বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা ১১ / ২৫ · ১,০০১১,১০০ / ২,৪৪৭

১,০০১.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৪ প্রযোজ্য হতে হলে আটকের ন্যূনতম সময় কত হতে হবে?
  1. ৩ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান- দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে আটক:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে আটক করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:
Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

১,০০২.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যোগের শাস্তি দণ্ডবিধির কত ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ৫১১ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫১১ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ উদাহরণ:
(ক) ক একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
(খ) ক চ-এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। চ-এর পকেটে কিছু ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ক এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।
-----------------
⇒ Section 511- Punishment for attempting to commit offences punishable with imprisonment for life or imprisonment:. Whoever attempts to commit an offence punishable by this Code with imprisonment for life or imprisonment, or to cause such an offence to be committed, and in such attempt does any act towards the commission of the offence, shall, where no express provision is made by this Code for the punishment of such attempt, be punished with imprisonment of any description provided for the offence, for a term which may extend to one-half of the longest term of imprisonment provided for that offence, or with such fine as is provided for the offence, or with both. 
 
⇒ Illustration
(a) A makes an attempt to steal some jewels by breaking open a box, and finds after so opening the box, that there is no jewel in it. He has done an act towards the commission of theft, and therefore is guilty under this section. 
(b) A makes an attempt to pick the pocket of Z by thrusting his hand into Z's pocket. A fails in the attempt in consequence of Z's having nothing in his pocket. A is guilty under this section.
১,০০৩.
কবরস্থানে অনধিকার প্রবেশ করে কারো অনুভূতিতে আঘাত করলে বা ধর্ম অবমাননা করলে দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী শাস্তি হবে?
  1. ২৯৫ ধারা
  2. ২৯৬ ধারা
  3. ২৯৭ ধারা
  4. ২৯৮ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৯৭ অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কারো ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করতে বা কারো অনুভূতিতে আঘাত করার জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কবরস্থান বা মৃতদেহের জন্য নির্ধারিত স্থান-এ অনধিকার প্রবেশ (trespass) করে, অথবা কোনো মানব মৃতদেহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে, অথবা কোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা ধর্মীয় দাফন অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, section 297. Trespassing on burial places, etc.
- Whoever, with the intention of wounding the feelings of any person, or of insulting the religion of any person, or with the knowledge that the feelings of any person are likely to be wounded, or that the religion of any person is likely to be insulted thereby, commits any trespass in any place of worship or on any place of sepulture, or any place set apart for the performance of funeral rites or as a depository for the remains of the dead, or offers any indignity to any human corpse, or causes disturbance to any persons assembled for the performance of funeral ceremonies, 
shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

১,০০৪.
যদি কোনো ব্যক্তি সরকারের কোনো কাজের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা করা ছাড়া অসমর্থন প্রকাশ করে, তবে তা কী ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. রাষ্ট্রদ্রোহিতা
  2. সাধারণ অপরাধ
  3. গুরুতর অপরাধ
  4. অপরাধ নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ১২৪ক- রাষ্ট্রদ্রোহিতা:
কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা ১: ‘বৈরিতা' বলতে রাজানুগত্যহীনতা এবং সর্বপ্রকার শত্রুতার ভাব বুঝায়।

ব্যাখ্যা ২: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

ব্যাখ্যা ৩: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করার বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই সরকারের কোন শাসন পরিচালন বিষয়ক বা অন্যরূপ কার্য সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

Section 124A- Sedition:
Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representation, or otherwise, brings or attempts to bring into hatred or contempt, or excites or attempts to excite disaffection towards, the Government established by law shall be punished with imprisonment for life or any shorter term, to which fine may be added, or with imprisonment which may extend to three years, to which fine may be added, or with fine.

Explanation 1.- The expression "disaffection" includes disloyalty and all feelings of enmity.

Explanation 2.- Comments expressing disapprobation of the measures of the Government with a view to obtain their alteration by lawful means, without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section.

Explanation 3.- Comments expressing disapprobation of the administrative or other action of the Government without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section.
১,০০৫.
'Assault or criminal force to deter public servant from discharge of his duty' অপরাধের শাস্তি কী?
  1. ৩ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়ই
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. কোনটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
• Section 353- Assault or criminal force to deter public servant from discharge of his duty

Whoever assaults or uses criminal force to any person being a public servant in the execution of his duty as such public servant, or with intent to prevent or deter that person from discharging his duty as such public servant, or in consequence of anything done or attempted to be done by such person in the lawful discharge of his duty as such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারার বিধান:
কোনো ব্যক্তি যদি এমন অন্য কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা তার ওপর বল প্রয়োগ করে, যে ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে কর্তব্য সম্পাদনরত অথবা অনুরূপ কর্মচারীকে তার সরকারি কর্মচারী হিসেবে করণীয় কর্তব্য সম্পাদনে বাধা দানের উদ্দেশ্যে তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে তিন বছর বা যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, এমনকি উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
১,০০৬.
'ক' একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। 'চ' শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কূপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। 'ক' কী অপরাধ করেছে?
  1. খুন
  2. গুরুতর জখম
  3. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  4. হত্যার চেষ্টা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):
কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক' একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। 'চ' শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কূপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। 'ক' শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে 'ক' ও 'খ' রয়েছে এবং অন্য পাশে 'চ' রয়েছে 'ক' জানে যে, 'চ' অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু 'খ' তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে 'চ'-এর মৃত্যু হয় সে। উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে 'চ'-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও 'ক' ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য 'খ'-কে অনুরোধ করে। 'খ' অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে 'চ' এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে 'খ' কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু 'ক' শাস্তি যোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) 'ক' একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে 'খ'-এর মৃত্যু হয়। 'ক' জানত না যে, 'খ' সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে 'ক' যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে 'খ'-কে হত্যা করতে চায় নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।
১,০০৭.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় ‘প্রতারণা’ এর সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪১৫
  2. ৪০৬
  3. ৪১৭
  4. ৪২০
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৪১৫ ধারায় প্রতারণার বিধান রয়েছে। প্রতারণা বলতে ফাঁকি দিয়ে বা মিথ্যা বর্ণনার দ্বারা কাউকে এমনভাবে প্রভাবিত করা যে, প্রতারিত ব্যক্তি যেন প্রতারণাকারীর ইচ্ছামাফিক কোন কাজ করে যা প্রতারিত ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করে (damage or harm to that person in body,mind,reputation or property) অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা না করতে বা সম্পত্তি অর্পনে বাধ্য করে।

♦ যে ব্যক্তি প্রতারণা করেন তাকে প্রতারণাকারী বলে, অন্যদিকে যে ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হন তাকে প্রতারিত বলে ।

♦ উদাহরণ-: কোন পণ্যের উপর কোন নকল মার্কা দিয়ে ক, প্রবঞ্চনামূলকভাবে চ-কে বিশ্বাস করায় যে, পণ্যটি কোন প্রসিদ্ধ কোম্পানির তৈরি। এর দ্বারা ক, চ-কে সেই পণ্যটি ক্রয় করতে ও মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। এখানে ক, চ-এর সাথে প্রতারণা করেছে।
১,০০৮.
'A' পুলিশের সদস্য না হয়েও নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে 'B' এর কাছ থেকে জামিনের টাকা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। দণ্ডবিধির কত ধারা অনুযায়ী 'A' এর কৃতকাজটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
  1. ৪১৫
  2. ৪১৬
  3. ৪০৫
  4. ৪২৫
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারায় অপরের রূপধারণ পূর্বক প্রতারণা বা ছদ্মবেশী প্রতারণার (cheating by personation) বিধান রয়েছে।
- প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে উপস্থিত করলে তাকে ছদ্মবেশী প্রতারণা বা Cheating by personation বলে। যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয় সে ব্যক্তি প্রকৃত বা কল্পিত যাই হোক না কেন তা ছদ্মবেশে প্রতারণা হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা: কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation):-
যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।
উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে, খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় cheating by personation এর শাস্তি বর্ণিত আছে যা অনধিক ৩ বৎসর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
--------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-416. Cheating by personation:
A person is said to "cheat by personation" if he cheats by pretending to be some other person, or by knowingly substituting one person for another, or representing that he or any other person is a person other than he or such other person really is. 
Explanation.-The offence is committed whether the individual personated is a real or imaginary person. 

Illustrations:
(a) A cheats by pretending to be a certain rich banker of the same name. A cheats by personation. 
(b) A cheats by pretending to be B, a person who is deceased. A cheats by personation.
১,০০৯.
Under Section 319, causing which of the following can be considered as "hurt"?
  1. Disease
  2. Infirmity
  3. Physical pain
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
Section 319- Hurt:
Whoever causes bodily pain, disease or infirmity to any person is said to cause hurt.

দণ্ডবিধির ৩১৯ ধারা: আঘাত:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণা, ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।
১,০১০.
‘A’ এক গর্ভবতী নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটায়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কোন ধারা অনুসারে সে অপরাধী হবে?
  1. ৩১২ ধারা
  2. ৩১৩ ধারা
  3. ৩১৪ ধারা
  4. ৩১৬ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩১৩ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি গর্ভবতী নারীর সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটায়, তবে সে অপরাধী হবে। শাস্তি হিসেবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, ‘A’ জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভবতী নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভপাত ঘটিয়েছে, যা ধারা ৩১৩-এর অধীনে অপরাধ।
- সুতরাং, এই ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর হলো ধারা ৩১৩।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ:-
-কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 313. Causing miscarriage without women's consent:
- Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

১,০১১.
দণ্ডবিধি অনুসারে নিচের কোনটি গুরুতর আঘাত নয়?
  1. কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ
  2. যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্টসাধন
  3. মাথা বা মুখমণ্ডল ক্ষণস্থায়ী ভাবে ক্ষত করণ
  4. দুই কর্ণের যে কোন কোনটির শ্রবণশক্তি রহিতকরণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।

উল্লিখিত প্রশ্নে 'মাথা বা মুখমণ্ডল ক্ষণস্থায়ী ভাবে ক্ষত করণ' গুরুতর আঘাত নয়। কারণ মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ হচ্ছে গুরুতর আঘাত।
----------------------------
⇒ Grievous hurt:
Section 320. The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,০১২.
নিচের কোন শাস্তিটি দণ্ডবিধি অনুযায়ী বৈধ নয়?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. নির্জন কারাবাস
  3. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিনাশ্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple)
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
(v) অর্থদণ্ড (fine)
- ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
- দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও বিনাশ্রম।
- Section-53 Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.

- অর্থাৎ দণ্ডবিধি অনুসারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিনাশ্রম বৈধ শাস্তি নয়।
১,০১৩.
দণ্ডবিধির ৩৮২ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ চুরির পূর্বে কারো মৃত্যু ঘটানোর বা আঘাত করার প্রস্তুতি নিয়ে চুরি করে, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮২ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ চুরির পূর্বে বা চুরির সময় বা চুরির পর পালানোর উদ্দেশ্যে মৃত্যু ঘটানোর, আঘাত করার, আটক রাখার, অথবা ভয় সৃষ্টি করার প্রস্তুতি নেয়, এবং এরপর চুরি সম্পন্ন করে, তবে সেই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৮২ ধারার বিধান চুরির উদ্দেশ্যে মৃত্যু ঘটানো, আঘাত করা বা আটকানোর প্রস্তুতি গ্রহণান্তে চুরি:-
কোন ব্যক্তি যদি চুরি করার পূর্বে চুরি করার জন্য, অথবা চুরি করে পলায়নের জন্য অথবা অনুরূপ চুরি কর্তৃক লব্ধ সম্পত্তি রক্ষণের জন্য মৃত্যু ঘটানোর, অথবা আঘাত করার, অথবা আটকানোর অথবা মৃত্যুর ভয় সৃষ্টি করার, অথবা আঘাত করার, ভয় সৃষ্টি করার অথবা আটকানোর প্রস্তুতি গ্রহণান্তে চুরি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডিত হবে।

⇒ উদাহরণসমূহ:
(ক) ক, গ এর দখলভুক্ত সম্পত্তি চুরি করে। চুরি করার সময় সে পোশাকের নিচে একটি গুলি ভর্তি পিস্তল লুকিয়ে রাখে। গ বাধা দিলে তাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ক গুলি ভর্তি পিস্তলটি রাখে। 'ক' এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছেন বলে পরিগণিত হবে।
(খ) ক গ-এর পকেট মারে। পকেট মারার পূর্বে সে তার কয়েকটি সঙ্গীকে আশেপাশে মোতায়েন করে। গ যদি টের পায় যে, তার পকেট মারা হচ্ছে এবং টের পেয়ে যদি সে তা রোধ করতে চায় অথবা যদি সেককে আটক করার চেষ্টা করে, তবে তাকে রাখার উদ্দেশ্যে ক তার সঙ্গীদের মোতায়েন করে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 382. Theft after preparation made for causing death, hurt or restraint, in order to the committing of the theft:
Whoever commits theft, having made preparation for causing death, or hurt, or restraint, or fear of death, or of hurt, or of restraint, to any person, in order to the committing of such theft, or in order to the effecting of his escape after the committing of such theft, or in order to the retaining of property taken by such theft, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

⇒ Illustrations:
(a) A commits theft on property in Z's possession; and, while committing this theft, he has a loaded pistol under his garment having provided this pistol for the purpose of hunting Z in case Z should resist. A has committed the offence defined in this section.
(b) A picks Z's pocket, having posted several of his companions near him, in order that they may restrain Z, if Z should perceive what is passing and should resist, or should attempt to apprehend A. A has committed the offence defined in this section.
১,০১৪.
কয় পদ্ধতিতে অপরাধের সহায়তা (abetment) করা যায়?
  1. ২ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ৪ ভাবে
  4. অসংখ্য ভাবে
ব্যাখ্যা
♦ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন যোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়ে। 
     ♦ ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে

      (i) কাউকে প্ররোচিত করে  (instigation)

      (ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে  (engagement)

      (iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে  (aiding)
১,০১৫.
The Penal Code এর বিধান অনুসারে “Person” শব্দের মানে কী?
  1. শুধুমাত্র নারী ব্যক্তি
  2. শুধুমাত্র পুরুষ ব্যক্তি
  3. শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি
  4. ব্যক্তি, কোম্পানি বা কোন প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২য় অধ্যায়ের ৬ থেকে ৫২ক ধারার সাধারণ ব্যাখ্যা (General Explanation) অংশে দণ্ডবিধিতে ব্যবহৃত কতিপয় শব্দের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ১১ ধারায় ব্যক্তি (Person) সংজ্ঞা রয়েছে।
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১১ অনুযায়ী: “Person” বলতে বোঝায় – যে কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, সমিতি (Association), বা যেকোনো ব্যক্তি-সমষ্টি, সেটা নিবন্ধিত/কর্পোরেট হোক বা না হোক।
অর্থাৎ Person = Individual + Company + Association + Body of Persons.
-------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 11: “Person”:
- The word “person” includes any Company or Association, or body of persons, whether incorporated or not.

১,০১৬.
দণ্ডবিধির ধারা ২৯৫ক অনুযায়ী, কোনো শ্রেণীর নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কোনো লিখিত বা কথিত শব্দের মাধ্যমে তাদের ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাস অবমাননা করলে সর্বোচ্চ কত দিনের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৯৫ক অনুযায়ী যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত এবং কু-উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে (deliberate and malicious intention) বাংলাদেশের কোনো শ্রেণির নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করতে, কথা বলে (spoken words),  লিখে (written words), দৃশ্যরূপে কোনো উপস্থাপনা (visible representation) করে, বা ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননা করে বা অবমাননার চেষ্টা করে, তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড প্রদান করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, section 295A-Deliberate and malicious acts intended to outrage religious feelings of any class by insulting its religion or religious beliefs:
- Whoever, with deliberate and malicious intention of outraging the religious feelings of any class of the citizens of Bangladesh, by words, either spoken or written, or by visible representations insults or attempts to insult the religion or the religious beliefs of that class, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১,০১৭.
ব্যাংক কোম্পানীর সাথে প্রতারণার শাস্তি কত?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৬২খ - ব্যাংকিং কোম্পানিকে প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণের জন্য দণ্ড:
“যে কেউ কোনো ব্যাংকিং লেনদেনের সময় প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ব্যাংকিং কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।”

ব্যাখ্যা (Explanation):
এই ধারায় এবং ৪৬২A ধারায় “ব্যাংকিং কোম্পানি” বলতে বোঝায়—

১. ব্যাংকিং কোম্পানি (Banking Company Ordinance, 1962 এর ৫(গ) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত)
২. বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয়করণ আদেশ, ১৯৭২ (P.O. No. 26 of 1972) অনুসারে গঠিত কোনো ব্যাংক
৩. আর্থিক প্রতিষ্ঠান, (বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ এর ৫০(গ) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত)
৪. বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা, ১৯৭২ (P.O. No. 128 of 1972)
৫. বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, ১৯৭২ (P.O. No. 129 of 1972)
৬. বাংলাদেশ গৃহ নির্মাণ অর্থ সংস্থা, ১৯৭৩ (P.O. No. 7 of 1973)
৭. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ১৯৭৩ (P.O. No. 27 of 1973)
৮. ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, ১৯৭৬ (Ord. XL of 1976)
৯. গ্রামীণ ব্যাংক, ১৯৮৩ (Ord. XLVI of 1983)
১০. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ১৯৮৬ (Ord. LVIII of 1986)
১১. ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত কোনো ব্যাংক।
১,০১৮.
'ক' এমনভাবে 'খ' এর দিকে মুষ্টি পাকায় যাতে 'খ' এর বিশ্বাস করার কারণ জন্মায় যে 'ক' তাকে মারতে উদ্যত হয়েছে। 'ক' কোন অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে?
  1. বল প্রয়োগ
  2. আক্রমণ
  3. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ
  4. কোন অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
• ৩৫২ ধারা মতে যখন কোন অপরাধজনক বল প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অপরাধজনক বল প্রয়োগ করা হয় না তখন তাকে আক্রমণ বলে।
১,০১৯.
'প্রতারণা' সংঘটিত হলে প্রতারিত ব্যক্তির কি ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে?
  1. দেহের ক্ষতি
  2. সম্পত্তির ক্ষতি
  3. খ্যাতির ক্ষতি
  4. উল্লিখিত সকল
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারা- প্রতারণা:
যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের, খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।

Section 415- Cheating:
Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat". 
 
Explanation. A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
১,০২০.
দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় (মানহানি) কয়টি ব্যাখ্যা আছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ১১ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার বিধান মানহানি:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য অভিপ্রেত কথা বা চিহ্ন কর্তৃক বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়াই অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ১:- যে মৃত ব্যক্তির জীবনকালে তার সম্পর্কে কোন নিন্দা করা হলে তার মানহানি ঘটত, সে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কোন নিন্দাবাদ এবং সে মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের বা অন্যান্য কাছে আত্মীয়ের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নিন্দাবাদ করা, মানহানি বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা ২:- কোন কোম্পানি বা সংঘ বা ব্যক্তিসমাবেশ সম্পর্কে সমষ্টিগতভাবে কোন নিন্দাবাদ করা মানহানি বলে পরিগণিত হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৩:- বিকল্পরূপে বা বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যক্ত কোন নিন্দাবাদ মানহানির সামিল হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্যক্তির দৃষ্টিতে সে ব্যক্তির নৈতিক বা বুদ্ধিগত চরিত্র হেয় না করলে, অথবা তার বর্ণ বা সম্প্রদায় কিংবা তার পেশার দিক হতে সে ব্যক্তির চরিত্রকে হেয় না করলে, অথবা সে ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ক্ষুন্ন না করলে, অথবা তার দেহ বীভৎস বা ঘৃণা অবস্থায় বা যে অবস্থা সাধারণভাবে অরুচির বলে গণ্য, সে অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি না করলে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নিন্দাবাদ তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করে নাই বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় (মানহানি) ৪টি ব্যাখ্যা আছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবেনা।

⇒ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
১,০২১.
অসাধুভাবে তথ্য গোপনকরা প্রতারণার ক্ষেত্র কে কী বলে গণ্য হবে?
  1. জালিয়াতি (Forgery)
  2. প্রতারণা (Fraud)
  3. ছলনা বা প্রবঞ্চনা (Deception)
  4. প্ররোচনা (Inducement)
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
------------
Cheating
Section 415. Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat". 
 
Explanation. A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
১,০২২.
দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১ অনুযায়ী, প্ররোচনাটি কেমন হলে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা 'খুন' হিসেবে পরিগণিত হবে না?
  1. পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত
  2. ধীর ও সুপরিকল্পিত
  3. মারাত্মক ও আকস্মিক
  4. অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্ররোচিত
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০০ ধারা- খুন:

ব্যতিক্রম ১: যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।

ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

উদাহরণ:
'চ' আইনসম্মতভাবে 'ক'-কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ফলে 'ক' হঠাৎ ও আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে 'চ'-কে হত্যা করে। এটা খুন, কেননা এটা উস্কানির ফলে একজন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক তার ক্ষমতা প্রয়োগক্রমে কৃত একটি কাজ।
১,০২৩.
দণ্ডবিধির ৫০৫ক ধারার অধীনে, যে ব্যক্তি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর কোনো বক্তব্য, গুজব বা প্রতিবেদন তৈরি বা প্রচার করে, তাকে সর্বোচ্চ কী শাস্তি প্রদান করা হতে পারে?
  1. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০৫ক ধারার বিধান কথার দ্বারা ক্ষতিকর কাজ, ইত্যাদি:
- যদি কোন ব্যক্তি
(ক) কথার দ্বারা, বলে অথবা লিখে কিংবা স্বাক্ষর করে বা দৃশ্যমান বর্ণনা দিয়ে কিংবা অন্যভাবে কোন কিছু করে, অথবা
(খ) কোন বিবৃতি, উড়ো খবর বা প্রতিবেদন তৈরি করে, প্রকাশ করে বা প্রচার করে, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার বা জনশৃঙ্খলার বা বিদেশের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বা জনসাধারণের আবশ্যকীয় সরবরাহ বা সেবা রক্ষায় অনিষ্টকর, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থ দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-------------------- 
⇒ The Penal Code,1860- Section-505A. Prejudicial act by words, etc.
Whoever- 
(a) by words, either spoken or written, or by signs or by visible representation or otherwise does anything, or 
(b) makes, publishes or circulates any statement, rumour or report, 
which is, or which is likely to be prejudicial to the interests of the security of Bangladesh or public order, or to the maintenance of friendly relations of Bangladesh with foreign states or to the maintenance of supplies and services essential to the community, shall be punished with imprisonment for a term which may extend to seven years, or with fine, or with both.
১,০২৪.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৫ অনুসারে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১৪ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫৫ ধারা ("Commutation of sentence of imprisonment for life") অনুযায়ী: সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির শাস্তি অনূর্ধ্ব ২০ (সর্বোচ্চ ২০) বছর কারাদণ্ডে রূপান্তর করতে পারেন। এটি অপরাধীর সম্মতি ছাড়াই করা যায়। রূপান্তরিত দণ্ড সশ্রম (Rigorous) বা বিনাশ্রম (Simple) কারাদণ্ড হতে পারে।
- সরকার ২০ বছরের বেশি মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারবেন না।
---
⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

১,০২৫.
'A' makes a false entry in his Shop-book for the purpose of using it as corroborative evidence in a Court of Justice. 'A' has-
  1. committed no offence
  2. fabricated false evidence
  3. committed forgery
  4. made genuine evidence
ব্যাখ্যা
Section 192. Fabricating false evidence:
Whoever causes any circumstance to exist or makes any false entry in any book or record, or makes any document containing a false statement, intending that such circumstance, false entry or false statement may appear in evidence in a judicial proceeding, or in a proceeding taken by law before  a public servant as such, or before an arbitrator, and that such  circumstance, false entry or false statement, so appearing in evidence, may cause any person who in such proceeding is to form an opinion upon the evidence, to entertain an erroneous opinion touching any point material to the result of such proceeding, is said "to fabricate the evidence.” 
 
Illustrations:
(a) A puts jewels into a box belonging to Z, with the intention that they may be found in that box, and that this circumstance may cause Z to be convicted of theft. A has fabricated false evidence. 
(b) A makes a false entry in his Shop-book for the purpose of using it as corroborative evidence in a Court of Justice. A has fabricated false evidence. 

দণ্ডবিধির ১৯২ ধারা: মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা:
কোন ব্যক্তি যদি কোন অবস্থার অস্তিত্ব সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে, অথবা কোন বইতে বা রেকর্ডে মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে অথবা মিথ্যা বিবরণ সাক্ষ্য হিসেবে কোন বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে অথবা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন আইনগত কার্যক্রমে অথবা কোন সালিসের সম্মুখে উত্থাপন করার উদ্দেশ্যেই যদি তা করা হয়ে থাকে এবং অনুরূপ অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, উক্ত কার্যক্রমে যিনি সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর মতামত গঠন করবেন, তিনি উক্ত অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতিজনিত সাক্ষ্যে প্রভাবিত হয়ে অনুরূপ কার্যক্রমের সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত কোন বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মত পোষণ করবেন, তবে সে ব্যক্তি 'মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে' বলে পরিগণিত হয়।
১,০২৬.
‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর নৌকার বাঁধন খুলে দেয় যাতে নৌকাটি ভেসে যায় এবং ‘Z’ ভীত হয়। দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধের নাম -
  1. চুরি
  2. আক্রমণ
  3. সাধারণ বলপ্রয়োগ
  4. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৫০ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ করা, যদি এটি কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা আঘাত, ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টির জন্য হয়, তবে তা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বলে গণ্য হয়। এখানে, ‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর নৌকার বাঁধন খুলে দেয়, যার ফলে নৌকা ভেসে যায় এবং ‘Z’ ভয় পায়। এটি ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ:
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 350: Criminal force:
-Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustration:
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 

১,০২৭.
ক তাঁর ভাড়াটে কিছু অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে একটি ভবন-এর প্রবেশপথে পাহারা বসায় এবং খ কে বলে যে সে যদি ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে তাঁর ভাড়াটে অস্ত্রধারীরা তাঁকে গুলি করবে। ক কী অপরাধ করেছে?
  1. হুমকি
  2. কিডন্যাপ করার চেষ্টা
  3. অবৈধ আটক
  4. বে-আইনি বাঁধা
ব্যাখ্যা
♦ কোনো ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা হতে কোনো দিকে যেতে বাঁধা দিলে সেটি অবৈধ আটক বা wrongful confinement, অপর দিকে নির্দিষ্ট কোনো এক দিকে যেতে বাঁধা দিলে সেটি বে-আইনি বাঁধা। আলোচ্য উদাহরণে খ একটি ভবনে আটকে থাকায় ক কর্তৃক প্রদত্ত বাঁধা এক দিক থেকে হলেও তা এক প্রকার confinement।
১,০২৮.
A এবং B, উভয়েই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে, একটি বিপজ্জনক খেলায় অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় যেখানে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। খেলার সময় দুর্ঘটনায় B-এর মৃত্যু হয়। A-এর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমটি প্রযোজ্য হতে পারে?
  1. ব্যতিক্রম-২
  2. ব্যতিক্রম-৩
  3. ব্যতিক্রম-৪
  4. ব্যতিক্রম-৫
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম-৫ এ বলা হয়েছে: "Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent."
অর্থাৎ, যখন মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সের হন এবং নিজের সম্মতিতে মৃত্যু বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করেন, তখন তা খুন (murder) নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (culpable homicide) হিসেবে গণ্য হবে।

অর্থাৎ যদি উভয়েই ১৮+, সম্মতি থাকে এবং কোনো প্রতারণা না থাকে – তবে Exception-5 পুরোপুরি প্রযোজ্য হয়ে A-কে খুনের (৩০২ ধারা) অভিযোগ থেকে রক্ষা করবে। সুতরাং সঠিক উত্তর: ঘ) ব্যতিক্রম-৫। 

অন্যান্য ব্যতিক্রমগুলির সাথে মিল নেই:
ব্যতিক্রম-২: ব্যক্তিগত প্রতিকার (private defence) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ব্যতিক্রম-৩: জনসেবক কর্তৃক আইনানুগ কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ব্যতিক্রম-৪: হঠাৎ ঝগড়া বা লড়াই (sudden fight) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 300: When culpable homicide is not murder:
Exception 5.- Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.

Illustration:
A, by instigation, voluntarily causes Z, a person under eighteen years of age, to commit suicide. Here, on account of Z's youth, he was incapable of giving consent to his own death; A has therefore abetted murder.

১,০২৯.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী নিচের কোন শাস্তিটি বৈধ নয়?
  1. নির্জন কারাবাস
  2. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিনাশ্রম
  4. মৃত্যুদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple)
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
(v) অর্থদণ্ড (fine)
- ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।

- অর্থাৎ দণ্ডবিধি অনুসারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিনাশ্রম বৈধ শাস্তি নয়।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-53:Punishments: 
-The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,- 
Firstly,- Death; 
Secondly,- Imprisonment for life; 
Thirdly,-[Omitted]
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:- 
(1) Rigorous, that is, with hard labour; 
(2) Simple; 
Fifthly,- Forfeiture of property; 
Sixthly,- Fine. 

Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.
১,০৩০.
মাহি তার এক বন্ধুকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করে এবং সেই বন্ধু আত্মহত্যা করে। মাহির বিরুদ্ধে কোন ধরনের শাস্তি আরোপিত হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  2. শুধুমাত্র বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. শুধুমাত্র সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা- আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:
কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 306- Abetment of suicide:
If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১,০৩১.
মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কি হবে?
  1. অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. শুধু অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির  ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-

(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

-----------------------------------
♦ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

♦ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।

______________________________________________________
♦  Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:

♦  Section 194. Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; 
 
♦ and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
১,০৩২.
'X' অবহেলামূলকভাবে এমন একটি কাজ করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী, 'X'-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী, 'X'-এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।
⇒ প্রশ্নে উল্লিখিত ঘটনাটি দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা-এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। ধারা ২৬৯ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি অবহেলামূলকভাবে (negligently) এমন কোনো কাজ করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা রাখে, এবং সে এটি জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও করে, তাহলে সে এই ধারায় দণ্ডিত হবে।
- এই অপরাধের জন্য ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডই প্রদান করা হতে পারে।
অতএব, সঠিক উত্তর হল খ) ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারার বিধান:  জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ বিস্তার করতে পারে এবং অবহেলামূলক কার্য :- কোন ব্যক্তি যদি বেআইনীভাবে বা অবহেলামূলকভাবে এমন কোন কার্য করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে-সেই ব্যক্তি ছয়মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 269. Negligent act likely to spread infection of disease dangerous to life:- Whoever unlawfully or negligently does any act which is, and which he knows or has reason to believe to be, likely to spread the infection of any disease dangerous to life, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.

১,০৩৩.
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কোন কথা বলা, শব্দ করা, অঙ্গভঙ্গি করা অথবা দৃষ্টিগোচরযোগ্য কোন বস্তু স্থাপন করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• ২৯৮ ধারা মতে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কোন কথা বলা, শব্দ করা, অঙ্গভঙ্গি করা অথবা দৃষ্টিগোচরযোগ্য কোন বস্তু স্থাপন করার শাস্তি হিসেবে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
১,০৩৪.
দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারা অনুযায়ী, অবৈধভাবে কাউকে বাধা দিলে কোন শাস্তি হতে পারে?
  1. ২ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৪১ ধারা: অবৈধ বাধা:

যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করে, তাকে এক মাস পর্যন্ত মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
[Whoever wrongfully restrains any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.]
১,০৩৫.
প্রতারণার ফলে প্রতারিত ব্যক্তির কোন ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. দেহগত ক্ষতি
  2. সম্পত্তির ক্ষতি
  3. মানসিক ক্ষতি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ৪১৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ কাউকে ছলনা করে প্রতারিত করে এবং তাকে এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে যার ফলে তার দেহগত (bodily), মানসিক (mental), খ্যাতির (reputation), বা সম্পত্তির (property) ক্ষতি হয় অথবা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে এটি "প্রতারণা (cheating)" হিসেবে গণ্য হয়।
- এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে: "...which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property..." এজন্য দেহগত ক্ষতি, সম্পত্তির ক্ষতি, এবং মানসিক ক্ষতি—এই সবকিছুই ধারা অনুযায়ী প্রতারণার আওতায় পড়ে।
অতএব, সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সবগুলো।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 415: Cheating:
- Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".
Explanation:- A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
১,০৩৬.
দণ্ডবিধির কত ধারায় 'জজ' এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ১৯ ধারা
  2. ২০ ধারা
  3. ২১ ধারা
  4. ২২ ধারা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১৯ ধারার বিধান বিচারক/জজ: বিচারক শব্দের অর্থ শুধুমাত্র  সরকারীভাবে বিচারক /জজ বলে আখ্যায়িত বা নিযুক্ত  ব্যাক্তিদেরকে বুঝায় না, বরং নিম্নোক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেও বুঝায়-
যিনি কোন দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনগত কার্যক্রমে আইনত চূড়ান্ত রায় প্রদান করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত; কিংবা যদি আপিল না হয় তার রায় চূড়ান্ত হবে এমন রায় প্রদান করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত; কিংবা তার রায় অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বহাল হলে চূড়ান্ত হবে এমন কোন রায় প্রদান করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত; বা যিনি এমন কোন ব্যক্তিসমষ্টির অন্যতম, যে ব্যক্তিসমষ্টি  অনুরূপ কোন রায় প্রদান করার জন্য আইনত ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
১,০৩৭.
'ক' এর দোকানে 'খ' ক্যাশ কাউন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাবস্থায় ৫০,০০০ টাকা সরিয়ে ফেলে 'খ' পেনাল কোড- এর কোন ধারার অপরাধ করেছে?
  1. ৪০৭ ধারা
  2. ৪০৯ ধারা
  3. ৪২০ ধারা
  4. ৪০৮ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৮- কেরানী বা ভৃত্য দ্বারা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করা:

কোন ব্যক্তি যদি কেরানি বা ভৃত্য হয়ে অথবা বা ভৃত্য হিসেবে নিয়োজিত হয়ে অনুরূপ পদে কোন সম্পত্তির জিম্মাদার বা উহা পরিচালনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে উহা সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

Section 408- Criminal breach of trust by clerk or servant:

Whoever, a clerk or servant or employed as a clerk or servant, and being in any manner entrusted in such capacity with property, or with any dominion over property, commits criminal breach of trust in respect of that property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
১,০৩৮.
'A' and 'B' are the joint owners of a horse. 'A' takes the horse of 'B's possession intending to use it However, 'A' sells the horse and appropriates the whole proceeds to his own use. Now 'A' is guilty of-
  1. Mischief
  2. Criminal Breach of Trust
  3. Dishonest Misappropriation
  4. No offence
ব্যাখ্যা
A and B are the joint owners of a horse. A takes the horse of B's possession intending to use it However, A sells the horse and appropriates the whole proceeds to his own use. Now A is guilty of- Dishonest Misappropriation.

দণ্ডবিধি ৪০৩: সম্পত্তির অসৎ উদ্দেশ্যে আত্মসাৎ-
যে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যের কোনো অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা তা নিজের কাজে ব্যবহার করে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক)A, Z-এর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি Z-এর দখল থেকে সরিয়ে নেয়, সৎ বিশ্বাসে বিশ্বাস করে যে সেই সম্পত্তি তার নিজের। তখন এটি চুরির অপরাধ নয়। তবে, যদি A পরে তার ভুল বুঝতে পেরে অসৎ উদ্দেশ্যে সেই সম্পত্তি নিজের কাজে ব্যবহার করে, তবে এটি এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ।

(খ) A, Z-এর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কারণে, Z-এর অনুপস্থিতিতে Z-এর লাইব্রেরি থেকে একটি বই নিয়ে যায়, যা Z-এর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়াই। যদি A মনে করে যে Z তাকে পড়ার জন্য বইটি নিতে পরোক্ষ অনুমতি দিয়েছেন, তবে এটি চুরি নয়। কিন্তু, যদি A পরে সেই বইটি বিক্রি করে এবং তার নিজের স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করে, তবে এটি এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ।

(গ) A এবং B একটি ঘোড়ার যৌথ মালিক। A, ঘোড়াটি B-এর দখল থেকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। যেহেতু A-এর ঘোড়া ব্যবহারের অধিকার আছে, এটি অসৎ আত্মসাৎ নয়। তবে, যদি A ঘোড়াটি বিক্রি করে এবং পুরো অর্থ নিজের কাজে ব্যবহার করে, তবে এটি এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ।
১,০৩৯.
দণ্ডবিধি অনুসারে সম্পত্তি প্রতিরক্ষার জন্য কয়টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ ধারামতে সম্পত্তি প্রতিরক্ষার জন্য ৪টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
i) দস্যুতা (Robbery)
ii) রাত্রি বেলায় অপথে গৃহে প্রবেশ (House-breaking by night);
iii) বাসগৃহে বা কোন সম্পত্তি রাখার স্থানে অগ্নি সংযোগ (Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, used as a human dwelling); এবং
iv) গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর আশঙ্কাযুক্ত চুরি, ক্ষতি বা অনধিকার গৃহে প্রবেশ (Theft, mischief or house - trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension of death or grievous hurt)।
---------------------
⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ :- যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
- সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।
---------------
⇒ Section-103: When the right of private defence of property extends to causing death:
The right of private defence of property extends, under the restrictions mentioned in section 99, to the voluntary causing of death or of any other harm to the wrong-doer, if the offence, the committing of which, or the attempting to commit which, occasions the exercise of the right, be an offence of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-
Firstly.-Robbery;
Secondly.-House-breaking by night;
Thirdly.-Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, which building, tent or vessel is used as a human dwelling or as a place for the custody of property;
Fourthly.-Theft, mischief or house-trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension that death or grievous hurt will be the consequence, if such right of private defence is not exercised;
১,০৪০.
দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা কোন ধরনের অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. খুন সংক্রান্ত অপরাধ
  2. সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ
  3. জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধ
  4. নারীর শালীনতায় আঘাত সংক্রান্ত অপরাধ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা বিশেষভাবে নারীর শালীনতায় আঘাত (Outrage of Modesty) সংক্রান্ত অপরাধের সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো নারীর শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানসহকারে আক্রমণ (Assault) বা অপরাধমূলক বল (Criminal Force) প্রয়োগ করলে তা এই ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১,০৪১.
কোন পরিস্থিতিতে বিচারক দ্বারা সম্পাদিত কাজ অপরাধ হবে না?
  1. ক্ষমতা অতিক্রম করলে
  2. মৌলিক অধিকারের বিরোধী হলে
  3. আইনে প্রদত্ত ক্ষমতায় সরল বিশ্বাসে হলে
  4. আইনে প্রদত্ত ক্ষমতার বাইরে হলে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৭৭ ধারার বিধান- বিচার সংক্রান্ত কাজ সম্পাদনকালে বিচারক দ্বারা কৃতকার্য:
বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাঁকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।

Section 77: Act of Judge when acting judicially:
Nothing is an offence which is done by a Judge when acting judicially in the exercise of any power which is, or which in good faith he believes to be, given to him by law.
১,০৪২.
নিম্নলিখিত কোন অপরাধটির জন্য অপরাধীর অভিপ্রায় অপরিহার্য উপাদান না?
  1. মনুষ্য হরণ (Kidnapping) 
  2. দস্যুতা
  3. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ 
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম:-
যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারামতে দস্যুতার সংজ্ঞা (Robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

⇒ বলপূর্বক গ্রহণ কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When extortion is robbery)- বলপূর্বক গ্রহণের সময় অপরাধী স্বয়ং ভিকটিমের নিকটে বা আশেপাশে উপস্থিত থেকে তাৎক্ষনিক ভয়ের সৃষ্টি করলে বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের বিধান রয়েছে। অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায়ভাবে অনুপ্রবেশের পর বিরক্তি সৃষ্টি বা ভয় দেখানো অথবা অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায় থাকলে তাকে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বা Criminal Trespass বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে নিম্নলিখিত ২টি কারণে প্রবেশ করলে তা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বলে গণ্য হবে-

ⅰ) অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায় (with intent to commit an offence); অথবা
ii) সম্পত্তির দখলকার ব্যক্তিকে ভীতিপ্রদর্শন, অপমান বা বিরক্ত করা।

অর্থাৎ মনুষ্য হরণ (Kidnapping) অপরাধটির জন্য অপরাধীর অভিপ্রায় অপরিহার্য উপাদান না।
১,০৪৩.
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে যদি কোনো নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুদণ্ড হয় ,তাহলে উক্ত মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা:
কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।


⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:
যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।

১,০৪৪.
নাসির এক নারীকে অপহরণ করে এবং তার উদ্দেশ্য হল ওই নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য একজনের সাথে বিবাহ করতে বাধ্য করা। এই অপরাধের জন্য নাসির কত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৬৬ ধারা- কোন নারীকে বিবাহ ইত্যাদিতে বাধ্য করার অভিপ্রায়ে অপহরণ বা হরণ বা প্রলুব্ধকরণ:

কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীকে অপহরণ করে এবং অপহরণ করার উদ্দেশ্য হয় অথবা অপহরণ করার ফলে এইরূপ হবে জানে যে, সে নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করা অথবা তাকে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা অথবা তাকে জোরপূর্বক, বা ফুসলিয়ে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অপহরণ করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে;
এবং কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিতে বর্ণিত অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন দ্বারা অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার দ্বারা অথবা বাধ্যতা সাধনের অপর কোন পদ্ধতি দ্বারা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে কোন স্থান হতে গমনে বাধ্য করে অথবা সে নারীকে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তাকে কোন স্থান হতে গমনে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তিও পূর্বোক্তরূপে দণ্ডিত হবে।

Section 366- Kidnapping or abducting or inducing woman to compel her marriage, etc.:
Whoever kidnaps or abducts any woman with intent that she may be compelled, or knowing it to be likely that she will be compelled, to marry any person against her will, or in order that she may be forced or seduced to illicit intercourse, or knowing it to be likely that she will be forced or seduced to illicit intercourse, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and whoever, by means of criminal intimidation as defined in this Code or of abuse of authority or any other method of compulsion, induces any woman to go from any place with intent that she may be, or knowing that it is likely that she will be, forced or seduced to illicit intercourse with another person shall also be punishable as aforesaid.
১,০৪৫.
'A' যদি 'Z'-কে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে এবং 'Z' মারা যায়, তাহলে 'A' কী অপরাধ করেছে?
  1. Murder
  2. Attempt to Murder
  3. Culpable Homicide
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
⇒ প্রশ্নে উল্লিখিত এই ঘটনার ক্ষেত্রে 'A' ইচ্ছাকৃতভাবে 'Z'-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে এবং তার ফলে 'Z'-এর মৃত্যু হয়েছে। দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ধারা ৩০০ অনুযায়ী, এটি "Murder" হিসেবে গণ্য হবে। ধারা ৩০০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে হত্যার ইচ্ছা নিয়ে এমন কাজ করে যা মৃত্যুর কারণ হয়, তাহলে তা Murder হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদাহরণ স্বরূপ, Penal Code এর Illustration (a) তে বলা হয়েছে: "A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder." এটি সরাসরি প্রশ্নের সাথে মিলে যায়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 300: Murder:
-Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.

Illustration:
(a) A shoots Z with the intention of killing him. Z dies in consequence. A commits murder.
১,০৪৬.
একাধারে সর্বোচ্চ কত দিন নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১ মাস
  3. ১৫ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।

-----------------
♦ Limit of solitary confinement:
Section 74. In executing a sentence of solitary confinement, such confinement shall in no case exceed fourteen days at a time, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods, and when the imprisonment awarded shall exceed three months, the solitary confinement shall not exceed seven days in any one month of the whole imprisonment awarded, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods.
১,০৪৭.
"প্রতারণা" সংজ্ঞা অনুযায়ী, নিচের কোনটি সত্য?
  1. প্রতারণা একটি শারীরিক অপরাধ
  2. প্রতারণা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করে
  3. প্রতারণার অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি নির্ধারণ করা হয় না
  4. প্রতারণার ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার "প্রতারণা" সংজ্ঞা অনুযায়ী "প্রতারণার ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়" কথাটি সত্য।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:
যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:-
অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 415- Cheating:
Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".

Explanation: A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
১,০৪৮.
What is the common element that must be present for an act to be classified as rioting under Section 146 of The Penal Code, 1860?
  1. A formal declaration of assembly
  2. Presence of law enforcement
  3. Participation of at least ten people
  4. Use of force or violence in pursuit of a common object
ব্যাখ্যা
Section 146- Rioting:
Whenever force or violence is used by an unlawful assembly, or by any member thereof, in prosecution of the common object of such assembly, every member of such assembly is guilty of the offence of rioting.

ধারা ১৪৬- দাঙ্গা:
কখনো কোন বেআইনি সমাবেশ দ্বারা বা এর যে কোন সদস্য দ্বারা এরূপ সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বল বা হিংস্র পদ্ধতি প্রয়ােগ করা হলে, এরূপ সমাবেশের প্রতিটি সদস্য দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী হবে।
১,০৪৯.
সরকারি কর্মচারীর সমন, বিজ্ঞপ্তি বা ঘোষণার অধীনে হাজির হতে কেউ বাধ্য থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকলে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা হতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ১৫০০ টাকা
  4. ২০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১৭৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মচারীর জারি করা সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে স্বয়ং অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হওয়ার জন্য আইনত বাধ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত না হয়, তবে তিনি এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা  ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
তবে, যদি আদেশটি আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়, তাহলে দণ্ড হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
কিন্তু প্রশ্নে যেহেতু আদালতের বিষয় নয়, সাধারণ সরকারি কর্মচারীর আদেশ অনুযায়ী হাজির না হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড = ৫০০ টাকা।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারার বিধান সরকারি কর্মচারীর আদেশানুসারে উপস্থিত না হওয়া- কোন ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইনত: কোন সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর নিকট থেকে উদ্ভূত অনুরূপ সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার আজ্ঞানুযায়ী স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত কোন নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে হাজির হওয়ার জন্য আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও,- ইচ্ছাকৃত সে স্থানে ও সময়ে উপস্থিত না হয় অথবা যে স্থানে সে উপস্থিত থাকতে বাধ্য সে স্থান হতে যখন তার প্রস্থান করা আইনসম্মত হত তার আগেই প্রস্থান করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
- অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি, মারফত কোন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
(খ) ক-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। ক এ সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু ক ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 174. Non-attendance in obedience to an order from public servant:
Whoever, being legally bound to attend in person or by an agent at a certain place and time in obedience to a summons, notice, order or proclamation proceeding from any public servant legally competent, as such public servant, to issue the same, intentionally omits to attend at that place or time, or departs from the place where he is bound to attend before the time at which it is lawful for him to depart,shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka or with both;
or, if the summons, notice, order or proclamation is to attend in person or by agent in a Court of Justice, with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
১,০৫০.
আকস্মিক বিবাদের সময়, আকস্মিক উত্তেজনায়, পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া মৃত্যু ঘটলে দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রম প্রযোজ্য?
  1. ব্যতিক্রম-১
  2. ব্যতিক্রম-২
  3. ব্যতিক্রম-৩
  4. ব্যতিক্রম-৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০০-এ খুন (Murder) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কিন্তু কিছু ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable Homicide) হিসেবেই গণ্য হবে।
- দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ অনুযায়ী সাধারণত শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (culpable homicide) খুন (murder) হিসেবে গণ্য হয়। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যেখানে নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না।
প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতি:
- আকস্মিক বিবাদ (Sudden Fight)
- আকস্মিক উত্তেজনা (Heat of Passion)
- পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া (Without Premeditation)
- অন্যায় সুযোগ না নেওয়া বা নিষ্ঠুরভাবে কাজ না করা

⇒ এটি ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম-৪-এর সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়:

ব্যতিক্রম-৪:
"শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি তা আকস্মিক বিবাদের সময় উত্তেজনার বশে, কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া সংঘটিত হয় এবং অপরাধী অন্যায় সুযোগ না নেয় বা নিষ্ঠুর/অস্বাভাবিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে।"
Exception 4-:
"Culpable homicide is not murder if it is committed without premeditation in a sudden fight in the heat of passion upon a sudden quarrel and without the offender's having taken undue advantage or acted in a cruel or unusual manner."

 অর্থাৎ, যদি আকস্মিক বিবাদ হয়, সেই বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনায় অপরাধ সংঘটিত হয়, এবং পূর্বপরিকল্পনা না থাকে, তাহলে সেটি খুন নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ব্যতিক্রম-৪ (ঘ)।

১,০৫১.
পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলে ফেসবুকে ভিডিও ছাড়ে বায়েজিদ তালহা। সে দণ্ডবিধির কোন ধারায় শাস্তি পাবে?
  1. ৪২৯ ধারায়
  2. ৪৩০ ধারায়
  3. ৪৩১ ধারায়
  4. ৪৩২ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৩১ ধারা মতে সরকারি সড়ক, সেতু, নদী বা খালের ক্ষতি করার মাধ্যমে অনিষ্ট সাধনের শাস্তি হলো অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
১,০৫২.
দণ্ডবিধির ৪৯ ধারা অনুসারে, "year" বা "month" শব্দ ব্যবহৃত হলে, তা কোন ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে গণনা করা হয়?
  1. বাংলা ক্যালেন্ডার
  2. ভারতীয় ক্যালেন্ডার
  3. ইসলামিক ক্যালেন্ডার
  4. ইংরেজি ক্যালেন্ডার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯ ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, "year" বা "month" শব্দ ব্যবহৃত হলে তা ইংরেজি ক্যালেন্ডার (অথবা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার) অনুযায়ী গণনা করা হবে। অর্থাৎ, ইংরেজি ক্যালেন্ডারে এক বছর ৩৬৫ দিন (অথবা লিপ বছরের ক্ষেত্রে ৩৬৬ দিন) এবং এক মাস ৩০ বা ৩১ দিন (ফেব্রুয়ারিতে ২৮ বা ২৯ দিন) হিসেবে গণনা করা হয়।

⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 49.“Year” “Month”:
 Wherever the word "year" or the word "month" is used, it is to be understood that the year or the month is to be reckoned according to the British calendar.
১,০৫৩.
কোনো Judicial Proceeding এ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের শাস্তির বিধান বর্ণিত হয়েছে The Penal Code, 1860 এর Section-
  1. ১৯৩
  2. ৪৬৭
  3. ৪৬৩
  4. ১৯৬
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা- মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:

কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

ব্যাখ্যা (Explanation)

১- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
২- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
৩- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

উদাহরণ: 
জমির সীমানা অকুস্থলে নির্ণয়কল্পে কোন আদালত দ্বারা প্রেরিত কর্মচারীর বা অফিসারের সম্মুখে সম্পাদিত তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু উক্ত তদন্তটি একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে অভিহিত হবে।
১,০৫৪.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ আইনে মোট কয়টি ধারা রয়েছে?
  1. ৪৮৮ টি
  2. ৫১০ টি
  3. ৫১১ টি
  4. ৫৬৫ টি
ব্যাখ্যা
⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে। প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay)। প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন G.W. Anderson, F. Millet, এবং J.M. Macleod। ১৮৩৭ সালে এই কমিশন  দণ্ডবিধি প্রণয়নের জন্য খসড়া জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ১৮৬০ সালে বিলটি পাস হয় এবং দণ্ডবিধি ১লা জানুয়ারী ১৮৬২ সালে আইনটি কার্যকর হয়।
⇒ এই  আইন সামান্য কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে প্রচলিত আছে।
⇒ দণ্ডবিধি  ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন।
⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।
⇒ দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।
১,০৫৫.
শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা বলে বিবেচিত হবে না?
  1. জীবন্ত শিশু যার বয়স ৭ দিনের কম।
  2. জীবিত শিশু যার কোন অংশ প্রসূত হয়ে থাকে কিন্তু কান্না করেনাই।
  3. মাতৃগর্ভস্থ শিশুর।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার ব্যাখ্যা-৩ মতে মাতৃগর্ভস্থ কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো খুন বা নিন্দনীয় নরহত্যা কোনটাই হবে না। তবে মাতৃগর্ভস্থ শিশুটি সম্পূর্ণরূপে জন্মগ্রহণ না করেও শিশুটির দেহের কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হলে তা নিন্দনীয় নরহত্যা বলে বিবেচিত হবে।
------------
⇒  Section 299. Culpable homicide
 Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide. 
 
⇒  Illustrations 
(a) A lays sticks and turf over a pit, with the intention of thereby causing death, or with the knowledge that death is likely to be thereby caused. Z, believing the ground to be firm, treads on it, falls in and is killed. A has committed the offence of culpable homicide. 
(b) A knows Z to be behind a bush. B does not know it. A, intending to cause, or knowing it to be likely to cause Z's death induces B to fire at the bush. B fires and kills Z. Here B may be guilty of no offence; but A has committed the offence of culpable homicide. 
(c) A, by shooting at a fowl with intent to kill and steal it, kills B, who is behind a bush; A not knowing that he was there. Here, although A was doing an unlawful act, he was not guilty of culpable homicide, as he did not intend to kill B or cause death by doing an act that he knew was likely to cause death. 
 
Explanation 1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death. 
 
Explanation 2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
 
Explanation 3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.
১,০৫৬.
Section 407 applies to a person who is entrusted with property as a-
  1. Banker
  2. Public servant
  3. Agent only
  4. Carrier
ব্যাখ্যা

Section 407- Criminal breach of trust by carrier, etc.
Whoever, being entrusted with property as a carrier, wharfinger or warehouse-keeper, commits criminal breach of trust in respect of such property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

ধারা ৪০৭: পরিবহনকারী, গুদামদার ইত্যাদির দ্বারা বিশ্বাসভঙ্গ-
যে কেউ, যিনি পরিবহনকারী (carrier), ঘাটের মালিক বা তত্ত্বাবধায়ক (wharfinger), অথবা গুদামদার (warehouse-keeper) হিসেবে কোনো সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, এবং সেই সম্পত্তি সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ করেন, তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তার সাথে অর্থদণ্ডও হতে পারে।

১,০৫৭.
ভারতীয় দণ্ডবিধির খসড়া প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত আইন কমিশনের সভাপতি ছিলেন কে?
  1. লর্ড ম্যাকুলে
  2. মি. এন্ডারসন
  3. মি. ম্যাকলয়েড
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

⇒ ১৮৩৪ সালে গঠিত প্রথম আইন কমিশনের সভাপতি ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay), যিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির (Indian Penal Code, 1860) খসড়া প্রণয়ন করেন।

⇒ ১৮৩৩ সালে ভারতের শাসনভার ইংরেজ কোম্পানী হাত হতে ব্রিটিশ রাজ গ্রহণ করার পর ভারতবর্ষের জন্য একটি আইন কমিশন গঠন করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে।
প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay).
প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যা নিম্নরুপ:-
i) সভাপতি- লর্ড ম্যাকুলে।
ii) সদস্য- মি. ম্যাকলয়েড।
iii) সদস্য- মি. এন্ডারসন।
iv) সদস্য- মি. মিলেট।

- এ কমিশন দণ্ডবিধির খসড়া প্রণয়ন করে ১৮৩৭ সালের ১৪ই অক্টোবর ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আ্যাকল্যান্ডের নিকট পেশ করেন। যা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার বার্নেস পিকক এবং অন্যান্য বিচারপতিগণ (যারা ফোর্ট উইলিয়ম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন)। সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে ১৮৫৬ সালে দণ্ডবিধির খসড়া লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে উপস্থাপিত হয়। ১৮৬০ সালে লেজিসলেটিভ কাউন্সিল আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরী করেন। অতঃপর ভারতে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু সংশোধনী করে ১৮৬২ সালের ৬ই অক্টোবর দণ্ডবিধি পাশ হয়। যার নামকরণ করা হয় ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন, দণ্ডবিধি।

১,০৫৮.
The Penal Code, 1860 এর ৫৫ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বাধিক কত বছরের কারাদণ্ডে পরিবর্তন করা যেতে পারে?
  1. শুধুমাত্র ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে
  2. ২০ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
  3. শুধুমাত্র ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে
  4. ৩০ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:
যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।

Section 55- Commutation of sentence of imprisonment for life:
In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

১,০৫৯.
'ক' রাতে বাসায় আসার পথে 'খ' পিস্তল দেখিয়ে 'ক' এর টাকার ব্যাগ দাবী করে। ফলে 'ক' ব্যাগটি 'খ' কে দিতে বাধ্য হয়। 'খ' কোন ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. ডাকাতি
  2. প্রতারণা
  3. দস্যুতা
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা মতে, চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে। দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।

♦The Penal Code, 1860 এর ৩৯০ ধারা মতে যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলিয়া গণ্যহয়ঃ প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

♦যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ  কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা ;

♦বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
১,০৬০.
দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারায় রাষ্ট্রপতির কোন বিশেষ ক্ষমতা সংরক্ষিত হয়েছে?
  1. কারাদণ্ড বৃদ্ধি করা
  2. মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা
  3. শুধুমাত্র জরিমানা আদায় বন্ধ করা
  4. ক্ষমা, দণ্ড স্থগিত, দণ্ড হ্রাস বা মওকুফ করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান, দণ্ড স্থগিত, দণ্ড হ্রাস বা মওকুফ করার বিশেষ ক্ষমতা সংরক্ষিত হয়েছে। এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫৪ বা ৫৫ ধারার কোনো বিধান রাষ্ট্রপতির এই অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে না।
- সঠিক উত্তর: ঘ) ক্ষমা, দণ্ড স্থগিত, দণ্ড হ্রাস বা মওকুফ করা।

⇒ দণ্ডবিধির  ৫৫ক ধারার বিধান রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার সংরক্ষণ:- ৫৪ ধারা বা ৫৫ ধারার কোন বিধান দ্বারাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করা বা দণ্ডাজ্ঞা হ্রাসের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না। 
--------- 
⇒ The Penal Code,1860- Section 55A. Saving for President prerogative:- Nothing in section fifty- four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.

১,০৬১.
'ক' এবং তার বন্ধুরা জনসাধারণের রাস্তার উপর গাড়ির রেস করছিলেন। সে কাউকে ধাক্কা না দিলেও রাস্তার মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং তাদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করে। এক্ষেত্রে, 'ক' এবং তার বন্ধুদের সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৩ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

ধারা ২৭৯- জনসাধারণের পথে বেপরোয়া বা অবহেলাপূর্ণ গাড়ি চালানো:
যে ব্যক্তি জনসাধারণের রাস্তায় কোনো যানবাহন চালায় বা আরোহী অবস্থায় চালনা করে এবং এমনভাবে পরিচালনা করে যে তা বেপরোয়া বা অবহেলাপূর্ণ চালনার মধ্যে পড়ে, এবং যার ফলে মানবজীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা অন্য কারো আঘাত বা ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়—তাকে এই ধারার অধীনে দণ্ডিত করা হবে।

এখানে “বেপরোয়া চালনা” বলতে এমন চালনাকে বোঝানো হয়েছে যা সাধারণ নিরাপত্তাবোধের বিরুদ্ধে এবং যার মাধ্যমে অন্যের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। একইভাবে “অবহেলাপূর্ণ চালনা” বলতে এমন চালনাকে বোঝায় যা চালকের অসতর্কতা বা দায়িত্বহীনতার কারণে ঘটে এবং যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), অথবা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড প্রদান করা হতে পারে।

ব্যাখ্যা- কেউ যদি জনসাধারণের রাস্তায় আইন দ্বারা নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে যানবাহন চালায়, তবে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ধারার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া বা অবহেলাপূর্ণভাবে গাড়ি চালানো হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

১,০৬২.
'ক' একজন পুলিশ অফিসার। 'খ' দস্যুতা সংঘটনের পরিকল্পনা করছে জেনেও অপরাধ সংঘটনের সুযোগদানের ইচ্ছায় 'ক' তথ্য গোপন করে এবং তা প্রতিরোধ করে না। এখানে 'ক'কোন ধারার অধীনে অপরাধ করেছে?
  1. ১১৪ ধারা
  2. ১১৫ ধারা
  3. ১১৭ ধারা
  4. ১১৯ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা-১১৯: অপরাধ সংঘটন নিবারণের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধের ষড়যন্ত্র গোপন করা-
অপরাধ সংঘটননিরোধের দায়িত্বে থাকা কোন সরকারি কর্মচারী উক্ত অপরাধ নিবারণের জন্য কোন পদক্ষেপ না নিয়ে যদি বরং উক্ত অপরাধের ষড়যন্ত্র গোপন করে তাহলে তিনি দণ্ডবিধির ১১৯ ধারার অধীনে দন্ডিত হবেন।

এক্ষেত্রে 'ক' দণ্ডবিধির ১১৯ ধারার অধীনে অপরাধ করেছে। কেননা দস্যুতা সংঘটনের খবর জানার পর তার দায়িত্ব ছিল তা নিবারণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু তিনি তা না করে বরং তথ্য গোপন করেছে। তাই তিনি ১১৯ ধারার অধীনে অপরাধে সহায়তার অপরাধে দোষী হবে।
১,০৬৩.
দণ্ডবিধির কত ধারায় অনিষ্ট সাধনের (Mischief) সাধারণ সাজা উল্লেখ আছে?
  1. ৪১৫ ধারায়
  2. ৪১৬ ধারায়
  3. ৪২৫ ধারায়
  4. ৪২৬ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়।

Section 426⇒ Punishment for mischief:
 
Whoever commits mischief shall be punished with imprisonment of either description for a term 
which may extend to three months, or with fine, or with both.

১,০৬৪.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী কোন কাজ বা বিশ্বাসকে “good faith” বলা যায় না?
  1. যা অন্যের উপকারে করা হয়েছে
  2. যা আইনের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ
  3. যা যত্ন ও মনোযোগ ছাড়া করা হয়েছে
  4. যা যথাযথ যত্ন ও মনোযোগ দিয়ে করা হয়েছে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় সদবিশ্বাসের সংজ্ঞা রয়েছে।
-
 যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ব্যতিরেকে সম্পাদিত বা বিশ্বাসকৃত কোন কিছুই 'সদবিশ্বাসে' করা হয়েছে বা বিশ্বাস করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
- এছাড়া তামাদি আইনের ২(৭) ধারায় সদ্ধিশ্বাস বা Good faith এর বিধান রয়েছে।
---------
⇒ The Penal Code,1860- Section 52:
- “Good faith”: Nothing is said to be done or believed in "good faith" which is done or believed without due care and attention.

১,০৬৫.
দণ্ডবিধির ধারা ২৯৫ অনুযায়ী ধর্মীয় স্থান বা পবিত্র বস্তু ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ধারা ২৯৫ অনুযায়ী—
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ধর্মীয় শ্রেণীর উপাসনার স্থান (place of worship) বা তাদের জন্য পবিত্র বলে বিবেচিত কোনো বস্তুকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস, ক্ষতিসাধন বা অপবিত্র করে, এবং এর ফলে সেই শ্রেণীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে কিংবা তারা তা ধর্মের অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করে তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।
- এই অপরাধের শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ (দুই) বছর মেয়াদের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

- The Penal Code, Section 295:
“Whoever destroys, damages or defiles any place of worship, or any object held sacred by any class of persons with the intention of thereby insulting the religion... shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.”

 সুতরাং, ধারা ২৯৫ অনুসারে ধর্মীয় স্থান বা পবিত্র বস্তু ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২ বছর কারাদণ্ড, তাই সঠিক উত্তর (গ)।
১,০৬৬.
দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় কোন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. Thug
  2. Theft
  3. Robbery
  4. Cheating
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে-
আইনটি পাশ হওয়ার পর, যে কেউ যেকোন সময়ে অন্য কারো বা অন্যদের সাথে অভ্যাসগতভাবে দস্যুতা বা খুনের মাধ্যমে শিশু চুরি করার উদ্দেশ্যে যুক্ত থাকে, সে একজন ঠগ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারার বিধান- ঠগের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 310: Thug:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.

Section 311: Punishment:
Whoever is a thug, shall be punished with imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
১,০৬৭.
What is the maximum imprisonment term for joining an unlawful assembly while armed with a deadly weapon under Section 144?
  1. 6 months
  2. 1 year
  3. 2 years
  4. 3 years
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা মতে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশের শাস্তি হিসেবে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দন্ডের বিধান রয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার বিধান মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইনী সমাবেশে যোগদান করা :- কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------------------------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-144: Joining unlawful assembly armed with deadly weapon:-
- Whoever, being armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,০৬৮.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, তবে সেটি The Penal Code, 1860 এর কত ধারার অধীনে 'প্রতারণা' হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. ধারা ৪১১
  2. ধারা ৪১৫
  3. ধারা ৪১৭
  4. ধারা ৪১৯
ব্যাখ্যা
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৪১৫ - প্রতারণা (Cheating):
যে কেউ, কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণা করে এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে সেই প্রতারিত ব্যক্তিকে কাউকে কোনো সম্পত্তি দিতে বা কাউকে সেই সম্পত্তি ধরে রাখতে সম্মতি জানাতে প্ররোচিত করে, অথবা এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে, যা সে প্রতারিত না হলে করত না বা বাদ দিত না, এবং যার ফলে সেই ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতির সম্ভাবনা ঘটে, তাহলে ঐ ব্যক্তিকে “প্রতারক” বলা হয়।

ব্যাখ্যা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, তবে সেটিও এই ধারার অধীনে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বলে যে সে সরকারি চাকরিজীবী। এভাবে সে Z-কে প্রতারিত করে এবং Z তাকে পণ্য দেয়, যা A আসলে পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে না। → A প্রতারণা করেছে।

(খ) A একটি জিনিসে নকল চিহ্ন লাগিয়ে Z-কে এই বিশ্বাসে ঠকায় যে এটা কোনো বিখ্যাত কোম্পানির তৈরি, এবং Z সেটি কিনে ফেলে। → A প্রতারণা করেছে।

(গ) A একটি ভুয়া নমুনা দেখিয়ে Z-কে বিশ্বাস করায় যে পুরো মাল সে রকমই, এবং Z তাকে দাম দিয়ে পণ্য কিনে। → A প্রতারণা করেছে।

(ঘ) A এমন একটি বিল দিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে চায়, যেটি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের উপর তৈরি যার সঙ্গে তার কোনো লেনদেন নেই। সে জানে যে বিলটি বাতিল হবে। Z-কে এভাবে ঠকিয়ে পণ্য নেয়। → A প্রতারণা করেছে।

(ঙ) A হীরা বলে নকল বস্তু জমা দিয়ে Z-এর কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। → A প্রতারণা করেছে।

(চ) A, Z-কে মিথ্যা আশ্বাস দেয় যে সে টাকা ফেরত দেবে, যদিও তার কোনো ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা নেই। Z তাকে টাকা দেয়। → A প্রতারণা করেছে।

(ছ) A, Z-কে ভুলভাবে বিশ্বাস করায় যে সে নির্দিষ্ট পরিমাণ নীল গাছ সরবরাহ করবে, যদিও তার কোনো ইচ্ছা নেই তা সরবরাহের। Z আগাম টাকা দেয়। → A প্রতারণা করেছে।
→ তবে, যদি A তখন সত্যিই সরবরাহ করতে চায় এবং পরে তা না করে, তাহলে সেটা শুধুই চুক্তি ভঙ্গ, প্রতারণা নয়।

(জ) A, Z-এর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করেও মিথ্যা বলার মাধ্যমে Z থেকে টাকা আদায় করে। → A প্রতারণা করেছে।

(ঝ) A তার একটি সম্পত্তি B-কে বিক্রি করে, এবং পরে Z-কে না জানিয়ে আবার সেটি বিক্রি বা বন্ধক দেয়। সে জানে তার আর ঐ সম্পত্তির মালিকানা নেই, তবুও Z-এর কাছ থেকে টাকা নেয়। → A প্রতারণা করেছে।
১,০৬৯.
"পণ্য-প্রতীক" (Trade Mark) কী নির্দেশ করে?
  1. কোন ব্যক্তির স্বাক্ষর
  2. সরকারি অনুমোদন পত্র
  3. সম্পত্তির মালিকানার দলিল
  4. কোন পণ্যদ্রব্যের মালিকানা নির্দেশক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
ধারা-৪৭৮; পণ্য-প্রতীক (Trade mark):
কোন পণ্যদ্রব্য, কোন বিশেষ ব্যক্তির প্রস্তুত পণ্যদ্রব্য বা ব্যবসায়ের পণ্য বলে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে পণ্য-প্রতীক বলে। অর্থাৎ, কোন পণ্যদ্রব্যের মালিকানা নির্দেশক চিহ্নকে পণ্য- প্রতীক বা Trade mark বলে। পণ্য-প্রতীক কথাটির দ্বারা ১৮৮৩ সালের পেটেন্টস, ডিজাইনস ও ট্রেড মার্কস আইন অনুযায়ী রক্ষিত পণ্য-প্রতীক রেজিষ্টারে রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন পণ্য-প্রতীককে বুঝাবে ।

ধারা-৪৭৯: সম্পত্তি চিহ্ন (Property mark)-
কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীন বলে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বলে। অর্থাৎ কোন অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা নির্দেশক চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বা Property mark বলে।
১,০৭০.
দণ্ডবিধির ১০০ ধারার মতে, কোন ধরনের আক্রমণের ফলে শরীর বা দেহ রক্ষা করতে আক্রমণকারীর মৃত্যু ঘটানো যেতে পারে?
  1. অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ করলে
  2. কোন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে
  3. এমন আক্রমণ যা অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায়ে সংঘটিত হয়
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী ছয়টি ক্ষেত্রে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা:
(i) এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
(ii) এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে।
(iii) ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
(iv) অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
(v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ।
(vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক রাখলে।

Section 100- When the right of private defence of the body extends to causing death:
The right of private defence of the body extends, under the restrictions mentioned in the last preceding section, to the voluntary causing of death or of any other harm to the assailant, if the offence which occasions the exercise of the right be of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-
Firstly.- Such an assault as may reasonably cause the apprehension that death will otherwise be the consequence of such assault;
Secondly.- Such an assault as may reasonably cause the apprehension that grievous hurt will otherwise be the consequence of such assault;
Thirdly.- An assault with the intention of committing rape;
Fourthly.- An assault with the intention of gratifying unnatural lust;
Fifthly.- An assault with the intention of kidnapping or abducting;
Sixthly.- An assault with the intention of wrongfully confining a person, under circumstances which may reasonably cause him to apprehend that he will be unable to have recourse to the public authorities for his release.
১,০৭১.
দণ্ডবিধির ২৪২ ধারা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি কখন শাস্তিযোগ্য হবে?
  1. যদি সে জাল মুদ্রা তৈরি করে
  2. যদি সে অজান্তে জাল মুদ্রা নিজের কাছে রাখে
  3. যদি সে জেনেশুনে জাল মুদ্রা নিজের কাছে রাখে
  4. যদি সে জাল মুদ্রা অন্যের কাছে হস্তান্তর করে
ব্যাখ্যা
ধারা ২৪২: জাল মুদ্রা নিজের কাছে রাখা, যখন সে জানত যে এটি জাল:
যে কেউ প্রতারণার উদ্দেশ্যে বা প্রতারণা সংঘটিত হওয়ার অভিপ্রায়ে জাল মুদ্রা নিজের কাছে রাখে, এবং যখন সে এই মুদ্রা নিজের কাছে গ্রহণ করে তখন জানত যে এটি জাল, তবে সে ব্যক্তি তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তার সাথে অর্থদণ্ডও প্রদান করতে হবে।

[Whoever, fraudulently or with intent that fraud may be committed, is in possession of counterfeit coin, having known at the time when he became possessed thereof that such coin was counterfeit, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.]
১,০৭২.
পেনাল কোডে কত প্রকারের গৃহপ্রবেশকে 'অপথে গৃহপ্রবেশ' (House- breaking) হিসেবে চিহ্নিত করা হইয়াছে?
  1. ৫ প্রকারের,
  2. ৬ প্রকারের,
  3. ৭ প্রকারের,
  4. ৮ প্রকারের।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-

i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙ্গে (Opening or breaking lock);

iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);

v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।
----------------
⇒ Section 445 House-breaking: A person is said to commit “house-breaking" who commits house-trespass if he effects his entrance into the house or any part of it in any of the six ways hereinafter described; or if, being in the house or any part of it for the purpose of committing an offence, or, having committed an offence therein, he quits the house or any part of it in any of such six ways, that is to say:
 
Firstly.-If he enters or quits through a passage made by himself, or by any abettor of the house-trespass, in order to the committing of the house-trespass.
Secondly.-If he enters or quits through any passage not intended by any person, other than himself or an abettor of the offence, for human entrance; or through any passage to which he has obtained access by scaling or climbing over any wall or building.
Thirdly.-If he enters or quits through any passage which he or any abettor of the house-trespass has opened, in order to the committing of the house-trespass by any means by which that passage was not intended by the occupier of the house to be opened.
Fourthly.-If he enters or quits by opening any lock in order to the committing of the house-trespass, or in order to the quitting of the house after a house-trespass.
Fifthly.-If he effects his entrance or departure by using criminal force or committing an assault, or by threatening any person with assault.
Sixthly.-If he enters or quits by any passage which he knows to have been fastened against such entrance or departure, and to have been unfastened by himself or by an abettor of the house-trespass.
Explanation.-Any out-house or building occupied with a house, and between which and such house there is an immediate internal communication, is part of the house within the meaning of this section.
১,০৭৩.
The term “Judge" is explained in The Penal Code under Section-
  1. Section-21
  2. Section-17
  3. Section-19
  4. Section-20
ব্যাখ্যা
The penal Code,1860: Section-19. “Judge”:
The word “Judge” denotes not only every person who is officially designed as a Judge, but also every person,- 
-who is empowered by law to give, in any legal proceeding, civil or criminal, a definitive judgment, or a judgment which, if not appealed against, would be definitive, or a judgment -which, if confirmed by some other authority, would be definitive, or 
-who is one of a body of persons, which body of persons is empowered by law to give such a judgment. 
Illustration:
(a) A Collector exercising jurisdiction in a suit under Act X of 1859, is a Judge. 
(b) A Magistrate exercising jurisdiction in respect of a charge on which he has power to sentence to fine or imprisonment with or without appeal, is a Judge. 
(d) A Magistrate exercising jurisdiction in respect of a charge on which he has power only to commit for trial to another Court, is not a Judge.
----------------------------
দণ্ডবিধির ১৯ ধারার বিধান- জজ:
বিচারক অর্থ শুধু সরকারীভাবে বিচারক বলে আখ্যাত বা নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং যেকোন আইনগত কার্যব্যবস্থা, কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী যা হোক, চুড়ান্ত রায়দান বা আপীল না করা না হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এইরূপ বায়দান বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এমন কোন রায়দান করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রদত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, অথবা অনুরূপ রায়দান করার জন্য আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি সংস্থাভুক্ত ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
উদাহরণ:
(ক) ১৮৫৯ সালের ১০নং আইন মোতাবেক কোন মোকদ্দমায় বিচার-ক্ষমতা প্রয়োগে একজন কালেক্টরই বিচারক।
(খ) যে অভিযোগের বিচারে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্থ বা কারাদণ্ডদানের ক্ষমতা রয়েছে-তার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাক বা না যাক- সে অভিযোগে বিচার ক্ষমতা প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক।
(ঘ) যে অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র কোন আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সে অভিযোগের ব্যাপারে এখতিয়ার প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক নয়।
১,০৭৪.
A, B কে C এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। B, C এর ঘরে আগুন দেয় ও চুরি করে। A ________?
  1. চুরি ও ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  2. চুরিতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  3. ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১১১ ধারা মতে যখন একটি কাজের জন্য সহায়তা করা হয়েছে কিন্তু সে কাজটি ভিন্ন অপর একটি কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তখন যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে তার জন্য প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা হলে যে অপরাধ হত সে অপরাধের জন্য যেভাবে এবং যতটুকু পর্যন্ত দণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সহায়তাকারী সেভাবে এবং ততটুকু পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে,
♦তবে শর্ত থাকে যে, যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে সে কাজটি সহায়তার একটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে হবে, এবং যে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্র কর্তৃক সহায়তা করা হয়েছে কাজটি সে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্রের প্রভাবেই সম্পাদিত হতে হবে। 
♦আলোচ্য প্রশ্নে A, B কে C এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। B, C এর ঘরে আগুন দেয় এবং চুরি করে। এখানে প্ররোচনা করা হয়েছিল ঘরে আগুন দেওয়ার কিন্তু B চুরিও করে। এখানে চুরি হলো আগুন দেওয়া হতে ভিন্ন অপরাধ। যেহেতু ঘরে আগুন দেওয়ার সম্ভাব্য ফলাফল চুরি না,
♦সেহেতু শুধুমাত্র ঘরে আগুন দেওয়ার প্ররোচনার জন্য A দায়ী হবে কিন্তু চুরি বা চুরি করতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবেনা। B ঘরে আগুন দেওয়া ও চুরি উভয় অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
১,০৭৫.
অপরাধকারীকে গোপন করিবার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করিয়া দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ধারা কত?
  1. ২০১ ধারা
  2. ২০২ ধারা
  3. ২০৩ ধারা
  4. ২০৪ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মতে অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য অপরাধের সাক্ষ্য নষ্ট করার শাস্তি হতে পারে-

(i)  মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
(ii)  যাবজ্জীবন বা অন্যূন ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
(iii) ১০ বছরের কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে মূল কারাদণ্ডের এক চতুর্থাংশ কারাদণ্ড বা  অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

---------------------------------------- 
♦ দণ্ডবিধির ২০১ ধারার বিধান অপরাধের সাক্ষ্য প্রমাণের বিলোপসাধন অথবা অপরাধীকে অব্যাহতি দেওয়ার মিথ্যা খবর দেওয়া: কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধীকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে, কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও অথবা অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, সে অপরাধটি সংঘটনের কোন সাক্ষ্য বা প্রমাণ বিলুপ্ত করে বা করায়, অথবা সে উদ্দেশ্য নিয়ে সে অপরাধটি সম্পর্কে কোন খবর দেয়, যা সে মিথ্যা বলে জানে অথবা যা মিথ্যা বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তখন-

যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:- যদি, যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সে জানে বা যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস সে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:- এবং যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

যদি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:- এবং যদি অপরাধটি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যে ধরনের (সম্ভ্রম অথবা বিনাশ্রম) কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অপরাধটির জন্য দীর্ঘতম যে মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, তার কারাদণ্ডের মেয়াদ উহার এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন দৈর্ঘ্যের হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১,০৭৬.
দণ্ডবিধির কত ধারায় মানহানির শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৪০০
  2. ৪৯৯
  3. ৫০০
  4. ৫১১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন কুৎসা রটনা করা হয় যা উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে (harm reputation) তাকে মানহানি বা Defamation বলে। অর্থাৎ কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়।

-দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন মানহানির [defamation] শাস্তি হল ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
১,০৭৭.
কত বছর বয়স্ক অপরিণত বোধ শক্তিসম্পন্ন শিশুর কাজ অপরাধ নয়?
  1. ৭ থেকে ১২ বছর
  2. ৯ বৎসরের অধিক কিন্তু ১২ বৎসরের কম
  3. ৫ থেকে ১০ বৎসর
  4. ১০ থেকে ১২ বৎসর
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৮৩ ধারামতে ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধ সম্পন্ন (immature understanding) শিশুর কাজ অপরাধ নয়।

♦ তবে পরিপক্কতা অর্জন করলে অর্থাৎ কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারলে উক্ত ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়স্ক শিশুর কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।
১,০৭৮.
আদালত ৮ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ গঠন করে। কিন্তু মামলার শুনানী শেষে আদালত ৪ জনকে খালাস প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে আদালত বাকী ৪ জনকে-
  1. ডাকাতির জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  2. দস্যুতার জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  3. ডাকাতি বা দস্যুতা উভয়ের জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  4. চুরির জন্য দণ্ডিত করতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ম ৫ জনকে দণ্ডিত করতে হয়। যেহেতু ৪ জন দোষী প্রমাণিত হয়েছে তাই আদালত তাদেরকে ডাকাতির জন্য দণ্ডিত করতে পারে না কিন্তু দস্যুতার জন্য দণ্ডিত করতে পারে।
১,০৭৯.
দণ্ডবিধির কত ধারা ডাকাতি (Dacoity) সম্পর্কিত ?
  1. ৩৯১ ধারা
  2. ৩৯২ ধারা
  3. ৩৯৩ ধারা
  4. ৩৯৭ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান ডাকাতি:- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
--------
Section 391 Dacoity: When five or more persons conjointly commit or attempt to commit a robbery, or where the whole number of persons conjointly committing or attempting to commit a robbery, and persons present and aiding such commission or attempt, amount to five or more, every person so committing, attempting or aiding, is said to commit "dacoity".
১,০৮০.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ করার হুমকি দিলে(criminal intimidation) সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ২ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
৫০৬ ধারা: "অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি"

যে কেউ অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করবে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে; এবং যদি ভীতি প্রদর্শন নিম্নলিখিত বিষয়গুলির যেকোনো একটি সম্পর্কিত হয়:

⇒ মৃত্যু ঘটানোর হুমকি;
⇒ গুরুতর আঘাত করার হুমকি;
⇒ আগুন দ্বারা কোনো সম্পত্তি ধ্বংস করার হুমকি;
⇒ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ করার হুমকি;
⇒ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ করার হুমকি;
⇒ কোনো মহিলার সতীত্বে কলঙ্ক আরোপের হুমকি;

তাহলে অপরাধীকে সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
১,০৮১.
প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে আইনতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও, বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৫ বছর কারাবাস
  2. ৭ বছর কারাবাস
  3. ১০ বছর কারাবাস
  4. ১৪ বছর কারাবাস
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারা- আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা:
কোনো ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 496- Marriage ceremony fraudulently gone through without lawful marriage:
Whoever, dishonestly or with a fraudulent intention, goes through the ceremony of being married, knowing that he is not thereby lawfully married, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
১,০৮২.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করলে শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ৩৯৫ ধারা
  2. ৩৯৬ ধারা
  3. ৩৯৯ ধারা
  4. ৩৯৮ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৯৯ ধারা অনুযায়ী “যে কেউ ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তাকে সশ্রম কারাদণ্ড, যা দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।”

অন্য ধারা সমূহ:
→ ৩৯৫ ধারা: ডাকাতির সংজ্ঞা
→ ৩৯৬ ধারা: খুনসহকারে ডাকাতি
→ ৩৯৮ ধারা: অস্ত্রসহ চুরির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি
অর্থাৎ ৩৯৯ ধারা স্পষ্টভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ সংক্রান্ত বিধান প্রদান কথা তাই সঠিক উত্তর: গ) ৩৯৯ ধারা।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৯ ধারা: ডাকাতি সংঘটনের প্রস্তুতি:
যে কেউ ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, যা দশ বছর পর্যন্ত মেয়াদ হতে পারে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 399- Making preparation to commit dacoity:
Whoever makes any preparation for committing dacoity, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১,০৮৩.
বেআইনি সমাবেশ গঠন করতে কমপক্ষে কতজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে হবে?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ১০ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারনের শান্তি শৃঙ্খলা  বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনি সমাবেশ বলে।

- বেআইনী সমাবেশ:- পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে 'বেআইনী সমাবেশ' সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের সাধারণ লক্ষ্য হয়-
প্রথম:- বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারী কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা 
দ্বিতীয়:- কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরীকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা
তৃতীয়:- কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা
চতুর্থ:- কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীরী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্টা করা; কিংবা
পঞ্চম:- অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনতঃ বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা।
ব্যাখ্যা:- যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়াকালে বেআইনী ছিল না তা পরে বেআইনী সমাবেশ হতে পারে।
১,০৮৪.
শুধুমাত্র খুনের উদ্যোগের (Attempt to murder) শাস্তি কী?
  1. সাত বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  2. দশ বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  3. তিন বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে এইরূপ যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার বিধান খুনের উদ্যোগ:- কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং
যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
--------
⇒ Attempt to murder Attempts by life-convicts:
Section 307. Whoever does any act with such intention or knowledge, and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if hurt is caused to any person by such act, the offender shall be liable either to imprisonment for life, or to such punishment as is hereinbefore mentioned. 
⇒ When any person offending under this section is under sentence of imprisonment for life, he may, if hurt is caused, be punished with death.
১,০৮৫.
দণ্ডবিধির কত ধারায় প্রতারণা সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ৪০৫
  2. ৪১০
  3. ৪১৫
  4. ৪০৩
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
----------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 415: Cheating:
- Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat". 
 
Explanation:- A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.
১,০৮৬.
নিচের কোনটি চোরাই মাল সংক্রান্ত বিধানে বর্ণিত অপরাধ নয়?
  1. প্রতারণা
  2. জোরপূর্বক আদায়
  3. চুরি
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৪১০ অনুযায়ী, চোরাই মাল বলতে সেই সকল সম্পত্তিকে বুঝায় যা চুরি, জোরপূর্বক আদায়, দস্যুতা, অপরাধমূলক আত্মসাৎ বা বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্জিত হয়। তবে প্রতারণা (Fraud) চোরাই মাল সংক্রান্ত বিধানে অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রতারণা দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এটি একটি আলাদা ধরনের অপরাধ, যেখানে প্রতারণার মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন করা হয়, তবে তা চুরি বা দস্যুতার মাধ্যমে পাওয়া নয়।
অন্যদিকে, চুরি, জোরপূর্বক আদায়, দস্যুতা বা বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি চোরাই মাল হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-
ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।
⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
------------
⇒The Penal Code, 1860- Section 410: Stolen property:
- Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
১,০৮৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় দস্যুতার শাস্তির বিধান আছে?
  1. দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারামতে দস্যুতার শাস্তি (Punishment for robbery)- অনধিক ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে দস্যুতার অপরাধ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় সংঘটিত হলে দস্যুতার শাস্তি ১৪ বৎসর পর্যন্ত 'সশ্রম' কারাদণ্ড হতে পারে।
 
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান দস্যুতার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

⇒ Section 392. Punishment for robbery:- Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.
১,০৮৮.
গর্ভপাতের জন্য দণ্ডবিধির ৩১২ এবং ৩১৩ ধারার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
  1. ৩১২ ধারায় শুধু জরিমানা আছে, ৩১৩ ধারায় কারাদণ্ড আছে।
  2. ৩১২ ধারায় শাস্তি কঠোর, ৩১৩ ধারায় শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম।
  3. ৩১২ ধারায় নারীর সম্মতি থাকতে পারে, ৩১৩ ধারায় নারীর সম্মতি ব্যতীত কাজ করা হয়।
  4. ৩১২ ধারা শুধুমাত্র 'দ্রুতগর্ভবতী' নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ৩১৩ ধারা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩১২ ও ৩১৩ ধারার মূল পার্থক্য হলো—
- ধারা ৩১২ – স্বেচ্ছায় গর্ভপাত ঘটানো (Voluntarily causing miscarriage):
এখানে গর্ভবতী নারীর সম্মতি থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, তবে অপরাধটি সাধারণভাবে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য প্রযোজ্য। শাস্তি – ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়।
- ধারা ৩১৩ – নারীর সম্মতি ব্যতীত গর্ভপাত ঘটানো (Causing miscarriage without woman’s consent):
এখানে নারীর সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। শাস্তি – যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

- মূল পার্থক্য হলো ৩১৩ ধারা নারীর সম্মতি ব্যতীত গর্ভপাতের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করে, যেখানে ৩১২ ধারা মূলত স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ ৩১২ ধারা মূলত গর্ভবতী নারীর সম্মতি থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। 
- সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) ৩১২ ধারায় নারীর সম্মতি থাকতে পারে, ৩১৩ ধারায় নারীর সম্মতি ব্যতীত কাজ করা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১২ ধারা- গর্ভপাত করান:
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করায়, এবং যদি সে গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে উক্ত স্ত্রীলোকের জীবন বাঁচাবার উদ্দেশ্যে না করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি স্ত্রীলোকটি শিশুর বিচরণ অনুভব করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
ব্যাখ্যা: যে স্ত্রীলোক নিজেই নিজের অকাল গর্ভপাত করায়, সে স্ত্রীলোকও এই ধারার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান- স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ:
কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

১,০৮৯.
ওজনের জন্য মিথ্যা যন্ত্রের ব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি কি হবে?
  1. অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড
  2. অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড
  4. অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির  ২৬৪ ধারায় ওজনের জন্য মিথ্যা যন্ত্রের ব্যবহারের শাস্তি বিধান হিসেবে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের উল্লেখ আছে।

♦ দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারার বিধান ওজনের জন্য প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা যন্ত্র ব্যবহার করা:- কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে ওজনের জন্য এমন কোন যন্ত্র ব্যবহার করে, যা মিথ্যা বলে সে জানে, তবে-সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
---------------------
♦ Section 264. Fraudulent use of false instrument for weighing:- Whoever fraudulently uses any instrument for weighing which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

♦ দণ্ডবিধির ২৬৫ ধারার বিধান প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা ওজন কিংবা মাপ ব্যবহার করা:- কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে কোন মিথ্যা ওজন কিংবা দৈর্ঘ্যের বা ধারণশক্তির মাপ ব্যবহার করে, অথবা প্রতারণামূলকভাবে কোন ওজনকে কিংবা দৈর্ঘ্যের বা ধারণশক্তির মাপকে উহা অপেক্ষা ভিন্ন ওজন কিংবা দৈর্ঘ্য বা ধারণশক্তির মাপ হিসেবে ব্যবহার করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১,০৯০.
দণ্ডবিধিতে মোট কয়টি অধ্যায় আছে?
  1. ১৮ টি
  2. ২১ টি
  3. ২৩ টি
  4. ২৫ টি
ব্যাখ্যা
⇒দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।
-গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ের নাম:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ,
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি,
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ,
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা,
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র,
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ,
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ,
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ,
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ,
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ,
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি,
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।
১,০৯১.
নিম্নোক্ত কোন উপায়ে বলপ্রয়োগ করা যায়?
  1. গতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে
  2. দৈহিক শক্তি প্রয়োগ করার মাধ্যমে
  3. কোন পশু বা জন্তুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা: বলপ্রয়োগ:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-

তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে। 
১,০৯২.
'X', 'Y' এর মুখে ঘুষি মারলে তার একটি দাঁত পড়ে যায়। 'X' এর কৃত অপরাধ হলো?
  1. সাধারন জখম
  2. হত্যা চেষ্টা
  3. মারাত্মক জখম
  4. ইচ্ছাকৃত জখম
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ Grievous hurt:
Section 320. The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,০৯৩.
কোন অপরাধের কারাদণ্ড বিনাশ্রম হবে?
  1. খুন
  2. ডাকাতি
  3. অবৈধ বাধা দান
  4. মনুষ্যহরণ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৪১ মতে অবৈধ বাধাদানের শাস্তি: কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩০২ ধারা মতে খুনের শাস্তি, ৩৯৫ ধারা মতে ডাকাতির শাস্তি এবং ৩৬৩ ধারা মতে মনুষ্যহরণ বা অপহরণের শাস্তি সশ্রম কারাদণ্ড।
১,০৯৪.
নিম্নের কোনটি "চোরাই সম্পত্তি" হিসেবে গণ্য হবে?
  1. চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  2. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান- চোরাই সম্পত্তি:
চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
-------------------------------
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-
ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
১,০৯৫.
Criminal Conspiracy কোন ধারায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ১২০
  2. ১২০ক
  3. ১২১
  4. ১২১ক
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ তথা কোন অবৈধ কাজ করার জন্য অথবা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার জন্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সম্মতিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা Criminal Conspiracy বলে।

♦ ১২০ক ধারামতে ২ ভাবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অপরাধ হতে পারে। যথা:

      (i) কোন অবৈধ কাজ করার জন্য সম্মতির মাধ্যমে

      (ii) কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করার সম্মতির মাধ্যমে
১,০৯৬.
‘ভুল তথ্য ইচ্ছাকৃত গোপন করা’- এটি কোন অপরাধের অংশ?
  1. জালিয়াতি
  2. প্রতারণা
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. অনিষ্ট সাধন
ব্যাখ্যা

The Penal Code, 1860 এর ধারা ৪১৫ - প্রতারণা (Cheating):
যে কেউ, কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণা করে এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে সেই প্রতারিত ব্যক্তিকে কাউকে কোনো সম্পত্তি দিতে বা কাউকে সেই সম্পত্তি ধরে রাখতে সম্মতি জানাতে প্ররোচিত করে, অথবা এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে, যা সে প্রতারিত না হলে করত না বা বাদ দিত না, এবং যার ফলে সেই ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতির সম্ভাবনা ঘটে, তাহলে ঐ ব্যক্তিকে “প্রতারক” বলা হয়।

ব্যাখ্যা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, তবে সেটিও এই ধারার অধীনে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বলে যে সে সরকারি চাকরিজীবী। এভাবে সে Z-কে প্রতারিত করে এবং Z তাকে পণ্য দেয়, যা A আসলে পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে না। → A প্রতারণা করেছে।

(খ) A একটি জিনিসে নকল চিহ্ন লাগিয়ে Z-কে এই বিশ্বাসে ঠকায় যে এটা কোনো বিখ্যাত কোম্পানির তৈরি, এবং Z সেটি কিনে ফেলে। → A প্রতারণা করেছে।

(গ) A একটি ভুয়া নমুনা দেখিয়ে Z-কে বিশ্বাস করায় যে পুরো মাল সে রকমই, এবং Z তাকে দাম দিয়ে পণ্য কিনে। → A প্রতারণা করেছে।

১,০৯৭.
'A', 'B'-কে ১২ দিন যাবৎ একটি কক্ষে আটকে রাখে, দণ্ডবিধি অনুসারে 'A'-এর সর্বোচ্চ শাস্তি কত হতে পারে?
  1. দুই বছরের কারাদণ্ড
  2. এক বছরের কারাদণ্ড
  3. তিন বছরের কারাদণ্ড
  4. ছয় মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ধারা ৩৪৪ অনুযায়ী, যদি কেউ কাউকে দশ দিন বা তার বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে আটকায়, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছরের কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম)।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান- দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে আটক:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে আটক করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:
Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

১,০৯৮.
নিচের কোন অপরাধের মৃত্যুদণ্ড ছাড়া কোন শাস্তি নাই?
  1. খুন
  2. গণহত্যা
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক খুন
  4. খুন সহকারে ডাকাতি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারা মতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক খুন এবং দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা মতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি খুনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং উক্ত কার্যের ফলে কোন ব্যক্তি আহত হয় এই অপরাধ প্রমাণিত হলে একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে।
---------------
⇒ Punishment for murder by life-convict
Section 303. Whoever, being under sentence of imprisonment for life, commits murder, shall be punished with death.
১,০৯৯.
‘ম’ একটি দোকানদারকে ভয় দেখায় যে, যদি সে তাকে বাকিতে জিনিস না দেয়, তাহলে তার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেবে। 'ম' এর এই আচরণ কোন ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. মানহানি
  2. অবৈধ অনুপ্রবেশ
  3. দস্যুতা
  4. অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০৩: অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন-
যদি কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তার ব্যক্তি, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতির হুমকি দেয়, অথবা সেই ব্যক্তির আগ্রহসম্পন্ন অন্য কারো ব্যক্তি বা সুনামের ক্ষতির হুমকি দেয়, এবং এর মাধ্যমে তাকে ভীত করার উদ্দেশ্যে, অথবা তাকে এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে যা সে আইনত বাধ্য নয়, অথবা তাকে এমন কোনো কাজ না করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে যা সে আইনত করতে অধিকারী, তাহলে তা অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন হিসেবে গণ্য হবে।​

ব্যাখ্যা: যদি কোনো ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সুনাম ক্ষতির হুমকি দেয়, এবং সেই মৃত ব্যক্তি হুমকিপ্রাপ্ত ব্যক্তির আগ্রহসম্পন্ন হন, তবে সেটিও এই ধারার অন্তর্ভুক্ত হবে।​

ধারা ৫০৬: অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শনের শাস্তি-
যে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন করেন, তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
১,১০০.
মিতা জীবন বাঁচানো জনিত কোনোরূপ উদ্দেশ্যে ছাড়াই নিজেই নিজের গর্ভপাত করায়। এক্ষেত্রে, মিতা-
  1. কোনো শাস্তি পাবে না
  2. ৩১২ ধারার অধীনে শাস্তি পাবে
  3. ৩২১ ধারার অধীনে শাস্তি পাবে
  4. ৩১৯ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করা যাবে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩১২ ধারা- গর্ভপাত করান:
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করায়, এবং যদি সে গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে উক্ত স্ত্রীলোকের জীবন বাঁচাবার উদ্দেশ্যে না করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি স্ত্রীলোকটি শিশুর বিচরণ অনুভব করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: যে স্ত্রীলোক নিজেই নিজের অকাল গর্ভপাত করায়, সে স্ত্রীলোকও এই ধারার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।

দণ্ডবিধির ৩১২ ধারা অনুযায়ী,
যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত করায় এবং এটি জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে না হয়, তবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে।

শাস্তি:
- যদি গর্ভপাতের ফলে শিশুর বিচরণ অনুভূত হয়: মিতা সাত বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডও হতে পারে।
- যদি শিশুর বিচরণ অনুভূত না হয়: মিতা তিন বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডও হতে পারে।