows or has reason to believe to be the wife of another man, without the consent or connivance of that man, such sexual intercourse not amounting to the offence of rape, is guilty of the offence of adultery, and shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both. In such case the wife shall not be punishable as an abettor.
২,০৩৩.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, কোন মহিলার শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কোন মহিলার শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে তার ওপর আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

- দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,০৩৪.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৭ অনুসারে, শাস্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ গণনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা অনুযায়ী, শাস্তির মেয়াদ গণনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, দণ্ডের মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩০ বছর কারাদণ্ডের সমান বলে গণ্য হবে।
- সুতরাং দণ্ডবিধির ধারা ৫৭ অনুযায়ী, শাস্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ গণনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।
---------
 ⇒ The Penal Code,1860- Section 57: Fractions of terms of punishment:
- In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years.

২,০৩৫.
যদি মনুষ্য বসবাসের স্থান, দালান বা তাঁবুতে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ (criminal trespass) হয় তাহলে তাকে কি বলে?
  1. রাত্রি বেলায় অপথে গৃহপ্রবেশ
  2. সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে অপথে গৃহপ্রবেশ
  3. অপথে গৃহপ্রবেশ
  4. অনধিকার গৃহপ্রবেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান  অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।

⇒ অনধিকার গৃহ-প্রবেশ (House-trespass)- কোন ব্যক্তির গৃহে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করলে তা অনধিকার গৃহপ্রবেশ বলে গণ্য হবে।
⇒ ৪৪২ ধারায় গৃহ বলতে দালান (building), তাঁবু (tent), জাহাজ (vessel) বা নৌকাকে বোঝায় যা মানুষের বসবাস, সম্পত্তি সংরক্ষণ অথবা উপাসনার (place for custody of property or for worship) জন্য ব্যবহৃত হতে হবে।
⇒ অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য যথেষ্ট।
-------------
Section 442. House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".

Explanation:-The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
২,০৩৬.
কোন ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ অপরিহার্য উপাদান নয়?
  1. চুরি
  2. বলপূর্বক গ্রহণ
  3. ডাকাতি
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:

(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা।
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

 অর্থাৎ চুরির ক্ষেত্রে বলপ্রয়োেগ অপরিহার্য উপাদান নয়। 
অন্যদিকে বলপূর্বক গ্রহণ, দস্যুতা, ডাকাতির ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ অপরিহার্য উপাদান। 
----------------
Theft:

Section 378. Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft. 
 
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth. 
 
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft. 
 
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it. 
 
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal. 
 
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
২,০৩৭.
খুনের শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন
  2. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন
  3. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন ও তদুপরি অর্থদণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন এবং তদুপরি অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোডের ৩০২ ধারার বিধান অনুসারে খুনের অপরাধে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন এবং উভয়ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে।অপশন ক ও খ অসম্পূর্ণ, কারণ অর্থদণ্ডের কথা উল্লেখ নাই। ঘ নং অপশনে মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন লেখা আছে যা সম্ভব নয়। কারণ একজন ব্যক্তিকে একসাথে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দণ্ডে দন্ডিত করা সম্ভব নয়।
২,০৩৮.
Z, B-কে আঘাত করে। B রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। A (একজন দর্শক), সুযোগ নিয়ে B-এর হাতে ছুরি দেয় যাতে B, Z-কে হত্যা করে। B সেই ছুরি দিয়ে Z–কে হত্যা করে। এক্ষেত্রে-
  1. B কোনো অপরাধ করে নি
  2. B খুন করেছে
  3. A নিন্দনীয় নরহত্যা করেছে
  4. A খুন করেছে
ব্যাখ্যা

B-এর কাজ:
- ‘Z’-এর প্ররোচনায় ‘B’ হঠাৎ রাগে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারায়।
- হত্যাটি পরিকল্পিত নয়, বরং “grave and sudden provocation”-এর ফল।
- তাই ‘B’–এর অপরাধ নিন্দনীয় নরহত্যা (Culpable Homicide not amounting to Murder)।

A-এর কাজ:
- ‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘B’–এর রাগের সুযোগ নিয়ে তাকে ছুরি দেয় যাতে সে ‘Z’–কে মেরে ফেলে।
- তাই ‘A’–এর কাজ পরিকল্পিত খুন (Murder)।

The Penal Code, 1860 এর ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১:
যদি কোনো ব্যক্তি গুরুতর ও হঠাৎ প্ররোচনার (grave and sudden provocation) ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (deprived of self-control) প্ররোচনাদাতা ব্যক্তিকে হত্যা করে, অথবা ভুলক্রমে (by mistake) বা দুর্ঘটনাক্রমে (by accident) অন্য কাউকে হত্যা করে, তাহলে সেই হত্যা “খুন (Murder)” নয়, বরং “নিন্দনীয় নরহত্যা (Culpable Homicide not amounting to Murder)” বলে গণ্য হবে।

শর্তাবলী (Provisos):
এই ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে না, যদি-
প্রথমত: অপরাধী নিজেই প্ররোচনা সৃষ্টি করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটায়, যাতে হত্যার অজুহাত তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত: প্ররোচনাটি আসে এমন কোনো কাজ থেকে, যা আইনের অধীনে বৈধভাবে সম্পাদিত, অথবা কোনো সরকারি কর্মচারী বৈধ দায়িত্ব পালনের সময় করেছেন।
তৃতীয়ত: প্ররোচনাটি আসে এমন কোনো কাজ থেকে, যা আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার (right of private defence) প্রয়োগের সময় করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা (Explanation):
“প্ররোচনা কতটা গুরুতর ও হঠাৎ ছিল, যা অপরাধকে হত্যা (murder) না করে দোষজনক হত্যাকাণ্ডে নামিয়ে আনে”— এটি সম্পূর্ণ Question of Fact, যা আদালত প্রমাণ ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে।

Illustrations (উদাহরণসহ ব্যাখ্যা):
(a) A, Z-এর দেওয়া প্ররোচনায় রাগের মাথায় Z-এর সন্তান Y-কে হত্যা করে। এটি Murder, কারণ প্ররোচনাটি শিশুটি দেয়নি এবং শিশুর মৃত্যু ছিল না দুর্ঘটনাক্রমে।

(b) Y, A-কে হঠাৎ ও গুরুতরভাবে প্ররোচিত করে। A, রাগে Y-এর দিকে গুলি চালায়, কিন্তু ভুলবশত Z নামের আরেকজনকে হত্যা করে।  এটি Culpable Homicide not amounting to Murder, কারণ হত্যা ভুলক্রমে হয়েছে।

(c) A-কে বৈধভাবে গ্রেপ্তার করে সরকারি কর্মচারী Z। A, রাগে Z-কে হত্যা করে। এটি Murder, কারণ প্ররোচনাটি বৈধ সরকারি কাজ থেকে এসেছে।

(d) A সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হয়। বিচারক Z বলে যে, “তুমি মিথ্যা বলছ।” A রাগে Z-কে হত্যা করে। এটি Murder, কারণ কথাগুলি আইনের আওতায় বলা হয়েছে।

(e) A, Z-এর নাক টানতে যায়। Z আত্মরক্ষায় A-কে ধরে ফেলে। A রাগে Z-কে হত্যা করে। এটি Murder, কারণ Z বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিল।

(f) Z, B-কে আঘাত করে। B রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। A (একজন দর্শক), সুযোগ নিয়ে B-এর হাতে ছুরি দেয় যাতে B, Z-কে হত্যা করে। এখানে B culpable homicide করেছে, কিন্তু A guilty of murder।

২,০৩৯.
দণ্ডবিধির কত ধারায় বাংলাদেশের জাল মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানি করা শাস্তির বিধান আছে?
  1. ২৩৯
  2. ২৩৬
  3. ২৩৭
  4. ২৩৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৩৮ ধারার বিধান জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও জাল বাংলাদেশের মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানি করা:
-কোন জাল মুদ্রা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহ্য রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অধবা দশ বৎসর পস্থত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------------------
⇒The Penal Code,1860: Section-238. Import or export of counterfeits of Bangladesh coin:
-Whoever imports into Bangladesh, or exports therefrom, any counterfeit coin which he knows or has reason to believe to be a counterfeit of Bangladesh coin, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,০৪০.
কোন বয়সসীমার নিচের নাবালিকাকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে হরণ করলে তা মনুষ্যহরণ বলে গণ্য হবে?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ১৪ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৬১ ধারা অনুযায়ী, “যে ব্যক্তি ষোল (১৬) বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে (মেয়ে) তার আইনসম্মত অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত অভিভাবকের হেফাজত থেকে নিয়ে যায়, সে ব্যক্তি উক্ত নাবালিকাকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ (kidnapping) করেছে বলে গণ্য হবে।”
এই ধারা অনুযায়ী:
- ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে বয়সসীমা: ১৪ বছর।
- মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে বয়সসীমা: ১৬ বছর।
অতএব, কোনো মেয়েশিশু যদি ১৬ বছরের কম বয়সী হয় এবং তাকে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে এটি আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
ব্যতিক্রম:- যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 361. Kidnapping from lawful guardianship: Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship.
Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person.
Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.
২,০৪১.
What is the maximum imprisonment term for dishonest misappropriation of property under Section 403?
  1. 6 months
  2. 1 year
  3. 2 years
  4. 3 years
ব্যাখ্যা
Section 403: Dishonestly misappropriation of property:
Whoever dishonestly misappropriates or converts to his own use any moveable property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

ধারা ৪০৩ অনুসারে,
যদি কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের কাজে ব্যবহার করে, তবে তাকে দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো ধরণের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
২,০৪২.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণার শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৪১৯
  2. ধারা ৪১৮
  3. ধারা ৪১৭
  4. ধারা ৪১৬
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪১৯ এ বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করে, সে ব্যক্তি তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।"
- এর অর্থ— যখন কেউ নিজেকে অন্য ব্যক্তি হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে (বাস্তব বা কাল্পনিক) কাউকে প্রতারণা করে, তখন এটি “cheating by personation” হিসেবে গণ্য হয়।
- এই অপরাধটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ধারা ৪১৬-এ, কিন্তু এই অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ধারা ৪১৯-এ।
 - অতএব, "অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা" করার শাস্তির বিধান রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ – ধারা ৪১৯-এ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করার শাস্তি:- কোন ব্যক্তি যদি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করে, তবে উক্ত লোক তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-419. Punishment for cheating by personation:
-Whoever cheats by personation shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
২,০৪৩.
দস্যুতার সদস্য সংখ্যা কত জন?
  1. পাঁচজন
  2. তিনজন
  3. নির্দিষ্টতা নেই, তবে পাঁচ জনের কম
  4. নির্দিষ্টতা নেই, তবে পাঁচ জনের বেশি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান: দস্যুতার সংজ্ঞা (Robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তাদস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When extortion is robbery)- বলপূর্বক গ্রহণের সময় অপরাধী স্বয়ং ভিকটিমের নিকটে বা আশেপাশে উপস্থিত থেকে তাৎক্ষনিক ভয়ের সৃষ্টি করলে বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা বলে গণ্য হবে।
⇒ চুরি কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When theft is robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা চুরি করার সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা অবৈধ আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন চুরি দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারা মতে প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

⇒ যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।

⇒ বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে  দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation):-
অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

⇒ অর্থাৎ চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

⇒ দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করে;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখায়;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করে; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

⇒ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
২,০৪৪.
A causes cattle to enter upon a field belonging to Z, intending to cause and knowing that he is likely to cause damage to Z's crop. A has committed _________.
  1. mischief
  2. tresspass
  3. Criminal force
  4. misappropriation of property
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান- ক্ষতি বা অনিষ্ট:
 কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।

ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

উদাহরণ:
- A, Z-এর ক্ষেতের মধ্যে গবাদি পশু প্রবেশ করায়, উদ্দেশ্য করে এবং জানে যে সে Z-এর ফসলের ক্ষতি ঘটাবে। A এই কাজটি করার মাধ্যমে অনিষ্ট ঘটিয়েছে।
[A causes cattle to enter upon a field belonging to Z, intending to cause and knowing that he is likely to cause damage to Z's crop. A has committed mischief.]
২,০৪৫.
'ক' একটি মোবাইল ফোন খুব সস্তা দামে কিনল, যদিও সে জানত যে ফোনটি চুরিকৃত। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুসারে 'ক' এর এই কাজটি কোন অপরাধের আওতায় পড়ে?
  1. ধারা ৩৭৮
  2. ধারা ৪১১
  3. ধারা ৪১৪
  4. ধারা ৪০৩
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪১১ অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই সম্পত্তি (stolen property) বলে জেনেশুনে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে (dishonestly) তা গ্রহণ করে বা রেখে দেয়, সে অপরাধমূলকভাবে দোষী। এখানে ‘ক’ চুরিকৃত ফোন জেনেশুনে সস্তায় কিনেছে, যা চোরাই সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের অপরাধ। শাস্তি: ৩ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়।

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪১১ ধারার বিধান অসাধুভাবে চোরাইমাল গ্রহণ করা: কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানা সত্ত্বেও, বা উহা চোরাই সম্পত্তি বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে অনুরূপ চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ করে বা রেখে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 411.Dishonestly receiving stolen property:
Whoever dishonestly receives or retains any stolen property, knowing or having reason to believe the same to be stolen property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

২,০৪৬.
How many types of punishments are prescribed in the Penal Code, 1860?
  1. 4
  2. 5
  3. 9
  4. 7
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে।
- দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে।
যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple)
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
(v) অর্থদণ্ড (fine)
-ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
-------------------
⇒ Section-53: The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,-
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted]
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:
(1) Rigorous, that is, with hard labour;
(2) Simple;
Fifthly,- Forfeiture of property;
Sixthly,- Fine.
Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.
২,০৪৭.
বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়ার বিধান কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ১৪১ ধারায়
  2. ১৪২ ধারায়
  3. ১৪৩ ধারায়
  4. ১৪৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ১৪২ ধারা মতে কেউ বেআইনি সমাবেশে যোগদান বা অবস্থান করলে উক্ত সমাবেশের সদস্য বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত কোন অপরাধ না করেও শুধুমাত্র অংশগ্রহণের মাধ্যমে কেউ বেআইনি সমাবেশের সদস্য হতে পারে।
২,০৪৮.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী বাংলাদেশে সমকামিতার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১৪ বৎসর কারাদণ্ড
  4. অনধিক ১০ বৎসর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতাকে প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধ হিসেবে বলা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার বিধান অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ:
কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দেশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা:- এই ধারায় বর্ণিত অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌন সঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট হবে।

Section 377⇒ Unnatural offences:

Whoever voluntarily has carnal intercourse against the order of nature with any man, woman or animal, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

Explanation- Penetration is sufficient to constitute the carnal intercourse necessary to the offence described in this section.
২,০৪৯.
দণ্ডবিধির ৪০১ ধারায় কোন অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. চুরির প্রস্তুতি গ্রহণ
  2. চুরির সময় অস্ত্র বহন করা
  3. চোর বা দস্যুদের দলে থাকা
  4. ডাকাত দলভুক্ত হওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ৪০১ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি চুরি বা দস্যুতা করার উদ্দেশ্যে গঠিত ভ্রাম্যমান বা অন্য কোনো গ্যাং-এর সদস্য, এবং সেই গ্যাংটি যদি ডাকাত বা ঠগদের দল না হয়, তবুও সে ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।
- শাস্তির বিধান: সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয়।
⇒ অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা চুরি বা দস্যুতার উদ্দেশ্যে গঠিত সংঘবদ্ধ দল বা গ্যাং-এর সদস্য হওয়াকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এজন্য ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নির্ধারণ করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪০১ ধারার বিধান: চোরদের দলে থাকার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোন সময়ে এমন কোন ভ্রাম্যমান বা অপর কোনরূপ দলে থাকে, যে দলের ব্যক্তিরা বরাবর চুরি বা দস্যুতা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে পরস্পর সংঘবদ্ধ এবং যদি উহা ঠগদের বা ডাকাতদের দল না হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 401. Punishment for belonging to gang of thieves:
- Whoever, at any time after the passing of this Act, shall belong to any wandering or other gang of person, associated for the purpose of habitually committing theft or robbery, and not being a gang of thugs or dacoits, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
২,০৫০.
নারীর সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করানোর সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বৎসর কারাদণ্ড
  4. ৫ বৎসর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ:- কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------
⇒ Causing miscarriage without women's consent:
Section 313. Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,০৫১.
একজন শৈল্য চিকিৎসক সরল বিশ্বাসে একজন রােগীকে বলেন "আপনি আর বাঁচবেন না, এতে উক্ত রোগী মানসিক আঘাত পেয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে শৈল্য চিকিৎসকের কৃত যোগাযোগটি দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না?
  1. দণ্ডবিধির ৬৩ ধারার
  2. দণ্ডবিধির ৭৮ ধারার
  3. দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার
  4. দণ্ডবিধির ৯৬ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার বিধান সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
 কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।

- উদাহরণ:
ক একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। ক এর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রেগিটির মৃত্যু ঘটতে পারে।
------------------------------------
⇒ Section 93. Communication made in good faith:
No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person. 
 
- Illustration:
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.
২,০৫২.
একই ব্যক্তিকে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারার অধীনে সাজা দেওয়া যাবে কি না?
  1. দেওয়া যাবে
  2. দেওয়া যাবে না
  3. আদালতের উচ্ছা
  4. আদালত চাইলে পারবে
ব্যাখ্যা
- দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরির শাস্তি এবং ৪১১ ধারায় চোরাই মাল রাখার শাস্তি বর্ণিত আছে।
- স্বাভাবিকভাবে চোরাই মাল চোরের কাছেই থাকার কথা।
- তাই চোরের কাছে চোরাই মাল পাওয়া গেলে তা নতুন কোন অপরাধ তৈরি করেনা।
- সুতরাং একই ব্যক্তিকে একই সাথে ৩৭৯ ও ৪১১ ধারার অধীনে আলাদা চার্জ গঠন ও আলাদা শাস্তি দেয়া যাবে না।
২,০৫৩.
দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারা অনুযায়ী, বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তিরা অপরাধী হতে পারে যদি:
  1. তারা সরাসরি অপরাধ না করে
  2. তারা শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করে
  3. তারা অপরাধের পরিকল্পনা না করে
  4. সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অপরাধ সংঘটিত হয়
ব্যাখ্যা
উত্তর: সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অপরাধ সংঘটিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে থাকে বা জানত যে, অপরাধ সংঘটিত হতে পারে, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে, যদিও সে সরাসরি অপরাধটি করেনি।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারা- সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত অপরাধের জন্য বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই অপরাধী সাব্যস্ত হবে:
যদি কোন বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি দ্বারা উক্ত বেআইনি সমাবেশে সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়, অথবা উক্ত সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উক্ত বেআইনি সমাবেশের ব্যক্তিগণ জানত তা অনুষ্ঠিত হয়, তবে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে উক্ত বেআইনি সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি উক্ত অপরাধে অপরাধী হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 149- Every member of unlawful assembly guilty of offence committed in prosecution of common object:
If an offence is committed by any member of an unlawful assembly in prosecution of the common object of that assembly, or such as the members of that assembly knew to be likely to be committed in prosecution of that object, every person who, at the time of the committing of that offence, is a member of the same assembly, is guilty of that offence.
২,০৫৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় সরল বিশ্বাসে বিচারকের আইন দ্বারা বিচারিক কাজের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৫৬ 
  2. ধারা ৭৬
  3. ধারা ৭৭
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৭৭ ধারা অনুযায়ী, বিচারক যখন তার বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের সময় আইন অনুযায়ী বা নিজের সরল বিশ্বাসে আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা মনে করে কোনো কাজ করে, সেই কাজ অপরাধ গণ্য হবে না। অর্থাৎ, বিচারকের বিচারিক কাজের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি এই ধারার মাধ্যমে নিশ্চিত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৭ ধারার বিধান বিচার সংক্রান্ত কাজ সম্পাদনকালে বিচারক দ্বারা কৃতকার্য:-বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাঁকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-Section 77. Act of Judge when acting judicially:- Nothing is an offence which is done by a Judge when acting judicially in the exercise of any power which is, or which in good faith he believes to be, given to him by law.

২,০৫৫.
গোপনে ও বেআইনিভাবে কোনো ব্যক্তিকে আটকানোর উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হলে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি _________ সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারা: গোপনে ও বেআইনিভাবে কোনো ব্যক্তিকে আটকানোর উদ্দেশ্যে অপহরণ বা হরণ:
যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে গোপনে ও বেআইনিভাবে আটকানোর উদ্দেশ্যে অপহরণ বা হরণ করে, সে ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 365- Kidnapping or abducting with intent secretly and wrongfully to confine person:
Whoever kidnaps or abducts any person with intent to cause that person to be secretly and wrongfully confined, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
২,০৫৬.
Unnatural Offences এর সংজ্ঞা রয়েছে-
  1. ৩৭৫ ধারায়
  2. ৩৭৬ ধারায়
  3. ৩৭৭ ধারায়
  4. ৩৭৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার অধীন সমকামিতা, পায়ুপথে যৌন সংগম এবং জন্তুর সাথে যৌন সংগম অস্বাভাবিক অপরাধ বলে গণ্য হয়।
২,০৫৭.
দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না বা অপরাধীকে আশ্রয় দানের জন্য (Harbouring offender) নিম্নলিখিত কোন ব্যক্তি দণ্ডিত হবে না?
  1. স্ত্রী
  2. স্বামী
  3. স্বামী বা স্ত্রী
  4. অপরাধীর আত্মীয়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির  ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় দান করার বিষয়ের বিধান রয়েছে।
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে- দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment):-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে

♦ ব্যতিক্রম (Exception):- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

-------------------------------
♦ Harbouring offender if a capital offence; if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment:

Section 212. Whenever an offence has been committed, whoever harbours or conceals a person whom he knows or has reason to believe to be the offender, with the intention of screening him from legal punishment, 
shall, if the offence is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with imprisonment for life or with imprisonment which may extend to ten years, shall be, punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine; 
and if the offence is punishable with imprisonment which may extend to one year, and not to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both. 
 
"Offence" in this section includes any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would be punishable under any of the following sections, namely, 302, 304, 382, 392, 393, 394, 395 396, 397, 398, 399, 402, 435, 436, 449, 450, 457, 458, 459 and 460; and every such act shall, for the purposes of this section, be deemed to be punishable as if the accused person had been guilty of it in Bangladesh. 
 
♦ Exception. This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.
২,০৫৮.
একজন ব্যক্তি ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ের কারণে ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। যদি সেই অর্থদণ্ড আইনগত প্রক্রিয়ায় আদায় হয়, তবে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৬৮ অনুযায়ী আসামীর কী হবে?
  1. অতিরিক্ত অর্থদণ্ড আরোপ হবে
  2. কারাদণ্ড অবসান হবে
  3. কারাদণ্ড অব্যাহত থাকবে
  4. নতুন মামলা দায়ের হবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৬৮ ধারার বিধান- অর্থদণ্ড আদায়ে কারামুক্তি:
যে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে অর্থদণ্ড প্রদত্ত হলে অথবা আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে আদায়ীকৃত হলে আসামীর কারামুক্তি হবে।

উদাহরণ:
একজন ব্যক্তি ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ের কারণে ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। যদি তিনি সেই অর্থদণ্ড পরিশোধ করেন বা তা আইনগত প্রক্রিয়ায় আদায় হয়, তবে তার কারাদণ্ড অবসান হবে।

⇒ Section 68- Imprisonment to terminate on payment of fine:
The imprisonment which is imposed in default of payment of a fine shall terminate whenever that fine is either paid or levied by process of law.
২,০৫৯.
দণ্ডবিধি ৩৭৮ ধারা মতে চুরির শর্ত-
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. অনুমতি ব্যতীত সম্পত্তি সরানো
  3. সম্পত্তির দখল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত।
• যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা।
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।
২,০৬০.
কোন অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ চুরি বলে গণ্য হবে যদি সম্পত্তিটি যেকোন ব্যক্তির দখল হতে-
  1. ভয় দেখিয়ে গ্রহণ করা হয়
  2. জোরপূর্বক (Extortion) গ্রহণ করা হয়
  3. অসাধুভাবে (Dishonestly) গ্রহণ করা হয়
  4. প্রতারণামূলকভাবে (Fraudulently) গ্রহণ করা হয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
----------------
Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft. 
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth. 
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft. 
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it. 
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal. 
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
২,০৬১.
দণ্ডবিধির ৯৭ ধারায় ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র নিজের দেহ রক্ষার অধিকার আছে
  2. শুধুমাত্র নিজের সম্পত্তি রক্ষার অধিকার রয়েছে
  3. ক এবং খ
  4. নিজের এবং অন্যের দেহ ও সম্পত্তি রক্ষার অধিকার রয়েছে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৯৭ ধারা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায় দুটি ক্ষেত্রে-
(i) অন্যের আক্রমণ হতে নিজের বা অন্যের দেহ রক্ষা করতে;
(ii) নিজের বা অন্যের সম্পত্তি রক্ষা করতে।

Section 97- Right of private defence of the body and of property:
Every person has a right, subject to the restrictions contained in section 99, to defend-
Firstly.-His own body, and the body of any other person against any offence affecting the human body;
Secondly.-The property, whether moveable or immovable, of himself or of any other person, against any act which is an offence falling under the definition of theft, robbery, mischief or criminal trespass, or which is an attempt to commit theft, robbery, mischief or criminal trespass.
২,০৬২.
দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার মতে, কত বছরের কম বয়সী নাবালিকাকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নিয়ে গেলে তা মনুষ্যহরণ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ১৪ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ১৬ বছর
  4. ১৮ বছর
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারা অনুসারে, যদি ১৪ বছরের কম বয়সী নাবালক (ছেলে) অথবা ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালিকা (মেয়ে) অথবা বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তি-কে তার আইনগত অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে তা মনুষ্যহরণ (Kidnapping from lawful guardianship) বলে গণ্য হবে।
এখানে ১৬ বছরের কম বয়সী মেয়েদের (নাবালিকা) ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য, তাই সঠিক উত্তর গ) ১৬ বছর।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারা মতে মনুষ্যহরণ বা অপহরণ ২ প্রকার।
(i) বাংলাদেশ থেকে মনুষ্য হরণ;
(ii) আইনগত অভিভাবকের নিকট হতে মনুষ্য হরণ।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 359.Kidnapping:
Kidnapping is of two kinds: kidnapping from Bangladesh, and kidnapping from lawful guardianship.
⇒ The Penal Code, 1860- Section 360. Kidnapping from Bangladesh, etc:
Whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of some person legally authorized to consent on behalf of that person, is said to kidnap that person from Bangladesh.
⇒ The Penal Code, 1860- Section 361. Kidnapping from lawful guardianship:
Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship. 
Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person. 
Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.
২,০৬৩.
নিচের কোন ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে না?
  1. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি কোন নাগরিক কর্তৃক সংঘটিত অপরাধে
  2. আমরিকান জাহাজে ভারতের জলসীমায় চায়না নাগরিক হত্যা হলে
  3. বাংলাদেশের অভ্যন্তর বাংলাদেশ বা বিদেশি নাগরিক কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ
  4. বাংলাদেশের নিবন্ধিত জাহাজে বা বিমানে সংঘটিত অপরাধে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i) বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।

অর্থাৎ 'আমরিকান জাহাজে ভারতের জলসীমায় চায়না নাগরিক হত্যার' ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে না।
২,০৬৪.
যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে আইনসম্মত অভিভাবক মনে করে এবং কোন বেআইনী উদ্দেশ্য ছাড়া দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার অধীন বর্ণিত মনুষ্যহরণের অপরাধ করে, তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারা- আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:
কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম: যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।

Section 361- Kidnapping from lawful guardianship:
Whoever takes or entices any minor under fourteen years of age if a male, or under sixteen years of age if a female, or any person of unsound mind, out of the keeping of the lawful guardian of such minor or person of unsound mind, without the consent of such guardian, is said to kidnap such minor or person from lawful guardianship. 

Explanation.-The words "lawful guardian" in this section include any person lawfully entrusted with the care or custody of such minor or other person. 

Exception.-This section does not extend to the act of any person who in good faith believes himself to be the father of an illegitimate child, or who in good faith believes himself to be entitled to the lawful custody of such child, unless such act is committed for an immoral or unlawful purpose.
২,০৬৫.
সম্পত্তি সম্পর্কিত অপরাধ নয় কোনটি?
  1. চুরি
  2. দস্যুতা
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সম্পত্তি সম্পর্কিত অপরাধ [Offences Relating to Property]-
১। চুরি;
২। জোরপূর্বক গ্রহণ;
৩। দস্যুতা;
৪। ডাকাতি;
৫। অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ;
৬। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ;
৭। চোরাই মাল;
৮। প্রতারণা;
৯। প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর;
১০। ক্ষতিসাধন বা অনিষ্টসাধন;
১১। অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ ধারা।

উল্লিখিত সবগুলো সম্পত্তি সম্পর্কিত অপরাধ।
২,০৬৬.
'A' 'C' কে হত্যা করতে 'B'কে প্ররোচিত করে। কিন্তু 'B' 'C' কে হত্যা করতে রাজি হয় না। 'A' কোন ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. প্ররোচনার অপরাধ করেছে
  2. নৈতিক অপরাধ করেছে
  3. হত্যার চেষ্টার অপরাধ করেছে
  4. কোন অপরাধ করে নাই
ব্যাখ্যা
• ধারা ১০৮ ব্যাখ্যা-২ অনুযায়ী প্ররোচিত কাজটি সংঘটিত না হলেও প্ররোচনার অপরাধ হবে।
• যে অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচনা করা হয়েছে সেই অপরাধ সংঘটিত হোক বা না হোক শুধুমাত্র প্ররোচনা প্রমাণিত হলেই প্ররোচনাকারীকে বা দোষ কর্মের
• সহায়তাকারী উক্ত অপরাধের অপরাধমূলক কাজের প্ররোচনা করার জন্য দায়ী হবে।
• অপরাধ সংঘটিত হোক বা না হোক তাতে কিছু আসে যায় না দোষ কর্মের সহায়তার অপরাধ প্ররোচনার সাথে সাথেই সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
২,০৬৭.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী কাউকে ইচ্ছাপূর্বক পথরোধ করা “অবৈধ বাধা” হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ধারা ৩৩৮
  2. ধারা ৩৩৯
  3. ধারা ৩৪০
  4. ধারা ৩৪১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৩৯-এ "অবৈধ বাধা" (Wrongful Restraint)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
→ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধা দেয় যার ফলে উক্ত ব্যক্তির অধিকারপ্রাপ্ত দিকে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়, তবে তাকে অবৈধ বাধা (Wrongful Restraint) দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হয়।
→ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৩৩৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক অন্য কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে বাধা দেয় যাতে সে ব্যক্তি তার চলাচলের অধিকারের যেকোনো দিকে যেতে না পারে, তবে সেটিকে "অবৈধ বাধাদান" (Wrongful Restraint) বলা হয়।

- দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা- অবৈধ বাধা (Wrongful restraint): যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
- ব্যতিক্রম: যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
- উদাহরণ: যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section 339- Wrongful restraint:
Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
- Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
- Illustration: A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.
২,০৬৮.
‘ক’ নিজেকে সরকারি ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে ‘খ’-এর কাছ থেকে একটি বড় প্রকল্পে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নেয়। পরে জানা যায় ‘ক’ কোনো ঠিকাদার নয় এবং শুরু থেকেই তার উদ্দেশ্য ছিল টাকা আত্মসাৎ করা। ‘ক’-এর অপরাধ কোন ধারায় পড়বে?
  1. দণ্ডবিধি ৪০৩
  2. দণ্ডবিধি ৪১৫
  3. দণ্ডবিধি ৪২০
  4. দণ্ডবিধি ৪২৪
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দণ্ডবিধি ৪২০।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০- ধারা ৪২০ : প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি প্রদান করানো:
- যে ব্যক্তি প্রতারণা করে এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে প্রতারিত ব্যক্তিকে অসাধুভাবে প্ররোচিত করে-
- কোনো ব্যক্তির নিকট কোনো সম্পত্তি প্রদান করতে, অথবা
- কোনো মূল্যবান জামানত (valuable security) অথবা
- এমন কোনো স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু তৈরি করতে, পরিবর্তন করতে বা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে ধ্বংস করতে,
- যা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য, সে ব্যক্তি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

শাস্তি:
উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২,০৬৯.
'ক' যদি 'চ'-এর বাড়ির সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে 'চ'-এর যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে, তবে দণ্ডবিধি অনুসারে 'ক'-এর অপরাধ কী?
  1. অবৈধ আটক
  2. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি
  3. অবৈধ বাধাদান
  4. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা

⇒ প্রদত্ত পরিস্থিতিতে, 'ক' 'চ'-এর বাড়ির সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে 'চ'-এর যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করেছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৩৯ অনুসারে, এটি অবৈধ বাধাদান (Wrongful Restraint) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এতে ইচ্ছাপূর্বকভাবে কোনো ব্যক্তির চলাচলের অধিকারপ্রাপ্ত পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা- অবৈধ বাধা (Wrongful restraint): যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
- ব্যতিক্রম: যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
- উদাহরণ: যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section 339- Wrongful restraint:
Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
- Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
- Illustration: A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.

২,০৭০.
The Penal Code এর কোন ধারায় প্রতারণার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪১০ ধারায়
  2. ৪১২ ধারায়
  3. ৪১৫ ধারায়
  4. ৪১৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় প্রতারণার বিধান রয়েছে।
• প্রতারণা বলতে ফাঁকি দিয়ে বা মিথ্যা বর্ণনার দ্বারা কাউকে এমনভাবে প্রভাবিত করা যে, প্রতারিত ব্যক্তি যেন প্রতারণাকারীর ইচ্ছামাফিক কোন কাজ করে যা প্রতারিত ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করে অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা না করতে বা সম্পত্তি অর্পনে বাধ্য করে।
২,০৭১.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "অন্যায় লাভ" (Wrongful Gain) এবং "অন্যায় ক্ষতি" (Wrongful Loss) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৩-এ “অন্যায় লাভ” (Wrongful gain) এবং “অন্যায় ক্ষতি” (Wrongful loss) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে:
অন্যায় লাভ (Wrongful gain): এটি হলো অবৈধ উপায়ে এমন সম্পত্তি অর্জন করা, যার উপর অর্জনকারী ব্যক্তির আইনি অধিকার নেই।
অন্যায় ক্ষতি (Wrongful loss): এটি হলো অবৈধ উপায়ে এমন সম্পত্তি থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা, যার উপর তার আইনি অধিকার রয়েছে।
- তাই, সঠিক উত্তর হলো ধারা ২৩।
--------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-23:
→ “Wrongful gain”
 "Wrongful gain" is gain by unlawful means of property to which the person gaining is not legally entitled.
→ “Wrongful loss”
"Wrongful loss" is the loss by unlawful means of property to which the person losing it is legally entitled.
→ Losing wrongfully.
- A person is said to gain wrongfully when such person retains wrongfully, as well as when such person acquires wrongfully.
- A person is said to loss wrongfully when such person is wrongfully kept out of any property, as well as when such person is wrongfully deprived of property.

২,০৭২.
দণ্ডবিধির ধারা ৪৪৫ অনুযায়ী, কতটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গৃহে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে অপথে গৃহে প্রবেশ হয়?
  1. ১১টি
  2. ৬টি
  3. ৯টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-
i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙে (Opening or breaking lock);
iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);
v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।

অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় এই ৬ ধরনের গৃহপ্রবেশকে 'অপথে গৃহপ্রবেশ' (House- breaking) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
-------------------------------
⇒The Penal Code, 1860- Section- 445: House-breaking: A person is said to commit “house-breaking" who commits house-trespass if he effects his entrance into the house or any part of it in any of the six ways hereinafter described; or if, being in the house or any part of it for the purpose of committing an offence, or, having committed an offence therein, he quits the house or any part of it in any of such six ways, that is to say:
Firstly.-If he enters or quits through a passage made by himself, or by any abettor of the house-trespass, in order to the committing of the house-trespass.
Secondly.-If he enters or quits through any passage not intended by any person, other than himself or an abettor of the offence, for human entrance; or through any passage to which he has obtained access by scaling or climbing over any wall or building.
Thirdly.-If he enters or quits through any passage which he or any abettor of the house-trespass has opened, in order to the committing of the house-trespass by any means by which that passage was not intended by the occupier of the house to be opened.
Fourthly.-If he enters or quits by opening any lock in order to the committing of the house-trespass, or in order to the quitting of the house after a house-trespass.
Fifthly.-If he effects his entrance or departure by using criminal force or committing an assault, or by threatening any person with assault.
Sixthly.-If he enters or quits by any passage which he knows to have been fastened against such entrance or departure, and to have been unfastened by himself or by an abettor of the house-trespass.
Explanation.- Any out-house or building occupied with a house, and between which and such house there is an immediate internal communication, is part of the house within the meaning of this section.

২,০৭৩.
দণ্ডবিধির ১২০ ধারা অনুসারে, যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে শাস্তি কত হতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের সমান
  2. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত
  3. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত
  4. সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের অর্ধেক পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২০ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি কারাবিধেয় অপরাধ সংঘটনের ডিজাইন (পরিকল্পনা) গোপন করে এবং সেই অপরাধটি সংঘটিত না হয়, তবে সেই ব্যক্তির শাস্তি হবে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত।

- যে ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা গোপন করে বা মিথ্যা তথ্য দেয়, সে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে তাকে শাস্তির এক চতুর্থাংশ সময় বা জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া হবে।
- যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে তাকে এক অষ্টমাংশ সময় বা জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-120. Concealing design to commit offence punishable with imprisonment
Whoever, intending to facilitate or knowing it to be likely that he will thereby facilitate the commission of an offence punishable with imprisonment, 
voluntarily conceals, by any act or illegal omission, the existence of a design to commit such offence, or makes any representation which he knows to be false respecting such design,
if offence be committed; if offence be not committed
shall, if the offence be committed, be punished with imprisonment of the description provided for the offence, for a term which may extend to one-fourth, and, if the offence be not committed, to one-eighth, of the longest term of such imprisonment, or with such fine as is provided for the offence, or with both.
২,০৭৪.
দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত সর্বনিম্ন কারাবাসের মেয়াদ কত?
  1. ২০ ঘন্টা
  2. ২৪ ঘন্টা
  3. ৪৮ ঘন্টা
  4. ৭২ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন শাস্তি:

⇒ সর্বোচ্চ শাস্তি বা দণ্ড- মৃত্যুদণ্ড; (১০টি ক্ষেত্রে)
⇒ সর্বোচ্চ কারাবাস- ২০ বছর;

⇒ সর্বনিম্ন কারাবাসের মেয়াদ- ২৪ ঘন্টা;
⇒ সর্বনিম্ন অর্থদণ্ড- ১০ টাকা।
[দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী, প্রকাশ্যে মাতাল ব্যক্তির অশোভন আচরণ এর জন্য শাস্তি হতে পারে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত বা জরিমানাসহ যার পরিমান ১০ টাকা পর্যন্ত বা উভয়ই।
২,০৭৫.
দণ্ডবিধির ১১ ধারায় 'ব্যক্তি' বলতে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. স্বতন্ত্র ব্যক্তি
  2. সমিতি
  3. আদালত
  4. কোম্পানি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২য় অধ্যায়ের ৬ থেকে ৫২ক ধারার সাধারণ ব্যাখ্যা (General Explanation) অংশে দণ্ডবিধিতে ব্যবহৃত কতিপয় শব্দের সংজ্ঞা রয়েছে।

-ব্যক্তি (Person)- দণ্ডবিধির ১১ ধারায় ব্যক্তির সংজ্ঞা রয়েছে। ১১ ধারার বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি বা Person বলতে যে কোন কোম্পানী বা সমিতি (Association) অথবা ব্যক্তি সমষ্টিকে (সমিতিভুক্ত হোক বা না হোক) বুঝাবে।
-----------------------------------
-The Penal Code, 1860, Section 11. The word “person” includes any Company or Association, or body of persons, whether incorporated or not.
২,০৭৬.
সর্বনিম্ন কত দিন কোন ব্যক্তিকে আটক রাখলে আটককারী ব্যক্তি অনধিক ২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ২ দিন
  2. ৩ দিন
  3. ৪ দিন
  4. ৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৩ ধারার বিধান তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধ অবরোধ:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ Section 343. Wrongful confinement for three or more days:- Whoever wrongfully confines any person for three days or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,০৭৭.
‘D’ অসাধুভাবে তার সম্পত্তি গোপন করে, যাতে তার ঋণদাতারা তা পেতে না পারে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪২৪ অনুসারে, যে কেউ অসাধুভাবে বা জালিয়াতিমূলকভাবে নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি গোপন বা অপসারণ করে, বা এতে সহায়তা করে, অথবা তার প্রাপ্য কোনো দাবি বা অধিকার অসাধুভাবে মুক্তি দেয়, সে এই অপরাধের জন্য দায়ী। এই অপরাধের শাস্তি হলো ২ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই। এখানে, ‘D’ অসাধুভাবে তার সম্পত্তি গোপন করেছে, যাতে ঋণদাতারা তা পেতে না পারে, যা ধারা ৪২৪-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড।

- ‘D’-এর কাজ ধারা ৪২৪-এর অধীনে জালিয়াতিমূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন হিসেবে গণ্য, এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২ বছরের কারাদণ্ড। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) ২ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৪ ধারা: অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন করা:
যে ব্যক্তি অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে নিজের বা অন্যকারো সম্পত্তি গোপন করে অথবা অপসারণ করে, অথবা এমন কাজে সহায়তা করে যা সম্পত্তি গোপন বা অপসারণে সহায়তা করে, অথবা নিজের কোনো দাবি বা দাবির ছেড়ে দেয় যা তার অধিকারভুক্ত, তাকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
--------
⇒The Penal Code, 1860- Section-424 Dishonest or fraudulent removal or concealment of property:
-Whoever dishonestly or fraudulently conceals or removes any property of himself or any other person, or dishonestly or fraudulently assists in the concealment or removal thereof, or dishonestly releases any demand or claim to which he is entitled, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

২,০৭৮.
এক ব্যক্তি ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত ও ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে। দণ্ডাদেশ দানের কত বছরের মধ্যে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদও ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:
অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশবলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনতঃ দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
২,০৭৯.
দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি একটি অবৈধ সমাবেশ বা তার সদস্য কোন সহিংসতা বা বলপ্রয়োগ করে, তবে সেই সমাবেশের সদস্যদের কী অপরাধ হবে?
  1. ডাকাতি
  2. দাঙ্গা
  3. অপহরণ
  4. বলপ্রয়োগের অপরাধ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারার অনুযায়ী, যদি একটি অবৈধ সমাবেশ বা তার সদস্যরা ঐ সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনে সহিংসতা বা বলপ্রয়োগ করে, তবে সেই সমাবেশের প্রতিটি সদস্য দাঙ্গা (Rioting) এর অপরাধে দোষী হবে। "দাঙ্গা" হল এমন একটি অপরাধ যেখানে একটি অবৈধ সমাবেশ বা তার সদস্যরা অন্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা বলপ্রয়োগ করে।
- এটি "ডাকাতি", "অপহরণ", বা "বলপ্রয়োগের অপরাধ" নয়, কারণ দাঙ্গা এক ধরনের গ্রুপ ভিত্তিক অপরাধ যেখানে বড় সংখ্যক ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করতে সহিংসতার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারার বিধান: দাঙ্গা:
যখন কোনো অবৈধ সমাবেশ বা তার কোনো সদস্য দ্বারা বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা ব্যবহার করা হয়, এবং তা সেই সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য করা হয়, তখন সেই সমাবেশের প্রত্যেক সদস্য দাঙ্গার অপরাধে দোষী বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৭ ধারার বিধান: দাঙ্গার শাস্তি:
যে কোনো ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে, তাকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে, বা জরিমানা করা যেতে পারে, বা উভয় শাস্তি একসাথে দেওয়া যেতে পারে।
-----
⇒ The Penal Code, 1860-Section- 146. Rioting:
Whenever force or violence is used by an unlawful assembly, or by any member thereof, in prosecution of the common object of such assembly, every member of such assembly is guilty of the offence of rioting.

⇒ The Penal Code, 1860-Section- 147. Punishment for rioting:
 Whoever is guilty of rioting, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,০৮০.
'দণ্ডবিধি' ১৮৬০ সালের কত নং আইন?
  1. ১ নং আইন
  2. ৩৫ নং আইন
  3. ৪৫ নং আইন
  4. ৫ নং আইন
ব্যাখ্যা
⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে। প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay)। প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন G.W. Anderson, F. Millet, এবং J.M. Macleod। ১৮৩৭ সালে এই কমিশন  দণ্ডবিধি প্রণয়নের জন্য খসড়া জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ১৮৬০ সালে বিলটি পাস হয় এবং দণ্ডবিধি ১লা জানুয়ারী ১৮৬২ সালে আইনটি কার্যকর হয়।

⇒ এই  আইন সামান্য কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে প্রচলিত আছে।
⇒ দণ্ডবিধি  ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন।
⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।
২,০৮১.
'ক' 'খ' কে একটি নকল গহনা দেখিয়ে বলে যে, এটি আসল হীরা এবং এই বলে টাকা নেয় যে 'খ' যদি এটি কিনে, তবে লাভবান হবে। 'খ' প্রতারিত হয়ে গহনাটি কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 'ক' এর এই কাজটি দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধ?
  1. ধারা ৪০৩
  2. ধারা ৪০৫
  3. ধারা ৪১৫
  4. ধারা ৪৬৩
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১৫ অনুসারে, প্রতারণা (Cheating) তখনই সংঘটিত হয় যখন কেউ ছলনা বা প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে:
- সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে, অথবা
- এমন কোনো কাজ করতে বা না করতে প্ররোচিত করে, যা সে প্রতারিত না হলে করত না বা বন্ধ করত না, এবং যার ফলে তার শরীর, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- এখানে 'ক' 'খ'-কে একটি নকল গহনাকে আসল হীরা বলে প্রতারণা করেছে, যার ফলে 'খ' গহনাটি কিনে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ধারা ৪১৫-এর সংজ্ঞার সাথে পুরোপুরি মিল আছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 415: Cheating:
- Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".
Explanation:- A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.

২,০৮২.
দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী "Injury" বলতে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. শারীরিক ক্ষতি
  2. মানসিক ক্ষতি
  3. সম্পত্তির ক্ষতি
  4. পরিবেশগত ক্ষতি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী "Injury" বলতে শারীরিক ক্ষতি, মানসিক ক্ষতি ও সম্পত্তির ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত কিন্তু পরিবেশগত ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত নয়।
- পরিবেশগত ক্ষতি (Environmental Injury): প্রাকৃতিক সম্পদ বা পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব। যেমন: বন উজাড়, জলদূষণ।
- দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার বিধান ক্ষতি:- যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।
- দণ্ডবিধির ধারা ৪৪: "ক্ষতি": "ক্ষতি" শব্দটি এমন যে কোনো ধরনের ক্ষতি বা হানি বোঝায়, যা অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, খ্যাতি বা সম্পত্তির ওপর ঘটানো হয়।
----------------------
- The Penal Code, 1860 Section-44: “Injury”- The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.
২,০৮৩.
পেনাল কোডের যে ধারায় ‘ডাকাতি' সংজ্ঞায়িত হয়েছে তা হলো-
  1. ৩৯০
  2. ৩৯১
  3. ৩৯২
  4. ৩৭৮
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান ডাকাতি:- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।

দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
♦ ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
২,০৮৪.
দণ্ডবিধির কত ধারায় গণ উৎপাত বা Public nuisance এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ১৭৮
  2. ২৭৮
  3. ২৬৮
  4. ১৫৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৬৮ ধারায় গণ উৎপাত বা Public nuisance এর সংজ্ঞা রয়েছে। ২৬৮ ধারামতে যদি কোন লোক এমন কোন কাজ করে যার ফলে জনসাধারণের বা নিকটবর্তী সম্পত্তির মালিক বা বসবাসকারী লোকদের কোন ক্ষতি, বিপদের আশঙ্কা বা বিরক্তির সৃষ্টি হয়; তাহলে সেই লোক গণ উৎপাত বা Public nuisance করেছে বলে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ২৬৮ ধারার বিধান জনসাধারণের উপদ্রব :- যদি কোন এমন কোন কার্য করে বা এমন কোন কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থাকে, যার ফলে জনসাধারণের বা সাধারণভাবে নিকটবর্তী সম্পত্তির মালিক বা অধিবাসী ব্যক্তিদের কোন ক্ষতি হয়, বিপদাশঙ্ক হয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হয়, অথবা যার ফলে যেসব ব্যক্তি কোন সাধারণ অধিকার ব্যবহার করতে যাবে, তাদের ক্ষতিসাধন, ব্যাঘাত, বিপদাশঙ্ক বা বিরক্তি সৃষ্টি হবে, সে ব্যক্তি জনসাধারণের বিরক্তি উৎপাদক কাজ সম্পাদনের ফলে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

- কোন মামুলী বিরক্তি উৎপাদক কাজ কিছু সুবিধা বা সৌকর্য বিধান করেছে-এই অজুহাতে সে মামুলী বিরক্তি উৎপাদক কাজটি রেহাই পাবে না।
---------------------------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 268-Public nuisance:
-A person is guilty of a public nuisance who does any act or is guilty of an illegal omission which causes any common injury, danger or annoyance to the public or to the people in general who dwell or occupy property in the vicinity, or which must necessarily cause injury, obstruction, dangers or annoyance to persons who may have occasion to use any public right.A common nuisance is not excused on the ground that it causes some convenience or advantage.
২,০৮৫.
কোন ক্ষেত্রে চুরির অপরাধ সম্ভব নয়?
  1. নগদ টাকা
  2. আসবাবপত্র
  3. জমি
  4. অলংকার
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
 (iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।
২,০৮৬.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩২
  2. ধারা ৩৪
  3. ধারা ৩৮
  4. ধারা ৪২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪-এর অধীন, কতিপয় ব্যক্তি সাধারণ অভিপ্রায়ে (common intention) অপরাধমূলক কাজ সম্পাদন করলে, প্রত্যেকে অপরাধের জন্য সমানভাবে দায়ী হবে, যেন অপরাধটি সে এককভাবে করেছে। এই ধারায় সাধারণ অভিপ্রায়ের পূর্ব পরিকল্পনা এবং অংশগ্রহণের উপাদানগুলো উল্লেখিত, কিন্তু সকল ব্যক্তির একসাথে উপস্থিতি আবশ্যক নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় বা অভিন্ন অভিপ্রায় (Common Intention) এর বিধান রয়েছে:
(i) সাবধান অভিপ্রায় প্রমাণের ক্ষেত্রে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে।
(ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা থাকবে উক্ত অপরাধ সংঘটিত করতে।
(iii) অপরাধটি সফল করার জন্য তারা অপরাধে অংশগ্রহণ করবে।

এখানে, সকল ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকা এই শর্তটি প্রয়োজন নয়। কারণ, সাধারণ অভিপ্রায় থাকতে হবে, কিন্তু অপরাধ সংঘটিত করতে সকল ব্যক্তি একসাথে উপস্থিত থাকা আবশ্যক নয়। তারা আলাদাভাবে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের অভিপ্রায় ও পরিকল্পনা এক হতে হবে।
অতএব,সকল ব্যক্তি একসঙ্গে উপস্থিত থাকা সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention)  প্রমাণের জন্য আবশ্যক নয়।
-----
⇒ The Penal Code, 1860 Section-34: Acts done by several persons in furtherance of common intention: 
- When a criminal act is done by several persons, in furtherance of the common intention of all, each of such persons is liable for that act in the same manner as if it were done by him alone.

২,০৮৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment to suicide) শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে?
  1. দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

------------
⇒ Section 306 Abetment of suicide:- If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
২,০৮৮.
‘A’ প্রতারণার মাধ্যমে ‘Z’-কে, যিনি তার সাথে বৈধভাবে বিবাহিত নন, বিশ্বাস করায় যে তারা বৈধভাবে বিবাহিত এবং সেই বিশ্বাসে ‘Z’ তার সাথে সহবাস করে। দণ্ডবিধির কোন ধারায় অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
  1. ধারা ৪৯৩
  2. ধারা ৪৯৫
  3. ধারা ৪৯৬
  4. ধারা ৪৯৭
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৩ অনুসারে, কোনো পুরুষ যদি প্রতারণার মাধ্যমে কোনো নারীকে, যিনি তার সাথে বৈধভাবে বিবাহিত নন, বিশ্বাস করান যে তারা বৈধভাবে বিবাহিত এবং সেই বিশ্বাসে তাকে সহবাস বা যৌন সম্পর্কে প্ররোচিত করেন, তবে তিনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। এই অপরাধের শাস্তি হলো ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘A’ প্রতারণার মাধ্যমে ‘Z’-কে বৈধ বিবাহের বিশ্বাসে সহবাসে প্ররোচিত করেছে, যা ধারা ৪৯৩-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ) ধারা ৪৯৫: এটি পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য গোপন করে বিগ্যামি করার জন্য প্রযোজ্য, যা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
গ) ধারা ৪৯৬: এটি প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে জেনেশুনে অবৈধ বিবাহের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু এখানে সহবাসের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ঘ) ধারা ৪৯৭: এটি ব্যভিচারের জন্য প্রযোজ্য, যেখানে কোনো পুরুষ অন্যের স্ত্রীর সাথে তার স্বামীর সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে।
অর্থাৎ: ‘A’-এর কাজ ধারা ৪৯৩-এর অধীনে প্রতারণামূলক সহবাস হিসেবে গণ্য। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) ধারা ৪৯৩।
---------
⇒The Penal Code, 1860- Section-493. Cohabitation caused by a man deceitfully inducing a belief of lawful marriage:
Every man who by deceit causes any woman who is not lawfully married to him to believe that she is lawfully married to him and to cohabit or have sexual intercourse with him in that belief, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

২,০৮৯.
A, Z সম্পর্কে একটি বদনাম ছড়াবে বলে ভয় দেখায়, যদি না Z তাকে টাকা দেয়। এতে Z বাধ্য হয়ে টাকা দেয়। এক্ষেত্রে, A _________ করেছে।
  1. ডাকাতি
  2. দস্যুতা
  3. অপরাধমূলকভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়
ব্যাখ্যা
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion)-
কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বা extortion বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ উদাহরণ-
(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে। ক 'বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।
২,০৯০.
'A' puts jewels into a box belonging to 'Z', with the intention that they may be found in that box, and that this circumstance may cause 'Z' to be convicted of theft. What crime did 'A' commit?
  1. Theft
  2. Cheating
  3. Criminal conspiracy
  4. Fabricating false evidence
ব্যাখ্যা
Section 192⇒  Fabricating false evidence:
Whoever causes any circumstance to exist or makes any false entry in any book or record, or makes any document containing a false statement, intending that such circumstance, false entry or false statement may appear in evidence in a judicial proceeding, or in a proceeding taken by law before  a public servant as such, or before an arbitrator, and that such  circumstance, false entry or false statement, so appearing in evidence, may cause any person who in such proceeding is to form an opinion upon the evidence, to entertain an erroneous opinion touching any point material to the result of such proceeding, is said "to fabricate the evidence.” 
 
Illustrations-
(a) A puts jewels into a box belonging to Z, with the intention that they may be found in that box, and that this circumstance may cause Z to be convicted of theft. A has fabricated false evidence.

(ক) A, Z এর মালিকানাধীন একটি বাক্সে রত্নপাথর রেখে দেয়, এই উদ্দেশ্যে যে সেই বাক্সে রত্নপাথর পাওয়া গেলে Z-কে চুরির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে। এই কাজের মাধ্যমে A মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করেছে। এখানে A ইচ্ছাকৃতভাবে প্রমাণ তৈরির জন্য Z এর বাক্সে রত্নপাথর রেখে দেয়, যাতে Z-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা যায়। এটি আইনত মিথ্যা প্রমাণ বা false evidence তৈরির অপরাধ।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার বিধান: মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা:
কোন ব্যক্তি যদি কোন অবস্থার অস্তিত্ব সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে, অথবা কোন বইতে বা রেকর্ডে মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে অথবা মিথ্যা বিবরণ সাক্ষ্য হিসেবে কোন বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে অথবা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন আইনগত কার্যক্রমে অথবা কোন সালিসের সম্মুখে উত্থাপন করার উদ্দেশ্যেই যদি তা করা হয়ে থাকে এবং অনুরূপ অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, উক্ত কার্যক্রমে যিনি সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর মতামত গঠন করবেন, তিনি উক্ত অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতিজনিত সাক্ষ্যে প্রভাবিত হয়ে অনুরূপ কার্যক্রমের সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত কোন বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মত পোষণ করবেন, তবে সে ব্যক্তি 'মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে' বলে পরিগণিত হয়।
২,০৯১.
What does the term "injury" denote under Section 44 of the Penal Code?
  1. Only bodily harm
  2. Only harm to property
  3. Only psychological harm
  4. Harm to mind, body, reputation, or property
ব্যাখ্যা
⇒ যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।

দণ্ডবিধির ধারা ৪৪: "ক্ষতি":
"ক্ষতি" শব্দটি এমন যে কোনো ধরনের ক্ষতি বা হানি বোঝায়, যা অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, খ্যাতি বা সম্পত্তির ওপর ঘটানো হয়।

Section-44: “Injury”-
The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.
২,০৯২.
নিচের কোন ক্ষেত্রে দেহ বা শরীর সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায় না?
  1. ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণের ক্ষেত্রে
  2. দুইব্যক্তির মারামারি করার সময়
  3. মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণের ক্ষেত্রে
  4. আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিয়ে অবৈধভাবে আটক রাখলে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১০০ ধারা মতে যখন নিজ দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে মৃত্যু ঘটানো যা:- উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারণাটিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে দেহ রক্ষার প্রয়োজনে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে স্বেচ্ছাক্রমে আক্রমণকারী প্রতিপক্ষের মৃত্যু সংঘটন বা অপর যে কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করা যেতে পারে যদি যে অপরাধটির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করার আবশ্যকীয়তা দেখা দিয়েছে সে অপরাধটি নিম্নোক্ত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়। যথা:-

প্রথমত:- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, ব্যক্তিগত আত্মরক্ষামূলক অধিকারের অবাধ প্রয়োগ না করলে সে আঘাতে সে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

দ্বিতীয়ত:- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, প্রতিরোধ না করলে সে আঘাতের বা আক্রমণের ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

তৃতীয়ত:- ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

চতুর্থত:- অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

পঞ্চমত:- শিশু অপহরণ বা ব্যক্তি হরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা আঘাত;

ষষ্ঠত:- কোন ব্যক্তিকে অন্যায় বা বেআইনীভাবে আটক করার উদ্দেশ্যে এমন পরিস্থিতিতে *অর উপর হামলা, যে পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবেই সে ব্যক্তির মনে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, সে মুক্তির জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নিতে সমর্থন হবে না।


♦ অর্থাৎ ধারা ১০০ অনুযায়ী ছয়টি ক্ষেত্রে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা:

      (i) এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
      (ii) এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে।
      (iii) ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (iv) অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ।
      (vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক রাখলে।

♦ অর্থাৎ দুইব্যক্তির মারামারি করার সময় দেহ বা শরীর সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায় না।
২,০৯৩.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারা অনুসারে সরকার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামির সম্মতি ব্যতীত উক্ত দণ্ডকে অন্য যেকোনো দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে?
  1. 44
  2. 54
  3. 64
  4. 74
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫৪ অনুসারে, সরকার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামির সম্মতি ব্যতীত উক্ত দণ্ডকে দণ্ডবিধিতে উল্লিখিত অন্য যেকোনো দণ্ডে (যেমন: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সশ্রম কারাদণ্ড ইত্যাদি) রূপান্তর (Commute) করার ক্ষমতা রাখে।

⇒ দণ্ডবিধির  ৫৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ:- মৃত্যুদণ্ড দান করা যেতে পারে এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধকারীর সম্মতি ব্যতিরেকে উক্ত দত্তকে এই বিধি ও আইন বলে ব্যবস্থিত অন্য যেকোন স্বল্প দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন।
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 54. Commutation of sentence of death:- In every case in which sentence of death shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for any other punishment provided by this Code.

২,০৯৪.
অভ্যাসগত দাস ব্যবসায় পরিচালনা করার শাস্তি কত ধারায়?
  1. দণ্ডবিধির ৩৭০ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৩৭১ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৩৭২ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৩৭৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭১ ধারার বিধান: অভ্যাসগত দাস ব্যবসায় পরিচালনা করা:- কোন ব্যক্তি যদি অভ্যাসগতভাবে দাসদের আমদানি করে, রপ্তানি করে, অপসারণ করে, ক্রয় করে, বিক্রয় করে, বা ব্যবসায় পরিচালনা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা অনধিক ১০ বৎসরের যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------
⇒ Section 371. Habitual dealing in slaves:- Whoever habitually imports, exports, removes, buys, sells, traffics or deals in slaves, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.
২,০৯৫.
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরও উক্ত আসামি খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড
  2. অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির  ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-

(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
অর্থাৎ সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

- দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

- যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।
______________________________________________________
 Section 194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:
- Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; 
-and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
২,০৯৬.
দণ্ডবিধির ৪৭৯ ধারায় "সম্পত্তি চিহ্ন" [Property mark] কোন ধরনের সম্পত্তির জন্য প্রযোজ্য?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি
  4. সকল ধরনের সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৭৯ ধারার বিধান সম্পত্তি চিহ্ন:-কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীন বলে বুঝাবার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বলে।
অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪৭৯ ধারায় "সম্পত্তি চিহ্ন" অস্থাবর সম্পত্তির জন্য প্রযোজ্য।
-----------------------  
⇒ The Penal Code, 1860- Section-479. Property mark:- A mark used for denoting that moveable property belongs to a particular person is called a property mark.
২,০৯৭.
‘ক’ আত্মহত্যার জন্য ১৬ বছর বয়সী তরুণী ‘খ’ কে প্ররোচিত করে তাঁকে দিয়ে আত্মহত্যা করালো। এখানে ‘ক’-এর অপরাধ কী?
  1. আত্মহত্যার প্ররোচনা
  2. নিন্দনীয় নরহত্যা
  3. খুনের প্ররোচনা
  4. খুন
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোডের ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ৫: শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হিসেবে গণ্য হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বছর উপ হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
♦ ৫ নং ব্যতিক্রম হলো প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো ব্যক্তি যদি নিজেই মৃত্যুর ঝুঁকি নেয় তাহলে মৃত্যুর সংঘটনকারী ব্যক্তি খুনের দায়ে নয়, শুধু নিন্দনীয় নরহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হবে এবং ৩০৪ ধারায় শাস্তি প্রাপ্ত হবে। কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়স্ক হলে এই ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে সে খুনের প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে।
♦ উদাহরণঃ A প্ররোচনা দিয়ে, ইচ্ছাকৃতভাবে C- কে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা করে, C- এর বয়স আঠারো বছর অপেক্ষ কম। এক্ষেত্রে C যেহেতু অপ্রাপ্ত বয়স্ক তাই সে তার নিজের মৃত্যুকে সম্মতি দানে অপারগ ছিল; সুতরাং এ খুনে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করেছে।
২,০৯৮.
দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারায় "অপরাধমূলক বল প্রয়োগ" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. অনুমতি নিয়ে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ
  2. শখের বশে কোন ধরনের শারীরিক আঘাত
  3. অন্যের সম্মতি ছাড়া শারীরিক শক্তি প্রয়োগ
  4. নিজের অধিকার আদায়ের জন্য শক্তি প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারা: অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ:
(চ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনৈক মহিলার ঘোমটা খুলে ফেলে। এখানে, ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে মহিলাটির উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি মহিলাটির সম্মতি ব্যতীত তা করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয়- অথবা যদি তার জানা থাকে যে- মহিলাটি আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হবে, তবে সে মহিলাটির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

Section 350- Criminal force:
Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other.

Illustration:
(f) A intentionally pulls up a woman's veil. Here A intentionally uses force to her, and if he does so without her consent intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy her, he has used criminal force to her.
২,০৯৯.
রাজন একজন সরকারি কর্মচারীকে হুমকি দিয়েছিল যে, যদি সে রাজনের মেয়েকে তার অফিসে চাকরি না দেয়, তবে তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে। রাজন কর্তৃক উক্ত কাজ-
  1. শাস্তিযোগ্য নয়
  2. সর্বোচ্চ ২ বছর শাস্তিযোগ্য
  3. সর্বোচ্চ ৩ বছর শাস্তিযোগ্য
  4. সর্বোচ্চ ৫ বছর শাস্তিযোগ্য
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৮৯ ধারা- সরকারী কর্মচারীকে ক্ষতিসাধনের হুমকি:
কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কাজ করতে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন কাজ করা হতে বিরত হওয়ার বা করতে বিলম্ব করার জন্য বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, কোন ব্যক্তি যদি উক্ত সরকারী কর্মচারীকে অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত সরকারী কর্মচারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সে অন্য ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 189- Threat of injury to public servant:
Whoever holds out any threat of injury to any public servant, or to any person in whom he believes that public servant to be interested, for the purpose of inducing that public servant to do any act, or to forbear or delay to do any act, connected with the exercise of the public functions of such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
২,১০০.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুসারে চুরির সংজ্ঞায় কোনটি অপরিহার্য শর্ত নয়?
  1. অসাধু উদ্দেশ্য
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. সম্পত্তির দখল থেকে স্থানান্তর
  4. সম্পত্তির মালিকের লিখিত সম্মতি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী চুরির জন্য পাঁচটি মূল উপাদান অপরিহার্য:
১) অস্থাবর সম্পত্তি হতে হবে;
২) সম্পত্তিটি কারো দখলে থাকতে হবে;
৩) দখলদারের সম্মতি ছাড়া নিতে হবে;
৫) অসাধু উদ্দেশ্যে নিতে হবে;
ঐ সম্পত্তিকে স্থানান্তর করতে হবে।
কিন্তু "সম্মতি" শব্দটি আইন অনুযায়ী প্রকাশ্য (express) অথবা পরোক্ষ (implied) হতে পারে। এটি লিখিত হওয়া আবশ্যক নয়।
অতএব, "লিখিত সম্মতি" চুরির সংজ্ঞায় অপরিহার্য নয়। এজন্য লিখিত সম্মতি চুরির অপরিহার্য শর্ত নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বস্তু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.