বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

দ্বন্দ্ব সমাস

মোট প্রশ্ন২৩৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

দ্বন্দ্ব সমাস

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৩৪

১০১.
'আলোছায়া' কোন ধরনের সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• 'আলোছায়া' = 'আলো ও ছায়া' দ্বন্দ্ব সমাস।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
-এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
যেমন- মাতা ও পিতা মাতাপিতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০২.
‘কোলেপিঠে’ কী ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব 
  2. অলুক দ্বন্দ্ব 
  3. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায়;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- জলে ও স্থলে = জলেস্থলে;
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৩.
'হাতেকলমে' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলা হয় অলুক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে,
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে,
- ধনে ও জনে = ধনেজনে,
- জলে ও স্থলে = জলেস্থলে,
- মায়ে ও ঝিয়ে = মায়ে-ঝিয়ে,
- ঘরে ও বাইরে = ঘরে-বাইরে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
‘অহর্নিশ’ কী ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব
  2. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• ‘অহর্নিশ’ হলো নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস। 
---------------------------------
• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ বা নিয়ম অনুসরণ করে না, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়।
- অর্থাৎ, এই ধরনের সমাসে সমস্যমান পদগুলো স্বাধীনভাবে মিলিত হয়েছে এবং প্রচলিত বিভক্তি বা ব্যাকরণগত নিয়ম মানা হয়নি।
- উদাহরণ:
- অহর্নিশ = অহঃ ও নিশা;
- অহোরাত্র = অহঃ ও রাত্র;
- দিবারাত্র = দিবা ও রাত্রি;
- কুশীলব = কুশ ও লব।
---------------------------- 
অন্যদিকে, 
• বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস:
- বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে দুই বা ততোধিক পদ মিলিত হয়ে একটি দ্বন্দ্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে।
- এই ধরনের সমাসে প্রতিটি পদ স্বতন্ত্র থাকলেও একত্রিত হয়ে নতুন একপদ তৈরি করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- তেল-নুন-লাকড়ি = তেল, নুন ও লকড়ি,
- নাক-কান-গলা = নাক, কান ও গলা,
- স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল = স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল।

অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- অলুক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা কোনো বিভক্তি লোপ পায় না।
- অর্থাৎ, প্রতিটি পদ তার ব্যাকরণগত রূপ ধরে থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- দুধে-ভাতে = দুধে ও ভাতে,
- হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে,
- ধীরেসুস্থে = ধীরে ও সুস্থে।

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদ ও পরপদ বিপরীত বা বৈরী অর্থের শব্দ নিয়ে গঠিত হয়।
- এই ধরনের সমাসে প্রতিটি পদ স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে, কিন্তু মিলিত হয়ে একটি দ্বন্দ্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- শত্রু-মিত্র = শত্রু ও মিত্র, 
- দা-কুমড়া = দা ও কুমড়া,
- অহি-নকুল = অহি ও নকুল। 

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৫.
নিচের কোনটি মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দা-কুমড়া
  2. বই-পুস্তক
  3. মাছ-ভাত
  4. ছোট-বড়
ব্যাখ্যা
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব : 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
ছেলে ও মেয়ে = ছেলে-মেয়ে;
পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র;
মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত;
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
অহি ও নকুল = অহি-নকুল;
দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া।

সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সংযোগে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
হাট ও বাজার= হাট-বাজার;
বই ও পুস্তক = বই-পুস্তক;

বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
ছোট ও বড় = ছোট-বড়;
জমা ও খরচ = জমা-খরচ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৬.
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) ভাই - বোন
  2. খ) চুন - কালি
  3. গ) আদান - প্রদান
  4. ঘ) লোক - জন
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ৷ 

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: মা-বাবা, ভাই - বোন, ছেলে-মেয়ে, নানা-দাদা, কাগজ-কলম, নদী-নালা, নাচ-গান, চা-বিস্কুট, চুন-কালি, ঝড়-বৃষ্টি, আদান-প্রদান, হাসি-ঠাট্টা, বিদ্যা-বুদ্ধি ইত্যাদি। 

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি, সমাজ-সংস্কার, ঘর-বাড়ি, নদ-নদী, হাট-বাজার, বই-পুস্তক, চোর-ডাকাত, কুলি-মজুর, খাল- বিল, টাকা-কড়ি, ধন-দৌলত, জন-মানব, বন-জঙ্গল, বন্ধু-বান্ধব, ভাগ-বাটোয়ারা, চালাক-চতুর, লোক-জন, আপদ-বিপদ ইত্যাদি।

⇒ 'লোক-জন' মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয়। 
- এটি সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৭.
“অহিনকুল” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 - বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• অহি - নকুল,
• দা - কুমড়া,
• স্বর্গ - নরক ইত্যাদি।

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
• অহি ও নকুল = অহি-নকুল;
• দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া।

----------------------
অন্যদিকে,
সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সংযোগে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
• হাট ও বাজার= হাট-বাজার;
• বই ও পুস্তক = বই-পুস্তক।

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
ছেলে ও মেয়ে = ছেলে-মেয়ে;
পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র;
মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত;
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
• জমা – খরচ,
• আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

১০৮.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রাজপথ
  2. মাতাপিতা
  3. গাছপাকা
  4. সিংহাসন
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 
যেমন: 
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল,
- ভালোমন্দ,
- মাতাপিতা,
- যাকে-তাকে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• 'রাজপথ' (পথের রাজা) ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 
• 'গাছপাকা' (গাছে পাকা) ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
• 'সিংহাসন' (সিংহ চিহ্নিত আসন) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৯.
'মাতাপিতা' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে 'দ্বন্দ্ব' শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- আলো ও ছায়া = আলোছায়া।
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১০.
"লজ্জাশরম" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ একই অর্থ বহন করলে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।

যেমন:
- লজ্জা ও শরম =  লজ্জাশরম;
- হাট ও বাজার = হাটবাজার;
- ঘর ও বাড়ি = ঘরবাড়ি;
- বাধা ও বিঘ্ন = বাধাবিঘ্ন।
এ-রকম: আইনকানুন, ঠাট্টা-মশকরা, মণিমাণিক্য, মানসম্ভ্রম, দুঃখকষ্ট, রাগরাগিণী, কোর্টকাছারি, রাজাবাদশা, দেখাসাক্ষাৎ, ধনসম্পত্তি, ধরপাকড়, সুখশান্তি, ছাইভস্ম, বাধাবিঘ্ন, জনমানব, জীবজন্তু, টাকাকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১১.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) গৃহস্থ
  2. খ) বাজিকর
  3. গ) দম্পতি
  4. ঘ) সর্বহারা
ব্যাখ্যা

দম্পতি = জায়া ও পতি।

একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কেবল একটি পদের প্রাধান্য থাকে এবং সেই পদের সাহায্যে অন্য পদের অর্থ প্রকাশ পায় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, সে, তুমি ও আমি = আমরা ইত্যাদি।

অপশনের অন্যান্যগুলো তৎপুরুষ সমাস।

উৎস
: বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।

১১২.
"কল-কারখানা" - কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস হয়েছে?
  1. সমার্থে
  2. মিলনার্থে
  3. বিরোধার্থে
  4. বিপরীতার্থে
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- হাট-বাজার,
- ঘর-দুয়ার,
- কল-কারখানা,
- মোল্লা-মৌলভী,
- খাতা-পত্র,
- কাগজ-পত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
• দয়া-মায়া,
• কাপড়-চোপড়,
• ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১৩.
‘জায়া ও পতি’ সমাস করলে কি হয়?
  1. ক) পতি-পত্নী
  2. খ) দম্পতি
  3. গ) জায়া-পতি
  4. ঘ) স্বামী-স্ত্রী
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লোপ পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, পিতা ও পুত্র = পিতাপুত্র, আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷
১১৪.
কোন সমাসে উভয়পদই বিশেষ্য?
  1. ক) দ্বন্দ সমাস
  2. খ) কর্মধায়ক সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

 দ্বন্দ্ব সমাস নির্ণয়ের সহজ কৌশল:
- দ্বন্দ্ব সমাস জোড়-প্রকৃতির হয়। এ জোড়াশব্দই দ্বন্দ্ব সমাসের অন্যতম পরিচয়ক।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই বিভক্তিযুক্ত থাকে এবং সমস্তপদে উভয়পদের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
- পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য হতে পারে। যেমন- আম ও জাম = আমজাম।
- পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষণ হতে পারে। যেমন- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয় ক্রিয়া বিশেষ্য হতে পারে। যেমন- দেখা ও শুনা = দেখাশুনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১১৫.
'আদ্যোপান্ত' শব্দটি কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- ভালো ও মন্দ = ভালো-মন্দ,
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা,
- আদ্য ও উপান্ত = আদ্যোপান্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৬.
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে কী বলে?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা। 

অন্যদিকে,
কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন - ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো।

দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৭.
"হাট-বাজার" — কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব
  2. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা - ক্ষুৎপিপাসা।

- বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব:
অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদানব, ধনীগরিব ইত্যাদি। 

- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: ছোট ও বড় - ছোটবড়, সুখ ও দুঃখ - সুখদুঃখ। 

- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: হাট ও বাজার - হাটবাজার।

- সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব সমাস: জায়া ও পতি- দম্পতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১৮.
কোনটি সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. কাপড়-চোপড়
  2. ধূতি-চাদর
  3. দয়া-মায়া
  4. কাগজ-পত্র
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- হাট-বাজার,
- ঘর-দুয়ার,
- কল-কারখানা,
- মোল্লা-মৌলভী,
- খাতা-পত্র,
- কাগজ-পত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
• দয়া-মায়া,
• কাপড়-চোপড়,
• ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৯.
'অহিনকুল' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. দ্বন্দ্ব সমাস 
  4. কর্মধারয় সমাস 
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন- তাল ও তমাল - তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম - দোয়াত-কলম। এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর – এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়। যেমন- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়। যথা:
১. মিলনার্থক শব্দযোগে: মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরি, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
২. বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে: আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
৪. অঙ্গবাচক শব্দযোগে: হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুগ্ধ, নাক-মুখ ইত্যাদি। 
৫. সংখ্যাবাচক শব্দযোগে: সাত-পাঁচ, নয় ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।
৬. সমার্থক শব্দযোগে: হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভি, খাতা- পত্র ইত্যাদি।
৭. প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: কাপড়-চোপড়, পোকা-মাকড়, দয়া-মায়া, ধূতি-চাদর ইত্যাদি।
৮. দুটি সর্বনামযোগে: যা-তা, যে-সে, যথা-তথা, তুমি আমি, এখানে-সেখানে ইত্যাদি। 
৯. দুটি ক্রিয়া যোগে: দেখা-শোনা, যাওয়া-আসা, চলা-ফেরা, দেওয়া-ঘোওয়া ইত্যাদি।
১০. দুটি ক্রিয়া বিশেষণযোগে: ধীরে-সুস্থে, আগে পাছে, আকারে-ইঙ্গিতে ইত্যাদি।
১১. দুটি বিশেষণযোগে: ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি বকেয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২০.
‘হাতে-কলমে’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সমার্থক দ্বন্দ সমাস
  2. খ) অলুক দ্বন্দ সমাস
  3. গ) মিলনার্থক দ্বন্দ সমাস
  4. ঘ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ সমাস
ব্যাখ্যা
• ‘ হাতে -কলমে ‘ অলুক দ্বন্দ সমাস এর উদাহরণ ।

• যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যামান পদ্গুলোর বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে ।
যেমন - দুধেভাতে, হাতে -কলমে, আগে - পাছে, ঘরে - বাইরে, যাকে - তাকে ইত্যাদি ।

• যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে । যেমন - কাজ - কর্ম, রীতি -নীতি, ঘর - বাড়ি, নদ - নদী, হাট - বাজার ইত্যাদি।
 
• যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে । যেমন - মা -বাবা, ভাই - বোন, কাগজ - কলম, নদী - নালা ইত্যাদি ।

• যে দ্বন্দ্ব সমাসের পরপদটি পুর্বপদের বৈরী অর্থ প্রদান করে , তাকে বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব বলে । যেমন - 
দা - কুমড়া, দেশ - বিদেশ, আকাশ - পাতাল, বাঁচা - মরা ইত্যাদি ।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
১২১.
জায়া ও পতি সমাস করলে কি হয়?
  1. ক) পতি-পত্নী
  2. খ) দম্পতি
  3. গ) জায়া-পতি
  4. ঘ) স্বামী-স্ত্রী
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লোপ পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, পিতা ও পুত্র = পিতাপুত্র, আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷
১২২.
‘কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে’ এটি কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. খ) বহুপদী দ্বন্দ্ব
  3. গ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন : দুধে-ভাতে = দুধে ও ভাতে, হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে, ধীরেসুস্থে = ধীরে ও সুস্থে ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
১২৩.
'আলোছায়া' পদটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধার‍য় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।  
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা। 
-আলো ও ছায়া = আলোছায়া।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
'দম্পতি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• জায়া ও পতিকে সমাস করলে হয় দম্পতি।
• এটি দ্বন্দ্ব সমাসের একটি উদাহরণ।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।

১২৫.
একশেষ দ্বন্দ্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দুধে-ভাতে
  2. খ) কায়মনােবাক্যে
  3. গ) আমরা
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
একশেষ দ্বন্দ্ব:
যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব।
যেমন-
জায়া ও পতি = দম্পতি,
তুমি, সে ও আমি = আমরা ইত্যাদি।

দুধে-ভাতে ⇒ অলুক দ্বন্দ্ব। 
কায়, মনাে এবং বাক্যে = কায়মনােবাক্যে ⇒ বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
কোন সমাসে অলুক হয় না?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
অলুক শব্দের অর্থ লোপ না পাওয়া। অর্থাৎ ব্যাসবাক্যের বিভক্তি সমস্তপদে লোপ না পেলে অলুক সমাস হয়।
দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি ও তৎপুরুষ- এই তিনটি সমাসের অলুক হতে পারে;
দ্বিগু, কর্মরায় ও অব্যয়ীভাবে অলুক সমাস হয় না।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১২৭.
'দুধেভাতে' কোন সমাস?
  1. কর্মধারায় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি লুপ্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অলুক দ্বন্দু বলে।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে ইত্যাদি।

কোল, পিঠ, দুধ, ভাত- প্রত্যেক শব্দেই এখানে এ-বিভক্তি যুক্ত আছে।

এ-রকম: আদায়-কাঁচকলায়, আগেপিছে, কাগজে-কলমে, ধীরেসুস্থে, ক্ষেতেখামারে, দলেদলে, দুঃখেসুখে, হাতেপায়ে, হাতেনাতে, থরেবিথরে, যাকেতাকে, ঝোপেঝাড়ে, ডাইনেবাঁয়ে, মনেপ্রাণে, জলেডাঙায়, পথেপ্রবাসে, পতনেউত্থানে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৮.
কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ঘরদুয়ার
  2. তেলেবেগুনে
  3. গাছগাছালি
  4. শাকসবজি
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে।
দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে।
হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি।

এরূপ-মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১২৯.
দুটি বিশেষণযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চা-বিস্কুট
  2. অহি-নকুল
  3. যাওয়া-আসা
  4. বাকি-বকেয়া
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

দুটি বিশেষণযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- ভালো-মন্দ,
- কম-বেশি,
- আসল-নকল,
- বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'যাওয়া-আসা' দুটি ক্রিয়াযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'অহি-নকুল' বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'চা-বিস্কুট' মিলনার্থক' শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩০.
নিচের কোনটি 'বিপরীতার্থক শব্দযোগে' গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাত-পা
  2. নাক-কান
  3. আয়-ব্যয়
  4. সাত-পাঁচ
ব্যাখ্যা

দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
 
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে। 

বিপরীতার্থক শব্দযোগে: 
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক শব্দযোগে:
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১৩১.
'দোয়াত কলম' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩২.
নিচের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) জলে-স্থলে
  2. খ) অহি-নকুল
  3. গ) চা-বিস্কুট
  4. ঘ) আয়-ব্যয়
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি। 
- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
প্রকারভেদ:
- দ্বন্দ্ব সমাসকে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
১. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভাই-বোন, মা-বাপ, মাসি-পিসি, চা-বিস্কুট, লতা-পাতা, মাছ-ভাত, পিতা-পুত্র ইত্যাদি। 
২. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব ।
যেমন- ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- ভালোমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়ো, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ,  লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 
৪. অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসের সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্গবাচক দ্বন্দ্বসমাস।
যেমন- নাক-মুখ, মাথা-মুণ্ডু, বুক-পিঠ, নাক-কান, হাত-পা ইত্যাদি।
৫. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- কায়, মনো এবং বাক্যে= কায়মনোবাক্যে, সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি, আমি, তুমি এবং সে = আমরা, স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।
৬. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব।
যেমন- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ. সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 
৭. সমার্থক দ্বন্দ্ব: একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন- ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।
৮. একশেষ দ্বন্দ্ব: যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি। 
৯. অলুক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলা হয় অলুক দ্বন্দ্ব।
যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, মায়ে-ঝিয়ে, ঘরে-বাইরে, আগে-পরে, ধনেজনে, বনে-জঙ্গলে, বুকেপিঠে, হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
নিচের কোনটি বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস নয়?
  1. ক) আয়-ব্যয়
  2. খ) দা-কুমড়া
  3. গ) অহি-নকুল
  4. ঘ) স্বর্গ-নরক
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হতে পারে। যেমন- মিলনার্থক, বিরোধার্থক, বিপরীতার্থক, অঙ্গবাচক, সংখ্যাবাচক ইত্যাদি।
বিরোধার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাসের কয়েকটি উদাহরণ হল-দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত কয়েকটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১৩৪.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রাজপথ
  2. ত্রিলোক
  3. আয়কর
  4. জনমানব
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
- জন ও মানব = জনমানব,
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পথের রাজা = রাজপথ; তৎপুরুষ সমাস। 
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক; দ্বিগু সমাস।
- আয়ের উপর কর = আয়কর; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৫.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মনমাঝি
  2. হাতেখড়ি
  3. অনুক্ষণ
  4. ক্ষুৎপিপাসা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা'; দ্বন্দ্ব সমাস।

অন্যদিকে,
• মন রূপ মাঝি = মনমাঝি - হলো রূপক কর্মধারয় সমাস।
• হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি - হলো মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
• 'ক্ষণ ক্ষণ' = অনুক্ষণ; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৬.
স্বর্গ-নরক কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. সহচর শব্দযোগে
  2. দুটি বিশেষণযোগে
  3. সমার্থক অর্থে
  4. বিরোধ অর্থে
ব্যাখ্যা
•  বিরোধ অর্থে শব্দযোগে ’দা-কুমড়া’ দ্বন্দ্ব সমাস।
 
উল্লেখ্য,
• দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে।

এছাড়াও ,

• দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
•  মিলনার্থক শব্দযোগে:
- মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরি, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

• বিপরীতার্থক শব্দযোগে :
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

• অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

• সংখ্যাবাচক শব্দযোগে :
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

• সমার্থক শব্দযোগে :
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভি, খাতা-পত্র ইত্যাদি।

• প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে :
- কাপড়-চোপড়, পোকা-মাকড়, দয়া-মায়া, ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

• দুটি সর্বনামযোগে:
- যা-তা, যে-সে, যথা-তথা, তুমি-আমি, এখানে-সেখানে ইত্যাদি।

• দুটি ক্রিয়াযোগে:
- দেখা-শোনা, যাওয়া-আসা, চলা-ফেরা, দেওয়া-থোওয়া ইত্যাদি।

• দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৩৭.
'কোলেপিঠে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. একশেষ দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে।
- এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে ,
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে ,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে,
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
দ্বন্দ্ব সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. পরপদের অর্থ
  2. পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের
  3. পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটির নয়
  4. পূর্বপদ অর্থ
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- সোনা ও রুপা = সোনা-রুপা।
- দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া। 
- অহি ও নকুল = অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়। 
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
১৩৯.
সাধারন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নাচ-গান-বাজনা
  2. খ) পথেপ্রবাসে
  3. গ) লতাপাতা
  4. ঘ) মাতাপিতা
ব্যাখ্যা
লতাপাতা সাধারন দ্বন্দ্ব সমাসের উদারহরণ। 

- দ্বন্দ্ব সমাস: এখানে দ্বন্দ্ব মানে হল জোড়া।
- যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং সমস্যমান পদগুলোর প্রতিটিতেই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকেই দ্বন্দ্ব সমাস বলে। 
যেমন:- অহি ও নকুল = অহিনকুল, মা ও বাবা = মা-বাবা, আলো ও ছায়া = আলোছায়া।
- দ্বন্দ্ব' শব্দের অর্থ দুটি। একটি সংঘাত, অন্যটি মিলন।
- জোড়া শব্দই দ্বন্দ্ব সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন: ভালোমন্দ, ভাইবোন ইত্যাদি।
- পূর্বপদ ও পরপদ একই বিভক্তিযুক্ত হয়। যেমন: দেখাশুনা (আ বিভক্তি যুক্ত)। 
- দুটি জোড়া সর্বনাম দিয়েও দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন: তুমি-আমি ইত্যাদি।
- সংখ্যাবাচক শব্দ থাকলেও দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন: সাত-পাঁচ। 
- দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। যথা-
১. সাধারণ দ্বন্দ্ব 
২. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
৩. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব 
৪. সমার্থক দ্বন্দ্ব 
৫. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব 
৬. একশেষ দ্বন্দ্ব 
৭. অলুক দ্বন্দ্ব 
৮. বহুপদী দ্বন্দ্ব 

 সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১৪০.
কোনটি মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রীতি-নীতি
  2. অহি-নকুল
  3. মাসি-পিসি
  4. আয় – ব্যয়
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
- অহি-নকুল,
- দা-কুমড়া,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি, সমাজ-সংস্কার, ঘর-বাড়ি, নদ-নদী, হাট-বাজার, বই-পুস্তক, চোর-ডাকাত, কুলি-মজুর, খাল- বিল, টাকা-কড়ি, ধন-দৌলত, জন-মানব, বন-জঙ্গল, বন্ধু-বান্ধব, ভাগ-বাটোয়ারা, চালাক-চতুর, লোক-জন, আপদ-বিপদ ইত্যাদি।

বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• জমা – খরচ,
আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১৪১.
'দম্পতি' — সমাসের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) জায়া ও পতি
  2. খ) দম ও পতি
  3. গ) স্ত্রী ও পতি
  4. ঘ) স্বামী ও স্ত্রী
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- মাতা ও পিত = মাতাপিতা। 
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে। 

উৎস; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী।
১৪২.
'দুধে-ভাতে' - কোন সমাস?
  1. একশেষ দ্বন্দ্ব 
  2. বহুপদী দ্বন্দ্ব 
  3. অলুক দ্বন্দ
  4. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

অলুক দ্বন্দ:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- জলে ও স্থলে = জলে-স্থলে,
- দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪৩.
সমাস সাধিত পদ কোনটি?
  1. মানব
  2. চাষী
  3. দম্পতি
  4. ঢাকাই
ব্যাখ্যা
• 'দম্পতি'- সমাস সাধিত পদ। 
- জায়া ও পতি = দম্পতি, এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন,
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

তাছাড়া,
চাষি, বোনাই, মানব- প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
যেমন- 
• চাষ + ই = চাষি; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• ঢাকা + আই = ঢাকাই; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• মনু + ষ্ণ = মানব; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৪.
'দাকুমড়া' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) সমার্থক
  3. গ) বিরোধার্থক
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- 'দাকুমড়া' বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ।

• পূর্বপদ ও পরপদের বিপরীত শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
হিতাহিত = হিত ও অহিত,
অহিনকুল = অহি ও নকুল,
মরাবাঁচা = মরা ও বাঁচা,
ছোটবড় = ছোট ও বড়,
ভালো-মন্দ = ভালো ও মন্দ,
দাকুমড়া = দা ও কুমড়া,
সুখদুঃখ = সুখ ও দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৪৫.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্যায়
  2. খ) আমরণ
  3. গ) অহিনকুল
  4. ঘ) অনাসক্ত
ব্যাখ্যা

যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।
মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
বিরোধার্থক শব্দযোগেঃ দা - কুমড়া, অহি - নকুল
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগেঃ ধুতি - চাদর ।
সুত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১৪৬.
জায়া ও পতি সমাস করলে কী হয়?
  1. ক) স্বামী-স্ত্রী
  2. খ) দম্পতি
  3. গ) পতি-পত্নী
  4. ঘ) জায়া-পতি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লোপ পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, পিতা ও পুত্র = পিতাপুত্র।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১৪৭.
একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি
  2. সাহেব, গোলাম এবং বিবি  = সাহেব-গোলাম-বিবি
  3. তুমি ও সে = তোমরা
  4. মা ও বাপ = মা-বাপ
ব্যাখ্যা
• একশেষ দ্বন্দ্ব:
যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব। অন্যভাবে, যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ হয় এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দের রূপ নির্ধারিত হয় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাই-বোন,
- মা ও বাপ = মা-বাপ,
- মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি,
- চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট। 

• বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি।
- সাহেব, গোলাম এবং বিবি  = সাহেব-গোলাম-বিবি।
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
"দোয়াতকলম" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। 

যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাইবোন,  
- তাল ও তমাল = তালতমাল, 
- দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম, 
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৪৯.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্যায়
  2. খ) অনাসক্ত
  3. গ) আমরণ
  4. ঘ) অহি নকুল
ব্যাখ্যা
অহি নকুল- দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস: অহি - নকুল।
 
দ্বন্দ্ব সমাস
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

আরো কিছু দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাটবাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
১৫০.
বিপরীতার্থক শব্দযোগে সাধিত দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. হাট-বাজার
  2. চা-বিস্কুট
  3. আয়-ব্যয়
  4. হাত-পা
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• জমা – খরচ,
• আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হাট-বাজার - সমার্থক শব্দযোগে গঠিত,
• চা-বিস্কুট - মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত,
• হাত-পা - অঙ্গবাচক শব্দযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১৫১.
'আলোছায়া' পদটি কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) অব্যয়ীভাব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ গঠিত হয় এবং উভয় পদের অর্থ প্রধানরুপে প্রতীয়মান হয় তাকে দ্বন্দ সমাস বলে৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১৫২.
সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ধূতি-চাদর
  2. খ) ঘর-বার
  3. গ) আকার-ইঙ্গিত
  4. ঘ) বুক-পিঠ
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।
মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া,
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৩.
'তাল ও তমাল' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম,
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

অন্যান্য অপশন:
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় ৷
যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০১৯ সংস্করণ।

১৫৪.
’তুমি-আমি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• ’তুমি-আমি’ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
--------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:

- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন
- 'সোনা-রুপা' সমস্তপদের ব্যাসবাক্য 'সোনা ও রুপা'।
- নিচের বাক্যে সমস্তপদটির প্রয়োগ থেকে এর পূর্বপদ ও পরপদের অর্থের প্রাধান্য বোঝা যাবে:

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযোগ ঘটে।
যেমন
- মা ও বাবা = মা-বাবা,
- স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক,
- জমা ও খরচ জমাখরচ,
- হাত ও পা = হাত-পা,
- উনিশ ও বিশ = উনিশ-বিশ,
- তুমি ও আমি = তুমি-আমি,
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে,
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৫৫.
"সাত-সতের" কোন সমাস সাধিত?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন,
- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ, সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৬.
'স্বর্গ-নরক' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিপরীতার্থে
  2. বিরোধার্থে
  3. মিলনার্থে
  4. সমার্থে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
আকাশ-পাতাল, দা-কুমড়ো, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৭.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. আইনকানুন
  2. কাঁচা-মিঠা
  3. ওজোন-স্তর
  4. পোস্ট-অফিস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- সোনা ও রুপা = সোনা-রুপা;
- লজ্জা ও শরম - লজ্জাশরম;
- দম্ (জায়া) ও পতি = দম্পতি;
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া;
- আইন ও কানুন = আইনকানুন। 

অন্যদিকে:
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা; কর্মধারয় সমাস।
- ওজোনের স্তর = ওজোন-স্তর; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 
- পোস্টের নিমিত্ত অফিস = পোস্ট-অফিস; চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৮.
'কায়মনোবাক্য' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  4. সমার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস:
তিন বা তার বেশি পদের সমন্বয়ে সমাস সংঘটিত হলে তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
কায়মনোবাক্য = কায় ও মন ও বাক্য।
সাহেববিবিগোলাম = সাহেব ও বিবি ও গোলাম।
ইটসুরকিচুনকাঠ = ইট ও সুরকি ও চুন ও কাঠ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৯.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ভাইবোন
  2. খ) সিংহাসন
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) গাছপাকা
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এই সমাসে ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ স্থাপনে ও, এবং, আর- এই তিনটি অব্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তালতমাল।
দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম।
মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।
ভাই ও বোন = ভাইবোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬০.
বিরােধার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আয়-ব্যয়
  2. খ) জমা-খরচ
  3. গ) লাভ-লােকসান
  4. ঘ) ধনী-গরিব
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন: ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।  

বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, ভালােমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়াে, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, লাভ-লােকসান ইত্যাদি = বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
দম্পতি কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রধান্য থাকে এবং সংযোজক অব্যয় লোপ পায় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, পিতা ও পুত্র = পিতাপুত্র, আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷
১৬২.
কয়টি সমাসের সাথে ‘অলুক’ কথাটি যুক্ত আছে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৩
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
তিনটি সমাসের সাথে ‘অলুক’ কথাটি যুক্ত আছে। যথা:
১.অলুক দ্ব›দ্ব। যেমন: দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে, জলে-স্থলে।
২.অলুক তৎপুরুষ। যেমন: কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি।
৩.অলুক বহুব্রীহি। যেমন: হাতে-বেড়ি, কানে-কলম, গলায়গামছা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৬৩.
‘খাতা-পত্র’ কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) বিরোধার্থক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) বিপরীতার্থক
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
মিলনার্থক : মাসি-পিসি, চা-বিস্কুট, মা-বাপ ইত্যাদি।
বিরোধার্থক : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক : লাভ-লোকসান, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ ইত্যাদি।
সমার্থক : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, মোল্লা-মৌলভী, খাতা-পত্র ইত্যাদি।
দুটি বিশেষণযোগে : ভালো-মন্দ, কম-বেশি, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
দুটি ক্রিয়াযোগে : চলা-ফেরা, দেওয়া-থোওয়া, দেখা-শোনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৬৪.
কোন দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব 
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- জলে ও স্থলে = জলে-স্থলে,
- দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬৫.
‘হাট-বাজার’ কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) বিপরীতার্থে
  2. খ) মিলনার্থে
  3. গ) বিরোধার্থে
  4. ঘ) সমার্থে
ব্যাখ্যা
• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- মণি ও মাণিক্য = মণিমাণিক্য,
- ঘর ও দুয়ার = ঘরদুয়ার,
- ঘর ও বাড়ি = ঘরবাড়ি।

এরূপ- কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন:
- ভাই ও বোন= ভাই-বোন,
- মা ও বাপ= মা-বাপ,
- মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি,
- চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট, 
- মাছ ও ভাত= মাছ-ভাত ইত্যাদি। 

⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
- দিন ও রাত = দিনরাত,
- টক ও মিষ্টি = টকমিষ্টি,
- দেশে ও বিদেশে = দেশেবিদেশে,
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়,
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ,
- লাভ ও লোকসান = লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 

• বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব:
অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব সমাসের পরপর ও পূর্বপদ পরস্পরের মধ্যে বিরোধ/বৈরী অর্থ প্রদান করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক/ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব ।
যেমন: ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৬.
কোনটি ‘অলুক দ্বন্দ্ব’ সমাসের উদাহরণ?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. ঘর-বাড়ি
  3. ভাই-বোন
  4. আমরা
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- ঘরে-বাইরে,
- হাতে-কলমে।

অন্যদিকে,
- 'ভাই-বোন' মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'আমরা' বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'ঘর-বাড়ি' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৭.
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. চা-বিস্কুট
  2. ধুতি - চাদর
  3. হাট-বাজার
  4. অহি - নকুল
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

• বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল।

অন্যদিকে, 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ, চা-বিস্কুট।
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর।
- সমার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাট-বাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৬৮.
'আমরা' —একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসটির ব্যাসবাক্য নির্ণয় করুন।
  1. ক) তুমি, সে ও আমরা
  2. খ) তুমি ও আমি
  3. গ) তুমি, আমি ও সে
  4. ঘ) সে, তুমি ও আমি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
একশেষ দ্বন্দ্ব: সে, তুমি ও আমি = আমরা, সে ও তুমি = তোমরা৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

আবার, নিত্য সমাসের ক্ষেত্রে "আমরা" শব্দটির ব্যাসবাক্য = তুমি, আমি ও সে।
১৬৯.
'মায়েঝিয়ে' কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) অলুক বহুব্রীহি
  3. গ) অলুক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জলে-স্থলে, মায়ে-ঝিয়ে, দুধে-ভাতে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭০.
কোন সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না?
  1. ক) অলুক সমাস
  2. খ) নিত্য সমাস
  3. গ) প্রাদি সমাস
  4. ঘ) উপপদ
ব্যাখ্যা

অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে।
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা, কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা, কলের গান = কলেগান, গরুর গাড়ি = গরুগাড়ি ইত্যাদি।

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন - মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, গলায় গামছা যার = গলায়গামছা, গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৭১.
‘কুশীলব’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন:
• অহঃ ও নিশা - অহর্নিশ।
• অহঃ ও রাত্র - অহোরাত্র।
• দিবা ও রাত্রি - দিবারাত্র।
• কুশ ও লব - কুশীলব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৭২.
কোনটি  মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাট-বাজার 
  2. ঘর-দুয়ার
  3. জ্বিন-পরি
  4. খাতা-পত্র
ব্যাখ্যা

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- জ্বিন-পরি। 
-----------------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।
----------------------------------------------------
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে দুটি বা তার বেশি পদ সমান প্রাধান্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিল প্রকাশ করে।
- এই সমাসের ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর'-এর মতো সংযোজক অব্যয় থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে।

- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হলো-
 • মা-বাপ (মা ও বাপ),
• চা-বিস্কুট (চা ও বিস্কুট),
জ্বিন-পরি (জ্বিন ও পরি),
• ভাই-বোন (ভাই ও বোন),
• চাল-ডাল (চাল ও ডাল),
• দিন-রাত (দিন ও রাত),
• তাল-তমাল (তাল ও তমাল), 
• ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ),
• মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা)। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে, 
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, খাতা-পত্র - সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

•  সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:  
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে দুটি একই বা সমান অর্থের শব্দকে ‘ও’ বা ‘এবং’ দিয়ে একসাথে মিলিয়ে লেখা হয়।
- এই সমাসে দুইটি শব্দের গুরুত্ব সমানভাবে থাকে।
- যেমন:
- ‘জন ও মানব’ → জনমানব;
- ‘ধন ও দৌলত’ → ধনদৌলত;
- ‘কাগজ ও পত্র’ → কাগজ-পত্র;
- 'বই ও পুস্তুক'  → বইপুস্তুক; 
- 'কল ও কারখানা' → কল-কারখানা। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৭৩.
নিচের কোন শব্দটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) আমরা
  2. খ) হিমাচল
  3. গ) বেদখল
  4. ঘ) ঘড়ামি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমরা - আমি, তুমি ও সে। বাংলায় ‘আমরা’কে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৭৪.
'চা-বিস্কুট' এটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. মিলনার্থক
  2. বিরোধার্থক
  3. বিপরীতার্থক
  4. সমার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -

মিলনার্থক শব্দযোগে:
- মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
- সমার্থক শব্দযোগে: হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৭৫.
"চোখেমুখে" - কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস? 
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দিন ও রাত = দিনরাত; বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত।
- হাট ও বাজার = হাটবাজার; সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- অহি ও নকুল = অহিনকুল; বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১৭৬.
বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. হাট-বাজার
  2. সুখ-দুঃখ
  3. দা-কুমড়া
  4. জায়া ও পতি
ব্যাখ্যা
• দা-কুমড়া- বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। 
------------------ 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা - ক্ষুৎপিপাসা।

- বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব : অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদানব, ধনীগরিব ইত্যাদি। 

- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: ছোট ও বড় - ছোটবড়, সুখ ও দুঃখ - সুখদুঃখ। 

- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: হাট ও বাজার - হাটবাজার

- সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব সমাস: জায়া ও পতি- দম্পতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৭.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কানাকানি
  2. খ) গাছপাকা
  3. গ) সিংহাসন
  4. ঘ) দোয়াতকলম
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এই সমাসে ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ স্থাপনে ও, এবং, আর- এই তিনটি অব্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তালতমাল।
দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম।
মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।
ভাই ও বোন = ভাইবোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৮.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) তালতমাল
  2. খ) দোয়াত-কলম
  3. গ) চালাকচতুর
  4. ঘ) জমাখরচ
ব্যাখ্যা
চালাকচতুর কর্মধারয় সমাস।
চালাকচতুর = যে চালাম সেই চতুর।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
১৭৯.
'ধীরেসুস্থে' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে, 
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে, 
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১৮০.
'বনেবাদাড়ে' শব্দটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  3. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
  4. একশেষ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে ,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮১.
'জমা-খরচ' সমাসটি কোন শব্দযোগে সাধিত হয়?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) বিপরীতার্থক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) বিরোধার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
২. বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
৪. সমার্থক শব্দযোগে : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।
৫. দুটি বিশেষণযোগে : ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী।

১৮২.
‘দিবারাত্র’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
⇒ মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ সমার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব,
⇒ অলুক দ্বন্দ্ব,
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব: 
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: 
- অহঃ ও নিশা = অহর্নিশ।
- অহঃ ও রাত্র = অহোরাত্র।
- দিবা ও রাত্রি = দিবারাত্র।
- কুশ ও লব = কুশীলব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৮৩.
অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. হাসিখুশি
  2. চিঠিপত্র
  3. ঘরদুয়ার
  4. দুধে-ভাতে
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে।
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি

এরূপ- মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৮৪.
‘হাতে-কলমে’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: দোয়াত-কলম, তাল-তমাল ইত্যাদি।
এবং যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোন সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, হাতে-কলমে, জলে-স্থলে ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
নিচের কোনটি বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. মা-বাপ
  2. হাট-বাজার
  3. আয়-ব্যয়
  4. চা-বিস্কুট
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রতেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
অহি - নকুল,
দা - কুমড়া,
স্বর্গ - নরক,
আয় - ব্যয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস: মা-বাপ, চা-বিস্কুট।
সমার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস: হাট-বাজার।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৬.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ত্রিভুজ
  2. খ) নীলাকাশ
  3. গ) ভাইবোন
  4. ঘ) দেশরক্ষা
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- 'ভাইবোন'। 

দ্বন্দ্ব সমাস 

- 'দ্বন্দ্ব' শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে— মিলন ও সংঘাত। 
- অর্থাৎ যে সমাসে দুই বা তার বেশি পদের মিলন হয় এবং সমস্যমান পদগুলোর প্রতিটিতেই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলে দ্বন্দ্ব সমাস।  
• দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ জোড়া, তবু দুইয়ের বেশি পদের দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন-

- ভাই ও বোন = ভাইবোন
- তাল ও তমাল - তালতমাল
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ
- টক, ঝাল ও মিষ্টি = টক-ঝাল-মিষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৮৭.
"কলকারখানা" - কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মিলনার্থে 
  2. বিরোধার্থে 
  3. সমার্থে
  4. বিপরীতার্থে
ব্যাখ্যা

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন: মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।
--------------

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮৮.
'দম্পতি' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. পত্নী ও পতি
  2. জায়া ও পতি
  3. স্বামী ও স্ত্রী
  4. স্ত্রী ও পতি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- মাতা ও পিত = মাতাপিতা। 
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে। 
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী।
১৮৯.
কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. হাতেকলমে
  2. কাগজপত্র
  3. বইপুস্তক
  4. ঘরবাড়ি
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে।
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি।

এরূপ- মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৯০.
'ধূতি-চাদর' এটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রায় সমার্থক ও সহচর দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. একশেষ দ্বন্দ্ব
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
→ দয়া-মায়া,
→ কাপড়-চোপড়,
→ পোকা-মাকড়,
→ দয়া-মায়া,
ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯১.
কোনটি সমার্থক  দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. চাল-ডাল
  2. দিন-রাত
  3. হাট-বাজার 
  4. চা-বিস্কুট
ব্যাখ্যা

সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- হাট-বাজার।
-----------------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
- যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।
----------------------------------------------------
•  সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:  
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে দুটি একই বা সমান অর্থের শব্দকে ‘ও’ বা ‘এবং’ দিয়ে একসাথে মিলিয়ে লেখা হয়।
- এই সমাসে দুইটি শব্দের গুরুত্ব সমানভাবে থাকে।
- যেমন:
- হাঁট ও বাজার → হাঁটবাজার; 
- ‘জন ও মানব’ → জনমানব;
- ‘ধন ও দৌলত’ → ধনদৌলত;
- ‘কাগজ ও পত্র’ → কাগজ-পত্র;
- 'বই ও পুস্তুক'  → বইপুস্তুক;
- 'কল ও কারখানা' → কল-কারখানা।
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে, 
- চাল-ডাল, দিন-রাত ও চা-বিস্কুট- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে দুটি বা তার বেশি পদ সমান প্রাধান্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিল প্রকাশ করে।
- এই সমাসের ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর'-এর মতো সংযোজক অব্যয় থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে।

- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হলো-
 • মা-বাপ (মা ও বাপ),
চা-বিস্কুট (চা ও বিস্কুট),
• জ্বিন-পরি (জ্বিন ও পরি),
• ভাই-বোন (ভাই ও বোন),
চাল-ডাল (চাল ও ডাল),
• দিন-রাত (দিন ও রাত),
• তাল-তমাল (তাল ও তমাল), 
• ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ),
• মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা)। 
------------------------ 
উল্লেখ্য,
- দ্বন্দ্ব সমাসের প্রকারভেদ: 

• সাধারণ দ্বন্দ্ব – দুটি পদ একত্রিত হয়, অর্থ স্পষ্ট।
- উদাহরণ: কালি + কলম = কালিকলম, লতা + পাতা = লতাপাতা

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব – অর্থে মিল থাকলেও পদ পৃথক।
- উদাহরণ: মা + বাপ = মা-বাপ, মাসি + পিসি = মাসি-পিসি

• বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব – দুটি পদ বিপরীতার্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: দা + কুমড়া = দা-কুমড়া, স্বর্গ + নরক = স্বর্গ-নরক

• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব – সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ।
- উদাহরণ: আয় + ব্যয় = আয়-ব্যয়, জমা + খরচ = জমা-খরচ

• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: সমাসবদ্ধ পদ দুটির অর্থ প্রায় একই হয়। 
- যেমন: কাজ ও কর্ম = কাজ-কর্ম।

• একশেষ দ্বন্দ্ব – একাধিক পদ মিলিত হয়ে এক শব্দ তৈরি করে।
- উদাহরণ: তুমি + সে + আমি = আমরা

• অলুক দ্বন্দ্ব – বিভক্তি লোপ পায় না।
- উদাহরণ: ঘরে + বাইরে = ঘরে-বাইরে

• বহুপদী দ্বন্দ্ব – তিন বা ততোধিক পদ একত্রিত হয়।
- উদাহরণ: সাহেব + বিবি + গোলাম = সাহেব-বিবি-গোলাম

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৯২.
'জলে-স্থলে' কী সমাস?
  1. ক) সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. খ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  3. গ) অলুক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) একশেষ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন-
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- হাতে-কলমে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি
১৯৩.
'জলে-স্থলে' - কোন সমাস?
  1. বহুপদী দ্বন্দ্ব 
  2. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব 
  3. অলুক দ্বন্দ
  4. একশেষ দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- জলে ও স্থলে = জলে-স্থলে,
- দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৪.
নিচের কোন শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) সিংহাসন
  2. খ) প্রতিদিন
  3. গ) জমাখরচ
  4. ঘ) মুখচন্দ্র
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস হচ্ছে জমাখরচ। 
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
- এক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযোগ ঘটে।
যেমন: জমাখরচ, ভালোমন্দ, ধীরেসুস্থে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৫.
"হাটবাজার" কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব 
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব 
  4. কর্মধারয় 
ব্যাখ্যা
• হাটবাজার- দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাটবাজার। 
 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

আরো কিছু দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাটবাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
১৯৬.
কোন শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) দম্পতি
  2. খ) সিংহাসন
  3. গ) রাজপথ
  4. ঘ) প্রভাত
ব্যাখ্যা
জায়া ও পতি = দম্পতি। 
এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। 

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৭.
বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) লাভ-লোকসান
  2. খ) আয়-ব্যয়
  3. গ) স্বর্গ-নরক
  4. ঘ) ছেলে-বুড়ো
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে প্রতেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 - বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• অহি - নকুল,
• দা - কুমড়া,
স্বর্গ - নরক ইত্যাদি।

বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• জমা – খরচ,
• আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ২০১৯ সংস্করণ।
১৯৮.
‘জ্বিন-পরী’ কোন শব্দযোগে সাধিত?
  1. বিপরীতার্থক
  2. সমার্থক
  3. মিলনার্থক
  4. বিরোধার্থক
ব্যাখ্যা
'দ্বন্দ্ব' সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে:
- মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
- বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
- সমার্থক শব্দযোগে : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।
- দুটি বিশেষণযোগে : ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।
১৯৯.
'আলোছায়া' পদটি কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।  
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা। 
- আলো ও ছায়া = আলোছায়া। 

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০০.
নিম্নের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) পােটলা-পুটলি
  2. খ) ভালােমন্দ
  3. গ) চোখেমুখে
  4. ঘ) সাহেব-বিবি-গােলাম
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস: দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

- দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযােগ ঘটে।
যেমন – মা ও বাবা = মা-বাবা, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমাখরচ, হাত ও পা = হাত-পা, উনিশ ও বিশ = উনিশ-বিশ, ঝড় ও বৃষ্টি = ঝড়বৃষ্টি, পােটলা ও পুটলি = পােটলা-পুটলি, তুমি ও আমি = তুমি-আমি, আসা ও যাওয়া = আসা-যাওয়া, ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে, ভালাে ও মন্দ = ভালােমন্দ।

- কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন – হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে, চোখে ও মুখে = চোখেমুখে, চলনে ও বলনে = চলনে-বলনে ইত্যাদি।

- সমস্যমান পদ কখনাে কখনাে দুইয়ের বেশি হতে পারে।
যেমন – সাহেব, বিবি ও গােলাম = সাহেব-বিবি-গােলাম; হাত, পা, চোখ ও কান = হাত-পা-চোখ-কান ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।