বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Specific Relief Act, 1877

মোট প্রশ্ন১,১৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Specific Relief Act, 1877

PrepBank · পাতা / ১২ · ৮০১৯০০ / ১,১৭২

৮০১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৬ কোন বিষয়ে বিধান প্রদান করে?
  1. ভুলের জন্য চুক্তি রদ
  2. ভুলের জন্য চুক্তি সংশোধন
  3. চুক্তির ক্ষতিপূরণ প্রদান
  4. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৬ (Section 36)-এর শিরোনাম হলো "Rescission for mistake" বা ভুলের জন্য রদ। এই ধারায় বিধান করা হয়েছে যে, কেবলমাত্র ভুলের (mere mistake) কারণে লিখিত চুক্তি রদ (rescind) করা যাবে না, যদি না বিপক্ষ পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে পূর্বের অবস্থায় (substantially the same position) পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়—যেন চুক্তিটি কখনো হয়ইনি।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারার বিধান: ভুলের জন্য রদ:
কেবলমাত্র ভুলের জন্য বিচারপূর্বক লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না, যদি না যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হচ্ছে সে পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে একই মর্যাদায় পুনরুদ্ধার করা যায়, যেন কখনও চুক্তিই করা হয় নাই।
----------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section- 36. Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.

৮০২.
কোনটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের পদ্ধতি নয়?
  1. সম্পত্তি প্রত্যার্পন
  2. রিসিভার নিয়োগ
  3. দেওয়ানি কারাদণ্ড
  4. ঘোষনামূলক ডিক্রি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ সালের ১ নং আইন। এটি একটি প্রতিকারমূলক বা তত্ত্বগত আইন। এই আইনে মোট ৫৭ টি ধারা আছে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার:
কোন প্রার্থীকে প্রতিকার প্রদান করাই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের লক্ষ্য। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হলো একধরনের আইনগত প্রতিকার যা বাদী দেওয়ানী আদালতে প্রার্থনা করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় কিভাবে প্রতিকার প্রদান করতে হবে তা আলোচনা করা হয়েছে:
১) সম্পত্তি প্রত্যার্পনের মাধ্যমে;
২) আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৩) নিষেধমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৪) ঘোষনামূলক ডিক্রির মাধ্যমে;
৫) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

অর্থাৎ, 'দেওয়ানি কারাদণ্ড' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের পদ্ধতি নয়।
৮০৩.
‘A’ কর্তৃক ‘B’ তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করা হয়েছে। ‘B’ কত দিনের মধ্যে ‘A’-এর বিরুদ্ধে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ মাস
  2. ৬ বছর
  3. ১ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ A’ কর্তৃক ‘B’-কে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে (dispossession) ‘B’ স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (suit for possession of immovable property with title) করতে পারবে বেদখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিল এবং বেদখল হয়েছে বা দখল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে, তখন সেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বেদখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। বাদীকে স্বত্ব (title) প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর একটাই: ঘ) ১২ বছর।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে। 

এক্ষেত্রে,
⇒ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে;
⇒ বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে;
⇒ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে। (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ ১৪২-
যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে, সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।

৮০৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৪ এর অধীন কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত কোন আদেশ দিতে পারে?
  1. যতটুকু অংশ সম্পাদনযোগ্য ততটুকু সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ প্রদান করবে
  2. সমস্ত অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে
  3. অসম্পাদিত অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে
  4. ক ও গ উভয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে- কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।
১৪ ধারার বিধান: কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
-----------------------------
Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small: Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.

৮০৫.
নিচের কোনটি পদ্ধতিগত আইন নয়?
  1. তামাদি আইন
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি
  4. দেওয়ানী কার্যবিধি
ব্যাখ্যা
→ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন পদ্ধতিগত আইন নয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন হল তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law]।

- যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে।
-যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।

- যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে।
- যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।
- Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
৮০৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারায় আদালত দলিল সংশোধন করতে পারেন, কিন্তু কোন শর্তে?
  1. পক্ষগণ সম্মত হলে
  2. আদালতের নিজস্ব ইচ্ছার ভিত্তিতে
  3. তৃতীয় পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়
  4. যদি সংশোধিত দলিল শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রকাশ করে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী, আদালত প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুলের কারণে ত্রুটিপূর্ণ দলিল সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এতে তৃতীয় পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া যাবে না।
- যদি তৃতীয় পক্ষ দলিলের ওপর সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অধিকার অর্জন করে থাকেন, তবে আদালত তাদের অধিকার লঙ্ঘন করে দলিল সংশোধন করতে পারবেন না।
- তবে যদি তৃতীয় পক্ষের অধিকার বাধাগ্রস্ত না হয়, তাহলে আদালত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে দলিল সংশোধন করতে পারেন।
অর্থাৎ আদালত দলিল সংশোধন করতে পারেন, তবে শর্ত হলো— এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া যাবে না।

⇒ The Specific Relief Act, 1877,ধারা ৩১ অনুযায়ী যখন দলিল সংশোধন করা যেতেপারে:
-যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের দরুন কোন চুক্তি বা অপর কোন লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে না, যে কোন পক্ষ কিংবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধিত করে নেবার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। যদি আদালত ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের বেলায় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকরী করার ব্যাপারে পক্ষসমূহের সত্যিকার উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে অক্ষম হয়, সেখানে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যতদূর পর্যন্ত তা তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন, যাতে তা সে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-31. When instrument may be rectified:
-When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৮০৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি পক্ষরা চুক্তি সম্পাদনের পর তা পরিবর্তন করেন, তাহলে কী হবে?
  1. চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে
  2. চুক্তি অপরিবর্তিত থাকবে
  3. চুক্তি আর কার্যকর হবে না
  4. চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারার অধীনে, যদি পক্ষরা চুক্তি সম্পাদনের পর তা পরিবর্তন করেন, তাহলে সেই চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, চুক্তির শর্তাবলীতে পরিবর্তন করা হলে, চুক্তিটি আগের শর্তাবলীর সাথে তুলনা না করে, নতুন পরিবর্তিত শর্ত অনুযায়ী কার্যকর হবে।
এতে বোঝানো হচ্ছে যে, কোনো চুক্তি যদি পরে পরিবর্তন করা হয়, তবে সেই পরিবর্তিত চুক্তি নতুন চুক্তি হিসেবে প্রযোজ্য হবে, এবং আগের চুক্তি বাতিল হবে না বা কার্যকর হওয়া বন্ধ হবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭-এর ধারা ২৬: পরিবর্তন ছাড়া কার্যকরী করা যাবে না:
যখন কোনো বাদী লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চায় এবং প্রতিরোধকারী তা পরিবর্তনের দাবি জানায়, তখন বাদী সেই কার্যসম্পাদন লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সেই পরিবর্তনটি কার্যকর করা হয়, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:
(ক) যেখানে প্রতারণা বা সত্যের ভুলের কারণে চুক্তির শর্তগুলো এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা প্রতিরোধকারী যখন চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন তখন তিনি যেভাবে এটি ভাবছিলেন তেমন ছিল না;
(খ) যেখানে প্রতারণা, সত্যের ভুল বা বিস্ময়ের কারণে প্রতিরোধকারী চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, যখন তিনি সঠিকভাবে চুক্তির ফলাফল বোঝেননি এবং বাদীর সঙ্গে চুক্তির সম্পর্কেও ভুল ধারণা করেছিলেন;
(গ) যেখানে প্রতিরোধকারী চুক্তির শর্তগুলো জানতেন এবং তার প্রভাব বুঝতেন, এবং চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন বাদীর কিছু ভুল বিবৃতি বা বাদীর শর্তের ভিত্তিতে যা চুক্তিতে সংযোজন ছিল, কিন্তু বাদী সেই শর্ত পূর্ণ করতে অস্বীকার করেছিলেন;
(ঘ) যেখানে পক্ষদের উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল অর্জন করা, কিন্তু চুক্তির বর্তমান শর্তগুলো সেই ফলাফল অর্জন করার জন্য উপযুক্ত নয়;
(ঙ) যেখানে পক্ষরা চুক্তি সম্পাদনের পরে চুক্তির শর্তাবলী পরিবর্তন করতে চুক্তি করেছেন।
--------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 26. Non-enforcement except with variation:
Where a plaintiff seeks specific performance of a contract in writing, to which the defendant sets up a variation, the plaintiff cannot obtain the performance sought, except with the variation so set up, in the following cases (namely):- 
(a) where by fraud or mistake of fact the contract of which performance is sought is in terms different from that which the defendant supposed it to be when he entered into it; 
(b) where by fraud, mistake of fact, or surprise the defendant entered into the contract under a reasonable misapprehension as to its effect as between himself and the plaintiff; 
(c) where the defendant, knowing the terms of the contract and understanding its effect, has entered into it relying upon some misrepresentation by the plaintiff, or upon some stipulation on the plaintiff's part, which adds to the contract, but which he refuses to fulfil; 
(d) where the object of the parties was to produce a certain legal result, which the contract as framed is not calculated to produce; 
(e) where the parties have, subsequently to the execution of the contract, contracted to vary it.
৮০৮.
একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। এক্ষেত্রে, 'খ'-
  1. সম্পত্তি দখলে নিতে পারে
  2. ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে
  3. বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে
  4. বীমা পলিসি সংশোধন করতে পারে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
৮০৯.
'A' sells a field to 'B'. There is a right of way over the field of which 'A' has direct personal knowledge, but which he conceals from 'B'. In this case-
  1. 'A' is entitled to have the contract specifically enforced
  2. 'B' is entitled to have the contract rescinded
  3. 'B' is entitled to have the contract specifically enforced
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• 'ক', 'খ' এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করে। মাঠটির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার ছিল যা সম্পর্কে 'ক' এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল কিন্তু সে সেটা 'খ' এর নিকট হতে গোপন রেখেছিল। এই ক্ষেত্রে 'খ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চুক্তিটি রদ করার অধিকারী

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়-

লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
 
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়; 
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।
 
যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
 
একই ক্ষেত্রে, আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।
 
Section 35- When rescission may be adjudged:
Any person interested in a contract in writing may sue to have it rescinded, and such rescission may be adjudged by the Court in any of the following cases, namely:- 
(a) where the contract is viodable or terminable by the plaintiff; 
(b) where the contract is unlawful for causes not apparent on its face, and the defendant is more to blame than the plaintiff; 
(c) where a decree for specific performance of a contract of sale, or of a contract to take a lease, has been made, and the purchaser or lessee makes default in payment of the purchase-money or other sums which the Court has ordered him to pay. 
 
When the purchaser or lessee is in possession of the subject-matter, and the Court finds that such possession is wrongful, the Court may also order him to pay to the vendor or lessor the rents and profits, if any, received by him as such possessor. 
 
In the same case, the Court may, by order in the suit in which the decree has been made and not complied with, rescind the contract, either so far as regards the party in default, or altogether as the justice of the case may require. 
 
Illustrations 
to (a)- 
A sells a field to B. There is a right of way over the field of which A has direct personal knowledge, but which he conceals from B. B is entitled to have the contract rescinded.
৮১০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারা অনুসারে কোন ধারাগুলোর অধীনে চুক্তির আংশিক কার্যসম্পাদন সম্ভব?
  1. ধারা ১০, ১১, ১২
  2. ধারা ১৪, ১৫, ১৬
  3. ধারা  ১৭, ১৮, ১৯
  4. ধারা ২০,২১, ২২
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭, অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা: পূর্ববর্তী তিনটি ধারার (১৪,১৫,১৬) যে কোনোটির আওতাধীন ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে না।
সুতরাং, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র ১৪, ১৫, ১৬ ধারার অধীন চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদন সম্ভব।
--------------
The specific Relief Act, Section 17, Bar in other cases of specific performance of part of contract: The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.

৮১১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের বিধান প্রযোজ্য হবে-
  1. লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে
  2. লিখিত চুক্তির ক্ষেত্রে
  3. অলিখিত চুক্তির ক্ষেত্রে
  4. 'ক' এবং 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান মতে দলিল সংশোধনের আদেশ দেওয়া যায় যখন প্রতারণা বা পারস্পরিক বা উভয়পক্ষের ভুলের কারণে যদি দলিলের পক্ষদের সঠিক অভিপ্রায় প্রকাশ না পায়।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান-
যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোনো পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয় ।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের দলিল সংশোধন করা যায়-
i) লিখিত দলিল ও
ii) লিখিত চুক্তি।
 
⇒ ৩ কারণে দলিল সংশোধন করা যায়-
(১) দলিলের কোন পক্ষ প্রতারণা করলে;
(২) উভয় পক্ষে ভুল;
(৩) দলিলের উদ্দেশ্য ব্যক্ত না হইলে।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে  বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে। দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)। চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
--------------
SR Act-Section-31. When instrument may be rectified:
-When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৮১২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে-
  1. দণ্ডমূলক আইনের অধীন প্রতিকারে
  2. নিষেধাত্মক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকারে
  3. চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকারে
  4. ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইনের অধীন প্রতিকারে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারামতে কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
i) চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকারে, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইনের অধীন প্রতিকারে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে দণ্ডমূলক আইন (Penal Laws) বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ দণ্ডমূলক আইনের (Penal Laws) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।

 ⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
 ⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।

 ⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার। অন্যদিকে ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)
 ⇒ অর্থাৎ নিষেধাত্মক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে।
 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫(ঘ) ধারার বিধান অনুযায়ী আদলত ক্ষতিপূরণ ব্যতীত অন্য কোনভাবে পক্ষসমূহের অধিকার নির্ধারণ এবং ঘোষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দিতে পারে।
অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেনা। সুতরাং আর্থিক ক্ষতিপূরণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নয়।
 ⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বা Preventive Relief এর সংজ্ঞা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) অনুচ্ছেদের অধীন যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় তাকে নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলে।
অর্থাৎ যা না করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদানই হলো প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।

 ⇒  সাধারণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদান করা হলেও সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার নয়। যেমন- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হলেও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) হল আদেশাত্মক প্রতিকার। অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা হলো নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
৮১৩.
আদালত সাধারণত কোন ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন না?
  1. যেখানে অসম্পাদিত অংশ সমগ্র চুক্তির তুলনায় ছোট
  2. যেখানে অসম্পাদিত অংশ চুক্তির স্বতন্ত্র অংশ
  3. যেখানে অসম্পাদিত অংশ সমগ্র চুক্তির তুলনায় বড়
  4. 'ক' ও 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারার বিধান কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর অংশ এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটি পালন করতে সমর্থ না হয় কিংবা ঐ অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য না হয়, তাহলে ঐ পক্ষ চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি লাভের অধিকারী হবে না। তবে চুক্তির বৃহত্তর অংশ সম্পাদনের এবং ক্ষতিপূরণ লাভের সমস্ত অধিকার ত্যাগ করলে আদালত বিবাদীকে ক্ষুদ্রতর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে।
⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় হলে, সাধারণত ঐ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ দেয়া যায় না, তবে বাদী ক্ষতিপূরণের দাবি পরিত্যাগ করলে যতটুকু অংশ সম্পাদনযোগ্য তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারামতে কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, একটি অংশ আপনা-আপনি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনযোগ্য এবং অপর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য নয় এবং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশ থেকে ভিন্ন ও স্বাধীন (Separate and independent) হয়, তাহলে আদালত ঐ চুক্তির প্রথম অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে পালনের নির্দেশ দিতে পারবে।
--------------------------
⇒ Section 14 Specific performance of part of contract where part unperformed is small:  Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.

⇒ Section 15 Specific performance of part of contract where part unperformed is large: Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.

⇒ Section 16 Specific performance of independent part of contract.-When a part of a contract which, taken by itself, can and ought to be specifically performed, stands on a separate and independent footing from another part of the same contract which cannot or ought not to be specifically performed, the Court may direct specific performance of the former part.
৮১৪.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা বেদখলের তারিখ থেকে -
  1. ১ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় দখলচ্যুত হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে।
৮১৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারা অনুসারে নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে কোন পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবৎ করা যায় না?
  1. প্রতিদান মারাত্মকভাবে অপর্যাপ্ত হয়
  2. ভুল বিবরণ দ্বারা সম্মতি আদায় করা হয়
  3. অসদাচারনের মাধ্যমে সম্মতি আদায় করা হয়
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না:
- নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না:
(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;
(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;
(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।

৮১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান-
  1. Recovery of specific moveable property
  2. Who may obtain specific performance
  3. Specific performance of independent part of contract
  4. Power to award compensation in certain cases
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।

- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
 
ব্যাখ্যাঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
 
-----------------------
The Specific Relief Act, 1877, Section 19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly. 
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly. 
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct. 
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.
৮১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারার উদ্দেশ্য কী?
  1. চুক্তি রদকরণে বাধা দেওয়া
  2. চুক্তি রদকরণে উৎসাহিত করা
  3. চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করা
  4. চুক্তি রদকরণে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩৮ ধারা চুক্তি রদের (rescission) পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নিয়ম নির্ধারণ করে। যখন কোনো চুক্তি রদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয় এবং আদালত চুক্তি রদের আদেশ দেন, তখন তিনি রদকারী পক্ষকে ন্যায়পরায়ণতা (equity) অনুসারে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিতে পারেন।
- এটি ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করে, কারণ চুক্তি বাতিল হলে অপর পক্ষ আর্থিক বা অন্যান্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এজন্য ৩৮ ধারা নিশ্চিত করে যে, কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল করলে তা সম্পূর্ণভাবে অন্য পক্ষের প্রতি অন্যায় না হয় এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় থাকে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা চুক্তি রদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আদালতকে ক্ষমতা প্রদান করে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ উপযুক্ত প্রতিকার পায়।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী: রদকারী পক্ষের পক্ষ থেকে আদালত প্রয়োজন অনুসারে ন্যায়পরতার দাবি করতে পারেন:
চুক্তি রদের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত যে পক্ষকে প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেই পক্ষের থেকে অপর পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 38- Court may require party rescinding to do equity:
On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
৮১৮.
'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' জমিটি 'গ' এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পরে 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এই মর্মে একটি জাল দলিল পেশ করে এই মর্মে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবে 'খ' কে উক্ত জমি হস্তান্তর করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে 'গ' কী সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের জন্য আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. উইল সংশোধনের
  2. জাল দলিল বাতিলের
  3. দলিল সংশোধনের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী,
আদালত নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করতে পারে-
১. কোন লিখিত দলিল বাতিল [Void] বা বাতিলযোগ্য [Voidable] হলে;
২. যদি বাদীর যুক্তিসঙ্গত আশংকা থাকে যে, এরুপ দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উদাহরণ:
'ক' 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' জমিটি 'গ' এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পরে 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এই মর্মে একটি জাল দলিল পেশ করে এই মর্মে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবে 'খ' কে উক্ত জমি হস্তান্তর করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিল বাতিলের জন্য আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
৮১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার মোকদ্দমাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বলা হয়।
- শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়নি।
- তাই শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

- তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৮২০.
Section 23 of the Specific Relief Act deals with-
  1. The contracts which may specifically be enforced
  2. Unregistered contract for sale not specifically enforceable
  3. The persons who may obtain specific performance of a contract
  4. The persons against whom specific performance can not be granted
ব্যাখ্যা
⇒ Specific Relief Act Section-23.Who may obtain specific performance:
Except as otherwise provided by this Chapter, the specific performance of a contract may be obtained by-
(a) any party thereto;
(b) the representative in interest, or the principal, of any party thereto: provided that, where the learning, skill, solvency or any personal quality of such party is a material ingredient in the contract, or where the contract provides that his interest shall not be assigned, his representative in interest or his principal shall not be entitled to specific performance of the contract, unless where his part thereof has already been performed;
(c) where the contract is a settlement on marriage, or a compromise of doubtful rights between members of the same family, any person beneficially entitled thereunder;
(d) where the contract has been entered into by a tenant for life in due exercise of a power, the remainderman;
(e) a reversioner in possession, where the agreement is a covenant entered into with his predecessor in title and the reversioner is entitled to the benefit of such covenant;
(f) a reversioner in remainder, where the agreement is such a covenant, and the reversioner is entitled to the benefit thereof and will sustain material injury by reason of its breach;
(g) when a public company has entered into a contract and subsequently becomes amalgamated with another public company, the new company which arises out of the amalgamation;
(h) when the promoters of a public company have, before its incorporation, entered into a contract for the purposes of the company, and such contract is warranted by the terms of the incorporation, the company.
৮২১.
একটি বায়নানামা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য নিচের কোন শর্ত পূরণ করা আবশ্যক?
  1. চুক্তিটি নিবন্ধিত হওয়া
  2. চুক্তির বাকি বিনিময় মূল্য আদালতে দাখিল করা
  3. চুক্তি হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করা
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ২১ক ধারায় বলা হয়েছে- বায়নানামা দলিলটি নিবন্ধিত হতে হবে এবং বায়নানামার শর্ত মোতাবেক কোনো টাকা বাকি থাকলে তা আদালতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি পেতে পারে না।
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ধারা ২১ক এর বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকর যোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর যোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
-----------------------
SR Act- Section-21A. Unregistered contract for sale not specifically enforceable:
Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
৮২২.
রেজিস্টার্ড দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত ডিক্রির কপি আইনত পাঠাতে বাধ্য?
  1. ডেপুটি কমিশনারের নিকট
  2. ভূমি অফিসে
  3. রেজিস্ট্রি অফিসে
  4. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট।
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877, ধারা 39 অনুযায়ী দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত দলিলটি বাতিল মর্মে রায়ের সাথে সাথে দলিলটি আদালতে অর্পণেরও আদেশ দিয়ে থাকেন। দলিলটি The Registration Act, 1908 এর অধীনে রেজিস্ট্রি হয়ে থাকলে যে অফিসে এটি রেজিস্ট্রি হয়েছে সে অফিসে (রেজিস্ট্রি অফিসে) রায়ের একটি কপি প্রেরণ করবেন যেন সংশ্লিষ্ট অফিসার উক্ত দলিলের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

♦The Specific Relief Act, 1877, ৩৯  ধারাটি হলঃ যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদান করাযেতে পারেঃ যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তবে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসেবে ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
♦যদি দলিল রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সেই অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং তেমন অফিসার তার বইতে দলিলের নকলে উহার বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
৮২৩.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি রদের আদেশ দিতে পারেন?
  1. যেক্ষেত্রে চুক্তিটি বাদী কর্তৃক অবসানযোগ্য
  2. যেক্ষেত্রে ভুল তথ্য সরবরাহে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে
  3. যেক্ষেত্রে চুক্তির বিষয়বস্তু অস্তিত্বহীন
  4. যেক্ষেত্রে সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য বাদীর অনুকূলে
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৩৫ ধারায় বিধান মতে  নিচের চুক্তিগুলো আদালত রদ করতে পারেন-
১) যে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য (Voidable) বা বাদী কর্তৃক অবসানযোগ্য (Terminable by the plaintiff).
২) যে চুক্তিটি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে বিবাদী অধিকতর দোষী ।
৩) আদালত কর্তৃক বিক্রয় বা ইজারার ডিক্রি হওয়ার পর ক্রেতা বা ইজারাগ্রহীতা আদালতের নির্দেশমত ক্রয়মূল্য বা অন্য অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ।
♦অর্থাৎ  বাদী কর্তৃক সমাপ্তযোগ্য বা অবসানযোগ্য বা রদযোগ্য চুক্তি (contract terminable by plaintiff] সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে আদালত রদের আদেশ দিতে পারে।
৮২৪.
ঘোষণামূলক ডিক্রি কাদের উপর বাধ্যকর হবে না ?
  1. মোকদ্দমার পক্ষগণের
  2. পক্ষগণের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণের
  3. পক্ষগণ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের
  4. পক্ষগণের মধ্যে কোন ট্রাস্টী থাকলে তার উপর 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল:
এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।

অর্থাৎ ঘোষণামূলক ডিক্রি শুধুমাত্র মোকদ্দমার পক্ষগণ বা তাদের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণের উপর বাধ্যকর হবে, কিন্তু এই ঘোষণা অন্য কারো ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন তৃতীয় পক্ষের উপর বাধ্যকর হবে না।
-------------------------
Section 43: Effect of declaration:
A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

Illustration:
A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

৮২৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের আইন?
  1. পদ্ধতিগত আইন
  2. মৌলিক আইন
  3. ফৌজদারি আইন
  4. দণ্ডমূলক আইন
ব্যাখ্যা
• মৌলিক আইন [Substantive Law]:
যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

অপরদিকে,
 ⇒ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law] বলে। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।
৮২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় কোন ক্ষেত্রের জন্য আদালত ঘোষণা করতে পারেন?
  1. কোনো চুক্তি সম্পাদন
  2. সম্পত্তির মালিকানার প্রশ্ন
  3. দখল পুনরুদ্ধারের জন্য
  4. একটি ব্যক্তিগত চুক্তির বৈধতা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, আদালত সম্পত্তির মালিকানার প্রশ্ন বা আইনগত পরিচয় সম্পর্কিত ঘোষণা দিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তির মালিকানা অস্বীকার করা হয়, তবে সে আদালতে একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে, যাতে আদালত তার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
- ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
৮২৭.
আদালত সাধারণত কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে আংশিক কার্যসম্পাদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. যেখানে অসম্পাদিত অংশ সমগ্র চুক্তির তুলনায় ছোট
  2. যেখানে অসম্পাদিত অংশ চুক্তির স্বতন্ত্র অংশ
  3. যেখানে অসম্পাদিত অংশ সমগ্র চুক্তির তুলনায় বড়
  4. 'ক' ও 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারার বিধান কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর অংশ এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটি পালন করতে সমর্থ না হয় কিংবা ঐ অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য না হয়, তাহলে ঐ পক্ষ চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি লাভের অধিকারী হবে না। তবে চুক্তির বৃহত্তর অংশ সম্পাদনের এবং ক্ষতিপূরণ লাভের সমস্ত অধিকার ত্যাগ করলে আদালত বিবাদীকে ক্ষুদ্রতর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে।
⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় হলে, সাধারণত ঐ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ দেয়া যায় না, তবে বাদী ক্ষতিপূরণের দাবি পরিত্যাগ করলে যতটুকু অংশ সম্পাদনযোগ্য তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন।


⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারার বিধান কোন চুক্তির স্বাতন্ত্র্য অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনঃ যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারামতে কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, একটি অংশ আপনা-আপনি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনযোগ্য এবং অপর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য নয় এবং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশ থেকে ভিন্ন ও স্বাধীন (Separate and independent) হয়, তাহলে আদালত ঐ চুক্তির প্রথম অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে পালনের নির্দেশ দিতে পারবে।
--------------------------
⇒ Section 14 Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
 Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.

⇒ Section 15 Specific performance of part of contract where part unperformed is large: Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.

⇒ Section 16 Specific performance of independent part of contract.-When a part of a contract which, taken by itself, can and ought to be specifically performed, stands on a separate and independent footing from another part of the same contract which cannot or ought not to be specifically performed, the Court may direct specific performance of the former part.
৮২৮.
The Court’s power under Section 52 of The Specific Relief Act, 1877 is-
  1. Limited
  2. Permanent
  3. Mandatory
  4. Discretionary
ব্যাখ্যা

Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:

আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

৮২৯.
'Preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do' – এটিকে কোন ধরণের প্রতিকার বলে গণ্য করা হয়?
  1. আদেশাত্মক প্রতিকার
  2. নিরোধমূলক প্রতিকার
  3. প্রতিশোধমূলক প্রতিকার
  4. ন্যায়পরভিত্তিক প্রতিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
 
 ⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
 
 ⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার। অন্যদিকে, ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের (কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখা) প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)
৮৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় আদালত কয়টি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেতে পারে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধানে বলা আছে যে,
বিবাদী যখন বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা ভোগ দখলে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা করার হুমকি দেয়, তখন আদালত ৫টি ক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেতে পারে।

(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
৮৩১.
কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে বলবৎ করা যাবে না, যদি না চুক্তিটি হয়
  1. লিখিত
  2. প্রত্যায়িত ও সত্যায়িত
  3. সত্যায়িত
  4. লিখিত ও নিবন্ধিত
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
৮৩২.
A একটি জমিতে নির্মিত বাড়িসহ B-কে বিক্রি করার চুক্তি করেছে। চুক্তির পর কিন্তু হস্তান্তরের আগে বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায় কিন্তু জমি অক্ষত থাকে। এখানে:
  1. B চুক্তি বাতিল করতে পারে
  2. A-কে নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হবে
  3. B শুধু জমির মূল্য পরিশোধ করবে
  4. B-কে অবশ্যই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: (ঘ) B-কে অবশ্যই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

- এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার অধীনে আসে। এখানে, A একটি জমিতে নির্মিত বাড়ি B-কে বিক্রি করার চুক্তি করেছে। চুক্তির পর বাড়িটি আগুনে পুড়ে গেলেও জমি অক্ষত রয়েছে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার মতে, চুক্তির বিষয়ভুক্ত কোনো একটি অংশ ধ্বংস হলে, তবে চুক্তির অবশিষ্ট অংশের জন্য চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে, যদি সেই অংশটি স্বতন্ত্রভাবে সম্পাদিত হতে পারে এবং অর্থের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হয়।
- এক্ষেত্রে, বাড়ি পুড়ে গেলেও জমি অক্ষত থাকায় জমি বিক্রির চুক্তিটি অপরিবর্তিত থাকে এবং B-কে জমির জন্য সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে, কারণ চুক্তির মূল বিষয় জমি এবং তা অক্ষত রয়েছে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭ সালের ১৩ ধারা: চুক্তির বিষয় যেটি আংশিকভাবে বিলীন হয়ে গেছে:
- চুক্তি আইন, ১৯৭২ এর ৫৬ ধারার কোন কিছুই থাকা সত্ত্বেও, যদি চুক্তির কোন একটি অংশ, যা চুক্তি সম্পাদনের সময় বিদ্যমান ছিল, কিন্তু চুক্তির অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় অস্তিত্বহীন হয়ে যায়, তাহলে সেই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয়ে যায় না।

উদাহরণ:
(ক) A একটি বাড়ি B-কে এক লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করে। চুক্তি সম্পাদনের পরপরই একটি ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। B কে ক্রয়মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে তার চুক্তির অংশ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হতে পারে।
(খ) B এর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের বিনিময়ে, A চুক্তি করে যে সে B-কে B-এর জীবনের জন্য একটি annuity প্রদান করবে। চুক্তি সম্পাদনের পরপরই B ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে মারা যায়। B-এর প্রতিনিধি ক্রয়মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হতে পারে।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-13. Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance. 

Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase-money.
(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase-money.
৮৩৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার অধীনে, যদি চুক্তির লঙ্ঘন করা হয় এবং তা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিকারযোগ্য না হয়, তবে আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
  1. চুক্তি বাতিলের আদেশ
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশ
  3. চুক্তির একপক্ষের ক্ষতিপূরণ আদায়
  4. কোন আদেশই নয়
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশ।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো চুক্তির লঙ্ঘন করা হয় এবং তা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিকারযোগ্য নয় (যেমন, কোনো অস্থাবর বা বিরল সম্পত্তির ক্ষেত্রে), তখন আদালত সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যে-সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced- 
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust; 
(b) when 4[there] exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done; 
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or 
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done. 
 
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
৮৩৪.
একটি দলিল সংশোধিত হতে পারে শুধুমাত্র-
  1. পক্ষগণ দ্বারা
  2. আদালত দ্বারা
  3. সত্যায়নকারী সাক্ষী দ্বারা
  4. সম্পাদনকারীগণ দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877,ধারা ৩১ অনুযায়ী যখন দলিল সংশোধন করা যেতেপারে:
-যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের দরুন কোন চুক্তি বা অপর কোন লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে না, যে কোন পক্ষ কিংবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধিত করে নেবার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। যদি আদালত ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের বেলায় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকরী করার ব্যাপারে পক্ষসমূহের সত্যিকার উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে অক্ষম হয়, সেখানে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যতদূর পর্যন্ত তা তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন, যাতে তা সে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।

-অর্থাৎ আদালত দলিল সংশোধনের আদেশ মঞ্জুর করে থাকেন তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা দ্বারা।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে  বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে। দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)। চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
--------------
SR Act-Section-31. When instrument may be rectified:
-When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৮৩৫.
বাতিলযোগ্য দলিল বাতিলের ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা
  1. নির্দেশমূলক
  2. অবশ্য করনীয়
  3. স্বেচ্ছাধীন
  4. বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877, ৩৯  ধারাটি হলঃ যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদান করাযেতে পারেঃ যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তবে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসেবে ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
♦যদি দলিল রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সেই অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং তেমন অফিসার তার বইতে দলিলের নকলে উহার বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
৮৩৬.
সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য চুক্তির এক পক্ষ 'A' যদি চুক্তির অন্য অংশ পালন করতে অস্বীকার করে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব দেয়, তাহলে চুক্তির অপর পক্ষ 'B'-
  1. শুধু ক্ষতিপূরণ এর দাবি করতে পারবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে না
  3. সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
চুক্তির এক পক্ষ 'A' যদি চুক্তির অন্য অংশ পালন করতে অস্বীকার করে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব দেয়, তবুও অন্য পক্ষ 'B' সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে। অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব গ্রহণ না করে 'B', আদালতে গিয়ে 'A' কে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার জন্য বাধ্য করাতে পারবে। আদালত যদি বিবেচনা করে যে- চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য, তাহলে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ গ্রহণকে বাধ্যতামূলক করে না। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২০ ধারায় এই বিধান রয়েছে।

ধারা ২০:
''একটি চুক্তি যা সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য, তা এমনভাবেও বাস্তবায়িত হতে পারে, যদিও সেখানে চুক্তি লংঘনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকে এবং বিলম্বকারী পক্ষ সেই অর্থ প্রদানের প্রস্তুত থাকে।''

এই ধারায় চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরছে। এখানে বলা হচ্ছে যে, একটি চুক্তি যদি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তাহলে সেটি বাস্তবায়নযোগ্য, যদিও চুক্তিতে লংঘনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকে এবং বিলম্বকারী পক্ষ সেই অর্থ প্রদানের প্রস্তুতি প্রকাশ করে। অর্থাৎ, যদি একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তাহলে শুধুমাত্র বিলম্বকারী পক্ষের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব আদালতকে বাধ্য করবে না যে চুক্তিটি বাস্তবায়ন না করে শুধু ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে হবে। বরং আদালত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার জন্য বিলম্বকারী পক্ষকে নির্দেশ দিতে পারবে।

এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল- চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবকে চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প হিসাবে না গ্রহণ করা।
৮৩৭.
ধারা ৩৯ অনুযায়ী, কোন কর্তৃপক্ষ দলিলের নিবন্ধনের কপি সংরক্ষণ করবে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. রেজিস্ট্রার
  4. দলিলের মালিক
ব্যাখ্যা
• ৩৯ ধারা: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।
৮৩৮.
আদালত কোন ব্যক্তিকে তার অনুকূলে বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করা হতে বিরত রাখার আদেশ দেয় কিসের মাধ্যমে?
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা: যেক্ষেত্রে একটি বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করান রোধের লক্ষ্যে এমন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা আবশ্যক হয় এবং আদালতে তা কার্যকরীযোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে তা রোধ করা এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।
------------------
Section 55- Mandatory injunctions: When, to prevent the breach of an obligation, it is necessary to compel the performance of certain acts which the Court is capable of enforcing, the Court may in its discretion grant an injunction to prevent the breach complained of, and also to compel performance of the requisite acts.

৮৩৯.
The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় 'Preventive relief' এর সংজ্ঞা আছে?
  1. ৫৬
  2. ৫৫
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বা Preventive Relief এর সংজ্ঞা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) অনুচ্ছেদের অধীন যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় তাকে নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলে। অর্থাৎ যা না করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদানই হলো প্রতিরোধমূলক প্রতিকার ।

সাধারণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদান করা হলেও সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার নয়। যেমন- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হলেও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) হল আদেশাত্মক প্রতিকার। অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা হলো নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief).
৮৪০.
A, B-কে বিয়ে করবার চুক্তিতে আবদ্ধ হয় এই ক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. লিখিত হলে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না
  3. রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে
  4. 'ক' ও 'গ'
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা;
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।

উল্লিখিত প্রশ্নে A, B-কে বিয়ে করবার চুক্তিতে আবদ্ধ হয় এই ক্ষেত্রে  চুক্তিটি পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল এই জন্য এটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না 
৮৪১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা মতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা-
  1. করা যাবে
  2. করা যাবে না
  3. আংশিক করা যাবে
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে কেননা এই ধারায় স্বত্ব সহ দখল পুনরুদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।
• যেহেতু সরকার কারো স্বত্ব দখল করার অধিকার রাখে না তাই সরকার কারো স্বত্ব দখল করলে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।
৮৪২.
"Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits do to so". সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোথায় বলা আছে?
  1. ৪১ ধারা
  2. ৩৯ ধারা
  3. ৪২ ধারা
  4. ৫৪ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ "Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits do to so". সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের  ৪২ ধারায় বলা আছে

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে
, যেখানে বাদী শুধুমাত্র স্বত্ত্বের ঘোষণা [Mere Declaration of Title ] ছাড়া আরও প্রতিকার [further relief] দাবী করতে পারতো, কিন্তু তা করা হতে বিরত থাকে, সেখানে আদালত তেমন ঘোষণা দিবে না।
৮৪৩.
X, Y এর নিকট ১টি গরু বিক্রয়ের চুক্তি করেন যা পালনে X অস্বীকার করলে Y মামলা করেন। Y এর উপযুক্ত প্রতিকার _________।
  1. ঘোষণা
  2. ক্ষতিপূরণ
  3. আংশিক কার্যসম্পাদন
  4. সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১৯ ধারায় আদালত কতিপয় ক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিকার দিতে পারে। চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ২ ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়। যথা- ক) ক্ষতিপূরণ এবং খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন।
 
- তবে উভয় ধরনের প্রতিকার থাকলেও চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ক্ষতিপূরণের প্রতিকার প্রদান করা হয়। কিন্তু যেক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না অথবা যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হয় না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রতিকার প্রদান করে থাকে । আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯, ৩৮ এবং ৪১ ধারায় ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে।
 
- চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে অথবা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মোকদ্দমা দায়েরের সময় চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বা বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
 
- অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় ক) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয়, অথবা খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালত ২ ধরনের প্রতিকার দিতে পারে-
 
i) ন্যায়বিচার স্বার্থে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয় ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারে। 
ii) বাদী ও বিবাদীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য বিবাদী দায়ী হলে, এবং আদালত চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যথাযথ নয় বলে বিবেচনা করলে আদালত বাদীকে কেবল ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীকে বাধ্য করতে পারবে।
 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।
 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা;
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
 
- যেহেতু প্রশ্নে উল্লিখিত চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট সেহেতু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারা ও ২১ ধারা অনুযায়ী Y এর উপযুক্ত প্রতিকার হবে ক্ষতিপূরণ।
৮৪৪.
আদালত কোন ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক দখলের অধিকারী ব্যক্তির নিকট অস্থাবর সম্পত্তির দখল প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হলে
  2. আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না হলে
  3. সম্পত্তিটি বেআইনীভাবে দখল করা হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারায় তাৎক্ষণিক দখলের অধিকারী ব্যক্তি ৪টি ক্ষেত্রে মামলা করতে পারবে।
যথা-
১। যে ক্ষেত্রে বিবাদী ট্রাস্টি বা এজেন্ট হিসেবে বাদীর অস্থাবর সম্পত্তি ধারণ করে
২। বাদীর অস্থাবর সম্পত্তির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না হয়
৩। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন হলে
৪। দাবি কৃত সম্পত্তিটি বিবাদী বেআইনিভাবে দখল/ হস্তান্তর করলে।
 
১১ ধারায় বাদীকে  প্রমাণ করতে হবে যে বাদী সম্পত্তি বা পণ্যটি তাৎক্ষণিক দখলে রাখার অধিকারী।
তবে ১১ ধারায় সম্পত্তির মূল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার বিধান: অব্যবহিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দখল প্রদানের নিমিত্তে মালিক নয় এরূপ দখলকারী ব্যক্তির দায় দায়িত্ব:
-যে সম্পত্তির মালিক সে নিজে নয়, এমন অস্থাবর সম্পত্তির কোন বিশেষ অংশের দখলকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত যে কোন অবস্থাতে অবিলম্বিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট সেটি প্রদানার্থে সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে-
 
(ক) যখন দাবীকৃত সম্পত্তি দাবিদারের জিম্মাদারের বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদীদের নিকট রয়েছে।
(খ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতি টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবীদারের পর্যাপ্ত প্রতিকার করবে না।
(গ) যখন দাবীকৃত বস্তুর ক্ষতির কোন সাধিত যথার্থ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে।
(ঘ) যখন দাবীকৃত বস্তুর দখল দাবিদারের নিকট হতে অন্যায়ভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।
--------------------
⇒ SR Act, Section-11. Liability of person in possession, not as owner to deliver to person entitled to immediate possession:
-Any person having the possession or control of a particular article of moveable property, of which he is not the owner, may be compelled specifically to deliver it to the person entitled to its immediate possession, in any of the following cases:-
(a) when the thing claimed is held by the defendant as the agent or trustee of the claimant;
(b) when compensation in money would not afford the claimant adequate relief for the loss of the thing claimed;
(c) when it would be extremely difficult to ascertain the actual damage caused by its loss;
(d) when the possession of the thing claimed has been wrongfully transferred from the claimant.
৮৪৫.
নির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদনযোগ্য
  2. যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদনঅযোগ্য
  3. যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদনযোগ্য
  4. যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদনঅযোগ্য
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারা: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না-

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না-
(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;

(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;

(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।

Section 28⇒ What parties cannot be compelled to perform:
Specific performance of a contract cannot be enforced against a party thereto in any of the following cases-
(a) if the consideration to be received by him is so grossly inadequate, with reference to the state of things existing at the date of the contract, as to be either by itself or coupled with other circumstances evidence of fraud or of undue advantage taken by the plaintiff;

(b) if his assent was obtained by the misrepresentation (whether wilful or innocent), concealment, circumvention or unfair practices, of any party to whom performance would become due under the contract, or by a promise of such party which has not been substantially fulfilled;

(c) if his assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise: Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced.
৮৪৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুসারে, চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ থাকলে কী হবে?
  1. চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে
  2. শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে
  3. সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যাবে না
  4. সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যেতে পারে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যেতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২০ অনুসারে, চুক্তিতে লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ (liquidated damages) উল্লেখ থাকলেও, যদি চুক্তি অন্যথায় সুনির্দিষ্ট কার্যকরণের (specific performance) উপযুক্ত হয় এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট কার্যকরণ প্রদানে কোনো বাধা হয় না। এটি নিশ্চিত করে যে ক্ষতিপূরণের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী, একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২০ ধারার বিধান ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা নয়:
যেকোনো চুক্তি, যা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা উপযুক্ত, তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হিসেবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘন হলে ক্ষতিপূরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করা থাকে এবং চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে ইচ্ছুক।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 20. Liquidation of damages not a bar to specific performance:
A contract, otherwise proper to be specifically enforced, may be thus enforced, though a sum be named in it as the amount to be paid in case of its breach, and the party in default is willing to pay the same. 

Illustration:
A contracts to grant B an under-lease of property held by A under C, and that he will apply to C for a license necessary to the validity of the under lease, and that, if the license is not procured, A will pay B taka 10,000. A refuses to apply for the license and offers to pay B the taka 10,000. B is nevertheless entitled to have the contract specifically enforced it C consents to give the license.

৮৪৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান কী?
  1. Bar of suit for breach after dismissal
  2. Principles of rectification
  3. Presumption as to intent of parties
  4. When rescission may be adjudged
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এ ধারা অনুযায়ী দলিল সংশোধনের সময় আদালত নিম্নের বিষয় অনুসন্ধান করতে পারেন:
- দলিলের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং দলিলের ফলাফল কী।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
------------------------
The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
-In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
৮৪৮.
'ক', 'খ' ও তার সন্তানগণের নামে একটি সম্পত্তি নামজারী করে। 'ক' তারপর উক্ত সম্পত্তি 'গ'-এর কাছে বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিক্রয় থেকে বিরত থাকার লক্ষ্যে 'খ' বা তার যে কোন সন্তান কী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পেতে পারে?
  1. ঘোষণামূলক মােকদ্দমা রুজু করতে পারে
  2. নিষেধাজ্ঞা জারির মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
  3. প্রতারণা সংশ্লিষ্ট মােকদ্দমা রুজু করতে পারে
  4. কোনো প্রতিকার পাবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪- যখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়:
এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের আওতাধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক অথবা অনুমিত হোক, ভঙ্গ করাকে নিরোধের জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যেতে পারে। যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন-
ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লংঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদন্ড নেই;
গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লংঘন এমন ধরণের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লংঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নেবারণের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়ােজনীয়।

ব্যাখ্যা- অত্র ধারার লক্ষ্য অনুসারে ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে গণ্য হবে।

উদহারণ:
ছ) ক, খ ও তার সন্তানগণের নামে একটি সম্পত্তি নামজারী করে। ক তারপর উক্ত সম্পত্তি গ-এর কাছে বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিক্রয় থেকে বিরত থাকার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য খ বা তার যে কোন সন্তান মােকদ্দমা রুজু করতে পারে।
৮৪৯.
X যে জমির বৈধ দখলদার ঐ জমির উপর দিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দাগণ যাতায়াতের অধিকার দাবী করে। X এর প্রতিকার কী?
  1. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা
  2. ঘোষণা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  4. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
♦ আইনসংগত পরিচয়, পদ, অবস্থান বা সম্পত্তিতে স্বত্ত্বের অধিকা অন্য কেউ অস্বীকার করলে ৪২ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়। ঠিক এ কারণেই ৪২ ধারা ঘোষণামূলক মোকদ্দমার ধারা নামে পরিচিত। 

♦ ঘোষণামূলক মোকদ্দমা। 'কোনো ব্যক্তির আইনগত পদ/পরিচিতি [Legal Characterj বা সম্পত্তিতে স্বত্ত্বের অধিকার Right to Property) প্রার্থনা করে যে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তাকেই ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Declaratory Suit] বলে”। 

♦ ঘোষণামূলক ডিক্রি: ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে যে ডিক্রি দেয় তাকেই ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree ] বলে।

বিষয়বস্তু/কারণ: ২টি; ১, আইনগত পরিচয় নির্ধারণ করা। ২. সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

♦ মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।

♦ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়।  

♦ আনুষাঙ্গিক প্রতিকার মূল মোকদ্দমার সাথে চাইতে হয়, চাইলে পাবে, না চাইলে পাবে না। মনে রাখবেন, আনুষাঙ্গিক প্রতিকার দাবি করার থাকলে তা দাবি করা বাদীর জন্য বাধ্যতামূলক।   ঘোষণামূলক ডিক্রি বলবৎ করার জন্য জারি মামলা করার প্রয়োজন নেই। ঘোষণামূলক ডিক্রি অবমাননার জন্য অবমাননার মামলা করার দরকার নেই।
৮৫০.
দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের-
  1. একজন সাক্ষী হতে হবে
  2. অবশ্যই পক্ষ থাকতে হবে
  3. পক্ষ থাকার প্রয়োজন নাই
  4. 'ক' এবং 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের প্রতিকার শুধুমাত্র দলিলের পক্ষসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। অর্থাৎ একমাত্র দলিলের পক্ষরা যে দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবে তা না বরং যেকোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সে দলিলটি বাতিলের জন্য ৩৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
১. দলিলের পক্ষ
২. যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা
৩. যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই বরং সে যদি প্রমাণ করতে পারে যে বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিলটির কারণে সে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাহলে সে মামলা দায়েরের অধিকারী।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার বিধান যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদানযোগ্যঃ – যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
 
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।
 
⇒ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য হলে এবং তা গুরুতর ক্ষতির কারণ হলে, উক্ত দলিল বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। সুতরাং দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
৮৫১.
"Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, ________________."
  1. temporary and perpetual
  2. mandatory and temporary
  3. temporary or perpetual
  4. mandatory or perpetual
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 52. Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual. 
-----------
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়: আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।
 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এক প্রকারের প্রতিরোধমূলক বা নিরোধমূলক প্রতিকার।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী নিরোধমূলক প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (অস্থায়ী এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) হলো সর্বোত্তম পন্থা।
৮৫২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫ অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের উপায় কোনটি?
  1. রিসিভার নিয়োগ
  2. কাজ করতে বাধ্য করা
  3. অধিকার নির্ণয় ও ঘোষণা
  4. উপরের সবকয়টি উপায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫ অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিম্নলিখিত পাঁচটি উপায়ে প্রদান করা হয়:
- সম্পত্তির দখল গ্রহণ ও প্রদান
- কাজ করতে বাধ্য করা (খ অপশন)
- কাজ করা থেকে বিরত রাখা
- অধিকার নির্ণয় ও ঘোষণা (গ অপশন)
- রিসিভার নিয়োগ (ক অপশন)
যেহেতু ক, খ ও গ - সবকয়টি অপশনই ধারা ৫-এর অন্তর্ভুক্ত, তাই সঠিক উত্তর হল ঘ) উপরের সবকয়টি উপায়ে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
- Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.

৮৫৩.
The Specific Relief Act, 1877-এর অধীনে কয়ভাবে Specific Relief প্রদান করা হয়?
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877-এর অধীনে ৫ ভাবে Specific Relief প্রদান করা হয়। 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-

(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
-----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 5 Specific relief how given: Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
৮৫৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার বিপরীত কোন ধারা?
  1. ২১ ধারা
  2. ২৬ ধারা
  3. ২৭ ধারা
  4. ২৮ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ১২ থেকে ৩০: চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন-

পক্ষগণ যে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আদালত পক্ষগনকে তাদের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য অনুসারে সে কাজ সম্পাদনের আদেশ প্রদান করলে তাকে বলা যায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন।
উল্লেখ্য যে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, চুক্তি কার্যকর, চুক্তি বলবৎ, চুক্তি প্রবল ( Specific Performance of contract) শব্দগুলো একই অর্থ বহন করে। অনেকে এগুলো গুলিয়ে ফেলতে পারেন তাই উল্লেখ করা হলো।

১২ ধারার বিপরীতে ২১ ধারাতে উল্লেখ রয়েছে ৮ টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। অর্থাৎ যেসকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায়, তার উল্লেখ আছে ১২ ধারায় (৪ টি ক্ষেত্র)। যেসকল চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না, তার উল্লেখ আছে ২১ ধারায় (৮ টি ক্ষেত্রে)।
৮৫৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারা অনুসারে, আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন যদি-
  1. চুক্তির অংশবিশেষ ১৪ ধারার আওতায় পড়ে।
  2. চুক্তির অংশবিশেষ ১৫ ধারার আওতায় পড়ে।
  3. চুক্তির অংশবিশেষ ১৬ ধারার আওতায় পড়ে।
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান অনুসারে, আদালত সাধারণত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের আদেশ দেবেন না, যদি না এটি ১৪, ১৫ অথবা ১৬ ধারার আওতায় আসে। এর মানে, আদালত ওই তিনটি ধারার আওতাধীন কোনো মামলা ছাড়া চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করবেন না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭ মোতাবেক, ধারা ১৪,১৫,১৬ এই তিনটি ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান:
অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা:-
পূর্ববর্তী তিনটি (১৪,১৫,১৬) ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
-----------
⇒The Specific Relief Act, 1877 -Section 17. Bar in other cases of specific performance of part of the contract:
-The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.
৮৫৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি কোন পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে?
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী
  2. দণ্ডবিধি অনুযায়ী
  3. ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী
  4. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি  কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
---------------
Recovery of specific moveable property, Section,10: A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.
Explanation 1 - A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2 - A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

৮৫৭.
Under Section 41 of The Specific Relief Act, 1877, when may the Court require compensation to be paid?
  1. While granting injunction
  2. While enforcing a contract
  3. On refusal of specific performance
  4. On adjudging the cancellation of an instrument
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877- Section 41:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

ধারা ৪১:
দলিল বিলুপ্তির রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে তদ্রুপ প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেই পক্ষের তরফ হতে অন্য পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

৮৫৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারা অনুসারে কোন ধারাগুলোর অধীনে আদালত চুক্তির আংশিক কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে?
  1. ধারা ১০, ১১, ১২
  2. ধারা ১৪, ১৫, ১৬
  3. ধারা ১৭, ১৮, ১৯
  4. ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪
ব্যাখ্যা

Correct answer: ধারা ১৪, ১৫, ১৬.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারা , অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা: পূর্ববর্তী তিনটি ধারার যে কোনোটির আওতাধীন ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে না।
---------------------------
Section 17- Bar in other cases of specific performance of part of contract: The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.

৮৫৯.
Specific relief granted under under clause (c) of section 5 is called _________.
  1. arbitrary relief
  2. preventive relief
  3. specific relief
  4. discretionary relief
ব্যাখ্যা
⇒ Section 6 of The Specific Relief Act- Preventive relief:  Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার: ধারা-৫ (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরী ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
----------
⇒ Section 5 of The Specific Relief Act- Specific relief how given:
 Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.
৮৬০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় লিখিত চুক্তি সংশোধনে পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে আদালতের অনুমানের বিধান রয়েছে?
  1. ৩১
  2. ৩২
  3. ৩৩
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
-লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা। 
----------------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
-For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
৮৬১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় কয়টি আদেশাত্মক প্রতিকারের বিধান রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা মতে ৫টি উপায়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায়।
যেমন-
১। সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮-১০);
২। যা করতে বাধ্য তা করতে আদেশ করা (ধারা ১২-৩০ ও ৫৫);
৩। যা করতে বাধ্য নয় তা করতে আদেশ করা (ধারা ৫২-৫৭);
৪। ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদানের মাধ্যমে (ধারা ৪২);
৫। রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে (ধারা ৪৪)।
৮৬২.
'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে 'খ' নিম্নলিখিত কোন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা
  2. তথ্য উদ্ধারের মোকদ্দমা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা
  4. ঘোষণামূলক মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
-যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
উদাহরণ: 
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।
(জ) উকিল হিসাবে 'ক' এর নিয়োজিত থাকার সময় তার মক্কেল 'খ' এর কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। 'ক' উক্ত দলিল সমূহ সাধারণ্যে প্রকাশ অথবা তার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট প্রকাশ করে দেবার হুমকি প্রদান করে। 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা তে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
(ঝ) 'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
৮৬৩.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কোন আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
  1. দণ্ডবিধি, ১৮৬০
  2. চুক্তি আইন, ১৮৭২
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
  4. দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারার বিধান:

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

৮৬৪.
Section 13 of The Specific Relief Act, 1877 implies that if a part of the contract's subject matter ceases to exist, then:
  1. The entire contract is deemed impossible to perform.
  2. Only the unaffected portion of the contract remains valid.
  3. The contract is automatically nullified.
  4. Both parties are excused from performance.
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৩ অনুসারে,
যদি কোনো চুক্তির বিষয়বস্তুর একটি অংশ কার্যকর হওয়ার সময় বিদ্যমান না থাকে বা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে চুক্তির সম্পূর্ণ বিষয় বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। বরং চুক্তির যে অংশটি এখনও কার্যকর আছে (unaffected portion of the contract remains) বা যে অংশের অস্তিত্ব এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, তা বৈধ থাকে এবং সেই অংশের চুক্তিটি কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য হয়।

Section 13- Contract of which the subject has partially ceased to exist:

Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance.
[চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।]

Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase-money.
(ক) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে 'খ'-কে চুক্তিতে তার অংশের কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase-money.
(খ) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন 'খ' ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন 'খ'-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।
৮৬৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা অনুযায়ী, কোন শর্ত পূরণ হলে নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও লিজ চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন চাওয়া যেতে পারে?
  1. চুক্তিটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত হতে হবে
  2. চুক্তিটি মৌখিকভাবে সম্পাদিত হলেও চলবে
  3. চুক্তির মেয়াদ কমপক্ষে ১২ মাস হতে হবে
  4. চুক্তির লিখিত অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলেই যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) চুক্তিটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত হতে হবে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২৭ক ধারা অনুযায়ী, যদি লিজের চুক্তিটি লিখিতভাবে সম্পাদিত হয় এবং পক্ষদ্বয়ের (বা তাদের প্রতিনিধির) দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে তা নিবন্ধনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিবন্ধন না থাকলেও আদালতে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলা করা যেতে পারে, যদি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন ঘটে থাকে (যেমন দখল হস্তান্তর বা চুক্তি অনুযায়ী কিছু কার্য সম্পাদন)।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা বিধান স্থাবর সম্পত্তির লিজের চুক্তির অংশবিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান:
এই অধ্যায়ের বিধানাবলির অধীনে, যদি স্থাবর সম্পত্তি লিজ দেয়ার একটি চুক্তি লিখিতভাবে পক্ষদ্বয় বা তাদের প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত হয়, তবে যদিও চুক্তিটি নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কিন্তু নিবন্ধিত না হয়, তবুও আদেশ দ্বারা বাস্তবায়নের জন্য একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে যদি, -
(ক) যদি লিজদাতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল লিজ গ্রহীতাকে হস্তান্তর করেছেন; এবং
(খ) যদি লিজগ্রহীতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল নিয়েছেন, অথবা ইতোমধ্যে দখলে থেকে চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে দখল বজায় রেখেছেন এবং চুক্তির পরিপূরকে কোনও কাজ করেছেন।
তবে এই ধারার কিছুই এমন হস্তান্তরিতের অধিকারে প্রভাব ফেলবে না যে প্রতিফলস্বরূপ হস্তান্তর গ্রহণ করে এবং যার চুক্তি বা তার আংশিক বাস্তবায়নের কোনও সংবাদ নেই।
এই ধারা ১লা এপ্রিল, ১৯৩০ এর পরে সম্পাদিত ভাড়ার চুক্তিগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 27A- Specific performance in case of part performance of contract to lease:
Subject to the provisions of this Chapter, where a contract to lease immoveable property is made in writing signed by the parties thereto or on their behalf, either party may, notwithstanding that the contract, though required to be registered, has not been registered, sue the other for specific performance of the contract if,-
(a) where specific performance is claimed by the lessor, he has delivered possession of the property to the lessee in part performance of the contract; and
(b) where specific performance is claimed by the lessee, he has, in part performance of the contract, taken possession of the property, or, being already in possession, continues in possession in part performance of the contract, and has done some act in furtherance of the contract:
Provided that nothing in this section shall affect the rights of a transferee for consideration who has no notice of the contract or of the part performance thereof.
This section applies to contracts to lease executed after the first day of April, 1930.
৮৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে আদালত চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য ____________ এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য ________ আদেশ দিতে পারে।
  1. ক্ষতিপূরণের, নিষেধাজ্ঞার
  2. সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের, ক্ষতিপূরণের
  3. ক্ষতিপূরণের, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের
  4. সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের, নিষেধাজ্ঞার
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে-
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
৮৬৭.
The Specific Relief Act, 1877-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, আদালত চুক্তির সংশোধনের জন্য কী বিবেচনা করবেন?
  1. পক্ষসমূহের পূর্ববর্তী কর্মপরিকল্পনা
  2. পক্ষসমূহের পারস্পারিক আর্থিক সম্পর্ক
  3. পক্ষসমূহের মধ্যে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের মাত্রা
  4. পক্ষসমূহের অভিপ্রায় ও ন্যায়সংগত চুক্তির ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: (ঘ) পক্ষসমূহের অভিপ্রায় ও ন্যায়সংগত চুক্তির ইচ্ছা।
⇒ The Specific Relief Act, 1877-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, আদালত যখন একটি লিখিত চুক্তির সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি পক্ষসমূহের অভিপ্রায় বিবেচনা করবেন।
- আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে, চুক্তির সকল পক্ষ একটি সুবিচারপূর্ণ ও ন্যায্য চুক্তি করতে চেয়েছিলেন।
- "Presumption as to intent of parties" বলতে বোঝানো হয়েছে, সংশোধনের জন্য সকল পক্ষের সদিচ্ছা ও চুক্তির ন্যায্যতা থাকা প্রয়োজন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:

-লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
-For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
৮৬৮.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন মঞ্জুর করা যায়?
  1. বাদীর আবেদন সাপেক্ষে
  2. আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতায়
  3. মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে
  4. শুনানি শেষে মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয় যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

Section 53: Perpetual injunctions:
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৮৬৯.
দলিল সংশোধনের সময় আদালত কোন বিষয়টি নিশ্চিত করবে?
  1. দলিল সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়া
  2. পক্ষগণের নতুন শর্ত যুক্ত করা
  3. তৃতীয় পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হওয়া
  4. পক্ষগণের অনুমোদন নেওয়া
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৩১: কখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে:
যদি প্রতারণা বা উভয় পক্ষের পারস্পরিক ভুলবশত কোনো চুক্তি বা অন্য কোনো লিখিত দলিল প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে প্রকাশ না করে, তবে যেকোনো পক্ষ বা তার স্বার্থের প্রতিনিধি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে দলিলটি সংশোধনের জন্য।

এবং যদি আদালত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত মনে করে যে দলিল প্রণয়নে প্রতারণা বা ভুল হয়েছে এবং দলিলটি সম্পাদনের সময় পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়, তবে আদালত তার বিবেচনায় দলিলটি সংশোধন করতে পারে যাতে সেটি সেই প্রকৃত উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করে — তবে শর্ত থাকে যে এতে সৎ বিশ্বাসে এবং যথাযথ মূল্যে তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়।

⇒ Section 31- When instrument may be rectified:
When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.

৮৭০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারাটি কোন চুক্তির সাথে সম্পর্কিত?
  1. বিক্রয় চুক্তি
  2. লিজ চুক্তি
  3. উপহার চুক্তি
  4. উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: খ) লিজ চুক্তি। 
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা স্থাবর সম্পত্তির লিজের চুক্তির অংশবিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি একটি লিজ চুক্তি লিখিতভাবে এবং পক্ষদ্বয়ের স্বাক্ষরিত হয়, তবে নিবন্ধন না হলেও চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দাবি করতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা বিধান স্থাবর সম্পত্তির লিজের চুক্তির অংশবিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান:
এই অধ্যায়ের বিধানাবলির অধীনে, যদি স্থাবর সম্পত্তি লিজ দেয়ার একটি চুক্তি লিখিতভাবে পক্ষদ্বয় বা তাদের প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত হয়, তবে যদিও চুক্তিটি নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কিন্তু নিবন্ধিত না হয়, তবুও আদেশ দ্বারা বাস্তবায়নের জন্য একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে যদি, -
(ক) যদি লিজদাতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল লিজ গ্রহীতাকে হস্তান্তর করেছেন; এবং
(খ) যদি লিজগ্রহীতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল নিয়েছেন, অথবা ইতোমধ্যে দখলে থেকে চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে দখল বজায় রেখেছেন এবং চুক্তির পরিপূরকে কোনও কাজ করেছেন।

তবে এই ধারার কিছুই এমন হস্তান্তরিতের অধিকারে প্রভাব ফেলবে না যে প্রতিফলস্বরূপ হস্তান্তর গ্রহণ করে এবং যার চুক্তি বা তার আংশিক বাস্তবায়নের কোনও সংবাদ নেই।
এই ধারা ১লা এপ্রিল, ১৯৩০ এর পরে সম্পাদিত ভাড়ার চুক্তিগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 27A- Specific performance in case of part performance of contract to lease:
Subject to the provisions of this Chapter, where a contract to lease immoveable property is made in writing signed by the parties thereto or on their behalf, either party may, notwithstanding that the contract, though required to be registered, has not been registered, sue the other for specific performance of the contract if,-
(a) where specific performance is claimed by the lessor, he has delivered possession of the property to the lessee in part performance of the contract; and

(b) where specific performance is claimed by the lessee, he has, in part performance of the contract, taken possession of the property, or, being already in possession, continues in possession in part performance of the contract, and has done some act in furtherance of the contract:
Provided that nothing in this section shall affect the rights of a transferee for consideration who has no notice of the contract or of the part performance thereof.
This section applies to contracts to lease executed after the first day of April, 1930.
৮৭১.
যা না করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আছে, একটি পক্ষকে তেমন কাজ করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে যে প্রতিকার দেওয়া হয়,তা হল _______।
  1. নিরোধমূলক প্রতিকার
  2. প্রতিরোধমূলক প্রতিকার
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার
  4. উপরের সবগলো
ব্যাখ্যা
♦নিরোধমূলক প্রতিকার [Preventive Relief] বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বা নিষেধাত্মক প্রতিকার একই অর্থ বহন করে। সাধারাণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিরোধমূলক প্রতিকার দেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা হল নিরোধমূলক প্রতিকার। যেমন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি। নিরোধমূলক প্রতিকার নিজেই হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। 
৮৭২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কোন ধারায় রিসিভার/তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ বিষয় বলা হয়েছে?
  1. ৪৪ ধারা
  2. ৪২ ধারা
  3. ৪৩ ধারা
  4. ৪৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী রিসিভার/ তত্ত্বাবধায়ক হলো বিচারাধীন কোন মামলায় বিরোধপূর্ণ বিষয়টির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া।
• এটি আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
• CPC এর ৪০ ধারা অনুসারে রিসিভার/তত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়।
• রিসিভার/ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিরুদ্ধে কোন পক্ষ চাইলে আপিল করতে পারবে।
৮৭৩.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য নয়?
  1. চুক্তি ট্রাস্টি কর্তৃক সম্পাদিত হলে
  2. চুক্তিটি ৩ মাস চলমান থাকলে
  3. চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে
  4. চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট না হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে, নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
৮৭৪.
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by the-
  1. The Specific Relief Act, 1877
  2. The Code of Criminal Procedure, 1898
  3. The Code of Civil Procedure, 1908
  4. The Constitution of Bangladesh
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877

Section 8- Recovery of specific immoveable property
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে। ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

অর্থাৎ ৮ ধারার অধীন দেখাতে হবে সম্পত্তিতে স্বত্ব আছে এবং তা চুক্তিবলে হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে হোক বা দখলি স্বত্ব হোক এবং এমন স্বত্বের কারণে দখলের অধিকারী।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারার বিধান অনুসারে সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলা করা যায়। কিন্তু দখল উদ্ধারের নিয়ম কানুন বলা আছে- The Code of Civil Procedure এর আদেশ ২১ এ।
৮৭৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার অধীনে, কোন পরিস্থিতিতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যাবে না?
  1. যে ব্যক্তি চুক্তির শর্ত পূর্ণ করেছে
  2. যে ব্যক্তি চুক্তির শর্ত পূরণে অক্ষম
  3. যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেতে পারে
  4. যে ব্যক্তি চুক্তির শর্তের সমস্ত অংশ সম্পন্ন করেছে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) যে ব্যক্তি চুক্তির শর্ত পূরণে অক্ষম।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারায়, যদি কোনো ব্যক্তি চুক্তির কোনো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে অক্ষম হন বা সেই শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে তার পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার বিধান:
প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা:
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 24-
Personal bars to the relief:
Specific performance of a contract cannot be enforced in favor of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
৮৭৬.
'পরিবর্তন ব্যতীত অকার্যকরকরণ' বিধানটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ২৫
  2. ধারা ২৬
  3. ধারা ২৭
  4. ধারা ২৮
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৬,পরিবর্তন ছাড়া অকার্যকরকরণ: যেক্ষেত্রে বাদি লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন দাবি করেন যাহাতে বিবাদি একটি পরিবর্তন করেন, সেইক্ষেত্রে বাদি নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে উক্তরূপ পরিবর্তন ব্যতীত প্রার্থিত কার্য সম্পাদন পাইবেন না (যেমন):-
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতারণার মাধ্যমে বা তথ্যগত ভুলের কারণে যে চুক্তির কার্য সম্পাদন দাবি করা হইতেছে, উহার শর্তাবলি, বিবাদি চুক্তিবদ্ধ হইবার সময় যেরূপ ভাবিয়া ছিলেন উহা হইতে ভিন্নরূপ পরিগ্রহ হইয়াছে;
(খ) যেক্ষেত্রে প্রতারণা, তথ্যগত ভুল অথবা আকস্মিকতার কারণে বিবাদি তাহার এবং বাদির মধ্যে চুক্তির ফলাফল সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত ভুল ধারণার বশবর্তী হইয়া চুক্তিবদ্ধ হইয়াছেন;
(গ) যেক্ষেত্রে বিবাদি চুক্তির শর্তাবলি জানিয়া এবং এর ফলাফল উপলব্ধি করিয়া বাদির কতিপয় ভুল বিবরণের উপর বিশ্বাস করিয়া চুক্তিবদ্ধ হইয়াছেন অথবা বাদি পক্ষের এমন কিছু শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তিবদ্ধ হইয়াছেন যাহা চুক্তিতে যুক্ত করা হইয়াছে, কিন্তু যাহা তিনি পালন করিতে অস্বীকার করেন;
(ঘ) যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট আইনগত ফলাফল লাভ করা কিন্তু চুক্তি যেভাবে তৈরি করা হইয়াছে, উহা তেমন ফলদায়ী হইবে বলিয়া বিবেচিত হয় না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে পক্ষগণ চুক্তিপত্র সম্পাদনের পর উহা পরিবর্তন করিবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

৮৭৭.
Civil Courts কোন ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. রিসিভার নিয়োগ
  2. দলিল সংশোধন
  3. ঘোষণামূলক প্রতিকার
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।

সুতরাং বলা যায় যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারা ছাড়া সকল ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
৮৭৮.
কোনটি পদ্ধতি বিষয়ক আইন নয়?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি
  2. সাক্ষ্য আইন
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার
  4. তামাদি আইন
ব্যাখ্যা
♦ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে। যেমন ফৌজদারী কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি। Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
♦ যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।
৮৭৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কত ধারায় দলিল আংশিক বাতিলের এবং আংশিক বহালের বিধান আছে?
  1. ৩১ ধারা
  2. ৩৫ ধারা
  3. ৩৭ ধারা
  4. ৪০ ধারা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪০: যখন দলিল আংশিকভাবে বাতিল করা যাইবে: যেক্ষেত্রে একটি দলিল বিভিন্ন অধিকার বা বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার সাক্ষ্য হয়, সেক্ষেত্রে আদালত, যথাযথ মামলায়, উহা আংশিকভাবে বাতিল করিতে পারিবে এবং অবশিষ্ট অংশকে বহাল রাখিতে পারিবে।
ক, খ-এর নামে একটি বিল প্রণয়ন করেন, যিনি পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে গ-কে প্রদান করেন, যাহার দ্বারা পৃষ্ঠাঙ্কনের ফলে উহা ঘ-কে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়, ঘ পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে উহা ঙ-কে প্রদান করেন। গ-এর পৃষ্ঠাঙ্কন জাল ছিল। গ বিলটির অন্যান্য বিষয়ে বহাল রাখিয়া এইরূপ পৃষ্ঠাঙ্কন বাতিল করাইবার অধিকারী।
-------------
Specific Relief Act, Section 40: What instrument may be partially cancelled: Where an instrument is evidence of different rights or different obligations, the Court may, in a proper case, cancel it in part and allow it to stand for the residue.
Illustration: A draws a bill on B, who endorses it to C, by whom it appears to be endorsed to D, who endorses it to E. C's endorsement is forged. C is entitled to have such endorsement cancelled, leaving the bill to stand in other respects.

৮৮০.
Under Explanation 1 to Section 10 of The Specific Relief Act, 1877, who may sue for possession of property?
  1. A bailee
  2. A trustee
  3. A beneficiary
  4. A receiver
ব্যাখ্যা

Section 10 of The Specific Relief Act, 1877- Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.

Explanation 1-
A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.

Explanation 2-
A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

ধারা ১০ : সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা-১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে, এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।

ব্যাখ্যা-২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

৮৮১.
'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি উত্তোলন না করার বিষয়ে 'ক' এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু 'খ' চুক্তি লঙ্ঘন করে খনন কাজ করে। এক্ষেত্রে 'ক', 'খ' কে খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে -
  1. 'ক' এর কোনো প্রতিকার নেই
  2. ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
  3. নিষেধাজ্ঞা জারির মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
  4. চুক্তি বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:

এই অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বা উল্লিখিত অন্যান্য বিধানাধীন, আবেদনকারীর পক্ষে বিদ্যমান কোনো বাধ্যবাধকতা, সুস্পষ্ট বা গোপনীয়ভাবে ভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যেতে পারে।
যখন এমন বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়, আদালতকে এই আইনের অধ্যায় ২-এ অন্তর্ভুক্ত নিয়ম ও বিধানগুলিই অনুসরণ করতে হবে।
যখন বিবাদী পক্ষ বাদীর সম্পত্তির অধিকার বা উপভোগ আক্রমণ করে বা আক্রমণের হুমকি দেয়, তখন নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে আদালত একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে, যথাঃ
ক) যদি বিবাদী বাদীর জন্য সেই সম্পত্তির ট্রাস্টি হয়;
খ) যদি আক্রমণের ফলে সৃষ্ট বা সম্ভাব্য ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কোনো মান না থাকে;
গ) যদি আক্রমণটি এমন হয় যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার হিসেবে কাজ না করে;
ঘ) যদি আক্রমণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে;
ঙ) যদি বহু আদালতি কার্যক্রম এড়াতে নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজন হয়।

এখানে, 'খ' চুক্তি লঙ্ঘন করে খনন কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং 'ক' আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে 'খ'কে এই কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা চাইতে পারবেন। আদালত যথাযথ বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে।
৮৮২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারায় কোন আইনের প্রয়োগকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ঊর্ধ্বে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে?
  1. চুক্তি আইন, ১৮৭২
  2. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২
  3. রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮
  4. উল্লিখিত সকল আইনকে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা:

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৪ ধারা মতে কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
ⅰ) চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকার, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ক্ষেত্রে।
৮৮৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে অনুযায়ী চুক্তি থেকে উদ্ভূত বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে আদালত কোন অধ্যায়ের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. প্রথম অধ্যায়
  2. দ্বিতীয় অধ্যায়
  3. তৃতীয় অধ্যায়
  4. চতুর্থ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়, তবে আদালত দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধান ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.
Explanation- For the purpose of this section a trademark is property.

৮৮৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা “Equity sees that as done which ought to be done” – maxim টির  সাথে সম্পর্কিত?
  1. ৬ ধারা 
  2. ৮ ধারা 
  3. ৯ ধারা 
  4. ১২ ধারা 
ব্যাখ্যা

⇒ “Equity sees that as done which ought to be done” ম্যাক্সিমটি Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ১২ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এই ম্যাক্সিমটি ইক্যুইটি বা ন্যায়বিচারের একটি মূলনীতি, যা নির্দেশ করে যে আদালত এমনভাবে বিবেচনা করে যে যা করা উচিত তা ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। এটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন (specific performance) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ধারা ১২ এর প্রধান বিষয়।
⇒ ধারা ১২ চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন (specific performance) নিয়ে আলোচনা করে। এই ধারা অনুসারে, যদি একটি পক্ষ চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতের মাধ্যমে সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে।
- এই ম্যাক্সিমটি ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত কারণ আদালত ধরে নেয় যে চুক্তির পক্ষগুলো তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে বাধ্য এবং যা করা উচিত তা পূরণ করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বিক্রেতা সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করে কিন্তু তা পূরণ করতে অস্বীকার করে, তবে ক্রেতা ধারা ১২ এর অধীনে সুনির্দিষ্ট পালনের জন্য মামলা করতে পারে। আদালত এই ক্ষেত্রে এই ম্যাক্সিম অনুসরণ করে চুক্তিটি পূরণ করা উচিত বলে বিবেচনা করে এবং বিক্রেতাকে তা পালনে বাধ্য করে।
- ধারা ১২ এর উপ-ধারাগুলো (১২(খ), ১২(গ), ১২(ঘ)) এই ম্যাক্সিমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চুক্তির আংশিক পালন বা ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যেখানে “equity looks to the substance of the contract” এর নীতি প্রযোজ্য।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) ৬ ধারা: Preventive relief (Injunction) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫ এর clause (c) অনুযায়ী যে প্রতিকার দেওয়া হয়, তাকে ধারা ৬-এ তাকে “Preventive Relief” (নিবারণমূলক প্রতিকার) বলা হয়েছে।
খ) ৮ ধারা: এই ধারাটি স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করে, যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ হলে দখল ফিরিয়ে পেতে পারে। এটি সুনির্দিষ্ট পালন বা এই ম্যাক্সিমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
গ) ৯ ধারা: এই ধারাটি বলে যে সরকারের বিরুদ্ধে স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করা যাবে না। এটি ম্যাক্সিমের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে না।

⇒ বাংলাদেশে, ধারা ১২ এর অধীনে এই ম্যাক্সিমটি বিশেষ করে স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়, ইজারা চুক্তি, বা অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যেখানে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার নয়।
অর্থাৎ “Equity sees that as done which ought to be done” ম্যাক্সিমটি ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত, কারণ এটি চুক্তির নির্দিষ্ট পালন নিশ্চিত করার জন্য ন্যায়বিচারের নীতি প্রয়োগ করে। এই ধারাটি বাংলাদেশের আদালতে চুক্তি সম্পর্কিত বিরোধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮৮৫.
রিনা এবং অমিত একটি ভূমি লিজ চুক্তি করেন। রিনা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেন, যা আদালত খারিজ করে দেন। ধারা ২৯ অনুসারে, রিনা কি করতে পারবেন না?
  1. লিজ চুক্তির শর্ত পরিবর্তন
  2. নতুন লিজ চুক্তি সম্পাদন
  3. চুক্তি সংশোধনের মামলা
  4. চুক্তির ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ মামলা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৮৮৬.
আদালত একটি বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করেছে, কিন্তু ক্রেতা মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৫ ধারায়-
  1. চুক্তি রদ করবেন
  2. ক্ষতিপূরণ আদায় করবেন
  3. চুক্তি বৈধ ঘোষণা করতে পারবে
  4. বিক্রয় সম্পন্ন করার জন্য ডিক্রি প্রদান করবেন
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৫: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়:
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

⇒ যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

⇒ একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।

উদাহরণ:
উপধারা-ক এর-
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার সম্পর্কে 'ক'-এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তা সে 'খ'-এর নিকট গোপন রাখল। সে চুক্তি রদ করে নেওয়ার অধিকারী।

উপধারা-খ এর-
একজন অ্যাটর্নি 'ক' তার মক্কেল একজন হিন্দু বিধবা 'খ' কে 'খ' এর পাওনাদারগণের প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করল। এখানে পক্ষসমূহ সমভাবে দোষী নয় এবং 'খ' হস্তান্তরের দলিল রদ করিয়ে নেয়ার অধিকারী।
৮৮৭.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না?
  1. বাদীর দখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  2. বাদীর নিজ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  3. বাদীর চলাচলের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  4. লীজের মেয়াদ অতিক্রান্তের পরও বাদী দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য
ব্যাখ্যা
• কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।

নিষেধাজ্ঞার প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথাক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। 

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ ৩৯, রুল ১ এবং The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী- মোকদ্দমা বিচারাধীন অবস্থায় যেকোনো সময় আদালত Temporary Injunction প্রদান করতে পারেন, যা পরবর্তী আদেশ বা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি কার্যকর থাকে।।

• উল্লিখিত 'ক' এবং 'খ' অপশনে বাদীর দখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, দখলের অধিকার এবং বাদীর নিজ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, নিজের পদের দায়িত্ব পালনের অধিকারের ক্ষেত্রে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

এছাড়া বাদীর চলাচলের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে বাঁধা না পাওয়ার অধিকার। উল্লেখিত ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা [Discretionary Power] প্রয়োগ করে ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণার সাথে অতিরিক্ত প্রতিকার হিসেবে Temporary Injunction দিতে পারেন; যাতে বাদীর অধিকার প্রয়োগে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

অপরদিকে,
লীজের মেয়াদ অতিক্রান্তের পরও বাদীর দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য আদালত কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে না।
৮৮৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের Preventive relief এর বিধান আছে কত ধারায়?
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান: নিরোধক প্রতিকার: ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 6- Preventive relief: Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
৮৮৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, যদি একটি স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত হয়, তাহলে তা—
  1. ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যাবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে
  3. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়:
১. চুক্তিটি লিখিত হতে হবে।
২. চুক্তিটি রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর অধীনে নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রিকৃত) হতে হবে।
যদি চুক্তিটি অরেজিস্ট্রিকৃত হয়, তাহলে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না। অর্থাৎ, ধারা ২১ক অনুযায়ী, অরেজিস্ট্রিকৃত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়।
- এই ধারা ২০০৪ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে এবং এটি ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।
তবে, চুক্তিটি অরেজিস্ট্রিকৃত হলে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করা যেতে পারে, কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: গ) সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
৮৯০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী চুক্তি সংশোধনের জন্য কোন বিষয়কে প্রধান ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়?
  1. চুক্তির লেখার ভুল
  2. চুক্তির আর্থিক মান
  3. পক্ষসমূহের অভিপ্রায়
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, চুক্তি সংশোধনের প্রধান ভিত্তি হলো পক্ষসমূহের অভিপ্রায়। বিশেষভাবে, আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে সকল পক্ষের অভিপ্রায় ছিল একটি "সুষম ও বিবেকসম্মত চুক্তি" (equitable and conscientious agreement) সম্পাদন করা।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
- লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা। 
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
- For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.

৮৯১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়া যাবে না?
  1. চুক্তির ক্ষেত্রে
  2. দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে
  3. স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরদ্ধারের ক্ষেত্রে
  4. অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরদ্ধারের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে,
দণ্ডমূলক আইন (Penal Laws) বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।

উল্লেখ্য, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
৮৯২.
ধারা ৩১ অনুযায়ী, দলিল সংশোধনের জন্য কে মামলা দায়ের করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র দলিলের পক্ষ
  2. শুধুমাত্র দলিলের প্রণয়নকারী
  3. যে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি
  4. যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারা-

যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয় ।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী, ২ ধরনের দলিল সংশোধন করা যায়-
i) লিখিত দলিল; ও
ii) লিখিত চুক্তি।

⇒ ৩ কারনে দলিল সংশোধন করা যায়-
(১) দলিলের কোন পক্ষ প্রতারণা করলে;
(২) উভয় পক্ষে ভুল;
(৩) দলিলের উদ্দেশ্য ব্যক্ত না হলে।
৮৯৩.
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called _______ relief.
  1. substantive
  2. mandatory
  3. preventive
  4. temporary
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।

৬ ধারা: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।

Section 6- Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
৮৯৪.
'A', 'B'-এর নিকট ১৫ শতক জমি বিক্রি করার নিমিত্তে চুক্তিপত্র করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ৫ শতক জমি হস্তান্তর করতে অসমর্থ হয়, এক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. সম্পাদন করা যাবে
  2. সম্পাদন করা যাবে না
  3. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে না
  4. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে।
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোনো চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে উক্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে।
- এখানে চুক্তির সম্পাদিত অংশ ১০ শতক তথা বড় এবং অসম্পাদিত অংশ ৫ শতক তথা ছোট, তাই চুক্তিটি সম্পাদন করা যাবে এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য B-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
----------------------------------
SR Act-Section-14.Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
 
Illustrations
(a) A contracts to sell B a piece of land consisting of 100 bighas. It turns out that 98 bighas of the land belong to A, and the two remaining bighas to a stranger, who refuses to part with them. The two bighas are not necessary for the use or enjoyment of the 98 bighas, nor so important for such use of enjoyment that the loss of them may not be made good in money. A may be directed at the suit of B to convey to B the 98 bighas and to make compensation to him for not conveying the two remaining bighas; or B may be directed, at the suit of A, to pay to A, on receiving the conveyance and possession of the land, the stipulated purchase-money less a sum awarded as compensation for the deficiency.
 
(b) In a contract for the sale and purchase of a house and lands for two lakhs of Taka, it is agreed that part of the furniture should be taken at a valuation. The court may direct specific performance of the contract notwithstanding the parties are unable to agree as to the valuation of the furniture, and may either have the furniture valued in the suit and include it in the decree for specific performance, or may confine its decree to the house.
৮৯৫.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন মঞ্জুর করা যায়?
  1. কেবল শুনানির পরে
  2. চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পরে
  3. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
  4. কেবল আপিলের সময়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

৮৯৬.
বাদী আদালতে দাবি করে যে, বিবাদী তার বৈধ সন্তান নয় এবং বাদীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য করা যাবে না। আদালত বিবাদীকে বাদীর বৈধ সন্তান হিসেবে ঘোষণা করে। আদালত কর্তৃক এই ডিক্রি কীভাবে জারি করা যাবে?
  1. বাদীর সম্পত্তি ক্রোক করে
  2. বাদীকে কারাদণ্ড দিয়ে
  3. বাদীর সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করে
  4. জারি করার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Declaratory Suit):
কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তির অধিকার ঘোষণা চেয়ে যে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তা হলো ঘোষণামূলক মোকদ্দমা। ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি দেয় তা হলো ঘোষণামূলক ডিক্রি।

যে যে ক্ষেত্রে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করা যায়:
- দত্তক বৈধ বা অবৈধ ঘোষণার মোকদ্দমা;
- সম্পত্তি গ্রহণের অধিকারী হিসাবে ঘোষণা;
- মৃত পিতার সম্পত্তিতে বৈধ উত্তরাধিকারী হিসাবে সম্পত্তি দখলের অধিকারী হিসাবে ঘোষণা;
- বৈধতা সংক্রান্ত ঘোষণার মামলা রক্ষণীয়। যেমন বাদী বিবাদীর বৈধ সন্তান বা বাদী বিবাদীর পিতা না এবং এই কারণে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য না বা কোন পদের অধিকারী মর্মে ঘোষণা যেমন কলেজের অধ্যক্ষের পদ।
- বিবাহ সংক্রান্ত ঘোষণা; যেমন বাদী বিবাদীকে বিবাহ করেনি বা মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বলে ঘোষণা।

ঘোষণামূলক ডিক্রি জারি:
ঘোষণামূলক ডিক্রি বলবৎ করার কোনো প্রয়োজন নেই বা ঘোষণামূলক ডিক্রি বলবৎ করার জন্য কোন জারি মামলা দায়ের করার প্রয়োজন নেই। এমনকি ঘোষণামূলক ডিক্রি অবমাননার জন্য আদালতে অবমাননার কোন মোকদ্দমা করার প্রয়োজন হয় না।
৮৯৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় আদালত কয়টি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
♦ সম্পত্তি ভোগদখলের হুমকি প্রতিরোধ করতে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার তৃতীয় অংশ অনুসারে ৫টি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে। যথা-

১। যেখানে বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার।
২। যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের কারণে সংঘটিত বাস্তব সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই।
৩। যেখানে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অধিকার পাওয়া যাবে না।
৪। যেখানে এমন সম্ভাবনা থাকে যে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৫। যেখানে বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় জটিলতা নিবারণের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয়।
৮৯৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার বিধান রয়েছে?
  1. ২১
  2. ২২
  3. ২৩
  4. ২৪
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার বিধান: প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা:
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
------------------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 24- Personal bars to the relief:
Specific performance of a contract cannot be enforced in favor of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
৮৯৯.
একজন অ্যাটর্নি 'ক' তার মক্কেল একজন হিন্দু বিধবা "খ' কে 'খ' এর পাওনাদারকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করলো। ক এবং খ এর মধ্যে এই মর্মে সম্পাদিত চুক্তিটি  'খ' এর-
  1. রদের অধিকারী হবে
  2. সুনির্দিষ্ট বলবৎ এর অধিকারী
  3. চুক্তিটি সংশোধনের অধিকারী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা-৩৫, ব্যাখ্যা-খ অনুযায়ী, প্রতারণার উদ্দেশ্যে চুক্তিটি সম্পাদন করায় এটা একটি বাতিলযোগ্য চুক্তি।
♦ তাই আদালত চুক্তিটি রদের আদেশ মঞ্জুর করতে পারে।
৯০০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৩ কোন আইনের কোন ধারার বিপরীত বিধান দেয়?
  1. চুক্তি আইনের ধারা ৫৬
  2. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ১৩
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৬
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৩ ধারা বিধান করে যে, চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ৫৬ ধারা (যা চুক্তির অসম্ভবতা বা frustration নিয়ে) সত্ত্বেও, চুক্তির বিষয়বস্তুর কোনো অংশ যদি চুক্তির তারিখে বিদ্যমান থেকে সম্পাদনের সময় অস্তিত্বহীন হয়ে যায়, তাহলে চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয় না। এটি চুক্তির অংশীদারদের অধিকার রক্ষা করে, যাতে আংশিক ক্ষতি চুক্তিকে পুরোপুরি বাতিল না করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭ সালের ১৩ ধারা: চুক্তির বিষয় যেটি আংশিকভাবে বিলীন হয়ে গেছে:
- চুক্তি আইন, ১৯৭২ এর ৫৬ ধারার কোন কিছুই থাকা সত্ত্বেও, যদি চুক্তির কোন একটি অংশ, যা চুক্তি সম্পাদনের সময় বিদ্যমান ছিল, কিন্তু চুক্তির অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় অস্তিত্বহীন হয়ে যায়, তাহলে সেই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয়ে যায় না।
উদাহরণ:
(ক) A একটি বাড়ি B-কে এক লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করে। চুক্তি সম্পাদনের পরপরই একটি ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। B কে ক্রয়মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে তার চুক্তির অংশ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হতে পারে।
(খ) B এর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের বিনিময়ে, A চুক্তি করে যে সে B-কে B-এর জীবনের জন্য একটি annuity প্রদান করবে। চুক্তি সম্পাদনের পরপরই B ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে মারা যায়। B-এর প্রতিনিধি ক্রয়মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হতে পারে।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-13. Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance. Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase-money.
(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase-money.