বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Specific Relief Act, 1877

মোট প্রশ্ন১,১৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Specific Relief Act, 1877

PrepBank · পাতা ১১ / ১২ · ১,০০১১,১০০ / ১,১৭২

১,০০১.
আদালতের কোন ক্ষমতাবলে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়?
  1. বাধ্যতামূলক
  2. ইচ্ছাধীন
  3. আইনগত
  4. আবশ্যিক
ব্যাখ্যা
প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে; বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারির মাধ্যমে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.
১,০০২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কত ধারা অনুযায়ী আদালত যে পক্ষকে চুক্তি রদের প্রতিকার মঞ্জুর করে তাকে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরন দেওয়ার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৩৫ ধারায়
  2. ৩৬ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে যে,
• আদালত চুক্তি বাতিলের রায় মঞ্জুর করলে যে পক্ষের অনুকূলে রায় মঞ্জুর করবেন তাদের নিকট থেকে অন্য পক্ষকে ক্ষতিপূরন প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
১,০০৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা অনুসারে নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়?
  1. ধারা ৫৪
  2. ধারা ৫৫
  3. ধারা ৫৬
  4. ধারা ৫৭
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য আদালত যে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করে তাকে Negative Injunction বলে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৭-এ নেতিবাচক চুক্তি (Negative Agreement) পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction) প্রদানের বিধান রয়েছে।
- এই ধারার মূল বিষয়বস্তু হলো:
কোন চুক্তিতে যদি একটি ইতিবাচক অঙ্গীকার (কোনো কাজ করা) এবং একটি নেতিবাচক অঙ্গীকার (কোনো কাজ না করা) একসাথে থাকে, এবং আদালত যদি সেই ইতিবাচক অঙ্গীকারটি সুনির্দিষ্টভাবে পালন করানোর আদেশ (Specific Performance) দিতে না পারে,
তবুও আদালত চুক্তির নেতিবাচক অংশটি (কাজটি না করা) ভঙ্গ করা থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে।
শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী নিজে চুক্তির(যে অংশটি তার উপর বাধ্যবাধকতা তৈরি করে) পালনে ব্যর্থ হয়নি।

- নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform negative agreement)-
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে আদালত চুক্তির ইতিবাচক অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার আদেশ দিতে না পারলেও, চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারবেন।

যেমন- A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য B ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়, কিন্তু A যেন এই সময়ে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন না করতে পারে বা তাকে গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-57. Injunction to perform negative agreement:
Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from granting an injunction to perform the negative agreement: provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.

Illustrations:
(a) A contracts to sell to B for taka 1,000 the good-will of a certain business unconnected with business-premises, and further agrees not to carry on that business in Chittagong. B pays A the taka 1,000 but A carries on the business in Chittagong. The Court cannot compel A to send his customers to B, but B may obtain an injunction restraining A from carrying on the business in Chittagong.
(b) A contracts to sell to B the good-will of a business. A then sets up similar business close by B's shop and solicits his old-customers to deal with him. This is contrary to his implied contract, and B may obtain an injunction to restrain A from soliciting the customers, and from doing any act whereby their good-will may be withdrawn from B.

(c) A contracts with B to sing for twelve months as B's theatre and not to sing in public elsewhere, B cannot obtain specific performance of the contract to sing, but he is entitled to an injunction restraining A from singing at any other place of public entertainment.

(d) B contracts with A that he will serve him faithfully for twelve months as a clerk. A is not entitled to a decree for specific performance of the contract. But he is entitled to an injunction restraining B from serving a rival house as clerk.
(e) A contracts with B that, in consideration of taka 1,000 to be paid to him by B on a day fixed, he will not set up a certain business within a specified distance. B fails to pay the money. A cannot be restrained from carrying on the business within the specified distance.

১,০০৪.
A একজন গুদামরক্ষক। Z কে কিছু পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার জন্য A কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পণ্য গুলো A এর দখল হতে B গ্রহণ করেছে। এই ক্ষেত্রে A,B এর বিরুদ্ধে পণ্যগুলো প্রাপ্তির জন্য মামলা করতে পারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের _______ ধারায়।
  1. ১০ ধারায়
  2. ১১ ধারায়
  3. ৯ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦A হলো উক্ত পণ্যের জিম্মাদার [Bailee] এবং এই কারণে A উক্ত পণ্য বর্তমান দখলের অধিকারী। A উক্ত পণ্যের মালিক না হলেও যেহেতু পণ্যটির দখলে রাখার বিশেষ অধিকার A এর আছে, তাই উক্ত পণ্য উদ্ধার করার জন্য A,B এর বিরুদ্ধে ১০ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,১৮৭৭ এর ১০ ধারায় বলা আছে সুনির্দিস্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধারঃ
♦সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানী কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় উহার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
♦ব্যাখ্যা-১ঃ এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সেই ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
♦ব্যাখ্যা-২ঃসম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
১,০০৫.
কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায়
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারায়
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারায়
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

⇒ ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:
i) ঘোষনামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষনা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষনামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষনামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষনা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।

⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
১,০০৬.
একটি চুক্তির সংশোধনের জন্য আদালত কী বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে?
  1. চুক্তি আইনের সব শর্ত পূরণ করে
  2. সকল পক্ষ চুক্তি সম্পর্কে একমত
  3. চুক্তির নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে
  4. চুক্তি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত করার উদ্দেশ্য ছিল
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩২ ধারা- পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
একটি লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে, আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সকল পক্ষই একটি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত চুক্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েছিল।

Section 32- Presumption as to intent of parties-
For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
১,০০৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী চুক্তি পালনে কয়টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী চুক্তি পালনে ৪টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে।
যথা-
- ক্ষতিপূরণ আদায় অসম্ভব,
- পূর্বে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে,
- চুক্তি পালনে অক্ষম,
- পূর্বেই বিষয় বস্তু নিষ্পত্তি হয়েছে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার বিধান: প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা:
-চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না:
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেচে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
-----------------
⇒ SR Act Section-24.Personal bars to the relief:
Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
১,০০৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারার অধীন আদালত কখন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে পালন করার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. সম্পাদনযোগ্য এবং অসম্পাদনযোগ্য অংশ পরস্পর নির্ভরশীল হলে
  2. সম্পাদনযোগ্য অংশ, অসম্পাদনযোগ্য অংশ থেকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন হলে
  3. সম্পাদনযোগ্য এবং অসম্পাদনযোগ্য অংশ একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হলে
  4. সম্পাদনযোগ্য অংশ, অসম্পাদনযোগ্য অংশ থেকে বড় হলে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারা- কোন চুক্তির স্বাতন্ত্র্য অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন:
যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

Section 16- Specific performance of independent part of contract:
When a part of a contract which, taken by itself, can and ought to be specifically performed, stands on a separate and independent footing from another part of the same contract which cannot or ought not to be specifically performed, the Court may direct specific performance of the former part.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারামতে,
কোনো চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, একটি অংশ আপনা-আপনি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনযোগ্য এবং অপর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য নয় এবং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশ থেকে ভিন্ন ও স্বাধীন (Separate and independent) হয়, তাহলে আদালত ঐ চুক্তির প্রথম অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে পালনের নির্দেশ দিতে পারবে।
১,০০৯.
'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে দুইটি জমি বিক্রয়ের বায়নাপত্র সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা যুগ্ম জেলা জজের নিকট মোকদ্দমা দায়ের করে। জমি একটি অংশ নারায়ণগঞ্জে এবং অপর অংশ ঢাকাতে অবস্থিত। 'খ' যদি মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করতে চায়, তাহলে 'খ' এর উকিল হিসেবে, আপনি কোথায় মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করবেন?
  1. ঢাকা জেলা জজের নিকট
  2. নারায়ণগঞ্জ জেলা জজের নিকট
  3. হাইকোর্ট ডিভিশনে
  4. ঢাকা যুগ্ম জেলা জজের নিকট
ব্যাখ্যা

♦ দেওয়ানী মামলা বা আপিল স্থানান্তর ও প্রত্যাহার- যে কোন সময় হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ আদালত অধঃস্তন আদালতের কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অপর কোন কার্যক্রম স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করতে পারেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২, ২৩ ও ২৪ ধারা এবং The Civil Courts Act, 1887 এর ২২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমা ও আপিল স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ও ২৪ ধারা অনুযায়ী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র বিবাদী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে যখন কোন মোকদ্দমা দুই বা ততোধিক আদালতে দায়েরযোগ্য বা বিচারযোগ্য। কিন্তু ২৪ ধারার আওতায় মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা আদালত স্বতঃ প্রবৃত্ত হয়ে নিজে (own motion) কোন মামলা বা আপিল স্থানান্তর করতে পারে।

♦সুতরাং বিবাদী হলে ২২ ধারা, অন্যদিকে মামলার যে কোন পক্ষ অথবা আদালত নিজে হলে ২৪ ধারা প্রযোজ্য হবে।

♦ যেহেতু জমির দুইটি অংশ দুইটি জেলায় অবস্থিত তাই যে কোন একটি জেলার দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। যেহেতু বাদী 'ক' ঢাকাতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে এবং ‘খ’ মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করে নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানী আদালতে নিতে চাই, তাহলে আমাকে হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে। 
১,০১০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারায় কয়টি ব্যাখ্যা অনুচ্ছেদ রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার: 
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা-১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে, এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।

ব্যাখ্যা-২:
 সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

The Specific Relief Act, 1877-Section-10: Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.

Explanation 1-
 A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.

Explanation 2-
 A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

১,০১১.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৬ ধারায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার নামঞ্জুর করার ক্ষেত্র কয়টি?
  1. ৯ টি
  2. ৭ টি
  3. ১০ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা
• কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। ৫৬ ধারা অনুসারে ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রনয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারী দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরন আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
১,০১২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালত কোন বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দেন?
  1. দলিল সম্পাদনের সময়কালে
  2. দলিলের শব্দ ও বাক্য গঠনে
  3. দলিল সম্পাদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্যে
  4. দলিলের আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী, আদালত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে দলিল সম্পাদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও দলিলের আইনি ফলাফল সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। আদালতের অনুসন্ধান শুধু দলিলের ভাষা বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দলিলের প্রকৃত অর্থ কী হওয়া উচিত ছিল, সেটি নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
অতএব, দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালত সর্বাধিক গুরুত্ব দেন দলিল সম্পাদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্যে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র দলিলের ভাষা কী ছিল সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
- In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
১,০১৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর খসড়া প্রণয়ন করে কে?
  1. Lord Macaulay
  2. James Stephen
  3. Dr. Whitley Stokes
  4. G.W Anderson
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কিছু তথ্য:

⇒ প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭ (১নং আইন);
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।
⇒ খসড়া প্রণয়নকারী: The New York Civil Code, 1862 এর আদলে বা অনুকরণে Dr. Whitley Stokes ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটির খসড়া প্রণয়ন করেন।
১,০১৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৩ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ঘোষণা সংক্রান্ত বিধান
  2. চুক্তি কার্যকর করার বিধান
  3. ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান
  4. নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিধান
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৩ সরাসরি নিষেধাজ্ঞা (Injunctions) সংক্রান্ত বিধানের সাথে সম্পর্কিত। এই ধারাটি বিশেষভাবে দু'ধরনের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করে: 
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction)
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction)

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
-চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------------
⇒ The Specific Relief Act,1877, Section-53: Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
-Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

১,০১৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় না
  1. কোন পক্ষকে কোন বে-আইনী কাজ করা থেকে বারিত করার জন্য
  2. আংশিক চুক্তি পালনের জন্য
  3. শুধুমাত্র দন্ড সংক্রান্ত আইন বলবৎ করার জন্য
  4. সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে কোনো দন্ড বা Penal  কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
১,০১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি চুক্তির শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এটি কাঙ্খিত আইনি ফলাফল দিতে পারে না, তাহলে কী হবে?
  1. চুক্তি কার্যকর হবে না
  2. চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে
  3. চুক্তি পুনরায় সংশোধন করা হবে না
  4. পক্ষরা সমস্যা উপেক্ষা করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি চুক্তির শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এটি কাঙ্খিত আইনি ফলাফল দিতে পারে না, তবে চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, যদি কোনো চুক্তি এমনভাবে তৈরি হয় যে তা একটি নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল অর্জন করতে পারে না, তাহলে আদালত চুক্তির শর্তাবলীতে পরিবর্তন করতে পারে, যাতে তা কাঙ্খিত আইনি ফলাফল প্রদান করে। তবে, চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিল করা হবে না; পরিবর্তে, সেটি সংশোধন সহ কার্যকর হতে পারে।
সঠিক উত্তর: খ) চুক্তি পরিবর্তন সহ কার্যকর হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭-এর ধারা ২৬: পরিবর্তন ছাড়া কার্যকরী করা যাবে না:
যখন কোনো বাদী লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চায় এবং প্রতিরোধকারী তা পরিবর্তনের দাবি জানায়, তখন বাদী সেই কার্যসম্পাদন লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সেই পরিবর্তনটি কার্যকর করা হয়, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:
(ক) যেখানে প্রতারণা বা সত্যের ভুলের কারণে চুক্তির শর্তগুলো এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা প্রতিরোধকারী যখন চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন তখন তিনি যেভাবে এটি ভাবছিলেন তেমন ছিল না;
(খ) যেখানে প্রতারণা, সত্যের ভুল বা বিস্ময়ের কারণে প্রতিরোধকারী চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, যখন তিনি সঠিকভাবে চুক্তির ফলাফল বোঝেননি এবং বাদীর সঙ্গে চুক্তির সম্পর্কেও ভুল ধারণা করেছিলেন;
(গ) যেখানে প্রতিরোধকারী চুক্তির শর্তগুলো জানতেন এবং তার প্রভাব বুঝতেন, এবং চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন বাদীর কিছু ভুল বিবৃতি বা বাদীর শর্তের ভিত্তিতে যা চুক্তিতে সংযোজন ছিল, কিন্তু বাদী সেই শর্ত পূর্ণ করতে অস্বীকার করেছিলেন;
(ঘ) যেখানে পক্ষদের উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল অর্জন করা, কিন্তু চুক্তির বর্তমান শর্তগুলো সেই ফলাফল অর্জন করার জন্য উপযুক্ত নয়;
(ঙ) যেখানে পক্ষরা চুক্তি সম্পাদনের পরে চুক্তির শর্তাবলী পরিবর্তন করতে চুক্তি করেছেন।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 26. Non-enforcement except with variation:
Where a plaintiff seeks specific performance of a contract in writing, to which the defendant sets up a variation, the plaintiff cannot obtain the performance sought, except with the variation so set up, in the following cases (namely):- 
(a) where by fraud or mistake of fact the contract of which performance is sought is in terms different from that which the defendant supposed it to be when he entered into it; 
(b) where by fraud, mistake of fact, or surprise the defendant entered into the contract under a reasonable misapprehension as to its effect as between himself and the plaintiff; 
(c) where the defendant, knowing the terms of the contract and understanding its effect, has entered into it relying upon some misrepresentation by the plaintiff, or upon some stipulation on the plaintiff's part, which adds to the contract, but which he refuses to fulfil; 
(d) where the object of the parties was to produce a certain legal result, which the contract as framed is not calculated to produce; 
(e) where the parties have, subsequently to the execution of the contract, contracted to vary it.
১,০১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা মূলত কী সম্পর্কে?
  1. দলিল হস্তান্তর
  2. দলিল সংশোধন
  3. দলিল নিবন্ধন
  4. দলিল বাতিলকরণ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা মূলত দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments) সম্পর্কিত। এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো দলিল ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত ভুলভাবে রচিত হয় এবং এতে চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আইনগত ফলাফল প্রতিফলিত না হয়, তবে আদালত দলিল সংশোধনের জন্য আদেশ দিতে পারেন।
→ এখানে মূলত আদালতের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তিনি দলিলের ভাষার পরিবর্তে চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আইনগত পরিণতি বিবেচনা করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী দলিল সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
-In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
১,০১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিষয়বস্তু হিসেবে কোনটি সঠিক?
  1. Rescission for mistake
  2. Principles of rectification
  3. What instruments may be partially cancelled
  4. Alternative prayer for rescission in suit for specific performance
ব্যাখ্যা
Section 33- Principles of rectification:
In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.

৩৩ ধারা: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
লিখিত দলিল সংশোধন করার সময়, আদালত শুধুমাত্র এ বিষয়টি অনুসন্ধান করতে সীমাবদ্ধ থাকবে না যে, দলিলের ভাষার অর্থ কী হওয়ার কথা ছিল। বরং আদালত এও অনুসন্ধান করতে পারবে যে, দলিলটির উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর আইনগত পরিণতি কী হওয়ার কথা ছিল।

এর বিস্তারিত অর্থ হলো: লিখিত দলিল সংশোধন বা ব্যাখ্যা করার সময়, আদালত কেবলমাত্র দলিলের শব্দগুলির অর্থ কী ছিল সে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আদালত এ ছাড়াও অনুসন্ধান করতে পারবে যে:
১) দলিলটির মূল অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্য কী ছিল;
২) দলিলটির আইনগত প্রভাব বা পরিণতি কী হওয়ার কথা ছিল।

অর্থাৎ আদালত দলিলটির শুধু শব্দগত অর্থই নয়, বরং দলিলের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য এবং আইনগত পরিণামও বিবেচনা করতে পারবে। এটি আদালতকে দলিলটির প্রকৃত অর্থ এবং উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে সহায়তা করবে।
১,০১৯.
পাবলিক কোম্পানীর পরিচালকগণ কর্তৃক অনুমোদিত প্রস্তাব দ্বারা A কতিপয় শেয়ার বরাদ্ধ পাওয়ার অধিকারী হয়। A উক্ত প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ও উক্ত প্রস্তাব প্রতিপালন না করার জন্য সাধিত ক্ষতিপূরণের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে। মোকদ্দমা দায়ের করার পূর্বে সকল শেয়ার বরাদ্ধ করা হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে আদালত-
  1. প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে।
  2. প্রস্তাব প্রতিপালন না করার কারণে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।
  3. শেয়ার বরাদ্ধের সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ  সম্ভব না হলেও ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
  4. যেহেতু চুক্তি প্রতিপালন অসম্ভব হয়েছে সেহেতু A কোন প্রতিকার পাবে না।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১৯ ধারায় আদালত কতিপয় ক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিকার দিতে পারে। চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ২ ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়। যথা- ক) ক্ষতিপূরণ এবং খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন

♦ তবে উভয় ধরনের প্রতিকার থাকলেও চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ক্ষতিপূরণের প্রতিকার প্রদান করা হয়। কিন্তু যেক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না অথবা যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হয় না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রতিকার প্রদান করে থাকে । আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯, ৩৮ এবং ৪১ ধারায় ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে।

♦ চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে অথবা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মোকদ্দমা দায়েরের সময় চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বা বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে।

♦ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় ক) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয়, অথবা খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালত ২ ধরণের প্রতিকার দিতে পারে-

i) ন্যায়বিচার স্বার্থে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয় ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারে। 
ii) বাদী ও বিবাদীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য বিবাদী দায়ী হলে, এবং আদালত চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন যথাযথ নয় বলে বিবেচনা করলে আদালত বাদীকে কেবল ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীকে বাধ্য করতে পারবে।

♦ যেহেতু শেয়ার বরাদ্ধ হয়ে গেছে, সেহেতু শেয়ার বরাদ্ধ সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য করা অসম্ভব  , এইজন্য  A ক্ষতিপূরণ পাবে।
১,০২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় কোন কোন ব্যক্তি দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. দলিলের পক্ষগণ
  2. যে কেউ যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য
  3. যে ব্যক্তি দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে
  4. উপরের সকলে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের প্রতিকার শুধুমাত্র দলিলের পক্ষসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। অর্থাৎ শুধুমাত্র দলিলের পক্ষরাই যে দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবে তা না বরং যেকোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, সে দলিলটি বাতিলের জন্য ৩৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। ৩৯ ধারায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে-
১. দলিলের পক্ষ;
২. যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য; বা
৩. যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

অর্থাৎ, দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে দলিলের পক্ষ হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে তিনি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তবে সেই ব্যক্তি মামলার জন্য যোগ্য।
১,০২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার মোকদ্দমার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ করা যায় না?
  1. ৮ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ১০ ধারা
  4. ১১ ধারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার মূল কথা হচ্ছে-
⇒ যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
⇒ তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
⇒ সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোন প্রয়োগ নেই।
এই ধারার অধীন আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউর আবেদন করা যাবে না।

৯ ধারা- স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

Section 9- Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
১,০২২.
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি বলবৎকরণের জন্য আনীত মামলায় চুক্তিতে উল্লেখিত টাকা আদালতে জমা দিতে হবে কখন?
  1. মামলা দায়েরের আগে
  2. মামলা দায়েরের সময়
  3. মামলা দায়েরের পরে
  4. রায়ের আগে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়:
১. চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর অধীনে নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রিকৃত) হতে হবে।
২. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হবে।
এই ধারা অনুযায়ী, বিক্রয় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হয়।

- অর্থাৎ, যখন বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়, তখনই অবশিষ্ট মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে। এটি চুক্তি সম্পাদনের সময়, রায় ঘোষণার সময় বা বিচার্য বিষয় গঠনের সময় জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: খ) মামলা দায়েরের সময়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
১,০২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে যেক্ষেত্রে বাদি শুধু স্বত্বের ঘোষণা ছাড়াও আনুষঙ্গিক প্রতিকার প্রার্থনা করতে সক্ষম সেক্ষেত্রে এমন আনুষঙ্গিক প্রতিকার প্রার্থনা করা-
  1. নির্দেশনামূলক 
  2. বাধ্যতামূলক 
  3. আদেশমূলক
  4. বিবেচনামূলক 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২, মর্যাদা বা অধিকার ঘোষণা সম্পর্কে আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা: কোনো আইনগত পরিচয় অথবা কোনো সম্পত্তির অধিকারী কোনো ব্যক্তি, যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন যিনি এইরূপ পরিচয় বা অধিকারের বিষয়ে তাহার স্বত্ব অস্বীকার করেন অথবা অস্বীকার করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, এবং আদালত উহার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে ঘোষণা করিতে পারিবে যে, তাহার এইরূপ অধিকার রহিয়াছে এবং এইরূপ মামলায় বাদির আর কোনো প্রতিকার দাবি করিবার প্রয়োজন নাই।
এইরূপ ঘোষণার প্রতিবন্ধকতা: তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে বাদি শুধু স্বত্বের ঘোষণা ছাড়া আরও প্রতিকার পাইতে সমর্থ অথচ উহা চাওয়া হইতে বিরত রহিয়াছেন, সেক্ষেত্রে আদালত ঐরূপ কোনো ঘোষণা প্রদান করিবে না।
---------------------
Specific Relief Act, Section 42: Discretion of Court as to declaration of status or right: Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Bar to such declaration: Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.

১,০২৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুসারে ঘোষণামূলক মামলায় আদালতের ভূমিকা কী?
  1. চুক্তি সংশোধন করা
  2. ক্ষতিপূরণ প্রদান করা
  3. সম্পত্তির দখল উদ্ধার করা
  4. আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির স্বত্ব ঘোষণা করা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, ঘোষণামূলক মামলায় আদালত আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির স্বত্ব ঘোষণা করেন। যদি কোনো ব্যক্তি তার আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির অধিকার অস্বীকার করা হয়, আদালত সে সম্পর্কে একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করতে পারে, যার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
- ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
১,০২৫.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য চুক্তির পক্ষের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির অধিকার কখন প্রযোজ্য হবে না?
  1. যখন চুক্তিটি সম্পূর্ণ মৌখিক
  2. যখন প্রতিনিধি আদালতের অনুমোদন না পায়
  3. যখন প্রতিনিধি নিজেই নতুন চুক্তি সম্পাদন করতে ইচ্ছুক
  4. যখন চুক্তিতে এমন বিধান থাকে যে, স্বার্থ অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) যখন চুক্তিতে এমন বিধান থাকে যে, স্বার্থ অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩(খ) ধারার অধীনে, সাধারণত চুক্তির পক্ষের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের অধিকার পেতে পারেন। তবে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত থাকলে এই অধিকার প্রযোজ্য হবে না—
১) যদি চুক্তির কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয় ব্যক্তিগত দক্ষতা, solvency বা ব্যক্তিগত গুণাগুণ
২) যদি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, এর অধিকার বা স্বার্থ অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি একজন চিত্রশিল্পীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট একটি চিত্রকর্ম আঁকার চুক্তি করে, তবে শিল্পীর উত্তরাধিকারী বা প্রতিনিধি সেই চুক্তি কার্যকর করতে পারবে না, কারণ চুক্তির মূল উপাদান হলো শিল্পীর ব্যক্তিগত দক্ষতা।
- তদ্রূপ, যদি কোনো চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, এই চুক্তি হস্তান্তরযোগ্য নয়, তবে চুক্তির পক্ষের প্রতিনিধি সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের দাবি করতে পারবেন না।
⇒ অর্থাৎ চুক্তিতে যদি স্পষ্টভাবে বলা থাকে যে, এর স্বার্থ বা অধিকার অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না, তাহলে চুক্তির পক্ষের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের অধিকার পাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যে পেতে পারে:
এই অধ্যায়ে ভিন্নরূপ বিধিবদ্ধ না থাকলে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন পেতে পারে-
ক) চুক্তির যেকোনো পক্ষ;
খ) চুক্তির যেকোনো পক্ষের বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি; শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে তেমন পক্ষের শিক্ষা, দক্ষতা, সচ্ছলতা বা কোন ব্যক্তিগত গুণাগুণ চুক্তির উল্লেখযােগ্য উপাদান হয় বা যেক্ষেত্রে চুক্তিতে বিধান থাকে যে, তার স্বার্থের স্বত্ব নিয়ােগ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি বা তার প্রধান চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের অধিকারী হবেন না, যদি না চুক্তিতে তার অংশ ইতঃপূর্বেই সম্পাদিত থাকে।
গ) যেক্ষেত্রে চুক্তি হচ্ছে একটি বিবাহের ব্যাপারে নিষ্পত্তি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সন্দেহপূর্ণ অধিকারের আপােষ-মীমাংসা, সেক্ষেত্রে চুক্তি অনুসারে হিতকরভাবে অধিকারী যেকোনো ব্যক্তি;
ঘ) যেক্ষেত্রে একজন আজীবন প্রজা তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়ােগপূর্বক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ব্যক্তি;
ঙ) যেক্ষেত্রে চুক্তিপত্র এমন যা সম্পন্ন করা হয়েছিল তার পূর্বাধিকার সাথে ও যেক্ষেত্রে তেমন চুক্তিপত্রের লাভ উত্তরাধিকারী পাওয়ার অধিকারী, সেক্ষেত্রে অধিকার ভােগের উত্তরাধিকারী;
চ) যেক্ষেত্রে চুক্তি হচ্ছে এমন উত্তরাধিকারী যা থেকে সৃষ্ট মুনাফা লাভের অধিকারী ও তা ভঙ্গহেতু আর্থিক ক্ষতি ভােগ করবে, সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ভাগের উত্তরাধিকারী;
ছ) যেক্ষেত্রে পাবলিক কোম্পানি চুক্তি করে ও তার পর পরই তা অপর একটি পাবলিক কোম্পানির সাথে মিলিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে মিলিত হওয়ার কারণে গঠিত নূতন কোম্পানি;
জ) যেক্ষেত্রে একটি পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিগণ কোম্পানি গঠিত হওয়ার আগেই কোম্পানির প্রয়োজনবশত: চুক্তি করে এবং কোম্পানি গঠনের শর্তাবলিতে তেমন চুক্তিকে নির্বিঘ্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে কোম্পানি।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section- 23. Who may obtain specific performance:
Except as otherwise provided by this Chapter, the specific performance of a contract may be obtained by-
(a) any party thereto;
(b) the representative in interest, or the principal, of any party thereto: provided that, where the learning, skill, solvency or any personal quality of such party is a material ingredient in the contract, or where the contract provides that his interest shall not be assigned, his representative in interest or his principal shall not be entitled to specific performance of the contract, unless where his part thereof has already been performed;
(c) where the contract is a settlement on marriage, or a compromise of doubtful rights between members of the same family, any person beneficially entitled thereunder;
(d) where the contract has been entered into by a tenant for life in due exercise of a power, the remainderman;
(e) a reversioner in possession, where the agreement is a covenant entered into with his predecessor in title and the reversioner is entitled to the benefit of such covenant;
(f) a reversioner in remainder, where the agreement is such a covenant, and the reversioner is entitled to the benefit thereof and will sustain material injury by reason of its breach;
(g) when a public company has entered into a contract and subsequently becomes amalgamated with another public company, the new company which arises out of the amalgamation;
(h) when the promoters of a public company have, before its incorporation, entered into a contract for the purposes of the company, and such contract is warranted by the terms of the incorporation, the company.
১,০২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা "ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার" সম্পর্কে বিধান করে?
  1. ধারা ১৬
  2. ধারা ১৭
  3. ধারা ১৮
  4. ধারা ১৯
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ১৮-এর শিরোনামই হলো "ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার" (Purchaser's rights against vendor with imperfect title)। এই ধারা অনুসারে, যখন কোনো বিক্রেতা বা ইজারাদাতার সম্পত্তিতে ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব (imperfect title) থাকে, তখন ক্রেতা বা ইজারাদারের নিম্নলিখিত অধিকারগুলো রয়েছে:
- বিক্রেতা পরবর্তীতে কোনো স্বত্ব অর্জন করলে তাকে তা হস্তান্তর করতে বাধ্য করা
- অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হলে তা সংগ্রহ করতে বাধ্য করা
- বন্ধকযুক্ত সম্পত্তি বন্ধকমুক্ত করতে বাধ্য করা
- মামলা খারিজ হলে জমাকৃত অর্থ ও খরচ ফেরত পাওয়া
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ধারা ১৮।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার বিধান: ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার:
- যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যাতে তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্রদান করা হয়) নিম্নোক্ত অধিকার রয়েছে:
(ক) যদি বিক্রেতা অথবা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পরপরই সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব অর্জন করে, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারে;
(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারে;
(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং কার্যত বিক্রেতার শুধু তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারে;
(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করে এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাবার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।
-------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 18. Purchaser's rights against vendor with imperfect title:
Where a person contracts to sell or let certain property, having only an imperfect title thereto, the purchaser or lessee (except as otherwise provide by this Chapter) has the following rights:- 
(a) if the vendor or lessor has subsequently to the sale or lease acquired any interest in the property, the purchaser or lessee may compel him to make good the contract out of such interest; 
(b) where the concurrence of other persons is necessary to validate the title, and they are bound to convey at the vendor's or lessor's request, the purchaser or lessee may compel him to procure such concurrence; 
(c) where the vendor professes to sell unincumbered property, but the property is mortgaged for an amount not exceeding the purchase-money, and the vendor has in fact only a right to redeem it, the purchaser may compel him to redeem the mortgage and to obtain a conveyance from the mortgagee ; 
(d) where the vendor or lessor sues for specific performance of the contract, and the suit is dismissed on the ground of his imperfect title, the defendant has a right to a return of his deposit (if any) with interest thereon, to his costs of the suit, and to a lien for such deposit, interest and costs on the interest of the vendor or lessor in the property agreed to be sold or let.

১,০২৭.
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি গাড়ি দশ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন 'খ' বাস এক্সিডেন্টে মারা গেল।
  1. উক্ত চুক্তি বাতিল হবে
  2. 'খ' এর প্রতিনি 'ক' এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে
  3. 'খ' এর প্রতিনিধিকে চুক্তির অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না
  4. 'খ'-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী,
এক্ষেত্রে 'খ'-এর প্রতিনিধিকে (উত্তরাধিকারী/ব্যবস্থাপক) চুক্তিমোতাবেক বাকি অর্থ প্রদানে বাধ্য করা যেতে পারে। কারণ এখানে:
১. চুক্তির প্রধান বিষয়বস্তু অর্থাৎ গাড়ি বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি। শুধু ক্রেতার মৃত্যু ঘটেছে।
২. 'খ'-এর প্রতিনিধি থাকায় চুক্তির বাস্তবায়ন সম্ভব।

১৩ ধারা- যে চুক্তির বিষয়বস্তুর আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে-
চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

সুতরাং আইনগতভাবে, 'ক' আদালতের নির্দেশক্রমে 'খ'-এর প্রতিনিধিকে চুক্তিমোতাবেক অর্থ পরিশোধে বাধ্য করতে পারবেন। শুধু 'খ'-এর মৃত্যুর কারণে চুক্তিটি বাতিল হবে না।
১,০২৮.
দলিল সংশোধনের তামাদির মেয়াদ কত দিন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৯৫ ও ৯৬ অনুযায়ী দলিল সংশোধনের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
অর্থাৎ দলিল সংশোধনের মোকদ্দমা দায়েরের সময়সীমা ৩ বৎসর। যে দিন হতে বাদী দলিলের ভুল বা প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে সেদিন থেকে তামাদির মেয়াদ (৩ বছর) গণনা শুরু হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান মতে দলিল সংশোধনের আদেশ দেওয়া যায় যখন প্রতারণা বা পারস্পরিক বা উভয়পক্ষের ভুলের কারণে যদি দলিলের পক্ষদের সঠিক অভিপ্রায় প্রকাশ না পায়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান; যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয় ।
⇒  সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের দলিল সংশোধন করা যায়।
i) লিখিত দলিল ও ii) লিখিত চুক্তি
⇒  ৩ কারনে দলিল সংশোধন করা যায়
(১) দলিলের কোন পক্ষ প্রতারনা করলে
(২) উভয় পক্ষে ভুল
(৩) দলিলের উদ্দেশ্য ব্যক্ত হইলে,

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে  বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে। দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power).  চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
১,০২৯.
কোন চুক্তি আইনসংগত হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত চুক্তিটি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে?
  1. ১৯ ধারা
  2. ২১ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদির প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা hardship সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরনের কোন কঠোরতায় জড়াবে না,
সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
--------------------------------
SR Act Section-22. Discretion as to decreeing specific performance:
-The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
১,০৩০.
'কেবলমাত্র ভুলের জন্য লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ৩৭ ধারায়
  2. ৩৬ ধারায়
  3. ৩৯ ধারায়
  4. ৩৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ:
কেবলমাত্র ভুলের জন্য বিচারপূর্বক লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না, যদি না যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হচ্ছে সে পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে একই মর্যাদায় পুনরুদ্ধার করা যায়, যেন কখনও চুক্তিই করা হয় নাই।

Section-36: Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.
১,০৩১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) কোন শ্রেণির আইনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. Penal Law
  2. Adjective Law
  3. Procedural Law
  4. Substantive Law
ব্যাখ্যা

→ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) তত্ত্বগত বা মৌলিক আইনের (Substantive Law) অন্তর্ভুক্ত।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act, 1877) হলো Substantive Law, কারণ এটি অধিকার সংজ্ঞায়িত করে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত কী প্রতিকার প্রদান করতে পারে তা নির্ধারণ করে। Substantive Law: যে আইন কোনো অধিকার সৃষ্টি, সংজ্ঞায়িত বা অর্পণ করে এবং কোনো অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে, তাকে Substantive Law (তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন) বলে।

কেন "Specific Relief Act" Substantive Law?
- এটি অধিকার সুরক্ষার জন্য আদালত কর্তৃক দেওয়া প্রতিকার (Relief) নির্ধারণ করে।
- এটি কোনো মামলা পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণ করে না (যা Procedural Law করে)।
- এটি কোনো অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে না (যা Penal Law করে)।
Procedural Law বা Adjective Law মূলত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে, কিন্তু Specific Relief Act সরাসরি অধিকার সংজ্ঞায়িত করে, যা Substantive Law-এর বৈশিষ্ট্য।
- যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে।
- যেমন ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।
- Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

১,০৩২.
আদালতের ডিক্রির কপি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করতে হয় একটি
  1. লিখিত দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে
  2. লিখিত দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে
  3. চুক্তি রদের ক্ষেত্রে
  4. সম্পত্তি স্বত্ব ঘোষনার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877, ধারা 39 অনুযায়ী দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত দলিলটি বাতিল মর্মে রায়ের সাথে সাথে দলিলটি আদালতে অর্পণেরও আদেশ দিয়ে থাকেন। দলিলটি The Registration Act, 1908 এর অধীনে রেজিস্ট্রি হয়ে থাকলে যে অফিসে এটি রেজিস্ট্রি হয়েছে সে অফিসে (রেজিস্ট্রি অফিসে) রায়ের একটি কপি প্রেরণ করবেন যেন সংশ্লিষ্ট অফিসার উক্ত দলিলের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

♦The Specific Relief Act, 1877, ৩৯  ধারাটি হলঃ যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদান করাযেতে পারেঃ যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তবে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসেবে ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
♦যদি দলিল রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সেই অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং তেমন অফিসার তার বইতে দলিলের নকলে উহার বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
১,০৩৩.
'ক' আদালতে এই মর্মে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে যে, সে 'খ' এর ছেলে। আদালত 'ক' এর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে 'ক' কে ডিক্রি জারির আবেদন-
  1. করার প্রয়োজন নেই
  2. দেওয়ানি আদালতে করতে হবে
  3. পারিবারিক আদালতে করতে হবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে, তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

এই ক্ষেত্রে 'ক' কে ডিক্রি জারির আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কারণ শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমেই ডিক্রিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দখল উদ্ধার, বাটোয়ারা এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির আবেদন দায়ের করতে হয়।
১,০৩৪.
‘ক’ ‘খ’-এর কাছে একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্তে এবং ভাড়ায় ভাড়া প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' চুক্তির কার্যসম্পাদনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। 'ক' ইহার পর 'খ'-এর চুক্তি অমান্যের ক্ষতিপূরণের জন্য মােকদ্দমা রুজু করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে
  2. 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে না
  3. 'ক' ক্ষতিপূরণ 'খ' কে ফেরত দিবে
  4. ক্ষতিপূরণের মােকদ্দমার রায় বাতিল হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ২৪- প্রতিকারের পথে ব্যক্তি বাধাসমূহ: চুক্তির সুনির্দিষ্ট এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
ক) যে চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
খ) যে নিজ চুক্তির কোন প্রয়ােজনীয় শর্ত অমান্য করে বা শর্ত পালনে ব্যর্থ হয় এবং যদ্বরুণ তার নিজের অংশেরই কার্যসম্পাদন বাকী থাকে;
গ) যে ইতিমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।

উপধারা-গ এর-
‘ক’ ‘খ’-এর কাছে একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্তে এবং ভাড়ায় ভাড়া প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' চুক্তির কার্যসম্পাদনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। 'ক' ইহার পর 'খ'-এর চুক্তি অমান্যের ক্ষতিপূরণের জন্য মােকদ্দমা রুজু করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে না।
১,০৩৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার অধীনে দায়েরকৃত মামলার বিরুদ্ধে কোনটি করা যাবে?
  1. আপিল
  2. পুনর্বিবেচনা
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান- স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:

যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
১,০৩৬.
‘ক’, ‘খ’-এর নিকট বাড়ি ও বাগানসহ একটি সম্পত্তি বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। পরে দেখা যায়, ‘ক’ শুধুমাত্র বাড়ি হস্তান্তর করতে পারবে, বাগান নয়। এই পরিস্থিতিতে 'খ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পেতে পারে?
  1. ১৪
  2. ১৫
  3. ১৬
  4. ১৯
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারার বিধান চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন, যে ক্ষেত্রে অংশবিশেষ সম্পাদিত অংশ বড়:
- যেখানে চুক্তিবদ্ধ একটি পক্ষ চুক্তিতে তার অংশের সম্পূর্ণ কার্যসম্পাদন করতে ব্যর্থ হয় এবং অসম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত অংশ সম্পূর্ণ কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয় কিংবা আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট না হয়; তাহা হলে সে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য একটি ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী হবে না। কিন্তু আদালত অপর পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে চুক্তিভঙ্গকারী পক্ষকে তার পক্ষে যতটুকু সম্পাদন করা সম্ভব চুক্তির ততটুকু অংশ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন, যদি বাদী পক্ষ আরও কার্যসম্পাদনের দাবি পরিত্যাগ করে এবং কাজে ত্রুটির জন্য অথবা প্রতিবাদী কর্তৃক চুক্তিভঙ্গের দরুন সাধিত ক্ষতির জন্য প্রাপ্য সকল ক্ষতিপূরণের অধিকার পরিহার করে।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট ১০০ বিঘার একটি জমি বিক্রয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় যে, মাত্র ৫০ বিঘা জমি ক-এর মালিকানাধীন রয়েছে এবং অন্য ৫০ বিঘার মালিক একজন অপরিচিত ব্যক্তি, যে তাদের সহিত অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। ক, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি পেতে না, কিন্তু যদি খ সম্মতিকৃত মূল্য প্রদানে ইচ্ছুক হয় এবং ক-এর অবহেলা বা চুক্তিভঙ্গের জন্য তাকে যে ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সকল অধিকার পরিত্যাগ করে ক-এর মালিকানাধীন ৫০ বিঘা জমি গ্রহণ করতে চায়, তবে খ ক্রয়মূল্য পরিশোধের প্রেক্ষিতে ৫০ বিঘা জমি তার নিকট হস্তান্তর করার জন্য ক-এর নির্দেশ-সম্বলিত ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী।

(খ) ক, ১ লক্ষ টাকায় বাড়ি ও বাগানসহ একটি সম্পত্তি খ-এর নিকট বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বাড়ির ব্যবহার বা উপভোগের জন্য বাগানটি গুরুত্বপূর্ণ। পরে দেখা যায় যে, বাগান হস্তান্তর করতে সক্ষম নয়। ক, খ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ডিক্রি পেতে পারে না; কিন্তু যদি খ সম্মতিকৃত মূল্য প্রদানে ইচ্ছুক হয় এবং ক-এর অবহেলা বা ত্রুটির জন্য তাকে যে ক্ষতি বহন হবে অথবা যে অভাব বোধ করতে হবে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সকল অধিকার পরিত্যাগ করে বাগান ছাড়াই বাড়ি এবং সম্পত্তি গ্রহণ করতে সম্মত হয় তবে খ ক্রয়মূল্য পরিশোধের প্রেক্ষিতে বাড়ি এবং সম্পত্তি তার নিকট হস্তান্তর করার জন্য কএর প্রতি নির্দেশ-সম্বলিত ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী।
--------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 15. Specific performance of part of contract where part unperformed is large
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant. 

Illustrations:
(a) A contacts to sell to B a piece of land consisting of 100 bighas. It turns out that 50 bighas of the land belong to A, and the other 50 bighas to a stranger, who refuses to part with them. A cannot obtain a decree against B for the specific performance of the contract; but if B is willing to pay the price agreed upon, and to take the 50 bighas which belong to A, waiving all right to compensation either for the deficiency or for loss sustained by him through A's neglect or default, B is entitled to a decree directing A to convey those 50 bighas to him on payment of the purchase-money. 
(b) A contracts to sell to B an estate with a house and garden for a lakh of taka. The garden is important for the enjoyment of the house. It turns out that A is unable to convey the garden. A cannot obtain a decree against B for the specific performance of the contract, but if B is willing to pay the price agreed upon, and to take the estate and house without the garden, waiving all right to compensation either for the deficiency or for loss sustained by him through A's neglect or default, B is entitled to a decree directing A to convey the house to him on payment of the purchase-money.

১,০৩৭.
আবশ্যকীয় সম্পূরক প্রতিকার না চাইলে The Specific Relief Act, 1877 কোন ধারার মামলা ব্যর্থ হয়? 
  1. ৩৯ ধারা 
  2. ৪২ ধারা
  3. ৪৩ ধারা 
  4. ৪৪ ধারা
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা, মর্যাদা বা অধিকার ঘোষণা সম্পর্কে আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা- কোনো আইনগত পরিচয় অথবা কোনো সম্পত্তির অধিকারী কোনো ব্যক্তি, যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন যিনি এইরূপ পরিচয় বা অধিকারের বিষয়ে তাহার স্বত্ব অস্বীকার করেন অথবা অস্বীকার করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, এবং আদালত উহার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে ঘোষণা করিতে পারিবে যে, তাহার এইরূপ অধিকার রহিয়াছে এবং এইরূপ মামলায় বাদির আর কোনো প্রতিকার দাবি করিবার প্রয়োজন নাই।

এইরূপ ঘোষণার প্রতিবন্ধকতা- তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে বাদি শুধু স্বত্বের ঘোষণা ছাড়া আরও প্রতিকার পাইতে সমর্থ অথচ উহা চাওয়া হইতে বিরত রহিয়াছেন, সেক্ষেত্রে আদালত ঐইরূপ কোনো ঘোষণা প্রদান করিবে না

ব্যাখ্যা- যেমন, যেক্ষেত্রে বাদী সম্পত্তির দখলে নেই, সেক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তিতে মালিকানা ঘোষণার মোকদ্দমায় দখল হলো আবশ্যকীয় সম্পূরক প্রতিকার। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে দখল চাওয়া বাধ্যতামূলক এবং দখল না চাইলে শুধুমাত্র ঘোষণার মোকদ্দমা রক্ষণীয় না।
ঘোষণামূলক ডিক্রি
----------------
Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration: Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:

Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.

Explanation A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.

১,০৩৮.
কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
  1. ১২ ধারায়
  2. ৩২ ধারায়
  3. ২২ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
 
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।ঃ
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 
⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
১,০৩৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার বিধান 'দণ্ডমূলক আইন বলবৎ করার উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় না'?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৭ এ বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র দণ্ডমূলক আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
- অর্থাৎ, এই ধারার অধীনে কোনও ব্যক্তি শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রতিকার দাবি করতে পারবে না।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মূলত তখনই প্রদান করা হয় যখন কোনও ব্যক্তি তার নির্দিষ্ট অধিকার বা সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেন, তবে দণ্ডমূলক শাস্তি আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারার বিধান-
দণ্ডমূলক আইন বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 7. Relief not granted to enforce penal law:
-Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a penal law.

১,০৪০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের আইন?
  1. Adjective Law
  2. Procedural Law
  3. Penal law
  4. Substantive Law
ব্যাখ্যা
-যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে।
-যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।

- যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলে।
- যেমন ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।
- Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
১,০৪১.
রিসিভার নিয়োগ, তার অধিকার এবং কর্তব্য কোন আইনের বিধান অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে?
  1. ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮
  2. দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮
  3. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
ব্যাখ্যা
⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে।
-অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন।  রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধানতত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:-প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়-দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
-----------------
⇒  Section 44 Appointment of receivers discretionary:  The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court. 
Reference to Code of Civil Procedure: The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure. 
১,০৪২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা যায় না?
  1. যে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে না
  2. যে চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গ করে
  3. যে চুক্তিভঙ্গের জন্য ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে
  4. সবকটি 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা,২৪: প্রতিকারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা।- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যিনি চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করিতে পারেন না;
(খ) যিনি নিজের পক্ষের চুক্তির কোনো প্রয়োজনীয় শর্ত পালন করিতে অসমর্থ হন বা শর্ত-ভঙ্গ করেন যাহাতে তাহার নিজের অংশেরই কার্য সম্পাদন বাকি থাকে;
(গ) যিনি ইতোমধ্যে তাহার প্রতিকার পচ্ছন্দ করিয়াছেন এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণ পাইয়াছেন; অথবা
(ঘ) যিনি চুক্তির পূর্বেই অবগত ছিলেন যে, চুক্তির বিষয়বস্তু (যদিও উহা কোনো মূল্যবান পণভিত্তিক নহে) সম্পর্কে বন্দোবস্ত করা হইয়াছে এবং উহা তখন কার্যকর ছিল।
---------------
Section 24, Personal bars to the relief: Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was.

১,০৪৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ভুল বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
  1. পারস্পরিক ভুল
  2. দলিল প্রস্তুত করতে ভুল
  3. দ্বিপক্ষীয় ভুল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ৩টি কারনে দলিল সংশোধন করা যায়।
যথা-
- পারস্পরিক ভুল,
- দলিল প্রস্তুত করতে ভুল,
- দ্বিপক্ষীয় ভুল।

• দলিল সংশোধন করতে হলে উক্ত ৩টি বিষয়ের যে কোন ১টি বিষয় ভুল থাকতে হবে।
১,০৪৪.
'Solatium' অর্থ কী?
  1. অর্থদণ্ড
  2. ক্ষতিপূরণ
  3. জরিমানা
  4. কোর্ট ফি
ব্যাখ্যা
Solatium শব্দটির অর্থ হল ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারস্বরূপ প্রদত্ত অর্থ। আইনগত অর্থে, solatium হল একটি অর্থপ্রদান যা আদালত কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে মানসিক যন্ত্রণা, দুঃখ-কষ্ট বা অসুবিধার জন্য প্রতিকারস্বরূপ মঞ্জুর করে থাকে। এটি শারীরিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সুতরাং, solatium হল বিচারিক ক্ষমতার আওতায় প্রদত্ত এক ধরণের আর্থিক প্রতিকার যা অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত হিসাবে মানসিক যন্ত্রণা ও দুঃখ-কষ্টের প্রতিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২২ ধারায় আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) প্রদান করতে পারবে।
১,০৪৫.
বর্তমানে বলবৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কত সালের?
  1. ১৮৭০ সালের
  2. ১৮৭৭ সালের
  3. ১৮৮৭ সালের
  4. ১৭৮৭ সালের
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কিছু তথ্য:

প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭; (১নং আইন)
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ প্রস্তাবনা: ১টি;
⇒ খন্ড: ৩টি;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।
১,০৪৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারায় কোন ধারাগুলোর অধীনে চুক্তির আংশিক কার্যসম্পাদন সম্ভব?
  1. ধারা ১০, ১১, ১২
  2. ধারা ১৪, ১৫, ১৬
  3. ধারা ১৭, ১৮, ১৯
  4. ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে,
এই ধারার পূর্ববর্তী তিনটি ধারা (ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬) ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ প্রদান করবেন না।

✓ সুতরাং, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র ১৪, ১৫, ১৬ ধারার অধীন চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদন সম্ভব।

Section 17- Bar in other cases of specific performance of part of contract:
The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.
১,০৪৭.
'অনিল ও রাজু একটি জমি বিক্রয়ের চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই সেই জমি নদী ভাংগনের দরুন বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়।'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিধানের সাথে উক্ত ঘটনা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৬ ধারা
  3. ২১ ধারা
  4. ১৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)-

চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে; অথবা
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
১,০৪৮.
The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৩৬ কোন ধরনের চুক্তির জন্য প্রযোজ্য?
  1. মৌখিক চুক্তি
  2. লিখিত চুক্তি
  3. মৌখিক ও লিখিত উভয় চুক্তি
  4. কেবলমাত্র জিম্মা চুক্তি
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ:
কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিল করা হবে তাকে অনুরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় যেন চুক্তি করা হয়নি।

Section 36: Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.

১,০৪৯.
একটি বিক্রয় চুক্তিতে জমির ৯ কাঠা হস্তান্তর সম্ভব, কিন্তু বাকি ১ কাঠা হস্তান্তর সম্ভব নয়। ওই ১ কাঠার মূল্য অর্থের মাধ্যমে নির্ধারণযোগ্য। আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
  1. পুরো চুক্তি বাতিল
  2. শুধু ৯ কাঠা হস্তান্তর
  3. শুধু ১ কাঠা হস্তান্তর
  4. পুরো চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন
ব্যাখ্যা

এটি The Specific Relief Act, 1877–এর ধারা ১৪–এর সরাসরি প্রয়োগ।

ধারা ১৪ অনুযায়ী- 
যদি চুক্তির দুটি অংশ থাকে (একটি বৃহত্তর, একটি ক্ষুদ্রতর), এবং বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য হয়, আর ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়, তবে আদালত বৃহত্তর অংশটির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন আদেশ দিতে পারে এবং ক্ষুদ্রতর অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারে।

এখানে-
৯ কাঠা = বৃহত্তর অংশ (হস্তান্তর সম্ভব);
১ কাঠা = ক্ষুদ্রতর অংশ (হস্তান্তর অসম্ভব কিন্তু ক্ষতিপূরণযোগ্য)।

তাই আদালত ৯ কাঠা জমি হস্তান্তরের আদেশ দেবে (এবং ১ কাঠার জন্য ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারে)।

১,০৫০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের-
  1. অবশ্যই পক্ষ থাকতে হবে
  2. একজন সাক্ষী হতে হবে
  3. পক্ষ থাকার প্রয়োজন নাই
  4. পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে থাকতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের প্রতিকার শুধুমাত্র দলিলের পক্ষসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। অর্থাৎ একমাত্র দলিলের পক্ষরা যে দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবে তা না বরং যেকোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সে দলিলটি বাতিলের জন্য ৩৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
১. দলিলের পক্ষ
২. যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা
৩. যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই বরং সে যদি প্রমাণ করতে পারে যে বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিলটির কারণে সে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাহলে সে মামলা দায়েরের অধিকারী।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার বিধান যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদানযোগ্য: – যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

⇒ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য হলে এবং তা গুরুতর ক্ষতির কারণ হলে, উক্ত দলিল বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। সুতরাং দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
১,০৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতার বিধান রয়েছে?
  1. ১৮
  2. ১৯
  3. ২০
  4. ২১
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
-------------------
The Specific Relief Act, 1877, Section 19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly.
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct.
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.
১,০৫২.
ঘোষণামূলক ডিক্রি কাদের উপর বাধ্যকর হবে?
  1. মোকদ্দমার পক্ষগণের
  2. পক্ষগণের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণের
  3. পক্ষগণ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল:
এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।

অর্থাৎ ঘোষণামূলক ডিক্রি শুধুমাত্র মোকদ্দমার পক্ষগণ বা তাদের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণের উপর বাধ্যকর হবে, কিন্তু এই ঘোষণা অন্য কারো ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন তৃতীয় পক্ষের উপর বাধ্যকর হবে না।

Section 43: Effect of declaration:
A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

Illustration:
A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

১,০৫৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারার মামলার ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হবে-
  1. শুধু দখল
  2. শুধু স্বত্ব
  3. দখল এবং স্বত্ব
  4. সম্পত্তি হতে আইনগত পন্থা ছাড়া বেদখল
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে।

- ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
- ৮ ধারার অধীন দেখাতে হবে সম্পত্তিতে স্বত্ব আছে এবং তা চুক্তিবলে হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে হোক বা দখলি স্বত্ব হোক এবং এমন স্বত্বের কারণে দখলের অধিকারী।

Section 8- Recovery of specific immoveable property:
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.
১,০৫৪.
The Specific Relief Act, 1877 এর ২২ ধারায় বিধান মতে কয়টি বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় আদালত Solatium এর আদেশ দিতে পারেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
♦Solatium অর্থ হলো সান্ত্বনাপ্রদ ক্ষতিপূরণ। সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি প্রমাণিত হলেও বিক্রেতার কাষ্টলাঘবের জন্য ক্রেতাকে সান্ত্বনাপ্রদ ক্ষতিপূরণ প্রদানে চুক্তি বলবৎ অগ্রাহ্য করা যায়।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং  যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা [hardship] সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২২ ধারার অধীন ২টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে আদালত ক্ষতিপূরণ |solatium] প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে যথা:
(১) যেক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং
(২) যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলববরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না।
১,০৫৫.
'ক' এক মামলায় 'গ' কে নিজের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। আদালত 'গ' কে 'ক' এর স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে 'চ' নামক এক ব্যক্তি দাবি করেন যে, 'গ' তার স্ত্রী এবং তিনি 'ক' এর বিরুদ্ধে 'গ' কে ফিরিয়ে আনার জন্য মামলা করে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী রায়-
  1. বাতিল হবে
  2. স্থগিত থাকবে
  3. 'চ' এর উপর কার্যকর হবে
  4. 'চ' এর উপর কার্যকর হবে না
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল:
এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে আদালত যে কোনো ঘোষণামূলক রায় প্রদান করবে, তা কার উপর বাধ্যকর হবে সে সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। এ রায় বাধ্যকর হবে:
১. মামলার পক্ষদের উপর;
২. পক্ষদের দাবিদারদের উপর (যারা পক্ষদের মাধ্যমে দাবি করছে);
৩. যদি কোনো পক্ষ ট্রাস্টি হন, তাহলে সেই ট্রাস্টিদের অধীনে যারা আছেন, তাদের উপর (যদি তারা ঘোষণার সময় বর্তমান থাকতেন);
অর্থাৎ ঘোষণামূলক রায়টি মামলার অন্তর্গত সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বাধ্যকর হবে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের উপর এই রায় বাধ্যকর হবে না।

এক্ষেত্রে,
'ক' ও 'গ' এর মামলার রায় চ'র উপর বাধ্যকর নয়। কারণ 'চ' সেই মামলার পক্ষ ছিলেন না। সুতরাং তার দাবি আদালতে নতুন করে বিচার করা হবে এবং পূর্বের রায় তার উপর প্রযোজ্য হবে না।
১,০৫৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমার বিধান আছে?
  1. ৩২ ধারায়
  2. ৪২ ধারায়
  3. ৩৮ ধারায়
  4. ৩৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
 
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।ঃ
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 
⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
১,০৫৭.
“Rectification of Instruments”- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৩১–৩৪
  2. ধারা ৩৫–৩৮
  3. ধারা ৩৯-৪১
  4. ধারা ৪২–৪৩
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিষয়বস্তু (Subject matter of Specific Relief Act):
১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটি ১০টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ৫৭টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। 

অধ্যায়সমূহ:
⇒ সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Recovering possession of property)- ধারা (৮-১১);
⇒ চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন (Specific performance of contract)- ধারা (১২-৩০);
⇒ দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments)- ধারা (৩১-৩৪);
⇒ চুক্তি রদ (Rescission of a contract)- ধারা (৩৫-৩৮);
⇒ দলিল বাতিল (Cancellation of instrument)- ধারা (৩৯-৪১);
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree)- ধারা (৪২-৪৩);
⇒ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (Appointment of receiver)- ধারা ৪৪;
⇒ বিলুপ্ত (Omitted)- ধারা (৪৫-৫১);
⇒ সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা (Injunction generally)- ধারা (৫২-৫৩);
⇒ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunction)- ধারা (৫৪-৫৭)।

১,০৫৮.
মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে, আদালত-
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে
  3. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা জারি করবে
  4. নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকৃতি জানাবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে, নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রনয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারী দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে;
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরন আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
১,০৫৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় কয়টি ব্যাখ্যা আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ১টি ব্যাখ্যা আছে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, যেখানে বাদী শুধু স্বত্বের ঘোষণা [Mere Declaration of Title ] ছাড়া আরও প্রতিকার [further relief] দাবি করতে পারতো, কিন্তু তা করা হতে বিরত থাকে, সেখানে আদালত তেমন ঘোষণা দিবে না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার বিধান: মর্যাদা কিংবা অধিকার ঘোষণা সম্পর্কে আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা:
আইনানুগ পরিচয় অথবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি এমন যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে যে, তেমন মর্যাদা বা অধিকারের ব্যাপারে তার স্বত্ব অস্বীকৃতি জ্ঞাপণ করেছে বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে ঘোষণা করতে পারেন যে, তার তেমন অধিকার রয়েছে এবং তেমন মামলায় আরও কোন প্রতিকার দাবি করা বাদীর জন্য আবশ্যক নয়।
 
- এরূপ ঘোষণার পথে প্রতিবদ্ধকতা: শর্ত থাকে যে, যেখানে দাবি কেবলমাত্র স্বত্বের ঘোষণা ব্যতীত আরও প্রতিকার দাবি করতে সমর্থ, কিন্তু তা করা হতে বিরত থাকে, সেখানে আদালত তেমন ঘোষণা প্রদান করবেন না।
 
ব্যাখ্যা: একটি সম্পত্তির জিম্মাদার এমন একটি স্বত্ব "অস্বীকার করিতে আগ্রহী ব্যক্তি”, যে জীবিত নয় এমন এক ব্যক্তির স্বত্বের প্রতিকূল এবং যদি সে বেঁচে থাকত, তবে সে তার জন্য একজন জিম্মাদার হত।
-----------------
SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.

Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
 
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
১,০৬০.
'No _________ shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any _______ of any order or decree be allowed'- The specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারা অনুসারে শূন্যস্থানে সন্নিবেশিত শব্দ দুইটি যথাক্রমে-
  1. revision, appeal
  2. appeal, review
  3. review, appeal
  4. revision, review
ব্যাখ্যা
⇒ Section 9 Suit by person dispossessed of immoveable property: If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit. 
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof. 
No suit under this section shall be brought against the Government. 

⇒ No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.

-----------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা: যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।

⇒  এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা: যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোন প্রয়োগযোগ্য নেই। আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।

ক) কোন সম্পত্তিতে জনসাধারণের যত ভাল স্বত্ব থাকে না কেন তাদেরকে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া হতে নিরুৎসাহ করাই এই ধারার লক্ষ্য।
খ) এই ধারায় ফরিয়াদীকে কোন স্বত্ব প্রদান করা হয়নি। আইনের মাধ্যম ছাড়া কেউ কাউকে সম্পত্তি হতে দখলচ্যুত করলে অধিকার বিচার না করে দখলচ্যুত ব্যক্তি বর্তমান ধারার মাধ্যমে দখল লাভ করতে পারে। শান্তিভঙ্গ রোধই এই ধারার অন্যতম লক্ষ্য।
গ) বর্তমান ধারার লক্ষ্য হল, বলপ্রয়োগ করে বেদখল নিরুৎসাহিত করা। এ ধারার শেষের অংশে কোন ডিক্রি অথবা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কিংবা পুনর্বিচারের প্রার্থনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধারার অধীন কোন পক্ষ ডিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি তার প্রতিকার চেয়ে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মামলা করতে পারেন কিংবা দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারার অধীনে হাইকোর্ট পুনর্বিচারের প্রার্থনা করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার নীতিঃ দখলদারই দখলে থাকবেন, এটিই সাধারণ নীতি। তবে যার স্বত্ব আছে কিন্তু দখল নেই, তিনি আইন হাতে তুলে নিয়ে বলপ্রয়োগ করে দখলদারকে দখলচ্যুত না করে বরং প্রচলিত আইনের বিধান মতে স্বত্বের মোকদ্দমা রুজুর মাধ্যমে দখলে আসতে পারেন। মূলত এটিই আলোচ্য আইনের প্রধান নীতি।

⇒ বেদখল বলতে কি বুঝ?
বেদখল অর্থ প্রকৃত উচ্ছেদ বা তাড়ানো অর্থাৎ যে ব্যক্তি প্রকৃত দখলে ছিল তাকে দখল থেকে উচ্ছেদ করাই হল বেদখল। একজন প্রজাকে ইজারার শেষে দখলে থাকা শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা যাবে।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৬ ধারার আওতায় হোল্ডিন ওভার বিশিষ্ট একজন প্রজা বা টেন্যান্টের দখল বৈধ। অবৈধ নয় এরূপ প্রজাকে বেদখল করলে ৯ ধারা অনুসারে তা পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারে। আইনের যথার্থ মাধ্যম অর্থ নিয়মিত, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা দ্বারা কোন কিছু সিদ্ধান্তের জন্য আদালতে উত্থাপন করা হয়।

⇒ বেদখল বাস্তবে হতে হবে, শুধুমাত্র কাগজপত্রে বেদখল হলে তাকে ৯ ধারা মোতাবেক বেদখল বলা যায় না। ৯ ধারার অধীন দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বেদখল অবশ্যই আইনের পরিপন্থি হতে হবে। পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তির ঘর বাড়ী বা সম্পত্তি থেকে আইনগত পদ্ধতিতে উচ্ছেদ হলে তাকে বেদখল বলা যায় না।
১,০৬১.
‘ক’ তার জমি ‘খ’-কে লিজ দেয়, এবং ‘খ’ সেখানে একটি স্থাপনা তৈরি করার কথা বলে। কিন্তু ‘খ’ সেখানে অন্য কাজে জমি ব্যবহার শুরু করলে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ‘ক’ কী করতে পারবে?
  1. শুধুমাত্র প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে
  2. ‘খ’-এর কাছ থেকে বাড়তি টাকা দাবি করতে পারবে
  3. ‘খ’-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারবে
  4. আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে।
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার অধীনে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction) তখনই দেওয়া হয় যখন কোনো পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং যার ফলে বাদীর আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ক্ষেত্রে, ‘ক’ তার জমি ‘খ’-কে লিজ দিয়েছে নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যে (স্থাপনা নির্মাণের জন্য), কিন্তু ‘খ’ সেই উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে জমিটি অন্য কাজে ব্যবহার করছে। এটি চুক্তির লঙ্ঘন, যা ‘ক’-এর অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
এমতাবস্থায়, ‘ক’ আদালতে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা করতে পারে, যাতে ‘খ’ চুক্তিভঙ্গ করে জমিটি অন্য কাজে ব্যবহার করতে না পারে এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।
(খ) একজন জিম্মাদার জিম্মা ভঙ্গের হুমকি প্রদান করে। তার সহ-জিম্মাদার যদি থেকে থাকে, অবশ্যই এবং উপকার লাভকারী মালিক চুক্তিভঙ্গ নিরোধের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
১,০৬২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করা যায়-
  1. স্বত্বের উপর ভিত্তি করে 
  2. দখলি স্বত্বের উপর ভিত্তি করে 
  3. শুধুমাত্র পূর্ববর্তী দখলের উপর ভিত্তি করে
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে
- ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
- ৮ ধারার অধীন দেখাতে হবে সম্পত্তিতে স্বত্ব আছে এবং তা চুক্তিবলে হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে হোক বা দখলি স্বত্ব হোক এবং এমন স্বত্বের কারণে দখলের অধিকারী।
---------------------------
Section 8- Recovery of specific immovable property: A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.

১,০৬৩.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মোকদ্দমার ________ মঞ্জুর করা যেতে পারে।
  1. শেষ পর্যায়ে
  2. প্রাথমিক পর্যায়ে
  3. সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে
  4. যে কোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারায় অস্থায়ী এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
⇒ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এমন নিষেধাজ্ঞা যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে।
এটা মোকদ্দমার যে কোনো পর্যায়ে মঞ্জুর করা যেতে পারে।
⇒ তবে এটা কিভাবে মঞ্জুর করা হবে, তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।
⇒ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মোকদ্দমার পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধীয় বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখা।
১,০৬৪.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৪ ধারায় কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার বিধান করা হয়েছে?
  1. অস্থায়ী
  2. চিরস্থায়ী
  3. বাধ্যতামূলক
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়ঃ এই অধ্যায়ের অন্তর্ভূক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন। মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেনঃ

(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;

(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
১,০৬৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭ অনুসারে, আদালত কোন ধারায় উল্লিখিত আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের আদেশ দিতে পারে?
  1. ১৪ ধারায়
  2. ১৫ ধারায়
  3. ১৬ ধারায়
  4. উল্লিখিত সব ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877)-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী, আদালত শুধুমাত্র ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-এ বর্ণিত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (specific performance of part of a contract) অনুমোদন করতে পারে।
- ধারা ১৭ এর মূল বক্তব্য: “The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.”
- অর্থাৎ: আদালত আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ করতে পারবে না, যদি না তা ধারা ১৪, ১৫ অথবা ১৬ এর অধীনে পড়ে।

ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬ সংক্ষেপে:
→ ধারা ১৪: যখন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট এবং টাকার দ্বারা ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। আদালত এটি কার্যকর করতে পারে।
→ ধারা ১৫: যখন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় এবং ক্রেতা সম্মত থাকে শুধু সম্পাদনযোগ্য অংশ গ্রহণ করতে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই — তখন আদালত বিক্রেতাকে বাধ্য করতে পারে।
→ ধারা ১৬: যখন চুক্তির অংশবিশেষ স্বতন্ত্র এবং আলাদাভাবে কার্যকরযোগ্য — তখন সেই অংশের কার্যকর আদেশ আদালত দিতে পারে।

→ অর্থাৎ ধারা ১৭ স্পষ্টভাবে বলে দেয়, আংশিক চুক্তির কার্যকর আদেশ কেবল ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-এর সীমায় আদালত দিতে পারে।
- এই তিনটি ধারাই আংশিক চুক্তির কার্যকর করার ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা বর্ণনা করে।
→ তাই সঠিক উত্তর: "ঘ) উল্লিখিত সব ধারায়"।
১,০৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯-এর বিধান কোন পক্ষের অধিকারকে প্রভাবিত করে?
  1. বিবাদীর অধিকারকে
  2. বাদীর অধিকারকে
  3. তৃতীয় পক্ষের অধিকারকে
  4. সকল পক্ষের অধিকারকে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২৯ সরাসরি বাদীর অধিকারকে প্রভাবিত করে। এই ধারা অনুসারে, যদি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে যায়, তবে বাদী ক্ষতিপূরণের জন্য আলাদা মামলা দায়ের করার অধিকার হারান।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.

১,০৬৭.
আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে কোন পরিস্থিতিতে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (Solatium) দিতে পারেন?
  1. যদি বাদী অন্যায় সুবিধা নেয় এবং চুক্তি বিবাদীর জন্য কঠোর হয়
  2. যদি চুক্তিটি রেজিস্ট্রিকৃত না হয়
  3. যদি বাদী আদালতে হাজির না হয়
  4. যদি বিবাদী চুক্তি মানতে রাজি না হয়
ব্যাখ্যা
⇒ আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদান করা আইনসম্মত হলেও এটি বাধ্যতামূলক নয়। আদালতের এই ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারী নয়, বরং তা যুক্তিসঙ্গত, ন্যায়সংগত এবং বিচারিক নীতির দ্বারা সীমাবদ্ধ। এছাড়া, এই ক্ষমতা আপিল আদালত দ্বারা পর্যালোচনা ও সংশোধনযোগ্য। ধারা ২২ অনুযায়ী, আদালত দুইটি বিশেষ ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ (solatium) প্রদানের আদেশ দিতে পারে। এই ক্ষেত্রগুলো হলো:
১.বাদীর দ্বারা বিবাদির প্রতি অন্যায় সুবিধা গ্রহণ:
যদি চুক্তিটি এমন পরিস্থিতিতে সম্পাদিত হয় যেখানে বাদী বিবাদির উপর অন্যায় সুবিধা অর্জন করে, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে। এমনকি যদি বাদীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতারণা বা ভুল তথ্য প্রদানের অভিযোগ না থাকে, তবুও আদালত এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
২.বিবাদির প্রতি কঠোরতা বা অসুবিধা সৃষ্টি:
যদি চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী কার্যসম্পাদন বিবাদির জন্য অযৌক্তিক কঠোরতা বা অসুবিধা সৃষ্টি করে, এবং বিবাদি এই কঠোরতা বা অসুবিধা সম্পর্কে সচেতন না থাকে, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে বাদীর জন্য তেমন কোনো কঠোরতা বা অসুবিধা সৃষ্টি হবে না।

এই দুই ক্ষেত্রে আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদির প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা hardship সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরনের কোন কঠোরতায় জড়াবে না,
সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-22: Discretion as to decreeing specific performance:
-The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
১,০৬৮.
কোনো চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় হলে, আদালত কখন সম্পাদনযোগ্য অংশ যতটুকু আছে তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন?
  1. বাদী ক্ষতিপূরণের দাবি পরিত্যাগ করলে
  2. বাদী অসম্পাদিত অংশ সম্পাদনের দাবি পরিত্যাগ করলে
  3. বিবাদী অসম্পাদিত অংশ সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জানালে
  4. ক এবং খ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুসারে,
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর অংশ এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটি পালন করতে সমর্থ না হয় কিংবা ঐ অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য না হয়, তাহলে ঐ পক্ষ চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি লাভের অধিকারী হবে না। তবে বাদী চুক্তির বৃহত্তর অংশ সম্পাদনের এবং ক্ষতিপূরণ লাভের সমস্ত অধিকার ত্যাগ করলে, আদালত বিবাদীকে ক্ষুদ্রতর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে।

Section 15- Specific performance of part of contract where part unperformed is large:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.
১,০৬৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার অধীনে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ধারাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ধারা ১০, ১১, ১২
  2. ধারা ১৪, ১৫, ১৬
  3. ধারা ১৮, ১৯, ২০
  4. ধারা ২১, ২২, ২৩
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান অনুযায়ী, আদালত সাধারণত চুক্তির অংশবিশেষের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের আদেশ প্রদান করবেন না, যদি না এটি ১৪, ১৫ বা ১৬ ধারার আওতায় আসে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে তার আংশিক বাস্তবায়ন আদালত দ্বারা বাধ্যতামূলক করা না হয়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭ মোতাবেক, ধারা ১৪,১৫,১৬ এই তিনটি ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান:
অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা:-
পূর্ববর্তী তিনটি (১৪,১৫,১৬) ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
--------------
⇒The Specific Relief Act, 1877 -Section 17. Bar in other cases of specific performance of part of the contract:
-The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.
১,০৭০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে কত ভাবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয়?
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার। অন্যদিকে ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)
- অর্থাৎ নিষেধাত্মক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫(ঘ) ধারার বিধান অনুযায়ী আদলত ক্ষতিপূরণ ব্যতীত অন্য কোনভাবে পক্ষসমূহের অধিকার নির্ধারণ এবং ঘোষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দিতে পারে।
-অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেনা। সুতরাং আর্থিক ক্ষতিপূরণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নয়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বা Preventive Relief এর সংজ্ঞা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) অনুচ্ছেদের অধীন যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় তাকে নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলে।
-অর্থাৎ যা না করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদানই হলো প্রতিরোধমূলক প্রতিকার।
⇒ সাধারণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদান করা হলেও সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার নয়। যেমন- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হলেও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) হল আদেশাত্মক প্রতিকার।
- অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা হলো নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।
----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.
১,০৭১.
স্থায়ীত্বের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আদেশ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ১ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• নিষেধাজ্ঞা হল একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম যেখানে কোন পক্ষকে নির্দিষ্ট কোন কাজ করা বা করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর, কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।

নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথা-
১/ স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা; ও
২/ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।

⇒ মামলার রায় চূড়ান্ত আদেশ হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অনন্তকালের জন্য চলতে পারে। মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে, সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।
১,০৭২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারায় সংজ্ঞা দেওয়া আছে-
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  3. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
----------------
SR Act: Section-53. Temporary injunctions, Perpetual injunctions:
-Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
-Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
১,০৭৩.
'ক', 'খ' এর বৈধ চলাচলের রাস্তার অর্ধেক অংশে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন এবং উক্ত পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এক্ষেত্রে The Specific Relief Act, 1877 অনুসারে 'খ' এর সর্বোত্তম প্রতিকার কী?
  1. খাস দখল পুনরুদ্ধার
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. ঘোষণা ও খাস দখল পুনরুদ্ধার
  4. বাধ্যতামূলক ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
-'ক', 'খ' এর বৈধ চলাচলের রাস্তার অর্ধেক অংশে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন এবং উক্ত পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এক্ষেত্রে 'খ' এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে আদালত থেকে The Specific Relief Act, 1877 এর  ধারা ৫৪ এবং ৫৫ এর অধীন বাধ্যতামূলক ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা। 
 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীর পক্ষে কোন বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করাকে প্রতিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী করার অর্থ ইহা নয় যে, উক্ত নিষেধাজ্ঞা চিরকালের জন্য চলতে থাকবে এবং উক্ত নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন কিছু করা যাবে না। কোন উপর্যুক্ত আদালত যতদিন পর্যন্ত স্বত্বের মীমাংসা না করেন এবং এই নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি রদ না করেন ততদিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকবে।
অপরদিকে, কোন ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনগত ভাবে বাধ্য থাকা শর্তেও তা করা থেকে বিরত থাকলে আদালত তাকে কাজটি সম্পাদন করতে বাধ্য করে তথা কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা নামে পরিচিত। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় এই সম্পর্কে বলা হয়েছে।  বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সে যে কাজ করতে বাধ্য তাকে তা করতে আদেশ দেয়া হয়। সেজন্য ৫৫ ধারার বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আদালতে প্রার্থনা করা হলে আদালত তার বিবেচনামূলক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে সন্তুষ্টচিত্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মঞ্জুর করে থাকেন।
 
- এক্ষেত্রে আদালত ‘ক’ কে বাড়ি নির্মাণের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধাজ্ঞা এবং ‘খ’ কে উক্ত পথে চলার আদেশ দিতে পারে।
১,০৭৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪৩ অনুযায়ী ঘোষণার প্রভাব কাদের উপর বাধ্যকর হয়?
  1. মোকদ্দমার পক্ষগণ
  2. পক্ষগণের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণ
  3. সমগ্র জনসাধারণের উপর
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪৩ অনুযায়ী, একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি (declaratory decree) নিম্নলিখিতদের উপর বাধ্যকর হয়:
ক) মোকদ্দমার পক্ষগণ (parties to the suit)
খ) পক্ষগণের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণ (persons claiming through them respectively)
এবং জিম্মাদার (trustees) থাকলে তাদের ক্ষেত্রে, ঘোষণার তারিখে যারা জীবিত থাকবে তাদের জন্য।
সুতরাং, "ক এবং খ উভয়"ই সঠিক।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিধান ঘোষণার ফলাফল : এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।
-------------
⇒ The Specific Relief Act,1877, Section 43:- Effect of declaration:- A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees. 
Illustration 
A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

১,০৭৫.
'ক', 'খ'-এর নিকট মাঠ বিক্রয় করিল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াত করিবার অধিকার সম্পর্কে 'ক' জ্ঞাত ছিল, কিন্তু তা সে 'খ' এর নিকট গোপন রাখিল। এইক্ষেত্রে 'খ'-প্রতিকার কী?
  1. চুক্তি পরিবর্তন
  2. চুক্তি রদ
  3. চুক্তি সংশোধন
  4. ক্ষতিপূরণ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়:
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

- যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
 
- একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।

উদাহরণ:
উপধারা-ক এর-
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার সম্পর্কে 'ক'-এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তা সে 'খ'-এর নিকট গোপন রাখল। সে চুক্তি রদ করে নেওয়ার অধিকারী।
 
উপধারা-খ এর-
একজন অ্যাটর্নি 'ক' তার মক্কেল একজন হিন্দু বিধবা 'খ' কে 'খ' এর পাওনাদারগণের প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করল। এখানে পক্ষসমূহ সমভাবে দোষী নয় এবং 'খ' হস্তান্তরের দলিল রদ করিয়ে নেয়ার অধিকারী।
----------------
SR Act Section-35. When rescission may be adjudged:
Any person interested in a contract in writing may sue to have it rescinded, and such rescission may be adjudged by the Court in any of the following cases, namely:-
(a) where the contract is viodable or terminable by the plaintiff;
(b) where the contract is unlawful for causes not apparent on its face, and the defendant is more to blame than the plaintiff;
(c) where a decree for specific performance of a contract of sale, or of a contract to take a lease, has been made, and the purchaser or lessee makes default in payment of the purchase-money or other sums which the Court has ordered him to pay.
 
When the purchaser or lessee is in possession of the subject-matter, and the Court finds that such possession is wrongful, the Court may also order him to pay to the vendor or lessor the rents and profits, if any, received by him as such possessor.
 
In the same case, the Court may, by order in the suit in which the decree has been made and not complied with, rescind the contract, either so far as regards the party in default, or altogether as the justice of the case may require.
 
Illustrations:
to (a)-
A sells a field to B. There is a right of way over the field of which A has direct personal knowledge, but which he conceals from B. B is entitled to have the contract rescinded.to (b)-
A, an Advocate, induces his client B, a Hindu widow, to transfer property to him for the purpose of defrauding B's creditors. Here the parties are not equally in fault, and B is entitled to have the instrument of transfer rescinded.
১,০৭৬.
দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে হয় কোন ধারা অনুযায়ী?
  1. ৭ ধারা
  2. ৮ ধারা
  3. ৯ ধারা
  4. ১০ ধারা
ব্যাখ্যা
♦আইন বহির্ভূতভাবে ও সম্মতি ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত করা হলে, উক্ত স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারামতে মামলা করা যাবে। বাদীকে যে যথাযথ আইনের মাধ্যম ছাড়াই বেদখল করেছে, সে যদি মূল মালিকও হয় কিংবা তার দ্বারা কোন দাবিদারও হয় তবু বাদী তার দখলচ্যুতির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে তার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় মামলা করতে পারবে। ৯ ধারামতে যিনি স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিলেন, তিনিই মামলা করতে পারেন। কেননা এই ধরনের মামলায় শুধু বাদীর দখল এবং বেদখল প্রমাণ করতে হয় এবং ৯ ধারার অধীনে দখল উদ্ধারের মামলায় স্বত্বের প্রশ্ন অবান্তর।
১,০৭৭.
ধারা ৩৭ অনুযায়ী, বাদী কোন ধরনের বিকল্প আর্জি জানাতে পারেন?
  1. চুক্তি রদের
  2. চুক্তি সম্পাদনের
  3. চুক্তির শর্ত পরিবর্তনের
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৭- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মােকদ্দমার বিকল্প হিসেবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য মােকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসেবে আবেদনে অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হােক এবং বিলুপ্ত হিসেবে ত্যাগ করা হােক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং তদমােতাবেক ত্যাগের নির্দেশ দিতে করতে পারেন।

Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

এই ধারায় বলা হয়েছে,
একটি লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়েরকারী বাদী বিকল্প প্রার্থনা জানাতে পারে যে, চুক্তিটি যদি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা না যায়, তাহলে তা বাতিল করা হোক। আদালত যদি চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে অস্বীকার করেন, তাহলে তা রদ করার এবং সেই অনুসারে ত্যাগ করার নির্দেশ দিতে পারেন।
১,০৭৮.
The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী নিম্নের কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়?
  1. যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার
  2. যেক্ষেত্রে শর্তাবলী পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা সংকল্পের উপর নির্ভরশৌল
  3. যেক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনে ক্রমাগত ৩ বছরের অধিক সময় প্রয়োজন
  4. উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না সেগুলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে। ২১ ধারা অনুসারে, যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার বা যেক্ষেত্রে শর্তাবলী পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল বা যেক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনে ক্রমাগত ৩ বছরের অধিক সময় প্রয়োজন, সেই সকল চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না।
১,০৭৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র দণ্ডমূলক আইন প্রয়োগের জন্য প্রতিকার দেওয়া যাবে না?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৭ এ বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র দণ্ডমূলক আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
- অর্থাৎ, এই ধারার অধীনে কোনও ব্যক্তি শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রতিকার দাবি করতে পারবে না।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মূলত তখনই প্রদান করা হয় যখন কোনও ব্যক্তি তার নির্দিষ্ট অধিকার বা সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেন, তবে দণ্ডমূলক শাস্তি আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য নয়।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে-
দণ্ডমূলক আইন বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 7. Relief not granted to enforce penal law:
-Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a penal law.
১,০৮০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন 1877 এর ৮ ধারার মামলার ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সত্য?
  1. মালিকানা প্রমাণ করতে হয়
  2. দখল প্রমাণ করতে হয় না
  3. 12 বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে শুধুমাত্র দখলের অধিকারী ব্যক্তি। ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে 'দখলের অধিকারী’ বলতে মালিক বা দখলদার হিসাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে ।যেমন: চুক্তিবলে, উত্তরাধিকারসূত্রে বা অনুমতি সাপেক্ষে দখলের অধিকারী বা দখলি স্বত্বের উপর ভিত্তি করে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। আপনি দখলের অধিকারী কারণ সম্পত্তিতে আপনার স্বত্ব আছে। সুতরাং যে স্বত্বের কারণে আপনি দখলের অধিকারী আপনাকে সেই স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে। বা যে স্বত্বের কারণে আপনি দখল দাবী করছেন, আপনাকে সেই স্বত্ত্বই প্রমাণ করতে হবে। দখলে আছেন কিনা সেটা বিবেচ্য বিষয় না।
১,০৮১.
B, A-এর সঙ্গে চুক্তি করে যে সে বারো মাস ধরে বিশ্বস্তভাবে A-এর ক্লার্ক হিসেবে কাজ করবে। এক্ষেত্রে, The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৫৭ অনুসারে, A আদালতের মাধ্যমে-
  1. B-কে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে
  2. B-কে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে না
  3. B-কে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারবে
  4. B-কে চুক্তি বাতিলের আদেশ দিতে পারবে
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৫৭. নেতিবাচক চুক্তি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform negative agreement):
ধারা ৫৬-এর উপধারা (f) সত্ত্বেও, যেখানে কোনো চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ইতিবাচক (affirmative) চুক্তির পাশাপাশি একটি নেতিবাচক (negative) চুক্তিও থাকে- স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে, অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট কাজ না করার অঙ্গীকার থাকে, সেখানে আদালত যদি সেই ইতিবাচক চুক্তির নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (specific performance) করাতে সক্ষম না হয়, তাহলেও আদালত সেই নেতিবাচক চুক্তি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা (injunction) জারি করতে পারে;

তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী এখন পর্যন্ত তার চুক্তির বাধ্যবাধক অংশ সম্পূর্ণভাবে পালন করতে ব্যর্থ হননি।

উদাহরণসমূহ-
(ঘ) B, A-এর সঙ্গে চুক্তি করে যে সে বারো মাস ধরে বিশ্বস্তভাবে A-এর ক্লার্ক হিসেবে কাজ করবে। A আদালতের মাধ্যমে B-কে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে না, কিন্তু A, B-কে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।

১,০৮২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী, চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়েরকারী ব্যক্তি কী দাবি করতে পারে?
  1. শুধু চুক্তি পুনর্বহাল
  2. চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ
  3. চুক্তি পুনর্বহাল এবং ক্ষতিপূরণ উভয়ই
  4. চুক্তি বাতিল করার
ব্যাখ্যা
উত্তর:গ) চুক্তি পুনর্বহাল এবং ক্ষতিপূরণ উভয়ই।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার অধীনে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়েরকারী ব্যক্তি কেবল চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করতে পারেন না, বরং চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিপূরণও চাইতে পারেন।

এই ধারায় দুটি পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে—
১) যদি আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন মঞ্জুর না করেন:
আদালত যদি মনে করেন যে চুক্তির বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বা উপযুক্ত সমাধান নয়, তবে তিনি ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারেন।
উদাহরণ: A, B-কে ১০০ মণ চাল বিক্রির চুক্তি করেছিল, কিন্তু পরে চাল সরবরাহ করেনি। আদালত চুক্তি কার্যকর করতে না পারলে B-কে ক্ষতিপূরণ দিতে পারেন।
২) যদি আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন মঞ্জুর করেন, তবে ক্ষতিপূরণও প্রয়োজন হয়:
কখনও কখনও কেবল চুক্তি কার্যকর করাই যথেষ্ট নয়, বরং চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও প্রয়োজন হয়।
উদাহরণ: A, B-কে একটি বাড়ি বিক্রি করার চুক্তি করেছিল এবং জানুয়ারির ১ তারিখে দখল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দখল দিতে এক বছর দেরি হয়। আদালত চুক্তি বাস্তবায়নের আদেশ দিলে B-কে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও দিতে পারেন, কারণ সে এক বছর বাড়ি ব্যবহার করতে পারেনি।

⇒ অর্থাৎ বাদী কেবল চুক্তির পুনর্বহালের (specific performance) জন্য মামলা করতে পারেন না, বরং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারেন।
- আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন মঞ্জুর না করলেও ক্ষতিপূরণ দিতে পারেন।
- যদি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে তাতেও যদি বাদীর ন্যায্য অধিকার পূর্ণ না হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণও দেওয়া যেতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
-----------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly.
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct.
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.
১,০৮৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারায় চুক্তির কোন অংশটির জন্য সাধারণত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়?
  1. বৃহত্তর অংশ
  2. ক্ষুদ্রতর অংশ
  3. উভয় অংশ
  4. কোন অংশের জন্য নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
১,০৮৪.
'একটি চুক্তি কেবলমাত্র ভুলের জন্য রদ হবে না' এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৩৮
  2. ৩৫
  3. ৩৬
  4. ৩৭
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারার বিধান: ভুলের জন্য রদ:
কেবলমাত্র ভুলের জন্য বিচারপূর্বক লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না, যদি না যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হচ্ছে সে পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে একই মর্যাদায় পুনরুদ্ধার করা যায়, যেন কখনও চুক্তিই করা হয় নাই।
----------------------------
⇒ SR Act: Section-36. Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.
১,০৮৫.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৪০ ধারার বিধান কোন ধরণের দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. সম্পূর্নভাবে বাতিলযোগ্য
  2. সম্পূর্নভাবে বাতিল
  3. আংশিকভাবে বিলুপ্তযোগ্য
  4. উল্লিখিত সকল ধরণের
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877 এর ৪০ ধারার বিধান- যে সকল দলিল আংশিকভাবে বিলুপ্তযোগ্য।

উক্ত ধারায় বলা হয়েছে-
যেখানে দলিল বিভিন্ন অধিকার বা বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার সাক্ষ্য হয়, সেখানে আদালত যথাযথ মামলায় আংশিকভাবে তা বিলুপ্তযোগ্য এবং অবশিষ্টাংশকে বহাল রাখতে পারেন।

উদাহরণঃ
'ক', 'খ' এর নামে একটি হুণ্ডি প্রণয়ন করল, উহা পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে 'গ' কে প্রদান করল, যার দ্বারা পৃষ্ঠাঙ্কনের ফলে তা 'ঘ' কে প্রদত্ত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, 'ঘ' আবার পৃষ্ঠাঙ্কনের মাধ্যমে তা 'ঙ' কে প্রদান করেছে। 'গ'-এর পৃষ্ঠাঙ্কন জাল ছিল। 'গ' হুণ্ডিকে অন্যান্য ব্যাপারে বহাল রেখে উক্ত পৃষ্ঠাঙ্কনের বিলুপ্তি পাবার অধিকারী।
১,০৮৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোনটিকে প্রভাবিত করে না?
  1. চুক্তি আইন, ১৮৭২
  2. নিবন্ধন আইন, ১৯০৮
  3. তামাদি আইন, ১৯০৮
  4. ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, এই আইন নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর উপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) নিবন্ধন আইন, ১৯০৮।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৪ ধারার বিধান কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
ⅰ) চুক্তি নয় এমন কোনো অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকার, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections- 4. Savings:
Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.
১,০৮৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় কোনটিকে সম্পত্তি হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. Copyright
  2. Trademark
  3. Document
  4. Patent
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৪: যখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়: এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে উল্লিখিত অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে,আবেদনকারীর পক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, প্রকাশ্য হউক অথবা অনুমিত হউক, ভঙ্গ করা নিরোধ করিবার জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাইবে।
যখন এইরূপ বাধ্যবাধকতা চুক্তি হইতে উদ্ভুত হয়, তখন আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধি-বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।
যখন বিবাদি বাদির সম্পত্তির অথবা ভোগদখলের অধিকার হস্তক্ষেপ করেন অথবা হস্তক্ষেপ করিবার হুমকি প্রদান করেন, তখন আদালত নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করিতে পারিবে (যথা):-
(ক) যেক্ষেত্রে বিবাদি বাদির সম্পত্তির একজন ট্রাস্টি;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে প্রকৃত ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোনো মানদণ্ড নাই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এইরূপ প্রকৃতির হয় যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাইবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কোনো ক্ষতিপূরণ পাইবার সম্ভাবনা থাকে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার কার্যক্রমের সংখ্যাধিক্য নিরোধের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
ব্যাখ্যা- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রেডমার্ক একটি সম্পত্তি।

১,০৮৮.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে বিবাদী নিম্নলিখিত কোন যুক্তিটি আত্মপক্ষ সমর্থনের কারণ হিশেবে  উপস্থাপন করতে পারে?
  1. অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত
  2. অনিশ্চয়তা এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত
  3. কঠোরতা এবং অন্যায় সুবিধা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং  যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা hardshipl সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
১,০৮৯.
'ক' ১০০ মণ গম 'খ' এর নিকট বিক্রয় করার চুক্তি করে। কোন কারণ ব্যতিরেকেই উক্ত গম 'খ'-কে সরবরাহ করা হয় নাই। 'খ'-এর প্রতিকার কি?
  1. 'খ' সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তিটি বলবৎ করতে পারবে
  2. 'খ' ক্ষতিপূরণ লাভ করতে পারবে
  3. 'খ' ক্ষতিপূরণ পাবে না
  4. 'খ' শুধুমাত্র চুক্তির ক্রয়মূল্য ফেরত পাবে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,১৮৭৭ ধারা ১৯: কতিপয় বিশেষ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা

এই ধারা অনুযায়ী বাদী ২ রকম প্রতিকার চাইতে পারে:
১. চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ;
২. চুক্তি সম্পাদনের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ।

এ ধারা অনুসারে, ক্ষতিপূরণ প্রদানে আদালতের ক্ষমতা-
১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য-সম্পাদনের পরিবর্তে [In Substitution of] ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিবেন, অথবা
২. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য-সম্পাদনের আদেশসহ অতিরিক্ত হিসেবে [In Addition to] ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিবেন।

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী, চুক্তির বিষয়বস্তু অস্থাবর সম্পত্তি এবং বৈধ চুক্তি। যেহেতু একটি বৈধ চুক্তি কোনো কারণ ছাড়াই 'ক' ভঙ্গ করে 'খ'-এর ক্ষতি করেছে, সেহেতু সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনই এর জন্য উপযুক্ত প্রতিকার নয়। বরং পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণও পাবে। সুতরাং 'খ' ক্ষতিপূরণ লাভ করবে।
১,০৯০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কোন ধারা অনুযায়ী ঘোষনা মূলক মোকদ্দমা করা যায়?
  1. ৩৮ ধারা
  2. ৪২ ধারা
  3. ৪১ ধারা
  4. ৪০ ধারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী ঘোষনা মূলক মোকদ্দমা করা যায়।
• ২টি বিষয়ে ঘোষনামূলক ডিক্রীর জন্য মোকদ্দমা করা যেতে পারে (বাদীর আইনগত পরিচয়, সম্পত্তিতে বাদীর কোন অধিকার বিষয়ে)।
• ঘোষনা মূলক মোকদ্দমার সাথে অবশ্যই আনুষাঙ্গিক প্রতিকার চাইতে হবে।
• আদালত যে রায় দিবে তা ডিক্রী হিসেবে গণ্য হবে।
১,০৯১.
ধারা ১৯ অনুযায়ী, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় আদালত কি করতে পারে?
  1. মামলাটি বাতিল করতে পারে
  2. চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারে
  3. চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে
  4. শুধুমাত্র চুক্তি বাস্তবায়নের আদেশ প্রদান করতে পারে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ ধারা ১৯- কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:

কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যাঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
১,০৯২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুসারে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমায় বাদী কোন বিকল্প আবেদন করতে পারেন?
  1. চুক্তি সংশোধন
  2. চুক্তি বাড়ানো
  3. চুক্তি রদ ও বিলুপ্ত
  4. চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৭ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি একটি লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণের জন্য মামলা করে, তখন তিনি বিকল্পভাবে আদালতে আবেদন করতে পারেন যে:
→ যদি আদালত চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর না করে, তবে তা রদ করে দেওয়া হোক এবং বাতিল (delivered up to be cancelled) ঘোষণা করা হোক।
→ এই বিধান বাদীকে একই মোকদ্দমার মধ্যে দুইটি বিকল্প প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ দেয়:
- মূল আবেদন: চুক্তি কার্যকর করা হোক।
- বিকল্প আবেদন: চুক্তি কার্যকরযোগ্য না হলে তা রদ ও বিলুপ্ত করা হোক।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
১,০৯৩.
'ক', 'খ' ও তার সন্তানগণের নামে একটি সম্পত্তি নামজারী করে। 'ক' তারপর উক্ত সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' বিক্রয় থেকে বিরত রাখার জন্য নিম্নলিখিত কোন ধরনের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. ঘোষণামূলক
  2. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  3. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
 
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
 
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ: 
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।

(খ) একজন জিম্মাদার জিম্মা ভঙ্গের হুমকি প্রদান করে। তার সহ-জিম্মাদার যদি থেকে থাকে, অবশ্যই এবং উপকার লাভকারী মালিক চুক্তিভঙ্গ নিরোধের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(ঘ) একটি অগ্নি এবং জীবন বীমা কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ নৌ-বিমা করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাদেরকে তা হতে বিরত রাখবার লক্ষ্যে ইনজাংশন জারির জন্য যেকোনো অংশীদারই মামলা দায়ের করতে পারেন।

(ঙ) একজন কার্যনির্বাহী 'ক' অসদাচরণ বা দেউলিয়া অবস্থার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। আদালত তাকে তার আয় পাওয়া থেকে নিবৃত্ত রাখবার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।
 
(চ) 'খ' এর জিম্মাদার 'ক' জিম্মা সম্পত্তির একটি ক্ষুদ্র অংশের অযৌক্তিক বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 'খ' বিক্রয় থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা রুজু করতে পারে, যদিও আর্থিক ক্ষতিপূরণ তার পর্যাপ্ত প্রতিকার বিধান করে।
 
(ছ) 'ক', 'খ' ও তার সন্তানগণের নামে একটি সম্পত্তি নামজারি করে। 'ক' তারপর উক্ত সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিক্রয় হতে বিরত থাকবার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' বা তার যেকোনো সন্তান মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(জ) উকিল হিসাবে 'ক' এর নিয়োজিত থাকার সময় তার মক্কেল 'খ' এর কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। 'ক' উক্ত দলিল সমূহ সাধারণ্যে প্রকাশ অথবা তার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট প্রকাশ করে দেবার হুমকি প্রদান করে। 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা তে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(ঝ) 'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(ঞ) দু'টি সংলগ্ন বাড়ির মালিক 'ক', 'খ' এর নিকট বাড়ি ভাড়া প্রদান করে এবং পরবর্তী সময়ে 'গ' এর নিকট অপর বাড়িটি ভাড়া প্রদান করে। অতঃপর 'ক' ও 'গ', 'গ'-কে ভাড়া প্রদান করা বাড়ির পরিবর্তন আরম্ভ করল, যা 'খ' কে ভাড়া প্রদান করা বাড়ির স্বাচ্ছন্দ্যমূলক উপভোগকে বিঘ্নিত করবে। তাদেরকে তেমন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
১,০৯৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারার বিধান হচ্ছে-
  1. দলিল বাতিল
  2. দলিল আংশিক বাতিল
  3. দলিল সংশোধন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৪০ ধারার বিধান যে সকল দলিল আংশিকভাবে বিলুপ্তযোগ্যঃ যেখানে দলিল বিভিন্ন অধিকার বা বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার সাক্ষ্য হয়, সেখানে আদালত যথাযথ মামলায় আংশিকভাবে তা বিলুপ্তযোগ্য এবং অবশিষ্টাংশকে বহাল রাখতে পারেন।
১,০৯৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা "ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব সম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার" সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ধারা ১৬
  2. ধারা ১৭
  3. ধারা ১৮
  4. ধারা ১৯
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ১৮-এর শিরোনামই হলো "ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার"- এই ধারা অনুসারে, যখন কোনো বিক্রেতা বা ইজারাদাতার সম্পত্তিতে ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব (imperfect title) থাকে, তখন ক্রেতা বা ইজারাদারের নিম্নলিখিত অধিকারগুলো রয়েছে:
- বিক্রেতা পরবর্তীতে কোনো স্বত্ব অর্জন করলে তাকে তা হস্তান্তর করতে বাধ্য করা
- অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হলে তা সংগ্রহ করতে বাধ্য করা
- বন্ধকযুক্ত সম্পত্তি বন্ধকমুক্ত করতে বাধ্য করা
- মামলা খারিজ হলে জমাকৃত অর্থ ও খরচ ফেরত পাওয়া

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার বিধান: ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার: যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যাতে তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্রদান করা হয়) নিম্নোক্ত অধিকার রয়েছে:
(ক) যদি বিক্রেতা অথবা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পরপরই সম্পত্তিতে কোন স্বত্ব অর্জন করে, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারে;
(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারে;
(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করে কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং কার্যত বিক্রেতার শুধু তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারে;
(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করে এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাবার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।

১,০৯৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন ধরনের প্রতিকার নির্ধারণ করা হয়?
  1. আর্থিক প্রতিকার
  2. প্রশাসনিক প্রতিকার
  3. দেওয়ানি মামলায় প্রতিকার
  4. ফৌজদারি মামলায় প্রতিকার
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) দেওয়ানি মামলায় প্রতিকার।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ মূলত দেওয়ানি মামলায় প্রতিকার (Civil Remedies) সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে। এই আইনের মাধ্যমে আদালত বিভিন্ন ধরনের অ-আর্থিক প্রতিকার (Non-Monetary Relief) প্রদান করতে পারে, যেমন—
- নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনের আদেশ (Specific Performance): কোনো পক্ষ যদি চুক্তি অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত তাকে বাধ্য করতে পারে।
- নিষেধাজ্ঞা (Injunction): কারো বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ।
- ঘোষণামূলক প্রতিকার (Declaratory Relief): আদালত কোনো অধিকার বা আইনি অবস্থান ঘোষণা করতে পারে।
- পুনরুদ্ধার (Rescission) ও সংশোধন (Rectification): চুক্তির শর্ত সংশোধন বা বাতিলকরণের ব্যবস্থা।

→ এই প্রতিকারগুলো সাধারণত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা বা কোনো অন্যায় কাজ প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তাই, এটি ফৌজদারি প্রতিকার বা শাস্তিমূলক আইন নয়, বরং দেওয়ানি আইনের অংশ।
১,০৯৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আদালত Solatium মঞ্জুর করতে পারেন?
  1. ২০ ধারা
  2. ২১ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. ২১ক ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদির প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা hardship সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরনের কোন কঠোরতায় জড়াবে না,
সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারার অনুযায়ী আদালত Solatium মঞ্জুর করতে পারেন।
--------------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-22: Discretion as to decreeing specific performance:
-The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
 
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
১,০৯৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কোন ধারাগুলোতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধারের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৮-১১
  2. ধারা ৫২-৫৭
  3. ধারা ১২-৩০
  4. ধারা ৩৫-৩৮
ব্যাখ্যা
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এ মোট ৮ ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
 এই প্রতিকারগুলো মধ্যে:
→ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮-১১):
- এই ধারাগুলোতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে,
→  চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২-৩০):
- এই ধারাগুলোতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (Specific Performance of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
→ চুক্তি বাতিল (ধারা ৩৫-৩৮):
- এই ধারাগুলোতে চুক্তি বাতিল (Rescission of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
→ নিষেধাজ্ঞা/প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা ৫২-৫৭):
- এই ধারাগুলোতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Injunctions) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 
১,০৯৯.
'ক' আদালতে এই মর্মে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে যে, সে 'খ' এর ছেলে। আদালত 'ক' এর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে 'ক' কে ডিক্রি জারির আবেদন-
  1. করার প্রয়োজন নেই
  2. পারিবারিক আদালতে করতে হবে
  3. দেওয়ানি আদালতে করতে হবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে, তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

এক্ষেত্রে, 'ক' কে ডিক্রি জারির আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কারণ শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমেই ডিক্রিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দখল উদ্ধার, বাটোয়ারা এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির আবেদন দায়ের করতে হয়।
১,১০০.
Section 42 specifies a condition under which a Court shall not make a declaration of title. What is this condition?
  1. If the plaintiff is not able to seek further relief
  2. If the plaintiff has not provided sufficient evidence
  3. If the plaintiff, being able to seek further relief, omits to do so
  4. If the defendant disputes the claim in writing
ব্যাখ্যা
• Section 42: 
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.

ঘোষনামূলক মোকদ্দমা (Declaration suit):
মর্যাদা বা অধিকার ঘোষনা সম্পর্কে আদালতের ইচ্ছাধীন বিবেচনামূলক ক্ষমতা অথবা আনুষঙ্গিক প্রতিকারের জন্য এই মামলা করা হয়। সহজভাবে বলা যায়, যেকোন ব্যক্তির আইন সঙ্গত পরিচয়, মর্যাদা বা কোন সম্পত্তিতে তার কোন অধিকার যদি থাকে, অপর কোন ব্যক্তি তা অস্বীকার করে বা করতে চায়, তখন সেই ব্যক্তি তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই মামলা করতে পারে। আদালত সেই অনুযায়ী প্রতিকার দিবে। এটিই ঘোষনামূলক মোকদ্দমা।
⇒ এই মোকদ্দমায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাইতে হয়।
⇒ যখন কোন বাদী আনুষঙ্গিক প্রতিকার না চায়, তাহলে আদালত তার কোনো প্রতিকার মঞ্জুর করে না।