বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা ১২ / ১৬ · ১,১০১১,২০০ / ১,৫৬৭

১,১০১.
সাঁওতালদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোনটি?
  1. বৈসুক
  2. সোহরাই
  3. সাংগ্রাই
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসরত কয়েকটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর উৎসব সমূহ:

- ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসবের নাম - বৈসুক,
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসবের নাম - সোহরাই,
- মারমা/রাখাইনদের প্রধান উৎসবের নাম - সাংগ্রাই এবং
- গারোদের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রধান উৎসবের নাম - ওয়ানগালা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী।
১,১০২.
জনসংখ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষুদ্র সম্প্রদায় হলো-
  1. ক) খুমি
  2. খ) লুসাই
  3. গ) বম
  4. ঘ) তঞ্চঙ্গা
ব্যাখ্যা
লুসাই জনগোষ্ঠী সংখ্যার বিচারে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১ টি নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র। এরা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। জাতিগতভাবে এরা মঙ্গোলীয় ধারার। ১৯৯১ সালের হিসাব অনুযায়ী এদের সংখ্যা ছিলো ৬৬২ জন। এরা বর্তমানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। (সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,১০৩.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা-
  1. ক) ১৭,৫৪,৮৮,৬১৬
  2. খ) ১৬,৪১,৫৭,৬১৬
  3. গ) ১৬,৫১,৫৮,৬১৬
  4. ঘ) ১৭,৭৫, ৬০, ৬১৬
ব্যাখ্যা
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬।

ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-
- আদমশুমারির এর দায়িত্ব থাকে বি.বি.এস এর কাছে।জনশুমারির পূর্ব নাম ছিল আদমশুমারি।২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আদমশুমারি ও গৃহগণনা’ র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়।বাংলাদেশে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয় অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর।

- সর্বশেষ ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১জুন ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ।
- গণনা পদ্ধতি - Modified Defacto ।
- মোট জনসংখ্যা - ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
পুরুষ - ৮,১৭,১২,৮২৪ জন।
 নারী - ৮,৩৩,৪৭,২০৬ জন।
হিজড়া - ১২,৬২৯ জন।

- পুরুষ ও নারীর অনুপাত - ৯৯ঃ১০০ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ১.২২%
-  জনসংখ্যার ঘনত্ব  ১,১১৯ জন (প্রতি বর্গকিলোমিটারে)।
-  স্বাক্ষরতার হার → ৭৪.৬৬% (পুরুষ ৭৬.৫৬, নারী ৭২.৮২%)।

তথ্যসূত্র - বিবিসি, ২৭ জুলাই ২০২২।
১,১০৪.
চাকমাদের গ্রামকে কী নামে পরিচিত?
  1. রোয়া
  2. দিশাম
  3. আদাম
  4. পুঞ্জি
ব্যাখ্যা
গ্রাম:
- চাকমাদের গ্রামগুলো আদাম নামে পরিচিত।
- চাকমাদের কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- চাকমা মৌজার প্রধান হলেন হেডম্যান।
অন্যদিকে,
- সাওতালদের গ্রাম: দিশাম।
- মারমাদের গ্রাম: রোয়া।
- খাসিয়াদের গ্রাম: পুঞ্জি।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি। 
১,১০৫.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে, কোন জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

- রাঙ্গামাটি জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম।

- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ পরিচালিত হয় ১৫-২১ জুনের মধ্যে। তথ্য সংগ্রহের জন্য CPI পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে এবং গণনার জন্য Modified De-fecto পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.১২% এবং সাক্ষরতার হার ৭৪.৮০%।
- ঢাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
- রাঙ্গামাটি জেলা ঘনত্বের দিক থেকে সবচেয়ে কম জনবসতি সম্পন্ন এলাকা।
- বরিশাল বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মানুষের সংখ্যা উভয়ই সর্বনিম্ন।
- দেশের গড় জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১১১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার।
- ঢাকা বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বোচ্চ এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।

১,১০৬.
নিচের কোন জেলায় খাসিয়া উপজাতির বাস নেই?
  1. ক) মৌলভীবাজার
  2. খ) সুনামগঞ্জ
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• খাসিয়া:
- বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।
- সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং গোত্রভুক্ত জাতি।
- তারা মাতৃপ্রধান পরিবারে বসবাস করে।
- খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়াদের ভাষা বর্মী।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- খাসিয়াদের ধর্ম খ্রিস্টান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
১,১০৭.
কোন উপজাতি নিজেদেরকে ’মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন?
  1. গারো 
  2. ম্রো
  3. খিয়াং
  4. পাঙ্গন
ব্যাখ্যা

ম্রো :
- ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত। 
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না।
- ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা তিববতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে।
- বতর্মানে এদের নিজস্ব ভাষায় ও বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই প্রণীত হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রোদের বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,১০৮.
২০১০ সালে প্রণীত আইনে বাংলাদেশের ‘অ-বাঙালি’ ও অতীত ঐতিহ্যবাহী জাতিসত্তাগুলোকে আখ্যায়িত করা হয় -
  1. ক) 'আদিবাসি' নামে
  2. খ) 'উপজাতি' নামে
  3. গ) 'বাঙালি' নামে
  4. ঘ) ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী' নামে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বা ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ বলতে মূলত অতীত ঐতিহ্যের ধারক ও প্রতিনিধিত্বকারী নৃগোষ্ঠীগুলোকে বোঝানো হয়। 
- এই নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও নিজ নিজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অনেকাংশে ধরে রেখেছে। 
- এভাবে তারা নিজস্ব সংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। অর্থাৎ, দেশের ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে তারা মিশে যায়নি একেবারে। 
- বরং তাদের সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানসমূহে অনেকাংশে নিজস্বতা বজায় রেখেছে।

•  সাধারণ কিছু সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়। যেমন-
(১) নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে স্বতন্ত্র পরিচিতি ও জাতিসত্তার চেতনা ;
(২) অতীত ঐতিহ্য, বিশেষত প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ;
স্বতন্ত্র সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা ;
(৫) বসবাসকৃত অঞ্চলের প্রকৃতির সাথে নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক;
(৬) আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নৃগোষ্ঠীগুলোর অবস্থান অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং আধিপত্যহীন ।

•  এ ধরনের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নৃগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০' নামে একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে বাংলাদেশের ‘অ-বাঙালি’ ও অতীত ঐতিহ্যবাহী জাতিসত্তাগুলোকে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী' নামে আখ্যায়িত করা হয় ।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি ও nrigostisanad.gov.bd।
১,১০৯.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. মণিপুরী
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
গারো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন।

গারো:
- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- বর্তমানে গারোদের বেশিরভাগই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
১,১১০.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ শহর বা নগর এলাকায় বাস করে? [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২]
  1. প্রায় ৩২ শতাংশ
  2. প্রায় ৩৬ শতাংশ
  3. প্রায় ৩৮ শতাংশ
  4. প্রায় ৪২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) গ্রামে বাস করে।

• সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।

• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
১,১১১.
কোন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ নামে অভিহিত করেন?
  1. খাসিয়া
  2. রাখাইন
  3. ম্রো
  4. ওঁরাও 
ব্যাখ্যা

ম্রো :
- ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত। 
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না।
- ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা তিববতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে।
- বতর্মানে এদের নিজস্ব ভাষায় ও বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই প্রণীত হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রোদের বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,১১২.
বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র - ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্রের হার কত?
  1. ১৯.৫%
  2. ২০.৩%
  3. ১৯.২%
  4. ২০.২%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র - ২০২২:
- বাংলাদেশের দারিদ্রো মানচিত্র - ২০২২, প্রকাশ করে  ৩০ জানুয়ারি ২০২৫।
- বিবিএস ১৯৭৩ সাল থেকে খানার আয় ও ব্যয় জরিপ থেকে দারিদ্র্য পরিমাপ করে আসছে।
- দারিদ্রের হার: ১৯.২%।
- গ্রামে: ২০.৩%।
- শহরে: ১৬.৫%।
- বিভাগ অনুযায়ী দারিদ্র হার বেশি: বরিশালে, (২৬.৬%)।
- বিভাগ অনুযায়ী দারিদ্র হার কম: চট্টগ্রাম, ( ১৫.২%)।
- জেলা অনুযায়ী দারিদ্র হার কম: নোয়াখালী, ( ৬.১%)।
- জেলা অনুযায়ী দারিদ্র হার বেশি: মাদারীপুর, ( ৫৪.৪%)।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা- ডাসার, মাদারীপুর৷
- দারিদ্র্যের হার- ৬৩.২%
- সবচেয়ে ধনী উপজেলা- বেগমগঞ্জ , নোয়াখালী।

উৎস: ¡) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
          ¡¡) বণিক বার্তা।
১,১১৩.
ওরাওঁ জনগােষ্ঠী কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. ক) রাজশাহী-দিনাজপুর
  2. খ) বরগুনা-পটুয়াখালী
  3. গ) রাঙামাটি-বান্দরবান
  4. ঘ) সিলেট-হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
ওরাও বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এই নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁড়ুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১,১১৪.
নিরক্ষরতা কোন ধরনের সমস্যা?
  1. সামাজিক সমস্যা
  2. ব্যক্তিত্বর দ্বন্দ্বজনিত সমস্যা
  3. মূল্যবোধগত সমস্যা
  4. আদর্শিক সমস্যা
ব্যাখ্যা

 • সামাজিক সমস্যার আন্তসম্পর্ক:
- সমাজের বিভিন্ন অংশ পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত।
- সমাজের একদিকে অসংহতি বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে অন্যদিকেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
- অনুরূপ সামাজিক সমস্যা একটির সাথে অপরটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
- কোনো সমাজে একটি সামাজিক সমস্যা উদ্ভব হলে সেই সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

- সমাজ একটি অখন্ড যৌগিক সত্তা যার অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, পরিবেশগত প্রভৃতি দিক পরস্পর নির্ভরশীল ও অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত।
- এজন্য কোন সামাজিক সমস্যাই একক এবং বিচ্ছন্নভাবে সমাজে বিরাজ করে না।
- একটি সামাজিক সমস্যা অন্যটির কারণ হিসেবে বিরাজ করে।
- সামাজিক সমস্যার নির্ভরশীলতা এবং ক্রমাগত প্রতিক্রিয়া (chain reaction) থেকেই সামাজিক সমস্যার উদ্ভব ঘটে।
- উদাহরণস্বরূপ কোনো সমাজে দারিদ্র্য থাকলে এর প্রভাবে পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতা, নিরক্ষরতা, ভিক্ষাবৃত্তি প্রভৃতি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
- আবার স্বাস্থ্যহীনতার ফলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়ে উপার্জন ব্যাহত হলে মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে।

তথ্যসূত্র: সমাজকর্ম ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, নারী সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭০.৩২%
  2. ৭১.৮৯%
  3. ৭২.৯৪%
  4. ৭৩.৫১%
ব্যাখ্যা

[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

​জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

​- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

​তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,১১৬.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাড়িকে ‘কিং’ বলে?
  1. মুরং
  2. চাক
  3. মারমা
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
⇒ চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।

চাক:

- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর বসবাসের স্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত।
- গোত্রীয় প্রতীক জালোয়া বা পইত্যা (পাকানো সুতার রশি)।
- তাদের জীবনধারা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
- শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির মধ্যে নাইংছাঙাহাং-এ অবস্থান, পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান), ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।
- বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে আচাংগায়ুগা (কনে দেখা), চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)-সহ আরো অনেক প্রথা পালন করা হয়।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১১৭.
মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. বৈসু
  3. বিহু
  4. সাংগ্রাই
ব্যাখ্যা

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

উল্লেখ্য,
- সাংগ্রাই রাখাইন জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ ও প্রধান উৎসব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

১,১১৮.
নিচের কোন উপজাতিটি বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. মাহাতো
  2. গুর্খা
  3. তাতার
  4. তঞ্চঙ্গা
ব্যাখ্যা
- তাতার উপজাতি বাংলাদেশে বসবাস করে না। এরা মধ্য এশিয়া বিশেষত বর্তমান রাশিয়ায় বসবাসকারী একটি উপজাতি।
- বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
এগুলো হলো:
- ওরাওঁ
- কোচ
- কোল
- খাসিয়া/খাসি
- খিয়াং
- খুমি
- গারো
- চাক
- চাকমা
- ডালু
- তঞ্চঙ্গা
- ত্রিপুরা
- পাংখোয়া/পাংখো
- বম
- বর্মণ
- মণিপুরী
- মারমা
- পাহাড়ী/মালপাহাড়ী
- মুন্ডা
- ম্রো/মুরং
- রাখাইন
- লুসাই
- সাঁওতাল
- হাজং
- মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো
- কন্দ
- কড়া
- গঞ্জু
- গড়াইত
- গুর্খা
- তেলী
- তুরি
- পাত্র
- বাগদী
- বানাই
- বড়াইক/বাড়াইক
- বেদিয়া
- ভিল
- ভূমিজ
- ভূঁইমালী
- মালো/ঘাসিমালো
- মাহালী
- মুসহর
- রাজোয়াড়
- লোহার
- শবর
- হুদি
- হো
- খারিয়া/খাড়িয়া
- খারওয়ার/খেড়োয়ার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গেজেট ও ব্রিটানিকা)
১,১১৯.
হাজং নৃগোষ্ঠী প্রধানত নিচের কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. বান্দরবান
  2. রাঙামাটি
  3. মৌলভীবাজার
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। 
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। 
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিজ
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১২০.
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী দ্বিতীয় বৃহত্তম নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) মুরং
  2. খ) মারমা
  3. গ) ত্রিপুরা
  4. ঘ) চাকমা
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে জনসংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম হলো মারমা সম্প্রদায়। এরা বোমাং সার্কেলের অন্তর্গত। তবে মারমা জনগোষ্ঠী রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি তিনটি জেলাতেই বসবাস করে। বান্দরবান জেলায় সর্বাধিক প্রায় ৭৫ হাজার মারমা বাস করে।
জনসংখ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম নৃ-গোষ্ঠী চাকমা সম্প্রদায় এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী লুসাই সম্প্রদায়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১,১২১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭৪.৮০%
  2. ৭৫.২৭%
  3. ৭৬.৮১%
  4. ৭৭.৩৬%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,১২২.
নরগোষ্ঠী সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
  2. আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
  3. ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
  4. ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
ব্যাখ্যা
নরগোষ্ঠীর সংজ্ঞা: 
- নরগোষ্ঠীকে এমন একটি মানবসমষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যার সদস্যদের জন্মগতভাবে প্রাপ্ত অভিন্ন কিছু দৈহিক বৈশিষ্ট থাকে যা তাদেরকে অন্যান্য মানবগোষ্ঠী থেকে পৃথক করে।
- সামাজিক নৃবিজ্ঞানী E. B. Tylor-এর মতে, নরগোষ্ঠী হল স্বাতন্ত্র্যসূচক এবং জন্মসূত্রে বর্তায় এমন দৈহিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়ে গঠিত মানবজাতির একটি প্রধান বিভাগ।
- সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এমন জনগোষ্ঠীকেও তিনি নৃগোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন (Ethnic community is a group distinguished by common cultural characteristics)।
- সুতরাং নরগোষ্ঠী হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্যে অধিকারী মানগোষ্ঠী, যারা বিশ্বের নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অভিন্ন সংস্কৃতির অনুসারী হয়ে বসবাস করে।
- একটি নরগোষ্ঠীর সদস্যগণ সাধারণত অন্য নরগোষ্ঠীর সদস্যদের থেকে সাংস্কৃতিক ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য: 
(ক) নরগোষ্ঠী হচ্ছে মানবজাতির অন্যতম প্রধান উপবিভাগ;
(খ) নরগোষ্ঠীর মূলে রয়েছে স্বতন্ত্র ও সাধারণ কিছু দৈহিক বৈশিষ্ট্য, যা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়;
(গ) সাধারণত মাথার গড়ন, মুখের চোয়াল, চুলের রং ও ধরন, গায়ের রং, নাক, চোখ, শারীরিক গঠন ও উচ্চতার মাধ্যমে নরগোষ্ঠী নির্ধারিত হয়;
(ঘ) বংশগতভাবে প্রাপ্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই নরগোষ্ঠীকে পৃথক করা হয়;
(ঙ) নরগোষ্ঠী মানুষের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য যা বংশ পরম্পরায় অব্যাহত থাকে;
(চ) নির্দিষ্ট নরগোষ্ঠী প্রায়শ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে বসবাস করে;
(ছ) প্রত্যেক নরগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৩.
'ওরাঁও' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস নিচের কোন জেলায়?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) নেত্রকোণা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বরগুনা
ব্যাখ্যা
• ওরাঁও বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এই নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস।
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়খ ভাষায় কথা বলে।
- এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁডুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণী।
১,১২৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে মোট উপজেলা কয়টি?
  1. ৪৯২টি
  2. ৪৯৩টি
  3. ৪৯৪টি
  4. ৪৯৫টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন আছে - ১২টি।
- দেশে মোট উপজেলা আছে - ৪৯৫টি।
- মেট্রো থানা আছে - ১০৫টি।
- পৌরসভা আছে - ৩২৭টি।
- ইউনিয়নের সংখ্যা - ৪৫৯৬টি।
- মোট গ্রামের সংখ্যা - ৯০০৪৯টি।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,১২৫.
“সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন” প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ২০০৬ সালে
  2. খ) ২০১১ সালে
  3. গ) ২০১৩ সালে
  4. ঘ) ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
- ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে “সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮” গেজেট আকারে জারি করা হয়।
- এই আইনে মোট ৩৫টি ধারা রয়েছে।
সংক্রামক রোগ আইন-২০১৮ অনুসারে সংক্রামক রোগ সমূহ হলো:
- ম্যালেরিয়া
- কালাজ্বর
- ফাইলেরিয়াসিস
- ডেঙ্গু
- ইনফ্লুয়েঞ্জা
- এভিয়ান ফ্লু
- নিপাহ
- অ্যানথ্রাক্স
- মারস-কভ (MERS-CoV)
- জলাতংক
- জাপানিস এনকেফালাইটিস
- ডায়রিয়া
- যক্ষা
- শ্বাসনালির সংক্রমণ
- এইচআইভি
- ভাইরাল হেপাটাইটিস
- টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহ
- টাইফয়েড
- খাদ্যে বিষক্রিয়া
- মেনিনজাইটিস
- ইবোলা
- জিকা
- চিকুনগুণিয়া এবং
- সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (Emerging or Reemerging) রোগসমূহ।
(তথ্যসূত্র: আইন মন্ত্রণালয়)
১,১২৬.
কত বছর বয়সীদের একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী
  2. ১২ থেকে ৬০ বছর বয়সী
  3. ২০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী
  4. ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী
ব্যাখ্যা
কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী:
- বাংলাদেশে সর্বশেষ জনশুমারি হয় ২০২২ সালে।
- এটির ওপর ভিত্তি করে চলতি বছর (২০২৪) জনসংখ্যার একটি প্রাক্কলিত হিসাব দেয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
- এতে দেখা যায়, দেশে এখন জনসংখ্যা ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার।
- এর মধ্যে দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ১১ কোটির বেশি। এসব মানুষকেই মূলত বলা হয় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী।
- অর্থাৎ বয়সের দিক দিয়ে তারা কাজে নিযুক্ত হওয়ার উপযুক্ত।
- এই সংখ্যা মোট জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ।

অন্যদিকে,
- যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে, তাদের বলা হয় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী, অর্থাৎ তারা জীবিকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করেন।
- এমন মানুষের সংখ্যা ৬ কোটির বেশি, যা জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ।

তথ্যসূত্র: বিবিএস ওয়েবসাইট, প্রথমআলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১,১২৭.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. গারো
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• চাকমা - ৪,৮৩,৩৬৫।
• মারমা - ২,২৪,২৯৯।
• ত্রিপুরা - ১,৫৬,৬২০।
• সাঁওতাল - ১,২৯,০৫৬।
• ওরাওঁ - ৮৫,৮৫৮।
• গারো - ৭৬,৮৫৪।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,১২৮.
দেশের সবচেয়ে উঁচু বসতি পাসিংপাড়ায় কোন নৃগোষ্ঠী বসবাস করে?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) পাঙন
  3. গ) লুসাই
  4. ঘ) মুরং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু বসতি হলো পাসিংপাড়া গ্রাম। এটির অবস্থান বান্দরবান জেলার কেওক্রাডং পর্বতে যা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২,৭০০ ফুট উঁচু।
পাসিংপাড়ায় মুরং জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এখানে আনুমানিক পঞ্চাশ/ষাটটি মুরং পরিবার বসবাস করে।
(সূত্র: বাংলানিউজ)
১,১২৯.
মারমাদের প্রধান উৎসব কোনটি?
  1. সাংগ্রাই
  2. বৈসুক
  3. সোহরাই
  4. বিজু
ব্যাখ্যা
• মারমা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে জনসংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম হলো মারমা সম্প্রদায়।
- এরা বোমাং সার্কেলের অন্তর্গত।
- তবে মারমা জনগোষ্ঠী রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি তিনটি জেলাতেই বসবাস করে।
- বান্দরবান জেলায় সর্বাধিক প্রায় ৭৫ হাজার মারমা বাস করে।
- সাংগ্রাই হলো মারমাদের উৎসব। 

• চাকমা:
- বাসস্থান রাঙ্গামাটি, বান্দরবান।
- চাকমাদের কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- চাকমা গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি।
- চাকমাদের প্রধান উৎসব বা বর্ষবরণ বিজু বা বিঝু। 
- চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক।
- চাকমাদের ধর্ম বৌদ্ধ।
- চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাস ফেবো।

• অন্যদিকে -
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের উৎসব।
- বৈসুক হলো ত্রিপুরাদের উৎসব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৩০.
কোনটি মাতৃপ্রধান উপজাতি? 
  1. চাকমা
  2. খুমি
  3. খাসিয়া
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৩১.
মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. রাশ
  3. সাংগ্রাই
  4. বাইশু
ব্যাখ্যা
◉ মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম ⎯ সাংগ্রাই।
➝ এটি মূলত মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।

বৈসাবি:
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বর্ষবরণ উৎসবই সবচেয়ে বড় এবং ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ৩ বড় নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবকে একত্রে বৈসাবি বলা হয়।
ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম ⎯ বৈসুখ/বৈসু/বাইশু,
মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম ⎯ সাংগ্রাই,
চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম ⎯ বিজু

এই ৩ বড় উৎসবকে একত্রে বৈসাবি বলা হয়। সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

মারমা ও সাংগ্রাই উৎসব:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধানের পদবী ⎯  কারবারি; মৌজা পর্যায়ের প্রধান ⎯ হেডম্যান; সার্কেল প্রধান হলেন ⎯ রাজা।

- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- সাংগ্রাই শব্দটি এসেছে ‘সাক্রাই’ থেকে; এর মানে ‘সংক্রান্তি’।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হয়।
- এ উৎসবের মূল আয়োজন ⎯ ‘পানিখেলা’ বা ‘জলোৎসব’। নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রেখে একপক্ষ আরেক পক্ষকে পানি ছিটিয়ে দেয়।

অন্যদিকে,
- রাস হলো মণিপুরিদের প্রধান উৎসব। শরতের পূর্ণিমায় এই রাস হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই।
১,১৩২.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা কোনটি?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) মৌলবীবাজার
  4. ঘ) রাঙ্গমাটি
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে -
- জনসংখ্যা - ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – ১.২২%
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে – ১,১১৯ জন।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা; (৪,৪২,১৫,১০৭ জন)।

- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল; (৯১,০০,১০২ জন)।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা - ঢাকা (১,৪৭,৩৪,০২৫ জন)।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা - বান্দরবান (৪,৮১,১০৯ জন)।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে (প্রতি বর্গকিমি ২,১৫৬ জন)।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে (প্রতি বর্গকিমি ৬৮৮ জন)।

তথ্যসূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা রির্পোট ২০২২
১,১৩৩.
বাংলাদেশের যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সিলেট জেলায় বাস করে না-
  1. ক) খাসিয়া
  2. খ) পাঙন
  3. গ) মনিপুরি
  4. ঘ) তঞ্চঙ্গ্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সিলেট জেলায় বাস করে না- তঞ্চঙ্গা। 

তঞ্চঙ্গা:

- পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় পাহাড়ি জাতির মতো তনচংগ্যাদের আবাসভূমিও গড়ে ওঠে নদী সংলগ্ন উপত্যকায়।
- পার্বত্য চটগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাউখালি উপজেলার রইস্যাবিলি ও কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার আশেপাশের এলাকায়, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে তনচংগা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।

অন্যদিকে: 
- মণিপুরি, পাত্র, খাসিয়া, চাকমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, পাঙন সিলেট জেলায় বাস করে। 

সূত্র: সিলেট জেলা ওয়েবসাইট ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ ওয়েবসাইট [লিংক]। 
১,১৩৪.
চাকমাদের গ্রাম প্রধানের উপাধি- 
  1. হেডম্যান
  2. আদাম
  3. কার্বারী
  4. সার্কেল প্রধান
ব্যাখ্যা

- চাকমা গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 

চাকমা জাতিসত্তা: 

- পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে চাকমারা জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম। 
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলাতে তাদের বসবাস রয়েছে।
- এছাড়া চাকরিসূত্রে চাকমারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছে। 
- আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ও দিল্লীসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেক চাকমা বসবাস করে।
- খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ এবং রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে চাকমা সার্কেল যার প্রধান হলেন চাকমা চীফ বা চাকমা রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের আরও দুটি সার্কেলের মতো চাকমা সার্কেলও অনেক মৌজা নিয়ে গঠিত। 
- চাকমা ভাষায় গ্রামকে আদাম বা পাড়া বলা হয়। 
- গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 
- কয়েকটি 'আদাম' বা গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় এক-একটি মৌজা।
- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান' যার নেতৃত্বে মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধের বিচারসহ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের ভালমন্দ দেখভালের কাজগুলো পরিচালিত হয়। 

উৎস:  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই।

১,১৩৫.
বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজব্যবস্থা কেমন?
  1. মাতৃতান্ত্রিক
  2. পিতৃতান্ত্রিক
  3. সামন্ততান্ত্রিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

ত্রিপুরা: 

- ত্রিপুরা, ত্রিপুরী বা তিপ্রা হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি নৃগোষ্ঠী।
- তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমতল এলাকার কুমিল্লা, সিলেট, বৃহত্তর চট্টগামের বিভিন্ন উপজেলা, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, ফরিদপুর প্রভৃতি অঞ্চলেও বর্তমানে বসবাস করে।
- বাংলাদেশে এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে।
- পরবর্তী সময়ে এই জনগোষ্ঠী ভারতের আসাম হয়ে অত্র অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে।
- ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর ভাষার নাম ককবরক।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
- ত্রিপুরারা সনাতন ধর্মের অনুসারী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৬.
মারমাদের মৌজা বা এলাকা প্রধানকে কী বলা হয়? 
  1. কারবারি
  2. হেডম্যান
  3. মাহাতো
  4. নকসা
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা  বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- প্রায়শই তাদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়।
- ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মারমা জনসংখ্যা ১,৫৭,৩০১।
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- মারমাদের ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা।
- বাম থেকে ডানদিকে লেখার রীতি অনুসারী বর্ণমালা উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি হতে উদ্ভূত।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা, ওয়াছো বা আষাঢ়ি পূর্ণিমা এবং ওয়াগোয়াই বা প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে।
- মার্মাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।
- মারমা জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। 
- মারমা গ্রাম প্রধানকে কারবারি বলে।
- মৌজা বা এলাকা প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।

অপরদিকে,
- গারোরা গ্রাম প্রধানকে বলে নকসা।
- ওরাঁওদের গ্রাম প্রধান বলা হয় মাহাতো।
- মারমা গ্রাম প্রধানকে কারবারি বলে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৭.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গ্রামকে আদাম বলা হয়?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. খাসিয়া
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম উপজাতি হলো চাকমা।
- তারা প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে প্রভাবশালী উপজাতি।
- তাদের গ্রামকে ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’ বলা হয়।
- কয়েকটি পরিবার নিয়ে চাকমাদের গ্রাম গঠিত হয়।
- চাকমাগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘কার্বারি’ বলা হয়।
- চাকমারা থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান উৎসব হলো বিজু, যা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে পালিত হয়।

উৎস: Britannica; বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ। 

১,১৩৮.
বাংলাদেশে জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনা করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. স্থানীয় সরকার বিভাগ
  3. স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
  4. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,১৩৯.
কোন উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক? 
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) রাখাইন
  3. গ) ঘাসিমালো
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
- সরকারি হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি। 
- এদের মধ্যে খাসিয়া ও গারো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক
- বাংলাদেশে খাসিয়াদের বসবাস মূলত সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায়।
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।

উৎসঃ সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,১৪০.
চাকমা সমাজে পাড়ার প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. কার্বারি
  2. হেডম্যান
  3. আদাম
  4. রাজা
ব্যাখ্যা
চাকমা: 
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।
- চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় 'আদাম' বা 'পাড়া'। পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা। মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৪১.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কয়বার কৃষি শুমারি করা হয়েছে? [জুলাই, ২০২৫]
  1. ৪ বার
  2. ৫ বার
  3. ৬ বার
  4. ৭ বার
ব্যাখ্যা
• কৃষিশুমারি:
- বাংলাদেশে ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছয়বার (১৯৬০, ১৯৭৭, ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৯) কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়েছে।
- সর্বশেষ কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে।
- স্বাধীন বাংলাদেশে কৃষিশুমারি হয় ৫ বার।
- ০৯ জুন হতে ২০ জুন, ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে শহর ও পল্লী এলাকার সকল খানায় ও খামারে ৬ষ্ঠ বারের মত কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১,১৪২.
বর্তমানে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের স্থান কত?
  1. সপ্তম
  2. অষ্টম
  3. নবম
  4. দশম
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
----------------- 
[স্বাধীন অলাভজনক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’ নিজেদের ওয়েবসাইটে বিশ্বের জনসংখ্যার লাইভ (তাৎক্ষণিক) তথ্য প্রচার-প্রকাশ করে।]
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুসারে, জনসংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা দেওয়া হলো-

১. ভারত:
জনসংখ্যা: ১৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার।

২. চীন:
জনসংখ্যা: ১৪১ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার।

৩. যুক্তরাষ্ট্র:
জনসংখ্যা: ৩৪ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার।

৪. ইন্দোনেশিয়া:
জনসংখ্যা: ২৮ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার।

৫. পাকিস্তান:
জনসংখ্যা: ২৫ কোটি ১২ লাখ ৬৯ হাজার।

৬. নাইজেরিয়া:
জনসংখ্যা: ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৭৯ হাজার।

৭. ব্রাজিল:
জনসংখ্যা: ২১ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার।

৮. বাংলাদেশ:
জনসংখ্যা: ১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার।

৯. রাশিয়া:
জনসংখ্যা: ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার।

১০. ইথিওপিয়া:
জনসংখ্যা: ১৩ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার।
---------------------
বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০২৪:
• জনসংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান- অষ্টম।

Worldometer ওয়েবসাইট অনুসারে,
• জনসংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান- অষ্টম।

সূত্র: বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০২৪, Worldometer ওয়েবসাইট, প্রথম আলো রিপোর্ট।
১,১৪৩.
কোন পদ্ধতিতে কৃষি শুমারি ২০১৯-এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে?
  1. De-facto
  2. De-Juri
  3. Modular Approach
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি ২০১৯:
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করেছে।
- কৃষি শুমারি ২০১৯ এ Modular Approach পদ্ধতি অবলম্বন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
- এ পদ্ধতিতে প্রথমে গণনা কাজের জন্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্নপত্র (Short Questionnaire) ব্যবহার করা হবে এবং শুমারি শেষে প্রত্যেক গণনাকারী গণনা বই হতে একটি খানা তালিকা প্রস্তুত করেছে।
- তালিকায় মোট পরিচালনাধীন জমির পরিমাণ, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মহিষ ইত্যাদির সংখ্যা এবং খানা মৎস্য চাষ বা আহরণে নিয়োজিত কি না এ বিষয়ক তথ্য রয়েছে।
- পরবর্তীতে একটি বিস্তারিত প্রশ্নপত্র (Long Questionnaire)-এর মাধ্যমে কৃষি খানায় নমুনা শুমারি (Sample Census) পরিচালিত হয়েছে।

উৎস: বিবিএস ওয়েবসাইট। [link]
১,১৪৪.
দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা কোনটি?
  1. চতুর্থ আদমশুমারি
  2. পঞ্চম আদমশুমারি
  3. ষষ্ঠ আদমশুমারি
  4. সপ্তম আদমশুমারি
ব্যাখ্যা
• আদমশুমারি:
- ১৫-২১ জুন ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা।
- ষষ্ঠ আদমশুমারি নাম- 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিপাদ্য ছিল: “জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন”।
- পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, আদমশুমারি ও গৃহগণনাকে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।

পরবর্তীতে-
- দ্বিতীয় আদমশুমারি ১৯৮১ সালে।
- তৃতীয় আদমশুমারি ১৯৯১ সালে।
- চতুর্থ আদমশুমারি ২০০১ সালে।
- পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারি ২০২২ সালে।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,১৪৫.
বাংলাদেশের জাতীয় জনসংখ্যা দিবস পালন করা হয়- 
  1. ২ ফেব্রুয়ারি
  2. ৮ মার্চ
  3. ১১ জুলাই
  4. ১১ জুন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় জনসংখ্যা দিবস:
- বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- এই দিনটি পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো : জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
- দিবসটির স্লোগান হলো: "দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়"।

উল্লেখ্য, 
- বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস প্রতি বছর ১১ জুলাই পালিত হয়।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন, যা জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা এবং সমাধান সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগী। 
- ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা ৫০০ কোটি অতিক্রম করলে সারা বিশ্বের মানুষ এই বিষয়ে আগ্রহী হয়।
- সেই আগ্রহের প্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালনা পরিষদ এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা     বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

উৎস: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১,১৪৬.
বাংলাদেশে বসবাসকারী ইসলাম ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) পাঙন
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) পাঙ্খোয়া
  4. ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী হলো পাঙন। এরা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। এরা সিলেটের মণিপুরী সম্প্রদায়ের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ।

অন্যদিকে,
মারমা ও পাঙ্খোয়া জনগোষ্ঠী বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।
ত্রিপুরারা ‍পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১,১৪৭.
লুসাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শস্য কাটার উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. পলকূত
  2. মীমতূত
  3. চাপচারকূত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৮.
আদিবাসী গোষ্ঠী গারোদের প্রধান ধর্মবিশ্বাস কোনটি?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. খ্রিস্টধর্ম
  3. সনাতন ধর্ম
  4. প্রকৃতিবাদ
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টায় শিক্ষাক্ষেত্রে গারোরা ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে।
- উনিশ শতকের শেষদিকে খ্রিস্টান মিশনারিগণ গারোদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচার শুরু করে।
- বর্তমানে গারোদের অধিকাংশই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।
- তবে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পূর্বে গারোদের আদিধর্মকে অনেকেই জড়োপাসনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গারোদের আদিধর্ম জড়োপাসনা ছিল না।
- কারণ গারোরা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বেও বিশ্বাস করতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৯.
রাজবংশী আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিচের কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. বান্দরবান
  2. কক্সবাজার
  3. চট্টগ্রাম
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৫০.
World Population Prospects 2022 অনুযায়ী, জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান -
  1. ক) ৬ষ্ঠ
  2. খ) ৭ম
  3. গ) ৯ম
  4. ঘ) ৮ম
ব্যাখ্যা
World Population Prospects 2022
জুলাই ২০২২ এ জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ 'World Population Prospects 2022' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুসারে –

• জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর শীর্ষ তিন দেশ – ১. চীন (১৪২৬ মিলিয়ন); ২. ভারত (১৪১২ মিলিয়ন) ও ৩. যযুক্তরাষ্ট্র (৩৩৭ মিলিয়ন)।
• জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান - অষ্টম (১৭০ মিলিয়ন)।
• জনসংখ্যার ঘনত্বে বিশ্বের শীর্ষ দেশ - মোনাকো (২৪,৪৭৬ জন/বর্গ কিমি)।
• জনসংখ্যার ঘনত্বে বাংলাদেশের অবস্থান - ষষ্ঠ (১,৩১৫ জন/বর্গ কিমি)
• সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি – মালদ্বীপ (চতুর্থ) (১,৭৪৬ জন/বর্গ কিমি)।
• ২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হবে ভারত, দ্বিতীয় চীন।
• ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২০৪ মিলিয়ন।
 
তথ্যসূত্র:- UNFPA ওয়েবসাইট। 
১,১৫১.
মারমাদের পারিবারিক কাঠামো -
  1. ক) মাতৃতান্ত্রিক
  2. খ) পিতৃতান্ত্রিক
  3. গ) ভ্রাতৃতান্ত্রিক
  4. ঘ) গৃহতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• মারমাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।

- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। 
- মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- মারমাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক
- মারমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই।
- খাসিয়া ও গারো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক।
- বাংলাদেশে খাসিয়াদের বসবাস- সিলেট, হবিগঞ্জ।
- গারোরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১,১৫২.
মারমা সম্প্রদায়ের লোকেরা গ্রামকে কী নামে ডাকে?
  1. গেরাম
  2. রোয়া
  3. নম
  4. বিনায়রা
ব্যাখ্যা
মারমা:
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে মারমাদের অবস্থান দ্বিতীয়।
- মারমা নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে।
- ‘মারমা' শব্দটি 'ম্রাইমা' শব্দ থেকে উদ্ভূত। পাবর্ত্য অঞ্চলে বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভূক্ত মারমা সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা।
- প্রত্যেক মৌজায় কতগুলো গ্রাম রয়েছে। গ্রামবাসী গ্রামের প্রধান মনোনীত করে।
- মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় ‘রোয়া’ এবং গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলে।
- মারমা পরিবারে পিতার স্থান সর্বোচ্চ হলেও পারিবারিক কাজকর্মে মাতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৫৩.
কোন সংস্থার সহায়তায় ২০২১ সালের ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে?
  1. ক) ISRO
  2. খ) NASA
  3. গ) Google
  4. ঘ) BRAC
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে পরবর্তী ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে ২০২১ সালের ২-৮ জানুয়ারী। প্রথমবারের মতো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সহায়তায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এই জনশুমারি। নাসার সহায়তায় স্যাটেলাইট ইমেজ অনুসরণ করে তথ্যসংগ্রহকারীরা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করবেন। ফলে পূ্র্বের আদমশুমারিগুলোর তুলনায় ষষ্ঠ জনশুমারি অধিক গুণগত মানসম্মত হবে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং দৈনিক কালেরকণ্ঠ)
১,১৫৪.
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বর্তমানে কোন আইন অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে?
  1. Statistics-Acts-2010
  2. Statistics-Acts-2011
  3. Statistics-Acts-2012
  4. Statistics-Acts-2013
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো:
- ১৯৭৪ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন ০৪ (চার)টি সংস্থা যথা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান ব্যুরো, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি শুমারি কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আদমশুমারি কমিশনকে একীভূত করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বিবিএস জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (এনএসও) হিসেবে নিয়মিতভাবে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য আর্থ-সামাজিক, জনমিতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, জাতীয় উৎপাদ, জাতীয় আয় নিরূপণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করে থাকে।
- পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ (Statistics Act, 2013) এর আওতায় বর্তমানে বিবিএস এর সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
১,১৫৫.
খাসিয়া উপজাতি কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. কুরুখ
  2. মন খেমে
  3. আচিক খুসিক
  4. পালি
ব্যাখ্যা
উপজাতিদের ভাষা:
খাসিয়া - মন খেমে
চাকমা - চাকমা ভাষা
ওঁরাও - কুরুখ, শাদ্রি
গারো - আচিক খুসিক
ত্রিপুরা - ককবরক
মগ - পালি

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৬.
জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. চাকমা
  2. গারো
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
- জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২২ অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,১৫৯ জন।
- যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ।
- উপজাতির সংখ্যা ৫০টি। 
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় নৃগোষ্ঠী চাকমা সম্প্রদায়।
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী।
- ত্রিপুরা, সাঁওতাল, ওঁরাও সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক বাংলাদেশে বাস করে।
- ক্ষুদ্রতম নৃগোষ্ঠী ভিল (৯৫ জন)।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২২। লিঙ্ক
১,১৫৭.
What is the literacy rate for males aged 7 years and above according to the 2022 census?
  1. 61.70%
  2. 67.23%
  3. 72.94%
  4. 76.71%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,১৫৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
  1. খুলনা
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে - ঢাকা বিভাগ।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে - ময়মনসিংহ বিভাগ।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,১৫৯.
'চাপচারকূত' কোন ধরনের উৎসব?
  1. মৃত আত্মাদের স্মরণে
  2. শস্য কাটার উৎসব
  3. বসন্ত উৎসব
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৬০.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের মাতৃপ্রধান উপজাতি?
  1. খুমি
  2. খাসিয়া
  3. চাকমা
  4. মুরং
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৬১.
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৮
  2. খ) ১৯৮৮
  3. গ) ১৯৮০
  4. ঘ) ১৯৮৫
ব্যাখ্যা
⇨ বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় ১৯৮০ সালে। 
⇨ ১৯৮০ সালের Dowry Prohibition Act অনুসারে যৌতুক বলতে “বিবাহে এক পক্ষ কতৃর্ক অপর পক্ষকে অথবা বিবাহের কোনো এক পক্ষের পিতামাতা কতৃর্ক বা অন্য যে কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক অপর পক্ষকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে, বিবাহকালে বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যে কোনো কালে উক্ত পক্ষগণের বিবাহের পণ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করতে সম্মত যে কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বুঝায়।”    

তথ্যসূত্র:- Ministry of Law এবং সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬২.
মহারাসলীলা কোন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. হাজং
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৬৩.
উপজাতি কালচারাল একাডেমি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮৮ সাল
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
উপজাতি কালচারাল একাডেমি:
- অবস্থান: বিরিশিরি, দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়:  ১৯৭৭ সালে।
- গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একাডেমিকে ১৬-৭-১৯৭৯ তারিখে 'তথ্য সম্প্রচার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 'ক্রীড়া ও সংস্কৃতি' বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। 
- ২০১০ সালে 'উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি-এর পরিবর্তে 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি' নামটি প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে।

⇒ অপরদিকে,
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, মৌলভীবাজার।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি।
- রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রামু কক্সবাজার। 

উৎস: ¡) বাংলাপিডিয়া।
          ¡¡) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,১৬৪.
কোন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়?
  1. পৌষ মাস
  2. ফাল্গুন মাস
  3. চৈত্র মাস
  4. বৈশাখ মাস
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- ওরাও নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক। 
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে। 
- ওরাওঁরা জন্মান্তরবাদী। 
- ওরাওঁদের মাঝে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। 
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া।
- ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৫.
সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য দেবতা কে?
  1. সূর্য
  2. থাকুর
  3. মারাং বুরু
  4. সিংবোঙ্গা
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৬.
'টঙ্ক আন্দোলন' এর সাথে সংশ্লিষ্ট নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) সাঁওতাল সম্প্রদায়
  2. খ) হাজং সম্প্রদায়
  3. গ) ওরাঁও সম্প্রদায়
  4. ঘ) চাকমা সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা
- হাজং কৃষকরা টঙ্ক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।

 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো। ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই হাজং কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
- কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে টঙ্ক প্রথা উচ্ছেদ হয় এবং টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি ।
১,১৬৭.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. সাঁওতাল ও মণিপুরী
  2. ত্রিপুরা ও রাখাইন
  3. গারো ও খাসিয়া
  4. রাখাইন ও খাসিয়া
ব্যাখ্যা
মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়। 
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।

অন্যদিকে,
- ত্রিপুরাদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় পিতাই পরিবারের প্রধান।
- সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতাই পরিবারের প্রধান।
- মণিপুরিদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত। 
- রাখাইনদের পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৬৮.
বাংলাদেশের কোন উপজাতিদের পরিবার কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক?
  1. মণিপুরী
  2. হাজং
  3. খাসিয়া
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
• খাসিয়া:
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। 
- সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং গোত্রভুক্ত জাতি।
- তারা মাতৃপ্রধান পরিবারে বসবাস করে।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। 
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- খাসিয়াদের ধর্ম খ্রিস্টান।
- বর্তমানে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া অঞ্চলে সিন্টেং, গারো ও লালং উপজাতিরও বসতি আছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৯.
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যু হার কত?
  1. ক) ১৫৯ জন
  2. খ) ১৬৫ জন
  3. গ) ১৬৯ জন
  4. ঘ) ১৯১ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে প্রতি এক লক্ষ জীবিত শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যু হার ১৬৫ জন। গ্রামে এই হার প্রতি লাখে ১৯১ জন এবং শহর অঞ্চলে ১২৩ জন। ২০১৮ সালে প্রতি লাখে মাতৃ ‍মৃত্যুহার ছিলো ১৬৯ জন।
(সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর SVRS Report-2019)
১,১৭০.
Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?
  1. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  2. জন্মহার শূনের কোটায় আনা
  3. জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার
  4. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড:
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬৪) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে।
- বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২–এর সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯১১ জন।
- তার মধ্যে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা হলো ১১ কোটি ৭ লাখ প্রায়, যা মোট জনসংখ্যার ৬৫.২৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

উৎস: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং প্রথম আলো।

১,১৭১.
চাকমা সমাজে রাজার পদটি কীভাবে অর্জিত হয়?
  1. ক) ভোটের মাধ্যমে
  2. খ) বংশানুক্রমে
  3. গ) রাজনৈতিকভাবে
  4. ঘ) সামাজিক মর্যাদা অনুসারে
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। 
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
- তাদের মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা এবং কালো, গায়ের রং ঈষৎ হলদেটে।
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।
- চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’।
- পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক । চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।
- তারপরে মা ও জ্যেষ্ঠপুত্রের স্থান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৭২.
'জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২' কবে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৫-২১ জুন, ২০২১
  2. ১৫-২১ জুলাই, ২০২১
  3. ১৫-২১ জুন, ২০২২
  4. ১৫-২১ জুলাই, ২০২২
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ১৫-২১ জুন, ২০২২ সময়ে সম্পন্ন করা হয়।
- আকস্মিক বন্যাজনিত কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের সময়সীমা ২৮ জুন ২০২২ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- শুমারিতে জিআইএস (Geographic Information System) বেইজড ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে ট্যাবলেট এর মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা হয়।
- এ শুমারিতে প্রথমবারের মতো একটি ওয়েবভিত্তিক Integrated Census Management System (ICMS) প্রবর্তন করা হয়েছে যা ব্যবহার করে সদর দপ্তরে স্থাপিত Network Operations Centre (NOC) এর ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে শুমারিকালীন সকল গণনা এলাকা, গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ের গণনা কার্যক্রম তদারকি সম্ভব হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১,১৭৩.
পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঋনাত্মক কোন জেলায়?
  1. ক) বাগেরহাট
  2. খ) খুলনা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঋনাত্মক চার জেলায়। জেলাগুলো হলো- খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল ও ঝালকাঠি।
১,১৭৪.
খিয়াং সম্প্রদায় বাংলাদেশের কোথায় বসবাস করে?   
  1. পটুয়াখালী
  2.  দিনাজপুর 
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম 
  4. সিলেট 
ব্যাখ্যা
খিয়াং:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- দক্ষিণের টেম চিন (Tame Chin) বা উত্তরের ওয়াইল্ড চিন (Wild Chin) নামে অভিহিত আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- কবে খিয়াংরা এদেশে এসেছে তার স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও কেউ কেউ মনে করে ১৬ ও ১৭ শতকে খিয়াংরা বাংলাদেশে আগমন করে।
- পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মুরারনজা পর্বতমালায় খিয়াংরা সর্ব প্রথম বসবাস শুরু করে।
- এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে জুম চাষ করার মাধ্যমে তাদের বসতি স্থানান্তর হতে থাকে।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।

উল্লেখ্য,
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- অন্যায় বা অপরাধের সাথে জড়িত কোনো লোকের বিচার গ্রামের কার্বারী তাদের নিজস্ব প্রথা অনুসারে করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৫.
বর্তমানে দেশে কতটি উপজেলা রয়েছে? (মার্চ ২০২৫)
  1. ৪৯৫ টি
  2. ৪৯৪ টি
  3. ৪৯৬ টি
  4. ৪৯৭ টি
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বিভাগ: ৮টি
- জেলা: ৬৪টি।
- সিটি কর্পোরেশন: ১২ টি।
- উপজেলা: ৪৯৫ টি।
- মেট্রো থানা: ১০৫ টি।
- পৌরসভা: ৩২৭ টি।
- ইউনিয়ন: ৪,৫৯৬ টি।
- মৌজা: ৫৮,৮৪৬ টি।
- গ্রাম: ৯০,০৪৯ টি।
- মহল্লা: ১৫,১৫৩ টি।

উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- পুরুষ: ৮,৪১,৩৪,০০৩ জন।
- শতকরা:৪৯.৫৪%।
- নারী: ৮,৫৬,৮৬,৭৮৪ জন।
- শতকরা: ৫০.৪৫%।
- হিজরা: ৮,১২৪ জন।
- শতকরা: ০.০০৫%।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১,১৭৬.
সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. রাজশাহী
  2. সিলেট
  3. রাঙ্গামাটি
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• সাঁওতাল:
• সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
• তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
• সাঁওতালদের ভাষা: সাঁওতালি।
• সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
• সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই। খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে।
• প্রধান উৎস: সোহরাই।
• সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৭.
লুসাই জনগোষ্ঠীর 'মৃত আত্মাদের স্মরণে' পালিত উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. চাপচারকূত
  2. মীমতূত
  3. পলকূত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৮.
নিচের কোন জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে?
  1. ক) সুনামগঞ্জ
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৮টি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।
এগুলো হলো:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান
- কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার
- রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার
- রাখাইন কালচারাল ইনস্টিটিউট, রামু, কক্সবাজার।

(তথ্যসূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০)
১,১৭৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।
- জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর
- ১৪.৮২% রাজশাহী,
- ৮.২৮% সিলেট,
- ৫.৫২% রংপুর ও
- ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
         ii) প্রথম আলো।

১,১৮০.
গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ -
  1. সূর্য
  2. দেবতা
  3. গাছ
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 

উৎস: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
১,১৮১.
বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. নেত্রকোনা
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী: 
- বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, মান্দাই প্রভৃতি নৃগোষ্ঠী অনাদিকাল থেকে নিজস্ব জীবন ও সমাজ তথা ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি লালন করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বসবাস করে আসছে।
- এই সকল নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭৭ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- এ প্রতিষ্ঠানটি ৩.২১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- এর চারটি শাখা রয়েছে। ক) সংস্কৃতি খ) গবেষণা গ) লাইব্রেরি ও ঘ) জাদুঘর।
- এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
- এ প্রতিষ্ঠান উপজাতীয় সংস্কৃতিকে প্রতিপালনের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্মুখে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৮২.
রাখাইন জনগোষ্ঠী প্রধানত কোথায় বসবাস করে? 
  1. চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা 
  2. সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা 
  3. রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট
  4. কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরগুনা 
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- এরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১,১৮৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া ইউ কে চিং কোন সম্প্রদায়ের?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) খিয়াং
  3. গ) মারমা
  4. ঘ) বম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে উপজাতি সম্প্রদায় থেকে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হলেন ইউকে চিং। 
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত।
 - তিনি বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন ইপিআর এর সদস্য হিসেবে ইউকে চিং ৮ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। 

সূত্র: বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
১,১৮৪.
নিচের কোন জেলায় রাজবংশী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৫.
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব কত? (আগস্ট-২০২৫)
  1. ১,১১৭ জন
  2. ১,১১৯ জন
  3. ১,১০৯ জন
  4. ১,০০৯ জন
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

১,১৮৬.
খাসিয়াদের প্রধান দেবতার নাম কী?
  1. তাতারা রাবুগা
  2. মেন
  3. সালজং
  4. উব্লাই নাংথউ
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং গোত্রভুক্ত জাতি।
- খাসিয়াদের গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- খাসিয়াদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ।
- তারা প্রচুর পান ও মধুর চাষ করে।

উল্লেখ্য,
- ‘সেং কুটস্নেম’ বা বর্ষবিদায় খাসিয়াদের সর্বজনীন উৎসব।
- খাসি সেং কুটস্নেম বাংলায় করলে হয় খাসি বর্ষবিদায়।
- ১৮৯৯ সাল থেকে খাসি জনগোষ্ঠীর লোকজন অনুষ্ঠান করলেও বাংলাদেশে তাঁরা ২০১১ সাল থেকে আয়োজন করছেন।

অন্যদিকে,
- গারোদের প্রধান দেবতার নাম তাতারা রাবুগা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ২৩ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
১,১৮৭.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে? [ আগস্ট,২০২৫]
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশে 'ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর' সংখ্যা মোট ৫০টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: হলো চাকমা।
- সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয়: মারমা।
- জেলা হিসেবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,১৮৮.
যে জেলায় হাজংদের বসবাস নেই-
  1. শেরপুর
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিলেট
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
• হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ — জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। 
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদি নিবাস উত্তর বার্মায়।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। 
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

• নৃগোষ্ঠি সনদ সংক্রান্ত সরকারী ওয়েবসাইট অনুসারে, 
হাজং বাংলাদেশ ও ভারতের একটি আদিবাসী। বাংলাদেশে এদের বাস নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায়। এছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও এদের কোন অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এদের সংখ্যা ৩০০০ জনের মত।

প্রশ্নে একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, nrigostisanad.gov.bd
১,১৮৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা কত?
  1. ৫২টি
  2. ৫০টি
  3. ৪৮টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা - ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - চাকমা।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে - মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - ভিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় - রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় - লালমনিরহাট (১১৮ জন)।

সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১,১৯০.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমতলে বসবাস করে?
  1. মারমা
  2. সাঁওতাল
  3. খুমি
  4. বম
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় অর্থাৎ সমতলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য সূর্য।
- সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিনির্ভর।
- সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ি, দেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ।
- এদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫৬ শতাংশ এবং সমতলে ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস।
- পার্বত্য তিন জেলায় পার্বত্য বাঙালিসহ ১৩ টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করছে। তারা হল পার্বত্য বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি, চাক, লুসাই, রাখাইন এবং তঞ্চঙ্গ্যা। 
- দেশের সমতল ভূমির মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
- সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সাঁওতাল, ওরাঁও, মুণ্ডা, মাহালি, পাহান, বর্মন, কোরা, মুশোর, গারো এবং হাজং।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।
১,১৯১.
বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নয় কোনটি?
  1. কুকি
  2. তঞ্চঙ্গ্যা
  3. জুলু
  4. রাজবংশী
ব্যাখ্যা
নৃগোষ্ঠী: 
- প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বাস।
- এখানে প্রধান নৃগোষ্ঠী হচ্ছে বাঙালি- যাদের ভাষা বাংলা এবং অধিকাংশই সমতল ভূমিতে বসবাস করে।
- এছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ৫০টির মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (Ethnic Grpoup) রয়েছে যাদের ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান বাঙালি নৃগোষ্ঠী থেকে পৃথক।
- কেবল বাঙালি নৃগোষ্ঠী নয়, প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকেও আলাদা।
- এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, সাঁওতাল, কুকি, তঞ্চঙ্গ্যা, কুমি, লুসাই, পাংখো, খুমি, খিয়াং, বনযোগী, মণিপুরী, খাসিয়া, গারো, হাজং, কোচ, ডালুই, রাজবংশী, মুন্ডা, ওঁরাও প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- জুলু দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯২.
বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমাজে ‘গান্না’ উৎসবের প্রচলন আছে?
  1. রাখাইন
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নৃত্য:
- ময়মনসিংহের গারোদের মধ্যে সমাজপতিকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে ‘গান্না’ নামে এক উৎসবের প্রচলন আছে।
- তাতে নোক্মা বা সমাজপতিকে অঙ্গুরীয় পরানো হয়।
- তারপর নোক্মা তাঁর স্ত্রীসহ সকলের সঙ্গে অবস্থান করেন এবং তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্য নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
- এ নৃত্যে কোনো অভিনয় নেই, এমনকি পদচালনা বা দেহভঙ্গিও নেই।
- এ অঞ্চলে ‘জারিয়ালি’ নামেও একপ্রকার নাচের প্রচলন আছে।
- গারোদের মধ্যে গাছ থেকে ফল পাড়ার কৌশলকে এ নাচে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
- এমনকি পায়রা কেমন করে খাবার সংগ্রহ করে, কেমন করে পরস্পরকে খাওয়ায়, কেমন করে প্রেমময় মুহূর্তে পরস্পরকে আদর করে, তাও নৃত্যের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়।
- মারমাদের থালানৃত্য ও মাছধরা নৃত্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিংক]।

১,১৯৩.
নিচের কোন জেলায় গারো নৃগোষ্ঠীর বসবাস নেই?
  1. নেত্রকোনা
  2. গাজীপুর
  3. শেরপুর
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
• রাঙ্গামাটি জেলায় গারো নৃগোষ্ঠীর বসবাস নেই।

গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৪.
মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. বৈসুখ
  3. সাংগ্রাই 
  4. রাস
ব্যাখ্যা

মারমা ও সাংগ্রাই উৎসব:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। 
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধানের পদবী- কারবারি; মৌজা পর্যায়ের প্রধান ⎯ হেডম্যান; সার্কেল প্রধান হলেন ⎯ রাজা।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- সাংগ্রাই শব্দটি এসেছে ‘সাক্রাই’ থেকে; এর মানে ‘সংক্রান্তি’।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হয়।
- এ উৎসবের মূল আয়োজন - ‘পানিখেলা’ বা ‘জলোৎসব’। নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রেখে একপক্ষ আরেক পক্ষকে পানি ছিটিয়ে দেয়।

এছাড়াও, 
বৈসাবি:
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বর্ষবরণ উৎসবই সবচেয়ে বড় এবং ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ৩ বড় নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবকে একত্রে বৈসাবি বলা - ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম - বৈসুখ/বৈসু/বাইশু,
- মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম - সাংগ্রাই,
- চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম - বিজু।
- এই ৩ বড় উৎসবকে একত্রে বৈসাবি বলা হয়। সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

উল্লেখ্য: 
- রাস হলো মণিপুরিদের প্রধান উৎসব। শরতের পূর্ণিমায় এই রাস হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই।

১,১৯৫.
“ক্যাং” হচ্ছে চাকমাদের - 
  1. বৌদ্ধ মন্দির
  2. পাড়ার নাম
  3. উৎসবের নাম
  4. গানের নাম
ব্যাখ্যা
• চাকমা সম্প্রদায়:
→ চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।
→ তাদের বৌদ্ধ মন্দির বা বৌদ্ধ বিহারের নাম ক্যাং।
→ চাকমা অধ্যুষিত বিভিন্ন গ্রামে ক্যাং প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
→ প্রতিটি ক্যাং-এ একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু থাকেন যিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন।
→ চাকমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে হিন্দুধর্মের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
→ ঘরে ঘরে চাকমাদের মধ্যে গঙ্গাপূজা এবং লক্ষ্মী পূজার প্রচলন রয়েছে।
→ এছাড়া তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মাঘী পূর্ণিমা আড়ম্বরের সাথে পালন করা হয়। 

তথ্যসূত্র: সমাজ বিজ্ঞান (দ্বিতীয় পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৬.
মারমা আদিবাসী জনগোষ্ঠী কোন বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত?
  1. আদি-অস্ট্রেলীয়
  2. সিনতেং
  3. নিগ্রয়েড
  4. মঙ্গোলয়েড
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।

⇒ তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা।
- বাম থেকে ডান দিকে লেখার রীতি অনুসারী বর্ণমালা উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি হতে উদ্ভুত।
- মারমারা বিভিন্ন উপগোত্রে বিভক্ত যেমন: খ্যংসাঃচ্গাঃ, কক্দাইংসাঃচ্গাঃ, ওয়ায়ইংসাচ্গাঃ, মারোঃসাচ্গাঃ, কক্ফ্যাসাঃচ্ড়া প্রভৃতি।

⇒ সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রাচীন বার্মার থামোহাডা নামে পরিচিত উত্তরাধিকার নীতি অনুসরণ করা হয়।
- পুত্র ও কন্যা উভয়েই পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে।

⇒ মারমা জনগণের প্রধান পেশা কৃষি।
- জুমচাষ তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রাথমিক কৃষিজ প্রয়াস।
- অবশ্য এর পাশাপাশি তারা পাহাড়ি অরণ্য থেকে গাছের পাতা, মূল এবং কন্দ সংগ্রহের মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। 

⇒ মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৭.
'জলকেলি' কাদের উৎসব?
  1. মারমা
  2. চাকমা
  3. রাখাইন
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
রাখাইন:
- রাখাইনদের বসবাস মূলত পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়।
- রাখাইনদের আদিনিবাস মিয়ানমার।
- রাখাইনদের ধর্ম বৌদ্ধ।
- রাখাইনদের উৎসব সান্দ্রে, জলকেলি।

এছাড়া,
- চাকমাদের উৎসব বিজু, ফাল্গুনী পূর্ণিমা।
- ত্রিপুরাদের উৎসব বৈসুক।
- মারমাদের উৎসব সাংগ্রাই।
- গারোদের উৎসব ওয়ানগালা।
- সাঁওতালদের উৎসব সোহরাই।
- মুরংদের উৎসব ছিয়াছত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৯৮.
নিচের কোন উপজাতির ধর্ম বৈষ্ণব?
  1. মণিপুরী
  2. মাহালী
  3. খাসিয়া
  4. খুমি
ব্যাখ্যা
• উপজাতির ধর্ম:
- বাংলাদেশে লুসাই, খাসিয়া ও মাহালী, গারো উপজাতির ধর্ম খ্রিস্টান।
- মণিপুরীদের ধর্ম বৈষ্ণব।
- ত্রিপুরা, হাজংদের ধর্ম সনাতন।
- রাখাইন, চাকমা, মারমা, চাক, খুমি, খিয়াং ইত্যাদি উপজাতির ধর্ম বৌদ্ধ।
- পাঙন উপজাতির ধর্ম ইসলাম।

উৎস: বান্দরবান জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৯.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত শতাংশ?
  1. ১.২২ শতাংশ
  2. ১.৩৭ শতাংশ
  3. ১.২৫ শতাংশ
  4. ১.১২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

​• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জেলা অনুযায়ী সবচেয়ে কম ঘনত্ব: রাঙ্গামাটি।
- সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন।
- তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি: CPI.
- গণনা পদ্ধতি: Modified De-facto.
- দেশে মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।

এছাড়াও,
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে: ঢাকায়।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯জন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি: ঢাকা বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম : বরিশাল বিভাগে।

​উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।

১,২০০.
According to the preliminary report of the Population and Housing Census 2022, the present population growth rate in Bangladesh is -
  1. ক) 1.37 percent
  2. খ) 1.22 percent
  3. গ) 1.46 percent
  4. ঘ) None
ব্যাখ্যা
• ২০০১ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ১.৫৮% যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ১.৩৭% এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ১.২২% এ উপনীত হয়।
- বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার লক্ষ করলে দেখা যায় যে, ২০২২ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ (১.৭৪%) এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন (০.৭৯%)।

সূত্র: জনশুমারি-ও-গৃহগণনা-২০২২-এর-প্রাথমিক-প্রতিবেদন।