বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা ১৮ / ২৫ · ১,৭০১১,৮০০ / ২,৪৪৭

১,৭০১.
বাংলাদেশে সমকামিতা কোন ধারা বলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
  1. ৩৭৫ ধারায়
  2. ৩৭৭ ধারায়
  3. ৩৭৬ ধারায়
  4. ৫০৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৭৭ অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ বা স্ত্রী লোক বা পশুর সহিত যৌনসঙ্গম করলে শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন বা ১০ বছন পর্যন্ত কারাদণ্ড।
১,৭০২.
'A' নিজের মনে করে 'X'-এর সম্পত্তি সরল মনে 'X'-এর দখল হতে নিয়ে যায়। কিন্তু 'A' নিজের ভুল বোঝার পরেও অসাধুভাবে সম্পত্তিটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে, এক্ষেত্রে 'A' কোন অপরাধে দায়ী হবে?
  1. চুরি
  2. প্রতারণা
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
⇒ অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের সংজ্ঞা (Dishonestly misappropriation of property)- স্বাভাবিকভাবে বা দৈবচক্রে কোন সম্পত্তি দখলে আসার পর, প্রকৃত মালিকের খোঁজ খবর না নিয়েই অথবা প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে উক্ত সম্পত্তি ফেরত না দিয়ে নিজে ভোগ করলে তা অসাধুভাবে আত্মসাৎ হবে।
⇒ প্রাথমিকভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করলেই তা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ হবে না বরং পরবর্তীতে যখনই সম্পত্তিটি অসাধুভাবে নিজ ব্যবহারে পরিণত করা হয়, তখনই তা অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ বলে গণ্য হবে।
⇒ যেমন- 'A' নিজের মনে করে 'X'-এর সম্পত্তি সরল মনে 'X'-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে 'A' চুরির জন্য দায়ী হবে হবে না: কিন্তু যদি 'A' নিজের ভুল বোঝার পরেও অসাধুভাবে সম্পত্তিটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে, সেক্ষেত্রে 'A' অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের অপরাধে দায়ী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাৎও এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে।

অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।
১,৭০৩.
আদালত ‘A' কে হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুসারে এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কোন প্রকৃতির হবে?
  1. সশ্রম কারাদণ্ড
  2. বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. আদালতের বিবেচনাভার
  4. জেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ এর ব্যাখ্যা (Explanation) অংশে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
"In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous."
অর্থাৎ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদা সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous Imprisonment) হবে।
- এটি আদালতের বিবেচনা বা জেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না; এটি আইন দ্বারা নির্ধারিত একটি বাধ্যতামূলক শর্ত।

⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন।
- দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে।
৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple)
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
(v) অর্থদণ্ড (fine)
- দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও বিনাশ্রম।
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 53. Punishments:
The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,-
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted].
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:-
(1) Rigorous, that is, with hard labour;
(2) Simple;
Fifthly,- Forfeiture of property;
Sixthly,- Fine.
Explanation: -In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.

১,৭০৪.
অভ্যাসগতভাবে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ডাকাত দলভুক্ত হওয়ার সর্বোচ্চ শান্তি-
  1. সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. দশ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. অর্থদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code এর ৪০০ ধারার বিধান ডাকাত দলভুক্ত হইবার শাস্তিঃ কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাসের পরবর্তী যে কোন সময়ে কোন ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে যারা পরস্পর সংঘবদ্ধ আছে, এইরূপ কোন দলে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
♦অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ডাকাত দলভুক্ত হওয়ার শাস্তি (Punishment for belonging to gang of dacoits)- যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা অনধিক ১০ বৎসর সশ্রম কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড।
১,৭০৫.
অন্যের দখলীয় সম্পত্তির কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য যে কেউ প্রবেশ করে যে অপরাধটি করে তা হলো-
  1. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ
  2. গন-উৎপাত
  3. অনিষ্টসাধন
  4. অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার বিধান অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ :- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে, অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি “অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
১,৭০৬.
নির্জন কারাবাস সর্বসাকুল্যে কত দিনের বেশি হবে না?
  1. ৭ দিনের
  2. ১৪ দিনের
  3. ১ মাসের
  4. ৩ মাসের
ব্যাখ্যা
⇒ শুধুমাত্র সশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়। নির্জন কারাবাস সর্বমোট ৩ মাসের বেশি হবে না।

⇒ ৭৪ ধারা মতে নির্জন কারাবাস একটানা ১৪ দিনের বেশি হবেনা, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাসের অধিক হলে কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
-----------
⇒ Solitary confinement:
Section 73. Whenever any person is convicted of an offence for which under this Code the Court has power to sentence him to rigorous imprisonment, the Court may, by its sentence, order that the offender shall be kept in solitary confinement for any portion or portions of the imprisonment to which he is sentenced, not exceeding three months in the whole, according to the following scale, that is to say
 
a time not exceeding one month if the term of imprison-ment shall not exceed six months:  
a time not exceeding two months if the term of imprisonment shall exceed six months and shall not exceed one year: 
a time not exceeding three months if the term of imprisonment shall exceed one year.

⇒ Limit of solitary confinement:
Section 74. In executing a sentence of solitary confinement, such confinement shall in no case exceed fourteen days at a time, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods, and when the imprisonment awarded shall exceed three months, the solitary confinement shall not exceed seven days in any one month of the whole imprisonment awarded, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods.
১,৭০৭.
ধারা ৩১৩ অনুসারে, যদি স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই গর্ভপাত করা হয়, তবে অপরাধীকে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র কারাদণ্ড
  2. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  3. শুধু মৃত্যুদণ্ড
  4. কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড উভয়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারা- স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ:
কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 313- Causing miscarriage without women's consent:
Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১,৭০৮.
"Joining or continuing in unlawful assembly, knowing it has been commanding to disperse" উক্ত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির অনধিক কত দিনের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারার বিধান: বেআইনি সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহাতে যোগদান করা অথবা উহাতে থেকে যাওয়া:- কোন বেআইনি সমাবেশকে আইন-নির্দেশিত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি উক্ত বেআইনি সমাবেশে যোগদান করলে বা উক্ত বেআইনি সমাবেশে থাকলে তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।
-------------------------
- Section 145. Joining or continuing in unlawful assembly, knowing it has been commanded to disperse:- Whoever joins or continues in an unlawful assembly, knowing that such unlawful assembly has been commanded in the manner prescribed by law to disperse, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,৭০৯.
X ও Y, Z কে পৃথক সময়ে ক্ষুদ্র মাত্রার বিষ প্রয়োগে খুন করার চুক্তি করে চুক্তি মোতাবেক বিষ প্রয়োগ করে। কিন্তু X এর প্রদত্ত বিষের মাত্রার কারণে Z মারা যায়। উক্ত মৃত্যুর জন্য কে/কারা দায়ী?
  1. শুধু X
  2. শুধু Y
  3. তারা উভয়ই
  4. কেউই নয়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭ ধারা অনুযায়ী যখন কতিপয় কার্যের মাধ্যমে অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়, তখন কেউ কতিপয় কাজের মধ্যে একটি সম্পাদনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সহযোগীতা করলে উক্ত সহযোগীতাকারী ব্যক্তি অন্য অপরাধীদের সাথে যৌথভাবে সমান দায়ী হবে। অর্থাৎ একই অভিপ্রায় বিদ্যমান না থাকলেও একজন অপরাধীর কাজ যদি অপর অপরাধীর কাজের সহায়ক বা সমর্থনমূলক হয়, তাহলে উভয়ই দায়ী হবে।

♦ যেমন- ক ও খ পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে ফ-কে খুন করার জন্য একমত হয়। ক ও খ, ফ- কে খুন করার উদ্দেশ্যে চুক্তি অনুযায়ী বিষ প্রয়োগ করে। ফ-এর প্রতি অনুরূপভাবে প্রযুক্ত কতিপয় মাত্রা বিষ প্রয়োগের ফলে ফ-এর মৃত্যু হয়। এখানে ক ও খ ইচ্ছাপূর্বকভাবে খুন সংঘটনে সহযোগিতা করে এবং তারা প্রত্যেকেই এইরূপ একটি কার্য সম্পাদন করে যা দ্বারা মৃত্যু সংঘটিত হয়। সুতরাং যদিও ক ও খ এর কার্যসমূহ স্বতন্ত্র তবুও উভয়েই ফ-কে খুনের অপরাধে দায়ী। [প্রশ্নটি দন্ডবিধির ৩৭ ধারার উদাহরণ ক থেকে দেয়া হয়েছে।]
১,৭১০.
'A', for the purpose of inducing 'B' to desist from prosecuting a civil suit, threatens to burn 'B's house. 'A' is guilty of ________.
  1. Mischief
  2. criminal trespass
  3. criminal intimidation
  4. criminal breach of trust
ব্যাখ্যা
Section 503- Criminal Intimidation:
Whoever threatens another with any injury to his person, reputation or property, or to the person or reputation of any one in whom that person is interested, with intent to cause alarm to that person, or to cause that person to do any act which he is not legally bound to do, or to omit to do any act which that person is legally entitled to do, as the means of avoiding the execution of such threat, commits criminal intimidation.
Explanation:- A threat to injure the reputation of any deceased person in whom the person threatened is interested, is within this sect on.

Illustration:
'A', for the purpose of inducing 'B' to desist from prosecuting a civil suit, threatens to burn 'B's house. 'A' is guilty of criminal intimidation.

দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারা- অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা:
কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেছে।

ব্যাখ্যা: ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে।  

উদাহরণ:
'ক', 'খ'-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য 'খ'-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, 'ক' অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।
১,৭১১.
দণ্ডবিধির ৮০ ধারায়, কোন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি আইনানুগ কাজ করার সময় দুর্ঘটনার জন্য অপরাধী হতে পারেন?
  1. যদি দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে না ঘটে
  2. যদি তার উদ্দেশ্য অপরাধমূলক না হয়
  3. যদি তার কাজটি অবহেলায় হয়ে থাকে
  4. যদি সে কাজটি আইনানুগভাবে এবং সতর্কতা সহকারে করে
ব্যাখ্যা
→দণ্ডবিধির ৮০ ধারায়,  একজন ব্যক্তি আইনানুগ কাজ করার সময় দুর্ঘটনার জন্য অপরাধী হতে পারেন- যদি তার কাজটি অবহেলায় হয়ে থাকে।

→ দণ্ডবিধির ৮০ ধারার বিধান আইনানুগ কাজ সম্পাদনকালে বিপত্তি বা দুর্ঘটনা:
- কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

- কিন্তু যদি তার কাজটি অবহেলায় হয়ে থাকে তাইলে সে দুর্ঘটনার জন্য অপরাধী হতে পারেন।
--------------
→ The Penal Code,1860- Section 80: Accident in doing a lawful act:
- Nothing is an offence which is done by accident or misfortune, and without any criminal intention or knowledge in the doing of a lawful act in a lawful manner by lawful means and with proper care and caution. 

Illustration:
- A is at work with a hatchet; the head flies off and kills a man who is standing by. Here if there was no want of proper caution on the part of A, his act is excusable and not an offence.
১,৭১২.
ইভ টিজিং এর অপরাধ দণ্ডবিধির কত ধারায়?
  1. দণ্ডবিধির ৫০৭ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৫০৮ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৫০৯ ধারা অনুযায়ী কোন নারীর শ্লীলতাহানী বা অমর্যাদা করার উদ্দেশ্যে কোন কথা, অঙ্গভঙ্গি, বস্তু প্রদর্শন বা কোন কাজ করার শাস্তি হলো অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
⇒ ইভ-টিজিং করার শাস্তি ৫০৯ ধারায় প্রদান করা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারার বিধান কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোন কার্যঃ কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
অর্থাৎ পেনাল কোড এর ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং এর শাস্তির বিধান আছে।

⇒ Eve Teasing এর শাব্দিক অর্থ : Eve অর্থ প্রাক্কাল, প্রাথমিক অবস্থা আর Teas অর্থ উক্ত্যক্ত করা, ক্ষেপানো।
⇒ সুতরাং Eve Teasing অর্থ পরিচিত, অপিরিত, কোন মেয়ে কোন ছেলেকে/কোন ছেলে কোন মেয়েকে প্রাথমিকভাবে উক্ত্যক্ত করাকেই Eve Teasing বলে।
⇒  ইভটিজিং এর সংজ্ঞাঃ- কোন ছেলে রাস্তায়, স্কুলে, কলেজে বা যে কোন অলিতে গলিতে কোন মেয়েকে দেখার পর মুখ দিয়ে শিষ দেয়া, এমন কোন বাজে মন্তব্য করা যা শুনলে মেয়েটির খুব খারাপ লাগবে, হাসি ঠাট্টা করা অর্থ্যাৎ তাকে উক্ত্যক্ত করার নামই হল ইভটিজিং।
----------------
Section 509- Word, gesture or act intended to insult the modesty of a woman: Whoever, intending to insult the modesty of any woman, utters any word, makes any sound or gesture, or exhibits any object, intending that such word or sound shall be heard, or that such gesture or object shall be seen, by such woman, or intrudes upon the privacy of such woman, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
১,৭১৩.
দণ্ডবিধির কত নং অধ্যায়ে সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহের বিষয় উল্লেখিত আছে?
  1. ১ম অধ্যায়
  2. ২য় অধ্যায়
  3. ৪র্থ অধ্যায়
  4. ৫ম অধ্যায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং মোট ধারা ৫১১ টি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায় সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ, তৃতীয় অধ্যায় শাস্তি, চতুর্থ অধ্যায় সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ, পঞ্চম অধ্যায়ী অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা, পঞ্চম (ক) অধ্যায়ে অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র, ষষ্ঠ অধ্যায়ের রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, নবম অধ্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ, নবম (ক) অধ্যায় নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ, ১৬ তম অধ্যায়ে মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ, ১৭ তম অধ্যায়ে সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, ২০ তম অধ্যায়ে বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ, ২১তম অধ্যায়ে মানহানি, ২২তম অধ্যায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপমান ও বিরক্তিকরণ, ২৩ তম অধ্যায় অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।
♦  দণ্ডবিধির ৪র্থ অধ্যায়ে ফৌজদারী দায়ের সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু কার্য এবং কার্যবিরতিকে [Acts and omission] ফৌজদারী দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সকল কার্য বা কার্যবিরতি গুলোকে ফৌজদারী দায়ের সাধারণ ব্যতিক্রম [General Exceptions) বলে।
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি দাবি করে তার কার্য বা কার্যবিরতি দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় উল্লেখিত কোন সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, তবে তা প্রমাণের ভার উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।
১,৭১৪.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত খুনের সর্বনিম্ন শাস্তি কি?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ২০ বছর মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি খুন করলে তার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড। 

ধারা ৩০৩- যাবজ্জীবন কারাবাসে দন্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক অনুষ্ঠিত খুনের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

Section 303- Punishment for murder by life-convict:
Whoever, being under sentence of 95[imprisonment] for life, commits murder, shall be punished with death.
১,৭১৫.
দণ্ডবিধির ৭৪ ধারা অনুযায়ী, নির্জন কারাবাসের সর্বাধিক মেয়াদ কতদিন?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারা- নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:-
নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।

Section 74: Limit of solitary confinement:
In executing a sentence of solitary confinement, such confinement shall in no case exceed fourteen days at a time, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods, and when the imprisonment awarded shall exceed three months, the solitary confinement shall not exceed seven days in any one month of the whole imprisonment awarded, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods.
১,৭১৬.
নির্বাচনে অযৌক্তিক প্রভাব প্রয়োগ করলে এটি দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধ?
  1. ১৭১ক ধারা
  2. ১৭১খ ধারা
  3. ১৭১গ ধারা
  4. ১৭১ঘ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৭১গ ধারা (Section-171C) অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে বা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তবে এটি "নির্বাচনে অযৌক্তিক প্রভাব" (Undue Influence at Elections) হিসাবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ - ধারা ১৭১C: নির্বাচনে অযৌক্তিক প্রভাব:
(১) যে কেউ স্বেচ্ছায় কোনো ব্যক্তির নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, সে নির্বাচনে অযৌক্তিক প্রভাবের (Undue Influence) অপরাধ করবে।
(২) উপধারা (১)-এর সাধারণ বিধানের প্রতি অব্যাহত রেখে, নিম্নলিখিত যে কেউ নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে বলে গণ্য হবে—
(ক) কোনো প্রার্থী বা ভোটারকে বা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো প্রকার ক্ষতির হুমকি প্রদান করা; অথবা
(খ) কোনো প্রার্থী বা ভোটারকে এই বিশ্বাসে প্ররোচিত করা বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করা যে তিনি বা তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
ঐশ্বরিক অসন্তোষ (Divine displeasure) বা আধ্যাত্মিক শাস্তির (spiritual censure) সম্মুখীন হবেন বা হতে পারেন।
(৩) কোনো নীতিগত ঘোষণা বা জনস্বার্থে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি, অথবা কোনো আইনগত অধিকার প্রয়োগ করা, যদি তা নির্বাচনী অধিকারে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে না করা হয়, তবে তা এই ধারার অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 171C. Undue influence at elections:
(1) Whoever voluntarily interferes or attempts to interfere with the free exercise of any electoral right commits the offence of undue influence at an election. 
(2) Without prejudice to the generality of the provisions of sub-section (1), whoever
(a) threatens any candidate or voter, or any person in whom a candidate or voter is interested, with injury of any kind, or 
(b) induces or attempts to induce a candidate or voter to believe that he or any person in whom he is interested will become or will be rendered an object of Divine displeasure or of spiritual censure, 
shall be deemed to interfere with the free exercise of the electoral right of such candidate or voter, within the meaning of sub-section (1). 
(3) A declaration of public policy or a promise of public action, or the mere exercise of a legal right without intent to interfere with an electoral right, shall not be deemed to be interference within the meaning of this section.
১,৭১৭.
আদালতের সমন জারিতে বাধা দিলে শাস্তি হতে পারে-
  1. ৬ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড
  2. ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড
  3. ৩ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড
  4. ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, সমন জারিতে বাধা সৃষ্টি করলে তার শাস্তি হতে পারে ১ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড এবং উক্তরূপ সমনে বা বিজ্ঞপ্তিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়া বা কোন দলিল উপস্থাপনের নির্দেশ থাকলে তার শাস্তি হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা ১০০০ টাকা।
১,৭১৮.
'ম' এক দৈনিক বহুল প্রচারিত পত্রিকায় একটি কলাম লেখেন, যা সরকারের প্রতি ঘৃণা উসকে দেয়। তার কাজটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় শাস্তিযোগ্য হবে?
  1. ১২১ ধারায়
  2. ১২১(ক) ধারায়
  3. ১২৪ ধারায়
  4. ১২৪(ক) ধারায়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার সংজ্ঞা দেওয়া আছে। এই ধারায় বলা হয়েছে,

‘যদি কোন ব্যক্তি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, কিংবা চিহ্নাদি দ্বারা, কিংবা দৃশ্যমান প্রতীকের সাহায্যে কিংবা অন্য কোনভাবে বাংলাদেশ বা আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে কিংবা বৈরিতা উদ্রেগ করে বা করার চেষ্টা করে, তাহলে সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কিংবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সঙ্গে জরিমানা যুক্ত করা যাবে, কিংবা ৩ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তৎসহ তাকে জরিমানায়ও দণ্ডিত করা যাবে।’

প্রশ্নে উল্লিখিত ব্যক্তির কাজটি ১২৪ক ধারা অনুসারে 'রাষ্ট্রদ্রোহ' অপরাধের অধীনে পড়বে এবং শাস্তিযোগ্য হবে।
১,৭১৯.
‘D’, একজন ম্যাজিস্ট্রেট, সরল বিশ্বাসে Z-এর বিরুদ্ধে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মানহানিকর অভিযোগ দায়ের করে, যা জনসাধারণের কল্যাণের জন্য। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এটি-
  1. প্রতারণা
  2. মানহানি
  3. মিথ্যা ষড়যন্ত্র
  4. কোনো অপরাধ নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মুখে, লিখিতভাবে, চিহ্নের মাধ্যমে, বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে অভিযোগ করা মানহানি হিসেবে গণ্য। তবে, ধারা ৪৯৯-এর নবম ব্যতিক্রম (Ninth Exception) অনুসারে, সরল বিশ্বাসে (good faith) নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষার জন্য বা জনসাধারণের কল্যাণের জন্য কোনো অভিযোগ করা মানহানি নয়। এখানে, ‘D’, একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে, সরল বিশ্বাসে এবং জনসাধারণের কল্যাণের জন্য তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে Z-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। এটি ধারা ৪৯৯-এর নবম ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে, তাই এটি কোনো অপরাধ নয়।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) প্রতারণা: প্রতারণা (ধারা ৪১৫) হলো প্রতারণামূলকভাবে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর বা কাজ করতে প্ররোচিত করা, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
খ) মানহানি: যদিও অভিযোগটি মানহানিকর হতে পারে, তবে সরল বিশ্বাসে এবং জনসাধারণের কল্যাণের জন্য করা হয়েছে, তাই ধারা ৪৯৯-এর নবম ব্যতিক্রমের কারণে এটি মানহানি নয়।
গ) মিথ্যা ষড়যন্ত্র: দণ্ডবিধিতে “মিথ্যা ষড়যন্ত্র” নামে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ নেই, এবং এই ঘটনা ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- অর্থাৎ ‘D’-এর কাজ ধারা ৪৯৯-এর নবম ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে, তাই এটি কোনো অপরাধ নয়। সঠিক উত্তর হলো ঘ) কোনো অপরাধ নয়।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 499-Defamation:
Imputation made in good faith by person for protection of his or other’s interests
Ninth Exception.-It is not defamation to make an imputation on the character of another, provided that the imputation be made in good faith for the protection of the interest of the person making it, or of any other person, or for the public good.
Illustrations:
(a) A, a shopkeeper, says to B, who manages his business-"Sell nothing to Z unless he pays you ready money, for I have no opinion of his honesty.” A is within the exception, if he has made this imputation on Z in good faith for the protection of his own interests. 
(b) A, a Magistrate, in making a report to his own superior officer, casts an imputation on the character of Z. Here, if the imputation is made in good faith, and for the public good, A is within the exception.

১,৭২০.
দণ্ডবিধি অনুসারে দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখলে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে-
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 344: Wrongful confinement for ten or more days:- Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
১,৭২১.
একজন ব্যক্তি আদালতের তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক পরিচালিত জমির সীমানা নির্ধারণের তদন্তে মিথ্যা শপথ নেয়। এটি দণ্ডবিধির বিধান অনুযায়ী কী অপরাধ?
  1. প্রতারণা
  2. অন্যায় প্ররোচনা
  3. আদালত অবমাননা
  4. মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৯৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তার সামনে মিথ্যা শপথ গ্রহণ করেন, তাহলে এটি "মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান" (False Evidence) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, এই তদন্ত বিচারিক কার্যধারার একটি পর্যায় এবং এর অংশ হিসেবে দেওয়া মিথ্যা সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপনযোগ্য হতে পারে।

ধারা ১৯৩-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী
→ আদালতের নির্দেশে পরিচালিত কোনো তদন্ত বিচারিক কার্যধারার (Judicial Proceeding) অংশ হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সেটি সরাসরি আদালতের সামনে না হয়।
→ যদি কেউ এই তদন্ত চলাকালীন মিথ্যা শপথ গ্রহণ করে, তবে তিনি ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন।
→ এটি প্রতারণা (ধারা ৪১৫) বা আদালত অবমাননা (Contempt of Court) নয়, বরং এটি বিচারিক কার্যধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

উদাহরণ:
→ একজন ব্যক্তি আদালত-নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তার সামনে জমির সীমানা সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে, তিনি ১৯৩ ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-193: Punishment for false evidence:
-Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
Explanation-1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding.
Explanation-2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Explanation-3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.

Illustration:
A, in an enquiry before an officer deputed by a Court of Justice to ascertain on the spot the boundaries of land, makes on oath a statement which he knows to be false. As this enquiry is a stage of a judicial proceeding, A has given false evidence.
১,৭২২.
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের জন্য গতি সঞ্চার, পরিবর্তন বা স্তব্ধকরণের পদ্ধতি কত উপায়ে করা যায়?
  1. দুটি উপায়ে
  2. তিনটি উপায়ে
  3. চারটি উপায়ে
  4. একটি উপায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের জন্য গতি সঞ্চার, পরিবর্তন বা স্তব্ধকরণের তিনটি নির্দিষ্ট উপায় বর্ণনা করা হয়েছে:
১. নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে – সরাসরি শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে।
২. কোনো বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে যাতে তার বা অন্য কারো অতিরিক্ত কাজ ছাড়াই গতি বা পরিবর্তন ঘটে।
৩. পশুকে চালিত করে গতি, গতির পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করা।
সুতরাং, বলপ্রয়োগের পদ্ধতি তিনটি উপায়ে করা যায়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে। 
---------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described: 
Firstly. By his own bodily power. 
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person. 
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.

১,৭২৩.
দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারানুযায়ী, নিচের কোনটি আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. কারো গায়ে ধাক্কা দেওয়া
  2. শুধুমাত্র মৌখিক গালিগালাজ করা
  3. কারো দিকে মুষ্টি উত্তোলন করে তাকানো
  4. হঠাৎ করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারার বিধান- আক্রমণ:
- কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:
কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না।
কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারার ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
"কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না।"
অর্থাৎ, যদি কেউ শুধুমাত্র গালিগালাজ করে বা মৌখিকভাবে হুমকি দেয় কিন্তু কোনো শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বা আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি না নেয়, তবে তা "আক্রমণ" হিসাবে গণ্য হবে না। তবে যদি ঐ কথাগুলোর সাথে এমন অঙ্গভঙ্গি থাকে যা অপরের মনে ভয় সৃষ্টি করে (যেমন: ঘুষি মারার ভঙ্গি, অস্ত্র প্রদর্শন), তাহলে সেটি আক্রমণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
১,৭২৪.
'ক'-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। 'ক' যদি ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে, তাহলে তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মচারীর আদেশ অনুযায়ী হাজির হতে আইনত বাধ্য হন এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গরহাজির থাকেন, তবে তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি নির্ভর করে আদেশের ধরন ও উৎসের ওপর।
→ সাধারণ ক্ষেত্রে (অর্থাৎ, আদালত ব্যতীত অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর আদেশ লঙ্ঘন করলে):
- সর্বোচ্চ ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
→ কিন্তু যদি আদেশটি কোনো আদালতে হাজির হওয়ার জন্য হয়:
- অর্থাৎ, যদি সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়ে গরহাজির থাকেন, তবে শাস্তি হবে—
-  ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ড।

→ এখানে প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, ‘ক’-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন দিয়েছেন, কিন্তু সে ইচ্ছাকৃতভাবে গরহাজির থাকে।
- যেহেতু এটি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত, তাই ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রযোজ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারার বিধান সরকারি কর্মচারীর আদেশানুসারে উপস্থিত না হওয়া- কোন ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইনত: কোন সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর নিকট থেকে উদ্ভূত অনুরূপ সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার আজ্ঞানুযায়ী স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত কোন নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে হাজির হওয়ার জন্য আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও,- ইচ্ছাকৃত সে স্থানে ও সময়ে উপস্থিত না হয় অথবা যে স্থানে সে উপস্থিত থাকতে বাধ্য সে স্থান হতে যখন তার প্রস্থান করা আইনসম্মত হত তার আগেই প্রস্থান করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
- অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি, মারফত কোন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
(খ) ক-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। ক এ সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু ক ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 174. Non-attendance in obedience to an order from public servant:
Whoever, being legally bound to attend in person or by an agent at a certain place and time in obedience to a summons, notice, order or proclamation proceeding from any public servant legally competent, as such public servant, to issue the same, intentionally omits to attend at that place or time, or departs from the place where he is bound to attend before the time at which it is lawful for him to depart,shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka or with both;
or, if the summons, notice, order or proclamation is to attend in person or by agent in a Court of Justice, with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
১,৭২৫.
‘A’ তার ঋণদাতাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন রোধ করার উদ্দেশ্যে অসাধুভাবে তার সম্পত্তি একজন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে, পর্যাপ্ত মূল্য ছাড়াই। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪২১ অনুসারে, যে কেউ অসাধুভাবে বা জালিয়াতিমূলকভাবে তার সম্পত্তি কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে, গোপন করে, বা অপসারণ করে, পর্যাপ্ত মূল্য ছাড়াই, এবং এর মাধ্যমে তার ঋণদাতাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন রোধ করার উদ্দেশ্যে বা এমন সম্ভাবনা জেনে কাজ করে, সে এই অপরাধের জন্য দায়ী। এই অপরাধের শাস্তি হলো ২ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই। এখানে, ‘A’ অসাধুভাবে তার সম্পত্তি পর্যাপ্ত মূল্য ছাড়াই হস্তান্তর করেছে, যাতে ঋণদাতাদের মধ্যে বণ্টন রোধ করা যায়, যা ধারা ৪২১-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদণ্ড।
- ‘A’-এর কাজ ধারা ৪২১-এর অধীনে জালিয়াতিমূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন হিসেবে গণ্য, এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২ বছরের কারাদণ্ড। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) ২ বছরের কারাদণ্ড।

⇒The Penal Code, 1860- Section-421.Dishonest or fraudulent removal or concealment of property to prevent distribution among creditors:
- Whoever dishonestly or fraudulently removes, conceals or delivers to any person, or transfers or causes to be transferred to any person, without adequate consideration, any property, intending thereby to prevent, or knowing it to be likely that he will thereby prevent, the distribution of that property according to law among his creditors or the creditors of any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১,৭২৬.
নির্বাচনে ঘুষখোরীর শাস্তি কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ১৭১ক
  2. ১৭১ঙ
  3. ১৭১জ
  4. ১৭১
ব্যাখ্যা
• ১৭১ঙ ধারা মতে নির্বাচনে ঘুষখোরীর শাস্তি অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড। তবে আপ্যায়ন কর্তৃক ঘুষখোরীর অপরাধ হলে কেবল অর্থদণ্ড দণ্ডিত করা হবে।
১,৭২৭.
দণ্ডবিধির ১৮০ ধারার অধীনে, কে বিবৃতি স্বাক্ষর করতে নির্দেশ দিতে পারে?
  1. যেকোনো নাগরিক
  2. কোন আইনজীবী
  3. শুধুমাত্র পুলিশ কর্মকর্তা
  4. আইনানুগভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন সরকারী কর্মচারী
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৮০ ধারা: বিবৃতি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি:
যদি কোন ব্যক্তি কোনও সরকারি কর্মচারীর দ্বারা আইনগতভাবে স্বাক্ষর করার জন্য বলা হয় এবং সে ব্যক্তি সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাকে তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সরল কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয়বিধ দণ্ড প্রদান করা হতে পারে।
১,৭২৮.
কীভাবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংঘটিত হতে পারে?
  1. কোন অবৈধ কাজ করার সম্মতির মাধ্যমে
  2. কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার সম্মতির মাধ্যমে
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ তথা কোন অবৈধ কাজ করার জন্য অথবা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার জন্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সম্মতিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা Criminal Conspiracy বলে।
• ১২০ক ধারামতে ২ ভাবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অপরাধ হতে পারে।
যথা:
(i) কোন অবৈধ কাজ করার জন্য সম্মতির মাধ্যমে
(ii) কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার সম্মতির মাধ্যমে
১,৭২৯.
দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬ অনুসারে, ধর্ষণের অপরাধে দোষী ব্যক্তি: যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
তবে, যদি ধর্ষিত ব্যক্তি তার নিজ স্ত্রী হন এবং স্ত্রীর বয়স ১২ বছরের নিচে না হয়, তাহলে দণ্ড অনেক হালকা (সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত) হতে পারে।
- অর্থাৎ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬ অনুসারে, ধর্ষণের অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হলো: গ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 376. Punishment for rape:- Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১,৭৩০.
'ক' এর প্ররোচনায় 'খ' খুন করার উদ্দেশ্যে 'গ' কে ছুরিকাঘাত করে। 'গ' চিকিৎসাস্ত্রে সুস্থ হইয়া উঠে। 'ক' নিম্নের কোন অপরাধ করিয়াছে বলে গণ্য হবে?
  1. নরহত্যার প্ররোচনা
  2. খুনের প্ররোচনা
  3. গুরুতর আঘাতের প্ররোচনা
  4. 'গ' সুস্থ হওয়ায় কোন অপরাধ হয় নাই।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার ব্যাখ্যা ২ অনুযায়ী 'ক' খুন করার প্ররোচনার অপরাধ করিয়াছে বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

⇒ ব্যাখ্যা- ১: যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
⇒ ব্যাখ্যা- ২: যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
⇒ ব্যাখ্যা-৩: মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
-----------------------------
⇒The Penal Code, 1860- Section 299: Culpable homicide:
-Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide. 
Explanation-1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death. 
Explanation-2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented.
Explanation-3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.
১,৭৩১.
ধারা ৩৭৮ অনুযায়ী চুরি সংঘটিত হওয়ার জন্য অপরাধীকে কী করতে হবে?
  1. কারো সম্মতি নিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি স্থানান্তর করতে হবে
  2. অন্যের স্থাবর সম্পত্তি বিনিময় করতে হবে
  3. কারো দখল হতে অস্থাবর সম্পত্তি তার সম্মতি ব্যতীত গ্রহণ করতে হবে
  4. কারো দখল হতে স্থাবর সম্পত্তি তার সম্মতি ব্যতীত গ্রহণ করতে হবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৭৮: চুরি [Theft]:

কোনো ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোনো অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। [Whoever, intending to take dishonestly any movable property out of the possession of any person without that person’s consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.]
 
ব্যাখ্যা ১ : কোনো বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে। [A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.]
 
ব্যাখ্যা ২ : যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে। [A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.]
 
ব্যাখ্যা ৩ : কোনো ব্যক্তি কোনো বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোনো বস্তু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে। [A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.]
 
ব্যাখ্যা ৪ : কোনো ব্যক্তি যেকোনো উপায়ে কোনো পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে। [A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.]
 
ব্যাখ্যা ৫ : সংজ্ঞায় উল্লি­খিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে। [The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.]
১,৭৩২.
দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা অনুসারে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের জন্য নিচের কোন উদ্দেশ্য প্রয়োজন নয়?
  1. কোন অপরাধ সংঘটন
  2. ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন
  3. ব্যক্তিকে অপমান করা
  4. ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪৪১ অনুসারে, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ (Criminal Trespass) গঠনের জন্য নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যগুলির যেকোনো একটি থাকা আবশ্যক:
১. কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্য (যেমন– চুরি, ক্ষতি ইত্যাদি)।
২. সম্পত্তির দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য।
৩. সম্পত্তির দখলকারী ব্যক্তিকে অপমান করার উদ্দেশ্য।
৪. সম্পত্তির দখলকারী ব্যক্তিকে বিরক্ত করার উদ্দেশ্য।
- ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা করা এই ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের উদ্দেশ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং, সঠিক উত্তর ঘ) ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা করা।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার বিধান অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে, অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ' করেছে বলে পরিগণিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-441: Criminal trespass:- Whoever enters into or upon property in the possession of another with intent to commit an offence or to intimidate, insult or annoy any person in possession of such property. or, having lawfully entered into or upon such property, unlawfully remains there with intent thereby to intimidate insult or annoy any such person, or with intent to commit an offence, is said to commit "criminal trespass".

১,৭৩৩.
নিচের কোন অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন সদস্য থাকার প্রয়োজন নেই?
  1. ডাকাতি
  2. দাঙ্গা
  3. দস্যুতা
  4. বেআইনী সমাবেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারায় বলা হয়েছে বেআইনি সমাবেশ কর্তৃক বা এর কোনো সদস্য কর্তৃক বলপ্রয়োগ করা  হলে বা সহিংসতা (force or violence) করা হলে তখন সমাবেশের সকল সদস্য দাঙ্গা করেছে মর্মে বলা হবে। অর্থাৎ দাঙ্গার সদস্যও পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

---------------------------------
⇒ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।

⇒ সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-
১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

⇒ দণ্ডবিধি ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।

⇒ ডাকাতির উপাদান:
(i) পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
(ii) উক্ত দলের এক বা একাধিক ব্যক্তি দস্যুতা করেছিল বা করার চেষ্টা করেছিল;
(iii) ডাকাত দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিল এবং এ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিল।

⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

⇒ দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

⇒ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত।
১,৭৩৪.
'ক'- কে খুন করার জন্য একদল লোক তাড়া করে। 'ক' আক্রমণকারী লোকদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করলে 'ক' -এর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব না; অন্যদিকে গুলিবর্ষণ করলে আক্রমণকারীদের পাশাপাশি কয়েকটি নির্দোষ শিশুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যারা ঐ আক্রমণকারী লোকদের সাথে মিশে আছে। এই পরিস্থিতিতে 'ক' যদি গুলিবর্ষণ করে, তা-
  1. সকল ক্ষেত্রে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
  2. কোনো ক্ষেত্রেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না
  3. নির্দোষ শিশু মারা গেলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
  4. আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ হিসেবে গণ্য হবে না
ব্যাখ্যা
ধারা-১০৬: আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো (Right of private defence against deadly assault when there is risk of harm to innocent person)-
যদি কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে, যা যুক্তিসঙ্গতভাবে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে, আত্মরক্ষাকারী এমন পরিস্থিতিতে থাকে যেখানে সে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি ছাড়া কার্যকরভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তবে তার আত্মরক্ষার অধিকার সেই ঝুঁকি নেওয়া পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

যেমন- ক-কে খুন করার জন্য একদল লোক তাড়া করে। ক আক্রমণকারী লোকদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করলে ক-এর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব না; অন্যদিকে গুলিবর্ষণ করলে আক্রমণকারীদের পাশাপাশি কয়েকটি নির্দোষ শিশুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যারা ঐ আক্রমণকারী লোকদের সাথে মিশে আছে।

এই পরিস্থিতিতে ক যদি গুলিবর্ষণ করে এবং তার ফলে কোন শিশু ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তবুও ক-এর অপরাধ হবে না। কেননা ১০৬ ধারামতে মারাত্মক আক্রমনের বিরূদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতি বা মৃত্যু হলে তা অপরাধ নয়।
১,৭৩৫.
শিশু বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যার সহায়তাকরণ সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ধারা কত?
  1. দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ Abetment of suicide of child or insane person:
Section 305. If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.
১,৭৩৬.
ধারা ৬৮ অনুযায়ী, জরিমানা না দেওয়ার কারণে আরোপিত কারাদণ্ড কখন শেষ হবে?
  1. নির্দিষ্ট সময় শেষে
  2. ফরিয়াদির নির্দেশে
  3. জরিমানা পরিশোধ করা হলে
  4. দণ্ডিত ব্যক্তির আবেদন অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৬৮ ধারা- অর্থদণ্ড আদায়ে কারামুক্তি:
জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে যে কারাদণ্ড আরোপ করা হয়, তা সমাপ্ত হবে যখনই সেই জরিমানা পরিশোধ করা হয় অথবা আইনগত প্রক্রিয়ায় আদায় করা হয়।

Section 68- Imprisonment to terminate on payment of fine:
The imprisonment which is imposed in default of payment of a fine shall terminate whenever that fine is either paid or levied by process of law.
১,৭৩৭.
দণ্ডবিধির ২১২ ধারার ব্যতিক্রম অনুযায়ী অপরাধীকে আশ্রয়দান দণ্ডনীয় হবে না, যদি আশ্রয়দাতা-
  1. অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
  2. অপরাধীর স্বামী বা স্ত্রী হয়
  3. প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হয়
  4. অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইলে:
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-

-দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

-দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অত্র ধারার অপরাধ বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম:
দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
১,৭৩৮.
দণ্ডবিধির ৩০১ ধারায় কী ধরনের অপরাধের উল্লেখ আছে?
  1. আত্মহত্যা
  2. আত্মরক্ষা
  3. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  4. দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:
কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
১,৭৩৯.
X নিজেকে মৃত Y হিসাবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে। X এর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে _____________।
  1. ৩ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৪১৬ ধারায় অপরের রূপ ধারন পূর্বক প্রতারণা বা ছদ্মবেশী প্রতারণার (cheating by personation) বিধান রয়েছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে উপস্থিত করলে তাকে ছদ্মবেশী প্রতারণা বা Cheating by personation বলে।
যে ব্যক্তির রূপ ধারন করা হয় সে ব্যক্তি প্রকৃত বা কল্পিত যাই হোক না কেন তা ছদ্মবেশে প্রতারণা হবে । যেমন- করিম নিজেকে আলতাফ হোসেনের ৩ নম্বর পুত্র বলে রহিমের নিকট উপস্থাপন করে কিন্তু বাস্তবে আলতাফ সাহেবের ১ জন পুত্র রয়েছে। এক্ষেত্রে করিম ছদ্মবেশী প্রতারণার জন্য দায়ী হবে ।
৪১৯ ধারায় cheating by personation এর শাস্তি বর্ণিত আছে যা অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড।
১,৭৪০.
দণ্ডবিধির কত ধারায় অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটনের শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৩০৪ ধারায়
  2. ৩০৪ক ধারায়
  3. ৩০৪খ ধারায়
  4. ৩০২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারার বিধান অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন:- কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------------------
⇒Section 304A: Causing death by negligence:
 Whoever causes the death of any person by doing any rash or negligent act not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
১,৭৪১.
কয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত প্রয়োগ করা যায়?
  1. ৩ টি ক্ষেত্রে
  2. ৬ টি ক্ষেত্রে
  3. ৫ টি ক্ষেত্রে
  4. ৪ টি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ ধারা ১০০ অনুযায়ী ছয়টি ক্ষেত্রে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা:

(i) এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
(ii) এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে।
(iii) ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
(iv) অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
(v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ।
(vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক রাখলে।

---------------------
♦ When the right of private defence of the body extends to causing death:
Section 100. The right of private defence of the body extends, under the restrictions mentioned in the last preceding section, to the voluntary causing of death or of any other harm to the assailant, if the offence which occasions the exercise of the right be of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:- 
 
Firstly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that death will otherwise be the consequence of such assault; 
Secondly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that grievous hurt will otherwise be the consequence of such assault; 
Thirdly.-An assault with the intention of committing rape; 
Fourthly.-An assault with the intention of gratifying unnatural lust; 
Fifthly.-An assault with the intention of kidnapping or abducting; 
Sixthly.-An assault with the intention of wrongfully confining a person, under circumstances which may reasonably cause him to apprehend that he will be unable to have recourse to the public authorities for his release.
১,৭৪২.
'Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.'- This provision is provided in:
  1. Exception 3, Section 300
  2. Exception 2, Section 300
  3. Exception 4, Section 300
  4. Exception 5, Section 300
ব্যাখ্যা
Section 300- Murder:

Exception 5:
Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.

ব্যতিক্রম ৫:

শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
১,৭৪৩.
The Penal Code, 1860 অনুসারে চুরি _________ সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত।
  1. শুধু অস্থাবর
  2. শুধু স্থাবর
  3. স্থাবর ও অস্থাবর
  4. বুদ্ধিবৃত্তিক
ব্যাখ্যা

♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

♦ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

১,৭৪৪.
According to Section 95, harm must be so slight that:
  1. No one is affected by it
  2. Only the person who suffers the harm will complain
  3. It results in no consequence whatsoever
  4. No person of ordinary sense and temper would complain about it
ব্যাখ্যা
Section 95- Act causing slight harm:
Nothing is an offence by reason that it causes, or that it is intended to cause, or that it is known to be likely to cause, any harm, if that harm is so slight that no person of ordinary sense and temper would complain of such harm.

দণ্ডবিধির ৯৫ ধারা- সামান্য ক্ষতিকারক কার্য:
"যে কোনো কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না যদি তা কোনো ক্ষতি সৃষ্টি করে, বা সেই ক্ষতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়, বা এটি যে ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে তা জানা যায়, যদি সেই ক্ষতি এতই সামান্য হয় যে সাধারণ বুদ্ধি ও ভালো চরিত্রসম্পন্ন কেউ সে ক্ষতির জন্য অভিযোগ করবেন না।"
১,৭৪৫.
দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় কোন অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. চুরি
  2. ডাকাতি
  3. প্রতারণা
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪১৫ ধারাতে যেটি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তা হলো "Cheating" অর্থাৎ "প্রতারণা"।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কাউকে ছলনা করে, এবং প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে তাকে কোনো সম্পত্তি দিতে বা রেখে দিতে প্ররোচিত করে, অথবা তাকে এমন কিছু করতে বা না করতে ইচ্ছাকৃতভাবে প্ররোচিত করে যার ফলে তার দেহ, মন, খ্যাতি বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি প্রতারণা করেছে বলে বিবেচিত হবে।
- অতএব, দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় "প্রতারণা" অপরাধটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সঠিক উত্তর: গ) প্রতারণা।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 415: Cheating:
- Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".
Explanation:- A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
১,৭৪৬.
The Penal Code, 1860 এর ধারা ১২১ক অনুযায়ী, ষড়যন্ত্র করার জন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়া কতটা জরুরি?
  1. অপরাধ অবশ্যই সংঘটিত হতে হবে
  2. অপরাধ আংশিক সংঘটিত হতে হবে
  3. কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া অবশ্যক নয়
  4. আদালতের অনুমতি থাকা আবশ্যক
ব্যাখ্যা

The Penal Code, 1860 এর ধারা ১২১ক– যে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের ভেতরে বা বাইরে, নিম্নলিখিত কোনোকিছু করার ষড়যন্ত্র করে:
- ধারা ১২১ দ্বারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করা, অথবা 
- বাংলাদেশকে তার সার্বভৌমত্ব বা কোনো অংশ থেকে বঞ্চিত করা, অথবা 
- শাস্তিমূলক বল বা বলের প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারকে প্রভাবিত বা আতঙ্কিত করা, সে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।

শাস্তি:
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life); অথবা
- কারাদণ্ড (সশ্রম/বিনাশ্রম) সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত;
- পাশাপাশি অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

ব্যাখ্যা: এই ধারার জন্য ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হওয়া যথেষ্ট, কার্যকর কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া বা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড করা অবশ্যক নয়।

১,৭৪৭.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী ডাকাতি ঘটানোর জন্য ন্যূনতম কয়জন সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ১০ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৯১ অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তি একসঙ্গে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করলে তাদেরকে "ডাকাতি" বলা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান- ডাকাতি:
- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
---------------- 
⇒ The Penal Code Section 391- Dacoity:
- When five or more persons conjointly commit or attempt to commit a robbery, or where the whole number of persons conjointly committing or attempting to commit a robbery, and persons present and aiding such commission or attempt, amount to five or more, every person so committing, attempting or aiding, is said to commit "dacoity".
১,৭৪৮.
"ক" একটি শিশুকে "খ" এর খাবারে বিষ মেশানোর জন্য প্ররোচিত করে এবং তাকে বিষ দেয়। তবে শিশুটি ভুলবশত "গ" এর খাবারে বিষ মেশায় এবং "গ" মারা যায়। এই ক্ষেত্রে "ক" -
  1. "গ" কে খুনের জন্য দায়ী হবে
  2. নিন্দনীয় নরহত্যা জন্য দায়ী হবে
  3. "গ" কে খুনে প্ররোচনা করার জন্য দায়ী হবে
  4. কোন অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ১১১ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি অন্যকে কোনো কাজ করার জন্য সহায়তা করে, তবে যদি সেই সহায়তার কারণে কোনো ভিন্ন কাজ সংঘটিত হয়, তাহলে সেই সহায়তাকারী ব্যক্তি সেই ভিন্ন কাজের জন্যও দণ্ডিত হতে পারে। তবে, সহায়তা দেয়া কাজটি, মূলত, সেই সহায়তার দ্বারা সম্পাদিত একটি সম্ভবনা হিসেবে হতে হবে এবং সেই কাজটি সহায়তার প্রভাবেই করা হয়েছে।

উদাহরণ:  'ক' একটি শিশুকে 'চ'-এর খাদ্যে বিষ মেশানোর জন্য প্ররোচিত করে এবং তাকে বিষ দেয়। কিন্তু শিশুটি ভুলক্রমে 'গ'-এর খাদ্যে বিষ মেশায়। এখানে, শিশুটি 'ক'-এর প্ররোচনায় 'গ'-এর খাবারে বিষ মিশিয়েছে। তাই 'ক', শিশুটিকে 'গ'-এর খাবারে বিষ মিশাতে প্ররোচিত করার জন্য এবং যতটুকু দণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সেভাবে এবং ততটুকু পর্যন্ত দণ্ডিত হবে।
--------------
→ The Penal Code, 1860 Section-111: Liability of abettor when one act abetted and different act done:
- When an act is abetted and a different act is done, the abettor is liable for the act done, in the same manner and to the same extent as if he had directly abetted it:

Provided the act done was a probable consequence of the abetment, and was committed under the influence of the instigation, or with the aid or in pursuance of the conspiracy which constituted the abetment.

Illustrations:
(a) A instigates a child to put poison into the food of Z, and gives him poison for that purpose. The child, in consequence of the instigation, by mistake puts the poison into the food of Y, which is by the side of that of Z. Here if the child was acting under the influence of A's instigation, and the act done was under the circumstances a probable consequence of the abetment, A is liable in the same manner and to the same extent as if he had instigated the child to put the poison into the food of Y.
১,৭৪৯.
‘C’ ‘Z’-এর কুকুরকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধুভাবে নিয়ে যায়, ‘Z’-এর সম্মতি ছাড়া। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৮ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধুভাবে তার অধিকারে থাকা চলমান সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া চুরি হিসেবে গণ্য। ধারা ৩৭৮-এর ব্যাখ্যা ৪ অনুসারে, পশুকে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাওয়া চুরি। এখানে, ‘C’ ‘Z’-এর কুকুরকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধুভাবে নিয়েছে, যা চুরি। ধারা ৩৭৯ অনুসারে, চুরির শাস্তি হলো ৩ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয়ই। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-378. Theft:
-Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

১,৭৫০.
দণ্ডবিধিতে কয়টি ব্যতিক্রমের উল্লেখ আছে যখন নিন্দনীয় নরহত্যা খুন বলে বিবেচিত হবে না?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
♦খুন বলে গন্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান হলো ৩০০ ধারায় উল্লেখিত ৫টি ব্যতিক্রম পরিস্থিতি।
♦দণ্ডবিধি এর ৩০০ ধারায় উল্লিখিত খুনের সংজ্ঞায় ৫ টি ব্যতিক্রম আছে। যথা -
১. মারাত্মক বা আকস্মিক প্ররোচনায় সংযম হারাইয়া প্ররোচনাকারীকে বা ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাক্রমে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
২. অপরাধী সরলমনে আত্মরক্ষার বা সম্পত্তি রক্ষায় কোনোরূপ পরিকল্পনা ব্যতীত মৃত্যু ঘটায়।
৩. অপরাধকারী সরকারি কর্মচারী হিসেবে বা কর্মচারীর সাহায্যকারী হিসেবে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে আইনানুগ বলিয়া সরল মনে কর্তব্য পালন করতে যেয়ে মৃত্যু ঘটালে।
৪. পরিকল্পনা ব্যতীত আকস্মিক বিবাদের সময় উত্তেজনায় মৃত্যু ঘটলে।
৫. ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে স্বীয় সম্মতিতে মৃত্যু ঘটলে।
♦অর্থাৎ ৩০০ ধারার দ্বিতীয় অংশে ৫টি ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে যেক্ষেত্রে নিষ্পনীয় নরহত্যা খুন বলে বিবেচিত হবে না অর্থাৎ শুধুমাত্র নিন্দনীয় নরহত্যা বলে বিবেচিত হবে।
১,৭৫১.
A, B কে একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা পরিচালনা হতে বিরত করার উদ্দেশ্যে B এর ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। উক্ত অপরাধ The Penal Code, 1860 এর কোন ধারাকে আকৃষ্ট করে?
  1. ৫০৩
  2. ৫০৪
  3. ৫০১
  4. ৫০২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার বিধান অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেছে।
ব্যাখ্যা:- ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে।

⇒ উদাহরণ:
ক খ-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।
-----------
⇒ The Penal Code,1860- Section 503. Criminal Intimidation:
- Whoever threatens another with any injury to his person, reputation or property, or to the person or reputation of any one in whom that person is interested, with intent to cause alarm to that person, or to cause that person to do any act which he is not legally bound to do, or to omit to do any act which that person is legally entitled to do, as the means of avoiding the execution of such threat, commits criminal intimidation.
Explanation:- A threat to injure the reputation of any deceased person in whom the person threatened is interested, is within this sect on.

⇒ Illustration:
A, for the purpose of inducing B to desist from prosecuting a civil suit, threatens to burn B's house. A is guilty of criminal intimidation.
১,৭৫২.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৫ অনুসারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কে হ্রাস করতে পারে?
  1. পুলিশ
  2. সরকার
  3. আদালত
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫৫ ধারা ("Commutation of sentence of imprisonment for life") অনুযায়ী: সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির শাস্তি অনূর্ধ্ব ২০ (সর্বোচ্চ ২০) বছর কারাদণ্ডে রূপান্তর করতে পারেন। এটি অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই করা যায়। রূপান্তরিত দণ্ড সশ্রম (Rigorous) বা বিনাশ্রম (Simple) কারাদণ্ড হতে পারে।
- সরকার ২০ বছরের বেশি মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারবেন না।

⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

১,৭৫৩.
আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির আঘাত ঘটানোর বৈধতা- The Penal Code, 1860 এর কত ধারায় দেয়া হয়েছে?
  1. ১০৫ ধারায়
  2. ১০৬ ধারায়
  3. ১০৭ ধারায়
  4. ১০৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা-১০৬: আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো (Right of private defence against deadly assault when there is risk of harm to innocent person)-
যদি কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে, যা যুক্তিসঙ্গতভাবে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে, আত্মরক্ষাকারী এমন পরিস্থিতিতে থাকে যেখানে সে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি ছাড়া কার্যকরভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তবে তার আত্মরক্ষার অধিকার সেই ঝুঁকি নেওয়া পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

যেমন- ক-কে খুন করার জন্য একদল লোক তাড়া করে। ক আক্রমণকারী লোকদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করলে ক-এর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব না; অন্যদিকে গুলিবর্ষণ করলে আক্রমণকারীদের পাশাপাশি কয়েকটি নির্দোষ শিশুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যারা ঐ আক্রমণকারী লোকদের সাথে মিশে আছে।
এই পরিস্থিতিতে ক যদি গুলিবর্ষণ করে এবং তার ফলে কোন শিশু ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তবুও ক-এর অপরাধ হবে না। কেননা ১০৬ ধারামতে মারাত্মক আক্রমনের বিরূদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতি বা মৃত্যু হলে তা অপরাধ নয়।
১,৭৫৪.
দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অনুযায়ী কোনটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ নয়?
  1. সরকারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা
  2. সরকারের শাসনের প্রতি অসমর্থন
  3. সরকারের প্রতি বিদ্বেষ উদ্রেক করা
  4. সরকারের প্রতি বৈরিতা সৃষ্টির চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২৪ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) এর ব্যাখ্যা ২ ও ৩ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে: শুধুমাত্র সরকারের শাসন বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ করা, যদি তা ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা (Disaffection) সৃষ্টি বা সৃষ্টির চেষ্টা না করে, তাহলে তা এই ধারার অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
- আইনসম্মত উপায়ে (যেমন: শান্তিপূর্ণ সমালোচনা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি) সরকারের নীতির অনুপোষণ (Disapprobation) প্রকাশ করলে, যতক্ষণ না তা ঘৃণা বা বৈরিতা সৃষ্টি করে, ততক্ষণ তা অপরাধ নয়।
- সুতরাং, সরকারের শাসনের প্রতি অসমর্থন নিজে থেকেই অপরাধ নয়, যদি না তা ঘৃণা বা বৈরিতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বা ফলাফলে পরিণত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বিধান রাষ্ট্রদ্রোহিতা:
কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
ব্যাখ্যা ১: ‘বৈরিতা' বলতে রাজানুগত্যহীনতা এবং সর্বপ্রকার শত্রুতার ভাব বুঝায়।
ব্যাখ্যা ২: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
ব্যাখ্যা ৩: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করার বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই সরকারের কোন শাসন পরিচালন বিষয়ক বা অন্যরূপ কার্য সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না। 
---------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 124A. Sedition:
 Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representation, or otherwise, brings or attempts to bring into hatred or contempt, or excites or attempts to excite disaffection towards, the Government established by law shall be punished with imprisonment for life or any shorter term, to which fine may be added, or with imprisonment which may extend to three years, to which fine may be added, or with fine.
Explanation 1.-The expression "disaffection" includes disloyalty and all feelings of enmity. 
Explanation 2.-Comments expressing disapprobation of the measures of the Government with a view to obtain their alteration by lawful means, without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section. 
Explanation 3.-Comments expressing disapprobation of the administrative or other action of the Government without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section.

১,৭৫৫.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপসহায়তা বা প্ররোচনার [Abetment] উপাদান কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
♦ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন যোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়ে।

♦ দণ্ডবিধির  ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।

⇒ (i) কাউকে প্ররোচিত করে  (instigation)
⇒ (ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে  (engagement)
⇒ (iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে  (aiding)
১,৭৫৬.
খুনসহ ডাকাতির সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ডাকতির সমান শাস্তি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৩৯৬ ধারা মতে খুনসহ ডাকাতির শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
১,৭৫৭.
জাল দলিল জেনেও আসল হিসেবে ব্যবহার করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ২ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৭১- জাল দলিল জেনেও আসল হিসেবে ব্যবহার [using as genuine forged document)-

জাল দলিল জেনেও আসল হিসেবে ব্যবহার করলে সে লোক জালিয়াতির জন্য যেরুপ শাস্তি নির্ধারিত সেই রুপ শাস্তি পাবে। অর্থাৎ, ৪৬৫ ধারা অনুযায়ী যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানা দণ্ডে বা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
১,৭৫৮.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী 'ঠগ' (Thug)-এর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ধারা ৩০৯
  2. ধারা ৩১০
  3. ধারা ৩১১
  4. ধারা ৩১২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ ঠগ (Thug) হয়, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। ঠগ হওয়ার জন্য, ব্যক্তিকে অভ্যাসগতভাবে খুন বা শিশু অপহরণ করে দস্যুতা সংঘটনের উদ্দেশ্যে মেলামেশা করতে হবে, যা ৩১০ ধারায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে। খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারার বিধান ঠগের শাস্তি:-কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 310: Thug:
-Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.
⇒ The Penal Code, 1860: Section 311:Punishment:
- Whoever is a thug, shall be punished with imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
১,৭৫৯.
The Penal Code, 1860 এর কত ধারায় 'Defamation' সংজ্ঞায়িত হয়েছে?
  1. ৪৯৮
  2. ৪৯৯
  3. ৫০০
  4. ৫০১
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি (Defamation) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যে কথা বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান চিত্রের সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে গণ্য হয়।
১,৭৬০.
X, Z কে খুন করার জন্য Y কে প্ররোচিত করে। Y উক্ত প্ররোচনা অনুসারে Z কে ছুরিকাঘাত করে। Z জখম হতে আরোগ্য লাভ করে। X কি অপরাধ করেছে?
  1. খুন
  2. খুনের প্ররোচনা
  3. গুরুতর জখমের প্ররোচনা
  4. কোনো অপরাধ করে নাই
ব্যাখ্যা
⇒ এক্ষেত্রে, X Y কে প্ররোচিত করেছে Z কে খুন করার জন্য। যদিও Y Z কে ছুরিকাঘাত করে, কিন্তু Z বেঁচে গেছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং, X খুনের সরাসরি অপরাধে জড়িত না হলেও, সে খুনের প্ররোচনা দিয়েছে এবং এ জন্য দোষী হবে।
এটি ধারা ১০৮ (দুষ্কর্মে সহায়তাকারী) এর আওতায় আসবে, যেখানে একজন ব্যক্তি অপরাধ করতে বা কোনো বেআইনী কাজ করার জন্য অন্যকে প্ররোচনা দিয়ে থাকে। X-এর প্ররোচনার ফলে Y অপরাধী হয়ে উঠেছে, যদিও Z মারা যায়নি।
তাহলে, X খুনের প্ররোচনা দেওয়ার জন্য দণ্ডিত হবে।


- ধারা ১০৮ - দুষ্কর্মে সহায়তাকারী.
 কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধ করতে সহায়তা করে, অথবা এমন একটি কার্যে সহায়তা করে যে কাজটি সহায়তাকারীর মতো একই উদ্দেশ্য নিয়ে বা একই জ্ঞানের ভিত্তিতে যে ব্যক্তি আইনানুসারে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে উহা করতে সক্ষম সে ব্যক্তি করলে অপরাধ হত-তাহা হলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অপরাধ করতে সহায়তা ও প্ররোচনা দান করেছে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন কাজ করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে সহায়তা করা বা প্ররোচনা দান করাও একটি অপরাধ, যদিও প্ররোচনাদাতা স্বয়ং কাজটি করতে বাধ্য নয় ।
ব্যাখ্যা ২:- প্ররোচনা অপরাধ প্রতিপন্ন হওয়ার জন্য যে কার্যে প্ররোচনা দান করা হয়েছে যথার্থই সে কাজটি সম্পন্ন হওয়া অথবা কার্যটির ফলে যে পরিণামের উদ্ভব হলে উহা অপরাধতুল্য হয় সে পরিমাণ উদ্ভূত হওয়া অবশ্য আবশ্যক নয়।
উদাহরণসমূহ –
(ক) গ-কে হত্যা করার জন্য ক খ-কে প্ররোচিত করে। খ হত্যা করতে অস্বীকার করে ক ও খ-কে হত্যার প্ররোচনা দান করার অপরাধে অপরাধী হবে।
(খ) ঘ-কে হত্যা করার জন্য ক খ-কে প্ররোচনা দেয়। ক-এর এই প্ররোচনার ফলে খ প্ররোচিত হয়ে ঘ-কে ছুরিকাঘাত করে। ঘ এই আঘাতে আহত হওয়ার পর আরোগ্য লাভ করে। খ-কে হত্যাপরাধ করতে প্ররোচিত করার অপরাধে ক অপরাধী হবে।
ব্যাখ্যা ৩:- যে ব্যক্তিকে অপরাধ করতে সহায়তা করা হয় সে ব্যক্তি আইনত অপরাধ করতে সক্ষম হওয়ার, অথবা সে ব্যক্তির সহায়তাকারীর মতো একইরূপ অপরাধজনক উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকার অথবা তার কোনরূপ অপরাধজনক উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকার আবশ্যক নাই।
ব্যাখ্যা  ৪:- কোন একটি অপরাধের সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়া যেহেতু একটি অপরাধ, সেহেতু অনুরূপ সাহায্য বা প্ররোচনা দানে সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়াও অপরাধ । -
ব্যাখ্যা- ৫:- চক্রান্তের মাধ্যমে সাহায্যের অপরাধ সংঘটনের জন্য যে ব্যক্তি অপরাধটি করে তার কাজের সাথে সাহায্যকারীর কাজের সমন্বয় অপরিহার্য নয়। যে চক্রান্তের ফলে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয় সে চক্রান্তের সাথে তার যোগদানই যথেষ্ট ।
১,৭৬১.
নিম্মের কোন কার্যটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না ?
  1. সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য যেটা অপরাধমূলক অভিপ্রায় ব্যতীত করা হয়েছে
  2. নয় (৯) বছরের কম বয়স্ক শিশুর কার্য
  3. নয় বৎসরের অধিক ও ১২ (বার) বৎসরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধ শক্তিসম্পন্ন শিশুর কাজ
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৮১ ধারা মতে  সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য, কিন্তু অপরাধমূক অভিপ্রায় ব্যতিরেকে এবং অন্যবিধ ক্ষতি নিবারণকল্পে সম্পাদিত কাজ অপরাধ নয়।
♦দণ্ডবিধির ৮২ ধারা মতে নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।
♦দণ্ডবিধির ৮৩ মতে নয় বৎসরের অধিক বয়স্ক ও বার বৎসরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধ শক্তিসম্পন্ন শিশুর কার্য নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।
♦দণ্ডবিধির ৮১,৮২ এবং ৮৩ ধারা অনুযায়ী উপরে লিখিত কাজগুলো অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
১,৭৬২.
দণ্ডবিধির ৯৮ ধারায় আত্মরক্ষার অধিকার কাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য?
  1. মাতাল ব্যক্তি
  2. মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি
  3. অপরিপক্ব বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি
  4. উপরের সবার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি ধারা ৯৮: উন্মাদ ব্যক্তি বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কর্মের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার:
যখন কোনো কাজ, যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অপরাধ হতো, কিন্তু তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না শুধুমাত্র এই কারণে যে- কাজটি করা ব্যক্তির বয়স কম, বুদ্ধি পরিপক্ব নয়, মানসিক ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে, অথবা তার কোনো বিভ্রান্তি রয়েছে—তখনও অন্য প্রতিটি ব্যক্তি সেই কাজের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার একই অধিকার ভোগ করে, যা সে পেত যদি ঐ কাজটি সত্যিই অপরাধ হতো।

উদাহরণ:
(ক) Z, উন্মাদ অবস্থায় A-কে হত্যা করার চেষ্টা করে; Z কোনো অপরাধে দোষী নয়। কিন্তু A আত্মরক্ষায় Z-এর বিরুদ্ধে সেই একই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যেটা সে গ্রহণ করতে পারত যদি Z সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতো।

(খ) A রাতে এমন একটি ঘরে প্রবেশ করে যার মধ্যে প্রবেশ করার বৈধ অধিকার তার আছে। Z, ভুল করে A-কে গৃহভাঙনকারী ভেবে সৎ বিশ্বাসে আক্রমণ করে। এখানে Z তার এই ভুল ধারণার কারণে কোনো অপরাধ করে না। কিন্তু A আত্মরক্ষায় Z-এর বিরুদ্ধে ঠিক সেই একই অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, যেমনটা করত যদি Z সত্যিই অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে কাজ করত।
১,৭৬৩.
মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অপরাধ শাস্তিযোগ্য নয়—এ বিধান কোন ধারায় রয়েছে?
  1. দণ্ডবিধির ৮২ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৮৩ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৮৪ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৮৫ ধারায় 
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৮৪ ধারায় মতে অপরাধ করার সময় অপরাধী ব্যাক্তি অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে সে কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
তবে অপরাধ করার সময় উক্ত পাগল ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এমন থাকতে হবে যে সে তার কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারে না।

-------------------
⇒ Section 84. Act of a person of unsound mind:
- Nothing is an offence which is done by a person who, at the time of doing it, by reason of unsoundness of mind, is incapable of knowing the nature of the act, or that he is doing what is either wrong or contrary to law.
১,৭৬৪.
দণ্ডবিধির মানহানি সম্পর্কিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে নিন্দাবাদ করলে কী হবে?
  1. মানহানি গণ্য হবে
  2. কোনো শাস্তি হবে না
  3. উক্ত নিন্দাবাদ অনুমোদিত
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা- মানহানি:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য অভিপ্রেত কথা বা চিহ্ন কর্তৃক বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়াই অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে পরিগণিত হয়।
 
ব্যাখ্যা ১: যে মৃত ব্যক্তির জীবনকালে তার সম্পর্কে কোন নিন্দা করা হলে তার মানহানি ঘটত, সে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কোন নিন্দাবাদ এবং সে মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের বা অন্যান্য কাছে আত্মীয়ের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নিন্দাবাদ করা, মানহানি বলে পরিগণিত হবে।
 
ব্যাখ্যা ২: কোন কোম্পানি বা সংঘ বা ব্যক্তিসমাবেশ সম্পর্কে সমষ্টিগতভাবে কোন নিন্দাবাদ করা মানহানি বলে পরিগণিত হতে পারে।
 
ব্যাখ্যা ৩: বিকল্পরূপে বা বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যক্ত কোন নিন্দাবাদ মানহানির সামিল হতে পারে।
 
ব্যাখ্যা ৪: কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্যক্তির দৃষ্টিতে সে ব্যক্তির নৈতিক বা বুদ্ধিগত চরিত্র হেয় না করলে, অথবা তার বর্ণ বা সম্প্রদায় কিংবা তার পেশার দিক হতে সে ব্যক্তির চরিত্রকে হেয় না করলে, অথবা সে ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ক্ষুন্ন না করলে, অথবা তার দেহ বীভৎস বা ঘৃণা অবস্থায় বা যে অবস্থা সাধারণভাবে অরুচির বলে গণ্য, সে অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি না করলে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নিন্দাবাদ তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করে নাই বলে পরিগণিত হয়।
১,৭৬৫.
'ক' 'খ' কে নিহত করিবার উদ্দেশ্যে তাহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, ফলে 'খ' এর মৃত্যু হয়। 'ক' কি অপরাধে করিয়াছে?
  1. নরহত্যা
  2. অপরাধজনক নরহত্যা
  3. খুন
  4. আত্মহত্যার সহায়তাকরণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা

চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার (উদা:ক)।
--------------------
Murder:
Section 300. Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or- 
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or – 
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or – 
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid. 
 
Illustrations 
(a) A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder.
১,৭৬৬.
দণ্ডবিধি কোন ধরনের আইন?
  1. তত্ত্বগত
  2. পদ্ধতিগত
  3. সংস্কারমূলক
  4. বিশেষ আইন
ব্যাখ্যা
• যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে।
- যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।
১,৭৬৭.
খ অন্যায়ভাবে চ এর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে চ এর বরফ ঘরে পানি দেয় এবং তার ফলে বরফ গলে যায় ক এখানে কি ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. মালামাল বিনষ্ট সাধন
  2. অর্থ আত্মসাৎ
  3. ক্ষতি/অনিষ্ট সাধন
  4. জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারায় অনিষ্ট বা ক্ষতির সংজ্ঞা (Mischief) রয়েছে। ৪২৫ ধারা অনুযায়ী অন্যের অন্যায় ক্ষতি বা লোকসানের (Wrongful loss or damage) উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট অথবা সম্পত্তির মূল্য/উপযোগীতা হ্রাস বা ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অনিষ্ট বা ক্ষতি (mischief) বলে।
১,৭৬৮.
যদি মনুষ্য বসবাসের স্থান, দালান বা তাঁবুতে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ (criminal trespass) হয় তাহলে তাকে কী বলে?
  1. অপথে গৃহপ্রবেশ
  2. অনধিকার গৃহপ্রবেশ
  3. রাত্রি বেলায় অপথে গৃহপ্রবেশ
  4. সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে অপথে গৃহপ্রবেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।

⇒ অনধিকার গৃহ-প্রবেশ (House-trespass)- কোন ব্যক্তির গৃহে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করলে তা অনধিকার গৃহপ্রবেশ বলে গণ্য হবে।
⇒ ৪৪২ ধারায় গৃহ বলতে দালান (building), তাঁবু (tent), জাহাজ (vessel) বা নৌকাকে বোঝায় যা মানুষের বসবাস, সম্পত্তি সংরক্ষণ অথবা উপাসনার (place for custody of property or for worship) জন্য ব্যবহৃত হতে হবে।
⇒ অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য যথেষ্ট।
-------------
Section 442. House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation:-The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
১,৭৬৯.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী, কয়টি উপায়ে কোনো কাজের প্ররোচনা দেওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী, প্ররোচনা (Abetment) তিনটি উপায়ে হতে পারে:
১) প্ররোচনা (Instigation)
২) ষড়যন্ত্র (Conspiracy)
৩) ইচ্ছাকৃত সহায়তা (Intentional Aid)

⇒ অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

১,৭৭০.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৪ এর অধীন মৃত্যুদণ্ড আদেশ পরিবর্তনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. রাষ্ট্রপতির আদেশ
  2. আদালতের নির্দেশ
  3. দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্মতি
  4. সরকারের সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪ - মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তন:
সরকার মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে এই দণ্ডবিধিতে প্রদত্ত অন্য কোনো দণ্ডে পরিবর্তন করতে পারে।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নমতে মৃত্যুদণ্ড আদেশ পরিবর্তনের জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
-------------
Section 54: Commutation of sentence of death:
In every case in which sentence of death shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for any other punishment provided by this Code.
১,৭৭১.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারার অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যাবে না?
  1. ৪২৬
  2. ৪০৬
  3. ৩২৩
  4. ৩২৬
ব্যাখ্যা
• কোন অপরাধগুলোর সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়: নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়। যথা-
i) মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ২ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ অর্থাৎ ২ বছর বা এর কম মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধের বিচার।
ii) দন্ডবিধির ২৬৪, ২৬৫, ২৬৬ ধারামতে ওজন ও পরিমান সম্পর্কিত অপরাধ, ৩২৩ ধারামতে আঘাত, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চুরি, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চোরাইমাল গ্রহণ, গোপন ও হস্তান্তর;
iii) দন্ডবিধির ২৭৭,২৭৯, ২৮৫, ২৮৯, ২৯০-২৯৪,৩৩৪, ৩৩৬,৩৪১,৩৫২ ধারার অপরাধ ।
iv) ক্ষতি (Mischief), দন্ডবিধির ৪৪৭ ধারামতে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, ৪৪১, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৬ ও ৪৫৭ ধারামতে কৃত অপরাধ, অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন, ৫০৯ ও ৫১০ ধারামতে ইভটিজিং বা মাতলামি;
v) পূর্বে বর্ণিত অপরাধ সমূহে সহায়তা ও অপরাধসমূহ করার চেষ্টা (abetment and attempt to commit any of the foregoing offences); এবং
vi) ১৮৭১ সালের গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ আইনের ২০ ধারার অধীন অপরাধের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়।

• দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারা মতে  অনিষ্টের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিনমাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা মতে অপরাধমূল বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

• দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা মতে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানের শাস্তি: 
যদি কেউ ৩৩৪ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়াই অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

• দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারামতে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্ৰ বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আঘাত দান করা:
কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার দিয়ে একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য এই হাতিয়ারটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, সে হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য কর্তৃক গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা গুরুতরভাবে আহত করে, অথবা যে দ্রব্য শ্বাস কর্তৃক গ্রহণ করলে, উদরস্থ করলে বা রক্তে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা গুরুতর আহত করে অথবা কোন পশু দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

• অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩২৬ অনুযায়ী স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্ৰ বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আঘাত দান করার মামলা সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যাবে না।
১,৭৭২.
'আকস্মিক বিবাদের সময় উত্তেজনার ফলে পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত মৃত্যুকে'- দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের আওতায় গণ্য করা হয়?
  1. প্রথম ব্যতিক্রম
  2. দ্বিতীয় ব্যতিক্রম
  3. তৃতীয় ব্যতিক্রম
  4. চতুর্থ ব্যতিক্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩০০-এর চতুর্থ ব্যতিক্রম (Exception 4) অনুযায়ী:
- আকস্মিক বিবাদ বা উত্তেজনার সময়, কোনো রকম পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে হত্যা করে, এবং অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে বা নিষ্ঠুরভাবে কাজ না করে, তাহলে সেই হত্যা খুন (Murder) হিসেবে গণ্য হবে না।
এ ধরনের হত্যা “culpable homicide not amounting to murder” অর্থাৎ খুন নয়, তবে নিন্দনীয় নরহত্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- সঠিক উত্তর: ঘ) চতুর্থ ব্যতিক্রম।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:
⇒ ব্যতিক্রম ১: -শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
⇒ ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
১,৭৭৩.
কত বছরের বয়স্ক লোককে প্ররোচিত করে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুবরণ করালে তা খুন হিসাবে বিবেচিত হবে-
  1. ১৮ বছরের কম
  2. ১২ বছরের কম
  3. ২০ বছরের কম
  4. ২১ বছরের কম
ব্যাখ্যা
৩০০ ধারার ব্যতিক্রম- ৫ অনুযায়ী ১৮ বছরের বেশী বয়স্ক লোককে প্ররোচিত করার ফলে উক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত মৃত্যুবরণ করলে তা খুন নয় বরং অপরাধজনক নরহত্যা হিসাবে বিবেচিত হবে। কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়স্ক হলে, শিশু হলে বা উম্মাদ হলে সেক্ষেত্রে উক্ত হত্যা খুন হিসাবে বিবেচিত হবে
১,৭৭৪.
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন কবে গঠন করা হয়?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৩৪ সালে
  3. ১৮৩৭ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন (First Law Commission) গঠিত হয় ১৮৩৪ সালে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের Charter Act of 1833-এর অধীনে এই কমিশন গঠন করা হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় আইন ব্যবস্থাকে সংহত ও সংস্কার করা।

- এই কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন লর্ড থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Thomas Babington Macaulay)।
- কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন G.W. Anderson, F. Millet এবং J.M. Macleod।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৩৪: প্রথম আইন কমিশন গঠন।
- ১৮৩৭: দণ্ডবিধির খসড়া (Penal Code draft) জমা দেওয়া হয়।
- ১৮৬০ (৬ অক্টোবর): দণ্ডবিধি আইন হিসেবে পাস হয়।
- ১৮৬২ (১ জানুয়ারি): দণ্ডবিধি কার্যকর হয়।

১,৭৭৫.
দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান অনুসারে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের মিথ্যা সাক্ষ্য দানের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড-
  1. ৩ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি (Punishment for false evidence )দেওয়া আছে: মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করার শাস্তি:
১) অন্য কোন ক্ষেত্রে হলে-৩ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
২) বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম হলে- ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি: 
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং
- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
- ব্যাখ্যা-১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
- ব্যাখ্যা-২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- ব্যাখ্যা-৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- উদাহরণ: 
জমির সীমানা অকুস্থলে নির্ণয়কল্পে কোন আদালত দ্বারা প্রেরিত কর্মচারীর বা অফিসারের সম্মুখে সম্পাদিত তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু উক্ত তদন্তটি একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে অভিহিত হবে।
----------------------------
Section-193: Punishment for false evidence:
-Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
Explanation-1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding.
Explanation-2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Explanation-3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Illustration:
A, in an enquiry before an officer deputed by a Court of Justice to ascertain on the spot the boundaries of land, makes on oath a statement which he knows to be false. As this enquiry is a stage of a judicial proceeding, A has given false evidence.
১,৭৭৬.
করিম সাহেব ব্যথার কষ্ট নিয়ে একজন চিকিৎসকের নিকট গেলেন। চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের ফলে করিম সাহেবের মৃত্যু হতে পারে এটা জেনেও করিম সাহেবের মৃত্যু ঘটানোর কোন অভিপ্রায় ছাড়াই সরল বিশ্বাসে করিম সাহেবের মঙ্গলার্থে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারটি করেন। উক্ত অস্ত্রোপচারের পর করিম সাহেব মারা যান। করিম সাহেবের মৃত্যুতে কোন অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে?
  1. কোন অপরাধ হয়নি 
  2. খুন হয়েছে 
  3. অপরাধমূলক নরহত্যা হয়েছে
  4. দুই ও তিন
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৮৮ ধারা মতে মৃত্যু ঘটানের অভিপ্রায় ব্যতীত কোন কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতি নিয়ে ঐ ব্যক্তির মঙ্গলের জন্য কাজটি করা হলে তা অপরাধ নয়। চিকিৎসক মৃত্যু ঘটানোর কোন অভিপ্রায় ছাড়াই সরল বিশ্বাসে রোগীর মঙ্গলনার্থে অস্ত্রোপচার করেন তাই এটি কোন অপরাধ নয়।
১,৭৭৭.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে আসামী কর্তৃক ‍খুনের উদ্যোগে আঘাত করা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২০ বছররের কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. ২৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা অনুযায়ী খুনের উদ্যোগ বা চেষ্টা | Attempt to murder। শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৩০৭ ধারা অনুসারে খুনের উদ্যোগের শাস্তি অর্থদণ্ডসহ যেকোনো বর্ণনার ১০ বৎসর কারাদণ্ড। কিন্তু খুনের উদ্যোগের কার্যের ফলে যদি জখম হয়, তাহলে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডসহ যেকোনো বর্ণনার ১০ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
♦অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তি খুনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং উক্ত কার্যের ফলে কোন ব্যক্তি আহত হলে অপরাধী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবে।
♦অর্থাৎ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি আঘাত দিয়ে খুনের চেষ্টা করলে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।
১,৭৭৮.
খ-এর নিকট একটি দলিল থাকা সত্ত্বেও আদালত থেকে এই দলিল দাখিলের জন্য সমন দেওয়া হলে খ উক্ত দলিল আদালতে দাখিল না করে মাটিতে গর্ত করে লুকিয়ে রাখে। খ-এর শাস্তিঃ-
  1. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ২০৪ ধারার বিধান অনুসারে destruction of documents to prevent its production as evidence এর শাস্তি বর্ণিত আছে।
♦পেনাল কোডের ধারা ২০৪ মতে কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন দলিল গোপন করে বা লুকিয়ে ফেলে কিংবা ধ্বংস করে বা বিনষ্ট করে, যা সে কোন আদালতে কিংবা কোন সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনসম্মতভাবে সংঘটিত কোন কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে আইনানুসারে বাধ্য হতে পারে, অথবা অনুরূপ দলিল যাতে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে উপরোলিখিতরূপে কোন আদালতে বা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে উপস্থাপিত বা ব্যবহৃত হতে না পারে তদুদ্দেশ্যে উহার সমগ্র অংশ বা অংশবিশেষ অস্পষ্ট করে (বা মুছিয়া ফেলে কিংবা পাঠের অযোগ্য করে দেয়, কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যে দলিলটি উপস্থাপন করার জন্য আইনানুসারে সমন বা নির্দেশদানের পর, যাতে উহা উপস্থাপিত বা ব্যবহৃত হতে না পারে, তদুদ্দেশ্যে উক্তরূপ কাজ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১,৭৭৯.
The Penal Code, 1860 এর ৯৭ ধারানুসারে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিরক্ষার অধিকার থাকবে?
  1. প্রতারণা
  2. আত্মসাৎ
  3. চুরি
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৯৭ - দেহ ও সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার:
৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তির-

• প্রথমত: মানবদেহ বিষয়ক কোন অপরাধের বিরুদ্ধে তার নিজের দেহ এবং অপর যে কোন ব্যক্তির দেহ রক্ষা করার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে;

• দ্বিতীয়ত: এমন কোন অপরাধজনক কাজের বিরুদ্ধে তার নিজের বা অপর যে কোন ব্যক্তির স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে, যে কাজটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের সংজ্ঞানুসারে একটি অপরাধ, অথবা যে কাজটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের প্রয়াসস্বরূপ।
১,৭৮০.
দণ্ডবিধির ৫০৭ ধারা অনুসারে, পূর্ববর্তী ধারার শাস্তি ব্যতীত অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি কী?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০৭ ধারা অনুসারে, অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনকারী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২ বছরের যেকোনো ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, এবং পূর্ববর্তী ধারায় (ধারা ৫০৬) অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত শাস্তিও প্রযোজ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 507: Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
১,৭৮১.
দণ্ডবিধি অনুসারে, “অবৈধ” (Illegal) শব্দটি সেই সমস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
  1. যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়
  2. যা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ
  3. যা দেওয়ানি মামলা দায়েরের ভিত্তি হতে পারে
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৪৩: “অবৈধ” এবং “আইনগতভাবে বাধ্য”-
“অবৈধ” (Illegal) শব্দটি সেই সমস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বা যা দেওয়ানি মামলা দায়েরের ভিত্তি হতে পারে।
“আইনগতভাবে বাধ্য” (Legally bound to do) বলতে বোঝায়, যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কাজ না করার ফলে তা অবৈধ হয়, তবে সেই কাজ করা তার জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।

Section 43- “Illegal” “Legally bound to do”
The word “illegal” is applicable to everything which is an offence or which is prohibited by law, or which furnishes ground for a civil action: and a person is said to be "legally bound to do" whatever it is illegal in him to omit.
১,৭৮২.
চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ এর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড-
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৪: মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর অধিকারে থাকা সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ-
যে ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের কাজে ব্যবহার করে, এই জেনে যে উক্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার অধিকারে ছিল এবং এখনো সেই সম্পত্তি কোনো আইনগতভাবে অধিকারে থাকা ব্যক্তির হেফাজতে যায়নি—তাহলে সে ব্যক্তি অনধিক তিন বছর মেয়াদের যেকোনো প্রকার কারাদণ্ডে (সশ্রম বা বিনাশ্রম) দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে। যদি অপরাধী ঐ মৃত ব্যক্তির চাকর বা কর্মচারী হয়ে থাকে, তাহলে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণ:
Z মারা যায় এবং তার মৃত্যুর সময় তার হেফাজতে আসবাবপত্র ও অর্থ ছিল। তার চাকর A, সেই অর্থ এমন অবস্থায় অসৎভাবে আত্মসাৎ করে যখন তা এখনো কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীর হেফাজতে যায়নি। এই অবস্থায়, A দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় অপরাধ করেছে।

১,৭৮৩.
রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কী?
  1. ৩ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১২৪ক তে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রদ্রোহীতার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড বা ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড।
১,৭৮৪.
দণ্ডবিধির কত ধারায় ধর্ষণের শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৩০২
  2. ৩৭৫
  3. ৩৭৬
  4. ৩৭৭
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ Section 376. Punishment for rape:- Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,৭৮৫.
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ বা যুদ্ধ ঘোষণায় সহায়তার শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. শুধু মৃত্যুদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
• ধারা ১২১ মতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ বা যুদ্ধ ঘোষণায় সহায়তার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদন্ডের বিধান আছে।
১,৭৮৬.
দণ্ডবিধির ১১৭ ধারা অনুযায়ী, কতজন ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করলে এই ধারাটি প্রযোজ্য হবে?
  1. পাঁচজনের অধিক
  2. দশজনের অধিক
  3. সাতজন বা তার অধিক 
  4. যেকোনো সংখ্যক
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১১৭ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই ধারাটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কোন ব্যক্তি "জনসাধারণ" বা "দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা শ্রেণির লোক" দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা বা সাহায্য (Abetment) করে।
- অর্থাৎ দণ্ডবিধি ১১৭ ধারার অনুযায়ী, জনসাধারণ বা দশজনের অধিক ব্যক্তি দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটনে সাহায্য বা উস্কানি দিলে এই ধারা প্রযোজ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৭ ধারার বিধান জনসাধারণ বা দশজনের অধিকসংখ্যক ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্যকরণ:
- জনসাধারণ দ্বারা অথবা দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী দ্বারা অপরাধ সংঘটনে কেউ সাহায্য করলে তাকে তিন বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
-----------
⇒ The Penal Code,1860- Section 117: Abetting commission of offence by the public, or by more than ten persons: 
- Whoever abets the commission of an offence by the public generally or by any number or class of persons exceeding ten, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

১,৭৮৭.
অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীর অপরাধী মন বা উদ্দেশ্যকে কী বলা হয়?
  1. Actus reus
  2. Corpus delicti
  3. Mens rea
  4. Nulla poena
ব্যাখ্যা
কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত করতে প্রধানত ২টি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হয়।
(i) দোষযুক্ত মন বা অপরাধী মন [Mens Rea] এবং
(ii) দোষাবহ কার্য বা অপরাধজনক কার্য [Actus Rea]।

⇒ 'Actus reas' এর আভিধানিক অর্থ 'দোষাবহ কার্য'। এটি অপরাধের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পূর্বে অবশ্যই প্রমাণ করতে হয়। 'Actus reas' অভিযুক্ত ব্যক্তির মানসিক অবস্থার তুল্য নয়; অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা হবে নিছক একটি কার্য, যেমন- সম্পত্তি আত্মসাৎ করা চুরিরূপ কার্য এবং এর সাথে সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি- যেমন, সম্পত্তিটির মালিক ব্যতীত অন্য কেউ যুক্ত থাকবে।

⇒ 'Mens rea' শব্দের অর্থ ‘অপরাধী মন বা দোষযুক্ত মন' (guilty mind). অপরাধ সংঘটনের সময়ে আসামীর মনের অবস্থা “Mens rea' নামে পরিচিত। এটা ‘অপরাধীর দুষ্টমন' নামেও পরিচিত। একজন অপরাধী শুধু তার অপরাধজনক কার্যের জন্যই দায়ী হয় না বরং সে তার কার্যের সাথে তার অপরাধী মন বা অপরাধ করার ইচ্ছা বা উদ্দেশ্যের জন্যই বিশেষভাবে দায়ী হয়ে থাকে। এই অপরাধী মন বা অপরাধ করার ইচ্ছাকে বলা হয় mens rea বা guilty mind.

অন্যদিকে,
⇒ Corpus delicti:
এটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ "অপরাধের দেহ" বা "body of the crime"। এটি মূলত সেই প্রমাণকে নির্দেশ করে, যা প্রমাণ করে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হত্যার মামলায় Corpus delicti হলো মৃতদেহ এবং অন্যান্য প্রমাণ যা প্রমাণ করে যে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

⇒ Nulla poena:
Nulla poena sine lege ল্যাটিন ভাষায় একটি আইনি নীতি, যার অর্থ "কোনো শাস্তি ছাড়া আইন নয়" বা "no penalty without a law"। এর মানে হলো, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এমন অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে না, যা ঘটনার সময় কোনো বিদ্যমান আইন দ্বারা শাস্তিযোগ্য ছিল না। এটি আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে এবং রেট্রোস্পেকটিভ বা পূর্ববর্তী অপরাধের শাস্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।
১,৭৮৮.
দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় কোন বিষয়টি গুরুত্ব পায়?
  1. ব্যক্তিগত অভিপ্রায়
  2. সাধারণ অভিপ্রায়
  3. হঠাৎ অপরাধ সংঘটন
  4. একক অপরাধী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন একাধিক ব্যক্তি একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য একত্রিত হয় এবং তারা একই উদ্দেশ্য (অভিপ্রায়) বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে, তখন প্রত্যেক ব্যক্তি সেই অপরাধের জন্য সমানভাবে দায়ী হন, যদিও অপরাধটি প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে সম্পাদন না করে থাকে।
এই ধারার প্রয়োগের জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হতে হবে—
- একাধিক ব্যক্তি (কমপক্ষে ২ জন বা তার বেশি) অপরাধে অংশগ্রহণ করবে।
- সাধারণ অভিপ্রায়ের (common intention) উপস্থিতি থাকতে হবে।
- অপরাধ সংঘটিত করতে সকলে মিলিতভাবে কাজ করবে।
এটি ব্যক্তিগত অভিপ্রায়ের (Individual Intention) উপর নির্ভর করে না, বরং সকলের সম্মিলিত পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যই মূল বিবেচ্য বিষয়।

উদাহরণ:
ধরা যাক, ছয় ব্যক্তি পরিকল্পনা করে একটি বাড়িতে ডাকাতি করতে যায় এবং তাদের মধ্যে একজন খুন করে। যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তারা একই অভিপ্রায়ে অপরাধ করেছিল, তবে প্রত্যেকে খুনের জন্য দায়ী হবে, যদিও খুনটি একজন ব্যক্তি সরাসরি করেছে।

সুতরাং, দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ অভিপ্রায় থাকা অপরাধীদের প্রত্যেককে এমনভাবে দায়ী করা হয় যেন সে এককভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছে।
১,৭৮৯.
'A' হিংস্র কুকুরের বাঁধন খুলতে শুরু করে এটা জেনে যে বা এই উদ্দেশ্যে যে এটা 'Z' কে বিশ্বাস করাবে যে, সে কুকুরটি দিয়ে 'Z' কে আক্রমণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ দণ্ডবিধির কোন ধারায় সংজ্ঞায়িত অপরাধ করেছে?
  1. ধারা ৩৪৯
  2. ধারা ৩৫০
  3. ধারা ৩৫১
  4. ধারা ৩৫২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারার বিধান  আক্রমণ:- কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।
উদাহরণ
(ক) ক, চ-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে চ যাতে বিশ্বাস করে যে ক তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই ক তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে। ক আক্রমণ করেছে। 
-----------
Assault
Section 351. Whoever makes any gesture, or any preparation intending or knowing it to be likely that such gesture or preparation will cause any person present to apprehend that he who makes that gesture or preparation is about to use criminal force to that person, is said to commit an assault. 
 
Explanation.- Mere words do not amount to an assault. But the words which a person uses may give to his gestures or preparation such a meaning as may make those gestures or preparations amount to an assault. 
 
Illustrations 
(a) A shakes his fist at Z, intending or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that A is about to strike Z. A has committed an assault. 
(b) A begins to unloose the muzzle of a ferocious dog, intending, or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that he is about to cause the dog to attack Z. A has committed an assault upon Z. 
(c) A takes up a stick, saying to Z, "I will give you a beating". Here, though the words used by A could in no case amount to an assault, and though the mere gesture, unaccompanied by any other circumstances, might not amount to an assault, the gesture explained by the words may amount to an assault.
১,৭৯০.
দণ্ডবিধির ৯৫ ধারার অধীন কোন কাজ অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে না?
  1. নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক কৃত কার্য
  2. সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য
  3. সামান্য ক্ষতিকারক কার্য
  4. নাবালক কর্তৃক কৃত কার্য
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৯৫ ধারা- সামান্য ক্ষতিকারক কার্য:
সামান্য ক্ষতিকারক যে কার্যে সাধারণ বোধ ও মেজাজ সম্পন্ন কোন ব্যক্তি ক্ষতির অভিযোগ করবে না, এমন কোন কাজ অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না- যদিও কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতিসাধিত হয় বা কাজটি অনুরূপ ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়, অথবা কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতি হতে পারে বলে উহার সম্পন্নকারীর জানা থাকে।

Section 95- Act causing slight harm:
Nothing is an offence by reason that it causes, or that it is intended to cause, or that it is known to be likely to cause, any harm, if that harm is so slight that no person of ordinary sense and temper would complain of such harm.
১,৭৯১.
দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধনের শাস্তি কী হতে পারে?
  1. শুধু কারাদণ্ড
  2. শুধু অর্থদণ্ড
  3. কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড
  4. কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন,
অনিষ্টসাধনের শাস্তি হতে পারে ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস বা অর্থদণ্ড বা উভয়।

Section 426⇒ Punishment for mischief:
Whoever commits mischief shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine, or with both.
১,৭৯২.
দণ্ডবিধির ধারা ১৫৩খ তে শিক্ষার্থী সম্পর্কিত কোন ধরনের কাজকে শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে?
  1. পড়াশোনা থেকে বিরত রাখা
  2. সামাজিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে বাধ্য করা
  3. ধর্মীয় কার্যকলাপে অংশগ্রহণে বাধ্য করা
  4. রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করা
ব্যাখ্যা
ধারা ১৫৩খ: শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করা:
যে কেউ, কথা দিয়ে, তা লিখিত বা মৌখিক হোক, বা চিহ্ন দিয়ে, দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে, বা অন্য কোনোভাবে, কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের কোনো শ্রেণি, বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত বা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগ্রহী কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমন কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে প্ররোচিত করে বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করে যা জনশৃঙ্খলা ব্যাহত বা ধ্বংস করে, বা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
১,৭৯৩.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অন্তর্ভুক্ত অপরাধ?
  1. মানহানি
  2. সরকারি নথি জাল করা
  3. বল প্রয়োগ করে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা
  4. প্রতারণা করে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২০ অনুযায়ী,
যদি কেউ প্রতারণা করে এবং এর ফলে প্রতারিত ব্যক্তিকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করে, অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোনো মূল্যবান দলিল (যেমন চেক, চুক্তি ইত্যাদি) তৈরি, পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে প্ররোচিত করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য তাকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং এর পাশাপাশি তাকে অর্থদণ্ডও দেয়া যেতে পারে।

[Whoever cheats and thereby dishonestly induces the person deceived to deliver any property to any person, or to make, alter or destroy the whole or any part of a valuable security, or anything which is signed or sealed, and which is capable to being converted into a valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.]
১,৭৯৪.
X, Y কে Z এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। Y, Z এর ঘরে আগুন দেয় এবং চুরি করে। X______________দায়ী হবে।
  1. চুরি এবং ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য
  2. চুরিতে প্ররোচনার জন্য
  3. ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ১১১ ধারা মতে যখন একটি কাজের জন্য সহায়তা করা হয়েছে কিন্তু সে কাজটি ভিন্ন অপর একটি কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তখন যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে তার জন্য প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা হলে যে অপরাধ হত সে অপরাধের জন্য যেভাবে এবং যতটুক পর্যন্ত দণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সহায়তাকারী সেভাবে এবং ততটুকু পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে,
♦তবে শর্ত থাকে যে, যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে সে কাজটি সহায়তার একটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে হবে, এবং যে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্র দ্বারা সহায়তা করা হয়েছে কাজটি সে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্রের প্রভাবেই সম্পাদিত হতে হবে।

♦আলোচ্য প্রশ্নে X, Y কে Z এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। Y, Z এর ঘরে আগুন দেয় এবং চুরি করে। এখানে প্ররোচনা করা হয়েছিল ঘরে আগুন দেওয়ার কিন্তু Y চুরিও করে। এখানে চুরি হলো আগুন দেওয়া হতে ভিন্ন অপরাধ। যেহেতু ঘরে আগুন দেওয়ার সম্ভাব্য ফলাফল চুরি না, সেহেতু শুধুমাত্র ঘরে আগুন দেওয়ার প্ররোচনার জন্য X দায়ী হবে কিন্তু চুরি করতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবেনা। তবে Y ঘরে আগুন দেওয়া ও চুরি উভয় অপরাধের জন্য দায়ী হবে। 
১,৭৯৫.
নিম্নের কোনটি গুরুতর আঘাত নয়?
  1. দুই চক্ষুর যে কোনটিতে দৃষ্টিশক্তি রহিতকরণ
  2. দুই কর্ণের যে কোনটির শ্রবণশক্তি রহিতকরণ
  3. যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্টসাধন
  4. আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দশ দিন মেয়াদের জন্য তীব্র যন্ত্রণা দান করে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ Grievous hurt:
Section 320. The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,৭৯৬.
What is the maximum term of imprisonment for someone who cheats and induces another person to deliver property under section 420 of The Penal Code, 1860?
  1. Three years
  2. Five years
  3. Seven years
  4. Ten years
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২০ অনুযায়ী,
যদি কেউ প্রতারণা করে এবং এর ফলে প্রতারিত ব্যক্তিকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করে, অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোনো মূল্যবান দলিল (যেমন চেক, চুক্তি ইত্যাদি) তৈরি, পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে প্ররোচিত করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য তাকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং এর পাশাপাশি তাকে অর্থদণ্ডও দেয়া যেতে পারে।

[Whoever cheats and thereby dishonestly induces the person deceived to deliver any property to any person, or to make, alter or destroy the whole or any part of a valuable security, or anything which is signed or sealed, and which is capable to being converted into a valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.]
১,৭৯৭.
'ক' বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করে এক ধর্মীয় স্থানের ক্ষতি করে। তাকে দণ্ডবিধির কত ধারার অধীনে শাস্তি দেয়া যেতে পারে?
  1. ৪২৬ ধারা
  2. ৪৩৬ ধারা
  3. ৪৩৭ ধারা
  4. ৪৩৯ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪৩৬ ধারা- আগুন বা বিস্ফোরক দ্বারা ক্ষতি:
যে ব্যক্তি আগুন বা কোনো বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করে এমন ক্ষতি করে যা সাধারণত উপাসনাগৃহ, মানববাসস্থান বা সম্পত্তির সুরক্ষার জায়গারূপে ব্যবহৃত হয়, এবং তার উদ্দেশ্য থাকে বা সে জানে যে এইভাবে ওই স্থানের ধ্বংস সাধিত হতে পারে, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।

Section 436- Mischief by fire or explosive substance with intent to destroy house, etc.:
Whoever commits mischief by fire or any explosive substance, intending to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, the destruction of any building which is ordinarily used as a place of worship or as a human dwelling or as a place for the custody of property, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১,৭৯৮.
দণ্ডবিধি অনুসারে মারামারি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ১৫ দিন
  2. ১ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৬০ অনুসারে, মারামারির (Affray) অপরাধে সর্বোচ্চ ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই কারাদণ্ড সশ্রম বা বিনাশ্রম যেকোনো প্রকারের হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান  মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
___________
⇒ The Penal Code, 1860- Section 159:- Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒ Section 160: Punishment for committing affray:
-Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.

১,৭৯৯.
মিনা তার বন্ধুর দোকানে বৈধভাবে প্রবেশ করে কিন্তু তারপর বন্ধুকে বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে সেখানে বেআইনীভাবে অবস্থান করে। এটি দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার অধীনে কীভাবে বিবেচিত হবে?
  1. প্রতারণার অপরাধ
  2. সম্পত্তির ক্ষতির অপরাধ
  3. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ
  4. কোনো অপরাধ নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা অনুযায়ী যদি কেউ প্রথমে বৈধভাবে কারো দখলভুক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে, কিন্তু পরে অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করে, এবং তার সেই অবস্থান যদি হয় কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে, বা উক্ত ব্যক্তিকে ভীতিপ্রদর্শন, অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে, তবে সেই ব্যক্তি "অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ" (Criminal Trespass) করেছে বলে ধরা হবে।

- মিনার ক্ষেত্রে: সে তার বন্ধুর দোকানে বৈধভাবে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু পরে বন্ধুকে বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে বেআইনীভাবে অবস্থান করেছে এটি স্পষ্টভাবে দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার আওতায় "অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ" হিসাবে গণ্য হবে।


⇒ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার বিধান অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে, অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ' করেছে বলে পরিগণিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-441: Criminal trespass:- Whoever enters into or upon property in the possession of another with intent to commit an offence or to intimidate, insult or annoy any person in possession of such property. or, having lawfully entered into or upon such property, unlawfully remains there with intent thereby to intimidate insult or annoy any such person, or with intent to commit an offence, is said to commit "criminal trespass".
১,৮০০.
'A' জানে যে কিছু মুদ্রা জাল এবং সে এই জাল মুদ্রা বাংলাদেশে আমদানি করে। দণ্ডবিধির ২৩৭ ধারা অনুযায়ী, 'A'-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ২ বছর কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৩৭ অনুসারে, জাল মুদ্রা বলে জেনে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে আমদানি বা রপ্তানি করলে অপরাধ সংঘটিত হয়।
- এই অপরাধের শাস্তি হলো: সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড (imprisonment of either description), এবং অর্থদণ্ড (shall be liable to fine)।
- অতএব, সঠিক উত্তর খ) ৩ বছর কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩৭ ধারার বিধান: জাল মুদ্রা আমদানি কিংবা রপ্তানি:
-মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহা রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 237: Import or export of counterfeit coin:
- Whoever imports into Bangladesh, or exports there from, any counterfeit coin, knowingly or having reason to believe that the same is counterfeit, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall be liable to fine.