বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ক্রিয়া পদ

মোট প্রশ্ন৩৮৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ক্রিয়া পদ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩৮৯

২০১.
কোন বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
  2. বিথু গান গায়।
  3. সেতু স্কুলে যায়।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সেতু স্কুলে যায়।
বিথু গান গায়।
ভালো করে পড়াশোনা করবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২০২.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে একটি ক্রিয়া গঠিত হলে তাকে বলে-
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৩.
নিচের কোনটি 'সংযোগ ক্রিয়ার' উদাহরণ?
  1. ক্যাচ ধরা
  2. কমে আসা
  3. মরে যাওয়া
  4. সরে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
- যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।  
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - পড়্‌ + ই = পড়ি।  

♣ ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:  
- ভাব সম্পূর্ণ হয়। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে। 
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
- ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে। 

♣ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার: 
১. সরল ক্রিয়া:
- যেমন: সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে। 

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- যেমন: চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।   

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- যেমন: গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়। 
- যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২০৪.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কথা দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. বেঁধে দেওয়া
  4. মন দেওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৫.
‘রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়’- বাক্যে ‘খাওয়ায়’ কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

⇒ সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

⇒ প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

⇒ নামক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

⇒ সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। • করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে:
• কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

⇒ যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২০৬.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  2. খ) ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।
  3. গ) সাইরেন বেজে উঠলো।
  4. ঘ) মা শিশুটিকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্য অপশনে,
'সাইরেন বেজে উঠলো'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।'- মিশ্র ক্রিয়ায়র উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২০৭.
'সে পাস করে গেল।' - এই বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মিশ্র
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. দ্বিকর্মক
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সে পাস করে গেল।
সাইরেন বেজে উঠল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২০৮.
নিচের কোন বাক্যে ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  3. রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
  4. সে লিখছে।
ব্যাখ্যা
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন -
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়

অন্যদিকে,
- ছেলেরা মাঠে খেলছে। এবং সে লিখছে। = সরল ক্রিয়া।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। = প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৯.
'এখন গোল্লায় যাও' এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) ণিজন্ত ক্রিয়া
  4. ঘ) নামধাতুর ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন
বিশেষ্যের পরে : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। ছেলেটি গােল্লায় গেছে (এখন গোল্লায় যাও)
বিশেষণের পরে : তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ঋনাত্মক অব্যয়ের পরে : মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১০.
কর্মের উপস্থিতিতে ক্রিয়ার প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) সকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) অকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।  যথা:

১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - সে বই পড়ছে।
এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২১১.
‘বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।’ - এ বাক্যে ‘গিয়ে’ কোন ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. দ্বিকর্মক
  4. সমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২১২.
নিচের কোন বাক্যে দ্বিকর্মক ক্রিয়া রয়েছে?
  1. সে মাটিতে শোয়।
  2. তুমি ছবি আঁকছ।
  3. সে ভালো দৌড়ায়।
  4. রাসেল দীপুকে বলটি দিল।
ব্যাখ্যা

• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।]

- রাসেল দীপুকে বলটি দিল।
[এই বাক্যে 'দিল' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বলটি'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('দীপুকে')।]

অন্যদিকে,

• অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই।]

• সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

- তুমি ছবি আঁকছ।
- অমি চাঁদ দেখছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১৩.
কোন পদ বাক্যে কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে তা নির্দেশ করে?
  1. সর্বনাম
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- রাজীব খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে।

ক্রিয়ার প্রকারভেদ:
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায়।ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২১৪.
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ এর উদাহরণ কোনটি?
  1. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  4. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- বা: কখনো বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- তো: মরি তো মরব।

অন্যদিকে,
- 'আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।' কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।' ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।' স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৫.
নিচের কোন বাক্যটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  2. বিথু গান গায়। 
  3. আমি বাড়ি গিয়ে। 
  4. সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
ব্যাখ্যা

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে...
- সে বই নিয়ে...

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

• সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সেতু স্কুলে যায়।
- বিথু গান গায়।
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২১৬.
ক্রিয়াপদ -
  1. সবসময়ে বাক্যে থাকবে
  2. কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে
  3. শুধু অতীতকাল বোঝাতে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  4. আসলে বিশেষণ থেকে অভিন্ন
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।

- যে পদের দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে৷ ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়।
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ। ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোন মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না৷ তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে৷

 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৭.
লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া ইত্যাদি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) সংযােগ ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সংযােগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযােগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
করা ক্রিয়া যােগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
কাটা ক্রিয়া যােগে: সঁতার কাটা, বিপদ কাটা
হওয়া ক্রিয়া যােগে: উদয় হওয়া, বড়াে হওয়া, রাজি হওয়া
দেওয়া ক্রিয়া যােগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া
ধরা ক্রিয়া যােগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা
পাওয়া ক্রিয়া যােগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া
খাওয়া ক্রিয়া যােগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া
মারা ক্রিয়া যােগে: উকি মারা, পকেট মারা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২১৮.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. ক) পাঁচ
  2. খ) দুই
  3. গ) তিন
  4. ঘ) চার
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথাঃ
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - সে বই পড়ছে।
এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৯.
"রাত বেশি হয়ে যাওয়ার আগে আমরা খেয়ে নিলাম।" - এখানে 'খেয়ে' কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. দ্বিকর্মক
  2. প্রযোজক
  3. সমাপিক
  4. অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার।
যথা- 
⇒ সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
ভালাে করে পড়াশােনা করবে।
অনুরূপভাবে: আমি ভাত খাচ্ছি।

⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া বাক্যে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না এবং অন্য কোনো ক্রিয়ার সহায়তা নিয়ে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন,
– ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
- "রাত বেশি হয়ে যাওয়ার আগে আমরা খেয়ে নিলাম।"
(এখানে "খেয়ে" অসমাপিকা ক্রিয়া, কারণ এটি একা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারছে না।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২২০.
আমার সামনে দাঁড়াও- এ বাক্যে ‘সামনে’ কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
আমার সামনে দাঁড়াও।
এখানে বসো।
বড় মামা মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন।
চশমাটা কোথায় হাড়িয়েছি জানি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২১.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. এগিয়ে চলা
  2. সরে দাঁড়ানো
  3. মরে যাওয়া
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২২২.
ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়-
  1. বচন ভেদে
  2. কাল ভেদে
  3. পুরুষ ভেদে
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদ:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
- যেমন- রাজীব খেলছে।

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- পড়+ ই = পড়ি, পড় +এ =পড়ে,

• পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন-
- পক্ষ (পুরুষ) : আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২২৩.
নিচের কোন বাক্যে যৌগিক ক্রিয়া নেই?
  1. ক) তুমি চলে যাও। 
  2. খ) তুমি বসে পড়। 
  3. গ) সাইরেন বেজে উঠল।
  4. ঘ) তোমাকে দেখে খুশি হলাম।
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
তুমি চলে যাও। 
তুমি বসে পড়। 
সাইরেন বেজে উঠল

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২২৪.
অনুরোধ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সদা সত্য বলবে
  2. খ) চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে
  3. গ) রোগ হলে ওষুধ খাবে
  4. ঘ) কাল একবার এসো
ব্যাখ্যা
কাল একবার এসো- অনুরোধ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ।

অনুজ্ঞা পদ:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যত কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ : সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে : রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে : কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২২৫.
দ্বিকর্মক ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আনোয়ার বই পড়ে।
  2. মেয়েটি হাসে।
  3. আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব।
  4. মাসুদ সারাদিন খেলেছিল।
ব্যাখ্যা
• সমাপিকা ক্রিয়ার গঠন:
সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক, অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে। ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।
যথা-
• আনোয়ার বই পড়ে। (ক্রিয়া সকর্মক, কাল- বর্তমান)।
• মাসুদ সারাদিন খেলেছিল।(ক্রিয়া অকর্মক, কাল- অতীত)।
• মেয়েটি হাসে। (এখানে, 'কী হাসে' বা 'কাকে হাসে' প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই 'হাসে' ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
• আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব। (ক্রিয়া দ্বিকর্মক, কাল- ভবিষ্যৎ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২২৬.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৭.
'মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছে' এ বাক্যে দেখাচ্ছে কোন ক্রিয়া?
  1. ক) অসমাপিকা
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) দ্বিকর্মক
  4. ঘ) প্রযোজক
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়াঃ কর্তার যে ক্রিয়া অন্যকে দিয়ে করানো হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন,
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে,
সাপুড়ে সাপ খেলায়,
মা শিশুটিকে হাসান।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৮.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
  3. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
  4. সে ঘুমায়।
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- 'বই' হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২২৯.
কোন বাক্যটির ক্রিয়াপদ অকর্মক?
  1. মেয়েটি জোরে জোরে হাসছে।
  2. ছেলেটি দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
  3. তারা সকালে পার্কে দৌড়ায়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না।
যেমন:
- মেয়েটি জোরে জোরে হাসছে।
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
- তারা সকালে পার্কে দৌড়ায়।
এখানে,
'কী হাসে' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই উদাহরণগুলোর ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩০.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. চেপে রাখা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
- কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩১.
'জাদুকর জাদু দেখায়।'- এই বাক্যের 'জাদুকর'-
  1. প্রযোজক কর্তা
  2. প্রযোজ্য কর্তা
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. সমধাতুজ কর্ম
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক কর্তা: 
- মুখ্য কর্তা যখন অন্যকে দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করায় তাকে বোঝায়। 
যেমন: 
-  কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়।
এখানে 'কৃষক' হচ্ছে প্রযোজক কর্তা।
যেমন :
জাদুকর জাদু দেখায়।
বাক্যে ‘জাদুকর’ প্রযোজক কর্তা, ‘জাদু’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজ্য কর্তা :
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩২.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. হ্রাস পাওয়া
  2. ডিগবাজি খাওয়া
  3. অস্ত যাওয়া
  4. হেসে ওঠা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া: 
- সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২৩৩.
অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. স্বপন চিঠি লিখছে।
  2. আমি সেখানে যাব না।
  3. ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
  4. ছেলেটি কথা শোনে।
ব্যাখ্যা
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন - 
- যেমন সে ঘুমায়। 
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই। 
আবার,
আমি সেখানে যাব না। - কী বা ‘কাকে’ দ্বারা প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যাব’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

তেমনিভাবে,
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।
ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে
রহিম বই পড়ে।
ছেলেটি কথা শোনে।
মেয়েটি গান গাচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৪.
‘কি’ এর ব্যবহার কোন পদের হয়?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

- সর্বনাম , বিশেষণ ও ক্রিয়া বিশেষণ পদ রূপে বসলে 'কী' এর ব্যবহারহর।

- যেমনঃ কী বলছো তুমি? কী করছো? কী পরছো? কী খেলে? কী বলবো? 'পদ কত প্রকার ও কী কী ইত্যাদি

- কিন্তু অব্যয় পদ হিসেবে যদি ব্যবহার করতে হয় তাহলে 'কি' লিখতে হয়। 

- যেমনঃ তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও?

 -তুমি কি বিসিএস পরীক্ষা দিতে চাও?

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৫.
”শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।” বাক্যটিতে ”দিলেন” কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. অকর্মক ক্রিয়া
  4. ত্রিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উল্লেখ্য,
- বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
- সকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়া।
- দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫,সালের সংস্করণ।
২৩৬.
হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ-
  1. সরল ক্রিয়া
  2. নমিক্রিয়া
  3. সংযােগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন – মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩৭.
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে, কোন ক্রিয়া বলে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২৩৮.
কোনটি কালজ্ঞাপক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ঠিকভাবে  চললে কেউ কিছু বলবে না।
  2. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  3. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  4. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাখ্যা

আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।- কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ। 

কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ- ক্রিয়াবিশেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন, যা ক্রিয়ার সময় বা কাল নির্দেশ করে।
- সময় বা কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলতে সেই ক্রিয়াবিশেষণকে বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো কাজ কখন বা কত সময়ে সংঘটিত হচ্ছে—তা জানা যায়।
- যেমন:
• “সেদিন তুমি এলে না।”
•“অনেকক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।”
•“আজ যখন সে আসবে, তখন তাকে বুঝিয়ে দিয়ো।”
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- ক্রিয়াকে ‘কখন’ বা ‘কতক্ষণ’ প্রশ্ন করলে যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ উত্তর হিসেবে পাওয়া যায়, সেটিই সময় বা কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ।

উদাহরণস্বরূপ- 
• আগামীকাল বৃষ্টি হবে (কখন বৃষ্টি হবে?)।
• সে দুপুরে আসবে (কখন আসবে?)।
• আমরা মাঝে মাঝে এখানে আসি (কখন আসি?)।
• তাড়াতাড়ি যাও (তাড়াতাড়ি = কখন?)।
• কাল সে আসেনি (কাল = কখন?)।
• শীঘ্রই সে ফিরে আসবে (শীঘ্রই = কখন?)।
• সবসময় সে পড়াশোনা করে (সবসময় = কখন?)।
----------------------------------------------------------------------
অন্যদিকে, 
- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে। 
• টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে ও ঠিকভাবে  চললে কেউ কিছু বলবে না- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 

• তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না- স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩৯.
সকর্মক ক্রিয়া কোনটি?
  1. আমি রাতে খাব না।
  2. ছেলেটা কানে শোনে না।
  3. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  4. সে পড়ছে
ব্যাখ্যা

• যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
• যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমন: ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমন:
- অকর্মক: সে পড়ছে।
- সকর্মক: সে বই পড়ছে। 

- অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
- সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।

- অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
- সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।

- অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
- সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

২৪০.
'বাবা আমাকে ডাকছেন' - বাক্যে 'আমাকে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) অকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) সকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- বাক্যে 'আমাকে' হচ্ছে সকর্মক ক্রিয়া।

• সকর্মক ক্রিয়া:
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
- সে বই পড়ে।
- বাবা আমাকে ডাকছেন।
- খালা আমাকে এই ঘড়িটা দিয়েছেন।

- প্রথম বাক্যে 'বই' হচ্ছে ক্রিয়াটির কর্মপদ। দ্বিতীয় বাক্যে 'আমাকে' কর্মপদ। তৃতীয় বাক্যে 'আমাকে' গৌণ কর্মপদ আর 'ঘড়িটা' মুখ্য কর্মপদ।
- বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে কর্মপদ পাওয়া যায়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২৪১.
'ঘটনাটা শুনে রাখো' বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. অকর্মক
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা
• 'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ'- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তাগিদ দেয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪২.
অনুক্ত ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জাহানারা আমার খালাতো বোন।
  2. খ) সে বই পড়ছিল।
  3. গ) বাবা আমাকে ডাকছেন।
  4. ঘ) খালা আমাকে বইটি দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা
অনুক্ত ক্রিয়া: 
- বাংলায় ক্রিয়াহীন বাক্যও হয়, তাদের অনুক্ত ক্রিয়া বলে। 
যেমন- জাহানারা আমার খালাতো বোন। 
- নিত্য বর্তমান কালে কখনো অতীত কালেও 'আছা' 'থাকা' ইত্যাদি অস্তিবাচক ক্রিয়া উহ্য থাকে।
- অন্যান্য কালে তা মূর্ত থাকে। যেমন - জাহানারা আমার খালাতো বোন ছিল।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২৪৩.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।
- আমরা বিকেলে খেলতে যাই।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের।
যথা:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৪৪.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ওরা কি করে?
  2. আপনি আসবেন
  3. আমরা যাচ্ছি
  4. তোরা খাসনে
ব্যাখ্যা
• ওরা কি করে?- বাক্যে ‘ওরা’ নামপুরুষের উদাহরণ।

পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
১. উত্তম পুরুষ,
২. মধ্যম পুরুষ,
৩. নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ: ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।
• মধ্যম পুরুষ: বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি, তোরা ইত্যাদি।
• নাম পুরুষ: বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৫.
প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় কোন ভাব হয়?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. আকাঙ্খা ভাব
  4. নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৬.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া?
  1. আমি চোখে দেখি না।
  2. সে বই পড়ছে।
  3. আমি রাতে ভাত খাব না।
  4. আকাশে চাঁদ দেখি না।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে।

অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।

অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।

অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
‘ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে’ - এখানে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?  
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া 
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন - 
• রাজীব খেলছে,
• বৃষ্টি হতে পারে।  
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - পড়্‌ + ই = পড়ি।

⇒ ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার: 
১. সমাপিকা ক্রিয়া:   
• ভাব সম্পূর্ণ হয়। 
• যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করবে।   
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
• ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না। 
• যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।  

⇒ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার:
১. সরল ক্রিয়া:
• সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে। 
২. প্রযোজক ক্রিয়া:
• তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন, রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
৩. নামক্রিয়া:
• চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)। 
৪. সংযোগ ক্রিয়া:
• গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা।
৫. যৌগিক ক্রিয়া:
• সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়। 
- যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২৪৮.
‘তখনই বৃষ্টি শুরু হলো।’ – বাক্যে ‘তখনই’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক
  2. ধরনবাচক
  3. কালবাচক
  4. নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।

• প্রদত্ত বাক্যটি: "তখনই বৃষ্টি শুরু হলো।"
এখানে, 'কখন' বৃষ্টি শুরু হলো প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তখনই'। সুতরাং, 'তখনই' - কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪৯.
"তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।" - বাক্যে কোন ধরেনর ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সালের সংস্করণ)।

২৫০.
সে লালন গীতি শিখতে কুষ্টিয়া যায়। এখানে 'শিখতে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
২৫১.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কী যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয় তাঁকে নির্দেশ করে যে পদ তাকে ক্রিয়া পদ বলে। 
যেমন: 
রাজীব খেলছে। 
বৃষ্টি হতে পারে

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়। 

যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫২.
অসমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমি স্কুলে যাচ্ছি। 
  2. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  3. ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
  4. আমি দুপুরে ভাত খাই। 
ব্যাখ্যা
• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায়।
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

• সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি। 

অনুরূপভাবে: আমি ভাত খাচ্ছি।

• অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫৩.
'মরি তো মরব'- এ বাক্যে ‘তো’ কোন ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ধরণবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) পদাণু
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করেও  কি, যে, বা, তো, প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন:
কি : আমি কি যাব?
যে : খুব যে বলেছিলে আসবেন!
বা : কখনও বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২১ সংস্করণ)।
২৫৪.
নিচের কোনটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সবার সামনে থাকবে।
  2. খ) মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
  3. গ) কার কাছে গেলে জানা যাব?
  4. ঘ) এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন -
করে: ভালাে করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার ।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

২৫৫.
‘বৃষ্টি হতে পারে’- বাক্যে ‘হতে পারে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদ: বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
যেমন:
রাজীব খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

• ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• বিশেষ্য: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন- নজরূল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষণ: যে শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন-
সুন্দর ফুল
বাজে কথা
পঞ্চাশ টাকা
হাজার সমস্যা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৬.
সকর্মক ক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) ছেলেটা কথা শোনে
  2. খ) ছেলেটা কানে শোনে না
  3. গ) আমি রাতে খাব না
  4. ঘ) সাপুড়ে সাপ খেলায়
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
• যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে। 

অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।

অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।

অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২৫৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. সরে দাঁড়ানো
  2. চেপে রাখা
  3. কথা দেওয়া
  4. এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৮.
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম'- বাক্যে 'দর্শন করলাম' কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
‘আমরা তাজমহল দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়াপদ এর উদাহরণ।

মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
বিশেষ্যের পরে: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)
বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ঋনাত্মক অব্যয়ের পরে: মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
২৫৯.
ধাতুর সঙ্গে কোনটি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. অনুসর্গ
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামুল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - (নবম ও দশম শ্রেণি)- (২০২২ সংস্করণ)।
২৬০.
বাগানে বেশ কিছু লিচু ফলেছে। বাক্যটিতে “ফলেছে” কোন ধরণের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. একক কর্তার ক্রিয়া
  3. শর্তাধীন ক্রিয়া
  4. নাম ধাতুর ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তরঃ নাম ধাতুর ক্রিয়া।
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধন্যাত্মক অব্যয়ের পর ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যে সব ধাতু গঠিত হয়, সেগুলোকে নামধাতু বলা হয়।
নাম ধাতুর সঙ্গে পুরুষ বা কালসূচক ক্রিয়া বিভক্তি যোগে নামধাতুর ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
আ-প্রত্যয় যুক্ত না হয়েও কয়েকটি নাম ধাতু বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুর মত ব্যবহৃত হয়। যেমন,
ফল - বাগানে বেশ কিছু লিচু ফলেছে।
টক - তরকারি বাসি হলে টকে।
সুত্রঃ নবম দশম শ্রেণী, বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।
২৬১.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া,
  2. বৃদ্ধি পাওয়া
  3. উঠে পড়া
  4. গান করা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ = উঠে পড়া।
-------------------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, গান করা, সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২৬২.
'এগিয়ে চলা উচিত' শব্দগুচ্ছে 'এগিয়ে চলা' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. প্রযােজক ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সংযােগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন – মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬৩.
ক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশকে কী বলে?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়: 
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।

• ধাতু: 
- ক্রিয়ার মূল অংশকে বলা হয় ধাতু।
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়- একটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল অপরটি ক্রিয়াবিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়াবিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা-ই হলাে ধাতু।
- অর্থাৎ ক্রিয়ামুলের আরেক নাম ধাতু।
- ড. এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিয়াপদের যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা করে তাকে ধাতু বলে। 
- ক্রিয়ামূলকে বা ধাতুকে আবার প্রকৃতিও বলা হয়।
- ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বােঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

• ক্রিয়া বিভক্তি: 
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলোকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে। 
যেমন,
- পড়ছি (পড়্‌ + ছি); এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়বেন (পড়্‌ + বেন); এখানে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়ছিল (পড়্‌ + ছিল); একাহ্নে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়। 
উপরের উদাহরণগুলোতে '-ছি', '-বেন', '-ছিল'- এগুলো হলো ক্রিয়াবিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৪.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. পেয়ে বসা
  2. মরে যাওয়া
  3. রাজি হওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

অন্যদিকে,
--------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৬৫.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গাছটি বেড়ে উঠছে।
  2. ছেলেটি হাসছে।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. পাখি উড়ছে।
ব্যাখ্যা
"সে বই পড়ছে" বাক্যে "পড়ছে" হলো সকর্মক ক্রিয়া, কারণ এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে "বই" (কর্ম) এর প্রয়োজন হয়। এখানে কর্ম 'বই' রয়েছে।

অন্য অপশনগুলো অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
যেমন:
ক) "গাছটি বেড়ে উঠছে।" (অকর্মক)।
খ) "ছেলেটি হাসছে।" (অকর্মক)।
ঘ) "পাখি উড়ছে।" (অকর্মক)।
--------------------- 
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- সুমাইয়া লিখছে। 
- হাসিব বলছে।
- সালমা ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৬.
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।

• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করবে

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

-----------------------
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- আমি রোজ রাত দশটায় খাই।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদের বই (২২৮ পৃষ্টা) অনুসারে,
সকর্মক ক্রিয়ায় কর্মপদ অকথিত থাকতে পারে। যেমন, 'আমি রোজ রাত দশটায় খাই।' এখানে 'কী' খাই বলা হয়নি, কিন্তু বলা সম্ভব ছিলো। এই সম্ভাবনাই সকর্মকের লক্ষণ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৭.
কোন বাক্যটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
  2. এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
  3. ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
  4. গান করলে তার মন ভালো হয়।
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া নেই - এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।
- আমরা বিকেলে খেলতে যাই।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের। যথা:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৬৮.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া পদ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৯.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
  3. সে ঘুমায়।
  4. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে
দ্বিকর্মক ক্রিয়া - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
অকর্মক ক্রিয়া - সে ঘুমায়।
সকর্মক ক্রিয়া - সে বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭০.
নিচের কোনটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সে চিঠি লিখছে
  2. খ) সে রোজ সেখানে যায়
  3. গ) আমি চাঁদ দেখছি
  4. ঘ) সালমান ছবি আঁকছে
ব্যাখ্যা
সে রোজ সেখানে যায়- বাক্যটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ।
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- যেমনঃ সে রোজ সেখানে যায়। কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।


উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২৭১.
অকর্মক ক্রিয়া পদ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. সে ভালো দৌড়ায়।
  3. তপু দীপুকে বলটি দিল।
  4. বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।
  5. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
------------------------
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭২.
‘বিপদ কাটা’ এখানে ‘কাটা’ কোন ধরনের ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

• সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৭৩.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ - বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা কোনটি?
  1. ক) মা
  2. খ) শিশুকে
  3. গ) চাঁদ
  4. ঘ) দেখাচ্ছেন
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা এবং
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয় তাকে, প্রযোজ্য কর্তা বলে।
এখানে, ‘মা’ প্রযোজক কর্তা এবং ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

২৭৪.
কোন বাক্যে অসমান কর্তা আছে?
  1. সে কেঁদে কেঁদে বলল
  2. বালিকাটি গান করে বলে গেল
  3. সে এলে আমি যাব
  4. সে যেতে যেতে থেমে গেল
ব্যাখ্যা
অসমান কর্তা:
- বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক না হলে সেখানে কর্তাগুলোকে
অসমান কর্তা বলা হয়।
যেমন-

শর্তাধীন কর্তা:
এ জাতীয় কর্তাদের ব্যবহার শর্তাধীন হতে পারে।
উদাহরণ –
-তোমরা বাড়ি এলে আমি রওনা হব।
-এখানে 'এলে' অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা 'তোমরা' এবং 'রওনা হব' সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা 'আমি'।
- তোমাদের বাড়ি আসার ওপর আমার রওনা হওয়া নির্ভরশীল বলে এ জাতীয় বাক্যে কর্তৃপক্ষের ব্যবহার শর্তাধীন।
অনুরুপ,
- সে এলে আমি যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৫.
‘ছেলেটি গোল্লায় গেছে।'- এ বাক্যের ক্রিয়া পদ কোনটি?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
বিশেষ্যের পরে: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)
বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ঋনাত্মক অব্যয়ের পরে: মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে কী ধরনের বাক্য বলে?
  1. ক্রিয়াবর্গ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  3. বিশেষ্যবর্গ
  4. বিশেষণবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৭.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠন করে?
  1. নামক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া 
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - 
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।

সংযোগ ক্রিয়া : 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধবন্যাত্নক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধবন্যাত্নক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)- ২০২২ সংস্করণ।

২৭৮.
নিচের কোনটি নামক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. চমকানো
  2. করাচ্ছেন
  3. কাটা
  4. উঠে পড়া
ব্যাখ্যা

• নামক্রিয়া: 
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
যেমন- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

• সরল ক্রিয়া: 

একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে- এগুলো সরল ক্রিয়া।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
- কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
- ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
- পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া;
- খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
- মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

২৭৯.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই

• সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন- সে বই পড়ছে
এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:

বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন
এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

২৮০.
নিচের কোনটি ক্রিয়াবিশেষ্য নয়?
  1. ক) চলন
  2. খ) বলানো
  3. গ) খাওয়া
  4. ঘ) দরিদ্র
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা ক্রিয়ার নাম বা ক্রিয়ার ভাব বুঝায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
যেমন : করা, দেখা, বলা, খাওয়া, দর্শন, ভোজন, করানো, বলানো, পঠন ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বোর্ড বই।
২৮১.
'আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।' বাক্যে 'চমকায়' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. নামক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

•গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম:
১. সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

২. প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

৩. নামক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন-
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

৪. সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
- কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
- ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
- পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া;
- খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
- মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২৮২.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তাকে কী বলে?
  1. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. জটিল ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৮৩.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়া?
  1. উঠে পড়া
  2. গরম করা
  3. গান করা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৪.
'মা শিশুকে ভাত খাওয়াচ্ছেন' এখানে 'শিশু' কে -
  1. প্রযোজক কর্তা
  2. মুখ্য কর্ম
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. প্রযোজ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'।

• বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০০১৯ সংস্করণ।
২৮৫.
"ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে।" - এখানে 'উঠ্‌' ধাতু কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভ্যাস অর্থে
  2. ক্রমান্বয়তা বোঝাতে
  3. আকস্মিকতা অর্থে
  4. সম্ভাবনা অর্থে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ক্রমান্বয়তা বোঝাতে।

• ‘উঠ্‌’ ধাতুর অর্থ:
‘উঠ্‌’ ধাতুটি এখানে ‘হয়ে উঠছে’ রূপে একটি ক্রমান্বয়ী বা ধীরে ধীরে ঘটমান প্রক্রিয়া বোঝাচ্ছে। এটি কোনো অবস্থার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া বা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। এই ক্ষেত্রে, ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

"উঠ্‌" ধাতুর বিভিন্ন ব্যবহার:
• অভ্যাস অর্থে - শুধু শুধু তিনি রেগে উঠেন।
• আকস্মিকতা অর্থে - সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল।
• সম্ভাবনা অর্থে - আমার আর থাকা হয়ে উঠল না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৮৬.
'তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৮৭.
ধাতুর সঙ্গে কী যুক্ত করে ক্রিয়া হয়?
  1. প্রত্যয়
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- রাজীব খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)। 
২৮৮.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠন করে?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৮৯.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. হেসে ওঠা
  3. উদয় হওয়া
  4. রাজি হওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - মন দেওয়া, উদয় হওয়া, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ ও ২০১৯)।
২৯০.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তাড়াতাড়ি বলে ফেল।
  2. খ) বার বার উঁকি মারছে।
  3. গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
  4. ঘ) আকাশে চাঁদ উঠেছে।
ব্যাখ্যা
'তাড়াতাড়ি বলে ফেল'- বাক্যে 'বলে ফেলা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯১.
কী ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোন পার্থক্য হয় না?
  1. পুরুষভেদে
  2. অর্থভেদে
  3. বর্ণনাভেদে
  4. বচনভেদে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষজ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

• বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

এখানে, 
• পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯২.
নিচের কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কমে আসা
  2. এগিয়ে চলা
  3. পেয়ে বসা
  4. বৃদ্ধি পাওয়া
ব্যাখ্যা
• সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ = বৃদ্ধি পাওয়া।

- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

অন্যদিকে,
- কমে আসা, এগিয়ে চলা, পেয়ে বসা, ইত্যাদি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২৯৩.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. জুয়েল লিখছে।
  2. তোফায়েল খেলা করছে।
  3. পূজা বলছে।
  4. রাকিব ঘুমায়।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তোফায়েল খেলা করছে
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- জুয়েল লিখছে। 
- পূজা বলছে।
- রাকিব ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯৪.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. তুমি চলে যাও। 
  2. সময় চলে যায়।
  3. সাইরেন বেজে উঠল।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া: 
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
তুমি চলে যাও। 
সময় চলে যায়।
তুমি বসে পড়। 
সাইরেন বেজে উঠল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (পুরাতন ও নতুন সংস্করণ) ভাষা-শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৫.
বাক্যের মধ্যে কীসের ভূমিকা বদলে গিয়ে বাক্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়?
  1. ক) যোজক
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মূখ্য হয়ে ওঠে।

প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী-ই বাচ্য তিন প্রকার: 
- কর্তাবাচ্য, 
- কর্মবাচ্য ও 
- ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৬.
নিচের কোন বাক্যে 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) তিনি বলতে লাগলেন।
  2. খ) সাইরেন বেজে উঠল।
  3. গ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
  4. ঘ) ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
ব্যাখ্যা
' শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে' - 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে। 

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া।  
যেমন: 
তাগিদ দেয়া অর্থে- তিনি বলতে লাগলেন।  
আকস্মিকতা অর্থে- সাইরেন বেজে উঠল। 
কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম - ১০ম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৭.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. গান গাওয়া
  2. এগিয়ে চলা
  3. হেসে ওঠা
  4. সরে দাঁড়ানাে
ব্যাখ্যা

• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।

যেমন:
- দর্শন করা,
- প্রীত হওয়া,
- গান গাওয়া।

অন্যদিকে,
• যৌগিক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে কোন অসমাপিকা না থাকায় যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৯৮.
কে জানতো, আমার সাথে এমন হবে। - বাক্যটিতে কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ভবিষ্যত অনুজ্ঞা
  2. খ) সাধারণ ভবিষ্যত
  3. গ) সাধারণ অতীত
  4. ঘ) ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
কে জানতো, আমার সাথে এমন হবে। - বাক্যটিতে সাধারণ ভবিষ্যত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগঃ
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
তােমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে - ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ। 
আবার আক্ষেপ বুঝাতে অতীতের স্থলে ভবিষ্যত কালের ব্যবহার করা হয়। 
যেমনঃ কে জানতো, আমার সাথে এমন হবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯৯.
নিচের কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  2. খ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  3. গ) ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না
  4. ঘ) সে এখন যাবে না
ব্যাখ্যা
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না- ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 

ক্রিয়াবিশেষণ
: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাঁকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে ।
যেমন – টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না ।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন – আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন – মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায় তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন - সে এখন যাবে না । তিনি বেড়াতে যাননি । এমন কথা আমার জানা নেই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩০০.
"ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।" বাক্যে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

• সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে।

• সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা;

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন-  তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন: রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।