বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা ১৪ / ১৬ · ১,৩০১১,৪০০ / ১,৫৬৭

১,৩০১.
মানব উন্নয়ন সূচক-২০১৯ এ বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) ১১৩
  2. খ) ১৩৫
  3. গ) ১৩৬
  4. ঘ) ১৪৬
ব্যাখ্যা
ইউএনডিপি বা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিবছর মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ২৯তম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন এ মোট ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ০.৬১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৩৫ তম অবস্থানে। প্রতিবেদনের শীর্ষদেশ নরওয়ে (০.৯৫৪)এবং সর্বনিম্ন দেশ নাইজার (০.৩৭৭)। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ৫ম। (সূত্রঃ ইউএনডিপি ওয়েবসাইট)
১,৩০২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে হিন্দু ধর্মালম্বী জনসংখ্যার হার কত?
  1. ৬.০৪%
  2. ৭.৯৬%
  3. ৮.৪৮%
  4. ৯.১৬%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা,
• মুসলমান - ৯১.০৮%।
• হিন্দু - ৭.৯৬%।
• বৌদ্ধ - ০.৬১%।
• খ্রিষ্টান - ০.৩০%।
• অন্যান্য - ০.০৬%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,৩০৩.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ১৬.৩%
  2. ১৭.২%
  3. ১৮.৭%
  4. ১৯.১%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ: ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।

→ খানাপ্রতি মাসিক গড় আয়: ৩২,৪২২ টাকা।
• শহর: ৪৫,৭৫৭ টাকা,
• গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা।

→ সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব): ৭৪%।
• পুরুষ: ৭৫.৮%,
• নারী: ৭২.৬%।

→ দারিদ্র্যের হার:
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার: ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার: ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

১,৩০৪.
বাংলাদেশে প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. কমলগঞ্জ
  2. হালুয়াঘাট
  3. রামু
  4. বিরিশিরি
ব্যাখ্যা
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি:
- বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।

উল্লেখ্য,
- গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, মান্দাই প্রভৃতি নৃগোষ্ঠী অনাদিকাল থেকে নিজস্ব জীবন ও সমাজ তথা ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি লালন করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বসবাস করে আসছে।
- এই সকল নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭৭ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- এর চারটি শাখা রয়েছে: ক) সংস্কৃতি খ) গবেষণা গ) লাইব্রেরি ও ঘ) জাদুঘর।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,৩০৫.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে?
  1. বম
  2. ত্রিপুরা
  3. হাজং
  4. চাক
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে,
- হাজং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে।

⇒ হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১,৩০৬.
বাংলাদেশে বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা-
  1. ক) ৪৩ টি
  2. খ) ৫০ টি
  3. গ) ৪৭ টি
  4. ঘ) ৪৯ টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০ টি
- ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ২৭টি। (বি বি এস এর আদমশুমারি রিপোর্ট-২০১১) 
- আদিবাসী ফোরামের তথ্য মতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৪৫টি। (বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর ওয়েবসাইট) 

তথ্যসূত্র:- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় প্রকাশিত গেজেট,২০১৯। 
১,৩০৭.
পাংখোয়া জনগোষ্ঠী কোন ধর্মে বিশ্বাসী?
  1. বৌদ্ধ
  2. খ্রিস্টান
  3. হিন্দু
  4. মুসলিম
ব্যাখ্যা
পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৮.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রামকে পুঞ্জি বলে?
  1. গারো
  2. মারমা
  3. খাসিয়া
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৩০৯.
বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল প্রাচীন বাংলায় কোন জনপদের অন্তর্গত ছিলো?
  1. ক) গৌড়
  2. খ) সমতট
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) বঙ্গ
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলায় কোন কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিলো না। বাংলা তখন ছোট ছোট কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত ছিলো। এসব অঞ্চল জনপদ নামে পরিচিত। প্রাচীন বাংলায় মোট ১৬টি জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।

- বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চল বঙ্গ জনপদ নামে পরিচিত ছিলো। এই বঙ্গ জনপদ থেকেই বাঙালি জাতির উদ্ভব হয়।

অন্যদকে,
- হরিকেল জনপদ : সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল
- সমতট জনপদ : কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল
- গৌড় জনপদ : বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীর অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩১০.
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হচ্ছে-
  1. সাঁওতাল
  2. খুমি
  3. হাজং
  4. ওঁরাও
ব্যাখ্যা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হচ্ছে গারো, হাজং।
সিলেট অঞ্চলে রয়েছে খাসিয়া ও মণিপুরিদের বাস।
উত্তরবঙ্গ- বিশেষ করে চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলে বাস করে সাঁওতাল ও ওঁরাওসহ অন্যান্য অনেক সম্প্রদায়।
কক্সবাজার ও পটুয়াখালী অঞ্চলে বাস করে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমিসহ আরো অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী]
১,৩১১.
বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. মারমা
  2. গারো
  3. চাকমা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
১,৩১২.
নিচের কোনটি প্রাচীন বাংলার জনপদ নয়?
  1. ক) পুন্ড্র
  2. খ) রাঢ়
  3. গ) বঙ্গ
  4. ঘ) মৌর্য
ব্যাখ্যা
- মৌর্য প্রাচীন বাংলার জনপদের অংশ নয়।
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখন্ড রাজ্য/রাষ্ট্র ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন- পুণ্ড্র , বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩১৩.
'মনিপুরী ললিতকলা' একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোণা
  2. সিলেট
  3. মৌলভীবাজার
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
• মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি:
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে বৃহত্তর সিলেটের — মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শিববাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২০১০ সালে মণিপুণি ললিতকলা একাডেমি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- বর্তমানে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীতে নৃত্য, নাটক, সংগীত, বাদ্যযন্ত্র ও উপজাতীয় সংগীত (মণিপুরী সংগীত) এই পাঁচটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

উৎস:
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
১,৩১৪.
পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসবের নাম কী?
  1. ক) ওয়ানগালা
  2. খ) মৈতরা
  3. গ) বৈসাবি
  4. ঘ) ক্রামা
ব্যাখ্যা
• বৈসাবি উৎসব:
- পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি।
- পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি পালিত হয়- চৈত্র মাসে।
- পাহাড়ের প্রধান তিন সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন নামে উৎসবটি পালন করে।
- পাহাড়ের এই উৎসবকে ত্রিপুরারা বলে ‘বৈসুক’, মারমারা বলে ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমারা বলে ‘বিঝু’।
- ত্রিপুরাদের বৈসুক থেকে ‘বৈ’, মারমাদের সাংগ্রাই থেকে ‘সা’, আর চাকমাদের বিজু থেকে ‘বি’ একত্রে ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ।
১,৩১৫.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সিলেট অঞ্চলে বাস করে না?
  1. তঞ্চঙ্গ্যা
  2. মণিপুরী
  3. খাসিয়া
  4. পাঙন
ব্যাখ্যা
তঞ্চঙ্গ্যা:
- তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার দিক থেকে এদের স্থান পঞ্চম। 
- পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার রইস্যাবিলি, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ার আশপাশের এলাকায় ও কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার আশপাশের এলাকায়, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে তঞ্চঙ্গ্যা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।
- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত কৃষি। 
- তঞ্চঙ্গ্যারা বিয়েকে সাঙা বলে।
- এরা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- এদের ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।
- তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে পিতার অবর্তমানে পুত্রসন্তানরা সম্পদের মালিকানা পায়।

অন্যদিকে -
- মণিপুরী, খাসিয়া, পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বাস করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৬.
নিচের কোন উপজাতিটি বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. ক) খুমি
  2. খ) তঞ্চঙ্গা
  3. গ) মাহালি
  4. ঘ) টোডা
ব্যাখ্যা
- টোডা উপজাতি বাংলাদেশে বসবাস করে না।
- এরা ভারতের নীরগিরি পাহাড়ে বসবাস করে।
- টোডা সমাজে বহুপতি প্রথা প্রচলন রয়েছে।

বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
এগুলো হলো:
- ওরাওঁ
- কোচ
- কোল
- খাসিয়া/খাসি
- খিয়াং
- খুমি
- গারো
- চাক
- চাকমা
- ডালু
- তঞ্চঙ্গা
- ত্রিপুরা
- পাংখোয়া/পাংখো
- বম
- বর্মণ
- মণিপুরী
- মারমা
- পাহাড়ী/মালপাহাড়ী
- মুন্ডা
- ম্রো/মুরং
- রাখাইন
- লুসাই
- সাঁওতাল
- হাজং
- মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো
- কন্দ
- কড়া
- গঞ্জু
- গড়াইত
- গুর্খা
- তেলী
- তুরি
- পাত্র
- বাগদী
- বানাই
- বড়াইক/বাড়াইক
- বেদিয়া
- ভিল
- ভূমিজ
- ভূঁইমালী
- মালো/ঘাসিমালো
- মাহালী
- মুসহর
- রাজোয়াড়
- লোহার
- শবর
- হুদি
- হো
- খারিয়া/খাড়িয়া
- খারওয়ার/খেড়োয়ার।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গেজেট ও ব্রিটানিকা)
১,৩১৭.
রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে কোন জেলায়? 
  1. চাঁদপুর 
  2. গাজীপুর
  3. বরগুনা 
  4. সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- এরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১,৩১৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুসারে, শহর অঞ্চলে বাস করে-
  1. ৬৮.৩৪%
  2. ৩১.৬৬%
  3. ৩৭.৬৬%
  4. ৬২.৩৪%
ব্যাখ্যা

 জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) গ্রামে বাস করে।

⇒ সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশালে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।

১,৩১৯.
বাংলাদেশের কোন জেলাগুলোতে মণিপুরীদের বসতি দেখা যায়?
  1. রাজশাহী, নওগাঁ
  2. চট্টগ্রাম, বান্দরবান
  3. ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা
  4. মৌলভীবাজার, সিলেট 
ব্যাখ্যা

- বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে মণিপুরীদের ঘনবসতি রয়েছে।

মণিপুরী:
- মণিপুরী (The Manipuris)  বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল মণিপুরী নাচের জন্যে বিখ্যাত।
- সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাসকারী মণিপুরী সম্প্রদায় সংস্কৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী।
- তাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।

সূত্র: মৌলভীবাজার জেলা সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া। 

১,৩২০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ত্রিপুরা
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

১,৩২১.
বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ত্রিপুরা
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
১,৩২২.
মারমাদের মধ্যে কোন ধরনের পারিবারিক কাঠামো বিদ্যমান?
  1. ক) পিতৃতান্ত্রিক
  2. খ) মাতৃতান্ত্রিক
  3. গ) ভ্রাতৃতান্ত্রিক
  4. ঘ) গৃহতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
• মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
• মারমাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক
• খাসিয়া ও গারো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক।
• বাংলাদেশে খাসিয়াদের বসবাস- সিলেট, হবিগঞ্জ।
• গারোরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৩.
গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের নাম কী?
  1. বৈসাবি
  2. ওয়ানগালা
  3. রথযাত্রা
  4. সাংগ্রাই 
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

অপরদিকে,
- বৈসাবি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায়ের - ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের - নববর্ষের উৎসবের একটি সম্মিলিত নাম।
- রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া একটি আষাঢ় মাসে আয়োজিত অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব।
- সাংগ্রাই বাংলাদেশী মারমা এবং রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসবের নাম।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১,৩২৪.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সৃষ্টিকর্তা ‘ধরমেশ’ নামে পরিচিত?
  1. ওরাওঁ
  2. মুরং
  3. লুসাই
  4. বম
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৫.
পাঙন সম্প্রদায় কোন নৃগোষ্ঠীর শাখা?
  1. ক) তঞ্চঙ্গ্যা
  2. খ) মণিপুরী
  3. গ) মারমা
  4. ঘ) ওরাঁও
ব্যাখ্যা
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলের মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী মণিপুরীদের তিনটি ধারা রয়েছে।
এগুলো হলো:
- বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী
- মেইতেই মণিপুরী এবং
- পাঙন মণিপুরী।
- পাঙন সম্প্রদায় বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় পাঙনদের বসবাস সবচেয়ে বেশি।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১,৩২৬.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কোন বিভাগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বাস করে?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
১,৩২৭.
সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার কারণ-
  1. বহুবিবাহ
  2. ঝগড়া-বিবাধ
  3. পারিবারিক কলহ
  4. দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
• সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার অনেকগুলো :
- নারীদের বিভিন্ন সামাজিক কাজ কর্ম থেকে বিরত রাখা।
-  ধর্মীয় আচার-অনষ্ঠান থেকে বঞ্চিত রাখা, 
- যৌতুক, বাল্যবিবাহ,
- বহুবিবাহ,
- কন্যা সন্তানের জায়গাতে পুত্র সন্তানের আগ্রহ ইত্যাদি।

উৎস: 
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।
১,৩২৮.
সোহরাই কোন নৃগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব?
  1. রাখাইন
  2. ওরাঁও
  3. গারো
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৯.
২০২১ সালে অনুষ্ঠিতব্য আদমশুমারিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে-
  1. ক) বিশ্বব্যাংক
  2. খ) নাসা
  3. গ) স্পারসো
  4. ঘ) আইএমএফ
ব্যাখ্যা
৬ষ্ঠ আদমশুমারি বা জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে ২০২১ সালের ২-৮ জানুয়ারী। এতে জনগণনায় স্যাটেলাইটের সাহায্য নেওয়া হবে। আর এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরো বা বিবিএসকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
১,৩৩০.
জন্মনীতি অনুযায়ী নাগরিকতা নির্ধারিত হয় কিসের ভিত্তিতে?
  1. জন্মস্থানের ভিত্তিতে
  2. সম্পত্তির ভিত্তিতে
  3. ভাষার ভিত্তিতে
  4. পিতা-মাতার নাগরিকতার ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
- নাগরিকতা অর্জনের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে:
(ক) জন্মসূত্রে নাগরিক- যারা জন্মগতভাবে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে জন্মসূত্রে নাগরিক বলে।
(খ) অনুমোদনসূত্রে নাগরিক- আর যারা কতকগুলো শর্তপূরণ করে শর্ত আরোপকারী রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলে।

• জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
- জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দু'টি নীতি মেনে চলা হয়। (ক) জন্মস্থান নীতি ও (খ) জন্মনীতি।
(ক) জন্মস্থান-নীতি:
- জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী শিশু যে রাষ্ট্রে ভূমিষ্ট হয় সে রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে।
- যদি কোন রাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ, বিমান কিংবা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
যেমন- বাংলাদেশের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা তাদের পতাকাবাহী বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সন্তান কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে।
- অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি অনুসরণ করে।

(খ) জন্মনীতি:
- এই নীতি অনুযায়ী শিশু যেখানেই ভূমিষ্ট হোক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতাই তার নাগরিকতা নির্ধারণ করবে। যেমন:
- জাপানের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করে তবে সেই সন্তান জাপানের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
- বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান, ইতালী প্রভৃতি রাষ্ট্র জন্মনীতি মেনে চলে।

• অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন:
- যদি কোন ব্যক্তি অনুমোদনসূত্রে নাগরিক হতে চায় তবে তাকে নাগরিকতা অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়:
(১) অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করতে হয়,
(২) সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে হয়,
(৩) সরকারি চাকরি করতে হয়,
(৪) সম্পত্তি ক্রয় করতে হয়,
(৫) ভাষা জানতে হয়,
(৬) নির্দিষ্ট সময় বসবাস করতে হয়।

উল্লেখ্য,
- অনুমোদনের শর্ত রাষ্ট্রভেদে আলাদা হতে পারে।
- শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশীকে অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের নিকট আবেদন করতে হয় এবং আবেদন মঞ্জুর হলেই একজন বিদেশী অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩১.
স্যার হার্বার্ট রিজলে ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে কতটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন?
  1. ৫ ভাগে
  2. ৬ ভাগে
  3. ৭ ভাগে
  4. ৮ ভাগে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষের মিলন-বিরোধের ফলে বাংলাদেশে একটা সংকর জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে।
- স্যার হার্বার্ট রিজলের মতে বাঙালিরা হল মঙ্গোল-দ্রাবিড়-প্রভাবিত একটা সংকর জনগোষ্ঠী।
- স্যার হার্বার্ট রিজলে (Sir Herbert Risley) ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে সাতটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন। এগুলো হচ্ছে:
১. তুর্কীয়-ইরানীয় (Turko-Iranian);
২. ভারতীয় আর্য (Indo-Aryan);
৩. শক-দ্রাবিড় (Scytho-Dravidian);
৪. আর্য-দ্রাবিড় (Aryo-Dravidian);
৫. মঙ্গোল-দ্রাবিড় (Mongolo-Dravidian);
৬. মঙ্গোলীয় (Mongoloid) এবং
৭. দ্রাবিড়ীয় (Dravidian) ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩২.
নিচের কোন জেলায় মনিপুরী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. বান্দরবান
  2. সিলেট
  3. কক্সবাজার
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:

- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাসা (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৩.
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান কততম? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা

বিশ্বের জনবহুল নগর:
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল নগর।
- ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫–এ বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা পরই ঢাকার অবস্থান।
- ঢাকায় এখন প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে।
- ২০০০ সালে ঢাকা ছিল বিশ্বের নবম জনবহুল নগর। জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।
- ২৫ বছরের ব্যবধানে ঢাকা তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। 
- এ সময়ে ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

- প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, ২০৫০ সালে সবচেয়ে জনবহুল নগরের বৈশ্বিক তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে আসবে ঢাকা।

তথ্যসূত্র- World Urbanization Prospects 2025. [link]

১,৩৩৪.
নিচের কোন প্রতিষ্ঠানটি আদমশুমারি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত?
  1. ক) NIPORT
  2. খ) BBS
  3. গ) BENBAIS
  4. ঘ) BSS
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাংলাদেশে আদমশুমারি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত।
- এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- দেশ স্বাধীনের পর প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আদমশুমারি কমিশন আদমশুমারির দায়িত্বে ছিলো।
- ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার আদমশুমারি কমিশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়াধীন ৪টি পরিসংখ্যান অফিসকে একীভূত করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গঠন করে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে এটির শাখা রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
১,৩৩৫.
তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি কোথায় বাস করে?
  1. ক) পার্বত্য চট্টগ্রামে
  2. খ) ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনায়
  3. গ) দিনাজপুর ও ফরিদপুর
  4. ঘ) সিলেট ও মৌলবীবাজার
ব্যাখ্যা
• তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি:
- তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে
বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী।
- এরা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার বইস্যাবিলি এলাকায়, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে এদের বসবাস।
- ভারতের  ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুর রাজ্যের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে এবং মায়ানমারের  আরাকান অঞ্চলেও তঞ্চঙ্গ্যাদের বসতি রয়েছে। - - - - তঞ্চঙ্গ্যারা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। তাদের ভাষা ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্গত  পালি,  প্রাকৃত, সদভুত বাংলা ভাষা।
- তঞ্চঙ্গ্যারা বিয়েকে সাঙা বলে।
- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত জুমচাষ। 
- তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।
- তঞ্চঙ্গ্যারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৬.
নিচের কোন জেলায় চাক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. বান্দরবান
  3. কুড়িগ্রাম
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
চাক:
- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি এলাকায় চাকদের বসবাস।
- বান্দরবান বোমাং সার্কেলের বোমাং রাজপুস্তিকায় ও রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে চাকরা ‘মিঙসাক’ নামে তালিকাভুক্ত আছে।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত। যা আবার কয়েকটি উপগোত্রে বিভক্ত। গোত্রীয় প্রতীক জালোয়া বা পইত্যা (পাকানো সুতার রশি)।
- চাকদের জীবনধারা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
- শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির মধ্যে নাইংছাঙাহাং-এ অবস্থান, পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান), ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।
- বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে আচাংগায়ুগা (কনে দেখা), চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)-সহ আরো অনেক প্রথা পালন করা হয়।
- ১৯৫৯ সালে চাক ধর্মগুরু মহাথেরো গন্ধর্ব ওয়েংসারের প্রচেষ্টায় চাক সমাজে শিক্ষার বিস্তার ঘটে।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৭.
সাঁওতাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই কোন জেলায়?
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:

- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য তবু পর্বত দেবতাও (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৮.
বাংলাদেশে জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) সাঁওতাল
  3. গ) মারমা
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী বাঙালি।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী চাকমা।
- বাংলাদেশের তৃতীয়  বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী মারমা।

• ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:

- বাংলাদেশে বসবাসরত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- আর পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা।
- চাকমাদের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯।
- চাকমা জনগোষ্ঠী প্রধানত বসবাস করে - বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায়।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মারমা।
- মারমাদের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬২।
- বাংলাদেশের তৃতীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ত্রিপুরা।
- ত্রিপুরাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮।
- চতুর্থ স্থানে আছে সমতলের জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল।
- তাঁদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।

[প্রশ্নে শুধু 'বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী' উল্লেখ থাকলে 'বাঙালি' উত্তর করতে হবে।
আর প্রশ্নে 'বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী' উল্লেখ 'থাকলে চাকমা'উত্তর করতে হবে।]

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

১,৩৩৯.
নিচের কোন জেলায় গারোদের বসবাস আছে?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. গাজীপুর
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
গারো:

- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪০.
নিচের কোন জেলায় উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৮টি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।
এগুলো হলো:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান
- কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার
- রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার
- রাখাইন কালচারাল ইনস্টিটিউট, রামু, কক্সবাজার।

(তথ্যসূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০)
১,৩৪১.
নিচের কোনটি 'কন্দ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
  1. স্থানীয়ভাবে কুই নামে পরিচিত
  2. কন্দ সমাজ নারী প্রধান
  3. মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করে
  4. বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান।
- পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪২.
মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামো দেখা যায় কোন উপজাতির মধ্যে?
  1. ক) খাসিয়া
  2. খ) মারমা
  3. গ) গারো
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে খাসিয়া এবং গারো সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক। 
- এছাড়া, কোচ সমাজেও আংশিক মাতৃতান্ত্রিকতা বিদ্যমান রয়েছে।
- অন্যান্য ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৩.
৬ষ্ঠ জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:

- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%।
- এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

জেলার দিক দিয়ে -
- দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটি জেলায়।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
         ii) ২৭ জুলাই ২০২২, প্রথম আলো।
১,৩৪৪.
ময়মনসিংহের গারো পাহাড় ও টাঙ্গাইল জেলার কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে?
  1. চাকমা
  2. খুমী
  3. গারো
  4. কুকী
ব্যাখ্যা
গারো:

- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৫.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা কোনটি?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে,
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা - বান্দরবান।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

- জেলা হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা জেলায়।
- জেলা হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - রাঙ্গামাটি। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২।
১,৩৪৬.
স্বাধীন বাংলাদেশে ‘প্রথম কৃষিশুমারি’ অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম, ১৯৮৩-৮৪ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯৬ সালে তৃতীয়, ২০০৮ সালে চতুর্থ এবং ২০১৯ সালের ৯-২০ জুন সর্বশেষ পঞ্চম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়৷
পাকিস্তান আমলে ১৯৬০ সালে প্রথম নমুনা আকারে কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
[সূত্রঃ বিবিএস ওয়েবসাইট এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা]
১,৩৪৭.
সর্বশেষ জনশুমারির হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন?
  1. ক) ১,২১৯ জন
  2. খ) ১,১১৯ জন
  3. গ) ১,১২৯ জন
  4. ঘ) ১,১১৪ জন
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ন তথ্য:
- জানশুমারি পরিচালনা করে - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS).
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – ১.২২%
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে – ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ : ১০০
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৬৬%।
- খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা – ৪.০ জন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১,৩৪৮.
নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা কোন নৃগোষ্ঠীর লোক?
  1. অস্ট্রিক
  2. নেগ্রিটো
  3. দ্রাবিড়ীয়
  4. মঙ্গোলীয়
ব্যাখ্যা
চাকমা: 
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় 'আদাম' বা 'পাড়া'। পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা। মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।
- চাকমাদের জীবিকার প্রধান উপায় হচ্ছে কৃষিকাজ।
- যে পদ্ধতিতে তারা চাষ করে তাকে বলা হয় 'জুম'।
- এই পদ্ধতিতে ঘুরে ঘুরে অর্থাৎ স্থানান্তরের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,৩৪৯.
মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. কঠিন চীবর দান
  2. সাংগ্রাই
  3. বৈসু
  4. চাপচারকূত
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- বসবাসের স্থান: তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- ধর্ম: বৌদ্ধ।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।
- বর্ষবরণ উৎসবের নাম: সাংগ্রাই।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান: কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান: হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান: রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
১,৩৫০.
২০২২ সালে বাংলাদেশে মোট (পুরুষ ও মহিলা) সাক্ষরতার হার কত?
  1. ক) ৭৪.৬২%
  2. খ) ৭৪.৬৪%
  3. গ) ৭৪.৬৬%
  4. ঘ) ৭৪.৬৮%
ব্যাখ্যা
• ২০২২ সালে বাংলাদেশে মোট (পুরুষ ও মহিলা) সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬%, যা পল্লী এলাকায় ৭১.৫৬% এবং শহর এলাকায় ৮১.২৮%।
- লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৬.৫৬%, মহিলাদের সাক্ষরতার হার ৭২.৮২% এবং হিজড়াদের সাক্ষরতার হার ৫৩.৬৫%।
- মোট (পুরুষ ও মহিলা) সাক্ষরতার সর্বোচ্চ হার ঢাকা বিভাগে ৭৮.০৯% এবং সর্বনিম্ন হার ময়মনসিংহ বিভাগে 67.09%।

সূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১,৩৫১.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. খাসিয়া
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
সাঁওতালদের গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য সূর্য।
- সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিনির্ভর।
- সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত।
- সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই।
- সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে।
- সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

অন্যদিকে -
- খাসিয়াদের গ্রাম পুঞ্জি।
- চাকমাদের গ্রাম আদাম।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৫২.
খাসিয়া গ্রামগুলো কি নামে পরিচিতি?
  1. বারাং
  2. পাড়া
  3. পুঞ্জি
  4. মৌজা
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া সমাজে গ্রামের স্থানীয় নাম “পুঞ্জি”।
- এটি শুধু একটি বসতি নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও আত্মপরিচয়ের কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, 
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫৩.
'সেং কুটস্নেম' কোন জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব?
  1. মগ
  2. মারমা
  3. খাসিয়া
  4. লুসাই
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:

- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব 'খাসি সেং কুটস্নেম'।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৩৫৪.
নিচের কোন সম্প্রদায় বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী-
  1. লুসাই
  2. চাকমা
  3. পাঙন
  4. গারো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বেশি বাস করে চাকমা নৃগোষ্ঠী। বাংলাদেশের রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে এদের সংখ্যা বেশী। তবে বান্দরবান এবং কক্সবাজারেও এদের উপস্থিতি রয়েছে। চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। চাকমাদের সবচেয়ে বড় জাতিগত উৎসব ‘বিজু’।
হাজং, ত্রিপুরা, বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরী) সম্প্রদায় হলো সনাতন বা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এছাড়া বর্মন, রাজবংশী, ওরাও, কোচ ও পাহান সম্প্রদায়ের ভেতরেও হিন্দু অনুসারী বৃদ্ধি পাচ্ছে। লুসাই উপজাতি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। একমাত্র মুসলিম উপজাতি হলো পাঙন যারা সিলেটে বসবাস করে৷
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী]
১,৩৫৫.
হাজং নারীর পরিধেয় কাপড় কী নামে পরিচিত?
  1. পাথিন
  2. হুমক
  3. ফতা
  4. পাঁঞ্চি
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- প্রতিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৬.
নিম্নের কোন জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. মুন্ডা
  2. পাংখো
  3. কোচ
  4. তুতসি
ব্যাখ্যা

- বুরুন্ডির প্রধান জাতিগোষ্ঠী হল হুতু, তুতসি এবং তুওয়া। 
- হুতুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্যদিকে তুতসিরা একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু। 
- তুতসিরা হল পিগমি।
- বুরুন্ডির রাজনৈতিক রাজধানী হল গিতেগা।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।

কোচ:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘কোচ’।
- বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।
- কোচ ও রাজবংশীদের প্রায় সময় একই জাতি মনে করা হয়।

মুন্ডা:
- বাংলাদেশে বসবাসরত আরেকটি উপজাতি হলো ‘মুন্ডা’।
- মুন্ডা জনগোষ্ঠী যে ভাষায় কথা বলে, তার নাম মুন্ডারি।
- এরা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্গত।

পাংখো:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ‘পাংখো বা পাংখোয়া’।
- বাংলাদেশে চট্টগ্রামের পার্বত্য জেলার রাঙ্গামাটিতে এরা বসবাস করে।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও  Britannica.

১,৩৫৭.
বাংলাদেশে বসবাসকারী কোন উপজাতি সম্প্রদায় মাতৃতান্ত্রিক?
  1. ক) রাখাইন
  2. খ) মারমা
  3. গ) পাঙন
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতিসমূহের মধ্যে খাসিয়া এবং গারো সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক।
- এছাড়া কোচ সমাজেও আংশিক মাতৃতান্ত্রিকতা বিদ্যমান রয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৮.
নিম্নোক্ত কোন সালে বাংলাদেশে আদমশুমারি হয় নি?
  1. ক) ১৯৮১ সালে
  2. খ) ১৯৯১ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ২০২১ সালে বাংলাদেশে আদমশুমারি হয় নি। 

• বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আদমশুমারি পরিচালনা করে থাকে।
- এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

• স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আদমশুমারি সমূহ:
- প্রথম : ১৯৭৪ সালে,
- দ্বিতীয় : ১৯৮১ সালে,
- তৃতীয় : ১৯৯১ সালে, 
- চতুর্থ : ২০০১ সালে,
- পঞ্চম : ২০১১ সালে, 
- ষষ্ঠ : ২০২২ সালে (জনশুমারি)।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। 
১,৩৫৯.
সংস্কৃতির প্রথম পাঠ কী?
  1. ক) ধৰ্ম
  2. খ) প্রথা
  3. গ) মাতৃভাষা
  4. ঘ) সংগীত
ব্যাখ্যা
• মানুষ সংস্কৃতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। বরং সে জন্মের পর থেকে নিজের সংস্কৃতি বিষয়ে ক্রমাগত শিক্ষালাভ করে।
• মায়ের হাত ধরেই একটি শিশু সংস্কৃতির প্রাথমিক শিক্ষা গ্ৰহণ শুরু করে।
- এরপর তার আশপাশের সব কিছু থেকে তার নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে জানে।
- ধীরে ধীরে সেই শিশু কথা বলতে শেখে তার মাতৃভাষায়।
- শিশুটি তার নিজ পরিবারের সদস্যদের অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমেই তার পূর্বপুরুষের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়।
- ধারাবাহিকভাবে এই শিক্ষা গ্রহণ চলতে থাকে আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী, স্কুলকলেজ ও সমাজের অন্যদের কাছ থেকে।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩৬০.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা- 
  1. বরিশাল
  2. মাদারীপুর
  3. নোয়াখালী
  4. পিরোজপুর 
ব্যাখ্যা

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)। 
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,৩৬১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে -
  1. বান্দরবানে
  2. খাগড়াছড়িতে
  3. রাঙামাটিতে
  4. মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। 

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:

- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। এ জেলায় এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪। 
- জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

⇒ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%।
- এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। 

⇒ সংখ্যার দিক দিয়ে -
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা।
- তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।
১,৩৬২.
তঞ্চঙ্গ্যা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস মূলত -
  1. চট্টগ্রামে
  2. সিলেটে
  3. ময়মনসিংহে
  4. জামালপুরে
ব্যাখ্যা
 • তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি:
- তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী।
- এরা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার বইস্যাবিলি এলাকায়, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে এদের বসবাস।

- ভারতের  ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুর রাজ্যের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে এবং মায়ানমারের  আরাকান অঞ্চলেও তঞ্চঙ্গ্যাদের বসতি রয়েছে। 
 - তঞ্চঙ্গ্যারা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। তাদের ভাষা ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্গত  পালি,  প্রাকৃত, সদভুত বাংলা ভাষা।
- তঞ্চঙ্গ্যারা বিয়েকে সাঙা বলে।
- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত জুমচাষ। 
- তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।
- তঞ্চঙ্গ্যারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৩.
নারী মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি কোন সম্প্রদায়ের?
  1. খাসিয়া
  2. গারো
  3. চাকমা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
কাকন বিবি:
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে।
- তিনি ১৯৭১ সালে ৫নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- যুদ্ধে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাকন বিবি কে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: i) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী।
         ii) ২২ মার্চ ২০১৮, প্রথম আলো।
১,৩৬৪.
NIPORT কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. আর্থিক সংস্থা 
  2. স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান 
  3. স্থানীয় সরকার সংস্থা
  4. আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

NIPORT:
-  NIPORT এর পূর্ণরূপ- National Institute of Population Research and Training.
- NIPORT (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) হলো বাংলাদেশের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।
- এটি মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
-
এর মূল কাজ হচ্ছে-
∗ জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে গবেষণা পরিচালনা করা,  
∗ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া,
∗ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা।

উল্লেখ্য,
- নিপোর্টের আওতায় ১৪টি আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (RPTI) আছে।
- এছাড়া এর আওতায় রয়েছে ২১টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (RTC)।

উৎস: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)। 

১,৩৬৫.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. চাকমা
  2. বম
  3. গারো
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,৩৬৬.
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরী কোন অঞ্চলে বাস করে না?
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার
  3. ময়মনসিংহ
  4. শ্রীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মণিপুরী (The Manipuris): 
- বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- প্রাচীনকালে মণিপুরী সম্প্রদায় ক্যাংলেইপাক (Kangleipak), ক্যাংলেইপাং (Kangkleipung), ক্যাংলেই (Kanglei), মেইত্রাবাক (Meitrabak), মেখালি (Mekhali) প্রভৃতি নামে পরিচিত ছিল।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,৩৬৭.
কৃষিশুমারি-২০১৯ অনুযায়ী, দেশে কত শতাংশ খানার কোনো ধরনের জমি নাই?
  1. ১০.৮৮ শতাংশ
  2. ১১.৩৪ শতাংশ
  3. ১২.৪৪ শতাংশ
  4. ১২.৬২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

কৃষিশুমারি-২০১৯:
- বাংলাদেশে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৯ সালে।
- এটি ছিল ষষ্ঠ কৃষি শুমারি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) এবং এটি জাতিসংঘের FAO কর্তৃক পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর এই শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- উদ্দেশ্য: শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাতগুলোর পরিবারভিত্তিক খামার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা।

• কৃষিশুমারি-২০১৯ অনুযায়ী,
- বাংলাদেশে মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার খানার ১১.৩৪ শতাংশের কোনো ধরনের জমি নেই। 
- দেশে মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ খানার মধ্যে যাদের কোনো ধরনের জমি নেই এই রকম ভূমিহীন ৪০ লাখ ৩০ হাজার খানা। 
- মোট খানার ৮৩.৩৭ শতাংশ রয়েছে গ্রামে আর বাকি ১৬.৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চলে।
- কৃষিশুমারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট খানার সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার। এরমধ্যে শহরের খানার সংখ্যা ৫৯ লাখ এবং গ্রামাঞ্চলে ২ কোটি ৯৬ লাখ।
- শহরের মোট খানার মধ্যে ১৭ লাখ বা মধ্যে ২৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং গ্রামের মোট খানার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ সম্পূর্ণ ভূমিহীন।
- অনুষ্ঠানে বলা হয়, সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভূমিহীন খানা রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই রয়েছে সিলেট এবং খুলনা বিভাগে যথাক্রমে শতকরা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।

উৎস: i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) সমকাল।

১,৩৬৮.
বর্তমানে বাংলাদেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত কত? (সেপ্টেম্বর-২০২৫)
  1. ১০০:১০৩
  2. ৯৮:১০০
  3. ১০৩:১০০
  4. ১০০:৯৮
ব্যাখ্যা

- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

১,৩৬৯.
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কয়টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
♦ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
১) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি, নেত্রকোণা,
২) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙ্গামাটি,
৩) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান,
৪) কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার,
৫) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি,
৬) রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী,
৭) মনিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার,
৮) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, হালুয়াঘাট,
৯)  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, দিনাজপুর,
১০)ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, নওগাঁ।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রানালয়।(লিংক)
১,৩৭০.
বাংলাদেশে কোন উপজাতির অস্তিত্ব নেই?
  1. ক) কোচ
  2. খ) রাখাইন
  3. গ) খুমি
  4. ঘ) মাসাই
ব্যাখ্যা
- কেনিয়া ও তানজানিয়ার সীমান্তে বসবাসকারী উপজাতি - মাসাই।
- কোচ তিব্বতী-বর্মী পরিবারের অন্তর্গত এরা ভারতে ও বাংলাদেশে বসবাস করে।
- রাখাইন সম্প্রদায় বসবাস করে বাংলাদেশের  কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়।
- খুমি সম্প্রদায় বাংলাদেশে বসবাস করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• চাকমা - ৪,৮৩,৩৬৫।
• মারমা - ২,২৪,২৯৯।
• ত্রিপুরা - ১,৫৬,৬২০।
• সাঁওতাল - ১,২৯,০৫৬।
• ওরাওঁ - ৮৫,৮৫৮।
• গারো - ৭৬,৮৫৪।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,৩৭২.
সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক অনুসারে, কোন জেলায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. বান্দরবান 
  2. পিরোজপুর 
  3. ভোলা 
  4. লালমনিরহাট 
ব্যাখ্যা

জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক:
- ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
- দেশে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। 
- এ সূচকে ব্যক্তির আয়-রোজগারের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণ করা হয় না, বরং বিভিন্ন সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণ করা হয়।
- মোট ১১টি সূচকের সমন্বয়ে এই দারিদ্র্য হিসাব করা হয়। সেগুলো হলো, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন, পানির প্রাপ্যতা, আবাসনের মান, রান্নার জ্বালানির প্রাপ্যতা, সম্পদের প্রাপ্যতা, ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার, শিশুদের শিক্ষাকালের ব্যাপ্তি, পুষ্টি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা।
- ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ (হেইস) এবং ২০১৯ সালের বহু সূচকবিশিষ্ট গুচ্ছ জরিপের (মিকস) ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। 

⇒ এমপিআই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে ২৪.৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে রয়েছে, যা সংখ্যায় প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ। 
- গ্রামীণ এলাকায় এই হার ২৬.৯৬ শতাংশ, আর শহরে ১৩.৪৮ শতাংশ। 
- সিলেট বিভাগে এই দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ (৩৭.৭০ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে।

⇒ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বহুমাত্রিকতার বিচারে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার বান্দরবানে ৬৫.৩৬ শতাংশ। এরপরের অবস্থানে থাকা কক্সবাজারে এ হার ৪৭.৭০ শতাংশ। বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে আরও আছে যথাক্রমে সুনামগঞ্জে ৪৭.৩৬, রাঙ্গামাটিতে ৪৫.৮৯, ভোলায় ৪৫.১২, নেত্রকোণায় ৩৮.২১, হবিগঞ্জে ৩৭.৪৮, খাগড়াছড়িতে ৩৬.৯১, কিশোরগঞ্জে ৩৬.১১ এবং কুড়িগ্রামে ৩৯.২৪ শতাংশ।

⇒ এছাড়া সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার ঝিনাইদহে ৮.৬৬ শতাংশ মানুষ। এরপরের শীর্ষ ১০ জেলাগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ঢাকায় ৯.১৯, গাজীপুরে ৯.৬৩, যশোরে ১০.৫৮, মেহেরপুরে ১১.০৮, কুষ্টিয়ায় ১২.২২, চুয়াডাঙ্গায় ১৩.৫১, মানিকগঞ্জে ১৪.০৭, ফেনীতে ১৪ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ১৪.৬২ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য রয়েছে বলে জানিয়েছে জিইডি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) General Economics Division ওয়েবসাইট।

১,৩৭৩.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের পরিধেয় কাপড় ‘পাথিন নামে পরিচিত?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. হাজং
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা
হাজং:
 
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- তিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৪.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠী বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য 'পাঞ্চেস’ গঠন করে?
  1. ত্রিপুরা
  2. সাঁওতাল
  3. ওরাঁও
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
• ওরাওঁ:
- বাংলাদেশের একটি প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হলো ওরাওঁরা।
- এরা মূলত বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস করে।
- বর্তমানে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে যেমন কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, ওরাওঁরা দ্রাবিড় বংশোদ্ভূত।
- তারা কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে যা দ্রাবিড় ভাষা পরিবারভুক্ত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- ওরাওঁদের মধ্যে কুঁড়ুখ ছাড়াও সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।
- ওরাওঁ সমাজে বিবাদ নিষ্পত্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন রয়েছে যাকে 'পাঞ্চেস' বলা হয়।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকেন।
- পাঞ্চেসটি গ্রামের সাত-আটজন বয়স্ক ব্যক্তি দ্বারা গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে মুসলিম জনসংখ্যার হার কত?
  1. ৯০.৪৫%
  2. ৯১.১৬%
  3. ৯০.৫৮%
  4. ৯১.০৮%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরুপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

• ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা:
- মুসলমান - ৯১.০৮%।
- হিন্দু - ৭.৯৬%।
- বৌদ্ধ - ০.৬১%।
- খ্রিষ্টান - ০.৩০%।
- অন্যান্য - ০.০৬%।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,৩৭৬.
জনসংখ্যা অনুসারে বিশ্বের বৃহত্তম শহর কোনটি? (জুন-২০২৫)
  1. দিল্লি
  2. সাংহাই
  3. কায়রো
  4. টোকিও
ব্যাখ্যা
• জনসংখ্যা অনুসারে বৃহত্তম শহর- টোকিও।
• জনসংখ্যা অনুসারে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর- দিল্লি।
• জনসংখ্যা অনুসারে তৃতীয় বৃহত্তম শহর- সাংহাই।
• জনসংখ্যা অনুসারে ঢাকা শহরের অবস্থান- চতুর্থ।

উৎস: world population review.
১,৩৭৭.
কোন বিভাগে জনসংখ্যার পরিমাণ সবচেয়ে কম?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত Multiple Indicator Cluster Survey-2019 অনুসারে বিভাগ অনুসারে জনসংখ্যার পরিমাণ (শতকরা):
- বরিশাল বিভাগ : ৫.৭ শতাংশ
- সিলেট বিভাগ : ৬.০ শতাংশ
- ময়মনসিংহ বিভাগ : ৭.৪ শতাংশ
- রংপুর বিভাগ : ১১.৮ শতাংশ
- খুলনা বিভাগ : ১১.৯ শতাংশ
- রাজশাহী বিভাগ : ১৪.৩ শতাংশ
- চট্টগ্রাম বিভাগ : ১৭.৫ শতাংশ
- ঢাকা বিভাগ : ২৫.৩ শতাংশ।
(সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর Multiple Indicator Cluster Survey-2019)
১,৩৭৮.
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা কত?
  1. ১৬,৯৮,২৭,৯২১
  2. ১৬,৯৮,২৫,৯২১
  3. ১৬,৯৮,২৮,৯২১
  4. ১৬,৯৬,২৮,৯২১
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি। 
- চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৩।
- গণনা পদ্ধতি: Modified Defacto। 
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.২২%। 
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।  
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭৪.৬৬%।
- পুরুষ: ৭৬.৫৬%।
- নারী: ৭২.৮২%।

[বি:দ্র -মোট জনসংখ্যা গ অপশনের কাছাকাছি হওয়ায় তা অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে '১৬,৯৮,২৮,৯২১'  নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা রির্পোট ২০২২।
১,৩৭৯.
বিশ্বের ৮০০ কোটিতম মানব শিশুর নাম কী?
  1. ক) ভিনিস মাবাসাং
  2. খ) ইরানা সাবালাংকা
  3. গ) জেসিকা বিনিনি
  4. ঘ) তানাকা ইনিনি
ব্যাখ্যা
• ৮০০ কোটিতম শিশুর জন্ম ফিলিপাইনে। দেশটির রাজধানী ম্যানিলার তোন্দো শহরে জন্ম নেয় এক কন্যাশিশু।
• বিশ্বের ৮০০ কোটিতম মানুষ (প্রতিকী) হিসেবে ধরা হচ্ছে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ভিনিস মাবাসাং
• ম্যানিলার ডক্টর জোস ফাবেলা মেমোরিয়াল নামক হাসপাতালে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ভিনিস মাবাসাংয়ের জন্ম হয়। 
• ৭০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করার মাত্র ১১ বছর পর বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে পৌঁছাল। 
• এ তথ্য দিয়ে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮৫০ কোটি এবং ২০৫০ সালে পৌঁছাবে ৯৭০ কোটিতে।
• ২০৮০ সালে এই জনসংখ্যা এক হাজার কোটির মাইলফলক অতিক্রম করবে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর।
১,৩৮০.
নিচের কোন সম্প্রদায়ের মাঝে ঝুমুর গান ও নাচের প্রচলন রয়েছে?
  1. চাকমা
  2. সাঁওতাল
  3. গারো
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে:
- সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে প্রচলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাঝে অন্যতম হলো ঝুমুর গান ও নাচ
- সাধারণত বিয়ের উৎসব ও করম উসবে সাঁওতালরা ঝুমুর গান ও নাচ পরিবেশন করে থাকে।
- এছাড়া মুন্ডা, ওঁরাও এবং বর্তমানে বাঙালি হিন্দু-মুসলমানদের মাঝেও এই গান ও নাচ জনপ্রিয়। 
- ঝুমুর নাচ রংপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ।

উৎস:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৮১.
আদমশুমারি পরিচালনা করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. তথ্য মন্ত্রণালয়
  2. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  3. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
  4. অর্থ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
• আদমশুমারি:
- আদমশুমারি পরিচালনা করে: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
- বাংলাদেশের নাগরিকের ভোটার হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন বয়স ১৮  বছর।
- নিপোর্ট ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- এ পর্যন্ত আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ৬ বার যথা- 
- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ এবং ২০২২সালে।
- আদম শুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
- আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পরপর।

⇒ উল্লেখ্য,
- উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ১৮৭২সালে।
- প্রথম আদমশুমারি হয় লর্ড মেয়োর সময়।
- সর্বশেষ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
১,৩৮২.
'রাজসিক বিহার' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বাংলামোটর
  2. খ) সাভার
  3. গ) মতিঝিল
  4. ঘ) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারিতে ঢাকা নগরীর ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর শেরাটন হোটেলের সামনে নির্মাণ করা হয় 'রাজসিক বিহার' নামক একটি ভাস্কর্য। শিল্পী মৃণাল হক এটির নির্মাতা।
(সূত্রঃ দৈনিক কালেরকণ্ঠ)
১,৩৮৩.
'মাহালী' উপজাতিদের ধর্ম - 
  1. বৌদ্ধ
  2. খ্রিস্টান
  3. বৈষ্ণব
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা
• উপজাতির ধর্ম:
- বাংলাদেশে লুসাই, খাসিয়া ও মাহালী, গারো উপজাতির ধর্ম খ্রিস্টান।

অন্যদিকে,
- ডালু ও মণিপুরীদের ধর্ম বৈষ্ণব।
- ত্রিপুরা, হাজংদের ধর্ম সনাতন।
- রাখাইন, চাকমা, মারমা, চাক, খুমি, খিয়াং ইত্যাদি উপজাতির ধর্ম বৌদ্ধ।
- পাঙন উপজাতির ধর্ম ইসলাম।

উৎস: বান্দরবান জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং চ্যানেল আই পত্রিকা রিপোর্ট।
১,৩৮৪.
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত তথ্যে শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কত শতাংশ?
  1. ৪১.৩০%
  2. ৪৫.৭৩%
  3. ৪৯.৮১%
  4. ৫২.৬৮%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।
- ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
- রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ২৩.৫২%।
• শহর - ৪১.৩০%।
• গ্রাম - ২৫.৭৩%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,৩৮৫.
খাসিয়াদের ভাষা -
  1. ক) ককবরক
  2. খ) মাঝি
  3. গ) পুঞ্জি
  4. ঘ) বর্মী
ব্যাখ্যা

খাসিয়াদের ভাষা বর্মী।
- ককবরক ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর ভাষা।
- খাসিয়াদের গ্রামগুলি পুঞ্জি নামে পরিচিত। - পুঞ্জি প্রধান হলেন সায়েম।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১,৩৮৬.
সাঁওতাল বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৬০ সালে
  2. খ) ১৮১৫ সালে
  3. গ) ১৮৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
ইংরেজদের বিরুদ্ধে একাধিক বার সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছে। ১৭৮০-৮৫ সালে তিলকা মাঝি বা মুরমু'র নেতৃত্বে, ১৮৫৫, ১৮৭১, ১৮৭৪, ১৮৮০-৮১, ১৯৩৩ সালে সাওতাল বিদ্রোহ সংগঠিত হয়।

এর মধ্যে ১৮৫৫-৫৬ সালে সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিলো সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী। এর নেতৃত্ব দেন সিধু ও কানু নামে দুই সাঁওতাল সহোদর।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১,৩৮৭.
বর্তমানে বাংলাদেশে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা কয়টি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ৫০টি
  2. ৫২টি
  3. ৫৪টি
  4. ৫৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বর্তমানে দেশে স্বীকৃত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ি, দেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ।
- এদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫৬ শতাংশ এবং সমতলে ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস।
- পার্বত্য তিন জেলায় পার্বত্য বাঙালিসহ ১৩ টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করছে। তারা হল পার্বত্য বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি, চাক, লুসাই, রাখাইন এবং তঞ্চঙ্গ্যা। 
- দেশের সমতল ভূমির মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
- সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সাঁওতাল, ওরাঁও, মুণ্ডা, মাহালি, পাহান, বর্মন, কোরা, মুশোর, গারো এবং হাজং।

উৎস:
i) জনশুমারি ও গৃহগণনা, ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

১,৩৮৮.
‘রাখাইন’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধানত বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) খাগড়াছড়ি
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য। এরা নিজেদের ‘রাক্ষাইন’ নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- রাখাইনরা এক সময় ‘মগ’ নামে পরিচিত ছিলো।
- অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত। রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।

(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)

১,৩৮৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ?
  1. ৬.৮৪%
  2. ৭.৯৬%
  3. ৮.৩৭%
  4. ৯.৬৯%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।

⇒ ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা,
• মুসলমান - ৯১.০৮%।
• হিন্দু - ৭.৯৬%।
• বৌদ্ধ - ০.৬১%।
• খ্রিষ্টান - ০.৩০%।
• অন্যান্য - ০.০৬%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,৩৯০.
বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাসিক মাথাপিছু আয় কত টাকা?
  1. ৭৬১৬ টাকা
  2. ৭২১৪ টাকা
  3. ৭৬২৪ টাকা
  4. ৭৬১৪ টাকা
ব্যাখ্যা
মাথাপিছু মাসিক আয়:
- বিবিএস জরিপের তথ্য জানাচ্ছে যে, দেশের প্রতিটি পরিবার মাসে গড়ে ৩২,৪২২ টাকা আয় করে।
- মাথাপিছু মাসিক আয় বেড়ে হয়েছে ৭,৬১৪ টাকা।

উল্লেখ্য,
- ২০১৬ সালে গড় আয় ছিল ৩ হাজার ৯৪০ টাকা।
- সে হিসাবে এই আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

উৎস: ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
১,৩৯১.
কোন জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী:
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১,৩৯২.
গারো উপজাতি বাস করে কোথায়?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
'গারো' উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়। 
- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে। 
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি। 
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১,৩৯৩.
’সাংগ্রাই’ বর্ষবরণ উৎসব পালন করে কোন জনগোষ্ঠী?
  1. রাখাইন
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা

- ’সাংগ্রাই’ বর্ষবরণ উৎসব পালন করে মারমা ও রাখাইন জনগোষ্ঠী।

• রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন  জাতিসত্তার বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই।
- চৈত্র মাসের শেষ দুদিন ও বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হয়।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নামও সাংগ্রাই।

অপরদিকে,
- বৈসুক বা বৈসু হলো ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বিঝু হলো চাকমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বৈসাবি হলো চাকমা (বিঝু), ত্রিপুরা (বৈসুক), মারামা-রাখাইন (সাংগ্রাই), অহমিয়া (বিহু) জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত বর্ষবরণ উৎসব।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী।

১,৩৯৪.
বোমাং রাজা কোন সমাজের প্রধানকে বলা হয়?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
♦ মারমা:
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে মারমাদের অবস্থান দ্বিতীয়।
-মারমা নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে।
- 'মারমা' শব্দটি 'ম্রাইমা' শব্দ থেকে উদ্ভূত।
- পাবর্ত্য অঞ্চলে বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত মারমা সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা।
- প্রত্যেক মৌজায় কতগুলো গ্রাম রয়েছে। গ্রামবাসী গ্রামের প্রধান মনোনীত করে।
- মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় 'রোয়া' এবং গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলে।
- মারমা পরিবারে পিতার স্থান সর্বোচ্চ হলেও পারিবারিক কাজকর্মে মাতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
- মারমা সমাজে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়েদের মতামত বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৯৫.
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 'মনিপুরী' বাংলাদেশের কোন জেলায় বেশি বসবাস করে?
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মনিপুরী নৃগোষ্ঠী:
- মনিপুরী এর পূর্ব পুরুষরা হলো পাখাংবা এর বংশধর।
- ৩৩ সালে মণিপুরী রাজা পাখাংবা-র (Pakhangba) সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- মণিপুরী (The Manipuris) বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। 
- তবে তারা অধিক সংখ্যক বাস করে মৌলভীবাজার জেলায়।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৬.
জলকেলি কাদের উৎসব?
  1. ত্রিপুরা
  2. লুসাই
  3. রাখাইন
  4. হাজং
ব্যাখ্যা
রাখাইনদের উৎসব জলকেলি।

রাখাইন:

- রাখাইন বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে বেশির ভাগ রাখাইনের বসবাস কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও কিছু রাখাইন বাস করে।
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।

⇒ আদি ব্রাহ্মীলিপিতে প্রথম লিখিত আকারে পালি ভাষায় ‘আরাখা’ অর্থাৎ রক্ষ বা রক্ষিতা অথবা রক্ষক শব্দ থেকে রাখাইন শব্দটির উৎপত্তি।
- আর্য বংশোদ্ভূত রাখাইনদের প্রাচীন বাসস্থান ছিল মগধ রাজ্য।
- পরে মগধ থেকে আরাকানে এসে বসতি স্থাপন করে।
- পরিচিতি পায় মগধী বা মগ নামে।

⇒ রাখাইনরা মূলত কৃষিনির্ভর।
- রাখাইনদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি।
- তাদের ভাষা আঞ্চলিকভাবে ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’ নামে পরিচিত। 

⇒ রাখাইনরা রক্ষণশীল জাতি।
- তাদের রয়েছে নিজস্ব আচার-প্রথা।
- তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছে: প্রবারণা পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, জলকেলি (লেই খেখু), নববর্ষ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৭.
বাংলাদেশে মোট কয়টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম জনশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সর্বশেষ জনশুমারি হয় ২০২২ সালে যেটা বাংলাদেশ এর ৬ষ্ঠ জনশুমারি।
- ষষ্ঠ জনশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

উল্লেখ্য, 
- ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন- ২০১৩ অনুযায়ী আদমশুমারি ও গৃহগণনা’ র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়।
- বাংলাদেশে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ অনুষ্ঠিত হয় → ১০ বছর পর।
- বাংলাদেশের ৬টি জনশুমারি যথা: 
১ম → ১৯৭৪ সালে।
২য় → ১৯৮১ সালে।
৩য় → ১৯৯১ সালে।
৪র্থ → ২০০১ সালে।
৫ম → ২০১১ সালে।
৬ষ্ঠ → ২০২২ সালে।

তথ্যসূত্র: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,৩৯৮.
Which is the Muslim tribe of Bangladesh?
  1. ক) Chakma
  2. খ) Monipuri
  3. গ) Khashiya
  4. ঘ) Pangon
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:

- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

তথ্যসূত্র - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩৯৯.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রামকে পুঞ্জি বলে?
  1. চাকমা
  2. খাসিয়া
  3. মারমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৪০০.
নিচের কোন জেলায় রাখাইন জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) বরগুনা
  4. ঘ) পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে। এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য। এরা নিজেদের রাক্ষাইন নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। রাখাইনরা এক সময় মগ নামে পরিচিত ছিলো। অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত। রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)