বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা

মোট প্রশ্ন১,১৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা

PrepBank · পাতা / ১২ · ৩০১৪০০ / ১,১৩৬

৩০১.
পদ/পদ প্রকরণ ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় :
প্রতিটি ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে- ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ। আর তাই সব ভাষার ব্যাকরণই প্রধানত এই ৪টি অংশ নিয়েই আলোচনা করে। অর্থাৎ, ব্যাকরণের বা বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয়/ অংশ ৪টি-
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রমঃ
- পদ প্রকরণ (শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তখনই সেটাকে পদ বলে। তাই পদ বাক্যের ও পদ প্রকরণ বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- ক্রিয়াপদ
- কারক ও বিভক্তি (বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে। বাক্যের অন্তর্গত পদ নিয়ে কাজ করে বলে কারকও বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- কাল
- পুরুষ
- অনুসর্গ
- বাগধারা
- বাচ্য
- উক্তি
- যতি ও ছেদ চিহ্ন (বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে যতি বা ছেদ চিহ্ন ব্যবহার হয়। অর্থাৎ, এরা বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্যের প্রকারভেদ
- বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম বা পদক্রম

উতসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৩০২.
বাংলা ভাষার নিকট-আত্মীয় কোনটি?
  1. ওড়িয়া
  2. হিন্দি
  3. সিংহলি
  4. মাগধি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- ইংরেজি, জার্মান, ফারসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফরাসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৩.
নিচের কোনটি ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. সমাস
  2. কারক
  3. বাগধারা
  4. শব্দজোড়
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের  আলােচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত।
যথা:

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়  ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায়  বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।
 
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।  
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৪.
চলিত ভাষার রীতি সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র সাহিত্যিকদের জন্য
  2. পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত
  3. কঠিন ও ধীর
  4. অপরিবর্তনীয় ও কৃত্রিম
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩০৫.
‘বাচ্য ও উক্তি’ ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে । বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য: বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৬.
ভাষার মৌলিক অংশ-
  1. ক) ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
  2. খ) সন্ধি, বর্ণ, শব্দ
  3. গ) উপসর্গ, অনুসর্গ, ধ্বনি
  4. ঘ) শব্দ, সন্ধি, বর্ণ
ব্যাখ্যা

প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ ৪টি।
সেগুলো হল - ধ্বনি, শব্দ, বাক্য এবং অর্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৩০৭.
ভারতের কোন প্রদেশের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা ?
  1. ক) বিহার 
  2. খ) আসাম 
  3. গ) ত্রিপুরা
  4. ঘ) ওড়িশা 
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কথা বলে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ। এর মধ্যে বাংলাদেশে ষোলো কোটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষের বাস। 
এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে প্রায় তিন কোটি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরো প্রায় এক কোটি বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে।
বাংলাদেশের জীবন যাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক ।
এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৩০৮.
উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয় কত বছর আগে?
  1. ক) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
  2. খ) প্রায় এক হাজার বছর আগে
  3. গ) প্রায় দুই হাজার বছর আগে
  4. ঘ) প্রায় দেড় হাজার বছর আগে
ব্যাখ্যা
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩০৯.
বাংলা লিপির আধুনিকতার রূপকার -
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. পঞ্চানন কর্মকার
  4. রেভারেণ্ড জেমস্‌ কিথ
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপির আধুনিকতার রূপকার - পঞ্চানন কর্মকার

বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
- চার্লস উইলকিন্স বাংলা লিপির প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১০.
পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায় কয়টি রীতি লক্ষ করা যায়?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩১১.
ব্যাকরণে কোনটি নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি
  2. ভাষার আভিজাত্য
  3. ভাষার ভুলত্রুটি
  4. ভাষার বিন্যাস
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩১২.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. গৌড়ি প্রাকৃত
  2. বঙ্গ কামরুপি
  3. মাগধী প্রাকৃত
  4. গৌড়ি অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৩১৩.
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. পুরুষ
  2. যতিচিহ্ন
  3. সমাস
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

অন্যদিকে,
- উপসর্গ, সমাস, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩১৪.
নিচের কোনটি ভাষার চলিত রূপ?
  1. ক) আসিয়াছেন
  2. খ) পারতাম
  3. গ) উহা
  4. ঘ) ইহা
ব্যাখ্যা
- 'পারিতাম' এর চলিত রূপ: 'পারতাম'। 

অন্য অপশনে, 
- 'ইহা' এর চলিত রূপ: 'এ/এটা/এটি'। 
- 'উহা' এর চলিত রূপ: 'ও/ওটা/ওট'। 
- 'আসিয়াছেন'- এর চলিত রূপ: 'এসেছেন'। 


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩১৫.
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন্ পদে বেশি দেখা যায়?
  1. ক) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হয় ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে। তবে অন্যান্য পদেও পার্থক্য হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩১৬.
সাধু রীতিতে কোন ধরনের শব্দের ব্যবহার অধিক দেখা যায়?
  1. তৎসম শব্দ
  2. বিদেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৭.
কোনটি সাধুরীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. পরিবর্তনশীল
  2. জীবন্ত
  3. কৃত্রিম
  4. চটুল
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম

অন্যদিকে,
- চটুল। জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল চলিতরীতির বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩১৮.
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. পদক্রম
  3. রূপতত্ত্ব
  4.  ভাষাতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয়- ভাষাতত্ত্ব।

ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত:
• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
মূল আলোচ্য ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৩১৯.
ভাষার প্রাণ কী?
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. ভাব
  4. ধ্বনি
ব্যাখ্যা
ভাষা:

- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি;
- ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি;
- ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ;
- ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য;
- ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২০.
সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন-
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক
  4. অক্ষয় কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতি:
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন: ‘এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'

- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
- ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়ােজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
- এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন - রাজা রামমোহন রায়।
⇒ সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
⇒ 'সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।'- ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
⇒ 'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুসরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে।- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক।

⇒ বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তােলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩২১.
'এককথায় প্রকাশ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্বে 
  2. বাক্যতত্ত্বে 
  3. রূপতত্ত্বে 
  4. ধ্বনিতত্ত্বে  
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax): 
বাক্য সংক্রান্ত সবকিছু আলোচিত হবে। যেমন: বাক্য প্রকরণ, বাক্যে পদ-সংস্থাপন, বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশ ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যে রয়েছে-
১. বাচ্য: বাচ্যে (Voice) বাক্যের গঠনগত পরিবর্তন হয়। সুতরাং বাচ্য বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।
২. উক্তি: উক্তিতে (Narration) বাক্যের গঠনগত পরিবর্তন হয়। সুতরাং উক্তি বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।
৩. যতি বা ছেদ বা বিরামচিহ্ন যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।
৪. পদ পরিবর্তন: শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে পদ বলে। পদ যেহেতু বাক্যে ব্যবহৃত হয় সেহেতু পদ পরিবর্তন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।
যেমন:
দরিদ্রকে দান কর।
দরিদ্র লোকটিকে দান কর।

সরল লোকটিকে ভালো লাগে।
সরলতা একটি গুণ।

৫. কারক: ক্রিয়া পদের সঙ্গে নাম পদের সম্পর্ক হলো কারক। সুতরাং কারক বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।

৩২২.
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা কয়টি?
  1. ৯টি
  2. ১১টি
  3. ৮টি
  4. ৭টি
  5. ১০টি
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা - ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন।
আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তুম (Centum)।
- কেন্তুম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে।
- এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।
- অ্যাসকোলির ধারণা- কেন্তুম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।

ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখা-উপশাখা:
ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা হলো গ্রিক। ইন্দো-ইরানীর শাখার (অর্থাৎ আর্য শাখার)-আবেস্তীয় ও সংস্কৃত। ইতালিক শাখার-ল্যাটিন। জার্মানিক শাখার- গথিক ভাষা। এই গোষ্ঠীর কয়েকটি আধুনিক সমৃদ্ধ ভাষা হলো-

* ইন্দো-ইরানী শাখার: ফারসি, বাংলা, হিন্দি।
* বালতো-স্লাভিক শাখার: রুশীয় (বালটিক্ থেকে এসেছে-লিথুয়ানিয়া ও ল্যাটভিয়ার ভাষা; স্লাভিক্ থেকে এসেছে-সার্বিয়ান, বুলগেরিয়াল, চেক, রাশিয়ান, পোলিশ ইত্যাদি)।
* গ্রিক শাখার: আধুনিক গ্রিক।
* ইতালিক শাখার: ফরাসি, ইতালীয়, স্পেনীয়।
* জার্মানিক শাখার: ইংরেজি, জার্মান।

উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
৩২৩.
সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করা হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণের নাম 'Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez: Dividido em duas partes.'
- ব্যাকরণটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। বইটি রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়েছিল।

অন্যদিকে,
-----------------
•  নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ (A Grammar of the Bangla Language) প্রকাশ করেন।

• রেভারেন্ড জেমস্ কিথ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ 'বঙ্গভাষার ব্যাকরণ' রচনা করেন ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে। 

• বাঙালিদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ই সর্বপ্রথম ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এর বাংলা অনুবাদ 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৪.
প্রত্যেক ভাষার ০৩টি মৌলিক অংশ হলো-
  1. ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
  2. বর্ণ, সমাস, সন্ধি
  3. সমাস, কারক, ধ্বনি
  4. পদ, বর্ণ, ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• প্রত্যেক ভাষার ০৩টি মৌলিক অংশ হলো - ধ্বনি, শব্দ, বাক্য।

• বাংলা ব্যাকরণ: যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
- প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যেমন:
১. ধ্বনি (Sound)
২. শব্দ (Word)
৩. বাক্য (Sentence)
৪. অর্থ (Meaning)

সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ব (Semantics)
এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৫.
দিনাজপুর অঞ্চলে কোন উপভাষা ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাঙ্গালি
  2. পূর্বি
  3. বরেন্দ্রি
  4. রাঢ়ি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল; রাজশাহী; দিনাজপুর; পাবনা; মালদহ),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

• উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়,
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ''বরেন্দ্রি''ই সঠিক উত্তর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩২৬.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম -
  1. কথ্যভাষা
  2. চলিত ভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. উপভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা:
- আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২৭.
কোনটি সাধু রীতির বিশেষ্যপদ?
  1. হাতি
  2. মৎস্য
  3. চাঁদ
  4. আগুন
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩২৮.
লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ -
  1. ক) সাধু রীতি
  2. খ) আঞ্চলিক রীতি
  3. গ) প্রমিত রীতি
  4. ঘ) আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
- লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ - প্রমিত রীতি

- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩২৯.
চলিত ভাষা কী?
  1. শুধুমাত্র সরকারি ভাষা
  2. শুধুমাত্র সাহিত্যিক ভাষা
  3. মুখের ভাষার লিখিত রূপ
  4. আঞ্চলিক ভাষার একটি রূপ
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষা:
- কোনো একটি প্রধান ভাষার আওতাভুক্ত সমগ্র ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন কথ্যরূপ বা মৌখিক ভাষা ব্যবহৃত হয়।
- মুখের ভাষাকে লিখিত ভাষায় ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে চলিত ভাষার প্রচলন হয়। তবে সবার মুখের ভাষাই চলিত ভাষা নয়, কারণ মুখের ভাষা অঞ্চলভেদে পরিবর্তন হয়। তাই নির্দিষ্ট অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষিত ও শিষ্টজনের মৌখিক ভাষাকে মান চলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- উল্লেখ্য, ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং কলকাতার ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজে ব্যবহৃত মৌখিক ভাষাটিকে অল্প-বিস্তর পরিমার্জিত করে একটি সর্বজনবোধ্য আদর্শ কথ্য ভাষা গড়ে তোলা হয়। এটাই হলো বাংলার আদর্শ চলিত ভাষা।
- বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষিত জনগণ এ আদর্শ ভাষাতেই পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদান করে থাকে। চলিত ভাষা বর্তমানে একাধারে লেখার ভাষা ও মুখের ভাষা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৩০.
চলিত রীতির শব্দ কোনটি?
  1. যাহা
  2. ওঁরা
  3. কেহ
  4. তাহা
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
-  চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
-  এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
-  চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
-  সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।
- সাধু রীতির কিছু শব্দ হলো- পড়লো, পেরিয়ে, দেননি, আগেই, মাথা, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো, তাঁরা/ওঁরা, তাকে/ওকে। 

• সাধু রীতি:
-  বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
- সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩৩১.
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয় - 
  1. বিশেষ্য
  2. শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
  3. বাগ্‌যন্ত্র
  4. বাক্যের উপাদান লোপ
ব্যাখ্যা

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

---------------
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব: 
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৩২.
'বাগধারা' কোথায় আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. শব্দতত্ত্বে
  4. বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

• নবম ও দশম শ্রেণির পুরাতন ব্যাকরণ অনুযায়ী, বান্ধারা ও প্রবাদ-প্রবচন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কিন্তু নতুন ব্যাকরণ ও বাংলা একাডেমি প্রণীত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ অনুসারে, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন অর্থতত্ত্বে আলোচিত হবে। কারণ, বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচনে বাক্য নয়, অর্থই মুখ্য।

প্রশ্নটি রিয়েল জবের পরীক্ষায় আসছে। তাই, অপশন বিবেচনায় উত্তর 'বাক্যতত্ত্ব' রাখা হয়েছে।

এছাড়াও,
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, শব্দগঠন প্রক্রিয়া ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৩৩৩.
বাংলা একাডেমি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৫৫
  3. ১৯৬১
  4. ১৮৫৫
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি: 
- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর।
- এদিন ‘বর্ধমান হাউস’-এর সম্মুখস্থ বটতলায় উদ্বোধন-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জনাব আবু হোসেন সরকার ‘উদ্বোধনী ভাষণ’ পাঠ করেন।
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী জনাব আশরাফ উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদান করেন।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েভসাইট। 

৩৩৪.
কোনটি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. শব্দজোড়
  3. কারক বিশ্লেষণ
  4. যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় -  যতিচিহ্ন, কারক বিশ্লেষণ।
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - ক্রিয়া বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৩৫.
'প্রতিশব্দ' - ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা - 

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৬.
ভাষার চরিত রূপ কোনটি?
  1. এই
  2. উহা
  3. তাহাদের
  4. ওদের
ব্যাখ্যা
• 'উহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - ওদের

অন্যদিকে,
- 'উহা' চলিত রূপ হচ্ছে - ও।
- 'তাহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে - তাদের।
- 'এই' চলিত রূপ হচ্ছে - এ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৭.
বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে কী বলে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. সাধুচণ্ডালী দোষ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৩৩৮.
চর্যাপদ কোন ভাষার প্রাচীন নিদর্শন?
  1. পালি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।

• এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে,
সেগুলো হলো:
- ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয়→  ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩৩৯.
কোনটি ভাষাবংশের নাম নয়?
  1. আফ্রিকীয়
  2. দ্রাবিড়ীয়
  3. ইন্দো-ইউরোপীয়
  4. হিস্পানি
ব্যাখ্যা
• ভাষাবংশের নাম নয়- হিস্পানি।

• বাংলা ভাষা:

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪০.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে। তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৪১.
সাধু ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য?
  1. গুরুগম্ভীর
  2. দুর্বোধ্য
  3. অবোধ্য
  4. গুরুচণ্ডালী
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য হবে গুরুগম্ভীর। 

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)। 
২) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
৩৪২.
ভাষার মূল কাজ কী?
  1. সাহিত্য রচনা
  2. ব্যক্তির দক্ষতা উন্নয়ন
  3. যোগাযোগ স্থাপন 
  4. কর্মদক্ষতা উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

• ভাষার প্রধান ও মৌলিক কাজ হলো — যোগাযোগ স্থাপন করা।
অর্থাৎ, এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাব, অনুভূতি, জ্ঞান ও তথ্য বিনিময় করা।

• ভাষা ছাড়া মানুষ পরস্পরের সাথে ভাব প্রকাশ করতে পারত না, তাই সমাজজীবনও গড়ে উঠত না।

 উল্লেখ্য,
• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একক / মূল উপাদান - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩৪৩.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ এর রচয়িতা- রাজা রামমোহন রায়। 
--------------- 
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:

• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪-৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• এরপর উইলিয়ম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।

- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

মনে রাখতে হবে, 
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন (পর্তুগিজ ভাষায়) - মনোএল দা আসুসাম্পসাঁউ (ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ) ।
প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন (মূলত ইংরেজী ভাষায়) - নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ)।
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়) - গৌড়ীয় ব্যাকরণ (রামমোহন রায়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৪.
বিশুদ্ধ চলিত ভাষা কোনটি?
  1. ক) সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল।
  2. খ) সামনে কতিপয় বাঁশ বাগান পড়ল।
  3. গ) সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়িল।
  4. ঘ) সম্মুখে একটা বাঁশ বাগান পড়িল।
ব্যাখ্যা
 অপশনগুলো লক্ষ করলে দেখা যাবে প্রথম অপশন ছাড়া অন্যগুলোতে সাধু ভাষার ক্রিয়াপদ বা শব্দ আছে। যেমন : কতিপয়, পড়িল। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৪৫.
ব্যাকরণে সার্বিক আলোচ্য বিষয় কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বই অনুসারে -
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে। যথা-
১. ধ্বনিতত্ত্ব
২. রূপতত্ত্ব
৩. বাক্যতত্ত্ব
৪. অর্থতত্ত্ব
-------------------------

অন্যদিকে, 
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন) অনুসারে, ব্যাকরণ প্রধানত চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব
৩. বাক্যতত্ত্ব
৪. অর্থতত্ত্ব
এছাড়া ছন্দ ও অলঙ্কার এবং অভিধানতত্ত্ব ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্বীকৃত। 
-------------------------

তাছাড়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে - ব্যাকরণে সার্বিক আলোচ্য বিষয় ছয়টি।
১. ধ্বনিতত্ত্ব
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব
৩. বাক্যতত্ত্ব
৪. ছন্দ ও অলঙ্কার তত্ত্ব
৫. বাগর্থ বিজ্ঞান বা অর্থতত্ত্ব
৬. অভিধানতত্ত্ব

=====================
ড. সৌমিত্র শেখর এর বইয়ে সরাসরি "সার্বিক আলোচ্য বিষয়" কথাটি উল্লেখ আছে। প্রশ্নটিও একইভাবে করা হয়েছে।
তাছাড়া বোর্ড বইয়ে সার্বিক আলোচ্য বিষয় বা মূল আলোচ্য বিষয় কোনটিই উল্লেখ নেই। বোর্ড বইয়ে বলা হয়েছে - "অন্তত চারটি ভাগে" আলোচিত হয়।
** সবদিক বিবেচনায়, ব্যাকরণে সার্বিক আলোচ্য বিষয় ছয়টি হবে।
৩৪৬.
মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন কোনটি?
  1. চিত্র
  2. লেখা
  3. ভাষা
  4. ইঙ্গিত
ব্যাখ্যা
• মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন - ভাষা।

ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৭.
‘বাবা‘ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
• তুর্কি : উজবুক, উর্দু, কঞ্চি, কুলি, কোর্মা, কাঁচি, খাতুন, বাবা, চকমকি, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, সওগাত, চুকলি, তালাশ ইত্যাদি।

• আরবি : আজান, আল্লাহ্, আদম, কোরান, ফকির, খাতা, খারাপ, নগদ, তবলা, আসামি, আসবাব, ইজ্জত, দৌলত, গজল, শহিদ, শুরু,  কাবাব, খারিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৩৪৮.
'প্রাতে দেখে তারে প্রাণ জুড়িয়া গেল।' বাক্যে কয়টি সাধু ভাষার শব্দ রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
• এখানে প্রাতে ও জুড়িয়া সাধু ভাষার শব্দ। সুতরাং, উপড়ে উল্লেখিত বাক্যে ২টি সাধু ভাষার শব্দ রয়েছে। 

• 'প্রাতে' শব্দের চলিত রূপ - সকালে। 
• 'জুড়িয়া' শব্দের চলিত রূপ - জুড়ে। 

অন্যদিকে,
- 'দেখে' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - দেখিয়া।  
- 'তারে' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - তাহারে।
- 'প্রাণ' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - পরাণ। 
- 'গেল' চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - গিয়াছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৯.
কোন রঙের পৃষ্ঠ থেকে আলো সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়?
  1. লাল
  2. নীল
  3. সাদা
  4. কালো
ব্যাখ্যা

• সবচেয়ে বেশি আলো প্রতিফলনের ক্ষেত্রে রঙের প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। আলোকরশ্মি একটি পৃষ্ঠে পড়লে তার কিছু অংশ শোষিত হয় এবং বাকিটা প্রতিফলিত হয়। কালো পৃষ্ঠ প্রায় সমস্ত আলো শোষণ করে, তাই এটি খুব কম আলো প্রতিফলিত করে। লাল বা নীল রঙের পৃষ্ঠ নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি প্রতিফলিত করে, কিন্তু সব রঙের আলো নয়। অন্যদিকে, সাদা পৃষ্ঠ সব রঙের আলো প্রায় সমানভাবে প্রতিফলিত করে। ফলে, সর্বাধিক আলো প্রতিফলনের জন্য সাদা পৃষ্ঠ সবচেয়ে উপযুক্ত। সুতরাং, আলো প্রতিফলনের দিক থেকে সাদা রঙের পৃষ্ঠই সবচেয়ে কার্যকর।

- উত্তর: গ) সাদা।

প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। 
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। 
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 

- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং 
২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫০.
‘ব্যাকরণ’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ কোনটি?
  1. বি + আ + কৃ + √অন
  2. বি + আ + √কৃ + অন
  3. বি + আ + √কর + ন
  4. ব্য + আ + √কৃ + অন
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণ (= বি + আ + √কৃ + অন) শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।

সংজ্ঞা:
- যে শাস্ত্রে কোনো ভাষার বিভিন্ন উপাদানের প্রকৃতি ও স্বরূপের বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় এবং বিভিন্ন উপাদানের সম্পর্ক নির্ণয় ও প্রয়োগবিধি বিশদভাবে আলোচিত হয়, তাকে ব্যাকরণ বলে।

ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজনীয়তা:
- ব্যাকরণ পাঠ করে ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠন প্রকৃতি ও সেসবের সুষ্ঠু ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায় এবং লেখায় ও কথায় ভাষা প্রয়োগের সময় শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ধারণ সহজ হয় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫১.
বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি ‘ব্রাহ্মী লিপি‘ কোথায় পাওয়া গেছে?
  1. উয়ারী বটেশ্বর
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. বীরভূম
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির সৃষ্টি:
- এই উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনের সময়ের।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে উভয় প্রাপ্ত লিপির সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে।
- ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
১. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ),
২. নাগর (রাজস্থান ও মালব; গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ) ও
৩. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।
- বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির এই কুটিল রূপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫২.
বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা কে
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫৩.
দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কি বলে?
  1. ক) ধ্বনি বিপর্যয়
  2. খ) বিষমীভবন
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন: দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন-
শরীর > শরীল
লাল > নাল ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যাঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ>পিচাশ, লাফ>ফাল ইত্যাদি।

সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তার সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন: ধোবা>ধোপা, ধাইমা>দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৪.
ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিচারে বাংলা পৃথিবীর কত তম ভাষা?
  1. ক) ৫ম
  2. খ) ৭ম
  3. গ) ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা
ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিচারে বাংলা পৃথিবীর ৪র্থ বৃহত্তম ভাষা। প্রায় ত্রিশ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ত্রিপুরা, বিহার, উড়িষ্যা এবং আসামে বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের নানা প্রান্তে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাভাষী অভিবাসী রয়েছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৫৫.
শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয় -
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. অর্থতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা পদক্রম:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৫৬.
‘খাওয়াইয়াছিল’ সাধু ক্রিয়াপদের চলিত রূপ-
  1. খাইছিল
  2. খাচ্ছিল
  3. খেয়েছিল
  4. খাইয়েছিল
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী। 
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• চলিত রীতি: 
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

• সাধু - চলিত
মস্তক - মাথা, 
জুতা - জুতো, 
তুলা - তুলো, 
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো, 
খাওয়াইয়াছিল - খাইয়েছিল। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৮)। 
৩৫৭.
সরল, পরিবর্তনশীল ও সাবলীল ভাষারীতি কোনটি?
  1. কাব্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. চলিত রীতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

----------------
• সাধু ভাষারীতি বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
-সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৫৮.
'বাচ্য' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় 'শব্দগঠন প্রক্রিয়া'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৫৯.
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. সমাস 
  2. সন্ধি
  3. প্রত্যয় 
  4. বাচ্য 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো-
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সমাস ও প্রত্যয় রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
• বাচ্য বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩৬০.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. বুনো
  2. জুতা
  3. তুলো
  4. মাথা
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষার শব্দ 'জুতা' এর চলিত রূপ - জুতো।

এরূপ আরো কয়েকটি:
- মস্তক (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - মাথা।
- বন্য (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - বুনো।
- তুলা (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - তুলো।
- শুষ্ক/শুকনা (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - শুকনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৩৬১.
অর্থতত্ত্বে আলোচনা করা হয় -
  1. বিশেষণ
  2. শব্দ ও তার উপাদান
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিপরীত শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬২.
সাধু রীতি অনুযায়ী অশুদ্ধ কোনটি?
  1. ক) সহিত
  2. খ) তুলা
  3. গ) মাথা
  4. ঘ) শুষ্ক
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশন সমূহের মধ্যে সহিত, তুলা এবং শুষ্ক হলো সাধু ভাষা রূপ, যাদের চলিত রূপ হলো যথাক্রমে তুলো, শুকনো এবং সঙ্গে বা সাথে। অন্যদিকে মাথা হলো চলিত রূপ যার সাধু রূপ হলো মস্তক। সাধু ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলে। এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৬৩.
'যোজক' আলোচনা করা হয়—
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

• 'যোজক' - 'রূপতত্ত্বে' এর আলোচ্য বিষয়।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
যেমন- 
- শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, অনুসর্গ, পদ- প্রকরণ, যোজক, ক্রিয়ার অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার কাল, পুরুষ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু প্রভৃতি।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৪.
বাংলাদেশের আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫ - ১৯৬৯)। 
তার অন্যান্য সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী,
- গল্প সংকলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৫.
সাধু ভাষা রীতির ব্যবহার কোন ক্ষেত্রে অনুপযোগী?
  1. নাটকের সংলাপে 
  2. কাব্য রচনায় 
  3. গদ্য-সাহিত্যে 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• প্রখ্যাত বৈয়াকরণ ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।"
সুতরাং, বাংলা গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দবহুল সুষ্ঠু, মার্জিত, সর্বজনবোধ্য, অথচ নিয়মবন্ধ ও কৃত্রিম ভাষারূপ হলো সাধুভাষা

• বক্তৃতা, নাটক ও আলাপচারিতার অনুপযোগী বলে এই ভাষা কৃত্রিম, এবং শুধু লেখ্য ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'যাহাকে তাহাকে মারিতে যাওয়া তোমার উচিত হয় নাই'। এখানে 'যাহাকে', 'তাহাকে' সর্বনাম পদ; 'মারিতে'-ক্রিয়া পদ এবং 'নাই'-নঞর্থক অব্যয় (যোজক) পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়েছে। সাধুভাষা কঠোর ব্যাকরণের রীতিতে নিয়ন্ত্রিত।

• উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন পদ-বিশেষত ক্রিয়া, সর্বনাম ও নঞর্থক অব্যয় পদের পূর্ণরূপ বজায় রেখে-সহজ, সরল, তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের সমাবেশে হালকা রীতিতেও সাধু ভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণi (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬৬.
বাংলা একাডেমি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৫৫
  3. ১৯৬১
  4. ১৮৫৫
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি: 
- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর।
- এদিন ‘বর্ধমান হাউস’-এর সম্মুখস্থ বটতলায় উদ্বোধন-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জনাব আবু হোসেন সরকার ‘উদ্বোধনী ভাষণ’ পাঠ করেন।
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী জনাব আশরাফ উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদান করেন।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েভসাইট। 

৩৬৭.
'উচ্চারণের স্থান' ব্যাকরণের আলোচিত হয়
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৮.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. যদিও
  2. নতুবা
  3. আজও
  4. কখনো
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - নতুবা। এবং এর চলিতরূপ - নইলে।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৬৯.
এক বা একাধিক ধ্বনির সমষ্টি কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. বাক্য 
  3. শব্দ
  4. ভাষা
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে। 
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭০.
মনের ভাব প্রকাশে কোনটি সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম?
  1. লিপি
  2. সংকেত
  3. চিত্র
  4. ভাষা
ব্যাখ্যা

• মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন - 'ভাষা'। 

• 'ভাষার সংজ্ঞা: 
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৭১.
ভাষার কোন রূপ ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে?
  1. আঞ্চলিক
  2. চলিত
  3. প্রাকৃত
  4. সাধু
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষা আঞ্চলিক প্রভাব থেকে মুক্ত।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধুরীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭২.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক। 
  2. তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
  3. গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  4. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৭৩.
ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে কী গঠিত হয়?
  1. অর্থ
  2. শব্দ
  3. ভাষা
  4. বাক্য
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তার মনের মধ্যে সব সময়ই নানা বুদ্ধি বা ভাবের আনাগোনা চলে। সেই বুদ্ধি বা ভাব ইশারায়, নানা অঙ্গভঙ্গি করে, ছবি ও নাচের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে।
- সাধারণ কথায় 'ভাষা' বলতে বোঝায়, মানুষের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অর্থপূর্ণ কতকগুলো আওয়াজ বা ধ্বনির সমষ্টি। এই অর্থপূর্ণ ধ্বনিই হলো ভাষার প্রাণ।
- ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে। মানুষের গলনালি, দাঁত, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, নাক ইত্যাদির সহযোগ হলো বাগ্যন্ত্র।
- ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে গঠিত হয় শব্দ। আর একাধিক শব্দের সমন্বয়ে অর্থের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় বাক্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৭৪.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ কোন ভাষায় রচিত?
  1. ইংরেজি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফারসি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• ম্যানোএল দা আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথানিয়েল ব্রাসি) হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এটিই ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

• আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৫.
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ব্যাকরণের নাম কী?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
  3. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  4. আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৬.
'বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।
৩৭৭.
কোন শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ?
  1. পড়িল, পেরিয়ে
  2. তুলা, সহিত
  3. বুনো, তুলো
  4. জুতো, করে
ব্যাখ্যা
'তুলা, সহিত' - শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ।
- 'তুলা' এবং 'সহিত' এর চলিতরূপ হচ্ছে - তুলো এবং সঙ্গে/সাথে।

সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত ,
জুতা ------------ জুতো,
তুলা------------- তুলো,
শুষ্ক/শুকনা ----- শুকনো,
বন্য ------------ বুনো,
দেন নি -------- দেননি,
পার হইয়া ----- পেরিয়ে,
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো,
করিয়া ----------- করে,
পূর্বেই ---------- আগেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৩৭৮.
সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য- 
  1. নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
  2. গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে। এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৭৯.
কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ কোনটি?
  1. সংস্কৃত লিপি
  2. বাংলা লিপি
  3. হিন্দি লিপি
  4. তদ্ভব লিপি
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি – স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।

- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮০.
নিচের কোনটি বঙ্গকামরূপি ভাষা থেকে সৃষ্ট ভাষা?
  1. ক) অসমিয়া
  2. খ) উড়িয়া
  3. গ) হিন্দী
  4. ঘ) ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় আর্যভাষাকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 
ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা (খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
খ) মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা বা প্রাকৃত ভাষা (খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ থেকে ৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
গ) নব্য ভারতীয় আর্যভাষা বা বাংলা, হিন্দি, সিদ্ধি, মারাঠি, মৈথিলী, ভোজপুরি, উড়িয়া, অসমিয়া ইত্যাদি (৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান পর্যন্ত)।

• প্রাচীন ভারতীয় গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে বিহারি, প্রাচীন উড়িয়া, বঙ্গ- কামরূপী ভাষার উৎপত্তি।
- 'বাংলা ও অসমিয়া' ভাষা বঙ্গকামরূপি ভাষা থেকে সৃষ্ট ভাষা।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৮১.
বাংলা একাডেমি কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৩৫
  3. গ) ১৯৫২
  4. ঘ) ১৩৫২
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ১ ডিসেম্বর মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮২) একাডেমীর প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর মাযহারুল ইসলাম (১৯৭২ সাল)।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৩৮২.
কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. করলে
  2. যাইও
  3. করতাম
  4. হয়ে
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি - যাইও।
- চলিত রীতির শব্দ - যেয়ো/যেও।

সাধু রীতি - চলিত রীতি:
→ যাইবে - যাবে, 
→ বলিব - বলব, 
→ করিলে - করলে, 
→ যাইও - যেয়ো/যেও, 
→ করিতাম - করতাম, 
→ হইয়া - হয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৩.
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. সমাস
  2. উপসর্গ
  3. কারক বিশ্লেষণ
  4. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - উপসর্গ, সমাস।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮৪.
কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. করতে
  2. করিল
  3. করলাম
  4. করবে
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা/রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর,
 যেমন:
- ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।

(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বৰ্ণ যুক্ত থাকে,
যেমন:
- তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮৫.
‘দেখিয়া’ শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. ক) দেখে
  2. খ) দেখিল
  3. গ) দেখিয়াছি
  4. ঘ) দেখাইয়া
  5. ঙ) কোনকিছু নয
ব্যাখ্যা
‘দেখিয়া’ শব্দের চলিত রূপ “দেখে”। এরকম আরো কিছু উদাহরনঃ করিয়া-করে; আসিয়া-এসে; হইলেন-হলেন; করিলেন-করলেন ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৮৬.
ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই-
  1. রসতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. ক্রিয়ার কাল
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই ‘বাক্যতত্ত্ব’।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্ব মানুষের বাক্-প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনি সমন্বয়ে গঠিত শব্দসহযোগে সৃষ্ট অর্থবোধক বাক প্রবাহের বিশেষ বিশেষ অংশকে বলা হয় বাক্য (Sentence)।
- বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।
- বাক্যের মধ্যে কোন পদের পর কোন পদ বসে, কোন পদের স্থান কোথায় বাক্যতত্ত্বে এসবের পূর্ণ বিশ্লেষণ থাকে। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৭.
কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) অর্থদ্যোতকতা
  2. খ) ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি
  3. গ) মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি
  4. ঘ) জনসমাজে ব্যবহার যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়- ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি।

• ভাষা হলো ভাবের উৎস, ভাবের উচ্চারণ, মনের ভাব প্রকাশের উৎস/মাধ্যম/বাহন, মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক্ সংকেত।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৮.
প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি বলা হয় কোন রীতিকে?
  1. কাব্য রীতি
  2. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কথ্য ভাষা রীতি ও লেখ্য ভাষা রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে। যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• কথ্য ভাষা রীতি:
কথ্য ভাষা রীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

• আদর্শ কথ্য রীতি:
আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রেডিও টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায় সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃতিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়। এই রীতিই প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি। তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮৯.
’সাধু ভাষা’ পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন -
  1. ক) রাজা মনি মোহন রায়
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) অক্ষয় কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন: ‘এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'

- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
- ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়ােজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
- এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন - রাজা রামমোহন রায়।

সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
'সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।' — ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুসরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে। — ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক।

বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তােলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস:
১. ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২. বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৯০.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য?
  1. ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়
  2. তৎসম শব্দবহুল
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
  4. এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯১.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. জুতা
  2. মাথা
  3. তুলা
  4. বন্য
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার শব্দ- মাথা।

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৯২.
বাংলালিপি জন্মলাভ করেছে কোন লিপি থেকে?
  1. সারদা লিপি
  2. ব্রাহ্মী লিপি
  3. খরোষ্ঠী লিপি
  4. তাম্র লিপি
ব্যাখ্যা
• ব্রাহ্মী লিপি:
ব্রাহ্মী থেকেই জন্মলাভ করেছে বাংলালিপি। ব্রাহ্মী ভারতবর্ষের প্রাচীনতম ও বহুল প্রচলিত লিপি। কখন উদ্ভব হয়েছিল এ লিপির, তা সঠিক জানা যায়নি। অনেকে সিন্ধু লিপির সঙ্গে এ লিপির যোগসূত্র খোঁজার প্রয়াস পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এ লিপি আমদানি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে অনুমান-নির্ভর এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক সাক্ষ্য-প্রমাণ মেলেনি। বলা যেতে পারে, এ লিপি ভারতীয়দের নিজস্ব উদ্ভাবন। এ লিপির নাম কেন ব্রাহ্মী হল, তাও সঠিক বলা যায় না। কারও কারও ধারণা, ব্রাহ্মণদের লিপি বলেই এ লিপি ব্রাহ্মী সংজ্ঞা পেয়েছে।

ব্রাহ্মীর প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে নেপালের তরাই অঞ্চলের পিপ্রাবা থেকে। পিপ্রাবা লিপিটি একটি পাত্রের উপর খোদিত। এ পাত্রে বুদ্ধদেবের অস্থি রক্ষিত ছিল। এ থেকেই ধারণা করা হয়, এ লিপিটি বুদ্ধের নির্বাণকাল খ্রি. পৃ. ৪৮৭ এর কিছু পরেই উৎকীর্ণ।

ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি।

• ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে। যথা:
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৩.
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ - 
  1. ব্যাকরণ ও ভাষা 
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. ধ্বনিপরিচয়
  4. বর্ণপরিচয় 
ব্যাখ্যা

• 'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থ:
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯৪.
কোন জেলার ভাষারীতি পরবর্তীতে সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে প্রসার লাভ করে?
  1. খুলনা
  2. নদীয়া
  3. যশোহর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
- রাঢ়ি উপভাষাকে সাহিত্য অঙ্গনে ও শিষ্ট সমাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- বাংলা ভাষায় এ উপভাষাকে আদর্শ কথ্য ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।
- কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, হুগলি, হাওড়া প্রভৃতি অঞ্চলে এ উপভাষা প্রচলিত।
- নদীয়া, যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত, ঐতিহাসিকভাবে বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতির একটি কেন্দ্রস্থল ছিল।
- চৈতন্যের অনুসারী এবং সমসাময়িক কবি-সাধকরা নদীয়ার ভাষারীতিতে অসংখ্য ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্য ও ভাষার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- অন্যদিকে, কুমিল্লা, খুলনা, এবং যশোহর জেলাগুলিও তাদের আঞ্চলিক ভাষারীতি ও সংস্কৃতি দ্বারা সাহিত্যে অবদান রাখে, কিন্তু নদীয়ার মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৫.
শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে বলা হয় -
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) পদ
  3. গ) কারক
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
শব্দের ক্ষুদ্রতম একক বর্ণ/ধ্বনি। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৯৬.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কার রচনা?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, (ওডিবিএল, ১৯২৬)।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯৭.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. হস্তী
  2. কান
  3. মৎস্য
  4. দন্ত
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার শব্দ - কান
- এর সাধুরূপ - কর্ণ।

• বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৯৮.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. যতিচিহ্ন
  2. সর্বনাম
  3. শব্দ গঠন
  4. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - শব্দ গঠন, সর্বনাম।
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - যতিচিহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৯৯.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ:
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। 
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। তাঁর বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৪০০.
ব্রাহ্মণ শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণ হলো-
  1. ক) ক+ষ
  2. খ) ষ+ণ
  3. গ) হ+ম
  4. ঘ) ঞ+জ
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণ শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণ হলো হ্+ম= হ্ম। অন্যদিকে ক্+ষ= ক্ষ (ক্ষুধা), ষ্+ণ= ষ্ণ (উষ্ণ) এবং ঞ্+জ= ঞ্জ (গঞ্জ)। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)