বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুঘল, সুলতান ও নবাবী আমল

মোট প্রশ্ন৪৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুঘল, সুলতান ও নবাবী আমল

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৪৯২

৩০১.
শেরশাহ উপমহাদেশে কোন ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. রেলওয়ে
  2. টেলিগ্রাফ
  3. ঘোড়ার ডাক
  4. পুলিশ
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন। কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০২.
কোন মুঘল সম্রাট দিল্লিতে 'দীন-পানাহ ভবন' নির্মাণ করেন?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৩.
হিউয়েন সাঙ কার নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন?
  1. ক) বর্ধমান
  2. খ) গৌতম বুদ্ধ
  3. গ) অতীশ দীপঙ্কর
  4. ঘ) শীলভদ্র
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাঙ একজন বিখ্যাত চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। সপ্তম শতকে ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি উত্তর ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন। হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে হিউয়েন সাঙ উত্তর ভারতে আসেন।

তিনি নালন্দা মহাবিহারে প্রায় আট বছর অতিবাহিত করে বিহারের বাঙালি অধ্যক্ষ শীলভদ্রের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলার বিভিন্ন অংশ এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত ভ্রমণ করে পুনরায় মধ্য এশিয়া হয়ে চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩০৪.
মোগল বংশের শেষ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. শাহ আলম
  3. জহিরউদ্দিন বাবর
  4. মুহাম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা

মোগল সাম্রাজ্যের পতন: 
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর। 
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মোগল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৫.
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ এর সাথে পত্রালাপ হতো কোন কবির?
  1. ক) হাফিজ
  2. খ) আলাওল
  3. গ) ফেরদৌসি
  4. ঘ) ওমর খৈয়াম
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০/৭৯২-৮১৩ হিজরি)  বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান। 
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বিদ্বান লোকদের খুব সমাদর করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০৬.
কোন শাসকের পরাজিত করার পর সমগ্র বাংলা অঞ্চলে মুঘল সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. পাল বংশ
  2. বারোভূঁইয়া
  3. সেন বংশ 
  4. কাররানি বংশ
ব্যাখ্যা

• বাংলায় মুঘল শাসন (১৫৭৬-১৭৫৭ সাল):
- সুবাদারি ও নবাবি-এ দুই পর্বে বাংলায় মুঘল শাসন অতিবাহিত হয়।
- বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করার পর সমগ্র বাংলা অঞ্চলে মুঘল সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুঘল প্রদেশগুলো 'সুবা' নামে পরিচিত ছিল।
- বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা। সতেরো শতকের প্রথম দিক থেকে আঠারো শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর দিল্লির দুর্বল উত্তরাধিকারীদের সময়ে মুঘল শাসন শক্তিহীন হয়ে পড়ে।
- এ সুযোগে বাংলার সুবাদারগণ প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।
- মুঘল আমলের এই যুগ 'নবাবি আমল' নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৭.
কোন শাসক সর্বপ্রথম বাংলায় মুদ্রা প্রচলন করেন?
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  2. খ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  3. গ) ঈশা খাঁ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সর্বপ্রথম বাংলায় মুদ্রা প্রচলন করেন। 
- ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলে মুসলিম যুগের শাসনামল লক্ষ করা যায়।
-  ইতিহাসে এ সময়কে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- এসময়ে নৌ-শিল্পের কিছুটা প্রসার ঘটে। রণতরীসহ পালতোলা যাত্রীবাহী বিভিন্ন ধরনের নৌকা এসময় তৈরী হয়েছিল।
- চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নও এসময় হয়েছিল। 
- ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ বিনিময় প্রথা রহিত করে সোনারগাঁয়ে প্রথম মুদ্রার প্রচলন করেন। 
- বখতিয়ার-এর বঙ্গ বিজয় থেকে শুরু করে ইংরেজ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত এ ভূখন্ডের অর্থনীতির মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। 
 
- মধ্যযুগে শেরশাহের আমলে সমগ্র রাজত্বকে কতগুলো সরকার এবং পরগণায় বিভক্ত করা হয়। তখন জমির উৎপাদিত ফসলের এক-চতুর্থাংশ খাজনা হিসাবে কৃষকরা দিত। 
 
- বাদশা আকবরের আমলে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রাজা টোডরমল এ অঞ্চলের রাজস্ব বন্দোবস্তের তালিকা প্রস্তুত করেন।
 
উৎস : অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম;  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৮.
মুর্শিদ কুলি খান প্রবর্তিত ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাটি কী নামে পরিচিত?
  1. মনসবদারি প্রথা
  2. মালজামিনি প্রথা
  3. কবুলিয়ত প্রথা
  4. পাট্টা প্রথা
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান: 
- মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
- ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' প্রথা নামে পরিচিত।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসি ও পারসিক ব্যবসায়ীদের তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন।
- ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করানা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশি বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- ভূমি ব্যবস্থাপনায় 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথা প্রচলন করেন শেরশাহ।
- মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩০৯.
পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে কার পত্রালাপ হতো?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. সুলতান সিকান্দার শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: 
- সুলতান সিকান্দার শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র গিয়াসউদ্দিন 'আজম শাহ' (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ) উপাধি গ্রহণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দার শাহ যুদ্ধবিগ্রহ ও স্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
- কিন্তু গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের কৃতিত্ব ছিল অন্যত্র।
- তিনি তাঁর প্রজারঞ্জক ব্যক্তিত্বের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের যথেষ্ট সুখ্যাতি ছিল।
- কবি-সাহিত্যিকগণকে তিনি সমাদর ও শ্রদ্ধা করতেন।
- তিনি কাব্যরসিক ছিলেন এবং বাংলার সুলতান হলেও নিজে ফার্সি ভাষায় কবিতা রচনা করতেন।
- পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩১০.
কোন আমলে ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ভারতে এসেছিলেন?
  1. পাল আমলে
  2. মৌর্য আমলে
  3. গুপ্ত আমলে
  4. মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
হযরত শাহজালাল কোন শাসকের রাজত্বকালে বাংলায় আসেন?
  1. রুকনুদ্দিন কায়কাউস
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
- সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ জালাল বাংলায় আসেন।
- শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানকালে হযরত শাহ জালাল তাঁর সাথে মিলিত হয়ে সিলেটের রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করেন।
- সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সময় একদিকে রাজত্বের সীমানা বৃদ্ধি পেয়েছিল অপরদিকে এসময় বাংলায় ইসলাম প্রচারের গতিও বেড়ে যায়।
- বিশেষ করে হযরত শাহজালালের কারণে সিলেট অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়।
[সূত্র- বাংলাপিডিয়া]
৩১২.
বাংলাকে ”জান্নাতবাদ” নাম ঘোষণা করেন-
  1. মুঘল সম্রাট আকবর
  2. মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  3. মুঘল সম্রাট বাবর
  4. মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুন প্রায় ৯ মাস  বাংলায় অবস্থান করেন এবং আবহাওয়া চমৎকার লাগায় বাংলাকে জান্নাতাবাদ নাম ঘোষণা করেন।
- হুমায়ুনের রাজত্বকাল দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্ব: ১৫৩০-১৫৪০খ্রিস্টাব্দ।
- দ্বিতীয় পর্ব: ১৫৫৫-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- মুঘল বংশের দ্বিতীয় শাসক।
- মধ্যখানে ১৫৪০-১৫৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি শের শাহের কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে পারস্য আশ্রিত ছিলেন।
- ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৫৫৫ সালে পারস্যর সহায়তায় তিনি মোঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
- কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত ১৫৫৬ সালে ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

⇒অপরদিকে,
- মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও তার পিতা বাবর।
- হুমায়ুনের পুত্র মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আকবর।
- সম্রাট জাহাঙ্গির নিজের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন।

উৎস: ¡) ইতিহাস ১ম পত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ¡¡)  বাংলাপিডিয়া।
৩১৩.
বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন -
  1. কেদার রায়
  2. ইসলাম খান
  3. ঈসা খান
  4. মানসিংহ
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৪.
হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান কে ছিলেন?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. নসরত শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা

গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ:
- গিয়াসউদ্দিন মহমুদ শাহ ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি ছিলেন হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান এবং একজন অযোগ্য শাসক।
- এ সময় শের খান নামক একজন তরুণ আফগান দলপতির আবির্ভাব ঘটলে তিনি বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েন।
- শের খান কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে বিহারের শাসনকর্তা জালাল খান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শরণাপন্ন হন।
- এর ফলে শের খানের সাথে মাহমুদ শাহের যুদ্ধ বাঁধে।
- ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরুজগড়ে সংঘটিত যুদ্ধে শেরখান মাহমুদ শাহের বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- অবশেষে শের খান ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে গৌড় সংঘটিত যুদ্ধে সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদের বাহিনীকে পরাজিত করে গৌড় অধিকার করে নেন।
- তিনি মাহমুদ শাহকে বঙ্গ দেশ থেকে বিতাড়িত করলে হোসেন শাহী বংশের শাসনের পরসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৫.
বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন তাজমহল নির্মাণ করেন-
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহন
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহানের আমলে মুঘল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। তার স্ত্রী অকাল প্রয়াত মমতাজমহলের সমাধীর উপর তাজমহল নির্মাণ বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন৷ ময়ূর সিংহাসন তার শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।
উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস ২য় পত্র- এইচ এস সি প্রোগ্রাম
৩১৬.
'ঢাকা গেইট' কে নির্মাণ করেন?
  1. মীর জুমলা
  2. শায়েস্তা খাঁ
  3. ইসলাম খাঁ
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
• ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৩১৭.
সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কী?
  1. সোনারগাঁ
  2. জাহাঙ্গীরনগর
  3. ঢাকা
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
• সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল — সোনারগাঁও ও গৌড়।

• বাংলার প্রাচীন রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁও ও গৌড়:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগড়াপাড়া ক্রসিং থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- সবুজ বন-বনানী আর অনুপম স্থাপত্যশৈলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের নান্দনিক ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সুলতানি আমলে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সর্বশেষ  রাজধানী গৌড় ছিল। সে আলোকে গৌড়  উত্তর নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও,
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।
- পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরী।
- ইমারতগুলো কোথাও একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও সন্নিহিত।
- অধিকাংশ ভবনই আয়তাকার এবং উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত।দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন স্থাপত্যের মাধ্যমে পানামনগর গড়ে উঠেছিল।
- উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ী এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন। 
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া (লিংক)।
৩১৮.
দ্বীন ই ইলাহী ধর্মের প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) হালাকু খান
  2. খ) শাক্যমুনি
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) গোলাম মীর
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে সকল ধর্মমতের অন্তঃসারের সমন্বয়ে দ্বীন ই ইলাহী নামের একটি একেশ্বরবাদী ধর্মমতের প্রচার করেন। তবে তার এই ধর্ম গ্রহণের জন্যে তিনি কারো উপর বলপ্রয়োগ করেননি। তার মৃত্যুর সাথে সাথে এই ধর্মমতও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ২য়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩১৯.
কোন মুঘল সম্রাট পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- সম্রাট বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন।
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২০.
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কোন সুলতান?
  1. ক) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  2. খ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. গ) গিয়াস উদ্দিন বলবন
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন তুঘলক
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি আমির, মালিক, অভিজাত সম্প্রদায় এবং উলামাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করে মধ্যযুগীয় দিল্লী সালতানাতের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কায়েম করে তিনি সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থার প্রচলন করেন। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। অভ্যন্তরীণ ও বহি:স্থ বিদ্রোহ দমন এবং সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের জন্য এক বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেন।সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন একাধারে রাজ্য বিজেতা, সুদক্ষ যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক এবং সমসাময়িককালের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩২১.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'?
  1. হুমায়ুন
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন:
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩২২.
আইন-ই-আকবরই গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. আবুল ফজল
  2. ইবনে বতুতা 
  3. তানসেন
  4. কালীদাস রায়
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী:
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড।
- আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ।
- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত হয়েছে।
- আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
- আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এ গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৩.
বাংলায় মুঘল সম্রাট আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন -
  1. রাজা মানসিংহ
  2. মুনিম খান
  3. শাহবাজ খান
  4. মির্জা আজিজ
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৪.
বাংলা থেকে মারাঠি দস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. আলিবর্দি খান
  2. মীর জুমলা
  3. ইব্রাহীম খান
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
• আলিবর্দি খান:
- মুঘল সম্রাটের অনুমোদনে নয়; বরং বাহুবলে বাংলার ক্ষমতা দখল করেন আলিবর্দি খান।
- আলিবর্দি খানের শাসনকালে (১৭৪০-১৭৫৬ সাল) বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অনেকদিন ধরেই বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।
- আলিবর্দি খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত ১০ বছর প্রতিরোধ করে বর্গিদের দেশছাড়া করতে সক্ষম হন।
- তাঁর শাসনকালে আফগান সৈন্যরা বিদ্রোহ করলে তিনি শক্ত হাতে তা দমন করেন।
- আলিবর্দির সময়ে ইংরেজসহ অনেক ইউরোপীয় বণিকের বাণিজ্যিক তৎপরতা বাংলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
- একই সাথে তারা সামরিক শক্তিও সঞ্চয় করতে থাকে।
- আলিবর্দি খান শক্ত হাতে বণিকদের তৎপরতা রোধ করেন।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল আলিবর্দি খান মৃত্যুবরণ করেন। মুর্শিদাবাদের খুশবাগে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩২৫.
শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম থেকে কাদের বিতাড়িত করেন?
  1. ডাচ ও ফরাসি জলদস্যু
  2. মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যু
  3. ব্রিটিশ ও পর্তুগিজ জলদস্যু
  4. আরাকান ও মারাঠা জলদস্যু
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৬.
রাজা টোডরমল কোন মুঘল সম্রাটের অর্থমন্ত্রী ছিলেন?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. জাহাঙ্গীর
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মুঘল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মুঘল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৭.
‘ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গ’ নির্মাণ করে কোন দেশের বাণিজ্যিক কোম্পানি?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) ইংল্যান্ড
  4. ঘ) হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলকাতায় প্রাচ্যে ব্রিটিশরাজের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় নিদর্শন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭০০ সালে এই দুর্গটি স্থাপন করে। ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ হয় - ফোর্ট উইলিয়াম।
ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৬৩৩ সালে বাংলায় প্রথম হরিহরপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
৩২৮.
মুঘল সম্রাটদের ক্ষেত্রে কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. বাবর > আকবর > হুমায়ুন > শাহাজাহান > জাহাঙ্গীর > আওরঙ্গজেব
  2. বাবর > হুমায়ুন > আকবর > শাহাজাহান > আওরঙ্গজেব > জাহাঙ্গীর
  3. বাবর > হুমায়ুন > আকবর > জাহাঙ্গীর > শাহাজাহান > আওরঙ্গজেব
  4. বাবর > আকবর > হুমায়ুন > জাহাঙ্গীর > শাহাজাহান > আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
সঠিক ক্রম: বাবর > হুমায়ুন > আকবর > জাহাঙ্গীর > শাহাজাহান > আওরঙ্গজেব।

• মুঘল  সাম্রাজ্য:

- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৬১০ সালে বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
৩২৯.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খান রাজধানী স্থাপন করেছিলেন-
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) রাজমহল
  3. গ) জাহাঙ্গীরনগর
  4. ঘ) মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। তিনি সোনারগাঁও রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী]
৩৩০.
'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন -
  1. শেরশাহ
  2. মাসুম খাঁ
  3. বায়েজিদ কররানী
  4. ফজল গাজী
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
- শেরশাহর রাজত্বকাল: ১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.।
- তিনি মাত্র পাঁচ বছর বাজত্ব করেন।
- তিনি সামান্য একজন জায়গীদার থেকে নিজ প্রতিভা বলে দিল্লির সম্রাট হয়েছিলেন।
- মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ বীরত্ব ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
- বাংলা, মালব, রাজপুতনা বিজয় তাঁর সামরিক সাফল্যের পরিচয় বহন করে।
- তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে রণকৌশলে পরাস্ত করেছিলেন।
- শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারী ছিল না।
- তিনি জনগণের সাহায্য ও সমর্থনের ভিত্তিতে ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
- শাসনকাজের সুবিধার্থে তিনি পুরো সাম্রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন।
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম 'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩১.
ঢাকা গেট নির্মাণ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. উমিদ খানঁ
  3. শেরশাহ
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় অবস্থিত।
-'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে মীর জুমলা ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।

উৎস: বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]
৩৩২.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্তা ছিলেন -
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. সুবাহদার
  4. ওয়াজির
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৩.
ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শাহজাহান
  4. আকবর
ব্যাখ্যা

• ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা পাঁচবার বাংলার রাজধানী হয়।
- ১৬১০, ১৬৬০,  ১৯০৫, ১৯৪৭, ১৯৭১ সাল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৪.
শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্ম কোনটি?
  1. ছোট কাটরা
  2. হোসেনী দালান
  3. চক মসজিদ
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খানের স্থাপত্য কর্ম: 
- শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
- বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে।
- স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা যায়।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির মাজার, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- অন্য কোনো সুবাদার বা শাসনকর্তা ঢাকায় শায়েস্তা খানের মতো নিজের স্মৃতিকে এত বেশি নবাবি আমলে রেখে যেতে পারেননি।
- বস্তুত ঢাকা ছিল শায়েস্তা খানের নগরী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৩৫.
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে স্বাধীন সুলতানী আমলের সূচনা করেছিলেন কোন শাসক?
  1. ক) মুহম্মদ ঘোরি
  2. খ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা
১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগীয় ভারতে পাঁচটি রাজবংশ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে। এই পাঁচটি রাজবংশের অন্যতম হলো দিল্লির তথাকথিত দাস বংশ। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) জয়লাভকারী মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ ঘোরি নামে সমধিক পরিচিত মুহম্মদ বিন সামের কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র, তৎকালীন ঘুর রাজ্যের শাসনকর্তা এবং উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও ‘সুলতান’ উপাধি প্রদান করেন। এভাবে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত ‘দাস বংশ’ নামে সমধিক পরিচিত।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩৩৬.
কোন শাসকদের আমলে বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. পাল
  4. মুসলিম
ব্যাখ্যা
• সুলতানি আমল: 
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্রো করেন।
- সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহহের আমল থেকেই সমগ্র বাংলা 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ স্থানীয় জনগণের মন জয় করার জন্য উদারনৈতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।

এছাড়াও,
- ইলিয়াসশাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।
- অবশ্য ইলিয়াস শাহী বংশের শাসন সূচনার কিছু সময় আগে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু হয়।
- ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ১৬৩৮ সালে পূর্ব বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজধানী হয় সোনারগাও।
- একই সময় আলাউদ্দীন আলী শাহ পশ্চিম বাংলায় স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
ঢাকা শহরের গােড়াপত্তন হয়-
  1. ব্রিটিশ আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. স্বাধীন নবাবী আমলে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মুঘল-পূর্ব যুগে কিছুটা গুরুত্ব পেলেও ইতিহাসে এর প্রসিদ্ধি অর্জিত হয় মূলত — মুঘল যুগে।

• আকবর নামা গ্রন্থে ঢাকা একটি সামরিক ফাঁড়ি (থানা) হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে এবং আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে ঢাকা বাজু সরকার বাজুহার নামে একটি পরগনা হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে।
• ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
• যদিও প্রশাসনিকভাবে এর নাম জাহাঙ্গীরনগর করা হয়, সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই প্রচলিত থেকে যায়। এমনকি বিদেশি পর্যটক ও কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের বিবরণ ও চিঠিপত্রে ঢাকা নামটি ব্যবহার করেন।
• ঢাকার সমৃদ্ধি ও স্থাপত্যের বিকাশ মূলত মুঘল যুগেই শুরু হয়, যা আজও শহরটির ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তথ্যসূত্র:
- ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৩৩৮.
কোন আমলে সোনারগাঁও বাংলাদেশের রাজধানী ছিল?
  1. ক) সুলতানী আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) পাল আমলে
  4. ঘ) মৌর্য আমলে
ব্যাখ্যা
- সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে। অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল - পূর্ববঙ্গের রাজধানী। ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট (parjatan.gov.bd)।
৩৩৯.
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ কখন বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন? 
  1. ১৪৯৮-১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে 
  2. ১৪৯৮-১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে 
  3. ১৪৯৮-১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে 
  4. ১৪৯৮-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। 
• তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন। 
• তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত। 
• তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
• তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন। 
• তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪০.
বাংলাকে জান্নাতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন-
  1. ক) বাবর
  2. খ) জাহাঙ্গীর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) আকবর
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট ছিলেন নাসির উদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন। ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন ভারতীয় উপমহাদেশের মুঘল ভূখণ্ডের শাসক হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে তাঁর বাবার উত্তরাধিকারী হন। তিনি ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসা এবং ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের যুদ্ধে শেরশাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে মুঘল সাম্রাজ্য হারিয়েছিলেন। কিন্তু সাফাভি রাজবংশর সহায়তায় ১৫ বছর পরে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে সেগুলি পুনরুদ্ধার করেন। বাংলাকে জান্নাতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন হুমায়ুন। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
বাংলার স্বাধীন সুলতানী যুগের অবসান হয় কবে?
  1. ক) ১৪৯২ সালে
  2. খ) ১৫২৬ সালে
  3. গ) ১৫৩৮ সালে
  4. ঘ) ১৫৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ে যে স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেছিলেন ১৫৩৮ সালে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটে।
- ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখল করে বাংলায় আফগানি শাসনের সূত্রপাত করেন।
- গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৪২.
ব্রিটিশ ভারতের কোন ভাইসরয় বঙ্গভঙ্গ রদের সুপারিশ করেন?
  1. ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
কিন্তু কংগ্রেস ও বর্ণ হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
গর্ভনর জেনারেল বা বড়লাট (ভাইসরয়) লর্ড হার্ডিঞ্জের সুপারিশে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৩৪৩.
বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড কোন কোন শহরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ক) চট্রগ্রাম থেকে লাহোর
  2. খ) দাউদকান্দি থেকে করাচি
  3. গ) সোনারগাঁও থেকে ইসলামাবদ
  4. ঘ) সোনারগাঁও থেকে লাহোর
ব্যাখ্যা
চৌসারের যুদ্ধে (১৫৩৯) হুমায়ুনকে পরাজিত করে শেরখান (শেরশাহ) নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। ১৫৪০ সালে তিনি বাংলা দখল করে নেন।
তিনি বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে লাহোর পর্যন্ত ২৭০০ কি.মি (১৭০০ মাইল) দীর্ঘ একটি মহাসড়ক ‘সড়ক-ই-আজম’ নির্মান করেন।
পরবর্তীতে ইংরেজগণ এ রাস্তা সংস্কার করে নাম দেয় ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড।
এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন। তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।
উৎস-বাংলাপিডিয়া।
৩৪৪.
তাজমহল ভারতের কোন প্রদেশে অবস্থিত?
  1. পাঞ্জাব
  2. হায়দারাবাদ
  3. কলকাতা
  4. উত্তর প্রদেশ
ব্যাখ্যা
তাজমহল: 
- তাজমহলের নির্মাতা সম্রাট শাহজাহান। 
- এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত। 
- এটির অপর নাম মমতাজ মহল। 
- মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী, যিনি মমতাজ বেগম নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। 
- সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। 
- তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। 
- এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।।
৩৪৫.
আওরঙ্গজেব কোন উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. শাহজাহান
  2. জাফর খান
  3. আকবর-ই-আজম
  4. আলমগীর
ব্যাখ্যা
- সিংহাসনে বসার পর আওরঙ্গজেব "আলমগীর" উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ ‘বিশ্বজয়ী’।

আওরঙ্গজেব:
- ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
- ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
- ঐতিহাসিক স্টেন্সি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মোগল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।
- তিনি আকবর অপেক্ষা বৃহত্তর সাম্রাজ্য শাসন ও বিশালতর সৈন্যবাহিনীর অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি সরল ও পবিত্র জীবনযাপন করতেন।
- আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য বিজয়কে তিন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২- ১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
- এ সময়ে শম্ভুজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মোগল- মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নামক ঘটনাটি কোন নবাবের শাসনামলের সাথে জড়িত?
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা

  2. আলীবর্দী খান
  3. নবাব মুর্শিদকুলী খান
  4. মীর কাসিম
ব্যাখ্যা

- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের পর ফোর্ট উইলিয়ামের একটি ছোট কক্ষে অনেক ইংরেজ সৈন্যকে বন্দী করে রাখা হয় এবং সেখানে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয় বলে ইংরেজরা দাবি করে।

অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- হলওয়েল, জন জেফেনিয়াহ বহুল আলোচিত অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর রচয়িতা।
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
কোন সম্রাট 'দ্বীন-ই-ইলাহী' নামক ধর্মমত প্রবর্তন করেন?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট হুমায়ুন যখন শেরশাহ এর নিকট পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত হয়ে স্ত্রী হামিদাবানুকে নিয়ে পারস্য অভিমুখে যাত্রাকালে, রাজস্থানের অমরকোটে ২৩ নভেম্বর, ১৫৪২ সালে আকবর জন্মলাভ করেন।
- জন্মের পর হুমায়ুন শিশুপুত্রের নামকরন করেন জালালউদ্দিন। 
- যুদ্ধক্ষেত্র, সমরনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসন সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুঘলদের মধ্যে সর্বশেষ্ঠ শাসক। ইতিহাসে তাই তিনি 'Akbar the Great' নামে পরিচিত।

• ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- উত্তরে কাশ্মীর হতে দক্ষিণে আহমেদনগর ও মধ্য এশিয়ার কাবুল কান্দাহার হতে পূর্ব বাংলা পর্যন্ত একচ্ছত্র মুঘল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৮.
গৌড় নগরীকে ‘জান্নাতাবাদ’ নামে অভিহিত করেন কোন সম্রাট?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।

৩৪৯.
কোন সুলতান 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধি ধারণ করেন?
  1.  আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫০.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে সুবাদার ইসলাম খান বারভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. জাহাঙ্গীর
  4. আকবর
ব্যাখ্যা
বাংলায় সুবাদারী প্রতিষ্ঠা:
- মোগল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যকে অনেকগুলো প্রদেশে ভাগ করেছিলেন।
- এই প্রদেশগুলোকে বলা হতো 'সুবা'।
- সুবার শাসনকর্তাকে বলা হতো সুবাদার।
- আকবরের সময় থেকে বাংলায় সুবাদার নিয়োগ করা শুরু হয়।
- তবে বারভূঁইয়াদের দাপটে বাংলায় মোগল সুবা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান।
- তিনি ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেন।
- এরপর থেকে বাংলার সুবাদারদের মাধ্যমে পুরো বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৫১.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বা মহাদুর্ভিক্ষ হয় ইংরেজি -
  1. ক) ১১৭৬ সালে
  2. খ) ১১৭০ সালে
  3. গ) ১৭৭০ সালে
  4. ঘ) ১৭৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি এবং ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন এবং শোষনের ফলে বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে যায় এবং ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে বাংলায় প্রচন্ড খাদ্যাভাব দেখা দেয়।
এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায় । বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজী - ১৭৭০ সাল ) সংঘটিত এই দুর্ভিক্ষ "ছিয়াত্তরের মন্বন্তর" নামে পরিচিত।
এই সময় বাংলার গভর্ণর ছিল লর্ড কার্টিয়ার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫২.
বাংলায় সুবাদারি শাসন সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় কার মাধ্যমে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জাফর
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. ইসলাম খান চিশতি 
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুঘল শাসন:
- মুঘল সুবাদারি শাসন (১৫৭৬–১৭৫৭ খ্রি.) বলতে বাংলায় বিভিন্ন প্রতিনিধির মাধ্যমে মুঘলদের সরাসরি শাসনকে বোঝায়।
- শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে মুঘল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবা’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবার প্রধানকে সুবাদার, সাহিব-ই-সুবাহ, নাজিম, ফৌজদার-ই-সুবা প্রভৃতি নামে ডাকা হতো।
- বাংলা ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত সময়কে সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলায় আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী ঘোষণা করেন।
- ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর কাশিম খান চিশতি (১৬১৩–১৬১৭ খ্রি.) বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পরবর্তীতে ইব্রাহিম খান ফতেহ জঙ্গ (১৬১৭–১৬২৪ খ্রি.) বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- এরপর দারার খান (১৬২৪–১৬২৫ খ্রি.), মহব্বত খান (১৬২৫–১৬২৬ খ্রি.), মুকাররম খান (১৬২৬–১৬২৭ খ্রি.) এবং ফিদাই খান (১৬২৭–১৬২৮ খ্রি.) দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৩.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনকালকে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. রুকনুদ্দিন বারবক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে বাংলায় শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং শিল্প-সাহিত্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, তাই তার শাসনকালকে প্রায়শই 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।  

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন।
- তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।
- তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন।
- তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্যে দেশে অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন ও পানির কূপ খনন করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে সুবিধা দিয়েছিলেন।
- তার সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে গৌড়ের 'ছোট সোনা' মসজিদ নির্মিত হয়।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৪.
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ এর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. নদীয়া
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ'র সমাধি বাংলাদেশে সুলতানি আমলের টিকে থাকা একটি প্রাচীনতম সৌধ।
• প্রস্তর নির্মিত শবাধার সম্বলিত এ সমাধিসৌধ সোনারগাঁয়ের শাহ চিলাপুরে অবস্থিত এবং বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ-এর সমাধি বলে কথিত।

• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ:

- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০/৭৯২-৮১৩ হিজরি) বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- রাজ্যের বিস্তৃতির চেয়ে তিনি রাজ্যকে সুদৃঢ় করার দিকে বেশি মনোযোগ দেন।
- তিনি তাঁর রাজত্বের প্রথম দিকে শুধু কামরূপএ অভিযান করে তা দখল করেন এবং কামরূপের উপর কয়েক বছর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা' রচনা করেন।
- সম্ভবত সুলতান কৃত্তিবাসকেও বাংলায় রামায়ণ লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫৫.
ঢাকা বাংলার রাজধানী হয়-
  1. স্বাধীন নবাবি আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুগল আমলে
  4. ব্রিটিশ আমলে
ব্যাখ্যা
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ সালে)।
- শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বারোভূঁইয়াদের নেতামুসা খানকে পরাজিত করতে পারলেই তাঁর পক্ষে অন্যান্য জমিদারকে বশীভূত করা সহজ হবে।
- সেজন্য তিনি রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- কারণ মুসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁ ঢাকার অদূরে ছিল।
- বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান কয়েকজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন।
- বারোভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন।
- মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ সালে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে।
- সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে
- মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন।
- এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৫৬.
কত বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন?
  1. ক) ১৩ বছর
  2. খ) ১৫ বছর
  3. গ) ১৭ বছর
  4. ঘ) ২৩ বছর
ব্যাখ্যা
• সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।

- পলাশী যুদ্ধের কারণ ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- এসময় তাকে নানামুখি ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে একটি পরিবারিক ষড়যন্ত্র।
- যা নবাব কৌশলে দমন করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরিবারের বাইরেও ষড়যন্ত্রের আরেক জাল বিস্তৃত হতে থাকে।
- এর সঙ্গে জড়িত হয় দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি, নবাবের দরবারের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি, নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরো অনেকে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করতে থাকে। 
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- এ যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ নামে খ্যাত। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৭.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন বলবন
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

এছাড়াও,
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন (১৩৪৬)।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

উৎস:i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৮.
কোন মুঘল সম্রাটের ইচ্ছানুযায়ী শায়েস্তা খান চট্টগ্রামের নাম ইসলামাবাদ রেখেছিলেন?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৯.
বাংলায় হাবসি শাসনের সময়কাল কত ছিল?
  1. ১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৪৪৭-১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৫৮৭-১৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৫৪৭-১৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
হাবসি শাসন: 
- হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতানের মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৬০.
মুঘল আমলে পরগনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে ছিলেন?
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. মুনসিফ
  4. কোটোয়াল
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬১.
কোন সম্রাটের দ্বারা শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান
  3. আওরঙ্গজেব
  4. বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন। শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- সিংহাসনে আরোহণের পর আওরঙ্গজেব তাঁকে উচ্চতর পদমর্যাদা দান করেন এবং উত্তরাধিকার যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ আমীর-উল-উমারা (আমীরদের বা অভিজাতদের প্রধান) উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- দুই দফায় ২২ বছর তিনি বাংলা শাসন করেন। প্রথমে ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয় বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল পর্যন্ত যা ছিল মুঘল আমলে বাংলার দীর্ঘতম শাসনকাল। 
- শায়েস্তা খানের বিজয়াভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজয় উল্লেখযোগ্য।
- ১৪৫৯ সালে আরকান রাজ চট্টগ্রামকে বাংলার সুলতানদের নিকট থেকে দখল করে নিয়েছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬২.
'আদিনা মসজিদ' কোন শাসকের তৈরী?
  1. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  2. আলাউদ্দীন আলী শাহ
  3. জালাল উদ্দীন শাহ
  4. সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা
সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি 'আদিনা মসজিদ' মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৩.
বাংলায় হাবসি শাসনের স্থায়িত্বকাল কত বছর ছিল?
  1. ক) দশ বছর
  2. খ) নয় বছর
  3. গ) ছয় বছর
  4. ঘ) আট বছর
ব্যাখ্যা
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল। এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতান ক্ষমতায় আসেন, তাদের মধ্যে তিনজনকেই হত্যা করা হয়।
- হাবসি নেতা সুলতান শাহাজাদা ‘বরকত শাহ’ উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই তিনি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৪.
সাত গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. উমিদ খাঁ
  3. মুর্শিদ কুলি খাঁ
  4. সুজা উদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• সাত গম্বুজ মসজিদ: 
- অবস্থান: ঢাকা, মোহাম্মদপুর (কাটাসুর-বাঁশবাড়ী সড়কের পাশে)।
- নির্মাণকাল: ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ।
- নির্মাতা: উমিদ খাঁ (মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র)।
- গম্বুজ সংখ্যা: ৭টি (৩টি বড় গম্বুজ ও ৪টি অনু গম্বুজ)।
- মিনার সংখ্যা: ৪টি (চার কোণায়)।
- মসজিদটি লালবাগ কেল্লার মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
৩৬৫.
শেরশাহ হুমায়ুনকে কোন যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন?
  1. চৌসার যুদ্ধ
  2. হলদিয়ার যুদ্ধ
  3. বিলগ্রামের যুদ্ধ
  4. উদয়নালার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
আফগান বংশের শাসন: 
- গঙ্গা নদীর তীরে চৌসা নামক স্থানে হুমায়ুন পৌঁছালে শের খান তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
- অপ্রস্তুত হুমায়ুন পরাজিত হন (১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দ)।
- মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে শের খান 'শেরশাহ' উপাধি নেন।
- তিনি নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৫৪০ সালে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলিকে পরাজিত করে তিনি বাংলা দখল করেন।
- এ বছরই তিনি হুমায়ুনকে কনৌজের নিকট বিলগ্রামের যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।
- এভাবে দীর্ঘদিন পর বাংলা আবার দিল্লির শাসনে চলে আসে।
- চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত সমগ্র বাংলা অঞ্চল শেরশাহের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- শেরশাহ আফগান শূর বংশের ছিলেন বলে এ সময়ের বাংলার শাসন ছিল শূর আফগান বংশের শাসন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৬৬.
সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. তানসেন
  2. মান সিংহ
  3. টোডরমল
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মোগল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মোগল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৭.
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন কে?
  1. মীর মদন
  2. মোহন লাল
  3. সিন ফ্রে
  4. সকলেই 
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধের ঘটনা: 
- পলাশীর যুদ্ধ বাংলা তথা এ উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ইতোমধ্যে রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।
- নবাবের বিজয় আসন্ন জেনে মীর জাফর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।
- মীর মদনের মৃত্যু ও মীর জাফরের অসহযোগিতা নবাবকে বিচলিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর জাফর যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। 
- নবাবের সৈন্যরা যখন বিশ্রাম নিচ্ছে, সেই সময় মীর জাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজ সৈন্যরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- যার অনিবার্য পরিণতি নবাবের পরাজয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৬৮.
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৫১৬ সালে
  2. খ) ১৬০০ সালে
  3. গ) ১৬১৬ সালে
  4. ঘ) ১৬৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৬৯.
কোন আমলে সোনারগাঁও বাংলাদেশের রাজধানী ছিল?
  1. ক) পাল আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) ব্রিটিশ আমলে
  4. ঘ) ঈশা খাঁর আমল
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে। অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী। ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
সূত্রঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট (parjatan.gov.bd)।

৩৭০.
কাদের হাতে দিল্লী সালতানাতের পতন হয়?
  1. ক) মোগলদের হাতে
  2. খ) ইংরেজদের হাতে
  3. গ) আফগানদের হাতে
  4. ঘ) মোঙ্গলদের হাতে
ব্যাখ্যা
দিল্লী সালতানাত:

- মোগলদের হাতে দিল্লী সালতানাতের পতন হয়।
- ইব্রাহিম লোদীর উদ্ব্যত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান।
- উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন।
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন।
- ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭১.
সুবাদার ইসলাম খান কত সালে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৬০৮ সালে
  2. ১৬০৯ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
সুবাদারি শাসনামল: 
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন
- ১৬১৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজন সুবাদার বাংলার ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
- তবে ১৬৬০ সালে সুবাদার মীর জুমলা ক্ষমতা গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত কোনো সুবাদারই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেননি।
- তাঁদের মধ্যে ইসলাম খান চিশতি (১৬১৭-১৬২৪ সাল) এবং দিল্লির সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের ভাই ইব্রাহিম খান ফতেহ জঙ্গ (১৬১৭-১৬২৪ সাল) বাংলার সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। - অতঃপর খুব অল্প সময়ের জন্য সুবাদার নিযুক্ত হন দারার খান, মহব্বত খান, মুকাররম খান এবং ফিতাই খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৭২.
ঢাকা সর্ব প্রথম কবে বাংলার রাজধানী হয়?
  1. ১২০৬ সালে
  2. ১৫২৬ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৫১০ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা সুবার রাজধানী:
- বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলার উপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- এ লক্ষে সম্রাট জাহাঙ্গীর সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, 
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
কোন সুবাদারের আমলকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) শাহ সুজা
  4. ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ঢাকায় অনেক ইমারত নির্মাণ করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হয়। তন্মধ্যে ছোট কাটরা, হোসেনী দালান, চকবাজার মসজিদ, লালবাগ দুর্গের পরী বিবির মাজার, রায়ের বাজারের সন্নিকটে সাত গম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৩৭৪.
ভারতবর্ষে 'জিজিয়া কর' রহিত করেন কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

• সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর ।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহন করেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মুঘল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলেই 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩৭৫.
মুর্শিদ কুলি খানকে প্রথমে বাংলার কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়?
  1. দেওয়ান
  2. সুবাদার
  3. নবাব
  4. নায়েব নাজিম
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদ কুলি খান: 
- ১৭০০ সালে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান।
- তিনি ১৭২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেওয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- মুর্শিদ কুলি খান যখন বাংলায় আগমন করেন, তখন বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল।
- এ পরিস্থিতির মুখে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাংলায় মুঘল শাসন পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হন।
- স্বীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তিনি বাংলার ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করেছিলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৬.
কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?
  1. সিমা কিয়ান
  2. হিউয়েন সাং
  3. ইবনে বতুতা
  4. ফা হিয়েন
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৭৭.
ইসলাম খান চিশতি কত সালে ঢাকাকে রাজধানী করে?
  1. ১৬১০ সালে
  2. ১৬৩৩ সালে
  3. ১৬৪৫ সালে
  4. ১৬৬০ সালে
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৭৮.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর কাকে পরাজিত করেছিলেন?
  1. সিকান্দার লোদি
  2. ইব্রাহিম লোদি
  3. হিমু
  4. রানাসঙ্গ
ব্যাখ্যা
পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

→ পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:

- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।

→ পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

→ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৯.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- বাবর বুঝেছিলেন পানিপথের প্রান্তরের যুদ্ধে জয় লাভ করলে তাঁর দিল্লির সিংহাসনে বসার পথ সহজ হয়ে যাবে।
- তাই তিনি দিল্লির নিকটবর্তীপানিপথ প্রান্তরে দিল্লির লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন।
- তারিখটি ছিল ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ১২ এপ্রিল।
- বাবরের আত্মজীবনী তুযুক-ই-বাবরী থেকে জানা যায়, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
- তাছাড়া পাঞ্জাব জয়ের পর কিছুসংখ্যক অতিরিক্ত সৈন্যও তাঁর সাথে যোগদান করে। তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র হুমায়ুনও তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন।
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮০.
মোগল শাসন ব্যবস্থায় সম্রাটের পরের স্থানে ছিলেন -
  1. শিকদার
  2. দিউয়ান
  3. কাজী-উল-কুজ্জাত
  4. ওয়াজির
ব্যাখ্যা
মোগল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মোগল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মোগল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মোগলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মোগল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মোগল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮১.
কত সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৫৩ সাল
  2. খ) ১৭৬৪ সাল
  3. গ) ১৭৭৫ সাল
  4. ঘ) ১৭৮৬ সাল
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:

- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৮২.
কত খ্রিস্টাব্দে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন?
  1. ১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- পলাশী যুদ্ধের কারণ ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন।
- এসময় তাকে নানামুখি ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে একটি পরিবারিক ষড়যন্ত্র।
- যা নবাব কৌশলে দমন করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরিবারের বাইরেও ষড়যন্ত্রের আরেক জাল বিস্তৃত হতে থাকে।
- এর সঙ্গে জড়িত হয় দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি, নবাবের দরবারের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি, নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরো অনেকে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করতে থাকে।
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- এ যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ নামে খ্যাত।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৩.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ কাকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি প্রদান করেছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
- ইলিয়াস শাহ 'সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ” এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৪.
পাট্টা ও কবুলিয়াত প্রথা চালু করেন কে?
  1. হুমায়ুন 
  2. বাবর 
  3. শেরশাহ 
  4. আকবর
ব্যাখ্যা

শেরশাহের রাজস্ব সংস্কার:
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- তার আগে রাজস্ব নির্ধারণের জন্য কোনো ভূমি জরিপের ব্যবস্থা ছিল না।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।
- শেরশাহের রাজস্বনীতি শুধু পরবর্তীকালে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৫.
'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন কে?
  1. শেরশাহ
  2. বাবর
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহর রাজত্বকাল: ১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.।
- তিনি মাত্র পাঁচ বছর বাজত্ব করেন।
- তিনি সামান্য একজন জায়গীদার থেকে নিজ প্রতিভা বলে দিল্লির সম্রাট হয়েছিলেন।
- মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ বীরত্ব ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
- বাংলা, মালব, রাজপুতনা বিজয় তাঁর সামরিক সাফল্যের পরিচয় বহন করে।
- তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে রণকৌশলে পরাস্ত করেছিলেন।
- শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারী ছিল না।
- তিনি জনগণের সাহায্য ও সমর্থনের ভিত্তিতে ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
- শাসনকাজের সুবিধার্থে তিনি পুরো সাম্রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন।
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম 'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৬.
'ফতেহপুর সিক্রি' কোন মুঘল সম্রাটের সময় কালের স্থাপত্য?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. হুমায়ুন
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৭.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন -
  1. ক) মীর কাশিম
  2. খ) রবার্ট ক্লাইভ
  3. গ) সিনফ্রে
  4. ঘ) মেজর মনরো
ব্যাখ্যা
• ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে মেজর মনরো নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
• তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
• বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
• এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।
• যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৮.
ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন কোন সুলতানের রাজত্বকালে?
  1. শাশামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  4. মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে।
- তাঁর ‘রেহেলা-ই-ইবনে বতুতা’ নামক ভ্রমণ বিবরণীতে সমসাময়িক বাংলায় আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন।
- এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- ইবনে বতুতা ভারতে আসেন মুহম্মদ বিন তুঘলক শাসনামালে।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
- প্রায় আট বছর তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩৮৯.
ছোট কাটরা কোন মুঘল সুবাদারের সময়ে নির্মিত হয়?
  1. মীর জুমলা
  2. দাউদ খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল:
- শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলে ছিল শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার।
- এ আমলে কৃষিকাজের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরও যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- শায়েস্তা খান ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশী বণিকদের বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করতেন।
- শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
- বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে।
- স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা যায়।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কার্যের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, পরী বিবির সমাধি-সৌধ, হোসেনি দালান, সুফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯০.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলার নাম রাখেন জান্নাতাবাদ?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন:
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৯১.
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. হুমায়ুন
  2. জাহাঙ্গীর
  3. আকবর
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওমর মির্জা ফারগনার শাসনকর্তা ছিলেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯২.
পলাশীর যুদ্ধের ফলে কারা উপমহাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল?
  1. পর্তুগিজরা
  2. ফরাসিরা
  3. ডাচরা
  4. ডেনিশরা
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৩.
বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে অন্যতম জমিদার ঈশা খাঁ এর রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. সোনারগাঁও
  2. জাহাঙ্গীর নগর
  3. নদীয়া
  4. বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা

জমিদার ঈশা খাঁ:
- মুঘলদের বিরুদ্ধে বাংলার যুদ্ধে যে বারভূঁইয়া বা বারো ভূঁইয়াদের নাম শোনা যায়, তাদের তালিকায় সবার আগে আসে ঈশা খাঁর নাম।
- ঢাকার অদূরে সোনারগাঁয়ে ছিল তার রাজধানী।
- জমিদার পুত্র হিসেবে যার জন্ম, কিন্তু তার শৈশব কেটেছে সুদূর তুরান বা তুর্কমেনিস্তানে একজন ক্রীতদাস হিসাবে।
- ঈশা খাঁর পূর্বপুরুষেরা ভারতের রাজস্থান থেকে ভাগ্যান্বেষণে বাংলায় এসে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের দরবারে কাজ শুরু করেন।
- ঈশা খাঁর দাদা ভগীরথকে দেওয়ানি দিয়েছেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: বিবিসি বাংলা।[লিঙ্ক]

৩৯৪.
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসকের নাম কী?
  1. কনিস্ক
  2. শশাংক
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
- সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৫.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিল?
  1. মীর জাফর
  2. ইংরেজ বাহিনী
  3. মীর কাসিম
  4. মারাঠা বাহিনী
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হন।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করে।
- ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৬.
কোন মুগল সম্রাট বাংলার রাজধানী হিসেবে 'জান্নাতাবাদ' নামকরণ করেন?
  1. ক) বাবর
  2. খ) আকবর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬)  মুগল সম্রাট  বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
-  সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন ‘জান্নাতাবাদ’ এবং হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।
উৎস: বাংলা পিডিয়া।
৩৯৭.
ইংরেজ কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন-
  1. ক) নাজিম-উদ-দ্দৌলা
  2. খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. গ) মীর জাফর
  4. ঘ) ফররুখ শিয়ার
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধে অযোদ্ধার নবাব সুজাউদ্দৌলা, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সহায়তায় গড়ে তোলা মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজ বাহিনীর যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাই বক্সারের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে মীর কাশিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। ফলে ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দেওয়ানি প্রদান করেন।
[সূত্রঃ ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত) এবং বাংলাপিডিয়া]
৩৯৮.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলার নাম দেন 'জান্নাতাবাদ'?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• সম্রাট হুমায়ুন — বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

• সম্রাট হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬):

- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৩৯৯.
সাত গম্বুজ মসজিদ কোন স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন?
  1. মুঘল
  2. সুলতানি
  3. নবাবী
  4. ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'।
- এটি মুঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন।
- ১৬৮০ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান।
- মসজিদটি লালবাগ দূর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

⇒ এর ছাদে রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণের প্রতি কোনায় একটি করে অনু গম্বুজ থাকায় একে সাত গম্বুজ মসজিদ বলা হয়।
- মসজিদের পূর্বপাশে এরই অবিচ্ছেদ্য অংশে হয়ে রয়েছে একটি সমাধি।
- কথিত আছে, এটি শায়েস্তা খাঁর মেয়ের সমাধি। সমাধিটি ‘বিবির মাজার’ বলেও খ্যাত। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

৪০০.
কোনটির ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) আলীগড় আন্দোলন
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়। এর ফলে সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)