বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Specific Relief Act, 1877

মোট প্রশ্ন১,১৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Specific Relief Act, 1877

PrepBank · পাতা / ১২ · ৫০১৬০০ / ১,১৭২

৫০১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা অনুযায়ী ভুলের জন্য চুক্তি রদ করার জন্য নিচের কোনটি একটি শর্ত নয়?
  1. চুক্তিতে ভুল থাকা
  2. চুক্তিটি লিখিত হওয়া
  3. চুক্তিতে একজন স্বাক্ষী থাকা 
  4. বিপক্ষ পক্ষকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা অনুযায়ী, শুধুমাত্র ভুলের কারণে লিখিত চুক্তি রদ করার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো প্রয়োজন:
(ক) চুক্তিতে ভুল থাকা: এটি মূল ভিত্তি।
(খ) চুক্তিটি লিখিত হওয়া: ধারা ৩৬ শুধুমাত্র লিখিত চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(ঘ) বিপক্ষ পক্ষকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হওয়া: চুক্তি রদ করলে অপর পক্ষকে চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যাবে কিনা তা বিবেচ্য।
কিন্তু (গ) চুক্তিতে একজন স্বাক্ষী থাকা – ৩৬ ধারায় এটি কোনও শর্ত হিসেবে উল্লেখ নেই। লিখিত চুক্তির জন্য স্বাক্ষরের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু একজন স্বাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারার বিধান: ভুলের জন্য রদ:
কেবলমাত্র ভুলের জন্য বিচারপূর্বক লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না, যদি না যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হচ্ছে সে পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে একই মর্যাদায় পুনরুদ্ধার করা যায়, যেন কখনও চুক্তিই করা হয় নাই।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section- 36. Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.

৫০২.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমায় চুক্তি রদের প্রার্থনাটি কী হিসেবে করা হয়?
  1. মূল প্রার্থনা
  2. স্বতন্ত্র মোকদ্দমা
  3. বিকল্প প্রার্থনা
  4. আপীল আবেদনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৭- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
৫০৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান মতে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যেতে পারে-
  1. নিলাম বিক্রির আদেশ দ্বারা
  2. ক্রোকাদেশ দ্বারা
  3. নিষেধাজ্ঞাদেশ দ্বারা
  4. ঘোষণামূলক আদেশ দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়: আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
- The Specific Relief Act,1877-Section 52. Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.
- কোন ব্যক্তি যে বেআইনি কাজ (Wrongful Act) করতে অধিকারী নয়, সেই কাজ করা, চালিয়ে যাওয়া, পুনরায় করা থেকে বিরত (Prevent) রাখতে, আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে যে আদেশ দেয় তাই নিরোধমূলক প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Prevent relief).
- প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এক প্রকারের প্রতিরোধমূলক বা নিরোধমূলক প্রতিকার।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী নিরোধমূলক প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (অস্থায়ী এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) হলো সর্বোত্তম পন্থা।
৫০৪.
'ক' ও 'খ' এক মালিকের বাড়িতে ভাড়াটে থাকে। ভাড়ার চুক্তিতে উল্লেখ আছে বাড়িটির যত্ন নেওয়ার। কিন্তু 'ক' ও 'খ' অবহেলা করে বাড়িটির ক্ষতি করছে। এক্ষেত্রে মালিক আদালতে গিয়ে তাদেরকে বাড়ির ক্ষতি না করতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন এবং বাড়ির প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার অধীন এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. ৫৭ ধারায়
  2. ৪২ ধারায়
  3. ৫৫ ধারায়
  4. ৫৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার (Mandatory injunction) বিধান রয়েছে। ৫৫ ধারামতে, বাধ্যতামূলক বা আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা হল কোন প্রত্যক্ষ কাজ (Positive act) অথবা আইনসংগত বাধ্যবাধকতা (legal obligation) পরিপূর্ণ করার আদেশ, যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে যা করা হয়েছিল তা নষ্ট করা অথবা কোন জিনিসকে পূর্ববর্তী অবস্থায় স্থাপন (Restore) করার নির্দেশ থাকে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারার অধীন আদালত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

৫৫ ধারা: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা:
যেক্ষেত্রে একটি বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করান রোধের লক্ষ্যে এমন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা আবশ্যক হয় এবং আদালতে তা কার্যকরীযোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে তা রোধ করা এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।

Section 55: Mandatory injunctions:
When, to prevent the breach of an obligation, it is necessary to compel the performance of certain acts which the Court is capable of enforcing, the Court may in its discretion grant an injunction to prevent the breach complained of, and also to compel performance of the requisite acts.
৫০৫.
যেখানে কোনো চুক্তির অসম্পাদিত অংশ উল্লেখযোগ্য, আদালত কখন সম্পাদনযোগ্য অংশ যতটুকু আছে তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন?
  1. বাদী ক্ষতিপূরণের দাবি পরিত্যাগ করলে
  2. বাদী অসম্পাদিত অংশ সম্পাদনের দাবি পরিত্যাগ করলে
  3. বিবাদী অসম্পাদিত অংশ সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জানালে
  4. ক এবং খ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুসারে,
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর অংশ এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটি পালন করতে সমর্থ না হয় কিংবা ঐ অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য না হয়, তাহলে ঐ পক্ষ চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি লাভের অধিকারী হবে না। তবে বাদী চুক্তির বৃহত্তর অংশ সম্পাদনের এবং ক্ষতিপূরণ লাভের সমস্ত অধিকার ত্যাগ করলে, আদালত বিবাদীকে ক্ষুদ্রতর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে।
--------------------------------
Section 15- Specific performance of part of contract where part unperformed is large:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.

৫০৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত কোন বিষয়টি বলা হয়েছে?
  1. ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার
  2. চুক্তি রদ করার অধিকার
  3. সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার অধিকার
  4. আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির অধিকার ঘোষণা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির উপর অধিকার অস্বীকার করা হয়, তাহলে সে ঘোষণামূলক মামলা (Declaratory Suit) দায়ের করতে পারে। এই মামলার মাধ্যমে আদালত ওই ব্যক্তির অধিকার বা আইনগত পরিচয় ঘোষণা করতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
- ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
৫০৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারা অনুসারে, যদি বিক্রেতা বিক্রয় বা ইজারা দেওয়ার পর সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব অর্জন করে, তাহলে ক্রেতা কী করতে পারে?
  1. চুক্তি বাতিল করতে পারে
  2. বিক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
  3. বিক্রেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারে
  4. বিক্রেতাকে উক্ত স্বত্ব অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার বিধান: ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার:
- যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যাতে তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্রদান করা হয়) নিম্নোক্ত অধিকার রয়েছে:
(ক) যদি বিক্রেতা অথবা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পরপরই সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব অর্জন করে, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারে;
(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারে;
(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং কার্যত বিক্রেতার শুধু তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারে;
(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করে এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাবার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।
-------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 18. Purchaser's rights against vendor with imperfect title:
Where a person contracts to sell or let certain property, having only an imperfect title thereto, the purchaser or lessee (except as otherwise provide by this Chapter) has the following rights:- 
(a) if the vendor or lessor has subsequently to the sale or lease acquired any interest in the property, the purchaser or lessee may compel him to make good the contract out of such interest; 
(b) where the concurrence of other persons is necessary to validate the title, and they are bound to convey at the vendor's or lessor's request, the purchaser or lessee may compel him to procure such concurrence; 
(c) where the vendor professes to sell unincumbered property, but the property is mortgaged for an amount not exceeding the purchase-money, and the vendor has in fact only a right to redeem it, the purchaser may compel him to redeem the mortgage and to obtain a conveyance from the mortgagee ; 
(d) where the vendor or lessor sues for specific performance of the contract, and the suit is dismissed on the ground of his imperfect title, the defendant has a right to a return of his deposit (if any) with interest thereon, to his costs of the suit, and to a lien for such deposit, interest and costs on the interest of the vendor or lessor in the property agreed to be sold or let.

৫০৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় 'Negative Injunction' এর বিধান আছে?
  1. ৫২
  2. ৫৩
  3. ৫৬
  4. ৫৭
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য আদালত যে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করে তাকে Negative Injunction বলে।

- নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform negative agreement)-
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে আদালত চুক্তির ইতিবাচক অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার আদেশ দিতে না পারলেও, চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারবেন।

যেমন- A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য B ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়, কিন্তু A যেন এই সময়ে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন না করতে পারে বা তাকে গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।
--------------------------------
SR Act Section-57. Injunction to perform negative agreement:
Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from granting an injunction to perform the negative agreement: provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.

Illustrations:
(a) A contracts to sell to B for taka 1,000 the good-will of a certain business unconnected with business-premises, and further agrees not to carry on that business in Chittagong. B pays A the taka 1,000 but A carries on the business in Chittagong. The Court cannot compel A to send his customers to B, but B may obtain an injunction restraining A from carrying on the business in Chittagong.
(b) A contracts to sell to B the good-will of a business. A then sets up similar business close by B's shop and solicits his old-customers to deal with him. This is contrary to his implied contract, and B may obtain an injunction to restrain A from soliciting the customers, and from doing any act whereby their good-will may be withdrawn from B.

(c) A contracts with B to sing for twelve months as B's theatre and not to sing in public elsewhere, B cannot obtain specific performance of the contract to sing, but he is entitled to an injunction restraining A from singing at any other place of public entertainment.

(d) B contracts with A that he will serve him faithfully for twelve months as a clerk. A is not entitled to a decree for specific performance of the contract. But he is entitled to an injunction restraining B from serving a rival house as clerk.
(e) A contracts with B that, in consideration of taka 1,000 to be paid to him by B on a day fixed, he will not set up a certain business within a specified distance. B fails to pay the money. A cannot be restrained from carrying on the business within the specified distance.
৫০৯.
'ক' কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবি করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি 'খ'-কে অর্পণ করা আবশ্যক। এই ক্ষেত্রে 'ক' এর প্রতিকার-
  1. দখল উদ্ধারের মামলা
  2. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒  সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
- সুতরাং শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে।
- অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree ) বলে।

-উল্লিখিত প্রশ্নের ক্ষেত্রে 'A' এর  প্রতিকার হল ঘোষণামূলক মামলা দায়ের।
যেহেতু ক' একটি জমির বৈধ দখলে আছে। 'খ' ঐ সম্পত্তির মালিকনা দাবি করে তার বরাবর দখল হস্তান্তর করতে বললে 'ক' ঐ জমির দখলে থাকার জন্য The Specific Relief Act, 1877 এর ৪২ ধারায় মামলা করতে পারেন। 
৫১০.
ধারা ২৯ অনুযায়ী, যদি একটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়, তাহলে বাদীর পরবর্তীতে কোন ধরনের মামলা করা সম্ভব নয়?
  1. চুক্তি সংশোধনের মামলা
  2. চুক্তির অবশিষ্ট অংশের জন্য মামলা
  3. চুক্তির ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ মামলা
  4. নতুন চুক্তি করার জন্য মামলা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৫১১.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৩৪ ধারার অধীনে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে?
  1. সাধারণ মৌখিক চুক্তি
  2. সংশোধিত মৌখিক চুক্তি
  3. বাতিলযোগ্য লিখিত চুক্তি
  4. সংশোধিত লিখিত চুক্তি
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৪ ধারা: সংশোধিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণ:
লিখিত চুক্তি প্রথমত সংশোধিত হতে পারে এবং যদি বাদী আরজিতে প্রার্থনা করে থাকে এবং আদালত তা যুক্তিযুক্ত মনে করেন, তবে পরে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।

উদাহরণ:
'ক' তার অ্যাটর্নি 'খ'-কে খরচের টাকার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের জন্য লিখিতভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তিতে মক্কেলের নাম ও অধিকার ভুলভাবে অন্তর্ভূক্ত হয়। যদি সঠিকভাবে তা ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা চুক্তির অধীনে সকল অধিকার হতে 'খ'-কে বঞ্চিত করবে। যদি আদালত উপযুক্ত মনে করেন তবে 'খ' চুক্তি সংশোধন করার এবং নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদানের আদেশ পাবার অধিকারী।

৫১২.
'ক' 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' জমিটি 'গ' এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পরে 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এই মর্মে একটি জাল দলিল পেশ করে এই মর্মে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবে 'খ' কে উক্ত জমি হস্তান্তর করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিল বাতিলের জন্য আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. ৩১ ধারায়
  2. ৩৩ ধারায়
  3. ৩৫ ধারায়
  4. ৩৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী,
আদালত নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করতে পারে-
১. কোন লিখিত দলিল বাতিল [Void] বা বাতিলযোগ্য [Voidable] হলে;
২. যদি বাদীর যুক্তিসঙ্গত আশংকা থাকে যে, এরুপ দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উদাহরণ:
'ক' 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' জমিটি 'গ' এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পরে 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এই মর্মে একটি জাল দলিল পেশ করে এই মর্মে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবে 'খ' কে উক্ত জমি হস্তান্তর করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিল বাতিলের জন্য আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
৫১৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা অনুসারে, যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিবে
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি দিবে
  3. আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিবে
  4. কোনো আদেশ দিবে না
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভুত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

৫১৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুসারে সুনির্দিষ্ট সম্পাদন হল -
  1. একটি আইনগত অধিকার
  2. একটি ফৌজদারি প্রতিকার
  3. একটি সাংবিধানিক অধিকার
  4. আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১২ অনুসারে, কোনো চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন (specific performance) আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতায় (discretion of the Court) আদায়যোগ্য হতে পারে, যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান থাকে। এর অর্থ হলো, সুনির্দিষ্ট সম্পাদন কোনো স্বয়ংক্রিয় বা বাধ্যতামূলক অধিকার নয়, বরং আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল একটি প্রক্রিয়া। এটি একটি আইনগত অধিকার হিসেবে দাবি করা যায় না, কারণ এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে (যেমন: ট্রাস্টের সম্পাদন, ক্ষতির মানদণ্ডের অভাব, আর্থিক প্রতিকারের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদি) আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। এটি ফৌজদারি বা সাংবিধানিক প্রতিকার নয়, বরং দেওয়ানি মামলায় চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্যের একটি ব্যবস্থা।
⇒ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট সম্পাদন আদালতের একটি বিবেচনামূলক ক্ষমতা (discretionary power), যা তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োগ করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যে-সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced- 
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust; 
(b) when 4[there] exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done; 
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or 
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

৫১৫.
'ক' কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবি করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে 'ক' কত দিনের মধ্যে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৩ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৬ মাস
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বা 'Declaratory Sui't বা 'Suit for Declaration' বলে।
 
তামাদি আইনে ঘোষণামূলক মোকদ্দমার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে-সকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।
-ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে হবে।
৫১৬.
‘ক’ একজোড়া দুষ্প্রাপ্য কারুকার্যখচিত পাত্রের অধিকারী। কিন্তু সেগুলো ‘খ’-  এর দখলে রয়েছে। এ জিনিসগুলো অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং তার বাজারদর নির্ণয় করাও কষ্টসাধ্য। এক্ষেত্রে ‘ক’ এর প্রতিকার কী?
  1. ‘খ’-কে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা যেতে পারে
  2. ‘ক’-কে ফেরত দেওয়ার জন্য ‘খ’-কে বাধ্য করা যেতে পারে
  3. ‘খ’-কে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে
  4. ‘ক’-কোন প্রতিকার পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার বিধান: অব্যবহিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দখল প্রদানের নিমিত্তে মালিক নয় এরূপ দখলকারী ব্যক্তির দায় দায়িত্ব:
যে সম্পত্তির মালিক সে নিজে নয়, এমন অস্থাবর সম্পত্তির কোন বিশেষ অংশের দখলকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত যে কোন অবস্থাতে অবিলম্বিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট সেটি প্রদানার্থে সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে-
(ক) যখন দাবিকৃত সম্পত্তি দাবিদারের জিম্মাদারের বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদীদের নিকট রয়েছে;
(খ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতি টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবীদারের পর্যাপ্ত প্রতিকার করবে না;
(গ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতির কোন সাধিত যথার্থ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে;
(ঘ) যখন দাবিকৃত বস্তুর দখল দাবিদারের নিকট হতে অন্যায়ভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, ‘খ’ কে এগুলো ‘ক’-এর কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যেতে পারে।
৫১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ ধারায় কোন ধরনের ব্যক্তিদের নিয়ে বিধান রয়েছে?
  1. যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায়
  2. যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না
  3. যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায়
  4. যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ ধারা- যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• এই ধারার বিধান অনুযায়ী- যদি এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন কার্যকরী করা যেতে পারেঃ

(ক) যেকোন পক্ষের বিরুদ্ধে;
 
(খ) চুক্তির পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত স্বত্ব দ্বারা তার অধীনে দাবিরত যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যদি না সে মূল্যের বিনিময়ে এমন একজন হস্তান্তরগ্রহীতা হয়, যে সরল বিশ্বাসে মূল চুক্তি সম্পর্কে অনবহিত থেকে তার অর্থ প্রদান করেছে;
 
(গ) এমন স্বত্বের অধীন দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যা যদিও চুক্তির পূর্ববর্তী ছিল এবং বাদীর জানা ছিল, তবুও তা প্রতিবাদী স্থানচ্যুত করে থাকবে;
 
(ঘ) যখন পাবলিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয় এবং তার পর পরই তা অন্য পাবলিক কোম্পানির সথে একত্রিত হয়, তখন একত্রিত হওয়ার ফলে উদ্ভূত নূতন কোম্পানির বিরুদ্ধে;
 
(ঙ) যখন পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিরা, কোম্পানি গঠিত হওয়ার পূর্বেই চুক্তি করে, তখন কোম্পানির বিরুদ্ধে; যদি কোম্পানি চুক্তি অনুমোদন ও গ্রহণ করিয়া থাকে এবং কোম্পানি গঠনের শর্ত দ্বারা চুক্তি সমর্থিত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারা- যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে,
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা- যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে,
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারা- যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
Section 27 of The Specific Relief Act- Relief against parties and persons claiming under them by subsequent title-

Except as otherwise provided by this Chapter, specific performance of a contract may be enforced against- 
(a) either party thereto; 

(b) any other person claiming under him by a title arising subsequently to the contract, except a transferee for value who has paid his money in good faith and without notice of the original contract;

(c) any person claiming under a title which, though prior to the contract and known to the plaintiff, might have been displaced by the defendant; 

(d) when a public company has entered into a contract and subsequently becomes amalgamated with another public company, the new company which arises out of the amalgamation; 

(e) when the promoters of a public company have, before its incorporation, entered into a contract, the company: provided that the company has ratified and adopted the contract and the contract is warranted by the terms of the incorporation. 
৫১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের দলিল সংশোধনের আদেশ মঞ্জুর করা আদালতের জন্য-
  1. Mandatory
  2. Prohibitory
  3. Discretionary
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877,ধারা ৩১ অনুযায়ী যখন দলিল সংশোধন করা যেতেপারে:
-যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের দরুন কোন চুক্তি বা অপর কোন লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে না, যে কোন পক্ষ কিংবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধিত করে নেবার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। যদি আদালত ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের বেলায় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকরী করার ব্যাপারে পক্ষসমূহের সত্যিকার উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে অক্ষম হয়, সেখানে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যতদূর পর্যন্ত তা তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন, যাতে তা সে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
 
- অর্থাৎ আদালত দলিল সংশোধনের আদেশ মঞ্জুর করে থাকেন তার ইচ্ছাধীন (Discretionary) ক্ষমতা দ্বারা।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে  বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে। দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)। চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
--------------
SR Act-Section-31. When instrument may be rectified:
- When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৫১৯.
ক একটি মাঠ খ-এর নিকট বিক্রয় করেন। মাঠের উপর দিয়া যাতায়াত করার অধিকার সম্পর্কে ক-এর ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তিনি উহা খ-এর নিকট গোপন রাখেন। এই ক্ষেত্রে -
  1. ক চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার অধিকারী
  2. খ চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার অধিকারী
  3. খ চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

তথ্য গোপন করা প্রতারণা বলে গণ্য হয়। যেহেতু মাঠটির উপর চলাচলের অধিকার ছিল এটা সম্পর্কে অবগত থাকার পরও ক, 'খ'-কে উক্ত বিষয়ে অবগত করেনি, তাই সে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হবে। সুতরাং ক এবং খ এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটি খ-এর ইচ্ছানুসারে বাতিলযোগ্য বলে গণ হবে এবং আদালত এমন চুক্তি রদের আদেশ দিতে পারে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ধারা ৩৫: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়: লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

• যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।

৫২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মোকদ্দমায় বাদী বিকল্প হিসেবে কী প্রতিকার পেতে পারে?
  1. ক্ষতিপূরণ
  2. চুক্তি রদ
  3. চুক্তি সংশোধন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় বিকল্প হিসাবে রদের প্রার্থনা- একটি লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়েরকারী বাদি বিকল্প প্রার্থনা করিতে পারিবেন যে, চুক্তিটি যদি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা না যায়, তাহা হইল উহা রদ করা হউক এবং বাতিল হিসাবে ত্যাগ করা হউক; এবং আদালত যদি চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করিতে অস্বীকার করে, তাহা হইলে উহা রদ করিবার এবং সেই অনুসারে ত্যাগ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।
--------------
The Specific Relief Act,1877, Section 37: Alternative prayer for rescission in suit for specific performance: A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

৫২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২০ ধারায় চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষ জরিমানা প্রদানে রাজি থাকলে চুক্তির ফলাফল কী হবে?
  1. বাতিল হবে
  2. বাস্তবায়িত হতে পারে
  3. বাস্তবায়িত হবে না
  4. জরিমানা মওকুফ হবে
ব্যাখ্যা
• Section 20- Liquidation of damages not a bar to specific performance:
A contract, otherwise proper to be specifically enforced, may be thus enforced, though a sum be named in it as the amount to be paid in case of its breach, and the party in default is willing to pay the same.

যদি কোনো চুক্তিতে ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকে এবং ভঙ্গকারী পক্ষ সেই অর্থ প্রদানে রাজি থাকে, তাহলেও নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার যোগ্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হতে পারবে।

অর্থাৎ, চুক্তির শর্তাবলী যদি সুনির্দিষ্ট এবং নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তাহলে চুক্তির ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিকল্প জরিমানার বিধান থাকলেও চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। এক্ষেত্রে ভঙ্গকারী পক্ষ যদি জরিমানা প্রদানে রাজি থাকে তাহলেও চুক্তি বাস্তবায়ন করানো যাবে।
৫২২.
ধারা ৩৮ অনুযায়ী, আদালত কোন পক্ষকে ন্যায়পরায়ণ প্রতিকার প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. চুক্তি রদকারী পক্ষকে
  2. যে পক্ষ চুক্তি কার্যকর করতে চেয়েছিল
  3. চুক্তির যেকোনো পক্ষকে
  4. যে পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রদান করা হয়েছে
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা: আদালত রদকারী পক্ষকে ন্যায়পরায়ণ প্রতিকার প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে-
চুক্তি রদের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত যে পক্ষকে প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেই পক্ষের থেকে অপর পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 38- Court may require party rescinding to do equity:
On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

৫২৩.
The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারা অনুযায়ী breach of contract-এর জন্য compensation চাওয়া যায়?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৯
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা

⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ১৯ এর অধীনে চুক্তি ভঙ্গের (breach of contract) জন্য ক্ষতিপূরণ (compensation) দাবি করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। এই ধারাটি বলে যে, যদি কোনো চুক্তি ভঙ্গের ফলে একটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই পক্ষ ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। এছাড়াও, এই ধারা অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালনের (specific performance) পাশাপাশি বা বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। আদালত এই ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমনকি যদি সুনির্দিষ্ট পালন সম্ভব না হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
-কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
-----------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 -Section-19: Power to award compensation in certain cases: 
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly. 
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly. 
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct. 
Explanation:- The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.

৫২৪.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারার ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষের করতে হয়?
  1. আপীল;
  2. রীট;
  3. রিভিউ;
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল কিংবা রিভিউ চলবে না।
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১১৫ ধারা অনুযায়ী যেখানে আপীল করা যায় না সেখানে রিভিশন করা যায়।
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারার ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষকে রিভিশন করতে হয়।
৫২৫.
What types of injunctions can the Court grant under Section 52?
  1. Only temporary
  2. Only perpetual
  3. Temporary or perpetual
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর ৫২ ধারায় বিধান করা হয়েছে,
স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

Section 52: Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.
৫২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারা অনুযায়ী কখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) দেয়া যায়?
  1. মোকদ্দমার শুরুতে
  2. যে কোন সময়ে
  3. ডিক্রির মাধ্যমে
  4. আদেশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
 
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-53:
- Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.

- Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৫২৭.
'When instrument may be rectified'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ৩০ ধারার
  2. ৩১ ধারার
  3. ৩৫ ধারার
  4. ৩৮ ধারার
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার বিধান- যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে:
যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।

Section 31-  
When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৫২৮.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে একটি দেওয়ানি আদালত উহার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. ঘোষণামূলক মোকদ্দমা
  2. অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মোকদ্দমা
  3. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা
  4. দলিল সংশোধনের মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:
১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

একটি দেওয়ানি আদালত অগ্রক্রয় (Pre-emption) সংক্রান্ত মোকদ্দমায় বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না, কারণ এটি একটি আইনগত অধিকারভিত্তিক মামলা, যেখানে আদালতের ভূমিকা আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করা।
৫২৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ সালের কত নম্বর আইন?
  1. ২নং আইন
  2. ৩নং আইন
  3. ১নং আইন
  4. ৫নং আইন
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কিছু তথ্য:
⇒ প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭; (১নং আইন)
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ প্রস্তাবনা: ১টি;
⇒ খন্ড: ৩টি;
⇒ তফলিস: নেই;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।

৫৩০.
'A' একটি জমির বৈধ দখলে আছে। প্রতিবেশী গ্রামবাসী উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার দাবি করে। 'A' মামলা করতে পারে-
  1. বণ্টনের
  2. ঘোষণার
  3. অগ্রক্রয়ের
  4. ক্ষতিপূরণের
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
 
- শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
 
- ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।
 
- অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
 
-যেহেতু 'A' একটি জমির বৈধ দখলে আছে। প্রতিবেশী গ্রামবাসী উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার দাবি করে জমিতে 'A' এর বৈধ দখলকে অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে উক্ত জমিতে 'A' এর যে বৈধ অধিকার আছে তার ঘোষণা চেয়ে 'A' দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
৫৩১.
'A' একটি বাড়ি উদ্যানসহ একটি সম্পত্তি 'B' কে এক লক্ষ টাকায় বিক্রির চুক্তি করে। বাড়ি উপভোগের জন্য উদ্যানটি গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে দেখা যায় যে, 'A' উদ্যানটি হস্তান্তর করতে অক্ষম। এই অবস্থায়, 'A'-
  1. চুক্তি সংশোধনের রায় পাবে
  2. অবশ্যই চুক্তির বাকি অংশের বাস্তবায়নের রায় পাবে
  3. অবশ্যই সম্পূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়নের রায় পাবে
  4. শর্তসাপেক্ষে চুক্তির বাকি অংশের বাস্তবায়নের রায় পাবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৫ অনুসারে,
যদি একটি চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত পুরোপুরি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের রায় দিতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে আদালত যেটুকু সম্ভব, সেইটুকুর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে এবং আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে। অর্থাৎ বাদীকে সীমিত বাস্তবায়নই গ্রহণ করতে হবে।

এই উদাহরণে দেখা যাচ্ছে যে, সম্পূর্ণ চুক্তি পালনের জন্য A যেহেতু সক্ষম নয়, সেহেতু A সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের রায় পাবে না। কারণ চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ (উদ্যান) হস্তান্তরের অক্ষমতার কারণে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে যদি B বাকী অংশগুলো (বাড়ি ও সম্পত্তি) নিতে রাজী থাকে এবং ক্ষতিপূরণের দাবি ত্যাগ করে, তাহলে আদালত A কে যেসব অংশ হস্তান্তর করতে সক্ষম, শুধু সেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে চুক্তির বাকি অংশের বাস্তবায়নের রায় পাবে এবং A কে বাড়িটি হস্তান্তর করতে বলা যেতে পারে।
৫৩২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার ফলে ক্ষতি হওয়ার পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব না, তখন আদালত -
  1. চুক্তির শর্ত বাতিল করবে 
  2. মামলাটি খারিজ করবে
  3. শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিবে
  4. সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায় করতে পারে
ব্যাখ্যা

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার ফলে ক্ষতি হওয়ার পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব না, তখন আদালত- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায় করতে পারে।

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
--------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

৫৩৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী, একটি দলিল বাতিল করা হলে, নিবন্ধন অফিসার কী করবেন?
  1. দলিলটি সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলবেন
  2. দলিলের একটি নতুন কপি তৈরি করবেন
  3. দলিলের মালিককে ক্ষতিপূরণ দেবেন
  4. দলিলের রেকর্ডে বাতিলের তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো দলিল অকার্যকর (void) বা বাতিলযোগ্য (voidable) বলে ঘোষণা করা হয় এবং আদালত সেটি বাতিলের আদেশ প্রদান করেন, তাহলে—
১) আদালত সেই দলিলের বাতিল সংক্রান্ত ডিক্রির একটি কপি সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে পাঠাবেন।
২) রেজিস্ট্রেশন অফিসার তার রেকর্ডে দলিলের কপিতে এই বাতিলের তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন।
৩) এর ফলে দলিলটি আর কার্যকর থাকবে না এবং কেউ সেটি বৈধভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।
অর্থাৎ আদালতের আদেশ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন অফিসার দলিলের রেকর্ডে বাতিলের তথ্য লিপিবদ্ধ করেন, যা ভবিষ্যতে দলিলটি বৈধভাবে ব্যবহার হওয়া থেকে বিরত রাখে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৩৯ ধারার বিধান: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
-যেকোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসংগত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
-যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ করবেন।
-------------
⇒The Specific Relief Act, 1877-Section-39: When cancellation may be ordered:
-Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or viodable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.
If the instrument has been registered under the Registration Act, 1908, the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.
৫৩৪.
কত সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রণীত হয়?
  1. ১৭৮৭
  2. ১৮৮৭
  3. ১৮৭৭
  4. ১৮৭২
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রণীত হয় ১৮৭৭ সালে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ একটি তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন যাকে ইংরেজিতে বলে substantive law.
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ সালের ১লা মে কার্যকর হয়।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে মোট ধারা ৫৭টি।
- এটি এমন একটি আইন যা বিশেষভাবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত বিষয়ে বিবেচনার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
৫৩৫.
একজন শিল্পী একটি গ্যালারির সাথে চুক্তি করেছিলেন তিনি একটি চিত্রকর্ম তৈরি করবেন। পরবর্তীতে তিনি অন্য গ্যালারির জন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেন। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারা অনুসারে প্রথম চুক্তিটি-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে
  2. আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে না
  3. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না
  4. শিল্পীকে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে বাধ্য করা যাবে
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ এর সাথে সম্পর্কিত। ধারা ২১ অনুযায়ী, কিছু চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না, বিশেষ করে যখন চুক্তিটি ব্যক্তিগত দক্ষতা বা যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল হয়।
এই ক্ষেত্রে, শিল্পী একটি গ্যালারির সাথে চুক্তি করেছিলেন একটি চিত্রকর্ম তৈরি করার জন্য। এটি একটি ব্যক্তিগত দক্ষতা বা যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল চুক্তি, কারণ শিল্পীর ব্যক্তিগত শৈল্পিক দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা এই চুক্তির মূল উপাদান। যখন শিল্পী অন্য গ্যালারির জন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেন, তখন এটি প্রথম চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে।
যেহেতু এই ধরনের চুক্তি ব্যক্তিগত দক্ষতা বা যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল, আদালত সাধারণত এ ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেন না। এর পরিবর্তে, আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 21 Contracts not specifically enforceable:
The following contracts cannot be specifically enforced:–
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief;
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms;
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty;
(d) a contract which is in its nature revocable;
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust;
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers;
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date;
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist.
And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.
৫৩৬.
নিম্নের কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিপালনের জন্য বাধ্য করা যাবে?
  1. যে চুক্তি বাতিলযোগ্য প্রকৃতির
  2. যখন কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করা হয়
  3. যখন ট্রাস্টি কোন সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের পরিপন্থি চুক্তি করে
  4. যে চুক্তি পালন না হলে সাধিত ক্ষতি অর্থ দ্বারা পূরণযোগ্য
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-

ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে;
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে;
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে;
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

 খ.গ, এবং ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলা যায়, আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হলে বা নির্ণয় করা গেলে বা পাওয়া গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার দিবেনা বরং ক্ষতিপূরণ প্রতিকার দিবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ভিন্ন কিছু প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না, এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার এভাবে করা যায়।

যদি চুক্তির বিষয়বস্তু স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি বিক্রয়ের চুক্তি বা জমি লিজের বা বন্ধকের চুক্তি হয়, তাহলে আদালত ধরে নিবে চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না এবং এই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে।
৫৩৭.
Specific relief granted under ___________ is called preventive relief.
  1. clause (c) of section 5
  2. clause (b) of section 5
  3. clause (e) of section 5
  4. clause (a) of section 5
ব্যাখ্যা
⇒ Section 6 of The Specific Relief Act- Preventive relief:  Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার: ধারা-৫ (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরী ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
----------
⇒ Section 5 of The Specific Relief Act- Specific relief how given:
 Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.
৫৩৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় 'Solatium' এর বিধান আছে?
  1. ১২
  2. ২১
  3. ২২
  4. ২৯
ব্যাখ্যা
⇒ Solatium অর্থ হলো সান্ত্বনাপ্রদ ক্ষতিপূরণ। সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি প্রমাণিত হলেও বিক্রেতার কাষ্টলাঘবের জন্য ক্রেতাকে সান্ত্বনাপ্রদ ক্ষতিপূরণ প্রদানে চুক্তি বলবৎ অগ্রাহ্য করা যায়।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং  যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা [hardship] সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
 
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২২ ধারার অধীন ২টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে আদালত ক্ষতিপূরণ [solatium] প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে যথা:
(১) যেক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং
(২) যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলববরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না।
------------------------------------------
⇒ Section 22: Discretion as to decreeing specific performance:
-The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.

⇒ The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
i. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.

ii. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
 
⇒The following is a case in which the Court may properly exercise a discretion to decree specific performance: –
iii. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
৫৩৯.
A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করেছে যে, B এর থিয়েটারে ১২ মাস যাবৎ গান গাইবে এবং জনসম্মুখে বিনোদনের জন্য অন্য কোথাও গান গাইবে না। B, A-কে অন্য কোথাও গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে নিম্ন লিখিত কোন মামলাটি করতে পারে?
  1. চুক্তি বলবৎ এর মামলা
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৭ ধারায় নিষেধাজ্ঞার মামলা
  3. ১২ ধারা অনুযায়ী চুক্তি বলবৎ মামলা
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-, ১৮৭৭- এর ৫৪ ধারায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৬ ধারার নেতিবাচক চুক্তি পালন করার জন্য নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।
•এখানে A যেহেতু B এর সঙ্গে চুক্তির সময়টুকু অন্য কোথাও গান না করার বিষয়ে চুক্তি করেছে, তাই A এর বিরুদ্ধে B নেতিবাচক নিষেধাজ্ঞার মামলা করবে যেন B-এর থিয়েটারে গান না করলেও A অন্য কোথাও যেন গান না করতে পারে।
৫৪০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ______ ধারামতে ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।
  1. ১২
  2. ২১
  3. ২৩
  4. ২৭
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে অথবা;
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
৫৪১.
The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. রিসিভার নিয়োগের পদ্ধতি The Specific Relief Act, 1877 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
  2. রিসিভার নিয়োগের পদ্ধতি The Code of Civil Procedure, 1908 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
  3. রিসিভার নিয়োগে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনা
  4. The Specific Relief Act, 1877 এর অধীনে রিসিভার নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877  এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন বিষয়ঃ মামলার বিচারাধীন সময় রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।
♦দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের উল্লেখ, তার নিযুক্ত পন্থা এবং তার অধিকার, ক্ষমতা কর্তব্য ও দায়- দায়িত্বসমূহ দেওয়ানী কার্যবিধি আইন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।
৫৪২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার অধীন সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করার মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়?
  1. ৮ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১০ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারার বিধান: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যখ্যা-১: এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা-২: সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
--------------
Section 10 Recovery of specific moveable property:
 A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure. 
Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled. 
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.
৫৪৩.
বাতিলকৃত দলিল যদি Registration Act, 1908 অনুসারে নিবন্ধিত হয়, তাহলে আদালত কী করবে?
  1. বাতিলকৃত দলিলটি সরাসরি ধ্বংস করবে
  2. বাতিলের আদেশের পূর্বে নিবন্ধন অফিসারকে জানাবে
  3. বাতিলকৃত দলিলটি পুনরায় নিবন্ধন করবে
  4. নিবন্ধন অফিসারকে বাতিলের ডিক্রির অনুলিপি পাঠাবে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৯: কখন বাতিলকরণ আদেশ করা যেতে পারে:
যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো লিখিত দলিল বাতিলযোগ্য (voidable) বা অকার্যকর (void), এবং যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা আছে যে ওই দলিলটি যদি বহাল থাকে তবে তা তাকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে— সে ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারে যাতে দলিলটিকে অকার্যকর বা বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আদালত তার বিবেচনায় যদি মনে করে যে দলিলটি সত্যিই অকার্যকর বা বাতিলযোগ্য, তাহলে আদালত সেটিকে তেমনভাবে ঘোষণা করতে পারে এবং দলিলটি জমা দিয়ে বাতিল করার আদেশ দিতে পারে।

যদি সেই দলিলটি ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন (Registration Act, 1908) অনুসারে নিবন্ধিত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি অনুলিপি সেই নিবন্ধন অফিসারের কাছে পাঠাবে, যার অফিসে দলিলটি নিবন্ধিত হয়েছে। ঐ অফিসার তার রেকর্ডে সংরক্ষিত দলিলের অনুলিপিতে তার বাতিল হওয়ার বিষয়টি নোট করে রাখবে।

৫৪৪.
উকিল হিসাবে 'ক' এর নিয়োজিত থাকার সময় তার মক্কেল 'খ' এর কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। 'ক' উক্ত দলিল সমূহ প্রকাশ অথবা তার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট প্রকাশ করে দেবার হুমকি প্রদান করে। 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা তে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে 'খ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে?
  1. ৫২
  2. ৫৪
  3. ৫৫
  4. ৫৬
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
 
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
 
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ: 
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।

(খ) একজন জিম্মাদার জিম্মা ভঙ্গের হুমকি প্রদান করে। তার সহ-জিম্মাদার যদি থেকে থাকে, অবশ্যই এবং উপকার লাভকারী মালিক চুক্তিভঙ্গ নিরোধের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(ঘ) একটি অগ্নি এবং জীবন বীমা কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ নৌ-বিমা করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাদেরকে তা হতে বিরত রাখবার লক্ষ্যে ইনজাংশন জারির জন্য যেকোনো অংশীদারই মামলা দায়ের করতে পারেন।

(ঙ) একজন কার্যনির্বাহী 'ক' অসদাচরণ বা দেউলিয়া অবস্থার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। আদালত তাকে তার আয় পাওয়া থেকে নিবৃত্ত রাখবার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।
 
(চ) 'খ' এর জিম্মাদার 'ক' জিম্মা সম্পত্তির একটি ক্ষুদ্র অংশের অযৌক্তিক বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 'খ' বিক্রয় থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা রুজু করতে পারে, যদিও আর্থিক ক্ষতিপূরণ তার পর্যাপ্ত প্রতিকার বিধান করে।
 
(ছ) 'ক', 'খ' ও তার সন্তানগণের নামে একটি সম্পত্তি নামজারি করে। 'ক' তারপর উক্ত সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিক্রয় হতে বিরত থাকবার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' বা তার যেকোনো সন্তান মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(জ) উকিল হিসাবে 'ক' এর নিয়োজিত থাকার সময় তার মক্কেল 'খ' এর কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। 'ক' উক্ত দলিল সমূহ সাধারণ্যে প্রকাশ অথবা তার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট প্রকাশ করে দেবার হুমকি প্রদান করে। 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা তে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(ঝ) 'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(ঞ) দু'টি সংলগ্ন বাড়ির মালিক 'ক', 'খ' এর নিকট বাড়ি ভাড়া প্রদান করে এবং পরবর্তী সময়ে 'গ' এর নিকট অপর বাড়িটি ভাড়া প্রদান করে। অতঃপর 'ক' ও 'গ', 'গ'-কে ভাড়া প্রদান করা বাড়ির পরিবর্তন আরম্ভ করল, যা 'খ' কে ভাড়া প্রদান করা বাড়ির স্বাচ্ছন্দ্যমূলক উপভোগকে বিঘ্নিত করবে। তাদেরকে তেমন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
৫৪৫.
রাহিম আরিফের নিকট ৯০ বিঘা জমি বিক্রয়ের চুক্তি করে। পরবর্তীতে দেখা যায়, রাহিম শুধুমাত্র ৬০ বিঘার মালিক এবং বাকী ৩০ বিঘার মালিক একজন তৃতীয় পক্ষ, যিনি জমি বিক্রয়ে রাজি নন। এক্ষেত্রে আদালত কখন রাহিমকে ৬০ বিঘা জমি বিক্রয়ের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. রাহিমের সম্মতি থাকলে
  2. যখন আরিফ সম্পূর্ণ অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী করে
  3. যখন আরিফ ৬০ বিঘা জমি গ্রহণে রাজি হয় এবং ক্ষতিপূরণ দাবী করে
  4. যখন আরিফ ৬০ বিঘা জমি গ্রহণে রাজি হয় এবং ক্ষতিপূরণ দাবী না করে
ব্যাখ্যা
ধারা-১৫: চুক্তির সম্পাদনযোগ্য অংশটি অসম্পাদনযোগ্য অংশের চেয়ে ছোট হলে (Specific performance of part of contract where part unperformed is large)- 
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর অংশ এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটি পালন করতে সমর্থ না হয় কিংবা ঐ অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য না হয়, তাহলে ঐ পক্ষ চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি লাভের অধিকারী হবে না। তবে চুক্তির বৃহত্তর অংশ সম্পাদনের এবং ক্ষতিপূরণ লাভের সমস্ত অধিকার ত্যাগ করলে আদালত বিবাদীকে ক্ষুদ্রতর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে।

সুতরাং, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারামতে-
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় হলে, সাধারণত ঐ চুক্তির সুনিদিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ দেয়া যায় না, তবে বাদী ক্ষতিপূরণের দাবি পরিত্যাগ করলে যতটুকু অংশ সম্পাদনযোগ্য তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আরিফ যদি ৬০ বিঘা জমি গ্রহণে রাজি হয় এবং ক্ষতিপূরণ দাবী না করে তাহলে আদালত রাহিমকে ৬০ বিঘা জমি বিক্রয়ের নির্দেশ দিতে পারে।

আরো এক উদহারণ:
রফিক হাসানের নিকট ২০০ বিঘা জমি বিক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে, রফিক ৮০ বিঘা জমির মালিক এবং বাকী ১২০ বিঘা জমির মালিক অন্য ব্যক্তি, যিনি ঐ জমি বিক্রয় করতে ইচ্ছুক নন। রফিক হাসানের বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি পেতে পারে না। কিন্তু হাসান যদি প্রতিশ্রুতি মোতাবেক টাকা পরিশোধ করতে রাজি থাকে এবং রফিকের মালিকাধীন ৮০ বিঘা জমি গ্রহণে রাজি থাকে এবং রফিকের অবহেলা বা ত্রুটির কারণে ক্ষতিপূরণের দাবী পরিত্যাগ করে, তাহলে আদালত রফিককে ৮০ বিঘা জমি হাসানের নিকট বিক্রয়ের ডিক্রি প্রদান করতে পারে।
৫৪৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কোথায় জমা দিতে হবে?
  1. আদালতে
  2. সরকারি ব্যাংকে
  3. ক্রেতার কাছে
  4. বিক্রেতার কাছে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক (Section 21A) স্পষ্টভাবে বলে:
“...no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless—
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908,
and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.”
অর্থাৎ, যদি কেউ কোনো স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি, ঘর ইত্যাদি) বিক্রয়ের চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে চান, তাহলে:
- চুক্তিটি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে, এবং
- চুক্তির যেটুকু মূল্য বাকি আছে, মামলা দায়েরের সময় তা আদালতে জমা দিতে হবে।
 অতএব, চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য আদালতে জমা না দিলে এই ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়া যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
৫৪৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুসারে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রতিকার কত উপায়ে দেওয়া যায়?
  1. ১ প্রকারে
  2. ৩ প্রকারে
  3. ৪ প্রকারে
  4. ৫ প্রকারে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার। ৫এর গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।

৫। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কিভাবে প্রদান করা হয়: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয়-
(ক) নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণপূর্বক উহা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোনো পক্ষকে কোনো কাজ করিতে বাধ্য করিবার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে যাহা তিনি করিতে বাধ্য;
(গ) কোনো পক্ষকে কোনো কাজ করা হইতে বিরত রাখিবার মাধ্যমে যাহা তিনি করিতে বাধ্য নহেন;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রায় প্রদান ব্যতীত অন্যভাবে পক্ষগণের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------------
Specific relief how given: Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.

৫৪৮.
ধারা ২৫ এর অধীনে বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়া কী পরিস্থিতিতে চুক্তির নির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করতে অক্ষম হবেন?
  1. যখন তিনি সম্পত্তির মালিক হন
  2. যখন তিনি সম্পত্তির দখল নিশ্চিত করেন
  3. যখন তিনি মূল্যবান প্রতিফল ছাড়াই অধিকার সমর্পণ করেন
  4. যখন তিনি সম্পত্তির মূল্যের উপর ভিত্তি করে চুক্তি করেন
ব্যাখ্যা
ধারা ২৫- একজন বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়ার পক্ষে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তি নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়িত করা যাবে না যদি-
(ক) জেনে-শুনে নিজের অধিকারহীন এমন সম্পত্তির বিক্রয় বা ভাড়া দেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকেন;

(খ) চুক্তি করার সময় যদিও বিশ্বাস করতেন যে তিনি সেই সম্পত্তির উপর সুনির্দিষ্ট অধিকার রাখেন, কিন্তু পক্ষদ্বয়ের বা আদালতের নির্ধারিত সময়ে বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়া ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে যৌক্তিক সন্দেহাতীতভাবে স্বত্বাধিকার প্রদান করতে অক্ষম হন;

(গ) চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে কোনো মূল্যবান প্রতিফল ছাড়াই চুক্তির বিষয়বস্তুর উপর নিজের অধিকার সমর্পণ করে থাকেন।
৫৪৯.
৯ ধারার অধীনে দায়েরকৃত মামলার কোন আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না?
  1. কেবল আপিল
  2. কেবল পুনর্বিবেচনা
  3. পুনর্বিবেচনা অথবা আপিল
  4. আপিল এবং রিভিশন
ব্যাখ্যা
৯ ধারা- স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

Section 9- Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
৫৫০.
The rights, powers duties and liabilities of receivers are regulated by:
  1. The Court’s discretion
  2. The Code of Civil Procedure
  3. The parties involved
  4. The local administration
ব্যাখ্যা
Section 44- Appointment of receivers discretionary, Reference to Code of Civil Procedure:
The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা- তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:
প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
৫৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা অনুসারে কেবলমাত্র ভুলের জন্য কোন চুক্তি-
  1. বাতিল করা যায়
  2. রদ করা যায় না
  3. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ: কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিল করা হবে তাকে অনুরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় যেন চুক্তি করা হয়নি।
-------------------------
Section 36: Rescission for mistake: Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.

৫৫২.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) কখন দেওয়া হয়?
  1. মোকদ্দমার শুরুতে
  2. মোকদ্দমা চলাকালীন যে কোনো সময়ে
  3. মোকদ্দমার শেষে রায়ের মাধ্যমে
  4. ডিক্রির জারির পূর্বে যে কোনো সময়ে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
-চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
-----------------------------
⇒ Section-53: Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
-Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৫৫৩.
'A', 'B' থেকে জমি কিনেছে, যদিও তখন 'C' ওই জমিটি দখলে রয়েছে। 'A', 'C'- এর জমিতে কোন স্বার্থ আছে কিনা তা জানার জন্য কোন তদন্ত করেনি। এই আইনের অর্থে, 'C' এর স্বার্থের পরিমাণ পর্যন্ত-
  1. 'A' হলো 'C' এর ট্রাস্টি
  2. 'B' হলো 'C' এর ট্রাস্টি
  3. 'C' হলো 'B' এর ট্রাস্টি
  4. 'C' হলো 'A' এর ট্রাস্টি
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত উদহারনটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩ ধারার (জ) উদহারনের অনুরূপ। এই পরিস্থিতিতে, এই আইনের অর্থে, C-এর জমিতে যতটুকু স্বার্থ আছে, সেটুকু পরিমাণ পর্যন্ত 'A' হলেন 'C' এর একজন ট্রাস্টি। একজন ট্রাস্টি হলেন যে ব্যক্তি অন্য কারও স্বার্থের তত্ত্বাবধানে থাকে।

 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩ ধারায়-
"ট্রাস্টি" শব্দটি প্রত্যেক ব্যক্তিকে বুঝায় যারা স্পষ্টভাবে, গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে বা কাঠামোগতভাবে আস্থাভাজন বা বিশ্বাসভাজন চরিত্র বহন করে।

এখানে, 'A' জানতেন যে 'C' জমিতে দখলে রয়েছে কিন্তু স্বার্থ সম্পর্কে জানতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায়, আইনের নজরে 'A' হলেন 'C'-এর স্বার্থের একজন ট্রাস্টি।
-------------------
(h) 'A' buys land from 'B', having notice that 'C' is in occupation of the land. 'A' omits to make any inquiry as to the nature of 'C's interest therein. 'A' is a trustee, within the meaning of this Act, for 'C', to the extent of that interest.
৫৫৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় _______ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
  1. বিশেষ
  2. বাতিল
  3. প্রক্রিয়াধীন
  4. ফৌজদারি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা- তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:

প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স- তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

Section 44- Appointment of receivers discretionary. Reference to Code of Civil Procedure.
The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
৫৫৫.
কোন দলিল বাতিলের মামলা দায়েরের তামাদি কত?
  1. ১ বছর 
  2. ২ বছর 
  3. ৩ বছর 
  4. ৪ বছর 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী, ২টি ক্ষেত্রে আদালত দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন-
⇒ যে লিখিত দলিল বাতিল/ বাতিলযোগ্য, অথবা
⇒ যদি বাদীর আশংকা থাকে যে, এরূপ দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা ক্ষতির কারন হতে পারে।
The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ- ৯১:
কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্যকোন বিধান নেই সেক্ষেত্রে যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে সেগুলি যখন বাদী অবগত হয় তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে

৫৫৬.
Under Section 20 of The Specific Relief Act, 1877, if a party in default is willing to pay the specified amount in case of breach, what can happen?
  1. The contract is canceled
  2. The party loses their rights under the contract
  3. Specific performance can still be ordered
  4. The contract becomes void
ব্যাখ্যা
• Section 20- Liquidation of damages not a bar to specific performance:
A contract, otherwise proper to be specifically enforced, may be thus enforced, though a sum be named in it as the amount to be paid in case of its breach, and the party in default is willing to pay the same.

যদি কোনো চুক্তিতে ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকে এবং ভঙ্গকারী পক্ষ সেই অর্থ প্রদানে রাজি থাকে, তাহলেও নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার যোগ্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হতে পারবে।

অর্থাৎ, চুক্তির শর্তাবলী যদি সুনির্দিষ্ট এবং নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তাহলে চুক্তির ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিকল্প জরিমানার বিধান থাকলেও চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। এক্ষেত্রে ভঙ্গকারী পক্ষ যদি জরিমানা প্রদানে রাজি থাকে তাহলেও চুক্তি বাস্তবায়ন করানো যাবে।
৫৫৭.
একজন লেখক একটি প্রকাশনা সংস্থার সাথে চুক্তি করেছিলেন তিনি একটি উপন্যাস লিখবেন। পরবর্তীতে অন্য প্রকাশনা সংস্থার জন্য তিনি উপন্যাস লিখেন। এক্ষেত্রে প্রথম চুক্তিটি-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না
  3. লেখককে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে বাধ্য করা যাবে
  4. আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিকার মঞ্জুর করা যাবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২১ ধারা মতে আটটি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে আদেশ দিবে না। যথা-
১। চুক্তি কার্যকর না করা হলে অর্থ দ্বারা ক্ষতিপূরণ সম্ভব;
২। যে-সব চুক্তির শর্ত অস্পষ্ট, জটিল ; যার ফলে চুক্তির শর্ত সমূহ নির্ণয় করা সম্ভব না এবং শর্ত সমূহ সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করা যায় না;
৩। যে চুক্তি তার প্রকৃতির কারণে বাতিলযোগ্য;
৪। ট্রাস্টিগণ কর্তৃক সম্পাদিত চুক্তি যা তাদের ক্ষমতা বহির্ভূত;
৫। বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানির চুক্তি যা তাদের ক্ষমতার অতিরিক্ত;
৬। যে চুক্তির শর্ত আদালত যুক্তিসংগত ভাবে নির্ণয় করতে পারেনা;
৭। যে চুক্তি সম্পাদন করতে গেলে শুরুর তারিখ হতে তিন বছরেরও বেশি সময় কাজ করতে হয়;
৮। যে চুক্তির বিষয়বস্তু স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বেই বিলুপ্ত হয়েছে।

উল্লিখিত প্রশ্নে প্রথম চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না। কারণ ২১ ধারায় বলা আছে ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল হলে; তা আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে আদেশ দিবে না।
৫৫৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করার কারণসমূহ বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫৩
  2. ধারা ৫৪
  3. ধারা ৫৬
  4. ধারা ৫৭
ব্যাখ্যা

⇒ কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। ৫৬ ধারা অনুসারে ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারি দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরণ আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-56. Injunction when refused:- An injunction cannot be granted-
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings;
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought;
(c) to restraint persons from applying to any legislative body;
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government;
(e) to stay proceedings in any criminal matter;
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced;
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance;
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced;
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust;
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court;
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.

৫৫৯.
ধারা ২৮ অনুযায়ী, কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে?
  1. যদি প্রতিদানের পরিমাণ যথাযথ না হয়
  2. যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চুক্তি করা হয়
  3. যদি চুক্তি মৌখিকভাবে সম্পাদিত হয়
  4. যদি চুক্তিতে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে এবং তা যথাযথ হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না:

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না:
(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;

(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;

(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।

Section 28- What parties cannot be compelled to perform:

Specific performance of a contract cannot be enforced against a party thereto in any of the following cases:
(a) if the consideration to be received by him is so grossly inadequate, with reference to the state of things existing at the date of the contract, as to be either by itself or coupled with other circumstances evidence of fraud or of undue advantage taken by the plaintiff; 

(b) if his assent was obtained by the misrepresentation (whether wilful or innocent), concealment, circumvention or unfair practices, of any party to whom performance would become due under the contract, or by a promise of such party which has not been substantially fulfilled; 

(c) if his assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise:
Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced.
৫৬০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. ৮ ও ৯
  2. ১২ ও ২২
  3. ৩১ ও ৩৯
  4. ৪২ ও ৪৪
ব্যাখ্যা
⇒ বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:
১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩);
৯. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (ধারা ২২)।

⇒ আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় প্রতিকারগুলো পাওয়া পক্ষগণের অধিকার, তাই ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
৫৬১.
A ও B অংশীদারি ব্যবসা করেন। A অবৈধভাবে অংশীদারিত্বের বই নিজের কাছে রেখেছেন এবং B কে এতে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকার করেছেন। B এর বিরুদ্ধে A নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন যাতে B অংশীদারি দেনা ও সম্পদ গ্রহণ করতে না পারেন। এক্ষেত্রে আদালত কি করবেন?
  1. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন
  2. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না
  3. বিষয়টি অন্য আদালতে পাঠাবেন
  4. উভয় পক্ষকে ব্যবসা বন্ধ করতে নির্দেশ দেবেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না।
⇒ এই প্রশ্নটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারার উদাহরণ (a) এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এখানে A এবং B অংশীদারি ব্যবসায় জড়িত। A অংশীদারিত্বের বহি (বই) অবৈধভাবে নিজের কাছে রেখেছেন এবং B কে এতে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকার করেছেন। এরপর A, B এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন যাতে B অংশীদারি দেনা ও সম্পদ গ্রহণ করতে না পারেন।

→ এই ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না, কারণ A এর আচরণ অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে। A ইতিমধ্যেই অংশীদারিত্বের বই অবৈধভাবে আটকে রেখেছেন এবং B কে এতে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকার করেছেন। এই ধরনের আচরণের কারণে A আদালতের সাহায্য পাওয়ার অধিকার হারান। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না যদি আবেদনকারীর আচরণ এমন হয় যে তা তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে।

→ সুতরাং, আদালত A এর আবেদন প্রত্যাখ্যান করবেন এবং নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না।
----------- 
⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 56. Injunction when refused:
Illustrations:
(a) A seeks an injunction to restrain his partner, B, from receiving the partner-ship-debts and effects. It appears that A had improperly possessed himself of the books of the firm and refused B access to them. The Court will refuse the injunction.
৫৬২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে "Trustee" বলে অন্তর্ভুক্ত হবে কোন ধরনের ব্যক্তি?
  1. শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কিত ব্যক্তি
  2. শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সম্পর্কিত ব্যক্তি
  3. আস্থাভাজন বা বিশ্বাসভাজন চরিত্র ধারণকারী ব্যক্তি
  4. শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩ ধারা অনুসারে "ট্রাস্টি" শব্দটি প্রত্যেক ব্যক্তিকে বুঝায় যারা স্পষ্টভাবে, গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে বা কাঠামোগতভাবে আস্থাভাজন বা বিশ্বাসভাজন চরিত্র বহন করে।
----------------
The Specific Relief Act,1877, Section 3, Interpretation clause: "trustee" includes every person holding, expressly, by implication, or constructively, a fiduciary character.

৫৬৩.
'Power to award compensation in certain cases' এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ১৮ ধারা
  2. ১৯ ধারা
  3. ২০ ধারা
  4. ২১ ধারা
ব্যাখ্যা
SR Act Section-19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly.
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct.
 
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.
--------------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান: কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
- কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
-যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
 
- ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
৫৬৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারায় আদালত কাকে ক্ষতিপূরণের সুবিধা প্রদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. ৩য় পক্ষকে
  4. ক ও খ উভয়পক্ষকে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারা- কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন। এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যাঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।

⇒ এই ধারা অনুসারে,
যখন একটি চুক্তিভঙ্গের ঘটনায় বাদী সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের দাবি আদায় করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে, তখন আদালতের বিবেচনায় চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। এক্ষেত্রে আদালত নিজস্ব বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারবে।
এই নিয়মটির প্রধান উদ্দেশ্য হল চুক্তিবদ্ধ পক্ষকে চুক্তিভঙ্গের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তার প্রতিকার দেওয়া। কারণ কেবল সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ দিলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অনুসন্ধিত থাকবে। তাই আদালত উভয় দাবিই বিবেচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।
৫৬৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারায় যদি বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরতার জন্য মোকদ্দমা করেন এবং চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর না হয়, তাহলে বাদী কি করতে পারেন?
  1. চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারেন
  2. চুক্তির পুনঃনিরীক্ষণ করতে পারেন
  3. চুক্তির মূল্য বৃদ্ধি করার দাবি করতে পারেন
  4. চুক্তি রদ করার আবেদন করতে পারেন
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৭- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
৫৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা (discretion) সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ৩৬
  4. ধারা ১৮
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদানে এখতিয়ার হচ্ছে বিবেচনামূলক এবং কেবলমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত এমন প্রতিকার মঞ্জুর করতে বাধ্য না। আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা স্বেচ্ছাধীন হবেনা বরং নিখুঁত এবং যুক্তিযুক্ত, বিচার বিভাগীয় নীতি দ্বারা নিযন্ত্রিত এবং আপিল আদালত কর্তৃক সংশোধনযোগ্য হতে হবে। ২২ ধারায় ২টি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে। ১টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি দিতে যথাযথভাবে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ [solatium] প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-
i. বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে;
যেখানে এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে যে, তা বাদীকে বিবাদির উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করছে, যদিও সেখানে বাদীর পক্ষ হতে কোন জালিয়াতি বা ভুল বিবরণ নাও থাকতে পারে।
ii. বিবাদির প্রতি কঠোরতা;
যেখানে চুক্তির কাজ সম্পাদন বিবাদীকে কোন কঠোরতায় বা কষ্টে জড়িয়ে ফেলবে যা বিবাদী বুঝতে পারেনা, অপরদিকে উহা না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না। এই দুটি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 22. Discretion as to decreeing specific performance:
The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.

৫৬৭.
যদি একটি দলিলে একটি জমির মালিকানা ও ঋণের চুক্তি একসাথে লিপিবদ্ধ থাকে এবং আদালত প্রমাণ পায় যে ঋণের চুক্তি জালিয়াতি করা হয়েছে, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারায় কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
  1. দলিল পুরোপুরি বাতিল করে দিবেন
  2. ঋণের চুক্তি এবং জমির মালিকানা উভয় বহাল রাখবেন
  3. ঋণের চুক্তি এবং জমির মালিকানা উভয় অবৈধ ঘোষনা করবেন
  4. ঋণের চুক্তির অংশটি বিলুপ্ত করে, মালিকানার অংশটি বহাল রাখতে পারেন
ব্যাখ্যা
• যদি একটি দলিলে একটি জমির মালিকানা ও ঋণের চুক্তি একসাথে লিপিবদ্ধ থাকে এবং আদালত প্রমাণ পায় যে ঋণের চুক্তি জালিয়াতি করা হয়েছে, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারার অধীন ঋণের চুক্তির অংশটি বিলুপ্ত করে জমির মালিকানার অংশটি বহাল রাখতে পারেন।

• ধারা ৪০: যে সকল দলিল আংশিকভাবে বিলুপ্তযোগ্য-
যেখানে দলিল বিভিন্ন অধিকার বা বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার সাক্ষ্য হয়, সেখানে আদালত যথাযথ মামলায় আংশিকভাবে তা বিলুপ্তযোগ্য এবং অবশিষ্টাংশকে বহাল রাখতে পারেন।

উদাহরণঃ
'ক', 'খ' এর নামে একটি হুণ্ডি প্রণয়ন করল, উহা পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে 'গ' কে প্রদান করল, যার দ্বারা পৃষ্ঠাঙ্কনের ফলে তা 'ঘ' কে প্রদত্ত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, 'ঘ' আবার পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে তা 'ঙ' কে প্রদান করেছে। 'গ'-এর পৃষ্ঠাঙ্কন জাল ছিল। 'গ' হুণ্ডিকে অন্যান্য ব্যাপারে বহাল রেখে উক্ত পৃষ্ঠাঙ্কনের বিলুপ্তি পাবার অধিকারী।

Section 40- What instruments may be partially cancelled: 
Where an instrument is evidence of different rights or different obligations, the Court may, in a proper case, cancel it in part and allow it to stand for the residue. 

Illustration:
A draws a bill on B, who endorses it to C, by whom it appears to be endorsed to D, who endorses it to E. C's endorsement is forged. C is entitled to have such endorsement cancelled, leaving the bill to stand in other respects.
৫৬৮.
'A' স্নেহ ও ভালোবাসার কারণে তার ভাই ও তাদের সন্তানদের নির্দিষ্ট কিছু সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তবে পরবর্তীতে তিনি সেই সম্পত্তি ৩য় পক্ষের সঙ্গে বিক্রয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তি-
  1. প্রথম হস্তান্তর বাতিলের শর্তে বাস্তবায়নযোগ্য
  2. আদালতের সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হবে
  3. 'A' কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য
  4. 'A' কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য না
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ২৫ (The Specific Relief Act, 1877) অনুযায়ী, একজন বিক্রেতার পক্ষে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হবে না, যদি—
- তিনি জেনে-শুনে এমন একটি সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি করেন, যার উপর তার কোনো অধিকার নেই।
- চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে তিনি মূল্যবান প্রতিফল ছাড়া চুক্তির বিষয়বস্তুর উপর নিজের অধিকার অন্যদের কাছে সমর্পণ করে থাকেন।
এই ক্ষেত্রে, 'A' স্নেহ ও ভালোবাসার কারণে তার ভাই ও তাদের সন্তানদের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন, যা একটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হস্তান্তর (voluntary settlement)। এরপর, তিনি একই সম্পত্তি ৩য় পক্ষের কাছে বিক্রির চুক্তিতে আবদ্ধ হন।
- ধারা ২৫(গ) অনুসারে, যদি বিক্রেতা চুক্তির পূর্বে কোনো মূল্যবান প্রতিফল ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর করে থাকেন, তবে তিনি সেই সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির নির্দিষ্ট কার্যকারিতা দাবি করতে পারবেন না। কারণ—
- পূর্ববর্তী হস্তান্তর স্বেচ্ছায় করা হয়েছে এবং এটি আইনত বৈধ।
- যদি নতুন চুক্তির নির্দিষ্ট কার্যকারিতা অনুমোদন করা হয়, তাহলে আগের হস্তান্তর বাতিল হয়ে যাবে, যা পূর্ববর্তী হস্তান্তারিত ব্যক্তিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করবে।
প্রাসঙ্গিক উদাহরণ (Illustration from the Act):
⇒ একই পরিস্থিতি The Specific Relief Act, 1877-এর Illustration (d) এ উল্লেখ আছে—
"A, out of natural love and affection, makes a settlement of certain property on his brothers and their issue, and afterwards enters into a contract to sell property to a stranger. A cannot enforce specific performance of this contract so as to override the settlement, and thus prejudice the interest of the persons claiming under it."
এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, 'A' পূর্বে স্নেহ ও ভালোবাসার কারণে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন, যা একটি আইনি সমর্পণ। সুতরাং, পরবর্তীতে সেই সম্পত্তি ৩য় পক্ষের কাছে বিক্রয় চুক্তি করলে, সেটি 'A' কর্তৃক নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হবে না।

ধারা ২৫- একজন বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়ার পক্ষে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তি নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়িত করা যাবে না যদি-
(ক) জেনে-শুনে নিজের অধিকারহীন এমন সম্পত্তির বিক্রয় বা ভাড়া দেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকেন;
(খ) চুক্তি করার সময় যদিও বিশ্বাস করতেন যে তিনি সেই সম্পত্তির উপর সুনির্দিষ্ট অধিকার রাখেন, কিন্তু পক্ষদ্বয়ের বা আদালতের নির্ধারিত সময়ে বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়া ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে যৌক্তিক সন্দেহাতীতভাবে স্বত্বাধিকার প্রদান করতে অক্ষম হন;
(গ) চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে কোনো মূল্যবান প্রতিফল ছাড়াই চুক্তির বিষয়বস্তুর উপর নিজের অধিকার সমর্পণ করে থাকেন।

⇒ (গ) এর শর্তমতে, এই চুক্তিটি নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কারণ তা হলে তার পূর্বতন সমর্পণটি বাতিল হয়ে যাবে এবং যাদের উপর সেই সম্পত্তি সমর্পিত হয়েছিল তাদের স্বার্থগুলি ক্ষুণ্ণ হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে A নিজের পূর্বতন কৃত কাজকে বাতিল করে, নতুন চুক্তিটিকে নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections- 25. Contracts to sell property by one who has no title, or who is a voluntary settler:
A contracts for the sale or letting of property, whether moveable or immoveable, cannot be specifically enforced in favour of a vendor or lessor- 
(a) who, knowing himself not to have any title to the property, has contracted to sell or let the same; 
(b) who, though he entered into the contract believing that he had a good title to the property, cannot, at the time fixed by the parties or by the Court for the completion of the sale or letting, give the purchaser or lessee a title free from reasonable doubt; 
(c) who, previous to entering into the contract, has made a settlement (though not founded on any valuable consideration) of the subject-matter of the contract. 

Illustrations:
(a) A, without C's authority, contracts to sell to B an estate which A knows to belong to C. A cannot enforce specific performance of this contract, even though C is willing to confirm it. 
(b) A bequeaths his land to trustees, declaring that they may sell it with the consent in writing of B. B gives a general prospective assent in writing to any sale which the trustees may make. The trustees then enter into a contract with C to sell him the land. C refuses to carry out the contract. The trustees cannot specifically enforce this contract, as, in the absence of B's consent to the particular sale to C, the title which they can give C is, as the law stands not free from reasonable doubt. 
(c) A, being in possession of certain land, contracts to sell it to Z. On inquiry it turns out that A claims the land as heir of B, who left the country several years before, and is generally believed to be dead, but of whose death there is no sufficient proof. A cannot compel Z specifically to perform the contract. 

(d) A, out of natural love and affection, makes a settlement of certain property on his brothers and their issue, and afterwards enters into a contract to sell property to a stranger. A cannot enforce specific performance of this contract so as to override the settlement, and thus prejudice the interest of the persons claiming under it.
৫৬৯.
কোন মোকদ্দমায় আদালত ডিক্রীর কপি রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রেরণ করতে আইনগত বাধ্য?
  1. নিবন্ধিত দলিল সংশোধনের মোকদ্দমায়
  2. নিবন্ধিত দলিল বাতিলের মোকদ্দমায়
  3. নিবন্ধিত দলিল রদ রহিতের মোকদ্দমায়
  4. নিবন্ধিত দলিল বেআইনীমর্মে ঘোষণামূলক মোকদ্দমায়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

অর্থাৎ দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত তার ডিক্রির কপি নিবন্ধন কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন।
--------------------
According to section 39 of the Specific Relief act, When cancellation may be ordered: Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or voidable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.

If the instrument has been registered under the [Registration Act, 1908], the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.

৫৭০.
নিচের কোন ধারার ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা Discretionary power বলতে আদালতের এমন ক্ষমতাকে বোঝায় যা আদালত তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে কোন আদেশ প্রদান করতে আদালত বাধ্য নয়; অর্থাৎ আদালত সন্তুষ্ট হলে কোন আদেশ প্রদান করতে পারে আবার নাও পারে। বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই আইন ও ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজের অধিকারের সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োগ করতে হবে। বিবেচনামূলক ক্ষমতা যথেচ্ছা বা খুশিমত ব্যবহার করা যায় না।
 
⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন (ধারা-১২);
ii) দলিল সংশোধন, বাতিল, এবং রদ (ধারা ৩১-৩৯);
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি বা ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২-৪৩);
iv) রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (ধারা-৪৪);
v) প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা-৫২); এবং
vi) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা-৫৩ থেকে ৫৫)
 
⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। যথা-
i) সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা-৮); এবং
ii) স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা-৯)।
 
⇒ যেহেতুে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় প্রতিকারগুলো পাওয়া পক্ষগণের অধিকার, তাই ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
⇒ উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্র ব্যতীত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় অন্যান্য প্রতিকারের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
৫৭১.
কোন প্রতিকারটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় পড়ে না?
  1. চুক্তি বাস্তবায়নে
  2. নিষেধাজ্ঞা
  3. স্বত্ব ঘোষণা
  4. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
যদিও ৫ এর ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় না।
৫৭২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে দলিল বাতিলের আদেশ প্রদানের পাশাপাশি অপর পক্ষকে ন্যায় বিচারের স্বার্থে নিম্নলিখিত কোন প্রতিকার দিতে পারে?
  1. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ 
  3. দলিল সংশোধন
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী, যখন আদালত কোনো দলিল বিলুপ্ত বা বাতিল করার রায় প্রদান করে, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো করতে পারবে:
১. আদালত যে পক্ষের অনুকূলে দলিল বিলুপ্ত করার রায় দিয়েছে, সে পক্ষকে অন্য পক্ষের কাছ থেকে ন্যায্য
ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবে।
২. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে বিচারিক ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী।

ধারা ৪১:
দলিল বিলুপ্তির রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে তদ্রুপ প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সে পক্ষের তরফ হতে অন্য পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------------
Section 41:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

৫৭৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মূল লক্ষ্য কী?
  1. সম্পত্তি বিক্রি করা
  2. শাস্তি প্রদান করা
  3. প্রতিকার প্রদান করা
  4. ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ সালের ১ নং আইন। এটি একটি প্রতিকারমূলক বা তত্ত্বগত আইন। এই আইনে মোট ৫৭ টি ধারা আছে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার:
কোন প্রার্থীকে প্রতিকার প্রদান করাই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের লক্ষ্য। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হলো একধরনের আইনগত প্রতিকার যা বাদী দেওয়ানী আদালতে প্রার্থনা করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় কিভাবে প্রতিকার প্রদান করতে হবে, তা আলোচনা করা হয়েছে:
১) সম্পত্তি প্রত্যার্পনের মাধ্যমে;
২) আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৩) নিষেধমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৪) ঘোষনামূলক ডিক্রির মাধ্যমে;
৫) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
৫৭৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় দলিল বাতিলের বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ৩৫
  2. ৩১
  3. ৩৯
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের বিধান উল্লেখ আছে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার বিধান: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।
 
(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।
(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বিলুপ্তি পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
----------------------
SR Act- Section-39. When cancellation may be ordered:
Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or viodable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.
If the instrument has been registered under the Registration Act, 1908, the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.
 
Illustrations
(a) A, the owner of a ship by fraudulently representing her to be seaworthy, induces B, an underwriter, to insure her. B may obtain the cancellation of the policy.
(b) A conveys land to B, who bequeaths it to C and dies. Thereupon D gets possession of the land and produces a forged instrument stating that the conveyance was made to B in trust for him. C may obtain the cancellation of the forged instrument.
 
(c) A, representing that the tenants on his land were all at will, sells it to B, and conveys it to him by an instrument, dated the 1st January, 1877. Soon after that day, A fraudulently grants to C a lease of part of the lands, dated the 1st October, 1876, and procures the lease to be registered under the Indian Registration Act. B may obtain the cancellation of this lease.
 
(d) A agrees to sell and deliver a ship to B, to be paid for by B's acceptances of four bills of exchange, for sums amounting to taka 30,000, to be drawn by A on B. The bills are drawn and accepted, but the ship is not delivered according to the agreement. A sues B on one of the bills. B may obtain the cancellation of all the bills.
৫৭৫.
The Specific Relief Act, 1877 এর ২১ ধারার অধীন কত ধরনের চুক্তি বলবতযোগ্য নয়?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable )- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-

১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে 
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে 

৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪)চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে 

৫)চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬)বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি

৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮)যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে ।
৫৭৬.
X, Y এর অধীনে ৩ বছর শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করবেন মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন _________।
  1. বলবৎযোগ্য
  2. বলবৎযোগ্য নয়
  3. আংশিক বলবৎযোগ্য
  4. শর্তসাপেক্ষে বলবৎযোগ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable )- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে 
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে। 
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে 
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারায় আদালত এই ৮টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন না মঞ্জুর করিবেন।

-উল্লিখিত প্রশ্নে চুক্তিটি যেহেতু ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল তাই সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়। 
----------------------------------------
⇒ Section 21 Contracts not specifically enforceable: The following contracts cannot be specifically enforced:– 
 
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief; 
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms; 
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty; 
(d) a contract which is in its nature revocable; 
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust; 
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers; 
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date; 
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist. 
 
And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.
৫৭৭.
'A' এক মামলায় 'B' কে নিজের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। আদালত 'B' কে 'A' এর স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে 'C' নামক এক ব্যক্তি দাবি করেন যে, 'B' তার স্ত্রী এবং তিনি 'A' এর বিরুদ্ধে 'B'কে ফিরিয়ে আনার জন্য মামলা করে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী রায়-
  1. বাতিল হবে
  2. স্থগিত থাকবে
  3. 'C' এর উপর কার্যকর হবে
  4. 'C' এর উপর কার্যকর হবে না
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল:
এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে আদালত যে কোনো ঘোষণামূলক রায় প্রদান করবে, তা কার উপর বাধ্যকর হবে সে সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। এ রায় বাধ্যকর হবে:
১. মামলার পক্ষদের উপর;
২. পক্ষদের দাবিদারদের উপর (যারা পক্ষদের মাধ্যমে দাবি করছে);
৩. যদি কোনো পক্ষ ট্রাস্টি হন, তাহলে সেই ট্রাস্টিদের অধীনে যারা আছেন, তাদের উপর (যদি তারা ঘোষণার সময় বর্তমান থাকতেন);
অর্থাৎ ঘোষণামূলক রায়টি মামলার অন্তর্গত সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বাধ্যকর হবে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের উপর এই রায় বাধ্যকর হবে না।

এক্ষেত্রে,
A ও B'র মামলার রায় C'র উপর বাধ্যকর নয়। কারণ C সেই মামলার পক্ষ ছিলেন না। সুতরাং তার দাবি আদালতে নতুন করে বিচার করা হবে এবং পূর্বের রায় তার উপর প্রযোজ্য হবে না।
৫৭৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিধান কী?
  1. Declaratory Decree
  2. Rescission for mistake
  3. Effect of Declaration
  4. Discretion of Court as to declaration of status or right
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিধান ঘোষণার ফলাফল: এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।
অর্থাৎ ঘোষণামূলক ডিক্রি শুধুমাত্র মোকদ্দমার পক্ষগণ বা তাদের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণের উপর বাধ্যকর হবে, কিন্তু এই ঘোষণা অন্য কারো ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন তৃতীয় পক্ষের উপর বাধ্যকর হবেনা।
-------------
⇒ Section 43:- Effect of declaration:- A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees. 
Illustration 
A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.
৫৭৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারায় কয়টি ব্যাখ্যা আছে?
  1. ১ টি,
  2. ২ টি,
  3. ৩ টি,
  4. ৪ টি,
ব্যাখ্যা
⇒  সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধানে বলা আছে যে, বিবাদী যখন বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা ভোগ দখলে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা করার হুমকি দেয় তখন আদালত ৫টি ক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেতে পারে। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারায় ১টি ব্যাখা আছে তা হলো "ব্যাখ্যাঃ এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে"।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভূক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:

(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
⇒ ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে। 
----------------------
⇒ Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication. 
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act. 
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):- 
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff; 
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion; 
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief; 
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion; 
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings. 
⇒  Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.
৫৮০.
৯ ধারা অনুসারে কোন ব্যক্তি কী অবস্থায় স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে?
  1. নিজের সম্মতিতে সম্পত্তির দখল হারালে
  2. আইন অনুযায়ী সম্পত্তির দখল হারালে
  3. অসম্মতিতে সম্পত্তির দখলচ্যুত হলে
  4. সরকারের অনুমোদনক্রমে সম্পত্তির দখল হারালে
ব্যাখ্যা
৯ ধারা- স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

Section 9- Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
৫৮১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী, একটি দলিলের কোনো অংশ বাতিলযোগ্য হলে-
  1. পুরো দলিল বাতিল হবে
  2. দলিলের কোনো অংশ বাতিল হবে না
  3. শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশ বাতিল হবে
  4. সম্পূর্ণ দলিল বলবৎ থাকবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী,
যদি একই দলিল দ্বারা বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি হয় এবং সেই দলিলের কোনো একটি অংশ বাতিলযোগ্য (void) হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র সেই বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। দলিলের অবশিষ্ট অংশগুলি বলবৎ থাকবে।

[Where an instrument is evidence of different rights or different obligations, the Court may, in a proper case, cancel it in part and allow it to stand for the residue.]

অর্থাৎ দলিলের সম্পূর্ণ অংশই বাতিল হবে না, শুধু বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বা অকার্যকর হবে। দলিলের অন্যান্য অংশসমূহ যেখানে বৈধ অধিকার সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলি বলবৎ থাকবে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হল একই দলিলের সকল অংশকেই বাতিল না করে, শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশকেই বাতিল করা এবং বাকি দলিলটিকে কার্যকর রাখা। এতে দলিলের মূল উদ্দেশ্য বা বৈধ অংশগুলি বলবৎ থাকবে এবং কেবলমাত্র অবৈধ অংশটি বাতিল হবে। এটি দলিলের পক্ষদের স্বার্থরক্ষা করে।
৫৮২.
নিম্নের কোনটি দলিল সংশোধনের কারন নয়?
  1. কোনো পক্ষ কর্তৃক প্রতারণা
  2. পক্ষগণের পারস্পরিক ভুল
  3. উদ্দেশ্য অব্যক্ত থাকলে
  4. লাভজনক উদ্দেশ্য থাকলে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারা-
যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয় ।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের দলিল সংশোধন করা যায়-
i) লিখিত দলিল; ও
ii) লিখিত চুক্তি।

⇒ ৩ কারনে দলিল সংশোধন করা যায়-
(১) দলিলের কোন পক্ষ প্রতারণা করলে;
(২) উভয় পক্ষে ভুল;
(৩) দলিলের উদ্দেশ্য ব্যক্ত না হলে।

অর্থাৎ ৩১ ধারার বিধানমতে 'লাভজনক উদ্দেশ্য থাকা' দলিল সংশোধনের কারন নয়।
৫৮৩.
কোন ক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার
  2. দলিল বাতিলের মামলা
  3. রিসিভার নিয়োগ
  4. দলিল সংশোধন
ব্যাখ্যা
♦ আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে:
১) চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
২) দলিল সংশোধন
৩) দলিল বাতিল
৪) ঘোষণামূলক প্রতিকার
৫) রিসিভার নিয়োগ
৬) নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
কিন্তু সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
৫৮৪.
'ক' একটি সম্পত্তির দখলকার। 'খ' ঐ সম্পত্তির মালিকনা দাবি করে তা বরাবর দখল হস্তান্তর করতে বললে 'ক' ঐ জমির দখলে থাকার জন্য The Specific Relief Act, 1877 এর - ধারায় মামলা করতে পারেন।
  1. ১০
  2. ৪২
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

♦ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦যেহেতু ক' একটি জমির বৈধ দখলে আছে। 'খ' ঐ সম্পত্তির মালিকনা দাবি করে তা বরাবর দখল হস্তান্তর করতে বললে 'ক' ঐ জমির দখলে থাকার জন্য The Specific Relief Act, 1877 এর ৪২ ধারায় মামলা করতে পারেন।
৫৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ________ ধারায় উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
  1. ৫৩
  2. ৫৬
  3. ৫১
  4. ৫২
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে, নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রনয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;

iv) সরকারী দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে;
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;

viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরন আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
৫৮৬.
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by______________________.
  1. The Code of Civil Procedure, 1908
  2. Specific Relief Act, 1877
  3. The Code of Criminal Procedure, 1898
  4. Transper of Property Act, 1882
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে। ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
♦অর্থাৎ ৮ ধারার অধীন দেখাতে হবে সম্পত্তিতে স্বত্ব আছে এবং তা চুক্তিবলে হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে হোক বা দখলি স্বত্ব হোক এবং এমন স্বত্বের কারণে দখলের অধকারী।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারার বিধান অনুসারে সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলা করা যায়। কিন্তু দখল উদ্ধারের নিয়ম কানুন বলা আছে The Code of Civil Procedure এর আদেশ ২১ এর মাঝে
♦A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.
৫৮৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে কে ঘোষণামূলক মামলা করতে পারে না?
  1. আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি
  2. কোন সম্পত্তিতে অধিকার আছে এমন ব্যক্তি
  3. মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে অধিকারী ব্যক্তি
  4. যার পদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে এমন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে অধিকারী ব্যক্তি' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে ঘোষণামূলক মামলা করতে পারে না।

⇒ ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষনামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষনা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষনামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষনামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষনা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।ঃ
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।

⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৫৮৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মোট কয়টি ধারা আছে?
  1. ৫৬টি
  2. ৫৭টি
  3. ৫৯টি
  4. ৬০টি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কিছু তথ্য:

⇒ প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭ (১নং আইন);
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ প্রস্তাবনা: ১টি;
⇒ খন্ড: ৩টি;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।
৫৮৯.
আইন দ্বারা কার্যকরীকরণযোগ্য প্রতিটি কর্তব্যকে বলে -
  1. যোগ্যতা
  2. অনুশাসন
  3. বাধ্যবাধকতা
  4. অধিকার
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩- ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ:

'বাধ্যবাধকতা’ বলতে আইন দ্বারা কার্যকরীকরণযোগ্য প্রতিটি কর্তব্য অন্তর্ভুক্ত হবে।

"obligation" includes every duty enforceable by law.
৫৯০.
চুক্তির একটি অংশ অন্য অংশ থেকে স্বাধীন ও পৃথক হলে উক্ত স্বাধীন ও পৃথক অংশের ফলাফল কি?
  1. স্বাধীন ও পৃথক অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন যোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন যোগ্য নয়
  3. চুক্তির সমস্ত অংশ কার্যসম্পাদন যোগ্য
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১৬ অনুসারে, যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে,
তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
৫৯১.
কোন আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮
  2. রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮
  3. চুক্তি আইন, ১৮৭২
  4. তামাদি আইন, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৪ ধারার বিধান কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
ⅰ) চুক্তি নয় এমন কোনো অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকার, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections- 4. Savings:
Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.

৫৯২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারার অধীনে কৃত মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী, ২টি ক্ষেত্রে আদালত দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন-
⇒ যে লিখিত দলিল বাতিল/ বাতিলযোগ্য, অথবা
⇒ যদি বাদীর আশংকা থাকে যে, এরূপ দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা ক্ষতির কারন হতে পারে।

দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করা, আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।

The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ- ৯১:
কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্যকোন বিধান নেই সেক্ষেত্রে যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে সেগুলি যখন বাদী অবগত হয় তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
৫৯৩.
According to Section 52 Preventive relief is not granted at the discretion of the Court by____________.
  1. Perpetual injunction
  2. Temporary injunction
  3. Mandatory injunction
  4. temporary or perpetual injunction
ব্যাখ্যা
⇒ Section 52 Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুরের প্রক্রিয়া:- আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
 
 ⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বা Preventive Relief এর সংজ্ঞা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) অনুচ্ছেদের অধীন যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় তাকে নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলে। অর্থাৎ যা না করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদানই হলো প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।
 
 ⇒  সাধারণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদান করা হলেও সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার নয়। যেমন- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হলেও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) হল আদেশাত্মক প্রতিকার।
 ⇒ অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা হলো নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
 
 ⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে যেহেতু 'Preventive relief is not granted বা নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় না' কথাটি বলা আছে তাই সঠিক উত্তর হবে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction)।
৫৯৪.
নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত কোন ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারে?
  1. বিকল্প
  2. প্রতিরোধ
  3. প্রতিকার
  4. ক্ষতিপূরণ
ব্যাখ্যা
• আইনে নিষেধাজ্ঞাকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হিসাবে গণ্য করা হয়। নিষেধাজ্ঞা আদালতের একটি বিশেষ আদেশ যা কোনো পক্ষকে কোনো কাজ করতে বা না করতে নির্দেশ দেয়। এটি নিম্নরূপ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বিবেচিত:
১. কর্মসাধক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) - একটি বিশেষ কাজ সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, চুক্তি বাস্তবায়ন বা সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করা।
২. নিষেধমূলক নিষেধাজ্ঞা (Prohibitory Injunction) - কোনো কাজ করতে নিষেধ করা হয়। যেমন, সম্পত্তি দখল বা বিক্রি করতে নিষেধাজ্ঞা।
৩. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary/Interim Injunction) - মূল মামলার বিচারকালীন সময়ে একটি অবস্থা বজায় রাখার জন্য।
৪. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) - মূল মামলা নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা যা স্থায়ীভাবে বহাল থাকে।

নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত প্রকৃতপক্ষে "প্রতিরোধ" বা "নিষেধ" প্রদান করে, "প্রতিকার" নয়। সুতরাং, নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিকার প্রদান নয়।
৫৯৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের আইন?
  1. তত্ত্বগত আইন
  2. পদ্ধতিগত আইন
  3. প্রশাসনিক আইন
  4. শাস্তিমূলক আইন
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) হলো তত্ত্বগত আইন (Substantive Law)।
- তত্ত্বগত আইন এমন আইন, যা কোনো ব্যক্তির অধিকার, কর্তব্য বা দায়িত্ব নির্ধারণ করে এবং শাস্তির বিধান দেয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে দেওয়ানি মামলায় বিশেষ ধরণের প্রতিকার (যেমন: সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, চুক্তি বাস্তবায়ন) প্রদানের জন্য বিধান রয়েছে, যা ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ করে।

অন্যদিকে, পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law) হলো আইন, যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বা পদ্ধতি নির্ধারণ করে (যেমন: দেওয়ানী কার্যবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধি)।

অতএব, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন হলো তত্ত্বগত আইন, কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে এবং প্রতিকার দেয়।
৫৯৬.
The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞা প্রদানের বিধান আছে?
  1. 52
  2. 57
  3. 56
  4. 42
ব্যাখ্যা

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫৭-এ নেতিবাচক চুক্তি (Negative Agreement) পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রদানের বিধান রয়েছে। এই ধারা অনুসারে, যদি একটি চুক্তিতে হাঁ-সূচক (Affirmative) এবং নেতিবাচক (Negative) উভয় ধরনের সম্মতি থাকে, তবে আদালত হাঁ-সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বাধ্য করতে অক্ষম হলেও নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে, শর্ত থাকে যে বাদী তার অংশে চুক্তি পালনে ব্যর্থ হয়নি।

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারার বিধান হল নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞা : ধারা ৫৬ এর উপধারা-(চ) এর বিধান সত্ত্বেও যেক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করবার সম্মতির সমন্বয়, সেক্ষেত্রে হাঁ-সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কাজ সম্পাদন সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা থেকে নিবারণ করবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, বাদী তার যতটুকু অবশ্যপালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালনে ব্যর্থ হয় নাই।

- নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform negative agreement)-
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে আদালত চুক্তির ইতিবাচক অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার আদেশ দিতে না পারলেও, চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারবেন।

যেমন- A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য B ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়, কিন্তু A যেন এই সময়ে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন না করতে পারে বা তাকে গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-57. Injunction to perform negative agreement:
Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from granting an injunction to perform the negative agreement: provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.

Illustrations:
(a) A contracts to sell to B for taka 1,000 the good-will of a certain business unconnected with business-premises, and further agrees not to carry on that business in Chittagong. B pays A the taka 1,000 but A carries on the business in Chittagong. The Court cannot compel A to send his customers to B, but B may obtain an injunction restraining A from carrying on the business in Chittagong.
(b) A contracts to sell to B the good-will of a business. A then sets up similar business close by B's shop and solicits his old-customers to deal with him. This is contrary to his implied contract, and B may obtain an injunction to restrain A from soliciting the customers, and from doing any act whereby their good-will may be withdrawn from B.

(c) A contracts with B to sing for twelve months as B's theatre and not to sing in public elsewhere, B cannot obtain specific performance of the contract to sing, but he is entitled to an injunction restraining A from singing at any other place of public entertainment.

(d) B contracts with A that he will serve him faithfully for twelve months as a clerk. A is not entitled to a decree for specific performance of the contract. But he is entitled to an injunction restraining B from serving a rival house as clerk.
(e) A contracts with B that, in consideration of taka 1,000 to be paid to him by B on a day fixed, he will not set up a certain business within a specified distance. B fails to pay the money. A cannot be restrained from carrying on the business within the specified distance.

৫৯৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. সাময়িক আদেশ
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  4. অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৪ ধারা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) সংক্রান্ত।
- এই ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তির একটি আইনি অধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের হুমকি দেওয়া হয় এবং সেই লঙ্ঘনের ফলে এমন ক্ষতি হতে পারে, যার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার নয়; অথবা যার ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায় না; অথবা যেখানে বিচারিক কার্যধারার জটিলতা রোধ করতে হয়, তখন আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন। এটি সাধারণত চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময় কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.
Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.

৫৯৮.
দেওয়ানি আদালত কর্তৃক স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রচারের ক্ষমতা-
  1. বিবেচনামূলক
  2. বাধ্যতামূলক
  3. নির্দেশনামূলক
  4. নিরোধমূলক
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়: আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

♦ The Specific Relief Act,1877-Section 52. Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

♦ প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা

২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এক প্রকারের প্রতিরোধমূলক বা নিরোধমূলক প্রতিকার । দেওয়ানী আদালত কর্তৃক নিরোধমূলক প্রতিকার যেমন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রচারের ক্ষমতা স্বেচ্ছাধীন বা বিবেচনামূলক অথাবা ইচ্ছাধীন।
৫৯৯.
"Power to award compensation in certain cases" সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিধান?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারার
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২০ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতাঃ কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।

এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যাঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।

-----------------------
Section 19 Power to award compensation in certain cases:
 Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly. 
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly. 
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct. 
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.
৬০০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৪ অনুযায়ী দলিল সংশোধনের পর সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য বাদীকে কী করতে হবে?
  1. আপিল দায়ের করতে হবে
  2. একটি নতুন মামলা দায়ের করতে হবে
  3. আরজিতে এই মর্মে প্রার্থনা করতে হবে
  4. শুধুমাত্র মৌখিক অনুরোধ করলেই চলবে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৪ ধারা অনুসারে, কোনো চুক্তি সংশোধনের পর সেটির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন চাওয়ার জন্য বাদীকে অবশ্যই মামলার আরজিতে এই মর্মে প্রার্থনা করতে হবে। অর্থাৎ, বাদী যদি মনে করেন যে সংশোধনের পর চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত, তবে তিনি মামলার শুরুতেই তার আবেদনপত্রে (plaint) সংশোধন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রার্থনা করতে পারেন।

ধারা ৩৪-এর মূল কথা:
- প্রথমে চুক্তি সংশোধনের জন্য মামলা করা যেতে পারে।
- আদালত যদি সংশোধন অনুমোদন করেন, তবে সংশোধিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য প্রার্থনা করতে হবে।
- এই প্রার্থনা মামলার আরজিতে (plaint) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- আদালত যদি মনে করেন যে সংশোধনের পর চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, তবে তিনি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারেন।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৪ ধারা অনুসারে, সংশোধনের পর সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য বাদীকে অবশ্যই মামলার আরজিতে এই মর্মে প্রার্থনা করতে হবে। এটি আদালতের বিবেচনার ভিত্তিতে মঞ্জুর হতে পারে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section- 34. Specific enforcement of rectified contract:
A contract in writing may be first rectified and then, if the plaintiff has so prayed in his plaint and the Court thinks fit, specifically enforced. 
Illustration:
A contracts in writing to pay his attorney, B, a fixed sum in lieu of costs. The contract contains mistakes as to the name and rights of the client, which, if construed strictly, would exclude B from all rights under it. B is entitled, if the Court thinks, fit, to have it rectified, and to an order for payment of the sum, as if at the time of its execution it had expressed the intention of the parties.