বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Specific Relief Act, 1877

মোট প্রশ্ন১,১৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Specific Relief Act, 1877

PrepBank · পাতা / ১২ · ২০১৩০০ / ১,১৭২

২০১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৪০ ধারা অনুযায়ী যদি কোন দলিল বিভিন্ন অধিকার বা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করলে সেক্ষেত্রে আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
  1. সকল অধিকার বাতিল করতে পারে 
  2. সকল অধিকার বহাল করতে পারে 
  3. উপযুক্ত ক্ষেত্রে আংশিক বাতিল বা আংশিক বহাল রাখতে পারে
  4. দলিল বাতিলের আদেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী,
যদি একই দলিল দ্বারা বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি হয় এবং সেই দলিলের কোনো একটি অংশ বাতিলযোগ্য (void) হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র সেই বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। দলিলের অবশিষ্ট অংশগুলি বলবৎ থাকবে।
------------------- 
• According to section 40 of the Specific Relief act,                                      
Where an instrument is evidence of different rights or different obligations, the Court may, in a proper case, cancel it in part and allow it to stand for the residue.

- অর্থাৎ দলিলের সম্পূর্ণ অংশই বাতিল হবে না, শুধু বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বা অকার্যকর হবে। দলিলের অন্যান্য অংশসমূহ যেখানে বৈধ অধিকার সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলি বলবৎ থাকবে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হল একই দলিলের সকল অংশকেই বাতিল না করে, শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশকেই বাতিল করা এবং বাকি দলিলটিকে কার্যকর রাখা। এতে দলিলের মূল উদ্দেশ্য বা বৈধ অংশগুলি বলবৎ থাকবে এবং কেবলমাত্র অবৈধ অংশটি বাতিল হবে। এটি দলিলের পক্ষদের স্বার্থরক্ষা করে।

২০২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় চুক্তির একটি স্বতন্ত্র অংশের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বিষয়ে আলোচনা করে?
  1. ১৪
  2. ১৫
  3. ১৬
  4. ১৭
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারার বিধান কোন চুক্তির স্বতন্ত্র অংশের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন: যখন চুক্তির একটি অংশের স্বতন্ত্রভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন করা যায় অথবা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 16. Specific performance of independent part of contract:
When a part of a contract which, taken by itself, can and ought to be specifically performed, stands on a separate and independent footing from another part of the same contract which cannot or ought not to be specifically performed, the Court may direct specific performance of the former part. 
২০৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের আইন?
  1. Procedural Law
  2. Adjective Law
  3. Substantive Law
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
মৌলিক আইন [Substantive Law]:
যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

অপরদিকে,
 ⇒ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law] বলে। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।
২০৪.
Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a ­­_____ law under The Specific Relief Act, 1877.
  1. Civil
  2. Penal
  3. Tort law
  4. Personal
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৪ ধারা মতে কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
ⅰ) চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকার, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না।
 
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৭ ধারা মতে: দণ্ডমূলক আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রয়োগ (Relief not granted to enforce penal law)-
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে দণ্ডমূলক আইন (Penal Laws) বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।
অর্থাৎ দণ্ডমূলক আইনের (Penal Laws) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।
-------------------
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে কোনো দণ্ড বা Penal  কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
---------------------
The Specific Relief Act, 1877 Section-7. Relief not granted to enforce penal law:
Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a penal law.
২০৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৯ এর অধীনে, কোন ক্ষেত্রে প্রথম অবৈধ দখলদার (Trespasser) পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারে?
  1. যদি প্রথম দখলদার সত্যিকারের মালিক হয়
  2. যদি প্রথম দখলদারের কোনো স্বত্ব না থাকে
  3. যদি প্রথম দখলদার দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ দখলে থাকে
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৯ এর অধীনে, একজন প্রথম অবৈধ দখলদার (Trespasser) পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারে, যদি সে দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে থাকে। এই ধারা সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রতিকার প্রদান করে, এবং এটি প্রধানত দখলের অধিকারের উপর ভিত্তি করে, স্বত্বের (Title) নয়।

ধারা ৯ এর বিধান:
- ধারা ৯ এর অধীনে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে তার দখল থেকে উচ্ছেদ হয়, তবে সে ছয় মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, এমনকি তার শিরোনাম না থাকলেও। এই ধারার উদ্দেশ্য হলো শান্তিপূর্ণ দখলকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বেআইনি উচ্ছেদ প্রতিরোধ করা।
Abdul Hamid and others Vs. Afazuddin Ahmed and others (7 BLD (AD) 177) মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে যে, প্রথম অবৈধ দখলদার, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে আছেন, তিনি সত্যিকারের মালিক ছাড়া সকলের বিরুদ্ধে তার দখল বজায় রাখতে পারেন এবং পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারেন।

কেন “দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ দখল” গুরুত্বপূর্ণ?
- আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে, শান্তিপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী দখল একটি অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়, এমনকি যদি দখলদারের স্বত্ব না থাকে। এটি “প্রায়শই দখলই নয়টি পয়েন্ট আইনের” (Possession is nine-tenths of the law) নীতির উপর ভিত্তি করে। প্রথম দখলদার, যিনি শান্তিপূর্ণভাবে দখলে আছেন, তিনি পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে তার দখল রক্ষার জন্য মামলা করতে পারেন, যতক্ষণ না সত্যিকারের মালিক বা তার অধীনে দাবিদার বৈধভাবে দখল দাবি করে।

উদাহরণস্বরূপ, Abdul Hamid and others Vs. Afazuddin Ahmed and others মামলায় বলা হয়েছে যে, প্রথম দখলদার, যিনি শান্তিপূর্ণভাবে দখলে আছেন, তিনি পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন, যদি না পরবর্তী দখলদার সত্যিকারের মালিক বা তার অধীনে কোনো বৈধ কর্তৃত্ব প্রমাণ করতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলি সঠিক নয়?
ক) যদি প্রথম দখলদার সত্যিকারের মালিক হয়: এটি সঠিক নয়, কারণ ধারা ৯ শিরোনামের (Title) উপর নির্ভর করে না, বরং দখলের উপর ভিত্তি করে। যদি প্রথম দখলদার সত্যিকারের মালিক হন, তবে তিনি শিরোনামের ভিত্তিতে মামলা করবেন, ধারা ৯ এর অধীনে নয়। ধারা ৯ শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য প্রযোজ্য।
খ) যদি প্রথম দখলদারের কোনো স্বত্ব না থাকে: এটি সঠিক নয়, কারণ ধারা ৯ এর অধীনে শিরোনাম বা স্বত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই। এমনকি অবৈধ দখলদারও, যিনি শান্তিপূর্ণভাবে দখলে আছেন, পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।
ঘ) কোনটি নয়: এটি সঠিক নয়, কারণ “দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ দখল” স্পষ্টভাবে ধারা ৯ এর অধীনে প্রযোজ্য এবং আদালতের রায়ে সমর্থিত।

অর্থাৎ ধারা ৯ এর অধীনে, প্রথম অবৈধ দখলদার পরবর্তী দখলদারের বিরুদ্ধে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারেন, যদি তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে থাকেন। এই ধারা শিরোনামের পরিবর্তে দখলের অধিকারকে প্রাধান্য দেয়, এবং Abdul Hamid and others Vs. Afazuddin Ahmed and others মামলা এই নীতির সমর্থন করে। তাই, সঠিক উত্তর হলো গ) যদি প্রথম দখলদার দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ দখলে থাকে।

২০৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারায় বলা হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারে। এটি কোন পদ্ধতির মাধ্যমে করতে হবে?
  1. মৌখিক আবেদন দ্বারা
  2. প্রশাসনিক পদ্ধতির মাধ্যমে
  3. দেওয়ানি কার্যবিধির মাধ্যমে
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে পারেন। এই মামলা দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুসারে দায়ের করতে হয়, যা একটি দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো—গ) দেওয়ানি কার্যবিধির মাধ্যমে।

⇒সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারার বিধান: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার: 
- সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যখ্যা-১: এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা-২: সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-10.Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed bythe Code of Civil Procedure.
Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

২০৭.
কোন চুক্তির কার্যসম্পাদন করতে হলে শুরু করার তারিখ হতে কত বছরের বেশি সময়কাল ক্রমাগত কাজ করে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যায় না?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ১ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা; 
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১(৭) ধারামতে তিন বছরের অধিক ক্রমাগত সময়ের প্রশ্নে: যে চুক্তির কার্য সম্পাদন করতে হলে চুক্তির কার্য শুরু করার তারিখ হতে তিন বছরেরও অধিক সময় পর্যন্ত ক্রমাগত কাজ করতে হয়, ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।

যেমন- 'ক' ২১ বছরের জন্য কোন রেলপথের এমন একটি নির্দিষ্ট অংশ ভাড়া দেয়ার জন্য 'খ' এর সহিত চুক্তিবদ্ধ হল যে, অংশটি 'ক' কর্তৃক 'খ'-এর থাকবে এবং প্রয়োজনবোধ 'ক' প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন, ইত্যাদি সরবরাহ করবে এবং 'ক' চুক্তির সম্পূর্ণ সময় কালে পুরো রেলপথটিকে ভাল অবস্থায় রাখবে। চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য 'খ' এর আবেদন অবশ্যই না- মঞ্জুর হবে।
----------------------------------------
⇒ Section 21 Contracts not specifically enforceable: The following contracts cannot be specifically enforced:– 

(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief; 
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms; 
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty; 
(d) a contract which is in its nature revocable; 
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust; 
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers; 
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date; 
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist. 

And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.
২০৮.
নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক রেলওয়ের শেয়ার 'ক' বিক্রয় করতে এবং 'খ' ক্রয় করতে চুক্তি করেছে। 'ক' বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে 'খ' এর প্রতিকার হতে পারে?
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
  2. 'খ' এর কোন প্রতিকার নেই
  3. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  4. 'ক' এর ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-
ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে।
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে।
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে।
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভবনা না থাকলে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

⇒  খ.গ, এবং ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলা যায় চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ণয়ের কোন মানদণ্ড না থাকলে বা পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ না থাকলে বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া না গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে। বিপরীতভাবে বলা যায়, আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হলে বা নির্ণয় করা গেলে বা পাওয়া গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার দিবেনা বরং ক্ষতিপূরণ প্রতিকার দিবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদিনা এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ভিন্ন কিছু প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না, এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার এভাবে করা যায়।

⇒ 'ক' বিশেষ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যক রেলওয়ে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'ক' বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'ক' বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে, 'খ', 'ক'-কে এই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের বাধ্য করতে পারে, কারণ শেয়ার সংখ্যার দিক হতে সীমাবদ্ধ এবং তা সব সময় বাজারে পাওয়া যাবে না এবং সেগুলির দখল একজন শেয়ার হোল্ডারের মর্যাদা বহন করে, যা অন্য কোনভাবে করা যায় না।
২০৯.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে কোন কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়?
  1. বাদীর ইচ্ছাধীন কাজ
  2. প্রতিবাদীর অধিকারমূলক কাজ
  3. বাদীর অধিকারের অনুকূলের কাজ
  4. বাদীর অধিকারের বিপরীত কাজ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয় যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

Section 53: Perpetual injunctions:
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
২১০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি কত সাল থেকে কার্যকর হয়?
  1. ২০০৩
  2. ২০০৪
  3. ২০০৫
  4. ২০১০
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা- অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য:
এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইনের অধীন নিবন্ধিত হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

Section 21A- Unregistered contract for sale not specifically enforceable:
Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে, যা ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ ১লা জুলাই, ২০০৫ সালের পূর্বে সম্পাদিত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেত, কিন্তু ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পর ২১ক ধারার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।
২১১.
সুবর্ণগ্রামের মৌজার সর্বনিম্ন মৌজা রেট প্রতি শতকে ৫০,০০০ টাকা। ক ঐ গ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ক তাঁর গরিব ও বিধবা প্রতিবেশী খ হতে ৩ শতক জমি প্রতি শতক ৩০,০০০ টাকা দামে খরিদ করার জন্য বায়নানামা দলিল সম্পাদন করেন। কিন্তু খ বিক্রয় দলিল সম্পাদন করে না দেওয়ায় ক চুক্তি প্রবলের মামলা দায়ের করে।
  1. আদালত চুক্তি প্রবলের ডিক্রি দেওয়ার পক্ষে সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন
  2. আদালত চুক্তি প্রবলের ডিক্রি না দেওয়ার জন্য সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন
  3. আদালত অবশ্যই চুক্তি প্রবলের ডিক্রি দিবেন
  4. আদালত মামলা খারিজ করবেন।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারার বিধান সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে ডিক্রি প্রদানঃ প্রসঙ্গে বিবেচনামূলক ক্ষমতাঃ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পদানের ব্যাপারে ডিক্রি পদানের এখতিয়ার হচ্ছে ইচ্ছাধীন এবং শুধুমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত তেমন প্রতিকার মঞ্জর করতে বাধ্য নয়। কিন্তু আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারিতা নয়, বরং তা হচ্ছে নিখুত ও যুক্তিসঙ্গত, বিচার বিভাগীয় মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আপীল আদালতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য ৷
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান না করার ব্যাপারে যথাযথভাবে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনঃ-
(১) যেখানে এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে যে, তা বাদীকে প্রতিবাদীর উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করেছে, যদিও সেখানে বাদীর পক্ষ হতে কোন জালিয়াতি বা ভুল বিবরণ নাও থাকতে পারে।
 (২) যেখানে চুক্তির কার্য সম্পাদন প্রতিবাদীকে অত্যন্ত ক্লেশে জড়িয়ে ফেলবে, যা সে পূর্ণ হতে বুঝতে পারেনি, অপরদিকে, উহার কার্য সম্পাদন না করলে বাদীকে তা তেমন কোন ক্লেশে বিজড়িত করবে না।
 নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদানের ব্যাপারে যথাযথভাবে তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
(৩) যেখানে বাদী সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনযোগ্য চুক্তির উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছে অথবা চুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
♦ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারায় ২ টি ক্ষেত্রে চুক্তি প্রবলের ডিক্রি না দেওয়ার এবং ১ টি ক্ষেত্রে ডিক্রি দেওয়ার পক্ষে সুবিবেচনা বা discretion প্রয়োগ করার ব্যাপারে বিধান দেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে চুক্তিতে বেআইনি কিছু না থাকলেও যদি দেখা যায় যে বাদী বিবাদীর উপর অনুচিত সুবিধা (unfair advantage) নিয়েছে সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি প্রবলের ডিক্রি না দেওয়ার পক্ষে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এখানে বাদী প্রভাবশালী প্রতিবেশী ও বিবাদী গরিব বিধবা হওয়ায় অনুচিত সুবিধা নেওয়ার উপাদান পাওয়া যায়। তাই খ সঠিক উত্তর হবে।
২১২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৪–এর আওতায় কোন অবস্থায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হতে পারে?
  1. মামলা স্থগিত থাকলে
  2. চুক্তি স্বেচ্ছায় বাতিল করা হলে
  3. চুক্তি লঙ্ঘন যা অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ দ্বারা পূরণযোগ্য
  4. চুক্তি লঙ্ঘন যার জন্য অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ - ধারা ৫৪: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন প্রদান করা হয়:
এই অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বা উল্লিখিত অন্যান্য বিধানাবলির অধীন, আবেদনকারীর অনুকূলে বিদ্যমান কোনো বাধ্যবাধকতা (স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত) লঙ্ঘন রোধ করার জন্য একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যেতে পারে।
যখন এই বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়, আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বিধি ও বিধানাবলি দ্বারা পরিচালিত হবে।
যখন বিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকার বা ভোগদখলে হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, আদালত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে:
(ক) যখন বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির ট্রাস্টি হয়;
(খ) লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট বা সৃষ্টির সম্ভাব্য ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কোনো মান (standard) না থাকলে।
(গ) লঙ্ঘন এমন ধরণের যে অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার দেবে না।
(ঘ) সম্ভব যে অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ লঙ্ঘনের জন্য পাওয়া যাবে না।
(ঙ) একাধিক বিচারিক মামলা এড়ানোর জন্য injunction প্রয়োজন।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ট্রেডমার্ককে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।

২১৩.
A এক লাখ টাকায় B-কে একটি বাড়ি বিক্রি করার চুক্তি করে এবং পরদিন সাইক্লোনে বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে B সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় প্রতিকার পাবে?
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে: চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘুর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।
(খ) খ কর্তৃক দেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।
-------------- 
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 13. Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance. 
Illustrations 
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase money. 
(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase money.
২১৪.
“The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases under ________.”
  1. Sections 10, 11, 12
  2. Sections 31, 32, 33
  3. Sections 14, 15, 16
  4. Sections 36, 37, 38
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ১৭-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের আদেশ দেবেন না, যেমন না মামলাটি এই আইনের শেষোক্ত তিনটি ধারা অর্থাৎ ধারা ১৪, ১৫ বা ১৬-এর যেকোনো একটির আওতাভুক্ত হয়।

- বাক্যটির পূর্ণরূপ হলো: "The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections."
- এখানে "the three last preceding sections" বলতে ধারা ১৭-এর ঠিক আগের তিনটি ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-কে বোঝানো হয়েছে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান: অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা:-
পূর্ববর্তী তিনটি (১৪,১৫,১৬) ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
-----------
⇒The Specific Relief Act, 1877 -Section 17. Bar in other cases of specific performance of part of the contract:
-The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.

২১৫.
'ক', 'খ' এর নিকট একটি গাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে। চুক্তি সম্পাদনের পরদিন গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে, আদালত কী করতে পারে?
  1. চুক্তি স্থগিত রাখবে
  2. চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করবে
  3. 'খ'-কে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিবে
  4. 'খ'- কে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান- যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে:
চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

(খ) খ কর্তৃক দেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।

২১৬.
একটি দলিল সংশোধিত হতে পারে শুধুমাত্র
  1. পক্ষগণ দ্বারা
  2. সম্পাদনকারীগণ দ্বারা
  3. সত্যায়নকারী স্বাক্ষী দ্বারা
  4. আদালত দ্বারা
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877,ধারা ৩১ অনুযায়ী যখন দলিল সংশোধন করা যেতেপারে।-যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের দরুণ কোন চুক্তি বা অপর কোন লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে না, যে কোন পক্ষ কিংবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধিত করে নেবার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। যদি আদালত ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের বেলায় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকরী করার ব্যাপারে পক্ষসমূহের সত্যিকার উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে অক্ষম হয়, সেখানে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যতদূর পর্যন্ত তা তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন, যাতে তা সে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
♦অর্থাৎ আদালত দলিল সংশোধনের আদেশ মঞ্জুর করে থাকেন তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে।
২১৭.
ঘোষণামূলক মামলা কোন ক্ষেত্রে দায়ের করা যায়?
  1. কেবল চুক্তি বাতিলের জন্য
  2. কেবল ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য
  3. শুধুমাত্র সম্পত্তি বিক্রয় সংক্রান্ত
  4. সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার অস্বীকার হলে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

⇒ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

২১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৮ অনুসারে, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার কীভাবে করতে হয়?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের নিয়মে
  2. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে
  4. রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮-এ স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করার বিধান রয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্থাবর সম্পত্তি (জমি, বাড়ি ইত্যাদি) থেকে বেদখল হয়, তাহলে সে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে আদালতে মামলা করে তার স্বত্ব ও দখল উভয়ই পুনরুদ্ধার করতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে। ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী, শুধু মালিকই নয়, যে কেউ যার স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব ও দখলের অধিকার রয়েছে, সে আদালতে মামলা করতে পারে। অর্থাৎ, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তার সম্পত্তিতে স্বত্ব রয়েছে—তা চুক্তি, উত্তরাধিকার বা দখল সূত্রে হোক—তাহলে সে এই ধারায় মামলা করতে পারবে।
এই ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলা করা যায়। তবে, দখল উদ্ধারের নিয়ম-কানুন The Code of Civil Procedure, 1908-এর আদেশ ২১-এ উল্লেখ করা আছে।
-------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section 8- Recovery of specific immoveable property:
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.

২১৯.
চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় কোন ধারার অধীনে?
  1. ৯ ধারা
  2. ২৫ ধারা
  3. ১২ ধারা
  4. ২১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
 
-তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী ১২ ধারার মামলা ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার বিধান: যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য: 
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
 
ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
--------------
SR Act: Section-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.
 
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
২২০.
'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে?
  1. ৫২ ধারা
  2. ৫৪ ধারা
  3. ৫৬ ধারা
  4. ৫৭ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
 
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
 
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ: 
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।

২২১.
দেওয়ানি আদালত কোন ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. দলিল সংশোধন মোকদ্দমা
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন মোকদ্দমা
  3. ঘোষণামূলক প্রতিকার সংক্রান্ত মোকদ্দমা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না: 
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।

সুতরাং বলা যায় যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারা ছাড়া সকল ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
২২২.
'Appointment of receivers discretionary' বিধানটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারায়
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায়
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায়
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒  Section 44 Appointment of receivers discretionary:  The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court. 

Reference to Code of Civil Procedure:
The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure. 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধানতত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলকঃ
-প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।

দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স
—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়-দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন।  রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।
২২৩.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে?
  1. বিচারিক কার্যধারা দায়ের করতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  2. ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  3. বলপূর্বক দখলচ্যুত করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  4. কোন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদন করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,  ১৮৭৭ এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী- যে সকল কারণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যায় না তা উল্লেখ আছে। 

♦  = নিম্নেবর্ণিত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না-
১. বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
২. অধীনস্থ আদালত ছাড়া অন্য কোন আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;
৩. কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
৪. সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে বা বিদেশী সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
৫. কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য ।
৬. যে চুক্তির কার্য সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যায় না এমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্য।
৭. উৎপাত নয় এমন কাজ নিরোধ করার জন্য ।
৮. এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্য যেটাতে বাদী মৌন সম্মতি প্রাদান করেছে।
৯. ট্রাস্ট ভঙ্গের মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য কোন সাধারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সমপরিমাণ যথার্থ প্রতিকার নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন যে, যা তাকে আদালতের সাহায্য হতে বঞ্চিত করে।
১১. যেখানে আবেদনকারীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

♦ এখানে অপশন ক, খ, ঘ এর জন্য আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে না। তবে বলপূর্বক দখলচ্যুত করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে  নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারবেন। 
২২৪.
'A' তার নির্মাণাধীন বাড়িটি এমনভাবে বাড়ায় যে এর ছাদের অংশ 'B'-এর জমির উপর প্রসারিত হয়। 'B' কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সেই অংশ অপসারণে আদেশ দিতে পারে?
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা
  4. ক্ষতিপূরণমূলক নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction)
- প্রশ্নে উল্লিখিত, এই ক্ষেত্রে 'B' এর সম্পত্তির উপর 'A' এর অবৈধ স্থাপনা (ছাদের অংশ) তৈরি হয়েছে। এটি শুধুমাত্র ভবিষ্যতে স্থাপনা তৈরি বন্ধ করা নয়, বরং ইতিমধ্যে তৈরি অবৈধ স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৫ "আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা" (Mandatory Injunction) এর বিধান দেয়, যা আদালতকে কোনো কাজ সম্পাদনের নির্দেশ দিতে ক্ষমতা দেয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার (Mandatory injunction) বিধান রয়েছে। ৫৫ ধারামতে বাধ্যতামূলক বা আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা হল কোন প্রত্যক্ষ কাজ (Positive act) অথবা আইনসংগত বাধ্যবাধকতা (legal obligation) পরিপূর্ণ করার আদেশ যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে যা করা হয়েছিল তা নষ্ট করা অথবা কোন জিনিসকে পূর্ববর্তী অবস্থায় স্থাপন (Restore) করার নির্দেশ থাকে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারার বিধান: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা:
- যেক্ষেত্রে একটি বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করান রোধের লক্ষ্যে এমন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা আবশ্যক হয় এবং আদালতে তা কার্যকরীযোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে তা রোধ করা এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 55.  Mandatory injunctions
When, to prevent the breach of an obligation, it is necessary to compel the performance of certain acts which the Court is capable of enforcing, the Court may in its discretion grant an injunction to prevent the breach complained of, and also to compel performance of the requisite acts. 
Illustrations 
(a) A, by new buildings, obstructs lights to the access and use of which B has acquired a right under the [Limitation Act, 1908] Part IV. B may obtain an injunction, not only to restrain A from going on with the buildings, but also to pull down so much of them as obstructs B's lights. 
(b) A builds a house with eaves projecting over B's land. B may sue for an injunction to pull down so much of the eaves as so project. 
(c) In the case put as illustration (i) to section 54, the Court may also order all written communications made by B, as patient, to A, as medical adviser, to be destroyed. 
(d) In the case put as illustration (y) to section 54, the Court may also order A's letters to be destroyed. 
(e) A threaten to publish statement concerning B which would be punishable under Chapter XXI of the 11[Penal Code]. The Court may grant an injunction to restrain the publication, even though it may be shown not to be injurious to B's property. 
(f) A, being B's medical adviser, threatens to publish B's written communications with him, showing that B has led an immoral life. B may obtain an injunction to restrain the publication. 
(g) In the cases put as illustrations (v) and (w) to section 54 and in illustrations (e) and (f) to this section, the Court may also order the copies produced by piracy, and the trade-marks, statements and communications, therein respectively mentioned, to be given up or destroyed.

২২৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. চুক্তি বাতিলের বিধান
  2. ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের নিয়ম
  3. সম্পূর্ণ চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
  4. চুক্তির অংশবিশেষের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭ মোতাবেক, ধারা ১৪,১৫,১৬ এই তিনটি ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান:
অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা:-
পূর্ববর্তী তিনটি (১৪,১৫,১৬) ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
--------------
⇒The Specific Relief Act, 1877 -Section 17. Bar in other cases of specific performance of part of the contract:
-The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.
২২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, "ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা নয়"?
  1. ১৯ ধারায়
  2. ২০ ধারায়
  3. ২১ ধারায়
  4. ১৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ২০ ধারায়। 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী, একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২০ ধারার বিধান ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা নয়:
যেকোনো চুক্তি, যা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা উপযুক্ত, তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হিসেবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘন হলে ক্ষতিপূরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করা থাকে এবং চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে ইচ্ছুক।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 20. Liquidation of damages not a bar to specific performance:
A contract, otherwise proper to be specifically enforced, may be thus enforced, though a sum be named in it as the amount to be paid in case of its breach, and the party in default is willing to pay the same. 

Illustration:
A contracts to grant B an under-lease of property held by A under C, and that he will apply to C for a license necessary to the validity of the under lease, and that, if the license is not procured, A will pay B taka 10,000. A refuses to apply for the license and offers to pay B the taka 10,000. B is nevertheless entitled to have the contract specifically enforced it C consents to give the license.
২২৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার জন্য কোন শর্তটি প্রযোজ্য নয়?
  1. যখন অধিকার লঙ্ঘন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিকার করা যাবে না
  2. যখন অধিকার লঙ্ঘন এমনভাবে ঘটে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ সম্ভব না
  3. যখন বিচার বিভাগের জটিলতা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না
  4. যখন প্রতিবাদী কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) যখন প্রতিবাদী কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার জন্য যেসব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হল যখন অধিকার লঙ্ঘন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিকার করা যায় না, অথবা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয়, অথবা লঙ্ঘন এত গুরুতর যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়। তবে ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয়টি এখানে প্রযোজ্য নয়, কারণ আদালত তখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না, যখন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি ঘটবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
----------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.
Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.
২২৮.
ঘোষণামূলক মামলা কে করতে পারে?
  1. আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি
  2. কোন সম্পত্তিতে অধিকার আছে এমন ব্যক্তি
  3. মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে অধিকারী ব্যক্তি
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

♦ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦ এখানে আইনানুগ পরিচয় বলতে আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝায়।
২২৯.
স্বত্বঘোষণার মামলায় বাদীকে কী প্রমাণ করতে হয়?
  1. সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার
  2. আইনগত চরিত্র সম্পর্কে অধিকার
  3. চুক্তির অধিকার
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
♦ Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying……৪২ ধারায় legal character, right to property যদি কেউ অস্বীকার করে তখন স্বত্বঘোষণার মামলা করা যায়।
২৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার অধীনে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায়?
  1. ৯ ধারা
  2. ১২ ধারা
  3. ২১ ধারা
  4. ২৮ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
 
-তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী ১২ ধারার মামলা ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার বিধান: যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য: 
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
 
ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
--------------
SR Act: Section-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.
 
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
২৩১.
স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলায় কত টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়?
  1. ৩০০ টাকা
  2. মূল্যানুপাতিক
  3. মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফির অর্ধেক
  4. মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফির এক-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার মূল কথা হচ্ছে-
⇒ যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
⇒ তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
⇒ সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোন প্রয়োগ নেই।
⇒ এই ধারার অধীন আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউর আবেদন করা যাবে না।
এই ধারার অধীন মামলায় আদালতে প্রদেয় কোর্ট ফি হবে মূল্যানুপাতিক (ad-valorem) কোর্ট ফির অর্ধেক।
২৩২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার অনুসারে মামলায় মূল বিবেচ্য বিষয় কী?
  1. দখলের প্রশ্ন
  2. চুক্তির পালন
  3. স্বত্বের প্রমাণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫৪ অনুযায়ী, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় দখল প্রধান ও মূল বিবেচ্য বিষয়। এই ধারার উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তি যাতে তার দখলকৃত সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারে এবং অন্যায়ভাবে কেউ যেন তার দখলে হস্তক্ষেপ না করে।
- দখল প্রমাণিত হলে, স্বত্ব না থাকলেও আদালত দখল রক্ষার্থে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন। স্বত্বের প্রশ্ন গৌণ; এটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় মুখ্য বিষয় নয়।সুতরাং, সঠিক উত্তর ক) দখলের প্রশ্ন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫৪ এর অধীনে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction) প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধানত দখলের প্রমাণ (Proof of Possession) বিবেচনা করা হয়। এই ধারা অনুসারে, আদালত সাধারণত বাদীর সম্পত্তির উপর দখলের অবস্থা পরীক্ষা করে, স্বত্ব (Title) নিয়ে জটিল বিষয়ে না গিয়ে। যদি বাদী প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি সম্পত্তির উপর বৈধভাবে দখলে আছেন, তবে তিনি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারেন, এমনকি তার স্বত্ব(Title) বিতর্কিত হলেও।

- ধারা ৫৪ এর বিধান: ধারা ৫৪ এ বলা হয়েছে যে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যেতে পারে যখন কোনো ব্যক্তি সম্পত্তির উপর বাদীর অধিকারে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে বা হুমকি দেয়। এই ক্ষেত্রে, আদালত প্রধানত বাদীর দখলের অবস্থা বিবেচনা করে।
Manindra Nath Sen Sarma Vs. Bangladesh (4 BLD (AD) 285) এবং Md. Abdul Gafur and others Vs. Nazimuddin and others (4 BLD (HCD) 127) মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে যে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য স্বত্ব প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই, যদি বাদী দীর্ঘ সময় ধরে দখলে থাকেন এবং তা প্রমাণ করতে পারেন। এমনকি একজন অবৈধ দখলদারও (Trespasser) দীর্ঘ দখলের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন, যদি তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে দখলে আছেন।

কেন দখলের প্রমাণ প্রধান বিবেচনা?
- স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো বাদীর বর্তমান দখলকে সুরক্ষিত করা, যাতে বিবাদী বা অন্য কেউ তাকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করতে না পারে।
- Ansar Ali and others Vs. Sundar Ali and others (4 BLD (HCD) 140) মামলায় বলা হয়েছে যে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় আদালত স্বত্ব বা শিরোনামের জটিল প্রশ্নে প্রবেশ করে না, বরং কে স্পষ্টভাবে দখলে আছে তা বিবেচনা করে।
- দীর্ঘ দখল (Long Possession) এমনকি সত্যিকারের মালিকের বিরুদ্ধেও সুরক্ষিত হতে পারে, যদি না তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হয় (Md. Abdul Gafur and others Vs. Nazimuddin and others)।
- Pasharuddin Mir Vs. Ismail Mir and others (6 BLD (HCD) 155) মামলায় বলা হয়েছে যে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় স্বত্বের জটিল প্রশ্নের পরিবর্তে কে বাস্তবে এবং একচেটিয়াভাবে দখলে আছে তা বিবেচনা করা যথেষ্ট।
- Sheikh Ahmed and others Vs. Abdul Alim (9 BLD (HCD) 368) মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সহ-শেয়ারার (Co-sharer) ক্ষেত্রেও, যদি বাদী একচেটিয়া দখলে থাকেন, তবে তিনি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা করতে পারেন।

অর্থাৎ ধারা ৫৪ এর অধীনে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালত প্রধানত বাদীর দখলের প্রমাণ বিবেচনা করে, স্বত্বের প্রমাণ বা চুক্তির বৈধতার উপর নয়। এটি নিশ্চিত করে যে বাদীর শান্তিপূর্ণ দখল বেআইনি হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত থাকে।

২৩৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৯ ধারার আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. যে কোনোটি
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারায় বলা আছেঃ যথাযথ আইগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
♦এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না ।
♦এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
♦এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যাবে না, অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রী পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
♦এই আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed. যেহেতু আপিল ও রিভিউ করা যায় না, সুতরাং রিভিশন করার সুযোগ আছে।
২৩৪.
X, Y এর নিকট ১টি গরু বিক্রয়ের চুক্তি করেন যা পালনে X অস্বীকার করলে Y মামলা করেন। Y এর উপযুক্ত প্রতিকার _________।
  1. সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন
  2. ঘোষণা
  3. আংশিক কার্যসম্পাদন
  4. ক্ষতিপূরণ
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১৯ ধারায় আদালত কতিপয় ক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিকার দিতে পারে। চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ২ ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়। যথা- ক) ক্ষতিপূরণ এবং খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন।

♦ তবে উভয় ধরনের প্রতিকার থাকলেও চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ক্ষতিপূরণের প্রতিকার প্রদান করা হয়। কিন্তু যেক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না অথবা যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হয় না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রতিকার প্রদান করে থাকে । আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯, ৩৮ এবং ৪১ ধারায় ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে।

♦ চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে অথবা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মোকদ্দমা দায়েরের সময় চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বা বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে।

♦ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় ক) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয়, অথবা খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালত ২ ধরণের প্রতিকার দিতে পারে-

i) ন্যায়বিচার স্বার্থে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয় ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারে। 
ii) বাদী ও বিবাদীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য বিবাদী দায়ী হলে, এবং আদালত চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন যথাযথ নয় বলে বিবেচনা করলে আদালত বাদীকে কেবল ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীকে বাধ্য করতে পারবে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা;
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।

♦ যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখিত চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট সেহেতু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারা ও ২১ ধারা অনুযায়ী Y এর উপযুক্ত প্রতিকার হবে ক্ষতিপূরণ
২৩৫.
রিসিভার নিয়োগের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ৩৬
  3. ধারা ৪২
  4. ধারা ৪৪
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৪৪-এ রিসিভার নিয়োগের বিধান রয়েছে। আদালতের এই ক্ষমতা একটি discretionary power বা বিচারাধীন ক্ষমতা, যা ন্যায়বিচার ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন। রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধান তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক: -প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 44 Appointment of receivers discretionary: The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
Reference to Code of Civil Procedure: The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.

২৩৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো দলিল বাতিল ঘোষণা করে এবং সেটি নিবন্ধিত হয়, তাহলে আদালতের কী করা উচিত?
  1. শুধুমাত্র পক্ষগুলিকে নোটিশ দেওয়া
  2. দলিলটি ধ্বংস করার আদেশ দেওয়া
  3. দলিলটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া
  4. রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে ডিক্রির একটি কপি পাঠানো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৯ অনুসারে, যদি কোনো লিখিত দলিল অবৈধ (void) বা বাতিলযোগ্য (voidable) হয় এবং এমন আশঙ্কা থাকে যে তা নিষ্পন্ন (outstanding) অবস্থায় থাকলে কারও গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে মামলা করে সেই দলিলটি বাতিল ঘোষণা করাতে পারেন।
- যদি ঐ দলিলটি নিবন্ধনকৃত হয় (i.e., registered under the Registration Act, 1908), তবে আইন স্পষ্টভাবে বলে—
“The Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.”
- অর্থাৎ দলিল বাতিল ঘোষণা করা হলে, আদালত বাধ্যতামূলকভাবে ডিক্রির একটি কপি রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে পাঠাবে, যাতে রেজিস্ট্রার অফিসে রাখা দলিলের কপিতে "বাতিল" বলে নথিভুক্ত করা হয়।
২৩৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারায় আদালত কয় ভাবে 'Preventive relief' মঞ্জুর করতে পারে?
  1. দুই ভাবে
  2. চার ভাবে
  3. তিন ভাবে
  4. পাঁচ ভাবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:

আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন-
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারির মাধ্যমে।
 
⇒ Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual. 
২৩৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুসারে, প্রতিরোধমূলক প্রতিকার কীভাবে প্রদান করা হয়?
  1. ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে
  2. সম্পত্তি দখলের মাধ্যমে
  3. ইনজাংশনের মাধ্যমে
  4. চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual." (প্রতিরোধমূলক প্রতিকার আদালতের বিবেচনায় ইনজাংশনের মাধ্যমে, যা অস্থায়ী বা স্থায়ী হতে পারে, মঞ্জুর করা হয়।)
- অর্থাৎ, প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদানের মাধ্যম হলো ইনজাংশন (Injunction)। এটি দু'প্রকার: ১) অস্থায়ী ইনজাংশন (Temporary Injunction) ২) স্থায়ী ইনজাংশন (Perpetual Injunction)।
অন্য অপশনগুলো যেমন ক্ষতিপূরণ, সম্পত্তি দখল বা চুক্তি সংশোধন এই ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হিসেবে উল্লেখিত নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুরের প্রক্রিয়া:- আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

⇒ The Specific Relief Act, 1877,- Section 52 Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

২৩৯.
যে পক্ষকে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে বাধ্য করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারায়
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারায়
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ ধারায়
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারামতে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (What parties cannot be compelled to perform)- ভুল তথ্য বা ধারনা তথা প্রতারণার মাধ্যমে কোন চুক্তি হলে, প্রতারনার স্বীকার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।

⇒  যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারায়, অন্যদিকে যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৪ ধারায়।
⇒  যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৭ ধারায়, অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৮ ধারায়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে নাঃ নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে নাঃ

(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;

(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;

(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।
----------------
⇒ Against whom Contracts cannot be specifically enforced:

⇒ Section 28 What parties cannot be compelled to perform: Specific performance of a contract cannot be enforced against a party thereto in any of the following cases:- 
(a) if the consideration to be received by him is so grossly inadequate, with reference to the state of things existing at the date of the contract, as to be either by itself or coupled with other circumstances evidence of fraud or of undue advantage taken by the plaintiff; 
(b) if his assent was obtained by the misrepresentation (whether wilful or innocent), concealment, circumvention or unfair practices, of any party to whom performance would become due under the contract, or by a promise of such party which has not been substantially fulfilled; 
(c) if his assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise: Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced. 
 
⇒ Illustrations 
to clause (c)- 
A, one of two executors, in the erroneous belief that he had the authority of his co-executor, enters into an agreement for the sale to B of his testator's property. B cannot insist on the sale being completed. 
 
A directs an auctioneer to sell certain land. A afterwards revokes the auctioneer's authority as to 20 bighas of this land, but the auctioneer inadvertently sells the whole to B, who has not notice of the revocation. B cannot enforce specific performance of the agreement.
২৪০.
ক” একটি নির্দিষ্ট জমি বিক্রয় করতে এবং খ” তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। কিন্তু বন্যা হতে উক্ত জমি রক্ষা করার জন্য উহার মালিক কর্তৃক ব্যয়বহুল বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করা আবশ্যক। খ” এ পরিস্থিতির কথা জানতো না এবং ক” বিষয়টি গোপন রেখেছিল। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন-
  1. ক” এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে
  2. ক” এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রদত্ত হবে
  3. খ” এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦বাঁধ রক্ষাণাবেক্ষণ করা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ না করে বা তথ্য গোপন করে বাদী ক” বিবাদী খ” এর নিকট হতে একটি অন্যায় সুবিধা [Unfair Advantage] নিয়েছে এবং এই কারণে বাদী ক” চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আবেদন করলে তা অবশ্যই প্রত্যাখ্যান হবে।
২৪১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে আদালত ডিক্রির কপি রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করতে আইনগত বাধ্য?
  1. রেজিস্টার্ড দলিল সংশোধনের মোকদ্দমা
  2. রেজিস্টার্ড দলিল রদ রহিতের মোকদ্দমা
  3. রেজিস্টার্ড দলিল বাতিলের মোকদ্দমা
  4. রেজিস্টার্ড দলিল বেআইনীমর্মে ঘোষণামূলক মোকদ্দমায়
ব্যাখ্যা
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের বিধান উল্লেখ আছে। ৩৯ ধারা অনুযায়ী রেজিস্টার্ড দলিল বাতিল হলে আদালত ডিক্রির কপি রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করতে হবে। দলিল নিবন্ধন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তা বাতিলের বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ করবেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার বিধান: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

 
অর্থাৎ নিবন্ধিকৃত দলিল বা রেজিস্টার্ড দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত ডিক্রির কপি রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করতে আইনগত বাধ্য।
উল্লিখিত প্রশ্নের অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালতকে এমন নির্দেশ দেওয়া নাই।
 
(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।
(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বিলুপ্তি পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
----------------------
SR Act- Section-39. When cancellation may be ordered:
Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or viodable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.
If the instrument has been registered under the Registration Act, 1908, the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.
 
Illustrations
(a) A, the owner of a ship by fraudulently representing her to be seaworthy, induces B, an underwriter, to insure her. B may obtain the cancellation of the policy.
(b) A conveys land to B, who bequeaths it to C and dies. Thereupon D gets possession of the land and produces a forged instrument stating that the conveyance was made to B in trust for him. C may obtain the cancellation of the forged instrument.
 
(c) A, representing that the tenants on his land were all at will, sells it to B, and conveys it to him by an instrument, dated the 1st January, 1877. Soon after that day, A fraudulently grants to C a lease of part of the lands, dated the 1st October, 1876, and procures the lease to be registered under the Indian Registration Act. B may obtain the cancellation of this lease.
 
(d) A agrees to sell and deliver a ship to B, to be paid for by B's acceptances of four bills of exchange, for sums amounting to taka 30,000, to be drawn by A on B. The bills are drawn and accepted, but the ship is not delivered according to the agreement. A sues B on one of the bills. B may obtain the cancellation of all the bills.
২৪২.
নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক রেলওয়ের শেয়ার A বিক্রয় করতে এবং B ক্রয় করতে চুক্তি করেছে। A বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে B এর প্রতিকার হতে পারে-
  1. B শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে।
  2. B, A-কে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নে বাধ্য করতে পারে
  3. চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না
  4. B, A-কে শেয়ার বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারেনা।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা-১২. ব্যাখ্যা গ  অনুযায়ী, এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে পালন করতে A কে বাধ্য করতে পারে। কারণ শেয়ারগুলোর সংখ্যা সীমিত এবং সর্বদা মার্কেটে পাওয়া যায় না এবং শেয়ারগুলোর দখল শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণ করে যা অন্যকোনভাবে অর্জন করা সম্ভব না।

♦ সুতরাং যেহেতু শেয়ার দুষ্প্রাপ্য প্রকৃতি, তাই এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য, যদিও শেয়ার অস্থাবর সম্পত্তি এবং B, A-কে শেয়ার বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারে।
২৪৩.
রিসিভারের নিয়োগ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব কোন আইনে বিস্তারিত বলা আছে?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪০-১৬৫ ধারা
  2. দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশে
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ১৮ অধ্যায়ে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি আদালতের বিবেচনাধীন। তবে রিসিভারের নিয়োগের ধরন, তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান দেওয়া আছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।
অতএব, রিসিভারের নিয়োগ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান রয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশে।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন। রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধান তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক: -প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 44 Appointment of receivers discretionary: The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
Reference to Code of Civil Procedure: The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
২৪৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৬ অনুসারে, প্রতিরোধমূলক প্রতিকার কোন ধারার অধীনে পড়ে?
  1. ধারা ৫(ঘ)
  2. ধারা ৫(গ)
  3. ধারা ৫(খ)
  4. ধারা ৫(ক)
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫(গ) ধারার অধীনে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) প্রদান করা হয়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫(গ) ধারা অনুযায়ী:
- “কোনো পক্ষকে এমন কিছু করা থেকে বিরত রাখা, যা করা তার জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী।”
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৬ অনুযায়ী:
- এই প্রতিরোধমূলক প্রতিকার-কে "Preventive Relief" বলা হয়। এটি সাধারণত আদালতের আদেশের (Injunction) মাধ্যমে প্রদান করা হয় যাতে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ অন্যের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

⇒ উদাহরণ:
- কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে অন্যের জমিতে প্রবেশ করতে চায়, আদালত প্রতিরোধমূলক আদেশ জারি করে তাকে তা করতে নিষেধ করতে পারে।
- কোনো সংস্থা যদি অবৈধভাবে কপিরাইট লঙ্ঘন করে, আদালত প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হিসাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
 Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.

⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-6. Preventive relief:
- Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.

২৪৫.
The Specific Relief Act, 1877 এর ১২ ধারানুসারে কতটি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবতযোগ্য?
ব্যাখ্যা
 ♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-

ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে।
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে।
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে।
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভবনা না থাকলে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।
২৪৬.
স্বত্বের দাবী উত্থাপন ব্যতিরেকে দখল পুনরুদ্ধারের মামলার কোন আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষের প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারা- স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:

যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।

[এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.]

রিভিশন দায়েরে শর্ত: কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।

৯ ধারার শেষের অংশে কোন ডিক্রি অথবা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কিংবা পুনর্বিচারের প্রার্থনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেহেতু আপিল ও রিভিউ করা যায় না, সুতরাং রিভিশন করার সুযোগ আছে।
২৪৭.
যে চুক্তির শর্তাবলী আদালত যুক্তিসঙ্গত নিশ্চয়তার সঙ্গে নির্ধারণ করতে পারে না, সেসকল চুক্তি-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য নয় 
  3. আদালত অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে দিতে পারে
  4. চুক্তিটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করবেন
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে, নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।

২৪৮.
নিম্নের কোন অবস্থায় ব্যক্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন দাবি করতে পারে না?
  1. সে যদি চুক্তির বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝে
  2. সে যদি চুক্তির সব শর্ত মান্য করে
  3. যে যদি আদালতে প্রতিকার না চায়
  4. যে যদি চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার বিধান: প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা:
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
২৪৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেওয়া যেতে পারে-
  1. অগ্রক্রয় আদেশের মাধ্যমে
  2. বাটোয়ারা ডিক্রি প্রদানের মাধ্যমে
  3. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  4. অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫ ধারায় মতে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। 
২৫০.
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি চার লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরদিন 'খ' ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে মারা গেল। এই পরিস্থিতিতে 'ক' এর কী প্রতিকার থাকতে পারে?
  1. চুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে না।
  2. 'ক', 'খ'-এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে।
  3. 'খ'-এর প্রতিনিধিরা 'ক'-এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে।
  4. 'খ'-এর প্রতিনিধিকে চুক্তির অধীনে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যাবে।
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নে এই চুক্তিটি একটি সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি (contract for sale of immovable property)। সাধারণত, ব্যক্তিগত দক্ষতা (personal skill) বা ব্যক্তিগত কার্য সম্পাদনের (personal service) চুক্তি হলে তা ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে, চুক্তির অধিকার ও বাধ্যবাধকতা উত্তরাধিকারীদের ওপর বর্তায়, যদি না চুক্তিতে ভিন্ন কোনো শর্ত উল্লেখ থাকে।
- তাই, 'খ'-এর উত্তরাধিকারীরা ('খ'-এর প্রতিনিধি) এই চুক্তির অধীন দায়বদ্ধ থাকবে, এবং 'ক' তাদের বিরুদ্ধে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে।

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে:
- চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘুর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।
(খ) খ কর্তৃক দেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।
-------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 13. Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance.

Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase money. 
(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase money.
২৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে কোন ক্ষেত্রে একটি আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে
  2. প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের ক্ষেত্রে
  3. দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে
  4. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা Discretionary power বলতে আদালতের এমন ক্ষমতাকে বোঝায় যা আদালত তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে কোন আদেশ প্রদান করতে আদালত বাধ্য নয়; অর্থাৎ আদালত সন্তুষ্ট হলে কোন আদেশ প্রদান করতে পারে আবার নাও পারে। বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই আইন ও ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজের অধিকারের সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োগ করতে হবে। বিবেচনামূলক ক্ষমতা যথেচ্ছা বা খুশিমত ব্যবহার করা যায় না।
⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন (ধারা-১২);
ii) দলিল সংশোধন, বাতিল, এবং রদ (ধারা ৩১-৩৯);
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি বা ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২-৪৩);
iv) রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (ধারা-৪৪);
v) প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা-৫২); এবং
vi) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা-৫৩ থেকে ৫৫)

⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। যথা-
i) সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা-৮); এবং
ii) স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা-৯)।
⇒ যেহেতুে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় প্রতিকারগুলো পাওয়া পক্ষগণের অধিকার, তাই ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।

⇒ উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্র ব্যতীত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় অন্যান্য প্রতিকারের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

২৫২.
Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a ­­_____ law.
  1. Penal
  2. Civil
  3. Personal
  4. Tort law
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে কোনো দন্ড বা Penal  কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
২৫৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা অনুযায়ী আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে যদি তা কী রোধ করতে সাহায্য করে?
  1. শাস্তির প্রয়োগ
  2. বাধ্যবাধকতার ভঙ্গ
  3. সম্পত্তির লঙ্ঘন
  4. অপরাধমূলক কার্যকলাপ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা এমন একটি নিষেধাজ্ঞা যা কোনো ব্যক্তিকে তার বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে আদালত নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করে।
- এই ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি তার আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে অস্বীকার করে এবং আদালত মনে করে যে, এটি রোধ করতে হলে সেই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করা প্রয়োজন, তাহলে আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে। এর মাধ্যমে আদালত বাধ্য করে সেই ব্যক্তি বা পক্ষকে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করতে।

অতএব, ৫৫ ধারা মূলত বাধ্যবাধকতার ভঙ্গ রোধ করার জন্য কাজ করে এবং এটি শুধুমাত্র বাধ্যতামূলক কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা:
যে ক্ষেত্রে একটি বাধ্যবাধকতার ভঙ্গ করার রোধের লক্ষ্যে এবং এমন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা আবশ্যক হয় এবং আদালতে তা কার্যকরীযোগ্য হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযােগ করা হয়েছে তা রােধ করা এবং সে সঙ্গে‌ প্রয়ােজনীয় কাজ সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন।

⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 55- Mandatory injunctions:
When, to prevent the breach of an obligation, it is necessary to compel the performance of certain acts which the Court is capable of enforcing, the Court may in its discretion grant an injunction to prevent the breach complained of, and also to compel performance of the requisite acts.
২৫৪.
নিম্নলিখিত কোন পরিস্থিতিতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা যাবে না?
  1. যদি চুক্তির শর্ত পূরণ করা অসম্ভব হয়
  2. যদি চুক্তির বিষয়বস্তু পূর্বেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়
  3. যদি ব্যক্তি ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা: প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা: চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না:
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেচে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, চুক্তি পালনে ৪টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে। যথা-
⇒ যার পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায় অসম্ভব;
⇒ যে পূর্বে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে;
⇒ যে চুক্তি পালনে অক্ষম;
⇒ যে চুক্তির বিষয়বস্তু পূর্বেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

অর্থাৎ, অপশনে উল্লিখিত সকল ব্যক্তির পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা যায় না।

Section 24- Personal bars to the relief: Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
২৫৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন সর্বশেষ সংশোধিত হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৬ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কিছু তথ্য:
⇒ প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭; (১নং আইন)
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ প্রস্তাবনা: ১টি;
⇒ খন্ড: ৩টি;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে যা ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর রয়েছে অর্থাৎ ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পূর্বে সম্পাদিত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেত, কিন্তু ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পর ২১ক ধারার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।

২৫৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা যায় না?
  1. যে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে না
  2. যে চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করেছেন
  3. যে চুক্তিভঙ্গের জন্য ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা, ২৪: প্রতিকারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যিনি চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করিতে পারেন না;
(খ) যিনি নিজের পক্ষের চুক্তির কোনো প্রয়োজনীয় শর্ত পালন করিতে অসমর্থ হন বা শর্ত-ভঙ্গ করেন যাহাতে তাহার নিজের অংশেরই কার্য সম্পাদন বাকি থাকে;
(গ) যিনি ইতোমধ্যে তাহার প্রতিকার পচ্ছন্দ করিয়াছেন এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ পাইয়াছেন। অথবা
(ঘ) যিনি চুক্তির পূর্বেই অবগত ছিলেন যে, চুক্তির বিষয়বস্তু (যদিও উহা কোনো মূল্যবান পণভিত্তিক নহে) সম্পর্কে বন্দোবস্ত করা হইয়াছে এবং উহা তখন কার্যকর ছিল।
--------------------------------------
Section 24, Personal bars to the relief: Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was.

২৫৭.
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা যদি আদালত মঞ্জুর না করে, তাহলে ৩৭ ধারার অধীনে আদালত কী করতে পারেন?
  1. ক্ষতিপূরণ
  2. চুক্তি রদ
  3. চুক্তি সংশোধন
  4. নতুন চুক্তির আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, যদি আদালত কোনও লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (Specific Performance) মঞ্জুর না করে, তবে বিকল্পভাবে চুক্তিটি রদ (Rescission) করে বাতিল (Cancel) করে দিতে পারে।
- ধারা ৩৭: "A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled."
- অর্থাৎ, বাদী মামলা দায়েরের সময় যদি বিকল্পভাবে চুক্তি রদের প্রার্থনা করেন, তবে আদালত যদি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরী করতে অস্বীকার করেন, তখন আদালত চুক্তি রদের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
২৫৮.
'চ' ৫ লক্ষ টাকা মূল্যে 'ম' এর কাছে একটি বাড়ী বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পরের দিন আগুনে বাড়ীটি ধ্বংস প্রাপ্ত হলে 'ম' টাকা দিতে অস্বীকার করে। এই অবস্থায়-
  1. চুক্তি বাতিল হবে
  2. 'ম' কে টাকা প্রদানে বাধ্য করা যাবে না
  3. 'ম' কে টাকা প্রদানে বাধ্য করা যাবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ধারা-১৩: চুক্তির বিষয়বস্তুর বিলুপ্তি (Contract of which the subject has partially ceased to exist)-
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী চুক্তির বিষয়বস্তু চুক্তির তারিখে বিদ্যমান ছিল, কিন্তু চুক্তি সম্পাদনের সময় বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হলেও চুক্তিটির কার্য সম্পাদন সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয় না এবং এরূপ ক্ষেত্রে ১৮৭২ সালের চুক্তির আইনের ৫৬ ধারা (চুক্তি পরবর্তী অসম্ভবতা) প্রযোজ্য হবে না।

সুতরাং, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারামতে চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্য সম্পাদনের সময় চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হলেও উক্ত চুক্তির কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে। ১৩ ধারার মূল বিষয় হচ্ছে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হলেও সমগ্র চুক্তিটি নষ্ট হয় না। 
চুক্তি আইনের ৫৬ ধারা চুক্তির আগ হতে বিরাজমান অসম্ভবতা এবং চুক্তির পরবর্তীতে সৃষ্ট অসম্ভবতা দুই ধরনের অসম্ভবতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারা চুক্তির পরবর্তীকালে সৃষ্ট সম্ভাবতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং বলা যায়, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারা চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার ব্যতিক্রম।

এক্ষেত্রে, 'চ' ৫ লক্ষ টাকা মূল্যে 'ম' এর কাছে একটি বাড়ী বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পরের দিন আগুনে বাড়ীটি ধ্বংস প্রাপ্ত হলে 'ম' টাকা দিতে অস্বীকার করে। এই অবস্থায় 'চ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী 'ম' এর কাছ থেকে চুক্তি মোতাবেক ৫ লক্ষ টাকা আদায়ের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২৫৯.
'ক' প্রতি বাক্স নীল ১,০০০ টাকা দরে ৪০ বাক্স নীল বিক্রয় করতে এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। উক্ত চুক্তির প্রতিকার কী?
  1. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে
  2. আংশিকভাবে কার্যকর করা যাবে
  3. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না
  4. ঘোষণামূলক প্রতিকার দেয়া যাবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)-

চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা;
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।

প্রশ্নে উল্লেখিত চুক্তির ক্ষেত্রে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট তাই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।
২৬০.
The Specific Relief, 1877 এর কোন প্রতিকারটি The Code of Civil Procedure, 1908 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
  1. অস্থায়ী নিষোধাজ্ঞা
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. প্রতিকোধমূলক প্রতিকার
  4. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
♦ The Specific Relief, 1877 এর ধারাঃ ৫৩ তে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিধান মতে: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হল এমন যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যে কোন অবস্থাতেই এগুলি মঞ্জুর করা যায়, এবং দেওয়ানী কার্যবিধি দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত হয়।

♦ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলার যেকোন অবস্থাতেই মঞ্জুর করা যায় এবং এটি দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২৬১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না -
  1. দণ্ডমূলক প্রতিকার প্রদানে
  2. সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য
  3. চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে
  4. দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডমূলক প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারামতে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
i) চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকারে, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইনের অধীন প্রতিকারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে দণ্ডমূলক আইন (Penal Laws) বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ দণ্ডমূলক আইনের (Penal Laws) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (Specific Relief Act) এর ৫ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ:
১) দখল প্রদান: সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদান।
২) বাধ্যকরণ আদেশ কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করার আদেশ।
৩) নিষেধাজ্ঞা আদেশ: কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখার আদেশ।
৪) ঘোষণামূলক রায়: ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে।
৫) রিসিভার নিয়োগ: সম্পত্তি বা বিষয়ের তত্ত্বাবধানের জন্য রিসিভার নিয়োগ।
এই ৫টি উপায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের জন্য প্রযোজ্য।

২৬২.
একটি লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারায় আদালত কোন বিষয়ে অনুমান করবে?
  1. পক্ষসমূহের কার্য
  2. পক্ষসমূহের অভিপ্রায়
  3. পক্ষসমূহের পারস্পারিক সম্পর্ক
  4. পক্ষসমূহের পারস্পারিক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩২ ধারা- পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
একটি লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে, আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সকল পক্ষই একটি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত চুক্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েছিল।

Section 32- Presumption as to intent of parties-
For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
২৬৩.
ঘোষণামূলক মামলা কে করতে পারে?
  1. আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি
  2. কোন সম্পত্তিতে অধিকার আছে এমন ব্যক্তি
  3. মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে অধিকারী ব্যক্তি
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ এখানে আইনানুগ পরিচয় বলতে আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝায়।

⇒ ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষনামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষনা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষনামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষনামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষনা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।ঃ
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।

⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
২৬৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় এই আইনের অপ্রযোজ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ২ ধারা 
  2. ৩ ধারা
  3. ৪ ধারা 
  4. ৫ ধারা
ব্যাখ্যা

ধারা ৪: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা: যদি না এই আইনে কোথাও অন্যরূপে সুস্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ থাকে, তবে এই আইনে কোন কিছুকেই এরূপ গণ্য করা হবে না, যাতে-
(ক) চুক্তি নয়, এমন কোন অঙ্গীকারের ব্যাপারে প্রতিকারের কোন অধিকার প্রদান করা হয়;
(খ) কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিকারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ছাড়া, যা সে কোন চুক্তির অধীনে পেতে পারত; অথবা
(গ) দলিলসমূহের উপর রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রয়োগকে প্রভাবিত করা হয়।
--------------------
Section 4: Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.

২৬৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের জন্য আদালত কিসের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে?
  1. দলিলের নির্দিষ্ট শর্ত
  2. দলিলের ভাষা এবং তার ব্যাখ্যা
  3. দলিলের উদ্দেশ্য এবং ফলাফল
  4. দলিলের স্বাক্ষরের তারিখ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এ ধারা অনুযায়ী দলিল সংশোধনের সময় আদালত নিম্নের বিষয় অনুসন্ধান করতে পারেন:
- দলিলের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং দলিলের ফলাফল কী।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, শুধুমাত্র দলিলের ভাষা কী হতে চেয়েছিল, এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
------------------------
The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
-In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
২৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারায় চুক্তি পালনে কয়টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারায় চুক্তি পালনে ৪টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে। যথা-
⇒ যার পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায় অসম্ভব;
⇒ যে পূর্বে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে;
⇒ যে চুক্তি পালনে অক্ষম;
⇒ যে চুক্তির বিষয়বস্তু পূর্বেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

Section 24- Personal bars to the relief: Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
২৬৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী আদালত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের আবেদন খারিজ করা হলে, চুক্তি রদ করার নির্দেশ দেওয়া-
  1. আদালতের পক্ষে অসম্ভব
  2. আদালতের বিবেচনাধীন
  3. আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক
  4. বাদীর সম্মতির উপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে অস্বীকার করলে চুক্তি রদ (rescission) করার নির্দেশ দিতে পারেন — অর্থাৎ এটি আদালতের বিবেচনাধীন (discretionary) বিষয়, বাধ্যতামূলক নয়।
- সুতরাং, চুক্তি রদের নির্দেশ আদালতের বিবেচনাধীন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

২৬৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা অনুযায়ী আদালত যে পক্ষকে চুক্তি রদের প্রতিকার মঞ্জুর করে তাকে অপরপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৩৫ ধারায়
  2. ৩৬ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী: রদকারী পক্ষের পক্ষ থেকে আদালত প্রয়োজন অনুসারে ন্যায়পরতার দাবি করতে পারেন:
- চুক্তি রদের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত যে পক্ষকে তেমন প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সে পক্ষের পক্ষ থেকে অপর পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
------------------------------
⇒ SR Act Section-38. Court may require party rescinding to do equity:
-On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
২৬৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কয়টি আদেশাত্মক প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

 ⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।

 ⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার। অন্যদিকে ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫(ঘ) ধারার বিধান অনুযায়ী আদলত ক্ষতিপূরণ ব্যতীত অন্য কোনভাবে পক্ষসমূহের অধিকার নির্ধারণ এবং ঘোষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দিতে পারে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেনা। সুতরাং আর্থিক ক্ষতিপূরণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নয়।
-----------------
⇒ Section 5 Specific relief how given: Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.
২৭০.
কোন পরিস্থিতিতে একটি দলিল বাতিলের জন্য মামলা দায়েরযোগ্য?
  1. যখন দলিল নিবন্ধিত নয়
  2. যখন দলিলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে
  3. যখন দলিল একপক্ষীয় হয়
  4. যখন দলিল গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
২৭১.
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
  1. ৯ ধারায়
  2. ২২ ধারায়
  3. ৪১ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
২৭২.
কোনো চুক্তি বাতিলযোগ্য হলে The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী আদালত চুক্তিটি ______
  1. সংশোধন করবেন
  2. রদ করবেন
  3. বাতিল করবেন
  4. পক্ষদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত দেবেন
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ থেকে ৩৮ ধারায় চুক্তি রদের বিধান রয়েছে ।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী একটি লিখিত চুক্তিতে স্বার্থ আছে এমন যে কোন ব্যক্তি (Any person interested in a contract) চুক্তিটি রদ করার জন্য মামলা করতে পারে এবং আদালত যে ক্ষেত্রে চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদের আদেশ দিতে পারবেন-  তা হল ধারা ৩৫(১) অনুযায়ী চুক্তিটি বাতিল যোগ্য বা বাদী কর্তৃক সমাপনীয় হলে আদালত চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদ করতে পারে ।
২৭৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুসারে, স্বত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করার প্রয়োজন হয় না কেন?
  1. এটি আইনত নিষিদ্ধ
  2. এটি বেশি খরচ সাপেক্ষ
  3. আদালত এটি অনুমতি দেয় না
  4. শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমেই ডিক্রিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, স্বত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি করার প্রয়োজন হয় না কারণ, এই ধরনের মামলায় আদালত কেবলমাত্র অধিকার ঘোষণা করে এবং ডিক্রি জারি না করেই সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি ব্যক্তি আদালতে মামলা করে এবং নিজের অধিকার বা আইনগত পরিচয় দাবি করে, তাহলে আদালত শুধুমাত্র সেই দাবি স্বীকার করে ঘোষণা দিতে পারেন, তবে ডিক্রি জারির প্রয়োজন পড়ে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭, ধারা ৪২: আইনগত পরিচয় বা অধিকার ঘোষণার ক্ষেত্রে আদালতের সুবিবেচনা। এ ধরনের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা:
যে কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আইনগত পরিচয় বা কোনো সম্পত্তির অধিকারী, তিনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন যে ব্যক্তি বা যার আগ্রহ তার সেই পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করছে, এবং আদালত তার ইচ্ছাধীনভাবে সেই ব্যক্তির অধিকার ঘোষণা করতে পারে, এবং বাদীকে এই মামলায় কোনো অতিরিক্ত সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
যদিও, কোনো আদালত সেই ধরনের ঘোষণা করবে না যেখানে বাদী, যিনি শুধুমাত্র স্বত্বের ঘোষণা চাইতে পারছেন, আরও কোনো সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতা থাকার পরও তা করেন না।
ব্যাখ্যা:- সম্পত্তির ট্রাস্টি একটি "ব্যক্তি যার আগ্রহ অস্বীকার করার" অধিকার রয়েছে, যখন কোন অপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার অধিকার সংক্রান্ত স্বত্ব রয়েছে, এবং যদি সে ব্যক্তি বর্তমান থাকতো তবে সে একজন ট্রাস্টি হতো।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
২৭৪.
'mutatis mutandis' অর্থ কী?
  1. পরিবর্তন ছাড়া
  2. প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ
  3. অপরিবর্তনীয় শর্তসমূহ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'mutatis mutandis' একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হল- "প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ।"

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩০:
এই অধ্যায়ের চুক্তি সম্পর্কিত বিধানগুলি, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ, পুরস্কার এবং উইল বা কোডিসিলে একটি বিশেষ সেটেলমেন্ট নিষ্পন্ন করার নির্দেশনাসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
[The provisions of this Chapter as to contracts shall, mutatis mutandis, apply to awards and to directions in a will or codicil to execute a particular settlement.]

অর্থাৎ, চুক্তির যে সকল বিধি-নিয়ম, দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলিকে প্রয়োজনমত পরিবর্তন করে পুরস্কার এবং উইল/কোডিসিলের নির্দেশনাসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হবে।
২৭৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে চুক্তির বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য নয়
  3. আদালত অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে দিতে পারে
  4. চুক্তিটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করবেন
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে, নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
------------------
Contracts not specifically enforceable, 21. The following contracts cannot be specifically enforced:
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief;
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms;
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty;
(d) a contract which is in its nature revocable;
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust;
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers;
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date;
(h) a contract of which a material part of the subject matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist.

২৭৬.
‘A’, ‘B’ এর জন্য একটি ছবি আঁকার ব্যাপারে B এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং B এর জন্য ১০০০ টাকা প্রদানে সম্মত হয়। ছবিটি আঁকা সম্পন্ন হলে B টাকা পরিশোধ করলেও A ছবি দিতে অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে চুক্তি-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়
  3. আদালত কর্তৃক চুক্তি বাতিলযোগ্য
  4. টাকা ফেরত দিবে
ব্যাখ্যা
♦১২ ধারামতে যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য সে ক্ষেত্রে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:-
  (i) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়।
  (ii) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না।
  (iii) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না।
  (iv) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
২৭৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে?
  1. ২৭
  2. ২৮
  3. ২৯
  4. ৩০
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারার সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ করার ফলাফল বা 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
SR Act- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
২৭৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন আইনের প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য হবে?
  1. কোম্পানি আইনের
  2. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের
  3. চুক্তি আইনের
  4. সাক্ষ্য আইনের
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যে-সব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যে-সব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে চুক্তি আইনের প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
-----------------
- Section-3: Words defined in Contract Act:
-All words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.
২৭৯.
চুক্তি রদের মামলার জন্য চুক্তিটি অবশ্যই-
  1. মৌখিক এবং বাতিলযোগ্য হতে হবে
  2. লিখিত এবং বৈধ হতে হবে
  3. লিখিত এবং বাতিলযোগ্য হতে হবে
  4. মৌখিক এবং বাতিল হতে হবে
ব্যাখ্যা
চুক্তি রদের মামলার জন্য চুক্তিটি অবশ্যই লিখিত এবং বাতিলযোগ্য হতে হবে।

৩৫ ধারা: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়:
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।
২৮০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারায় কোন আইনকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে?
  1. The Contract Act, 1872
  2. The Limitation Act, 1908
  3. The Registration Act, 1908
  4. The Transfer of Property Act, 1882
ব্যাখ্যা
• Section 4- Savings: Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.

• এই অনুচ্ছেদটি এই আইনের প্রয়োগসীমা নির্ধারণ করছে। এর প্রধান বিষয়গুলি হল:
(a) এই আইন যে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে, চুক্তি ব্যতীত অন্য কোনো সমঝোতা/আইনিদৃষ্টিতে বাধ্যবাধকতা না থাকলে তার বিষয়ে কোনো প্রতিকারের অধিকার প্রদান করবে না।
(b) এই আইন কাউকে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তিজনিত প্রতিকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।
(c) এই আইন 1908 সালের রেজিস্ট্রেশন আইন এবং নথিপত্রের উপর তার প্রভাব রাখবে না।

সংক্ষেপে, এই আইন শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক বিষয়গুলিতে প্রযোজ্য হবে এবং অন্যান্য চুক্তিগত প্রতিকারের অধিকারগুলি অক্ষুণ্ন থাকবে। তবে নথিপত্রের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে 1908 সালের রেজিস্ট্রেশন আইনই কার্যকর থাকবে।
২৮১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কী ধরনের প্রতিকার?
  1. এটি একটি ফৌজদারি প্রতিকার
  2. এটি সাধারণ ক্ষতিপূরণের প্রতিকার
  3. এটি শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রতিকার
  4. এটি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ দেওয়ানী প্রতিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা Specific Relief বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বোঝায়, যা কোন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। 
⇒ আর্থিক ক্ষতিপূরণ অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিকার হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। এক্ষেত্রে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে যে প্রতিকার মঞ্জুর করে তাকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলে।
⇒ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলতে একটি বিশেষ ধরনের আইনগত প্রতিকারকে (Legal redress) বুঝায় যা অন্যান্য প্রতিকার থেকে ভিন্ন।
-এই জন্য বলতে পারি যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলতে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ ধরনের প্রতিকারকে বুঝায়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের  মাধ্যমে।
-----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 5 Specific relief how given: Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
২৮২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারায় কোনো পক্ষ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের বিকল্প হিসেবে কী প্রতিকার চাইতে পারে?
  1. চুক্তি রদ
  2. চুক্তি সংশোধন
  3. চুক্তি পরিবর্তন
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৭- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

এই ধারায় বলা হয়েছে,
একটি লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়েরকারী বাদী বিকল্প প্রার্থনা জানাতে পারে যে, চুক্তিটি যদি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা না যায়, তাহলে তা বাতিল করা হোক। আদালত যদি চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে অস্বীকার করেন, তাহলে তা রদ করার এবং সেই অনুসারে ত্যাগ করার নির্দেশ দিতে পারেন।
২৮৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারায় আদালত কোন ক্ষেত্রে পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান করবে?
  1. মৌখিক চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে
  2. লিখিত চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে
  3. লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে
  4. মৌখিক চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারা: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা।

Section 32- Presumption as to intent of parties:
For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
২৮৪.
আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পারে না
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় প্রয়োগ করতে পারে
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় প্রয়োগ করতে পারে না
  4. দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে না
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় প্রতিকারগুলো পাওয়া পক্ষগণের অধিকার, তাই ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
২৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে মোট কয়টি ধারা রয়েছে?
  1. ৫৫টি
  2. ৫৬টি
  3. ৫৭টি
  4. ৫৮টি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কিছু তথ্য:

⇒ প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭ (১নং আইন);
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ প্রস্তাবনা: ১টি;
⇒ খন্ড: ৩টি;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।
২৮৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় কোন ব্যক্তির নিয়োগের বিধান রয়েছে?
  1. রিসিভার
  2. নাবালকের অভিভাবক
  3. বাদীর আইনগত প্রতিনিধি
  4. অপ্রকৃস্থ ব্যক্তির আইনগত অভিভাবক
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা- তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:
প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

Section 44- Appointment of receivers discretionary, Reference to Code of Civil Procedure:
The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
২৮৭.
একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না, যখন-
  1. চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যাহারযোগ্য
  2. চুক্তিটির প্রকৃত ক্ষতি নিরুপণের কোন মাপকাঠি থাকে না
  3. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না
  4. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-

১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে

৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪)চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে 

৫)চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬)বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি

৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮)যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
২৮৮.
ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. এটি নতুন অধিকার সৃষ্টি করে
  2. এটি ক্ষতিপূরণ প্রদান করে
  3. এটি শুধুমাত্র বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে
  4. এটি কোনো পক্ষকে বাধ্যতামূলক আদেশ প্রদান করে
ব্যাখ্যা
ঘোষণামূলক মামলা ও ডিক্রির সংজ্ঞা:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। আদালত ঘোষণামূলক মামলায় যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে "ঘোষণামূলক ডিক্রি" (Declaratory Decree) বলে। এই ডিক্রির মাধ্যমে বাদীর আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার ঘোষণা করা হয়।

ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:
i) নতুন অধিকার সৃষ্টি হয় না:
- কেবল বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করা হয়।
- মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে।

ii) কোন আদেশ দেওয়া হয় না:
- বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করা হয়।
- কোনো পক্ষকে কিছু করতে বা না করতে আদেশ দেয়া হয় না।

iii) আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা:
- ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের উপর নির্ভরশীল।

ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি:
i) বাদীকে আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হতে হবে।
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে- চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট পরিচয় এখানে প্রযোজ্য নয়।
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হতে হবে বা অস্বীকারের উদ্যোগ নিতে হবে।

মোকদ্দমা দায়েরের যোগ্যতা:
১. যিনি আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. যিনি সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী, কিন্তু তার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।
৩. যাঁর পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৮৯.
ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় প্রদত্ত রায় কার উপর বাধ্যকর হবে?
  1. শুধুমাত্র মামলার পক্ষদের উপর
  2. শুধুমাত্র পক্ষদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর
  3. পক্ষগণের মধ্যে কোন ট্রাস্টি থাকলে তার উপর 
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪৩: ঘোষণার ফলাফল: এই অধ্যায়ের অধীনে প্রদত্ত ঘোষণা শুধু মামলার পক্ষগণ, এবং তাহাদের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণের উপর, এবং, যেক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে কোনো ট্রাস্টি থাকেন, সেক্ষেত্রে এইরূপ ব্যক্তিগণের উপর যাহারা ঘোষণার দিন পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকিতেন, তাহা হইলে এইরূপ পক্ষগণ যাহাদের জন্য ট্রাস্টি হইতেন তাহাদের উপর, অবশ্য পালনীয় হইবে।

উদাহরণ: ক একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তাহার কথিত স্ত্রী খ এবং তাহার মাকে বিবাদি করিয়া দায়েরকৃত মামলায় তাহার বিবাহ যথারীতি সম্পন্ন হইয়াছে এই ঘোষণা প্রদান এবং তাহার দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আদেশ প্রদানের আবেদন জানান। আদালত সেইরূপ ঘোষণা ও আদেশ প্রদান করে। গ, খ কে তাহার স্ত্রী দাবি করেন এবং খ-কে উদ্ধার করিবার জন্য ক-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পূর্ববর্তী মামলায় প্রদত্ত ঘোষণা গ-এর উপর বাধ্যকর নহে।
----------
The Specific Relief Act,1877-Section 43, Effect of declaration: A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

Illustration: A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

২৯০.
দলিল আংশিক বাতিলের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে-
  1. ৩৩ ধারা
  2. ৩৫ ধারা
  3. ৩৭ ধারা
  4. ৪০ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী কোন দলিল যদি বিভিন্ন অধিকার/বাধ্যবাধকতার সাক্ষী হয় তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় তা আংশিক ভাবে বিলোপ করতে পারেন এবং বাকী অংশ বহাল রাখতে পারেন।
-----------------
SR Act Section-40. What instruments may be partially cancelled:
Where an instrument is evidence of different rights or different obligations, the Court may, in a proper case, cancel it in part and allow it to stand for the residue.

Illustration
A draws a bill on B, who endorses it to C, by whom it appears to be endorsed to D, who endorses it to E. C's endorsement is forged. C is entitled to have such endorsement cancelled, leaving the bill to stand in other respects.
২৯১.
A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। সে অন্যত্র গান পরিবেশন করা হতে বিরত রাখতে B নিম্নলিখিত কোন মামলাটি করতে পারে?
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ এর মামলা 
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার চুক্তি বলবৎ এর মামলা
  3. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মামলা 
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারার নিষেধাজ্ঞার মামলা
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৭ ধারা- নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞাঃ
ধারা ৫৬ এর উপধারা-(চ) এর বিধান সত্ত্বেও যেক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করবার সম্মতির সমন্বয়, সেক্ষেত্রে হাঁ-সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কাজ সম্পাদন সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা থেকে নিবারণ করবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, বাদী তার যতটুকু অবশ্যপালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালনে ব্যর্থ হয় নাই।
--------------------------
Section 57- Injunction to perform negative agreement:
Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from grating an injunction to perform the negative agreement. 
provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.
Illustration: A contracts with B to sing for twelve months as B's theatre and not to sing in public elsewhere, B cannot obtain specific performance of the contract to sing, but he is entitled to an injunction restraining A from singing at any other place of public entertainment.

যেমন- A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য B ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়, কিন্তু A যেন এই সময়ে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন না করতে পারে বা তাকে গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।

২৯২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা অনুসারে স্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের ক্ষেত্রে কোন আইনের বিধান অনুসরণ করতে হবে?
  1. The Penal Code, 1860
  2. The Code of Civil Procedure, 1908
  3. The Transfer of Property Act, 1882
  4. The Code of Criminal Procedure, 1898
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে। ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী, শুধু মালিকই নয়, যে কেউ যার স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব ও দখলের অধিকার রয়েছে, সে আদালতে মামলা করতে পারে। অর্থাৎ, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তার সম্পত্তিতে স্বত্ব রয়েছে—তা চুক্তি, উত্তরাধিকার বা দখল সূত্রে হোক—তাহলে সে এই ধারায় মামলা করতে পারবে।
এই ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলা করা যায়। তবে, দখল উদ্ধারের নিয়ম-কানুন The Code of Civil Procedure, 1908-এর আদেশ ২১-এ উল্লেখ করা আছে।
-------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section 8- Recovery of specific immoveable property:
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.
২৯৩.
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এক্ষেত্রে কোনটি সঠিক হবে?
  1. খ'-কে চুক্তির ক্রয়মূল্য পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না
  2. ক,খ এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন দাবী করতে পারবে 
  3. খ,ক এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন দাবী করতে পারবে না 
  4. খ'-কে চুক্তির ক্রয়মূল্য পরিশোধে বাধ্য করা যাবে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৩ অনুসারে,যদি কোনো চুক্তির বিষয়বস্তুর একটি অংশ কার্যকর হওয়ার সময় বিদ্যমান না থাকে বা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে চুক্তির সম্পূর্ণ বিষয় বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। বরং চুক্তির যে অংশটি এখনও কার্যকর আছে বা যে অংশের অস্তিত্ব এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, তা বৈধ থাকে এবং সেই অংশের চুক্তিটি কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য হয়।

(ক) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে 'খ'-কে চুক্তিতে তার অংশের কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে।
-------------

Section 13- Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance.

Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract
is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform
his part of the contract by paying the purchase money.

২৯৪.
ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৫০
  2. ধারা ৪২
  3. ধারা ৩৮
  4. ধারা ৩৪
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২-এ ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারার অধীনে, যখন কোন ব্যক্তি তার আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার স্বত্ব অস্বীকার করা হয়, তখন সেই ব্যক্তি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
- আদালত এই মামলায় শুধুমাত্র বাদীর অধিকার ঘোষণা করে, নতুন কোনো অধিকার সৃষ্টি না করে।
অন্যদিকে, ধারা ৫০ থেকে ধারা ৩৮-এ ঘোষণামূলক মামলা সম্পর্কিত কোনো বিধান নেই, তাই সঠিক উত্তর হচ্ছে ধারা ৪২।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
২৯৫.
যদি চুক্তির একটি স্বাতন্ত্র্য অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হয় এবং অন্য অংশ কার্যকরযোগ্য না হয়, তখন আদালত-
  1. পুরো চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য
  2. চুক্তি স্থগিত করতে পারে
  3. কার্যকরযোগ্য অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারে না
  4. কার্যকরযোগ্য অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারা- কোন চুক্তির স্বাতন্ত্র্য অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন:
যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

২৯৬.
The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৫৭ প্রযোজ্য হয় কখন?
  1. যখন চুক্তিতে কোনো অঙ্গীকার থাকে না
  2. যখন চুক্তিতে শুধুমাত্র ইতিবাচক অঙ্গীকার থাকে
  3. যখন চুক্তিতে কেবল নেতিবাচক অঙ্গীকার থাকে
  4. যখন চুক্তিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় অঙ্গীকার থাকে
ব্যাখ্যা

ধারা ৫৭. নেতিবাচক চুক্তি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা:
ধারা ৫৬-এর উপধারা (f) সত্ত্বেও, যেখানে কোনো চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ইতিবাচক অঙ্গীকারের (affirmative agreement) পাশাপাশি একটি নেতিবাচক  অঙ্গীকার (negative agreement)ও থাকে- স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে- অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট কাজ না করার অঙ্গীকার থাকে, সেখানে আদালত যদি সেই ইতিবাচক চুক্তির নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (specific performance) করাতে সক্ষম না হয়, তাহলেও আদালত সেই নেতিবাচক চুক্তি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা (injunction) জারি করতে পারে; তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী এখন পর্যন্ত তার চুক্তির বাধ্যবাধক অংশ সম্পূর্ণভাবে পালন করতে ব্যর্থ হননি।

২৯৭.
ঘোষণামূলক ডিক্রি পাওয়ার জন্য বাদীর Character বা Status উদ্ভুত হবে?
  1. আইন থেকে
  2. চুক্তি থেকে
  3. স্বীকৃতি থেকে
  4. ক, খ, ও ঘ।
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৪২ ধারা অনুযায়ী মোকদ্দমা দায়ের করা যায় আইনগত পরিচয় (Legal Character/Status) কিংবা সম্পত্তিতে অধিকার বিষয়ে।
২৯৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর খসড়া প্রণয়ন করে কে?
  1. Dr Whitley Stokes
  2. Lord Macaulay
  3. G.W Anderson
  4. উপরের কেহ নয়
ব্যাখ্যা
• Dr Whitley Stokes সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর খসড়া The New York Civil Code এর আদলে প্রস্তুত করেন।
• এই আইন ১লা মে ১৮৭৭ সালে কার্যকর হয়।
২৯৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় কয়টি নিরোধমূলক প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী ৫ ভাবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয।
যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার।
অন্যদিকে ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 5 Specific relief how given:
Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
৩০০.
ধারা ৪৩ অনুসারে প্রদত্ত ঘোষণা কার উপর বাধ্যতামূলক?
  1. সকল ব্যক্তির উপর
  2. শুধুমাত্র আদালতের উপর
  3. শুধুমাত্র মামলার পক্ষসমূহের উপর
  4. মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিকারী ব্যক্তিদের উপর
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল:
এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।

Section 43: Effect of declaration:
A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.