• পানির অণু একটি ডায়াচৌম্বকীয় (Diamagnetic) পদার্থ কারণ এর পরমাণুগুলোতে থাকা সমস্ত ইলেকট্রন জোড়ায় জোড়ায় (paired) থাকে। যখন পানির অণুকে কোনো বাহ্যিক শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্রের কাছে নেওয়া হয়, তখন এটি আকর্ষিত হওয়ার পরিবর্তে খুব সামান্য পরিমাণে বিকর্ষিত (repelled) হয়। এই দুর্বল বিকর্ষণ ধর্মই ডায়াচুম্বকত্বের বৈশিষ্ট্য।
• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।
• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- হাইড্রোজেন, পানির অণু (H2O), সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।
• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।