ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - নিষ্ফলা।
- বাংলা শব্দ।
• অর্থ:
- ফলহীনা,
- সন্তান ধারণে অক্ষম,
- বন্ধ্যা,
- ফলপ্রসূ নয় এমন।
অন্যদিকে,
নীতিবাক্য, নিষ্পাপ ও নিষ্কর্ষণ শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭ / ২৭ · ৬০১–৭০০ / ২,৬৯১
• অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।
- শুদ্ধ বানান- ইতোমধ্যে।
- ইতোমধ্যে- শব্দটি হলো একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
- এর অর্থ এই সময়ের মধ্যে, এই অবসরে।
- ইতোমধ্যে- মূলত সময় বা কাল নির্দেশক অব্যয় হিসেবে কাজ করে এবং বাক্যের ক্রিয়ার সময় বা অবস্থার ব্যাখ্যা দেয়।
- সন্ধি বিচ্ছেদ- ইতঃ+মধ্যে।
----------
অন্যদিকে,
- ইতঃপূর্বে, ঈদৃশ, আত্মস্থ- বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ক্রন্দন - বানানটি সঠিক।
-------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- সমাসসাধিত শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, অগ্রনায়ক, পরনিন্দা ইত্যাদি।
- ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সুকেশী, সুকেশা, সুকেশিনী- তিনটিই শুদ্ধ। সুকেশীনী- অশুদ্ধ।
সূত্র: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
• শুদ্ধ বানান - অশরীরী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- প্রেতাত্মা,
- দেহহীন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ন্যূনাধিক বানানটি সঠিক।
ন্যূনাধিক (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- কমবেশি; বেশিকম।
অন্যদিকে,
যশোঃধন এর শুদ্ধ বানান- যশোধন।
জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত।
উৎস: বাংলা একাডেমি বাংলা বানান- অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - ঊর্ধ্ব।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
অন্যদিকে,
- কোষ্ঠকাটিন্য - কোষ্ঠকাঠিন্য।
- আমাবশ্যা - অমাবস্যা।
- অত্যাধিক - অত্যধিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
• শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ - সমীচীন, বাল্মীকি।
- শুদ্ধ বানান হলো - সমীচীন।
সমীচীন (বিশেষণ পদ)
-এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।
- শুদ্ধ বানান হলো - বাল্মীকি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
-এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: রামায়ণের প্রণেতা কবি ও মুনি, আদিকবি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- অপশন গুলোতে 'স্বাতন্ত্র' বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান হচ্ছে স্বাতন্ত্র্য।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।
উত্তর: ঘ) সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল।
--------------------
• সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল বা অশুদ্ধি:
একই বাক্যে একসাথে সাধু ও চলিত রীতির শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধ হয়ে থাকে।
যেমন,
অশুদ্ধ বাক্য: তাহারা এইখানে এসেছিল।
শুদ্ধ বাক্য: তারা এখানে এসেছিল।
অশুদ্ধ বাক্য: অতঃপর তাহারা চলে গেল।
শুদ্ধ বাক্য: তারপর তারা চলে গেল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ভুল প্রয়োগ: "সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে"
- শুদ্ধ বাক্য: সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
- এখানে 'সমুদয়' শব্দটির অর্থই হলো সব বা পুরো।
- তাই এটি স্বয়ং বহুবচন নির্দেশ করে।
- অতএব, 'পক্ষী' শব্দের পরে অতিরিক্ত বহুবচনসূচক 'রা' ব্যবহার করলে তা বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
-----------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বাক্য:
অশুদ্ধ: সব আলেমগণ এখানে এসেছেন।
শুদ্ধ: আলেমগণ এখানে এসেছেন।
অশুদ্ধ: ফলজ বৃক্ষ বেশি লাগাতে হবে।
শুদ্ধ: ফলদ বৃক্ষ বেশি লাগাতে হবে।
অশুদ্ধ: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
শুদ্ধ: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।
অশুদ্ধ: বাংলা বানান আয়ত্ব করা বেশ কঠিন।
শুদ্ধ: বাংলা বানান আয়ত্ত করা বেশ কঠিন।
অশুদ্ধ: পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
শুদ্ধ: পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ: আমি সাক্ষ্য দেব না।
অশুদ্ধ: আমি গীতাঞ্জলী পড়েছি।
শুদ্ধ: আমি গীতাঞ্জলি পড়েছি।
অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃচ্ছ্র + √ সাধ্ + অন।
অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• 'গাঙ' বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান: গাং।
• শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন:
- বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বনানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভুল লেখে।
শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লেখে।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।
শুদ্ধ বাক্য: দরিদ্রকে দয়া কর।
শুদ্ধ বাক্য: শশিভূষণ কি আসে নাই?
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শুদ্ধ বানান - কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• সঠিক উত্তর - সবগুলোই।
• অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে।
যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ:
- বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি ।
ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ:
- পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - যথাচিত।
- শুদ্ধ বানান - যথোচিত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- যেমন হওয়া উচিত তেমন, যথাযোগ্য (যথোচিত শাস্তি)।
অন্যদিকে,
- শাশুড়ি, নিমীলিত, বিশ্রুতি - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - 'স্বায়ত্তশাসন'
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: স্বায়ত্ত + শাসন।
এর অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - অধঃগতি।
- এর শুদ্ধ বানান - অধোগতি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- নিম্নগতি, অধঃপতন।
অন্যদিকে,
- উদ্গিরণ,
- বিশ্রুতি,
- তিরস্কার।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
শুদ্ধ বাক্য: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
অশুদ্ধ বাক্য: শিমু বুদ্ধিমান মেয়ে।
শুদ্ধ বাক্য: শিমু বুদ্ধিমতী মেয়ে।
অশুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল:
অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নাই।
অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।
অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ত্রিভুজ[ ত্রি+ভুজ] শব্দটির বানান শুদ্ধ।
অর্থ: তিনটি সরলরেখা-পরিবেষ্টিত ক্ষেত্র।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ভূবন।
- শুদ্ধ: ভুবন।
- অশুদ্ধ:শূণ্য।
- শুদ্ধ: শূন্য।
- অশুদ্ধ:পূন্য।
- শুদ্ধ: পুণ্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে। বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: তোমার সাথে গোপন পরামর্শ আছে।
শুদ্ধ: তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
অশুদ্ধ:মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
শুদ্ধ: মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।
অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
শুদ্ধ:আজকাল বিদুষী মহিলার অভাব নেই।
উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।
অপশন খ) তে পুনরুক্তি বা বাহুল্যজনিত ভুল বিদ্যমান।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে - শুধু এই কটা টাকা দিলে?
এরকম আরো উদাহরণ -
অশুদ্ধ -----------------------------------শুদ্ধ
- সমূলসহ বৃক্ষটি উৎপাটিত হয়েছে --- বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
- ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয় --- ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
- তৎকালীন সময়ের রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ --- তৎকালীন রাজা নসিবুল্লাহ অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।
ক ও গ - তে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করার ভুল হয়েছে।
ঘ) অপশনে লিঙ্গ-সঙ্গতি জনিত ভুল রয়েছে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে ভারসাম্যতা শব্দে।
- ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে- পুরুষত্ব , মধুরতা, মিত্রতা শব্দগুলোতে।
---------------------------
• নিয়ম:
- ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে ভারসাম্যতা শব্দে, কারণ-
- ‘ভারসাম্য’ নিজেই একটি বিশেষ্য পদ, যা সমাবস্থা বা ভারসাম্য নির্দেশ করে।
- অতএব, এর সঙ্গে অতিরিক্ত ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় যোগ করা অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘ভারসাম্যতা’ বা ‘ভারসাম্যত্ব’ লেখা দ্বিত্ব দোষ সৃষ্টি করে, কারণ মূল শব্দের অর্থের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমাবস্থা নিহিত।
- তাই ‘ভারসাম্য’-এর সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত প্রত্যয় ব্যবহার করা উচিত নয়।
অন্যদিকে,
- 'পুরুষত্ব' (পুরুষ + ত্ব) শব্দে 'ত্ব' প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কারণ এটি একটি নাম বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়ে গুণবাচক বিশেষ্য তৈরি করেছে।
- ‘মধুর’ একটি বিশেষণ, যা কোনো কিছুকে মিষ্টি বা সুমধুর বোঝায়। এর সঙ্গে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত করে ‘মধুরতা’ (বিশেষ্য) তৈরি করা হয়েছে, যা মূল শব্দের অর্থ বজায় রেখে মধুর হওয়ার গুণ বা অবস্থাকে প্রকাশ করে।
- ‘মিত্রতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের ব্যবহার সঠিক। মূল শব্দ ‘মিত্র’ থেকে এই প্রত্যয় যুক্ত করে বন্ধুত্বের ভাব বা অবস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন ভাববাচক শব্দ তৈরি করে, যা ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ। তাই ‘মিত্রতা’ বা ‘মিত্রত্ব’ শব্দে বন্ধুত্বের অর্থ প্রকাশের জন্য তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার সঠিকভাবে হয়েছে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
শুদ্ধ বাক্যটি হলো - সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
অপশনের বাকি বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো -
ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী। => ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই। => আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
ইহার আবশ্যক নাই। => ইহার আবশ্যকতা নাই।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
সঠিক বানান:
- অগ্ন্যাশয়, অগ্ন্যুৎপাত
- দারিদ্র, তিতিক্ষা
- দুরতিক্রম্য, হীনম্মন্যতা
- সূচ্যগ্র, সামর্থ্য
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
শুদ্ধ বাক্য: দারিদ্র্য বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।
অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মহিলার অভাব নেই।
উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ এবং উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমন: অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
• 'ঐশ্বরীক' - শব্দটি অন্যটি থেকে ভিন্ন। কারণ 'ঐশ্বরীক' শব্দটির বানান অশুদ্ধ, বাকি শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
- তাই সঠিক উত্তর - ঐশ্বরীক।
• 'ঐশ্বরীক' শব্দের শুদ্ধ বানান - ঐশ্বরিক।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- ঈশ্বরের (ঐশ্বরিক শক্তি), ঈশ্বরসম্বন্ধীয়।
অন্যদিকে,
- নিমীলিত, মহীয়সী এবং ব্যুৎপত্তি - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
• যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন -
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু
- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' - বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - হরীতকী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জাত এবং বসন্তকালে ফোটে এমন সাদাটে উভলিঙ্গ ফুল ও ভেষজগুণসম্পন্ন জলপাইসদৃশ হলুদাভ কষায় ফল বা তার ডিম্বাকৃতি পাতাবিশিষ্ট মাঝারি উচ্চতার পত্রমোচী বৃক্ষ (আনি. মধ্য এশিয়া)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• উপাচার - বানানটি অশুদ্ধ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানানটি হবে - 'উপচার' ।
'উপচার' শব্দের অর্থ:
- উপকরণ।
অন্যদিকে,
অগ্রগণ্য, স্নেহাস্পদ, স্বত্ব - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- চিকীর্ষিত।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- অভিপ্রায়যুক্ত, অভিপ্রেত, অভিলষিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
'সংস্রব' বানানটি শুদ্ধ।
অর্থঃ সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
শিল্পোদ্যোক্তা
মূর্ছনা
মনঃকষ্ট
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষ্যা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী 'উল্লেখিত' শব্দ হতে পারে না। অভিধানে এই শব্দ খুঁজে পাওয়া যাবে না। শব্দটি তৈরি হয়েছে এভাবে: উৎ + লিখিত = উল্লিখিত। উৎ মানে - উপরে বা আগে। আর লিখিত মানে যা লেখা হয়েছে এমন। তাঁর মানে উল্লেখিত শব্দের অর্থ দাঁড়ালো 'উপরে লিখিত' বা 'পূর্বে লিখিত'। তাঁর মানে 'উপরে উল্লেখিত, 'উপরোল্লিখিত' বা 'পূর্বোল্লিখিত' ভুল ব্যবহার।
- পরিপ্রেক্ষিত বোঝাবার জন্য 'প্রেক্ষিত' শব্দটি অনেকদিন যাবত ভুলভাবেই সবাই ব্যবহার করছে। 'প্রেক্ষিত' শব্দটি এসেছে 'প্রেক্ষণ' শব্দ থেকে।
- প্রেক্ষণ বিশেষ্য পদ অর্থ দৃষ্টি। এ থেকে তৈরি হয়েছে বিশেষণ পদ 'প্রেক্ষিত' অর্থ দর্শিত বা যা দেখা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ
জীবন্মৃত [জিবন্মৃতো] (বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) জীবৎ+ মৃত; (কর্মধারয় সমাস)}
১ জীবিত থেকেও মৃতের ন্যায় অচল-অক্ষম; জীয়ন্তে মরা।
২ নির্জীব; মনমরা।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মানসিকতা' - শুদ্ধ বানান।
অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
উজ্জ্বীবিত - উজ্জীবিত;
অধ্যায়ন - অধ্যয়ন;
ভাষ্কর - ভাস্কর।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।