বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রণালী, সীমারেখা ও অন্যান্য ভৌগোলিক বিষয় সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩৭৯এই পাতা৭৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রণালী, সীমারেখা ও অন্যান্য ভৌগোলিক বিষয় সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩৭৭ / ৩৭৯

৩০১.
শাত-ইল-আরব হলো-
  1. ইরাবতি ও সালুইন নদীর মিলিত প্রবাহ
  2. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
  3. আমুদরিয়া ও শীরদরিয়া নদীর মিলিত প্রবাহ
  4. তারিম নদী ও হেলমন্দ নদীর মিলিত প্রবাহ
ব্যাখ্যা
শাত-ইল-আরব:

- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ।
- এই জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ হয়েছিল।
- তার আগে, শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।

উৎস: Britannica.
৩০২.
পানামা খাল খনন সম্পন্ন হয় কত সালে?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯১০ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর সংযোগকারী কৌশলগত জলপথ। 
- পানামা খাল একটি লক-টাইপ খাল।
- খালটি পানামার সরু ভূমি দিয়ে আটলান্টিক (বিশেষত ক্যারিবিয়ান সাগর) এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- খালটি ১৯১৪ সালের আগস্টে খনন সম্পন্ন হয়।
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের একটি (অন্যটি সুয়েজ খাল)।
- যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের মধ্যে ভ্রমণকারী জাহাজগুলো কেপ হর্ন ঘুরে আসার পরিবর্তে প্রায় ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল (১৫,০০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- উত্তর আমেরিকার একটি উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার বিপরীত পাশে বন্দরগুলোর যাত্রাপথে প্রায় ৩,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৬,৫০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার যাত্রাপথে প্রায় ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- পানামা খাল বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য এবং নৌচলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু।

উৎস: Britannica.
৩০৩.
Which canal connects the Atlantic Ocean with the Pacific Ocean?
  1. Corinth Canal
  2. Grand Canal
  3. Suez Canal
  4. Panama Canal
  5. None of these
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- এই খালটি তৈরি করা হয়েছিলো ১৯১৪ সালে।
- তৈরি করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
- এ খালের মালিকানা ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ছিল।
- এরপর তা পানামা রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ,
- এশিয়া থেকে আমেরিকা পর্যন্ত পণ্য আমদানি-রফতানির অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ পানামা খাল।

উৎস: Britannica.
৩০৪.
মিশর কত সালে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে?
  1. ১৯৫৬
  2. ১৮৮৯
  3. ১৮৫৬
  4. ১৯৪৫
ব্যাখ্যা

• সুয়েজ খাল
- এটি একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল যা লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করেছে।

- ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দ্য লেসেপ্সের উদ্যোগে ১৮৫৯ সালে সুযেজ খালের খননকার্য শুরু হয়।
- ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর খালটি নৌ চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত‍ করে দেওয়া হয়।

- শুরুতে খালটি ফ্রান্স ও মিশরের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে মিশর তার ৪৪ ভাগ শেয়ার ব্রিটেনের নিকট বিক্রি করে দেয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের গামাল আবদেল নাসের সরকার সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন।
- এর ফলে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সাথে মিশরের যুদ্ধ বেধে যায় যা ‘দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ’ বা ‘সুয়েজ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
- বর্তমানে সুয়েজ খাল মিশর সরকারের অধীন ‘সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে সুয়েজ খাল সবদেশের জন্যে সকল ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের চন্যে উন্মুক্ত থাকবে।

উৎস: সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।

৩০৫.
ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে কোন প্রণালি?
  1. বেরিং প্রণালি
  2. জিব্রাল্টার প্রণালি
  3. পক প্রণালি
  4. সুন্দা প্রণালি
ব্যাখ্যা
• জিব্রাল্টার প্রণালি:
- ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে অবস্থিত এই প্রণালীটি স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে বিস্তৃত।
- জিব্রাল্টার প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

⇒ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  প্রণালী:
• সুন্দা প্রণালি:
- সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এই প্রণালীটি ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। ।
- সুন্দা প্রণালি ইন্দোনেশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি।

• বেরিং প্রণালি:
- এই প্রণালীটি উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- যা আলাস্কার প্রদেশ ও রাশিয়ার শাখালিন দ্বীপের মধ্যে বিস্তৃত।
- বেরিং প্রণালি বেরিং সাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করে।

• পক প্রণালি:
- ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে অবস্থিত ।
- এই প্রণালীটি ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- পক প্রণালি প্রায় ২৭ কিলোমিটার প্রশস্ত ।
- এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• মালাক্কা প্রণালি:
- মালয় উপদ্বীপ ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এই প্রণালীটি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- মালাক্কা প্রণালি বিশ্বের ব্যস্ততম শিপিং রুটগুলোর একটি।

উৎস: Britannica.
৩০৬.
কোনটি ভারত ও পাকিস্তানের সীমারেখা নির্দেশ করে?
  1. ডুরান্ড লাইন
  2. ম্যানারহেইম লাইন
  3. ম্যাকমোহন লাইন
  4. র‍্যাডক্লিফ লাইন
ব্যাখ্যা
র‍্যাডক্লিফ লাইন:
- ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্টব্যাটেন তার ভারত বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্যে ব্রিটিশ সরকার স্যার সিরিল জন র‍্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে র‍্যাডক্লিফ কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশনের অধীন বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন ও পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ প্রকাশ করা হয়।
- এর ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।
- ভারত-পাকিস্তানের সীমানাকে র‍্যাডক্লিফ লাইন বলা হয়।

অন্যদিকে -
- ম্যাকমোহন লাইন হলো চীন ও ভারতের মধ্যে কার্যকরী সীমানা।
- ম্যানারহেইম লাইন হলো ফিনল্যান্ড ও রাশিয়াকে বিভক্ত করেছে।
- ডুরান্ড লাইন আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত একটি সীমান্ত রেখা বা লাইন।

উৎস: Britannica.
৩০৭.
”ইংলিশ চ্যানেল” কোন দুটি দেশকে পৃথক করেছে? 
  1. গ্রিনল্যান্ড– কানাডা
  2. ফ্রান্স – ব্রিটেন
  3. আয়ারল্যান্ড -পোল্যান্ড
  4. পোল্যান্ড-ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

ইংলিশ চ্যানেল:
- ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি চ্যানেল।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে।
- এই চ্যানেল উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি (৩৫০ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থে ২৪০ কিমি (১৫০ মাইল)।
- ডোভার প্রণালী হলো এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস: Britannica.

৩০৮.
সুয়েজ খাল কোথায় অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সুয়েজ খাল- 
- মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত সুয়েজ খাল মনুষ্য নির্মিত একটি কৃত্রিম খাল। 
- খালটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে।
- ১৮৫৯ সালে শুরু হয়ে দশ বছর ধরে চলে এই খনন কাজ।
- ১৮৬৯ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় এটি।
- মিশর ১৯৫৬ সালে সুয়েল খালকে জাতীয়করণ করে।

উৎস: Suez Canal Authority.

৩০৯.
কোরিয়া প্রণালির ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত
  2. জাপান সাগর এবং পূর্ব চীন সাগরকে যুক্ত করেছে
  3. জাপান ও কোরিয়াকে পৃথক করেছে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
কোরিয়া প্রণালি:
- কোরিয়া প্রণালী, উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
- পূর্ব চীন সাগর থেকে জাপান সাগর (পূর্ব সাগর) পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণ উপকূল (উত্তর-পশ্চিম) এবং জাপানি দ্বীপ কিউশু এবং হনশু পর্যন্ত বিস্তৃত।
- 300 ফুট (90 মিটার) গভীর এই প্রণালীটি সুশিমা দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা বিভক্ত।
- প্রণালিটি জাপান সাগর এবং পূর্ব চীন সাগরকে যুক্ত করেছে।
- পৃথক করেছে জাপান ও কোরিয়াকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩১০.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমারেখাটি কোন সালে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয়?
  1. ১৯৪৮
  2. ১৮৪৮
  3. ১৭৮৪
  4. ১৮৮৪
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
-মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমারেখা।
-১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমারেখাকে মূল মধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমারেখা) হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১১.
কোন মালভূমিকে “Roof of the earth” বলা হয়?
  1. গোলান মালভূমি
  2. দাক্ষিণাত্য মালভূমি
  3. পামীর মালভূমি
  4. কলোরাডো মালভূমি
ব্যাখ্যা
পামির মালভূমি:
- সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ – ৬০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত, উপরিভাগ প্রায় সমতল বা তরঙ্গায়িত এবং চারিদিক খাড়া ঢালযুক্ত বিস্তৃত ভূমিকে মালভূমি বলে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভূমির নাম পামীর মালভূমি।
- স্থানীয় ভাষায় এর উচ্চারণ হচ্ছে ‘পমির’। যার অর্থ হচ্ছে সূর্যের পা।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামির পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- সম্মিলিতভাবে পামির পর্বতশ্রেণির সংলগ্ন মালভূমিটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মালভূমি অঞ্চল।
- এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল।
- এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে 'পৃথিবীর ছাদ (Roof of the earth)' বলা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩১২.
ওডারনীস নদী -
  1. পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে সীমা নির্ধারক
  2. পশ্চিম জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সীমা নির্ধারক
  3. পশ্চিম জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে সীমা নির্ধারক
  4. সংযুক্ত জার্মান ও ফ্রান্সের মধ্যে সীমা নির্ধারক
ব্যাখ্যা
ওডারনীস নদী পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে সীমা নির্ধারক।

ওডার নদী:
- ওডার নদী উত্তর মধ্য ইউরোপের একটি নদী।
- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ।
- এটি চেক প্রজাতন্ত্রের ওলোমুকের কাছে উৎপত্তি লাভ করে উত্তর-পূর্বে প্রবাহিত হয়ে পোল্যান্ডে প্রবেশ করেছে।
- দেশটির দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী হিসেবে রাসিবর্জ, ওপোলে, রোকলভ এবং কোস্ত্রজিনের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সজেসিনের কাছে বাল্টিক সাগরে পতিত হয়েছে।
- নদীটি ৯১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং রাসিবর্জ পর্যন্ত নাব্য।
- ওডার নদী খালের মাধ্যমে পূর্ব জার্মানির ষ্প্রে, হাভেল এবং লাবে নদীর সাথে সংযুক্ত।

⇒ ওডার-নীস লাইন:
- ওডার-নীস লাইন হলো জার্মানি এবং পোল্যান্ডের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা। 
- পটসডাম সম্মেলনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি টানা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ওডার নদী জার্মানির সীমানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হত।
- ১৯৪৫ সালে জার্মানির পরাজয়ের পর ওডার ও নীস নদী ধরে জার্মানি ও পোল্যান্ডের একটি সাময়িক সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়।
- পশ্চিম জার্মানি সরকার সীমান্তটি স্বীকৃতি দিতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দেরি করে।
- ১৯৯০ সালে পশ্চিম ও পূর্ব জার্মানি একত্র হলে ১৯৪৫ সালের সীমান্তটি কার্যকর করা হয়।

উৎস: Britannica.
৩১৩.
এশিয়াকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালি? 
  1. বেরিং প্রণালি
  2. জিব্রাল্টার প্রণালি
  3. বাবেল মান্দেব প্রণালি
  4. বসফরাস প্রণালি
ব্যাখ্যা

বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।
- এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ ‘কান্নার দ্বার’।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৩১৪.
নিরক্ষরেখার অপর নাম কী?
  1. বিষুবরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা : 
- গোলাকার পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশের ঠিক মাঝ বরাবর যে রেখা পূর্ব–পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)। 

উল্লেখ্য,
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। 
- আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৫.
পারস্য উপসাগরে প্রবেশের একমাত্র সামুদ্রিক পথ হিসেবে বিবেচিত হয় কোনটি?
  1. পক প্রণালী
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা
হরমুজ প্রণালী:
- হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর (পশ্চিম) এবং আরব সাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্তকারী চ্যানেল।
- এই প্রণালী পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ।
- এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- এই প্রণালীটি ৩৫ থেকে ৬০ মাইল (৫৫ থেকে ৯৫ কিমি) প্রশস্ত এবং ইরানকে (উত্তর) আরব উপদ্বীপ (দক্ষিণ) থেকে পৃথক করে।
- প্রণালিটির সবচেয়ে সরু অংশ ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল) চওড়া।
- এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত জলপথ।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তেল রপ্তানি করা হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে।
- যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
- সংস্থাটি একে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ’ বলে বর্ণনা করে।

উল্লেখ্য,
ক) পক প্রণালী- ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে অবস্থিত একটি প্রণালী, যা বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
গ) বেরিং প্রণালী- এশিয়া মহাদেশ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ পৃথক করেছে।
ঘ) জিব্রাল্টার প্রণালী- ইউরোপ মহাদেশ থেকে আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, পত্রিকা রিপোর্ট।
৩১৬.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক ও উত্তর মহাসাগর
  3. আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর
  4. উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

• পানামা খাল:
- পানামা খালটির নির্মাণ কাজ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।

- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
-  ১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।
- খালটি উত্তর আমেরিকার দেশ পানামাতে অবস্থিত।
- আটালান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩১৭.
The 'Sunda Strait' added -
  1. Indian Ocean and Pacific Ocean
  2. Indian Ocean and South Chinese Sea
  3. Java sea and Bay of Bangle
  4. Arab Sea and Indian Ocean
  5. Indian Ocean and Java Sea
ব্যাখ্যা
সুন্দা প্রণালী:
- সুন্দা প্রণালী ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরকে যুক্ত করেছে।
- এটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রা দ্বীপকে পৃথক করেছে।
- সুন্দা প্রণালী ব্যতীত মালাক্কা প্রণালীও ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।

অন্যদিকে,
- পক প্রণালী ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর ও পক উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
- ফরমোজা প্রণালী প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরকে যুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালী ভূম্যসাগরকে উত্তর আটলান্টিক সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।

উৎস: WorldAtlas.
৩১৮.
'Line of Control (LoC)' কোন দুটি দেশের সীমান্তবর্তী রেখা?
  1. ভারত ও চীন
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. পাকিস্তান ও চীন
  4. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Control - LoC):
- LoC এর পূর্ণরূপ হলো "লাইন অফ কন্ট্রোল" (Line of Control)।
- LoC মূলত সেই রেখা যা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এবং ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলের মধ্যে সীমারেখা চিহ্নিত করে।
- LoC কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সীমান্ত নয়, বরং এটি একটি বাস্তবিক (de facto) সীমান্ত, যা উভয় দেশের মধ্যে সামরিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ করে।
- এই রেখাটি প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

উল্লেখ্য,
- LoC-এর সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭-৪৮ সালে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে প্রতিষ্ঠিত Ceasefire Line (CFL) থেকে।
- ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয় এবং করাচি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে বলা হয়: “জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে একটি পারস্পরিকভাবে সম্মত যুদ্ধবিরতির রেখা স্থাপন করা হবে যা ১ জানুয়ারি ১৯৪৯ থেকে কার্যকর হবে।”
- এরপর ১৯৭২ সালের ২ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের জুলফিকার আলি ভুট্টো সিমলা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তির মাধ্যমে পূর্ববর্তী Ceasefire Line-এর পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) প্রতিষ্ঠিত হয়।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি এবং ব্রিটানিকা।
৩১৯.
Which country has the longest land border with India?
  1. Bangladesh
  2. Pakistan
  3. China
  4. Nepal
  5. Myanmar
ব্যাখ্যা
ভারতের স্থল সীমান্ত:
- ভারতের সাথে সবচেয়ে দীর্ঘ স্থল সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের।
- ভারত ও বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত: ৪১৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- পাকিস্তানের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৩১৯০ কিলোমিটার।
- চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ২৬৫৯ কিলোমিটার।
- নেপালের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ১৭৫১ কিলোমিটার।
- মিয়ানমারের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ১৬৪৩ কিলোমিটার।

উৎস: World Atlas.
৩২০.
আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশকে বিভক্ত করে-
  1. মালাক্কা প্রণালী
  2. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  3. জিব্রাল্টার প্রণালী
  4. বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা
• বাব এল মান্দেব প্রণালী :
- লোহিত সাগর এবং এডেন সাগরকে যুক্ত করে।
- আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশকে বিভক্ত করে।

• বেরিং প্রণালী :
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশকে বিভক্ত করে।
- প্রশান্ত মহাসাগর এবং উত্তর মহাসাগরকে যুক্ত করে।

• জিব্রাল্টার প্রণালী :
- ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্তকারী চ্যানেল ,
- এটি স্পেন এবং আফ্রিকার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশকে বিভক্ত করে।

• মালাক্কা প্রণালী :
- আন্দামান সাগর ( ভারত মহাসাগর ) এবং দক্ষিণ চীন সাগর ( প্রশান্ত মহাসাগর ) এর মধ্যে সংযোগকারী জলপথ ।
- এটি সুমাত্রা এবং মালয়েশিয়া পৃথক করে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং worldatla.
৩২১.
বাংলাদেশে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয় -
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
জিআইএস (GIS):
- GIS-এর পূর্ণরূপ: Geographic information systems.
- GIS হলো ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।
- সাধারণ অর্থে জিআইএস বলতে স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সমন্বয় করে তা মানচিত্রে উপস্থাপন করাকে বুঝায়।
- অর্থাৎ জিআইএস হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো তথ্য ধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অবস্থানের চিত্র বর্ণনা করা।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- সত্তরের দশকে নগর পরিকল্পনায় প্রথম কম্পিউটারভিত্তিক জিআইএস ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৮০ সালের পর জিআইএস এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
- বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়

⇔ জিআইএসের উপাদান (Elements of GIS):
- জিআইএস পাঁচটি উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে থাকে।
১. হার্ডওয়্যার
২. সফট্ওয়্যার
৩. উপাত্ত
৪. উপাত্ত ভিত্তি এবং
৫. প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ৷

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২২.
নিচের কোনটি  চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ?
  1. ইতালির ভিসুভিয়াস
  2. উত্তর আমেরিকার রকি 
  3. জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট
  4. যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
ব্যাখ্যা

• ভঙ্গিল পর্বত:
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

• আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। একে সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে। এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে। 
​- আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

• চ্যুতি-স্তূপ পর্বত: 
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়। এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়। ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে। ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়। চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তুপ পর্বত বলে।
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

• ল্যাকোলিথ পর্বত:
- পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন গ্যাসের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো সময় বাধা পেয়ে এগুলো ভূপৃষ্ঠের উপরে না এসে ভূত্বকের নিচে একস্থানে জমাট বাঁধে। ঊর্ধ্বমুখী চাপের কারণে সস্ফীত হয়ে ভূত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে। এভাবে সৃষ্ট পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে । 
যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।

৩২৩.
নিচের কোনটি জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যবর্তী সীমারেখা?
  1. সিগফ্রিড লাইন
  2. লাইন অব কন্ট্রোল
  3. ম্যানারহেইম রেখা
  4. হিনডেন বার্গ লাইন 
ব্যাখ্যা

- সিগফ্রেড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স, মধ্যবর্তী সীমারেখা।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমারেখা:

- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তান,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান,
- লাইন অব কন্ট্রোল (LOC): ভারত ও পাকিস্তান,
- ম্যাগিনট লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- সিগফ্রেড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিনডেন বার্গ লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।

উৎস: Britannica.

৩২৪.
হরমুজ প্রণালী পৃথক করেছে -
  1. ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
  2. সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর
  3. ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
  4. মিশর ও সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
হরমুজ প্রণালী:
- হরমুজ প্রণালী হলো পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী জলপথ, যা উত্তরে ইরান ও দক্ষিণে সংযুক্ত আরব আমিরাত (আরব উপদ্বীপ) কে পৃথক করেছে।
- প্রণালীর প্রস্থ ৫৫ থেকে ৯৫ কিমি (৩৫ থেকে ৬০ মাইল) এবং এতে কেশম, হরমুজ ও হেঙ্গাম দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত।
- এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত জলপথ, কারণ—
- বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
- বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই প্রণালী দিয়ে যায়।

উৎস: Britannica.
৩২৫.
'লোম্বক প্রণালি' কোনো দেশে অবস্থিত? 
  1. ইন্দোনেশিয়া 
  2. রাশিয়া
  3. ফিলিপাইন 
  4. মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা

• লম্বক প্রণালী (Lombok Strait): 
- একটি প্রণালী (Strait) হলো প্রাকৃতিকভাবে গঠিত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা দুটি স্থলভাগের মধ্যে অবস্থান করে এবং দুটি বড় জলরাশিকে সংযুক্ত করে।
- লম্বক প্রণালী ইন্দোনেশিয়ার লম্বক ও বালি দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ভারত মহাসাগরকে জাভা সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।

- লম্বক প্রণালী ৬০ কিমি দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ গভীরতা ২৫০ মিটার (৮২০ ফুট)।
- এটি প্রায়শই একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ভারি মালবাহী জাহাজ (Bulk Carriers) এবং সুপারট্যাংকারগুলো যেগুলো আরব দেশ থেকে চীনে তেল বা অন্যান্য পণ্য পরিবহন করে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস। (Link) 

৩২৬.
কোন অঞ্চল 'রোয়ারিং ফর্টিস' নামে পরিচিত?
  1. আফ্রিকা মহাদেশের চল্লিশটি দেশ
  2. দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
  3. বিশ্বের দরিদ্রতম চল্লিশটি অঞ্চল
  4. বিশ্বের দরিদ্রতম চল্লিশটি দেশ
ব্যাখ্যা
রোয়ারিং ফর্টিস বা গর্জনশীল চল্লিশ
- দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০ থেকে ৪৭ দক্ষিণ অক্ষাংশে প্রত্যয়ন বায়ুর গতিবেগ সর্বোচ্চ।
- তাই এই অঞ্চলকে রোয়ারিং ফর্টিস বা গর্জনশীল চল্লিশ বলে।

- প্রত্যয়ন বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে পুর্ব দিকে যায়।
- এই জন্য এই বায়ুকে পশ্চিমা বায়ুও বলাহয়।
- প্রত্যয়ন বায়ুর প্রবাহের দিক একই থাকে বলে এটি নিয়ত বায়ুর অন্তর্ভুক্ত।
- রোয়ারিং ফর্টিস বা গর্জনশীল চল্লিশ অঞ্চলে প্রত্যয়ন বা পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়; যা একপ্রকার নিয়ত বায়ু।

উল্লেখ্য,
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত ৪ প্রকার। যথা -
১. নিয়ত বায়ু,
২. সাময়িক বায়ু,
৩. স্থানীয় বায়ু,
৪. অনিয়মিত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৭.
মেডিসিন লাইন কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমানা রেখা?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  3. রাশিয়া ও ইউক্রেন
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

মেডিসিন লাইন/সীমানা (Medicine Line):
- মেডিসিন লাইন (Medicine Line) হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমানা।
- বিশেষ করে ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা (49th parallel) বরাবর টানা সীমারেখাকে বোঝাতে মেডিসিন লাইন ব্যবহার করা হয়।
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা  (49° N latitude) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি অংশ যা প্রধানত সোজা রেখা।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ অরক্ষিত (unfortified) সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি প্রায় ৫,৫২৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত। 
- এই সীমান্ত ১৮৪৬ সালের ওরেগন ট্রিটি (Oregon Treaty) দিয়ে নির্ধারিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- কানাডার স্থানীয়রা এই লাইনটিকে মেডিসিন লাইন হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। 

উৎস: i) Americas.org
ii) History.com

৩২৮.
দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী বলে?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা
• দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়।

- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৯.
বাংলাদেশের কোন বিভাগটির সাথে ভারতের কোনো সীমান্ত নেই?
  1. রাজশাহী বিভাগ
  2. খুলনা বিভাগ
  3. চট্টগ্রাম বিভাগ
  4. বরিশাল বিভাগ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মোট ৮ টি বিভাগের মধ্যে ৬টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।

• সীমান্ত জেলা:
- বাংলাদেশে বিভাগ রয়েছে ৮টি এবং জেলা ৬৪টি।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

৩৩০.
সোনালী প্যাগোডার দেশ নামে পরিচিত-
  1. শ্রীলঙ্কা
  2. থাইল্যান্ড
  3. মিয়ানমার
  4. কম্বোডিয়া
ব্যাখ্যা
সোনালী প্যাগোডার দেশ:
- মিয়ানমারে অসংখ্য সোনালী রঙের প্যাগোডা ও স্তূপ ধর্ম, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।
- এই বিরল ও বিস্ময়কর স্থাপত্যিক ঐতিহ্যের কারণে দেশটিকে “Land of Golden Pagodas” বলা হয়।

ভৌগলিক উপনাম:

- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।

উৎস: Britannica.com
৩৩১.
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে -
  1. বসফরাস প্রণালী
  2. পানামা খাল
  3. বেরিং প্রণালী
  4. ম্যাজেলান প্রণালী
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩৩২.
'কালাপানি' কোন দুইটি দেশের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. ভারত ও পাকিস্তান
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও নেপাল
  4. ভারত ও ভুটান
ব্যাখ্যা

• কালাপানি:
- কালাপানি হলো ভারত ও নেপালের মধ্যে একটি সীমান্ত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- এটি উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় অবস্থিত।
- বর্তমানে এই অঞ্চল ভারত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
- নেপাল দাবি করে যে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নেপালের অংশ, যেহেতু সেখান দিয়ে মাহাকালী নদীর উৎস বইছে।
- ভারত বলে এটি তাদের ভূখণ্ড এবং দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় প্রশাসনের অধীনে।

উৎস: i) BBC.
ii) Institute Of Peace & Conflict Studies.

৩৩৩.
ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ কোনটি?
  1. মালাক্কা প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
- জিব্রাল্টার প্রণালী পূর্বে ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৩৪.
আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করে কোন প্রণালী?
  1. দার্দানিলিস প্রণালী
  2. মোজাম্বিক প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

পক প্রণালী: 
- এই প্রণালী ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- পক প্রণালী আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করে।
- এটি শ্রীলঙ্কার মান্নার জেলা এবং ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যকে পৃথক করেছে।
- শ্রীলঙ্কা ও ভারত পৃথক করেছে পক প্রণালী।

অন্যদিকে, 
- মোজাম্বিক প্রণালী - ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- বসফরাস প্রণালী- মর্মর সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে।
- দার্দানিলিস প্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩৩৫.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদ বিন্দুটি ফরিদপুর জেলার কোন উপজেলায় পড়েছে?
  1. ভাঙ্গা
  2. মধুখালী
  3. সালথা
  4. বোয়ালমারী
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা: 
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। 
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৬.
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে কোনটি?
  1. সুয়েজ খাল
  2. পানামা খাল
  3. মালাক্কা প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩৩৭.
Which of the following is known as the 'Dark Continent'?
  1. Asia
  2. Africa
  3. Europe
  4. Australia
  5. South America
ব্যাখ্যা
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক উপনাম:
Dark Continent - Africa,
Father of Waters - Mississippi River(USA),
Holy Land - Palestine,
Isle of Pearls - Bahrain,
Island Continent - Australia,
Key to Mediterranean - Gibraltar,
Manchester of the Orient - Osaka( Japan),
Paradise on Earth - Kashmir Vally,
Gift of Nyle - Egypt.
China's Sorrow - Yellow River.

উৎস: world atlus.
৩৩৮.
কোন প্রণালী এজিয়ান সাগর ও মর্মর সাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. বসফরাস প্রণালী
  2. দার্দানেলিস প্রণালী
  3. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা

- দারদানেলিস উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের একটি সরু প্রণালী।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৮ মাইল (৬১ কিমি)।
- প্রস্থ ০.৭৫ থেকে ৪ মাইল (১.২ থেকে ৬.৫ কিমি)।
- এটি এজিয়ান সাগরকে মারমারা সাগরের সাথে সংযুক্ত করে।
- ট্রড অঞ্চলের দারদানাস শহরের নামে প্রণালীটির নামকরণ হয়েছে।

অন্যদিকে,
ইংলিশ চ্যানেল – উত্তর সাগরকে যুক্ত করে-ডোভার প্রণালী।
মরমর সাগর – কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করে-বসফরাস প্রণালীা।
এডেন – লোহিত সাগরকে যুক্ত করে- বাব এল মান্দেব প্রণালী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৩৯.
আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করেছে কোন প্রণালী?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. ফ্লোরিডা প্রণালী
  3. মোজাম্বিক প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

পক প্রণালী : 
- এটি ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করেছে পক প্রণালী (Palk Strait)।
- এটি শ্রীলঙ্কার মান্নার জেলা এবং ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যকে পৃথক করেছে।
- পক প্রণালী শ্রীলঙ্কা ও ভারত পৃথক করেছে।

অন্যদিকে,
- বেরিং প্রণালী: আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে। আর প্রশান্ত মহাসাগর এবং আর্কটিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- ফ্লোরিডা প্রণালী: কিউবা-ফ্লোরিডাকে পৃথক করেছে। আর সংযুক্ত করে মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
- মোজাম্বিক প্রণালী- ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক কে পৃথক করেছে।
- হরমুজ প্রণালী: ইরান- আরব আমিরাত পৃথক করেছে। আর ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্ত করে।
- দার্দানিলিস প্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩৪০.
জিব্রাল্টার প্রণালী ভূমধ্যসাগরকে কোন সাগর/মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে?
  1. লোহিত সাগর
  2. কৃষ্ণ সাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী: 
- জিব্রাল্টার প্রণালী হলো একটি সংকীর্ণ জলপথ যা ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করে।
- এটি স্পেন এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার মধ্যে অবস্থিত।
- দৈর্ঘ্য: ৩৬ মাইল (৫৮ কিমি)।
- সর্বনিম্ন প্রস্থ: ৮ মাইল (১৩ কিমি), যা স্পেনের পয়েন্ট মারোকি এবং মরক্কোর পয়েন্ট সিরেসের মধ্যে।
- গড় গভীরতা: ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।
- জিব্রাল্টার প্রণালী উত্তর আফ্রিকার আটলাস পর্বতমালা এবং স্পেনের উঁচু মালভূমির মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: Britannica.
৩৪১.
বঙ্গবন্ধু মানমন্দির কোথায় নির্মিত হচ্ছে?
  1. ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়
  2. কর্কট ক্রান্তি ও পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদবিন্দুতে
  3. ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু মানমন্দির
- কর্কট ক্রান্তি (২৩.৫ উত্তর অক্ষরেখা) এবং ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি স্থানে ছেদ করেছে।
- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এই ছেদবিন্দুতেই নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির।
- প্রতি বছর জুন মাসের ২১ তারিখ দুপুর ১২টার সময় কেউ যদি এই স্থানে দাঁড়ায় এবং আকাশে মেঘ না থাকে তাহলে আবিষ্কার করবে সূর্য ঠিক মাথার উপর এবং সেজন্য সেখানে তার কোনো ছায়া পড়ছে না।

উল্লেখ্য,
- ২৩.৫ উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কট ক্রান্তি রেখা বলে।
- এ রেখাটি ১১টি জেলার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এগুলো হল চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা , রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ , নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- ৯০পূর্ব দ্রাঘিমারেখাও বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করে। 

অন্যদিকে, 
- পৃথিবীতে তিনটি পূর্ব পশ্চিম বিস্তৃত রেখা আছে, সেগুলো হলো কর্কট ক্রান্তি, মকর ক্রান্তি ও বিষুব রেখা।
- ঠিক এ রকম চারটি উত্তর দক্ষিণ বিস্তৃত রেখা আছে, সেগুলো হলো শূন্য ডিগ্রি, ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি এবং ২৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা।
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে মহাসাগরে।
- এর মধ্যে শুধু দুইটি ছেদবিন্দু পড়েছে স্থলভাগে। এর একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে আর অন্য বিন্দুটি বাংলাদেশে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়।

তথ্যসূত্র- দৈনিক যুগান্তর।
৩৪২.
'Gate of Tears' নামে পরিচিত কোনটি?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  4. মালাক্কা প্রণালী
ব্যাখ্যা

⇒ বাব এল-মান্দেব প্রণালী 'Gate of Tears' নামে পরিচিত।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।
- এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ ‘কান্নার দ্বার’।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৩৪৩.
ভৌগোলিক পরিভাষায় ‘Isthmus’ (যোজক) বলতে কী বোঝায়?
  1. দুটি বিশাল স্থলভাগকে যুক্তকারী সংকীর্ণ স্থলপথ
  2. দুটি বিশাল জলভাগকে যুক্তকারী সংকীর্ণ জলপথ
  3. সমুদ্রের ভেতরে প্রসারিত ভূখণ্ডের অগ্রভাগ
  4. তিন দিকে জল দ্বারা বেষ্টিত প্রশস্ত ভূখণ্ড
ব্যাখ্যা

• Isthmus’ (যোজক):
- একটি সঙ্কীর্ণ ভূমিক্ষেত্র যা দুটি বৃহৎ ভূমি বা মহাদেশকে সংযুক্ত করে এবং দুটি জলরাশির মধ্যে অবস্থিত থাকে।
- এটি দুটি বিশাল স্থলভাগকে যুক্তকারী সংকীর্ণ স্থলপথ।

- সাধারণত ইস্মাস বা যোজক হল “ল্যান্ড ব্রিজ” জাতীয় ভূমি।
- এর দুটি পাশে সমুদ্র, নদী বা সাগর থাকতে পারে।
এর উদাহরণ:

• ইস্তমাস অফ পানামা – উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা সংযুক্ত করে, এবং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থান করে।
• ইস্তমাস অফ সুয়েজ  - মিশরে অবস্থিত একটি ১২৫ কিমি (৭৮ মাইল) চওড়া, নিম্নভূমি এবং বালি-আবৃত ভূমি সেতু, যা আফ্রিকা ও এশিয়াকে সংযুক্ত করে। এটি উত্তরে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণে লোহিত সাগরকে পৃথক করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৪৪.
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের জলরাশি কোন প্রণালী দ্বারা যুক্ত?
  1. বাব এল-মান্দেব প্রণালী
  2. মালাক্কা প্রণালী
  3. হরমুজ প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

• বাব এল-মান্দেব প্রণালী :
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী হলো একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক প্রণালি যা ইয়েমেন (এশিয়া) ও জিবুতি (আফ্রিকা)-কে পৃথক করেছে।
- এটি লোহিত সাগর  ও এডেন উপসাগর (Gulf of Aden)কে যুক্ত করে।
- এই প্রণালির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২ কিলোমিটার, এবং
- এটি ইউরোপ-এশিয়া-বাণিজ্য রুটের একটি কৌশলগত স্থানে অবস্থিত।
- বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে “মৃত্যুকূপ” বলা হয় কারণ এর আরবি নামের আক্ষরিক অর্থই “অশ্রুর দ্বার” বা “মৃত্যুর প্রবেশদ্বার”।
- এই নামের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে;
- প্রথমত, প্রাচীন আরব কাহিনিতে বলা হয় যে, আফ্রিকা থেকে আরব উপদ্বীপে যাত্রাকালে এই প্রণালী পার হতে গিয়ে বহু লোক ডুবে প্রাণ হারিয়েছিল।
- দ্বিতীয়ত, অতীতে প্রণালীটি ছিল দিকনির্দেশনার দিক থেকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলে নৌযাত্রায় বিপদের মাত্রা ছিল বেশি এবং এর ফলে বহু নাবিকের মৃত্যু ঘটত।

 উৎস : Britannica.

৩৪৫.
সুয়েজ খাল পৃথক করেছে -
  1. ইরাক ও ইরান
  2. ইরান ও ওমান
  3. স্পেন ও মরক্কো
  4. সৌদি আরব ও মিশর
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল:
- মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেছিলেন ১৯৫৬ সালে।
- দখল করে নিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথটির নিয়ন্ত্রণ।
- সুয়েজ খাল থেকে বছরে মিশরের প্রায় ৬০০ কোটি ডলার আয় হয়, যা দেশটির জিডিপির দুই শতাংশের মতো।
- লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে ১৮৬৯ সালে চালু হওয়া সুয়েজ খাল।
- এর মাধ্যমে সুয়েজ খাল সৌদি আরব (এশিয়া) ও মিশরকে (আফ্রিকা) পৃথক করে
- সুয়েজ খাল ১৯৩ কিলোমিটার বা প্রায় ১২০ মাইল লম্বা।

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো
৩৪৬.
’সনোরা লাইন’ কোন দুই দেশের মধ্যে সীমারেখা? 
  1. জার্মানি ও ফ্রান্স
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  3. পর্তুগাল ও স্পেন
  4. লেবানন ও ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

সনোরা লাইন: 
- সনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যেকার একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা। 

- এটি মেক্সিকোর সনোরা রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে অবস্থিত। 

অপরদিকে,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- সনোরা লাইন: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩৪৭.
বসফরাস প্রণালী কোন দুটি সাগরকে সংযুক্ত করে? 
  1. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর 
  2. লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগর
  3. কৃষ্ণ সাগর এবং মর্মর সাগর 
  4.  ভূমধ্যসাগর এবং কাস্পিয় সাগর 
ব্যাখ্যা

• বসফরাস প্রণালী:
- পৃথক করেছে: এশিয়া ও ইউরোপ।
- সংযুক্ত করেছে:  কৃষ্ণ সাগর এবং মর্মর সাগর।
- বসফরাস প্রণালী ১৯ মাইল দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ প্রস্থ উত্তর প্রান্তে ২.৩ মাইল।
- এর গভীরতা মাঝখানে ১২০ থেকে ৪০৮ ফুট পর্যন্ত।
- বসফরাস প্রণালীটি ব্যাপকভাবে মাছ ধরা হয়,
- কারণ এটি মাছের ঋতুকালীন অভিবাসন পথ হিসেবে কাজ করে,
- যা মাছকে কৃষ্ণ সাগর থেকে মর্মর সাগরে এবং বিপরীত দিকে নিয়ে যায়।
এছাড়াও,
- কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) শহরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বসফরাস প্রণালীটি।
- এই কারণে বাইজেন্টাইন সম্রাটরা এবং পরবর্তীতে উসমানীয় সুলতানরা প্রণালীর তীরে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন,
- বিশেষ করে ইউরোপীয় তীরে।
- আনাদোলুহিসারি, যা ১৩৯০–৯১ সালে বাইয়াজিদ প্রথম নির্মাণ করেছিলেন,
- এবং রুমেলিহিসারি, যা ১৪৫২ সালে মেহমেদ দ্বিতীয় নির্মাণ করেছিলেন।

উৎস: Britannica.

৩৪৮.
Which two oceans does the English Channel connect?
  1. Pacific Ocean and the North Sea
  2. Atlantic Ocean and the North Sea
  3. Atlantic Ocean and the Mediterranean Sea
  4. Pacific Ocean and the Mediterranean Sea
  5. Atlantic Ocean and the Pacific Ocean
ব্যাখ্যা
ইংলিশ চ্যানেল:
- ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে এবং উত্তর সাগরে আটলান্টিকের সাথে মিলিত হয়।
- এই চ্যানেল উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি (৩৫০ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থে ২৪০ কিমি (১৫০ মাইল)।
- ডোভার প্রণালী হলো এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস: Britannica.
৩৪৯.
মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. ডেবিস প্রণালী
  2. ফ্লোরিডা প্রণালী
  3. ইউকাটান প্রণালী
  4. হাডসন প্রণালী 
ব্যাখ্যা

- মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করেছে ইউক্যাটান প্রণালী (Yucatan Channel)।
- এটি মেক্সিকোর ইউক্যাটান উপদ্বীপ এবং কিউবা দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
- বিশেষত্ব: এটি বিখ্যাত 'গাল্ফ স্ট্রিম' সমুদ্রস্রোতের প্রধান প্রবেশপথ।

এছাড়াও, 
- ডেভিস প্রণালী (Davis Strait)
- অবস্থান: গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: গ্রিনল্যান্ড ও বাফিন দ্বীপকে।
- সংযুক্ত করেছে: উত্তরে বাফিন উপসাগর এবং দক্ষিণে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ)।

• ফ্লোরিডা প্রণালী (Straits of Florida)
- অবস্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য এবং কিউবার মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও কিউবাকে।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।

• হাডসন প্রণালী (Hudson Strait)
- অবস্থান: কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: বাফিন দ্বীপ ও কানাডার মূল ভূখণ্ডকে (কুইবেক/ল্যাব্রাডর)।
- সংযুক্ত করেছে: পশ্চিমে হাডসন উপসাগর এবং পূর্বে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগর)।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৫০.
”লাইন অব কন্ট্রোল” কোন দুইটি দেশের মধ্যকার সীমান্তবর্তী রেখা?
  1. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও নেপাল
  4. ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
• ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত রেখা - ”লাইন অব কন্ট্রোল।
• বাংলাদেশ ও ভারত মধ্যবর্তী সীমান্ত রেখা - র‍্যাডক্লিফ রেখা।
• ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তবর্তী রেখা - ম্যাকমাহন লাইন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৫১.
ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী জলপথ -
  1. ডোভার প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. মালাক্কা প্রণালী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- এটি ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী জলপথ।
- মালাক্কা প্রণালী সুমাত্রা এবং মালয় উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ২৫,০০০ বর্গ মাইল (৬৫,০০০ বর্গ কিমি)।
- প্রণালীটি ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ।
- এটি দক্ষিণে মাত্র ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) ও উত্তরে ১৫৫ মাইল (২৪৯ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত।
- প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকারী শিপিং চ্যানেলগুলির মধ্যে একটি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৫২.
তিব্বত মালভূমি কোন কোন পর্বতমালায় ঘেরা?
  1. কারাকোরাম, আন্দিজ, আল্পস
  2. সিয়েরা নেভাদা, হিমালয়, রকি
  3. কুনলুন, হিমালয়, চিলিয়ান
  4. আল্পস, উরাল, কুনলুন,
ব্যাখ্যা
তিব্বত মালভূমি: 
- বিশ্বের "ছাদের" (Roof of the World) উপাধিতে পরিচিত তিব্বত মালভূমি।
- যার গড় উচ্চতা ১৪,৮০০ ফুট এর বেশি।
- এটি উচ্চ পর্বতমালায় বেষ্টিত:
- উত্তরে: কুনলুন ও সংশ্লিষ্ট পর্বতমালা
- উত্তর-পূর্বে: চিলিয়ান পর্বতমালা
- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে: হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা।
- এই মালভূমিতে আর্কটিক  ও আন্টার্কটিকা বাদে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিষ্টি পানির সংরক্ষণ রয়েছে।
- এজন্য একে "পৃথিবীর তৃতীয় মেরু" (Third Pole) বলাও হয়।

অন্যদিকে,
- আল্টিপ্লানো মালভূমি, দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম-মধ্য অংশে অবস্থিত,
- দুইটি আন্দিজ পর্বতমালার মাঝে।
- এর গড় উচ্চতা ১২,৩০০ ফুট এবং এটি তিব্বতের বাইরে বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত উচ্চ মালভূমি।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 
৩৫৩.
ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি কি ধরনের সমভূমির উদাহরণ? 
  1. ক্ষয়জাত সমভূমি
  2. কার্স্ট সমভূমি
  3. হৈমবাহিক সমভূমি 
  4. সঞ্চয়জাত সমভূমি
ব্যাখ্যা
ক্ষয়জাত সমভূমি: 

• বায়ুপ্রবাহ, সৌরতাপ, বৃষ্টিপাত, পানিস্রোত, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা ক্ষয় হয়ে ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিতে পরিণত হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমি গঠিত হয়। 
• ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ।
• সমভূমিতে সাধারণত কোনো উচ্চভূমি, নিম্নভূমি বা খাড়া ঢাল থাকে না। 
• সমভূমিসমূহ সাধারণত মহাদেশের সীমান্তে, মহাসাগরের তীরে অথবা মহাদেশীয় ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে হতে পারে।
• হিমবাহের মাধ্যমে যে সমভূমি সৃষ্টি হয় তাদেরকে হৈমবাহিক সমভূমি বলে ।
• উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ, ফিনল্যান্ড, পূর্ব কানাডা এবং সুইডেনে  হৈমবাহিক সমভূমি দেখা যায়।
• যুগোশ্লোভিয়ার কার্স্ট অঞ্চলে কার্স্ট সমভূমি জাতীয় সমভূমি দেখা যায়।
• সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। 
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
• সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
• সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। 
• পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
খালের নগরী কোনটি?
  1. প্যারিস
  2. শিকাগো
  3. কায়রো 
  4. ভেনিস
ব্যাখ্যা

ভেনিস (Venice):
- ইটালির একটি ঐতিহাসিক শহর, তার অসংখ্য খাল (প্রায় ১৫০টিরও বেশি)।
- এবং সেগুলোর উপর নির্মিত সেতু (প্রায় ৪০০টিরও বেশি) এর জন্য "খালের নগরী" (City of Canals বা City of Water) নামে বিখ্যাত।
- এটি অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ল্যাগুন অঞ্চলে ১১৮টি ছোট দ্বীপের উপর নির্মিত, যেখানে খালগুলোই মূল যাতায়াতের পথ রাস্তার পরিবর্তে নৌকা (যেমন গন্ডোলা) দিয়ে চলাচল হয়।
- ঐতিহাসিকভাবে, ৫ম শতাব্দীতে আক্রমণকারীদের থেকে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের দ্বারা গড়ে উঠে এটি একটি নৌ-শক্তি হয়ে ওঠে, যেখানে খালগুলো বাণিজ্য এবং যোগাযোগের জন্য কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- প্যারিস সীন নদীর তীরে অবস্থিত, কিন্তু খাল-ভিত্তিক নয়; রাস্তা এবং মেট্রো প্রধান।
- শিকাগো : গ্রেট লেকসের কাছে এবং কিছু খাল আছে, কিন্তু দ্বীপ-ভিত্তিক খাল-নগরী নয়।
- কায়রো : নাইল নদীর ধারে, কিন্তু খালের নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরশীল নয়।

• কয়েকটি প্রাকৃতিক ভৌগলিক নাম: 
- মুক্তার দেশ  কিউবা,
- প্রাচীরের দেশ  চীন,
- নীলনদের দেশ মিশর,
- ধীবরের দেশ নরওয়ে,
- সিল্ক রুটের দেশ ইরান,
- পিরামিডের দেশ মিশর,
- সূর্যোদয়ের দেশ জাপান।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৫৫.
ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে কোনটি?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. পানামা খাল
  3. পক প্রণালী
  4. জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা
⇒ ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে জিব্রাল্টার প্রণালী।

জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
- জিব্রাল্টার প্রণালী পূর্বে ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৫৬.
সাগরকন্যা কোন জেলার ভৌগোলিক নাম?
  1. ভোলা
  2. খুলনা
  3. কক্সবাজার
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

কুয়াকাটা:
- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র।
- এটি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত।
- পর্যটকদের কাছে পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত এই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত "সাগরকন্যা" হিসেবে পরিচিত।
- এই সমুদ্র সৈকতটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৩ কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট।
- কুয়াকাটা বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত যেখানে পর্যটকরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখতে পারে।
- সৈকতের পূর্বে রয়েছে গজমতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল; পশ্চিমে কুয়াকাটার বনভূমি; উত্তরে কলাপাড়া জনপদ এবং দক্ষিণে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর। 
- এটি হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
- বিশেষ করে রাস পূর্ণিমা ও মাঘী পূর্ণিমার সময় কুয়াকাটার পবিত্র সৈকতে স্নানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৩৫৭.
"বাব আল মান্দেব" প্রণালীর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সমুদ্র:
  1. লোহিত সাগর
  2. আরব সাগর
  3. পারস্য সাগর
  4. ভূমধ্যসাগর
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ "কান্নার দ্বার"।
- প্রণালীটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৫৮.
তাতার প্রণালী সংযুক্ত করেছে কোন দুই সাগরকে?
  1. বেরিং সাগর ও ওখোটস্ক সাগর
  2. জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর
  3. জাপান সাগর ও পূর্ব চীন সাগর
  4. হলুদ সাগর ও জাপান সাগর
ব্যাখ্যা

তাতার প্রণালী:
- অবস্থান: রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপ ও এশীয় মূল ভূখণ্ড (সাইবেরিয়া) এর মধ্যে।
- সংযোগ স্থাপন: জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগরের মধ্যে।
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার।
- প্রস্থ: সর্বাধিক প্রায় ৩২০ কিমি;
- সংকীর্ণতম অংশ (নেভেলস্কয় প্রণালী) প্রায় ৭–৮ কিমি।
- প্রকৃতি: তুলনামূলকভাবে অগভীর জলরাশি।
- জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য: শীতকালে উত্তরাংশ বরফে আচ্ছাদিত থাকে।
- গুরুত্ব: রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩৫৯.
'নর্দার্ন লিমিট লাইন' কোন দুটি দেশের সামুদ্রিক সীমানা বিভাজন রেখা?
  1. উত্তর কোরিয়া ও চীন
  2. দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান
  3. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  4. চীন ও জাপান
ব্যাখ্যা

• নর্দার্ন লিমিট লাইন:
- নর্দার্ন লিমিট লাইন (NLL) হলো উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া এর মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা।
- এটি ১৯৫৩ সালের কোরিয়ান অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর টানা হয়।
- নর্দার্ন লিমিট লাইন দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি দ্বীপের ওপর ভিত্তি করে স্থলভিত্তিক মিলিটারি ডিমার্কেশন লাইন (MDL) থেকে সাগরে প্রসারিত করা হয়েছে।
- মূলত এটি দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক জাহাজ, বিশেষত মাছ ধরার নৌকাকে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: দি ন্যাশনাল কমিটি অব নর্থ কোরিয়া ওয়েবসাইট। Link

৩৬০.
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. সনোরা লাইন
  2. ম্যাকনামারা লাইন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. হিন্ডারবার্গ লাইন
ব্যাখ্যা
সনোরা লাইন:
- যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো কে পৃথককারী লাইন কে সনোরা লাইন বলা হয়।
- এ লাইনটি মেক্সিকোর সনোরা প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্র অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য থেকে পৃথক করেছে।
- এটি ১৮৫৩ সালে এই সীমান্তরেখা ভাগ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মান ও ফ্রান্স।
- ম্যাকনামারা লাইন: সাবেক উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল: চীন ও ভারত।
- ওডের-নিস লাইন: জার্মান ও পোল্যান্ড।
- ব্ল লাইন: লেবানন ও ইসরাইল।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মান ও পোল্যান্ড। 

উৎস: Britannica.
৩৬১.
Which two countries have the world's longest land border?
  1. United States and Canada
  2. United States and Mexico
  3. Russia and Kazakhstan
  4. Chile and Argentina
  5. India and Bangladesh
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
1. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
2. কাজাকিস্তান ও রাশিয়া: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
3. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
4. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
5. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমান্ত হলো স্পেন এবং মরক্কো।

উৎস: World Atlas.
৩৬২.
কোন অক্ষাংশ রেখাটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমারেখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ৩৬° উত্তর অক্ষাংশ
  2. ৩৮° উত্তর অক্ষাংশ
  3. ৪১° উত্তর অক্ষাংশ
  4. ৪৫° উত্তর অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

৩৮° উত্তর অক্ষাংশ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমারেখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

কোরিয়া বিভাজন:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- ১৯১০ সালে কোরীয় উপদ্বীপে জসন সাম্রাজ্যের ২৬তম রাজা গুজুং ছিলেন দায়িত্বে। তার শাসনামলের সময় কোরিয়া দখল করে নেয় জাপান।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দুই পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ার আক্রমণ করে।
- কোরিয়ার দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণ করে মার্কিন সেনাবাহিনী এবং উত্তর দিক থেকে আক্রমণ করে সোভিয়েত কমিউনিস্ট-এর রেড আর্মি।
- ১৯৪৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের যৌথ বাহিনীর কাছে জাপানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
- ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ৩৮° সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে।
- ফলে কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া গঠন করে।

উৎস: Britannica.

৩৬৩.
চিকেন নেক কোনটি?
  1. শিলিগুড়ি করিডোর
  2. তিনবিঘা করিডোর
  3. কোলিল করিডর
  4. দুই জার্মারি সংযোগস্থল
ব্যাখ্যা

চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।

⇒ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটা অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলেও বর্ণনা করেন।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

অন্যদিকে,
 তিনবিঘা করিডোর:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।

উৎস: i) BBC.
ii) যুগান্তর।

৩৬৪.
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী সামুদ্রিক প্রণালী কোনটি?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. মালাক্কা প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
পক প্রণালী:
- পক প্রণালী ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী।
- এটি বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮৫ মাইল দীর্ঘ ।
- এই প্রণালীটি ৪০-৮৫ মাইল প্রশস্ত।
- জাফনা বন্দর, উত্তর শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক কেন্দ্র, এই প্রণালীতে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের নামে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৬৫.
ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. পানামা খাল
  4. সুয়েজ খাল
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল :
- মিশরের অর্থনীতিতে সুয়েজ খালের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ১৮৬৯ সালে একজন ফরাসি ব্যক্তিত্ব ফার্দিন্যান্ড ডি লেসসেপস এর নির্দেশনায় সুয়েজ খাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
- ১৯৫৬ সালে মিশর এটি জাতীয়করণ করে।
- ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে সুয়েজ খাল।
- এই জলপথের একপ্রান্তে রয়েছে পোর্ট সৈয়দ বন্দর এবং অপরপ্রান্তে সুয়েজ বন্দর।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের পথগুলির মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য,
- বেরিং প্রণালী সংযুক্ত করেছে বেরিং সাগর ও উত্তর সাগর আর পৃথক করেছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে।
- পক প্রণালী সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর আর পৃথক করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে।
- পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।

 উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩৬৬.
রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড ও ক্রিমিয়াকে পৃথক করেছে কোন প্রণালি?
  1. সিসিলি প্রণালি
  2. ফ্লোরিডা প্রণালি
  3. ডেভিস প্রণালি
  4. কার্চ প্রণালি
ব্যাখ্যা

কার্চ প্রণালি:
- কৃষ্ণসাগর ও অ্যাজভ সাগর কার্চ প্রণালি দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত।
- কার্চ প্রণালি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে পৃথক করেছে।
- অ্যাজভ সাগরের তীরে ইউক্রেনের মারিয়াপোল ও রাশিয়ার রোস্টভ সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।
- ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কার্চ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে,
- ফ্লোরিডা প্রণালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবা থেকে পৃথক করেছে।
- সিসিলি প্রণালীটি সিসিলি দ্বীপকে ইতালি থেকে পৃথক করেছে।
- কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে পৃথক করেছে ডেভিস প্রণালী।

উৎস: Britannica.

৩৬৭.
কোরিয়া প্রণালী দক্ষিণ কোরিয়াকে কোন দেশ থেকে পৃথক করেছে?
  1. চীন
  2. রাশিয়া
  3. জাপান
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
কোরিয়া প্রণালী: 
- কোরিয়া প্রণালী হল একটি বৃহৎ, ঝলমলে জলরাশি যা দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে পৃথক করে।
- এই প্রণালীটি পূর্ব চীন সাগর, হলুদ সাগর এবং বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত জাপান সাগরকে সংযুক্ত করে। 
- জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই জাহাজের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের অনুমতি দেয়, যা তাদের জন্য সুসংবাদ যারা এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের লেন ব্যবহার করতে চান।
- প্রণালীর জল তার গভীরতম স্থানে 300 ফুট নীচে নেমে যায় এবং সুশিমা দ্বীপ দ্বারা দুটি ভাগে বিভক্ত।
- পূর্ব দিকে প্রবাহিত জলধারাকে সুশিমা প্রণালী বলা হয়, অন্যদিকে পশ্চিমে প্রবাহিত জলধারা একসময় চোসেন প্রণালী নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: World Atlas.
৩৬৮.
পামীর মালভূমি কোন চারটি দেশের সংযোগস্থলে অবস্থিত?
  1. তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, চীন
  2. তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, ইরান
  3. কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া
  4. ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন
ব্যাখ্যা
পামির মালভূমি: 
- পামির মালভূমি মধ্য এশিয়ার একটি বিশাল এবং উঁচু মালভূমি।
-  এটি "পৃথিবীর ছাদ" নামেও পরিচিত,
- কারণ এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমিগুলির মধ্যে একটি।
- পামির মালভূমি এশিয়ার বেশ কয়েকটি পর্বতশ্রেণী, যেমন হিমালয়, কারাকোরাম, হিন্দুকুশ, কুনলুন এবং তিয়ান শান-এর মিলনস্থল।
- এটি প্রধানত তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন এবং পাকিস্তান  কিছু অংশে বিস্তৃত। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩৬৯.
ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়?
  1. যে দেশের ভৌগোলিক সীমানা ছোট
  2. যে দেশে নদ-নদীর সংখ্যা বেশি এবং সমভূমি কম
  3. যে দেশের সমভূমির পরিমাণ পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় কম
  4. যে দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অন্য দেশের অবস্থান
ব্যাখ্যা
ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র:
- একটি স্বাধীন দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে যদি অন্য কোন স্বাধীন দেশ অবস্থান করে, তবে তাকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলে।
- পৃথিবীতে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র ২টি।
- এগুলো হলো ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
- স্যানমেরিনো এবং ভ্যাটিকান সিটি নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ইতালির অধিভুক্ত।
- দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে ‘লেসোথ’ নামের আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস, ব্রিটানিকা।
৩৭০.
কোন দেশগুলো মেডিসিন লাইন/সীমানা দ্বারা বিভক্ত?
  1. ব্রাজিল ও বলিভিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  3. জার্মানি ও পোল্যান্ড
  4. মিশর ও সুদান 
ব্যাখ্যা

◉ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মেডিসিন লাইন দ্বারা বিভক্ত।

মেডিসিন লাইন/সীমানা (Medicine Line):
- মেডিসিন লাইন (Medicine Line) হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমানা।
- বিশেষ করে ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা (49th parallel) বরাবর টানা সীমারেখাকে বোঝাতে মেডিসিন লাইন ব্যবহার করা হয়।
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা  (49° N latitude) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি অংশ যা প্রধানত সোজা রেখা।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ অরক্ষিত (unfortified) সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি প্রায় ৫,৫২৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত। 
- এই সীমান্ত ১৮৪৬ সালের ওরেগন ট্রিটি (Oregon Treaty) দিয়ে নির্ধারিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- কানাডার স্থানীয়রা এই লাইনটিকে মেডিসিন লাইন হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। 

অন্যদিকে,  
- ওডার-নীস লাইন হলো জার্মানি এবং পোল্যান্ডের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা।
- ২২° উত্তর অক্ষরেখা (22°N parallel) মিশর এবং সুদানের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা। এটি হালায়েব ত্রিভুজ (Hala'ib Triangle) নামেও পরিচিত।

উৎস: i) Americas.org
ii) History.com

৩৭১.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  2. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
  3. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- যেটি ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পশ্চিম-পূর্বে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা ট্রপিক অব ক্যান্সার (কর্কটক্রান্তি রেখা) অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭২.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোনটি?
  1. পানামা খাল
  2. বেরিং প্রণালী
  3. সুয়েজ খাল
  4. জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩৭৩.
মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করে কোন প্রণালী?
  1. ডেভিস প্রণালী
  2. তাতার প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. মেসিনা প্রণালী
ব্যাখ্যা
• ডেভিস প্রণালী:
- বাফিন উপসাগর এবং ল্যাব্রাডর সাগর কে যুক্ত করেছে ।

• তাতার প্রণালী:
- জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর কে যুক্ত করেছে।

• বসফরাস প্রণালী:
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে ।

• মেসিনা প্রণালী:
 - তিরেনিয়ান সাগর (Tyrrhenian Sea) ও আয়োনিয়ান সাগর (Ionian Sea)-কে সংযুক্ত করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৭৪.
মালাক্কা প্রণালী সংযুক্ত করেছে -
  1. উত্তর সাগর ও বেরিং সাগর
  2. ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  4. পূর্বচীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা

 মালাক্কা প্রণালী: 
- মালাক্কা প্রণালী আন্দামান সাগর (ভারত মহাসাগর) ও দক্ষিণ চীন সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) সংযোগকারী জলপথ।
- দৈর্ঘ্য: ৫০০ মাইল (ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর৮০০ কিমি)
- প্রস্থ:দক্ষিণ অংশে: ৪০ মাইল (৬৫ কিমি), উত্তরে: ১৫৫ মাইল (২৫০ কিমি)
- মালয় উপকূলে অবস্থিত মালাক্কা বন্দর থেকে নামকরণ করা হয়েছে, যা ১৬শ ও ১৭শ শতকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল।
- মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সমুদ্রপথ।
- এটি এশিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- আন্তর্জাতিক শিপিং ট্রাফিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চীন, ভারত ও জাপানের জন্য।

অন্যদিকে -
- বেরিং প্রণালী এশিয়া এ আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং উত্তর সাগর ও বেরিং সাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি আফ্রিকা থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছ এবং ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।

উৎস: Britannica.

৩৭৫.
Malacca Strait কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. দক্ষিণ এশিয়াতে
  4. আফ্রিকা মহাদেশে
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সমুদ্রপ্রণালী।
- এটি ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী জলপথ।
- মালাক্কা প্রণালী সুমাত্রা এবং মালয় উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ২৫,০০০ বর্গ মাইল (৬৫,০০০ বর্গ কিমি)।
- প্রণালীটি ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ।
- এটি দক্ষিণে মাত্র ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) ও উত্তরে ১৫৫ মাইল (২৪৯ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত।
- প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকারী শিপিং চ্যানেলগুলির মধ্যে একটি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৭৬.
”সুয়েজ খাল” কোথায় অবস্থিত?
  1. পেরু
  2. মরক্কো
  3. ভেনেজুয়েলা
  4. মিশর
ব্যাখ্যা

• সুয়েজ খাল- 
- মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত সুয়েজ খাল মনুষ্য নির্মিত একটি কৃত্রিম খাল। 
- খালটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে।
- ১৮৫৯ সালে শুরু হয়ে দশ বছর ধরে চলে এই খনন কাজ।
- ১৮৬৯ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় এটি।
- মিশর ১৯৫৬ সালে সুয়েল খালকে জাতীয়করণ করে।

উৎস: Suez Canal Authority.

৩৭৭.
Which is known as the Gate of Tears?
  1. Gibraltar
  2. Dardanelles
  3. Bab-el-Mandeb
  4. Bering
  5. Sunda
ব্যাখ্যা
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী 'Gate of Tears' বা ‘কান্নার দ্বার’ নামে পরিচিত।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ ‘কান্নার দ্বার’।
- প্রণালীটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com