বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৫০১৬০০ / ১,৫৬৭

৫০১.
কোথায় জুম চাষ পদ্ধতি প্রচলিত আছে?
  1. দিনাজপুর
  2. যশোর
  3. খাগড়াছড়ি
  4. টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

জুম চাষ হলো একপ্রকার স্থানান্তর চাষাবাদ পদ্ধতি যা সাধারণত পাহাড়ী এলাকায় করা হয়। এ পদ্ধতিতে ঢালু পাহাড়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা হয়।
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে জুম চাষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।
(উৎসঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

৫০২.
কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাকমা বসবাস করে?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. পটুয়াখালী
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
চাকমাদের আবাস ও ভাষা:
- চাকমারা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে।
- সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাকমা বসবাস করে রাঙামাটি জেলায়।
- বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সর্ববৃহৎ।
- ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, চাকমারা পূর্বে টিবেটো বার্মা ভাষা পরিবারভুক্ত আরাকানি ভাষায় কথা বলত।
- চাকমাদের লিপিতে আরাকানি অক্ষরের প্রাধান্যই বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- বর্তমানে তারা ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষায় কথা বলে।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিখিত লিপি রয়েছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে চাকমা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়েছে।
- এছাড়াও সংগীত ও চলচিত্রেও চাকমা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৩.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়?
  1. ত্রিপুরা
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়। 
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।

অন্যদিকে,
- ত্রিপুরাদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় পিতাই পরিবারের প্রধান।
- সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাখাইনদের পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫০৪.
'সান্দ্রে' কোন উপজাতি গোষ্ঠীর উৎসব?
  1. মনিপুরী
  2. সাঁওতাল 
  3. রাখাইন
  4. তঞ্চঙ্গ্যা 
ব্যাখ্যা
রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে বেশির ভাগ রাখাইনের বসবাস কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়, এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও কিছু রাখাইন বাস করে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।

⇒ রাখাইদের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছে: প্রবারণা পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, জলকেলি (লেই খেখু), নববর্ষ প্রভৃতি।
- রাখাইন উপজাতির বর্ষবরণ উৎসবের নাম সান্দ্রে।
- প্রতি বছর রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব 'সাংগ্রাং পোয়ে' বা 'জলকেলি উৎসব'। উদযাপন করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫০৫.
বাংলাদেশের কোন সম্প্রদায়ের মাঝে মাতৃতান্ত্রিক প্রথা চালু আছে?
  1. সাঁওতাল
  2. খাসিয়া
  3. মনিপুরী
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠি।
- স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদের মালিক হয় নারীরা।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- এদের গাত্রবর্ণ হরিদ্রাভ, নাক-মুখ চেপ্টা, চোয়াল উঁচু, চোখ কালো ও ছোট টানা এবং খর্বকায়।
- খাসিয়ারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জিপ্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বাংলাদেশে এদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে।
- ভাত, মাংস, শুঁটকি মাছ ও মধু খাসিয়াদের প্রধান খাদ্য।
- তারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে।
- খাসিয়াদের প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ।
- বর্তমানে বেশিরভাগ খাসিয়াই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫০৬.
বস্তিতে বসবাসকারী সবচেয়ে কম জনসংখ্যা কোন বিভাগে?
  1. সিলেট বিভাগে
  2. রাজশাহী বিভাগে
  3. ময়মনসিংহ বিভাগে
  4. ঢাকা বিভাগে
ব্যাখ্যা
বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যা:
• বস্তিতে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যা ১৭,৩৬,৩০২ জন।
- পুরুষ ৮,৯৭,৪০৩ জন
- নারী ৮,৩৮৪৪৩ জন
- হিজরা ৪৫৬ জন
• বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৮,৬৮,৫৩৭জন)।
বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যা সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৩১,৯১৪জন)।


উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, চুড়ান্ত রিপোর্ট।
৫০৭.
২০২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমার্তনে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করা হবে কাকে?
  1. ক) ড. মাহাথির মোহাম্মদ
  2. খ) নরেন্দ্র মোদি
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) বান কি মুন
ব্যাখ্যা
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ বিশেষ সমাবর্তন আয়োজন করবে। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানকে সম্মানসূচকে ‘ডক্টর অব লজ’ (মরনোত্তর) ডিগ্রি প্রদান করা হবে এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি।(সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট)
৫০৮.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে কোন ধর্মের অনুসারী সবচেয়ে বেশি?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. খ্রিষ্টান
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ধর্ম: 
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী সবচেয়ে বেশি।
- ২০২২ সালের জনশুমারি অনুসারে, দেশের মোট বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ (০.৬১%), যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- খ্রিস্টান ধর্মানুসারী প্রায় ৪ লাখ (০.৩০%), এবং হিন্দু ধর্মানুসারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে কম, কারণ হিন্দু জনসংখ্যা (৭.৯৫%) মূলত বাঙালি সম্প্রদায় থেকে আসে।

» তুলনামূলক অন্যান্য ধর্ম:
• খ্রিস্টান: 
- বাংলাদেশে মোট খ্রিস্টান ধর্মানুসারী প্রায় ৪ লাখ (০.৩০%)।  যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত। 
- এদের মধ্যে গারো (প্রধানত খ্রিস্টান), সাঁওতালের একটি অংশ, ওরাওঁ, খাসিয়া, লুসাই, বম ইত্যাদি অন্যতম।
- এদের সংখ্যা বৌদ্ধদের তুলনায় কম।
• হিন্দু: 
- বাংলাদেশে মোট হিন্দু ধর্মানুসারী প্রায় ১৩ মিলিয়ন (৭.৯৫% )।
- কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে হিন্দু অনুসারী কম (যেমন ত্রিপুরা, সাঁওতালের একটি অংশ, মণিপুরী)।
- এর মূল কারণ মোট হিন্দু জনসংখ্যার অধিকাংশ বাঙালি হিন্দু।

• অন্যান্য: 
- কিছু গোষ্ঠী (যেমন ম্রো, কিছু খুমিঐতিহ্যবাহী প্রকৃতি-উপাসনা করে।

তথ্যসূত্র: 
i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) US State Department. 
iii) IWGIA - International Work Group for Indigenous Affairs.

৫০৯.
বাংলাদেশে প্রতিবছর কবে 'জাতীয় জনসংখ্যা দিবস' পালন করা হয়?
  1. ৫ মে
  2. ৪ এপ্রিল
  3. ২ ফেব্রুয়ারি
  4. ২২ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতি:
- সাধারণভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিক নির্দেশনা হয় তাকেই বলা হয় দেশটির জনসংখ্যা নীতি।
- দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এ নীতির লক্ষ্য হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের নাগরিকদের জীবনমানের উন্নতি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১৭১ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয় ২৭৮৪ মার্কিন ডলার।
- জনসংখ্যা সম্পর্কে বর্তমানে বাংলাদেশের স্লোগান হচ্ছে 'দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়।'
- প্রতিবছর ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে 'জাতীয় জনসংখ্যা দিবস' পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৪।

৫১০.
'বিজু' কোন নৃগোষ্ঠীর প্রধান উৎসবের নাম?
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) গারো
  3. গ) চাকমা
  4. ঘ) মুরং
ব্যাখ্যা
চাকমাদের প্রধান উৎসব বিজু।
অন্যদিকে,
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের প্রধান উৎসব।
- মুরংদের প্রধান উৎসব চিয়াৎসপয় 
- গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব ওয়ানগালা 

তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি , ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি।
৫১১.
বাংলাদেশে বসবাসরত সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. মারমা
  2. চাকমা
  3. ত্রিপুরা
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
চাকমাদের আবাস ও ভাষা:
- চাকমারা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে।
- সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাকমা বসবাস করে রাঙামাটি জেলায়।
- বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সর্ববৃহৎ।
- ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, চাকমারা পূর্বে টিবেটো বার্মা ভাষা পরিবারভুক্ত আরাকানি ভাষায় কথা বলত।
- চাকমাদের লিপিতে আরাকানি অক্ষরের প্রাধান্যই বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- বর্তমানে তারা ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষায় কথা বলে।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিখিত লিপি রয়েছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে চাকমা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়েছে।
- এছাড়াও সংগীত ও চলচিত্রেও চাকমা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১২.
স্যার হার্বার্ট রিজলে ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে কতটি উপবিভাগে ভাগ করেন?
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষের মিলন-বিরোধের ফলে বাংলাদেশে একটা সংকর জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে।

স্যার হার্বার্ট রিজলে (Sir Herbert Risley) ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে সাতটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন। 
- এগুলো হচ্ছে:
১. তুর্কীয়-ইরানীয় (Turko-Iranian);
২. ভারতীয় আর্য (Indo-Aryan);
৩. শক-দ্রাবিড় (Scytho-Dravidian);
৪. আর্য-দ্রাবিড় (Aryo-Dravidian);
৫. মঙ্গোল-দ্রাবিড় (Mongolo-Dravidian);
৬. মঙ্গোলীয় (Mongoloid) এবং
৭. দ্রাবিড়ীয় (Dravidian) ।
রিজলের মতে বাঙালিরা হল মঙ্গোল-দ্রাবিড়-প্রভাবিত একটা সংকর জনগোষ্ঠী।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৩.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ এর রিপোর্ট অনুসারে শহর অঞ্চলে নিম্ন দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ২.৯%
  2. ৩.৮%
  3. ৪.২%
  4. ৫.১%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ: ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।

⇒ খানাপ্রতি মাসিক গড় আয়: ৩২,৪২২ টাকা।
• শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা,
• গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা।

⇒ সাক্ষরতার হার: ৭৪%।
• পুরুষ ৭৫.৮%,
• নারী ৭২.৬%।

♦ দারিদ্র্যের হার:
⇒ দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ২০.৫%।

⇒ দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৫১৪.
'ওয়ানগালা' ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উল্লেখ্য, 
- সাঁওতাল ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম সোহরাই।
- খাসিয়া ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম হকতই, সেং কুটস্নেম ,সাড সুক মেনসিম , নংক্রেম।
- মণিপুরী ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম রাসলীলা (রাসপূর্ণিমা), লাই হারাউবা, বিষু, চৈরাউবা, রথযাত্রা এবং কাঙ উৎসব।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।
৫১৫.
যে সকল দেশ বা অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০ জনের অধিক লোক বাস করে সেসব অঞ্চলকে বলা হয় -
  1. ক) বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল 
  2. খ) পরিমিত জনসংখ্যা অঞ্চল
  3. গ) নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল
  4. ঘ) প্রায় জনহীন অঞ্চল
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর যে সকল দেশ বা অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০ জনের অধিক লোক বাস করে সেসব অঞ্চলকে নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল বলে।

• জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে পৃথিবীকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে। যথা-
১. নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল 
২. পরিমিত জনসংখ্যা অঞ্চল 
৩. বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল এবং
৪. প্রায় জনহীন অঞ্চল।

১. নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল: পৃথিবীর যে সকল দেশ বা অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে
১০০ জনের অধিক লোক বাস করে সেসব অঞ্চলকে নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল বলে। মোনাকো, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ,বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, চীন, জাপান, বাহরাইন, মাল্টা, বারমুডা, জার্মানি প্রভৃতি দেশ নিবিড় জনসংখ্যা অধ্যুষিত।

২.পরিমিত জনসংখ্যা অঞ্চল: পৃথিবীর যে সকল দেশ বা অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৫০-১০০ জন লোক বাস করে সেসব অঞ্চলকে পরিমিত জনসংখ্যা অঞ্চল বলে। যেমন-মিশর, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক কেনিয়া, মেক্সিকো, ইরাক, ইরান প্রভৃতি।

৩. বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল: কোনো দেশ বা অঞ্চলে যদি প্রতি বর্গকিলোমিটারে
২-৫০ জন লোক বাস করে তবে তাকে বিরল জনসংখ্যা অঞ্চল বলে। যেমন- দক্ষিণ আফ্রিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আইসল্যান্ড, সৌদি আরব, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকার প্রেইরি প্রভৃতি।

৪. প্রায় জনহীন অঞ্চল: প্রায় জনহীন অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় একজনের কম লোক বাস করে। এসব এলাকা অত্যন্ত দুর্গম এবং মানুষ বসবাসের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সাহারা ও কালাহারি মরুভ‚মি, আমাজান উপত্যকা, হিমালয়, রকি ও আন্দিজ পর্বতমালা এ ধরনের অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

সুত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
নিচের কোনটি খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐহিত্যবাহী উৎসব?
  1. ক) সাড সুক মেনসিম
  2. খ) কারাম
  3. গ) চিয়াসৎপয়
  4. ঘ) সোহরাই
ব্যাখ্যা
- সাড সুক মেনসিম খাসিয়া জনগোষ্ঠীর ঐহিত্যবাহী উৎসব।
- সাড সুক মেনসিম অর্থ হৃদয়ের আনন্দ নৃত্য। এটি মূলত নাচ উৎসব। সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্যে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে সাড সুক মেনসিম উৎসব পালন করা হয়।
অন্যদিকে,
- কারাম : ওরাঁও জনগোষ্ঠীর উৎসব।
- সোহরাই : সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর উৎসব
- চিয়াসৎপয় (গো হত্যা) : মুরংদের উৎসব।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৫১৭.
'মণিপুরী' ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করছে?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী।
- নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য। মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাসা (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

সুত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫১৮.
বিবিএস SVRS Report-2020 অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কত সংখ্যক লোক বাস করে?
  1. ক) ১,১২৫ জন
  2. খ) ১,১০৩ জন
  3. গ) ১,১৪০ জন
  4. ঘ) ১,১৫৯ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2020 অনুসারে বাংলাদেশে:
- মোট জনসংখ্যা : ১৬.৮২ কোটি
- জনসংখ্যার ঘনত্ব : ১,১৪০ জন
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার : ১.৩৭ শতাংশ
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার : ১.৩০ শতাংশ
- নারী-পুরুষ অনুপাত : ১০০.২ : ১০০।
(তথ্যসূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2020)
৫১৯.
২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত কোনটি?
  1. ক) শিক্ষা ও প্রযুক্তি
  2. খ) জনপ্রশাসন
  3. গ) স্বাস্থ্য
  4. ঘ) কৃষি
ব্যাখ্যা
২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত হলো জনপ্রশাসন খাত। এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ মোট বাজেটের শতকরা ১৯.৯ শতাংশ। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ১৫.১ শতাংশ। স্বাস্থ্যখাতে ৫.১ শতাংশ। কৃষিখাতে ৫.৩ শতাংশ।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার : জুলাই)
৫২০.
বাংলাদেশে রাজবংশীদের প্রধান বসবাসস্থল কোন জেলাগুলো?
  1. চট্টগ্রাম, কক্সবাজার
  2. রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী
  3. খুলনা, যশোর
  4. সিলেট, মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫২১.
বাংলার আদি অধিবাসী কোন ভাষী ছিল?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. অষ্ট্রিক
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলার আদি অধিবাসী:

- বাংলার আদি অধিবাসীদের অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিলেন।
- বাংলাদেশের সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী প্রভৃতি আদি অষ্ট্রেলীয়দের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
- এই আদি জনগোষ্ঠীগুলি দ্বারা নির্মিত সমাজ ও সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে আর্যদের আগমনের পর।
- বাংলাদেশের জনপ্রবাহে মঙ্গোলীয় রক্তেরও পরিচয় পাওয়া যায়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫২২.
বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নারী ও পুরুষের অনুপাত কত?
  1. ক) ১০০ : ৯৯.৮
  2. খ) ১০০ : ৯৮
  3. গ) ১০০ : ১০০.৭
  4. ঘ) ১০০ : ১০১
ব্যাখ্যা
• ৬ষ্ঠ আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের:
•মোট জনসংখ্যা (প্রাথমিক হিসাবে) : ১৬,৫১,৫৮,৬১৬
- পুরুষ জনসংখ্যা : ৮.১৭ কোটি
- নারী জনসংখ্যা : ৮.৩৩ কোটি।

• চূড়ান্ত হিসাবে মোট জনসংখ্যা : ১৬,৯৮,২৮,৯১১)
- পুরুষ জনসংখ্যা : ৮.৪০ কোটি
- নারী জনসংখ্যা : ৮.৫৬ কোটি।
- নারী-পুরুষ জনসংখ্যার অনুপাত বা লিঙ্গানুপাত : ১০০ : ৯৮
- অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন নারীর তুলনায় পুরষের সংখ্যা ৯৮ জন। 

তথ্যসূত্র: ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রাথমিক প্রতিবেদন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৫২৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার -
  1. ১.১২%
  2. ১.১৭%
  3. ১.২১%
  4. ১.৩২%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৫২৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. ত্রিপুরা
  2. গারো
  3. চাকমা
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• চাকমা - ৪,৮৩,৩৬৫।
• মারমা - ২,২৪,২৯৯।
• ত্রিপুরা - ১,৫৬,৬২০।
• সাঁওতাল - ১,২৯,০৫৬।
• ওরাওঁ - ৮৫,৮৫৮।
• গারো - ৭৬,৮৫৪।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৫২৫.
২০২২ সালে দেশের কততম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) সপ্তম
ব্যাখ্যা
২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে একাধিকবার এটির তারিখ পেছানো হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আদমশুমারি সমূহ:
- প্রথম : ১৯৭৪ সালে
- দ্বিতীয় : ১৯৮১ সালে
- তৃতীয় : ১৯৯১ সালে
- চতুর্থ : ২০০১ সালে
- পঞ্চম : ২০১১ সালে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৫২৬.
বাংলাদেশের সাঁওতালরা প্রধানত বাস করে কোথায়?
  1. রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল
  3. বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি
  4. রাজশাহী ও দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতালদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য সূর্য।
- সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিনির্ভর।
- সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত।
- সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫২৭.
বাংলাদেশের প্রধান নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. বাঙালি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ: 
- প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বাস।
- বাংলাদেশের প্রধান নৃগোষ্ঠী হচ্ছে বাঙালি- যাদের ভাষা বাংলা এবং অধিকাংশই সমতল ভূমিতে বসবাস করে।
- এছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ৫০টির মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (Ethnic Grpoup) রয়েছে যাদের ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান বাঙালি নৃগোষ্ঠী থেকে পৃথক।
- কেবল বাঙালি নৃগোষ্ঠী নয়, প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকেও আলাদা।
- এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, সাঁওতাল, কুকি, তঞ্চঙ্গ্যা, কুমি, লুসাই, পাংখো, খুমি, খিয়াং, বনযোগী, মণিপুরী, খাসিয়া, গারো, হাজং, কোচ, ডালুই, রাজবংশী, মুন্ডা, ওঁরাও প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৮.
খাসিয়াদের পুঞ্জি প্রধানকে বলা হয়-
  1. রাজা 
  2. সিয়েম 
  3. সর্দার
  4. নায়ব
ব্যাখ্যা

- খাসিয়াদের পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।

• খাসিয়া:

- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫২৯.
'স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স (SVRS) ২০২২' অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব কত?
  1. ক) ১,১১৬ জন
  2. খ) ১,১৬১ জন
  3. গ) ১,১৬২ জন
  4. ঘ) ১,১৬৩ জন
ব্যাখ্যা
SVRS রিপোর্ট ২০২২:
- বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (SVRS) ২০২২' অনুযায়ী প্রতি বর্গ কি.মি.তে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১৬৩ জন।



অন্যদিকে -
- বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০২০ অনুসারে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমিতে) ১,১১৬ জন।

উৎস: SVRS রিপোর্ট ২০২২।
৫৩০.
চাকমারা প্রধানত কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. খ্রীষ্টান
  2. হিন্দু
  3. মানব পূজারি
  4. বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী
- তাদের অধিকাংশ গ্রামে ‘কিয়াং’ বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে।
- চাকমারা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বাস করে। শিক্ষা-দীক্ষায়ও এরা সবচেয়ে অগ্রসর জনগোষ্ঠী।
- চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৈশাখী পূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির দিন এটি।
- তাছাড়া ‘মাঘী পূর্ণিমার' রাতে কিয়াং বা প্যাগোডার প্রাঙ্গণে গৌতম বুদ্ধের সম্মানে ফানুস উড়ায়।
- চাকমা সমাজে মৃতদেহ দাহ করা অর্থাৎ পোড়ানো হয়।

উৎস:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৫৩১.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ-২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ১৪.৭%
  2. ১৬.২%
  3. ১৯.৪%
  4. ২৩.৬%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৫৩২.
বাংলাদেশে মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কারা?
  1. মারমা
  2. সাঁওতাল
  3. হাজং
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

• মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী :
• গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
• খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরাও মাতৃতান্ত্রিক। 

অন্যদিকে,
• চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক।
• সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
• হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
• মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৩৩.
(তৎকালীন 'সাম্প্রতিক প্রশ্ন'। অনুগ্রহ করে বর্তমান তথ্য জেনে নিন) ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা মেয়াদে প্রতিবছর বাংলাদেশের গড় প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা -
  1. ৭.০০%
  2. ৭.১২%
  3. ৭.৩০%
  4. ৭.৪০%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
----------------- 
• সপ্তম পরিকল্পনা মেয়াদে গড় প্রবৃদ্ধি হার ৭.৪% প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।


• অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা: 
- মেয়াদ : জুলাই ২০২০ - জুন ২০২৫।

⇒ মেয়াদান্তে কিছু সূচক:
- জিডিপি প্রবৃদ্ধি - ৮.৫১%। 
- জিডিপির আকার - ১৭,০৮৭ বিলিয়ন টাকা। 
- মাথাপিছু আয় - ৩,০৫৯ মার্কিন ডলার। 
- মুদ্রাস্ফীতি - ৪.৬%। 
- দারিদ্রের নিম্নহার - ৭.৪%। 
- দারিদ্রের উচ্চহার – ১৫.৬%। 
- প্রত্যাশিত গড় আয়ু - ৭৪ বছর। 
- মেয়াদান্তে জনসংখ্যার হার: ১.১৮%। 
- মেয়াদান্তে বিদুৎ উৎপাদন ক্ষমতা – ৩০,০০০ মেগাওয়াট। 

সূত্র: পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইট।
৫৩৪.
হাজংদের বাস নেই -
  1. শেরপুর
  2. সিলেট
  3. নেত্রকোনা
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- তিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৩৫.
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হাজংদের বসবাস কোথায়?
  1. ফরিদপুর ও মাদারীপুর
  2. কক্সবাজার ও রামু
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
  4. রংপুর ও দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় বসবাস করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হাজং।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা 'পাথিন' বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৩৬.
নিচের কোন সালে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
২০২১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়নি। 

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এ 'মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto)' পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

⇒ জনশুমারি নিয়ে কিছু তথ্য:
- ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে।
- পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে।
- বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সেগুলো হলো: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে।
- কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে একবছর পিছিয়ে যায়।
- ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
          i) ১৫ জুন ২০২২, প্রথম আলো।
৫৩৭.
জনশুমারি-২০২২ অনুসারে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল কত? (মে ২০২৫)
  1. ৭২.৩ বছর
  2. ৭০.২ বছর
  3. ৭২.০ বছর
  4. ৭১.৭২ বছর
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর ভিত্তিতে প্রাক্কলিত: 
- বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা- ১৭২.০০ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ১.১২%।
-  স্থুল জন্মহার (প্রতি হাজারে) - ১৯.৪ জন।
- স্থুল মৃত্যুহার (প্রতি হাজারে) - ৬.১ জন।
- মোট প্রজনন হার- ২.১৭ ।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল- ৭২.৩ বছর (মে ২০২৫)

উৎস : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৫৩৮.
পাঙ্গন জাতিসত্তা কোন নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? 
  1. খিয়াং
  2. খাসিয়া 
  3. মণিপুরী
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা

• পাঙ্গন জাতিসত্তা মূলত মণিপুরি মুসলিম বা পাঙাল নামেও পরিচিত এবং তারা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ।

পাঙ্গন জাতিসত্তা: 
- সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে খাজা ওসমানের সৈন্যাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সানীর নেতৃত্বে ইসলাম ধর্মের অনুসারী এক দল সৈন্যবাহিনী মণিপুর রাজ্যে অভিযান চালায়। 
- তখনকার মণিপুরের রাজা খাগোম্বার সাথে এক সন্ধির ফলে এই বাহিনী মণিপুরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। 
- পরবর্তীকালে মোগল শাসক মীর জুমলা আসাম আক্রমণে বিপর্যস্ত হলে ঐ সৈন্যবাহিনীর অনেকে পার্শ্ববর্তী রাজ্য মণিপুরে আশ্রয় নেয়।
- তারা মণিপুরের স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ইসলাম ধর্ম প্রচার করে। 
- মণিপুরের মুসলমান জনগোষ্ঠীরাই পাঙ্গান নামে পরিচিত।
- পাঙ্গানরা 'মেইতেইলোন' ভাষায় কথা বলে যা টিবেটো-বার্মান শাখার কুকি-চিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- এরা সবাই ইসলাম ধর্মের সুন্নী মতাবলম্বী। 
- নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই সাধারণত বিয়ে হয়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ অংশে এদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই। 

৫৩৯.
কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে 'আচিক মান্দি' হিসেবে পরিচয় দেন?
  1. চাকমা
  2. গারো
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
•গারো:
-'গারো' শব্দের সুনির্দিষ্ট কোন নেতিবাচক অর্থ নাই।
- তাঁদের অনেকেই অধুনা নিজেদের 'মান্দি' নামেই পরিচয় দেন।
- আক্ষরিক অর্থে 'মান্দি' অর্থ 'মানুষ'।
- নিজেদের ভাষায় অভিহিত করেন 'আচিক মান্দি' বা 'পাহাড়ের মানুষ' হিসাবে।
-  সে সূত্রে সংক্ষেপে শুধু 'মান্দি' নামেই গারোদের আধুনিক পরিচিতি গড়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশে বৃহত্তর ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলে গারো বা মান্দি জনগোষ্ঠীর বসবাস।
- এছাড়া সিলেটসহ অন্যান্য জায়গায়ও কিছু সংখ্যক গারো রয়েছে।
- ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর ও নেত্রকোণা এবং সিলেট বিভাগের সিলেট সুনামগঞ্জ ও মৌলভী বাজার।

উৎস: সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান, এইচ এস এস এল, উন্মুক্তবিশ্বদ্যালয়।
৫৪০.
খাসিয়া পুঞ্জির প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. মণ্ডল
  2. রাজা
  3. হেডম্যান
  4. সিয়েম
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- খাসিয়ারা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসস্থান: সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক।
- প্রধান উৎসব: খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৪১.
মারমা জনগোষ্ঠীর বসবাস কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. চট্টগ্রাম
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে জনসংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম হলো মারমা সম্প্রদায়।
- এরা বোমাং সার্কেলের অন্তর্গত। বান্দরবান জেলায় সর্বাধিক ৭৫ হাজার মারমা জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
- এছাড়া রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলাতেও মারমাদের বসবাস রয়েছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৫৪২.
পার্বত্য চট্টগ্রামের 'বোমাং সার্কেল' কোন জেলার?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

- পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল রয়েছে ৩টি। এগুলো হলোঃ
- বোমাং সার্কেল (বান্দরবান জেলা)
- চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি জেলা),
- মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি জেলা) এবং
- পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
- সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়।

তথ্যসূত্র:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৫৪৩.
নিচের কোন জেলায় গারোদের বসবাস নেই?
  1. গাজীপুর
  2. সিলেট
  3. নেত্রকোনা
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
গারো:

- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
'বাংলাপিডিয়া' কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) বাংলা একাডেমী
  2. খ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  3. গ) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
  4. ঘ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। এটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি'র উদ্যোগে ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০১২ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৪৫০ জন পণ্ডিত বাংলাদেশের প্রাচীন থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এতে সংযোজন করেছেন। এর প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫৪৫.
বাংলাদেশের কত বছর পর পর জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:

- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- বাংলাদেশের ১০ বছর পর পর জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৫৪৬.
'বৈসাবি' উৎসব কোথায় পালিত হয়?
  1. নেত্রকোনা
  2. মৌলভীবাজার
  3. খাগড়াছড়ি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বৈসাবি উৎসব:
- বৈসাবি বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- পাহাড়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রধানতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব এটি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান তিনটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব ‘বৈসাবি’।
- প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’, মারমারা ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিজু’ উৎসব পালন করে।
- তিন উৎসবের আদ্যক্ষর নিয়ে এই উৎসবকে বলা হয় ‘বৈসাবি’।

সাধারণত,
- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৭.
মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি কারা?
  1. মারমা
  2. চাকমা
  3. সাঁওতাল
  4. গারো
ব্যাখ্যা
পিতৃতান্ত্রিক উপজাতি:
- চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

অন্যদিকে -
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
বর্তমানে দেশে পৌরসভা সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩২৭ টি
  2. ৩২৮ টি
  3. ৩২৯ টি
  4. ৩৩০ টি
ব্যাখ্যা
পৌরসভা 
• দেশে মোট পৌরসভা ৩৩০ টি। সর্বশেষ পৌরসভা সাতক্ষীরার শ্যামনগর।

 শ্যামনগর পৌরসভা
- রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে ৪৬.০০,০০০০,৬৪.৩১.২২৮.১৮-৭৮ নং স্মারকের এক পত্রে শ্যামনগরকে পৌরসভা ঘোষণা করে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আক্তার হোসেনকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
- এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে এসংক্রান্ত চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
- এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০২২’ এর ৯ ধারা (১) উপ-ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার জনাব মোঃ আক্তার হোসেন (আইডি নং-১৭৮৩২), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্যামনগর, সাতক্ষীরাকে শ্যামনগর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করল।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ ও সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রশাসক শ্যামনগর পৌরসভার সার্বিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উৎস: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৫৪৯.
টঙ্ক প্রথা কোন অঞ্চলে প্রচলিত ছিলো?
  1. ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  2. খ) বৃহত্তর ময়মনসিংহ
  3. গ) বৃহত্তর সিলেট
  4. ঘ) বৃহত্তর রাজশাহী
ব্যাখ্যা
টঙ্ক প্রথা হলো এক প্রকার খাজনা প্রথা যা বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার হাজং অধ্যুষিত কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, নলিতাবাড়ি, হালুয়াঘাট, শ্রীবর্দি প্রভৃতি উপজেলায় প্রচলিত ছিলো। এই প্রথা অনুযায়ী কৃষকদের ধানের মাধ্যমে খাজনা প্রদান করতে হতো যা টাকার মানের তুলনায় অধিক ছিলো। ফলে হাজং সম্প্রদায়ের কৃষকদের নেতৃত্বে ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত টঙ্ক প্রথাবিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়।পরবর্তীতে তা অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনে কমরেড মণি সিংহ নেতৃত্ব প্রদান করেন। (সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৫৫০.
গারো নারী মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের গল্পে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নিম্নের কোনটি?
  1. ক) বর্ণচোরা
  2. খ) যাত্রা
  3. গ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. ঘ) আবছায়া
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গারো নারীদের ১৫ জনের একটি দল যুদ্ধ করেছিল পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে।
- লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই গারো নারী মুক্তিযোদ্ধার জীবনের গল্পে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘আবছায়া’ নির্মাণ করছেন শরিফুল ইসলাম পলাশ
- গারোদের ‘আচিক’ ভাষায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 
-  ১১ নম্বর সেক্টরের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন নিরঞ্জন সিংহ চৌহানের গড়া কমলা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন একদল গারো নারী।
- তাঁরা সবাই নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দার লেঙ্গুরার বাসিন্দা। এ দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন মল্লিকা ঘাগ্রা।
- অন্যদের মধ্যে ছিলেন তুষি হাগিদক, মগ্ধলিনা নেংমিঞ্জ, সঞ্চিতা জরিনা রেমা, পরিচয় চিসিম, সেলিনা হাউই, রিতা নকরেক, জিতা নকরেক, টুরটুরি নকরেক, ছায়া বনোয়ারি, সুজানা জাম্বিল, মুকুল আজিম, রচিতা হাগিদক, বেঞ্জিনা নকরেক ও হাসিনা বনোয়ারিসহ ১৫ জন।
 - ‘আবছায়া’র চিত্রনাট্য লিখেছেন গারো ভাষার কবি মতেন্দ  মানখিন।
- ‘আবছায়া’ শরিফুল ইসলাম পলাশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাধর্মী তৃতীয় প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।
- এর আগে ২০২১ সালে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার রনি হিজড়ার জীবনের গল্পে ‘অগ্নিঝরা দিনের না বলা কথা’ নির্মাণ করেন।
- রাজবাড়ির তিন সহোদরা মুক্তিযোদ্ধা গীতা, ইরা ও ভক্তি করের গল্পে ‘রণাঙ্গনের তিন কন্যা’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। 

উৎস: কালেরকণ্ঠ পত্রিকা।
৫৫১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭৫.৩৯%
  2. ৭৬.৮৪%
  3. ৭৭.১৭%
  4. ৭৮.২৪%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৫২.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের আদমশুমারিসমূহ ও জনসংখ্যা:
- প্রথম আদমশুমারি : ১৯৭৪ (৭.৬৪ কোটি)
- দ্বিতীয় আদমশুমারি : ১৯৮১ (৮.৯৯ কোটি)
- তৃতীয় আদমশুমারি : ১৯৯১ (১১.১৫ কোটি)
- চতুর্থ আদমশুমারি : ২০০১ (১২.৯৩ কোটি)
- পঞ্চম আদমশুমারি : ২০১১ (১৫.২৫ কোটি)।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)
৫৫৩.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২ অনুসারে, দেশে দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ কোনটি?
  1. বরিশাল
  2. ময়মনসিংহ
  3. রাজশাহী
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ:
- ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী,
• দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭ শতাংশ।
• অতি দারিদ্রের হার: ৫.৬ শতাংশ।

• উচ্চ দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: বরিশাল (২৬.৯%)।
• নিম্ন দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: খুলনা (১৪.৮%)।

উৎস: খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২। 
৫৫৪.
জনশুমারি ২০২২-এ পুরুষ ও নারীর অনুপাত কত?
  1. ১০০ : ১০০
  2. ৯৮ : ১০০
  3. ৯৫ : ১০০
  4. ৯৯ : ১০০
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- এটি অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৬৬%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৫৫৫.
জেলা অনুযায়ী সবচেয়ে কম জনসংখ্যার ঘনত্ব কোথায়? [আগস্ট - ২০২৫]
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- রাঙ্গামাটি পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থার কারণে জনসংখ্যা ঘনত্ব তুলনামূলক কম।

ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২: 
- বাংলাদেশে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত।
- এতে ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ছিল CPI এবং গণনা পদ্ধতি ছিল Modified De-fecto।
- দেশে মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন, বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার ৭৪.৮০%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব ১১১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকায় এবং সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

উল্লেখ্য, 
- জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটির ঘনত্ব সবচেয়ে কম।

সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
৫৫৬.
চাকমা গ্রামের প্রধান-
  1. ক) হেডম্যান
  2. খ) মৌজা
  3. গ) কারবারি
  4. ঘ) পুঞ্জি
ব্যাখ্যা
- চাকমা শাসন ব্যবস্থায় গ্রাম প্রধানকে বলা হয় কারবারি।
- কারবারির কাজ হলো রাজার পক্ষ গ্রামের বিভিন্ন বিরোধের নিষ্পত্তি করা ।
- এদের রাজার সুপারিশে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

- কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি মৌজা গঠিত হয়।
- মৌজার প্রধান হলো হেডম্যান।

- কতগুলোর মৌজার সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি সার্কেল।
- সার্কেল প্রধান হলো রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, বোমাং ও মং নামে মোট ৩টি সার্কেল রয়েছে।

তথ্যসূত্র- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণী।
৫৫৭.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ১৬.৭%
  2. ১৭.২%
  3. ১৮.৭%
  4. ১৯.৪%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৫৫৮.
প্রথম ডিজিটাল জনশুমারী ও গৃহ গণনা অনুযায়ী দেশের মোট উপজেলা কয়টি?
  1. ৪৮০ টি
  2. ৪৮৬ টি
  3. ৪৯০ টি
  4. ৪৯৫ টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন আছে - ১২টি।
- দেশে মোট উপজেলা আছে - ৪৯৫টি।
- মেট্রো থানা আছে - ১০৫টি।
- পৌরসভা আছে - ৩২৭টি।
- ইউনিয়নের সংখ্যা - ৪৫৯৬টি।
- মোট গ্রামের সংখ্যা - ৯০০৪৯টি।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৫৯.
কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী 'বৈসাবি' উৎসব পালন করে?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈসাবি:
- বৈসাবি হচ্ছে বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- পাহাড়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রধানতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব এটি।
- বাংলাদেশের তিনটি আদিবাসী সম্প্রদায় (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা) এই বর্ষবরণ উৎসব পালন করে।
- মূলত বৈ’ শব্দাংশটি ত্রিপুরাদের বৈসু থেকে, ‘সা’ মারমাদের সাংগ্রাই থেকে এবং ‘বি’ চাকমাদের বিজু থেকে এসেছে।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে 'বৈসাবি' নামের উৎপত্তি।
- চৈত্র মাসের শেষ দুটি দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই তিন দিন অনুষ্ঠান পালন করে।
- প্রতিটি সম্প্রদায় নিজ নিজ বিশ্বাস ও সংস্কার অনুসারে প্রার্থনা করে নতুন বছর যেন সুখে-শান্তিতে কেটে যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫৬০.
বাংলাদেশে বাস নেই এমন উপজাতির নাম -
  1. হুদি
  2. হুনজা
  3. মাহাতো
  4. বানাই
ব্যাখ্যা
- হুনজা পাকিস্তানের একটি উপজাতি 
- বাংলাদেশে মোট ৫০ টি উপজাতি রয়ছে।

- ২৩ শে র্মাচ ২০১৯ বাংলাদেশ সরকার ৫০ টি উপজাতির নাম উল্লখে করে গেজেট প্রকাশ করে।
- উপজাতিসমূহ হল: 
ওরাওঁ, কোচ, কোল, কন্দ, কড়া, খারিয়া/খাড়িয়া, খারওয়ার/খাড়োয়ার, খাসিয়া, খিয়াং, খুমি, গারো, গঞ্জু, গড়াইত,
গুর্খা, চাক, চাকমা, ডালু, তঞ্চঙ্গা, ত্রিপুরা, তেলী, তুরী, মালপাহাড়ি, পাংখোয়া, পাত্র, বাগদি, বানাই, বাড়াইক, বেদিয়া,
বম, বর্মণ, ভিল, ভূমিজ, ভূঁইমালি, মণিপুরী, মারমা, মুন্ডা, ম্রৌ, মাহাতো, মালো, মাহালী, মুসহর, রাখাইন, রাজোয়ার,
লোহার, লুসাই, শবর, সাঁওতাল, হুদি, হো এবং হাজং।

সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি গেজেট, ২৩ মার্চ ২০১৯),  ব্রিটানিকা।
৫৬১.
'সোহরাই' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. চাকমা
  3. গারো
  4. মারমা
  5. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
NIPORT-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Institute of Public Organization and Training
  2. National Institute of Population Research and Training
  3. National Institute of Population Resources and Technology
  4. National Institute of Policy Research and Training
ব্যাখ্যা

NIPORT (নিপোর্ট):
- NIPORT-এর পূর্ণরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- এটি বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৭৭ সালে নিপোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
- জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
- প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে গবেষণা ও সার্ভে পরিচালনা করে।
- গবেষণার ফলাফল কর্মসূচি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়।
- নিপোর্টের মাধ্যমে ১২টি Family Welfare Visitor Training Institute (FWVTI) পরিচালিত হয়।
- এছাড়া ২০টি Regional Training Centre (RTC) এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উৎস: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ওয়েবসাইট।

৫৬৩.
'বৈসু' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব?
  1. ত্রিপুরা
  2. মারমা
  3. খাসিয়া
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৫৬৪.
কোনটি বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী নয়? 
  1. লুসাই
  2. কোচ
  3. মাওরি
  4. চাক
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী:
- মাওরিরা বাংলাদেশে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী নয়।
- তারা নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী বা নৃগোষ্ঠী।
- তারা প্রায় ১৩২০–১৩৫০ সালের মধ্যে পূর্ব পলিনেশিয়ার দ্বীপ থেকে নৌকা যোগে নিউজিল্যান্ডে আসে।
- এরপর থেকে তারা নিউজিল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মাওরি।
- মাওরিদের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে।
- তাদের নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য হলো ট্যাটু।
- মাওরি ভাষায় এই ট্যাটুকে “তামোকে” বলা হয়।  
- এই ট্যাটু তাদের  শারীরিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।
- যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে মাওরিরা তাদের হাকা নাচ যুদ্ধ নৃত্য হিসেবে ব্যবহার করে ।
 
অন্যদিকে,
লুসাই:
-  লুসাই হলো একটি ছোট নৃগোষ্ঠী।
- তারা মূলত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় বংশধর মনে করে।
- লুসাই জনগোষ্ঠী মূলত কুর্কি-চিন গোষ্ঠীর অংশ।
- তাদের প্রধান আবাসস্থল হলো- রাঙামাটি ও বান্দরবান।

কোচ:
- কোচ নৃগোষ্ঠী হলো বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী।
- তারা মূলত কোচবিহার অঞ্চল থেকে এসে ময়মনসিংহ জেলায় স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে।
- বর্তমানে কোচ নৃগোষ্ঠী শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবর্দী উপজেলায় বসবাস করছে।

চাক:
-  চাক হলো বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলাতে বসবাস করে।
- তাদের প্রধান আবাসস্থল হলো- নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি এবং ডুছড়ি এলাকা।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া। 

৫৬৫.
নিচের কোনটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. গারো
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
গারো: 
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।
- গারোদের প্রথাগত আইন অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী  মেয়েরা।

উল্লেখ্য,
- খাসিয়াদের সমাজ ব্যবস্থাও মাতৃতান্ত্রিক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৬৬.
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক কারণ নয় কোনটি? 
  1. জন্ম ও মৃত্যুহার
  2. জনসংখ্যার ঘনত্ব
  3. জলবায়ু পরিবর্তন
  4. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন:
- বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন নির্ভর করে নানা উপাদানের উপর, যেমন-
- আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, জৈবিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন-নগরায়ণ।

• প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ: 

১) জলবায়ু পরিবর্তন
২) বৈশ্বিক উষ্ণতা
৩) ভৌগোলিক পরিবর্তন
৪) নদী ভাঙন
৫) অতিবৃষ্টি
৬) অনাবৃষ্টি
৭) টর্নেডো ইত্যাদি
 
• জৈবিক উপাদানসমূহ
- জন্ম ও মৃত্যুহার
- জনসংখ্যার ঘনত্ব
- গড় আয়ু
- জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।  

৫৬৭.
কোন সম্প্রদায় ‘ফাগুয়া’ উৎসব পালন করে?
  1. ক) ওঁরাও
  2. খ) গারো
  3. গ) মারমা
  4. ঘ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
- ওঁরাওরা ফাল্গুন মাস থেকে বছর গণনা শুরু করে।
- নববর্ষকে বরণ করতে তারা পালন করে ‘ফাগুয়া’।
- গারোদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসব হলো ‘ওয়ানগালা’। 
- ‘সাংগ্রাই’, ‘বৈসুক’ ও ‘বিজু’ বাঙালিদের পহেলা বৈশাখের ন্যায় যথাক্রমে মারমা, ত্রিপুরা এবং চাকমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব।

সূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
৫৬৮.
‘সাংলান’ কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব?
  1. লুসাই
  2. মারমা
  3. খিয়াং
  4. গারো
ব্যাখ্যা

খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫৬৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
  1. খুলনা
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে - ঢাকা বিভাগ।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে - ময়মনসিংহ বিভাগ।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৭০.
সম্প্রতি (সেপ্টেম্বর, ২০২৩) কোন জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাষার বর্ণমালা তৈরি করেছে?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. খেয়াং
  4. খুমি
ব্যাখ্যা
হোয়ো:
- বান্দরবানের খেয়াং জনগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষার বর্ণমালা তৈরি করা হয়েছে।
- এই বর্ণমালার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হোয়ো’।
- এই বর্ণমালা দিয়ে কম্পিউটারেও লেখালেখি করা যাবে।

উল্লেখ্য,
- এতদিন খেয়াংদের ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না।
- এ কারণে এই ভাষার কোনো লিখিত রূপও ছিল না।
- গত কয়েক বছর ধরে রোমান হরফে এই ভাষা লেখা হচ্ছিল।
- কিন্তু এতে খেয়াং ভাষার সবগুলো ধ্বনির ও উচ্চারণে মিল রেখে লেখা সম্ভব হচ্ছিল না।
- এ কারণে নতুন বর্ণমালা উদ্ভাবন করার প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ফ্রেন্ডস অব এন্ডেঞ্জার্ড এথনিক ল্যাংগুয়েজেস (ফিল) নামের একটি সংগঠন এই ভাষাটিকে কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী করতে কারিগরি সহায়তা করে।
- দুই মাসের চেষ্টায় তারা এই কাজে সফলতা পেয়েছেন।

উৎস: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৫৭১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা কোনটি?
  1. রংপুর
  2. পিরোজপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. জামালপুর
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৫৭২.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ৬ষ্ঠ আদমশুমারি ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন 'জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে পরিচালিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৫৭৩.
নিচের কোন সম্প্রদায়ে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা চালু আছে?
  1. মণিপুরী
  2. সাঁওতাল
  3. মারমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা

গারো:
- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম  ‘আচিক খুসিক’ বা 'মান্দি খুসিক'।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত। 
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- বর্তমানে গারোদের বেশিরভাগই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।

উল্লেখ্য,
- সাঁওতাল সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- চাকমা পরিবার পিতৃতান্ত্রিক ও পিতৃসূত্রীয়।
- মণিপুরী উপজাতির মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক পরিবারব্যবস্থা চালু রয়েছে। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৫৭৪.
নিচের কোন জেলায় কন্দ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. বান্দরবান
  2. মৌলভীবাজার
  3. কক্সবাজার
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- আবাসস্থল: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে।
- কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা ৫টি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক।
- পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫৭৫.
'বিজু' কোন জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
চাকমা: 
- চাকমা জনগোষ্ঠীর সবচাইতে বড় উৎসবের নাম বিজু।
- এটি চৈত্র্যের শেষ দুদিন ও বৈশাখের প্রথম দিন মিলে টানা তিন দিন ধরে চলে (মারমা ও ত্রিপুরারাও ভিন্ন নামে একই উৎসব পালন করে)।
- পুরানো বছরকে বিদায় দিয়ে নূতন বছরকে বরণ করা বিজু উৎসবের উপলক্ষ, তবে এর সামাজিক তাৎপর্য বাঙালী মুসলমানদের ঈদ বা বাঙালী হিন্দুদের শারদীয় দুর্গোৎসবের সাথে তুলনীয়।
- অতীতে কৃষি-নির্ভর গ্রামীন জীবনের ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে বিজু উৎসব পালিত হত।
- তবে শহুরে প্রেক্ষাপটে বিজু এখন আর শুধুমাত্র পানাহার, বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো, বা বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনের সাথে সাক্ষাতের আনন্দ ইত্যাদির মধ্যে সীমিত নেই।
- সামাজিক মিলন বা পুনর্মিলনের একটি সময় ছাড়াও বিজু এখন চাকমা তথা পাহাড়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সচেতন অনুশীলন তথা পুনঃনির্মাণের একটা উপলক্ষও বটে।

উৎস: সমাজতত্ত্ব - ২, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৬.
দেশে মোট সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা কত?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন আছে - ১২টি।
- দেশে মোট উপজেলা আছে - ৪৯৫টি।
- মেট্রো থানা আছে - ১০৫টি।
- পৌরসভা আছে - ৩২৭টি।
- ইউনিয়নের সংখ্যা - ৪৫৯৬টি।
- মোট গ্রামের সংখ্যা - ৯০০৪৯টি।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৭৭.
মুন্ডা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) কমরেড মনিসিংহ
  2. খ) কানু মুন্ডা
  3. গ) বিরসা মুন্ডা
  4. ঘ) ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
১৮৯৯-১৯০০ সালে ভারতের রাঁচিতে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ও জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রবল মুন্ডা বিদ্রোহ বা উলগুলান সংগঠিত হয়। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন বিরসা মুন্ডা।
বিরসাকে মুন্ডারা ভগবান হিসেবে গণ্য করত। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বাহিনীর নিকট ‍মুন্ডারা পরাজিত হলে বিরসা মুন্ডাকে গ্রেফতার করা হয় এবং রাঁচি কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৫৭৮.
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (Rural Development Academy বা RDA) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
- পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (ইংরেজি: Rural Development Academy বা RDA) বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং গবেষণা কর্মের একটি বিশেষায়িত পল্লি উন্নয়ন সংস্থা।
- এটি ১৯শে জুন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পল্লী উন্নয়ন একাডেমি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- এই প্রতিষ্ঠানটি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডিসি) সাথে যুক্ত থেকে কাজ পরিচালনা করে।
- ১৯৯০ সালে ১০নং আইনের দ্বারা পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। 

তথ্যসূত্র:- পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RDA) ওয়েবসাইট।
৫৭৯.
২০১৭ সালে দুদক কোন প্রতিপাদ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়? 
  1. দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি
  2. আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই
  3. ন্যায় ও সততার পথে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ 
  4. দুর্নীতি দমন করি, দেশ গড়ি
ব্যাখ্যা

দুর্নীতিবিরোধী দিবস ও দুদক সংক্রান্ত তথ্য:
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হলো বাংলাদেশের একটি স্বতন্ত্র, স্বশাসিত ও সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা।
- এটি ২০০৪ সালের আইনের মাধ্যমে গঠিত।
- এটি মূলত দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের দায়িত্ব পালন করে।
- ২০১৭ সালে দুদক “আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই” প্রতিপাদ্য নিয়ে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল। 
- যদিও ২০০৭ সাল থেকে দুদক দিবস পালন শুরু করেছিল, সরকারিভাবে তা কার্যকর হতো না।
- পরে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই সরকার দিনটিকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
--------------------- 
উল্লেখ্য,
- দুদক দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, মামলা দায়ের এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করে।
- যেকোনো ব্যক্তি সরাসরি ১০৬ হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন, অথবা লিখিত ও অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
- দুদকের প্রধান কার্যালয় ১ সেগুন বাগিচা, ঢাকায় অবস্থিত।
- দুদক শুধু তদন্ত ও মামলা নয়, নিজস্ব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং কনস্টেবল পদে নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রম নির্বাহ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৫৮০.
স্যার হার্বার্ট রিজলে ভারত উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে কয়টি ভাগে ভাগ করেন?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
স্যার হার্বার্ট রিজলে (Sir Herbert Risley) ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে সাতটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন। এগুলো হচ্ছে:
১. তুর্কীয়-ইরানীয় (Turko-Iranian);
২. ভারতীয় আর্য (Indo-Aryan);
৩. শক-দ্রাবিড় (Scytho-Dravidian);
৪. আর্য-দ্রাবিড় (Aryo-Dravidian);
৫. মঙ্গোল-দ্রাবিড় (Mongolo-Dravidian);
৬. মঙ্গোলীয় (Mongoloid) এবং
৭. দ্রাবিড়ীয় (Dravidian) ।

জে. হুটন (J. Hutton) ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে মোট আটটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। এগুলো হলো:
১. নেগ্রিটো বা নিগ্রোবটু (Negrito);
২. আদি-অস্ট্রেলীয় (Proto-Australoid);
৩. আদি-মেডিটেরিয়ান (Early Meditarrinian);
৪. সভ্য-মেডিটেরিয়ান (Civilized Meditarrinian);
৫. আর্মানীয় (Armanoid);
৬. আলপাইন (Alpine);
৭. বৈদিক-আর্য (Vedic-Aryan) এবং
৮. মঙ্গোলীয় (Mongoloid) ।

এছাড়া,
- পন্ডিত বিরজাসংকর গুহ ভারত উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে ছয়টি নৃতাত্ত্বিক ধারায় ভাগ করেছেন।
- নৃতত্ত্ববিদ ভন আইকস্টেট্ট (Von Eickstedt) ভারতীয় উপমহাদেশের মানবগোষ্ঠীকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
মাতৃতান্ত্রিক পরিবার দেখা যায় কোন সম্প্রদায়ের সাথে?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. মণিপুরি
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

• পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- ত্রিপুরাদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় পিতাই পরিবারের প্রধান।
- সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতাই পরিবারের প্রধান।
- মণিপুরিদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত। 
- রাখাইনদের পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

• মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়। 
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৮২.
বর্তমানে বাংলাদেশে কোন খাতে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি নিয়োজিত আছে? (সেপ্টেম্বর-২০২৫)
  1. সেবা 
  2. কৃষি
  3. শিল্প
  4. পরিবহন 
ব্যাখ্যা

খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান:
• বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে -
• কৃষি খাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৪৫.০০%। (সেপ্টেম্বর-২০২৫)

• শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ।
- শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ১৭.০০%।

• সেবা খাতের অবদান ৫১.০৪ শতাংশ।
সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৩৮.০০%।

• কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত কৃষিখাত এবং ছোট খাত শিল্পখাত।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।

৫৮৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা - ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা -
  1. ৫১টি
  2. ৫০টি
  3. ৫২টি
  4. ৪৮টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা- ৫০ টি।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য:
-  চাকমারা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাস করে।
- তাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। তারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- তাদের প্রধান ভাষা চাকমা বা চাঙমা। তারা গ্রামকে আদাম এবং গ্রামের প্রধানকে বলে কার্বরী।
- চাকমা সমাজের প্রধান হলো চাকমা রাজা।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট এবং বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
৫৮৪.
রাসা নৃত্য কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন?
  1. লুসাই
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫৮৫.
৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা কত?
  1. ১৪ কোটি ৯৮ লাখ
  2. ১৫ কোটি ৯৮ লাখ
  3. ১৬ কোটি ৯৮ লাখ
  4. ১৭ কোটি ৯৮ লাখ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন, ২০২২।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- স্বাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।

তথ্যসূত্র: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৮৬.
বাংলাদেশে বসবাসকারী দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম-
  1. ক) চাকমা
  2. খ) হাজং
  3. গ) গারো
  4. ঘ) সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম নৃ-গোষ্ঠীর নাম চাকমা। দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম সাঁওতাল। রাজশাহী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস রয়েছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫৮৭.
হাজং জনগোষ্ঠীর আদিনিবাস ছিলো কোথায়?
  1. ক) চীনের তিব্বত
  2. খ) ভারতের বিহার রাজ্য
  3. গ) উত্তর বার্মা
  4. ঘ) ভারতের মণিপুর রাজ্য
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের আদিনিবাস ছিলো উত্তর বার্মায়।
- হাজং জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস ময়মনসিংহ জেলায়। এছাড়া নেত্রকোনা, শেরপুর ও সিলেট জেলাতেও হাজংদের বসবাস রয়েছে।
- হাজংরা ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- সমাজ কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- হাজং শব্দের অর্থ ‘মাটির পোকা’।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫৮৮.
নিচের কোন জেলায় খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবান
  3. সিলেট
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৮৯.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ৪.৮%
  2. ৫.২%
  3. ৫.৬%
  4. ৬.১%
  5. ৬.৭%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৫৯০.
২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান বার্ষিক গড় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ২.০৪ শতাংশ
  2. ১.২২ শতাংশ
  3. ১.৫০ শতাংশ
  4. ১.৪৪ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রাথমিক রিপোর্ট ২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশের বার্ষিক গড় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.২২%।
- কিন্তু চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান বার্ষিক গড় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।

জনশুমারি ও গৃহগণনা:   
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
 
উল্লেখ্য,
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%। 
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%। 
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%। 
 
উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
৫৯১.
'গজ্যাপজ্যা বিজু' পালিত হয় কোন দিন?
  1. চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন
  2. চৈত্র সংক্রান্তিতে
  3. বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন
  4. বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিন
ব্যাখ্যা
বিজু উৎসব:
- নববর্ষ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা যে উৎসব করে তাকে বিজু বলে।
- এই উৎসবের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো পুরনো বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণ করা।
- চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মোট তিন দিন ধরে বিজু উৎসব চলে।
- বিজু উৎসবে তিন দিনের আলাদা নামকরণ হয়েছে।
- প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যাপজ্যা।
- ১২ এপ্রিল পালন করা হয় ফুলবিজু।
- চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পালন করা হয় মূলবিজু।
- বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল পালন করা হয় গজ্যাপজ্যা (গড়িয়ে পড়ার দিন)। 

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          ii) ২৩ মার্চ, ২০২২, কালের কন্ঠ।
৫৯২.
নিপোর্ট হচ্ছে -
  1. শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  2. শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান
  3. জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান
  4. একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
• জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ:
- জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- নিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করার জন্য কর্মসূচিভিত্তিক মূল্যায়ন, গবেষণা এবং সার্ভে পরিচালনা করা এবং গবেষণার ফলাফলকে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপন করে কর্মসূচি উন্নয়নে কাজে লাগানো।

উৎস: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
৫৯৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, কোন জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী,
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯। জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• জেলার নিরিখে দেশে রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এ জেলায় এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪।
- এরপরই আছে আরেক পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। এখানে জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮।
- বিভাগ অনুযায়ী, বরিশালে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী জনসংখ্যা ৪ হাজার ১৮১ জন, চট্টগ্রামে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০, ঢাকায় ৮২ হাজার ৩১১, খুলনায় ৩৮ হাজার ৯৯২, ময়মনসিংহে ৬১ হাজার ৫৫৯, রাজশাহীতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯২, রংপুরে ৯১ হাজার ৭০ ও সিলেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৪ জন।

- ৫০টি জাতিসত্তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯।
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা।
- মারমাদের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬২ আর ত্রিপুরাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮। চতুর্থ স্থানে আছে সমতলের জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল। তাঁদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

৫৯৪.
সাংগ্রাই কোন সম্প্রদায়ের উৎসব?
  1. চাকমা
  2. তঞ্চঙ্গ্যা
  3. মারমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
মারমা:
- সাংগ্রাই উৎসব হলো মারমা জনগণের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

- এটি মূলত বাংলা নববর্ষের সময়, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে পালিত হয়।
- উৎসবটি মূলত বৌদ্ধ নববর্ষ উদ্‌যাপনের একটি রূপ। 

উল্লেখ্য, 
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- বাসস্থান: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি।
- ধর্ম: বৌদ্ধ।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান: কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান: হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান: রাজা।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
৫৯৫.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে?
  1. মারমা
  2. ওরাওঁ
  3. হাজং
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৯৬.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রামে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার কত?
  1. ২৪.৬৭%
  2. ২৫.৭৩%
  3. ২৬.৩১%
  4. ২৭.৪৯%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।
- ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
- রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ২৩.৫২%।
• শহর -৪১.৩০%।
• গ্রাম - ২৫.৭৩%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৯৭.
নিম্নের কোন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়?
  1. হাজং
  2. রোহিঙ্গা
  3. সাঁওতাল
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে বেশির ভাগ রাখাইনের বসবাস কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও কিছু রাখাইন বাস করে।
- রাখাইনদের ভাষা আঞ্চলিকভাবে ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’ নামে পরিচিত।
- তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছে: প্রবারণা পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, জলকেলি (লেই খেখু), নববর্ষ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
রোহিঙ্গা:
- রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়।
- রোহিঙ্গা হলো পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রবিহীন ইন্দো-আর্য জনগোষ্ঠী।
- ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় ৬,৫৫,০০০ থেকে ৭,০০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯৮.
রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস কোন জেলায়?
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বরগুনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য।
- এরা নিজেদের 'রাক্ষাইন' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- রাখাইনরা এক সময় 'মগ' নামে পরিচিত ছিলো।
- অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত।
- রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি ও কালের কণ্ঠ।
৫৯৯.
সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে কোন জেলায়?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
জেলা অনুযায়ী বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি লোক বাস করে ঢাকা জেলায়। ঢাকা জেলার সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী জেলার বর্তমান জনসংখ্যা ১ কোটি ২৬ লক্ষ। জনসংখ্যার ঘনত্বও সবচেয়ে বেশি ঢাকা জেলায় (৮,২২৯ জন)। দেশের সর্বনিম্ন জনবহুল জেলা হলো বান্দরবান (জনসংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ ও ঘনত্ব ৬৭ জন)। আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। (সূত্রঃ ঢাকা ও বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট)
৬০০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোন বিভাগে সাক্ষরতার হার বেশি?
  1. ঢাকা
  2. ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
শিক্ষা: 
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী,
- জাতীয় পর্যায়ে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৪.৮০%।
- পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৭৬.৭১% ও ৭২.৯৪%।
- একই বয়সী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দেশের পল্লি এলাকায় সাক্ষরতার হার ৭১.৬৮% ও শহর এলাকায় ৮১.৪৫%;
- এ থেকে স্পষ্ট যে পল্লির তুলনায় শহরাঞ্চলে সাক্ষরতার হার বেশি।
- বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ হার ঢাকায় সর্বোচ্চ ৭৮.২৪% এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৬৭.২৩%।
- অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ে ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৪.০৮% যা পুরুষের ক্ষেত্রে ৭৫.৮৩% ও নারীর ক্ষেত্রে ৭২.৩৮%।
- এছাড়া দেখা যায় যে, দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৭০.১৯% যা পুরুষের ক্ষেত্রে ৭২.৬৩% ও নারীর ক্ষেত্রে ৬৭.৮৯%।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন।