বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৬০১৭০০ / ১,৫৬৭

৬০১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে, স্বাক্ষরতার হার-
  1. ৭৩.২০%
  2. ৭২.৮০%
  3. ৭৪.৮০%
  4. ৭৬.৮০%
ব্যাখ্যা

• ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে CAPI- Computer Assisted Personal Interviewing পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
- গণনায় মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

 জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- স্বাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

৬০২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার কত?
  1. ২৫%
  2. ৩০.৬৯%
  3. ৩৫.৩৪%
  4. ৩৯%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:  
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ১৫ হতে ২১ জুন ২০২২ সময়ে দেশব্যাপী পরিচালিত হয়। 
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি। 

⇒ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫ বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।

⇒ ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
⇒ রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ১৭.৬৯%।

⇒ শহর (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) - ৪১.৩০%।
- গ্রাম (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) - ২৫.৭৩%।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৬০৩.
নিচের কোন জেলায় রাজবংশী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবান
  3. দিনাজপুর
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬০৪.
'মারাং বুরু' দেবতার উপাসনা করে -
  1. মারমা
  2. সাঁওতাল
  3. লুসাই
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:

- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য তবু পর্বত দেবতাও (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬০৫.
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে কতটি রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হচ্ছে?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার এবং শিশুর পঙ্গুত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়। শুরুতে ছয়টি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে ১০টি রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

এগুলো হলো:
- শিশুদের যক্ষ্মা
- পোলিও মাইলাইটিস
- ডিফথেরিয়া
- হুপিং কাশি
- মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার
- হেপাটাইটিস-বি
- হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি জনিত রোগসমূহ
- হাম
- রুবেলা
- নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুযায়ী বর্তমানে সারা দেশে সকল প্রকার টিকা গ্রহণকারী শিশুদের হার ৮৬ শতাংশ।

(তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৬০৬.
বর্তমানে কোন জেলায় সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম?
  1. রংপুর
  2. কক্সবাজার
  3. জামালপুর
  4. মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ জেলা ভিত্তিক সাক্ষরতার হার:
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা: পিরোজপুর।
- সাক্ষরতার হার: ৮৫.৫৩%।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা: জামালপুর।
- সাক্ষরতার হার: ৬১.৭০%।

⇒ বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার:
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ বিভাগ: ঢাকা।
- সাক্ষরতার হার: ৭৮.২৪%।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন বিভাগ: ময়মনসিংহ।
- সাক্ষরতার হার: ৬৭.২৩%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৬০৭.
বর্তমানে দেশে শিক্ষা বোর্ডের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।
এগুলো হলো:
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (৭ মে ১৯২১)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী (১৯৬১)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা (১৯৬২)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, যশোর (১৯৬৫)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম (১৯৯৫)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল (১৯৯৯)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, সিলেট (১৯৯৯)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর (স্থাপিত : ২০০৬ সালে; কার্যক্রম শুরু ২০০৯ সালে)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ (২৮ আগস্ট ২০১৭)
- বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (১৯৫৪)
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (১৯৭৮)।
(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়)
৬০৮.
‘গম্ভীরা’ কোন অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত?
  1. সিলেট
  2. ময়মনসিংহ
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
- ‘গম্ভীরা’ লোকসঙ্গীতের উৎপত্তি ভারতের মালদহ জেলার হিন্দু সমাজে। দেশভাগের পর রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মুসলিম সম্প্রদায় ‘গম্ভীরা’ গানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠে।
- আদিতে ‘গম্ভীরা’ গানের মূল বিষয়ে শিবের বন্দনা থাকলেও মুসলিম সমাজে এই গানের বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে।
- নানা-নাতির সংলাপের মাধ্যমে ‘গম্ভীরা’ গান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ প্রভৃতি জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬০৯.
According to the final report of Census 2022, which district has the highest literacy rate?
  1. Jamalpur
  2. Pirojpur
  3. Dhaka
  4. Barisal
  5. Rangamati
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে: CAPI.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে: মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭২.৯৪%।
- সবচেয়ে বেশি সাক্ষরতার হার সম্পন্ন বিভাগ: ঢাকা (৭৮.২৪%)।
- সবচেয়ে কম সাক্ষরতার হার সম্পন্ন বিভাগ: ময়মনসিংহ (৬৭.২৩%)।
- সবচেয়ে বেশি সাক্ষরতার হার সম্পন্ন জেলা: পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সবচেয়ে কম সাক্ষরতার হার সম্পন্ন জেলা: জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৬১০.
চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. বৈসুক
  2. সাংগ্রাই
  3. বিজু
  4. সোহরাই
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৬১১.
'খিয়াং' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গ্রামকে কী বলা হয়?
  1. ইম
  2. পাড়া
  3. খুম
  4. নাম
ব্যাখ্যা
খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬১২.
খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব -
  1. চাপচারকূত
  2. সাংলান
  3. সাংসারেক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬১৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা -
  1. ৪৮টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। এ জেলায় এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪।
- জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।
৬১৪.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ এর রিপোর্ট অনুসারে, গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার কত শতাংশ?
  1. ৪.২%
  2. ৬.৫%
  3. ৮.১%
  4. ১১.৭%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ: ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
⇒ খানাপ্রতি মাসিক গড় আয়: ৩২,৪২২ টাকা।
• শহর: ৪৫,৭৫৭ টাকা,
• গ্রাম: ২৬,১৬৩ টাকা)।

⇒ সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব): ৭৪%।
• পুরুষ: ৭৫.৮%,
• নারী ৭২.৬%।

⇒ দারিদ্র্যের হার:
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ২০.৫%।

⇒ উল্লেখ্য:
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৬১৫.
বাংলাদেশে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  2. রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান
  3. রাজশাহী ও দিনাজপুর
  4. ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। 
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।

৬১৬.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) গারোরা সাধারণত ‘মান্দি' নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
  2. খ) গারোদের ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
  3. গ) বর্তমানে গারোদের অধিকাংশ লোক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
  4. ঘ) গারোদের আদি ধর্মের নাম ছিল ‘সাংসারেক’।
ব্যাখ্যা
গারো

বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গারোরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। গারোরা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে বাস করে। 

- গারোরা সাধারণত ‘মান্দি' নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- গারোদের ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। 
- বর্তমানে গারোদের অধিকাংশ লোক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তারা এখন বড়দিনসহ খ্রিষ্ট ধর্মীয় উৎসব পালন করে।
- গারোদের আদি ধর্মের নাম ছিল ‘সাংসারেক’।

তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬১৭.
'সাংগ্রাই' মারমা সম্প্রদায়ের কী ধরনের উৎসব?
  1. বিয়ের উৎসব
  2. শস্য কাটার উৎসব
  3. ধর্মীয় উৎসব
  4. বর্ষবরণ উৎসব
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- বাসস্থান: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি।
- ধর্ম: বৌদ্ধ।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।
- বর্ষবরণ উৎসব: সাংগ্রাই।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান: কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান: হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান: রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
৬১৮.
নিচের কোন জেলায় হাজংদের বাস নেই?
  1. ময়মনসিংহ
  2. শেরপুর
  3. সিলেট
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
ফরিদপুর জেলায় হাজংদের কোন বাস নেই।

• হাজং:

- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।

- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এটি তারা নিজেদের মধ্যেই ব্যবহার করে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬১৯.
বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা কত?
  1. ৮৭,১৯১ টি
  2. ৮৪,৫০০ টি
  3. ৮৫,৫০০ টি
  4. ৮৩,৯০০ টি
ব্যাখ্যা
• গ্রামীণ যোগাযোগ সমীক্ষা:
- বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা ৮৭,২৩০ টি গ্রাম।
- গ্রামের প্রশাসনিক স্বীকৃতি কম, কিন্তু গ্রামকে কেন্দ্র করে শৈশব থেকে মানুষের বিশাল আবেগ গড়ে উঠে।
- ভুমি প্রশাসনে স্বীকৃত সর্বশেষ ইউনিট মৌজা। দেশের ৮৭,২৩০ টি গ্রামে ৫৬,৩৪৯ মৌজা আছে। একক মৌজার গ্রাম ৪৩,৩৮৬টি।

পঞ্চম আদমশুমারি(২০১১) অনুযায়ী:
- বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা ৮৭,১৯১ টি। 
- তৎকালীন প্রশ্ন ছিলো এটি। সে হিসেবে উত্তর - ৮৭,১৯১ টি গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬২০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার -
  1. ১.০২%
  2. ১.১২%
  3. ১.১৭%
  4. ১.২১%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৬২১.
পৌষ সংক্রান্তির দিন সাঁওতালদের কোন উৎসব জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়?
  1. করম
  2. সরহুল
  3. সোহরাই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নৃগোষ্ঠী।
- আবাসস্থল: মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- প্রধান উপাস্য দেবতা: মারাং বুরু।
- এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সাঁওতালদের জাতীয় উৎসব: সোহরাই।
- সোহরাই পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬২২.
খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের নাম-
  1. সাংলান
  2. হেনেই
  3. সোহরাই
  4. মাইলুকমা
ব্যাখ্যা

খিয়াং:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- দক্ষিণের টেম চিন (Tame Chin) বা উত্তরের ওয়াইল্ড চিন (Wild Chin) নামে অভিহিত আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- গৌতম বুদ্ধকে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে এ উৎসব শুরু হয়।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।

উল্লেখ্য,
- খিয়াং জনগোষ্ঠীর নবান্ন উৎসবের নাম হলো 'হেনেই'।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- অন্যায় বা অপরাধের সাথে জড়িত কোনো লোকের বিচার গ্রামের কার্বারী তাদের নিজস্ব প্রথা অনুসারে করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬২৩.
নিচের কোন জেলায় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই?
  1. রাজশাহী
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- বাসস্থান: রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- বাংলাদেশের  উত্তর ও পশ্চিমাংশে বসবাস করে।
- সাঁওতাল সমাজ: পিতৃতান্ত্রিক।
- গ্রাম প্রধান হলেন: মাঞ্চঝি।
- সাঁওতাল সমাজের মূল ভিত্তি : গ্রাম পঞ্চায়েত।
- প্রধান উৎসব:সোহরাই।

উল্লেখ্য,
- রাখাইনরা বসবাস করে পটুয়াখালী ও কক্সবাজার।
- গারোরা বসবাস করে ময়মনসিংহ।
- মণিপুরীরা বসবাস করে সিলেটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬২৪.
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত? 
  1. ঢাকা
  2. নেত্রকোণা 
  3. শেরপুর
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:
- বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
• ১৯৭৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 'বিশেষ এলাকা উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা মহকুমার দূর্গাপুর থানাধীন বিরিশিরিতে 'উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী' নামক এ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীকালে জাতীয় সংস্কৃতির মূল স্রোতধারার সংগে সংগতি রেখে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হিসেবে এর উপর গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একাডেমীকে ১৬-৭-১৯৭৯ তারিখে 'তথ্য সম্প্রচার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 'ক্রীড়া ও সংস্কৃতি' বিভাগে ন্যাস্ত করা হয়।
- এ একাডেমীতে উপজাতীয় সংস্কৃতি চর্চা করা হয়।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি,
মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।

৬২৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কোন বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. ময়মনসিংহ
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।
- ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
- রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ২৩.৫২%।
• শহর -৪১.৩০%।
• গ্রাম - ২৫.৭৩%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৬২৬.
পাঙ্গন জাতিসত্তা কোন নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? 
  1. সাঁওতাল
  2. খাসিয়া 
  3. রাখাইন
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা

• পাঙ্গন জাতিসত্তা মূলত মণিপুরি মুসলিম বা পাঙাল নামেও পরিচিত এবং তারা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ।
- তারা বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। 

পাঙ্গন জাতিসত্তা: 
- সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে খাজা ওসমানের সৈন্যাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সানীর নেতৃত্বে ইসলাম ধর্মের অনুসারী এক দল সৈন্যবাহিনী মণিপুর রাজ্যে অভিযান চালায়। 
- তখনকার মণিপুরের রাজা খাগোম্বার সাথে এক সন্ধির ফলে এই বাহিনী মণিপুরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। 
- পরবর্তীকালে মোগল শাসক মীর জুমলা আসাম আক্রমণে বিপর্যস্ত হলে ঐ সৈন্যবাহিনীর অনেকে পার্শ্ববর্তী রাজ্য মণিপুরে আশ্রয় নেয়।
- তারা মণিপুরের স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ইসলাম ধর্ম প্রচার করে। 
- মণিপুরের মুসলমান জনগোষ্ঠীরাই পাঙ্গান নামে পরিচিত।
- পাঙ্গানরা 'মেইতেইলোন' ভাষায় কথা বলে যা টিবেটো-বার্মান শাখার কুকি-চিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- এরা সবাই ইসলাম ধর্মের সুন্নী মতাবলম্বী। 
- নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই সাধারণত বিয়ে হয়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ অংশে এদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

উৎস:  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই। 

৬২৭.
বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি -
  1. হাজং
  2. মুরং
  3. পাঙন
  4. লুসাই
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:

- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

তথ্যসূত্র - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬২৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।
- জেলার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- সংখ্যার দিক দিয়ে - বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
৬২৯.
বাবর আলী আলী এভারেস্টের শিখরে পা রাখেন কত তারিখ?
  1. ১৭ মে, ২০২৪ সালে
  2. ১৮ মে, ২০২৪ সালে
  3. ১৯ মে, ২০২৪ সালে
  4. ২০ মে, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশী এভারেস্ট জয়ী:

- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম এভারেস্ট পর্বত বা মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest)।
- ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে নেপালের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব শৈলশিরা ধরে
প্রথম এই শৃঙ্গ জয় করেন। - বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ।
- এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশী এভারেস্ট জয় করেছেন।
- তাঁরা হলেন মুসা ইব্রাহীম, এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন, মো. খালেদ হোসাইন ও বাবর আলী।
- প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২৩ মে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহিম। নারীদের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্টজয়ী হচ্ছেন নিশাত মজুমদার।
- সর্বশেষ ১৯ মে, ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয় করেন বাবর আলী।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ও দ্যা ডেইলী স্টার, ১৯ মে, ২০২৪।
৬৩০.
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে Household প্রতি জনসংখ্যা-
  1. ক) ৪.৪ জন
  2. খ) ৫.০ জন
  3. গ) ৫.৪ জন
  4. ঘ) ৫.৫ জন
ব্যাখ্যা
- আদমশুমারির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিলো ১৫.২৫ কোটি।।
- তখনকার হিসাবে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯৬৪ জন।
- নারী-পুরুষের অনুপাত ১০০ : ১০০.৩
- বাংলাদেশে হাউজহোল্ড প্রতি জনসংখ্যা বা খানা প্রতি জনসংখ্যা- ৪.৪ জন।
৬৩১.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে পুরুষ ও নারীর অনুপাত কত?
  1. ৯৮ : ১০০
  2. ১০০ : ১০৩
  3. ৯৮ :১০৩
  4. ১০০ : ৯৯
ব্যাখ্যা

- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৬৩২.
বাংলাদেশের একমাত্র বালিকা উন্নয়ন কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. কোনাবাড়ী
  2. টঙ্গী
  3. পুলেরহাট
  4. সাভার
ব্যাখ্যা

বালিকা উন্নয়ন কেন্দ্র: 
- বাংলাদেশের একমাত্র বালিকা উন্নয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ীতে অবস্থিত।
- এটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) নামে পরিচিত এবং কিশোর আদালত কর্তৃক প্রেরিত বা আইনের সংস্পর্শে আসা মেয়েশিশুদের পুনর্বাসন ও উন্নয়নের জন্য পরিচালিত হয়।
- কেন্দ্রটিতে ১৫০ জনের অনুমোদিত আসন থাকলেও বর্তমানে ৬৮ জন নিবাসী রয়েছে। 
- এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং আইন অনুযায়ী শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করে।

উল্লেখ্য
- বাংলাদেশে মোট ৩টি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। 
- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক), টঙ্গী, গাজীপুর। 
- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা), কোনাবাড়ী, গাজীপুর। 
- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক), পুলেরহাট, যশোর। 

সূত্র: সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 

৬৩৩.
'গারো উপজাতি' বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. দিনাজপুর
  2. নেত্রকোনা
  3. রাঙ্গামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
গারো: 
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে। এদের সংখ্যা প্রায় দেড়লক্ষ।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে। 

এছাড়াও, 
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।
- গারোদের প্রথাগত আইন অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী মেয়েরা।  
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৩৪.
কোন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকে?
  1. বম
  2. গারো
  3. ম্রো
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
• ম্রো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকে।

মুরং/ম্রো:
- ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- পিতা পরিবারের প্রধান।
- ম্রোরা ধর্মপ্রাণবাদী এবং তাদের তিনজন দেবতা আছে- তুরাই যিনি বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, সাংতুং অর্থাৎ পাহাড়ের দেবতা এবং ওরেং যিনি নদীর দেবী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৩৫.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' কে পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন?
  1. ক) বেলাল আহমেদ
  2. খ) এম এ আজিজ
  3. গ) এম আর আখতার মুকুল
  4. ঘ) আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। 
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’। 
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। 
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৬.
কোন উপজাতিটি বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. ক) হাজং
  2. খ) ওরাওঁ
  3. গ) টোডা
  4. ঘ) বম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মোট ৫০ টি উপজাতি বসবাস করে।
এদের মধ্যে বম উপজাতি পার্বত্য চট্টগ্রামে, হাজংরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং ওরাওঁ উপজাতি উত্তরবঙ্গে বসবাস করে।
টোডা উপজাতি বাংলাদেশে বাস করে না। এরা ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়। ভারতের নীলগিরি পর্বতে এদের বসবাস। এদের সমাজে বহুস্বামী প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬৩৭.
খাসিয়ারা গ্রামকে কী বলে?
  1. মৌজা
  2. মহল্লা
  3. পাড়া
  4. পুঞ্জি
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:

- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৩৮.
কার সময়ে অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লর্ড রিপন
  2. খ) লর্ড লিটন
  3. গ) লর্ড মেয়ো
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়ো’র সময়।
এই আদমশুমারি গুণগতভাবে মানসম্পন্ন না হলেও এই আদমশুমারি থেকেই বাংলা একটি মুসলিম প্রধান রাজ্য হিসেবে প্রথম চিহ্নিত হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬৩৯.
গারোদের আদি ধর্মের নাম কী?
  1. অপোকপা
  2. সাংলান
  3. আচিক
  4. সাংসারেক
ব্যাখ্যা
'গারো' উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে।
- গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।
- তবে বর্তমানে গারোরা খ্রিস্টধর্মের অনুসারী হচ্ছে।
- তাদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা।
- এদের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ পরিবারের প্রধান মাতা।
- গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'দকবান্দা ও দকসারি' এবং পুরুষরা শার্ট, লুঙ্গি, ধুতি ইত্যাদি পরিধান করে।
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৯ম-১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
কোন উপজাতি নিজেদের আচিক্ মান্দে বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে?
  1. ক) গারো
  2. খ) হাজং
  3. গ) চাকমা
  4. ঘ) রাখাইন
ব্যাখ্যা
• গারো:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- গারোরা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে। 
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ।

- এদের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ।
- এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে - ময়মনসিংহে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।

- একই উপগোত্রের মধ্যে বিবাহ গারো সমাজে নিষিদ্ধ।
- গারোরা নিজেদের আচিক্ মান্দে (পাহাড়ের মানুষ) বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- গারোদের প্রধান খাদ্য ভাত।
- বর্তমানে গারোদের শতকরা নিরানব্বইজনই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।
- তাদের প্রধান উৎসব- ওয়ানগালা।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৬৪১.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুযায়ী সাক্ষরতার হার কত শতাংশ?
  1. ক) ৭৪.৪
  2. খ) ৭৪.৭
  3. গ) ৭৫.২
  4. ঘ) ৭৫.৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুসারে,
বাংলাদেশের ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার স্বাক্ষরতার হার ৭৪.৪ বছর।
এর মধ্যে,
- পুরুষদের হার : ৭৬.৫ বছর
- মহিলাদের হার : ৭২.৩ বছর।
আবার, ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার স্বাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ।

সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০।

৬৪২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে কোন জেলায়?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।
- জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর 
- ১৪.৮২% রাজশাহী,
- ৮.২৮% সিলেট,
- ৫.৫২% রংপুর ও
- ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

• সংখ্যার দিক দিয়ে-
- চাকমা হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা।
- তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
         ii) প্রথম আলো।

৬৪৩.
ককবরক ভাষা কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের?
  1. চাকমা
  2. রাখাইন
  3. মারামা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীদের: ত্রিপুরা:
- ত্রিপুরা, ত্রিপুরী বা তিপ্রা হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি নৃগোষ্ঠী।
- বাংলাদেশে এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে।
- তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমতল এলাকার কুমিল্লা, সিলেট, বৃহত্তর চট্টগামের বিভিন্ন উপজেলা, রাজবাড়ি, চাঁদপুর, ফরিদপুর।
- আনুমানিক ৬৫ খ্রিস্টাব্দে সুঁই বংশের সময়কালে পশ্চিম চীনের ইয়াংসি ও হোয়াংহো নদীর উপত্যকা হচ্ছে এদের প্রাচীন আবাসস্থল।
- পরবর্তী সময়ে এই জনগোষ্ঠী ভারতের আসাম হয়ে অত্র অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে।
- ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর ভাষার নাম ককবরক।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
- ত্রিপুরারা সনাতন ধর্মের অনুসারী।
- এদের নববর্ষের উৎসবকে ‘বৈসুক’ বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪৪.
বাংলাদেশে বসবাসরত মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী- 
  1. গারো
  2. মারমা
  3. পাঙন
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা

গারো জনগোষ্ঠী:
- গারো জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী নৃগোষ্ঠী।
- এরা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- তবে- ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর- এই জায়গাগুলোতে গারোদের সংখ্যা অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল ছিল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান। 
- এই সমাজে পরিবারের প্রধান হলেন মা।
- গারো সমাজে সম্পত্তির অধিকারীও হচ্ছে মা।
- পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- সন্তানরা মায়ের পদবি গ্রহণ করে।
- প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী মেয়েরা হয়ে থাকে।
- কিন্তু এই সমাজ ব্যবস্থায় মাত্র একটি নির্বাচিত মেয়ে সম্পত্তির মালিকানা পায়- যাকে গারো ভাষায় ‘নক্না’ বলা হয়।
- সাধারণত পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যাকে এই পদে নির্বাচিত করা হয়। 

অন্যদিকে,
- মারমা, পাঙন, চাকমা সমাজে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে।
- এই সমাজগুলোতে পরিবারের নেতৃত্ব ও সম্পত্তির অধিকার মূলত পুরুষদের হাতেই থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ। 

৬৪৫.
'তাতার' কোন জাতিগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতি?
  1. তুর্কি জাতিগোষ্ঠি
  2. ইরানি জাতিগোষ্ঠি
  3. নেপালি জাতিগোষ্ঠি
  4. পশতুন জাতিগোষ্ঠি
ব্যাখ্যা
'তাতার' তুর্কি জাতিগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতি।

তাতার জাতি:
- তাতার জাতি হল তুর্কি জাতিগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতি, যারা প্রধানত ইউরোপ ও এশিয়ায় বসবাস করে।
- তাদের মঙ্গোলীয় সম্রাট চেঙ্গিস খানের বংশধর হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
- তাতার বলতে বুঝায় যে জনগোষ্ঠী তুর্কি ভাষায় কথা বলে।

অন্যদিকে -
- কুর্দি জাতি পশ্চিম এশিয়ার কুর্দিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় একটি ইরানি জাতিগোষ্ঠী, যারা দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক, উত্তর-পশ্চিম ইরান, উত্তর ইরাক এবং উত্তর সিরিয়ায় বাস করে।
- মাউরি: নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী।
- উইঘুর: চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসকারী তুর্কি বংশোদ্ভুত মুসলিম সম্প্রদায়।
- কারেন: স্বাধীনতাকামী মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী উপজাতি।
- গুর্খা: নেপালের যোদ্ধা জাতি।
- টোডা: বহুস্বামী বিবাহ ভিত্তিক পরিবার দক্ষিণ ভারতীয় এই উপজাতিদের।
- পশতুন: আফগানিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী।
- এক্সিমো: সাইবেরিয়া রাশিয়া অঞ্চলে বসবাস (কুকুর চালিত স্লেজ গাড়ি ব্যবহার করে)।
- পিগমি: পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বকার উপজাতি।
- জুলু: দক্ষিণ আফ্রিকার নিগ্রো জাতি।
- রেড ইন্ডিয়ান: আমেরিকার আদিবাসী।
- আফ্রিদি: বর্তমান পাকিস্তানের এক পশতুন নৃগোষ্ঠী, যাদের কিছু অংশ আফগানিস্তানেও বসবাস করে।

উৎস: i) Britannica.
        ii) History.com.
৬৪৬.
কোন উপজাতির ক্ষেত্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নীতি মাতৃসূত্রীয়?
  1. ত্রিপুরা
  2. চাকমা
  3. রাখাইন
  4. গারো
ব্যাখ্যা
গারো:
- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। তাদের সমাজে মাতা হলো পরিবারের প্রধান। মায়ের বংশ সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়। 
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

অন্যদিকে,
- অপশনের বাকি ৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার নীতি পিতৃসূত্রীয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৬৪৭.
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশে কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৪৮টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ তে বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৬৪৮.
‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ এ শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট কোনটি?
  1. ১৪ জুন রাত ১২টা
  2. ১৪ জুন দুপুর ১২টা
  3. ২২ জুন রাত ১২টা
  4. ১৫ জুন দুপুর ১২টা
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা: 
- ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে। পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে।
- এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- প্রতি ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে।
- কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে একবছর পিছিয়ে যায়।
- পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ।
- ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন সাংবাদিকদের জানান,
- জনশুমারিতে প্রধান ৩৫টি প্রশ্ন থাকবে, এর পাশাপাশি আরও ১০টি তথ্য নেওয়া হবে।
- ফলে জনশুমারিতে মোট ৪৫টি তথ্য নেওয়া হয়। জনশুমারির ওপর যে কোনো দেশের সঠিক পরিকল্পনা নির্ভর করে। 
- ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন দেশব্যাপী ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’  অনুষ্ঠিত হয়। 
- শুমারি শুরুর আগে ১৪ জুন রাত ১২টাকে শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময় হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। 

উৎস: BBS ওয়েবসাইট।
৬৪৯.
বিবিএস প্রকাশিত 'বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২' অনুসারে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা কোনটি?
  1. ডাসার, মাদারীপুর
  2. হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ
  3. নলছিটি, ঝালকাঠি
  4. বোদা, পঞ্চগড়
  5. শিবচর, মাদারীপুর 
ব্যাখ্যা

দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা:
• বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত 'বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২' অনুসারে,
- দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা মাদারীপুর এবং সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা মাদারীপুরের ডাসার। 
- মাদারীপুর জেলার দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
- অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে ধনী থানা ঢাকার পল্টন; জেলা হিসেবে সবচেয়ে ধনী নোয়াখালী।

⇒ দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ১০টি উপজেলা : 
১) ডাসার, মাদারীপুর - দারিদ্র্য হার ৬৩.২%
২) হালুয়াঘাট,ময়মনসিংহ - দারিদ্র্য হার ৫৯.৬%
৩) কালকিনি, মাদারীপুর - দারিদ্র্য হার ৫৬.৩%
৪) রাজৈর, মাদারীপুর- দারিদ্র্য হার ৫৬%
৫) শিবচর, মাদারীপুর - দারিদ্র্য হার ৫৫.১%
৬) নলছিটি, ঝালকাঠি - দারিদ্র্য হার ৫৩.৮%
৭) গৌরীপুর, ময়মনসিংহ -দারিদ্র্য হার ৫২.৯%
৮) মাদারীপুর সদর, দারিদ্র্য হার ৫০%
৯) বেলাব, নরসিংদী - দারিদ্র্য হার ৪৯.৫%
১০) বোদা, পঞ্চগড় -দারিদ্র্য হার ৪৮.২%। 

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট। [link]

৬৫০.
গারোদের আদি নিবাস কোথায় ছিলো?
  1. ক) আরাকান
  2. খ) উত্তর ভারত
  3. গ) তিব্বত
  4. ঘ) দক্ষিণ ভারত
ব্যাখ্যা
গারোরা বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাস করে। তারা তিব্বত থেকে এদেশে আসে। এরা নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর। নিজেদের গারোরা মান্দি বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তাদের ভাষার নাম আচিক খুসিক। তবে গারো ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৬৫১.
পার্বত্য জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা-
  1. ক) সন্তু লারমা
  2. খ) ত্রিদিব রায়
  3. গ) দেবাশীষ রায়
  4. ঘ) মানবেন্দ্র লারমা
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি ও কর্মীরা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠা করেন।
- মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ছিলেন একজন বাংলাদেশী আদিবাসী নেতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।
- পাহাড়ি জনতার প্রাণের দাবিতে তিনি সারা জীবন আন্দোলন করে গেছেন।
- ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর তার আন্দোলনের সফলতা অর্জিত হয় শান্তিচুক্তির মাধ্যমে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৬৫২.
হাজং সম্প্রদায় কোন ধর্মের অনুসারী?
  1. ক) বৌদ্ধ
  2. খ) খ্রিস্টান
  3. গ) ইসলাম
  4. ঘ) হিন্দু
ব্যাখ্যা
- হাজং, ত্রিপুরা, বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরী) সম্প্রদায় হলো সনাতন বা হিন্দু ধর্মের অনুসারী।
- এছাড়া বর্মন, রাজবংশী, ওরাও, কোচ ও পাহান সম্প্রদায়ের ভেতরেও হিন্দু অনুসারী বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- লুসাই উপজাতি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- একমাত্র মুসলিম উপজাতি হলো পাঙন যারা সিলেটে বসবাস করে৷
- চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় :সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
৬৫৩.
বাংলাদেশে প্রতি লাখে মাতৃ মৃত্যুহার কত?
  1. ক) ১৬৯ জন
  2. খ) ১৯৩ জন
  3. গ) ২১১ জন
  4. ঘ) ৩১৬ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর SVRS Report-2018 অনুসারে প্রতি এক লক্ষ জীবিত শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যু হার ১৬৯ জন। গ্রামে এই হার প্রতি লাখে ১৯৩ জন এবং শহর অঞ্চলে ১৩২ জন। ২০১৬ ও ২০১৪ সালে প্রতি লাখে মাতৃ ‍মৃত্যুহার ছিলো যথাক্রমে ১৭৮ জন ও ১৯৩ জন। (সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর SVRS Report-2018)
৬৫৪.
বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ কোন অঞ্চলের?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
₻ মনিপুরী
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী।
- নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাসা (Rasa) নৃত্য। ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৫৫.
’বৈসু’ কাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. গারো
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

- ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- বৈসু উৎসব এদের জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব।
- বৈসু উৎসব একটানা তিন দিন পালন করা হয়।
- এই তিন দিনের অনুষ্ঠানগুলির নাম হলো হারি বৈসু, বিসুমা বৈসু ও বিসিকাতাল বা আতাদাং বৈসু।
- বৈসু উৎসবের প্রথম দিন হারি বৈসু।
- এই দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তারা ঘরদোর লেপেপোঁছে, বসতবাড়ি কাপড়চোপড় পরিস্কারপরিচ্ছন্ন করে।
- ত্রিপুরারা বিশেষ একপ্রকার গাছের পাতার রস আর হলুদের রস মিশিয়ে গোসল করে।
- ফুল দিয়ে ঘরবাড়ি সাজায়।
- উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিসুমাতে ত্রিপুরারা নববর্ষকে স্বাগত জানায়, ধূপ, চন্দন ও প্রদীপ জ্বেলে পূজা দেয় ও উপাসনা করে।
- অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন বিসিকাতালে আমিষ খাবার গ্রহণে বাধা নেই।

উল্লেখ্য,
- বৈসাবি  বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব। বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি।
- বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে এবং এগুলি বৈসাবি নামে পরিচিত। সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।
- গারোদের উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৫৬.
শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুসারে, কোন বিভাগে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম?
  1. ময়মনসিংহ
  2. চট্টগ্রাম
  3. বরিশাল
  4. ঢাকা 
ব্যাখ্যা

শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪:
- শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম।

⇒ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বেকার ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৬ লাখ ৮৭ হাজার বেকার আছে।
- দেশের বিভাগওয়ারি হিসাবে ঢাকা বিভাগের পর চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ লাখ ৮৪ হাজার, রাজশাহীতে ৩ লাখ ৫৭ হাজার, খুলনায় ৩ লাখ ৩১ হাজার, সিলেটে ২ লাখ ১৬ হাজার, রংপুরে ২ লাখ ৬ হাজার, বরিশালে ১ লাখ ৩৯ হাজার এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৪ হাজার বেকার আছে।
- বিবিএসের জরিপ অনুসারে, দেশে যত বেকার আছে, তাঁদের মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী।

⇒ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুসারে, 
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ৪৪.৬৭%।
- শিল্প খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ১৭.৩৭%।
- সেবা খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ৩৭.৯৬%।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
ii) প্রথম আলো।

৬৫৭.
বাংলাদেশে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি? [মার্চ, ২০২৫]
  1. মারমা
  2. চাকমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা: 
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ৫০টি জাতিসত্তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা।
- চতুর্থ স্থানে আছে সমতলের জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল। 
- জেলার নিরিখে দেশে রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এ জেলায় এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪।
- এরপরই আছে আরেক পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- এখানে জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
৬৫৮.
নিচের কোন অঞ্চলে হাজংদের বসবাস রয়েছে?
  1. পটুয়াখালীতে
  2. ময়মনসিংহে
  3. রংপুরে
  4. রাজশাহীতে
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং  বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়।
- প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে। 

ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী:
- রাজবংশী উপজাতির বসবাস রংপুর।
- বাংলাদেশে মনিপুরী, খাসিয়া উপজাতি বাস করে সিলেট অঞ্চলে।
- রাঙ্গামাটিতে বাস করে চাকমা, মারমা, তনচংগা সহ বেশ কয়েকটি উপজাতির অংশবিশেষ।
- রাখাইন উপজাতিরা বসবাস করে পটুয়াখালীতে।
- সাওতাল - রাজশাহী, রংপুর।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫৯.
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে পুরুষদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স কত?
  1. ক) ২১.৯ বছর
  2. খ) ২২.৫ বছর
  3. গ) ২৪.২ বছর
  4. ঘ) ২৬.৫ বছর
ব্যাখ্যা
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রথম বিবাহের গড় বয়স ২৪.২ বছর।
অন্যদিকে, মহিলাদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স ১৮.৫ বছর।
(সূত্র: SVRS Report-2019, বিবিএস ওয়েবসাইট)
৬৬০.
নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় ময়লাদেওয়ের পূজা করে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. হাজং
  2. মারমা
  3. লুসাই
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- প্রতিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
'চেরাউ নৃত্য' কোন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য?
  1. বম
  2. লুসাই
  3. হাজং
  4. ম্রো
ব্যাখ্যা
বম জনগোষ্ঠী:
- বাংলাদেশের বান্দরবানে বেশিরভাগ বম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- বমদের গ্রামগুলির চারপাশে শক্ত গাছের খুঁটি পুঁতে বেষ্টনী তৈরি করা হতো।
- বমরা মাটিতে খুঁটি পুঁতে উঁচু পাহাড়ের উপর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাতে বাড়িঘর নির্মাণ করে। তাদের ঘরকে মাচাং বলা হয়। মাচাং বাঁশ বা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।
- সামাজিক আচার-আচরণ, বিচার সালিশ এবং বিবাদ মীমাংসার জন্য এদের নিজস্ব সামাজিক অবকাঠামো আছে।
- এই কাঠামো সামগ্রিকভাবে সামাজিক আচার-ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- বমরা তাদের জীবন পরিচালনা করে বম কাস্টমারি ল’ গ্রন্থের নির্দেশিকা অনুযায়ী।
- বমদের বাঁশনৃত্য তাদের জীবনেরই অপরিহার্য অংশ। এটি পরিবেশ থেকে নেওয়া নৃত্যানুষ্ঠান।
- 'চেরাউ নৃত্য' বম জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য।
- বমদের চেরাউ নৃত্য ও সঙ্গীত আসলে কোন আনন্দের বা উৎসবের নৃত্য বা গান নয়।
- এ নৃত্য ও গান পরিবেশিত হয় বম পরিবারের দুঃখ ও শোকের দিনে। বিশেষ করে পরিবারের কারও অকাল বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে এই গান করা হয়।
- শোকের সময় মানুষকে সান্ত্বনা ও সাহস দেওয়ার এটাই বমদের রীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৬২.
What is the population growth rate of Bangladesh by Economic Review - 2022?
  1. ক) 1.22%
  2. খ) 1.25%
  3. গ) 1.35%
  4. ঘ) 1.37%
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২২ অনুসারে, 

মোট জনসংখ্যা = ১৭ কোটি ৮ লাখ (১৭০.৮ মিলিয়ন)
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার = ১.৩৭%
জনসংখ্যার ঘনত্ব = ১১৪০/বর্গ কি.মি.
গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল =  ৭২.৮ বছর (পুরুষ - ৭১.২ বছর ও নারী - ৭৪.৫ বছর)
স্বাক্ষরতার হার (৭ বছরের অধিক) =  ৭৫.২%  (পুরুষ - ৭৭.৪% ও নারী - ৭২.৯%)

পুরুষ ও নারীর অনুপাত = ১০০.২ : ১০০
ডাক্তার প্রতি জনসংখ্যার অনুপাত =  ১ : ১৭২৪
সুপেয় পানি গ্রহণকারী = ৯৮.৩%

দারিদ্র্যের হার =  ২০.৫%
চরম দারিদ্র্যের হার = ১০.৫%
স্থূল জন্মহার (প্রতি হাজারে) =  ১৮.১ জন
স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি হাজারে) =  ৫.১ জন

সূত্র: অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২২
৬৬৩.
৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুসারে, কোন সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ?
  1. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
  2. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
  3. কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন 
  4. নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

• সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।

• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
৬৬৪.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠী যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য 'পাঞ্চেস’ গঠন করে?
  1. ওরাঁও
  2. রাখাইন
  3. সাঁওতাল
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
• ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়। 
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁড়ুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে।
-যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস। গ্রামের বয়স্ক সাত-আটজন ব্যক্তি দ্বারা পাঞ্চেস গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]
৬৬৫.
বিবিএস এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি হাজারে স্থূল জন্মহার কত?
  1. ক) ১৫.৯
  2. খ) ১৮.৩
  3. গ) ১৮.১
  4. ঘ) ২০.০
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে স্থূল জন্মহার ১৮.১। এর মধ্যে শহর অঞ্চলে স্থূল জন্মহার ১৫.৯ এবং গ্রামাঞ্চলে স্থূল জন্মহার ২০.০। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে স্থূল মৃত্যুহার ৪.৯।
(সূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2019, বিবিএস ওয়েবসাইট)
৬৬৬.
‘সাঁওতাল’ জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসস্থল কোথায়?
  1. বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল
  2. রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল
  4. বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল
ব্যাখ্যা

সাঁওতালদের আবাসঃ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দুই লক্ষের বেশি সাঁওতাল বসবাস করেন। তাদের মূল আবাসস্থল রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল।
- অর্থাৎ রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অধিকাংশ সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর বসবাস। বগুড়া, রংপুর, পাবনা, ময়ংমনসিংহ এবং বৃহত্তর সিলেট জেলায়ও সাঁওতালদের বসবাস রয়েছে।
- সিলেট অঞ্চলের চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের একটি অংশ সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত বলে মনে করা হয়।
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে বনজঙ্গলের পতিত জমিতে সাঁওতালরা বসবাস শুরু করে। পরে পতিত জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ আরম্ভ করে।
সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (উন্মুক্ত)।

৬৬৭.
‘ওরাঁও’ নৃ-গোষ্ঠী কোন অঞ্চলে বাস করে?
  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  2. শেরপুর
  3. মৌলভীবাজার
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা

- ‘ওরাঁও’ নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া।
- কুঁড়ুখ ও সাদরি ভাষা : ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠী।
- এরা আদি-অস্ট্রেলীয়।
- এরা পিতৃতান্ত্রিক।
- এরা প্রকৃতি উপাসক।
- গারোদের বসবাস ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও টাঙ্গাইলের নলিতাবাড়ি।
- মণিপুরীদের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে।

তথ্যসূত্র- সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৮.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হারে শীর্ষ বিভাগ- 
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. রাজশাহী 
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)। 
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৬৬৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. খুলনা
  2. সিলেট
  3. চট্টগ্রাম
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।
- ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
- রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ২৩.৫২%।
• শহর -৪১.৩০%।
• গ্রাম - ২৫.৭৩%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৬৭০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা হচ্ছে -
  1. পিরোজপুর
  2. জামালপুর
  3. ঢাকা
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।

সূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৬৭১.
'আচিক' কোন নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার নাম?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) ওঁরাও
  4. ঘ) গারো
ব্যাখ্যা
গারোরা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে বাস করে।  বৃহত্তর সিলেট জেলায়ও কিছু সংখ্যক গারো রয়েছে। বাংলাদেশের গারোরা সাধারণত সমতলের বাসিন্দা৷

- গারোদের ভাষা 'আচিক'।
- এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- গারো ভাষা তিব্বতীয়-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।


তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৭২.
রাখাইন জনগোষ্ঠী কী নামে পরিচিত?
  1. মারমা
  2. মগ
  3. মাইজু
  4. পাঙ্গাল
ব্যাখ্যা

রাখাইন জাতিসত্তা: 
- রাখাইন বাংলাদেশের ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠী।
- তারা মগ নামেও পরিচিত।
- এরা আঠারো শতকের শেষের দিকে আরাকান (বর্তমান রাখাইন রাজ্য, মায়ানমার) থেকে বাংলাদেশে আসেন।
- বাংলাদেশে তারা কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসতি স্থাপন করে।
- রাখাইনরা রাখাইন ভাষা বা ম্রো ভাষায় কথা বলে।
- রাখাইন ভাষা মিয়ানমারের বর্মী ভাষা পরিবারভুক্ত।
- রাখাইনরা প্রধানত কৃষিকাজে নিয়োজিত।
- তারা জুমচাষ বা পাহাড়ি চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করে।
- ধর্ম: মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, তবে কিছু হিন্দু ও মুসলিম রাখাইনও আছে।

অন্যদিকে,
- পাঙ্গাল মুসলিম জাতিসত্তা।
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৬৭৩.
ওরাঁও জনগোষ্ঠী কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. ক) সাদরি
  2. খ) মুন্ডারি
  3. গ) কুঁড়ুখ
  4. ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাসকারী ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ও সাদরি ভাষায় কথা বলে।
এর মধ্যে কুঁড়ুখ হলো দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা। এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- মুন্ডারি ভাষায় কথা বলে মুন্ডা জনগোষ্ঠী।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৬৭৪.
'বৈসু' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব?
  1. লুসাই
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৬৭৫.
শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ইউজিসি
  2. নেপ
  3. ডিপিই
  4. নায়েম
ব্যাখ্যা
♦নায়েমঃ 
• ন্যাশনাল একাডেমি ফর এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট (নায়েম) দেশের শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।
• এটি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়।
• এটির অবস্থান ঢাকার নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজের পাশে।
• এখানে সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র: নায়েম ওয়েবসাইট।
৬৭৬.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা কত শতাংশ?
  1. ১.৪৪%
  2. ১.৩৭%
  3. ১.৪৯%
  4. ১.২৪%
ব্যাখ্যা

দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হার:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুসারে, দেশে বর্তমানে ২২ লাখ ৬৫ হাজার ২০১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। এটি মোট জনসংখ্যার ১.৩৭ শতাংশ অর্থাৎ দেশে প্রতিবন্ধীর হার শতকরা ১.৩৭ শতাংশ।

⇒ দেশে পুরুষ প্রতিবন্ধী ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯১ জন ও নারী প্রতিবন্ধী ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৯ জন।
- তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৫৪১ জন।
- সবচেয়ে বেশি ৪,৫৮,৬৮৩ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাস ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৪,১৬,১৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৩,২৭,৪৫২ জন এবং সবচেয়ে কম ১,৪২,০৯৬ জন বরিশাল বিভাগে।
- দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা সর্বাধিক যা মোট প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ৩৩.৩৮%।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।

৬৭৭.
বান্দরবান বোমাং সার্কেলের বোমাং রাজপুস্তিকায় ‘মিঙসাক’ নামে তালিকাভুক্ত আছে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. মুরং
  2. মুন্ডি
  3. চাক
  4. বম
ব্যাখ্যা
চাক:
- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- বাসস্থান: পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি।
- বান্দরবান বোমাং সার্কেলের বোমাং রাজপুস্তিকায় ও রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে চাকরা ‘মিঙসাক’ নামে তালিকাভুক্ত আছে।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত।
- ১৯৫৯ সালে চাক ধর্মগুরু মহাথেরো গন্ধর্ব ওয়েংসারের প্রচেষ্টায় চাক সমাজে শিক্ষার বিস্তার ঘটে।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।
- তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ।

⇒ শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদি রয়েছে। যেমন -
• নাইংছাঙাহাং,
• পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান),
• ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।

⇒ বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে রয়েছে,
• আচাংগায়ুগা (কনে দেখা),
• চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৭৮.
ষষ্ঠ আদমশুমারি অনুযায়ী কোন জেলায় সাক্ষরতার হার বেশি?
  1. পিরোজপুর
  2. লালমনিরহাট
  3. গাইবান্ধা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
৬৭৯.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য 'রাসা' নৃত্য?
  1. খাসিয়া
  2. চাকমা
  3. ত্রিপুরা
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:
- বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মণিপুরী।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী।
- নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী নৃত্য মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই।
- মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রাসা নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসা নৃত্যের অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৮০.
বাংলাদেশে মহিলা প্রতি প্রজনন হার কত?
  1. ক) ২.০৫
  2. খ) ২.১৫
  3. গ) ২.৩৮
  4. ঘ) ২.৫০
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর SVRS Report-2018 অনুসারে ১৫-৪৯ বয়সী মহিলাদের জনপ্রতি সন্তান প্রজনন হার বা মোট প্রজনন হার ২.০৫। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে এই হার ২.৩৮ এবং শহরাঞ্চলে ১.৬৮। ২০১৬ ও ২০১৪ সালে (১৫-৪৯ বয়সী)মহিলা প্রতি মোট প্রজনন হার ছিলো যথাক্রমে ২.১০ ও ২.১১। (সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর SVRS Report-2018)
৬৮১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যার ঘনত্ব -
  1. ১০১৯ জন
  2. ১১১৯ জন
  3. ১১২৯ জন
  4. ১২১৯ জন
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৬৮২.
সাঁওতালদের বসবাস রয়েছে কোন অঞ্চলে?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) রংপুর
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল
• সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
• তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
• প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
• সাঁওতালদের ভাষা: সাঁওতালি।
• সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
• সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই। খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে। 
• প্রধান উৎস: সোহরাই।

তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮৩.
নিচের কোন জেলায় রাজবংশি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. পটুয়াখালী
  2. কক্সবাজার
  3. রংপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
রাজবংশি:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৮৪.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. মারমা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
♦ চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
-  তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৮৫.
বাংলাদেশে বাস নেই এমন উপজাতির নাম-
  1. বানাই
  2. মাহাতো
  3. হুনজা
  4. মুরং
ব্যাখ্যা
হুনজা পাকিস্তানের একটি উপজাতি 
- বাংলাদেশে মোট ৫০ টি উপজাতি রয়ছে।
- ২৩ শে র্মাচ ২০১৯ বাংলাদেশ সরকার ৫০ টি উপজাতির নাম উল্লখে করে গেজেট প্রকাশ করে।
- উপজাতিসমূহ হলঃ
ওরাওঁ, কোচ, কোল, কন্দ, কড়া, খারিয়া/খাড়িয়া, খারওয়ার/খাড়োয়ার, খাসিয়া, খিয়াং, খুমি, গারো, গঞ্জু, গড়াইত,
গুর্খা, চাক, চাকমা, ডালু, তঞ্চঙ্গা, ত্রিপুরা, তেলী, তুরী, মালপাহাড়ি, পাংখোয়া, পাত্র, বাগদি, বানাই, বাড়াইক, বেদিয়া,
বম, বর্মণ, ভিল, ভূমিজ, ভূঁইমালি, মণিপুরী, মারমা, মুন্ডা, ম্রৌ, মাহাতো, মালো, মাহালী, মুসহর, রাখাইন, রাজোয়ার,
লোহার, লুসাই, শবর, সাঁওতাল, হুদি, হো এবং হাজং।

সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি গেজেট, ২৩ মার্চ ২০১৯),  ব্রিটানিকা।
৬৮৬.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. ময়মনসিংহ
  3. নেত্রকোণা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর:
- রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি নামক স্থানে অবস্থিত।
​- এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের অভ্যন্তরে এ জাদুঘরটি অবস্থিত।
- এখানে পার্বত্য অঞ্চলে ববাসরত উপজাতি সমূহের ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যাবে।
- জাদুঘরে রক্ষিত উপজাতীয়দের বিভিন্ন যে কাউকে মুগ্ধ করে সহজে।
- এছাড়াও জাদুঘরের অভ্যন্তরে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমূহের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র।
- এর ভবনটি অনন্য আধুনিক স্থাপত্য কলায় নির্মিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৮৭.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে, স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা কত?
  1. ৫০টি
  2. ৪৫টি
  3. ৪৭টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে,

- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা (৪,৮৩,৩৬৫ জন)।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)। 
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় লালমনিরহাট (১১৮ জন)। 

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৬৮৮.
এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট কতটি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
♦ আদমশুমারি:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬৮৯.
বাংলাদেশের কোন বিভাগে সর্বাধিক ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী বসবাস করে?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) রংপুর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫০টি উপজাতির মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৩১.৫ লক্ষ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক ১৫ লক্ষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৬ লক্ষ, ঢাকা বিভাগে ৩ লক্ষ, সিলেট বিভাগে ৩ লক্ষ, রংপুর বিভাগে ২ লক্ষ এবং বরিশাল ও খুলনা বিভাগে ২.৫ লক্ষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৬৯০.
খাসিয়া উপজাতির পারিবারিক কাঠামো-
  1. মাতৃতান্ত্রিক
  2. পিতৃতান্ত্রিক
  3. ভ্রাতৃতান্ত্রিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা বসবাস করে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৯১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নারী সাক্ষরতার শতকরা হার কত?
  1. ৭০.৬৪%
  2. ৭১.৩৫%
  3. ৭২.৯৪%
  4. ৭৩.৭১%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ বিভাগ: ঢাকা (৭৮.২৪%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন বিভাগ: ময়মনসিংহ (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা: পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা: জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৬৯২.
'ওয়ানগালা' কাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব?
  1. গারো
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।

অন্যদিকে -
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের উৎসব।
- বৈসুক হলো ত্রিপুরাদের উৎসব।
- সাংগ্রাই হলো মারমাদের উৎসব।

উৎস: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৬৯৩.
বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় জনশুমারি ও গৃহ গণনা কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১০ জুন থেকে ১৬ জুন, ২০২২
  2. খ) ১৫ জুন থেকে ২১ জুন, ২০২২
  3. গ) ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই, ২০২২
  4. ঘ) ২০ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই, ২০২২
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনশুমারি পরিচালনা করে - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS).
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১০ বছর পরপর।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২। তবে বন্যা পরিস্থির কারণে কিছু কিছু এলাকায় ২৭ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় - ২৭ জুলাই ২০২২।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৬৯৪.
চাকমা সমাজে কে পাড়ার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে?
  1. ক) মারাক
  2. খ) নায়কি
  3. গ) কার্বারি
  4. ঘ) সাংমা
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। 
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
- তাদের মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা এবং কালো, গায়ের রং ঈষৎ হলদেটে।
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।

সামাজিক জীবন:
- চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’।
- পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক । চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।
- তারপরে মা ও জ্যেষ্ঠপুত্রের স্থান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
৬৯৫.
নিম্নলিখিত কোন জেলায় জন সংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
  1. পটুয়াখালী
  2. খাগরাছড়ি
  3. রাঙামাটি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরুপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৬৯৬.
গারোদের সমাজব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. পিতৃতান্ত্রিক
  2. মাতৃতান্ত্রিক
  3. শ্রেণিভিত্তিক
  4. গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
- গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। মায়ের হাতেই সম্পত্তি ও পরিবারের কর্তৃত্ব থাকে।

গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় গারোদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিব্বতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।
 
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৯৭.
বিশ্ব জনসংখ্যার অবস্থা (এসডব্লিউওপি)-২০২৫ অনুসারে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা-
  1. ১৭ কোটি ৫৭ লাখ
  2. ১৬ কোটি ৮৭ লাখ
  3. ১৮ কোটি ৫৭ লাখ
  4. ১৫ কোটি ৫৯ লাখ
ব্যাখ্যা
বিশ্ব জনসংখ্যার অবস্থা (এসডব্লিউওপি) ২০২৫- অনুসারে,
-বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ।
-এর মধ্যে অর্ধেক নারী।
- আর দুই-তৃতীয়াংশ  (১১ কোটি ৫০ লাখ) কর্মক্ষম বয়সী।
- বাংলাদেশের এই জনসংখ্যার ৭ শতাংশ (১ কোটি ২০ লাখ) ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী।
- বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ কিশোর-কিশোরী (প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ)। 
- বৃহত্তর যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৮ শতাংশ (প্রায় ৫ কোটি)।

উৎস: ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশ (ইউ এন বি) লিংক
৬৯৮.
নিচের কোন জেলায় হাজং জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) নেত্রকোনা
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
হাজং
• হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
• ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়। 
• নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়।
• তারা হিন্দু/সনাতন ধর্মাবলম্বী।
• সমাজ কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৬৯৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষের সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭৩.৩৯%
  2. ৭৪.৭৮%
  3. ৭৫.২১%
  4. ৭৬.৭১%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৭০০.
লুসাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসন্ত উৎসব কোনটি?
  1. সাংগ্রুং
  2. মীমতূত
  3. পলকূত
  4. চাপচারকূত
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।