বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Specific Relief Act, 1877

মোট প্রশ্ন১,১৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Specific Relief Act, 1877

PrepBank · পাতা ১০ / ১২ · ৯০১১,০০০ / ১,১৭২

৯০১.
কোন আইনের বিধান অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ, তার অধিকার এবং কর্তব্য নিয়ন্ত্রিত হবে?
  1. দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
  3. তামাদি আইন, ১৯০৮
  4. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
ব্যাখ্যা
⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন।  রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
 
⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধানতত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলকঃ-প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
-----------------
⇒ SR Act Section-44. Appointment of receivers discretionary. Reference to Code of Civil Procedure.
- The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
- The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
৯০২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. ঘোষণার কারণ
  2. ঘোষণার ফলাফল 
  3. ঘোষণার শর্ত 
  4. ঘোষণার বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল: এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।
এই ধারায় বলা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে আদালত যে কোনো ঘোষণামূলক রায় প্রদান করবে, তা কার উপর বাধ্যকর হবে সে সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। এ রায় বাধ্যকর হবে:
১. মামলার পক্ষদের উপর;
২. পক্ষদের দাবিদারদের উপর (যারা পক্ষদের মাধ্যমে দাবি করছে);
৩. যদি কোনো পক্ষ ট্রাস্টি হন, তাহলে সেই ট্রাস্টিদের অধীনে যারা আছেন, তাদের উপর (যদি তারা ঘোষণার সময় বর্তমান থাকতেন);
অর্থাৎ ঘোষণামূলক রায়টি মামলার অন্তর্গত সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বাধ্যকর হবে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের উপর এই রায় বাধ্যকর হবে না।
-----------------
Section 43: Effect of declaration:
A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

৯০৩.
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার প্রাপ্তির বিষয়টি--------
  1. একচ্ছত্র অধিকার
  2. আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা
  3. সাংবিধানিক অধিকার
  4. দেওয়ানিঅধিকার
ব্যাখ্যা
♦ যে সকল কার্য সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কার্যসম্পাদন পুরোপুরি বা আংশিক একটি আছি / জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খ) কার্যসম্পাদন না করলে যে ক্ষতি হবে তার পরিমাণ নির্ণয়ের কোন মানদন্ড না থাকলে ।
(গ) কার্যসম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না ।
(ঘ) আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।

♦ এই ধারায় প্রতিকার প্রদান আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
৯০৪.
'Against whom Contracts cannot be specifically enforced' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় আছে?
  1. ২৩ ধারায়
  2. ২৭ ধারায়
  3. ২৮ ধারায়
  4. ২৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারামতে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (What parties cannot be compelled to perform)- ভুল তথ্য বা ধারণা তথা প্রতারণার মাধ্যমে কোন চুক্তি হলে, প্রতারণার স্বীকার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঐ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।
 
⇒  যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৩ ধারায়, অন্যদিকে যাদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৪ ধারায়।
⇒  যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৭ ধারায়, অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পাদন করা যায় না সে সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৮ ধারায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারার বিধান: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে নাঃ নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে নাঃ
(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;
(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;
(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।
----------------
⇒ Against whom Contracts cannot be specifically enforced:
 
⇒ Section 28 What parties cannot be compelled to perform: Specific performance of a contract cannot be enforced against a party thereto in any of the following cases:- 
(a) if the consideration to be received by him is so grossly inadequate, with reference to the state of things existing at the date of the contract, as to be either by itself or coupled with other circumstances evidence of fraud or of undue advantage taken by the plaintiff; 
(b) if his assent was obtained by the misrepresentation (whether wilful or innocent), concealment, circumvention or unfair practices, of any party to whom performance would become due under the contract, or by a promise of such party which has not been substantially fulfilled; 
(c) if his assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise: Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced. 
 
⇒ Illustrations 
to clause (c)- 
A, one of two executors, in the erroneous belief that he had the authority of his co-executor, enters into an agreement for the sale to B of his testator's property. B cannot insist on the sale being completed. 
 
A directs an auctioneer to sell certain land. A afterwards revokes the auctioneer's authority as to 20 bighas of this land, but the auctioneer inadvertently sells the whole to B, who has not notice of the revocation. B cannot enforce specific performance of the agreement.
৯০৫.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা বাদীর ক্ষতিপূরণের মামলা করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে?
  1. ধারা ২৯
  2. ধারা ৩৯
  3. ধারা ৪১
  4. ধারা ৪৩
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৯০৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় 'Rescission for mistake' এর বিধান আছে?
  1. ৩৫ ধারায়
  2. ৩৬ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ:
কেবলমাত্র ভুলের জন্য বিচারপূর্বক লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না, যদি না যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হচ্ছে সে পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে একই মর্যাদায় পুনরুদ্ধার করা যায়, যেন কখনও চুক্তিই করা হয় নাই।
-------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-36: Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.
৯০৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ঘোষণামূলক ডিক্রি কাদের জন্য বাধ্যতামূলক হবে?
  1. মোকদ্দমার পক্ষগণ
  2. পক্ষগণের দাবীদার
  3. পক্ষগণের জিম্মাদার
  4. উল্লিখিত সকলের 
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৪৩ অনুসারে, ঘোষণামূলক ডিক্রি নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের উপর বাধ্যকর হবে:
১. মোকদ্দমার পক্ষগণ
২. পক্ষগণের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণ
৩. পক্ষগণের জিম্মাদার (যেমন: ট্রাস্টি)
- এই বিধান অনুযায়ী, ঘোষণামূলক ডিক্রি শুধুমাত্র সরাসরি পক্ষগণের উপরই নয়, বরং তাদের উত্তরাধিকারী, বৈধ দাবিদার এবং ট্রাস্টিগণের জন্যও বাধ্যতামূলক।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিধান ঘোষণার ফলাফল:
- এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।
অর্থাৎ ঘোষণামূলক ডিক্রি শুধুমাত্র মোকদ্দমার পক্ষগণ বা তাদের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণের উপর বাধ্যকর হবে এবং পক্ষগণের জিম্মাদারের উপরও বাধ্যকর হবে।
-------------
⇒ Specific Relief Act- Section 43 -Effect of declaration:- A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

Illustration:
- A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

৯০৮.
ধারা ৪১ অনুযায়ী আদালত কাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. সরকারকে
  2. দলিলের উভয় পক্ষকে
  3. দলিল বিলুপ্তির রায় প্রাপ্ত পক্ষকে
  4. কেউকে নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৪১:
দলিল বিলুপ্তির রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে তদ্রুপ প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেই পক্ষের তরফ হতে অন্য পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 41:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
৯০৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্মলিখিত কোন পন্থায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে না ?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  2. সম্পত্তির দখল দাবীদারকে অর্পণের মাধ্যমে
  3. আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে
  4. যে কাজ করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আছে তা করার আদেশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা 
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
♦যদিও ৫ এর ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় না।
৯১০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা অনুযায়ী আদালত স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. ধারা ৮
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ২১
  4. ধারা ২২
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)
৯১১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪১ ধারার অধীনে, দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
  1. কারাদণ্ডসহ বাতিল
  2. পুনরায় কার্যকর
  3. ক্ষতিপূরণসহ বাতিল
  4. সংশোধনের নির্দেশ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪১ ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন আদালত একটি দলিল বাতিল করার আদেশ দেয়, তখন আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার নির্দেশ দিতে পারে, যাতে কোনো পক্ষের অন্যায়ের কারণে ক্ষতি না হয়। এর মানে হলো, আদালত বাতিলকৃত দলিলের কারণে যে পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারে।

এছাড়া, আদালত এই আদেশটি দেওয়ার সময় দলিলের সংশোধন বা পুনরায় কার্যকর করার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয় না, তাই "খ" এবং "ঘ" অপশন ভুল হবে। "ক" অপশনও সঠিক নয়, কারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে দলিল বাতিলের সাথে কারাদণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪১ ধারা অনুসারে, আদালত যখন কোনো দলিল বাতিল করার আদেশ দেয়, তখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আদালত দলিল বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার নির্দেশ দিতে পারে।

উদাহরণ: যদি কোনো প্রতারণামূলক চুক্তি বাতিল করা হয়, তবে যে পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাকে আর্থিকভাবে পুনরুদ্ধার করার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section- 41. Power to require party for whom instrument is cancelled to make compensation:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
৯১২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করা যায় না?
  1. ৫টি
  2. ৯টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২১ ধারা মতে আটটি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে আদেশ দিবে না।
যথা- 
১। চুক্তি কার্যকর না করা হলে অর্থ দ্বারা ক্ষতিপূরণ সম্ভব। 
২। যে-সব চুক্তির শর্ত অস্পষ্ট, জটিল ; যার ফলে চুক্তির শর্ত সমূহ নির্ণয় করা সম্ভব না এবং শর্ত সমূহ সুনির্দিষ্ট ভাবে  সম্পাদন করা যায় না। 
৩। যে চুক্তি তার প্রকৃতির কারণে বাতিলযোগ্য। 
৪। ট্রাস্টিগণ কর্তৃক সম্পাদিত চুক্তি যা তাদের ক্ষমতা বহির্ভূত। 
৫। বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানির চুক্তি যা তাদের ক্ষমতার অতিরিক্ত। 
৬। যে চুক্তির শর্ত আদালত যুক্তিসংগত ভাবে নির্ণয় করতে পারেনা। 
৭। যে চুক্তি সম্পাদন করতে গেলে শুরুর তারিখ হতে তিন বছরেরও বেশি সময় কাজ করতে হয়। 
৮। যে চুক্তির বিষয়বস্তু স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বেই বিলুপ্ত হয়েছে। 
 
উল্লিখিত আটটি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সম্ভব না।
-------------------
SR Act: Section-21. Contracts not specifically enforceable:
The following contracts cannot be specifically enforced:–
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief;
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms;
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty;
(d) a contract which is in its nature revocable;
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust;
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers;
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date;
(h) a contract of which a material part of the subject- matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist.
 
And, save as provided by the Arbitration Act, 1940, no contract to refer present or future differences to arbitration shall be specifically enforced; but if any person who has made such a contract other than an arbitration agreement to which the provisions of the said Act apply and has refused to perform it sues in respect of any subject which he has contracted to refer, the existence of such contract shall bar the suit.
৯১৩.
প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা কত ধারায় বর্নিত হয়েছে?
ব্যাখ্যা
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান: নিরোধক প্রতিকার: ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
----------
-The Specific Relief Act, 1877 Section 6. Preventive relief:
- Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
৯১৪.
'Negative Injunction' এর বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় আছে?
  1. ৫৫
  2. ৫৬
  3. ৫৭
  4. ৫৪
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য আদালত যে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করে তাকে Negative Injunction বলে।

- নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform negative agreement)-
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারামতে আদালত চুক্তির ইতিবাচক অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার আদেশ দিতে না পারলেও, চুক্তির নেতিবাচক অংশ পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারবেন।

যেমন- A, B এর সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, সে ১২ মাসের জন্য B এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং এই সময়ে সে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন করবে না। এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎ করার জন্য B ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী নয়, কিন্তু A যেন এই সময়ে অন্যত্র জনসম্মুখে গান পরিবেশন না করতে পারে বা তাকে গান গাওয়া হতে বিরত রাখতে B নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।
--------------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-57. Injunction to perform negative agreement:
Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from granting an injunction to perform the negative agreement: provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.
৯১৫.
নিচের কোন চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য?
  1. A, B কে বিবাহ করার চুক্তি।
  2. সাহিত্যকর্ম সম্পন্ন করতে লেখকের সাথে প্রকাশকের চুক্তি
  3. A ১০০০ টাকার বিনিময়ে B-এর ছবি আঁকবে।
  4. নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক শেয়ার A কর্তৃক B-এর বিক্রয় করার চুক্তি
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২১ ধারা অনুযায়ী- যদিও শেয়ার অস্থাবর সম্পত্তি, এমন শেয়ার যেহেতু নির্দিষ্ট বর্ণনার এবং এমন শেয়ার যেহেতু সর্বদা বাজারে ক্রয় করার জন্য পাওয়া যায় না এবং এমন শেয়ার যেহেতু সংখ্যায় কম যা অন্যকোন উপায়ে সংগ্রহ করা যায় না, সেহেতু এমন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য।
♦ বাকী অপশনগুলো ২১ ধারা অনুসারে বলবৎযোগ্য নয়।
৯১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশ কার্যকর করা এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করার বিধান আছে?
  1. ১৪
  2. ১৫
  3. ১৬
  4. ১৭
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে- কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান: কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
৯১৭.
দলিল সংশোধন করা যায়-
  1. প্রতারণা হলে
  2. দলিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ না হলে
  3. পক্ষগণের পারস্পরিক ভুল থাকলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের দলিল সংশোধন করা যায়-
i) লিখিত দলিল; ও
ii) লিখিত চুক্তি।

⇒ ৩ কারনে দলিল সংশোধন করা যায়-
(১) দলিলের কোন পক্ষ প্রতারণা করলে;
(২) উভয় পক্ষে ভুল;
(৩) দলিলের উদ্দেশ্য ব্যক্ত না হলে। 

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা-
যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
৯১৮.
সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য চুক্তির এক পক্ষ যদি চুক্তির অন্য অংশ পালন করতে অস্বীকার করে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব দেয়, তাহলে চুক্তির অপর পক্ষ-
  1. শুধু ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে
  2. চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে না
  3. চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ধারা ২০:
''একটি চুক্তি যা সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য, তা এমনভাবেও বাস্তবায়িত হতে পারে, যদিও সেখানে চুক্তি লংঘনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকে এবং বিলম্বকারী পক্ষ সেই অর্থ প্রদানের প্রস্তুত থাকে।''

এই ধারায় চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরছে। এখানে বলা হচ্ছে যে, একটি চুক্তি যদি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তাহলে সেটি বাস্তবায়নযোগ্য, যদিও চুক্তিতে লংঘনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকে এবং বিলম্বকারী পক্ষ সেই অর্থ প্রদানের প্রস্তুতি প্রকাশ করে। অর্থাৎ, যদি একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তাহলে শুধুমাত্র বিলম্বকারী পক্ষের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব আদালতকে বাধ্য করবে না যে চুক্তিটি বাস্তবায়ন না করে শুধু ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে হবে। বরং আদালত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার জন্য বিলম্বকারী পক্ষকে নির্দেশ দিতে পারবে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল- চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবকে চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প হিসাবে না গ্রহণ করা।

⇒ চুক্তির এক পক্ষ যদি চুক্তির অন্য অংশ পালন করতে অস্বীকার করে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব দেয়, তবুও অন্য পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করতে পারবে।
৯১৯.
‘ক’ এবং ‘খ’ একটি চুক্তি সম্পাদন করে। পরবর্তীতে ‘ক’ চুক্তি লঙ্ঘন করে। ‘খ’ আদালতে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করে। আদালত কোন ভিত্তিতে ‘খ’-এর পক্ষে রায় দিতে পারেন?
  1. চুক্তি একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে
  2. আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার না হলে
  3. চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে ক্ষতির নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ণয় করা সম্ভব না হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
৯২০.
ক” খ” এর নিকট একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং ভাড়ায় ভাড়া দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। খ” চুক্তির কাজ সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জানায়। ক” ইহার পর খ” এর চুক্তি ভঙ্গের ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। এই ক্ষেত্রে-
  1. ক” সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তিটি বলবৎ করতে পারবে
  2. ক” পুনরায় ক্ষতিপূরণ লাভ করতে পারবে
  3. ক” সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তিটি বলবৎ করতে পারবে না
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, সেই ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার অধিকারী হবে না। যেহেতু ক” চুক্তিভঙ্গের জন্য একবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, তাই সে পুনরায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করার অধিকারী হবে না।
৯২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, বিকল্প প্রার্থনা কোন পর্যায়ে করতে হয়?
  1. রায় প্রদানের পূর্বে
  2. মামলা শুনানির সময়
  3. মামলা দায়ের করার সময়
  4. আপিল দায়ের করার সময়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) মামলা দায়ের করার সময়। 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, যখন কোন ব্যক্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করেন, তখন তিনি বিকল্প প্রার্থনা (যেমন, চুক্তি রদ করা) মামলা দায়ের করার সময়ই করতে পারেন। এটি একটি বিকল্প আবেদন হিসাবে দায়ের করা হয় এবং আদালত যদি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করেন, তখন সেই ভিত্তিতে চুক্তি রদ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
৯২২.
'ক' কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। খ' দাবী করে যে সে উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি 'খ'-কে অর্পণ করবে। এই ক্ষেত্রে ক এর জন্য নিম্নলিখিত কোন প্রতিকারটি সঠিক?
  1. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের
  2. দখল উদ্ধারের মামলা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
  4. চুক্তি বলবৎ এর মামলা
ব্যাখ্যা
♦যেহেতু 'খ' দাবী করছে যে সে উক্ত সম্পত্তির মালিক সেহেতু সে সম্পত্তিতে 'ক' এর মালিকানা অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে 'ক' যে উক্ত সম্পত্তির মালিক এমন ঘোষণা চেয়ে ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলে হবে কারণ বাদী ক সম্পত্তির দখলে আছে।
৯২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৫২
  4. ধারা ৫৫
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877) এর ধারা ৬-এ প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।এই ধারা অনুসারে, ধারা ৫(গ) এর অধীন যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়, তাকে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার বলে। এটি মূলত নিষেধাজ্ঞা (Injunction) এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে কোনো ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখার আদেশ দেওয়া হয়।
⇒ সাধারণত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদান করা হলেও সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার নয়।
- যেমন- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হলেও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) হল আদেশাত্মক প্রতিকার।
- অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা হলো নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief).

৯২৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে, কখন একটি লিখিত চুক্তি রদ করার জন্য মামলা দায়ের করা যায়?
  1. চুক্তিটি বাতিলযোগ্য বা সমাপ্তিযোগ্য হলে
  2. চুক্তিটি অবৈধ হলে এবং চুক্তির মুখপত্রে তা স্পষ্ট না হলে
  3. ক্রেতা বা ইজারাদার চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদালত কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি লিখিত চুক্তি রদের (Rescission) আদেশ দিতে পারে। সেগুলো হলো—
→ যখন চুক্তিটি বাতিলযোগ্য (Voidable) বা সমাপ্তিযোগ্য (Terminable) হয়:
- যদি চুক্তি বাতিলযোগ্য হয় (যেমন প্রতারণা, বলপ্রয়োগ, প্ররোচনা বা পক্ষের ভুলের কারণে), তাহলে বাদী চুক্তি রদের জন্য মামলা করতে পারে।
উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করায়, তাহলে ভুক্তভোগী চুক্তি বাতিলের জন্য আদালতে যেতে পারেন।

→ যখন চুক্তিটি অবৈধ হয়, তবে চুক্তির মুখপত্রে তা স্পষ্ট না থাকে:
- যদি চুক্তি বেআইনি কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়, কিন্তু তা চুক্তির ভাষায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে, তাহলে আদালত চুক্তি রদের রায় দিতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ বাদীর তুলনায় বেশি দোষী হয়।
উদাহরণ: একজন উকিল যদি তার মক্কেলকে প্রতারণার মাধ্যমে এমন চুক্তিতে বাধ্য করে যা মক্কেলের ঋণদাতাদের প্রতারণার জন্য করা হয়েছে, তাহলে এই চুক্তি রদের যোগ্য।

→ যখন ক্রেতা বা ইজারাদার চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়:
- যদি আদালত কোনো সম্পত্তি বিক্রির (Sale Contract) বা লিজের (Lease) সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের আদেশ দেয়, কিন্তু ক্রেতা বা ইজারাদার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত চুক্তি রদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি একটি সম্পত্তি কেনার জন্য চুক্তি করে এবং আদালত তাকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়, কিন্তু সে অর্থ পরিশোধ না করে, তাহলে বিক্রেতা চুক্তি রদের জন্য মামলা করতে পারেন।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার অধীনে উপরের তিনটি ক্ষেত্রেই চুক্তি রদের জন্য মামলা করা যায়, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবকটি"।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 35. When rescission may be adjudged:
Any person interested in a contract in writing may sue to have it rescinded, and such rescission may be adjudged by the Court in any of the following cases, namely:- 
(a) where the contract is viodable or terminable by the plaintiff; 
(b) where the contract is unlawful for causes not apparent on its face, and the defendant is more to blame than the plaintiff; 
(c) where a decree for specific performance of a contract of sale, or of a contract to take a lease, has been made, and the purchaser or lessee makes default in payment of the purchase-money or other sums which the Court has ordered him to pay. 

When the purchaser or lessee is in possession of the subject-matter, and the Court finds that such possession is wrongful, the Court may also order him to pay to the vendor or lessor the rents and profits, if any, received by him as such possessor. 
In the same case, the Court may, by order in the suit in which the decree has been made and not complied with, rescind the contract, either so far as regards the party in default, or altogether as the justice of the case may require. 

Illustrations:
to (a)- 
A sells a field to B. There is a right of way over the field of which A has direct personal knowledge, but which he conceals from B. B is entitled to have the contract rescinded.to (b)- 
A, an Advocate, induces his client B, a Hindu widow, to transfer property to him for the purpose of defrauding B's creditors. Here the parties are not equally in fault, and B is entitled to have the instrument of transfer rescinded.
৯২৫.
সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ বছর।
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১ বছর । চুক্তি সম্পাদনে অস্বীকৃতির বিষয় জানতে পারার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে  সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদনের জন্য মামলা  করতে হবে।
৯২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৪ ধারার মূল বক্তব্য কী?
  1. সংশোধিত চুক্তি বাতিল করতে হবে
  2. সংশোধিত চুক্তি বলবৎ করা যেতে পারে
  3. সংশোধনের পর নতুন দলিল তৈরি করতে হবে
  4. সংশোধিত চুক্তি কেবল আপিলে কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৪ ধারা অনুসারে, যদি কোনো চুক্তি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রথমে তা সংশোধন (rectification) করা যেতে পারে এবং পরে, যদি মামলাকারী (plaintiff) তার মামলার আবেদনে (plaint) চুক্তির বলবৎ (specific enforcement) প্রার্থনা করে এবং আদালত মনে করে যে এটি যুক্তিযুক্ত, তাহলে সংশোধিত চুক্তি বলবৎ করা যেতে পারে।
⇒ অর্থাৎ, আদালত চুক্তির ভুল সংশোধন করতে পারেন এবং পরে, যদি এটি প্রয়োজনীয় হয়, তবে সংশোধিত চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের আদেশও দিতে পারেন।
- অতএব, ধারা ৩৪ অনুসারে, সংশোধিত চুক্তিকে আদালতের বিবেচনায় প্রয়োজনে বলবৎ করা যেতে পারে, যদি মামলাকারী তা দাবি করে এবং আদালত মনে করে এটি ন্যায়সঙ্গত ও আইনসিদ্ধ।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section- 34. Specific enforcement of rectified contract:
A contract in writing may be first rectified and then, if the plaintiff has so prayed in his plaint and the Court thinks fit, specifically enforced. 
Illustration:
A contracts in writing to pay his attorney, B, a fixed sum in lieu of costs. The contract contains mistakes as to the name and rights of the client, which, if construed strictly, would exclude B from all rights under it. B is entitled, if the Court thinks, fit, to have it rectified, and to an order for payment of the sum, as if at the time of its execution it had expressed the intention of the parties.
৯২৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারা অনুসারে, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত কাকে অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করে?
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. বাদী এবং বিবাদী উভয়কে
  4. ৩য় কোনো পক্ষকে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারা মতে, 

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে বিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়, যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

Perpetual injunctions:
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

৯২৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারার ব্যাখ্যা-১ অনুযায়ী কে মামলার মাধ্যমে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে?
  1. ভোক্তা
  2. ক্রেতা
  3. জিম্মাদার
  4. বিক্রেতা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
৯২৯.
"Principles of rectification" সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ৩১
  2. ৩২
  3. ৩৩
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের সময় আদালত কর্তৃক অনুসৃত নীতির বিধান রয়েছে। ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, একটি লিখিত দলিল সংশোধনের সময় দলিল দ্বারা কি বুঝাতে চাওয়া হয়েছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল বিষয়ে পক্ষসমূহের কি অভিপ্রায় ছিল আদালত সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারবেন। শুধুমাত্র দলিলের ভাষা দ্বারা পক্ষসমূহ কি অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে চেয়েছিল আদালত এই বিষয়েই অনুসন্ধান সীমিত রাখবেন না। অর্থাৎ দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণের ইচ্ছা কি ছিল তা খুঁজে বের করবেন এবং সে ইচ্ছা কার্যকর করবেন। এরূপ ক্ষেত্রে আদালত শুধুমাত্র দলিলের গঠনের দিকে না তাকিয়ে দলিলের মূল বিষয়ের উপর লক্ষ্য দেবেন।
--------------
The Specific Relief Act, 1877- Section 33. Principles of rectification:

 - In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be. 
৯৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) কোন ধরনের আইনের অন্তর্গত?
  1. তত্ত্বগত আইন
  2. শাস্তিমূলক আইন
  3. পদ্ধতিগত আইন
  4. প্রশাসনিক আইন
ব্যাখ্যা

⇒  তত্ত্বগত আইন ব্যক্তির অধিকার, কর্তব্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে এবং প্রতিকারের বিধান দেয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন দেওয়ানি মামলায় বিশেষ প্রতিকার (যেমন: সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া বা চুক্তি বাস্তবায়ন) প্রদান করে, যা অধিকার সংরক্ষণের জন্য তত্ত্বগত। পদ্ধতিগত আইন মামলার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে, যা এর থেকে ভিন্ন।
→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) হলো তত্ত্বগত আইন (Substantive Law)।
- তত্ত্বগত আইন এমন আইন, যা কোনো ব্যক্তির অধিকার, কর্তব্য বা দায়িত্ব নির্ধারণ করে এবং শাস্তির বিধান দেয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে দেওয়ানি মামলায় বিশেষ ধরণের প্রতিকার (যেমন: সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, চুক্তি বাস্তবায়ন) প্রদানের জন্য বিধান রয়েছে, যা ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ করে।

অন্যদিকে, পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law) হলো আইন, যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বা পদ্ধতি নির্ধারণ করে (যেমন: দেওয়ানী কার্যবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধি)।

অতএব, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন হলো তত্ত্বগত আইন, কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে এবং প্রতিকার দেয়।

৯৩১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কোন ধারা অনুযায়ী আংশিক দলিল বাতিল করা যায়?
  1. ৩২ ধারা
  2. ৩৫ ধারা
  3. ৩৯ ধারা
  4. ৪০ ধারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী কোন দলিল যদি বিভিন্ন অধিকার/বাধ্যবাধকতার সাক্ষী হয় তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় তা আংশিক ভাবে বিলোপ করতে পারেন এবং বাকী অংশ বহাল রাখতে পারেন।
৯৩২.
যদি একজন ব্যক্তি চুক্তি অনুযায়ী তার অংশের কাজ সম্পন্ন না করে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার অধীনে কী ঘটবে?
  1. তাকে চুক্তি থেকে বাদ দেয়া হবে
  2. তাকে চুক্তি পুনরায় করতে হবে
  3. তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
  4. তার পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা যাবে না
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী চুক্তি পালনে ৪টি ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে। যথা-
⇒ যার পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায় অসম্ভব;
⇒ যে পূর্বে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে;
⇒ যে চুক্তি পালনে অক্ষম;
⇒ যে চুক্তির বিষয়বস্তু পূর্বেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

অর্থাৎ, এই সকল ব্যক্তির পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা যায় না।

Section 24- Personal bars to the relief: Specific performance of a contract cannot be enforced in favour of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject-matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.
৯৩৩.
৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোন বিষয়গুলি প্রমাণ করতে হবে?
  1. স্বত্ব ও দখল
  2. সীমানা
  3. দখল ও বেদখল
  4. স্বত্ব
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য উক্ত সম্পত্তিতে দখল এবং বিগত ৬ মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া প্রমাণ করতে হবে, তবে স্বত্ব প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য যে, ৮ ধারায় দখল প্রমাণের প্রয়োজন নেই তবে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে।
৯৩৪.
‘ক’ নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। ‘খ’ ঐ সম্পত্তির প্রকৃত মালিক এবং ‘ক’ কর্তৃক উক্ত সম্পত্তিটি তার কাছে অর্পণ করা আবশ্যক মর্মে দাবী করেন। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারামতে মোকদ্দমাটি করতে হবে?
  1. শুধু ৮ ধারা অনুসারে
  2. শুধু ৯ ধারা অনুসারে
  3. শুধু ৪২ ধারা অনুসারে
  4. ৪২ ও ৮ ধারা অনুসারে 
ব্যাখ্যা

উত্তর: ঘ) ৪২ ও ৮ ধারা অনুসারে।

প্রশ্নে বলা হয়েছে - ‘ক’ নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে, ‘খ’ প্রকৃত মালিক, এবং ‘খ’ দাবি করছে যে ‘ক’ উক্ত সম্পত্তি তার কাছে অর্পণ করুক। এখানে দুই ধরনের অধিকার জড়িত:
মালিকানা অধিকার (ownership right) — যেটা ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে (ধারা ৪২ অনুসারে),
দখল পুনরুদ্ধার বা অর্পণ (possession or delivery of property) — যেটা দাবি করা হবে (ধারা ৮ অনুসারে)।

ধারা ৮-
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারেন।
(এটি “specific movable property”–এর জন্য প্রযোজ্য হলেও, স্থাবর সম্পত্তিতেও প্রযোজ্য হয় যদি দখল পুনরুদ্ধার চাওয়া হয়।)

ধারা ৪২-
যে কেউ তার আইনি চরিত্র বা কোনো অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকারের আশঙ্কা রয়েছে, সে ঘোষণামূলক ডিক্রি (declaratory decree) চেয়ে মামলা করতে পারেন।

 এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশ্লেষণঃ
‘খ’ তার মালিকানা ঘোষণা চাচ্ছে → ধারা ৪২ প্রযোজ্য
একই সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দখল চাচ্ছে → ধারা ৮ প্রযোজ্য

অতএব, মামলাটি করতে হবে-
নির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২ ও ৮ উভয়ের অধীনে।

৯৩৫.
কে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার অধীন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারে?
  1. দখলের অধিকারী ব্যক্তি
  2. জবর-দখলের অধিকারী ব্যক্তি
  3. তাৎক্ষণিক দখলে রাখার অধিকারী ব্যক্তি
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারায় তাৎক্ষণিক দখলের অধিকারী ব্যক্তি ৪টি ক্ষেত্রে মামলা করতে পারবে।
যথা-
১। যে ক্ষেত্রে বিবাদী ট্রাস্টি বা এজেন্ট হিসেবে বাদীর অস্থাবর সম্পত্তি ধারণ করে
২। বাদীর অস্থাবর সম্পত্তির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না হয়
৩। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন হলে
৪। দাবি কৃত সম্পত্তিটি বিবাদী বেআইনিভাবে দখল/ হস্তান্তর করলে।
 
১১ ধারায় বাদীকে  প্রমাণ করতে হবে যে বাদী সম্পত্তি বা পণ্যটি তাৎক্ষণিক দখলে রাখার অধিকারী।
তবে ১১ ধারায় সম্পত্তির মূল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার বিধান: অব্যবহিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দখল প্রদানের নিমিত্তে মালিক নয় এরূপ দখলকারী ব্যক্তির দায় দায়িত্ব:
-যে সম্পত্তির মালিক সে নিজে নয়, এমন অস্থাবর সম্পত্তির কোন বিশেষ অংশের দখলকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত যে কোন অবস্থাতে অবিলম্বিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট সেটি প্রদানার্থে সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে-
 
(ক) যখন দাবীকৃত সম্পত্তি দাবিদারের জিম্মাদারের বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদীদের নিকট রয়েছে।
(খ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতি টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবীদারের পর্যাপ্ত প্রতিকার করবে না।
(গ) যখন দাবীকৃত বস্তুর ক্ষতির কোন সাধিত যথার্থ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে।
(ঘ) যখন দাবীকৃত বস্তুর দখল দাবিদারের নিকট হতে অন্যায়ভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।
--------------------
⇒ SR Act, Section-11. Liability of person in possession, not as owner to deliver to person entitled to immediate possession:
-Any person having the possession or control of a particular article of moveable property, of which he is not the owner, may be compelled specifically to deliver it to the person entitled to its immediate possession, in any of the following cases:-
(a) when the thing claimed is held by the defendant as the agent or trustee of the claimant;
(b) when compensation in money would not afford the claimant adequate relief for the loss of the thing claimed;
(c) when it would be extremely difficult to ascertain the actual damage caused by its loss;
(d) when the possession of the thing claimed has been wrongfully transferred from the claimant.
৯৩৬.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারাগুলোতে রয়েছে?
  1. ধারা ৮-১১
  2. ধারা ১২-৩০
  3. ধারা ৩১-৩৫
  4. ধারা ৩৬-৪২
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১২ থেকে ধারা ৩০ পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (Specific Performance of Contract) সংক্রান্ত বিধানসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে।

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এ মোট ৮ ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
 এই প্রতিকারগুলো হলো:
১. স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮-১১):
- এই ধারাগুলোতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের বিধান রয়েছে।
২. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২-৩০):
- এই ধারাগুলোতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (Specific Performance of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৩. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১-৩৪):
- এই ধারাগুলোতে দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৪. চুক্তি বাতিল (ধারা ৩৫-৩৮):
- এই ধারাগুলোতে চুক্তি বাতিল (Rescission of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৫. দলিল বাতিল (ধারা ৩৯-৪১):
- এই ধারাগুলোতে দলিল বাতিল (Cancellation of Instruments) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৬. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২-৪৩):
- এই ধারাগুলোতে ঘোষণামূলক প্রতিকার (Declaratory Relief) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৭. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪):
- এই ধারায় রিসিভার নিয়োগ (Appointment of Receiver) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৮. নিষেধাজ্ঞা/প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা ৫২-৫৭):
- এই ধারাগুলোতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Injunctions) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৯৩৭.
'ম' চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আদালতে মামলা করেন, কিন্তু আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী 'ম' পরবর্তীতে-
  1. ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন
  2. ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন
  3. ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন না
  4. পুনরায় সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য মামলা করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৯৩৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. আইনটি রেজিস্ট্রেশন আইনকে প্রভাবিত করবে না
  2. আইনটি দণ্ডমূলক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োগযোগ্য নয়
  3. আইনটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে না
  4. আইনটি কোনো সম্মতিকে [agreement] কার্যকরের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৪ মতে,যদি না এই আইনে কোথাও অন্যরূপে সুস্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ থাকে, তবে এই আইনে কোন কিছুকেই এরূপ গণ্য করা হবে না, যাতে
(ক) চুক্তি নয়, এমন কোন অঙ্গীকারের ব্যাপারে প্রতিকারের কোন অধিকার প্রদান করা হয়;
(খ) কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিকারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়, শুধু নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ছাড়া, যা সে কোন চুক্তির অধীনে পেতে পারত; অথবা
(গ) দলিলসমূহের উপর রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রয়োগকে প্রভাবিত করা হয়।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৭ মতে  শুধু দণ্ডমূলক আইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় না।

'আইনটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে না'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। 

-যদিও 
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫(ঘ) ধারা অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় না।
৯৩৯.
The jurisdiction to decree specific performance is __________.
  1. Mandatory
  2. Discretionary
  3. Arbitrary
  4. None
ব্যাখ্যা
⇒ Section 22 Discretion as to decreeing specific performance: The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal. 
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:- 
i) Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
ii) Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
iii) Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
-----------------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বোঝায় যা কোন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান মোতাবেক সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সমূহ কেউ অধিকারবলে দাবী করতে পারবেন না; ইহা আদালতের ইচ্ছার(discretion) উপর নির্ভর করে থাকে। এই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা বা নামঞ্জুর করা আদালতের ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)।আইনটির ২২ ধারা আদালতকে এই ক্ষমতা অর্পণ করেছে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে আদালতকে আইন দ্বারা বাধ্য করা যায়না। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে আদালতের এই ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই স্বেচ্ছাচারীতামূলক হবে না বরং ন্যায় বিচার সহায়ক হবে।
৯৪০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকতে পারে?
  1. একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত 
  2. আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত
  3. অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত 
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা৫৩,অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হইল এইরূপ নিষেধাজ্ঞা যাহা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো সময় ইহা মঞ্জুর করা  যাইবে, এবং দেওয়ানি কার্যবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা - কেবল শুনানির পর এবং মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করিয়া প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাইবে: ইহার মাধ্যমে বিবাদিকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ, অথবা এমন একটি কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দেওয়া হয় যাহা বাদির অধিকারের বিপরীতে হইবে।
------------
The Specific Relief Act,1877, Temporary injunctions Perpetual injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

৯৪১.
'ক' কিছু ঋণের জন্য 'খ'- এর নিকট কিছু অলংকার বন্ধক রাখে। 'খ' সেগুলি বিক্রি করার অধিকারী হওয়ার আগেই বিক্রি করে। 'ক' ঋণের অর্থ পরিশোধ না করেই, অলঙ্কারাদির দখলের জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক' দখলের অধিকারী নয় বিধায় মামলা খারিজ হবে
  2. দখলের অধিকারী হিসেবে 'ক' এর মামলা চলমান থাকবে
  3. মালিক হিসেবে 'ক' এর মামলা চলমান থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারার উদাহরণ (খ) এর অনুরূপ। ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী, মামলা অবশ্যই খারিজ হবে কারণ 'ক' সেগুলির দখলের অধিকারী নয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:

সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ১: এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ২: সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ'-কে সারাজীবনের জন্য জমি উইল করে দেয় এবং 'গ'-কে পরবর্তী অধিকারী নির্দেশ করে। 'ক' মারা গেল। 'খ' জমিতে প্রবেশ করে কিন্তু 'গ', 'খ'-এর সম্মতি ছাড়াই স্বত্ব-সম্পর্কিত দলিলসমূহ হস্তগত করে। 'খ', 'গ'-এর নিকট হতে সেগুলি পুনরুদ্ধার করতে পারে।

(খ) 'ক' কিছু ঋণের জন্য 'খ'-এর নিকট কিছু অলংকার বন্ধক রাখে। 'খ' সেগুলি বিক্রয় করার অধিকারী হওয়ার আগেই বিক্রয় করে। 'ক' ঋণের অর্থ পরিশোধ না করেই অলঙ্কারাদির দখলের জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলা অবশ্যই খারিজ হবে। কারণ 'ক' সেগুলির দখলের অধিকারী নয়, তার যতটুকু অধিকার তা হচ্ছে অলঙ্কারসমূহের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।


(গ) 'ক', 'খ' কর্তৃক তার নিকট লিখিত একটি চিঠি পেল। 'খ', 'ক'-এর সম্মতি ছাড়াই উক্ত চিঠি ফিরিয়ে দিল। উক্ত চিঠিতে 'ক'-এর এমন এক স্বত্ব রয়েছে, যা তাকে 'খ'-এর নিকট হতে পুনরুদ্ধার করার অধিকারী করে।

(ঘ) 'ক', 'খ'-এর নিকট নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য বই এবং কাগজপত্র জমা রাখে। 'খ' সেগুলি হারিয়ে ফেলল এবং 'গ' সেগুলি পেল, কিন্তু 'খ' যখন চুক্তি আইনের ১৬৮ ধারা অনুসারে 'গ'-এর যদি কোন অধিকার জন্মে থাকে তবে তৎসাপেক্ষে 'গ'-এর নিকট হতে পুনরুদ্ধার করতে পারে।

(ঙ) গুদামরক্ষক 'ক'-এর দায়িত্ব ছিল 'খ'-এর নিকট কিছু মাল অর্পণ করায় যা 'ক'- এর দখল হতে 'খ' নিয়ে গেছে। 'ক', 'খ'-এর বিরুদ্ধে উক্ত মালামালের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
৯৪২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের প্রতিকারের বিপরীতে কাজ করে?
  1. আর্থিক ক্ষতিপূরণের
  2. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  3. ঘোষণামূলক ডিক্রির
  4. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক ক্ষতিপূরণ (Damages) এর পরিবর্তে সরাসরি ও সুনির্দিষ্টভাবে অধিকার বাস্তবায়ন করা। যেমন: চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র টাকা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে আদালত নির্দিষ্ট পারফরমেন্স (Specific Performance) এর আদেশ দিতে পারেন।
- সম্পত্তি অবৈধ দখল থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ না দিয়ে সম্পত্তি ফেরত আদেশ দেওয়া যায়।
অর্থাৎ, এই আইন আর্থিক ক্ষতিপূরণ-এর বিকল্প (বিপরীতে) বা প্রতিযোগী প্রতিকার হিসেবে কাজ করে, যেখানে মূল লক্ষ্য ব্যক্তির প্রকৃত অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) এমন একটি আইন যা মূলত দেওয়ানি মামলাগুলির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিকার বা সাহায্য প্রদান করে। এর মাধ্যমে আদালত একটি নির্দিষ্ট শাস্তির পরিবর্তে, ব্যক্তির অধিকার বা দাবির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। "সুনির্দিষ্ট প্রতিকার" বলতে এমন প্রতিকার বোঝানো হয় যা শুধুমাত্র সঠিক এবং নির্দিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বিচার করা হয়, যেমন সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ পারফরমেন্সের আদেশ, বা কোনও চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়ন।
- এটি মূলত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এমন প্রতিকার যা কিছু নির্দিষ্ট দাবি বা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকে:
→ নির্দিষ্ট পারফরমেন্স
→ চুক্তির বাস্তবায়ন
→ কোনো সম্পত্তি বা প্রপার্টি ফেরত নেওয়া
→ অবৈধ দখল থেকে অবমুক্তি ইত্যাদি
অর্থাৎ, এটি দেওয়ানি মামলার প্রতিকার, যা সাধারাণত একটি ন্যায্যতা বা সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

প্রস্তাবনা:
যেহেতু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইন নির্ধারণ এবং সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; তাই এটি নিম্নরূপ প্রবর্তিত হলো:-
--------
Preamble:
WHEREAS it is expedient to define and amend the law relating to certain kinds of specific relief obtainable in civil suits; It is hereby enacted as follows:

৯৪৩.
A একজন দোকানদার। সে পণ্য বিক্রয়ের জন্য দোকানের বাইরে ফুটপাতে পণ্য রেখেছে এবং সেখানে অস্থায়ীভাবে একটি ছাউনি নির্মাণ করেছে। সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত ছাউনি ভেঙ্গে দিয়ে ফুটপাত হতে উক্ত পণ্যসমূহ জব্দ করেছে। A ৩ মাস পর উক্ত ফুটপাতের দখল উদ্ধারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার মোকদ্দমা দায়ের করে। মোকদ্দমাটি বারিত হবে যেহেতু-
  1. মোকদ্দমাটি সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে
  2. মোকদ্দমাটি নির্ধারিত সময়ের পর দায়ের করা হয়েছে
  3. ফুটপাতের উপর যেহেতু তার কোন স্বত্ব নাই
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলে না।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারায় বলা আছেঃ যথাযথ আইগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
♦এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না ।
♦এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
♦এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যাবে না, অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রী পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
৯৪৪.
In which section of the Specific Relief Act is the provision for "The effect of dismissing a Suit for Specific Performance" found?
  1. 27
  2. 28
  3. 29
  4. 30
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারার সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ করার ফলাফল বা 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে। 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৯৪৫.
“Equity imputes an intention to fulfill an obligation” – maxim টি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১২
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ “Equity imputes an intention to fulfill an obligation” – এই ম্যাক্সিমটি Specific Relief Act 1877 এর ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: গ) ধারা ১২।

- “Equity imputes an intention to fulfill an obligation” ম্যাক্সিমটি ইক্যুইটি বা ন্যায়বিচারের একটি মূলনীতি, যা নির্দেশ করে যে আদালত ধরে নেয় যে একটি চুক্তির পক্ষগুলো তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করার অভিপ্রায় রাখে। এই ম্যাক্সিমটি Specific Relief Act 1877-এর ধারা ১২ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, যেখানে চুক্তির নির্দিষ্ট পালন (Specific Performance of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ধারা ১২ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
- ধারা ১২ এর অধীনে বলা হয়েছে যে, যদি একটি চুক্তির একটি পক্ষ তার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অন্য পক্ষ আদালতের মাধ্যমে সেই চুক্তির নির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে। এই ধারাটি ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে, যেখানে আদালত ধরে নেয় যে চুক্তির পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ইচ্ছুক ছিল এবং এই অভিপ্রায়কে সমর্থন করার জন্য আদালত তাদের বাধ্য করতে পারে।
- এই ম্যাক্সিমটি বিশেষভাবে ধারা ১২ এর সাথে সম্পর্কিত কারণ এটি বলে যে আদালত চুক্তির পক্ষগুলোর অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দেয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চুক্তির পালন বাধ্যতামূলক করতে পারে। এটি ইক্যুইটির নীতি “equity sees that as done which ought to be done” এর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ধারা ১২ এর আলোচনায় উল্লেখিত।
- উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি একটি সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করে কিন্তু পরে তা পূরণ করতে অস্বীকার করে, তবে ক্রেতা ধারা ১২ এর অধীনে আদালতে নির্দিষ্ট পালনের জন্য মামলা করতে পারে। আদালত এখানে ধরে নেবে যে বিক্রেতার চুক্তি পূরণের অভিপ্রায় ছিল এবং ন্যায়বিচারের জন্য তাকে তা পূরণে বাধ্য করবে।

অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
ধারা ৯: এই ধারাটি অচল সম্পত্তির দখল সম্পর্কিত এবং বলে যে মালিক সরকারের বিরুদ্ধে দখলের জন্য মামলা করতে পারে না। এটি ম্যাক্সিমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ধারা ১১: এই ধারাটি চলমান সম্পত্তির দায়-দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে দখলকারী ব্যক্তি মালিক নয়। এটি নির্দিষ্ট পালন বা ইক্যুইটির অভিপ্রায়ের সাথে সম্পর্কিত নয়।
ধারা ১৫: এই ধারাটি চুক্তির বড় অংশ অপূর্ণ থাকলে নির্দিষ্ট পালনের বিষয়ে আলোচনা করে। এটি ম্যাক্সিমের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, কারণ এটি প্রধানত অপূর্ণ অংশের পরিমাণ নিয়ে কাজ করে।

- “Equity imputes an intention to fulfill an obligation” ম্যাক্সিমটি ধারা ১২ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত কারণ এটি চুক্তির নির্দিষ্ট পালনের ক্ষেত্রে আদালতের ন্যায়বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। এই ধারাটি নিশ্চিত করে যে চুক্তির পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধ্য থাকে এবং আদালত ন্যায়বিচারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করে।

৯৪৬.
চুক্তি বাস্তবায়নের (Specific Performance) মামলা করার সময়সীমা কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী: "চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance of Contract) সম্পর্কিত মামলা দায়ের করার তামাদি সময়সীমা ১ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন বাদীর সেই বলবৎকরণ চাওয়ার অধিকার উদ্ভব হয় সেই তারিখ থেকে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে।

- অর্থাৎ লিমিটেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর আর্টিকেল ১১৩ অনুসারে, চুক্তি বাস্তবায়নের (Specific Performance) মামলার জন্য লিমিটেশন পিরিয়ড হলো ১ বছর।

৯৪৭.
'Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit' - বিধানটি The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪২
  2. ৫৪
ব্যাখ্যা
Section 42:

Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief: Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so. 

Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.

ধারা ৪২- ঘোষনামূলক মোকদ্দমা (Declaration suit)  

মর্যাদা বা অধিকার ঘোষনা সম্পর্কে আদালতের ইচ্ছাধীন বিবেচনামূলক ক্ষমতা অথবা আনুষঙ্গিক প্রতিকারের জন্য এই মামলা করা হয়। সহজভাবে বলা যায় যেকোন ব্যক্তির আইন সঙ্গত পরিচয়, মর্যাদা বা কোন সম্পত্তিতে তার কোন অধিকার যদি থাকে, অপর কোন ব্যক্তি তা অস্বীকার করে বা করতে চায়, তখন সেই ব্যক্তি তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই মামলা করতে পারে। আদালত সেই অনুযায়ী প্রতিকার দিবে। এটিই ঘোষনামূলক মোকদ্দমা।

⇒ এই মোকদ্দমার জন্য নির্দিষ্ট ৩০০ টাকা কোর্ট ফী দিতে হবে।
⇒ এই মোকদ্দমায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাইতে হয়।
⇒ যখন কোন বাদী আনুষঙ্গিক প্রতিকার না চায়, তাহলে আদালত তার কোনো প্রতিকার মঞ্জুর করে না।
৯৪৮.
The Specific Relief Act,1877 এর ২২ ধারার বিধান মতে কয়টি বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় আদালত বিবাদীকে Solatium এর আদেশ দিতে পারে?
  1. ৩ 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২২: সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে ডিক্রি প্রদানের এখতিয়ার আদালতের ইচ্ছাধীন, এবং আদালত এইরূপ প্রতিকার মঞ্জুর করিতে বাধ্য নহে শুধু এই কারণে যে, ইহা করা আইনসঙ্গত; কিন্তু আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা স্বেচ্ছাচারিতা নহে বরং বিচক্ষণ, যুক্তিসঙ্গত হইবে, এবং বিচারকার্যাবলির মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে এবং আপিল আদালতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য হইবে।
নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি প্রদান না করিবার বিষয়ে ইচ্ছাধীন ক্ষমতা
যথাযথভাবে প্রয়োগ করিতে পারিবে: 
১। যেক্ষেত্রে এইরূপ পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয় যে, উহা বাদিকে বিবাদির উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করিয়াছে, যদিও সেইখানে বাদিপক্ষ হইতে কোনো প্রতারণা বা মিথ্যা বর্ণনা নাই।
২। যেক্ষেত্রে চুক্তির কার্য সম্পাদন বিবাদিকে কিছু কষ্টের মধ্যে ফেলিবে, যাহা তিনি পূর্বে বুঝিতে পারেন নাই, অপরদিকে ইহার কার্য সম্পাদন না করিলে বাদিকে উহা তেমন কোনো কষ্টের মধ্যে ফেলিবে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-22: Discretion as to decreeing specific performance: The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresentation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.

৯৪৯.
আদালত সাধারণত কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে আংশিক কার্যসম্পাদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. যেখানে অসম্পাদিত অংশ চুক্তির স্বতন্ত্র অংশ
  2. যেখানে অসম্পাদিত অংশ সমগ্র চুক্তির তুলনায় ছোট
  3. যেখানে অসম্পাদিত অংশ সমগ্র চুক্তির তুলনায় বড়
  4. ক' ও 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারার বিধান কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর অংশ এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটি পালন করতে সমর্থ না হয় কিংবা ঐ অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য না হয়, তাহলে ঐ পক্ষ চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের ডিক্রি লাভের অধিকারী হবে না। তবে চুক্তির বৃহত্তর অংশ সম্পাদনের এবং ক্ষতিপূরণ লাভের সমস্ত অধিকার ত্যাগ করলে আদালত বিবাদীকে ক্ষুদ্রতর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে।
→ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৫ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ বড় হলে, সাধারণত ঐ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ দেয়া যায় না, তবে বাদী ক্ষতিপূরণের দাবি পরিত্যাগ করলে যতটুকু অংশ সম্পাদনযোগ্য তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারার বিধান কোন চুক্তির স্বাতন্ত্র্য অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনঃ যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
→  সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারামতে কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, একটি অংশ আপনা-আপনি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনযোগ্য এবং অপর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য নয় এবং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশ থেকে ভিন্ন ও স্বাধীন (Separate and independent) হয়, তাহলে আদালত ঐ চুক্তির প্রথম অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে পালনের নির্দেশ দিতে পারবে।

৯৫০.
X, Y এর অধীনে ২ বছর শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করবেন মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন _______।
  1. বলবতযোগ্য নয়
  2. শর্তসাপেক্ষে বলবতযোগ্য
  3. বলবতযোগ্য
  4. আংশিক বলবতযোগ্য
ব্যাখ্যা
ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable )- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে 
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে। 
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে 
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
৯৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন ধরনের আইন?
  1. Adjective Law
  2. Substantive Law
  3. Procedural Law
  4. International law
ব্যাখ্যা
 ⇒ মৌলিক আইন [Substantive Law]:
যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

 ⇒পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law]:
যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law] বলে। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি।
৯৫২.
একজন সংগীতশিল্পী ‘ক’ একটি গানের অ্যালবাম তৈরি ও প্রকাশের জন্য সংগীত প্রযোজক ‘খ’-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। যদি ‘ক’ চুক্তি ভঙ্গ করেন, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ‘খ’-এর কী প্রতিকার আছে?
  1. চুক্তি বলবৎ এর মামলা করা
  2. চুক্তিপত্র বাতিলের মামলা করা
  3. চুক্তি বলবৎ এর জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা
  4. চুক্তি বলবৎ এর কোন সুযোগ নেই
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও প্রতিভার ভিত্তিতে চুক্তি বলবৎ করা যায় না, যেমন—গান গাওয়া, অভিনয় করা বা সাহিত্যকর্ম রচনা করা।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)-
চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
৯৫৩.
"No suit under this section shall be brought against the Government." এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বলা আছে?
  1. ১০
  2. ১১
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারায় বলা আছে যথাযথ আইনগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
-এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না ।
-এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।
-এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না, অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
------------------- 
SR Act- Section-9. Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.

No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
৯৫৪.
নিম্নের কোন আইন অনুযায়ী বলবৎযোগ্য?
  1. এ, বি-কে ব্যক্তিগত সেবা দেবার চুক্তি করে
  2. এ, বি-এর সাথে সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি করে
  3. এ, বি-কে বিবাহ করার চুক্তি করে
  4. লেখক এ প্রকাশক বি এর সাথে একটি উপন্যাস রচনার চুক্তি করে
ব্যাখ্যা
♦আলোচ্য প্রশ্নের “A, B -এর সাথে সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি করে” অপশন ছাড়া অন্যান্য সব অপশন ২১ ধারার ‘ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সংকল্পের উপর নির্ভরশীল' -এর উপাদান; যা বলবৎযোগ্য নয়।
♦কোন কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর/বলবৎ করা যায় তা বলা আছে- ১২ ধারায়, সাথে ১৩ ও ১৪ ধারা অনুযায়ী আরও ২টা ক্ষেত্র আছে। অন্যদিকে, ২১ ধারায় ৮টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবৎ করা যায় না।

♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া যায়। যেমন স্থাবর সম্পত্তি (জমি) বিক্রয়ের কোন চুক্তি করা হলে এবং উক্ত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা না হলে তার ফলে যে ক্ষতি হবে তা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না।অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণই হলো পর্যাপ্ত প্রতিকার। সুতরাং A এবং B এর সাথে সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি বলবৎযোগ্য। ২১ ধারা অনুযায়ী বিবাহ করার চুক্তি বা ব্যক্তিগত সেবা সম্পর্কিত চুক্তি এবং যে সকল চুক্তি ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর করে, সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না।
৯৫৫.
Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a ­­_____ law
  1. Penal
  2. Civil
  3. Personal
  4. Tort law
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে কোনো দন্ড বা Penal  কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
৯৫৬.
'একটি চুক্তির যেকোনো পক্ষের বিরুদ্ধে সেই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় উক্ত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ২৩ ধারায়
  2. ২৪ ধারায়
  3. ২৭ ধারায়
  4. ২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ ধারামতে- 
যাদের বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে [specific performance of a contract may be enforced against]-

(a) either party thereto;
ব্যাখ্যা: একটি চুক্তির যেকোনো পক্ষের বিরুদ্ধে সেই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

(b) any other person claiming under him by a title arising subsequently to the contract, except a transferee for value who has paid his money in good faith and without notice of the original contract;
ব্যাখ্যা: চুক্তির পরবর্তীতে যদি কেউ চুক্তির পক্ষের অধিকার দাবি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও এই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে যদি কেউ সদ্ভাবে এবং মূল চুক্তির বিষয়ে অবগত না থেকে মূল্য প্রদান করে সেই অধিকার অর্জন করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না।

(c) any person claiming under a title which, though prior to the contract and known to the plaintiff, might have been displaced by the defendant;
ব্যাখ্যা: কখনও কখনও কোনো ব্যক্তি চুক্তির আগে থেকেই কোনো অধিকার দাবি করতে পারেন। যদি এই অধিকার বাদীর জ্ঞাতসারে থাকে এবং বিবাদীর মাধ্যমে এই অধিকার বাতিল করার সুযোগ থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সেই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

(d) when a public company has entered into a contract and subsequently becomes amalgamated with another public company, the new company which arises out of the amalgamation;
ব্যাখ্যা: প্রথম পাবলিক কোম্পানিটি যদি কোনো চুক্তি করে এবং পরবর্তীতে অন্য কোনো পাবলিক কোম্পানির সাথে এক্রীভূত হয়ে নতুন কোম্পানি গঠিত হয়, তাহলে সেই নতুন কোম্পানির বিরুদ্ধেও প্রথম চুক্তিটির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

(e) when the promoters of a public company have, before its incorporation, entered into a contract, the company: provided that the company has ratified and adopted the contract and the contract is warranted by the terms of the incorporation.
ব্যাখ্যা: যদি কোনো প্রতিষ্ঠাতারা একটি প্রস্তাবিত পাবলিক কোম্পানির গঠনের আগেই কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হন, তাহলে পরবর্তীতে সেই কোম্পানি গঠিত হলে সেই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে এর জন্য সেই কোম্পানির দ্বারা সেই চুক্তি অনুমোদন এবং গৃহীত হতে হবে।
৯৫৭.
সুনির্দিষ্ট আইনের কত ধারা অনুযায়ী Declaratory Decree প্রদান করা হয়?
  1. ৪১ ধারা
  2. ৪২ ধারা
  3. ৪৩ ধারা
  4. ৪৪ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার (Declaratory Suit) বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে। সুতরাং শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে।
♦অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বলে।
৯৫৮.
'ক', 'খ' এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করে। মাঠটির উপর দিয়ে জনসাধারনের চলাচলের অধিকার ছিল, যা সম্পর্কে 'ক' এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল কিন্তু সে সেটা 'খ' এর নিকট হতে গোপন রেখেছিল। এই ক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  2. ‘খ’ শুধু ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকারী
  3. 'খ' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  4. 'ক' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদনের অধিকারী
ব্যাখ্যা
- এই ক্ষেত্রে 'খ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চুক্তিটি রদ করার অধিকারী।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়-
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

একই ক্ষেত্রে, আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।
৯৫৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত ______ প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
  1. সাধারন
  2. সুনির্দিষ্ট
  3. অতিরিক্ত
  4. অনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।

৬ ধারা: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।

Section 6- Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
৯৬০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. দলিল সংশোধন
  2. রিসিভার নিয়োগ
  3. বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা
  4. নিষেধাজ্ঞা প্রদান
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক সরাসরি স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা-এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
২. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হবে।
- এই ধারার শিরোনামই হলো "অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য"।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

৯৬১.
'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' কোন ধারার অধীনে জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে?
  1. ২১ ধারার
  2. ৩১ ধারার
  3. ৩৩ ধারার
  4. ৩৯ ধারার
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
৯৬২.
ক, খ-এর নিকট ১০ শতক জমি বিক্রি করার নিমিত্তে চুক্তিপত্র করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ২ শতক জমি হস্তান্তর করতে অসমর্থ হয়, এক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. সম্পাদন করা যাবে না
  2. সম্পাদন করা যাবে
  3. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে না
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে উক্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে।
- এখানে চুক্তির সম্পাদিত অংশ ৮ শতক তথা বড় এবং অসম্পাদিত অংশ ২ শতক তথা ছোট, তাই চুক্তিটি সম্পাদন করা যাবে এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য খ-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৯৬৩.
১লা জুলাই, ২০০৫ তারিখে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তির অনুকূলে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে জমা দেওয়া প্রয়োজন-
  1. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ২৫%
  2. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ৫০%
  3. অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য
  4. কোন চুক্তি মূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief (Amendment)Act, 2004 ধারা 21A(c) অনুযায়ী ২০০৫ সালের ১লা জুলাই থেকে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য জমা দিতে হবে।
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
৯৬৪.
The breach of a contract to transfer immovable property cannot be adequately relieved by compensation in money” বিধানটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোথায় বলা আছে? 
  1. ধারা ২৩
  2. ধারা ১২
  3. ধারা ২৯
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১২ অনুসারে,এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে ঃ

(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্তহয়;

(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;

(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা

(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা : যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমন ভাবে করা যায়।


--------------------------------------------------------------
Explanation
- Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
৯৬৫.
কোন ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি দিবে না আদালত?
  1. বাদী অনুচিত সুবিধা পেলে
  2. বিবাদীর উপর তা কষ্টকর হলে
  3. বাদী যেক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত মোতাবকে উল্লেখযোগ্য কাজ করে ফেলেছেন
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর অধীনে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন সম্ভব হলেও আদালত চাইলে তাঁর বিবেচনাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডিক্রি নাও দিতে পারেন। আবার চুক্তির বাস্তবায়ন –এর শর্ত (২১ ধারার বিধান মোতাবেক) উপস্থিত না থাকলেও আদালত একটি ক্ষেত্রে ডিক্রি দিতে পারবেন। এই বিষয়ে নীতি প্রদান করা হয়েছে ২২ ধারায়।
৯৬৬.
The Specific Relief Act, 1877 কোন আইনের ভিত্তি থেকে উদ্ভূত?
  1. ইকুইটি আইন
  2. দেওয়ানি কার্যবিধি
  3. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ The Specific Relief Act, 1877 প্রাথমিকভাবে ইকুইটি আইন (Equity Law) এর ভিত্তি থেকে উদ্ভূত। এই আইনটি ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা ল্যাটিন শব্দ “aequitas” (অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচার) থেকে এসেছে। ইকুইটি আইন সাধারণ আইনের (Common Law) পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যেখানে কেবলমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত নয় এমন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (specific relief) প্রদান করে, যেমন চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন (specific performance) বা ইনজাংশন (injunction)।

⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর মূল উদ্দেশ্য হলো চুক্তি পালন নিশ্চিত করা এবং সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করা, যেখানে ন্যায়বিচারের নীতি প্রয়োগ করে পক্ষগুলোর মধ্যে ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়। এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত হয়েছিল এবং বাংলাদেশে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

⇒ প্রয়োগের প্রেক্ষাপট (বাংলাদেশে):
বাংলাদেশে, Specific Relief Act, 1877 ইকুইটি আইনের নীতির উপর ভিত্তি করে চুক্তি ভঙ্গ, সম্পত্তি বিরোধ, এবং ইনজাংশনের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
খ) দেওয়ানি কার্যবিধি: দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code, 1908) এই আইনের প্রয়োগের জন্য একটি পদ্ধতিগত কাঠামো প্রদান করে, তবে Specific Relief Act এর উৎস বা ভিত্তি নয়। এটি কেবল মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।
গ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (Transfer of Property Act, 1882) সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়ম-কানুন নিয়ে কাজ করে। যদিও এটি Specific Relief Act এর কিছু বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত (যেমন, সম্পত্তির দখল বা মালিকানা), তবে এটি Specific Relief Act এর ভিত্তি নয়।
ঘ) উল্লিখিত সবগুলো: Specific Relief Act শুধুমাত্র ইকুইটি আইনের উপর ভিত্তি করে তৈরি। দেওয়ানি কার্যবিধি এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এর প্রয়োগ বা সম্পর্কিত ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও এর উৎস নয়। তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।

অর্থাৎ The Specific Relief Act, 1877 ইকুইটি আইন থেকে উদ্ভূত, যা ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে। এটি বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায় চুক্তি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৯৬৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কীভাবে প্রদান করা হয়?
  1. ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে
  2. নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে
  3. অপরাধের জন্য দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে
  4. আদালতের আদেশ ছাড়া ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) হল এমন একটি আইনি প্রতিকার, যেখানে আদালত কোনো পক্ষকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করে বা একটি নির্দিষ্ট বাধা আরোপ করে।
- এটি সাধারণত প্রতিকারমূলক আইন (Remedial Law) হিসাবে বিবেচিত হয়, যেখানে ক্ষতিপূরণ (Damages) প্রদানের পরিবর্তে বাস্তব প্রতিকার (Actual Performance) প্রদান করা হয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিম্নলিখিত উপায়ে প্রদান করা হয়:
১) নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল প্রদান করা – আদালত কোনো পক্ষকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট সম্পত্তি ফেরত দিতে বাধ্য করতে পারে।
২) কোনো ব্যক্তিকে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা – যদি কোনো পক্ষ চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আদালত তাকে বাধ্য করতে পারে।
৩) কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখা – প্রতিষেধক আদেশ (Injunction) দ্বারা আদালত কোনো পক্ষকে কোনো বিশেষ কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।
৪) পক্ষগুলোর অধিকার নির্ধারণ ও ঘোষণা করা – আদালত কোনো পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, যা প্রতিকারমূলক হতে পারে।
৫) রিসিভার নিয়োগ করা – আদালত কোনো সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য একজন রিসিভার (Receiver) নিয়োগ করতে পারে।

অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
(ক) ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে – এটি একটি সাধারণ দেওয়ানি প্রতিকার (Civil Remedy), কিন্তু এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে পড়ে না।
(গ) অপরাধের জন্য দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে – এটি ফৌজদারি আইন (Criminal Law) সংক্রান্ত বিষয়, যা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(ঘ) আদালতের আদেশ ছাড়া ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে – সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আদালতের মাধ্যমে প্রদত্ত প্রতিকার, ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা যায় না।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সাধারণত সম্পত্তি হস্তান্তর, বাধ্যতামূলক কর্মসম্পাদন (Specific Performance), প্রতিষেধক আদেশ (Injunction) ইত্যাদির মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এটি ক্ষতিপূরণের বিকল্প হিসেবে আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। 
৯৬৮.
'খ' কর্তৃক প্রদেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে 'ক', 'খ'- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন 'খ' মারা গেল। এক্ষেত্রে-
  1. চুক্তি বাতিল হবে
  2. 'খ' -এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে না
  3. 'খ' -এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান- যে চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে:
চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, খ-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘুর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে খ-কে চুক্তিতে তার অংশের কার্যসম্পদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

(খ) খ কর্তৃক প্রদেয় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক, খ- কে সারা জীবনের জন্য বার্ষিক বৃত্তি প্রদানের চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন খ ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন খ-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।

৯৬৯.
গুদামরক্ষক 'A'-এর দায়িত্ব ছিল 'Z'-এর নিকট কিছু মাল অর্পন করা যা 'A'-এর দখল থেকে 'B' নিয়ে গেছে। এখানে 'A', 'B'-এর বিরুদ্ধে কী মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. ক্ষতিপূরণের
  2. মালামাল পুনরুদ্ধারের
  3. সুনির্দিষ্ট কার্য-সম্পাদনের
  4. 'ক' আথবা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারার বিধান: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার: 
- সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
 
ব্যখ্যা-১ঃ এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
 
ব্যাখ্যা-২: সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
 
উদাহরণ:
 
(ক) 'ক', 'খ'-কে সারাজীবনের জন্য জমি উইল করে দেয় এবং 'গ'-কে পরবর্তী অধিকারী নির্দেশ করে। 'ক' মারা গেল। 'খ' জমিতে প্রবেশ করে কিন্তু 'গ', 'খ'-এর সম্মতি ছাড়াই স্বত্ব-সম্পর্কিত দলিলসমূহ হস্তগত করে। 'খ', 'গ'-এর নিকট হতে সেগুলি পুনরুদ্ধার করতে পারে।
 
(খ) 'ক' কিছু ঋণের জন্য 'খ'-এর নিকট কিছু অলংকার বন্ধক রাখে। 'খ' সেগুলি বিক্রয় করার অধিকারী হওয়ার আগেই বিক্রয় করে। 'ক' ঋণের অর্থ পরিশোধ না করেই অলঙ্কারাদির দখলের জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলা অবশ্যই খারিজ হবে। কারণ 'ক' সেগুলির দখলের অধিকারী নয়, তার যতটুকু অধিকার তা হচ্ছে অলঙ্কারসমূহের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
 
(গ) 'ক', 'খ' কর্তৃক তার নিকট লিখিত একটি চিঠি পেল। 'খ', 'ক'-এর সম্মতি ছাড়াই উক্ত চিঠি ফিরিয়ে দিল। উক্ত চিঠিতে 'ক'-এর এমন এক স্বত্ব রয়েছে, যা তাকে 'খ'-এর নিকট হতে পুনরুদ্ধার করার অধিকারী করে।
 
(ঘ) 'ক', 'খ'-এর নিকট নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য বই এবং কাগজপত্র জমা রাখে। 'খ' সেগুলি হারিয়ে ফেলল এবং 'গ' সেগুলি পেল, কিন্তু 'খ' যখন আইনের ১৬৮ ধারা অনুসারে 'গ'-এর যদি কোন অধিকার জন্মে থাকে তবে তৎসাপেক্ষে 'গ'-এর নিকট হতে পুনরুদ্ধার করতে পারে।
 
(ঙ) গুদামরক্ষক 'ক'-এর দায়িত্ব ছিল 'খ'-এর নিকট কিছু মাল অর্পণ করায় যা 'ক'- এর দখল হতে 'খ' নিয়ে গেছে। 'ক', 'খ'-এর বিরুদ্ধে উক্ত মালামালের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
------------
SR Act: Section-10.Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.
 
Explanation 1 - A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2 - A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

Illustrations
(a) A bequeaths land to B for his life, with remainder to C. A dies. B enters on the land, but C, without B's consent, obtained possession of the title-deeds. B may recover them from C.
(b) A pledges certain jewels to B to secure a loan. B disposes of them before he is entitled to do so. A, without having paid or tendered the amount of the loan, sues B for possession of the jewels. The suit should be dismissed, as A is not entitled to their possession, whatever right he may have to secure their safe custody.
(c) A receives a letter addressed to him by B. B gets back the letter without A's consent. A has such a property therein as entitles him to recover it from B.
(d) A deposits books and papers for safe custody with B. B losses them, and C finds them but refuses to deliver them to B when demanded. B may recover them from C, subject to C's right, if any, under section 168 of the Contract Act, 1872.
 
(e) A, warehouse-keeper, is charged with the delivery of certain goods to Z, which B takes out of A's possession. A may sue B for the goods.
৯৭০.
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ যদি ক্ষুদ্র হয়, সাধারণত আদালত কোন আদেশ দিতে পারবে?
  1. সমস্ত অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  2. অসম্পাদিত অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
  3. চুক্তির যতটুকু অংশ সম্পাদনযোগ্য ততটুকু অংশ সম্পাদন করার জন্য
  4. 'খ' এবং 'গ' উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে চুক্তির সম্পাদযোগ্য অংশটি অসম্পাদনযোগ্য অংশের চেয়ে বড় হলে (Specific performance of part of contract where part unperformed is small)-
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
 
⇒  সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।

-যেমন- বিল্লাল, খলিলের কাছে ১০০ বিঘা জমি বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু পরে অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ঐ ১০০ বিঘার মধ্যে ২ বিঘা জমিতে বিল্লালের দখল নেই। এখানে বিল্লাল ২ বিঘা জমি বিক্রি করতে না পারার কারণে পুরো চুক্তির দায় থেকে রেহাই পাবে না। ৯৮ বিঘা জমি খলিলের কাছে বিক্রি করতে এবং অবশিষ্ট ২ বিঘার জন্য খলিলকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে আদালত বিল্লালকে নির্দেশ দিতে পারবে।
৯৭১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার বিধান ব্যতীত চুক্তির অংশবিশেষের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যায় না?
  1. ১৪ ধারার
  2. ১৫ ধারার
  3. ১৬ ধারার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৭ মোতাবেক, ধারা ১৪,১৫,১৬ এই তিনটি ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৭ ধারার বিধান: অন্যান্য ক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা:-
পূর্ববর্তী তিনটি (১৪,১৫,১৬) ধারায় যে কোনটির আওতাধীন মামলা ছাড়া বা অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন না।
----------------
SR Act- Section-17. Bar in other cases of specific performance of part of contract:
-The Court shall not direct the specific performance of a part of a contract except in cases coming under one or other of the three last preceding sections.
৯৭২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪১ ধারা অনুযায়ী দলিল বাতিল করা হলে কে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবে?
  1. দলিলের উভয় পক্ষ
  2. সরকার
  3. দলিল বিলুপ্তির রায় প্রাপ্ত পক্ষকে
  4. যে পক্ষের প্রতিকূলে দলিলটি বাতিল করা হয়েছে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা,৪১, যে পক্ষের জন্য দলিল বাতিল করা হইয়াছে সেই পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশদানের ক্ষমতা:লিল বাতিলের রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে এইরূপ প্রতিকার প্রদান করিয়াছে, সেই পক্ষকে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরপক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারবে।
---------------------
The Specific Relief Act,1877, Section 41, Power to require party for whom instrument is cancelled to make compensation: On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

৯৭৩.
কোন আইনের মাধ্যমে 'চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন' করা সম্ভব?
  1. সাক্ষ্য আইন
  2. দেওয়ানি কার্যবিধি।
  3. তামাদি আইন
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
ব্যাখ্যা
⇒ যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, সেগুলো সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। দেওয়ানী আদালত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ৪ টি ক্ষেত্রে বা ৪ ধরনের চুক্তিকে সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করাতে পারেন বা আদালতে চুক্তি প্রবলের মামলা করে ৪ ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়:
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।

- অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মাধ্যমে 'চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন' করা সম্ভব।
৯৭৪.
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদান আদালতের জন্য_______।
  1. বাধ্যতামূলক
  2. ইচ্ছাধীন
  3. ক এবং খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বোঝায় যা কোন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান মোতাবেক সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। 
♦ এই প্রতিকার সমূহ কেউ অধিকারবলে দাবী করতে পারবেন না; ইহা আদালতের ইচ্ছার(discretion) উপর নির্ভর করে থাকে। এই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা বা নামঞ্জুর করা আদালতের ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)। আইনটির ২২ ধারা আদালতকে এই ক্ষমতা অর্পণ করেছে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে আদালতকে আইন দ্বারা বাধ্য করা যায়না। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে আদালতের এই ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই স্বেচ্ছাচারীতামূলক হবে না বরং ন্যায় বিচার সহায়ক হবে।
৯৭৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রস্তাবনা অনুসারে আইনটি কোন ধরনের মামলার জন্য প্রযোজ্য?
  1. ফৌজদারি মামলা
  2. দেওয়ানি মামলা
  3. প্রশাসনিক মামলা
  4. সাংবিধানিক মামলা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) এর প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি "নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় প্রাপ্তিযোগ্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইনকে সংজ্ঞায়িত ও সংশোধন করার" জন্য প্রণীত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেওয়ানি মামলাগুলিতে এমন প্রতিকার প্রদান করা যা আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অধিকার বা সম্পত্তির পুনরুদ্ধার, চুক্তির বাস্তবায়ন, অথবা অবৈধ দখল থেকে মুক্তি নিশ্চিত করে।
- সুতরাং ​সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) মূলত দেওয়ানি মামলার জন্য প্রযোজ্য। 
​- অর্থাৎ, এটি এমন মামলায় ব্যবহৃত হয় যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার নির্দিষ্ট অধিকার বা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

​প্রস্তাবনা: যেহেতু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইন নির্ধারণ এবং সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; তাই এটি নিম্নরূপ প্রবর্তিত হলো:-
--------
Preamble: WHEREAS it is expedient to define and amend the law relating to certain kinds of specific relief obtainable in civil suits; It is hereby enacted as follows:

৯৭৬.
কোন ক্ষেত্রে একটি দেওয়ানী আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে
  2. প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের ক্ষেত্রে
  3. দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে
  4. সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা Discretionary power বলতে আদালতের এমন ক্ষমতাকে বোঝায় যা আদালত তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে কোন আদেশ প্রদান করতে আদালত বাধ্য নয়; অর্থাৎ আদালত সন্তুষ্ট হলে কোন আদেশ প্রদান করতে পারে আবার নাও পারে। বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই আইন ও ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজের অধিকারের সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োগ করতে হবে। বিবেচনামূলক ক্ষমতা যথেচ্ছা বা খুশিমত ব্যবহার করা যায় না।

⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন (ধারা-১২);
ii) দলিল সংশোধন, বাতিল, এবং রদ (ধারা ৩১-৩৯);
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি বা ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২-৪৩);
iv) রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (ধারা-৪৪);
v) প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা-৫২); এবং
vi) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা-৫৩ থেকে ৫৫)

⇒ যে সকল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। যথা-
i) সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা-৮); এবং
ii) স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা-৯)।

⇒ যেহেতুে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় প্রতিকারগুলো পাওয়া পক্ষগণের অধিকার, তাই ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
⇒ উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারার আওতায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ও অর্পণের ক্ষেত্র ব্যতীত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় অন্যান্য প্রতিকারের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
৯৭৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-১৮৭৭-এর কোন ধারায় চুক্তি বাতিল/রদ বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. ৩১ ধারা
  2. ৩৩ ধারা
  3. ৩৫ ধারা
  4. ৩৬ ধারা
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-১৮৭৭-এর ৩৫ ধারায় লিখিত চুক্তি বাতিল/রদ বিষয়ে বলা হয়েছে।
- তামাদি আইনের ১১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১ বছরের মধ্যে চুক্তি বাতিলের আবেদন করতে হয়।
- চুক্তিতে স্বার্থ আছে এমন যে কোন ব্যক্তি চুক্তি বাতিলের জন্য মোকদ্দমা করতে পারে।
৯৭৮.
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি _________ নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
  1. চুক্তি আইনে
  2. দেওয়ানি কার্যবিধিতে
  3. ব্যক্তিগত আইনে
  4. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ১:
এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

Section-10: Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.
Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.
৯৭৯.
What does Section 7 of the Specific Relief Act state regarding penal laws?
  1. Penal laws must be enforced through specific relief.
  2. Penal laws cannot be enforced through specific relief.
  3. Penal laws are always enforceable through the courts.
  4. Penal laws are only enforceable with monetary damages.
ব্যাখ্যা
• Section 7- Relief not granted to enforce penal law:
Specific relief cannot be granted for the mere purpose of enforcing a penal law.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে-
দণ্ডমূলক আইন বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
৯৮০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় কোন বিষয়ের ওপর আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন?
  1. দলিলের ভাষার সৌন্দর্য
  2. দলিলটি কে প্রস্তুত করেছেন
  3. দলিলের উদ্দেশ্য ও আইনি ফলাফল
  4. দলিলের স্বাক্ষরকারীদের পরিচয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী, আদালত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান বিষয় অনুসন্ধান করতে পারেন—
১) দলিলের উদ্দেশ্য (Intended Meaning): দলিলটি রচনার সময় পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা বিচার করা হয়।
২) দলিলের আইনি ফলাফল (Legal Consequences): দলিল অনুযায়ী কী ধরনের আইনি অধিকার বা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, সেটিও আদালত বিবেচনায় নেন।
- এই অনুসন্ধান শুধুমাত্র দলিলের ভাষার উপর সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আইনি পরিণতির ওপর ভিত্তি করে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
- In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
৯৮১.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কিভাবে মঞ্জুর করা যায়?
  1. ডিক্রির মাধ্যমে
  2. মোকদ্দমা চলাকালীন যে কোন সময়ে
  3.  মোকদ্দমার শুরুতে
  4. মোকদ্দমার শেষে আদেশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
-----------------------
⇒ Section 53 Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.

Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

৯৮২.
নিচের কোনটি পদ্ধতিগত আইন নয়?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি
  2. সাক্ষ্য আইন
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
  4. তামাদি আইন
ব্যাখ্যা
♦যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।

♦ কিন্তু এই অপরাধের বিচার পদ্ধতি দণ্ডবিধিতে উল্লেখ করা হয়নি। দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত অপরাধের বিচার করার পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে ফৌজদারী কার্যবিধিতে। এই কারণে ফৌজদারী কার্যবিধি হলো পদ্ধতিগত আইন।
৯৮৩.
নিম্নের কোন বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রি দেওয়া যায় না?
  1. আইনগত মর্যাদা
  2. পদের অধিকার
  3. সম্পত্তির অধিকার
  4. চুক্তি উদ্ভূত আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
 
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।
 
⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ কিন্তু চুক্তি উদ্ভূত আইনগত অধিকারে বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রি দেওয়া যায় না।
 
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।ঃ
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 
⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৯৮৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা অনুসারে, যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই, সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিবে
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি দিবে
  3. আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিবে
  4. কোনো আদেশ দিবে না
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:

এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
৯৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা অনুসারে কেবলমাত্র ভুলের কারনে- 
  1. চুক্তি রদ করা যায়
  2. চুক্তি রদ করা যায় না
  3. চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না 
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা,ভুলের জন্য রদ:
কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিল করা হবে তাকে অনুরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় যেন চুক্তি করা হয়নি।
--------------
Section 36: Rescission for mistake
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.

৯৮৬.
মোকদ্দমা চলাকালীন সময়ে বিষয়বস্তু স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদালত কোন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করিবেন?
  1. Prohibitory Injunction,
  2. Temporary Injunction,
  3. Mandatory Injunction,
  4. Perpetual Injunction,
ব্যাখ্যা
⇒ নিষেধাজ্ঞা হল একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম যেখানে কোন পক্ষকে নির্দিষ্ট কোন কাজ করা বা করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।

⇒  নিষেধাজ্ঞার প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথাক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অনন্তকালের জন্য চলতে পারে। মামলার রায় চূড়ান্ত আদেশ হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

⇒  মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।

⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের বিধি-১ বা বিধি-২ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পিটিশন দাখিল করতে হয়।

⇒  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনার সময় আবেদনকারীকে কিছু বিষয় প্রমাণ করতে হবে –
(১) আবেদনকারীকে অবশ্যই (Prima facie case) প্রমাণ করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
(২) আবেদনকারী আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করবে যে অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable loss) হবার সম্ভাবনা আছে। যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি বলতে সেই ক্ষতিকে বুঝাবে যা অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
(৩) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেরে আদালত (The balance of convenience and inconvenience of the Parties) বিবেচনা করেন। তাই আবেদনকারীকে সুবিধা এবং অসুবিধার ভারসাম্য আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) জনস্বার্থে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা যায়। যা সাধারণত সরকারের বিপক্ষে করা হয়। সেই ক্ষেত্রে জনস্বার্থ (Public interest) বিষয়টি কার্যকর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------- 
⇒ Section 53 Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
 
Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৯৮৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা "পক্ষ ও তাদের অধিকারী ব্যক্তি যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যেতে পারে" তা নির্ধারণ করে?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ২০
  3. ধারা ২২
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২৭-এর শিরোনামই হলো "Relief against parties and persons claiming under them by subsequent title" অর্থাৎ "পক্ষ ও তাদের অধিকারী ব্যক্তি যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যেতে পারে"।
- এই ধারা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয় যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা যেতে পারে:
- চুক্তির যেকোনো পক্ষ
- চুক্তির পরবর্তী সময়ে অধিকারী দাবিদার
- নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কোম্পানি ইত্যাদি।
অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) ধারা ২৭।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭- ধারা ২৭: পক্ষ ও তাদের অধিকারী ব্যক্তি যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যেতে পারে:
এই অধ্যায়ে অন্যথায় নির্ধারিত না থাকলে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন নিম্নলিখিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা যেতে পারে:
(ক) চুক্তির যেকোনো পক্ষ;
(খ) যে কোনো ব্যক্তি যে পক্ষের অধিকারী হয়ে, চুক্তির পরবর্তী সময়ে যে অধিকার দাবি করে, তবে এমন একজন ট্রান্সফারি যিনি সদ্ভাবে এবং মূল চুক্তি সম্পর্কে অবগত না হয়ে মূল্য পরিশোধ করেছেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যাবে না;
(গ) যে কোনো ব্যক্তি যে চুক্তির আগে কোনো অধিকার দাবি করে, যা বাদী জানতেন এবং যার বিরুদ্ধে বিবাদী সেটি বাতিল করতে সক্ষম ছিল;
(ঘ) যখন একটি পাবলিক কোম্পানি একটি চুক্তি সম্পাদন করে এবং পরে অন্য একটি পাবলিক কোম্পানির সাথে একত্রীভূত হয়ে নতুন কোম্পানি গঠন হয়, তখন সেই নতুন কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রথম চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যেতে পারে;
(ঙ) যখন পাবলিক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতারা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগেই একটি চুক্তি সম্পাদন করেন, তখন সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যেতে পারে, তবে শর্ত হলো কোম্পানি চুক্তিটি অনুমোদন ও গৃহীত করেছে এবং প্রতিষ্ঠার শর্তাবলীর সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
-------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section- 27.Relief against parties and persons claiming under them by subsequent title
 Except as otherwise provided by this Chapter, specific performance of a contract may be enforced against- 
(a) either party thereto; 
(b) any other person claiming under him by a title arising subsequently to the contract, except a transferee for value who has paid his money in good faith and without notice of the original contract; 
(c) any person claiming under a title which, though prior to the contract and known to the plaintiff, might have been displaced by the defendant; 
(d) when a public company has entered into a contract and subsequently becomes amalgamated with another public company, the new company which arises out of the amalgamation; 
(e) when the promoters of a public company have, before its incorporation, entered into a contract, the company: provided that the company has ratified and adopted the contract and the contract is warranted by the terms of the incorporation. 

৯৮৮.
নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক রেলওয়ের শেয়ার 'ক' বিক্রয় করতে এবং 'খ' ক্রয় করতে চুক্তি করেছে। 'ক' বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে 'খ' এর প্রতিকার হতে পারে?
  1. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
  3. 'খ' এর কোন প্রতিকার নেই
  4. চুক্তি রদ
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-
ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে।
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে।
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে।
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভবনা না থাকলে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

⇒  খ.গ, এবং ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলা যায় চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ণয়ের কোন মানদণ্ড না থাকলে বা পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ না থাকলে বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া না গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে। বিপরীতভাবে বলা যায়, আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হলে বা নির্ণয় করা গেলে বা পাওয়া গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার দিবেনা বরং ক্ষতিপূরণ প্রতিকার দিবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদিনা এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ভিন্ন কিছু প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না, এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার এভাবে করা যায়।

⇒ 'ক' বিশেষ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যক রেলওয়ে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'ক' বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে শেয়ার বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং 'খ' তা ক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'ক' বিক্রয় সম্পন্ন করতে অস্বীকার করে, 'খ', 'ক'-কে এই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের বাধ্য করতে পারে, কারণ শেয়ার সংখ্যার দিক হতে সীমাবদ্ধ এবং তা সব সময় বাজারে পাওয়া যাবে না এবং সেগুলির দখল একজন শেয়ার হোল্ডারের মর্যাদা বহন করে, যা অন্য কোনভাবে করা যায় না।
৯৮৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫ অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কতটি উপায়ে প্রদান করা যায়?
  1. ৩টি উপায়ে
  2. ৪টি উপায়ে
  3. ৫টি উপায়ে
  4. ৬টি উপায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫ অনুসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিম্নলিখিত ৫টি উপায়ে প্রদান করা যায়:
১. ধারা ৫(ক): নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে দাবিদারকে হস্তান্তরের মাধ্যমে। 
২. ধারা ৫(খ): কোন পক্ষকে তার বাধ্যতামূলক কাজ সম্পাদনের আদেশ দেওয়ার মাধ্যমে। 
৩. ধারা ৫(গ): কোন পক্ষকে তার নিষিদ্ধ কাজ করা থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে। 
৪. ধারা ৫(ঘ): ক্ষতিপূরণের ডিক্রি ছাড়াই পক্ষগুলোর অধিকার নির্ধারণ ও ঘোষণার মাধ্যমে। 
৫. ধারা ৫(ঙ): একজন রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে। 
এই ৫টি উপায়ই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মূল ভিত্তি গঠন করে এবং দেওয়ানি মামলায় বিশেষ প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত এই পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করেন।

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ অনুসারে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) প্রদানের উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত অধিকার রক্ষা করা এবং ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রতিকার নিশ্চিত করা। এটি নিম্নলিখিত উপায়ে প্রদান করা হতে পারে—
১) সম্পত্তির দখল গ্রহণ ও দাবিদারের কাছে হস্তান্তর করা
২) বাধ্যতামূলক নির্দেশের মাধ্যমে কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা
৩) কাউকে নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখা (Preventive Relief)
৪) পক্ষগুলোর অধিকার নির্ধারণ করা (Declaration of Rights)
৫) আদালতের মাধ্যমে রিসিভার (Receiver) নিয়োগ করা
- এটি শাস্তি প্রদান বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় না বরং প্রতিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার প্রকৃত অধিকার ফিরে পান বা নিশ্চিত করেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.

৯৯০.
Mandatory Injunction সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বিধান রয়েছে?
  1. ৫২ ধারায়
  2. ৫৩ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারামতে বাধ্যতামূলক বা আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory injunction) হল কোন প্রত্যক্ষ কাজ (Positive act) অথবা আইনসঙ্গত বাধ্যবাধকতা (legal obligation) পরিপূর্ণ করার আদেশ যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে যা করা হয়েছিল তা নষ্ট করা অথবা কোন জিনিসকে পূর্ববর্তী অবস্থায় স্থাপন (Restore) করার নির্দেশ থাকে। আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা এমন একটি আদেশ যার মাধ্যমে আদালত বিবাদীকে তার সৃষ্ট কোন অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য কোন প্রত্যক্ষ কাজ (positive act) করতে নির্দেশ দেন অথবা তার আইনসঙ্গত বাধ্যবাধকতা পরিপূর্ণ করতে বাধ্য করেন। অর্থাৎ আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে বিবাদীর আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য নির্দিষ্ট কোন কাজ সম্পাদন করতে তাকে বাধ্য করে।
৯৯১.
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি কোন আইনের পন্থা অনুযায়ী তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারবেন?
  1. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭
  2. ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮
  3. দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮
  4. দণ্ডবিধি, ১৮৬০
ব্যাখ্যা

ধারা ৮, সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার: সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি উহা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন।
---------------
Section 8, Recovery of specific immovable property: A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.

৯৯২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী আদালত নিচের কোন পন্থায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে না?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  2. আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে
  3. সম্পত্তির দখল দাবিদারকে অর্পণের মাধ্যমে
  4. যে কাজ করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আছে তা করার আদেশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা 
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

-যদিও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫(ঘ) ধারা অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় না।
SR Act- Section-5.Specific relief how given:
Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
৯৯৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক(খ) অনুসারে, বিক্রয় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. রায় ঘোষণার সময়
  2. মামলা দায়েরের সময়
  3. চুক্তি সম্পাদনের সময়
  4. বিচার্য বিষয় গঠনের সময়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়:
১. চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর অধীনে নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রিকৃত) হতে হবে।
২. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হবে।
এই ধারা অনুযায়ী, বিক্রয় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হয়।
অর্থাৎ, যখন বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়, তখনই অবশিষ্ট মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে। এটি চুক্তি সম্পাদনের সময়, রায় ঘোষণার সময় বা বিচার্য বিষয় গঠনের সময় জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: খ) মামলা দায়েরের সময়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

৯৯৪.
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called _______ relief.
  1. temporary
  2. preventive
  3. mandatory
  4. substantive
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান: নিরোধক প্রতিকার: ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 6- Preventive relief:
-Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
৯৯৫.
কত বছরের মধ্যে দলিল সংশোধনের মামলা দায়ের করতে হয়?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
-The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৯৬ এর বিধান ভুলের কারণে প্রতিকার লাভের মামলার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
 
- প্রতারণা বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের কারণে লিখিত দলিল বা চুক্তি সত্যিকারভাবে পক্ষগণের উদ্দেশ (intention) প্রকাশ না করলে, প্রকৃত উদ্দেশ্য দলিলে সন্নিবেশ করার জন্য দলিল সংশোধন করা যায়।
 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার অধীন দলিল সংশোধনের প্রতিকার শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে  বা অন্য যেকোনো লিখিত দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে।
- দলিল সংশোধন করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। (Discretionary Power)
- চুক্তি বা দলিলের পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিরা দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারে।
-  দলিল সংশোধনের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর (‘তামাদি আইন, ১৯০৮' অনুচ্ছেদ ৯৫ ও ৯৬)।
---------------------------------
SR Act-Section-31. When instrument may be rectified:
-When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
৯৯৬.
How is preventive relief granted?
  1. By the choice of the plaintiff
  2. By the discretion of the Court
  3. By the discretion of the defendant
  4. By mutual agreement of both parties
ব্যাখ্যা
Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
৯৯৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য বলে গণ্য করতে হয়?
  1. The Registration Act, 1908
  2. The Code of Civil Procedure, 1908
  3. The Contract Act, 1872
  4. The Evidence Act, 1872
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে,
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এ যেসব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যেসব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
[all words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.]
৯৯৮.
Under which clause of Section 5 of The Specific Relief Act, 1877 is preventive relief granted?
  1. Clause (a)
  2. Clause (b)
  3. Clause (c)
  4. Clause (d)
ব্যাখ্যা
Section 6- Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.

৬ ধারা: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
৯৯৯.
যদি কোনো চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত যেটুকু সম্ভব সেই অংশের জন্য চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে যদি বাদী পক্ষ-
  1. বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে
  2. বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি না করে
  3. বাকি অংশের বাস্তবায়নের দাবি না করে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৫:
যদি একটি চুক্তির কোনো পক্ষ তার দায়িত্বের সবটুকু পালন করতে না পারে এবং যেই অংশটুকু অপূর্ণ থাকবে, সেটি চুক্তির একটি বড় অংশ হয় অথবা অর্থ প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে সেই পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের জন্য রায় পাওয়ার যোগ্য নয়। তবে অন্য পক্ষের মামলায়, আদালত বিলম্বকারী পক্ষকে যেটুকু সম্ভব তাই সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে এবং বিবাদী পক্ষের বিলম্বের কারণে হওয়া ক্ষতি বা ক্ষয়ের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে।

[Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.]

এই নীতি অনুসারে,
যদি একটি চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত পুরোপুরি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের রায় দিতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে আদালত যেটুকু সম্ভব, সেইটুকুর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে এবং আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে। অর্থাৎ বাদীকে সীমিত বাস্তবায়নই গ্রহণ করতে হবে।
১,০০০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার অধীনে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে-
  1. স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ববান ব্যক্তি
  2. স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব এবং মালিকানা আছে এমন কোনো ব্যক্তি
  3. স্থাবর সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে বেদখল হয়েছে এইরূপ ব্যক্তি
  4. স্থাবর সম্পত্তিতে দখলে আছে এইরূপ ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান- স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।