বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৮০১৯০০ / ১,৫৬৭

৮০১.
নিচের কোন উপজাতিটি বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. ক) চাক
  2. খ) কুর্দি
  3. গ) গুর্খা
  4. ঘ) মুন্ডা
ব্যাখ্যা
কুর্দি উপজাতি বাংলাদেশে বসবাস করে না। এরা মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া, ইরান, ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া ও জর্ডানে বসবাসকারী একটি অনারব জাতিগোষ্ঠী।

অন্যদিকে,
চাক, গুর্খা এবং মুন্ডা নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে বসবাস করে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং বাংলাপিডিয়া)
৮০২.
মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. সাংগ্রাই
  2. ওয়ানগালা
  3. সোহরাই
  4. মহা রাসলীলা
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো।

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।

অন্যদিকে,
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- গারোদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’, মারমারা ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিজু’ উৎসব পালন করে। তিন উৎসবের আদ্যক্ষর নিয়ে এই উৎসবকে বলা হয় ‘বৈসাবি’।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮০৩.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

আদমশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথা-
• ১৯৭৪ সালে,
• ১৯৮১ সালে,
• ১৯৯১ সালে,
• ২০০১ সালে,
• ২০১১ সালে,
• ২০২২ সালে।

⇒ উল্লেখ্য:
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে:  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে:  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৮০৪.
বাঙালির দৈহিক গড়নে সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে কোন জাতিগোষ্ঠীর সাথে?
  1. মোঙ্গলয়েড
  2. অস্ট্রালয়েড
  3. ককেশয়েড
  4. নিগ্রয়েড
ব্যাখ্যা
অস্ট্রোলয়েড
- অস্ট্রোলয়েড  প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে  মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত। পন্ডিতদের মতে, অস্ট্রোলয়েডদের আদি বাসস্থান মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত এবং সিংহল থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে। 
এছাড়াও,
-  নেগ্রিটো: প্রস্তরযুগে প্রাচীন ভারতের আদিম মানুষ। বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তীতে আসে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা এখানে বাস করতো তারা হলো- অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮০৫.
বাংলাদেশে জেলার সংখ্যা-
  1. ৬০টি
  2. ৬২টি
  3. ৬৪টি
  4. ৬৬টি
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার বিভাগ:
- সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ১২ টি।
- জেলা রয়েছে ৬৪টি।
- পৌরসভা রয়েছে ৩৩০টি।
- উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি।
- ইউনিয়ন পরিষদ ৪৫৯৬টি।
- গ্রাম ৯০০৪৯টি।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
৮০৬.
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ কোন মূল জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. দ্রাবিড়
  2. নেগ্রিটো
  3. ভোটচিন
  4. অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে বাংলায় এদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮০৭.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ৩.৮%
  2. ৬.৫%
  3. ৮.৪%
  4. ১১.৩%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।
৮০৮.
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.০৫%
  2. ১.২৫%
  3. ১.৩২%
  4. ১.১২%
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- এটি অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৬৬%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৮০৯.
রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব কোনটি?
  1. ক) কারাম
  2. খ) সাংগ্রাই
  3. গ) চিয়াসৎপয়
  4. ঘ) বিসিকাতাল
ব্যাখ্যা
- রাখাইন মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো 'সাংগ্রাই'
- এটি রাখাইন ও মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসব।
- চৈত্র মাসের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিন মোট তিনদিন জুড়ে এই উৎসব পালন করা হয়।
- মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।

অন্যদিকে,
- চিয়াসৎপয় মুরংদের প্রধান সামাজিক উৎসব কারাম ওরাঁও জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।
- বিসিকাতাল হচ্ছে ত্রিপুরাদের বৈসু বর্ষবরণ উৎসবের তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান।

(উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণী)
৮১০.
'বৈসু' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. মারমা
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৮১১.
বাঙালি সম্প্রদায়ের নবান্ন উৎসবের ন্যায় উপজাতীয় সম্প্রদায় কোন উৎসবটি পালন করে?
  1. ক) সাংগ্রাই
  2. খ) ওয়ানগালা
  3. গ) বৈসু
  4. ঘ) বিজু
ব্যাখ্যা
নতুন ফসল উঠানোকে কেন্দ্র করে বাঙালি সম্প্রদায় অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব পালন করে থাকে। একইরূপ গারো সম্প্রদায় নতুন ফসল তোলার পূর্বে শস্যদেবতারপ্রতি কৃজ্ঞতার জন্যে ওয়ানগালা উৎসব পালন করে। এটি গারোদের প্রধান সামাজিক ও কৃষিকেন্দ্রিক উৎসব। গারোদের সামাজিক উৎসবগুলো মূলত কৃষিকেন্দ্রিক। গারো উপজাতিরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাস করে। সাঁওতালদের প্রধান উৎসব হলো সোহরাই এবং বাহা। সাংগ্রাই, বৈসু ও বিজু বাঙালিদের পহেলা বৈশাখের ন্যায় যথাক্রমে মারমা, ত্রিপুরা এবং চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৮১২.
চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. সাংগ্রাই
  2. বিঝু
  3. ওয়ানগালা
  4. সোহরাই
ব্যাখ্যা

- চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐহিত্যবাহী উৎসব হলো বিঝু। এটি চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
- চৈত্র মাসের শেষ দুদিন ও বৈশাখ মাসের প্রথমদিনসহ মোট তিনদিন জুড়ে বিঝু উৎসব পালিত হয়।
- বিঝু উৎসব তিনটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথমটি হলো ফুল বিঝু
- দ্বিতীয়টি হলো মূল বিঝু
- তৃতীয়টি হলো গজ্যাপজ্যা বিঝু বা নুঅ বঝর।
অন্যদিকে,
- সাংগ্রাই মারমা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব
- ওয়ানগালা গারো সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব
- সোহরাই সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব।
(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)

৮১৩.
'বিজু' বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

বিজু উৎসব:
- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা যে উৎসব করে তাকে বিজু বলে।
- এই উৎসব পালিত হয় পহেলা বৈশাখে বা নববর্ষে।
- এই উৎসবের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো পুরনো বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণ করা।
- চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মোট তিন দিন ধরে বিজু উৎসব চলে।
- বিজু উৎসবে তিন দিনের আলাদা নামকরণ হয়েছে।
- প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যাপজ্যা।
- বছরের শেষ অর্থাৎ চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে ‘ফুল বিজু’।
- চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ তারিখে পালন করা হয় মূলবিজু।
- বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালন করা হয় গজ্যাপজ্যা (গড়িয়ে পড়ার দিন)।

উল্লেখ্য,
- উৎসবটিকে চাকমারা বিজু হিসেবে পালন করলেও মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক নামে পালন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮১৪.
নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অস্ট্রিক
  2. দ্রাবিড়
  3. মঙ্গোলীয়
  4. অ্যালপাইন
ব্যাখ্যা
- নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

বাঙালি জাতির নরগোষ্ঠীগত পরিচয়:
- বাঙালির ইতিহাস (আদিপর্ব) গ্রন্থে নীহাররঞ্জন রায় উল্লেখ করেছেন, বাঙালির নৃগোষ্ঠী গঠনে আদি অস্ট্রেলীয় ও দ্রাবিড় প্রভাবের পাশাপাশি আর্যপ্রভাবও রয়েছে।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর আগমন ঘটে যারা রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় অনেক বহিরাগত রাজবংশ যেমন- সেন, বর্মণ, খড়গ ও চন্দ্র বাঙালির দৈহিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছে।
- এছাড়া তুর্কি, পাঠান, মোঘল, ইরানি, আবিসিনীয় ও আরবীয় রক্তের ধারাও বাঙালির ধমনিতে প্রবহমান।
- ষোড়শ শতাব্দীতে বহিরাগত ইংরেজ, পর্তুগীজ, ডাচ, ফরাসি, দিনেমার এবং আরাকানের মগ জলদস্যুদের প্রভাবও বাঙালির রক্তে বিদ্যমান।
- এসবের দীর্ঘ ও পর্যায়ক্রমিক সংমিশ্রনে বাংলাদেশে সংকর বা মিশ্র জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে।
- সংকর জাতি হওয়া সত্ত্বেও বাঙালির স্বকীয় দৈহিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
- বাঙালির লম্বা প্রকৃতির মাথা, কালো চুল, চোখের মণি বাদামি বা কালো, গায়ের রং কালো-বাদামি, মাঝারি দৈহিক উচ্চতা, মুখাকৃতি লম্বা, মধ্যমাকৃতির নাসিকা এবং মুখে দাড়ি-গোঁফের প্রাচুর্য স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে।
- নৃতাত্ত্বিকদের মতে, এ বৈশিষ্ট্য অনেকটাই অস্ট্রিক প্রভাবিত।
- বাঙালির সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অস্ট্রিক ভাষার প্রকট প্রভাব রয়েছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৫.
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ৫ বছরের নিচে প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুহার কত?
  1. ক) ৩৫
  2. খ) ৩০
  3. গ) ২৮
  4. ঘ) ২৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে ৫ বছরের নিচে প্রতিহাজারে জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুহার ২৮। ২০১৮ সালে এই হার ছিলো ২৯। অন্যদিকে, এক বছরের নিচে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুহার ২১ এবং এক মাসের কম বয়সের শিশুমৃত্যু হার প্রতিহাজারে ১৫।
(সূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2019)
৮১৬.
লুসাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসন্ত উৎসব কোনটি?
  1. মীমতৃত
  2. চাপচারকৃত
  3. পলকুত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লুসাই:

- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮১৭.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট কয়টি কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬] 
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• কৃষি শুমারি/ Agriculture Census:
বাংলাদেশে কৃষি শুমারি হলো দেশের কৃষি খাতের (শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বন ও পরিবেশ সহ) বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংগ্রহের জাতীয় প্রক্রিয়া।
- স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কৃষিশুমারি হয় ৫টি।  
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ট্যাবলেট ব্যবহার করে) তথ্য সংগ্রহ, যা সময় কমিয়েছে এবং নির্ভুলতা বাড়িয়েছে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
-  ২০০৮ সালে সমগ্র দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় সকল সাধারণ খানায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৪র্থ কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়। 
- এটিই দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি।

তথ্যসূত্র:
i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৮১৮.
বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস রয়েছে কোন নৃগোষ্ঠীর?
  1. ক) হাজং
  2. খ) মণিপুরী
  3. গ) ওরাঁও
  4. ঘ) চাকমা
ব্যাখ্যা
• বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস রয়েছে ওরাওঁ নৃগোষ্ঠীর। 

- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।

• নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
• এ কারণে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন যে, ওরাওঁরা দ্রাবিড়ভাষী কুডুখ জাতির উত্তর পুরুষ।
• ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁডুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
• এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
• ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁডুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৮১৯.
বাংলাদেশে খাসিয়াদের আদি নিবাস কোথায়?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ 
  3. ময়মনসিংহ
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

• খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮২০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী জনসংখ্যার দিক দিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. গারো
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%।
- জনসংখ্যার দিক দিয়ে -
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা।
- তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।

তথ্যসূত্র: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

৮২১.
বাংলাদেশে মোট উপজাতির সংখ্যা -
  1. ক) ২৭ টি
  2. খ) ৪৫ টি
  3. গ) ৪৬ টি
  4. ঘ) ৫০ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মোট ৫০ টি উপজাতি রয়ছে। ২৩ শে র্মাচ ২০১৯ বাংলাদেশ সরকার ৫০ টি উপজাতির নাম উল্লখে করে গেজেট প্রকাশ করে। উপজাতিসমূহ হলঃ ওরাওঁ, কোচ, কোল, কন্দ, কড়া, খারিয়া/খাড়িয়া, খারওয়ার/খাড়োয়ার, খাসিয়া, খিয়াং, খুমি, গারো, গঞ্জু, গড়াইত, গুর্খা, চাক, চাকমা, ডালু, তঞ্চঙ্গা, ত্রিপুরা, তেলী, তুরী, মালপাহাড়ি, পাংখোয়া, পাত্র, বাগদি, বানাই, বাড়াইক, বেদিয়া, বম, বর্মণ, ভিল, ভূমিজ, ভূঁইমালি, মণিপুরী, মারমা, মুন্ডা, ম্রৌ, মাহাতো, মালো, মাহালী, মুসহর, রাখাইন, রাজোয়ার, লোহার, লুসাই, শবর, সাঁওতাল, হুদি, হো এবং হাজং। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সরকারি গেজেট, ২৩ মার্চ ২০১৯)
৮২২.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক?
  1. চাকমা 
  2. গারো 
  3. খাসিয়া
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
চাকমাদের বিবাহ ও পরিবার:
- চাকমা পরিবার পিতৃতান্ত্রিক ও পিতৃসূত্রীয়।
- ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব পিতা, স্বামী বা অন্য কোনো বয়স্ক পুরুষের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- সম্পত্তি ও বংশমর্যাদার উত্তরাধিকার পিতা থেকে পুত্রের ওপর বর্তায়।
- যৌথ পরিবার এবং বিস্তৃত পরিবার ব্যবস্থা তেমন পরিলক্ষিত হয় না।
- পুত্রসন্তানেরা আত্মনির্ভরশীল হলেই তাদের বিয়ে দিয়ে আলাদা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়।
- সাধারণত চাকমাদের মধ্যে নিজ বংশে সাত পুরুষের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ।
- চাকমা সমাজে অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহের প্রচলন রয়েছে।
- চাকমা যুবকরা সাধারণত নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে করে থাকে।
- তবে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নিষেধ নেই।
- এ সমাজে বর কনের বাড়িতে যায় না। বর পক্ষের লোকজন গিয়ে কনেকে তুলে নিয়ে এসে বরের বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠান করে।
- বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা চাকমা সমাজে বিরল।

উল্লেখ্য, গারো ও খাসিয়া পরিবার ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। 

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮২৩.
বাংলাদেশে হাজং জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসভূমি কোন জেলা?
  1. নেত্রকোনা
  2. কুড়িগ্রাম
  3. বান্দরবান
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় হাজংদের বসবাস সবচেয়ে বেশি।

হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিজ

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮২৪.
মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. মাঘীপূর্ণিমা
  2. চৈত্রসংক্রান্তি
  3. মহারাসলীলা
  4. ফাগুয়া
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮২৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে? 
  1. চট্টগ্রাম
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশে 'ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর' সংখ্যা মোট ৫০টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: হলো চাকমা।
- সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয়: মারমা।
- জেলা হিসেবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৮২৬.
রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস কোন জেলায়?
  1. সিলেট
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য।
- এরা নিজেদের 'রাক্ষাইন' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- রাখাইনরা এক সময় 'মগ' নামে পরিচিত ছিলো।
- অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত।
- রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৮২৭.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯ অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ____ বছর।
  1. ক) ৭৩.৫
  2. খ) ৭২.৮
  3. গ) ৭২.০
  4. ঘ) ৭১.৮
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯ অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৭২.০ বছর।
৮২৮.
NAEM এর পূর্ণরূপ কি?
  1. ক) National Academy for Educational and Management
  2. খ) National Academy for Environment Management
  3. গ) National Academy for Economics and Management
  4. ঘ) National Academy for Educational Management
ব্যাখ্যা
National Academy for Educational Management (NAEM) was established in July 1991 as an apex institute for giving training and undertaking research on educational planning and management.
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮২৯.
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)
  3. জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা গ্রুপ)
  4. ইউপিডিএফ
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস):
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংগঠন। পাহাড়িদের দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে সংগঠনটি বিশ শতকের সত্তরের দশকে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করে। ১৯৭৩ সালে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার কিছুকাল পর থেকে জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। তখন থেকে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও শান্তি বাহিনী দীর্ঘকাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।

⇒ পাকিস্তান আমলে ১৯৫৬ সালে পাহাড়ি ছাত্রদের দাবি আদায় সংক্রান্ত একটি সংগঠন হিল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন অনন্ত বিহারী খীসা ও জে বি লারমা। এ সমিতির সমর্থনে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

⇒ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণেতাদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ মোট চার দফা দাবি পেশ করেন। চার দফা দাবিও সরকার কর্তৃক প্রত্যাখাত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং জুম্ম জাতীয়তাবাদ ও জুম্মল্যান্ড ধারণা জন্ম নেয়। পাহাড়িদের স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আদর্শ ও উদ্দেশ্য ছিল: মানবতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং চাকমা, মারমা (মগ), ত্রিপুরা, বম, মুরং, পাঙ্খো, খুমি, চাক, খিয়াং, লুসাই প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার অর্জন। সমিতির সহযোগী সংগঠন ছিল এর সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী, গ্রাম পঞ্চায়েত, যুব সমিতি ও মহিলা সমিতি।

⇒ ১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর ১১-সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। একদিকে জনসংহতি সমিতির দাবিদাওয়া ও পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং অন্যদিকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক সমাধানে জনসংহতি সমিতির আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষ শান্তিচুক্তি স্থাপনে ঐক্যমতে পৌঁছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটে। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর জনসংহতি সমিতি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৩০.
মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন কোন জাতিসত্তায় রয়েছে?
  1. মারমা
  2. চাকমা
  3. গারো
  4. বম
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।

সূত্র: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৮৩১.
রাজবংশী' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস নেই কোন জেলায়?
  1. রংপুর
  2. রাজশাহী
  3. ময়মনসিংহ
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮৩২.
নিচের কোন জেলায় কন্দ নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৩৩.
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ করেছে?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) ৫ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ করছে। নৃ-গোষ্ঠীগুলো হলো - চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি)।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২০
৮৩৪.
বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের অধিকাংশ কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. ক) বৌদ্ধ
  2. খ) হিন্দু
  3. গ) খ্রিস্টান
  4. ঘ) জৈন
ব্যাখ্যা
- হাজংরা ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। 
- হাজং জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস ময়মনসিংহ জেলায়।
- এছাড়া নেত্রকোনা, শেরপুর ও সিলেট জেলাতেও হাজংদের বসবাস রয়েছে। 
- হাজংদের আদি নিবাস উত্তর বার্মায়।
- এদের সমাজ কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- হাজং শব্দের অর্থ ‘মাটির পোকা’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮৩৫.
বাংলাদেশে কয়টি উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান আছে?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ৫ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৩ টি
ব্যাখ্যা

বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৭টি (সর্বমোট - ৮টি) উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এগুলো হলোঃ
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা;
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি;
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি;
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান;
- কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার;
- রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী;
- মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
- রাখাইন কালচারাল ইনস্টিটিউট, রামু, কক্সবাজার। (এপ্রিল, ২০২১ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভূক্ত হয় নি।

(সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট)

৮৩৬.
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. শেরপুর 
  3. রাঙামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:
- বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অবস্থিত।

⇒ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সংরক্ষন, পরিচর্যা, উন্নয়ন ও চর্চা, লালনের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 'বিশেষ এলাকা উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা মহকুমার দূর্গাপুর থানাধীন বিরিশিরিতে 'উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী' নামক এ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীকালে জাতীয় সংস্কৃতির মূল স্রোতধারার সংগে সংগতি রেখে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হিসেবে এর উপর গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একাডেমীকে ১৬-৭-১৯৭৯ তারিখে 'তথ্য সম্প্রচার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 'ক্রীড়া ও সংস্কৃতি' বিভাগে ন্যাস্ত করা হয়।
- এ একাডেমীতে উপজাতীয় সংস্কৃতি চর্চা করা হয়।
- এখানে প্রতি বছর উপজাতীয়দের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- এর চারটি শাখা রয়েছে: ক) সংস্কৃতি খ) গবেষণা গ) লাইব্রেরি ও ঘ) জাদুঘর।
- এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।
৮৩৭.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার কত শতাংশ?
  1. ৩.৮%
  2. ৫.৬%
  3. ৬.৫%
  4. ৭.৩%
ব্যাখ্যা
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।
৮৩৮.
IEDCR এর পূর্ণরূপ কি?
  1. ক) Institute of Epidemiology, Disease Control and Research
  2. খ) Institute of Epidemiology, Disease Control and Report
  3. গ) Institute of Epidemic Disease Control and Research
  4. ঘ) Institute of Epidemic Disease Control and Report
ব্যাখ্যা
IEDCR এর পূর্ণরূপ - Institute of Epidemiology, Disease Control and Research (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট)
সূত্রঃ IEDCR এর ওয়েবসাইট
৮৩৯.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়- 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

- আদমশুমারি:
- আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় দশ বছর পরপর।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় – ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে যথা: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম হয় 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

৮৪০.
বাংলাদেশের কোন বিভাগে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসবাস নেই?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) খুলনা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৩১.৫ লক্ষ। দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক ১৫ লক্ষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৬ লক্ষ, ঢাকা বিভাগে ৩ লক্ষ, সিলেট বিভাগে ৩ লক্ষ, রংপুর বিভাগে ২ লক্ষ এবং বরিশাল ও খুলনা বিভাগে ২.৫ লক্ষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৮৪১.
মনিপুরী নৃগোষ্ঠী বসবাস করে কোথায়?
  1. সিলেট
  2. পটুয়াখালী
  3. রাঙ্গামাটি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

মণিপুরী: 
- মণিপুরী আদিবাসীদের আদি নিবাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর।
- ঐতিহাসিক মণিপুর রাজ্য থেকে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে তারা বাংলাদেশে আগমন করে।
- প্রথম অভিবাসন ঘটে মণিপুর-বার্মা যুদ্ধের সময় (১৮১৯–১৮২৫)।
- তখন মণিপুর রাজপরিবারের সদস্যরা সিলেট অঞ্চলে আশ্রয় নেন।
- বর্তমানে তারা প্রধানত বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বাস করে।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানায় এদের ঘন বসতি রয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮৪২.
মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা কোনটি?
  1. সাহিত্য
  2. নৃত্য
  3. চিত্রকলা
  4. ভাস্কর্য
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৪৩.
বাংলাদেশের কোন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম? [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২]
  1. রাঙামাটি
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. জামালপুর
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
৮৪৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুসারে দেশে চালু কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১৩,৫৯২টি
  2. খ) ১৩,৬৩৩টি
  3. গ) ১৩,৭১৫টি
  4. ঘ) ১৩,৮৮১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুসারে দেশে বর্তমানে ১৩,৮৮১টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ : পৃষ্ঠা-১৮৮)
৮৪৫.
মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন কোন জাতিসত্তায় রয়েছে?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. বম
  4. গারো
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।

সূত্র: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৮৪৬.
'ওরাওঁ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে কোন জেলায়?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮৪৭.
গারো নৃগোষ্ঠী কোন জেলায় বসবাস করে? 
  1. ময়মনসিংহ 
  2. টাঙ্গাইল
  3. সিলেট
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৮৪৮.
নিম্নের কোন জেলায় হাজংদের বসবাস নেই?
  1. সিলেট
  2. ময়মনসিংহ
  3. রাঙামাটি 
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা
রাঙামাটি জেলায় হাজংদের বসবাস নেই। 

হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৪৯.
বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩ অনুসারে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.১২%
  2. ১.২২%
  3. ১.২৩%
  4. ১.৩৩%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩:
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট, ২০২৪।
- সংস্থা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

⇒ মোট জনসংখ্যা: ১৭১ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.৩৩%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি.-এ: ১,১৭১ জন।
- লিঙ্গ অনুপাত = পুরুষ : নারী = ১০০:৯৬.৩।

অন্যদিকে,
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ প্রাথমিক প্রতিবেদন: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২%।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত প্রতিবেদন: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৮৫০.
খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর লোকদের আদি নিবাস কোথায়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) তিব্বত
  3. গ) মনিপুর
  4. ঘ) আসাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে। এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে। খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮৫১.
বাংলাদেশে সর্বশেষ কততম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
জনশুমারি:
- বাংলাদেশে সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারী অনুষ্ঠিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS).
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১০ বছর পরপর।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২।
- তবে বন্যা পরিস্থির কারণে কিছু কিছু এলাকায় ২৭ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- জনসংখ্যা - ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – ১.২২%
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে – ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ : ১০০
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৬৬%।
- খানার সংখ্যা - ৪,১০,১০,০৫১ জন।
- খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা – ৪.০ জন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৮৫২.
‘জীবনতরী’ হলো -
  1. ক) একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন
  2. খ) একটি ভাসমান হাসপাতাল
  3. গ) একটি কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) একটি নাটক
ব্যাখ্যা
'জীবনতরী' একটি ভাসমান হাসপাতাল।
[সূত্র: প্রথম আলো]
৮৫৩.
খাসিয়া গ্রামগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. বারং
  2. পাড়া
  3. মৌজা
  4. পুঞ্জি
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৫৪.
রাজবংশীরা প্রধানত কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. বৈষ্ণব
  2. জৈন
  3. খ্রিস্টান
  4. মুসলিম
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা প্রধানত বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী।
- বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।
- মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৫৫.
বাংলাদেশে বসবাস নেই এমন উপজাতির নাম-
  1. খিয়াং
  2. গারো
  3. মাওরি
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা

- মাওরি  নিউজিল্যান্ডের উপজাতি সম্প্রদায়ের নাম।
- বাংলাদেশে মাওরি উপজাতি বসবাস নেই। 
- বাংলাদেশে মোট ৫০ টি উপজাতি রয়ছে।

অন্যদিকে,
- সাঁওতাল, খিয়াং, গারো সম্প্রদায় বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- সাঁওতাল জনগোষ্ঠী রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া প্রভৃতি জেলায় বসবাস করে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় খিয়াং উপজাতি বাস করে।
- গারোদের বসবাস ময়মনসিংহ অঞ্চলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা।

৮৫৬.
The first tribal cultural academy of Bangladesh is located in -
  1. Netrokona
  2. Chittagong
  3. Gazipur
  4. Rangamati
ব্যাখ্যা
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী:
- বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, মান্দাই প্রভৃতি নৃগোষ্ঠী অনাদিকাল থেকে নিজস্ব জীবন ও সমাজ তথা ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি লালন করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বসবাস করে আসছে।
- এই সকল নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর চারটি শাখা রয়েছে: ক) সংস্কৃতি খ) গবেষণা গ) লাইব্রেরি ও ঘ) জাদুঘর।
- এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৫৭.
বাংলাদেশের উপজেলা নামকরণ হয় কোন সালে?
  1. ক) ১৯৮২
  2. খ) ১৯৮৩
  3. গ) ১৯৮৫
  4. ঘ) ১৯৮৯
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে থানার পরিবর্তে উপজেলা নামকরণ করা হয়-১৪ মার্চ ১৯৮৩।
- উপজেলার প্রধান কর্মকর্তা হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৮৫৮.
পাঙনরা কোন নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা?
  1. ওরাওঁ
  2. সাঁওতাল
  3. রাখাইন
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।

পাঙন উপজাতি:

- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য।

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।

ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- ওরাও নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৫৯.
নিচের কোনটি সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদান?
  1. নদীভাঙন
  2. শিক্ষা
  3. গড় আয়ু
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন , দেশের আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, জৈবিক , রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির , যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন নগরায়ণ সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের প্রাকৃতিক উপাদান-
 -জলবায়ু পরিবর্তন,
- বৈশ্বিক উষ্ণতা,
- ভৌগোলিক পরিবর্তন,
- নদী ভাঙন,
- অতিবৃষ্টি,
- অনাবৃষ্টি,
- টর্নেডো ইত্যাদি।
• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদান- 
- জন্ম ও মৃত্যুহার,
- জনসংখ্যার ঘনত্ব,
- গড় আয়ু,
- জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

উৎস:
  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।
৮৬০.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২- এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত? 
  1. ১.৩২%
  2. ১.১২%
  3. ১.২২%
  4. ১.৭৯%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস- ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস- ১০,০৬৭ জন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙ্গামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস ১০৬ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

৮৬১.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করেনা?
  1. চাক
  2. পাঙন
  3. লুসাই
  4. খুমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, পাঙন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- পাঙন নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৬২.
'রাস নৃত্য' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন?
  1. ত্রিপুরা
  2. বম
  3. লুসাই
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৬৩.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'রাখালরাস ও মহারাস উৎসব' পালন করে?
  1. গারো
  2. মণিপুরী
  3. চাকমা
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: 
- রাস উৎসব পালন করে মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এটি তাদের প্রধান উৎসব,
- এটা সাধারণত শরতের পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।
- মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- রাস উৎসবের দুটি প্রধান পর্ব রয়েছে।
- একটির নাম রাখালরাস, যা দিনব্যাপী পালন করা হয়, এবং
- অন্যটি মহারাস, যা রাতের বেলায় অনুষ্ঠিত হয়
- মণিপুরী জাতির পূর্ব পুরুষরা ছিলেন পাখাংবা নামক একজন প্রাচীন রাজা।
- ৩৩ সালে পাখাংবা সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।
- মণিপুরী সম্প্রদায় বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করে থাকে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলাতে তাদের সংখ্যা বেশি।

অন্যদিকে, 
- চাকমাদের প্রধান উৎসব বিজু।
- রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি।
- গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব ওয়ানগালা।

উৎস - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।

৮৬৪.
সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দেশে ৫০টি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে শতকরা হিসাবে যা ২৯.২৯ শতাংশ।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। এ জেলায় এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪।  জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

⇒ চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা। সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা সমতলের সাঁওতালদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর। এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে। এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০১ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে। আর হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৪ জন।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

৮৬৫.
SVRS ২০২৩ রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে মোট জন্মশীলতার হার/Total fertility rate (TFR) কত?
  1. ২.৪০
  2. ২.৩১
  3. ২.১৭
  4. ১.৯৪
ব্যাখ্যা
মোট জন্মশীলতার হার/Total fertility rate (TFR):
- মোট জন্মশীলতার হার (টিএফআর) হলো প্রজনন ক্ষমতার একটি সংক্ষিপ্ত পরিমাপ, যা প্রতিটি একক বছরের জন্য প্রতিটি বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর নারীদের সন্তান জন্মদানের বয়সের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের জন্মহারকে নির্দেশ করে।
- এসভিআরএস ২০২৩ এ প্রতি নারীর বিপরীতে টিএফআরের মান দাঁড়িয়েছে ২.১৭।
- প্রত্যাশা অনুযায়ী, পল্লি নারীদের মধ্যে টিএফআরের অনুপাত শহরের তুলনায় বেশি।
- পল্লি অঞ্চলে প্রতি নারীর বিপরীতে টিএফআরের মান ২.৩১।
- শহরাঞ্চলে এ হার পাওয়া গেছে ১.৭৮। 
- বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ টিএফআর (২.৪৮) রেকর্ড করা হয়েছে।
- এর পরের অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ (২.৪০)। 
- সবচেয়ে কম টিএফআর রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
- এ বিভাগে টিএফআরের মান ১.৯৪।
- ধর্মভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মুসলিম নারীরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় বেশি প্রজননক্ষম।
- মুসলিম নারীদের মধ্যে মাথাপিছু টিএফআর হার ২.২৩।

উৎস: SVRS ২০২৩ রিপোর্ট।
৮৬৬.
ওঁরাও জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. কুমিল্লা
  2. দিনাজপুর
  3. কক্সবাজার
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
ওঁরাও:
- ওঁরাও দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় নৃগোষ্ঠী।
- ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে এদের বাস।
- বাংলাদেশে বর্তমানে গাজীপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা ওঁরাওদের প্রধান বসতিস্থল।

⇒ ওঁরাওদের ভাষার নাম কুরুখ ও সাদ্রি।
- এই ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই।
- ওঁরাও আদিবাসীরা নৃতাত্ত্বিক বিচারে আদি অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ।
- ওঁরাও সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

⇒ এদের গ্রামপ্রধানকে বলা হয় মাহাতো।
- এদের নিজস্ব আঞ্চলিক পরিষদ আছে, যা পাহতো নামে পরিচিত।
- এই পরিষদে কয়েকটি গ্রামের প্রতিনিধিরা থাকে।
- অন্যান্য আদিবাসী জাতির মতো ওঁরাও সমাজও সর্বপ্রাণবাদী প্রকৃতি উপাসক, তবে এদের ধর্মবিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে সর্বশক্তিমান ‘ধরমী’ বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’ স্বীকৃত।

⇒ এদের প্রধান উৎসবের নাম কারাম।
- ওঁরাও সমাজে অতিথি আপ্যায়ন ও উৎসব-অনুষ্ঠানে নেশাদ্রব্য পান করা একটি ঐতিহ্যবাহী অভ্যাস।
- এদের সমাজে নৃত্য ও সংগীত একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৬৭.
হাজং সম্প্রদায় কোন এলাকায় বসবাস করে?
  1. ক) যশোর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) পটুয়াখালী
  4. ঘ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
- হাজং জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস ময়মনসিংহ জেলায়। এছাড়া নেত্রকোনা, শেরপুর ও সিলেট জেলাতেও হাজংদের বসবাস রয়েছে।
- হাজংদের আদি নিবাস উত্তর বার্মায়।
- তারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- সমাজ কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- হাজং শব্দের অর্থ মাটির পোকা।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৮৬৮.
পূর্বে মারমারা কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মান্দি
  2. মগ
  3. ডাইংনেট
  4. বোডো
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মূলত মায়ানমারের আরাকানিদের বংশধর।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।

উল্লেখ্য,
- বহু পূর্বে মারমারা ‘‘মগ’’ নামেই পরিচিত ছিল।
- বর্তমানে তারা নিজেদের মারমা বলেই দাবী করে।
- মারমা শব্দটি মারমাজা বা ম্রাইমাচা নামক উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী হস্তাক্ষর লিপি থেকে উদ্ভুত।
- স্বাধীনতা উত্তরা বাংলাদেশে সরকারিভাবে মারমা জনগোষ্টী স্বতন্ত্র উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

⇒ মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৬৯.
নিম্নের কোনটি মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর শাখা নয়?
  1. পাঙন
  2. মৈতৈ
  3. রৈথৈই
  4. বিষ্ণুপ্রিয়া
ব্যাখ্যা

- রৈথৈই মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর শাখা নয়।

মণিপুরী:
- পাঙন সম্প্রদায় মূলত মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর একটি শাখা।
- মণিপুরের রাজা চৌরজিৎ সিংহের সময়কালে সংঘটিত বার্মা-মণিপুর যুদ্ধ (১৮১৯-১৮২৫) এর প্রেক্ষাপটে মণিপুরী জনগণের একটি অংশ ভারত ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
- বাংলাদেশে আগত মণিপুরীরা প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়:
- (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ এবং (৩) পাঙন।
- পাঙনরা আর্য বংশভুক্ত হলেও মৈতৈ ভাষায় কথা বলেন এবং তারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন।
- এদের ভাষাগত পরিচিতি মৈতৈদের সঙ্গে মিলে গেলেও ধর্মীয় পরিচয় আলাদা। ফলে, পাঙনদের আলাদা একটি সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসে মুসলিম হলেও, তারা মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ।

৮৭০.
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে নির্ভরশীলতার অনুপাত কত?
  1. ক) ৪৩
  2. খ) ৫১
  3. গ) ৬২
  4. ঘ) ৮৬
ব্যাখ্যা
নির্ভরশীলতার অনুপাত হলো একটি দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় নির্ভরশীল বা অনুপার্জনক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত। নির্ভরশীল জনসংখ্যাকে কে মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করে শতকরা হিসেবে এই অনুপাত বের করা হয়।
বিবিএসের সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে নির্ভরশীলতার অনুপাত (শতকরা):
- জাতীয় পর্যায়ে : ৫১
- শহরাঞ্চলে : ৪৬
- গ্রামাঞ্চলে : ৫৫।
(সূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2019)
৮৭১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ কোনটি?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) সিলেট
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে,
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল।

- জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা - বান্দরবান।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৮৭২.
গ্রামকে ‘ঠি’ বলে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. গারো
  2. চাক
  3. ত্রিপুরা
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
চাক:
- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি এলাকায় চাকদের বসবাস।
- বান্দরবান বোমাং সার্কেলের বোমাং রাজপুস্তিকায় ও রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে চাকরা ‘মিঙসাক’ নামে তালিকাভুক্ত আছে।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত। যা আবার কয়েকটি উপগোত্রে বিভক্ত। গোত্রীয় প্রতীক জালোয়া বা পইত্যা (পাকানো সুতার রশি)।
- চাকদের জীবনধারা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
- শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির মধ্যে নাইংছাঙাহাং-এ অবস্থান, পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান), ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।
- বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে আচাংগায়ুগা (কনে দেখা), চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)-সহ আরো অনেক প্রথা পালন করা হয়।
- ১৯৫৯ সালে চাক ধর্মগুরু মহাথেরো গন্ধর্ব ওয়েংসারের প্রচেষ্টায় চাক সমাজে শিক্ষার বিস্তার ঘটে।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮৭৩.
কয়েকটি চাকমা পরিবার মিলে গঠিত হয়-
  1. সার্কেল
  2. মৌজা
  3. গোত্র
  4. আদাম
ব্যাখ্যা
- পরিবার চাকমা সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন।
- এর পরের স্তরগুলি হচ্ছে পর্যায়ক্রমে গোত্তি বা গোজা, আদাম বা পাড়া, গ্রাম বা মৌজা এবং চাকমা সার্কেল।
- কতগুলো চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় আদাম বা পাড়া।
- আদামের প্রধানকে বলা হয় কারবারী।
- চাকমা রাজা গ্রাম বা মৌজা প্রধানের সাথে আলাপ করে কারবারীকে নিয়োগ করেন।
- কারবারীদের কাজ হল গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সালিশ বিচারকাজে মৌজাপ্রধানকে সহায়তা করা।
- কারবারীকে কোনো বেতন-ভাতা প্রদান করা হয় না।
- কতগুলো আদাম মিলে গঠিত হয় চাকমা গ্রাম বা মৌজা।
- মৌজার প্রধান হেডম্যান।
- চাকমা রাজার সুপারিশক্রমে স্থানীয় জেলা প্রশাসক হেডম্যান নিয়োগ করেন।
- হেডম্যানদের প্রধান কাজ সংশ্লিষ্ট মৌজার খাজনা আদায় করা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সালিশের মাধ্যমে গোলোযোগ নিস্পত্তি করা।
- চাকমা সমাজের কয়েকশত মৌজা বা গ্রাম নিয়ে চাকমা-সার্কেল গঠিত হয়।
- চাকমা রাজা চাকমা-সার্কেলের প্রধান।
- চাকমা রাজা বংশপরম্পরায় নিযুক্ত হন।
- চাকমা সমাজের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তিনি জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান করেন।
- চাকমা রাজা চাকমা সমাজের সংহতির প্রতীক।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৪.
অপোকপা কোন সম্প্রদায়ের আদি ধর্মের নাম?
  1. ক) মৈতৈ মণিপুরী
  2. খ) সাঁওতাল
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী
ব্যাখ্যা
অপোকপা বা সানামাহি হলো মৈতৈ মণিপুরী সম্প্রদায়ের আদি ধর্মের নাম। অপোকপা সর্বপ্রাণ ধর্মের অন্তর্গত। তবে মৈতৈই মণিপুরীদের অধিকাংশই বর্তমানে সনাতন ধর্মের অনুসারী।

অন্যদিকে,
- সাঁওতালদের ধর্ম : খ্রিস্টান
- খাসিয়াদের ধর্ম : খ্রিস্টান
- বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায় : বৈষ্ণবধর্মের অনুসারী।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৮৭৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যায় সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. বম
  2. ভিল
  3. গুর্খা
  4. লুসাই
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা - ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - চাকমা (৪,৮৩,৩৬৫ জন)।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে - মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - ভিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় - রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় - লালমনিরহাট (১১৮ জন)।

উল্লেখ্য, 
- সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন।
- তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি: CPI.
- গণনা পদ্ধতি: Modified De-fecto.
- দেশে মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
৮৭৬.
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা তে বাংলাদেশে মোট কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪৮টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ তে বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (modified de facto) পদ্ধতি অনুসারে পরিচালনা করা হয়েছে।
- শুমারিতে জিআইএস (Geographic Information System) বেইজড ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে ট্যাবলেট এর মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা হয়।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।


উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৮৭৭.
নিচের কোন উপজাতি সমতলে বসবাস করে?
  1. ক) তঞ্চঙ্গা
  2. খ) মুরং
  3. গ) কোচ
  4. ঘ) পাংখোয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে কোচ সম্প্রদায় অন্যতম প্রাচীন। এরা প্রধানত দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, ‍ঠাকুরগাঁও, শেরপুর প্রভৃতি অঞ্চলে বসবাস করে। কোচরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও এদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রথা রয়েছে। কোচ সমাজে আংশিক মাতৃতান্ত্রিকতা দেখা যায়।
অন্যদিকে মুরং, পাংখোয়া, তঞ্চঙ্গা, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, লুসাই, বম, চাক, খুমি এবং খ্যাং নৃগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৮৭৮.
নিচের কোন জেলায় পাংখোয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. রাঙামাটি
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৭৯.
মারমা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. বৈসু
  3. সাংগ্রাই
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী।
- মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- প্রায়শই তাদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- মারমা জনগণের প্রধান পেশা কৃষি।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।

উল্লেখ্য,
- বিঝু হচ্ছে চাকমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব।
- ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- গারোদের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ওয়ানগালা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৮০.
বাংলাদেশে বাস নেই নিচের কোন উপজাতির?
  1. ক) সাওতাল
  2. খ) মুরং
  3. গ) পিগমি
  4. ঘ) গারো
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বাস নেই পিগমি উপজাতির। 
- ‘পিগমি’ মধ্য আফ্রিকার খর্বকায় উপজাতি। 

অন্যদিকে: 
- সাঁওতাল জনগোষ্ঠী রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া প্রভৃতি জেলায় বসবাস করে।
- গারোদের বসবাস ময়মনসিংহ অঞ্চলে।
 
সুত্র: বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা, সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৮৮১.
হাজংদের প্রধান আবাসস্থল কোথায়?
  1. ক) কক্সবাজার ও রামু
  2. খ) ময়মনসিংহ ও শেরপুর
  3. গ) রংপুর ও দিনাজপুর
  4. ঘ) রাজশাহী ও নাটোর
ব্যাখ্যা
- হাজং জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস ময়মনসিংহ জেলায়।
এছাড়া নেত্রকোনা, শেরপুর ও সিলেট জেলাতেও হাজংদের বসবাস রয়েছে।
- হাজংদের আদি নিবাস উত্তর বার্মায়।

- এদের সমাজ কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- হাজং শব্দের অর্থ ‘মাটির পোকা’।
- হাজংরা ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- তবে তাদের কিছু নিজস্ব আদি বিশ্বাস আছে। উপাসানাভেদে হাজংদের কেউ কেউ শক্তির উপাসক। আবার কেউ কেউ বৈষ্ণবপন্থি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৮২.
সর্বশেষ দেশে কততম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ৩য়
  2. খ) ৪র্থ
  3. গ) ৫ম
  4. ঘ) ৬ষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বশেষ ৫ম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ৯-২০ জুন।
- ২৭ অক্টোবর ২০১৯ এর প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

- প্রথম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৭৭ সালে
- দ্বিতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৮৩-৮৪ সালে
- তৃতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৯৬ সালে
- চতুর্থ কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০০৮ সালে।

- বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
৮৮৩.
Which tribe celebrates 'Biju' festival?
  1. Lusai
  2. Garo
  3. Tripura
  4. Marma
  5. Chakma
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি খুব বেশি ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
৮৮৪.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার কত শতাংশ?
  1. ৩.২%
  2. ৩.৪%
  3. ৩.৬%
  4. ৩.৮%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।
৮৮৫.
বাংলাদেশে মগ নামে পরিচিত কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী? 
  1. চাকমা 
  2. রাখাইন
  3. সাঁওতাল
  4. খাসিয়া 
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- রাখাইনরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৮৮৬.
জ্যাত্ কোন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
জ্যাত্: 
- জ্যাত্: মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি।
- জ্যাত্ হলো মারমাদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি।
- এর মাধ্যমে মারমা সম্প্রদায়ের আদি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।
- আদিকালের রাজা-রাজড়াদের জীবনধারা এতে কাহিনির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়।
- সাধারণ মানুষের জীবনধারা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এতে সুর, তাল ও লয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।
- জ্যাত্ মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে উৎসবমুখর করতে আয়োজন করা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অতিথিদের বিনোদন এবং আনন্দ দেওয়ার জন্য জ্যাত্ পরিবেশিত হয়।
- এটি মারমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে প্রচারের একটি মাধ্যম।

উল্লেখ্য, 
- বান্দরবানের থোয়াইংগ্য পাড়ায় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য ‘মাচয়ইং’ পরিবেশিত হয়।
- রুমার থানা পাড়া জ্যাত্ দল লোকনাট্যটি পরিবেশন করেন।
- ২ জানুয়ারি, ২০২৫ শনিবার রাত ৯টায় পরিবেশনা শুরু হয়ে রাতভর চলে। 
- এটি আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেল।

এছাড়াও
- বিজু চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় উৎসব।
- ওয়ানগালা গারো সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব।
- বৈসু ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব।
- সোহরাই সাঁওতালদের প্রধান উৎসব।
- সাংগ্রেই রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব।
- মণিপুরী নাচ মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি [লিঙ্ক] ও প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
৮৮৭.
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৪৮টি
  2. ৫০টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৪টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৮৮৮.
মং সার্কেলের প্রধান কার্যালয় কোথায়?
  1. বান্দরবান
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল রয়েছে ৩টি।
- সার্কেল ও প্রধান কার্যালয়সমূহ:
- বোমাং সার্কেল: বান্দরবান জেলা
- চাকমা সার্কেল: রাঙামাটি জেলা
- মং সার্কেল: খাগড়াছড়ি জেলা
- পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
- সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়।

উৎস: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৮৮৯.
জাতীয় শিশু নীতি-২০১১ অনুযায়ী, শিশু বলতে কাকে বোঝায়?
  1. ১৪ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি
  2. ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি
  3. ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি
  4. ২১ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিশু নীতি ২০১১:
১. ভূমিকা:
- শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত হয় শিশু আইন ১৯৭৪, যা যুগোপযোগীকরণের মাধ্যমে শিশু আইন ২০১১ রূপে প্রণয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রাসঙ্গিক সকল ক্ষেত্রে শিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক।
- শিশুর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সৎ, দেশপ্রেমিক ও কর্মক্ষম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যত্নশীল ও সক্রিয়।

২.১ শিশু: শিশু বলতে আঠারো বছরের কম বয়সী বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিকে বুঝাবে। দেশের প্রচলিত কোন আইনে এর ভিন্নতা থাকলে এই নীতির আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বিধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২.২ কিশোর কিশোরীঃ কিশোর-কিশোরী বলতে ১৪ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে বুঝাবে।
৩. পরিধি:
জাতীয় শিশু নীতি বাংলাদেশের নাগরিক সকল শিশুর ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে প্রযোজ্য হবে।
৪. মূলনীতি:
বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক সনদসমূহের আলোকে শিশু অধিকার নিশ্চিতকরণ।
শিশু দারিদ্র্য বিমোচন।
শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন ও বৈষম্য দূরীকরণ।
কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন ও বৈষম্য দূরীকরণ।
শিশুর সার্বিক সুরক্ষা ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ।

উৎস: জাতীয় শিশু নীতি- ২০১১।

৮৯০.
খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে কোন জেলায়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙ্গামাটি
  3. কক্সবাজার
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৯১.
'গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মূলত কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. দিনাজপুর
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিলেট
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

• 'গারো' উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়। 

- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে। 
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি। 
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৮৯২.
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নৃগোষ্ঠী হলো-
  1. ক) লুসাই
  2. খ) খিয়াং
  3. গ) হাজং
  4. ঘ) চাক
ব্যাখ্যা
হাজং, ত্রিপুরা, বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরী) সম্প্রদায় হলো সনাতন বা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এছাড়া বর্মন, রাজবংশী, ওরাও, কোচ ও পাহান সম্প্রদায়ের ভেতরেও হিন্দু অনুসারী বৃদ্ধি পাচ্ছে। লুসাই উপজাতি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এবং খিয়াং ও চাক বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। একমাত্র মুসলিম উপজাতি হলো পাঙন যারা সিলেটে বসবাস করে৷ (সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৮৯৩.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা  এর তথ্য সংগ্রহে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. Traditional paper-based survey
  2. Telephone interviewing
  3. Computer-Assisted Personal Interviewing 
  4. Online self-reporting
ব্যাখ্যা

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা
হয়েছে CAPI. (Computer Assisted Personal Interviewing)
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৮৯৪.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রয়েছেন কোন বিভাগে ?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) রংপুর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
- দেশে এলাকা ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রংপুর বিভাগে। সেখানকার ৩৬ শতাংশ নারী কাজ করেন।

কর্মজীবী নারী-
- দেশে এলাকা ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রংপুর বিভাগে। সেখানকার ৩৬ শতাংশ নারী কাজ করেন।
- ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ নারী কাজ করেন।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ২২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কর্মজীবী নারী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, তবে ২০ শতাংশের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।
- পেশাগতভাবে সবচেয়ে বেশি ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও বনজ খাতে।
- নারীর কর্মসংস্থান ১ শতাংশ বাড়লে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায় দশমিক ৩১ শতাংশ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ৩০ আগস্ট ২০২১।
৮৯৫.
ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
  1. ইন্দো-আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা) 
  4. তিব্বত-বর্মী
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল: 
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।

সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব,
- চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি,
- বৈশাখে হোম,
- আশ্বিনে দিবি, 
- পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৯৬.
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা-
  1. প্রায় উনিশ কোটি
  2. প্রায় সাড়ে ষোলো কোটি
  3. প্রায় আঠারো কোটি
  4. প্রায় সতেরো কোটি
ব্যাখ্যা

⇒ ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় সতেরো কোটি।

♦ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
→ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
→ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
→ এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
→ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
→ CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
→ গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
→ মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
→ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
→ জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।

♦ উল্লেখ্য:
⇒ সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
⇒ সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।

⇒ জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
⇒ জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৮৯৭.
সাংসারেক হলো-
  1. ক) গারোদের ধর্ম
  2. খ) সাঁওতালদের প্রধান উৎসব
  3. গ) ত্রিপুরাদের ভাষা
  4. ঘ) রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসব
ব্যাখ্যা
সাংসারেক হলো গারোদের আদি ধর্ম। অতীতে তারা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করতো। তাতারা রাবুগা, সালজং, সুসিমে, গোয়েরা, মেন ইত্যাদি তাদের দেবদেবী। এদের মধ্যে তাতারা রাবুগা তাদের প্রধান দেবতা ছিলো। বর্তমানে গারোরা খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৮৯৮.
লুসাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসন্ত উৎসব কোনটি?
  1. মীমতুত
  2. সাংগ্রং
  3. পলকুত
  4. চাপচারকূত
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৯৯.
‘বৈসাবি’ কোন অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
- বৈসুক ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম। চৈত্র মাসের শেষ দুদিন ও বৈশাখের প্রথমদিন এই উৎসব পালিত হয়।
- বর্তমানে ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব, মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব এবং চাকমাদের বিঝু উৎসব সম্মিলিতভাবে বৈসাবি নামে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে পালিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি
৯০০.
সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) কত?
  1. ৭২.৯৪%
  2. ৭৪.৮০%
  3. ৭৬.৪৪%
  4. ৭৬.৭১%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- গণনা পদ্ধতি: Modified Defacto।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।  
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭৪.৮০% (পুরুষ: ৭৬.৭১%, নারী: ৭২.৯৪%)।
- মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- খানার আকার: ৩.৯৮।

উল্লেখ্য,
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।