বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গীতিকা

মোট প্রশ্ন১৫৬এই পাতা৫৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গীতিকা

PrepBank · পাতা / · ১০১১৫৬ / ১৫৬

১০১.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পুথি সাহিত্য রচনার সূত্রপাত করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. সৈয়দ হামজা
  3. আমীর হামজা
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) 'আমীর হামজা' রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। 

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন। এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন 'মুসলমানী বাংলা', আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন 'মুসলমানী বাংলা সাহিত্য'।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি 'বটতলার পুথি' নামেও পরিচিত হয়। গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে 'মিশ্র ভাষারীতির কাব্য' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০২.
হারামনি কি?
  1. ক) প্রাচীন সাহিত্য
  2. খ) পুঁথি সাহিত্য
  3. গ) প্রাচীন লোকগীতি
  4. ঘ) উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক। তিনি লোকসাহিত্যের সংকলন 'হারামনি' (দশ খন্ড) সম্পাদনা করেন। এর প্রথম সংগ্রহ ছিল নিজ গ্রামের প্রেমদাস বৈরাগীর কাছ থেকে লালনের একটি গান। যা প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০৩.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার লেখক কে?
  1. মনসুর বয়াতি
  2. চন্দ্রাবতী
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানা মদিনা':
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
-সোনাফর।

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৪.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা ?
  1. ক) নদের চাঁদ
  2. খ) আলাদ
  3. গ) মদিনা
  4. ঘ) মলুয়া
ব্যাখ্যা
⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন ইংরেজি ballad-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘গীতিকা’ শব্দটি গ্রহণ করেন। 

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে যথা :
- মহুয়া
- মলুয়া
- চন্দ্রাবতী
- কমলা
- দেওয়ান ভাবনা
- দস্যু কেনারামের পালা
- রূপবতী
- কঙ্ক ও লীলা
- কাজলরেখা ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
মৈয়মনসিংহ গীতিকা কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে?
  1. ২৩টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের — ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
-----------------------
• বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা রয়েছে।
যথা :
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা এবং
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

"মৈমনসিংহ গীতিকা" সম্পর্কিত গুরুতপূর্ণ তথ্য:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকা ইংরেজী ভাষায় অনূদীত হয়ে প্রকাশের পর বিদেশের সুধীবৃন্দকে প্রবল ভাবে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে মনীষী রোমা রোলাঁ, ড. সিলভা লেভি, স্যার জর্জ গ্রীয়ারসন, উইলিয়াম রদেনস্টাইন, ফ্রান্সিস. এইচ. স্ক্রাইন, ই.এফ. ওটেন গীতিকা সম্পর্কে উচ্চসিত প্রশংসা করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থে বলেন-‘গীতিকা গুলোর সাহিত্যিক মূল্য বিদেশী সাহিত্য রসিকেরা কি দিয়াছেন, তাহা জানিলে বোধ হয় আমরা আমাদের ঘরের জিনিসকে একটু বেশি আদর করিব।’

ইংরাজি ও বাংলায় প্রকাশিত মৈমনসিংহ গীতিকায় দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি দীনেশচন্দ্র সেন। দশটি পালাগান নিয়ে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালের মার্চে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (university of Calcutta) বই হয়ে ‘Eastern Bengal Ballads- mymensing (vol-1, part-1)’ নামে প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা।

১০৬.
ইউনেস্কো মৌখিক ও দৃশ্যমান ঐহিত্যের মধ্যে বাউল গানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ২০০১
  2. খ) ২০০৩
  3. গ) ২০০৪
  4. ঘ) ২০০৫
ব্যাখ্যা
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো মৌখিক ও দৃশ্যমান ঐহিত্যের মধ্যে বাউল গানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১০৭.
প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে। ----- গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) শাহ আবদুল করিম
  2. খ) রাধারমন
  3. গ) শেখ ওয়াহিদ
  4. ঘ) কুদ্দুস বয়াতি
ব্যাখ্যা

'বুড়ি হইলাম তর কারণে', 'আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে'_এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা গীতিকবি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
ওয়াহিদের রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। তার গানের বিষয়বস্তু, পরমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, মারফতি, পদাবলি, কীর্তন। আঞ্চলিক গান রচনায় তিনি ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তার গানের সংখ্যা শতাধিক। ‘পরাণের বন্ধুরে/ বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে/লাউটা বড় সোহাগী/লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’ তার এ গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা

১০৮.
কোনটি শোককাব্য?
  1. হপ্তপয়কর
  2. গুলে বকাওলী
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।

- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়। ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি - ফকির গরীবুল্লাহ্।

অন্যদিকে, 
• গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা।
• সৈয়দ আলাওল রচিত 'হপ্তপয়কর' কাব্যটি পারস্য কবি নিজামী গঞ্জভীর কাব্যের ভাবানুবাদ।
• সিকান্দারনামা হলো মধ্যযুগের বাঙালি কবি আলাওলের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি মূলত শাহ্‌ সুজা কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে রচিত হয়। এই গ্রন্থে সিকান্দার (আলেকজান্ডার) এর জীবন ও কার্যাবলী বর্ণিত হয়েছে।  
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০৯.
‘ভেলুয়া’ কোন সংকলন গ্রন্থের অংশ?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ফোকলোর সংগ্রহমালা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১০.
আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার উৎস কী?
  1. ক) জারিগান
  2. খ) গজল
  3. গ) গম্ভীরা গান
  4. ঘ) টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের গীতিকবিতা ধারার প্রথম প্রকাশ ঘটে মধ্যযুগের বৈষ্ণবকবিতায়। পরবর্তীকালে এর নবরূপ প্রকাশ পায় প্রধানত কবিগান ও যাত্রার মাধ্য দিয়ে। কবিগান, যাত্রা, লোকগাথা, পাঁচালি, আখড়াই, টপ্পা প্রভৃতি ছিল মধ্যযুগ ও উনিশ শতকের সন্ধিক্ষণের বাংলা কাব্যের অমূল্য সম্পদ। উল্লেখ্য যে আধুনিক গীতিকবিতা ধারার জনক বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪) সারদামঙ্গল (১৮৭৯) কাব্যের জন্য বিখ্যাত। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১১১.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি-
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. রাধারমণ গোপ
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. আনন্দ চন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• "রাধারমণ গোপ" মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।

• মর্সিয়া সাহিত্য:

- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১২.
'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক- 
  1. চন্দ্রাবতী 
  2. দ্বিজ কানাই
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।

এগুলো হলো- 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৩.
“যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।” - পঙ্‌ক্তি দুটিতে কি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) মাতৃ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা
  2. খ) মাতৃ ভাষার জয়গান
  3. গ) মাতৃ ভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি ঘৃণা
  4. ঘ) মাতৃ ভাষার প্রতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ
ব্যাখ্যা
“যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।” - এই পঙ্‌ক্তি দুটিতে প্রকাশ পেয়েছে:

গ) মাতৃ ভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি ঘৃণা

এখানে কবি বা লেখক তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন যারা বাংলায় জন্ম নিয়েও বাংলা ভাষার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বঙ্গবাণী – আবদুল হাকিম। 
১১৪.
লৌকিক ছন্দ কাকে বলে?
  1. ক) গদ্য ছন্দকে
  2. খ) স্বরবৃত্তকে
  3. গ) মাত্রাবৃত্তকে
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্তকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার ছন্দঃ
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।
১১৫.
মৈমনসিংহ গীতিকায় ‘চন্দ্রাবতী’ কার প্রণীত? 
  1. দ্বিজ কানাই
  2. দ্বিজ ঈশান
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। 
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে 'মৈমনসিংহ গীতিকা' ১৯২৩ সালে নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।  
- সংগ্রাহক: চন্দ্রকুমার দে। 
- ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত। 

♣ মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা-
• মহুয়া: দ্বিজ কানাই প্রণীত; 
• মলুয়া: অজ্ঞাত;
• চন্দ্রাবতী: নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত;
• কমলা: দ্বিজ ঈশান প্রণীত;
• দেওয়ানা মদিনা: মনসুর বয়াতি প্রণীত;
• দস্যু কেনারামের পালা: চন্দ্রাবতী প্রণীত;
• কঙ্ক ও লীলা: দামোদর দাস, রঘুসুত, শ্রীনাথ বিনোদ ও নয়ানচাঁদ ঘোষ (রচয়িতা ৪ জন); 
• রূপবতী: কবির নাম অজ্ঞাত;
• কাজলরেখা: কবির নাম অজ্ঞাত ও 
• দেওয়ান ভাবনা: কবির নাম অজ্ঞাত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৬.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কতটি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি 
  3. ১১টি 
  4. ১৩টি 
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। 
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- দীনেশচন্দ্র সেন পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় দীনেশচন্দ্র সেন পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন।

• গীতিকাগুলো হলো- 
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

• ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন-
- মহুয়া- দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

• কঙ্ক ও লীলার রচয়িতা হিসেবে ৪ জনের নাম পাওয়া যায়-
- দামোদর দাস,
- রঘুসুত,
- শ্রীনাথ বিনোদ ও
- নয়ানচাঁদ ঘোষ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিঙ্ক]।

১১৭.
দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা মতে, 'মহুয়া' পালা কে রচনা করেন?
  1. নয়নচাঁদ ঘোষ
  2. দ্বিজ কানাই
  3. চন্দ্রবতী
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৮.
মৈমনসিংহ গীতিকার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. ডব্লিউ বি ইয়েটস
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন — ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
------------------------ 
মৈমনসিংহ গীতিকা: পূর্ব বাংলার মানুষের সাহিত্যগাথা
এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে 'মৈমনসিংহ গীতিকা' (১৯২৩ সালে) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত মৈমনসিংহ গীতিকা আর তার ইংরেজি তরজমা — ইস্টার্ন বেঙ্গল ব্যালাডস ১ম খণ্ড—দুটি বই–ই প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে।

স্মরণীয় যে,
বিদেশি মনীষীরা দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত মৈমনসিংহ-গীতিকার (পূর্ববঙ্গ-গীতিকার ১ম খণ্ড) ইংরেজি ভাষ্য পড়েই প্রশংসামুখর হয়েছিলেন।

গীতিকার সংখ্যা:
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
এগুলো হল:
• মহুয়া, 
• মলুয়া, 
• চন্দ্রাবতী, 
• কমলা, 
• দেওয়ান ভাবনা, 
• দস্যু কেনারামের পালা, 
• রূপবতী, 
• কঙ্ক ও লীলা, 
• কাজলরেখা, 
• দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি দ্বিজ কানাই - এর রচনা?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) কাজলরেখা
  4. ঘ) দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার - বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- এটি ময়মনসিংহ গীতিকার অন্যতম পালা।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: - মহুয়া, নদের চাঁদ, হুমরা বেদে, সাধু।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২০.
রামনিধি গুপ্তকে কোন গানের জনক বলা হয়?
  1. ঠুমরি
  2. পালা
  3. জারি
  4. টপ্পা
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পাগানের জনক ছিলেন নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"


অনদিকে, 
• বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুল প্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২১.
দ্বিজ কানাই রচিত ময়মনসিংহ গীতিকা কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. কমলা
  3. চন্দ্রাবতী
  4. দস্যু কেনারামের পালা
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। 
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা নয়ানচাঁদ ঘোষ। 
• দস্যু কেনারামের পালার রচয়িতা চন্দ্রাবতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২২.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মহুয়া পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ ও ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৩.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
  2. খ) দস্যু কেনারাম : চন্দ্রাবতী
  3. গ) বিদ্যাসুন্দর : কবিকঙ্ক
  4. ঘ) কমলা : দ্বিজ ঈশান
  5. ঙ) দেওয়ানা মদিনা : মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
উপরে উল্লেখিত সবগুলোই ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত পালা ও রূপকথা। এদের মধ্যে মহুয়া পালাটির রচয়িতা দ্বিজ কানাই। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১২৪.
মর্সিয়া সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি?
  1. জয়নবের চৌতিশা
  2. মক্তুল হোসেন
  3. আমীর হামজা
  4. কাশিমের লড়াই
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ খান রচিত 'মক্তুল হোসেন' কাব্যটি মর্সিয়া সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'মক্তুল হোসেন' কাব্য সম্পর্কে ড. আহমদ শরীফ মন্তব্য করেছেন, 'মুহম্মদ খানের 'মক্তুল হোসেন' কাব্যটি বিপুল কলেবর। কারবালা সম্বন্ধীয় গ্রন্থগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠও বটে।'

• মুহম্মদ খান ও 'মক্তুল হোসেন' কাব্য:

মুহম্মদ খান 'মজুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এই কাব্যটি ফারসি 'মজুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ। তবে এতে কবির নিজের ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা প্রাধান্য লাভ করেছিল। মুহম্মদ খান চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ১৬৪৫ সালে 'মজুল হোসেন কাব্য' রচিত হয়। কবির বৃদ্ধাবস্থায় এটি রচিত। কবি সতের শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন বলে মনে করা হয়। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। 

অন্যদিকে, 
-------------------
• শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।

• ইংরেজ আমলেও বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া কাব্যের ধারাটি অনুসৃত হয়েছিল। ফকির গরীবুল্লাহ মর্সিয়া সাহিত্যধারার 'জঙ্গনামা' কাব্য রচনা করেছিলেন। পুঁথি সাহিত্যের ভাষায় এই কাব্যটি রচিত। তাঁর অন্যান্য কাব্যের নাম: সোনাভান, আমীর হামজা, ইউসুফ জোলেখা, জঙ্গনামা ও সত্যপীর।

• আঠার শতকের কবি শেখ সেরবাজ চৌধুরী 'কাশিমের লড়াই' কাব্য রচনা করেছিলেন। মহররমের একটি ক্ষুদ্র বিবরণী এ কাব্যে স্থান পেয়েছে। বিষয়বস্তু গতানুগতিক এবং তাতে কোন নতুনত্ব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১২৫.
'গোরক্ষ বিজয়' কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা?
  1. শৈবধর্ম
  2. বৌদ্ধ সহজযান
  3. নাথধর্ম
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• ষোল শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহ ‘গোরক্ষ-বিজয়’ নামে প্রথম একখানি কাব্য রচনা করেন। এতে নাথগুরুর মাহাত্ম্য ও নাথ ধর্মমতের মহত্ত্ব প্রকাশ বিধৃত হয়েছে।

• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন। নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।

• গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে। শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়। তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
উল্লিখিত কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়? 
  1. ময়মনসিংহ গীতিকা
  2. ইউসুফ জুলেখা
  3. পদ্মাবতী
  4. লাইলী মজনু
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 

১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি।
- গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি। 

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 

অন্যদিকে,
• মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
'নদের চাঁদ' কোন পালার চরিত্র?
  1. কঙ্ক ও লীলা
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা:
- 'মহুয়া' মৈমনসিংহ-গীতিকার অন্তর্গত একটি পালা।
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- মহুয়ার পালার উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মহুয়া, নদের চাঁদ, হুমরা বেদে, সাধু।
- মহুয়া পালার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি -

১. ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।

২. লজ্জা নাই নির্লজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।।
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।।
কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।

• উল্লেখ্য, 'কঙ্ক ও লীলা', 'দেওয়ানা মদিনা', 'মলুয়া' তিনটি পালাও মৈমনসিংহ-গীতিকার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৮.
নাথ সাহিত্যের কবি নন কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লা
  2. শ্যামদাস সেন
  3. ভীম সেন
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্যের কবি নন- রামপ্রসাদ সেন। 

--------------------------
• নাথ সাহিত্যের কবিগণ:

- নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে 'ময়নামতীর গান', 'গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।

- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়' নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

- গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১২৯.
কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
  1. ক) মৈয়মনসিংহ গীতিকা
  2. খ) ইউসুফ জুলেখা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) লাইলী মজনু
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

• পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 
১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
নিচের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ভেলুয়া
  2. কমল সওদাগর
  3. নিজাম ডাকাতের পালা
  4. কমলা
ব্যাখ্যা

• 'কমলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

​• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।

​পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালা:
​- নিজাম ডাকাতের পালা 
- কাফন চোরা,
- ​ভেলুয়া,
- ​চৌধুরীর লড়াই, 
​- কমল সদাগর, 
​- সুজা তনয়ার বিলাপ, 
​- পরীবানুর হাহলা ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩১.
‘ভেলুয়া’ কোন সংকলন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. ঠাকুরমার ঝুলি
  3. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩২.
মৈমনসিংহ গীতিকা নয় নিচের কোনটি?
  1. কাজলরেখা
  2. রূপবতী
  3. কমলা
  4. সোনাভান
ব্যাখ্যা

'সোনাভান' ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯. কাজলরেখা
১০. দেওয়ানা মদিনা।

• ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন
- মহুয়া- দ্বিজ কানাই, 
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩৩.
পুথি সাহিত্যের গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান
  2. কারবালার যুদ্ধ
  3. দেওয়ান মদিনা
  4. সত্যপীরের পুঁথি
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্যের গ্রন্থ নয়- দেওয়ান মদিনা।
• 'দেওয়ান মদিনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা।

------------------
• পুথি সাহিত্য:

- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ।

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়-
• প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য:
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি।

• যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য:
- জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি।

• পীর পাঁচালি:
- গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি

• ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য
- কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৪.
'দেওয়ানা মাদিনা' পালাগানের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. কবি কঙ্ক
  3. চন্দ্রাবতী
  4. মনসুর বয়াতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ‘দেওয়ানা মদিনা’ হলো মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালাগুলোর একটি।
- এর রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
- এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- আলাল, দুলাল, মদিনা, সোনাফর।

•  মৈমনসিংহ গীতিকায় গীতিকা স্থান পেয়েছে এমন কিছু পালা:
- মহুয়া -দ্বিজ কানাই,
- মলুয়া -চন্দ্রাবতী,
- চন্দ্রাবতী- নয়নচাঁদ ঘোষ,
- কমলা -দ্বিজ ঈশান,
- দেওয়ান ভাবনা - অজ্ঞাত,
- দস্যু কেনারামের পালা - চন্দ্রাবতী,
- রূপবতী - অজ্ঞাত,
- কঙ্ক ও লীলা - দমোদর, নয়নচাঁদ ঘোষ ,
- কাজলরেখা - অজ্ঞাত,
- দেওয়ানা মদিনা - মনসুর বয়াতি,
- বিদ্যাসুন্দর - কবি কঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩৫.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত চন্দ্রাবতী পালা রচনা করেছেন কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. নয়নচাঁদ ঘোষ
  3. জয়ানন্দ 
  4. মনসুর বয়াতি 
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী পালা:
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত ‘চন্দ্রাবতী’ পালা রচনা করেছেন কবি নয়নচাঁদ ঘোষ।

- এই পালায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী এবং তার প্রেমিক জয়ানন্দ-এর করুণ কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে। কিশোরীবেলায় একসাথে বড় হওয়া চন্দ্রাবতী ও জয়ানন্দের বিয়ের কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করেন। বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়া চন্দ্রাবতী সারাজীবন কুমারী থেকে শিবের পূজা করেন। দীর্ঘ বিরহের পর অনুতপ্ত জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর মন্দিরে ফিরে আসলেও চন্দ্রাবতী দেখা দেননি, এবং শেষপর্যন্ত জয়ানন্দ সেখানেই আত্মবিসর্জন দেন। নয়নচাঁদ ঘোষের এই পালায় প্রেমের প্রতি সততা, মানবিক দুঃখ ও করুণ কাহিনীর চিত্র সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
-----------------------------
উল্লেখ্য,
ময়মনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সাধারণ মানুষের প্রেমবিচ্ছেদ, বীরত্ব, দুঃখ ও বেদনা ভিত্তিক ১০টি বিখ্যাত লোকপালা বা লোকগীতির সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই গীতিকা সম্পাদনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- এবং গীতিকার সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।

- ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি গীতিকা হলো:
মহুয়া, 
মলুয়া, 
চন্দ্রাবতী, 
কাজলরেখা, 
দেওয়ানা মদিনা, 
কমলা, 
দেওয়ান ভাবনা, 
দস্যু কেনারামের পালা, 
রূপবতী, 
কঙ্ক ও লীলা। 
---------------------- 
অন্যদিকে, 
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত জনপ্রিয় ‘দস্যু কেনারামের পালা’-র রচয়িতা ছিলেন মধ্যযুগের প্রথম বাঙালি নারী কবি চন্দ্রাবতী। 
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত 'দেওয়ানা মদিনা'র রচয়িতা- মনসুর বয়াতি। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

১৩৬.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' লোকসাহিত্য সংকলনের অন্তর্ভুক্ত পালা কোনটি?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কমলারাণী
  3. রূপবতী
  4. কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা

• 'কমলারাণীর পালা' পূর্ববঙ্গের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় লোককাহিনী ভিত্তিক নাট্যমূলক পালা বা পালা গান। এটি মূলত জমিদার জানকীনাথ মল্লিকের স্ত্রী কমলা রানীর বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে রচিত একটি করুণ আখ্যান, যেখানে একটি দীঘি খননের কাহিনি ফুটে উঠেছে। কুদ্দুস বয়াতি ও অন্যান্য শিল্পীদের কণ্ঠে এই কাহিনীটি পালা গান হিসেবে প্রচলিত। 

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

-------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৩৭.
দ্বিজ কানাই রচিত পালা কোনটি?
  1. মহুয়া পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. কমলা পালা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে -  মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে  গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 
 
• 'মহুয়া' পালা:
- 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 
 
মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে,
- ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৩ সালে 
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
'মৈয়মনসিংহ গীতিকা' সংগ্রহ করেন -
  1. দ্বিজ কানাই
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. চন্দ্রকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'মৈয়মনসিংহ গীতিকা' সংগ্রহ করেন - 'চন্দ্রকুমার দে'। 

মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 এগুলো হলো: 
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা। 

চন্দ্রকুমার দে: 
- তিনি লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪০.
Ballad কি?
  1. ক) লোকগীতি
  2. খ) লোকগাথা
  3. গ) গীতিকা
  4. ঘ) গাথা
ব্যাখ্যা
• ‘Ballad’ শব্দের অর্থ - গাথা।

অন্যদিকে,
• ‘Folksong’ শব্দের অর্থ - লোকগীতি।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হলো:
• ‘Elegy’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - শোককবিতা।
• ‘Satire’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - ব্যঙ্গরচনা।
• ‘Frace’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - প্রহসন।
• ‘Belle Letter' শব্দের পারিভাষিক শব্দ - রম্যরচনা।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি এবং অভিগম্য অভিধান।
১৪১.
'দেওয়ান ভাবনা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথ গীতিকা 
  3. মর্সিয়া সাহিত্য 
  4. মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ান ভাবনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

--------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- দেওয়ান ভাবনা,
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা, 
- বিদ্যাসুন্দর উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪২.
পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ভেলুয়া
  2. মলুয়া
  3. কাঞ্চনমালা
  4. কমল সওদাগর
ব্যাখ্যা

'মলুয়া' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

পূর্ববঙ্গ গীতিকা:

- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
• মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৩.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১৩টি
  3. ১৬টি
  4. ২৩টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৪.
মৈমনসিংহ গীতিকা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) রবীন্দ্রভারতী
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ_এর নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিন্মাঞ্চলের গীতিকাব্য মৈমনসিংহ গীতিকা।
- এই গীতিকাগুলোর সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- ড. দীনেশ্চন্দ্র সেনের সম্পাদনায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় মৈমনসিংহ গীতিকা।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৫.
গোপীচন্দ্রের কাহিনি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পুঁথি সাহিত্য
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথসাহিত্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়, রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান এবং গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি। 
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৬.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালাগুলির প্রধান সংগ্রাহকদের অন্তর্ভুক্ত -
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন — চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী,জসীম উদ্‌দীন,নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
ময়মনসিংহ গীতিকা “রামায়ণ” - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) কবিকঙ্ক
  4. ঘ) দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ গীতিকার 'রামায়ণ' পালাটি চন্দ্রাবতী রচিত৷ 'চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র' পালা রচনা করেন নয়ানচাঁদ ঘোষ। কবিকঙ্ক রচনা করেন 'বিদ্যাসুন্দর' পালা। 'মহুয়া' পালাটি দ্বিজ কানাই রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৪৮.
‘ময়মনসিংহ-গীতিকা’ এর অন্তর্ভূক্ত নয় কোনটি?
  1. কঙ্কলীলা
  2. কমলারাণী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. ধোপার পাট
ব্যাখ্যা
পালা সংগ্রহকে পেশা হিসাবে নিয়েছিলেন - চন্দ্রকুমার দে।
- ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকার অনেক পালা তিনি সংগ্রহ করেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন কর্তৃক মাসিক সত্তর টাকা বেতনে পালা সংগ্রহের কাজ করেন চন্দ্রকুমার দে।
তাঁর সংগৃহীত ময়মনসিংহ গীতিকার পালা হলো:
- মহুয়া
- মলুয়া
- চন্দ্রাবতী
- কমলা
- দেওয়ানা ভাবনা
- দেওয়ানা মদিনা
- দস্যু কেনারাম
- রূপবতী
- কঙ্কলীলা
- ধোপার পাট

তার সংগৃহীত পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালা:
- মাইষাল বন্ধু,
- ভেলুয়া
- কমলারাণী
- দেওয়ান ঈসাখাঁ
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান
- আয়না বিবি
- শিলা দেবী
- পীর বাতাসী ইত্যাদি

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৯.
গম্ভীরা কোন অঞ্চলের গান?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) সিলেট
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত। সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত। ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে। শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৫০.
মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত পালা নয় কোনটি?
  1. রূপবতী
  2. কাজল রেখা
  3. আয়না বিবি
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত পালা নয়-  আয়না বিবি।  
- আয়না বিবি পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' সংকলের অন্তর্ভুক্ত পালা। আয়না বিবি পালায় হিন্দু-মুসলমানের গৃহস্থালির করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। 

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি। 

------------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা, 
- বিদ্যাসুন্দর, 
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৫১.
'দেওয়ানা মদিনা’ পালার চরিত্র কোনটি?
  1. সাধু
  2. নদের চাঁদ
  3. আলাল
  4. হুমরা বেদে
ব্যাখ্যা
• "আলাল" দেওয়ানা মদিনা’ পালার একটি  চরিত্র।

• দেওয়ানা মদিনা':
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল
- দুলাল
- মদিনা
- সোনার

অন্যদিকে,
-------------------------
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫২.
Ode কী?
  1. ক) শোককবিতা
  2. খ) পত্রকাব্য
  3. গ) খণ্ড কবিতা
  4. ঘ) কোরাসগান
ব্যাখ্যা
Ode:
- কবিতাবিশেষ (গাথাকবিতা);
- সাধারণত অনিয়মিত ছন্দে রচিত ও মহৎ অনুভূতি প্রকাশক এই কবিতা প্রায়ই কোনো বিশেষ ঘটনা বা বস্তুর মহিমাকীর্তন করে।
- কোরাসগান: সমবেত সংগীত; বৃন্দগীতি, (কবিতার) স্তবক।
উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান।
১৫৩.
'মলুয়া' কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথ গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. মধ্যযুগের গীতিকবিতা
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা   করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ- গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। 

- গীতিকা গুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ  উল্লেখযোগ্য।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৫৪.
'রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' মধ্যযুগের কোন সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মর্সিয়া সাহিত্য
  2. খ) জঙ্গনামা
  3. গ) নাথ সাহিত্য
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত।
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
-  এই দুই কাহিনী অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে। 
- রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস কাহিনী প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পাদুমাবতে। 

• সুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৫.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই -
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৬.
নাথসাহিত্যের আদিনাথ কে?
  1. গোরক্ষনাথ
  2. মীননাথ
  3. শিব
  4. হাড়িপা
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্যের আদিনাথ - শিব

নাথসাহিত্য:
- অ-বিদ্যা বা অ-জ্ঞান মানুষের তত্ত্বজ্ঞানের বাধা বলে অবিদ্যা দূর করে মহাজ্ঞান লাভের মাধ্যমে বাসনাক্ষয় নাথগণের লক্ষ্য ছিল।
- এই মহাজ্ঞান তাঁদের অজর অমর করে।
- সাধনার সাহায্যে দেহ পরিশুদ্ধ করে মহাজ্ঞান লাভের যোগ্য করলে তাকে বলে পক্কদেহ।
- এই দেহেই ঘটে শিবশক্তির মিলন।

- শিবকে তাঁরা আদিগুরু বলে বিবেচনা করেন।
- তাই শিব হলেন আদিনাথ
- তাঁর শিষ্য মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ।
- এই মীননাথই নাথধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- মীননাথের শিষ্য গোরক্ষনাথ।
- শিবের অপর শিষ্য হাড়িপা বা জালন্ধরিপা এবং হাড়িপার শিষ্য হলেন কানুপা বা কাহ্নপাদ।
- এই চারজন সিদ্ধাচার্যের মাহাত্ম্যসূচক অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনেই নাথসাহিত্যের বিকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক