বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ক্রিয়া পদ

মোট প্রশ্ন৩৮৯এই পাতা৮৩প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ক্রিয়া পদ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩৮৩ / ৩৮৯

৩০১.
"ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।" - এ বাক্যে ‘ঠিকভাবে’ কোন ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০২.
'সুখী হও।' বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. উপদেশ
  2. অনুরোধ
  3. আদেশ
  4. প্রার্থনা
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩০৩.
আমি কি যাব? - বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

⇒ পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

⇒ ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

⇒ স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

⇒ নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৪.
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৫.
নিচের কোন বাক্যে 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে।
  2. খ) এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।
  3. গ) তিনি গেলে কাজ হবে।
  4. ঘ) বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে' বাক্যে- 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে। 

তাছাড়া,
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার -
- কার্যপরম্পরা বোঝাতে -- চারটা 'বাজলে' স্কুলের ছুটি হবে।
- সম্ভাব্যতা অর্থে -- এখন বৃষ্টি 'হলে' ফসলের ক্ষতি হবে।
- সাপেক্ষতা বোঝাতে -- তিনি 'গেলে' কাজ হবে।
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩০৬.
কোন বাক্যে আবশ্যকতা বোঝাতে 'ইতে > তে' বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) মেলা দেখতে ঢাকা যাব।
  2. খ) বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।
  3. গ) এখন ট্রেন ধরতে হবে।
  4. ঘ) খোকা এখন পড়তে পারে।
ব্যাখ্যা
আবশ্যকতা বোঝাতে ইতে > তে বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়া: 'এখন ট্রেন ধরতে হবে'। 

অন্যদিকে,
ইতে > তে বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার- 
⇒ উদ্দেশ্য বোঝাতে বা নিমিত্ত অর্থে- মেলা দেখতে ঢাকা যাব। 
⇒ বিধি বোঝাতে- বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।  
⇒ সামর্থ্য বোঝাতে- খোকা এখন পড়তে পারে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৭.
‘ওস্তাদ শিষ্যকে গান শেখাচ্ছেন।’ - এ বাক্যে ‘শেখাচ্ছেন’ কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটিকে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন:
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

• ‘ওস্তাদ শিষ্যকে গান শেখাচ্ছেন।’ - 
"শেখাচ্ছেন" ক্রিয়াপদটি এমন একটি ক্রিয়া, যেখানে কাজটি অন্য কাউকে দ্বারা করানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ওস্তাদ নিজে গান শিখছেন না, বরং শিষ্যকে শেখাচ্ছেন। এ ধরনের ক্রিয়াপদকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

উল্লেখ্য,
প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন :
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৮.
‘আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি’- এ বাক্যে ‘আজকাল’ কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণ মোট পাঁচটি ভাগে বিভক্ত যথা:
১. ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

• যে ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কার নির্দেশ কর তাকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলেন চেয়ে ফুলের দাম বেশি ।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৯.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. বলে ফেলা
  3. দোষ দেওয়া
  4. কথা দেওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১০.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. এখন যেতে পার।
  2. তিনি বলতে লাগলেন।
  3. ঘটনাটা শুনে রাখ।
  4. এখন গোল্লায় যাও।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ
খ. নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে
চ. অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার

• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন-
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলামএখন গোল্লায় যাও
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম্‌ ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১১.
'পরে একবার এসো' বাক্যে 'পরে' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'পরে একবার এসো' বাক্যে 'পরে' শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ। এতে ক্রিয়া সংগঠনের কাল প্রকাশ পেয়েছে। যে বিশেষণ পদ ক্রিয়ার ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তা ই ক্রিয়া বিশেষণ। বিশেষণ পদ দুই প্রকার। যথা- নাম বিশেষণ এবং ভাব বিশেষণ। ভাব বিশেষণ পদ আবার ৪ ভাগে বিভক্ত। যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩১২.
"বর্তমানে মাতৃমৃত্যুহার কমে এসেছে।" বাক্যে 'কমে আসা' কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) সংযােগ ক্রিয়া
  4. ঘ) নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
- যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৩.
মরি তো মরব। এখানে 'তো' কোন ধরনের পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন :
কি : আমি কি খাব?
যে : খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা : কখনো বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৩১৪.
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে বলা হয়-
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) অকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) সকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে বলা হয়- অসমাপিকা ক্রিয়া। 

ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায় ।

ক. ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে ৷
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে ।
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা। যথা :
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয় ৷

খ. বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – সে ঘুমায় । এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া। ‘বই’ হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩১৫.
'রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।' - এই বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ ভবিষ্যত
  2. খ) পুরাঘটিত ভবিষ্যত
  3. গ) ঘটমান ভবিষ্যত
  4. ঘ) ভবিষ্যত অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
'রেখো মা, দাসেরে মনে  এ মনতি করি পদে' - এই বাক্যটি ভবিষ্যত অনুজ্ঞা কালের উদাহরণ। 

ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা : ভবিষ্যতে কোনাে কাজ করার আদেশ, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা প্রভৃতি বােঝালে ভবিষ্যৎ কালের, ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা বলে।
যেমন:
আদেশ- এই লেখাটি তুমিই লিখবে।
অনুরােধ- আমার জন্য একটি বই আনবেন।
উপদেশ- মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।
প্রার্থনা- ‘রেখাে মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

ভবিষ্যৎ কাল যে ক্রিয়ার কাজটি এখনাে ঘটেনি অর্থাৎ অনাগতকালে সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যৎ কাল চার প্রকার - 
- সাধারণ ভবিষ্যত
- পুরাঘটিত ভবিষ্যত
- ঘটমান ভবিষ্যত
- ভবিষ্যত অনুজ্ঞা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৬.
বাংলাদেশে জুলাই আগষ্ট মাসে আউশ ধান কাটা হয়। এখানে 'ধান কাটা' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) নাম ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) সংযোগ ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সংযােগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযােগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

করা ক্রিয়া যােগে: গান করা,
গরম করা, ঠনঠন করা,ব্যাট করা;
কাটা ক্রিয়া যােগে: সঁতার কাটা, বিপদ কাটা; ধান কাটা
হওয়া ক্রিয়া যােগে: উদয় হওয়া, বড়াে হওয়া, রাজি হওয়া;
দেওয়া ক্রিয়া যােগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
ধরা ক্রিয়া যােগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
পাওয়া ক্রিয়া যােগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া
খাওয়া ক্রিয়া যােগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
মারা ক্রিয়া যােগে: উকি মারা, পকেট মারা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৭.
কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. দেখাচ্ছেন
  2. বেজে উঠল
  3. কনকনাচ্ছে
  4. গোল্লায় যাও
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও।
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
- 'দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- 'বেজে উঠল' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- 'কনকনাচ্ছে' নামধাতুর ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৩১৮.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গান করা
  2. পেয়ে বসা
  3. গরম করা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

• 'পেয়ে বসা'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩১৯.
কোনটি অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন?
  1. ভূত অসমাপিকা
  2. ভাবী অসমাপিকা
  3. শর্ত অসমাপিকা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• উপরের সবগুলো অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।

• অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩২০.
ও যা অলস! ঘুমানো ছাড়া ওর যেন কোনাে কিছু করবার নেই। বাক্যে 'ঘুমানো' কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য
  4. বস্তুবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বাক্যে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যের ব্যবহার :
ছেলেটা একেবারেই পড়াশােনা করে না, ওর খেলা ছাড়া কাজ নেই।
সব সময়েই তাের কান্না, কাঁদা ছাড়া একটুও থাকতে পারিস না?
ও যা অলস! ঘুমানো ছাড়া ওর যেন কোনাে কিছু করবার নেই।
ওপরের বাক্যগুলােতে খেলা, কান্না, কাঁদা, ঘুমানাে—এগুলাে বিভিন্ন ধরনের কাজের নাম বােঝায়। তাই এগুলাে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৩২১.
নিচের কোনটি নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  2. খ) সে এখন যাবে না।
  3. গ) ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. ঘ) যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাঁকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে ।
যেমন – টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না ।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন – আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন – মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন - সে এখন যাবে না । তিনি বেড়াতে যাননি । এমন কথা আমার জানা নেই ।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩২২.
"তোমার সাথে সংসার করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।" এখানে 'মরে যাওয়া' কোন ক্রিয়া?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• "তোমার সাথে সংসার করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।" এখানে 'মরে যাওয়া' যৌগিক ক্রিয়া।

• যৌগিক ক্রিয়া:

- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৩২৩.
"কাঞ্চন পড়ছে।" - বাক্যে কোন ক্রিয়ার উদাহরণ রয়েছে?
  1. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. সকর্মক ক্রিয়া
  3. অকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- স্বপন লিখছে।
- কাঞ্চন পড়ছে।

অন্যদিকে,
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
- মা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।

সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩২৪.
'তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো' - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. উপদেশ
  2. অনুরোধ
  3. বিধান
  4. আদেশ
ব্যাখ্যা
• 'তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো' - এই বাক্যে আদেশ অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।

• কিছু অনুজ্ঞার উদাহরণ: 
'আদেশ' অর্থে - তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো। 
'অনুরােধ' অর্থে - অঙ্কটা বুজিয়ে দাও না।
'উপদেশ' অর্থে - পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা। 
'প্রার্থনা' অর্থে- আমার দরখাস্তটা পড়ুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৫.
'সুখী হও।'- বাক্যটিতে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আদেশ
  2. উপদেশ
  3. প্রার্থনা
  4. সম্ভাবনা
  5. অনুরোধ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা। আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।
যেমন:
সম্ভাবনায়- ভাল করে পড়লে পাস করবে।
উপদেশ- মানুষ হও।
প্রার্থনায়- সুখী হও।
অনুরোধে- কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩২৬.
ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে কী বলে।
  1. ক্রিয়ার কাল
  2. ক্রিয়ার ভাব
  3. ক্রিয়ার অনুজ্ঞা
  4. ক্রিয়ার বাচ্য
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার ভাব:
- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৭.
বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয় তা কোন পদের দ্বারা নির্দেশিত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া: 
বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা  কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে। 
যেমন,
সালমান ফুটবল খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে। 

• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন,
পড়্‌ + ই = পড়ি, পড়্‌ + এ = পড়ে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)। 
৩২৮.
'চমকানো' শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'চমকানো' শব্দটি — নামক্রিয়ার উদাহরণ। 
-------------- 
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
- যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।

♣ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার: 
১. সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
- যেমন:
সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে।  

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। 
- যেমন:
তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
- যেমন:
চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- যেমন:
গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যৌগিক ক্রিয়া গঠন করে।   
- যেমন:
উঠে পড়া, বেঁধে দেওয়া, বলে ফেলা, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩২৯.
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, সেটি কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. গুণ–বিশেষ্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ক্রিয়া–বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ,
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ,
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ,
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ ও
• পদাণুবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩০.
‘বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি’এ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) অনুক্ত কর্ম
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সমধাতুজ কর্ম
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে। 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি' বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে। সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
৩৩১.
কীসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোন পার্থক্য হয় না?
  1. মধ্যম পুরুষভেদে
  2. বচনভেদে
  3. কালভেদে
  4. প্রয়ােগভেদে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষজ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

এখানে, 
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩২.
ক্রিয়ার অংশ কতটি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার দুইটি অংশ:
- প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
- দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি।

ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলােকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
যেমন -
- পড়ছি (পড় + ছি) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়।
- পড়বেন (পড়ু + বেন) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। - পড়ছিল (পড়ু + ছিল) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৩.
যে ক্রিয়া একজনের চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে কী বলে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. মিশ্র ক্রিয়া
  3. সরল ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩৩৪.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. বাতাস হু-হু করে বইছে।
  2. আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
  3. শিক্ষক ছাত্রদের দিয়ে নোট লিখাচ্ছেন।
  4. আমি নদীতে সাঁতার কাটলাম।
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

সঠিক উত্তর: গ) শিক্ষক ছাত্রদের দিয়ে নোট লিখাচ্ছেন।
কারণ: লিখাচ্ছেন = লিখানো → শিক্ষক প্রযোজনা করে ছাত্রদের দিয়ে লিখানো হচ্ছে।
→ প্রযোজক কর্তা = শিক্ষক;
→ প্রযোজ্য কর্তা = ছাত্ররা;
→ প্রযোজক ক্রিয়া = লিখাচ্ছেন।

অন্য অপশনে,
বাতাস হু-হু করে বইছে। - যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', আমি নদীতে সাঁতার কাটলাম।'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৩৩৫.
নিচের কোন বাক্যে সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ পাওয়া যায়?
  1. সে ঘুমায়।
  2. সে বই পড়ছে।
  3. সে মাটিতে শোয়।
  4. সে দৌড়ায়।
ব্যাখ্যা
• "সে বই পড়ছে।" - সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
অপশনের অন্যগুলো - অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
------------ 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৬.
ভালো করে পড়াশোনা করবে- এ বাক্যে ‘করবে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) আবেগ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ নিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
রাজীব খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- ভালো করে পড়াশোনা করবে
২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩৩৭.
কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. আমি বাড়ি যাই।
  2. সে একটু হাসুক।
  3. পরিশ্রম করলে সফল হবে।
  4. মিথ্যা বলবে না।
ব্যাখ্যা

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক: 
বর্তমান কালে- চুপ কর।
ভবিষ্যৎ কালে- তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক:
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
ভবিষ্যৎ কালে- মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক:
বর্তমান কালে- ছাতাটা দিন তো ভাই।
ভবিষ্যৎ কালে-আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক:
বর্তমানে কালে-মন দিয়ে পড়।
ভবিষ্যৎ কালে- স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

অন্যদিকে,
⇒ সাধারণ নির্দেশক : আমি বাড়ি যাই।
⇒ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: সে একটু হাসুক।
⇒  সাপেক্ষ ভাব: পরিশ্রম করলে সফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

৩৩৮.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. আমি রাতে ভাত খাব না।
  2. ছেলেটা কানে শোনে না।
  3. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  4. সে বই পড়ছে। 
ব্যাখ্যা
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমনঃ
অকর্মক: সে পড়ছে। সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৩৩৯.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা' বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশক করেছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

• বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

• ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।

'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা' বাক্যে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি পদ 'চিকচিক', 'বালি'(বিশেষ্য) এর ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই তা ক্রিয়াবিশেষণ পদ নির্দেশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
"তামিম সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তামিম সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৪১.
ধাতুর সঙ্গে কী যুক্ত হয়ে ক্রিয়া হয়?
  1. বিভক্তি
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।

বিভক্তি দুই প্রকার:
১. ক্রিয়া-বিভক্তি ও
২. কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- পড়্‌ + ই = পড়ি,
- পড়্‌ + এ = পড়ে,
- পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
- পড়্‌ + বে = পড়বে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
৩৪২.
”ছেলেরা মাঠে খেলছে” বাক্যটিতে ”খেলছে” কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।

যেমন
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

• এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩৪৩.
নিচের কোনটি নাম ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরে দাঁড়ানো
  2. চমকানো
  3. খেলছে
  4. করাচ্ছেন
ব্যাখ্যা
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।

যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো
সরল ক্রিয়া - ছেলেরা মাঠে খেলছে।
প্রযোজক ক্রিয়া - তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৪.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. বাবা আমাকে একটি বই দিয়েছেন।
  2. এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
  3. তোমাকে দেখে প্রীত হলাম।
  4. মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
সমধাতুজ কর্ম: 
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন-
আর কত খেলা খেলবে।
√খেল্ + আ = খেলা (কর্মপদ)
√খেল্ + বে = খেলা (ক্রিয়াপদ)
- মূল ‘খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ ‘খেলবে’ এবং কর্মপদ ‘খেলা’ উভয় গঠিত হয়েছে।
- তাই ‘খেলা’ পদটি সমধাতুজ বা ধাতৃর্থক কর্ম।

- অনেক ক্ষেত্রে সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমন-
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গাে বাপু।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?

অন্যদিকে, 
"বাবা আমাকে একটি বই দিয়েছেন।" - সকর্মক ক্রিয়া।
"তোমাকে দেখে প্রীত হলাম।" - মিশ্র ক্রিয়া।
"মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।" - প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪৫.
ক্রিয়ার ভাব কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ার ভাব (Mood):
⇒ বাক্যগুলোতে ক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার বিভিন্ন রীতি প্রকাশ পেয়েছে। ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

⇒ ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার:
১. নির্দেশক ভাব (Indicative Mood)
২. অনুজ্ঞা ভাব (Imperative Mood)
৩. সাপেক্ষ ভাব (Subjunctive Mood)
৪. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব (Optative Mood)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

৩৪৬.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
  1. তার মঙ্গল হোক।
  2. মন দিয়ে পড়।
  3. সে একটু হাসুক।
  4. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
ব্যাখ্যা
• মন দিয়ে পড়।- বাকে অনুজ্ঞা ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।

• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

⇒ নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়:
- আপনি কি আসবেন?
- সে কি গিয়েছিল?

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

⇒ সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।


⇒ আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৭.
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।’'বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কালবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. ধরনবাচক
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন
- সে এখন যাবে না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।
- এমন কথা আমার জানা নেই।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যেরমধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা','না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩৪৮.
ভাব প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়াপদকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার
সেগুলো হলো-
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে । যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।
২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা
২. ভাবী অসমাপিকা
৩. শর্ত অসমাপিকা ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৩৪৯.
'ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।'- বাক্যে 'শুয়ে পড়ল' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. মিশ্র
  2. প্রযোজক
  3. যৌগিক
  4. সমধাতুজ
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।
'সাইরেন বেজে উঠল' আকস্মিকতা অর্থে যৌগিক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে।

আরো কিছু যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ:
- নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
- অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
- অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার।
এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫০.
নিচের কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2. যায় যায়
  3. সহজে
  4. চুপি চুপি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, যায় যায়, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫১.
‘বাবুল পড়ে’ এ বাক্যে ‘পড়ে’ কোন ক্রিয়া?
  1. ক) সকর্মক
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) অসমাপিকা
  4. ঘ) অকর্মক
ব্যাখ্যা

অকর্মক ক্রিয়াঃ
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না।

যেমন -
মেয়েটি হাসে।
এখানে, 'কী হাসে' বা 'কাকে হাসে' প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই 'হাসে' ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
তেমনিভাবে,
বাবুল পড়ে - বাক্যটির 'পড়ে' ক্রিয়াপদটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

৩৫২.
কী ভেদে বাংলায় ক্রিয়ার রূপের কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. বচনভেদে
  2. পুরুষভেদে
  3. অর্থভেদে
  4. প্রয়োগভেদে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: আমি যাই। তুমি যাও। আপনি যান। সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না। যেমন: আমি (বা আমরা) যাই। তুমি (বা তোমরা) যাও। সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৩.
সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে কী বলে?
  1. নাম ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৩৫৪.
'মেলা দেখতে ঢাকা যাব'- এখানে অসমাপিকা ক্রিয়াটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ইচ্ছা
  2. সামর্থ্য
  3. উদ্দেশ্য
  4. আবশ্যকতা
ব্যাখ্যা
 • 'মেলা দেখতে ঢাকা যাব'- বাক্যে উদ্দেশ্য বোঝাতে বা নিমিত্ত অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়েছে।  
-------------------------
• সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
----------------------------
অন্যদিকে,
ইতে > তে বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার:  
⇒ বিধি বোঝাতে- বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।  
⇒ ইচ্ছা প্রকাশে- এখন আমি যেতে চাই। 
⇒ সামর্থ্য বোঝাতে- খোকা এখন পড়তে পারে। 
⇒ আবশ্যকতা বোঝাতে- 'এখন ট্রেন ধরতে হবে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
৩৫৫.
নিচের কোনটিতে মিশ্র ক্রিয়া আছে?
  1. ক) শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন।
  2. খ) ছেলেটি ঝিমাচ্ছে।
  3. গ) মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  4. ঘ) আমর মাথা ভনভন করছে।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগ যে ক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পর: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
বিশেষণের পর: তোমাকে দেখে প্রীত হলাম। 
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পর: মাথা ঝিমঝিম করছে

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৩৫৬.
'হেসে ওঠা' কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. সংযােগ ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন,
– মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৫৭.
একই ধাতু থেকে ক্রিয়া ও কর্ম গঠিত হলে তাকে কি কর্ম বলে?
  1. ক) গৌণ
  2. খ) মুখ্য
  3. গ) সমধাতুজ
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদ ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে।

• বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে বস্তুবাচক কর্মটিকে প্রধান বা মুখ্য কর্ম ও ব্যক্তিবাচক কর্মটিকে গৌণ কর্ম বলে।
- যেমন -বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
- কাকে দিয়েছেন? আমাকে।
- কী দিয়েছেন? ল্যাপটপ 
- আমাকে-  (গৌণ কর্ম) ও ল্যাপটপ- (মুখ্য কর্ম)। 

• তবে দুইটি একই ধরনের কর্ম থাকলে প্রথম কর্মটিকে উদ্দেশ্য কর্ম ও দ্বিতীয়টিকে বিধেয় কর্ম বলে।
- যেমন- ‘দুধকে মোরা দুগ্ধ বলি, হলুদকে বলি হরিদ্রা’।
- এখানে ‘দুধ’ ও ‘হলুদ’ উদ্দেশ্য কর্ম, ‘দুগ্ধ’ ও ‘হরিদ্রা’ বিধেয় কর্ম।

• কর্তা নিজে কাজ না করে কর্মকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিলে তাকে প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম বলে।
- যেমন : মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৫৮.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়া নয়?
  1. এগিয়ে চলা
  2. উঠে পড়া
  3. বেঁধে দেওয়া
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - 
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।

অন্যদিকে,
• যৌগিক ক্রিয়া নয় - উদয় হওয়া।
- এটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

 • সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৩৫৯.
মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। এখানে 'ঝিম ঝিম্ করছে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন- মাথা ঝিম ঝিম্ করছে; ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে৷ (ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে)৷
তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম (বিশেষণের পরে)৷
আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও (বিশেষ্যের পরে)৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬০.
কর্মপদের ভূমিকা অনুসারে ক্রিয়াপদ কত প্রকার?
  1. ক) ৩ প্রকার  
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ৫ প্রকার
  4. ঘ) ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
• কর্মপদের ভূমিকা অনুসারে ক্রিয়াপদ ৪ প্রকার প্রকার।
 • কর্মপদের ভূমিকা অনুসারে ক্রিয়াপদ চার প্রকার। যথা-
- সকর্মক ক্রিয়া,
- অকর্মক ক্রিয়া,
- দ্বিকর্মক ক্রিয়া, 
- প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৬১.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. বলে ফেলা
  2. বড়ো হওয়া
  3. বেঁধে দেওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। যথা:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬২.
‘ঘটনাটি শুনে রাখ’- বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) প্রযোজক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সাইরেন বেজে উঠল।
- ঘটনাটি শুনে রাখ।

মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৩.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. বৃদ্ধি পাওয়া
  3. মরে যাওয়া
  4. গান করা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, গান করা, সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৩৬৪.
‘ঘণ্টা বেজে উঠল‘ বাক্যে 'বেজে উঠা' কোন ধরণের ক্রিয়া?
  1. নাম ধাতুর ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- "ঘণ্টা বেজে উঠল"- বাক্যে 'বেজে উঠা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
যথা - 
• সরল ক্রিয়া, 
• প্রযোজক ক্রিয়া, 
• নাম ক্রিয়া, 
• সংযোগ ক্রিয়া এবং 
• যৌগিক ক্রিয়া। 

যৌগিক ক্রিয়া: 
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৫.
'যথাসময়ে আঁখি হাজির হয়েছিল'- বাক্যে 'যথাসময়ে' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ  
  3. গ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
যথাসময়ে আঁখি হাজির হয়েছিল।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৩৬৬.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. ক) সে বই পড়ছে
  2. খ) সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
  3. গ) সে ঘুমিয়ে আছে
  4. ঘ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্মপদ বলে।
যেমন - 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি' বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।
আবার, ‘সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না’ বাক্যে কর্মপদ চাল এবং ক্রিয়াপদ চেলেছে একই ধাতু চাল থেকে গঠিত হয়েছে।
সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৭.
’যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।’- বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২০ সালের সংস্করণ)।

৩৬৮.
"মৌলিসা পাস করে গেল।" - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. নাম ক্রিয়া
  2. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মৌলিসা পাস করে গেল।
সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৬৯.
মামুন আমেরিকা থাকে। - এ বাক্যে ‘আমেরিকা’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন : 
আমার সামনে দাঁড়াও। 
এখানে বসো। 
কল্যাণী গাজীপুর থাকে। 
চশমাটা কোথায় রেখেছি বলতে পারছি না। 
মামুন আমেরিকা থাকে।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৭০.
"সালমান সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।" - এ বাক্যের ক্রিয়াটি কোন ধরনের?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

বাক্যে উদাহরণ:
- সালমান সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।
- সে আমার কথা শুনে হেসে উঠল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৭১.
‘যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এখানে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সমাপিকা
  2. অসমাপিকা
  3. প্রযোজক 
  4. অনুক্ত
ব্যাখ্যা

অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'যত্ন করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৭২.
নিচের কোন বাক্যটি অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. আমি বই পড়ছি
  2. মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন
  3. ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে
  4. সে ঘুমায়
ব্যাখ্যা
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন - 
- যেমন সে ঘুমায়। 
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৩.
"আমি বাড়ি গিয়ে খাব।" - বাক্যে 'গিয়ে' কোন ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. দ্বিকর্মক
  4. সমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে...

→ এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে।
→ বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৭৪.
'ক্রিয়াপদ' সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
  2. কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
  3. ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অনুক্ত ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
যেমন -
→ ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
→ আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)।
→ তোমার মা কেমন? = তোমার মা কেমন (আছেন)?
- বাক্যে সাধারণত 'হ্' এবং 'আছ' ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৫.
"চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে"- বাক্যটিতে কী অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সম্ভাব্যতা অর্থে
  2. খ) বিধি বোঝাতে
  3. গ) কার্যপরম্পরা বোঝাতে
  4. ঘ) সাপেক্ষতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
"চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে"- বাক্যটিতে 'কার্যপরম্পরা' অর্থে 'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে।

'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার -
- কার্যপরম্পরা বোঝাতে -- চারটা 'বাজলে' স্কুলের ছুটি হবে।
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- সম্ভাব্যতা অর্থে -- এখন বৃষ্টি 'হলে' ফসলের ক্ষতি হবে।
- সাপেক্ষতা বোঝাতে -- তিনি 'গেলে' কাজ হবে।
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৭৬.
"তিনি ঘটনাটি বলতে লাগলেন" বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) সংযোগ ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"তিনি ঘটনাটি বলতে লাগলেন" বাক্যে যৌগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৭.
"টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।" - বাক্যে কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৮.
'ইলমি গুনগুনিয়ে গান করছে।' - বাক্যটি কিসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- ইলমি গুনগুনিয়ে গান করছে

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৯.
‘সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।' - বাক্যে 'নিয়ে' কোন ক্রিয়াপদ?
  1. সমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. অসমাপিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৮০.
'ঘোড়াটি দ্রুত দৌড়ায়' বাক্যে 'দ্রুত' কোন বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ঘোড়াটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৮১.
‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি’ এই বাক্যে ‘গিয়ে’ কোন ক্রিয়া?
  1. ক) অসমাপিকা
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) দ্বিকর্ম
  4. ঘ) প্রয়োজক
ব্যাখ্যা
‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি’ এই বাক্যে ‘গিয়ে’ অসমাপিকা ক্রিয়া।

যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - বাড়ি গিয়ে...... এই বাক্যে 'গিয়ে' দ্বারা কথা শেষ হয় নি। তাই এখানে 'গিয়ে' অসমাপিকা ক্রিয়া। তবে, ‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।' এই বাক্যে 'যায়নি' সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮২.
ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. ঠকঠক করা হচ্ছে।
  2. মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন।
  3. পাখিটা ব্যাথায় ছটফটায়।
  4. ঘন্টা বেজে উঠল।
ব্যাখ্যা

• পাখিটা ব্যাথায় ছটফটায়।- বাক্যে ছটফটায় ধ্বন্যাত্মক নাম ক্রিয়ার উদাহরণ।

⇒ নামক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়


অন্যদিকে,
⇒ প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন।'
[বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া। 'মা' এখানে প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।]

⇒ যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

• অনুরূপভাবে, ঘন্টা বেজে উঠল।- এখানে বেজে উঠল যৌগিক ক্রিয়া।

⇒ সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৮৩.
'অনুরোধ' অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মন দিয়ে পড়
  2. খ) আপনারা আসবেন
  3. গ) মিথ্যা বলবে না
  4. ঘ) চুপ কর
ব্যাখ্যা
- 'অনুরোধ' অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ হলো-আপনারা আসবেন। 

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন- 
১। আদেশাত্মক- চুপ কর। 
২। নিষেশাত্মক- মিথ্যা বলবে না। 
৩। অনুরোধসূচক- আপনারা আসবেন। 
৪। উপদেশাত্মক- মন দিয়ে পড়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।