বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৩০১৪০০ / ১,৫৬৭

৩০১.
'সোহরাই' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩০২.
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. লুসাই
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান:
- সাধারণভাবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বাংলাদেশে দুই ধরনের নৃগোষ্ঠীর মানুষ আছেন-পাহাড়ি ও সমতলবাসী।
- এদের একটি অংশ বসবাস করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়।
- এসব জেলায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীগুলো হলো-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে এরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষ। এরা পাহাড়ি নামেও পরিচিত।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাংশেও মঙ্গোলীয় ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে।
- এদের মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো, হাজং, কোচ এবং বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি ও মণিপুরি প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীর নাম উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায় বাস করে মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীভুক্ত রাখাইনরা।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা প্রভৃতি এলাকায় বসবাস করে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি মুন্ডা, মাল পাহাড়ি, মালো ইত্যাদি নৃগোষ্ঠী।
- এরা মূলত সমতলবাসী হিসেবে পরিচিত।
- বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলেও এসব নৃগোষ্ঠীর কারো কারো অবস্থান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৩০৩.
বাংলাদেশে বসবাসরত অধিকাংশ খাসিয়া কোন ধর্মের অনুসারী?
  1. ক) বৌদ্ধ
  2. খ) হিন্দু
  3. গ) খ্রিস্টান
  4. ঘ) মুসলিম
ব্যাখ্যা
• খাসিয়াদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টধর্মের প্রভাব লক্ষণীয়। খাসিয়া সম্প্রদায়ের পরিবর্তনটা তাদের ধর্মেই বেশি ঘটেছে।
• দেড় শতাধিক বছর পূর্বে খ্রিস্টান মিশনারিরা খাসিয়াদের মধ্যে ধর্মপ্রচার শুরু করেছিল।
• বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান
• খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। 
• প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে। প্রতি রোববারে খ্রিস্টান খাসিয়ারা গির্জায় প্রার্থনা এবং পুঞ্জির বিষয়াদি নিয়ে কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে।
• খ্রিস্টান যাজকগণ অনেক সময় পুঞ্জির বিচার-আচারেরও দায়িত্ব পালন করেন
• খাসিয়ারা গোড়া থেকেই একেশ্বরবাদী।তাদের বিশ্বাস, ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টির পর পৃথিবীতে একজোড়া নর-নারী সৃষ্টি করেছিলেন।

• বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৩০৪.
কোথায় গারোদের আবাস নেই?
  1. ময়মনসিংহ
  2. নেত্রকোনা
  3. শেরপুর
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
- রাঙ্গামাটিতে  গারোদের আবাস নেই।

গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিব্বতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০৫.
জাতিতাত্ত্বিত জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. মহাস্থানগড়
  2. আগ্রাবাদ
  3. পাহাড়পুর
  4. লালমাই
ব্যাখ্যা
• নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর:
- বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬৫ সালে।
- জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি। 
- এই জাদুঘরে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জাতি তাত্ত্বিক সামগ্রী প্রদর্শিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (১৯১০)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৬.
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ -
  1. ময়মনসিংহ
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ:
- ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী,
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭ শতাংশ।
- অতি দারিদ্রের হার: ৫.৬ শতাংশ। 
- দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: বরিশাল।

অন্যদিকে -
- বরিশাল বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৬.৯%।
- রংপুর বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.৮%। 
- ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.২%।
- ঢাকা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৯%।
- সিলেট বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৪%।
- রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৬.৭%।
- চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৫.৮%। 
- খুলনা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৪.৮%।

উৎস: খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২।
৩০৭.
কোথায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী:
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৩০৮.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুয়ায়ী, দেশে মোট সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭৬.৪৪%
  2. ৭৬.৮৪%
  3. ৭৪.৬৪%
  4. ৭৪.৮০%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

৩০৯.
সাঁওতালদের গ্রামগুলোকে কী নামে ডাকা হয়?
  1. পুঞ্জি
  2. আদাম
  3. রোয়া
  4. দিশাম
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গ্রাম পরিচিতি:

সাঁওতাল: গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।
খাসিয়া: গ্রামগুলো পুঞ্জি নামে পরিচিত।
চাকমা: গ্রামগুলো আদাম নামে পরিচিত।
মারমা: গ্রামগুলো রোয়া নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।

৩১০.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজাতি কোনটি?
  1. ক) গারো
  2. খ) হাজং
  3. গ) সাঁওতাল
  4. ঘ) মগ
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মারমা। মারমারা মগ নামে পরিচিত।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
৫০টি জাতিসত্তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯।

অন্যদিকে– 
সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা। মারমাদের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬২ আর ত্রিপুরাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮।
চতুর্থ স্থানে আছে সমতলের জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল।
তাঁদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক রিপোর্ট এবং প্রথম আলো।

৩১১.
'ওরাঁও' জনগোষ্ঠী কোন অঞ্চলে বাস করে?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. সিলেট
  4. বান্দরবন
ব্যাখ্যা
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুরুখ ও সাদরি ভাষায় কথা বলে।
- এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি ভাষা।
- কুরুখ একটি আদি কথ্য ভাষা। এর নিজস্ব বর্ণমালা নেই।

- রংপুর, দিনাজপুর এবং সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে ওরাঁও জনগোষ্ঠী।
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া।

- ত্রিপুরা ও গারোদের ভাষার নাম যথাক্রমে ককবোরক এবং আচিক খুসিক।
- পাঙনদের ভাষা : মেইতেইলোন।

তথ্যসূত্র- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩১২.
বাংলাদেশে আদমশুমারি কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  2. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
  3. স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়
  4. গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

আদমশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৩১৩.
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কয়টি জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয়েছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৪]
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনসংখ্যা নীতি:

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম অঙ্গীকার হলো সকল নাগরিকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৭৩-১৯৭৮) জনসংখ্যা সমস্যাকে এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৭৬ সালে একটি জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করা হয়।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট দুটি জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয়েছে -
• প্রথম জাতীয় জনসংখ্যা নীতির রূপরেখা প্রণীত হয় ১৯৭৬ সালে।
- ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
- ২০০৪ সালের জনসংখ্যা নীতির উদ্দেশ্য ছিল ২০১০ সালের মধ্যে নিট প্রজনন হার-১ অর্জন করা।
- কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় কর্মসূচিতে গতিশীলতা আনার জন্য জনসংখ্যানীতিকে হালনাগাদ করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

• ২য় ও সর্বশেষ জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয় ২০১২ সালে।
- এই জনসংখ্যা নীতির উদ্দেশ্যে ছিলো ২০১৫ সালের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৭২ শতাংশ উন্নীত করে নিট প্রজনন হার ১ অর্জন করা।
- এর মাধ্যমে ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা অর্জন করা।

উৎস: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩১৪.
কোন বিভাগে দারিদ্র্য হার সবচেয়ে কম?
  1. ক) সিলেট বিভাগ
  2. খ) চট্টগ্রাম বিভাগ
  3. গ) রংপুর বিভাগ
  4. ঘ) ঢাকা বিভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ-২০১৬ অনুসারে দেশের মধ্যে দারিদ্র্য হার সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে ১৬.২ শতাংশ। অন্যদিকে দারিদ্র্য হার সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে ৪৭.৩ শতাংশ। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার কুড়িগ্রাম জেলায় ৭০.৮ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২.৬ শতাংশ।
(সূত্রঃ বিবিএস খানা আয় ও ব্যয় জরিপ -২০১৬)
৩১৫.
কোন উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃত্রান্তিক নয়?
  1. ক) খাসিয়া
  2. খ) গারো
  3. গ) মান্দি
  4. ঘ) কোনোটিই পিতৃত্রান্তিক নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫০টি উপজাতির মধ্যে খাসিয়া এবং গারো বা মান্দি সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক। বাকি সবগুলো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে। এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে। খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩১৬.
নিচের কোন জেলায় মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. কক্সবাজার
  2. সিলেট
  3. রাঙ্গামাটি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩১৭.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুসারে, নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬%
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%
  3. সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে
  4. ডি-জুরি (de jure) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এ 'মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto)' পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭৪.৬৬%।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

উল্লেখ্য,
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরুপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এ 'মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto)' পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘের গাইডলাইন অনুযায়ী জনশুমারি মূলত নিম্নবর্ণিত তিন ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিচালনা করা হয়।
.• ডি-জুরি (de jure) পদ্ধতি:
- এই পদ্ধতিতে খানার সদস্যগণকে শুধু তাদের বাসস্থানে গণনাভুক্ত করা হয়।
• ডি-ফ্যাক্টো (de: facto) পদ্ধতি:
- এই পদ্ধতিতে খানার সদস্যগণকে শুমারি মুহূর্তে তাদের অবস্থানে গণনাভুক্ত করা হয়।
• মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified de facto) পদ্ধতি:
- এই পদ্ধতিতে খানার সদস্যকে শুমারি মুহূর্তে তাদের অবস্থান গণনাভুক্ত করার পাশাপাশি শুমারি মুহূর্তে যারা ভ্রমণরত; হাসপাতাল ও হোটেলে থাকবেন বা কর্মরত থাকবেন তাদেরকে স্ব স্ব খানায় গণনাভুক্ত করা হয়।

জনশুমারি নিয়ে কিছু তথ্য:
- ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে।পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে। এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- প্রতি ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে একবছর পিছিয়ে যায়।
- পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ।
- ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
         ii) ১৫ জুন ২০২২, প্রথম আলো।
৩১৮.
বাংলাদেশের কোন নৃ-গোষ্ঠীর নৃত্য আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত?
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) মণিপুরী
  3. গ) চাকমা
  4. ঘ) কোচ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী মণিপুরী সম্প্রদায় সংস্কৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী। তাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
- এছাড়া তাদের তাঁতবস্ত্র ও দৃশ্যশিল্পও ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
- মণিপুরী সম্প্রদায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৩১৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ফরিদপুর
  2. পিরোজপুর
  3. জামালপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৩২০.
নিচের কোন নৃগোষ্ঠীর পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক?
  1. খিয়াং
  2. গারো
  3. মারমা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা

গারো: 
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতিসমূহের মধ্যে খাসিয়া এবং গারো সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক।
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে।
​- খিয়াং সাঁওতাল এবং মারমা উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩২১.
জাতীয় জনসংখ্যা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (NIPORT) কোন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন?
  1. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  2. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
  3. অর্থ মন্ত্রণালয়
  4. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় জনসংখ্যা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (NIPORT):
- এর পূর্ণরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- ১৯৭৭ সালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
- নিপোর্ট প্রধান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ সুবিধা ছাড়াও:
-বিভাগীয় ও জেলা শহরে রয়েছে ১২টি পরিবার কল্যাণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (FWVTI),
- উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে ২০টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (RTC)।
- ১২টি এফডব্লিউভিটিআই,
- ও ৩১টি মাঠ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (FTC) সংযুক্ত রয়েছে।
- এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।

কার্যক্রম:
- মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি।
- প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা ,গবেষণা ও জরিপ পরিচালনা করা।

উৎস: NIPORT ওয়েবসাইট।
৩২২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ক) ২ক
  2. খ) ১৭ক
  3. গ) ১৮ক
  4. ঘ) ২৩ক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি’ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদটি ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা গৃহিত হয়।
এতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন, ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান)
৩২৩.
বাংলাদেশের কোন উপজাতির পরিবার মাতৃতান্ত্রিক?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
গারোদের পরিবার, বিবাহ ও ধর্ম:
- গারো পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- পরিবারের সকল কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা মাতা বা স্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকে।
- সে কারণে গারো পরিবারে ও সম্প্রদায়ে পুরুষের প্রাধাণ্য কম।
- এ সমাজে উত্তরাধিকার মাতৃধারায় মা থেকে মেয়েতে বর্তায়।
 এখানে মাতৃবাস রীতি অনুসরণ করা হয়।
- বিয়ের পর গারো দম্পতি স্ত্রীর মায়ের বাড়িতে বসবাস করে।
- ইদানীং শিক্ষিত গারো-দম্পতিদের মধ্যে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হয়।
- গারো সম্প্রদায়ে একক বিবাহভিত্তিক পরিবার বিদ্যামান।
- বাংলাদেশে বসবাসরত গারো সম্প্রদায়ের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান।
- এদের ঐতিহ্যগত ধর্মের নাম সাংসারেক।
- বর্তমানে শতকরা প্রায় ৮ ভাগ সাংসারেক ধর্মের অনুসারী এবং বাকি ২ ভাগ ইসলাম ও হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী।
- গারোসমাজে ব্যবহৃত 'সাংসারেক' শব্দটি সম্ভবত এসেছে বাংলা সংসার থেকে।
- জগৎ সংসার বোঝাতেই সাংসারেক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছ।
- সংসার, পরিবার, খানা অর্থাৎ জাগতিক বিষয়কে কেন্দ্র করেই গারোদের ধর্ম।

উল্লেখ্য, খাসিয়াদের পরিবারও মাতৃতান্ত্রিক।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৪.
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসবাস কোথায় নেই?
  1. বগুড়া
  2. রংপুর
  3. দিনাজপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালদের ভাষা: সাঁওতালি।
- সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত।
- কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
- সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।
- খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে। 
- প্রধান উৎস: সোহরাই।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩২৫.
'গারো উপজাতি' কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. ক) উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে
  2. খ) দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে
  3. গ) উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• গারো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উপজাতি গোষ্ঠী।
- উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায় এদের প্রধান আবাসস্থল।
- অর্থাৎ ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় গারোরা বসবাস করে।

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার ওয়েবসাইট।
৩২৬.
আদমশুমারি ও গৃহগণনার বর্তমান নাম কী?
  1. জনসংখ্যাশুমারী ও গৃহগণনা
  2. লোকশুমারী ও গৃহগণনা
  3. জনশুমারী ও গৃহগণনা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা:   
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:   
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি। 
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.২২%। 
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।  
- স্বাক্ষরতার হার: ৭৪.৬৬%। 

উৎস: i) ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা রিপোর্ট ২০২২।
          ii) পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৩২৭.
'পলকূত' লুসাই জনগোষ্ঠীর কোন ধরনের উৎসব?
  1. শস্য কাটার উৎসব
  2. মৃত আত্মাদের স্মরণে
  3. বসন্ত উৎসব
  4. বর্ষবরণ উৎসব
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩২৮.
৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা কত জন?
  1. ক) ৪.০ জন
  2. খ) ৪.০২ জন
  3. গ) ৪.০৪ জন
  4. ঘ) ৪.০৫ জন
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে দেশে -
• খানার সংখ্যা - ৪,১০,১০,০৫১ জন।
• খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা – ৪.০ জন।
• সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৬৬%।
• প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা - ২৩,৬১,৬০৪ জন।
• জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা।
• জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল।
• জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা – ঢাকা।
• জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা – বান্দরবান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৩২৯.
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের হিসাবমতে, বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা কত?
  1. ক) ৩২
  2. খ) ৩৮
  3. গ) ৪২
  4. ঘ) ৪৫
  5. ঙ) ৪৮
ব্যাখ্যা
সরকারি হিসাব মতে, বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা - ৪৮ এবং আদিবাসী ফোরামের হিসাবমতে - ৪৫।
৩৩০.
বিখ্যাত মুনিপুরী নাচ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের?
  1. রংপুর
  2. বান্দারবান
  3. সুনামগঞ্জ 
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

 মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- সংস্কৃতি মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী।
- নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৩১.
‘ভাটিয়ালি’ গান বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের গান?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকজ সংস্কৃতি হলো ভাটিয়ালি গান। ভাওয়াইয়া গান রংপুর অঞ্চল এবং গম্ভীরা গান চাপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকজ সংস্কৃতি এবং ভাণ্ডারী গানের জন্যে চট্টগ্রাম বিখ্যাত।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৩২.
মারমা জাতিগোষ্ঠী গ্রামকে তাদের ভাষায় কী বলে?
  1. পুঞ্জি
  2. কার্বারি
  3. রোয়াজা
  4. রোয়া
ব্যাখ্যা

মারমা:
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ভিন্ন নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে মারমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। 
​- মারমা নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। 'মারমা' শব্দটি 'ম্রাইমা' শব্দ থেকে উদ্ভূত।
- পাবর্ত্য অঞ্চলে বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত মারমা সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা।
- প্রত্যেক মৌজায় কতগুলো গ্রাম রয়েছে। গ্রামবাসী গ্রামের প্রধান মনোনীত করে। 
​- মারমারা গ্রামকে তাঁদের ভাষায় 'রোয়া' এবং গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলে।
- মারমাদের জীবিকার প্রধান উপায় হচ্ছে কৃষি। তাঁদের চাষাবাদের প্রধান পদ্ধতিকে জুম বলা হয়।
- মারমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাঁরা এ ধর্মেরই অনুষ্ঠানাদি উদযাপন করে।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৮ম শ্রেণি।

৩৩৩.
কোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের গ্রামকে ’পুঞ্জি’ বলা হয়?
  1. মারমা
  2. খাসিয়া
  3. সাঁওতাল
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
• খাসিয়া:
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে।
- সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং গোত্রভুক্ত জাতি।
- তারা মাতৃপ্রধান পরিবারে বসবাস করে।
- খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।

- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- খাসিয়াদের ধর্ম খ্রিস্টান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৪.
পাংখোয়ারা নিজেদের কোন ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী বলে দাবি করে?
  1. খ্রিস্টান
  2. বাহাই
  3. জৈন
  4. বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা

- পাংখোয়ারা নিজেদের বৌদ্ধ দাবি করে। 

পাংখোয়া :
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি অদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ বলে দাবি করে থাকে।
- তবে একাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মতো প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’, যেমন লুসেইদের ‘পুথিয়ান’।
- বিশ্বসৃষ্টি সম্পর্কে তাদের সমাজে অনেক পৌরাণিক গল্পকাহিনী প্রচলিত আছে। সৃষ্টিকর্তা ‘পত্যেন’-এর পরই তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’। 

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ। 

৩৩৫.
বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. কৃষি নির্ভরতা
  2. প্রযুক্তিহীনতা
  3. অধিক জনসংখ্যা
  4. রাজনৈতিক অস্থিরতা
ব্যাখ্যা
বেকারত্ব বৃদ্ধি:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা বেকারত্ব।
- আর অতিরিক্ত জনসংখ্যাই আমাদের (বাংলাদেশের) বেকার সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
- জনসংখ্যা অনুপাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না বলে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬-৯৭ পর্যন্ত সময়ে দেশে শ্রমশক্তি তথা কর্মক্ষম জনশক্তির পরিমাণ দ্বিগুণ হলেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়নি।

উল্লেখ্য,
- কাজ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে কর্মলাভে ব্যর্থ হওয়ার ফলে সক্ষম ব্যক্তির কর্মহীন অবস্থাই হলো বেকারত্ব।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এদেশে কর্মের সুযোগ বৃদ্ধি প্রাপ্ত না হওয়ার ফলে বেকারত্ব ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
- বেকারত্ব দারিদ্র্য সৃষ্টি করে এবং ক্রমাগতভাবে বেকার ব্যক্তিকে সুবিধা বঞ্চিত করে তোলে। 

তথ্যসূত্র: সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, এবং এসএসসি প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
নিচের কোন জেলায় সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৩৭.
বাংলাদেশের একমাত্র নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
 • নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর:
- বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬৫ সালে।
- জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি। 
- এই জাদুঘরে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জাতি তাত্ত্বিক সামগ্রী প্রদর্শিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (১৯১০)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া
৩৩৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন সিটি কর্পোরেশনে সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে?
  1. কুমিল্লা
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে - ঢাকা বিভাগ।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে - ময়মনসিংহ বিভাগ।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৩৩৯.
নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি কোন সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন?
  1. ক) রাখাইন
  2. খ) গারো
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) মণিপুরী
ব্যাখ্যা
নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি। ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
৩৪০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষের সাক্ষরতার হার -
  1. ৭৫.৩২%
  2. ৭৬.৭১%
  3. ৭৭.১২%
  4. ৭৮.৪৯%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
​- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

​তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৩৪১.
ওঁরাওদের প্রধান উৎসব কোনটি?
  1. বিষু
  2. বৈসুক
  3. জলকেলি
  4. কারাম
ব্যাখ্যা
ওঁরাওদের প্রধান উৎসব কারাম।

ওঁরাও:

- ওঁরাও দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় নৃগোষ্ঠী।
- ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে এদের বাস।
- বাংলাদেশে বর্তমানে গাজীপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা ওঁরাওদের প্রধান বসতিস্থল।

⇒ ওঁরাওদের ভাষার নাম কুরুখ ও সাদ্রি।
- এই ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই।
- ওঁরাও আদিবাসীরা নৃতাত্ত্বিক বিচারে আদি অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ।
- ওঁরাও সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

⇒ এদের গ্রামপ্রধানকে বলা হয় মাহাতো।
- এদের নিজস্ব আঞ্চলিক পরিষদ আছে, যা পাহতো নামে পরিচিত।
- এই পরিষদে কয়েকটি গ্রামের প্রতিনিধিরা থাকে।
- অন্যান্য আদিবাসী জাতির মতো ওঁরাও সমাজও সর্বপ্রাণবাদী প্রকৃতি উপাসক, তবে এদের ধর্মবিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে সর্বশক্তিমান ‘ধরমী’ বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’ স্বীকৃত।

⇒ এদের প্রধান উৎসবের নাম কারাম।
- ওঁরাও সমাজে অতিথি আপ্যায়ন ও উৎসব-অনুষ্ঠানে নেশাদ্রব্য পান করা একটি ঐতিহ্যবাহী অভ্যাস।
- এদের সমাজে নৃত্য ও সংগীত একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

অন্যদিকে,
- রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি।
- বৈসুক হলো ত্রিপুরাদের উৎসব।
- বিষু তঞ্চঙ্গ্যাদের প্রধান উৎসব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪২.
কোন নৃ-গোষ্ঠীর পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক?
  1. মারমা
  2. গারো
  3. সাঁওতাল
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৪৩.
চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে বিজু উৎসব পালন করে কারা?
  1. চাকমা
  2. মারমা 
  3. ত্রিপুরা
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

বিজু উৎসব:
- চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা উপলক্ষে বিজু উৎসব পালন করে।

⇒ চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মোট তিন দিন ধরে বিজু উৎসব চলে।
- বিজু উৎসবে তিন দিনের আলাদা নামকরণ হয়েছে।
- প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যাপজ্যা।
• বছরের শেষ অর্থাৎ চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে ‘ফুল বিজু’।
• চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ তারিখে পালন করা হয় মূলবিজু।
• বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালন করা হয় গজ্যাপজ্যা (গড়িয়ে পড়ার দিন)।

উল্লেখ্য,
- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয়।
- চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক উৎসব পালন করে।
- রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৪৪.
'জুম' চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের কোন জেলাসমূহে দেখা যায়?
  1. ক) সাতক্ষিরা, যশোহর, কুষ্টিয়া
  2. খ) নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ
  3. গ) বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম
  4. ঘ) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
ব্যাখ্যা
জুষ চাষ হলো স্থানান্তর চাষাবাদ যা সাধারণত পাহাড়ী এলাকায় করা হয়। এ পদ্ধতিতে ঢালু পাহাড়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা হয়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এখনো কিছু কিছু এলাকায় জুষ চাষ করে।
- এছাড়া সিলেট অঞ্চলে খাসিয়া এবং ময়মনসিংহে গারোদের মধ্যেও জুম চাষ প্রচলিত ছিলো।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৪৫.
জনসংখ্যায় বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজাতি-
  1. ক) চাকমা
  2. খ) সাওতাল
  3. গ) মারমা
  4. ঘ) মগ
ব্যাখ্যা
-  বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজাতি- চাকমা
-  চাকমারা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাস করে।
- তাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক । তারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- তাদের প্রধান ভাষা চাকমা বা চাঙমা। তারা গ্রামকে আদাম এবং গ্রামের প্রধানকে বলে কার্বরী।
- চাকমা সমাজের প্রধান হলো চাকমা রাজা।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা- ৫০ টি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
৩৪৬.
'NIPORT' কোন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান?
  1. জনসংখ্যা
  2. প্রাথমিক শিক্ষা
  3. নদী রক্ষা
  4. পরিবেশ রক্ষা
ব্যাখ্যা
NIPORT (নিপোর্ট):
- এর পূর্নরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- NIPORT বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক একটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজধানী ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতের দক্ষ জনবল তৈরি এবং এ সংক্রান্ত নীতিমালা উন্নয়নে অবদান রাখে।

তথ্যসূত্র: NIPORT ওয়েবসাইট।
৩৪৭.
কোথায় গারোদের আবাস নেই?
  1. ময়মনসিংহ
  2. নেত্রকোনা
  3. জামালপুর
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
- বান্দরবানে গারোদের আবাস নেই।

গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিব্বতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪৮.
বর্তমানে দেশে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কয়টি? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৪৮টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বর্তমানে দেশে স্বীকৃত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%। এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। 

⇒ সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

৩৪৯.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. লুসাই
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৫০.
কোনটি সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী নয়?
  1. মূল্যবোধগত দ্বন্দ্ব
  2. শিল্পায়ন ও শহরায়ন
  3. সামাজিক আদর্শ
  4. মৌলিক চাহিদার অপূরণ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক সমস্যার সাধারণ কারণসমূহ:

১। মূল্যবোধগত দ্বন্দ্ব
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণের চালিকা শক্তি।
- সাংস্কৃতিক শূন্যতা ও মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে।

২। শিল্পায়ন ও শহরায়নের প্রভাব
- দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের কারণে বস্তুগত পরিবর্তন ঘটে।
- সমাজের অন্যান্য উপাদান সমানভাবে পরিবর্তিত না হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

৩। মৌলিক চাহিদার অপূর্ণতা
- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়।

সামাজিক সমস্যার অন্যন্য কারনগুলো মধ্যে রয়েছে -
• সামাজিক কাঠামোর ত্রুটি
• সম্পদ ও সুযোগের অসম বণ্টন
• মানসিক চাপ ও বিচ্যুত আচরণ
• সামাজিক পরিবর্তন

তথ্যসূত্র: সমাজকর্ম ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫১.
বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি কোনটি?
  1. ত্রিপুরা
  2. মুরং
  3. রাজবংশী
  4. পাঙন
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:

- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

তথ্যসূত্র - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩৫২.
লুসাই ক্ষুদ্র  নৃ-গোষ্ঠী কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. মুসলিম
  2. হিন্দু
  3. বৌদ্ধ
  4. খ্রিস্টান
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৫৩.
চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. সাংগ্রাই
  2. বৈসুক
  3. বিজু
  4. সোহরাই
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৩৫৪.
সাঁওতালদের জাতীয় উৎসব কোনটি?
  1. সোহরাই
  2. সাংগ্রাই
  3. ওয়ানগালা
  4. কারাম
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৫৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইউনিয়নের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪,৫৫৬টি
  2. ৪,৫৬৬টি
  3. ৪,৫৭৭টি
  4. ৪,৫৯৬টি
ব্যাখ্যা
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ - ৮টি।
- জেলা - ৬৪টি।
- সিটি কর্পোরেশন - ১২টি।
- উপজেলা - ৪৯৫টি।
- ইউনিয়ন - ৪,৫৯৬টি।

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

৩৫৬.
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে -
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
জনশুমারি:
- কোনো দেশের বা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ গণনাকেই মূলত আদমশুমারি বলে।
- একে একটি দেশের জনসংখ্যার সরকারি গণনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সেগুলো হলো: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।

উল্লেখ্য,
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাল শুমারিতে প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ৩৫ ধরনের তথ্যসহ আরও ১০টি সহায়ক তথ্য নেওয়া নিয়েছেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। এতে করে একজন নাগরিকের মোট ৪৫ ধরনের তথ্য নেওয়া হয়েছে।

⇒ জনশুমারি নিয়ে কিছু তথ্য:
- ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে।পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে। এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
ii) BBC.
৩৫৭.
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য জনগোষ্ঠী বাস করে?
  1. খুলনা বিভাগ
  2. রংপুর বিভাগ
  3. ময়মনসিংহ বিভাগ
  4. বরিশাল বিভাগ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ:
- ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী,
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭ শতাংশ।
- অতি দারিদ্রের হার: ৫.৬ শতাংশ।

• সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য জনগোষ্ঠী: বরিশাল বিভাগ (২৬.৯%)।
• সবচেয়ে কম দারিদ্র্য জনগোষ্ঠী: খুলনা বিভাগ (১৪.৮%)।

অন্যদিকে -
- ঢাকা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৯%।
- রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৬.৭%।
- চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৫.৮%।
- রংপুর বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.৮%।
- ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.২%।
- সিলেট বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৪%।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৩৫৮.
দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১৫-২১ মে
  2. খ) ১৫-২১ এপ্রিল
  3. গ) ১৫-২১ জুন
  4. ঘ) ১৫-২১ জুলাই
ব্যাখ্যা
• ১৫-২১ জুন ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।
• এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা।
• বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। পরবর্তীতে ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম আদমশুমারি ও গৃহগণনা।
• ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিপাদ্য ছিল: “জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন”।
• পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, আদমশুমারি ও গৃহগণনাকে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে নামকরণ করা হয়।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২।
৩৫৯.
জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে কোন সাল থেকে? 
  1. ২০৫০ সাল 
  2. ২০৬২ সাল 
  3. ২০৬৫ সাল 
  4. ২০৭০ সাল 
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- নতুন এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না। 
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

৩৬০.
ওরাওঁ জনগােষ্ঠীর বসবাস কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সমতট
  2. খ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  3. গ) বরেন্দ্র
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
- ওরাওঁ  বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। 
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়। 
- এ কারণে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন যে, ওরাওঁরা দ্রাবিড়ভাষী কুড়ুখ জাতির উত্তর পুরুষ।
-  ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় যে, তারা বরেন্দ্র অঞ্চল ছাড়াও ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলায়ও বসবাস করত।
- ওরাওঁ নৃগোষ্ঠীর লোকেরা ভারতে তাদের আদি বাসস্থান থেকে ঠিক কবে এবং কি কারণে বাংলাদেশের  বরেন্দ্র অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করেছিল তা বলা যায়না। - শুধু এটুকু জানা যায় যে, তারা মুগল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৩৬১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে, সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. যশোর
  2. পিরোজপুর 
  3. কুমিল্লা
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা

- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব)- ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব)- ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - জামালপুর (৬১.৭০%)।

উল্লেখ্য,
• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার মধ্যে পল্লি অঞ্চলে বসবাস করে - ১১,৬০,৬৫,৮০৪ জন (৬৮.৩৪%)।
- জনসংখ্যার মধ্যে শহর অঞ্চলে বসবাস করে- ৫,৩৭,৬৩,১০৭ জন (৩১.৬৬%)
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৩৬২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা কত ছিল?
  1. প্রায় ষোল কোটি
  2. প্রায় সাড়ে ষোল কোটি
  3. প্রায় সতেরো কোটি
  4. প্রায় আঠারো কোটি
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি.তে: ১,১১৯ জন।
- ০৯ এপ্রিল ২০২৩ প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাব অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- এদের মধ্যে -
• পুরুষ ৮,৪০,৭৭২০৩ জন এবং
• নারী ৮,৫৬,৫৩,১২০ জন।

উল্লেখ্য,
- ২৭ জুলাই ২০২২ প্রকাশিত জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিলো ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

৩৬৩.
বাংলাদেশে বসবাসরত একমাত্র মুসলিম ধর্মীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কারা?
  1. ম্রো
  2. পাঙ্গাল
  3. ক্ষিয়াং
  4. তঞ্চঙ্গ্যা
ব্যাখ্যা
• পাঙাল জনগোষ্ঠী:
- বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
• বসবাস:
- মৌলভিবাজার ও সিলেট অঞ্চলে কিছু লোকের বসবাস।
- যারা ধর্মীয় ভাবে মুসলিম কিন্তু জাতিসত্তার বিচারে মনিপুরি।
- আবার মুসলিম হলেও রীতিনীতিতে তারা মূলধারার বাঙালিদের চেয়ে ভিন্ন।

অপরদিকে,
- ম্রোদের ধর্মের নাম: তোরাই।
- রাখাইনদের বৌদ্ধ ধর্মের।
- তঞ্চঙ্গ্যা বৌদ্ধ ধর্মের।
- সাঁওতাল নিজস্ব ধর্ম রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩৬৪.
সাঁওতাল জাতিসত্তার বসবাস বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. ক) দক্ষিণবঙ্গে
  2. খ) উত্তরবঙ্গে
  3. গ) পশ্চিমবঙ্গে
  4. ঘ) পার্বত্য অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• সাঁওতাল জাতিসত্তা :
- বাংলাদেশে সাঁওতালরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিসত্তা।
- উত্তরবঙ্গের রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, নবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী প্রভৃতি জেলায় তারা বাস করে।
- উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে তাদের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 

• ব্রিটিশ সরকার ১৮৩৬ সালে ভারতবর্ষের বিহার রাজ্যে সাঁওতালদের নিরাপদ বসবাসের জন্য একটি এলাকা নির্দিষ্ট করে দেয়, যা সাঁওতাল পরগণা নামে পরিচিত। 
- পরে সেখানে বহিরাগত মহাজন ও ব্যবসায়ীরা তাদের উপর নিপীড়ন শুরু করে। 
- তারা সহজ সরল সাঁওতালদেরকে বিভিন্ন কৌশলে ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলে।
- এই শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা অবশেষে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ১৮৫৫ সালের সেই বিদ্রোহ ইতিহাসে ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ' নামে পরিচিত হয় ।
- এই বিদ্রোহের নায়ক দুই ভাই সিধু ও কানহুকে তারা তাদের জাতীয় বীর হিসেবে ভক্তি করে। 
- এতে প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল বিদ্রোহী নিহত হন।

উৎস:  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩৬৫.
নিচের কোন জনগোষ্ঠীটি সমতলে বসবাস করে?
  1. ক) লুসাই
  2. খ) মুন্ডা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) চাক
ব্যাখ্যা
মুন্ডা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও সিলেট জেলার চা বাগানে বসবাস করে। এদের ভাষার নাম মুন্ডারি। মুন্ডাদের ধর্মের নাম স্বর্ণা।

অন্যদিকে,

লুসাই, মুরং ও চাক জনগোষ্ঠী চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাস করে।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৬৬.
গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম কী?
  1. অবেং
  2. আচিক
  3. মনখেমে
  4. উমোই
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- তাদের সমাজে মাতা হলো পরিবারের প্রধান। মায়ের বংশ সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়।
- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৩৬৭.
Which one is the largest tribe in Bangladesh?
  1. Garo
  2. Chakma
  3. Marma
  4. Murong
ব্যাখ্যা
 চাকমা:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজাতি চাকমা।
- চাকমারা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সবচেয়ে অধিক চাকমা বসবাস করে।
- তাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- তারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- বিজু হলো চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
- তাদের প্রধান ভাষা চাকমা বা চাঙমা।
- চাকমা গ্রামের প্রধান হলেন: কারবারি।
- চাকমা সমাজের প্রধান হলো চাকমা রাজা।
- চাকমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ: ত্রিপিটক।
- চাকমাদের প্রধান পেশা: কৃষি।
- চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাস: ফেবো।
- জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা: ৫০ টি।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৬৮.
মুরং আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে কোন জেলায়?
  1. রংপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
মুরং/ম্রো:

- ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা পরিবারের প্রধান।
- ম্রোরা ধর্মপ্রাণবাদী এবং তাদের তিনজন দেবতা আছে- তুরাই যিনি বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, সাংতুং অর্থাৎ পাহাড়ের দেবতা এবং ওরেং যিনি নদীর দেবী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৬৯.
চাকমাদের গ্রাম প্রধানকে কী বলা হয়? 
  1. কার্বারী
  2. সার্কেল প্রধান
  3. আদাম
  4. হেডম্যান
ব্যাখ্যা

- চাকমা গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 

চাকমা জাতিসত্তা: 
- পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে চাকমারা জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম। 
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলাতে তাদের বসবাস রয়েছে।
- এছাড়া চাকরিসূত্রে চাকমারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছে। 
- আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ও দিল্লীসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেক চাকমা বসবাস করে।
- খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ এবং রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে চাকমা সার্কেল যার প্রধান হলেন চাকমা চীফ বা চাকমা রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের আরও দুটি সার্কেলের মতো চাকমা সার্কেলও অনেক মৌজা নিয়ে গঠিত। 
- চাকমা ভাষায় গ্রামকে আদাম বা পাড়া বলা হয়। 
- গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 

এছাড়াও,
- কয়েকটি 'আদাম' বা গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় এক-একটি মৌজা।
- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান' যার নেতৃত্বে মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধের বিচারসহ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের ভালমন্দ দেখভালের কাজগুলো পরিচালিত হয়। 

উৎস:  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই।

৩৭০.
বাংলাদেশের অষ্টম ইপিজেড এর নাম কি?
  1. ক) কর্ণফুলী ইপিজেড
  2. খ) কুমিল্লা ইপিজেড
  3. গ) আদমজী ইপিজেড
  4. ঘ) চট্টগ্রাম ইপিজেড
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের অষ্টম ইপিজেড এর হল কর্ণফুলী ইপিজেড।
- কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে।
- ইপিজেড হলো রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল যা বেপজা এর নিয়ন্ত্রণাধীন।-
বেপজা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।

উৎস:বাংলাপিডিয়া

৩৭১.
বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে কতটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষার পাঠ্যপুস্তকে পাঠদান করা হচ্ছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাক-প্রাথমিক স্তরে বর্তমানে পাঁচটি ক্ষুদ্র নগোষ্ঠী ভাষার পাঠ্যপুস্তক রয়েছে।
এগুলো হলো:
- চাকমা ভাষা
- মারমা ভাষা
- ত্রিপুরা (ককবোরক ভাষা)
- গারো ভাষা ও
- সাদরি ভাষা (ওরাঁও জনগোষ্ঠী)
২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষায় ছাপানো পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও এনসিটিবি ওয়েবসাইট)
৩৭২.
বর্তমানে দেশে গড় আয়ু কত?
  1. ক) ৭০.৭
  2. খ) ৭১.৬
  3. গ) ৭২.০
  4. ঘ) ৭২.৩
  5. ঙ) ৭৩.৮
ব্যাখ্যা
বিগত বছরের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কিছুটা বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের আয়ু ৭০ দশমিক ৮ বছর আর নারী ৭৩ দশমিক ৮ বছর। সূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)
৩৭৩.
জনশুমারি ও গৃহ গণনা ২০২২ অনুযায়ী, কোন বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) সিলেট
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহ গণনা ২০২২ অনুযায়ী, ঘনত্ব বেশি - ঢাকা বিভাগে (২১৫৬ জন)।

• সর্বশেষ বা ৬ষ্ঠ আদমশুমারি হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২
• আদমশুমারি করে- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরো (বিবিএস)

- চূড়ান্ত প্রতিবেদন জনসংখ্যা: ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন বা প্রায় ১৬ কোটি ৫১ লাখ।
- পুরুষ: ৮,১৭,১২,৮২৪ জন,
- মহিলা: ৮,৩৩,৪৭,২০৬ জন,
- নারী : পুরুষ- ১০০: ৯৮

- আয়তনে বড় জেলা: রাঙ্গামাটি।
- আয়তনে ছোট জেলা: নারায়ণগঞ্জ।
- জনসংখ্যার ঘনত্বঃ ১১১৯ জন।
- ঘনত্ব বেশি: ঢাকা বিভাগে (২১৫৬ জন)।
- ঘনত্ব কম: বরিশাল বিভাগে (৬৮৮ জন)।
- জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার: ১.২২%
- স্বাক্ষরতার হার: ৭৪.৬৬%

সুত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
৩৭৪.
নিচের কোন জেলায় রাজবংশী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই?
  1. রংপুর
  2. রাজশাহী
  3. কক্সবাজার
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৭৫.
হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে তাকে কী বলা হয়?
  1. শাড়ি
  2. মেখলা
  3. কামিজ
  4. পাথিন
ব্যাখ্যা

হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- প্রতিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৭৬.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে সংগ্রহ করা হয়?
  1. GIDA
  2. CAPI
  3. ACSP
  4. BBS
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনশুমারি পরিচালনা করে: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- CAPI পদ্ধতি অনুসরণ করে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
- CAPI এর পূর্ণরূপ Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় অনুসরণ করা হয়েছে: মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৩৭৭.
‘মণিপুরী’ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী কোন জেলায় বাস করে?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) পটুয়াখালী
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) নেত্রকোণা
ব্যাখ্যা
মনিপুরী নৃগোষ্ঠী:
- মনিপুরী এর পূর্ব পুরুষরা হলো পাখাংবা এর বংশধর।
- মণিপুরী (The Manipuris) বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। 
- তবে তারা অধিক সংখ্যক বাস করে মৌলভীবাজার জেলায়।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭৮.
বাংলাদেশে কয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫] 
  1. ৮টি 
  2. ১০টি 
  3. ১২টি 
  4. ১৩টি 
ব্যাখ্যা

উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান:
- বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১০টি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যথা:
১. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা;
২. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙ্গামাটি;
৩. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান;
৪. কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার;
৫. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি;
৬. রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী;
৭. মনিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার;
৮. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, হালুয়াঘাট;
৯. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, দিনাজপুর;
১০. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, নওগাঁ।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট। [লিংক] 

৩৭৯.
মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন কোন জাতীসত্ত্বায় রয়েছে?
  1. গারো
  2. সাওতাল
  3. মনিপুরি
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন গারো জাতীসত্ত্বায় রয়েছে।

গারো:

- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।

উৎস: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৩৮০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর গণনায় কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. স্ট্যান্ডার্ড ডি-ফ্যাক্টো
  2. মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো
  3. ডি-জুরে-ফ্যাক্টো
  4. ডি-ফ্যাক্টো-সার্ভে
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৩৮১.
চাকমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব কোনটি?
  1. বৈসু
  2. বিজু
  3. সাংগ্রাই
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৩৮২.
মারমা উপজাতির পারিবারিক কাঠামো-
  1. ক) মাতৃতান্ত্রিক
  2. খ) ভাতৃতান্ত্রিক
  3. গ) পিতৃতান্ত্রিক
  4. ঘ) ভগ্নিতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫০টি উপজাতির মধ্যে খাসিয়া এবং গারো বা মান্দি সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক। বাকি সবগুলো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে। এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে। খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৮৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
  1. রংপুর
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে - ঢাকা বিভাগ।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে - ময়মনসিংহ বিভাগ।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৩৮৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, গ্রামে বসবাসকারী জনসংখ্যার শতকরা হার কত?
  1. ৬৭.৫%
  2. ৬৫%
  3. ৬৮.৩৪%
  4. ৭০%
ব্যাখ্যা

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

• অন্যান্য জনমিতিক বিষয়: 
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) গ্রামে বাস করে

- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

-ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।

- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।

৩৮৫.
বর্তমানে দেশের মাথাপিছু আয় কত?
  1. ক) $১৮২৭
  2. খ) $১৯০৭
  3. গ) $১৬১৭
  4. ঘ) $১৭৫১
  5. ঙ) $১৯০৯
ব্যাখ্যা
২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলার যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৭৫১ মার্কিন ডলার। উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
৩৮৬.
চাকমা জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা সর্বাধিক-
  1. রাঙ্গামাটি জেলায়
  2. খাগড়াছড়ি জেলায়
  3. বান্দরবান জেলায়
  4. সিলেট জেলায়
ব্যাখ্যা
• চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।

- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

উল্লেখ্য, 
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯। 
বিভাগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ জন বাস করে।

• জেলার নিরিখে দেশে, 
রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪ জন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাস করে - চাকমা।

• এরপরই আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। এখানে জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
৩৮৭.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৩
  3. ১৯৭৪
  4. ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

আদমশুমারিঃ 
- অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে।
- পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- দ্বিতীয় আদমশুমারি : ১৯৮১ সালে।
- তৃতীয় আদমশুমারি : ১৯৯১ সালে
- চতুর্থ আদমশুমারি : ২০০১ সালে
- পঞ্চম আদমশুমারি : ২০১১ সালে
- পরবর্তী ৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম হবে 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- বাংলাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আদমশুমারি পরিচালনা করে।

অন্যদিকে, 
- স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ ভূখণ্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

৩৮৮.
গারোদের সমাজব্যবস্থা হচ্ছে -
  1. পিতৃতান্ত্রিক
  2. মাতৃতান্ত্রিক
  3. যৌথ পরিবারভিত্তিক
  4. উপজাতীয় গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গারো: 
- গারোদের সমাজব্যবস্থা মূলত মাতৃতান্ত্রিক (matrilineal)
। অর্থাৎ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, পারিবারিক নাম এবং সামাজিক মর্যাদা নারীর দিক থেকেই বিবেচিত হয়। গারো সমাজে মেয়েরা পারিবারিক সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী, বিশেষ করে কনিষ্ঠ কন্যা পিতামাতার সব সম্পত্তির মালিক হন।

উল্লেখ্য, 
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে। এদের সংখ্যা প্রায় দেড়লক্ষ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে। নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩৮৯.
নিচের কোন জেলায় সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. রাজশাহী
  2. দিনাজপুর
  3. রংপুর
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৯০.
গারোদের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. মাতৃতান্ত্রিক পরিবার
  2. ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী
  3. উৎসব: সোহরাই
  4. আদি ধর্ম 'সাংসারেক'
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 

অন্যদিকে -
- বিজু হলো চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের উৎসব।
- বৈসুক হলো ত্রিপুরাদের উৎসব।
- সাংগ্রাই হলো মারমাদের উৎসব।

উৎস: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৩৯১.
বাংলাদেশে মোট কয়টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

আদমশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৩৯২.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে বসবাস করে না?
  1. মুন্ডা
  2. মাসাই
  3. কুকি
  4. মাহাতো
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী:
- কেনিয়া ও তানজানিয়ার সীমান্তে বসবাসকারী উপজাতি - মাসাই।
- মুন্ডা, কুকি, মাহাতো ও খিয়াং নৃগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।

এছাড়াও,
- রাজবংশী উপজাতির বসবাস রংপুর।
- বাংলাদেশে মনিপুরী, খাসিয়া উপজাতি বাস করে সিলেট অঞ্চলে।
- রাঙ্গামাটিতে বাস করে চাকমা, মারমা, তনচংগা সহ বেশ কয়েকটি উপজাতির অংশবিশেষ।
- গারো ও হাজংদের বসবাস ময়মনসিংহ অঞ্চলে।
- রাখাইন উপজাতিরা বসবাস করে পটুয়াখালীতে।
- সাওতাল - রাজশাহী, রংপুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ব্রিটানিকা।
৩৯৩.
'রাস নৃত্য' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন?
  1. মণিপুরী
  2. লুসাই
  3. বম
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৯৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার -
  1. ১.০২%
  2. ১.১২%
  3. ১.২১%
  4. ১.৩২%
  5. ১.৩৭%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৩৯৫.
Where does Rakhain tribe mainly live?
  1. Rangamati
  2. Bandarban
  3. Rajshahi
  4. Patuakhali
ব্যাখ্যা
রাখাইন:

- রাখাইন  বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী যারা আঠারো শতকের শেষে আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- রাখাইনদের হাজার বছরের পুরানো এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে।
- আদি ব্রাহ্মীলিপিতে প্রথম লিখিত আকারে পালি ভাষায় ‘আরাখা’ অর্থাৎ রক্ষ বা রক্ষিতা অথবা রক্ষক শব্দ থেকে রাখাইন শব্দটির উৎপত্তি। - আর্য বংশোদ্ভূত প্রকৃতি উপাসক রাখাইনরা প্রাচীনযুগে মগধ রাজ্যে বসবাস করত।
- উল্লেখিত সময়ে মগধ থেকে রখঙ্গ, রখাইঙ্গপি, আরখঙ্গ, রোসাঙ্গ, রাখাইনপ্রে বা আরাকানে এসে বসবাস শুরু করলে মগধী বা মগ রূপে ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৯৬.
কোন জাতিগোষ্ঠী 'কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট' গড়ে তুলেছে -
  1. ক) চাকমা
  2. খ) বনযোগী
  3. গ) মারমা
  4. ঘ) খুমি
ব্যাখ্যা
বম বা বনযোগী জাতিগোষ্ঠী 'কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট' গড়ে তুলেছে ।

• কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট:
- পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নতুন সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- বান্দরবানের বম বা বনযোগী জাতিগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি এটি গড়ে তুলেছে।
- রাঙামাটি ও বান্দরবান অঞ্চলের ছয়টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে তারা। সেগুলো হলো বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, ম্রো ও খুমি।
- তারা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি এবং বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদম—এই উপজেলাগুলো নিয়ে আলাদা   রাজ্যের দাবি করেছে।
- সংগঠনের সভাপতি নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে।
- জেএসএসের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা মহানগর শাখা ও কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
- খাগড়াছড়ির চেঙ্গী স্কোয়ারের পাশে এম এন লারমার ভাস্কর্যটির অন্যতম কারিগর ছিলেন।
- কুকিচীন জাতীয় ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (কেএনডিও) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ছিলেন।

উৎস: বাংলাট্রিবিউন ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৯৭.
স্বাধীন বাংলাদেশে কয়টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৪ টি
  2. ৭ টি
  3. ৮ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
• আদমশুমারি:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন  ৬ষ্ঠ আদমশুমারি হয়।
- যা 'জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে পরিচালিত হয়।
- এ পর্যন্ত আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ৬ বার যথা- 
- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ এবং ২০২২সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৩৯৮.
রাখাইন জনগোষ্ঠী প্রধানত কোথায় বসবাস করে?
  1. কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরগুনা
  2. সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা
  3. রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট
  4. খুলনা, যশোর, মাগুরা
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- এরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৩৯৯.
চাকমাদের গ্রাম প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. রোয়াজা
  2. কারবারি
  3. হেডম্যান
  4. মাঞ্চঝি
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- বাংলাদেশের প্রধান উপজাতি চাকমা।
- চাকমারা নিজেদের কে চাঙামা বলে।
- আদি অবস্থান: চম্পকনগর।
- মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠী।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- চাকমা সমাজের প্রধান চাকমা রাজা।
- চাকমা গ্রাম প্রধানের নাম কারবারি।
- চাকমা মৌজা প্রধানের নাম হেডম্যান।
- চাকমাদের  ধর্ম বৌদ্ধ।
- বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে বিজু বলে।

উল্লেখ্য,
- সাঁওতালদের গ্রাম প্রধানকে মাঞ্চঝি  বলা হয়।
- মারমাদের গ্রাম প্রধানকে রোয়াজা বলা হয়।

উৎস: ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪০০.
গারো নৃ-গোষ্ঠীর পারিবারিক কাঠামো কোনটি?
  1. পিতৃতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. মাতৃতান্ত্রিক
  4. ভ্রাতৃতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• উপজাতি:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫০টি উপজাতির মধ্যে খাসিয়া এবং গারো বা মান্দি সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক।
- বাকি সবগুলো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- গারো নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের ‘মান্দি’ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে।
- এরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। এদের আদি নিবাস ছিল তিব্বতে।
- গারোদের ভাষার নাম আচিক খুসিক। তাদের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেনি।