বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ বণ্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

মোট প্রশ্ন৫৩৭এই পাতা৩২প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ বণ্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

PrepBank · পাতা / · ৫০১৫৩২ / ৫৩৭

৫০১.
কোন প্রতিষ্ঠান রিবন রেটিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে?
  1. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট
  3. জাতীয় বীজ বোর্ড
  4. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা

রিবন রেটিং (Ribbon Retting): 
- রিবন রেটিং হলো বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। 
- এই পদ্ধতি পাটের আঁশ আলাদা করে পচানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কাঁচা পাট গাছ কাটার পর রিবনার (Ribboner) যন্ত্রের মাধ্যমে ফিতার মতো ছাল আলাদা করা হয় এবং অল্প পানিতে পচানো হয়।

• এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো:
- কম পানি ও সময়:
- প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কম পানি ব্যবহার হয় এবং ৪–৫ দিন কম সময়ে উন্নত মানের আঁশ পাওয়া যায়।

- উন্নত মানের আঁশ:
- প্রাপ্ত আঁশের রঙ উজ্জ্বল এবং মান উন্নত।

- ছাল আলাদা করা সহজ:
- Ribboner যন্ত্র দিয়ে সহজেই ছাল আলাদা করা যায়।

- পচন প্রক্রিয়া:
- আলাদা ছাল কম পানিতে বা ছোট ডোবা/গর্তে পচানো যায়।

- সার হিসেবে ব্যবহার:
- অবশিষ্ট পাতা ও ছাল জমিতে পচিয়ে সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

- খরচ ও পরিবেশ বান্ধব:
- পানি সংকটের এলাকায় কার্যকর এবং পরিবেশের জন্য উপকারী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৫০২.
বাংলাদেশের একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম-
  1. ক) রাজ কাঁকড়া
  2. খ) গণ্ডার
  3. গ) পিপীলিকাতুক ম্যানিস
  4. ঘ) স্নো লোরিস
ব্যাখ্যা
রাজ কাঁকড়া:
- রাজ কাঁকড়া (অশ্বখুরাকৃতির কাঁকড়া বা সাগর কাঁকড়া) প্রকৃত পক্ষে কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড।
- এরা Xiphosura (গ্রীক, xiphos, তলোয়ার এবং uros, লেজ) বর্গের অর্ন্তভূক্ত।
- পৃথিবীব্যাপী ৩টি গনের অধীনে এদের ৪টি জীবিত প্রজাতি রয়েছে।
- প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ’’জীবন্ত জীবাশ্ম’’ বলা হয় যা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৫০৩.
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় কোন যুগে সৃষ্টি?
  1. টারশিয়ারি যুগে
  2. প্লাইস্টোনিন যুগে
  3. সাম্প্রতিককালে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৪.
সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারপাশে কতটুকু এলাকাকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA)' ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৫ কিলোমিটার
  2. ৮ কিলোমিটার
  3. ১০ কিলোমিটার
  4. ১৩ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ এর ক্ষমতাবলে সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৫০৫.
কোনটি সুরমা নদীর আদি উৎস?
  1. ক) বরাক নদী
  2. খ) মেঘনা নদী
  3. গ) যমুনা নদী
  4. ঘ) ব্রহ্মপুত্র নদী
ব্যাখ্যা
সুরমা নদীর আদি উৎস বরাক নদী।         
• মায়ানমার সীমান্তে নাগা-মণিপুর পাহাড়শ্রেণীর  শৈলশিরা ও উপত্যকা ভূখন্ডময় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বরাক নদীর জলনিষ্কাশন অঞ্চল অবস্থিত।
• বরাক-মেঘনার দৈর্ঘ্য ৯৫০ কিমি, যার মধ্যে ৩৪০ কিমি বাংলাদেশে অবস্থিত।
• বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী অমলশিদ নামক স্থানে বরাক নদী সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি খরস্রোতা ধারায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
• উত্তরপশ্চিমের ধারাটি সুরমা এবং দক্ষিণপশ্চিমের ধারাটি কুশিয়ারা নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৫০৬.
বাংলাদেশে কয়টি রামসার সাইট রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে রামসার সাইট ২টি হলো—সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওর।

রামসার কনভেনশন:
- রামসার কনভেনশন-এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- এটি একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি যা শুধুমাত্র জলাভূমি সংরক্ষণের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- রামসার কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য: জলাভূমি সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবহারের প্রচার, বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা।
- ১৯৯৭ সাল থেকে ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জলাভূমি দিবস হিসেবে IUCN, UNESCO-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি দেশে পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা পালন করে আসছেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট (Ramsar sites) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।

সূত্র: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।
৫০৭.
বাংলাদেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. কাপ্তাই
  2. ঈশ্বরদী
  3. বড়পুকুরিয়া
  4. মংলা
ব্যাখ্যা
দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- দিনাজপুর জেলাধীন পার্বতীপুর উপজেলার অন্তগত ভবানীপুরে বড়পুকুরিয়ায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা খনি থেকে কয়লা আহরন করে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচলনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৫০৮.
“পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয় কাকে?
  1. আমাজন
  2. সুন্দরবন
  3. তৈগা বনভূমি
  4. কঙ্গো বেসিন
ব্যাখ্যা
আমাজান:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান। 
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজনকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়। 
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫০৯.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. পাললিক শিলার মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়।
  2. পাললিক শিলা স্তরীভূত, নরম ও হালকা এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  3. পাললিক শিলা আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।
  4. পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য: পাললিক শিলা স্তরীভূত, নরম ও হালকা এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় না।
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় আগ্নেয় শিলা।

উল্লেখ্য, 
- বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কাঁকর, কাদা, বালি ও ধুলায় পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে।
- পরবর্তীতে ঐসব পদার্থ ভূগর্ভের উত্তাপে ও উপরের শিলাস্তরের চাপে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ দখল করে আছে। তবে মহাদেশীয় ভূত্বকের আবরণের ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
- স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা যৌগিক, জৈবিক বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হতে পারে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।
- জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে।
- অনেক পাললিক শিলার মধ্যে নানাপ্রকার উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম দেখা যায়।

তছাড়াও,
⇒ আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়।
- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা ও
(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী। 
৫১০.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নেই?
  1. বগুড়া
  2. মৌলভীবাজার
  3. সুনামগঞ্জ
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ:
- অবস্থান, ভূমির গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক সময়কাল অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

এছাড়াও - 
- কুমিল্লা, রাজশাহী এবং বগুড়ায় আছে প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১১.
What is the total production capacity of Matarbari power plant?
  1. 800 megawatt
  2. 1200 megawatt
  3. 1400 megawatt
  4. 2000 megawatt
  5. 2400 megawatt
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলো বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নে অবস্থিত।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা: ১২০০ মেগাওয়াট।

⇒ প্রকল্পের নাম: মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট।
- সংস্থা: কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)।

⇒ জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার মধ্যে ১৬ জুন ২০১৪ ইং তারিখে একটি ঋণচুক্তি সম্পাদিত হয়।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৫১২.
পামির মালভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. পূর্ব ইউরোপে
  2. দক্ষিণ আমেরিকায়
  3. উত্তর আফ্রিকায়
  4. মধ্য এশিয়ায়
ব্যাখ্যা

পামির মালভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভূমির নাম পামীর মালভূমি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- 'পামির মালভূমি' মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামীর পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল।
- এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

সূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

৫১৩.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. গাজীপুর
  3. বাগেরহাট
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৪.
সাম্প্রতিক সময়ে ভোলায় কত টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৮]
  1. ৪.১০৯ টিসিএফ
  2. ৫.১০৯ টিসিএফ
  3. ৬.১০৯ টিসিএফ
  4. ৭.১০৯ টিসিএফ
ব্যাখ্যা
দ্বীপজেলা ভোলার সাম্প্রতিক গাসক্ষেত্র:
- দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপজেলা ভোলায় আরো সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।
- এর পরিমাণ প্রায় ৫.১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।
- ভোলার শাহবাজপুর ও ইলিশায় ২.৪২৩ টিসিএফ এবং চর ফ্যাশনে ২.৬৮৬ টিসিএফ মজুদ গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- স্পট মার্কেটে (খোলাবাজার) প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর ১০.৪৬ মার্কিন ডলার, সেই হিসাবে ৫.১০৯ টিসিএফ গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ছয় লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
- বর্তমানে ভোলায় পাঁচটি কূপ দিয়ে দৈনিক ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
- বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

উৎস: কালের কণ্ঠ রিপোর্ট।
৫১৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতলতম মাস বলা হয় কোন মাস কে?
  1. জুন
  2. আগস্ট
  3. জানুয়ারি
  4. সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
• ভৌগোলিক অবস্থান:
 → বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়সহ উত্তর-পূর্বে আসাম পাহাড়ী অঞ্চল রয়েছে এবং এর মাঝে বাংলাদেশ নীচু সমতল ভূমি। এরূপ অবস্থানের জন্য বাংলাদেশে দুটি রূপে মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব দেখা যায়।
→ মৌসুমী জলবায়ুর প্রধান এবং অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়।
→ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত।
জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
'হনসু দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. শ্রীলংকা
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. জাপান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।
- আয়তনে জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৫১৭.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারত
  3. নেপাল
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
SAARC:
- SAARC-এর পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation.
- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫, ঢাকায়।
- সার্কের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮টি।

উল্লেখ্য,
সার্কের কিছু আঞ্চলিক কেন্দ্র সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থিত।
- সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গুজরাত, গান্ধীনগর ভারত,
- সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: কলম্বো, শ্রীলংকা,
- সার্ক কৃষিবিষয়ক কেন্দ্র ও আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র: ঢাকা, বাংলাদেশ,
- সার্ক যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র: কাঠমান্ডু, নেপাল,
- সার্ক শক্তি কেন্দ্র: পাকিস্তান,
- সার্ক বন গবেষণা কেন্দ্র: থিম্পু, ভুটান,
- সার্ক মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান,
- সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: মালদ্বীপ,

উৎস: SAARC ওয়েবসাইট।
৫১৮.
রাশিয়ান কোন প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে?
  1. ক) পিইএল-এমইএল কোম্পানি
  2. খ) গ্যাজপ্রম
  3. গ) টিভিএল জয়েন্ট স্টক
  4. ঘ) রোসাটম
ব্যাখ্যা
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করছে।
- অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
- তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করছে ভারত সরকার।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।
- মোট ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাশিয়া সরকার ঋণ দিচ্ছে ১১.৪ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৩ সালে কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ওয়েবসাইট এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
৫১৯.
কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বেশি দেখা যায়?
  1. বৃষ্টিহীন অঞ্চলে
  2. শুষ্ক অঞ্চলে
  3. অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার অংশবিশেষ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে এ বনভূমি অবস্থিত। 
​- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষ এবং অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি অবস্থিত। 
​- চিরহরিৎ বৃক্ষসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি। 
​- আর পাতাঝরা বা পর্ণমোচী বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, শিমুল, কড়ই, জারুল, সেগুন উল্লেখযোগ্য। 
​- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১৫,৩২৬ বর্গ কিলোমিটার।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২০.
নিচের কোনটিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়?
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
  2. উপকূলীয় বনভূমি
  3. সিলেটের পাহাড়ি বনভূমি
  4. চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনভূমি
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
• ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি।
• দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২১.
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মাঝারি নিম্ন ভূমি ছড়িয়ে আছে - কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ জেলার অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে নিচু ভূমিগুলো সাধারণত হাওর, বিল এবং খাল এসব নিয়েই গঠিত। অধিকাংশ হাওর এবং বিল সিলেট বিভাগ, কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলা জুড়ে অবস্থিত।
Source: bbs.gov.bd
৫২২.
দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. সাঙ্গু
  4. ইছামতি
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী:
- দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী ইছামতি।
- নদীর দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার।
- নদীটি খুলনা বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - (ভারত) ভৈরব-কপোতাক্ষ (দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা)।
- নদীটির পতনমুখ - রায়মঙ্গল (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)।

• দেশের দীর্ঘতম নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- নদীটি তিন বিভাগের ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- নদীটির পতনমুখ - মেঘনা (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর)।

• তৃতীয় দীর্ঘতম নদী:
- তৃতীয় দীর্ঘতম নদী সাঙ্গু।
- নদীর দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার।
- নদীটি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - মিয়ানমার সীমান্ত (থানচি, বান্দরবান)।
- নদীটির পতনমুখ - বঙ্গোপসাগর (বাঁশখালী, চট্টগ্রাম)।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

৫২৩.
কোনটি পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থপনায় ব্যবহৃত ‘5R strategy' এর অংশ নয়?
  1. ক) Refuse
  2. খ) Reduce
  3. গ) Recycle
  4. ঘ) Rework
ব্যাখ্যা
5 R Strategy
- 'রিসাইক্লিং'- এর আগে সম্ভব হলে চারটি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত: refuse, reduce, reuse, repurpose, and then recycle.
- ব্যবসার বর্জ্য হ্রাস এবং পুনর্ব্যবহার করার প্রচেষ্টায় এই পদ্ধতিটি অন্তর্ভুক্ত করা ল্যান্ডফিল বর্জ্যকে কমিয়ে দেবে।
- এবং পুনর্ব্যবহার কর্মসূচিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। 
- এই স্ট্র্যাটেজি বাড়ির মধ্যে টেকসই জীবনযাপনের জন্য একটি ব্যবহারিক এবং কার্যকর পদ্ধতির প্রস্তাব দেয়।
- এই নীতিগুলি গ্রহণ করে আমরা অপচয় কমাতে পারি, সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারি এবং একটি পরিষ্কার এবং সবুজ গ্রহে অবদান রাখতে পারি।
- 5Rs আলিঙ্গন করার দিকে আমাদের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের আরও টেকসই ভবিষ্যতের কাছাকাছি নিয়ে আসে।


উৎস: The 5 R's: Refuse, Reduce, Reuse, Repurpose, Recycle, RoadRunner Recycling।
৫২৪.
বাংলাদেশে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বিরাজ করে কোন বায়ুর প্রভাবে?
  1. ক) মৌসুমি বায়ু
  2. খ) অয়ন বায়ু
  3. গ) পশ্চিমা বায়ু
  4. ঘ) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন। দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত। উষ্ণ ও আদ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৫২৫.
চা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশের নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা কতটি? [ডিসেম্বর,২০২৫]
  1. ১৬৮ টি
  2. ১৭০ টি
  3. ১৭১ টি
  4. ১৬৯ টি
ব্যাখ্যা

- চা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশের নিবন্ধিত চা বাগান - ১৭১ টি।

- মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত - ৯০ টি চা বাগান।
- হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত - ২৫টি চা বাগান।
- সিলেট জেলায় অবস্থিত ১৯টি চা বাগান।
-চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত ২২ টি চা বাগান।
- পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত ১১ টি চা বাগান।
- রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত ২ টি চা বাগান।
- ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থিত ১ টি চা বাগান।
- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় অবস্থিত ১ টি চা বাগান।

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড।

৫২৬.
পাদদেশীয় পলল সমভূমি দেখা যায় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. খুলনা-বাগেরহাট
  2. রংপুর-দিনাজপুর
  3. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
  4. কুমিল্লা-নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

পাদদেশীয় পলল সমভূমি:
- পাহাড়ের পাদদেশে নদীবাহিত পানি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গড়ে ওঠে তাকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে।
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পাদদেশীয় পলল সমভূমি নামে পরিচিত।
- তিস্তা, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী দ্বারা এ অঞ্চল বিধৌত।
- এসব নদী হিমালায় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে। ফলে নদীগুলো সহজেই পাহাড় হতে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।
- পাহাড়ের পাদদেশে দুই বা ততোধিক পলল পাখা বা কোণ মিলিত হয়েও পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করতে পারে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৭.
’খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল’ কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পাদদেশীয় সমভূমি
  3. প্লাইস্টোসিন
  4. টারশিয়ারি
ব্যাখ্যা

• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি 

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি,
- মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল:
-  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।

• প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৫২৮.
নীলনদ উৎপত্তি লাভ করে -
  1. ক) ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে
  2. খ) আন্দিজ পর্বতমালা থেকে
  3. গ) ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে
  4. ঘ) কুনকুন পর্বত থেকে
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল-
- নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।
- হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
- মিসিসিপি নদী: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।    
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
- আমাজান নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৯.
দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) ইয়াংসিকিয়াং
  3. গ) আমাজন
  4. ঘ) মিসিসিপি
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী, নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- এর জলাশয় ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং বলিভিয়া দেশগুলিতে বিস্তৃত।
- নদীটি সাধারণত ১৯ থেকে ৫০ কিমি প্রশস্ত, সর্বাধিক ১০০ কিলোমিটার প্রস্থ।
- আমাজন প্রতি সেকেন্ডে ৩০০০,০০০ ঘন মিটার-এ আটলান্টিক মহাসাগরে উচ্চ পরিমাণে মিঠা জল ছেড়ে দেয়।
- এটি বিশ্বব্যাপী মহাসাগরে প্রবেশকারী মিঠা পানির মোট আয়তনের এক-পঞ্চমাংশ।

উৎস: WorldAtlas
৫৩০.
বাংলাদেশের প্রথম কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
  2. সাভার, ঢাকা
  3. সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
  4. বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি একটি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

⇒ এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচলনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৫৩১.
নিচের কোন সমুদ্র কিয়েল খাল দ্বারা সংযুক্ত?
  1. ক্যারিবিয়ান সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
  2. বাল্টিক সাগর এবং উত্তর সাগর
  3. লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর
  4. বেরিং সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
কিয়েল খাল:
- এটি উত্তর জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- উত্তর সাগর এবং বাল্টিক সাগরকে সংযুক্ত করার জন্য ৯৮ কিমি (৬১ মাইল) পূর্ব দিকে প্রসারিত।
- খালটি দুটি সমুদ্রের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে সুবিধাজনক, সংক্ষিপ্ততম এবং সস্তা শিপিং রুট হিসেবে পরিচিত।
- এটি ১৬০মিটার (৫২৬ ফুট) প্রশস্ত।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে খালটি (কায়সার উইলহেম খাল নামে পরিচিত ছিল) জার্মান সরকারের মালিকানাধীন ছিল।
- খালটি বাল্টিক শিপিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসাবে রয়ে গেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা.কম।
৫৩২.
সুন্দরবনের পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন কোনটি?
  1. লাউয়াছড়া
  2. সাঙ্গু-মাতামুহুরী
  3. রেমা-কালেঙ্গা
  4. টেংরাগিরি
ব্যাখ্যা

রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা।
- এটি সুন্দরবনের পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন।

⇒ 
রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন।

⇒ রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের চারটি বিটের (কালেঙ্গা, রেমা, ছনবাড়ী আর রশিদপুর) মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ী বিস্তীর্ণ জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গঠিত।
- বর্তমানে এই বনে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা-লতাগুল্ম পাওয়া যায়।
- রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে আছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এছাড়া ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মও আছে।

অন্যদিকে,
- টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।